সহীহ ইবনু হিব্বান
152 - أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِدْرِيسَ الْأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ أَبِي عُمَرَ الْعَدَنِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، والدَّرَاوَرْدِيُّ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي مُرَاوِحٍ الْغِفَارِيِّ، [ص:365] عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَيُّ الْعَمَلِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «إِيمَانٌ بِاللَّهِ، وَجِهَادٌ فِي سَبِيلِهِ». [2: 1]
১৫২. আবু যার আল গিফারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, কোন আমল শ্রেষ্ঠ? জবাবে তিনি বলেন: আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা এবং তাঁর রাহে জিহাদ করা।” [1]
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (1490).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم
153 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ قُتَيْبَةَ اللَّخْمِيُّ بِعَسْقَلَانَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: سَأَلَ رَجُلٌ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ [ص:366] وَسَلَّمَ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَيُّ الْعَمَلِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «الْإِيمَانُ بِاللَّهِ»، قَالَ: ثُمَّ مَاذَا؟ قَالَ: «ثُمَّ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ»، قَالَ: ثُمَّ مَاذَا؟ قَالَ: «ثُمَّ حَجٌّ مَبْرُورٌ». [2: 1]
১৫৩. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, কোন আমল সর্বশ্রেষ্ঠ? জবাবে তিনি বললেন: আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়ন করা। তিনি আবারো প্রশ্ন করলেন: তারপর কোনটি? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জবাবে বললেন: আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন: তারপর কোনটি? তিনি বললেন: কবুল হজ্জ।”[1]
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح سنن النسائي» (2461): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: ابن أبي السري: هو محمد بن المتوكل العسقلاني، ذكره المؤلف في "الثقات" 9/ 88، وقال: كان من الحفاظ، وفي "التقريب": صدوق، عارف، له أوهام كثيرة، وقد توبع عليه، وباقي رجاله على شرطهما.
154 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ حَمَّادٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ شَرِيكِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي نَمِرٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ: بَيْنَا نَحْنُ جُلُوسٌ فِي الْمَسْجِدِ، دَخَلَ رَجُلٌ عَلَى جَمَلٍ، فَأَنَاخَهُ فِي الْمَسْجِدِ، ثُمَّ عَقَلَهُ، ثُمَّ قَالَ لَهُمْ: أَيُّكُمْ مُحَمَّدٌ؟ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُتَّكِئٌ بَيْنَ ظَهْرَانَيْهِمْ، قَالَ: فَقُلْنَا لَهُ: هَذَا الْأَبْيَضُ الْمُتَّكِئُ، فَقَالَ لَهُ الرَّجُلُ: يَا ابْنَ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «قَدْ أَجَبْتُكَ»، فَقَالَ الرَّجُلُ: يَا مُحَمَّدُ إِنِّي سَائِلُكَ فَمُشْتَدٌّ عَلَيْكَ فِي الْمَسْأَلَةِ، فَلَا تَجِدَنَّ عَلَيَّ فِي نَفْسِكَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «سَلْ مَا بَدَا لَكَ»، فَقَالَ الرَّجُلُ: نَشَدْتُكَ بِرَبِّكَ وَرَبِّ مَنْ قَبْلَكَ، آللَّهُ أَرْسَلَكَ إِلَى النَّاسِ كُلِّهِمْ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اللَّهُمَّ نَعَمْ»، قَالَ: فَأَنْشُدُكَ اللَّهَ، آللَّهُ أَمَرَكَ أَنْ نُصَلِّيَ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسَ فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اللَّهُمَّ نَعَمْ»، قَالَ: فَأَنْشُدُكَ اللَّهَ، آللَّهُ أَمَرَكَ أَنَ نَصُومَ هَذَا [ص:368] الشَّهْرَ مِنَ السَّنَةِ؟ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اللَّهُمَّ نَعَمْ»، قَالَ: فَأَنْشُدُكَ اللَّهَ، آللَّهُ أَمَرَكَ أَنْ تَأْخُذَ هَذِهِ الصَّدَقَةَ مِنْ أَغْنِيَائِنَا، فَتَقْسِمَهَا عَلَى فُقَرَائِنَا؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اللَّهُمَّ نَعَمْ»، فَقَالَ الرَّجُلُ: آمَنْتُ بِمَا جِئْتَ بِهِ، وَأَنَا رَسُولُ مَنْ وَرَائِي مِنْ قَوْمِي، وَأَنَا ضِمَامُ بْنُ ثَعْلَبَةَ أَخُو بَنِي سَعْدِ بْنِ بَكْرٍ. [65: 3]
১৫৪. আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমরা মসজিদে বসে ছিলাম, এমন সময় এক ব্যক্তি উটের উপর আরোহন করে আসলেন অতঃপর মাসজিদে উট বসালেন এবং উট বেঁধে রাখলেন, তারপর সাহাবীদের বললেন: ’আপনাদের মাঝে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে?’ এসময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদের মাঝে হেলান দিয়ে বসা ছিলেন। রাবী বলেন: আমরা তাকে বললাম: এই যে হেলান দেওয়া ফর্সা ব্যক্তি। তখন সে ব্যক্তি তাঁকে বললেন: ’হে আব্দুল মুত্তালিবের ছেলে।’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন: ’ঠিক আছে, আমি আপনার কথা শুনছি (বলুন)।’ তিনি বললেন: ’হে মুহাম্মাদ, আমি আপনাকে কিছু প্রশ্ন করবো এবং প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে কিছুটা কঠোরতা আরোপ করবো, এতে আপনি মনে কোন কষ্ট নিবেন না।’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’আপনার মনে যা চায়, আপনি পশ্ন করুন।’
অতঃপর ব্যক্তিটি বললেন: ’আপনার প্রতিপালক এবং আপনার পূর্ববর্তীদের প্রতিপালকের শপথ দিয়ে বলছি, আল্লাহই কি আপনাকে সমস্ত মানুষের কাছে রাসূল করে পাঠিয়েছেন?’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’আল্লাহর কসম, হ্যাঁ।’ তিনি বললেন: ’আমি আপনাকে আল্লাহর শপথ দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, আল্লাহই কি আদেশ করেছেন আমাদেরকে দিনে-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করতে?’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’আল্লাহর কসম, হ্যাঁ।’ তিনি বললেন: ’আমি আপনাকে আল্লাহর শপথ দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, আল্লাহই কি আদেশ করেছেন আমাদেরকে বছরের এই মাসে সিয়াম রাখতে?’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’আল্লাহর কসম, হ্যাঁ।’ তিনি বললেন: ’আমি আপনাকে আল্লাহর শপথ দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, আল্লাহই কি আদেশ করেছেন যে আপনি আমাদের ধনীদের থেকে যাকাত গ্রহন করবেন অতঃপর তা আমাদের গরীবদের মাঝে বন্টন করে দিবেন?’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’আল্লাহর কসম, হ্যাঁ।’ অতঃপর সেই লোকটি বললেন: ’আপনি যে শারী’আত নিয়ে এসেছেন, আমি তার প্রতি ঈমান আনয়ন করলাম, আমি আমার পশ্চাতের লোকদের জন্য বার্তাবাহক। আর আমি বানু সা’দ বিন বকর গোত্রের যিমাম বিন সা’লাবাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু)।”[1]
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (504): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح؛ عيسى بن حماد: هو ابن مسلم التجيبي، وباقي السند من رجال الشيخين.
155 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْخَطَّابِ الْبَلَدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْجُدِّيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، قَالَ: حَدَّثَنَا ثَابِتٌ الْبُنَانِيُّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: كُنَّا نُهِينَا أَنْ نَسْأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ شَيْءٍ، فَكَانَ يُعْجِبُنَا أَنْ يَأْتِيَهُ الرَّجُلُ مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ فَيَسْأَلَهُ، وَنَحْنُ نَسْمَعُ، فَأَتَاهُ رَجُلٌ مِنْهُمْ، فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ أَتَانَا رَسُولُكَ، فَزَعَمَ أَنَّكَ تَزْعُمُ أَنَّ اللَّهَ أَرْسَلَكَ، قَالَ: «صَدَقَ»، قَالَ: فَمَنْ [ص:369] خَلَقَ السَّمَاءَ؟ قَالَ: «اللَّهُ»، قَالَ: فَمَنْ خَلَقَ الْأَرْضَ؟ قَالَ: «اللَّهُ»، قَالَ: فَمَنْ نَصَبَ هَذِهِ الْجِبَالَ؟ قَالَ: «اللَّهُ»، قَالَ: فَمَنْ جَعَلَ فِيهَا هَذِهِ الْمَنَافِعَ؟ قَالَ: «اللَّهُ»، قَالَ: فَبِالَّذِي خَلَقَ السَّمَاءَ وَالْأَرْضَ، وَنَصَبَ الْجِبَالَ، وَجَعَلَ فِيهَا هَذِهِ الْمَنَافِعَ، آللَّهُ أَرْسَلَكَ؟ قَالَ: «نَعَمْ»، قَالَ: زَعَمَ رَسُولُكَ أَنَّ عَلَيْنَا خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِي يَوْمِنَا وَلَيْلَتِنَا، قَالَ: «صَدَقَ»، قَالَ: فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ، آللَّهُ أَمَرَكَ بِهَذَا؟ قَالَ: «نَعَمْ»، قَالَ: زَعَمَ رَسُولُكَ أَنَّ عَلَيْنَا صَدَقَةً فِي أَمْوَالِنَا، قَالَ: «صَدَقَ»، قَالَ: فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ، آللَّهُ أَمَرَكَ بِهَذَا؟ قَالَ: «نَعَمْ»، قَالَ: زَعَمَ رَسُولُكَ أَنَّ عَلَيْنَا صَوْمَ شَهْرٍ فِي سَنَتِنَا، قَالَ: «صَدَقَ»، قَالَ فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ، آللَّهُ أَمَرَكَ بِهَذَا؟ قَالَ: «نَعَمْ»، قَالَ: زَعَمَ رَسُولُكَ أَنَّ عَلَيْنَا حَجَّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا، قَالَ: «صَدَقَ»، قَالَ: فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ، آللَّهُ أَمَرَكَ بِهَذَا؟ قَالَ: «نَعَمْ»، قَالَ: وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ، لَا أَزِيدُ عَلَيْهِنَّ، وَلَا أَنْقُصُ مِنْهُنَّ شَيْئًا، فَلَمَّا قَفَّى، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَئِنْ صَدَقَ لَيَدْخُلَنَّ الْجَنَّةَ» [ص:370] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: هَذَا النَّوْعُ مِثْلُ الْوُضُوءِ، وَالتَّيَمُّمِ، وَالِاغْتِسَالِ مِنَ الْجَنَابَةِ، وَالصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ، وَالصَّوْمِ الْفَرْضِ، وَمَا أَشْبَهَ هَذِهِ الْأَشْيَاءَ الَّتِي هِيَ فَرْضٌ عَلَى الْمُخَاطَبِينَ فِي بَعْضِ الْأَحْوَالِ لَا الْكُلِّ.
১৫৫. আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ’আমাদেরকে (একান্ত প্রয়োজনীয় ছাড়া) কোন কিছু সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে নিষেধ করা হয়েছিল। ফলে আমরা কামনা করতাম যে, বেদুঈন ব্যক্তি এসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করুক আর আমরা তা শ্রবণ করি। অতঃপর একজন বেদুঈন ব্যক্তি আসলেন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন: ’হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমাদের কাছে আপনার বার্তাবাহক এসে বলেছেন যে, আপনি বলেছেন যে, আল্লাহ আপনাকে রাসূল করে পাঠিয়েছেন।’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’তিনি সত্য কথাই বলেছেন।’ তিনি বললেন: ’কে আসমান সৃষ্টি করেছেন?’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জবাবে বললেন: ’আল্লাহ।’ তিনি বললেন: ’জমিন কে সৃষ্টি করেছেন?’ জবাবে বললেন: ’আল্লাহ।’ তিনি বললেন: ’এই পর্বত কে স্থাপন করেছেন?’ তিনি বললেন: ’আল্লাহ।’ তিনি বললেন: ’এই উপকারী জিনিসগুলো কে সৃষ্টি করেছেন?’ তিনি বললেন: ’আল্লাহ।’ তিনি বললেন: ’ঐ সত্তার কসম দিয়ে বলছি, যিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন, তাতে পর্বত স্থাপন করেছেন এবং এখানে উপকারী জিনিসসমূহ সৃষ্টি করেছেন! আল্লাহই কি আপনাকে রাসূল করে পাঠিয়েছেন?’ তিনি জবাবে বললেন: ’হ্যাঁ।’ তিনি বললেন: ’আপনার বার্তাবাহক বলেছেন যে, দিনে-রাতে আমাদের উপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা আবশ্যক।’ তিনি বললেন: ’তিনি সত্যই বলেছেন।’ তিনি বললেন: ’ঐ সত্তার কসম দিয়ে বলছি, যিনি আপনাকে রাসূল করে পাঠিয়েছেন, আল্লাহই কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন?’ জবাবে তিনি বললেন: ’হ্যাঁ।’ তিনি বললেন: ’আপনার বার্তাবাহক বলেছেন যে, আমাদের মধ্যে যাদের বায়তুল্লাহ পর্যন্ত যাতায়াতের পাথেয় আছে, তার উপর হজ্জ করা আবশ্যক।’ তিনি বললেন: ’তিনি সত্যই বলেছেন।’ বলেছেন।’ তিনি বললেন: ’ঐ সত্তার কসম দিয়ে বলছি, যিনি আপনাকে রাসূল করে পাঠিয়েছেন, আল্লাহই কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন?’ জবাবে তিনি বললেন: ’হ্যাঁ।’ তিনি বললেন: ’ঐ সত্তার কসম দিয়ে বলছি, যিনি আপনাকে হক সহ পাঠিয়েছেন, আমি এরচেয়ে বেশিও আমল করবো না, এরচেয়ে কোন কিছু কমও করবো না।’ অতঃপর লোকটি যখন চলে গেলেন, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’যদি সে সত্য বলে থাকে, তবে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ [1]
আবু হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন: “এই জাতীয় বিধি-বিধান যেমন ওযূ, তায়াম্মুম, নাপাকীর গোসল, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, ফরয সিয়াম, এবং এই জাতীয় আরো অন্যান্য আমলগুলো মুখাতাব তথা শরীয়তের বিধি-বিধান বর্তায় এমন ব্যক্তির উপর কিছু অবস্থায় প্রযোজ্য; সর্বাস্থায় নয়।”
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق - انظر ما قبله.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح. محمد بن الخطاب البلدي: ذكره المؤلف في "الثقات" 9/ 139، فقال: سكن الموصل، يروي عن المؤمل بن إسماعيل، وأبي نعيم والكوفيين، حدثنا عنه أبو يعلى وأهل الموصل، وباقي السند رجاله ثقات.
156 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ الشَّيْبَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أُمَيَّةُ بْنُ بِسْطَامٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ الْقَاسِمِ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أُمَيَّةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ صَيْفِيٍّ، عَنْ أَبِي مَعْبَدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا بَعَثَ مُعَاذًا إِلَى الْيَمَنِ، قَالَ: «إِنَّكَ تَقَدُمُ عَلَى قَوْمٍ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ، فَلْيَكُنْ أَوَّلَ مَا تَدْعُوهُمْ إِلَيْهِ عِبَادَةُ اللَّهِ، فَإِذَا عَرَفُوا اللَّهَ فَأَخْبِرْهُمْ أَنَّ اللَّهَ فَرَضَ عَلَيْهِمْ خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِي يَوْمِهِمْ وَلَيْلَتِهِمْ، وَإِذَا فَعَلُوهَا فَأَخْبِرْهُمْ أَنَّ اللَّهَ فَرَضَ عَلَيْهِمْ زَكَاةً تُؤْخَذُ مِنْ أَمْوَالِهِمْ، فَتُرَدُّ عَلَى فُقَرَائِهِمْ، فَإِذَا أَطَاعُوا بِهَذَا فَخُذْ مِنْهُمْ، وَتَوَقَّ كَرَائِمَ أَمْوَالِ النَّاسِ». [4: 1] [ص:371] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: هَذَا النَّوْعُ مِثْلُ الْحَجِّ وَالزَّكَاةِ وَمَا أَشْبَهَهُمَا مِنَ الْفَرَائِضِ الَّتِي فُرِضَتْ عَلَى بَعْضِ الْعَاقِلِينَ الْبَالِغِينَ فِي بَعْضِ الْأَحْوَالِ لَا الْكُلِّ
১৫৬. আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মুয়ায রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে ইয়ামানে পাঠান, তখন তাঁকে বলেন: ’আপনি আহলে কিতাবদের একটি সম্প্রদায়ের কাছে যাচ্ছেন, অতএব তাদের প্রতি আপনার প্রথম দা’ওয়াত যেন হয় আল্লাহর ইবাদত। যখন তারা আল্লাহকে চিনবে, তখন আপনি জানাবেন যে, আল্লাহ তাদের উপর দিনে-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন। যখন তারা এটা পালন করবে, তখন তাদেরকে জানাবেন যে, আল্লাহ তাদের উপর যাকাত ফরয করেছেন; যা তাদের সম্পদ থেকে গ্রহণ করা হবে অতঃপর তাদের গরীবদের মাঝে তা বন্টন করা হবে। যদি তারা তা মেনে নেয়, তাহলে তাদের থেকে তা গ্রহন করবেন। তবে মানুষের উত্তম সম্পদ গ্রহণ করা থেকে বেঁচে থাকবেন।’[1]
আবু হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন: ’’এই প্রকার বিধি-বিধান যেমন হজ্জ, যাকাত এবং এই জাতীয় অন্যান্য আমলগুলো এমন ফরয বিধানের অন্তর্ভূক্ত যা কিছু জ্ঞানবান, বালেগ ব্যক্তির উপর কিছু অবস্থায় ফরয; সর্বাস্থায় নয়।”
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1412): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما. أبو معبد: هو نافع مولى ابن عباس المكي.
157 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ الْمُقَدَّمِيُّ، حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ عَبَّادٍ، حَدَّثَنَا أَبُو جَمْرَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَدِمَ وَفْدُ عَبْدِ الْقَيْسِ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى [ص:372] اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّا هَذَا الْحَيَّ مِنْ رَبِيعَةَ، قَدْ حَالَتْ بَيْنَنَا وَبَيْنَكَ كُفَّارُ مُضَرَ، وَلَا نَخْلُصُ إِلَيْكَ إِلَّا فِي شَهْرٍ حَرَامٍ، فَمُرْنَا بِأَمْرٍ نَعْمَلُ بِهِ، وَنَدْعُو إِلَيْهِ مَنْ وَرَاءَنَا، قَالَ: «آمُرُكُمْ بِأَرْبَعٍ: الْإِيمَانِ بِاللَّهِ، شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَإِقَامِ الصَّلَاةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَأَنْ تُؤَدُّوا خُمُسَ مَا غَنِمْتُمْ، وَأَنْهَاكُمْ عَنِ الدُّبَّاءِ، وَالْحَنْتَمِ، وَالنَّقِيرِ، وَالْمُقَيَّرِ». [1: 1] [ص:373] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: رَوَى هَذَا الْخَبَرَ قَتَادَةُ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، وَعِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، وَأَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ
১৫৭. আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আব্দুল কাইস গোত্রের প্রতিনিধি দল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে এসে বললেন: ’আমরা রাবী’আহ গোত্রের লোক। আমাদের ও আপনার মাঝে মুযার গোত্রের কুফফাররা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে ফলে আমরা আপনার কাছে হারাম মাস ছাড়া অন্য কোন সময় আসতে পারিনা। অতএব আপনি আমাদেরকে এমন কিছুর আদেশ দিন, যা আমরা আমল করবো এবং আমাদের পিছে রেখে আসা লোকদের দা’ওয়াত দিব।’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’আমি আপনাদেরকে চারটি জিনিসের আদেশ করছি: (১) আল্লাহর প্রতি ঈমান, এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল (২) সালাত প্রতিষ্ঠা করা (৩) যাকাত প্রদান করা (৪) তোমাদের প্রাপ্ত গনীমতের এক-পঞ্চমাংশ প্রদান করা।’ আমি আপনাদেরকে কদুর খোলস, সবুজ কলসি, খেজুরের কাষ্ঠ খোদাই করা পাত্র ও আল কাতরার প্রলেপ দেওয়া পাত্র ব্যবহার করতে নিষেধ করছি।’[1]
আবু হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন: “এই হাদীসটি কাতাদা সা’ঈদ বিন মুসায়্যিব ও ইকরামার সূত্রে আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা[2] থেকে এবং আবু নাযরাহ আবু সা’ঈদ আল খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে[3] বর্ণনা করেছেন।”
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الطحاوية» (426): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما، أبو جمرة بالجيم والراء: هو نصر بن عمران الضبعي.
158 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، أَخْبَرَنَا وَكِيعٌ، عَنْ حَنْظَلَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ، سَمِعْتُ عِكْرِمَةَ بْنَ خَالِدٍ يُحَدِّثُ طَاوُسًا، أَنَّ رَجُلًا قَالَ لِابْنِ عُمَرَ: أَلَا تَغْزُو؟ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ: إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: «بُنِيَ الْإِسْلَامُ عَلَى خَمْسٍ: شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَإِقَامِ الصَّلَاةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَصِيَامِ رَمَضَانَ، وَحَجِّ الْبَيْتِ». [1: 1] [ص:375] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: هَذَانِ خَبَرَانِ خَرَجَ خِطَابُهُمَا عَلَى حَسَبِ الْحَالِ، لِأَنَّهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَكَرَ الْإِيمَانَ، ثُمَّ عَدَّهُ أَرْبَعَ خِصَالٍ، ثُمَّ ذَكَرَ الْإِسْلَامَ وَعَدَّهُ خَمْسَ خِصَالٍ، وَهَذَا مَا نَقُولُ فِي كُتُبِنَا: بِأَنَّ الْعَرَبَ تَذْكُرُ الشَّيْءَ فِي لُغَتِهَا بِعَدَدٍ مَعْلُومٍ، وَلَا تُرِيدُ بِذِكْرِهَا ذَلِكَ الْعَدَدَ نَفْيًا عَمَّا وَرَاءَهُ، وَلَمْ يُرِدْ بِقَوْلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ الْإِيمَانَ لَا يَكُونُ إِلَّا مَا عُدَّ فِي خَبَرِ ابْنِ عَبَّاسٍ، لِأَنَّهُ ذَكَرَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي غَيْرِ خَبَرٍ أَشْيَاءَ كَثِيرَةً مِنَ الْإِيمَانِ لَيْسَتْ فِي خَبَرِ ابْنِ عُمَرَ، وَلَا ابْنِ عَبَّاسٍ اللَّذَيْنِ ذَكَرْنَاهُمَا.
প্রখ্যাত তাবি’ঈ তাউস রহিমাহুল্লাহ বলেন: এক ব্যক্তি আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমাকে বললেন: ’আপনি কি যুদ্ধ করবেন না?’ তখন আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন: ’নিশ্চয়ই আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: ’ইসলাম পাঁচটি ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। যথা: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই, সালাত প্রতিষ্ঠা করা, যাকাত প্রদান করা, রমযানের সিয়াম পালন করা ও বায়তুল্লাহর হজ্জ করা।”[1]
আবু হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন: “এই দুই হাদীসের বক্তব্য অবস্থা অনুযায়ী হয়েছে। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈমানের কথা উল্লেখ করেছেন তারপর ঈমানকে চারটি বৈশিষ্ট্যে গণনা করেছেন। তারপর তিনি ইসলামের কথা আলোচনা করেছেন এবং ইসলামকে পাঁচটি বৈশিষ্ট্যে গণনা করেছেন। এটা আমরা আমাদের কিতাবে বলে থাকি যে, আরবরা কোন কোন সময় তাদের ভাষায় নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করেন, এবং এর মাধ্যমে অন্য সংখ্যাকে নাকচ করে শুধুমাত্র ঐ সংখ্যাকেই উদ্দেশ্য নেন না। এখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বক্তব্য দ্বারা এটা আদৌ উদ্দেশ্য নয় যে, আব্দুল্লাহ বিন আব্বাসের হাদীসে যে বৈশিষ্ট্যগুলো গণনা করা হয়েছে অন্য কিছুতে ঈমান নেই। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্য একাধিক হাদীসে অনেক বিষয়কে ঈমানের অন্তর্ভূক্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা আমাদের উল্লেখিত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস ও আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম এর হাদীসে নেই।”
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الإرواء» (781)، ويأتي (1443): ق. تنبيه!! رقم (1443) = (1446) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين.
159 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ، عَنْ أَبِي حَيَّانَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ بْنِ عَمْرِو بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا بَارِزًا لِلنَّاسِ، إِذْ أَتَاهُ رَجُلٌ يَمْشِي، فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ، مَا الْإِيمَانُ؟ قَالَ: «أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ، وَمَلَائِكَتِهِ، وَرُسُلِهِ، وَلِقَائِهِ، وَتُؤْمِنَ بِالْبَعْثِ الْآخِرِ»، قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَمَا الْإِسْلَامُ؟ قَالَ: «لَا تُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا، وَتُقِيمُ الصَّلَاةَ الْمَكْتُوبَةَ، وَتُؤَدِّي الزَّكَاةَ الْمَفْرُوضَةَ، وَتَصُومُ رَمَضَانَ»، قَالَ: يَا مُحَمَّدُ، مَا الْإِحْسَانُ؟ قَالَ: «أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ، فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ»، قَالَ: يَا مُحَمَّدُ، فَمَتَى السَّاعَةُ؟ قَالَ: «مَا الْمَسْئُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ، وَسَأُحَدِّثُكَ عَنْ أَشْرَاطِهَا: إِذَا وَلَدَتِ الْأَمَةُ رَبَّتَهَا، وَرَأَيْتَ الْعُرَاةَ الْحُفَاةَ رُءُوسَ النَّاسِ، فِي خَمْسٍ [ص:376] لَا يَعْلَمُهُنَّ إِلَّا اللَّهُ: {إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ} [لقمان: 34] الْآيَةَ، ثُمَّ انْصَرَفَ الرَّجُلُ، فَالْتَمَسُوهُ فَلَمْ يَجِدُوهُ، فَقَالَ: «ذَاكَ جِبْرِيلُ جَاءَ لِيُعَلِّمَ النَّاسَ دِينَهُمْ». [26: 3]
১৫৯. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবীদের উদ্দেশ্যে বের হয়ে আসলেন। এমন সময় একজন ব্যক্তি তাঁর কাছে হেঁটে আসলেন, অতঃপর তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন: ’হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ঈমান কী?’ জবাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’ঈমান হলো আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতা, রাসূলগণ ও তাঁর সাক্ষাতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা, পরকালের পুনরুত্থানের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা।’ তিনি বললেন: ’হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ইসলাম কী?’ জবাবে তিনি বললেন: ’ইসলাম হলো তুমি আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না, ফরয সালাত আদায় করবে, ফরয যাকাত প্রদান করবে এবং রমযানের সিয়াম পালন করবে।’ তিনি বললেন: ’হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ইহসান কী?’ জবাবে তিনি বললেন: ’ইহসান হলো তুমি এমনভাবে ইবাদত করবে যে, যেন তুমি তাঁকে দেখতে পাচ্ছো। যদি তুমি তাকে দেখতে না পাও তবে (মনে করবে যে) নিশ্চয়ই তিনি তোমাকে দেখতে পাচ্ছেন।’ তিনি আবারো বললেন: ’হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, কিয়ামত কখন সংঘটিত হবে?’ তিনি বলেন: ’এই ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি জিজ্ঞেসকারীর চেয়ে বেশি অবগত নন। তবে অচিরেই আমি কিয়ামতের আলামত সম্পর্কে বলবো। কিয়ামতের আলামত হলো তুমি দাসীকে দেখবে তার মুনীবকে প্রসব করতে, দেখবে বিবস্ত্র, নগ্নপদ ব্যক্তিদের মানুষের নেতা হতে। কিয়ামতের জ্ঞান ঐ পাঁচটি বিষয়ের অন্তর্গত, যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না। “নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট রয়েছে কিয়ামতের জ্ঞান।” (সূরা লুকমান: ৩৪।) তারপর লোকটি চলে যায়। অতঃপর সাহাবীগণ তাঁকে খোঁজ করেন, কিন্তু তাঁকে পাননি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’উনি জিবরীল আলাইহিস সালাম, তিনি এসেছিলেন, মানুষকে দ্বীন শিক্ষা দিতে।’[1]
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الإرواء» (1/ 32 / 3)، «الصحيحة» (2903): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين، جرير: هو ابن عبد الحميد الرازي، وأبو حيان التيمي: هو يحيى بن سعيد بن حيان
160 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَجَّاجِ السَّامِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي قَزَعَةَ، عَنْ حَكِيمِ بْنِ مُعَاوِيَةَ، [ص:377] عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ، مَا أَتَيْتُكَ حَتَّى حَلَفْتُ عَدَدَ أَصَابِعِي هَذِهِ أَنْ لَا آتِيَكَ، فَمَا الَّذِي بَعَثَكَ بِهِ؟ قَالَ: «الْإِسْلَامُ»، قَالَ: وَمَا الْإِسْلَامُ؟، قَالَ: «أَنْ تُسْلِمَ قَلْبَكَ لِلَّهِ، وَأَنْ تُوَجِّهَ وَجْهَكَ لِلَّهِ، وَأَنْ تُصَلِّيَ الصَّلَاةَ الْمَكْتُوبَةَ، وَتُؤَدِّيَ الزَّكَاةَ الْمَفْرُوضَةَ، أَخَوَانِ نَصِيرَانِ، لاَ يَقْبَلُ اللَّهُ مِنْ عَبْدٍ تَوْبَةً * أَشْرَكَ بَعْدَ إِسْلَامِهِ». [65: 3]
১৬০. হাকীম বিন মু’আবিয়া তাঁর বাবা মু’আবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলেছিলেন: ’হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ঐ সত্তার কসম! যিনি আপনাকে হক সহ পাঠিয়েছেন, আমি আপনার কাছে এসেছি, অথচ এর আগে আমি আমার আঙ্গুলের সংখ্যা পরিমাণ শপথ করেছিলাম যে, আমি আপনার কাছে কখনই আসবো না। তিনি আপনাকে কী সহ পাঠিয়েছেন?’ তিনি জবাবে বললেন: ’ইসলাম।’ তিনি বললেন: ’ইসলাম কী?’ জবাবে তিনি বললেন: ’তুমি তোমার হৃদয়কে আল্লাহর কাছে সমর্পিত করবে, তোমার চেহারাকে আল্লাহর জন্য মনোনিবেশ করবে, ফরয সালাত আদায় করবে, ফরয যাকাত আদায় করবে। (প্রত্যেক মুসলিম অপর মুসলিমের জন্য) দুই ভাই (স্বরুপ যারা) পরস্পরকে সাহায্যকারী। আল্লাহ তা’আলা ঐ ব্যক্তির তাওবা কবুল করেন না, যে ইসলাম গ্রহণ করার পর শিরক করে।”[1]
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح بلفظ «عملاً» مكان: «توبة» - «الصحيحة» (369)، «الإرواء» (5/ 32). * [لاَ يَقْبَلُ اللَّهُ مِنْ عَبْدٍ تَوْبَةً] قال الشيخ: كذا في رواية حمَّاد هذه! وكذلك وقع في (المسند) (5/ 2 و3) وغيرِه! وأخشى أن يكون هذا الحَرْفُ من أوهام حمَّاد، وقد كان تغيَّرَ حفظُه في آخره، فقد رواه بهزُ بن حكيم عن أبيه. . . بلفظ: (عملاً). ولم يتنبّه لهذا الفرق بين الروايتين: المعلِّق على (موارد الظمآن) (1/ 130 - 131)!
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح. وأبو قَزْعة هو سويد بن حُجَيْر البصري، ومعاوية هو ابن حَيْدة بن معاوية بن كعب القشيري، صحأبي نزل البصرة، ومات بخراسان، وهو جد بهز بن حكيم.
161 - أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِدْرِيسَ الْأَنْصَارِيُّ، أَنْبَأَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الْأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْمُسْلِمُ يَأْكُلُ فِي مِعًى وَاحِدٍ، وَالْكَافِرُ يَأْكُلُ فِي سَبْعَةِ أَمْعَاءٍ». [13: 3]
১৬১. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ’মুসলিম ব্যক্তি এক পেটে আহার করে আর কাফির ব্যক্তি সাত পেটে আহার করে।’
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «التعليق الرغيب» (3/ 122): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين.
162 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ سِنَانٍ الطَّائِيُّ بِمَنْبَجَ أَنْبَأَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ضَافَهُ ضَيْفٌ كَافِرٌ، فَأَمَرَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِشَاةٍ، فَشَرِبَ حِلَابَهَا، ثُمَّ أُخْرَى فَشَرِبَ حِلَابَهَا، حَتَّى شَرِبَ حِلَابَ سَبْعِ شِيَاهٍ، ثُمَّ إِنَّهُ أَصْبَحَ فَأَسْلَمَ، فَأَمَرَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِشَاةٍ، فَحُلِبَتْ فَشَرِبَ حِلَابَهَا، ثُمَّ أَمَرَ لَهُ بِأُخْرَى، فَلَمْ يَسْتَتِمَّهَا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ الْمُؤْمِنَ يَشْرَبُ فِي مِعًى وَاحِدٍ، وَالْكَافِرَ يَشْرَبُ فِي سَبْعَةِ أَمْعَاءٍ». [13: 3]
১৬২. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাসায় একজন কাফির ব্যক্তি মেহমান হলো। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার জন্য একটি ছাগীর দুধ দোহন করার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর সে তার দুধ পান করলো। তারপর তার জন্য আরেকটি ছাগীর দুধ দোহন করার নির্দেশ দিলেন। সে সেটারও দুধ পান করলো। এভাবে সে সাতটি ছাগীর দুধ পান করলো। তার পরদিন সকালে সে ব্যক্তি মুসলিম হয়ে গেলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার জন্য একটি ছাগীর দুধ দোহন করার নির্দেশ দিলেন। দুধ দোহন করা হলো। অতঃপর তিনি তার দুধ পান করলেন। তারপর তাঁর জন্য আরেকটি ছাগীর দুধ দোহন করার নির্দেশ দিলেন। কিন্তু তিনি সেই দুধ পান করে শেষ করতে পারলেন না। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’নিশ্চয়ই মুসলিম ব্যক্তি এক পেটে আহার করে আর কাফির ব্যক্তি সাত পেটে আহার করে।’[1]
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر ما قبله.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم.
163 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ قُتَيْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي السَّرِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَعْطَى رِجَالًا، وَلَمْ يُعْطِ رَجُلًا مِنْهُمْ شَيْئًا، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَعْطَيْتَ فُلَانًا وَفُلَانًا، وَلَمْ تُعْطِ فُلَانًا شَيْئًا وَهُوَ مُؤْمِنٌ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَوْ مُسْلِمٌ» قَالَهَا ثَلَاثًا قَالَ الزُّهْرِيُّ: نَرَى أَنَّ الْإِسْلَامَ الْكَلِمَةُ، وَالْإِيمَانَ الْعَمَلُ. [65: 3]
১৬৩. সা’দ বিন আবি ওয়াক্কাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বেশ কিছু লোককে দান করলেন কিন্তু তাদের মাঝে একজন ব্যক্তিকে কিছুই দিলেন না। তখন আমি বললাম: ’হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আপনি ওমুক, ওমুক ব্যক্তিকে দিলেন অথচ ওমুক ব্যক্তিকে কিছুই দিলেন না, অথচ সে ব্যক্তি মু’মিন।’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’(সে মু’মিন) নাকি মুসলিম?’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এটি তিনবার বললেন। ইমাম যুহরী রহিমাহুল্লাহ বলেন: ’’আমরা কালেমা মুখে পড়াকে ইসলাম মনে করি আর আমলকে ঈমান মনে করি।”[1]
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الإيمان» لابن أبي شيبة (ص 11 و 12)، «صحيح سنن أبي داود» (4683): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: حديث صحيح، رجاله رجال الشيخين غير ابن أبي السري، فإنه كثير الأوهام، وقد توبع.
164 - أَخْبَرَنَا ابْنُ قُتَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ مَوْهَبٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَطَاءَ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَدِيِّ بْنِ الْخِيَارِ، عَنِ الْمِقْدَادِ بْنِ الْأَسْوَدِ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ، أَنَّهُ قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَرَأَيْتَ إِنْ لَقِيتُ رَجُلًا مِنَ الْكُفَّارِ فَقَاتَلَنِي، فَضَرَبَ إِحْدَى يَدَيَّ بِالسَّيْفِ فَقَطَعَهَا، ثُمَّ لَاذَ مِنِّي بِشَجَرَةٍ وَقَالَ: أَسْلَمْتُ لِلَّهِ، أَفَأَقْتُلُهُ بَعْدَ أَنْ قَالَهَا؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَقْتُلْهُ»، قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّهُ قَدْ قَطَعَ يَدِي، ثُمَّ قَالَ ذَلِكَ بَعْدَ أَنْ قَطَعَهَا، أَفَأَقْتُلُهُ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَقْتُلْهُ، فَإِنْ قَتَلْتَهُ فَإِنَّهُ بِمَنْزِلَتِكَ قَبْلَ أَنْ تَقْتُلَهُ، وَأَنْتَ بِمَنْزِلَتِهِ قَبْلَ أَنْ يَقُولَ كَلِمَتَهُ الَّتِي قَالَ». [65: 3] [ص:382] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: قَوْلُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فَإِنْ قَتَلْتَهُ فَإِنَّهُ بِمَنْزِلَتِكَ قَبْلَ أَنْ تَقْتُلَهُ» يُرِيدُ بِهِ: أَنَّكَ تُقْتَلُ قَوَدًا، لِأَنَّهُ كَانَ قَبْلَ أَنْ أَسْلَمَ حَلَالَ الدَّمِ، وَإِذَا قَتَلْتَهُ بَعْدَ إِسْلَامِهِ صِرْتَ بِحَالَةٍ تُقْتَلُ مِثْلَهُ قَوَدًا بِهِ، لَا أَنَّ قَتْلَ الْمُسْلِمِ يُوجِبُ كُفْرًا يُخْرِجُ مِنَ الْمِلَّةِ، إِذِ اللَّهُ قَالَ: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِصَاصُ فِي الْقَتْلَى} [البقرة: 178].
১৬৪. মিকদাদ বিন আসওয়াদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ’হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, এই ব্যাপারে আপনার কী অভিমত, আমার যদি কোন কাফির ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ হয়, অতঃপর সে আমার সাথে লড়াইয়ে লিপ্ত হয় এবং তরবারী দিয়ে আমার এক হাতে আঘাত করে তা কেটে ফেলে দেয়, তারপর সে আমার থেকে বাঁচতে গাছের আড়ালে আশ্রয় নেয় এবং বলে, ’আমি আল্লাহর কাছে আত্নসমর্পণ করলাম’ এটা বলার পর আমি কি তাকে হত্যা করতে পারবো?’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’তুমি তাকে হত্যা করবে না।’ আমি বললাম, ’হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সে আমার হাত কেটে ফেলেছে, আমার হাত কাটার পর তারপর সে এমনটা বলেছে, আমি কি তাকে হত্যা করবো না?’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’তুমি তাকে হত্যা করবে না। যদি তুমি তাকে হত্যা করো, তবে তুমি তাকে হত্যা করার পূর্বে যে জায়গায় ছিলে, সে সেই জায়গায় পৌঁছে যাবে আর সে এই বাক্য বলার আগে যে জায়গায় ছিল, তুমি সেই জায়গায় পৌঁছে যাবে।’[1]
আবু হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ভাষ্য: ’তুমি তাকে হত্যা করবে না। যদি তুমি তাকে হত্যা করো, তবে তুমি তাকে হত্যা করার পূর্বে যে জায়গায় ছিলে, সে সেই জায়গায় পৌঁছে যাবে আর সে এই বাক্য বলার আগে যে জায়গায় ছিল, তুমি সেই জায়গায় পৌঁছে যাবে।’ –এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাহলে কিসাস স্বরুপ তোমাকে হত্যা করা হবে। কারণ ইসলাম গ্রহণ করার পর তার রক্ত বৈধ ছিল, যদি তুমি তাকে ইসলাম গ্রহণ করার পর হত্যা করো, তাহলে তুমি এমন অবস্থায় পরিণত হবে যে, কিসাস স্বরুপ তার মত তোমাকেও হত্যা করা হবে। হাদীসের উদ্দেশ্য এটা নয় যে, কোন মুসলিমকে হত্যা করা এমন কুফর যা মানুষকে ইসলাম থেকে বের করে দেয়। কারণ আল্লাহ বলেছেন: ’হে ঈমানদারগণ, নিহত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে তোমাদের উপর কিসাসকে ফরয করা হয়েছে।’ (সূরা আল বাকারা: ১৭৮।)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح سنن أبي داود» (2376): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح، ويزيد بن موهب: هو يزيد بن خالد بن يزيد بن موهب الرملي أبو خالد، ثقة، ومن فوقه على شرط الشيخين.
165 - أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ حَجَّاجٍ الصَّوَّافِ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ هِلَالِ بْنِ أَبِي مَيْمُونَةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ الْحَكَمِ السُّلَمِيِّ، قَالَ: كَانَتْ لِي غُنَيْمَةٌ تَرْعَاهَا جَارِيَةٌ لِي فِي قِبَلِ أُحُدٍ، وَالْجَوَّانِيَّةِ، فَاطَّلَعْتُ عَلَيْهَا ذَاتَ يَوْمٍ، وَقَدْ ذَهَبَ الذِّئْبُ مِنْهَا بِشَاةٍ، وَأَنَا مِنْ بَنِي آدَمَ آسَفُ كَمَا يَأْسَفُونَ، فَصَكَكْتُهَا صَكَّةً، فَعَظُمَ ذَلِكَ عَلَيَّ، فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ: أَفَلَا أَعْتِقُهَا؟ قَالَ: «ائْتِنِي بِهَا»، فَأَتَيْتُهُ بِهَا، فَقَالَ: «أَيْنَ اللَّهُ؟ » قَالَتْ: فِي السَّمَاءِ، قَالَ: «مَنْ أَنَا؟ » قَالَتْ: أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «أَعْتِقْهَا، فَإِنَّهَا مُؤْمِنَةٌ». [49: 3]
১৬৫. মু’আবিয়া বিন হাকাম আস সুলামী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ’আমার কিছু ছাগল ছিল, যা আমার এক দাসী উহুদ ও আল জাওওয়ানা নামক জায়গার দিকে চরাতো। একদিন আমি তার কাছে গিয়ে জানলাম যে, এক নেকড়ে আমার একটি ছাগল নিয়ে চলে গেছে। ফলে আদম সন্তান হিসেবে অন্যান্যদের মত আমারও আফসোস হলো। অতঃপর প্রচন্ডভাবে তাকে থাপ্পড় দিলাম। তারপর ব্যাপারটি আমার কাছে খুবই গুরুতর মনে হলো। ফলে আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে এসে বললাম: ’আমি কি তাকে মুক্ত করে দিব না?’ তিনি আমাকে বললেন: ’তুমি তাকে আমার কাছে নিয়ে আসো।’ অতঃপর আমি তাকে তার কাছে নিয়ে আসলাম। তিনি তাকে বললেন: ’আল্লাহ কোথায়?’ সে জবাবে বললো: ’আসমানে।’ তিনি বললেন: ’আমি কে?’ সে জবাবে বললো: ’আপনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।’ তখন তিনি বললেন: ’একে মুক্ত করে দাও, নিশ্চয়ই সে একজন মু’মিনা।’[1]
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (3161): م.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما، ابن أبي عدي: هو محمد بن إبراهيم.
166 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، حَدَّثَنَا سُهَيْلُ بْنُ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «الْإِيمَانُ بِضْعٌ وَسِتُّونَ شُعْبَةً، أَوْ بِضْعٌ وَسَبْعُونَ شُعْبَةً، فَأَرْفَعُهَا لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الْأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ، وَالْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الْإِيمَانِ». [1: 1] [ص:385] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: أَشَارَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي هَذَا الْخَبَرِ إِلَى الشَّيْءِ الَّذِي هُوَ فَرْضٌ عَلَى الْمُخَاطَبِينَ فِي جَمِيعِ الْأَحْوَالِ، فَجَعَلَهُ أَعْلَى الْإِيمَانِ، ثُمَّ أَشَارَ إِلَى الشَّيْءِ الَّذِي هُوَ نَفْلٌ لِلْمُخَاطَبِينَ فِي كُلِّ الْأَوْقَاتِ، فَجَعَلَهُ أَدْنَى الْإِيمَانِ، فَدَلَّ ذَلِكَ عَلَى أَنَّ كُلَّ شَيْءٍ فَرْضٌ عَلَى الْمُخَاطَبِينَ فِي كُلِّ الْأَحْوَالِ، وَكُلَّ شَيْءٍ فَرْضٌ عَلَى بَعْضِ الْمُخَاطَبِينَ فِي بَعْضِ الْأَحْوَالِ، وَكُلَّ شَيْءٍ هُوَ نَفْلٌ لِلْمُخَاطَبِينَ فِي كُلِّ الْأَحْوَالِ، كُلُّهُ مِنَ الْإِيمَانِ، [ص:386] وَأَمَّا الشَّكُّ فِي أَحَدِ الْعَدَدَيْنِ، فَهُوَ مِنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ فِي الْخَبَرِ، كَذَلِكَ قَالَهُ مَعْمَرٌ، عَنْ سُهَيْلٍ، وَقَدْ رَوَاهُ سُلَيْمَانُ بْنُ بِلَالٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ مَرْفُوعًا، وَقَالَ: «الْإِيمَانُ بِضْعٌ وَسِتُّونَ شُعْبَةً»، وَلَمْ يَشُكَّ، وَإِنَّمَا تَنَكَّبْنَا خَبَرَ سُلَيْمَانَ بْنِ بِلَالٍ فِي هَذَا الْمَوْضِعِ، وَاقْتَصَرْنَا عَلَى خَبَرِ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ لِنُبَيِّنَ أَنَّ الشَّكَّ فِي الْخَبَرِ لَيْسَ مِنْ كَلَامِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَإِنَّمَا هُوَ كَلَامُ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ كَمَا ذَكَرْنَاهُ
১৬৬. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ’ঈমানের ষাটের অধিক শাখা-প্রশাখা আছে অথবা (রাবীর সন্দেহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন) ঈমানের সত্তরেরও অধিক শাখা-প্রশাখা আছে। সর্বোচ্চ শাখা হলো ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’, সর্বনিম্ন শাখা রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক জিনিস অপসারণ করা। লজ্জাও ঈমানের একটি শাখা।’[1]
আবু হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন: “এই হাদীসে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুখাতাব (যাদের উপর শরীয়তের বিধি-বিধান আরোপিত হয়) ব্যক্তিদের উপর সর্বাবস্থায় ফরয এমন জিনিসের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন এবং সেটাকে ঈমানের সর্বোচ্চ শাখা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তারপর তিনি মুখাতাব ব্যক্তিদের উপর সর্বাবস্থায় নফল এমন জিনিসের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন এবং সেটাকে ঈমানের সর্বনিম্ন শাখা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। কাজেই এই হাদীস প্রমাণ করে যে, মুখাতাব ব্যক্তিদের উপর সর্বাবস্থায় ফরয, কিছু মুখাতাবের উপর কোন কোন সময় ফরয এবং মুখাতাব ব্যক্তিদের উপর সর্বাবস্থায় নফল- এসবই ঈমানের অন্তর্ভূক্ত বিষয়।
আর হাদীসে দুই সংখ্যার যে সংশয়, এই সংশয়টি এসেছে রাবী সুহাইল বিন আবী সালিহ এর পক্ষ থেকে। সুহাইল থেকে মা’মার এভাবেই (সন্দেহযুক্তভাবে) বর্ণনা করেছেন। অথচ হাদীসটি সুলাইমান বিন বিলাল আব্দুল্লাহ বিন দীনার থেকে তিনি আবু সালিহ থেকে মারফু’ সূত্রে বর্ণনা করেছেন, সেখানে বলা হয়েছে: ’ঈমানের ষাটের অধিক শাখা-প্রশাখা আছে।’ এখানে তিনি কোন সংশয় প্রকাশ করেননি। আমরা এখানে সুলাইমান বিন বিলালের হাদীস কাঁধে তুলে নিয়েছি আর সুহাইল বিন আবী সালিহ এর হাদীস সংক্ষেপে বর্ণনা করেছি এটা স্পষ্ট করে দেওয়ার জন্য যে, হাদীসে বর্ণিত সংশয়টি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে আসেনি বরং তা এসেছে সুহাইল বিন আবী সালিহ এর পক্ষ থেকে, যা আমরা ইতোমধ্যেই উল্লেখ করেছি।”
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (1769): ق، ولفظ: «سبعون» أصح.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم.
167 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو قُدَامَةَ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلَالٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «الْإِيمَانُ بِضْعٌ وَسِتُّونَ شُعْبَةً، وَالْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الْإِيمَانِ». [1: 1] [ص:387] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: اخْتَصَرَ سُلَيْمَانُ بْنُ بِلَالٍ هَذَا الْخَبَرَ، فَلَمْ يَذْكُرْ ذِكْرَ الْأَعْلَى وَالْأَدْنَى مِنَ الشُّعَبِ، وَاقْتَصَرَ عَلَى ذِكْرِ السِّتِّينَ دُونَ السَّبْعِينَ، وَالْخَبَرُ فِي بِضْعٍ وَسَبْعِينَ خَبَرٌ مُتَقَصًّى صَحِيحٌ لَا ارْتِيَابَ فِي ثُبُوتِهِ، وَخَبَرُ سُلَيْمَانَ بْنِ بِلَالٍ خَبَرٌ مُخْتَصَرٌ غَيْرُ مُتَقَصًّى، وَأَمَّا الْبِضْعُ، فَهُوَ اسْمٌ يَقَعُ عَلَى أَحَدِ أَجْزَاءِ الْأَعْدَادِ، لِأَنَّ الْحِسَابَ بِنَاؤُهُ عَلَى ثَلَاثَةِ أَشْيَاءَ: عَلَى الْأَعْدَادِ، وَالْفُصُولِ، وَالتَّرْكِيبِ، فَالْأَعْدَادُ مِنَ الْوَاحِدِ إِلَى التِّسْعَةِ، وَالْفُصُولُ هِيَ الْعَشَرَاتُ وَالْمِئُونُ وَالْأُلُوفُ، وَالتَّرْكِيبُ مَا عَدَا مَا ذَكَرْنَا، وَقَدْ تَتَبَّعْتُ مَعْنَى الْخَبَرِ مُدَّةً، وَذَلِكَ أَنَّ مَذْهَبَنَا أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَتَكَلَّمْ قَطُّ إِلَّا بِفَائِدَةٍ، وَلَا مِنْ سُنَنِهِ شَيْءٌ لَا يُعْلَمُ مَعْنَاهُ، فَجَعَلْتُ أَعُدُّ الطَّاعَاتِ مِنَ الْإِيمَانِ، فَإِذَا هِيَ تَزِيدُ عَلَى هَذَا الْعَدَدِ شَيْئًا كَثِيرًا، فَرَجَعْتُ إِلَى السُّنَنِ، فَعَدَدْتُ كُلَّ طَاعَةٍ عَدَّهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَ الْإِيمَانِ، فَإِذَا هِيَ تَنْقُصُ مِنَ الْبِضْعِ وَالسَّبْعِينَ، فَرَجَعْتُ إِلَى مَا بَيْنَ الدَّفَّتَيْنِ مِنْ كَلَامِ رَبِّنَا، وَتَلَوْتُهُ آيَةً آيَةً بِالتَّدَبُّرِ، وَعَدَدْتُ كُلَّ طَاعَةٍ عَدَّهَا اللَّهُ جَلَّ وَعَلَا مِنَ الْإِيمَانِ، فَإِذَا هِيَ تَنْقُصُ عَنِ الْبِضْعِ وَالسَّبْعِينَ، فَضَمَمْتُ الْكِتَابَ إِلَى السُّنَنِ، وَأَسْقَطْتُ الْمُعَادَ مِنْهَا، فَإِذَا كُلُّ شَيْءٍ عَدَّهُ اللَّهُ جَلَّ وَعَلَا مِنَ الْإِيمَانِ فِي كِتَابِهِ، وَكُلُّ طَاعَةٍ جَعَلَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَ الْإِيمَانِ فِي سُنَنِهِ تِسْعٌ وَسَبْعُونَ شُعْبَةً لَا يَزِيدُ عَلَيْهَا وَلَا يَنْقُصُ مِنْهَا شَيْءٌ، فَعَلِمْتُ أَنَّ مُرَادَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ فِي الْخَبَرِ أَنَّ الْإِيمَانَ بِضْعٌ وَسَبْعُونَ شُعْبَةً فِي الْكِتَابِ وَالسُّنَنِ، فَذَكَرْتُ هَذِهِ الْمَسْأَلَةَ [ص:388] بِكَمَالِهَا بِذِكْرِ شُعْبَةَ فِي كِتَابِ «وَصْفُ الْإِيمَانِ وَشُعَبِهِ» بِمَا أَرْجُو أَنَّ فِيهَا الْغَنِيَّةَ لِلْمُتَأَمِّلِ إِذَا تَأَمَّلَهَا، فَأَغْنَى ذَلِكَ عَنْ تِكْرَارهَا فِي هَذَا الْكِتَابِ، وَالدَّلِيلُ عَلَى أَنَّ الْإِيمَانَ أَجْزَاءٌ بِشُعَبٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فِي خَبَرِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ: «الْإِيمَانُ بِضْعٌ وَسَبْعُونَ شُعْبَةً: أَعْلَاهَا شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ»، فَذَكَرَ جُزْءًا مِنْ أَجْزَاءِ شُعَبِهِ، هِيَ كُلُّهَا فَرْضٌ عَلَى الْمُخَاطَبِينَ فِي جَمِيعِ الْأَحْوَالِ، لِأَنَّهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَقُلْ: وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ، وَالْإِيمَانُ بِمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْجَنَّةِ وَالنَّارِ وَمَا يُشْبِهُ هَذَا مِنْ أَجْزَاءِ هَذِهِ الشُّعْبَةِ، وَاقْتَصَرَ عَلَى ذِكْرِ جُزْءٍ وَاحِدٍ مِنْهَا، حَيْثُ قَالَ: «أَعْلَاهَا شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ»، فَدَلَّ هَذَا عَلَى أَنَّ سَائِرَ الْأَجْزَاءِ مِنْ هَذِهِ الشُّعْبَةِ كُلُّهَا مِنَ الْإِيمَانِ، ثُمَّ عَطَفَ فَقَالَ: «وَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الْأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ»، فَذَكَرَ جُزْءًا مِنْ أَجْزَاءِ شُعَبِهِ هِيَ نَفْلٌ كُلُّهَا لِلْمُخَاطَبِينَ فِي كُلِّ الْأَوْقَاتِ، فَدَلَّ ذَلِكَ عَلَى أَنَّ سَائِرَ الْأَجْزَاءِ الَّتِي هِيَ مِنْ هَذِهِ الشُّعْبَةِ وَكُلَّ جُزْءٍ مِنْ أَجْزَاءِ الشُّعَبِ الَّتِي هِيَ مِنْ بَيْنِ الْجُزْأَيْنِ الْمَذْكُورَيْنِ فِي هَذَا الْخَبَرِ اللَّذَيْنِ هُمَا مِنْ [ص:389] أَعْلَى الْإِيمَانِ وَأَدْنَاهُ كُلُّهُ مِنَ الْإِيمَانِ، وَأَمَّا قَوْلُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الْإِيمَانِ»، فَهُوَ لَفْظَةٌ أُطْلِقَتْ عَلَى شَيْءٍ بِكِنَايَةِ سَبَبِهِ، وَذَلِكَ أَنَّ الْحَيَاءَ جِبِلَّةٌ فِي الْإِنْسَانِ، فَمِنَ النَّاسِ مَنْ يُكْثِرُ فِيهِ، وَمِنْهُمْ مَنْ يَقِلُّ ذَلِكَ فِيهِ، وَهَذَا دَلِيلٌ صَحِيحٌ عَلَى زِيَادَةِ الْإِيمَانِ وَنُقْصَانِهِ، لِأَنَّ النَّاسَ لَيْسُوا كُلُّهُمْ عَلَى مَرْتَبَةٍ وَاحِدَةٍ فِي الْحَيَاءِ، فَلَمَّا اسْتَحَالَ اسْتِوَاؤُهُمْ عَلَى مَرْتَبَةٍ وَاحِدَةٍ فِيهِ، صَحَّ أَنَّ مَنْ وُجِدَ فِيهِ أَكْثَرُ، كَانَ إِيمَانُهُ أَزِيدَ، وَمَنْ وُجِدَ فِيهِ مِنْهُ أَقَلُّ، كَانَ إِيمَانُهُ أَنْقَصَ، وَالْحَيَاءُ فِي نَفْسِهِ: هُوَ الشَّيْءُ الْحَائِلُ بَيْنَ الْمَرْءِ وَبَيْنَ مَا يُبَاعِدُهُ مِنْ رَبِّهِ مِنَ الْمَحْظُورَاتِ، فَكَأَنَّهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَعَلَ تَرْكَ الْمَحْظُورَاتِ شُعْبَةً مِنَ الْإِيمَانِ بِإِطْلَاقِ اسْمِ الْحَيَاءِ عَلَيْهِ، عَلَى مَا ذَكَرْنَاهُ.
১৬৭. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ’’ঈমানের ষাটের অধিক শাখা-প্রশাখা। লজ্জাও ঈমানের একটি শাখা।’[1]
আবু হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন: “সুলাইমান বিন বিলাল হাদীসটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন। তিনি ঈমানের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন শাখা উল্লেখ করেননি এবং সত্তরটি উল্লেখ না করে ষাটটি উল্লেখের উপর ক্ষ্যান্ত থেকেছেন। সত্তরেরও বেশি শাখা-প্রশাখা বিশিষ্ট হাদীসটি বিস্তারিত ও সহীহ, সেটি বিশুদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। সুলাইমান বিন বিলালের হাদীসটি সংক্ষিপ্ত, বিস্তারিত নয়।
আরবি الْبِضْعُ (৩-৯ পর্যন্ত সংখ্যা) শব্দটি একক যে কোন সংখ্যার উপর ব্যবহৃত হয়। কেননা সংখ্যার গণনা তিনটি জিনিসের উপর প্রতিষ্ঠিত; একক সংখ্যা, ফুসূল (দশক, শতক ও সহস্রবোধক শব্দ) এবং যৌগিক সংখ্যা। একক সংখ্যা হলো ১-৯ পর্যন্ত, ফুসূল হলো দশক, শতক ও সহস্রবোধক শব্দ আর বাকীগুলো যৌগিক সংখ্যা।
আমি হাদীসটির অর্থ একটা দীর্ঘ সময় অনুসন্ধান করেছি। কারণ আমাদের অভিমত হলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফায়দা বিহীন কোন কথা বলেননি। আর হাদীসেও এমন কোন কিছু নেই যার অর্থ জানা যায় না। ফলে আমি সৎকাজগুলোকে ঈমানের অন্তর্ভূক্ত ধরে গণনা করতে থাকি, অতঃপর দেখি যে, তার এই সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি হয়। অতঃপর আমি হাদীসে ফিরে যাই এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেসব আমলকে ঈমানের পর্যায়ভুক্ত হিসেবে গণ্য করেছেন, দেখি সেগুলো সত্তরের কম হয়। তারপর আমি দুই খন্ডে সংরক্ষিত আল্লাহর কিতাবের দিকে ফিরে গেলাম এবং তিনি তাঁর কিতাবে যেসব আমলকে ঈমান হিসেবে গণ্য করেছেন, দেখলাম সেগুলি সত্তরের কম হয়। তারপর হাদীসের সংখ্যার সাথে কুরআনের সংখ্যা যোগ করলাম এবং পুনরুক্ত বিষয়গুলো বাদ দিলাম, ফলে আমি দেখলাম যে, যেসব আমলকে মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে ঈমানের অন্তর্ভূক্ত করেছেন এবং যেসব আমলকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদীসে ঈমানের অন্তর্ভূক্ত করেছেন, সেগুলি ৭৯ টি; একটিও কম-বেশি নেই। ফলে আমি জানলাম যে, হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উদ্দেশ্য হলো কুরআন ও হাদীসে ঈমানের শাখা সত্তরের অধিক।
অতঃপর ঈমানের প্রত্যেকটি শাখার আলোচনা وَصْفُ الْإِيمَانِ وَشُعَبِهِ (ঈমান ও তার শাখা-প্রশাখার বিবরণ) নামক কিতাবে পরিপূর্ণভাবে উল্লেখ করেছি। আমি আশা করি, চিন্তাশীল মানুষের জন্য সেটিই যথেষ্ট, যদি তিনি সেটা চিন্তা-গবেষণা করেন। আর এজন্য আমরা সে সম্পর্কে আলোচনা এখানে পুনারাবৃত্তি করছি না। ঈমান বিভিন্ন শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত এই মর্মে দলীল হলো আব্দুল্লাহ বিন দীনার বর্ণিত হাদীসে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ’ঈমানের সত্তরেরও অধিক শাখা-প্রশাখা আছে। সর্বোচ্চ শাখা হলো ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এখানে তিনি ঈমানের শাখাসমূহের মাঝে একটি শাখার একাংশের কথা বলেছেন, যে শাখার পুরোটা মুখাতাব ব্যক্তিদের উপর সর্বাবস্থায় ফরয। কারণ এখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেননি যে, ’আমি আল্লাহর রাসূল।’ ফেরেস্তা, আসমানী কিতাবসমূহ, রাসূলগণ, জান্নাত, জাহান্নাম প্রভৃতির প্রতি ঈমান এই শাখার অন্তর্ভূক্ত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এখানে একটি শাখার একাংশ উল্লেখ করে বলেছেন: ’সর্বোচ্চ শাখা হলো ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’। কাজেই এটি প্রমাণ করে যে, এই শাখার অন্যান্য বাকী অংশগুলোও ঈমানের অন্তর্ভূক্ত। এরপর তিনি আতফ করে (পূর্বের বাক্যের সাথে যোগ করে) বলেছেন: ’সর্বনিম্ন হলো: রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক জিনিস অপসারণ করা।’ এখানে তিনি ঈমানের শাখাসমূহের একটির অংশ উল্লেখ করেছেন, যার সম্পূর্ণটাই মুখাতাব ব্যক্তিদের উপর সর্বাবস্থায় নফল। কাজেই এটি প্রমাণ করে যে, এই শাখার অন্যান্য অংশসমূহ এবং ঈমানের শাখাসমূহের মধ্য হতে হাদীসে উল্লেখিত সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন দুটি অংশ- সবই ঈমানের অন্তর্ভূক্ত।
অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ভাষ্য: ’লজ্জাও ঈমানের একটি শাখা।’ এখানে الْحَيَاءُ শব্দটি একটি জিনিসের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে, তার উপকরণের প্রতি ইঙ্গিত করে। কারণ الْحَيَاءُ মানুষের মাঝে একটি প্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্য যা কিছু মানুষের মাঝে বেশি পরিমাণে থাকে আবার কিছু মানুষের মাঝে তা অল্প পরিমাণে থাকে। কাজেই ঈমানের হ্রাস-বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এটি একটি বিশুদ্ধ দলীল। কারণ লজ্জার ক্ষেত্রে একই পর্যায়ভূক্ত নয়। কাজেই লজ্জার ক্ষেত্রে যখন মানুষ একই পর্যায়ভূক্ত হওয়া সম্ভব নয়, সুতরাং এটি সঠিক কথা যে, যার মধ্যে লজ্জা তুলনামূলকভাবে অধিক পরিমাণে পাওয়া যাবে, তার ঈমানও তুলনামূলকভাবে বেশি হবে আর যার মধ্যে লজ্জা তুলনামূলকভাবে কম পরিমাণে পাওয়া যাবে, তার ঈমানও তুলনামূলকভাবে কম হবে। আর মানুষ ও যেসব নিষিদ্ধ জিনিস মানুষকে তার প্রভু থেকে দূরে ঠেলে দেয়- উভয়ের মাঝে অন্তরায় সৃষ্টিকারী সেসব জিনিসই হলো সত্তাগতভাবে الْحَيَاءُ বা লজ্জা। কাজেই লজ্জাকে ঈমানের শাখার ক্ষেত্রে ব্যবহার করে যেন তিনি নিষিদ্ধ জিনিস বর্জন করাকেই ঈমানের শাখা হিসেবে গণ্য করেছেন, যা আমরা আলোচনা করলাম।”
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق - انظر ما قبله.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين.
168 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمِنْهَالِ الضَّرِيرُ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ حَدَّثَنَا كَهْمَسُ بْنُ الْحَسَنِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ، قَالَ: خَرَجْتُ أَنَا وَحُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحِمْيَرِيُّ حَاجَّيْنِ أَوْ مُعْتَمِرَيْنِ، وَقُلْنَا: لَعَلَّنَا لَقِينَا رَجُلًا مِنْ أَصْحَابِ [ص:390] مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَنَسْأَلَهُ عَنِ الْقَدَرِ، فَلَقِيَنَا ابْنَ عُمَرَ، فَظَنَنْتُ أَنَّهُ يَكِلُ الْكَلَامَ إِلَيَّ، فَقُلْنَا: يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَدْ ظَهَرَ عِنْدَنَا أُنَاسٌ يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ يَتَقَفَّرُونَ الْعِلْمَ تَقَفُّرًا، يَزْعُمُونَ أَنْ لَا قَدَرَ، وَأَنَّ الْأَمْرَ أُنُفٌ، قَالَ: فَإِنْ لَقِيتَهُمْ، فَأَعْلِمْهُمْ أَنِّي مِنْهُمْ بَرِيءٌ، وَهُمْ مِنِّي بُرَآءُ، وَالَّذِي يَحْلِفُ بِهِ ابْنُ عُمَرَ: لَوْ أَنَّ أَحَدَهُمْ أَنْفَقَ مِثْلَ أُحُدٍ ذَهَبًا، ثُمَّ لَمْ يُؤْمِنْ بِالْقَدَرِ لَمْ يُقْبَلْ مِنْهُ، ثُمَّ قَالَ: حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: بَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ يَوْمٍ جَالِسًا، إِذْ جَاءَ شَدِيدُ سَوَادِ اللِّحْيَةِ، شَدِيدُ بَيَاضِ الثِّيَابِ، فَوَضَعَ رُكْبَتَهُ عَلَى رُكْبَةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ، مَا الْإِسْلَامُ؟ قَالَ: «شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَإِقَامُ الصَّلَاةِ، وَإِيتَاءُ الزَّكَاةِ، وَصَوْمُ رَمَضَانَ، وَحَجُّ الْبَيْتِ»، قَالَ: صَدَقْتَ، فَعَجِبْنَا مِنْ سُؤَالِهِ إِيَّاهُ، وَتَصْدِيقِهِ إِيَّاهُ، قَالَ: فَأَخْبِرْنِي: مَا الْإِيمَانُ؟ قَالَ: «أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ رُسُلِهِ، وَالْبَعْثِ بَعْدَ الْمَوْتِ، وَالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ حُلْوِهِ وَمُرِّهِ»، قَالَ: صَدَقْتَ، قَالَ: فَعَجِبْنَا مِنْ سُؤَالِهِ إِيَّاهُ، [ص:391] وَتَصْدِيقِهِ إِيَّاهُ، قَالَ: فَأَخْبِرْنِي: مَا الْإِحْسَانُ؟ قَالَ: «أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ، فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ»، قَالَ: فَأَخْبِرْنِي مَتَى السَّاعَةُ؟ قَالَ: «مَا الْمَسْؤُولُ بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ»، قَالَ: فَمَا أَمَارَتُهَا؟ قَالَ: «أَنْ تَلِدَ الْأَمَةُ رَبَّتَهَا، وَأَنْ تَرَى الْحُفَاةَ الْعُرَاةَ رِعَاءَ الشَّاءِ يَتَطَاوَلُونَ فِي الْبُنْيَانِ»، قَالَ: فَتَوَلَّى وَذَهَبَ، فَقَالَ عُمَرُ: فَلَقِيَنِي النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعْدَ ثَالِثَةٍ، فَقَالَ: «يَا عُمَرُ، أَتَدْرِي مَنِ الرَّجُلُ؟ » قُلْتُ: لَا، قَالَ: «ذَاكَ جِبْرِيلُ أَتَاكُمْ يُعَلِّمُكُمْ دِينَكُمْ». [30: 3]
১৬৮. ইয়াহইয়া বিন ইয়ামার রহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি ও হুমাইদ বিন আব্দুর রহমান আল হিমইয়ারী হজ্জ অথবা উমরার উদ্দেশ্যে বের হলাম। আমরা বললাম যে, হতে পারে আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কোন সাহাবীর সাক্ষাৎ পাবো, (যদি সাক্ষাৎ পাই) তাহলে আমরা তাঁকে ভাগ্য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবো। অতঃপর আমরা আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমার সাক্ষাৎ পেয়ে গেলাম। আমার মনে পড়ে যে, আমার সঙ্গী আমাকে কথা বলার দায়িত্ব দেন। ফলে আমরা তাঁকে বললাম: ’হে আবু আব্দুর রহমান (এটি আব্দুল্লাহ বিন উমারের উপনাম), আমাদের মাঝে একদল লোকের আবির্ভাব হয়েছে, যার কুরআন পাঠ করে, ইলমও অর্জন করে- তারা বলে যে, ’ভাগ্য বলতে কিছু নেই। নিশ্চয়ই সবকিছু তাৎক্ষণিকভাবেই ঘটে।’ তখন আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমার বলেন: ’যদি তুমি তাদের সাক্ষাৎ পাও, তবে তাদেরকে জানিয়ে দিয়ো যে, আমি তাদের থেকে সম্পূর্ণরুপে মুক্ত, আর তারাও আমার থেকে মুক্ত। আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা শপথ করে বলেন: ’যদি তাদের কেউ উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ দান করে আর ভাগ্যের প্রতি ঈমান আনয়ন না করে, তবে তাদের সে দান কখনই গ্রহন করা হবে না।’ তারপর তিনি বলেন:
’আমাকে উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন যে, ’একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের মাঝে বসে ছিলেন। এমন সময় অত্যন্ত কালো দাড়ি ও ধবধবে সাদা পোশাক বিশিষ্ট্য একজন ব্যক্তি আসলেন। তিনি তাঁর হাঁটু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাঁটুর সাথে লাগালেন। অতঃপর বললেন: ’হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ইসলাম কী?’ জবাবে তিনি বললেন: “এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই, সালাত প্রতিষ্ঠা করা, যাকাত প্রদান করা, রমযানের সিয়াম পালন করা এবং বায়তুল্লাহর হজ্জ করা।’ তিনি বললেন: ’আপনি ঠিকই বলেছেন।’ ফলে আমরা অবাক হলাম যে, তিনি নিজেই প্রশ্ন করছেন আবার নিজেই উত্তর সত্যায়িত করছেন। তিনি বললেন: ’আমাকে বলুন, ঈমান কী?’ জবাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’ঈমান হলো তুমি আল্লাহ, তাঁর ফেরেস্তা, তাঁর কিতাব, তাঁর রাসূলগণ, মৃত্যুর পর পুনরুত্থান, ভাগ্যের ভাল-মন্দ, তিক্ততা-মিষ্টতা প্রভৃতির প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা।’ তিনি বললেন: ’আপনি ঠিকই বলেছেন।’ ফলে আমরা অবাক হলাম যে, তিনি নিজেই প্রশ্ন করছেন আবার নিজেই উত্তর সত্যায়িত করছেন। তিনি বললেন: ’আমাকে বলুন, ইহসান কী?’ জবাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’ইহসান হলো তুমি এমনভাবে ইবাদত করবে যে, যেন তুমি তাঁকে দেখতে পাচ্ছো। যদি তুমি তাকে দেখতে না পাও তবে (মনে করবে যে) নিশ্চয়ই তিনি তোমাকে দেখতে পাচ্ছেন।’ তিনি আবারো বললেন: ’আমাকে বলুন, কিয়ামত কখন সংঘটিত হবে?’ তিনি বলেন: ’এই ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি জিজ্ঞেসকারীর চেয়ে বেশি অবগত নন। তিনি বললেন: ’তাহলে তার আলামত কী।’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: কিয়ামতের আলামত হলো তুমি দাসীকে দেখবে তার মুনীবকে প্রসব করতে, দেখবে বিবস্ত্র, নগ্নপদ, ছাগলের রাখালদের প্রাসাদ নিয়ে গর্ব করতে। তারপর লোকটি চলে যায়। উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: ’এর তিনদিন পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হলে তিনি আমাকে বলেন: ’হে উমার, তুমি কি জানো সেই লোকটি কে ছিল?’ আমি বললাম: ’জ্বী, না।’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’উনি জিবরীল আলাইহিস সালাম, তিনি এসেছিলেন,আপনাদেরকে দ্বীন শিক্ষা দেওয়ার জন্য।’[1]
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «ابن ماجه» (63)، «الصحيحة» (2903): م.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين.
169 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ زُهَيْرٍ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ بِسْطَامٍ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْأَعْمَشِ، وَحَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، وَعَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ رُفَيْعٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، دَخَلَ الْجَنَّةَ» فَقُلْتُ: وَإِنْ زَنَى، وَإِنْ سَرَقَ؟ قَالَ: «وَإِنْ زَنَى، وَإِنْ سَرَقَ». [26: 3]
১৬৯. আবু যার আল গিফারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ’যে ব্যক্তি ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ আমি বললাম: ’যদি সে ব্যভিচার করে, যদি সে চুরি করে?’ তিনি জবাবে বলেন: ’যদিও সে ব্যভিচার করে, যদিও সে চুরি করে।’[1]
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (826): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح. إبراهيم بن بسطام: ترجمه المؤلف في «الثقات» 8/ 85، فقال: إبراهيم بن بسطام الأُبُلي، يروي عن البصريين، مات بعد سنة خمسين ومئتين، حدثنا عنه أحمد بن يحيى بن زهير وغيره، وباقي رجال السند ثقات.
170 - أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ الْقَطَّانُ، بِالرَّقَّةِ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ، قَالَ: أَشْهَدُ لَسَمِعْتُ أَبَا ذَرٍّ، بِالرَّبَذَةِ، يَقُولُ: كُنْتُ أَمْشِي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِحَرَّةِ الْمَدِينَةِ فَاسْتَقْبَلَنَا أُحُدٌ، فَقَالَ: «يَا أَبَا ذَرٍّ، مَا يَسُرُّنِي أَنَّ أُحُدًا لِي ذَهَبًا أُمْسِي وَعِنْدِي مِنْهُ دِينَارٌ إِلَّا أَصْرِفُهُ لِدَيْنٍ»، ثُمَّ مَشَى، وَمَشَيْتُ مَعَهُ، فَقَالَ: «يَا أَبَا ذَرٍّ»، قُلْتُ: لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَسَعْدَيْكَ، فَقَالَ: «إِنَّ الْأَكْثَرِينَ هُمُ الْأَقَلُّونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ»، ثُمَّ قَالَ: «يَا أَبَا ذَرٍّ، لَا تَبْرَحْ حَتَّى آتِيَكَ»، ثُمَّ انْطَلَقَ حَتَّى تَوَارَى، فَسَمِعْتُ صَوْتًا فَقُلْتُ: أَنْطَلِقُ، ثُمَّ ذَكَرْتُ قَوْلَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِي فَلَبِثْتُ حَتَّى جَاءَ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنِّي سَمِعْتُ صَوْتًا فَأَرَدْتُ أَنْ أُدْرِكَكَ*، فَذَكَرْتُ قَوْلَكَ لِي، فَقَالَ: «ذَلِكَ جِبْرِيلُ أَتَانِي فَأَخْبَرَنِي أَنَّهُ: مَنْ مَاتَ مِنْ أُمَّتِي لَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ»، قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَإِنْ زَنَى، وَإِنْ سَرَقَ؟ قَالَ: «وَإِنْ زَنَى، وَإِنْ سَرَقَ» [ص:395] أَخْبَرْنَاهُ الْقَطَّانُ فِي عَقِبِهِ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَهُ. [26: 3]
رقم طبعة با وزير = (170) و (170/*)
১৭০. যাইদ বিন ওয়াহাব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ’আমি সাক্ষ্য দিয়ে বলছি যে, অবশ্যই আমি রাবাযাহ নামক জায়গায় আবু যার আল গিফারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর কাছে শুনেছি। তিনি বলেছেন: ’আমি একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে মদীনার কঙ্করময় এলাকা দিয়ে হাঁটছিলাম। আমাদের সামনে উহুদ পাহাড় পড়লো, অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ’হে আবু যার, আমার মোটেও পছন্দ নয় যে, উহুদ পাহাড় আমার জন্য সোনায় পরিণত হয়ে তার একটি দীনারও সন্ধা পর্যন্ত আমার কাছে থাকুক। তবে সেটা ব্যতিত যা আমি ঋণ পরিশোধ করার জন্য রাখি।’ তারপর তিনি চলতে লাগলেন আমিও তাঁর সাথে চললাম। তারপর তিনি বললেন: ’হে আবু যার!’ আমি বললাম: ’আমি আপনার এবং আপনার সন্তুষ্টির কাছে সদাপ্রস্তুত! তিনি বললেন: ’(দুনিয়াতে ধন-সম্পদের দিক দিয়ে) আধিক্যতা লাভকারীরা কিয়ামতের দিন (সাওয়াব প্রাপ্তির দিক দিয়ে) স্বল্প লাভকারী হবে।’ তারপর তিনি বললেন: ’হে আবু যার, আমি তোমার কাছে ফিরে না আসা পর্যন্ত তুমি এখানেই থাকো।’ এরপর তিনি চলতে লাগলেন এমনকি তিনি অদৃশ্য হয়ে গেলেন। অতঃপর আমি একটি আওয়াজ শুনতে পেলাম। আমি মনে মনে বললাম: ’আমিও চলি।’ তারপরেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কথা মনে পড়লো। ফলে তিনি না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করলাম। এরপর তিনি আসলে আমি বললাম: ’হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমি একটি আওয়াজ শুনতে পেয়েছিলাম, ফলে আমি আপনার কাছে যাওয়ার ইচ্ছা করি কিন্তু পরক্ষণেই আপনার কথা মনে হয়।’ তিনি বলেন: ’উনি জিবরীল, আমার কাছে এসেছিলেন। তিনি আমাকে বলেছেন: ’আমার উম্মতের মাঝে যে ব্যক্তি মারা যাবে এমতাবস্থায় যে, সে আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করেনি, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আমি বললাম: ’যদি সে ব্যভিচার করে, যদি সে চুরি করে?’ তিনি জবাবে বললেন: ’যদিও সে ব্যভিচার করে, যদিও সে চুরি করে।’[1]
উপরোক্ত হাদীসটি আবু দারদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকেও বর্ণিত হয়েছে।[2]
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: [تنبيه!! ] هذا الحديث فصله الشيخ الألباني جزئين لوجود إسنادين به. الجزء الأول: 170 - أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ ... «وَإِنْ زَنَى، وَإِنْ سَرَقَ» وقال عن هذا الجزء: صحيح - المصدر نفسه، «تخريج فقه السيرة» (446): ق. الجزء الثاني: [170/*] أَخْبَرْنَاهُ الْقَطَّانُ فِي عَقِبِهِ، حَدَّثَنَا ... عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَهُ. وقال عن هذا الجزء: لم يحكم الشيخ على هذا الجزء. [تنبيه آخر] في «طبعة باوزير» «آتِيَكَ» بدلا من «أُدْرِكَكَ» وكتب الشيخ تعليق على هذه اللفظه فقال: [في الأصل «أتركك»]. - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [تنبيه!! ] هذا الحديث حكم عليه الشيخ شعيب بحكمين لوجود إسنادين به. الإسناد الأول: أخبرنا الحسين بن عبد الله بن يزيد القطان، بالرقة، ... وإن زنى، وإن سرق». الأسناد الثاني: أخبرناه القطان في عقبه، حدثنا هشام بن عمار ... بمثله. وفي كِلا الموضعين قال الشيخ: إسناده صحيح على شرط البخاري. - مدخل بيانات الشاملة -.
171 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الْأَحْمَرُ، عَنْ أَبِي مَالِكٍ الْأَشْجَعِيِّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي، يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: «مَنْ وَحَّدَ اللَّهَ وَكَفَرَ بِمَا يُعْبَدُ مِنْ دُونِهِ، حَرُمَ مَالُهُ وَدَمُهُ، وَحِسَابُهُ عَلَى اللَّهِ». [26: 3]
১৭১. আবু মালিক আল আশজা’য়ী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাঁর বাবা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: ’যে ব্যক্তি আল্লাহকে এক বলে জানবে, তাঁকে ছাড়া যা কিছুর উপাসনা করা হয়, সেসবকে অস্বীকার করবে, তার জান-মাল (অন্য মুসলিমদের জন্য) হারাম হয়ে যাবে। আর তার হিসাব আল্লাহর উপর বর্তাবে।’[1]
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (428): م.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم، أبو خالد الأحمر: هو سليمان بن حيان، وأبو مالك الأشجعي: هو سعد بن طارق.