সহীহ ইবনু হিব্বান
1441 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ طَلْحَةَ الْيَرْبُوعِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْأَحْوَصِ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الْأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: «مَا رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَائِمًا الْعَشْرَ قَطُّ، وَلَا خَرَجَ مِنَ الْخَلَاءِ إِلَّا مَسَّ مَاءً». [5: 8]
رقم طبعة با وزير = (1438)
আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনই যিলহজ্জ মাসের দশ সিয়াম রাখতে দেখিনি আর তিনি যখনই হাজত পূরণ সম্পন্ন করতেন, তখনই পানি স্পর্শ করতেন।”[1]
[1] হাদীসটির প্রথমাংশ বর্ণনা করেছেন ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/৪১; সহীহ মুসলিম: ১১৭৬; তিরমিযী: ৭৫৬; আবূ দাঊদ: ২৪৩৯; বাগাবী: ১৭৯৩; ইবনু মাজাহ: ১৭২৯। হাদীসটির দ্বিতীয়াংশ বর্ণনা করেছেন ইবনু আবী শায়বাহ: ১/১৫৩। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটির সানাদকে যঈফ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ লিগাইরিহী বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ২১০৮।)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح لغيره - «صحيح أبي داود» (2108): م الشطر الأول*. * [م الشطر الأول] قال الشيخ: قلت: ويَشهدُ للشطرِ الأخير حديث عائشة الآتي بعد حديث. وروايةُ إِبراهيمَ قال: بلغني أنَّ رسول اللهِ صلى الله عليه وسلم لم يَدخُلِ الخلاء إِلاَّ تَوَضَّأ أو مسحَ مَاءً. أخرجه ابن أبي شيبة (1/ 153)، ورجالُه ثِقَاتٌ، وإبراهيم: هو ابن يزيد النخعيّ، الثقة التابعي؛ فهو مرسل صحيح.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده ضعيف لضعف يحيى بن طلحة اليربوعي، قال النسائي: ليس بشيء، وذكره المؤلف في «الثقات» 9/ 264، وقال: وكان يُغْرِبُ.
1442 - أَخْبَرَنَا أَبُو خَلِيفَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي مُعَاذٍ وَهُوَ عَطَاءُ بْنُ أَبِي مَيْمُونَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا خَرَجَ مِنْ حَاجَتِهِ أَجِيءُ أَنَا وَغُلَامٌ مِنَ الْأَنْصَارِ، بِإِدَاوَةٍ مِنْ مَاءٍ، فَيَسْتَنْجِي بِهِ». [5: 8]
رقم طبعة با وزير = (1439)
আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন হাজত সম্পন্ন করে বের হতেন, তখন আমি ও আনসারী এক বালক পানির একটি পাত্র নিয়ে আসতাম, অতঃপর তিনি তা দ্বারা শৌচকার্য করতেন।”[1]
[1] সহীহ আল বুখারী: ১৫০ আত তায়ালিসী: ১/৪৮; আবু আওয়ানা: ১/২২১; সুনান বাইহাকী: ১/১০৫; মুসান্নাফ ইবনু শায়বাহ: ১/১৫২; মুসনাদ আহমাদ: ৩/২০৩; সহীহ মুসলিম: ২৭১; নাসাঈ: ১/৪২; দারেমী: ১/১৭৩; আবূ আওয়ানা: ১/১৯৫; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ১৯৫; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৮৫; আবূ দাঊদ: ৪৩। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৩৩।)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (33): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما.
1443 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْجُنَيْدِ، قَالَ: حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ مُعَاذَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ: مُرْنَ أَزْوَاجَكُنَّ أَنْ يَسْتَطِيبُوا بِالْمَاءِ، [ص:291] فَإِنِّي أَسْتَحْيِيهِمْ مِنْهُ «إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، كَانَ يَفْعَلُهُ». [5: 8]
رقم طبعة با وزير = (1440)
আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “(হে নারীরা) তোমরা তোমাদের স্বামীদেরকে পানি দ্বারা শৌচকার্য সম্পাদন করার নির্দেশ দিবে। কেননা আমি তাদেরকে এটি বলতে লজ্জাবোধ করছি। নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরকম (পানি দ্বারা শৌচকার্য) করতেন।”[1]
[1] তিরমিযী: ১৯; নাসাঈ: ১/৪২-৪৩; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/১৫২; সুনান বাইহাকী: ১/১০৫-১০৬; মুসনাদ আহমাদ: ৬/১১৩। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (ইরওয়াউল গালীল: ৪২।)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الإرواء» (42).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح، رجاله رجال الشيخين.
1444 - أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى بْنِ مُجَاشِعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ: دَخَلْتُ عَلَى عَائِشَةَ، فَسَمِعْتُهَا تَقُولُ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، إِذَا خَرَجَ مِنَ الْخَلَاءِ قَالَ: «غُفْرَانَكَ». [5: 12]
رقم طبعة با وزير = (1441)
আবূ বুরদাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার কাছে গিয়ে শুনতে পাই, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন টয়লেট থেকে বের হতেন, তখন বলতেন غفرانك (আমি আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করছি)।”[1]
[1] ইবনু আবী শায়বাহ: ১/২; ইবনু মাজাহ: ৩০০; নাসাঈ, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ: ৭৯; ইবনুস সুন্নী: ২২; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৯০; সুনান বাইহাকী: ১/৯৭। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (ইরওয়াউল গালীল: ৫২।)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الإرواء» (52)، «المشكاة» (356)، «صحيح أبي داود» (22).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن، يوسف بن أبي بردة، ذكره المؤلف في «الثقات» 7/ 638 ووثقه العجلي ص 485 والذهبي في «الكاشف» 3/ 297، وباقي رجال السند على شرطهما.
1445 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُوسَى خَتٌّ، - وَكَانَ كَخَيْرِ الرِّجَالِ - قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، قَالَ: أَنْبَأَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، قَالَ: سَمِعْتُ كُرَيْبًا يُحَدِّثُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ قَالَ: «بِتُّ عِنْدَ خَالَتِي مَيْمُونَةَ: فَرَأَيْتُ [ص:293] رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَامَ، فَبَالَ، ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ، ثُمَّ نَامَ». [5: 8]
رقم طبعة با وزير = (1442)
আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি আমার খালা মাইমূনা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার বাড়িতে ছিলাম। অতঃপর আমি দেখি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘুম থেকে উঠেন, অতঃপর পেশাব করেন, তারপর মুখমন্ডল ধৌত করেন, তারপর আবার ঘুমিয়ে যান।”[1]
[1] আবূ দাঊদ আত তায়ালিসী: ১/১১৫; আবূ আওয়ানা: ১/২৭৯; সহীহ মুসলিম: ৭৬৩; ইবনু মাজাহ: ৫০৮; সহীহ আব বুখারী: ৬৩১৬; মুসনাদ আহমাদ: ১/২৮৩; আবূ দাঊদ: ৫০৪৩; তিরমিযী, আশ শামাইল: ২৫৫; নাসাঈ: ২/২১৮। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সিফাতুস সালাত)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صفة الصلاة»: ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الصحيح، وخَتّ: بفتح المعجمة، وتشديد التاء المثناة، وفي الأصل: ابن خت، وهو خطأ، لأن «خت» لقب ليحيى بن موسى، لُقِّبَ به لأنها كلمة كانت تجري على لسانه.
1446 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَنْظَلَةُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ، قَالَ: سَمِعْتُ عِكْرِمَةَ بْنَ خَالِدٍ الْمَخْزُومِيَّ يُحَدِّثُ أَنَّ رَجُلًا قَالَ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ: أَلَا تَغْزُو؟ فَقَالَ: إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «بُنِيَ الْإِسْلَامُ عَلَى خَمْسٍ: شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَإِقَامِ الصَّلَاةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ، وَحَجِّ الْبَيْتِ». [3: 66]
رقم طبعة با وزير = (1443)
প্রখ্যাত তাবি‘ঈ ইকরামা বিন খালিদ মাখযুমী রহিমাহুল্লাহ বলেন: এক ব্যক্তি আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমাকে বললেন: ‘আপনি কি যুদ্ধ করবেন না?’ তখন আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন: ‘নিশ্চয়ই আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: ‘ইসলাম পাঁচটি ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। যথা: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা‘বুদ নেই, সালাত প্রতিষ্ঠা করা, যাকাত প্রদান করা, রমযানের সিয়াম পালন করা ও বায়তুল্লাহর হজ্জ করা।”[1]
[1] সহীহ আল বুখারী: ৮; সহীহ মুসলিম: ১৬; নাসাঈ: ৮/১০৭; তিরমিযী: ২৬০৯; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৬; সহীহ ইবনু খুযাইমা: ৩০৮; মুসনাদ আহমাদ: ২/২৬; তাবারানী আল কাবীর: ১৩২০৩; বাইহাকী, আস সুনান: ৩/৩৬৭। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (ইরওয়াউল গালীল: ৭৪১)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - مضى برقم (158).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم.
1447 - أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عِمْرَانَ الْجُرْجَانِيُّ، بِحَلَبَ، قَالَ: حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ نَصْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا نُوحُ بْنُ قَيْسٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ قَيْسٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَجُلًا قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ كَمِ افْتَرَضَ اللَّهُ عَلَى عِبَادِهِ مِنَ الصَّلَاةِ؟ قَالَ: «خَمْسُ صَلَوَاتٍ»، قَالَ: هَلْ قَبْلَهُنَّ أَوْ بَعْدَهُنَّ شَيْءٌ؟ قَالَ: «افْتَرَضَ اللَّهُ عَلَى عِبَادِهِ خَمْسَ صَلَوَاتٍ» فَقَالَ: هَلْ قَبْلَهُنَّ أَوْ بَعْدَهُنَّ شَيْءٌ؟ قَالَ: «افْتَرَضَ اللَّهُ عَلَى عِبَادِهِ خَمْسَ صَلَوَاتٍ»، قَالَ: فَحَلَفَ الرَّجُلُ بِاللَّهِ لَا يَزِيدُ عَلَيْهِنَّ، وَلَا يَنْقُصُ مِنْهُنَّ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنْ صَدَقَ دَخَلَ الْجَنَّةَ». [1: 21]
رقم طبعة با وزير = (1444) [ص:296] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «سَمِعَ هَذَا الْخَبَرَ أَنَسٌ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَسَمِعَ الْقِصَّةَ بِطُولِهَا عَنْ مَالِكِ بْنِ صَعْصَعَةَ، وَسَمِعَ بَعْضَ الْقِصَّةِ عَنْ أَبِي ذَرٍّ، فَالطُّرُقُ الثَّلَاثُ كُلُّهَا صِحَاحٌ»
আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “এক ব্যক্তি বললেন, “আল্লাহ তাঁর বান্দাদের উপর কত ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন?” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “পাঁচ ওয়াক্ত সালাত।” সেই ব্যক্তি আবার বললেন, “এর আগে বা পরে আরো কিছু ফরয আছে কি?” জবাবে তিনি বলেন, “আল্লাহ তাঁর বান্দাদের উপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন।” সেই ব্যক্তি আবার বললেন, “এর আগে বা পরে আরো কিছু ফরয আছে কি?” জবাবে তিনি বলেন, “আল্লাহ তাঁর বান্দাদের উপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন।” রাবী বলেন, “অতঃপর সেই ব্যক্তি আল্লাহর নামে শপথ করে বললেন যে, সে এর চেয়ে বেশি করবে না, কমও করবে না। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যদি সে সত্য বলে থাকে, তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “হাদীসটি আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শুনেছেন, তিনি এই ব্যাপারে দীর্ঘ ঘটনা শ্রবণ করেছেন মালিক বিন সা‘সা‘ থেকে এবং ঘটনাটির অংশ বিশেষ শ্রবণ করেছেন আবূ যার গিফারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে। আর তিনটি সানাদই সহীহ।”
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৩/২৬৭; নাসাঈ: ১/২২৮-২২৯; সহীহ মুসলিম: ১২; তিরমিযী: ৬১৯। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ২৭৯৪)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (2794).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم.
1448 - أَخْبَرَنَا ابْنُ قُتَيْبَةَ، أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ مَوْهَبٍ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّهُ كَانَ قَاعِدًا عَلَى بَابِ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ فِي إِمَارَتِهِ عَلَى الْمَدِينَةِ، وَمَعَهُ عُرْوَةُ، فَأَخَّرَ عُمَرُ الْعَصْرَ شَيْئًا، فَقَالَ لَهُ عُرْوَةُ: أَمَا إِنَّ جِبْرِيلَ نَزَلَ فَصَلَّى أَمَامَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ عُمَرُ: أَعْلَمُ مَا تَقُولُ يَا عُرْوَةُ، فَقَالَ: سَمِعْتُ بَشِيرَ بْنَ أَبِي مَسْعُودٍ، يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا مَسْعُودٍ، يَقُولُ: سَمِعْتُ [ص:297] رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «نَزَلَ جِبْرِيلُ فَصَلَّى، فَصَلَّيْتُ مَعَهُ، ثُمَّ صَلَّيْتُ مَعَهُ، ثُمَّ صَلَّيْتُ مَعَهُ، ثُمَّ صَلَّيْتُ مَعَهُ، ثُمَّ صَلَّيْتُ مَعَهُ» فَحَسَبَ بِأَصَابِعِهِ خَمْسَ صَلَوَاتٍ. [1: 21]
رقم طبعة با وزير = (1445)
ইবনু শিহাব যুহরী রহিমাহুল্লাহ বলেন যে, তিনি উমার বিন আব্দুল আযীয রহিমাহুল্লাহর মদীনা শাসন কালে তাঁর দরজায় বসে ছিলেন, এসময় তার সাথে উরওয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুও ছিলেন। উমার বিন আব্দুল আযীয রহিমাহুল্লাহ আসরের সালাত কিছুটা বিলম্বে আদায় করেন, তখন উরওয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “জেনে রাখুন, জিবরাঈল আলাইহিস সালাম নেমে আসেন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে সালাত আদায় করেন।” তখন উমার বিন আব্দুল আযীয রহিমাহুল্লাহ বলেন, “হে উরওয়া (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু), আপনি ভেবে দেখুন যে, আপনি কী বলছেন!” জবাবে তিনি বলেন, “আমি বাশীর বিন আবী মাস‘ঊদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আমি আবূ মাসঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, “আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, “জিবরাঈল অবতরণ করেন অতঃপর তিনি সালাত আদায় করেন এবং আমিও তাঁর সাথে সালাত আদায় করি। তারপর আবার তাঁর সাথে সালাত আদায় করি। তারপর আবার তাঁর সাথে সালাত আদায় করি। তারপর আবার তাঁর সাথে সালাত আদায় করি। তারপর আবার তাঁর সাথে সালাত আদায় করি।” তিনি আঙ্গুল দিয়ে পাঁচবার গণনা করেন।”[1]
[1] সহীহ আল বুখারী: ৩২২১; সহীহ মুসলিম: ৬১০; নাসাঈ: ১/২৪৫; ইবনু মাজাহ: ৬৬৮; তাবারানী: ১৭/৭১৫; আবূ আওয়ানা: ১/৩৪২; হুমাইদী: ৪৫১; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/৩১৯; মুসনাদ ইমাম শাফে‘ঈ: ১/৪৮; সুনান বাইহাকী: ১/৩৬৩; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ২০৪৪; মুসনাদ আহমাদ: ৪/১২০-১২১। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৪১৮)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر ما بعده.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح، يزيد بن موهب: هو يزيد بن خالد بن يزيد بن عبد الله بن موهب، ثقة، وباقي السند على شرطهما.
1449 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ مِنْ كِتَابِهِ، قَالَ: حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ، أَنَّ ابْنَ شِهَابٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ كَانَ قَاعِدًا عَلَى الْمِنْبَرِ، فَأَخَّرَ الصَّلَاةَ شَيْئًا، فَقَالَ عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ: أَمَا إِنَّ جِبْرِيلَ قَدْ أَخْبَرَ مُحَمَّدًا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِوَقْتِ الصَّلَاةِ، فَقَالَ لَهُ عُمَرُ: اعْلَمْ مَا تَقُولُ، فَقَالَ عُرْوَةُ: سَمِعْتُ بَشِيرَ بْنَ أَبِي مَسْعُودٍ يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا مَسْعُودٍ الْأَنْصَارِيَّ يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «نَزَلَ جِبْرِيلُ، فَأَخْبَرَنِي بِوَقْتِ الصَّلَاةِ، فَصَلَّيْتُ مَعَهُ، ثُمَّ صَلَّيْتُ مَعَهُ، ثُمَّ صَلَّيْتُ مَعَهُ، ثُمَّ صَلَّيْتُ مَعَهُ، ثُمَّ صَلَّيْتُ مَعَهُ»، فَحَسَبَ بِأَصَابِعِهِ خَمْسَ صَلَوَاتٍ، «وَرَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي الظُّهْرَ حِينَ تَزُولُ الشَّمْسُ، وَرُبَّمَا أَخَّرَهَا حِينَ يَشْتَدُّ الْحَرُّ، وَرَأَيْتُهُ يُصَلِّي الْعَصْرَ وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ بَيْضَاءُ قَبْلَ أَنْ تَدْخُلَهَا الصُّفْرَةُ، فَيَنْصَرِفُ الرَّجُلُ مِنَ الصَّلَاةِ، فَيَأْتِي ذَا الْحُلَيْفَةِ قَبْلَ غُرُوبِ الشَّمْسِ، وَيُصَلِّي الْمَغْرِبَ حِينَ تَسْقُطُ الشَّمْسُ، وَيُصَلِّي الْعِشَاءَ حِينَ يَسْوَدُّ الْأُفُقُ، وَرُبَّمَا أَخَّرَهُ حَتَّى يَجْتَمِعَ النَّاسُ، وَصَلَّى الصُّبْحَ مَرَّةً بِغَلَسٍ، وَصَلَّى مَرَّةً أُخْرَى فَأَسْفَرَ بِهَا، ثُمَّ كَانَتْ صَلَاتُهُ بَعْدَ ذَلِكَ بِالْغَلَسِ حَتَّى مَاتَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، لَمْ يَعُدْ إِلَى أَنْ يُسْفِرَ». [5: 7]
رقم طبعة با وزير = (1446)
ইবনু শিহাব যুহরী রহিমাহুল্লাহ বলেন, “একবার উমার বিন আব্দুল আযীয রহিমাহুল্লাহ মিম্বারে বসে ছিলেন, অতঃপর তিনি আসরের সালাত কিছুটা বিলম্বে আদায় করেন, তখন উরওয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “জেনে রাখুন, জিবরাঈল আলাইহিস সালাম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সালাতের সময় সম্পর্কে অবহিত করেন।” তখন উমার বিন আব্দুল আযীয রহিমাহুল্লাহ বলেন, “হে উরওয়া (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু), আপনি ভেবে দেখুন যে, আপনি কী বলছেন!” জবাবে তিনি বলেন, “আমি বাশীর বিন আবী মাস‘ঊদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আমি আবূ মাসঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, “আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, “জিবরাঈল অবতরণ করেন অতঃপর আমাকে সালাত আদায় করার সময় সম্পর্কে অবহিত করেন। অতঃপর আমি তাঁর সাথে সালাত আদায় করি। তারপর আবার তাঁর সাথে সালাত আদায় করি। তারপর আবার তাঁর সাথে সালাত আদায় করি। তারপর আবার তাঁর সাথে সালাত আদায় করি। তারপর আবার তাঁর সাথে সালাত আদায় করি।” তিনি আঙ্গুল দিয়ে পাঁচবার গণনা করেন। এছাড়াও আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে যাওয়ার সময় যোহরের সালাত আদায় করতে দেখেছি। আবার প্রচন্ড হলে কোন কোন সময় যোহরের সালাত পিছিয়ে পড়েছেন। আমি তাঁকে আসরের সালাত আদায় করতে দেখেছি যখন সূর্য উঁচুতে ও সাদা থাকতো; যাতে তখনও লালিমা প্রবেশ করতো না। অতঃপর কোন ব্যক্তি সালাত শেষ করে সূর্য অস্ত যাওয়ার আগেই যুলহুলাইফায় যেতো। তিনি সূর্যাস্তের সময় মাগরিবের সালাত আদায় করতেন। তিনি ইশার সালাত আদায় করতেন যখন পশ্চিম দিগন্ত কালো হয়ে যেতো। আবার কোন কোন সময় লোকজন সমবেত হওয়া পর্যন্ত বিলম্ব করতেন। আর ফজরের সালাত কোন কোন সময় অন্ধকারে আদায় করতেন আবার কখনও ফর্সা হলে আদায় করতেন। তারপর তিনি আমৃত্যু নিয়মিত অন্ধকারে সালাত আদায় করতেন; কখনই আর ফর্সা হলে আদায় করেননি।”[1]
[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৩৫২; দারাকুতনী: ১/২৫০; সুনান বাইহাকী: ১/৩৬৩; আবূ দাঊদ: ৩৯৪; হাকিম: ১/১৯২। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহর সানাদ শক্তিশালী বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৪১৮)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (418).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي، أسامة بن زيد: هو الليثي المدني، قال الحافظ في «التقريب»: صدوق يهم، وهو من رجال مسلم، وباقي السند رجاله ثقات.
1450 - أَخْبَرَنَا أَبُو خَلِيفَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ أَخَّرَ الصَّلَاةَ يَوْمًا فِي إِمْرَتِهِ، فَدَخَلَ عَلَيْهِ عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ فَأَخْبَرَهُ أَنَّ الْمُغِيرَةَ بْنَ شُعْبَةَ أَخَّرَ الصَّلَاةَ يَوْمًا وَهُوَ بِالْكُوفَةِ فَدَخَلَ عَلَيْهِ أَبُو مَسْعُودٍ الْأَنْصَارِيُّ فَقَالَ: يَا مُغِيرَةُ مَا هَذَا؟ أَلَيْسَ قَدْ عَلِمْتَ «أَنَّ جِبْرِيلَ صَلَوَاتُ اللَّهِ عَلَيْهِ، نَزَلَ فَصَلَّى، فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ صَلَّى فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ صَلَّى فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ صَلَّى فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ صَلَّى فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ»، ثُمَّ [ص:300] قَالَ: «بِهَذَا أُمِرْتُ» قَالَ: أَعْلَمُ مَا تُحَدِّثُ يَا عُرْوَةُ أَوْ إِنَّ جِبْرِيلَ أَقَامَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقْتَ الصَّلَاةِ، قَالَ: كَذَلِكَ كَانَ بَشِيرُ بْنُ أَبِي مَسْعُودٍ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ. قَالَ عُرْوَةُ: وَلَقَدْ حَدَّثَتْنِي عَائِشَةُ: «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُصَلِّي الْعَصْرَ وَالشَّمْسُ فِي حُجْرَتِهَا قَبْلَ أَنْ تَظْهَرَ». [5: 2]
رقم طبعة با وزير = (1447)
উরওয়া বিন যুবাইর (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “একদিন মুগীরা বিন শু‘বাহ কুফায় অবস্থানকালে সালাত বিলম্বে আদায় করেন, তখন আবূ মাসঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাঁর কাছে প্রবেশ করেন এবং বলেন, “হে মুগীরা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু), এটা কী? আপনি কি জানেন না যে জিবরীল আলাইহিস সালাম একবার অবতরণ করেন অতঃপর সালাত আদায় করেন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও সালাত আদায় করেন। তারপর তিনি আবার সালাত আদায় করেন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও সালাত আদায় করেন। তারপর তিনি আবার সালাত আদায় করেন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও সালাত আদায় করেন। তারপর তিনি আবার সালাত আদায় করেন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও সালাত আদায় করেন। তারপর তিনি আবার সালাত আদায় করেন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও সালাত আদায় করেন। তারপর তিনি বলেন, “এভাবেই আপনাকে আদেশ করা হয়েছে।” এই হাদীস শুনার পর মুগীরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “হে উরওয়া, আপনি ভেবে দেখুন যে আপনি কী বর্ণনা করছেন! সালাতের সময় জিবরাইল আলাইহিস সালাম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে অবস্থান করছিলেন?” জবাবে তিনি বলেন, “এভাবেই বাশীর বিন আবূ মাসঊদ তাঁর পিতার সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন।” উরওয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আরো বলেন, “আমাকে আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হাদীস বর্ণনা করেছেন, নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন আসরের সালাত আদায় করতেন, তখন সূর্য তাঁর ঘরে থাকতো, ছায়া তখনও প্রশস্ত হতো না।”[1]
[1] সহীহ আল বুখারী: ৫২১; আবূ আওয়ানা: ১/৩৪০; সুনান বাইহাকী: ১/৩৬৩; মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/৩-৪; মুসনাদ আহমাদ: ৫/২৭৪; সহীহ মুসলিম: ৬১০; দারেমী: ২৬৮; তাবারানী: ১৭/৭১৩; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ২০৭০; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/৩২৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৪১৮)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (418 و 436): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما.
1451 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ قُتَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ مَوْهَبٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أُمَيَّةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ خَالِدٍ، أَنَّهُ قَالَ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ: إِنَّا نَجْدُ صَلَاةَ الْحَضَرِ، وَصَلَاةَ الْخَوْفِ فِي الْقُرْآنِ، وَلَا نَجْدُ صَلَاةَ السَّفَرِ فِي الْقُرْآنِ؟ فَقَالَ لَهُ عَبْدُ اللَّهِ: «يَا ابْنَ أَخِي، إِنَّ اللَّهَ بَعَثَ إِلَيْنَا مُحَمَّدًا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَا نَعْلَمُ شَيْئًا، فَإِنَّمَا نَفْعَلُ كَمَا رَأَيْنَاهُ يَفْعَلُ» [1: 21]
رقم طبعة با وزير = (1448)
উমাইয়্যাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন খালিদ রহিমাহুল্লাহ বর্ণনা করেন যে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বলেন, “আমরা কুরআনে সালাতুল খওফ বা ভীতিকালিন সময়ের সালাত ও মুকীম অবস্থাকালিন সময়ের সালাত সম্পর্কে বর্ণনা দেখতে পাই কিন্তু কুরআনে সফরকালিন সময়ের সালাত সম্পর্কে বর্ণনা দেখতে পাই না!” জবাবে আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “ভাতিজা, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আমাদের কাছে প্রেরণ করেছেন এমন অবস্থায় যে, আমরা কোন কিছুই জানতাম না। কাজেই আমরা সেভাবে করবো, যেভাবে আমরা তাঁকে করতে দেখবো।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “মহান আল্লাহ স্বীয় কুরআনে ভীতিকালিন সময়ে সালাত কসর করার অনুমতি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “যখন তোমরা জমিনে ভ্রমণ করবে, তখন তোমাদের জন্য কোন দোষ নেই সালাত করা, যদি তোমরা ভয় কর যে, কাফেরা তোমাদেরকে ফিতনায় ফেলে দিবে।” (সুরা নিসা: ১০১) মহান আল্লাহ সফরে কসর করার জন্য যে শর্ত বর্ণনা করেছেন, সেই শর্ত ছাড়াই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সফরে কসর করা বৈধ করেছেন। কাজেই উভয়টি বৈধ; একটি আল্লাহর পক্ষ থেকে স্বীয় কিতাবে বর্ণিত হয়েছে অপরটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এর জবানিতে বর্ণিত হয়েছে।”
[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/৯৪; নাসাঈ: ৩/১১৭; ইবনু মাজাহ: ১০৬৬; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৯৪৬; সুনান বাইহাকী: ৩/১৩৬; মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/১৪৫-১৪৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীক আলা ইবনু মাজাহ: ১/৩৩০)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «التعليق على ابن ماجه» (1/ 330)، وانظر (2724). تنبيه!! رقم (2724) = (2735) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح.
1452 - أَخْبَرَنَا ابْنُ خُزَيْمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ: حَدَّثَنِي الْأَشْعَثُ بْنُ سُلَيْمٍ، عَنِ الْأَسْوَدِ بْنِ هِلَالٍ، عَنْ ثَعْلَبَةَ بْنِ زَهْدَمٍ، قَالَ: كُنَّا مَعَ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ بِطَبَرِسْتَانَ، فَقَالَ: أَيُّكُمْ صَلَّى مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَاةَ الْخَوْفِ؟ فَقَالَ حُذَيْفَةُ: أَنَا، قَالَ: فَقَامَ حُذَيْفَةُ «فَصَفَّ النَّاسَ خَلْفَهُ صِفِّينَ: صَفًّا خَلْفَهُ، وَصَفًّا مُوَازِيًا لِلْعَدُوِّ، فَصَلَّى بِالَّذِينَ [ص:303] خَلْفَهُ رَكْعَةً، ثُمَّ انْصَرَفَ هَؤُلَاءِ مَكَانَ هَؤُلَاءِ، وَجَاءَ أُولَئِكَ، فَصَلَّى بِهِمْ رَكْعَةً، وَلَمْ يَقْضُوا». [5: 34]
رقم طبعة با وزير = (1449)
সা‘লাবা বিন যাহদাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমরা সা‘ঈদ বিন আস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর সাথে তাবারাস্তানে ছিলাম, তখন তিনি বলেন, “তোমাদের মাঝে কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সালাতুল খওফ বা ভীতিকালিন সালাত আদায় করেছেন?” তখন হুযাইফা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আমি পড়েছি।” রাবী বলেন, “তারপর হুযাইফা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু দাঁড়ান এবং তাঁর পিছনে লোকদেরকে কাতারবন্দি করেন আরেক দলকে শত্রুর মুখোমুখি দাঁড় করান। তারপর যারা তাঁর পিছনে ছিলেন, তাদের নিয়ে তিনি এক রাকাআত সালাত আদায় করেন। তারপর তারা ঐ দলের কাছে যান, যারা শত্রুর মুখোমুখি ছিলেন অতঃপর তারা এসে এক রাকাআত সালাত আদায় করেন। তারপর তারা আর বাকী সালাত আদায় করেননি।”[1]
[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৩৪৩; আবূ দাউদ: ১২৪৬; নাসাঈ: ৩/১৬৮; সুনান বাইহাকী: ৩/২৬১; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৪২৪৯; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ২/৪৬১; মুসনাদ আহমাদ: ৫/৩৮৫; তাহাবী: ১/৩১০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাউদ: ১১৩৩)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الإرواء» (3/ 44)، «صحيح أبي داود» (1133).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح، ثعلبة بن زهدم: مختلف في صحبته، وقد جزم بصحة صحبته المؤلف، وابن السكن، وابن مندة، وأبو نعيم الأصبهاني، وابن عبد البر، وابن الأثير، وذكره البخاري في «التاريخ» 2/ 174 وقال: قال الثوري: له صحبة، ولا يصح، وذكره مسلم في الطبقة الأولى من التابعين، وقال الترمذي: أدرك النبي صلى الله عليه وسلم، وعامة روايته عن الصحابة، وقال العجلي: تابعي ثقة، وباقي رجال السند على شرط الشيخين.
1453 - أَخْبَرَنَا أَبُو خَلِيفَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ الْعَبْدِيُّ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَيْسَ بَيْنَ الْعَبْدِ وَبَيْنَ الْكُفْرِ إِلَّا تَرْكُ الصَّلَاةِ». [3: 25]
رقم طبعة با وزير = (1451)
জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “বান্দা ও কুফরের মাঝে কেবল পার্থক্য হলো সালাত তরক করা।”[1]
[1] ইবনু মান্দাহ, আল ঈমান: ২১৯; সহীহ মুসলিম: ৮২; তিরমিযী: ২৬১৮; সুনান বাইহাকী: ৩/৩৬৬; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৩৭০; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১১/১৪; তিরমিযী: ২৬১৮; তাবারানী আস সাগীর: ২/১৪; দারেমী: ১/২৮০; নাসাঈ: ১/২৩২; আবূ দাঊদ: ৪৬৭৮; ইবনু মাজাহ: ১০৭৮; দারাকুতনী: ২/৫৩; বাগাবী: ৩৪৭; মুসনাদুশ শিহাব: ২৬৭। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ১/১৯৪)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «التعليق الرغيب» (1/ 194): م.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم، رجاله رجال الشيخين، غير أبو سفيان - واسمه طلحة بن نافع - وقد صرح بالسماع عند مسلم.
1454 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي عَوْنٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَمَّارٍ الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ، حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنِ الْحُسَيْنِ بْنِ وَاقِدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ الْعَهْدَ الَّذِي بَيْنَنَا وَبَيْنَهُمُ الصَّلَاةُ، فَمَنْ تَرَكَهَا فَقَدْ كَفَرَ». [3: 25]
رقم طبعة با وزير = (1452)
বুরাইদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমাদের ও তাদের মাঝে অঙ্গীকার হলো সালাত। কাজেই যে ব্যক্তি সালাত ছেড়ে দিবে, সে কাফের হয়ে যাবে।”[1]
[1] তিরমিযী: ২৬২১; নাসাঈ: ১/২৩১; হাকিম: ১/৬, ৭; ইবনু মাজাহ: ১০৭৯; দারাকুতনী: ২/৫২; সুনান বাইহাকী: ৩/৩৬৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে উত্তম বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (মিশকাত: ৫৭৪)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «المشكاة» (574).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده جيد، الحسين بن واقد: ثقة، من رجال مسلم إلا أن له أوهاماً، وباقي السند على شرطهما.
1455 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ أَيُّوبَ، وَمُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ نَافِعٍ، قَالَ: أَخْبَرَ ابْنُ عُمَرَ بِوَجَعِ امْرَأَتِهِ فِي السَّفَرِ، فَأَخَّرَ الْمَغْرِبَ، فَقِيلَ: الصَّلَاةَ، فَسَكَتَ، وَأَخَّرَهَا بَعْدَ ذَهَابِ الشَّفَقِ حَتَّى ذَهَبَ هَوِيٌّ مِنَ اللَّيْلِ، ثُمَّ نَزَلَ فَصَلَّى الْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ، ثُمَّ قَالَ: «هَكَذَا كَانَ [ص:307] رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَفْعَلُ إِذَا جَدَّ بِهِ السَّيْرُ، أَوْ حَزَبَهُ أَمَرٌ». [3: 25]
رقم طبعة با وزير = (1453)
নাফি‘ রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমাকে তাঁর স্ত্রীর অসুস্থতার কথা জানানো হয়, অতঃপর তিনি মাগরিবের সালাত বিলম্ব করেন। তখন তাকে বলা হলো, “সালাত আদায় করুন।” কিন্তু তিনি চুপ থাকলেন এবং সেটাকে পশ্চিমাকাশের লাল আভা বিদূরিত হওয়া পর্যন্ত বিলম্ব করলেন, এভাবে রাতের এক অংশ চলে যায়। তারপর তিনি যাত্রা বিরতি দেন এবং মাগরিব ও ইশার সালাত আদায় করেন। তারপর বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমনটিই করতেন, যখন তিনি সফরে তাড়াহুড়া করতেন অথবা ব্যস্ততায় পড়তেন।”[1]
[1] মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৪৪০২; মুসনাদ আহমাদ: ২/৮০; নাসাঈ: ১/২৮৯; আবূ দাঊদ: ১২০৭; আবূ আওয়ানা: ২/৩৪৯; সুনান বাইহাকী: ৩/১৫৯; দারাকুতনী: ১/৩৯১; মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/১৪৪; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/১৬১; বাগাবী: ১০৩৯; তিরমিযী: ৫৫৫; সহীহ আল বুখারী: ১৬৬৮; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৯৭০; মুসনাদুশ শাফি‘ঈ: ১/১১৭; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ২/৪৫৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১০৩৭, ১০৩৮)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1037 و 1038).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما.
1456 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ بَحْرٍ الْقَرَاطِيسِيُّ، حَدَّثَنَا شَبَابَةُ بْنُ سَوَّارٍ، حَدَّثَنَا لَيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ عَقِيلِ بْنِ خَالِدٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: «كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، إِذَا أَرَادَ أَنْ يَجْمَعَ بَيْنَ الصَّلَاتَيْنِ فِي السَّفَرِ، أَخَّرَ الظُّهْرَ حَتَّى يَدْخُلَ أَوَّلُ وَقْتِ الْعَصْرِ، ثُمَّ يَجْمَعُ بَيْنَهُمَا». [3: 25]
رقم طبعة با وزير = (1454)
আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সফরে দুই সালাতকে একসাথে আদায় করার ইচ্ছা করতেন, তখন তিনি যোহরের সালাত আসরের সালাতের প্রথম ওয়াক্ত পর্যন্ত পিছিয়ে দিতেন, তারপর দুই সালাত একসাথে আদায় করতেন।”[1]
[1] সহীহ মুসলিম: ৭০৪; আবূ দাঊদ: ১২১৯; নাসাঈ: ১/২৮৭; আবূ আওয়ানা: ২/৩৫১; শারহু মা‘আনিল আসার: ১/১৬৪; সুনান বাইহাকী: ৩/১৬১; বাগাবী: ১০৪০; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৯৬৯; মুসান্নাফ ইবনু শায়বাহ: ২/৪৫৬; বাযযার: ৬৬৮। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১১০৫)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1105).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح، سعيد بن بحر القراطيسي: ذكره المؤلف في «الثقات» 8/ 272، وقد تحرف فيه «بحر» إلى «بحير»، وترجمه الخطيب في «تاريخه» 9/ 93، ووثقه، وأورده السمعاني في «الأنساب» 10/ 84، وباقي رجال الإسناد على شرطهما.
1457 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلْمٍ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: دَخَلْنَا عَلَى جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، فَقَالَ: أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقُبَّةٍ مِنْ شَعْرٍ، فَضُرِبَتْ لَهُ بِنَمِرَةَ، فَسَارَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَلَا تَشُكُّ قُرَيْشٌ إِلَّا أَنَّهُ وَاقِفٌ عِنْدَ [ص:311] الْمَشْعَرِ الْحَرَامِ كَمَا كَانَتْ قُرَيْشٌ تَصْنَعُ فِي الْجَاهِلِيَّةِ، فَأَجَازَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى أَتَى عَرَفَةَ فَوَجَدَ الْقُبَّةَ قَدْ ضُرِبَتْ لَهُ بِنَمِرَةَ، فَنَزَلَ بِهَا حَتَّى إِذَا زَاغَتِ الشَّمْسُ، أَمَرَ بِالْقَصْوَاءِ، فَرُحِلَتْ لَهُ، فَأَتَى بَطْنَ الْوَادِي، فَخَطَبَ النَّاسُ، ثُمَّ قَالَ: «إِنَّ دِمَاءَكُمْ وَأَمْوَالَكُمْ حَرَامٌ عَلَيْكُمْ كَحُرْمَةِ يَوْمِكُمْ هَذَا، فِي شَهْرِكُمْ هَذَا، فِي بَلَدِكُمْ هَذَا، أَلَا كُلُّ شَيْءٍ مِنْ أَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ تَحْتَ قَدَمَيَّ مَوْضُوعٌ، وَدِمَاءُ الْجَاهِلِيَّةِ مَوْضُوعَةٌ، وَأَنَّ أَوَّلَ دَمٍ أَضَعُ مِنْ دِمَائِنَا دَمُ ابْنِ رَبِيعَةَ بْنِ الْحَارِثِ - كَانَ مُسْتَرْضَعًا فِي بَنِي لَيْثٍ فَقَتَلَتْهُ هُذَيْلٌ - فَاتَّقُوا اللَّهَ فِي النِّسَاءِ، فَإِنَّكُمْ أَخَذْتُمُوهُنَّ بِأَمَانِ اللَّهِ، وَاسْتَحْلَلْتُمْ فُرُوجَهُنَّ بِكَلِمَةِ اللَّهِ، وَلَكُمْ عَلَيْهِنَّ أَنْ لَا يُوطِئْنَ فُرُشَكُمْ أَحَدًا [ص:312] تَكْرَهُونَهُ، فَإِنْ فَعَلْنَ ذَلِكَ فَاضْرِبُوهُنَّ ضَرْبًا غَيْرَ مُبَرِّحٍ، وَلَهُنَّ عَلَيْكُمْ رِزْقُهُنَّ وَكِسْوَتُهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ، وَقَدْ تَرَكْتُ فِيكُمْ مَا لَنْ تَضِلُّوا بَعْدَهُ إِنِ اعْتَصَمْتُمْ بِهِ، كِتَابَ اللَّهِ، وَأَنْتُمْ تُسْأَلُونَ عَنِّي، فَمَا أَنْتُمْ قَائِلُونَ؟ » قَالُوا: نَشْهَدُ أَنْ قَدْ بَلَّغْتَ، فَأَدَّيْتَ، وَنَصَحْتَ، فَقَالَ بِإِصْبَعِهِ السَّبَّابَةِ يَرْفَعُهَا إِلَى السَّمَاءِ وَيَنْكُتُهَا إِلَى النَّاسِ: «اللَّهُمَّ اشْهَدْ» [ص:313] ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، ثُمَّ أَذَّنَ، ثُمَّ أَقَامَ، فَصَلَّى الظُّهْرَ، ثُمَّ أَقَامَ، فَصَلَّى الْعَصْرَ، وَلَمْ يُصَلِّ بَيْنَهُمَا شَيْئًا. [3: 25]
رقم طبعة با وزير = (1455) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: «لَمَّا جَازَ تَقْدِيمُ صَلَاةِ الْعَصْرِ عَنْ وَقْتِهَا، وَلَمْ يَسْتَحِقَّ فَاعِلُهُ أَنْ يَكُونَ كَافِرًا، كَانَ مِنْ أَخَّرَ الصَّلَاةَ عَنْ وَقْتِهَا، ثُمَّ أَدَّاهَا بَعْدَ وَقْتِهَا أَوْلَى أَنْ لَا يَكُونَ كَافِرًا»
জা‘ফর বিন মুহাম্মাদ রহিমাহুল্লাহ তার বাবা মুহাম্মাদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, “আমরা জাবির বিন আব্দুল্লাহর কাছে গেলাম। তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার পশমের একটি তাবূ স্থাপন করার আদেশ করলেন, ফলে নামিরাতে তাঁর জন্য একটি তাবূ স্থাপন করা হলো। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চলতে লাগলেন। এসময় তিনি মাশআরুল হারামে থামলেন, এই ব্যাপারে কুরাইশদের মাঝে কোন সন্দেহ ছিল না। কেননা কুরাইশরা জাহেলী যুগ থেকেই এমনটাই করে আসছে। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চলতে থাকলেন, এভাবে তিনি আরাফায় পৌঁছলেন। অতঃপর তিনি দেখলেন যে, তাঁর জন্য নামিরাতে তাবূ স্থাপন করা হয়েছে। ফলে তিনি সেখানে যাত্রাবিরতি দিলেন। অতঃপর যখন সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়ে, তখন তিনি স্বীয় কাসওয়া উষ্ট্রী প্রস্তুত করার নির্দেশ দেন ফলে তা তাঁর জন্য প্রস্তুত করা হলো, তারপর তিনি বাতনে ওয়াদীতে আসেন এবং লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে বলেন, “নিশ্চয়ই তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্পদ তোমাদের উপর হারাম তোমাদের এই শহরে, তোমাদের এই মাসে আজকের এই দিনের মতই হারাম। জেনে রাখো, জাহেলী যুগের প্রতিটি জিনিস আমার পদতলে রাখলাম, জাহেলী যুগের রক্তের দাবী আমার পদতলে রাখলাম। আমি প্রথমেই আমাদের রক্তের দাবী তথা রবী‘আহ বিন হারিসের ছেলের রক্তের দাবী আমার পদতলে রাখলাম। সে বানী লাইস গোত্রে দুগ্ধপানকারী ছিল অতঃপর হুযাইল গোত্রের লোকজন তাকে হত্যা করেছিল। তোমরা নারীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করবে, কেননা তোমরা তাদেরকে আল্লাহর আমানতের বদৌলতে গ্রহণ করেছো এবং আল্লাহর কালেমার মাধ্যমে তাদের লজ্জাস্থান হালাল করে নিয়েছো।তাদের উপর তোমাদের হক হলো তারা তোমাদের বিছানায় কাউকে স্থান দেবে না, যাকে তোমরা অপছন্দ করো। যদি তারা এমনটি করে, তবে তোমরা তাদেরকে হালকা প্রহার করবে; বেধড়ক মারধর করবে না। আর তোমাদের উপর তাদের হক হলো ন্যায় সঙ্গতভাবে তার ভরণপোষন দেওয়া। আমি তোমাদের মাঝে এমন একটি জিনিস রেখে যাচ্ছি যা মজবূতভাবে আকড়ে ধরলে তোমরা কখনও পথভ্রষ্ট হবে না; সেটি হলো আল্লাহর কিতাব। আমার ব্যাপারে তোমাদের জিজ্ঞেস করা হবে, তোমরা তখন কী বলবে?” লোকজন বললো, “আমরা বলবো, “আমরা সাক্ষ্য দিবো যে, নিশ্চয়ই আপনি বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন, আপনার দায়িত্ব পালন করেছেন, কল্যাণ কামনা করেছেন।” তখন তিনি শাহাদাত অঙ্গুলি উঁচু করে মানুষের দিকে নাড়িয়ে বললেন, “হে আল্লাহ, আপনি সাক্ষী থাকুন।” এই কথা তিনি তিনবার বললেন। তারপর ইকামত দিয়ে যোহরের সালাত আদায় করলেন তারপর আবার ইকামত দিয়ে আসরের সালাত আদায় করলেন আর উভয়ের মাঝে আর কোন সালাত আদায় করেননি।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “যখন এটি জায়েয হলো যে, আসরের সালাত এগিয়ে নিয়ে আদায় করাতে ব্যক্তি কাফের হয়ে যায়নি, তাহলে এটি আরো বেশি অগ্রগণ্য যে, কোন সালাতকে ওয়াক্তের পরে আদায় করলেও সে কাফের হয়ে যাবে না।”
[1] আবূ দাঊদ: ১৯০৫; সুনান বাইহাকী: ৫/৭; ইবনু মাজাহ: ৩০৭৪; সহীহ মুসলিম: ১২১৮; নাসাঈ: ১/২৯০; দারেমী: ২/৪৪; ইবনুল জারুদ: ৪৬৯; মুসনাদুশ শাফি‘ঈ: ২/৫৪; শারহুস সুন্নাহ: ১৯২৮। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (হাজ্জাতুন্নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «حجة النبي صلى الله عليه وسلم»: م.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: حديث صحيح، هشام بن عمار – وإن كان فيه ضعف - قد توبع.
1458 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ: «أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ، فَكَانَ إِذَا ارْتَحَلَ قَبْلَ زَيْغِ الشَّمْسِ، أَخَّرَ الظُّهْرَ [ص:314] حَتَّى يَجْمَعَهَا إِلَى الْعَصْرِ، فَيُصَلِّيهِمَا جَمِيعًا، وَإِذَا ارْتَحَلَ بَعْدَ زَيْغِ الشَّمْسِ صَلَّى الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ جَمِيعًا، ثُمَّ سَارَ، وَكَانَ إِذَا ارْتَحَلَ قَبْلَ الْمَغْرِبِ أَخَّرَ الْمَغْرِبَ حَتَّى يُصَلِّيَهَا مَعَ الْعِشَاءِ، وَإِذَا ارْتَحَلَ بَعْدَ الْمَغْرِبِ عَجَّلَ الْعِشَاءَ وَصَلَّاهَا مَعَ الْمَغْرِبِ». [3: 25]
رقم طبعة با وزير = (1456)
মুয়ায বিন জাবাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাবূক যুদ্ধে বের হন, অতঃপর যখন তিনি সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে যাওয়ার আগে যাত্রা শুরু করতেন, তখন যোহরের সালাতকে পিছিয়ে দিতেন, এমনকি তা আসরের সাথে একসাথে আদায় করতেন। আর যখন তিনি সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে যাওয়ার পরে যাত্রা শুরু করতেন, (আসরের সালাতকে এগিয়ে নিয়ে), যোহর ও আসর একসাথে আদায় করতেন তারপর রওনা করতেন। যখন তিনি সূর্য অস্ত যাওয়ার আগে যাত্রা শুরু করতেন, তখন তিনি মাগরিবের সালাতকে পিছিয়ে দিতেন, এমনকি তা ইশার সাথে একসাথে আদায় করতেন। যখন তিনি সূর্য অস্ত যাওয়ার পরে যাত্রা শুরু করতেন, তখন তিনি ইশার সালাতকে এগিয়ে নিতেন, এবং তা মাগরিবের সাথে একসাথে আদায় করতেন।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৫/২৪১; আবূ দাঊদ: ১২২০; তিরমিযী: ৫৫৩; দারাকুতনী: ১/৩৯২; সুনান বাইহাকী: ৩/১৬৩; আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৭/৮৯। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১০৮৯)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (1210)، «صحيح أبي داود» (1089): م.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما، ابو الطُّفيل: هو عامر بن واثلة الليثي، ولد عام أُحُد، ورأى النبي صلى الله عليه وسلم، وروى عن أبي بكر فمن بعده، وعُمِّر إلى أن مات سنة عشر ومئة على الصحيح، وهو آخر من مات من الصحابة، قاله مسلم وغيره. وقد أعله الحاكم في «علوم الحديث» ص120 بما لا يقدح في صحته، ونقل كلامه ابن القيم في «زاد المعاد» 1م477 - 480، ورد عليه. وانظر «الفتح» 2/ 583.
1459 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ كَيْسَانَ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: عَرَّسْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ لَيْلَةٍ فَلَمْ نَسْتَيْقِظْ حَتَّى آذَتْنَا الشَّمْسُ، فَقَالَ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لِيَأْخُذْ كُلُّ رَجُلٍ مِنْكُمْ رَاحِلَتَهُ ثُمَّ يَتَنَحَّى عَنْ هَذَا الْمَنْزِلِ» ثُمَّ دَعَا بِالْمَاءِ فَتَوَضَّأَ، فَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ، ثُمَّ أُقِيمَتِ الصَّلَاةُ. [3: 52]
رقم طبعة با وزير = (1457) [ص:317] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: «فِي تَأْخِيرِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الصَّلَاةَ عَنِ الْوَقْتِ الَّذِي أَثْبَتَهُ إِلَى أَنْ خَرَجَ مِنَ الْوَادِي دَلِيلٌ صَحِيحٌ، عَلَى أَنَّ تَارِكَ الصَّلَاةِ إِلَى أَنْ يَخْرُجَ وَقْتُهَا لَا يَكُونُ كَافِرًا، إِذْ لَوْ كَانَ كَذَلِكَ لَأَمَرَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِأَدَاءِ الصَّلَاةِ فِي وَقْتِ انْتِبَاهِهِمْ مِنْ مَنَامِهِمْ، وَلَمْ يَأْمُرْهُمْ بِالتَّنَحِّي عَنِ الْمَنْزِلِ الَّذِي نَامُوا فِيهِ، وَالْفَرْضُ لَازِمٌ لَهُمْ قَدْ جَازَ وَقْتُهُ»
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে বিশ্রামের জন্য শেষরাত্রে যাত্রা বিরতি দেই। অতঃপর আমরা কেউ জাগ্রত হতে পারি নাই যতক্ষণ না সূর্যের তাপ আমাদের শরীরে লাগে। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “প্রত্যেকেই যেন তার বাহন নেয় অতঃপর এই জায়গা ত্যাগ করে।” তারপর তিনি পানি আনতে বলেন এবং ওযূ করেন ও দুই রাকাআত (ফজরের সুন্নত) সালাত আদায় করেন। তারপর সালাতের ইকামত দেওয়া হয়।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক সালাতের জন্য নির্ধারিত সময় থেকে বিলম্বে আদায় করা এমনকি তিনি ঐ উপত্যকা থেকে বের হয়ে চলে যান- এই হাদীসে বিশুদ্ধ দলীল রয়েছে এই মর্মে যে, কোন ব্যক্তি যদি সালাত তরক করে এমনকি সালাতের সময় চলে যায়, তবে এর মাধ্যমে কাফের হয়ে যাবে না। কেননা যদি তাই হতো তবে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবীদেরকে ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার সাথে সাথেই সেখানে সালাত আদায় করার নির্দেশ দিতেন; তাদের সেই ঘুমানোর জায়গা ত্যাগ করার নির্দেশ দিতেন না। অথচ ফরয পালন করা তাঁদের জন্য অবধারিত ছিল এবং তা আদায়ের সময়ও অতিক্রান্ত হয়ে গিয়েছিল।”
[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/৪২৮; আবূ আওয়ানা: ২/২৫২; সহীহ মুসলিম: ৬৮০; নাসাঈ: ১/২৯৮; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৯৮৮; সুনান বাইহাকী: ২/২১৮; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ২/৬৪; ইবনুল জারুদ: ২৪০; তাহাবী: ১/৪০২। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ১৪৫৭)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: م.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده جيد، يزيد بن كيسان: صدوق من رجال مسلم إلا أنه يخطىء، وباقي رجال السند على شرطهما، ابن فضيل: هو محمد، وأبو حازم: هو سليمان الكوفي الأشجعي.
1460 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا حَبَّانُ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ الْمُغِيرَةِ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَبَاحٍ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَيْسَ فِي النَّوْمِ تَفْرِيطٌ، إِنَّمَا التَّفْرِيطُ عَلَى مَنْ لَمْ يُصَلِّ [ص:318] الصَّلَاةَ حَتَّى يَجِيءَ وَقْتُ صَلَاةٍ أُخْرَى». [3: 25]
رقم طبعة با وزير = (1458) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: «فِي إِطْلَاقِ الْمُصْطَفَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ [ص:319] التَّفْرِيطَ عَلَى مَنْ لَمْ يُصَلِّ الصَّلَاةَ حَتَّى دَخَلَ وَقْتُ صَلَاةٍ أُخْرَى بَيَانٌ وَاضِحٌ أَنَّهُ لَمْ يَكْفُرْ بِفِعْلِهِ ذَلِكَ، إِذْ لَوْ كَانَ كَذَلِكَ، لَمْ يُطْلِقْ عَلَيْهِ اسْمُ التَّأْخِيرِ وَالتَّقْصِيرِ دُونَ إِطْلَاقِ الْكُفْرِ»
আবূ কাতাদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয়ই ঘুমের কারণে সালাত বিলম্ব করা হলে, সেটি অবহেলা হিসেবে বিবেচিত হয় না। বস্তুত অবহেলা হলো সেই ব্যক্তির উপর প্রযোজ্য হয়, যে ব্যক্তি সালাত আদায় করে না, এভাবে আরেক সালাতের ওয়াক্ত চলে আসে।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “যেই সালাত আদায় করে না, এমনকি আরেক সালাতের ওয়াক্ত চলে আসে, এমন ব্যক্তির ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ‘অবহেলাকারী’ শব্দ ব্যবহার করেছেন। এখানে সুস্পষ্ট দলীল রয়েছে এই মর্মে যে, এমন কাজ সম্পাদনকারী কাফির বিবেচিত হবে না। যদি তা-ই হতো তবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার ব্যাপারে ‘কুফর’ শব্দ ব্যবহার না করে ‘অবহেলাকারী’ এই জাতীয় শব্দ ব্যবহার করতেন না।”
[1] নাসাঈ: ১/২৯৪; সহীহ মুসলিম: ৬৮১; আবূ দাঊদ: ৪৪১; ইবনুল জারূদ: ১৫৩; দারাকুতনী: ১/৩৮৬; আবূ আওয়ানা: ২/২৫৭; সুনান বাইহাকী: ১/৪০৪; মুসনাদ আহমাদ: ৫/২৯৮; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/৪০১; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৪৩৯; তিরমিযী: ১৭৭; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৯৮৯; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ২২৪০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৪৬৫)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الإرواء» (1/ 294)، «صحيح أبي داود» (465).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم، عبد الله: هو ابن المبارك.