Part 2 | Page 97
খন্ডঃ 2 | পৃষ্ঠাঃ 97
দুমাতুল জান্দালের উকাইদিরের নিকট; তিনি ছিলেন কিনদাহ গোত্রের উকাইদির বিন আব্দুল মালিক এবং তাদের রাজা। তিনি খ্রিষ্টান ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খালিদকে উদ্দেশ্য করে বললেন, ‘তুমি অবশ্যই তাকে বন্য গরু শিকার করতে দেখতে পাবে।’ অতঃপর খালিদ বিন ওয়ালিদ বেরিয়ে পড়লেন এবং এক চাঁদনি উজ্জ্বল গ্রীষ্মের রাতে দুর্গের দৃষ্টিসীমার নাগালে পৌঁছালেন। উকাইদির তখন তাঁর স্ত্রীর সাথে প্রাসাদের ছাদে অবস্থান করছিলেন। বন্য গরুগুলো প্রাসাদের দরজায় এসে শিং ঘষতে শুরু করল। তখন তাঁর স্ত্রী তাঁকে বললেন, ‘আপনি কি আগে কখনো এমন কিছু দেখেছেন?’ তিনি উত্তর দিলেন, ‘না, আল্লাহর কসম!’ স্ত্রী বললেন, ‘কে এই সুযোগ হাতছাড়া করে?’ তিনি বললেন, ‘কেউ না।’ অতঃপর উকাইদির নিচে নেমে এলেন এবং তাঁর ঘোড়ায় জিন পরাতে বললেন। এরপর তিনি তাঁর পরিবারের একদল লোকসহ আরোহণ করলেন, যাঁদের মধ্যে তাঁর ভাই হাসানও ছিলেন। যখন তাঁরা শিকারের ময়দানে বের হলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অশ্বারোহী বাহিনী খালিদ বিন ওয়ালিদসহ তাঁদের সামনে পড়লেন। তাঁরা তাঁর ভাই হাসানকে হত্যা করলেন। হাসানের পরনে স্বর্ণখচিত রেশমি জুব্বা ছিল। খালিদ সেটি হস্তগত করে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে পাঠিয়ে দিলেন। যখন সেটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট নিয়ে আসা হলো, তখন মুসলিমগণ সেটি হাত দিয়ে স্পর্শ করতে লাগলেন এবং অবাক হতে লাগলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘তোমরা কি এতে বিস্মিত হচ্ছ? যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ, তাঁর কসম! জান্নাতে সাদ বিন মুয়াযের রুমালসমূহ এর চেয়েও অধিক উত্তম।’ অতঃপর খালিদ উকাইদিরকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট নিয়ে আসলেন। তিনি তাঁর জীবনের নিরাপত্তা দিলেন এবং জিজিয়া প্রদানের শর্তে তাঁর সাথে সন্ধি করলেন। এরপর তাঁকে মুক্তি দিলেন এবং তিনি ফিরে গেলেন।’