সহীহ ইবনু হিব্বান
1861 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا حِبَّانُ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ: «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا افْتَتَحَ الصَّلَاةَ، رَفَعَ يَدَيْهِ حَذْوَ مَنْكِبَيْهِ، وَإِذَا كَبَّرَ لِلرُّكُوعِ، وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ رَفَعَهُمَا كَذَلِكَ أَيْضًا، وَقَالَ: سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ، رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ، وَكَانَ لَا يَفْعَلُ ذَلِكَ فِي السُّجُودِ». [1: 21]
رقم طبعة با وزير = (1858)
আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সালাতের সূচনা করতেন, তখন কাঁধ বরাবর রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন। যখন তিনি রুকূ‘র জন্য তাকবীর দিতেন এবং রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করতেন, তখনও অনুরুপভাবে রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন, এবং বলতেন, سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ (আল্লাহ শ্রবণ করেন, যে তাঁর প্রশংসা করে। হে আমাদের প্রভু, আর আপনার জন্য সমস্ত প্রশংসা), আর তিনি সাজদা করার সময় এরকম (রফ‘উল ইয়াদাইন) করতেন না।”[1]
[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/৭৫; সহীহ আল বুখারী: ৭৩৫; আবূ দাঊদ: ৭৪২; নাসাঈ: ২/১২২; দারেমী: ১/২৮৫; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/২২৩; সুনান বাইহাকী: ২/৬৯; বাগাবী: ৫৫৯; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ২৫১৮; সহহি মুসলিম: ৩৯০; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৪৫৬; মুসনাদ ইমাম শাফে‘ঈ: ১/৭০; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/২৩৪; ইবনুল জারূদ: ১৭৮; বাগাবী: ৫৬১। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৭১২)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (712): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما.
1862 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَجَّاجِ السَّامِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جُحَادَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ، قَالَ: كُنْتُ غُلَامًا لَا أَعْقِلُ صَلَاةَ أَبِي فَحَدَّثَنِي وَائِلُ بْنُ عَلْقَمَةَ، عَنْ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ، قَالَ: «صَلَّيْتُ خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: فَكَانَ إِذَا دَخَلَ فِي الصَّفِّ* رَفَعَ يَدَيْهِ وَكَبَّرَ، ثُمَّ الْتَحَفَ فَأَدْخَلَ يَدَهُ فِي ثَوْبِهِ، فَأَخَذَ شِمَالَهُ بِيَمِينِهِ، فَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَرْكَعَ أَخْرَجَ يَدَيْهِ وَرَفَعَهُمَا، وَكَبَّرَ، ثُمَّ رَكَعَ، فَإِذَا رَفَعَ [ص:174] رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ، رَفَعَ يَدَيْهِ، فَكَبَّرَ، فَسَجَدَ، ثُمَّ وَضَعَ وَجْهَهُ بَيْنَ كَفَّيْهِ» قَالَ ابْنُ جُحَادَةَ: فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِلْحَسَنِ بْنِ أَبِي الْحَسَنِ، فَقَالَ: «هِيَ صَلَاةُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَعَلَهُ مَنْ فَعَلَهُ، وَتَرَكَهُ مَنْ تَرَكَهُ». [5: 4]
رقم طبعة با وزير = (1859) [ص:175] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «مُحَمَّدُ بْنُ جُحَادَةَ مِنَ الثِّقَاتِ الْمُتْقِنِينَ وَأَهْلُ الْفَضْلِ فِي الدِّينِ، إِلَّا أَنَّهُ وَهِمَ فِي اسْمِ هَذَا الرَّجُلِ، إِذِ الْجَوَادُ يَعْثُرُ فَقَالَ: وَائِلُ بْنُ عَلْقَمَةَ، [ص:176] وَإِنَّمَا هُوَ عَلْقَمَةُ بْنُ وَائِلٍ»
ওয়াইল বিন হুজর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পিছনে সালাত আদায় করেছি, তিনি যখন সালাতের কাতারে প্রবেশ করতেন, তখন রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন এবং তাকবীর দিতেন অতঃপর কাপড় শরীরে জড়িয়ে নিতেন। তিনি তাঁর হাতকে কাপড়ে ঢুকিয়ে নিতেন এবং ডান হাত দিয়ে বাম হাতকে ধরতেন।অতঃপর যখন রুকূ‘ করার ইচ্ছা করতেন, তখন তখন তিনি তাঁর হাত বের করে রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন এবং তাকবীর দিতেন। তারপর তিনি রুকূ‘ করতেন। অতঃপর যখন তিনি রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করতেন, তখন তিনি রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন এবং তাকবীর দিতেন। অতঃপর তিনি তাঁর কপালকে দুই হাতের তালুর মাঝে রাখতেন এবং সাজদা করতেন ।” ইবনু জুহাদাহ বলেন, “অতঃপর আমি হাদীসটি হাসান বিন আবুল হাসানকে বললে তিনি বলেন, “এটিই ছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাত। যে এমনটা করার করছে আর যে ছাড়ার তা ছেড়ে দিয়েছে!” আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “মুহাম্মাদ বিন জুহাদাহ একজন নির্ভরযোগ্য মজবূত রাবী, দ্বীনদার ব্যক্তিত্ব। তবে তিনি এখানে রাবীর নাম বলার ক্ষেত্রে ভুল করেছেন। কারণ উৎকৃষ্ট মানের ঘোড়াও কখনো কখনো হোঁচট খায়। তিনি বলেছেন, “ওয়াইল বিন আলকামা। বস্তুত সেটি হবে আলকামা বিন ওয়াইল।” [1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৪/৩১৭; সহীহ মুসলিম: ৪০১; সুনান বাইহাকী: ২/৭১; তাবারানী আল কাবীর: ২২/৬১; দারাকুতনী: ১/২৯১; বাগাবী: ৫৬৯; নাসাঈ: ২/১৯৮। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা'লীকাতুল হিসান: ১৮৫৯)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح. * [الصَّفِّ] قال الشيخ: في الأصل: «الصلاة».
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح، رجاله رجال الصحيح غير إبراهيم بن الحجاج السامي، وهو ثقة، روى له النسائي.
1863 - أَخْبَرَنَا أَبُو خَلِيفَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ نَصْرِ بْنِ عَاصِمٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ: «أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، كَانَ إِذَا كَبَّرَ رَفَعَ يَدَيْهِ إِذَا دَخَلَ فِي الصَّلَاةِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا أُذُنَيْهِ، وَإِذَا رَكَعَ، وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ». [5: 4]
رقم طبعة با وزير = (1860)
মালিক বিন হুওয়াইরিস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সালাতে প্রবেশ করতেন, তাকবীর দিতেন এবং রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন, এমনকি তা কান বরাবর করতেন। আর যখন রুকূ‘ করতেন, রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করতেন, (তখনও তিনি অনুরুপভাবে রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন)।”[1]
[1] সহীহ আবূ দাঊদ: ৩৩০; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/২৩৩; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৪৩৬; ইমাম বুখারী, কুররাতুল আইনাইন: ১৭-১৮ পৃষ্ঠা; সহীহ মুসলিম: ৩৯১; নাসাঈ: ২/১২৩; ইবনু মাজাহ: ৮৫৯; দারাকুতনী: ১/২৯২; তাবারানী: ১৯/৬২৬; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/২২৪; সুনান বাইহাকী: ২/২৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৩৩০)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (330): م، خ نحوه.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم
1864 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، وَأَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ، قَالَا: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: «رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا افْتَتَحَ الصَّلَاةَ، رَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ، وَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَرْكَعَ، وَبَعْدَ مَا يَرْفَعُ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ، وَلَا يَرْفَعُ بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ». [5: 4]
رقم طبعة با وزير = (1861)
আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সালাতের সূচনা করতেন, তখন কাঁধ বরাবর রফউল ইয়াদাইন করতেন। যখন তিনি রুকূ‘র জন্য তাকবীর দিতেন এবং রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করতেন, তখনও অনুরুপভাবে রফউল ইয়াদাইন করতেন, এবং বলতেন, سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ (আল্লাহ শ্রবণ করেন, যে তাঁর প্রশংসা করে। হে আমাদের প্রভু, আর আপনার জন্য সমস্ত প্রশংসা), আর তিনি সাজদা করার মাঝে এরকম (রফ‘উল ইয়াদাইন) করতেন না।”[1]
[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/৭৫; সহীহ আল বুখারী: ৭৩৫; আবূ দাঊদ: ৭৪২; নাসাঈ: ২/১২২; দারেমী: ১/২৮৫; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/২২৩; সুনান বাইহাকী: ২/৬৯; বাগাবী: ৫৫৯; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ২৫১৮; সহহি মুসলিম: ৩৯০; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৪৫৬; মুসনাদ ইমাম শাফে‘ঈ: ১/৭০; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/২৩৪; ইবনুল জারূদ: ১৭৮; বাগাবী: ৫৬১। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৭১২)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق - انظر (1858). تنبيه!! رقم (1858) = (1861) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما.
1865 - أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَلِيٍّ الْهَزَارِيُّ، بِسَارِيَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ الْفَلَّاسُ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ، عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ جَعْفَرٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِي حُمَيْدٍ، قَالَ: سَمِعْتُهُ فِي عَشْرَةٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَحَدُهُمْ أَبُو قَتَادَةَ، قَالَ: أَنَا أَعْلَمُكُمْ بِصَلَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالُوا: مَا كُنْتَ أَقْدَمَنَا لَهُ صُحْبَةً، وَلَا أَكْثَرَنَا لَهُ تَبَعَةً! قَالَ: بَلَى، قَالُوا: فَاعْرِضْ، قَالَ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَامَ [ص:179] إِلَى الصَّلَاةِ، اسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ، وَرَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: اللَّهُ أَكْبَرُ، وَإِذَا رَكَعَ، كَبَّرَ، وَرَفَعَ يَدَيْهِ حِينَ رَكَعَ، ثُمَّ يَعْتَدِلُ فِي صُلْبِهِ وَلَمْ يَنْصِبْ رَأْسَهُ وَلَمْ يُقَنِّعْهُ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ، وَقَالَ: سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ، وَرَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ، ثُمَّ اعْتَدَلَ، ثُمَّ سَجَدَ وَاسْتَقْبَلَ بِأَطْرَافِ رِجْلَيْهِ الْقِبْلَةَ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَقَالَ: اللَّهُ أَكْبَرُ، فَثَنَى رِجْلَهُ الْيُسْرَى، وَقَعَدَ وَاعْتَدَلَ حَتَّى يَرْجِعَ كُلُّ عَظْمٍ إِلَى مَوْضِعِهِ مُعْتَدِلًا، ثُمَّ قَالَ: اللَّهُ أَكْبَرُ، وَإِذَا قَامَ مِنَ الرَّكْعَتَيْنِ، كَبَّرَ، ثُمَّ قَامَ حَتَّى إِذَا كَانَتِ الرَّكْعَةُ الَّتِي [ص:180] تَنْقَضِي فِيهَا أَخَّرَ رِجْلَهُ الْيُسْرَى وَقَعَدَ عَلَى رِجْلِهِ مُتَوَرِّكًا، ثُمَّ سَلَّمَ». [5: 4]
رقم طبعة با وزير = (1862)
আবূ হুমাইদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি দশজন সাহাবীর মাঝে এই হাদীস শুনেছি, তাদের মাঝে একজন আবূ কাতাদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু, তিনি বলেন, “আমি আপনাদের মাঝে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাতের বিষয়ে সবচেয়ে বেশি অবগত।” তখন অন্যান্য সাহাবীগণ বললেন, “আপনি তো আমাদের মাঝে সাহাবী হওয়ার দিক থেকে অগ্রগামী ছিলেন না, অনুসারী হওয়ার দিক দিয়েও আধিক্যের অধিকারী না!” জবাবে তিনি বলেন, “হ্যাঁ।” তাঁরা বললেন, “আপনি (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাতের বিবরণ) পেশ করুন।” তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাতে দাঁড়াতেন, তখন কিবলামুখী হতেন এবং রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন, হাতকে কাঁধ বরাবর করতেন। তারপর ‘আল্লাহু আকবার’ বলতেন। অতঃপর যখন রুকূ‘ করতেন, তখন তাকবীর দিতেন এবং রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন। তারপর রুকূ‘তে পিঠ সোজা করতেন; পিঠকে উঁচু করতেন না আবার নিচুও করতেন না। তারপর রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করতেন, বলতেন, سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ (আল্লাহ শ্রবণ করেন, যে তাঁর প্রশংসা করে) এবং রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন, এমনকি তা কাঁধ বরাবর করতেন। তারপর সোজা হয়ে দাঁড়াতেন। তারপর সাজদা করতেন। তিনি পায়ের আঙ্গুলগুলোকে কিবলামুখী করতেন। তারপর সাজদা থেকে মাথা উত্তোলন করতেন এবং বলতেন ‘আল্লাহু আকবার’। আর যখন দ্বিতীয় রাকা‘আত থেকে দাঁড়াতেন, তখন তাকবীর দিতেন তারপর দাঁড়াতেন। এভাবে যখন শেষ রাকা‘আতে থাকতেন, তখন তিনি বাম পা বের করে দিতেন এবং তাঁর পায়ের উপর তাওয়ার্রুক করে বসতেন। তারপর সালাম ফেরাতেন।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৫/৪২৪; ইমাম বুখারী, কুররাতুল আইনাইন: ৫; আবূ দাঊদ: ৭৩০, ৯৬৩; তিরমিযী: ৩০৪; নাসাঈ: ৩/৩৪; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৫৫৫; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৫৮৭; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/২৩৫; বাইহাকী: ২/২৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৭২০)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (720).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم، عبد الحميد بن جعفر: من رجال مسلم، وباقي السند من رجال الشيخين.
1866 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، مَوْلَى ثَقِيفٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ شُجَاعٍ السَّكُونِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِيُ، قَالَ: حَدَّثَنَا [ص:181] أَبُو خَيْثَمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ الْحُرِّ، قَالَ: حَدَّثَنِي عِيسَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، أَحَدُ بَنِي مَالِكٍ، عَنْ عَبَّاسِ بْنِ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ، أَنَّهُ كَانَ فِي مَجْلِسٍ كَانَ فِيهِ أَبُوهُ - وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - وَفِي الْمَجْلِسِ أَبُو هُرَيْرَةَ، وَأَبُو أُسَيْدٍ، وَأَبُو حُمَيْدٍ السَّاعِدِيُّ، مِنَ الْأَنْصَارِ، وَأَنَّهُمْ تَذَاكَرُوا الصَّلَاةَ، فَقَالَ أَبُو حُمَيْدٍ: أَنَا أَعْلَمُكُمْ بِصَلَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالُوا: فَأَرِنَا، قَالَ: فَقَامَ يُصَلِّي وَهُمْ يَنْظُرُونَ «فَبَدَأَ يُكَبِّرُ، وَرَفَعَ يَدَيْهِ حِذَاءَ الْمَنْكِبَيْنِ، ثُمَّ كَبَّرَ لِلرُّكُوعِ، فَرَفَعَ يَدَيْهِ أَيْضًا، ثُمَّ أَمْكَنَ يَدَيْهِ مِنْ رُكْبَتَيْهِ غَيْرَ مُقَنِّعٍ وَلَا مُصَوِّبٍ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ وَقَالَ: سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ، اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ، ثُمَّ رَفَعَ يَدَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: اللَّهُ أَكْبَرُ، فَسَجَدَ، فَانْتَصَبَ عَلَى كَفَّيْهِ وَرُكْبَتَيْهِ وَصُدُورِ قَدَمَيْهِ وَهُوَ سَاجِدٌ، ثُمَّ كَبَّرَ، فَجَلَسَ، وَتَوَرَّكَ إِحْدَى رِجْلَيْهِ، وَنَصَبَ قَدَمَهُ الْأُخْرَى، ثُمَّ كَبَّرَ فَسَجَدَ الْأُخْرَى، فَكَبَّرَ، فَقَامَ وَلَمْ يَتَوَرَّكْ، ثُمَّ عَادَ فَرَكَعَ الرَّكْعَةَ الْأُخْرَى، وَكَبَّرَ كَذَلِكَ، ثُمَّ جَلَسَ بَعْدَ الرَّكْعَتَيْنِ حَتَّى إِذَا هُوَ أَرَادَ أَنْ يَنْهَضَ لِلْقِيَامِ، كَبَّرَ، ثُمَّ رَكَعَ الرَّكْعَتَيْنِ الْأَخِيرَتَيْنِ، فَلَمَّا سَلَّمَ، سَلَّمَ عَنْ يَمِينِهِ: سَلَامٌ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ، وَسَلَّمَ عَنْ شِمَالِهِ: سَلَامٌ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ» [ص:182] قَالَ الْحَسَنُ بْنُ الْحُرِّ: وَحَدَّثَنِي عِيسَى أَنَّ مِمَّا حَدَّثَهُ أَيْضًا فِي الْمَجْلِسِ فِي التَّشَهُّدِ: «أَنْ يَضَعَ يَدَهُ الْيُسْرَى عَلَى فَخِذِهِ الْيُسْرَى، وَيَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى فَخِذِهِ الْيُمْنَى، ثُمَّ يُشِيرُ فِي الدُّعَاءِ بِإِصْبَعٍ وَاحِدَةٍ». [5: 4]
رقم طبعة با وزير = (1863) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «سَمِعَ هَذَا الْخَبَرَ مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِي حُمَيْدٍ السَّاعِدِيِّ، وَسَمِعَهُ مِنْ عَبَّاسِ بْنِ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، فَالطَّرِيقَانِ جَمِيعًا مَحْفُوظَانِ»
আব্বাস বিন সাহল বিন সা‘দ আস সা‘ঈদী থেকে বর্ণিত, তিনি বর্ণনা করেন যে, তিনি একটি মাজলিসে ছিলেন যাতে তার বাবা উপস্থিত ছিলেন। তার বাবা সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। মাজলিসে আরো উপস্থিত ছিলেন আবূ হুরাইরা, আবূ উসাইদ, আবূ হুমাইদ আস সা‘ঈদী আনসারী প্রমুখ সাহাবী। তাঁরা সালাতের আলোচনা করছিলেন। তখন আবূ হুমাইদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু, তিনি বলেন, “আমি আপনাদের মাঝে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাতের বিষয়ে সবচেয়ে বেশি অবগত।” তখন অন্যান্য সাহাবীগণ বলেন, “তবে আপনি আমাদেরকে (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাতের বিষয়) দেখিয়ে দিন।” আব্বাস বিন সাহল বিন সা‘দ আস সা‘ঈদী বলেন, “অতঃপর তিনি সালাত আদায় করার জন্য দাঁড়ালেন, আর তারা তা প্রত্যক্ষ করছিলেন। তিনি তাকবীর দিয়ে শুরু করলেন এবং হাত কাঁধ বরাবর উত্তোলন করলেন। তারপর রুকূ‘ করার জন্য তাকবীর দিলেন এবং কাঁধ বরাবর দুই হাত উত্তোলন করলেন। তারপর তিনি হাঁটুতে দুই হাত স্থাপন করলেন, তিনি পিঠকে উঁচু করেননি, আবার নিচুও করেননি। তারপর তিনি রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করেন এবং বলেন, , سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ (আল্লাহ শ্রবণ করেন, যে তাঁর প্রশংসা করে। হে আল্লাহ, আমাদের প্রভু, আর আপনার জন্য সমস্ত প্রশংসা), তারপর রফ‘ঊল ইয়াদাইন করেন। তারপর বলেন ‘আল্লাহু আকবার’ এবং সাজদা করেন। তিনি সাজদা অবস্থায় দুই হাতের তালু, দুই হাঁটু ও দুই পায়ের অগ্রভাগের উপর স্থাপিত হন। তারপর তিনি তাকবীর দেন এবং বসেন কিন্তু তাওয়ার্রুক করেননি। তারপর আরেক রাকা‘আত পড়ে নেন এবং অনুরুপভাবে তাকবীর দেন। তারপর দুই রাকা‘আতের পর বসেন, অতঃপর যখন তিনি দাঁড়ানোর ইচ্ছা করেন, তখন তিনি তাকবীর দেন। তারপর পরের দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করেন। তারপর যখন সালাম ফেরান, তখন ডান দিকে সালাম ফেরান এই বলে, سَلَامٌ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ (আপনাদের উপর আল্লাহর রহমত ও সালাম বর্ষিত হোক) এবং বাম দিকে সালাম ফেরান এই বলে , سَلَامٌ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ (আপনাদের উপর আল্লাহর রহমত ও সালাম বর্ষিত হোক)। হাসান বিন হুর্র বলেন, “আমাকে ইসা তাশাহ্হুদের বৈঠকের বিষয়ে হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, বাম হাত বাম উরুর উপর আর ডান হাত ডান উরুর উপর রাখবে। তারপর দু‘আ করার সময় এক আঙ্গুলের মাধ্যমে ইশারা করবে।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই হাদীসটি মুহাম্মাদ বিন আমর বিন আতা শ্রবণ করেছেন আবূ হুমাইদ সা‘ঈদী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে, তিনি হাদীসটি আব্বাস বিন সাহল বিন সা‘দ আস সা‘ঈদী থেকে, তিনি তার বাবা থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। কাজেই হাদীসটির দুটো সানাদই সহীহ।”
[1] আবূ দাঊদ: ৭৩৩, ৯৬৬; সুনান বাইহাকী: ২/১০১, ১১৮; মুসনাদ আহমাদ: ৫/৪২৪; ইমাম বুখারী, কুররাতুল আইনাইন: ৫; আবূ দাঊদ: ৭৩০, ৯৬৩; তিরমিযী: ৩০৪; নাসাঈ: ৩/৩৪; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৫৫৫; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৫৮৭; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/২৩৫; বাইহাকী: ২/২৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। (যঈফ আবূ দাঊদ: ১১৮)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف - «ضعيف أبي داود» (118).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن، عيسى بن عبد الله بن مالك: روى عنه جمع، وذكره المؤلف في «الثقات» 7/ 231، وترجم له البخاري في «التاريخ الكبير» 6/ 389 - 390، وابن أبي حاتم 6/ 280، فلم يذكرا فيه جرحاً ولا تعديلاً، وباقي رجاله ثقات، أبو خيثمة: هو زهير بن معاوية الجعفي.
1867 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ زُهَيْرٍ الْحَافِظُ، بِتُسْتَرَ وَكَانَ أَسْوَدَ مِنْ رَأَيْتُ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ [ص:183] عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا حُمَيْدٍ السَّاعِدِيَّ، فِي عَشْرَةٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيهِمْ أَبُو قَتَادَةَ، فَقَالَ أَبُو حُمَيْدٍ: أَنَا أَعْلَمُكُمْ بِصَلَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالُوا: لِمَ؟ فَوَاللَّهِ مَا كُنْتَ أَكْثَرَنَا لَهُ تَبَعَةً، وَلَا أَقْدَمَنَا لَهُ صُحْبَةً، قَالَ: بَلَى، قَالُوا: فَاعْرِضْ، قَالَ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلَاةِ، كَبَّرَ، ثُمَّ رَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ، وَيُقِيمُ كُلَّ عَظْمٍ فِي مَوْضِعِهِ، ثُمَّ يَقْرَأُ، ثُمَّ يَرْفَعُ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ، ثُمَّ يَرْكَعُ وَيَضَعُ رَاحَتَيْهِ عَلَى رُكْبَتَيْهِ مُعْتَدِلًا لَا يُصَوِّبُ رَأْسَهُ وَلَا يَقْنَعْ بِهِ، يَقُولُ: سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ، وَيَرْفَعُ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ حَتَّى يَقَرَّ كُلُّ عَظْمٍ إِلَى مَوْضِعِهِ، ثُمَّ يَهْوِي إِلَى الْأَرْضِ، وَيُجَافِي يَدَيْهِ عَنْ جَنْبَيْهِ، ثُمَّ يَرْفَعُ رَأْسَهُ وَيَثْنِي رِجْلَهُ، فَيَقْعُدُ عَلَيْهَا وَيَفْتَخُ أَصَابِعَ رِجْلَيْهِ إِذَا سَجَدَ، ثُمَّ يَسْجُدُ، ثُمَّ يُكَبِّرُ وَيَجْلِسُ عَلَى رِجْلِهِ الْيُسْرَى حَتَّى يَرْجِعَ كُلُّ عَظْمٍ إِلَى مَوْضِعِهِ، ثُمَّ يَقُومُ فَيَصْنَعُ فِي الْأُخْرَى مِثْلَ ذَلِكَ، ثُمَّ إِذَا قَامَ مِنَ الرَّكْعَتَيْنِ، رَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ كَمَا صَنَعَ عِنْدَ افْتِتَاحِ الصَّلَاةِ، ثُمَّ يُصَلِّي بَقِيَّةَ صَلَاتِهِ هَكَذَا، حَتَّى إِذَا كَانَ فِي السَّجْدَةِ الَّتِي فِيهَا [ص:184] التَّسْلِيمُ أَخْرَجَ رِجْلَيْهِ وَجَلَسَ عَلَى شِقِّهِ الْأَيْسَرِ مُتَوَرِّكًا» فَقَالُوا: صَدَقْتَ هَكَذَا كَانَ يُصَلِّي النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. [1: 21]
رقم طبعة با وزير = (1864) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «فِي أَرْبَعِ رَكَعَاتٍ يُصَلِّيهَا الْإِنْسَانُ سِتُّ مِائَةِ سُنَّةٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَخَرَجْنَاهَا بِفُصُولِهَا فِي كِتَابِ صِفَةِ الصَّلَاةِ، فَأَغْنَى ذَلِكَ عَنْ نَظْمِهَا فِي هَذَا النَّوْعِ مِنْ هَذَا الْكِتَابِ» قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «عَبْدُ الْحَمِيدِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَحَدُ الثِّقَاتِ الْمُتْقِنِينَ، قَدْ سَبَرْتَ أَخْبَارَهُ، فَلَمْ أَرَهُ انْفَرَدَ بِحَدِيثٍ مُنْكَرٍ لَمْ يُشَارِكْ فِيهِ، وَقَدْ وَافَقَ فُلَيْحُ بْنُ سُلَيْمَانَ، وَعِيسَى بْنُ [ص:185] عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِي حُمَيْدٍ عَبْدَ الْحَمِيدِ بْنَ جَعْفَرٍ فِي هَذَا الْخَبَرِ»
মুহাম্মাদ বিন আমর বিন আতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবূ হুমাইদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে দশজন সাহাবীর মাঝে এই হাদীস বলতে শুনেছি, তাদের মাঝে একজন ছিলেন আবূ কাতাদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু। আবূ হুমাইদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আমি আপনাদের মাঝে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাতের বিষয়ে সবচেয়ে বেশি অবগত।” তখন অন্যান্য সাহাবীগণ বললেন, “আপনি তো আমাদের মাঝে সাহাবী হওয়ার দিক থেকে অগ্রগামী ছিলেন না, অনুসারী হওয়ার দিক দিয়েও আধিক্যের অধিকারী না!” জবাবে তিনি বলেন, “হ্যাঁ।” তাঁরা বললেন, “আপনি (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাতের বিবরণ) পেশ করুন।” তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সালাতে দাঁড়াতেন, তখন তাকবীর দিতেন, তারপর রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন, এমনকি হাত কাঁধ বরাবর করতেন। প্রতিটি অঙ্গকে স্বস্বস্থানে স্থাপন করতেন। তারপর কিরা‘আত পাঠ করতেন। তারপর রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন, এমনকি হাত কাঁধ বরাবর করতেন। তারপর রুকূ‘ করতেন, তিনি তাঁর দুই হাতের তালূকে হাঁটুর উপর স্থাপন করতেন। তিনি রুকূ‘তে পিঠ সোজা করতেন; পিঠকে উঁচু করতেন না আবার নিচুও করতেন না। তারপর রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করতেন, এসময় তিনি বলতেন, سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ (আল্লাহ শ্রবণ করেন, যে তাঁর প্রশংসা করে) এবং রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন, এমনকি হাত কাঁধ বরাবর করতেন। (তারপর তিনি এমন সোজা হয়ে দাঁড়াতেন যে,) তাঁর শরীরের প্রতিটি হাড় স্বস্বস্থানে ফিরে যেতো। তারপর তিনি জমিনে ধাবিত হতেন (সাজদা করার জন্য) তিনি সাজদার সময় তাঁর দুই হাত দুই পার্শ্ব থেকে পৃথক রাখতেন। তারপর সাজদা থেকে মাথা উত্তোলন করতেন এবং (বাম) পা বিছিয়ে দিতেন অতঃপর তার উপর বসতেন। যখন তিনি সাজদা করতেন, তখন তিনি পায়ের আঙ্গুলগুলোকে খোলা রাখতেন। তারপর আবার সাজদা দিতেন। তারপর তাকবীর দিতেন এবং বাম পায়ের উপর এমনভাবে বসতেন যে, প্রতিটি হাড় স্বস্ব স্থানে ফিরে যেতো। তারপর তিনি দ্বিতীয় রাকা‘আতের জন্য উঠে দাঁড়ান এবং প্রথম রাকা‘আতের অনুরুপ কাজ সম্পাদন আর যখন দ্বিতীয় রাকা‘আত থেকে দাঁড়াতেন, তখন রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন, এমনকি হাত কাঁধ বরাবর করতেন যেমনটা তিনি প্রথম তাকবীরের সময় করতেন। এভাবে যখন শেষ রাকা‘আতে থাকতেন, তখন তিনি বাম পা বের করে দিতেন এবং তাঁর বাম পাশের নিতম্বের উপর বসতেন।” তখন অন্যান্য সাহাবীগণ বলেন, “আপনি সত্যই বলেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এভাবেই সালাত আদায় করতেন।” [1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “যে কোন ব্যক্তি চার রাকা‘আত সালাত আদায় করলে, তাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ৬০০ সুন্নাত রয়েছে, যা আমরা ‘সিফাতুস সালাহ’ নামক কিতাবে বিস্তারিত বর্ণনা করেছি, এজন্য সেগুলি এখানে পুনরায় উল্লেখ করার প্রয়োজন বোধ করছি না। আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আব্দুল হামীদ একজন নির্ভরযোগ্য, মজবূত রাবী। আমি তার হাদীসগুলো তাহকীক করেছি, তাতে আমি তার এমন কোন মুনকার হাদীস দেখতে পাইনি, যা তিনি এককভাবে বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদ বিন আমরের সূত্রে আবূ হুমাইদ থেকে এই হাদীস বর্ণনায় আব্দুল হামীদ বিন জা‘ফরের সাথে ফুলাইহ বিন সুলাইমান ও ইসা বিন আব্দুল্লাহ বিন মালিক শরীক হয়েছেন।”
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৫/৪২৪; ইমাম বুখারী, কুররাতুল আইনাইন: ৫; আবূ দাঊদ: ৭৩০, ৯৬৩; তিরমিযী: ৩০৪; নাসাঈ: ৩/৩৪; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৫৫৫; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৫৮৭; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/২৩৫; বাইহাকী: ২/২৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৭২০)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر (1862). تنبيه!! رقم (1862) = (1865) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم، رجاله رجال الشيخين غير عبد الحميد بن جعفر، فإنه من رجال مسلم، أبو عاصم: هو الضحاك بن خلد.
1868 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَرُوبَةَ بِحَرَّانَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَنَّهُ كَانَ إِذَا دَخَلَ فِي الصَّلَاةِ رَفَعَ يَدَيْهِ، وَإِذَا رَكَعَ، وَإِذَا قَالَ: سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ، وَإِذَا قَامَ مِنَ الرَّكْعَتَيْنِ رَفَعَهُمَا إِلَى مَنْكِبَيْهِ». [5: 44]
رقم طبعة با وزير = (1865)
আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সালাতের সূচনা করতেন, তখন রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন। যখন তিনি রুকূ‘ করতেন, (রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করার সময় যখন) বলতেন, سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ (আল্লাহ শ্রবণ করেন, যে তাঁর প্রশংসা করে। হে আমাদের প্রভু, আর আপনার জন্য সমস্ত প্রশংসা) এবং যখন তিনি দ্বিতীয় রাকা‘আত থেকে দাঁড়াতেন, তখন তিনি কাঁধ বরাবর রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন।”[1]
[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/৭৫; সহীহ আল বুখারী: ৭৩৫; আবূ দাঊদ: ৭৪২; নাসাঈ: ২/১২২; দারেমী: ১/২৮৫; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/২২৩; সুনান বাইহাকী: ২/৬৯; বাগাবী: ৫৫৯; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ২৫১৮; সহহি মুসলিম: ৩৯০; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৪৫৬; মুসনাদ ইমাম শাফে‘ঈ: ১/৭০; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/২৩৪; ইবনুল জারূদ: ১৭৮; বাগাবী: ৫৬১। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৭১২)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (728).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين.
1869 - أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُصْعَبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو الْغَزِّيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، حَدَّثَنِي اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْقُرَشِيِّ، وَعَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَلْحَلَةَ، [ص:186] عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، أَنَّهُ كَانَ جَالِسًا مَعَ نَفَرٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَبُو حُمَيْدٍ السَّاعِدِيُّ: أَنَا أَحْفَظُكُمْ لِصَلَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، «رَأَيْتُهُ إِذَا كَبَّرَ جَعَلَ يَدَيْهِ حَذْوَ مَنْكِبَيْهِ، وَإِذَا رَكَعَ أَمْكَنَ يَدَيْهِ مِنْ رُكْبَتَيْهِ، ثُمَّ هَصَرَ ظَهْرَهُ، فَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ اسْتَوَى، فَإِذَا سَجَدَ وَضَعَ يَدَيْهِ غَيْرَ مُفْتَرِشٍ وَلَا قَابِضٍ، وَاسْتَقْبَلَ بِأَطْرَافِ رِجْلَيْهِ إِلَى الْقِبْلَةِ، وَإِذَا جَلَسَ فِي الرَّكْعَةِ الْآخِرَةِ قَدَّمَ رِجْلَهُ الْيُسْرَى وَجَلَسَ عَلَى مَقْعَدَتِهِ». [5: 44]
رقم طبعة با وزير = (1866)
মুহাম্মাদ বিন আমর বিন আতা থেকে বর্ণিত, তিনি একবার একদল সাহাবীদের মাঝে বসে ছিলেন। তখন আবূ হুমাইদ আস সা‘ইদী বলেন, “আমি আপনাদের মাঝে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাতের বিষয়ে সবচেয়ে বেশি সংরক্ষনকারী” আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেছি, যখন তিনি সালাতে দাঁড়াতেন, তখন তিনি তাঁর হাতকে কাঁধ বরাবর করতেন। যখন তিনি রুকূ‘ করতেন, তখন তিনি তাঁর দুই হাত দিয়ে দুই হাঁটু মজবূতভাবে ধারণ করতেন অতঃপর তাঁর পিঠকে বরাবর করতেন। অতঃপর যখন তিনি রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করতেন, তখন সোজা হয়ে দাঁড়াতেন। তারপর যখন তিনি সাজদা করতেন, তখন তিনি দুই হাত মাটিতে রাখতেন; এসময় তিনি হাত বিছিয়ে রাখতেন না আবার হাত মুষ্টিবদ্ধও করতেন এবং তিনি পায়ের আঙ্গুলগুলোকে কিবলামুখী করতেন। যখন তিনি শেষ রাকা‘আতে বসতেন, তখন তিনি বাম পা সামনে বের করে দিতেন এবং নিতম্বের উপর বসতেন।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৫/৪২৪; ইমাম বুখারী, কুররাতুল আইনাইন: ৫; আবূ দাঊদ: ৭৩০, ৯৬৩; তিরমিযী: ৩০৪; নাসাঈ: ৩/৩৪; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৫৫৫; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৫৮৭; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/২৩৫; বাইহাকী: ২/২৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৭২০)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (722): خ، وهو مختصر الذي بعده.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: عبد الله بن محمد بن عمرو الغَزِّي: ثقة روى له أبو داود، ومن فوقه ثقات من رجال الشيخين غير يزيد بن محمد، وهو ابن قيس بن مخرمة بن المطلب القرشي، فإنه من رجال البخاري، يحيى بن بكير: هو يحيى بن عبد الله بن بكير، والليث هو ابن سعد.
1870 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْأَوْدِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا حُمَيْدٍ السَّاعِدِيَّ، يَقُولُ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلَاةِ اسْتَقْبَلَ، وَرَفَعَ يَدَيْهِ [ص:188] حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: اللَّهُ أَكْبَرُ، وَإِذَا رَكَعَ كَبَّرَ، وَرَفَعَ يَدَيْهِ حِينَ رَكَعَ، ثُمَّ عَدَلَ صُلْبَهُ، وَلَمْ يُصَوِّبْ رَأْسَهُ وَلَمْ يُقَنِّعْهُ، ثُمَّ قَالَ: سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ، وَرَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ، ثُمَّ اعْتَدَلَ حَتَّى رَجَعَ كُلُّ عَظْمٍ إِلَى مَوْضِعِهِ مُعْتَدِلًا، ثُمَّ هَوَى إِلَى الْأَرْضِ، فَقَالَ: اللَّهُ أَكْبَرُ، وَسَجَدَ وَجَافَى عَضُدَيْهِ عَنْ جَنْبَيْهِ، وَاسْتَقْبَلَ بِأَطْرَافِ أَصَابِعِ رِجْلَيْهِ الْقِبْلَةَ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ، وَقَالَ: اللَّهُ أَكْبَرُ، وَثَنَى رِجْلَهُ الْيُسْرَى وَقَعَدَ عَلَيْهَا، وَاعْتَدَلَ حَتَّى رَجَعَ كُلُّ عَظْمٍ إِلَى مَوْضِعِهِ مُعْتَدِلًا، ثُمَّ قَالَ: اللَّهُ أَكْبَرُ، ثُمَّ عَادَ فَسَجَدَ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ وَقَالَ: اللَّهُ أَكْبَرُ، ثُمَّ ثَنَّى رِجْلَهُ الْيُسْرَى، ثُمَّ قَعَدَ عَلَيْهَا حَتَّى رَجَعَ كُلُّ عَظْمٍ إِلَى مَوْضِعِهِ، ثُمَّ قَامَ فَصَنَعَ فِي الْأُخْرَى مِثْلَ ذَلِكَ، حَتَّى إِذَا قَامَ مِنَ الرَّكْعَتَيْنِ، كَبَّرَ وَصَنَعَ كَمَا صَنَعَ فِي ابْتِدَاءِ الصَّلَاةِ، حَتَّى إِذَا كَانَتِ السَّجْدَةُ الَّتِي تَكُونُ خَاتِمَةَ الصَّلَاةِ، رَفَعَ رَأْسَهُ مِنْهُمَا، وَأَخَّرَ رِجْلَهُ، وَقَعَدَ مُتَوَرِّكًا عَلَى رِجْلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ». [5: 44]
رقم طبعة با وزير = (1867)
আবূ হুমাইদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সালাতে দাঁড়াতেন, তখন কিবলামুখী হতেন এবং রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন, এমনকি হাতকে কাঁধ বরাবর করতেন। তারপর ‘আল্লাহু আকবার’ বলতেন। অতঃপর যখন রুকূ‘ করতেন, তখন তাকবীর দিতেন এবং রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন। তারপর রুকূ‘তে পিঠ সোজা করতেন; পিঠকে উঁচু করতেন না আবার নিচুও করতেন না। তারপর রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করতেন, বলতেন, سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ (আল্লাহ শ্রবণ করেন, যে তাঁর প্রশংসা করে), এবং রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন, এমনকি হাতদ্বয়কে কাঁধ বরাবর করতেন। তারপর সোজা হয়ে দাঁড়াতেন, এমনকি প্রত্যেকটি হাড় স্বস্থানে ফিরে যেতো। তারপর (সাজদা করার জন্য) জমিনের দিকে ধাবিত হতেন, ‘আল্লাহু আকবার’ বলতেন এবং সাজদা করতেন। এসময় তিনি তাঁর বাহুদ্বয়কে তাঁর পার্শ্বদেশ থেকে ফাকা রাখতেন এবং পায়ের আঙ্গুলগুলোকে কিবলামুখী করতেন। তারপর সাজদা থেকে মাথা উত্তোলন করতেন এবং বলতেন ‘আল্লাহু আকবার’। তারপর তিনি বাম পা বিছিয়ে দিয়ে তার উপর সোজা হয়ে বসতেন, এমনকি তাঁর প্রত্যেকটি হাড় স্বস্থানে ফিরে যেতো। তারপর তিনি দাঁড়াতেন এবং অনুরুপভাবে আরেক রাকা‘আত পড়ে নিতেন। এভাবে যখন তিনি দ্বিতীয় রাকা‘আত থেকে উঠতেন, তখন তিনি তাকবীর দিতেন এবং তেমনি করতেন, যেমন তিনি সালাতের শুরুতে করেছেন। অতঃপর যখন তিনি শেষ সাজদায় থাকতেন, তখন তিনি সাজদা থেকে মাথা উত্তোলন করতেন, তিনি বাম পা বের করে দিতেন এবং তাঁর পায়ের উপর তাওয়ার্রুক করে বসতেন।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৫/৪২৪; ইমাম বুখারী, কুররাতুল আইনাইন: ৫; আবূ দাঊদ: ৭৩০, ৯৬৩; তিরমিযী: ৩০৪; নাসাঈ: ৩/৩৪; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৫৫৫; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৫৮৭; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/২৩৫; বাইহাকী: ২/২৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৭২০)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر (1862)، وانظر ما يأتي برقم (1873). تنبيه!! رقم (1862) = (1865) من «طبعة المؤسسة». رقم (1873) = (1876) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح، عبد الله بن عمرو الأودي روى له ابن ماجه، وهو ثقة، ومن فوقه من رجال الشيخين غير عبد الحميد بن جعفر، وأبو أسامة: هو حماد بن أسامة.
1871 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ زُهَيْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا فُلَيْحُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ: [ص:189] حَدَّثَنِي عَبَّاسُ بْنُ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيُّ، قَالَ: اجْتَمَعَ أَبُو حُمَيْدٍ السَّاعِدِيُّ، وَأَبُو أُسَيْدٍ السَّاعِدِيُّ، وَسَهْلُ بْنُ سَعْدٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ مَسْلَمَةَ، فَذَكَرُوا صَلَاةَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ أَبُو حُمَيْدٍ: أَنَا أَعْلَمُكُمْ بِصَلَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَامَ فَكَبَّرَ وَرَفَعَ يَدَيْهِ، ثُمَّ رَفَعَ يَدَيْهِ حِينَ كَبَّرَ لِلرُّكُوعِ، ثُمَّ رَكَعَ، فَوَضَعَ يَدَيْهِ عَلَى رُكْبَتَيْهِ كَالْقَابِضِ عَلَيْهِمَا فَوَتَرَ يَدَيْهِ فَنَحَّاهُمَا عَنْ جَنْبَيْهِ، وَلَمْ يُصَوِّبْ رَأْسَهُ وَلَمْ يُقَنِّعْهُ، ثُمَّ قَامَ فَرَفَعَ يَدَيْهِ فَاسْتَوَى حَتَّى رَجَعَ كُلُّ عُضْوٍ إِلَى مَوْضِعِهِ، ثُمَّ سَجَدَ أَمْكَنَ أَنْفَهُ وَجَبْهَتَهُ، وَنَحَّى يَدَيْهِ عَنْ جَنْبَيْهِ، وَوَضَعَ كَفَّيْهِ حَذْوَ مَنْكِبَيْهِ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ حَتَّى رَجَعَ كُلُّ عُضْوٍ فِي مَوْضِعِهِ حَتَّى فَرَغَ، ثُمَّ جَلَسَ فَافْتَرَشَ رِجْلَهُ الْيُسْرَى وَأَقْبَلَ بِصَدْرِ الْيُمْنَى عَلَى قِبْلَتِهِ، وَوَضَعَ كَفَّهُ الْيُمْنَى عَلَى رُكْبَتِهِ الْيُمْنَى، وَكَفَّهُ الْيُسْرَى عَلَى رُكْبَتِهِ الْيُسْرَى، وَأَشَارَ بِأُصْبُعِهِ السَّبَّابَةِ». [5: 2]
رقم طبعة با وزير = (1868)
আব্বাস বিন সাহল বিন সা‘দ আস সা‘ইদী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “একবার আবূ হুমাইদ, সাহল বিন সা‘দ, মুহাম্মাদ বিন মাসলামা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম একত্রিত হন। অতঃপর তাঁরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাতের বিষয়ে আলোচনা করেন। তখন আবূ হুমাইদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আমি আপনাদের মাঝে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাতের বিষয়ে সবচেয়ে বেশি অবগত। নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাতে দাঁড়ান, অতঃপর তাকবীর দেন এবং রফ‘উল ইয়াদাইন করেন। তারপর আবার রফ‘উল ইয়াদাইন করেন, যখন রুকূ‘ করার জন্য তাকবীর দেন। তারপর রুকূ‘ করেন এবং তাঁর দুই হাতকে হাঁটুর উপর স্থাপন করেন যেন তিনি হাঁটুকে আকড়ে ধরে আছেন। এসময় তিনি তাঁর দুই হাতকে ধনুক আকৃতির করতেন এবং হাতকে দুই পার্শ্ব থেকে দূরে রাখেন। তিনি রুকূ‘তে পিঠ সোজা করতেন; পিঠকে উঁচু করতেন না আবার নিচুও করেননি। তারপর তিনি দাঁড়ান এবং রফ‘উল ইয়াদাইন করেন। তারপর এমনভাবে সোজা হয়ে দাঁড়ান যে, তাঁর প্রত্যেকটি হাড় স্বস্থানে ফিরে যায়। তারপর তিনি সাজদা করেন, তিনি তাঁর নাক ও কপাল মাটিতে রাখেন, দুই হাতকে দুই পার্শ্ব থেকে দূরে রাখেন এবং দুই হাতের তালূ দুই কাঁধ বরাবর রাখেন। তারপর সাজদা থেকে মাথা উত্তোলন করেন (এবং এমন সোজা হয়ে বসেন যে) তাঁর প্রতিটি হাড় স্বস্থানে ফিরে যায়। এভাবে তা সম্পন্ন করেন। তারপর তিনি বাম পা বিছিয়ে তার উপর বসেন, আর ডান পায়ের অগ্রভাগ কিবলামূখী করেন। তিনি বৈঠকে ডান হাতের তালূকে ডান হাঁটুর উপর আর বাম হাতের তালূকে বাম হাঁটুর উপর রাখেন এবং তর্জনী অঙ্গুলীর মাধ্যমে ইশারা করেন।”[1]
[1] তিরমিযী: ২৬০; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৬৮৯; ইমাম বুখারী, কুররাতুল আইনাইন: ৫ পৃষ্ঠা; আবূ দাঊদ: ৭৩৪; সুনান বাইহাকী: ২/১১২; দারেমী: ১/২৯৯; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/২২৩। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৭২৩)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (723).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: رجاله ثقات رجال الشيخين، إلا أن فليح بن سليمان- وإن احتج به البخاري وأصحاب السنن، وروى له مسلم حديثاً واحداً- ضعفه يحيى بن معين، والنسائي، وأبو داود، وقال الساجي: هو من أهل الصدق، وكان يهم، وقال الدارقطني: مختلف فيه، ولا بأس به، وقال ابن عدي: له أحاديث صالحة مستقيمة، وغرائب، وهو عندي لا بأس به، ومثله يقوى حديثه عند المتابعة، وهذا منها.
1872 - أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ الْجُمَحِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عَلَيْهِ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلَابَةَ، عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ، قَالَ: أَتَيْنَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَنَحْنُ شَبَبَةٌ مُتَقَارِبُونَ، فَأَقَمْنَا عِنْدَهُ عِشْرِينَ لَيْلَةً فَظَنَّ أَنَّا قَدِ اشْتَقْنَا أَهْلِينَا، سَأَلْنَا عَمَّنْ تَرَكْنَا مِنْ أَهْلِينَا، فَأَخْبَرْنَاهُ، وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَحِيمًا رَفِيقًا، فَقَالَ: «[ص:191] ارْجِعُوا إِلَى أَهْلِيكُمْ، فَعَلِّمُوهُمْ، وَمُرُوهُمْ، وَصَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أُصَلِّي، فَإِذَا حَضَرَتِ الصَّلَاةُ، فَلْيُؤَذِّنْ أَحَدُكُمْ، وَلْيَؤُمَّكُمْ أَكْبَرُكُمْ». [5: 4]
رقم طبعة با وزير = (1869)
মালিক বিন হুরাইরিস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমরা (আমাদের এলাকা থেকে) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসি, আমরা ছিলাম কাছাকাছি বয়সের যুবক। অতঃপর আমরা তাঁর কাছে কুড়ি রাত অবস্থান করি। অতঃপর তিনি মনে করলেন যে, আমরা হয়তো আমাদের পরিবারে প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছি। ফলে তিনি আমাদের জিজ্ঞেস করলেন যে, আমরা বাড়িতে কাদের রেখে এসেছি। আমরা তাকে আমাদের বৃত্তান্ত জানাই। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অত্যন্ত দয়ালূ, বন্ধুসুলভ মানুষ ছিলেন। তিনি বললেন, “তোমরা তোমাদের পরিবারের কাছে ফিরে যাও, গিয়ে তাদের দ্বীন শিক্ষা দিবে, তাদের বিভিন্ন আমলের নির্দেশ দিবে এবং ঠিক সেভাবে সালাত আদায় করবে যেভাবে সালাত আদায় করতে দেখেছো। আর যখন সালাতের সময় উপস্থিত হবে, তখন আপনাদের কেউ যেন আযান দেয় আর তোমাদের মাঝে বয়সে প্রবীণ ব্যক্তি যেন সালাতের ইমামতি করেন।”[1]
[1] সহীহ আল বুখারী: ৬০০৮; আদাবুল মুফরাদ: ২১৩; সুনান আবূ দাঊদ: ৫৮৯; সুনান বাইহাকী: ৩/১২০; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৪৩৬; সহীহ মুসলিম: ৬৭৪; নাসাঈ: ২/৯; তাবারানী: ১৯/৬৪০; দারাকুতনী: ১/২৭২-২৭৩; দারেমী: ১/২৮৬; আবূ আওয়ানা: ১/৩৩১; মুসনাদ ইমাম শাফে‘ঈ: ১/১২৯; তাহাবী, মুশকিলুল আসার: ২/২৯৬; ইবনু মাজাহ: ৯৭৯; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৪৩১; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৩৯৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (ইরওয়াউল গালীল: ২১৩)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الإرواء» (213).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط البخاري، رجاله رجال الشيخين غير مسدد بن مسرهد، فإنه من رجال البخاري.
1873 - أَخْبَرَنَا شَبَّابُ بْنُ صَالِحٍ، بِوَاسِطٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا خَالِدٌ، عَنْ خَالِدٍ، عَنْ أَبِي قِلَابَةَ: أَنَّهُ رَأَى مَالِكَ بْنَ الْحُوَيْرِثِ: «إِذَا صَلَّى كَبَّرَ، وَرَفَعَ يَدَيْهِ، وَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَرْكَعَ رَفَعَ يَدَيْهِ، وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ، رَفَعَ يَدَيْهِ، وَحَدَّثَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَفْعَلُ هَكَذَا». [5: 4]
رقم طبعة با وزير = (1870)
আবূ কিলাবা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “মালিক বিন হুওয়াইরিস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু যখন সালাত শুরু করতেন, তাকবীর দিতেন এবং রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন। আর যখন রুকূ‘ করার ইচ্ছা করতে চাইতেন, রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন এবং যখন রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করতেন, তখনও তিনি অনুরুপভাবে রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন এবং তিনি বলতেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও এরকম করতেন।” [1]
[1] সহীহ আবূ দাঊদ: ৩৩০; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/২৩৩; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৪৩৬; ইমাম বুখারী, কুররাতুল আইনাইন: ১৭-১৮ পৃষ্ঠা; সহীহ মুসলিম: ৩৯১; নাসাঈ: ২/১২৩; ইবনু মাজাহ: ৮৫৯; দারাকুতনী: ১/২৯২; তাবারানী: ১৯/৬২৬; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/২২৪; সুনান বাইহাকী: ২/২৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৩৩০)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (730): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم، وهب بن بقية: ثقة من رجال مسلم، ومن فوقه من رجال الشيخين، خالد الأول: هو ابن عبد الله الواسطي، والثاني هو خالد بن مهران الحذاء.
1874 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الْأَسْوَدِ، قَالَ: دَخَلْتُ أَنَا وَعَلْقَمَةُ عَلَى ابْنِ مَسْعُودٍ، فَقَالَ لَنَا: أَصَلَّى هَؤُلَاءِ؟ فَقُلْنَا: لَا، قَالَ: فَقُومُوا فَصَلُّوا، فَذَهَبْنَا لِنَقُومَ خَلْفَهُ، «فَجَعَلَ أَحَدَنَا عَنْ يَمِينِهِ، وَالْآخَرَ عَنْ شِمَالِهِ، فَصَلَّى بِغَيْرِ أَذَانٍ وَلَا إِقَامَةٍ، فَجَعَلَ إِذَا رَكَعَ شَبَّكَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ فِي الصَّلَاةِ، فَجَعَلَهَا بَيْنَ رُكْبَتَيْهِ»، فَلَمَّا صَلَّى، قَالَ: هَكَذَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي، وَقَالَ: «يَا أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّهَا سَتَكُونُ عَلَيْكُمْ أُمَرَاءُ يُمِيتُونَ الصَّلَاةَ يَخْنُقُونَهَا إِلَى شَرَقِ الْمَوْتَى، فَمَنْ أَدْرَكَ ذَلِكَ مِنْكُمْ، فَلْيُصَلِّ الصَّلَاةَ لِوَقْتِهَا، وَلْيَجْعَلْ صَلَاتَهُ مَعَهُمْ سُبْحَةً». [5: 4]
رقم طبعة با وزير = (1871) [ص:194] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «كَانَ ابْنُ مَسْعُودٍ رَحِمَهُ اللَّهُ مِمَّنْ يُشَبِّكُ يَدَيْهِ فِي الرُّكُوعِ، وَزَعَمَ أَنَّهُ كَذَلِكَ رَأَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَفْعَلُهُ، وَأَجْمَعَ الْمُسْلِمُونَ قَاطِبَةً مِنْ لَدُنِ الْمُصْطَفَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى يَوْمِنَا هَذَا عَلَى أَنَّ الْفِعْلَ كَانَ فِي أَوَّلِ الْإِسْلَامِ، ثُمَّ نَسَخَهُ الْأَمْرُ بِوَضْعِ الْيَدَيْنِ لِلْمُصَلِّي فِي رُكُوعِهِ، فَإِنْ جَازَ لِابْنِ مَسْعُودٍ فِي فَضْلِهِ وَوَرَعِهِ، وَكَثْرَةِ تَعَاهُدِهِ أَحْكَامَ الدِّينِ، وَتَفَقُّدِهِ أَسْبَابَ الصَّلَاةِ خَلْفَ الْمُصْطَفَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَهُوَ فِي الصَّفِّ الْأَوَّلِ، إِذْ كَانَ مِنْ أُولِي الْأَحْلَامِ وَالنُّهَى أَنْ يَخْفَى عَلَيْهِ مِثْلُ هَذَا الشَّيْءِ الْمُسْتَفِيضِ الَّذِي هُوَ مَنْسُوخٌ بِإِجْمَاعِ الْمُسْلِمِينَ، أَوْ رَآهُ فَنَسِيَهُ، جَازَ أَنْ يَكُونَ رَفْعُ الْمُصْطَفَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَيْهِ عِنْدَ الرُّكُوعِ، وَعِنْدَ رَفْعِ الرَّأْسِ مِنَ الرُّكُوعِ، مِثْلَ التَّشْبِيكِ فِي الرُّكُوعِ أَنْ يَخْفَى عَلَيْهِ ذَلِكَ، أَوْ يَنْسَاهُ بَعْدَ أَنْ رَآهُ».
আসওয়াদ রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আমি এবং আলকামাহ আব্দুল্লাহ বিন মাস‘ঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর কাছে গেলাম। অতঃপর আব্দুল্লাহ বিন মাস‘ঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আমাদের ব্যাপারে বলেন, “এরা কি সালাত করেছে?” আমরা বললাম, “জ্বী না।” তিনি আমাদের বলেন, “আপনারা উঠুন এবং সালাত আদায় করে নিন।” রাবী বলেন, অতঃপর আমরা তাঁর পিছনে দাঁড়ানোর জন্য উদ্যত হলাম। কিন্তু তিনি আমাদের একজনকে তার ডানে রাখলেন, আর অপরজনকে তার বামে রাখলেন। “ অতঃপর তিনি আযান ও ইকামত ছাড়াই সালাত আদায় করলেন। অতঃপর যখনই তিনি রুকূ‘ করেন, তখনই তিনি তার দুই হাতের আঙ্গুলগুলোকে পরস্পরের মাঝে ঢুকিয়ে দেন এবং তা তার দুই হাঁটুর মাঝে স্থাপন করেন। এভাবে যখন তিনি সালাত সম্পন্ন করেন, তখন তিনি বলেন, “এভাবেই আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সালাত আদায় করতে দেখেছি এবং তিনি বলেছেন, “হে লোকসকল, অচিরেই এমন কিছু শাসকের আবির্ভাব হবে, যারা সালাতকে নষ্ট করে দিবে, তারা সালাতকে শ্বাসরোধ করে মৃত্যুর উপকন্ঠে নিয়ে যাবে। কাজেই তোমাদের কেউ এমন অবস্থা পেলে, সে যেন সালাত যথা সময়ে আদায় করে নেয় এবং তাদের সাথে তার সালাতকে নফল বানিয়ে নেয়।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আব্দুল্লাহ বিন মাস‘ঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাদের একজন যারা রুকূ‘তে তাশবীক (দুই হাতের আঙ্গুলসমূহকে পরস্পরের মাঝে ঢুকিয়ে দুই হাঁটুর মাঝে স্থাপন) করতেন এবং তিনি মনে করতেন যে, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এরুপ করতে দেখেছেন। অথচ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জামানা থেকে অদ্যবধি সমস্ত মুসলিম একমত যে, উক্ত আমল ইসলামের প্রথম যুগে ছিল, তারপর সেটি রহিত করে মুসল্লী ব্যক্তিকে রুকূ‘তে দুই হাত স্থাপন করার নির্দেশ দেওয়া হয়। আব্দুল্লাহ বিন মাস‘ঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর প্রভুত মর্যাদা, আল্লাহভীরুতা, দ্বীনের বিধি-বিধানের ব্যাপারে তাঁর প্রচুর গুরুত্বারোপ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পিছনে প্রথম কাতারে থেকে সালাতের বিভিন্ন উপকরণ সম্পর্কে তার খোঁজ-খবর অনুসন্ধান করা উপরন্তু তার বিজ্ঞতা সত্ত্বেও তার কাছে গোপন ছিল এমন একটি বিষয় যা সাহাবীদের মাঝে সুপ্রশিদ্ধ ছিল এবং মুসলিমের সর্বসম্মত মতে তা রহিত ছিল অথবা আব্দুল্লাহ বিন মাস‘ঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রুকূ‘তে দুই হাত স্থাপন করতে দেখেছেন, কিন্তু পরবর্তীতে তিনি সেটা ভুলে যান। কাজেই এই ব্যাপারে যখন এমনটা হতে পারে তাহলে তার ক্ষেত্রে এটাও হতে পারে যে, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রুকূ‘তে যাওয়া, রুকূ‘ থেকে উঠার সময় রফ‘উল ইয়াদাইন করতে দেখেছেন কিন্তু পরবর্তীতে তিনি ভুলে যান অথবা বিষয়টি তার কাছে গোপন ছিল, যেমনটা ঘটেছে তাশবীকের ক্ষেত্রে।”
[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ২/৩৮১; সহীহ মুসলিম: ৫৩৪; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৩৭৮৭; ইবনু হাযম, আল মুহাল্লা: ৩/৪-৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৬২৬)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (626): م.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما.
1875 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الْأَسْوَدِ، قَالَ: دَخَلْتُ أَنَا وَعَلْقَمَةُ عَلَى ابْنِ مَسْعُودٍ، فَقَالَ لَنَا: قُومُوا فَصَلُّوا، فَذَهَبْنَا لِنَقُومَ خَلْفَهُ، «فَأَقَامَ أَحَدَنَا عَنْ يَمِينِهِ، وَالْآخَرَ عَنْ شِمَالِهِ، فَصَلَّى بِنَا بِغَيْرِ أَذَانٍ وَلَا إِقَامَةٍ، فَجَعَلَ إِذَا رَكَعَ طَبَّقَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ، وَجَعَلَهَا بَيْنَ رُكْبَتَيْهِ»، فَلَمَّا صَلَّى قَالَ: «هَكَذَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَعَلَ». [1: 99]
رقم طبعة با وزير = (1872)
আসওয়াদ রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আমি এবং আলকামাহ আব্দুল্লাহ বিন মাস‘ঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর কাছে গেলাম। অতঃপর আব্দুল্লাহ বিন মাস‘ঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আমাদের বলেন, “আপনারা উঠুন এবং সালাত আদায় করে নিন।” রাবী বলেন, অতঃপর আমরা তাঁর পিছনে দাঁড়ানোর জন্য উদ্যত হলাম। কিন্তু তিনি আমাদের একজনকে তার ডানে রাখলেন, আর অপরজনকে তার বামে রাখলেন। “ অতঃপর তিনি আযান ও ইকামত ছাড়াই সালাত আদায় করলেন। অতঃপর যখনই তিনি রুকূ‘ করেন, তখনই তিনি তার দুই হাতের আঙ্গুলগুলোকে পরস্পরের মাঝে ঢুকিয়ে দেন এবং তা তার দুই হাঁটুর মাঝে স্থাপন করেন। এভাবে যখন তিনি সালাত সম্পন্ন করেন, তখন তিনি বলেন, “এভাবেই আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সালাত আদায় করতে দেখেছি।”[1]
[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ২/৩৮১; সহীহ মুসলিম: ৫৩৪; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৩৭৮৭; ইবনু হাযম, আল মুহাল্লা: ৩/৪-৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৬২৬)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر ما قبله.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما، وهو مكرر ما قبله.
1876 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، مَوْلَى ثَقِيفٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى الْأَزْدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا حُمَيْدٍ السَّاعِدِيَّ، فِي عَشْرَةٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَحَدُهُمْ أَبُو قَتَادَةَ، قَالَ أَبُو حُمَيْدٍ: أَنَا أَعْلَمُكُمْ بِصَلَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ [ص:196] عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالُوا لَهُ: وَلِمَ؟ فَوَاللَّهِ مَا كُنْتَ أَكْثَرَنَا لَهُ تَبَعَةً، وَلَا أَقْدَمَنَا لَهُ صُحْبَةً، قَالَ: بَلَى، قَالُوا: فَاعْرِضْ، قَالَ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلَاةِ كَبَّرَ، وَرَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ، وَيَقِرَّ كُلُّ عَظْمٍ فِي مَوْضِعِهِ مُعْتَدِلًا، ثُمَّ يَقْرَأُ، ثُمَّ يُكَبِّرُ، وَيَرْفَعُ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ، وَيَرْكَعُ، وَيَضَعُ رَاحَتَيْهِ عَلَى رُكْبَتَيْهِ، ثُمَّ يَعْتَدِلُ فَلَا يُصَوِّبُ رَأْسَهُ وَلَا يَرْفَعُهُ، ثُمَّ يَرْفَعُ رَأْسَهُ، وَيَقُولُ: سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ، وَيَرْفَعُ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ مُعْتَدِلًا، ثُمَّ يَقُولُ: اللَّهُ أَكْبَرُ، ثُمَّ يَهْوِي إِلَى الْأَرْضِ، وَيُجَافِي يَدَيْهِ عَنْ جَنْبَيْهِ، ثُمَّ يَرْفَعُ رَأْسَهُ، فَيَثْنِي رِجْلَهُ الْيُسْرَى، فَيَقْعُدُ عَلَيْهَا وَيَفْتَحُ أَصَابِعَ رِجْلَيْهِ إِذَا سَجَدَ، ثُمَّ يَعُودُ فَيَسْجُدُ، وَيَرْفَعُ رَأْسَهُ وَيَقُولُ: اللَّهُ أَكْبَرُ، وَيَثْنِي رِجْلَهُ الْيُسْرَى، فَيَقْعُدُ عَلَيْهَا حَتَّى يَعُودَ كُلُّ عَظْمٍ إِلَى مَوْضِعِهِ مُعْتَدِلًا، ثُمَّ يَصْنَعُ فِي الرَّكْعَةِ الْأُخْرَى مِثْلَ ذَلِكَ، وَإِذَا قَامَ مِنَ الثِّنْتَيْنِ كَبَّرَ، وَرَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ، كَمَا صَنَعَ عِنْدَ افْتِتَاحِ الصَّلَاةِ، ثُمَّ صَنَعَ مِثْلَ ذَلِكَ فِي بَقِيَّةِ صَلَاتِهِ، حَتَّى إِذَا كَانَتْ قَعْدَةُ السَّجْدَةِ الَّتِي فِيهَا التَّسْلِيمُ، أَخَّرَ رِجْلَهُ الْيُسْرَى، وَقَعَدَ مُتَوَرِّكًا عَلَى شِقِّهِ الْأَيْسَرِ» قَالُوا جَمِيعًا: هَكَذَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي. [5: 2]
رقم طبعة با وزير = (1873)
মুহাম্মাদ বিন আমর বিন আতা রহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি আবূ হুমাইদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে দশজন সাহাবীর মাঝে এই হাদীস বলতে শুনেছি, তাদের মাঝে একজন আবূ কাতাদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু, আবূ হুমাইদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আমি আপনাদের মাঝে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাতের বিষয়ে সবচেয়ে বেশি অবগত।” তখন অন্যান্য সাহাবীগণ বললেন, “এটা কিভাবে? আল্লাহর কসম! আপনি তো আমাদের মাঝে অনুসারী হওয়ার দিক দিয়েও আধিক্যের অধিকারী না, সাহাবী হওয়ার দিক থেকে অগ্রগামী ছিলেন না !” জবাবে তিনি বলেন, “হ্যাঁ।” তাঁরা বললেন, “তবে আপনি (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাতের বিবরণ) পেশ করুন।” তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সালাতে দাঁড়াতেন, তখন তাকবীর দিতেন, এবং রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন, এমনকি হাত কাঁধ বরাবর করতেন। এসময় তাঁর প্রতিটি হাড় স্বস্থানে সোজাভাবে ফিরে যেতো। তারপর কিরা‘আত পাঠ করতেন। তারপর তাকবীর দিতেন এবং রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন, এমনকি তা কাঁধ বরাবর করতেন এবং রুকূ‘ করতেন, রুকূ‘তে তিনি দুই হাতের তালূকে হাঁটুর উপর রাখতেন। তারপর রুকূ‘তে পিঠ সোজা রাখতেন; পিঠকে উঁচু করতেন না আবার নিচুও করতেন না। তারপর রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করতেন, বলতেন, سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ (আল্লাহ শ্রবণ করেন, যে তাঁর প্রশংসা করে) এবং রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন, এমনকি তা কাঁধ বরাবর করতেন। তারপর সোজা হয়ে দাঁড়াতেন। তারপর আল্লাহু আকবার বলতেন, তারপর সাজদা করার জন্য জমিনের দিকে ধাবিত হতেন। তারপর সাজদায় দুই হাতকে দুই পার্শ্ব থেকে দূরে রাখতেন। তারপর তিনি সাজদা থেকে মাথা উত্তোলন করতেন এবং বাম পা বিছিয়ে তার উপর বসতেন। তিনি সাজদার সময় পায়ের আঙ্গুলগুলোকে খোলা রাখতেন। তারপর তিনি পুনরায় সাজদা করতেন। তারপর সাজদা থেকে থেকে মাথা উত্তোলন করতেন এবং বাম পা বিছিয়ে তার উপর বসতেন, এমনকি তার প্রতিটি হাড় স্বস্থানে সোজা ফিরে যেতো। তারপর পরের রাকা‘আতেও অনুরুপ করতেন। তারপর যখন দ্বিতীয় রাকা‘আত থেকে দাঁড়াতেন, তখন তাকবীর দিতেন এবং রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন, এমনকি হাত কাঁধ বরাবর করতেন যেমনটা তিনি সালাত শুরু করার সময় করতেন। তারপর বাকী সালাতেও অনুরুপ করতেন। এভাবে যখন শেষ বৈঠকে বসতেন, তখন তিনি বাম পা বের করে দিতেন এবং বাম পায়ের উপর তাওয়ার্রুক করে বসতেন।” তখন অন্যান্য সাহাবীগণ বলেন, “এভাবেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাত আদায় করতেন।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৫/৪২৪; ইমাম বুখারী, কুররাতুল আইনাইন: ৫; আবূ দাঊদ: ৭৩০, ৯৬৩; তিরমিযী: ৩০৪; নাসাঈ: ৩/৩৪; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৫৫৫; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৫৮৭; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/২৩৫; বাইহাকী: ২/২৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৭২০)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر (1862). تنبيه!! رقم (1862) = (1865) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح، وهو مكرر (1867).
1877 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ، وَعُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ بُجَيْرٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الثَّقَفِيُّ، قَالُوا: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى الصَّنْعَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ: سَمِعْتُ عُبَيْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَنَّهُ كَانَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ إِذَا دَخَلَ فِي الصَّلَاةِ، وَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَرْكَعَ، وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ، وَإِذَا قَامَ مِنَ الرَّكْعَتَيْنِ رَفَعَ يَدَيْهِ فِي ذَلِكَ كُلِّهِ حَذْوَ الْمَنْكِبَيْنِ. [5: 4]
رقم طبعة با وزير = (1874)
আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সালাতের সূচনা করতেন, তখন রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন। যখন তিনি রুকূ‘ করার ইচ্ছা করতেন, রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করতেন এবং যখন তিনি দ্বিতীয় রাকা‘আত থেকে দাঁড়াতেন, তখন তিনি কাঁধ বরাবর রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন।”[1]
[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/৭৫; সহীহ আল বুখারী: ৭৩৫; আবূ দাঊদ: ৭৪২; নাসাঈ: ২/১২২; দারেমী: ১/২৮৫; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/২২৩; সুনান বাইহাকী: ২/৬৯; বাগাবী: ৫৫৯; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ২৫১৮; সহহি মুসলিম: ৩৯০; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৪৫৬; মুসনাদ ইমাম শাফে‘ঈ: ১/৭০; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/২৩৪; ইবনুল জারূদ: ১৭৮; বাগাবী: ৫৬১। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৭১২)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر (1865). تنبيه!! رقم (1865) = (1868) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم، محمد بن عبد الأعلى الصَّنعاني: ثقة من رجال مسلم، ومن فوقه من رجال الشيخين.
1878 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَرُوبَةَ الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَوْدُودٍ بِحَرَّانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَمْرٍو الْبَجَلِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، عَنِ الْمُسَيِّبِ بْنِ رَافِعٍ، عَنْ تَمِيمِ بْنِ طَرَفَةَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ: دَخَلَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَإِذَا النَّاسُ رَافِعُو أَيْدِيهِمْ فِي الصَّلَاةِ، [ص:198] فَقَالَ: «مَا لِي أَرَاكُمْ رَافِعِي أَيْدِيكُمْ كَأَنَّهَا أَذْنَابُ خَيْلٍ شُمْسٍ؟ اسْكُنُوا فِي الصَّلَاةِ». [1: 24]
رقم طبعة با وزير = (1875)
জাবির বিন সামুরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার আমাদের কাছে আসেন, সে সময় লোকজন সালাতে হাত উঠিয়ে ছিলেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আমার কী হলো যে, আমি তোমাদেরকে দেখতে পাচ্ছি যে, তোমরা তোমাদের হাত উঠিয়ে রেখেছো, যেন তা অবাধ্য ঘোড়ার লেজের ন্যায়। তোমরা সালাতে শান্ত থাকবে।”[1]
[1] তাবারানী আল কাবীর: ১৮২৭; মুসনাদ আহমাদ: ৫/১০১; সহীহ মুসলিম: ৪৩০; নাসাঈ: ৩/৪; সুনান বাইহাকী: ২/২৮০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৯১৮)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (918): م.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن، عبد الرحمن بن عمرو البجلي الحراني: سئل عنه أبو زرعة –كما في «الجرح والتعديل» 5/ 267 - فقال: شيخ، وذكره المؤلف في «الثقات» 8/ 380، وأرَّخ وفاته سنة 230هـ، وقد توبع عليه، وباقي رجاله ثقات، رجال الصحيح.
1879 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ يُوسُفَ، قَالَ: حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ خَالِدٍ الْعَسْكَرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ، قَالَ: سَمِعْتُ الْمُسَيِّبَ بْنَ رَافِعٍ، عَنْ تَمِيمِ بْنِ طَرَفَةَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ [ص:199] دَخَلَ الْمَسْجِدَ فَأَبْصَرَ قَوْمًا قَدْ رَفَعُوا أَيْدِيهِمْ، فَقَالَ: «قَدْ رَفَعُوهَا كَأَنَّهَا أَذْنَابُ خَيْلٍ شُمْسٍ، اسْكُنُوا فِي الصَّلَاةِ». [1: 24]
رقم طبعة با وزير = (1876)
জাবির বিন সামুরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার মাসজিদে প্রবেশ করেন, অতঃপর তিনি লোকজনকে দেখলেন, তারা সালাতে হাত উঠিয়েছেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তারা হাত এমনভাবে উঠিয়েছে যেন তা অবাধ্য ঘোড়ার লেজের ন্যায়। তোমরা সালাতে শান্ত থাকবে।”[1]
[1] তাবারানী আল কাবীর: ১৮২৭; মুসনাদ আহমাদ: ৫/১০১; সহীহ মুসলিম: ৪৩০; নাসাঈ: ৩/৪; সুনান বাইহাকী: ২/২৮০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৯১৮)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: م - انظر ما قبله.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم.
1880 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ سَعِيدٍ السَّعْدِيُّ، قَالَا: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ خَشْرَمٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنْ مِسْعَرٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ الْقِبْطِيَّةِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ: كُنَّا إِذَا صَلَّيْنَا خَلْفَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قُلْنَا بِأَيْدِينَا: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ يَمِينًا وَشِمَالًا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا لِي أَرَى أَيْدِيَكُمْ كَأَنَّهَا أَذْنَابُ خَيْلٍ شُمْسٍ، إِنَّمَا يَكْفِي أَحَدَكُمْ أَنْ يَضَعَ يَدَيْهِ عَلَى فَخِذِهِ ثُمَّ يُسَلِّمُ عَنْ يَمِينِهِ وَعَنْ شِمَالِهِ». [1: 24]
رقم طبعة با وزير = (1877)
জাবির বিন সামুরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “যখন আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পিছনে সালাত আদায় করতাম, তখন ডানে-বামে হাত বাড়িয়ে বলতাম السَّلَامُ عَلَيْكُمْ (আপনাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক)। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আমার কী হলো যে, আমি তোমাদের হাত দেখতে পাচ্ছি, যেন তা অবাধ্য ঘোড়ার লেজের ন্যায়। নিশ্চয়েই তোমাদের জন্য এটাই যথেষ্ট যে, তোমরা উরুর উপর হাত রাখবে তারপর ডানে ও বামে সালাম ফেরাবে।”[1]
[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৭৩৩; মুসনাদ্ ইমাম শাফে‘ঈ: ১/৯২; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৩১৩৫; হুমাইদী: ৮৯৬; মুসনাদ আহমাদ: ৫/৮৬; আবূ দাঊদ: ৯৯৮; নাসাঈ: ৩/৪-৫; তাবারানী আল কাবীর: ১৮৭৭; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৬৯৯; মুসনাদ আহমাদ: ৫/১০১; সহীহ মুসলিম: ৪৩০; নাসাঈ: ৩/৪; সুনান বাইহাকী: ২/২৮০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৯১৬)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (916): م. قال الناشر: وقع ترقيم هذا الحديث في طبعة المؤسسة - خطأ - مكرر ما قبله! تنبيه!! قول الناشر: وقع ترقيم هذا الحديث في «طبعة المؤسسة» - خطأ - مكرر ما قبله! هذا غير صحيح بل إن رقم (1879) موجود والذي يليه (1880) .. مسلسل بدون أخطاء. - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم.