সহীহ ইবনু হিব্বান
1292 - أَخْبَرَنَا ابْنُ قُتَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي السَّرِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ مَحْمُودِ بْنِ الرَّبِيعِ: «أَنَّهُ عَقَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَعَقَلَ مَجَّةً مَجَّهَا مِنْ دَلْوٍ فِي بِئْرٍ فِي دَارِهِمْ». [4: 1]
رقم طبعة با وزير = (1289)
মাহমূদ বিন রবি‘রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, তার মনে আছে (শৈশবকালের কালের) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কথা এবং তার আরো মনে আছে একটি কুলির কথা, যে কুলি (অর্থাৎ মুখ ভর্তি পানি) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের বাড়িতে অবস্থিত কুপের বালতি থেকে গ্রহণ করেছিলেন (অতঃপর তিনি তার মুখে ছিটিয়ে দিয়েছিলেন বারাকাহর জন্য)।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৫/৪২৯; সহীহ আল বুখারী: ৮৩৯; নাসাঈ, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ: ১১০৮; সহীহ মুসলিম: ১/৪৫৬; নাসাঈ আল কুবরা: ৮/৩৬৪; ইবনু মাজাহ: ৪৫৭। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রাহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ১২৮৯।)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: خ.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: ابن أبي السري: هو محمد بن المتوكل بن العسقلاني، وثقه ابن معين، وقال المؤلف: كان من الحفاظ، ولينه أبو حاتم، وضعفه ابن عدي بكثرة الغلط، وقد تابعه عليه الإمام أحمد فرواه في «المسند» 5/ 429 عن عبد الرزاق، بهذا الإسناد، وباقي رجاله ثقات على شرط الشيخين.
1293 - أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى بْنِ مُجَاشِعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ مِسْعَرٍ، وَسُفْيَانَ، عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ شُرَيْحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: «كُنْتُ أَضَعُ الْإِنَاءَ عَلَى فِي وَأَنَا حَائِضٌ، ثُمَّ أُنَاوِلُهُ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَضَعُ فَاهُ عَلَى مَوْضِعِ فِيَّ، وَآخُذُ الْعَرْقَ وَأَنَا حَائِضٌ، ثُمَّ أُنَاوِلُهُ فَيَضَعُ فَاهُ عَلَى مَوْضِعِ فِيَّ». [4: 1]
رقم طبعة با وزير = (1290)
আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি ঋতুবতী অবস্থায় পাত্রে আমার মুখ লাগাতাম, তারপর তা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দিতাম অতঃপর তিনি পাত্রে আমার মুখ লাগানো জায়গায় মুখ লাগাতেন এবং আমি ঋতুবতী অবস্থায় মাংসল হাড় নিতাম, তারপর তা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দিতাম অতঃপর তিনি পাত্রে আমার মুখ লাগানো জায়গায় মুখ লাগিয়ে খেতেন।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৬/১৯২; সহীহ মুসলিম: ৩০০; নাসাঈ: ১/১৪৯; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৩২১; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১১০; আবূ আওয়ানা: ১/৩১১; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ১২৫৩; আত তায়ালিসী: ১৫১৪; আবূ দাঊদ: ২৫৯; ইবনু মাজাহ: ৬৪৩; দারেমী: ১/২৪৬; হুমাইদী: ১৬৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রাহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন (সহীহ আবূ দাঊদ: ২৫২।)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (252): م.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم، سفيان: هو الثوري.
1294 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُوسَى بِعَسْكَرِ مُكْرَمٍ، حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ مُكْرَمٍ الْعَمِّيُّ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الْأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «إِذَا وَلَغَ الْكَلْبُ فِي إِنَاءِ أَحَدِكُمْ فَاغْسِلُوهُ سَبْعَ مَرَّاتٍ». [3: 43]
رقم طبعة با وزير = (1291)
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন কুকুর তোমাদের কারো পাত্রে মুখ দিবে, তখন তোমরা তা সাতবার ধৌত করবে।”[1]
[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/৩৪; মুসনাদ ইমাম শাফে‘ঈ: ১/২১; মুসনাদ আহমাদ: ২/৪৬০; সহীহ আল বুখারী: ১৭২; সহীহ মুসলিম: ২৭৯; নাসাঈ: ১/৫২; ইবনু মাজাহ: ৩৬৪; আবূ আওয়ানা: ১/২০৭; ইবনুল জারুদ: ৫০; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ২৮৮; সুনান বাইহাকী: ১/২৪০; দারাকুতনী: ১/৬৫; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৯৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রাহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন (সহীহ আবূ দাঊদ: ৬৫।)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (65): م.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي، رجاله رجال مسلم، أبو الزناد: هو عبد الله بن ذكوان، والأعرج: هو عبد الرحمن بن هرمز.
1295 - أَخْبَرَنَا ابْنُ قُتَيْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «طَهُورُ إِنَاءِ أَحَدِكُمْ إِذَا وَلَغَ فِيهِ الْكَلْبُ أَنْ يُغْسَلَ سَبْعَ مَرَّاتٍ». [3: 43]
رقم طبعة با وزير = (1292)
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন কুকুর তোমাদের কারো পাত্রে মুখ দিবে, তখন সেই পাত্রের পবিত্রতার (উপায়) হলো তা সাতবার ধৌত করা।”[1]
[1] মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৩২৯; মুসনাদ আহমাদ: ২/৩১৪; সহীহ মুসলিম: ২৭৯; সুনান বাইহাকী: ১/২৪০; আবূ আওয়ানা: ১/২০৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রাহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন (সহীহ আবূ দাঊদ: ৬৫।)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: م - انظر ما قبله.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: حديث صحيح، ابن أبي السري – وإن كان فيه كلام – قد توبع، وباقي السند على شرطهما.
1296 - أَخْبَرَنَا ابْنُ خُزَيْمَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى الذُّهْلِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ خَلِيلٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، وَأَبِي رَزِينٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا وَلَغَ الْكَلْبُ فِي إِنَاءِ أَحَدِكُمْ فَلْيُهْرِقْهُ، ثُمَّ لِيَغْسِلْهُ سَبْعَ مَرَّاتٍ». [3: 43]
رقم طبعة با وزير = (1293)
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন কুকুর তোমাদের কারো পাত্রে মুখ দিবে, তখন সে যেন তা ঢেলে ফেলে দেয় তারপর যেন তা সাতবার ধৌত করে।”[1]
[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৯৮; দারাকুতনী: ১/৬৪; ইবনুল জারুদ: ৫১; সহীহ মুসলিম: ২৭৯; নাসাঈ: ১/৫৩; সুনান বাইহাকী: ১/২৩৯; আবূ আওয়ানা: ১/২০৭; মুসনাদ আহমাদ: ২/২৫৩; আত তায়ালিসী: ১/৪৩; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/২১; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/১৭৩; ইবনু মাজাহ: ৩৬৩; তাবারানী আস সাগীর: ১/৯৩। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রাহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন (ইরওয়াউল গালীল: ২৪।)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الإرواء» (24): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الصحيح، أبو صالح: هو ذكوان السمان المدني، وأبو رزين: هو مسعود بن مالك الأسدي.
1297 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ حَسَّانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «طَهُورُ إِنَاءِ أَحَدِكُمْ إِذَا وَلَغَ فِيهِ الْكَلْبُ أَنْ يَغْسِلَهُ سَبْعَ مَرَّاتٍ أُولَاهُنَّ بِالتُّرَابِ». [3: 43]
رقم طبعة با وزير = (1294)
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন কুকুর তোমাদের কারো পাত্রে মুখ দিবে, তখন সেই পাত্রের পবিত্রতার (উপায়) হলো তা সাতবার ধৌত করা; যার প্রথমবার হবে মাটি দ্বারা।”[1]
[1] সহীহ মুসলিম: ২৭৬; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/১৭৩; মুসনাদ আহমাদ: ২/৪২৭; সুনান বাইহাকী: ১/২৪০; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৯৫; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৩৩০; আবূ আওয়ানা: ১/২০৭; আবূ দাঊদ: ৭১; মুসনাদ ইমাম শাফে‘ঈ: ১/২১; আবূ নু‘আইম, হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৯/১৫৮। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রাহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন (সহীহ আবূ দাঊদ: ৬৬।)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (66).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما، أبو خيثمة: هو زهير بن حرب.
1298 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ أَبِي التَّيَّاحِ، قَالَ: سَمِعْتُ مُطَرِّفَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الشِّخِّيرِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «إِذَا وَلَغَ الْكَلْبُ فِي الْإِنَاءِ فَاغْسِلُوهُ سَبْعَ مَرَّاتٍ، وَعَفِّرُوا الثَّامِنَةَ بِالتُّرَابِ». [3: 43]
رقم طبعة با وزير = (1295)
আব্দুল্লাহ বিন মুগাফ্ফাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন কুকুর পাত্রে মুখ দিবে, তখন সেই পাত্র সাতবার ধৌত করবে এবং অষ্টমবার মাটি দ্বারা ঘষবে।”[1]
[1] নাসাঈ: ১/৫৪; সহীহ মুসলিম: ২৮০; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/১৭৪; মুসনাদ আহমাদ: ৪/৮৬; আবূ দাঊদ: ৭৪; ইবনু মাজাহ: ৩৬৫; দারেমী: ১/১৮৮; দারাকুতনী: ১/৬৫; আবূ আওয়ানা: ১/২০৮; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আাসার: ১/২৩; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ২৭৮১; সুনান বাইহাকী: ১/২৪১-২৪২। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রাহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন (সহীহ আবূ দাঊদ: ৭৭।)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (77) و «الإرواء» (24): م.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم، محمد بن عبد الأعلى: هو الصنعاني البصري، ثقة، أخرج له مسلم، وباقي رجال السند على شرطهما، أبو التياح: اسمه يزيد بن حميد الضبعي.
1299 - أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ حُمَيْدَةَ بِنْتِ عُبَيْدِ بْنِ [ص:115] رِفَاعَةَ، عَنْ كَبْشَةَ بِنْتِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، - وَكَانَتْ تَحْتَ [ابْنِ] أَبِي قَتَادَةَ - أَنَّ أَبَا قَتَادَةَ دَخَلَ عَلَيْهَا، فَسَكَبَتْ لَهُ وُضُوءًا، فَجَاءَتْ هِرَّةٌ تَشْرَبُ، فَأَصْغَى أَبُو قَتَادَةَ الْإِنَاءَ، فَشَرِبَتْ، قَالَتْ كَبْشَةُ: فَرَآنِي أَنْظُرُ إِلَيْهِ، فَقَالَ: أَتَعْجَبِينَ يَا ابْنَةَ أَخِي؟، فَقُلْتُ: نَعَمْ، فَقَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «إِنَّهَا لَيْسَتْ بِنَجَسٍ، إِنَّمَا هِيَ مِنَ الطَّوَّافِينَ عَلَيْكُمْ وَالطَّوَّافَاتِ». [3: 66]
رقم طبعة با وزير = (1296)
কাবশা বিনতু কা‘ব বিন মালিক, যিনি আবূ কাতাদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর ছেলের স্ত্রী ছিলেন, তিনি বলেন, “আবূ কাতাদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু একবার আমার কাছে আসেন, আমি তাঁর জন্য ওযূর পানি ঢেলে দিলাম। অতঃপর একটি বিড়াল আসলো পানি পান করার জন্য, তখন আবূ কাতাদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু পাত্রটি কাত করে ধরেন ফলে বিড়ালটি পানি পান করে। কাবশা বলেন, “তখন তিনি দেখলেন যে, আমি তার দিকে (বিস্ময়ে) তাকিয়ে আছি। ফলে তিনি আমাকে বললেন, “ভাতিজী, তুমি অবাক হচ্ছো?” আমি বললাম, “হ্যাঁ।” জবাবে তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয়ই এটি নাপাক নয়। নিশ্চয়ই এসব তোমাদের আশেপাশে প্রদক্ষিনকারী ও প্রদক্ষিনকারিণীদের অন্তর্ভূক্ত।”[1]
[1] আবূ দাঊদ: ৭৫; মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/২২-২৩; মুসনাদ ইমাম শাফে‘ঈ: ১/২১-২২; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৩৫৩; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/৩১; মুসনাদ আহমাদ: ৫/৩০৩; তিরমিযী: ৯২; নাসাঈ: ১/৫৫; ইবনু মাজাহ: ৩৬৭; দারেমী: ১/১৮৭-১৮৮; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/১৮; ইবনুল জারুদ: ৬০; সুনান বাইহাকী: ২৪৫১; বাগাবী, শারহুসসুন্নাহ: ২৮৬; হাকিম: ১/১৬০; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১০৪। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রাহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান-সহীহ বলেছেন (সহীহ আবূ দাঊদ: ৬৮।)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن صحيح - «صحيح أبي داود» (68)، «الإرواء» (173).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: حميدة: روى عنها اثنان، وذكرها المؤلف في «الثقات» 6/ 250، وكبشة: عدها المؤلف في «الثقات» 3/ 357 من الصحابة، وتبعه المستغفري، والزبير بن بكار، وأبو موسى المديني كما في «الإصابة» 4/ 383، و «التهذيب» 12/ 447، وباقي رجاله ثقات.
1300 - أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ: «خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي بَعْضِ أَسْفَارِهِ، حَتَّى إِذَا كُنَّا بِالْبَيْدَاءِ أَوْ بِذَاتِ الْجَيْشِ، انْقَطَعَ عِقْدٌ لِي، فَأَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الْتِمَاسِهِ، فَأَقَامَ مَعَهُ النَّاسُ وَلَيْسُوا عَلَى مَاءٍ وَلَيْسَ مَعَهُمْ مَاءٌ، فَجَاءَ نَاسٌ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ فَقَالُوا: أَلَا تَرَى مَا صَنَعَتْ عَائِشَةُ؟ أَقَامَتْ بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَبِالنَّاسِ مَعَهُ، وَلَيْسُوا عَلَى مَاءٍ وَلَيْسَ مَعَهُمْ مَاءٌ، فَجَاءَ أَبُو بَكْرٍ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاضِعٌ رَأْسَهُ عَلَى فَخِذِي قَدْ نَامَ، فَقَالَ: حَبَسْتِ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالنَّاسَ وَلَيْسُوا عَلَى مَاءٍ وَلَيْسَ مَعَهُمْ مَاءٌ؟ فَعَاتَبَنِي أَبُو بَكْرٍ وَقَالَ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَقُولَ، [ص:118] وَجَعَلَ يَطْعُنُ بِيَدِهِ فِي خَاصِرَتِي فَلَا يَمْنَعُنِي مِنَ التَّحَرُّكِ إِلَّا مَكَانُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَنَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى أَصْبَحَ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ آيَةَ التَّيَمُّمِ فَتَيَمَّمُوا». قَالَ أُسَيْدُ بْنُ حُضَيْرٍ - وَهُوَ أَحَدُ النُّقَبَاءِ -: مَا هَذَا بِأَوَّلِ بَرَكَتِكُمْ يَا آلَ أَبِي بَكْرٍ قَالَتْ عَائِشَةُ: «فَبَعَثْنَا الْبَعِيرَ الَّذِي كُنْتُ عَلَيْهِ فَوَجَدْنَا الْعِقْدَ تَحْتَهُ». 1: 30]
رقم طبعة با وزير = (1297)
আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে কোন এক সফরে বের হলাম, অতঃপর যখন আমরা বাইদা অথবা যাতুল জাইশ নামক জায়গায় পৌঁছলাম, আমার একটি হার ছিড়ে পড়ে যায়, ফলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা খোঁজার জন্য সেখানে অবস্থান করেন, তাঁর সাথে লোকজনও অবস্থান করেন। সেখানে তাঁরা পানির জায়গায় ছিলেন না আর তাঁদের কাছেও কোন পানি ছিল না। ফলে লোকজন আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর কাছে এসে বলেন, “আপনি কি দেখছেন না আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা কী কাজ করেছেন? তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আটকে দিয়েছেন এবং তাঁর সাথে লোকদেরকেও আটকে দিয়েছেন অথচ এই জায়গায় পানি নেই আর তাঁদের কাছেও কোন পানি নেই। ফলে আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আমার কাছে আসেন, এমন অবস্থায় যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার উরুর উপর তাঁর মাথা রেখে ঘুমিয়েছেন। অতঃপর তিনি বলেন, “তুমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আটকে দিয়েছো এবং তাঁর সাথে লোকদেরকেও আটকে দিয়েছো অথচ এই জায়গায় পানি নেই আর তাঁদের কাছেও কোন পানি নেই। এভাবে আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আমাকে তিরস্কার করতে থাকেন এবং মাশাআল্লাহ যা বলার তিনি বলতে থাকেন আর কোমরে তাঁর হাত দিয়ে আঘাত করতে থাকেন। তবুও আমি কোন নড়াচড়া করিনি শুধুমাত্র আমার কাছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অবস্থানের কারণে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘুমান, এভাবে যখন সকাল হলো তখন আল্লাহ তায়াম্মুমের আয়াত নাযিল করেন। ফলে লোকজন তায়াম্মুম করেন।” উসাইদ বিন হুযাইর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু, যিনি একজন নক্বীব ছিলেন, তিনি বলেন, “হে আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর পরিবার, এটাই আপনাদের প্রথম বরকত নয়।” আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “অতঃপর আমি যে উটের উপর ছিলাম, যখন আমরা সেই উট উঠিয়ে দেই, হারটি আমরা তার নিচেই পেয়ে যাই।” [1]
[1] আবূ আওয়ানা: ১/৩০২; মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ৬৮ পৃষ্ঠা; মুসনাদ ইমাম শাফে‘ঈ: ১/৪৩; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৮৮০; সহীহ আল বুখারী: ৩৩৪; সহীহ মুসলিম: ৩৬৭; নাসাঈ: ১/১৬৩-১৬৪; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২৬২; সুনান বাইহাকী: ১/২২৩/২২৪; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৩০৭; তাবারানী: ৯৬৪১। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রাহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন (সহীহ আবূ দাঊদ: ৩৩৫।)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (335 و 337): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما.
1301 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْقَوَارِيرِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى الْقَطَّانُ، حَدَّثَنَا عَوْفٌ، حَدَّثَنَا أَبُو رَجَاءٍ، قَالَ: [ص:120] حَدَّثَنَا عِمْرَانُ بْنُ حُصَيْنٍ، قَالَ: كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ، وَإِنَّا سِرْنَا لَيْلَةً، حَتَّى إِذَا كَانَ مِنْ آخِرِ اللَّيْلِ وَقَعْنَا تِلْكَ الْوَقْعَةَ - وَلَا وَقْعَةَ أَحْلَى عِنْدَ الْمُسَافِرِ مِنْهَا - فَمَا أَيْقَظَنَا إِلَّا حَرُّ الشَّمْسِ، قَالَ: وَكَانَ أَوَّلُ مَنِ اسْتَيْقَظَ فُلَانٌ، ثُمَّ فُلَانٌ، ثُمَّ فُلَانٌ، - وَكَانَ يُسَمِّيهِمْ أَبُو رَجَاءٍ وَنَسِيَهُمْ عَوْفٌ - ثُمَّ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ الرَّابِعُ، قَالَ: وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا نَامَ لَمْ نُوقِظْهُ حَتَّى يَكُونَ هُوَ يَسْتَيْقِظُ، لَأَنَّا لَا نَدْرِي مَا يَحْدُثُ لَهُ فِي نَوْمِهِ، قَالَ: فَلَمَّا اسْتَيْقَظَ عُمَرُ وَرَأَى مَا أَصَابَ النَّاسَ، قَالَ: وَكَانَ رَجُلًا أَجْوَفَ جَلِيدًا، قَالَ: فَكَبَّرَ وَرَفَعَ صَوْتَهُ، فَمَا زَالَ يُكَبِّرُ وَيَرْفَعُ صَوْتَهُ بِالتَّكْبِيرِ حَتَّى اسْتَيْقَظَ بِصَوْتِهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَلَمَّا اسْتَيْقَظَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، شَكَوَا الَّذِي أَصَابَهُمْ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: [ص:121] «لَا ضَيْرَ - أَوْ لَا يَضِيرُ - ارْتَحِلُوا» فَسَارَ غَيْرَ بَعِيدٍ، ثُمَّ نَزَلَ فَدَعَا بِمَاءٍ فَتَوَضَّأَ، وَنُودِيَ بِالصَّلَاةِ، فَصَلَّى بِالنَّاسِ، فَلَمَّا انْفَتَلَ مِنْ صَلَاتِهِ، إِذَا هُوَ بِرَجُلٍ مُعْتَزِلٍ لَمْ يُصَلِّ مَعَ الْقَوْمِ، قَالَ: «مَا مَنَعَكَ يَا فُلَانُ أَنْ تُصَلِّيَ مَعَ الْقَوْمِ؟ » قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَصَابَتْنِي جَنَابَةٌ وَلَا مَاءَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «عَلَيْكَ بِالصَّعِيدِ فَإِنَّهُ يَكْفِيكَ»، ثُمَّ سَارَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَاشْتَكَى إِلَيْهِ النَّاسُ الْعَطَشَ، قَالَ: فَنَزَلَ فَدَعَا فُلَانًا - وَكَانَ يُسَمِّيهِ أَبُو رَجَاءٍ وَنَسِيَهُ عَوْفٌ - وَدَعَا عَلِيًّا، فَقَالَ: «اذْهَبَا فَابْغِيَا لَنَا الْمَاءَ»، فَلَقِيَا امْرَأَةً بَيْنَ مَزَادَتَيْنِ، أَوْ سَطِيحَتَيْنِ مِنْ مَاءٍ عَلَى بَعِيرٍ لَهَا، فَقَالَا لَهَا: أَيْنَ الْمَاءُ؟ قَالَتْ: عَهْدِي بِالْمَاءِ أَمْسِ هَذِهِ السَّاعَةَ، وَنَفَرُنَا خُلُوفٌ، قَالَ: فَقَالَا لَهَا: انْطَلِقِي إِذًا، قَالَتْ: إِلَى أَيْنَ؟ قَالَا: إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَتْ: هَذَا الَّذِي يُقَالُ لَهُ الصَّابِي؟ قَالَا: هُوَ الَّذِي تَعْنِينَ، فَانْطَلِقِي إِذًا، فَجَاءَا [ص:122] بِهَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَحَدَّثَاهُ الْحَدِيثَ قَالَ: فَاسْتَنْزَلُوهَا عَنْ بَعِيرِهَا، وَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، بِإِنَاءٍ، فَأَفْرَغَ فِيهِ مِنْ أَفْوَاهِ الْمَزَادَتَيْنِ، أَوِ السَّطِيحَتَيْنِ، وَأَوْكَأَ أَفْوَاهَهُمَا وَأَطْلَقَ الْعَزَالِي، وَنُودِيَ فِي النَّاسِ، أَنِ اسْتَقُوا وَاسْقُوا، قَالَ: فَسَقَى مَنْ شَاءَ وَاسْتَقَى مَنْ شَاءَ، وَكَانَ آخِرُ ذَلِكَ أَنْ أُعْطِيَ الَّذِي أَصَابَتْهُ الْجَنَابَةُ إِنَاءً مِنْ مَاءٍ، فَقَالَ: «اذْهَبْ فَأَفْرِغْهُ عَلَيْكَ» قَالَ: وَهِيَ قَائِمَةٌ تَنْظُرُ إِلَى مَا يَفْعَلُ بِمَائِهَا، قَالَ: وَايْمُ اللَّهِ لَقَدْ أُقْلِعَ عَنْهَا حِينَ أُقْلِعَ وَإِنَّهُ لَيُخَيَّلُ لَنَا أَنَّهَا أَشَدُّ مَلْئًا مِنْهَا حِينَ ابْتُدِئَ فِيهَا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اجْمَعُوا لَهَا طَعَامًا» قَالَ: فَجَمَعَ لَهَا مِنْ بَيْنِ عَجْوَةٍ وَدَقِيقَةٍ وَسَوِيقَةٍ، حَتَّى جَمَعُوا لَهَا طَعَامًا كَثِيرًا، وَجَعَلُوهُ فِي ثَوْبٍ، وَحَمَلُوهَا عَلَى بَعِيرِهَا، وَوَضَعُوا الثَّوْبَ بَيْنَ يَدَيْهَا، قَالَ: فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «تَعْلَمِينَ أَنَّا وَاللَّهِ مَا رَزِئْنَا مِنْ مَائِكَ شَيْئًا، وَلَكِنَّ اللَّهَ هُوَ سَقَانَا» قَالَ: فَأَتَتْ أَهْلَهَا وَقَدِ احْتَبَسَتْ عَلَيْهِمْ، فَقَالُوا: مَا حَبَسَكِ يَا فُلَانَةُ؟ قَالَتِ: الْعَجَبُ، لَقِيَنِي رَجُلَانِ، فَذَهَبَا بِي إِلَى هَذَا الَّذِي يُقَالُ لَهُ: الصَّابِي، فَفَعَلَ بِي كَذَا وَكَذَا، الَّذِي قَدْ كَانَ، فَوَاللَّهِ إِنَّهُ لَأَسْحَرُ مَنْ بَيْنَ هَذِهِ إِلَى هَذِهِ، أَوْ إِنَّهُ لِرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ [ص:123] وَسَلَّمَ، حَقًّا، قَالَ: فَكَانَ الْمُسْلِمُونَ بَعْدَ ذَلِكَ يُغِيرُونَ عَلَى مَنْ حَوْلَهَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ وَلَا يُصِيبُونَ الصِّرْمَ الَّذِي هِيَ فِيهِ، فَقَالَتْ لِقَوْمِهَا: وَاللَّهِ هَؤُلَاءِ الْقَوْمُ يَدَعُونَكُمْ عَمْدًا، فَهَلْ لَكُمْ فِي الْإِسْلَامِ؟ فَأَطَاعُوهَا فَدَخَلُوا فِي الْإِسْلَام. [1: 30]
رقم طبعة با وزير = (1298)
ইমরান বিন হুসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে কোন এক সফরে ছিলাম। আমরা রাতে চলছিলাম। যখন আমরা রাতের শেষ সময়ে উপনীত হলাম, তখন আমরা ঘুমিয়ে যাই। আর এসময় মুসাফিরের নিকট ঘুমের থেকে প্রিয় আর কিছু হয়না। অতঃপর রোদের উত্তাপই আমাদেরকে জাগিয়ে তুলে। রাবী বলেন, সর্বপ্রথম জাগ্রত হন ওমুক, তারপর ওমুক, তারপর ওমুক। রাবী আবূ রজা তাদের নাম বলেছিলেন কিন্তু আওফ সেসব নাম ভুলে যান। চতুর্থ ব্যক্তি হিসেবে উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু জাগ্রত হন। রাবী বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘুমালে আমরা তাঁকে জাগ্রত করতাম না, যতক্ষন না তিনি নিজে থেকে জাগ্রত হন। কারণ আমরা জানি না যে, তাঁর ঘুমের মাঝে কী ঘটছে। রাবী বলেন, যখন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু জাগ্রত হন এবং তিনি যখন দেখতে পান মানুষের এই অবস্থা, রাবী বলেন, উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বুলন্দ আওয়াজ ও কঠিন প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। রাবী বলেন, তখন তিনি উচ্চ আওয়াজে আল্লাহু আকবার বলেন এবং এভাবে তিনি তিনি উচ্চ আওয়াজে আল্লাহু আকবার বলতেই থাকেন। এক পর্যায়ে তাঁর আওয়াজে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জাগ্রত হন। যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জাগ্রত হন, তখন লোকজন তাঁর কাছে তাদেরকে যে অবস্থা পেয়ে বসেছে, তার অভিযোগ করেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “কোন ক্ষতি নেই। অথবা (রাবীর সন্দেহ তিনি বলেছেন) কোন ক্ষতি হবে না। তোমরা যাত্রা শুরু করো। অতঃপর তিনি সেখান থেকে অনতিদূরে গেলেন। অতঃপর যাত্রা বিরতি দিলেন এবং পানি আনতে বললেন। অতঃপর তিনি ওযূ করলেন। সালাতের জন্য আহবান করা হলো। অতঃপর লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। যখন তিনি সালাত শেষ করলেন, এমন সময় এক ব্যক্তিকে আলাদা দেখতে পেলেন, যিনি লোকদের সাথে সালাত আদায় করেননি, তিনি তাকে বললেন, “হে ওমুক, লোকদের সাথে সালাত করতে তোমাকে কিসে বাধা দিয়েছে?” জবাবে তিনি বলেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমি নাপাক হয়ে গেছি, কিন্তু কোন পানি নেই।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তোমার জন্য আবশ্যক হলো মাটি ব্যবহার করা। কেননা এটি তোমার জন্য যথেষ্ট।” তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যাত্রা শুরু করলেন, অতঃপর লোকজন তাঁর কাছে পিপাসার অভিযোগ করলেন। রাবী বলেন, “অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যাত্রাবিরতি দিলেন এবং ওমুক ব্যক্তিকে ডাক দিলেন। আবূ রজা তার নাম বলেছিলেন কিন্তু আওফ তা ভুলে যান। এছাড়া তিনি আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে ডাক দিলেন এবং বললেন, “তোমরা যাও এবং আমাদের জন্য পানি অনুসন্ধান করো।” অতঃপর তাঁরা একজন নারীর সাক্ষাৎ পেলেন, যিনি তার উটের উপর দুই পাশে পানির মশক রেখে তিনি মাঝখানে আরোহন করেছিলেন। তারা তাকে বললেন, “পানি কোথায় (থেকে নিয়ে আসলে)?” জবাবে তিনি বলেন, “আমি পানি পেয়েছি গতকাল বিকেলের এই সময়ে (অর্থাৎ পানি সেখান থেকে একদিনের দূরত্বে রয়েছে)! আর আমাদের দলের লোকজন পিছনে রয়েছে।” রাবী বলেন, তারা তাকে বললেন, “তবে তুমি আমাদের সাথে চলো।” সে বললো, “কোন দিকে?” তারা বললেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দিকে।” সে বললো, “যাকে সাবি‘ (নতুন ধর্ম আনয়নকারী) বলা হয়, তিনি?” তারা বললেন, “তুমি যাকে বুঝাচ্ছো, তিনি তিনিই। অতএব তুমি চলো।” তারপর তারা তাকে নিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে আসেন এবং তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে বৃত্তান্ত বর্ণনা করেন। রাবী বলেন, অতঃপর লোকজন তাকে তার উট থেকে নামায়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি পাত্র আনতে বললেন। অতঃপর তিনি তার দুই মশক থেকে সেই পাত্রে পানি ঢাললেন। তিনি মশক দুটির বড় মুখ বন্ধ করে দিলেন এবং মশকের নিচের দিকের ছোট মুখ খুলে দিলেন এবং মানুষের মাঝে ঘোষনা দিলেন, “তোমরা (তোমাদের বাহনকে) পানি পান করাও এবং নিজে পানি পান করো।” রাবী বলেন, “যার ইচ্ছা পানি পান করলো আর যার ইচ্ছা (বাহনকে) পানি পান করালো। অবশেষে জুনুবী ব্যক্তিকে এক পাত্র পানি দিলেন এবং বললেন, “যাও, এই পানি তোমার উপর ঢালো (অর্থাৎ এটা দিয়ে গোসল করে নাও)। রাবী বলেন, “এই সময় সেই নারী দাঁড়িয়ে দেখছিল তার পানির সাথে যা করা হচ্ছিল। রাবী বলেন, “আল্লাহর কসম, যখন তার পানি ফিরিয়ে দেওয়া হলো, আমাদের কাছে মনে হলো যেন পানি প্রথম যখন নেওয়া শুরু করেন, তারচেয়ে বেশি পরিমাণে রয়েছে!” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তোমরা তার জন্য কিছু খাবার জমা করো।” অতঃপর আজওয়া খেজুর, আটা ও ছাতু জমা করা হলো। এভাবে তারা অনেক খাবার জমা করলেন এবং তা একটি কাপড়ে দিলেন। তারা তাকে তার বাহনের তুলে দিলেন এবং কাপড়টি তার সামনে রেখে দিলেন। রাবী বলেন, অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, “আমরা তোমার পানি একটুও কমিয়ে দেইনি কিন্তু আল্লাহই আমাদেরকে পান করিয়েছেন।” রাবী বলেন, “অতঃপর সে নারী যথেষ্ট বিলম্ব করে তার পরিবারের কাছে যায়। তারা তাকে বলে, “হে ওমুক, তোমাকে কিসে আটকে দিয়েছিল?” জবাবে তিনি বলেন, “এক বিস্ময়কর জিনিস! আমার সাথে দুইজন ব্যক্তির সাক্ষাৎ হয়, অতঃপর তারা আমাকে এই ব্যক্তির কাছে নিয়ে যান, যাকে সাবি‘ (নতুন ধর্ম আনয়নকারী) বলা হয়। অতঃপর তারা আমার সাথে এই এই করে, যা তার সাথে ঘটেছিল, তাই বলেন। আল্লাহর কসম! হয় তিনি এর (আসমান) এবং এর (জমিনের) মাঝে সবচেয়ে বড় যাদুকর অন্যথায় নিশ্চয়ই তিনি আল্লাহর সত্য রাসূল। রাবী বলেন, “পরবর্তী সময়ে সাহাবীগণ তার আশপাশ মুশরিক অধ্যুষিত এলাকায় অতর্কিত হামলা করতেন, কিন্তু সেই নারীর এলাকায় হামলা করতেন না। একদিন সে নারী তার সম্প্রদায়ের লোকদের বললো, “এই লোকগুলো ইচ্ছাকৃতভাবেই তোমাদের উপর আক্রমণ করে না। কাজেই তোমরা ইসলাম গ্রহণ করবে কি?” অতঃপর তারা তার কথা মেনে নেয় এবং তারা ইসলামে প্রবেশ করেন।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৪/৪৩৪; সহীহ আল বুখারী: ৩৪৪; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২৭১; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ২০৫৩৭; সহীহ মুসলিম: ৬৮২; নাসাঈ: ১/১৭১; আবূ আওয়ানা: ১/৩০৭; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/৪০১; দারাকুতনী: ১/২০২; সুনান বাইহাকী: ১/২১৮; তাবারানী আল কাবীর: ১৮/২৭৬; মুসনাদ ইমাম শাফেঈ: ১/৪৫; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৩০৯। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রাহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন (সহীহ আবূ দাঊদ: ৩৩৫।)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الإرواء» (156): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما، عوف: هو ابن أبي جميلة الأعرابي، وأبو رجاء: هو عمران بن ملحان العطاردي البصري.
1302 - أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَوْفٌ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو رَجَاءٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي عِمْرَانُ بْنُ حُصَيْنٍ، قَالَ: كُنَّا فِي سَفَرٍ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، حَتَّى إِذَا كُنَّا فِي آخِرِ اللَّيْلِ، وَقَعْنَا تِلْكَ الْوَقْعَةَ - وَلَا وَقْعَةَ أَحْلَى عِنْدَ الْمُسَافِرِ مِنْهَا - فَمَا أَيْقَظَنَا إِلَّا حَرُّ الشَّمْسِ، فَاسْتَيْقَظَ فُلَانٌ وَفُلَانٌ - وَكَانَ يُسَمِّيهِمْ أَبُو رَجَاءٍ وَنَسِيَهُمْ عَوْفٌ - ثُمَّ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رِضْوَانُ اللَّهِ عَلَيْهِ الرَّابِعُ، وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا نَامَ لَمْ يُوقَظْ حَتَّى يَكُونَ هُوَ يَسْتَيْقِظُ، لَأَنَّا لَا نَدْرِي مَا يَحْدُثُ لَهُ فِي النَّوْمِ، فَلَمَّا اسْتَيْقَظَ عُمَرُ رِضْوَانُ اللَّهِ عَلَيْهِ وَرَأَى مَا أَصَابَ النَّاسَ، وَكَانَ رَجُلًا جَلِيدًا، فَكَبَّرَ وَرَفَعَ صَوْتَهُ بِالتَّكْبِيرِ، فَمَا زَالَ يُكَبِّرُ وَيَرْفَعُ صَوْتَهُ بِالتَّكْبِيرِ حَتَّى اسْتَيْقَظَ بِصَوْتِهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَلَمَّا اسْتَيْقَظَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَكَوْا إِلَيْهِ الَّذِي أَصَابَهُمْ، فَقَالَ: «لَا يَضِيرُ، فَارْتَحِلُوا» وَارْتَحَلَ، فَسَارَ غَيْرَ بَعِيدٍ، ثُمَّ نَزَلَ فَدَعَا بِالْوَضُوءِ فَتَوَضَّأَ، فَنُودِيَ بِالصَّلَاةِ فَصَلَّى بِالنَّاسِ، فَلَمَّا انْفَتَلَ مِنْ صَلَاتِهِ، فَإِذَا هُوَ بِرَجُلٍ مُعْتَزِلٍ لَمْ يُصَلِّ مَعَ الْقَوْمِ، فَقَالَ: «مَا مَنَعَكَ يَا فُلَانُ أَنْ تُصَلِّيَ مَعَ الْقَوْمِ؟ » فَقَالَ: [ص:125] يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَصَابَتْنِي جَنَابَةٌ، وَلَا مَاءَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «عَلَيْكَ بِالصَّعِيدِ فَإِنَّهُ يَكْفِيكَ» ثُمَّ سَارَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَشَكَا النَّاسُ إِلَيْهِ الْعَطَشَ، فَنَزَلَ فَدَعَا فُلَانًا - وَكَانَ يُسَمِّيهِ أَبُو رَجَاءٍ وَنَسِيَهُ عَوْفٌ - وَدَعَا عَلِيًّا رِضْوَانُ اللَّهِ عَلَيْهِ، وَقَالَ: «اذْهَبَا فَأَتَيَا بِالْمَاءِ»، فَانْطَلَقَا فَاسْتَقْبَلَتْهُمَا امْرَأَةٌ بَيْنَ مَزَادَتَيْنِ، أَوْ سَطِيحَتَيْنِ مِنْ مَاءٍ عَلَى بَعِيرٍ لَهَا، وَقَالَا لَهَا: أَيْنَ الْمَاءُ؟ فَقَالَتْ: عَهْدِي بِالْمَاءِ أَمْسِ هَذِهِ السَّاعَةَ، وَنَفَرُنَا خُلُوفٌ قَالَا لَهَا: انْطَلِقِي، قَالَتْ: إِلَى أَيْنَ؟ قَالَا: إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَتْ: هَذَا الَّذِي يُقَالُ لَهُ: الصَّابِي؟ قَالَا: هُوَ الَّذِي تَعْنِينَ، فَانْطَلِقِي، وَجَاءَا بِهَا إِلَى النَّبِيِّ، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَاسْتَنْزَلُوهَا عَنْ بَعِيرِهَا، وَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِإِنَاءٍ، فَأَفْرَغَ فِيهِ مِنْ أَفْوَاهِ الْمَزَادَتَيْنِ، أَوِ السَّطِيحَتَيْنِ، وَأَوْكَأَ أَفْوَاهَهُمَا، وَأَطْلَقَ الْعَزَالِي، وَنُودِيَ فِي النَّاسِ: أَنِ اسْتَقُوا وَاسْقُوا، قَالَ: فَسَقَى مَنْ شَاءَ، وَاسْتَسْقَى مَنْ شَاءَ، وَكَانَ آخِرُ ذَلِكَ أَنْ أَعْطَى الَّذِي أَصَابَتْهُ الْجَنَابَةُ إِنَاءً مِنْ مَاءٍ، فَقَالَ: «اذْهَبْ فَأَفْرِغْهُ عَلَيْكَ»، قَالَ: وَهِيَ قَائِمَةٌ تَنْظُرُ إِلَى مَا يَفْعَلُ بِمَائِهَا، قَالَ: وَايْمُ اللَّهِ، لَقَدْ أُقْلِعَ عَنْهَا حِينَ أُقْلِعَ، وَإِنَّهُ لَيُخَيَّلُ إِلَيْنَا أَنَّهَا أَشَدُّ مَلْئًا مِنْهَا حِينَ ابْتُدِئَ فِيهَا، [ص:126] فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اجْمَعُوا لَهَا طَعَامًا»، فَجَمَعَ لَهَا مِنْ تَمْرٍ وَعَجْوَةٍ وَدَقِيقَةٍ وَسَوِيقَةٍ، حَتَّى جَمَعُوا لَهَا طَعَامًا كَثِيرًا، وَجَعَلُوهُ فِي ثَوْبٍ وَحَمَلُوهَا عَلَى بَعِيرِهَا، وَوَضَعُوا الثَّوْبَ الَّذِي فِيهِ الطَّعَامُ بَيْنَ يَدَيْهَا، فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «تَعْلَمِينَ وَاللَّهِ مَا رَزَأْنَا مِنْ مَائِكِ شَيْئًا، وَلَكِنَّ اللَّهَ هُوَ الَّذِي سَقَانَا» فَأَتَتْ أَهْلَهَا وَقَدِ احْتَبَسَتْ عَنْهُمْ، قَالُوا: مَا حَبَسَكِ يَا فُلَانَةُ؟ قَالَتِ: الْعَجَبُ، لَقِيَنِي رَجُلَانِ فَذَهَبَا بِي إِلَى هَذَا الَّذِي يُقَالُ لَهُ: الصَّابِي، فَفَعَلَ بِي كَذَا وَكَذَا - الَّذِي قَدْ كَانَ - وَاللَّهِ إِنَّهُ لَأَسْحَرُ مَنْ بَيْنَ هَذِهِ وَهَذِهِ - وَقَالَتْ بِأُصْبُعَيْهَا السَّبَّابَةُ الْوُسْطَى، فَرَفَعَتْهُمَا إِلَى السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ، أَوْ إِنَّهُ لَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَقًّا، فَكَانَ الْمُسْلِمُونَ بَعْدُ يُغِيرُونَ عَلَى مَنْ حَوْلَهَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ، وَلَا يُصِيبُونَ الصِّرْمَ الَّذِي هِيَ فِيهِمْ، قَالَتْ يَوْمًا لِقَوْمِهَا: مَا أَرَى هَؤُلَاءِ الْقَوْمُ يَدَعُونَكُمْ إِلَّا عَمْدًا، فَهَلْ لَكُمْ فِي الْإِسْلَامِ؟ فَأَطَاعُوهَا فَدَخَلُوا فِي الْإِسْلَامِ. [5: 2]
رقم طبعة با وزير = (1299) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «أَبُو رَجَاءٍ الْعُطَارِدِيُّ عِمْرَانُ بْنُ تَيْمٍ، مَاتَ وَهُوَ ابْنُ مِائَةٍ وَعِشْرِينَ سَنَةً»
ইমরান বিন হুসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে কোন এক সফরে ছিলাম। আমরা রাতে চলছিলাম। যখন আমরা রাতের শেষ সময়ে উপনীত হলাম, তখন আমরা ঘুমিয়ে যাই। আর এসময় মুসাফিরের নিকট ঘুম থেকে প্রিয় আর কিছু হয়না। অতঃপর রোদের উত্তাপই আমাদেরকে জাগিয়ে তুলে। অতঃপর জাগ্রত হয় ওমুক ও ওমুক। রাবী আবূ রজা তাদের নাম বলেছিলেন কিন্তু আওফ সেসব নাম ভুলে যান। তারপর চতুর্থ ব্যক্তি হিসেবে উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু জাগ্রত হন। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘুমালে, তাঁকে জাগ্রত করা হতো না, যতক্ষন না তিনি নিজে থেকে জাগ্রত হন। কারণ আমরা জানি না যে, তাঁর ঘুমের মাঝে কী ঘটছে। যখন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু জাগ্রত হন এবং তিনি যখন দেখতে পান মানুষের এই অবস্থা, আর উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কঠিন প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। রাবী বলেন, তখন তিনি উচ্চ আওয়াজে আল্লাহু আকবার বলেন এবং এভাবে তিনি তিনি উচ্চ আওয়াজে আল্লাহু আকবার বলতেই থাকেন। এক পর্যায়ে তাঁর আওয়াজে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জাগ্রত হন। যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জাগ্রত হন, তখন লোকজন তাঁর কাছে তাদেরকে যে অবস্থা পেয়ে বসেছে, তার অভিযোগ করেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “কোন ক্ষতি হবে না। তোমরা যাত্রা শুরু করো।” অতঃপর তিনি তিনি রওয়ানা হলেন, এবং সামান্য সামনে চললেন। অতঃপর যাত্রা বিরতি দিলেন এবং পানি আনতে বললেন। অতঃপর তিনি ওযূ করলেন। সালাতের জন্য আহবান করা হলো। অতঃপর লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। যখন তিনি সালাত শেষ করলেন, এমন সময় এক ব্যক্তিকে আলাদা দেখতে পেলেন, যিনি লোকদের সাথে সালাত আদায় করেননি, তিনি তাকে বললেন, “হে ওমুক, লোকদের সাথে সালাত করতে তোমাকে কিসে বাধা দিয়েছে?” জবাবে তিনি বলেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমাকে জুনুবী হয়ে গেছি, কিন্তু কোন পানি নেই।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তোমার জন্য আবশ্যক হলো মাটি ব্যবহার করা। কেননা এটি তোমার জন্য যথেষ্ট।” তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যাত্রা শুরু করলেন, অতঃপর লোকজন তাঁর কাছে পিপাসার অভিযোগ করলেন। রাবী বলেন, “অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যাত্রাবিরতি দিলেন এবং ওমুক ব্যক্তিকে ডাক দিলেন। আবূ রজা তার নাম বলেছিলেন কিন্তু আওফ তা ভুলে যান। এছাড়া তিনি আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে ডাক দিলেন এবং বললেন, “তোমরা যাও এবং আমাদের জন্য পানি নিয়ে আসো।” অতঃপর তাঁরা একজন নারীর সাক্ষাৎ পেলেন, যিনি তার উটের উপর দুই পাশে পানির মশক রেখে তিনি মাঝখানে আরোহন করেছিলেন। তারা তাকে বললেন, “পানি কোথায় (থেকে নিয়ে আসলে)?” জবাবে তিনি বলেন, “আমি পানি পেয়েছি গতকাল বিকেলের এই সময়ে (অর্থাৎ পানি সেখান থেকে একদিনের দূরত্বে রয়েছে)! আর আমাদের দলের লোকজন পিছনে রয়েছে।” রাবী বলেন, তারা তাকে বললেন, “তবে তুমি আমাদের সাথে চলো।” সে বললো, “কোন দিকে?” তারা বললেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দিকে।” সে বললো, “যাকে ধর্মত্যাগী বলা হয়, তিনি?” তারা বললেন, “তুমি যাকে বুঝাচ্ছো, তিনি তিনিই। অতএব তুমি চলো।” তারপর তারা তাকে নিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে আসেন। এবং তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে বৃত্তান্ত বর্ণনা করেন। রাবী বলেন, অতঃপর লোকজন তাকে তার উট থেকে নামায়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি পাত্র আনতে বললেন। অতঃপর তিনি তার দুই মশক থেকে সেই পাত্রে পানি ঢাললেন। তিনি মশক দুটির বড় মুখ বন্ধ করে দিলেন এবং মশকের নিচের দিকের ছোট মুখ খুলে দিলেন এবং মানুষের মাঝে ঘোষনা দিলেন, “তোমরা (তোমাদের বাহনকে) পানি পান করাও এবং নিজে পানি পান করো।” রাবী বলেন, “যার ইচ্ছা পানি পান করলো আর যার ইচ্ছা (বাহনকে) পানি পান করালো। অবশেষে জুনুবী ব্যক্তিকে এক পাত্র পানি দিলেন এবং বললেন, “যাও, এই পানি তোমার উপর ঢালো (অর্থাৎ এটা দিয়ে গোসল করে নাও)। রাবী বলেন, “এই সময় সেই নারী দাঁড়িয়ে দেখছিল তার পানির সাথে যা করা হচ্ছিল। রাবী বলেন, “আল্লাহর কসম, যখন তার পানি ফিরিয়ে দেওয়া হলো, আমাদের কাছে মনে হলো যেন পানি প্রথম যখন নেওয়া শুরু করেন, তারচেয়ে বেশি পরিমাণে রয়েছে!” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তোমরা তার জন্য কিছু খাবার জমা করো।” অতঃপর আজওয়া খেজুর, আটা ও ছাতু জমা করা হলো। এভাবে তারা অনেক খাবার জমা করলেন এবং তা একটি কাপড়ে দিলেন। তারা তাকে তার বাহনের তুলে দিলেন এবং খাদ্যভর্তি কাপড়টি তার সামনে রেখে দিলেন। রাবী বলেন, অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, “আমরা তোমার পানি একটুও কমিয়ে দেইনি কিন্তু আল্লাহই আমাদেরকে পান করিয়েছেন।” রাবী বলেন, “অতঃপর সে নারী যথেষ্ট বিলম্ব করে তার পরিবারের কাছে যায়। তারা তাকে বলে, “হে ওমুক, তোমাকে কিসে আটকে দিয়েছিল?” জবাবে তিনি বলেন, “এক বিস্ময়কর জিনিস! আমার সাথে দুইজন ব্যক্তির সাক্ষাৎ হয়, অতঃপর তারা আমাকে এই ব্যক্তির কাছে নিয়ে যান, যাকে সাবি‘ (নতুন ধর্ম আনয়নকারী) বলা হয়। অতঃপর তারা আমার সাথে এই এই করে, যা তার সাথে ঘটেছিল, তাই বলেন। আল্লাহর কসম! হয় তিনি এর (আসমান) এবং এর (জমিনের) মাঝে সবচেয়ে বড় যাদুকর, এই বলে তিনি মধ্যমা ও তর্জনী অঙ্গুলি আসমান ও জমিনের দিকে উঠিয়ে ইশারা করেন, অন্যথায় নিশ্চয়ই তিনি আল্লাহর সত্য রাসূল। রাবী বলেন, “পরবর্তী সময়ে সাহাবীগণ তার আশপাশ মুশরিক অধ্যুষিত এলাকায় অতর্কিত হামলা করতেন, কিন্তু সেই নারীর এলাকায় হামলা করতেন না। একদিন সে নারী তার সম্প্রদায়ের লোকদের বললো, “আমার মনে হয়, এই লোকগুলো ইচ্ছাকৃতভাবেই তোমাদের উপর আক্রমণ করে না। কাজেই তোমরা ইসলাম গ্রহণ করবে কি?” অতঃপর তারা তার কথা মেনে নেয় এবং তারা ইসলামে প্রবেশ করেন।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আবূ রজা আল উতারিদী হলেন ইমরান বিন তাইম। তিনি ১২০ বছর বয়সে মারা যান।”
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৪/৪৩৪; সহীহ আল বুখারী: ৩৪৪; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২৭১; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ২০৫৩৭; সহীহ মুসলিম: ৬৮২; নাসাঈ: ১/১৭১; আবূ আওয়ানা: ১/৩০৭; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/৪০১; দারাকুতনী: ১/২০২; সুনান বাইহাকী: ১/২১৮; তাবারানী আল কাবীর: ১৮/২৭৬; মুসনাদ ইমাম শাফেঈ: ১/৪৫; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৩০৯। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রাহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন (সহীহ আবূ দাঊদ: ৩৩৫।)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق - المصدر نفسه.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما سوى مسدد، فإنه من رجال البخاري.
1303 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمِنْهَالِ الضَّرِيرُ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ عَزْرَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ، قَالَ: سَأَلْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، عَنِ التَّيَمُّمِ «فَأَمَرَنِي بِالْوَجْهِ وَالْكَفَّيْنِ ضَرْبَةً وَاحِدَةً». وَكَانَ قَتَادَةُ بِهِ يُفْتِي. [1: 30]
رقم طبعة با وزير = (1300)
আম্মার বিন ইয়াসির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম তায়াম্মুম সম্পর্কে, অতঃপর তিনি আমাকে হাত মাটিতে একবার মেরে তা দ্বারা মুখ ও দুই হাতের কব্জি পর্যন্ত মাসেহ করার নির্দেশ দিলেন। আর কাতাদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুও অনুরুপ ফাতাওয়া দিতেন।”[1]
[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২৬৭; আবূ দাঊদ: ৩২৭; তিরমিযী: ১৪৪; দারাকুতনী: ১/১৮২; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/১৫৯; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/১১২; সুনান বাইহাকী: ১/২১০; ইবনুল জারুদ, আল মুনতাকা: ১২৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রাহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন (সহীহ আবূ দাঊদ: ৩৫১।)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الإرواء» (158)، «صحيح أبي داود» (351): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم، عزرة- بفتح العين المهملة، وإسكان الزاي، وفتح الراء-هو ابن عبد الرحمن بن زرارة الخزاعي الكوفي.
1304 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، مَوْلَى ثَقِيفٍ قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، وَيَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ، قَالَا: حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، عَنْ شَقِيقٍ، قَالَ: كُنْتُ جَالِسًا مَعَ عَبْدِ اللَّهِ وَأَبِي مُوسَى فَقَالَ أَبُو مُوسَى: يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ الرَّجُلُ يُجْنِبُ فَلَا يَجِدُ الْمَاءَ أَيُصَلِّي؟ فَقَالَ: لَا، فَقَالَ: أَمَا تَذْكُرُ قَوْلَ عَمَّارٍ لِعُمَرَ بَعَثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَا وَأَنْتَ فَأَجْنَبْتُ فَتَمَعَّكْتُ فِي التُّرَابِ، فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ، فَقَالَ: «كَانَ يَكْفِيكَ هَكَذَا وَضَرَبَ بِيَدِهِ الْأَرْضَ فَمَسَحَ وَجْهَهُ وَكَفَّيْهِ» فَقَالَ: لَمْ أَرَ عُمَرَ قَنَعَ بِذَلِكَ، قَالَ: فَمَا تَصْنَعُ [ص:129] بِهَذِهِ الْآيَةِ: {فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا} [النساء: 43] فَقَالَ: «أَمَا إِنَّا لَوْ رَخَّصْنَا لَهُمْ فِي هَذَا لَكَانَ أَحَدُهُمْ إِذَا وَجَدَ بَرْدَ الْمَاءِ تَيَمَّمَ بِالصَّعِيدِ» زَادَ يَعْلَى: قَالَ الْأَعْمَشُ: فَقُلْتُ لِشَقِيقٍ فَلَمْ يَكُنْ هَذَا إِلَّا لِهَذَا. [1: 30]
رقم طبعة با وزير = (1301)
শাকীক রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আমি আব্দুল্লাহ বিন মাস‘ঊদ ও আবূ মুসা আল আশ‘আরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমার কাছে বসে ছিলাম। তখন আবূ মুসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন, “হে আবূ আব্দুর রহমান, একজন ব্যক্তি জুনুবী হয়ে যায় কিন্তু সে কোন পানি পাইনা, সে কি সালাত আদায় করবে?” জবাবে তিনি বলেন, “না।” তিনি আবারো বলেন, “আপনার কি মনে পড়ে না উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর উদ্দেশ্যে আম্মার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর কথা; রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে এবং আপনাকে এক জায়গায় পাঠিয়েছিলেন অতঃপর আমি জুনুবী হয়ে যাই ফলে আমি মাটিতে গড়াগড়ি দেই। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসি এবং তাঁর কাছে ঘটনা বর্ণনা করি। তখন তিনি বলেন, “তোমার জন্য যথেষ্ট ছিল এরকম করা। এই বলে তিনি হাত জমিনে মারেন অতঃপর তাঁর মুখমন্ডল ও দুই হাতের কব্জি পর্যন্ত মাসেহ করেন।” তখন আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আমি মনে করি না যে, এতে উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তুষ্ট হয়েছিলেন।” আবূ মুসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আপনি এই আয়াতটির ব্যাপারে কী করবেন? যেখানে বলা হয়েছে, {فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا} (অতঃপর যদি তোমরা পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করবে।)” (সূরা মায়িদা: ৬।) জবাবে তিনি বলেন, “জেনে রাখো যে, যদি আমরা এই ব্যাপারে অবকাশ দেই, তবে লোকজন পানি ঠান্ডা পেলেই মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করবে।” ইয়ালা আরেকটু বেশি বর্ণনা করেছেন, “ইমাম আ‘মাশ বলেছেন, আমি শাকীককে বললাম, “এই হুকুম তাহলে এজন্যই ছিল।”[1]
[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/১৫৮-১৫৯; সহীহ মুসলিম: ৩৬৮; মুসনাদ আহমাদ: ২/৩৯৬; সহীহ আল বুখারী: ৩৪৭; আবূ দাঊদ: ৩২১; নাসাঈ: ১/১৭০; দারাকুতনী: ১/১৭৯; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২৭০; আবূ আওয়ানা: ১/৩০৩। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রাহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন (আস সহীহাহ: ৩৩৪।)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الإرواء» -أيضا-، «الصحيح» برقم (344).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما، أبو معاوية: هو محمد بن خازم الكوفي، وهو أحفظ الناس لحديث الأعمش.
1305 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُعَاذٍ الْعَقَدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ الْأَعْمَشُ، عَنْ شَقِيقِ بْنِ سَلَمَةَ، قَالَ: قَالَ أَبُو مُوسَى لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ: لَوْ أَنَّ جُنُبًا لَمْ يَجِدِ الْمَاءَ شَهْرًا لَمْ يُصَلِّ؟ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: لَا، قَالَ أَبُو مُوسَى: أَمَا تَذْكُرُ حِينَ قَالَ عَمَّارُ بْنُ يَاسِرٍ لِعُمَرَ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ أَلَا تَتَّقِي اللَّهَ أَلَا تَذْكُرُ حِينَ بَعَثَنِي وَإِيَّاكَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْإِبِلِ، فَأَصَابَتْنِي جَنَابَةٌ، فَتَمَعَّكْتُ فِي التُّرَابِ، فَلَمَّا رَجَعْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَخْبَرْتُهُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّمَا كَانَ يَكْفِيكَ أَنْ تَقُولَ هَكَذَا، وَضَرَبَ بِيَدِهِ إِلَى الْأَرْضِ، وَمَسَحَ وَجْهَهُ وَكَفَّيْهِ» قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: لَا جَرَمَ مَا رَأَيْتُ عُمَرَ قَنَعَ بِذَلِكَ، قَالَ أَبُو مُوسَى: فَكَيْفَ بِهَذِهِ الْآيَةِ فِي سُورَةِ النِّسَاءِ {فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا} [النساء: 43] صَعِيدًا طَيِّبًا، فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ: «إِنَّا لَوْ رَخَّصْنَا لَهُمْ فِي ذَلِكَ يُوشِكُ إِذَا بَرَدَ عَلَى جِلْدِ أَحَدِهِمُ الْمَاءُ أَنْ يَتَيَمَّمَ» قَالَ الْأَعْمَشُ: فَقُلْتُ لِشَقِيقٍ: أَمَا كَانَ لِعَبْدِ اللَّهِ غَيْرُ ذَلِكَ؟ قَالَ: لَا. [5: 2]
رقم طبعة با وزير = (1302)
শাকীক রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আবূ মুসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন, “যদি কোন জুনুবী ব্যক্তি এক মাস পানি না পায়, সে কি সালাত আদায় করবে না?” জবাবে আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু বলেন, “না।” আবূ মুসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আবারো বলেন, “আপনার কি মনে পড়ে না উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর উদ্দেশ্যে আম্মার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছিলেন, “হে আমিরুল মু‘মিনীন, আপনি কি আল্লাহকে ভয় করছেন না? আপনার কি মনে নেই সে সময়ের কথা যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে এবং আপনাকে উটের কাজে পাঠিয়েছিলেন অতঃপর আমি জুনুবী হয়ে যাই ফলে আমি মাটিতে গড়াগড়ি দেই। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসি এবং তাঁর কাছে ঘটনা বর্ণনা করি। তখন তিনি বলেন, “তোমার জন্য যথেষ্ট ছিল এরকম করা। এই বলে তিনি হাত জমিনে মারেন অতঃপর তাঁর মুখমন্ডল ও দুই হাতের কব্জি পর্যন্ত মাসেহ করেন।” তখন আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আমি অবশ্যই মনে করি না যে, এতে উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তুষ্ট হয়েছিলেন।” আবূ মুসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “তাহলে আপনি সূরা নিসার এই আয়াতটির ব্যাপারে কী করবেন? যেখানে বলা হয়েছে, {فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا} (অতঃপর যদি তোমরা পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করবে।)” (সূরা মায়িদা: ৬।) জবাবে তিনি বলেন, “যদি আমরা এই ব্যাপারে অবকাশ দেই, তবে লোকজন শরীরে পানি ঠান্ডা লাগলেই মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করবে।” ইমাম আ‘মাশ বলেছেন, আমি শাকীককে বললাম, “আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহুর এছাড়া আর কোন যুক্তি-প্রমাণ ছিল না?” জবাবে তিনি বলেন, “না।”[1]
[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/১৫৮-১৫৯; সহীহ মুসলিম: ৩৬৮; মুসনাদ আহমাদ: ৪/৩৬৫; সহীহ আল বুখারী: ৩৪৭; আবূ দাঊদ: ৩২১; নাসাঈ: ১/১৭০; দারাকুতনী: ১/১৭৯; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২৭০; আবূ আওয়ানা: ১/৩০৪। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রাহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন (আস সহীহাহ: ৩৩৪।)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق - انظر ما قبله.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح.
1306 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ ذَرٍّ، عَنِ ابْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَجُلًا أَتَى عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، فَقَالَ: إِنِّي أَجْنَبْتُ، فَلَمْ أَجِدِ الْمَاءَ، فَقَالَ عُمَرُ: لَا تُصَلِّ، فَقَالَ عَمَّارٌ، أَمَا تَذْكُرُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ إِذْ أَنَا وَأَنْتَ فِي سَرِيَّةٍ، فَأَجْنَبْنَا، فَلَمْ نَجْدِ الْمَاءَ، فَأَمَّا أَنْتَ فَلَمْ تُصَلِّ، وَأَمَّا أَنَا، فَتَمَعَّكْتُ فِي التُّرَابِ، فَصَلَّيْتُ، فَلَمَّا أَتَيْنَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ، فَقَالَ: «إِنَّمَا كَانَ يَكْفِيكَ وَضَرَبَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدِهِ إِلَى الْأَرْضِ، ثُمَّ نَفَخَ فِيهِمَا، وَمَسَحَ بِهِمَا وَجْهَهُ وَكَفَّيْهِ». [5: 42]
رقم طبعة با وزير = (1303)
আব্দুর রহমান বিন আবযা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞেস করে বলেন, “আমি নাপাক হয়েছি, কিন্তু কোন পানি পাইনি।” উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “তুমি সালাত আদায় করবে না।” তখন আম্মার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আপনার কি মনে নেই, সে সময়ের কথা যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জামানায় আমি এবং আপনি একটি যুদ্ধাভিযানে ছিলাম অতঃপর আমরা নাপাক হয়ে যাই কিন্তু কোন পানি পাওয়া যায়নি, অতঃপর আপনি সালাত আদায় করেননি আর আমি মাটিতে গড়াগড়ি দেই। অতঃপর যখন আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে আসি, তখন আমি ব্যাপারটি তাকে বললাম। জবাবে তিনি বলেন, “তোমার জন্য এরকম করাই যথেষ্ট ছিল; অতঃপর তিনি তাঁর হাত মাটিতে মারেন, তারপর দুই হাতের তালুতে ফুঁক দেন অতঃপর তিনি মুখমন্ডল ও হাতের কব্জি পর্যন্ত মাসেহ করেন।”[1]
[1] আত তায়ালিসী: ১/৬৩; সুনান বাইহাকী: ১/২১৪; মুসনাদ আহমাদ: ৪/২৬৫; সহীহ আল বুখারী: ৩৩৮; সহীহ মুসলিম: ৩৬৮; আবূ দাঊদ: ৩২৬; নাসাঈ: ১/১৬৯; ইবনু মাজাহ: ৫৬৯; আবূ আওয়ানা: ১/৩০৬; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/১১২; দারাকুতনী: ১/১৮৩; ইবনুল জারুদ: ১২৫; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৩০৮; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২৬৬; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/১৫৯। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (ইরওয়াউল গালীল: ১৫৮।)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (345): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما، وهو مكرر (1267) الذي أورده المؤلف طريق يزيد بن زريع، عن شعبة، به.
1307 - أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ إِسْمَاعِيلَ بِبُسْتَ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْحُلْوَانِيُّ، حَدَّثَنَا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، عَنْ شَقِيقٍ، قَالَ: كُنْتُ مَعَ عَبْدِ اللَّهِ وَأَبِي مُوسَى، فَقَالَ أَبُو مُوسَى: يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ الرَّجُلُ يُجْنِبُ، فَلَا يَجِدُ الْمَاءَ يُصَلِّي؟ فَقَالَ: تَسْمَعُ قَوْلَ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ لِعُمَرَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ [ص:132] صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعَثَنَا أَنَا وَأَنْتَ، فَأَجْنَبْتُ، فَتَمَعَّكْتُ بِالصَّعِيدِ، فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَخْبَرْتُهُ، فَقَالَ: «إِنَّمَا يَكْفِيكَ هَكَذَا وَمَسَحَ وَجْهَهُ وَكَفَّيْهِ وَاحِدَةً» فَقَالَ: إِنِّي لَمْ أَرَ عُمَرَ قَنَعَ بِذَلِكَ، فَقَالَ: كَيْفَ تَصْنَعُونَ بِهَذِهِ الْآيَةِ؟ {فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا} [النساء: 43]، قَالَ: «لَوْ رَخَّصْنَا لَهُمْ فِي هَذِهِ كَانَ أَحَدُهُمْ إِذَا وَجَدَ الْمَاءَ الْبَارِدَ يَمْسَحُ بِالصَّعِيدِ» قَالَ الْأَعْمَشُ: فَقُلْتُ لِشَقِيقٍ: مَا كَرِهَهُ إِلَّا لِهَذَا. [5: 42]
رقم طبعة با وزير = (1304)
শাকীক রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আমি আব্দুল্লাহ বিন মাস‘ঊদ ও আবূ মুসা আল আশ‘আরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমার কাছে ছিলাম। তখন আবূ মুসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন, “হে আবূ আব্দুর রহমান, একজন ব্যক্তি জুনুবী হয়ে যায় কিন্তু সে কোন পানি পায়না, সে কি সালাত আদায় করবে?” তিনি আবারো বলেন, “আপনি তো উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর উদ্দেশ্যে আম্মার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর কথা শুনেছেন; রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে এবং আপনাকে এক জায়গায় পাঠিয়েছিলেন অতঃপর আমি জুনুবী হয়ে যাই ফলে আমি মাটিতে গড়াগড়ি দেই। তারপর আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসি এবং তাঁর কাছে ঘটনা বর্ণনা করি। তখন তিনি বলেন, “তোমার জন্য যথেষ্ট ছিল এরকম করা। এই বলে তিনি হাত জমিনে মারেন অতঃপর তাঁর মুখমন্ডল ও দুই হাতের কব্জি পর্যন্ত মাসেহ করেন একবার।” তখন আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আমি মনে করি না যে, এতে উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তুষ্ট হয়েছিলেন।” আবূ মুসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আপনি এই আয়াতটির ব্যাপারে কী করবেন? যেখানে বলা হয়েছে, {فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا} (অতঃপর যদি তোমরা পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করবে।)” (সূরা মায়িদা: ৬।) জবাবে তিনি বলেন, “যদি আমরা এই ব্যাপারে অবকাশ দেই, তবে লোকজন শরীরে পানি ঠান্ডা লাগলেই মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করবে।” ইমাম আ‘মাশ বলেছেন, আমি শাকীককে বললাম, “এজন্যই তিনি তায়াম্মুম করা অপছন্দ করতেন।”[1]
[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/১৫৮-১৫৯; সহীহ মুসলিম: ৩৬৮; মুসনাদ আহমাদ: ২/৩৯৬; সহীহ আল বুখারী: ৩৪৭; আবূ দাঊদ: ৩২১; নাসাঈ: ১/১৭০; দারাকুতনী: ১/১৭৯; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২৭০; আবূ আওয়ানা: ১/৩০৩। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রাহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন (আস সহীহাহ: ৩৩৪।)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق - انظر (1301). تنبيه!! رقم (1301) = (1304) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما
1308 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمِنْهَالِ الضَّرِيرُ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ عَزْرَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ، قَالَ: سَأَلْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ التَّيَمُّمِ؟ «فَأَمَرَنِي بِالْوَجْهِ وَالْكَفَّيْنِ ضَرْبَةً وَاحِدَةً». وَكَانَ قَتَادَةُ بِهِ يُفْتِي. [3: 65]
رقم طبعة با وزير = (1305)
আম্মার বিন ইয়াসির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম তায়াম্মুম সম্পর্কে, অতঃপর তিনি আমাকে হাত মাটিতে একবার মেরে তা দ্বারা মুখ ও দুই হাতের কব্জি পর্যন্ত মাসেহ করার নির্দেশ দিলেন। আর কাতাদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুও অনুরুপ ফাতাওয়া দিতেন।”[1]
[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২৬৭; আবূ দাঊদ: ৩২৭; তিরমিযী: ১৪৪; দারাকুতনী: ১/১৮২; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/১৫৯; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/১১২; সুনান বাইহাকী: ১/২১০; ইবনুল জারুদ, আল মুনতাকা: ১২৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রাহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন (সহীহ আবূ দাঊদ: ৩৫১।)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق - انظر (1300). تنبيه!! رقم (1300) = (1303) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم، وهو مكرر (1303).
1309 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ، وَعُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ [ص:133] الْهَمْدَانِيُّ، قَالَا: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ *، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ ذَرٍّ، عَنِ ابْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَجُلًا أَتَى عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، فَقَالَ: إِنِّي أَجْنَبْتُ فَلَمْ أَجِدِ الْمَاءَ، فَقَالَ عُمَرُ: لَا تُصَلِّ، فَقَالَ عَمَّارٌ: أَمَا تَذْكُرُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ إِذْ أَنَا وَأَنْتَ فِي سَرِيَّةٍ فَأَجْنَبْنَا، فَلَمْ نَجْدِ الْمَاءَ، فَأَمَّا أَنْتَ فَلَمْ تُصَلِّ، وَأَمَّا أَنَا فَتَمَعَّكْتُ فِي التُّرَابِ فَصَلَّيْتُ، فَلَمَّا أَتَيْنَا النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ، فَقَالَ: «إِنَّمَا يَكْفِيكَ وَضَرَبَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدِهِ إِلَى الْأَرْضِ، ثُمَّ نَفَخَ فِيهِمَا، وَمَسَحَ بِهِمَا وَجْهَهُ وَكَفَّيْهِ». [1: 30]
رقم طبعة با وزير = (1306) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «اللَّفْظُ لِمُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ رَحِمَهُ اللَّهُ»
আব্দুর রহমান বিন আবযা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞেস করে বলেন, “আমি নাপাক হয়েছি, কিন্তু কোন পানি পাইনি।” উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “তুমি সালাত আদায় করবে না।” তখন আম্মার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আপনার কি মনে নেই, সে সময়ের কথা যখন আমি এবং আপনি একটি যুদ্ধাভিযানে ছিলাম অতঃপর আমরা নাপাক হয়ে যাই কিন্তু কোন পানি পাওয়া যায়নি, অতঃপর আপনি সালাত আদায় করেননি আর আমি মাটিতে গড়াগড়ি দেই। অতঃপর যখন আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে আসি, তখন আমি ব্যাপারটি তাকে বললাম। জবাবে তিনি বলেন, “তোমার জন্য এরকম করাই যথেষ্ট ছিল; অতঃপর তিনি তাঁর হাত মাটিতে মারেন, তারপর দুই হাতের তালুতে ফুঁক দেন অতঃপর তিনি মুখমন্ডল ও হাতের কব্জি পর্যন্ত মাসেহ করেন।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “হাদীসের শব্দগুলো মুহাম্মাদ বিন ইসহাক রহিমাহুল্লাহর।”
[1] আত তায়ালিসী: ১/৬৩; সুনান বাইহাকী: ১/২১৪; মুসনাদ আহমাদ: ৪/২৬৫; সহীহ আল বুখারী: ৩৩৮; সহীহ মুসলিম: ৩৬৮; আবূ দাঊদ: ৩২৬; নাসাঈ: ১/১৬৯; ইবনু মাজাহ: ৫৬৯; আবূ আওয়ানা: ১/৩০৬; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/১১২; দারাকুতনী: ১/১৮৩; ইবনুল জারুদ: ১২৫; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৩০৮; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২৬৬; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/১৫৯। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (ইরওয়াউল গালীল: ১৫৮।)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الإرواء» (158)، «صحيح أبي داود» (351 - 353): ق. * [شُعْبَةُ] قال الشيخ: في الأصل: (سعيد).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما
1310 - أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ الْجُمَحِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَسْمَاءَ ابْنُ أَخِي جُوَيْرِيَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا جُوَيْرِيَةُ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، [ص:134] عَنْ عَمَّارٍ، قَالَ: «تَيَمَّمْنَا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى الْمَنَاكِبِ». [1: 30]
رقم طبعة با وزير = (1307) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «كَانَ هَذَا حَيْثُ نَزَلَ آيَةُ التَّيَمُّمِ قَبْلَ تَعْلِيمِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَمَّارًا كَيْفِيَّةَ التَّيَمُّمِ، ثُمَّ عَلَّمَهُ ضَرْبَةً وَاحِدَةً لِلْوَجْهِ وَالْكَفَّيْنِ، لَمَّا سَأَلَ عَمَّارٌ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ [ص:135] عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ التَّيَمُّمِ».
আম্মার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে ঘাড় পর্যন্ত তায়াম্মুম করতাম।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আম্মার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এভাবে করেছেন যখন তায়াম্মুমের আয়াত নাযিল হয় কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে তায়াম্মুম কিভাবে করতে হয়, তা তখনও শিক্ষা দেননি অতঃপর তিনি যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তায়াম্মুম করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন, তখন তিনি তাকে তায়াম্মুম করা শিক্ষা দেন যে, এটি হলো মুখমুন্ডল ও হাতের কব্জি পর্যন্ত মাসেহ করার জন্য একবার হাত জমিনে একবার মারা।”
[1] নাসাঈ: ১/১৬৮; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/১১০; সুনান বাইহাকী: ১/২০৮; মুসনাদ ইমাম শাফেঈ: ১/৪৪; ইবনু মাজাহ: ৫৬৬; আত তায়ালিসী: ১/৬৩; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৮২৭; মুসনাদ আহমাদ: ৪/৩২১; আবূ দাঊদ: ৩২০। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৩৪১।)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (341).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما.
1311 - أَخْبَرَنَا شَبَابُ بْنُ صَالِحٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا خَالِدٌ، عَنْ خَالِدٍ، عَنْ أَبِي قِلَابَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ بُجْدَانَ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ: اجْتَمَعَتْ غَنِيمَةٌ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: «يَا أَبَا ذَرٍّ، ابْدُ فِيهَا»، قَالَ: فَبَدَوْتُ فِيهَا إِلَى الرَّبَذَةِ، فَكَانَتْ تُصِيبُنِي الْجَنَابَةُ، فَأَمْكُثُ الْخَمْسَ وَالسِّتَّ، فَدَخَلْتُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: «أَبُو ذَرٍّ»: فَسَكَتُّ، ثُمَّ قَالَ: «أَبُو ذَرٍّ، ثَكِلَتْكَ أُمُّكَ» فَأَخْبَرْتُهُ، فَدَعَا بِجَارِيَةٍ سَوْدَاءَ، فَجَاءَتْ بِعُسٍّ مِنْ مَاءٍ، فَسَتَرَتْنِي، وَاسْتَتَرْتُ بِالرَّاحِلَةِ، فَاغْتَسَلْتُ، فَكَأَنَّهَا أَلْقَتْ عَنِّي جَبَلًا، فَقَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الصَّعِيدُ الطَّيِّبُ وَضُوءُ الْمُسْلِمِ، وَلَوْ إِلَى عَشْرِ سِنِينَ، فَإِذَا وَجَدْتَ الْمَاءَ [ص:136] فَأَمْسِسْهُ جِلْدَكَ، فَإِنَّ ذَلِكَ خَيْرٌ». [3: 65]
رقم طبعة با وزير = (1308)
আবূ যার্র রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে সাদাকার কিছু ছাগল জমা হলে তিনি বলেন, “হে আবূ যার্র, তুমি এগুলি নিয়ে মাঠে যাও।” আবূ যার্র রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “ফলে আমি সেগুলো নিয়ে রাবাযাহ নামক জায়গায় যাই। অতঃপর আমি জুনুবী হয়ে যাই, তারপর আমি সেখানে ৫/৬ দিন অবস্থান করি অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে প্রবেশ করি।” তিনি আমাকে বলেন, “হে আবূ যার্র”, আমি চুপ থাকি। তারপর তিনি আবার বলেন, “হে আবূ যার্র, তোমার মা তোমাকে হারিয়ে ফেলুক (অথবা তোমার মায়ের জন্য দুঃখ)।” অতঃপর আমি তাকে আমার বৃত্তান্ত জানালাম। ফলে তিনি কালো বর্ণের এক দাসীকে ডাকলেন অতঃপর সে এক পাত্র পানি নিয়ে আসলো। সে আমার এক দিকে পর্দা করলো আমিও আরেক দিকে আমার বাহন রেখে ঢেকে নিলাম এবং গোসল করে নিলাম। অতঃপর আমার মনে হলো যেন আমার থেকে একটি পাহাড় সরে গেলো। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “পবিত্র মাটি মুসলিম ব্যক্তির ওযূ, যদিও দশ বছর পর্যন্ত পানি না পাওয়া যায়। অতঃপর যখন তুমি পানি পাবে, তখন তা তোমার শরীরে বুলিয়ে নিবে (অর্থাৎ গোসল করে নিবে)। কেননা এটিই হলো উত্তম।”[1]
[1] আবূ দাঊদ: ৩৩২; হাকিম: ১/১৭০; সুনান বাইহাকী: ১/২২০; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৯১৩; মুসনাদ আহমাদ: ৫/১৫৫; তিরমিযী: ১২৪; নাসাঈ: ১/১৭১; দারাকুতনী: ১/১৮৬; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/১৫৬; আত তায়ালিসী: ৪৮৪। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৩৫৮।)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (358).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: حديث صحيح، عمرو بن بُجدان: ذكره المؤلف في «الثقات» " 5/ 171، وقال: يروي عن أبي ذر، وأبي زيد الأنصاري، عداده في أهل البصرة، روى عنه أبو قلابة، ووثقه العجلي ص362، وترجمه البخاري 6/ 317، وابن أبي حاتم 6/ 222، فلم يذكرا فيه جرحاً ولا تعديلاً، وصحح الترمذي والحاكم والمؤلف حديثه هذا، وباقي رجال الإسناد على شرط الشيخين سوى وهب بن بقية، فإنه من رجال مسلم، وخالد الأول في السند: هو خالد بن عبد الله بن عبد الرحمن بن يزيد الطحان الواسطي، والثاني: هو خالد بن مهران الحذاء، وأبو قلابة: اسمه عبد الله بن زيد الجرمي، وقد ردَّ الشيخ تقي الدين بن دقيق العيد في «الإمام» على قول ابن القطان في عمرو بن بجدان: لا يعرف له حال، فيما نقله عنه الإمام الزيلعي في «نصب الراية» 1/ 149 فقال: ومن العجب كون ابن القطان لم يكتف بتصحيح الترمذي في معرفة حال عمرو بن بجدان مع تفرده بالحديث، وهو قد نقل كلامه: هذا حديث حسن صحيح، وأي فرق بين أن يقول: هو ثقة أو يصحح له حديثاً انفرد به؟! وإن كان توقف عن ذلك لكونه لم يرو عنه إلا أبو قلابة، فليس هذا بمقتضى مذهبه، فإنه لا يلتفت إلى كثرة الرواة في نفي جهالة الحال، فكذلك لا يوجب جهالة الحال بانفراد راو واحد عنه بعد وجود ما يقتضي تعديله، وهو تصحيح الترمذي ...