হাদীস বিএন


সহীহ ইবনু হিব্বান





সহীহ ইবনু হিব্বান (1872)


1872 - أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ الْجُمَحِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عَلَيْهِ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلَابَةَ، عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ، قَالَ: أَتَيْنَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَنَحْنُ شَبَبَةٌ مُتَقَارِبُونَ، فَأَقَمْنَا عِنْدَهُ عِشْرِينَ لَيْلَةً فَظَنَّ أَنَّا قَدِ اشْتَقْنَا أَهْلِينَا، سَأَلْنَا عَمَّنْ تَرَكْنَا مِنْ أَهْلِينَا، فَأَخْبَرْنَاهُ، وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَحِيمًا رَفِيقًا، فَقَالَ: «[ص:191] ارْجِعُوا إِلَى أَهْلِيكُمْ، فَعَلِّمُوهُمْ، وَمُرُوهُمْ، وَصَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أُصَلِّي، فَإِذَا حَضَرَتِ الصَّلَاةُ، فَلْيُؤَذِّنْ أَحَدُكُمْ، وَلْيَؤُمَّكُمْ أَكْبَرُكُمْ». [5: 4]
رقم طبعة با وزير = (1869)




মালিক বিন হুরাইরিস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমরা (আমাদের এলাকা থেকে) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসি, আমরা ছিলাম কাছাকাছি বয়সের যুবক। অতঃপর আমরা তাঁর কাছে কুড়ি রাত অবস্থান করি। অতঃপর তিনি মনে করলেন যে, আমরা হয়তো আমাদের পরিবারে প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছি। ফলে তিনি আমাদের জিজ্ঞেস করলেন যে, আমরা বাড়িতে কাদের রেখে এসেছি। আমরা তাকে আমাদের বৃত্তান্ত জানাই। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অত্যন্ত দয়ালূ, বন্ধুসুলভ মানুষ ছিলেন। তিনি বললেন, “তোমরা তোমাদের পরিবারের কাছে ফিরে যাও, গিয়ে তাদের দ্বীন শিক্ষা দিবে, তাদের বিভিন্ন আমলের নির্দেশ দিবে এবং ঠিক সেভাবে সালাত আদায় করবে যেভাবে সালাত আদায় করতে দেখেছো। আর যখন সালাতের সময় ‍উপস্থিত হবে, তখন আপনাদের কেউ যেন আযান দেয় আর তোমাদের মাঝে বয়সে প্রবীণ ব্যক্তি যেন সালাতের ইমামতি করেন।”[1]



[1] সহীহ আল বুখারী: ৬০০৮; আদাবুল মুফরাদ: ২১৩; সুনান আবূ দাঊদ: ৫৮৯; সুনান বাইহাকী: ৩/১২০; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৪৩৬; সহীহ মুসলিম: ৬৭৪; নাসাঈ: ২/৯; তাবারানী: ১৯/৬৪০; দারাকুতনী: ১/২৭২-২৭৩; দারেমী: ১/২৮৬; আবূ আওয়ানা: ১/৩৩১; মুসনাদ ইমাম শাফে‘ঈ: ১/১২৯; তাহাবী, মুশকিলুল আসার: ২/২৯৬; ইবনু মাজাহ: ৯৭৯; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৪৩১; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৩৯৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (ইরওয়াউল গালীল: ২১৩)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الإرواء» (213).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط البخاري، رجاله رجال الشيخين غير مسدد بن مسرهد، فإنه من رجال البخاري.









সহীহ ইবনু হিব্বান (1873)


1873 - أَخْبَرَنَا شَبَّابُ بْنُ صَالِحٍ، بِوَاسِطٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا خَالِدٌ، عَنْ خَالِدٍ، عَنْ أَبِي قِلَابَةَ: أَنَّهُ رَأَى مَالِكَ بْنَ الْحُوَيْرِثِ: «إِذَا صَلَّى كَبَّرَ، وَرَفَعَ يَدَيْهِ، وَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَرْكَعَ رَفَعَ يَدَيْهِ، وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ، رَفَعَ يَدَيْهِ، وَحَدَّثَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَفْعَلُ هَكَذَا». [5: 4]
رقم طبعة با وزير = (1870)




আবূ কিলাবা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “মালিক বিন হুওয়াইরিস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু যখন সালাত শুরু করতেন, তাকবীর দিতেন এবং রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন। আর যখন রুকূ‘ করার ইচ্ছা করতে চাইতেন, রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন এবং যখন রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করতেন, তখনও তিনি অনুরুপভাবে রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন এবং তিনি বলতেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও এরকম করতেন।” [1]



[1] সহীহ আবূ দাঊদ: ৩৩০; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/২৩৩; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৪৩৬; ইমাম বুখারী, কুররাতুল আইনাইন: ১৭-১৮ পৃষ্ঠা; সহীহ মুসলিম: ৩৯১; নাসাঈ: ২/১২৩; ইবনু মাজাহ: ৮৫৯; দারাকুতনী: ১/২৯২; তাবারানী: ১৯/৬২৬; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/২২৪; সুনান বাইহাকী: ২/২৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৩৩০)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (730): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم، وهب بن بقية: ثقة من رجال مسلم، ومن فوقه من رجال الشيخين، خالد الأول: هو ابن عبد الله الواسطي، والثاني هو خالد بن مهران الحذاء.









সহীহ ইবনু হিব্বান (1874)


1874 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الْأَسْوَدِ، قَالَ: دَخَلْتُ أَنَا وَعَلْقَمَةُ عَلَى ابْنِ مَسْعُودٍ، فَقَالَ لَنَا: أَصَلَّى هَؤُلَاءِ؟ فَقُلْنَا: لَا، قَالَ: فَقُومُوا فَصَلُّوا، فَذَهَبْنَا لِنَقُومَ خَلْفَهُ، «فَجَعَلَ أَحَدَنَا عَنْ يَمِينِهِ، وَالْآخَرَ عَنْ شِمَالِهِ، فَصَلَّى بِغَيْرِ أَذَانٍ وَلَا إِقَامَةٍ، فَجَعَلَ إِذَا رَكَعَ شَبَّكَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ فِي الصَّلَاةِ، فَجَعَلَهَا بَيْنَ رُكْبَتَيْهِ»، فَلَمَّا صَلَّى، قَالَ: هَكَذَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي، وَقَالَ: «يَا أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّهَا سَتَكُونُ عَلَيْكُمْ أُمَرَاءُ يُمِيتُونَ الصَّلَاةَ يَخْنُقُونَهَا إِلَى شَرَقِ الْمَوْتَى، فَمَنْ أَدْرَكَ ذَلِكَ مِنْكُمْ، فَلْيُصَلِّ الصَّلَاةَ لِوَقْتِهَا، وَلْيَجْعَلْ صَلَاتَهُ مَعَهُمْ سُبْحَةً». [5: 4]
رقم طبعة با وزير = (1871) [ص:194] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «كَانَ ابْنُ مَسْعُودٍ رَحِمَهُ اللَّهُ مِمَّنْ يُشَبِّكُ يَدَيْهِ فِي الرُّكُوعِ، وَزَعَمَ أَنَّهُ كَذَلِكَ رَأَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَفْعَلُهُ، وَأَجْمَعَ الْمُسْلِمُونَ قَاطِبَةً مِنْ لَدُنِ الْمُصْطَفَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى يَوْمِنَا هَذَا عَلَى أَنَّ الْفِعْلَ كَانَ فِي أَوَّلِ الْإِسْلَامِ، ثُمَّ نَسَخَهُ الْأَمْرُ بِوَضْعِ الْيَدَيْنِ لِلْمُصَلِّي فِي رُكُوعِهِ، فَإِنْ جَازَ لِابْنِ مَسْعُودٍ فِي فَضْلِهِ وَوَرَعِهِ، وَكَثْرَةِ تَعَاهُدِهِ أَحْكَامَ الدِّينِ، وَتَفَقُّدِهِ أَسْبَابَ الصَّلَاةِ خَلْفَ الْمُصْطَفَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَهُوَ فِي الصَّفِّ الْأَوَّلِ، إِذْ كَانَ مِنْ أُولِي الْأَحْلَامِ وَالنُّهَى أَنْ يَخْفَى عَلَيْهِ مِثْلُ هَذَا الشَّيْءِ الْمُسْتَفِيضِ الَّذِي هُوَ مَنْسُوخٌ بِإِجْمَاعِ الْمُسْلِمِينَ، أَوْ رَآهُ فَنَسِيَهُ، جَازَ أَنْ يَكُونَ رَفْعُ الْمُصْطَفَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَيْهِ عِنْدَ الرُّكُوعِ، وَعِنْدَ رَفْعِ الرَّأْسِ مِنَ الرُّكُوعِ، مِثْلَ التَّشْبِيكِ فِي الرُّكُوعِ أَنْ يَخْفَى عَلَيْهِ ذَلِكَ، أَوْ يَنْسَاهُ بَعْدَ أَنْ رَآهُ».




আসওয়াদ রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আমি এবং আলকামাহ আব্দুল্লাহ বিন মাস‘ঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর কাছে গেলাম। অতঃপর আব্দুল্লাহ বিন মাস‘ঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আমাদের ব্যাপারে বলেন, “এরা কি সালাত করেছে?” আমরা বললাম, “জ্বী না।” তিনি আমাদের বলেন, “আপনারা উঠুন এবং সালাত আদায় করে নিন।” রাবী বলেন, অতঃপর আমরা তাঁর পিছনে দাঁড়ানোর জন্য উদ্যত হলাম। কিন্তু তিনি আমাদের একজনকে তার ডানে রাখলেন, আর অপরজনকে তার বামে রাখলেন। “ অতঃপর তিনি আযান ও ইকামত ছাড়াই সালাত আদায় করলেন। অতঃপর যখনই তিনি রুকূ‘ করেন, তখনই তিনি তার দুই হাতের আঙ্গুলগুলোকে পরস্পরের মাঝে ঢুকিয়ে দেন এবং তা তার দুই হাঁটুর মাঝে স্থাপন করেন। এভাবে যখন তিনি সালাত সম্পন্ন করেন, তখন তিনি বলেন, “এভাবেই আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সালাত আদায় করতে দেখেছি এবং তিনি বলেছেন, “হে লোকসকল, অচিরেই এমন কিছু শাসকের আবির্ভাব হবে, যারা সালাতকে নষ্ট করে দিবে, তারা সালাতকে শ্বাসরোধ করে মৃত্যুর উপকন্ঠে নিয়ে যাবে। কাজেই তোমাদের কেউ এমন অবস্থা পেলে, সে যেন সালাত যথা সময়ে আদায় করে নেয় এবং তাদের সাথে তার সালাতকে নফল বানিয়ে নেয়।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আব্দুল্লাহ বিন মাস‘ঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাদের একজন যারা রুকূ‘তে তাশবীক (দুই হাতের আঙ্গুলসমূহকে পরস্পরের মাঝে ঢুকিয়ে দুই হাঁটুর মাঝে স্থাপন) করতেন এবং তিনি মনে করতেন যে, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এরুপ করতে দেখেছেন। অথচ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জামানা থেকে অদ্যবধি সমস্ত মুসলিম একমত যে, উক্ত আমল ইসলামের প্রথম যুগে ছিল, তারপর সেটি রহিত করে মুসল্লী ব্যক্তিকে রুকূ‘তে দুই হাত স্থাপন করার নির্দেশ দেওয়া হয়। আব্দুল্লাহ বিন মাস‘ঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর প্রভুত মর্যাদা, আল্লাহভীরুতা, দ্বীনের বিধি-বিধানের ব্যাপারে তাঁর প্রচুর গুরুত্বারোপ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পিছনে প্রথম কাতারে থেকে সালাতের বিভিন্ন উপকরণ সম্পর্কে তার খোঁজ-খবর অনুসন্ধান করা উপরন্তু তার বিজ্ঞতা সত্ত্বেও তার কাছে গোপন ছিল এমন একটি বিষয় যা সাহাবীদের মাঝে সুপ্রশিদ্ধ ছিল এবং মুসলিমের সর্বসম্মত মতে তা রহিত ছিল অথবা আব্দুল্লাহ বিন মাস‘ঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রুকূ‘তে দুই হাত স্থাপন করতে দেখেছেন, কিন্তু পরবর্তীতে তিনি সেটা ভুলে যান। কাজেই এই ব্যাপারে যখন এমনটা হতে পারে তাহলে তার ক্ষেত্রে এটাও হতে পারে যে, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রুকূ‘তে যাওয়া, রুকূ‘ থেকে উঠার সময় রফ‘উল ইয়াদাইন করতে দেখেছেন কিন্তু পরবর্তীতে তিনি ভুলে যান অথবা বিষয়টি তার কাছে গোপন ছিল, যেমনটা ঘটেছে তাশবীকের ক্ষেত্রে।”



[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ২/৩৮১; সহীহ মুসলিম: ৫৩৪; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৩৭৮৭; ইবনু হাযম, আল মুহাল্লা: ৩/৪-৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৬২৬)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (626): م.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما.









সহীহ ইবনু হিব্বান (1875)


1875 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الْأَسْوَدِ، قَالَ: دَخَلْتُ أَنَا وَعَلْقَمَةُ عَلَى ابْنِ مَسْعُودٍ، فَقَالَ لَنَا: قُومُوا فَصَلُّوا، فَذَهَبْنَا لِنَقُومَ خَلْفَهُ، «فَأَقَامَ أَحَدَنَا عَنْ يَمِينِهِ، وَالْآخَرَ عَنْ شِمَالِهِ، فَصَلَّى بِنَا بِغَيْرِ أَذَانٍ وَلَا إِقَامَةٍ، فَجَعَلَ إِذَا رَكَعَ طَبَّقَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ، وَجَعَلَهَا بَيْنَ رُكْبَتَيْهِ»، فَلَمَّا صَلَّى قَالَ: «هَكَذَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَعَلَ». [1: 99]
رقم طبعة با وزير = (1872)




আসওয়াদ রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আমি এবং আলকামাহ আব্দুল্লাহ বিন মাস‘ঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর কাছে গেলাম। অতঃপর আব্দুল্লাহ বিন মাস‘ঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আমাদের বলেন, “আপনারা উঠুন এবং সালাত আদায় করে নিন।” রাবী বলেন, অতঃপর আমরা তাঁর পিছনে দাঁড়ানোর জন্য উদ্যত হলাম। কিন্তু তিনি আমাদের একজনকে তার ডানে রাখলেন, আর অপরজনকে তার বামে রাখলেন। “ অতঃপর তিনি আযান ও ইকামত ছাড়াই সালাত আদায় করলেন। অতঃপর যখনই তিনি রুকূ‘ করেন, তখনই তিনি তার দুই হাতের আঙ্গুলগুলোকে পরস্পরের মাঝে ঢুকিয়ে দেন এবং তা তার দুই হাঁটুর মাঝে স্থাপন করেন। এভাবে যখন তিনি সালাত সম্পন্ন করেন, তখন তিনি বলেন, “এভাবেই আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সালাত আদায় করতে দেখেছি।”[1]



[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ২/৩৮১; সহীহ মুসলিম: ৫৩৪; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৩৭৮৭; ইবনু হাযম, আল মুহাল্লা: ৩/৪-৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৬২৬)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر ما قبله.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما، وهو مكرر ما قبله.









সহীহ ইবনু হিব্বান (1876)


1876 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، مَوْلَى ثَقِيفٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى الْأَزْدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا حُمَيْدٍ السَّاعِدِيَّ، فِي عَشْرَةٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَحَدُهُمْ أَبُو قَتَادَةَ، قَالَ أَبُو حُمَيْدٍ: أَنَا أَعْلَمُكُمْ بِصَلَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ [ص:196] عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالُوا لَهُ: وَلِمَ؟ فَوَاللَّهِ مَا كُنْتَ أَكْثَرَنَا لَهُ تَبَعَةً، وَلَا أَقْدَمَنَا لَهُ صُحْبَةً، قَالَ: بَلَى، قَالُوا: فَاعْرِضْ، قَالَ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلَاةِ كَبَّرَ، وَرَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ، وَيَقِرَّ كُلُّ عَظْمٍ فِي مَوْضِعِهِ مُعْتَدِلًا، ثُمَّ يَقْرَأُ، ثُمَّ يُكَبِّرُ، وَيَرْفَعُ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ، وَيَرْكَعُ، وَيَضَعُ رَاحَتَيْهِ عَلَى رُكْبَتَيْهِ، ثُمَّ يَعْتَدِلُ فَلَا يُصَوِّبُ رَأْسَهُ وَلَا يَرْفَعُهُ، ثُمَّ يَرْفَعُ رَأْسَهُ، وَيَقُولُ: سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ، وَيَرْفَعُ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ مُعْتَدِلًا، ثُمَّ يَقُولُ: اللَّهُ أَكْبَرُ، ثُمَّ يَهْوِي إِلَى الْأَرْضِ، وَيُجَافِي يَدَيْهِ عَنْ جَنْبَيْهِ، ثُمَّ يَرْفَعُ رَأْسَهُ، فَيَثْنِي رِجْلَهُ الْيُسْرَى، فَيَقْعُدُ عَلَيْهَا وَيَفْتَحُ أَصَابِعَ رِجْلَيْهِ إِذَا سَجَدَ، ثُمَّ يَعُودُ فَيَسْجُدُ، وَيَرْفَعُ رَأْسَهُ وَيَقُولُ: اللَّهُ أَكْبَرُ، وَيَثْنِي رِجْلَهُ الْيُسْرَى، فَيَقْعُدُ عَلَيْهَا حَتَّى يَعُودَ كُلُّ عَظْمٍ إِلَى مَوْضِعِهِ مُعْتَدِلًا، ثُمَّ يَصْنَعُ فِي الرَّكْعَةِ الْأُخْرَى مِثْلَ ذَلِكَ، وَإِذَا قَامَ مِنَ الثِّنْتَيْنِ كَبَّرَ، وَرَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ، كَمَا صَنَعَ عِنْدَ افْتِتَاحِ الصَّلَاةِ، ثُمَّ صَنَعَ مِثْلَ ذَلِكَ فِي بَقِيَّةِ صَلَاتِهِ، حَتَّى إِذَا كَانَتْ قَعْدَةُ السَّجْدَةِ الَّتِي فِيهَا التَّسْلِيمُ، أَخَّرَ رِجْلَهُ الْيُسْرَى، وَقَعَدَ مُتَوَرِّكًا عَلَى شِقِّهِ الْأَيْسَرِ» قَالُوا جَمِيعًا: هَكَذَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي. [5: 2]
رقم طبعة با وزير = (1873)




মুহাম্মাদ বিন আমর বিন আতা রহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি আবূ হুমাইদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে দশজন সাহাবীর মাঝে এই হাদীস বলতে শুনেছি, তাদের মাঝে একজন আবূ কাতাদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু, আবূ হুমাইদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আমি আপনাদের মাঝে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাতের বিষয়ে সবচেয়ে বেশি অবগত।” তখন অন্যান্য সাহাবীগণ বললেন, “এটা কিভাবে? আল্লাহর কসম! আপনি তো আমাদের মাঝে অনুসারী হওয়ার দিক দিয়েও আধিক্যের অধিকারী না, সাহাবী হওয়ার দিক থেকে অগ্রগামী ছিলেন না !” জবাবে তিনি বলেন, “হ্যাঁ।” তাঁরা বললেন, “তবে আপনি (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাতের বিবরণ) পেশ করুন।” তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সালাতে দাঁড়াতেন, তখন তাকবীর দিতেন, এবং রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন, এমনকি হাত কাঁধ বরাবর করতেন। এসময় তাঁর প্রতিটি হাড় স্বস্থানে সোজাভাবে ফিরে যেতো। তারপর কিরা‘আত পাঠ করতেন। তারপর তাকবীর দিতেন এবং রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন, এমনকি তা কাঁধ বরাবর করতেন এবং রুকূ‘ করতেন, রুকূ‘তে তিনি দুই হাতের তালূকে হাঁটুর উপর রাখতেন। তারপর রুকূ‘তে পিঠ সোজা রাখতেন; পিঠকে উঁচু করতেন না আবার নিচুও করতেন না। তারপর রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করতেন, বলতেন, سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ (আল্লাহ শ্রবণ করেন, যে তাঁর প্রশংসা করে) এবং রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন, এমনকি তা কাঁধ বরাবর করতেন। তারপর সোজা হয়ে দাঁড়াতেন। তারপর আল্লাহু আকবার বলতেন, তারপর সাজদা করার জন্য জমিনের দিকে ধাবিত হতেন। তারপর সাজদায় দুই হাতকে দুই পার্শ্ব থেকে দূরে রাখতেন। তারপর তিনি সাজদা থেকে মাথা উত্তোলন করতেন এবং বাম পা বিছিয়ে তার উপর বসতেন। তিনি সাজদার সময় পায়ের আঙ্গুলগুলোকে খোলা রাখতেন। তারপর তিনি পুনরায় সাজদা করতেন। তারপর সাজদা থেকে থেকে মাথা উত্তোলন করতেন এবং বাম পা বিছিয়ে তার উপর বসতেন, এমনকি তার প্রতিটি হাড় স্বস্থানে সোজা ফিরে যেতো। তারপর পরের রাকা‘আতেও অনুরুপ করতেন। তারপর যখন দ্বিতীয় রাকা‘আত থেকে দাঁড়াতেন, তখন তাকবীর দিতেন এবং রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন, এমনকি হাত কাঁধ বরাবর করতেন যেমনটা তিনি সালাত শুরু করার সময় করতেন। তারপর বাকী সালাতেও অনুরুপ করতেন। এভাবে যখন শেষ বৈঠকে বসতেন, তখন তিনি বাম পা বের করে দিতেন এবং বাম পায়ের উপর তাওয়ার্রুক করে বসতেন।” তখন অন্যান্য সাহাবীগণ বলেন, “এভাবেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাত আদায় করতেন।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ৫/৪২৪; ইমাম বুখারী, কুররাতুল আইনাইন: ৫; আবূ দাঊদ: ৭৩০, ৯৬৩; তিরমিযী: ৩০৪; নাসাঈ: ৩/৩৪; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৫৫৫; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৫৮৭; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/২৩৫; বাইহাকী: ২/২৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৭২০)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر (1862). تنبيه!! رقم (1862) = (1865) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح، وهو مكرر (1867).









সহীহ ইবনু হিব্বান (1877)


1877 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ، وَعُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ بُجَيْرٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الثَّقَفِيُّ، قَالُوا: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى الصَّنْعَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ: سَمِعْتُ عُبَيْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَنَّهُ كَانَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ إِذَا دَخَلَ فِي الصَّلَاةِ، وَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَرْكَعَ، وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ، وَإِذَا قَامَ مِنَ الرَّكْعَتَيْنِ رَفَعَ يَدَيْهِ فِي ذَلِكَ كُلِّهِ حَذْوَ الْمَنْكِبَيْنِ. [5: 4]
رقم طبعة با وزير = (1874)




আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সালাতের সূচনা করতেন, তখন রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন। যখন তিনি রুকূ‘ করার ইচ্ছা করতেন, রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করতেন এবং যখন তিনি দ্বিতীয় রাকা‘আত থেকে দাঁড়াতেন, তখন তিনি কাঁধ বরাবর রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন।”[1]



[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/৭৫; সহীহ আল বুখারী: ৭৩৫; আবূ দাঊদ: ৭৪২; নাসাঈ: ২/১২২; দারেমী: ১/২৮৫; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/২২৩; সুনান বাইহাকী: ২/৬৯; বাগাবী: ৫৫৯; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ২৫১৮; সহহি মুসলিম: ৩৯০; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৪৫৬; মুসনাদ ইমাম শাফে‘ঈ: ১/৭০; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/২৩৪; ইবনুল জারূদ: ১৭৮; বাগাবী: ৫৬১। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৭১২)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر (1865). تنبيه!! رقم (1865) = (1868) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم، محمد بن عبد الأعلى الصَّنعاني: ثقة من رجال مسلم، ومن فوقه من رجال الشيخين.









সহীহ ইবনু হিব্বান (1878)


1878 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَرُوبَةَ الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَوْدُودٍ بِحَرَّانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَمْرٍو الْبَجَلِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، عَنِ الْمُسَيِّبِ بْنِ رَافِعٍ، عَنْ تَمِيمِ بْنِ طَرَفَةَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ: دَخَلَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَإِذَا النَّاسُ رَافِعُو أَيْدِيهِمْ فِي الصَّلَاةِ، [ص:198] فَقَالَ: «مَا لِي أَرَاكُمْ رَافِعِي أَيْدِيكُمْ كَأَنَّهَا أَذْنَابُ خَيْلٍ شُمْسٍ؟ اسْكُنُوا فِي الصَّلَاةِ». [1: 24]
رقم طبعة با وزير = (1875)




জাবির বিন সামুরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার আমাদের কাছে আসেন, সে সময় লোকজন সালাতে হাত উঠিয়ে ছিলেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আমার কী হলো যে, আমি তোমাদেরকে দেখতে পাচ্ছি যে, তোমরা তোমাদের হাত উঠিয়ে রেখেছো, যেন তা অবাধ্য ঘোড়ার লেজের ন্যায়। তোমরা সালাতে শান্ত থাকবে।”[1]



[1] তাবারানী আল কাবীর: ১৮২৭; মুসনাদ আহমাদ: ৫/১০১; সহীহ মুসলিম: ৪৩০; নাসাঈ: ৩/৪; সুনান বাইহাকী: ২/২৮০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৯১৮)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (918): م.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن، عبد الرحمن بن عمرو البجلي الحراني: سئل عنه أبو زرعة –كما في «الجرح والتعديل» 5/ 267 - فقال: شيخ، وذكره المؤلف في «الثقات» 8/ 380، وأرَّخ وفاته سنة 230هـ، وقد توبع عليه، وباقي رجاله ثقات، رجال الصحيح.









সহীহ ইবনু হিব্বান (1879)


1879 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ يُوسُفَ، قَالَ: حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ خَالِدٍ الْعَسْكَرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ، قَالَ: سَمِعْتُ الْمُسَيِّبَ بْنَ رَافِعٍ، عَنْ تَمِيمِ بْنِ طَرَفَةَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ [ص:199] دَخَلَ الْمَسْجِدَ فَأَبْصَرَ قَوْمًا قَدْ رَفَعُوا أَيْدِيهِمْ، فَقَالَ: «قَدْ رَفَعُوهَا كَأَنَّهَا أَذْنَابُ خَيْلٍ شُمْسٍ، اسْكُنُوا فِي الصَّلَاةِ». [1: 24]
رقم طبعة با وزير = (1876)




জাবির বিন সামুরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার মাসজিদে প্রবেশ করেন, অতঃপর তিনি লোকজনকে দেখলেন, তারা সালাতে হাত উঠিয়েছেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তারা হাত এমনভাবে উঠিয়েছে যেন তা অবাধ্য ঘোড়ার লেজের ন্যায়। তোমরা সালাতে শান্ত থাকবে।”[1]



[1] তাবারানী আল কাবীর: ১৮২৭; মুসনাদ আহমাদ: ৫/১০১; সহীহ মুসলিম: ৪৩০; নাসাঈ: ৩/৪; সুনান বাইহাকী: ২/২৮০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৯১৮)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: م - انظر ما قبله.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم.









সহীহ ইবনু হিব্বান (1880)


1880 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ سَعِيدٍ السَّعْدِيُّ، قَالَا: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ خَشْرَمٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنْ مِسْعَرٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ الْقِبْطِيَّةِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ: كُنَّا إِذَا صَلَّيْنَا خَلْفَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قُلْنَا بِأَيْدِينَا: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ يَمِينًا وَشِمَالًا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا لِي أَرَى أَيْدِيَكُمْ كَأَنَّهَا أَذْنَابُ خَيْلٍ شُمْسٍ، إِنَّمَا يَكْفِي أَحَدَكُمْ أَنْ يَضَعَ يَدَيْهِ عَلَى فَخِذِهِ ثُمَّ يُسَلِّمُ عَنْ يَمِينِهِ وَعَنْ شِمَالِهِ». [1: 24]
رقم طبعة با وزير = (1877)




জাবির বিন সামুরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “যখন আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পিছনে সালাত আদায় করতাম, তখন ডানে-বামে হাত বাড়িয়ে বলতাম السَّلَامُ عَلَيْكُمْ (আপনাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক)। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আমার কী হলো যে, আমি তোমাদের হাত দেখতে পাচ্ছি, যেন তা অবাধ্য ঘোড়ার লেজের ন্যায়। নিশ্চয়েই তোমাদের জন্য এটাই যথেষ্ট যে, তোমরা উরুর উপর হাত রাখবে তারপর ডানে ও বামে সালাম ফেরাবে।”[1]



[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৭৩৩; মুসনাদ্ ইমাম শাফে‘ঈ: ১/৯২; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৩১৩৫; হুমাইদী: ৮৯৬; মুসনাদ আহমাদ: ৫/৮৬; আবূ দাঊদ: ৯৯৮; নাসাঈ: ৩/৪-৫; তাবারানী আল কাবীর: ১৮৭৭; বাগাবী, শারহুস ‍সুন্নাহ: ৬৯৯; মুসনাদ আহমাদ: ৫/১০১; সহীহ মুসলিম: ৪৩০; নাসাঈ: ৩/৪; সুনান বাইহাকী: ২/২৮০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৯১৬)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (916): م. قال الناشر: وقع ترقيم هذا الحديث في طبعة المؤسسة - خطأ - مكرر ما قبله! تنبيه!! قول الناشر: وقع ترقيم هذا الحديث في «طبعة المؤسسة» - خطأ - مكرر ما قبله! هذا غير صحيح بل إن رقم (1879) موجود والذي يليه (1880) .. مسلسل بدون أخطاء. - مدخل بيانات الشاملة -.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم.









সহীহ ইবনু হিব্বান (1881)


1881 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مِسْعَرُ بْنُ كِدَامٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ الْقِبْطِيَّةِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ: كُنَّا إِذَا كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، رَفَعَ أَحَدُنَا يَدَهُ يُمْنَةً وَيُسْرَةً، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا لِي أَرَاكُمْ رَافِعِي أَيْدِيكُمْ كَأَنَّهَا أَذْنَابُ خَيْلٍ شُمْسٍ، أَوَلَا يَكْفِي أَحَدَكُمْ أَنْ يَضَعَ يَدَهُ عَلَى فَخِذِهِ، ثُمَّ يُسَلِّمُ عَلَى مَنْ عَنْ يَمِينِهِ، وَمَنْ عَنْ يَسَارِهِ». [1: 24]
رقم طبعة با وزير = (1878)




জাবির বিন সামুরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “একবার আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে ছিলাম, তখন আমরা ডানে-বামে হাত বাড়িয়ে দিতাম। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আমার কী হলো যে, আমি অবাধ্য ঘোড়ার লেজের ন্যায় তোমাদের হাত উঠানো দেখতে পাচ্ছি! তোমাদের জন্য কি এটাই যথেষ্ট নয় যে, তোমরা উরুর উপর হাত রাখবে তারপর ডান ও বাম পাশে যারা আছে, তাদের সালাম দিবে?”[1]



[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৭৩৩; মুসনাদ্ ইমাম শাফে‘ঈ: ১/৯২; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৩১৩৫; হুমাইদী: ৮৯৬; মুসনাদ আহমাদ: ৫/৮৬; আবূ দাঊদ: ৯৯৮; নাসাঈ: ৩/৪-৫; তাবারানী আল কাবীর: ১৮৭৭; বাগাবী, শারহুস ‍সুন্নাহ: ৬৯৯; মুসনাদ আহমাদ: ৫/১০১; সহীহ মুসলিম: ৪৩০; নাসাঈ: ৩/৪; সুনান বাইহাকী: ২/২৮০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৯১৬)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (916): م.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم، رجاله رجال الشيخين غير عبيد الله بن القبطية، فإنه من رجال مسلم، وانظر ما قبله و (1878).









সহীহ ইবনু হিব্বান (1882)


1882 - أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ الْجُمَحِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا [ص:201] أَبُو الْوَلِيدِ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي يَعْفُورٍ، قَالَ: سَمِعْتُ مُصْعَبَ بْنَ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، يَقُولُ: صَلَّيْتُ إِلَى جَنْبِ أَبِي، فَطَبَّقْتُ بَيْنَ كَفَّيَّ، ثُمَّ وَضَعْتُهُمَا بَيْنَ فَخِذِيَّ، فَنَهَانِي عَنْ ذَلِكَ، وَقَالَ: كُنَّا نَفْعَلُ هَذَا، فَنُهِينَا عَنْهُ، وَأُمِرْنَا أَنْ نَضَعَ عَلَى الرُّكَبِ. [1: 99]
رقم طبعة با وزير = (1879)




মুস‘আব বিন সা‘দ বিন আবী ওয়াক্কাস বলেন, “একবার আমি আমার বাবার পাশে সালাত আদায় করি। অতঃপর আমি আমার দুই হাতের তালূকে মুষ্টিবদ্ধ করি তারপর তা দুই উরুর মাঝে রাখি। তখন আমার বাবা আমাকে এরকম করতে নিষেধ করেন এবং বলেন, “আমরা এরকম করতাম। অতঃপর এরকম করতে আমাদের নিষেধ করা হয় এবং আমাদেরকে হাঁটুর উপর হাত রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়।”[1]



[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৭৩৩; মুসনাদ্ ইমাম শাফে‘ঈ: ১/৯২; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৩১৩৫; হুমাইদী: ৮৯৬; মুসনাদ আহমাদ: ৫/৮৬; আবূ দাঊদ: ৯৯৮; নাসাঈ: ৩/৪-৫; তাবারানী আল কাবীর: ১৮৭৭; বাগাবী, শারহুস ‍সুন্নাহ: ৬৯৯; মুসনাদ আহমাদ: ৫/১০১; সহীহ মুসলিম: ৪৩০; নাসাঈ: ৩/৪; সুনান বাইহাকী: ২/২৮০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৮১৩)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (813): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما.









সহীহ ইবনু হিব্বান (1883)


1883 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الطَّالَقَانِيُّ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، [عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنِ الزُّبَيْرِ بْنِ عَدِيٍّ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدِ] * بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، قَالَ: كُنْتُ إِذَا صَلَّيْتُ، طَبَّقَتْ، وَوَضَعْتُ يَدَيَّ بَيْنَ رُكْبَتَيَّ، [ص:202] فَرَآنِي أَبِي سَعْدٌ، فَقَالَ: كُنَّا نَفْعَلُ هَذَا، فَنُهِينَا عَنْهُ، وَأُمِرْنَا بِالرُّكَبِ. [1: 99]
رقم طبعة با وزير = (1880)




মুস‘আব বিন সা‘দ বিন আবী ওয়াক্কাস বলেন, “আমি যখন সালাত আদায় করতাম, তখন আমি আমার দুই হাত মুষ্টিবদ্ধ করে তা আমার দুই হাঁটুর মাঝে রাখতাম। অতঃপর আমার বাবা আমাকে এরকম করতে দেখে বলেন, “আমরা এরকম করতাম। অতঃপর এরকম করতে আমাদের নিষেধ করা হয় এবং আমাদেরকে হাঁটুর উপর হাত রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়।”[1]



[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৭৩৩; মুসনাদ্ ইমাম শাফে‘ঈ: ১/৯২; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৩১৩৫; হুমাইদী: ৮৯৬; মুসনাদ আহমাদ: ৫/৮৬; আবূ দাঊদ: ৯৯৮; নাসাঈ: ৩/৪-৫; তাবারানী আল কাবীর: ১৮৭৭; বাগাবী, শারহুস ‍সুন্নাহ: ৬৯৯; মুসনাদ আহমাদ: ৫/১০১; সহীহ মুসলিম: ৪৩০; নাসাঈ: ৩/৪; সুনান বাইহাকী: ২/২৮০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৮১৩)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر ما قبله. * [عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنِ الزُّبَيْرِ بْنِ عَدِيٍّ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدِ] قال الشيخ: ما بين المعقوفين سقط من الأصل.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح، رجاله رجال الشيخين ما خلا إسحاق الطالقاني، وهو ثقة، روى عنه أبو داود وغيره.









সহীহ ইবনু হিব্বান (1884)


1884 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ: «كَانَ رُكُوعُ رَسُولِ اللَّهِ [ص:203] صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَرَفْعُهُ رَأْسَهُ بَعْدَ الرُّكُوعِ، وَسُجُودُهُ، وَجُلُوسُهُ بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ، قَرِيبًا مِنَ السَّوَاءِ». [5: 8]
رقم طبعة با وزير = (1881)




বারা বিন আযিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রুকূ‘, রুকূ‘র পর রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন, সাজদা, দুই সাজদার মাঝে বসা- এসবগুলোর সময়ের ব্যাপ্তি প্রায় সমান ছিল।”[1]



[1] সহীহ মুসলিম: ৪৭১; তিরমিযী: ২৮০; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৬১০; আত তায়ালিসী: ৭৩৬; মুসনাদ আহমাদ: ৪/২৮০; সহীহ আল বুখারী: ৭৯২; আবূ দাঊদ: ৮৫২; নাসাঈ: ২/১৯৭-১৯৮; দারেমী: ১/৩০৬; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৬২৮; সুনান বাইহাকী: ২/১২২। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৭৯৮)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (798): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما، محمد شيخ محمد بن بشار فيه: هو محمد بن جعفر الهذلي البصري المعروف بغندر، والحكم هو ابن عتيبة الكندي الكوفي.









সহীহ ইবনু হিব্বান (1885)


1885 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ، قَالَ: [ص:204] حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ ثَابِتٍ، قَالَ: قَالَ لَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ: إِنِّي لَا آلُو أَنْ أُصَلِّيَ بِكُمْ كَمَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي بِنَا، قَالَ ثَابِتٌ: رَأَيْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَصْنَعُ شَيْئًا لَا أَرَاكُمْ تَصْنَعُونَهُ، «كَانَ إِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ قَامَ حَتَّى يَقُولَ الْقَائِلُ: لَقَدْ نَسِيَ، وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ السَّجْدَةِ الْأُولَى، قَعَدَ حَتَّى يَقُولَ الْقَائِلُ: لَقَدْ نَسِيَ». [5: 8]
رقم طبعة با وزير = (1882)




সাবিত রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আমাদের বলেন, “আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যেভাবে সালাত আদায় করতে দেখেছি, সেভাবে আপনাদের নিয়ে সালাত আদায় করতে মোটেও কুন্ঠা বোধ করবো না।” সাবিত রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আমি আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে এমন কিছু করতে দেখেছি, যা আমি আপনাদের করতে দেখি না। তিনি যখন রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করতেন, তখন তিনি এতো অধিক পরিমাণ দাঁড়িয়ে থাকতেন যে, কেউ হয়তো মনে করতো যে, তিনি (সাজদা করার কথা) ভুলে গেছেন এবং যখন তিনি প্রথম সাজদা থেকে মাথা উত্তোলন করতেন, তখন তিনি এতো অধিক পরিমাণ বসে থাকতেন যে, কেউ হয়তো মনে করতো যে, তিনি (আরেক সাজদা করার কথা) ভুলে গেছেন।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ৩/২২৬; সহীহ আল বুখারী: ৮২১; সহীহ মুসলিম: ৪৭২; সুনান বাইহাকী: ২/৯৮; আবূ আওয়ানা: ২/১৭৬; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৬০৯; বাগাবী, শারহুস ‍সুন্নাহ: ৬২৯। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৭৯৯)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (799): م، ق الشطر الثاني منه.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما، أبو الربيع الزهراني: هو سليمان بن داود العتكي.









সহীহ ইবনু হিব্বান (1886)


1886 - أَخْبَرَنَا أَبُو خَلِيفَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ شَرِيكِ بْنِ أَبِي نَمِرٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ: «مَا صَلَّيْتُ وَرَاءَ أَحَدٍ قَطُّ أَخَفَّ صَلَاةً مِنْ صَلَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَا أَتَمَّ، وَإِنْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْمَعُ بُكَاءَ الصَّبِيِّ وَرَاءَهُ، فَيُخَفِّفُ مَخَافَةَ أَنْ تُفْتَنَ أُمُّهُ». [5: 8]
رقم طبعة با وزير = (1883)




আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেভাবে সালাত পরিপূর্ণ করা সত্ত্বেও সংক্ষিপ্ততা অবলম্বন করতেন, আর কারো পিছনে আমি এরকম সালাত আদায় করিনি।”[1]



[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ২/৫২; মুসনাদ আহমাদ: ৩/১৮২; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৮৪০; আত তায়ালিসী: ১৯৯৭; সহীহ মুসলিম: ৪৬৯; তিরমিযী: ২৩৭; নাসাঈ: ২/৯৪; দারেমী: ১/২৮৮; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৬০৪; আবূ আওয়ানা: ২/৮৯; ‍সুনান বাইহাকী: ৩/১১৫; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৩৭১৮; সহীহ আল বুখারী: ৭০৬; ইবনু মাজাহ: ৯৮৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৭৯৯)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - تقدم (1756). تنبيه!! رقم (1756) = (1759) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح، رجاله رجال الصحيح، وفي شريك بن أبي نَمِرٍ كلام خفيف، وقد توبع عليه.









সহীহ ইবনু হিব্বান (1887)


1887 - أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُصْعَبٍ السِّنْجِيُّ، حَدَّثَنَا [ص:206] مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ الْهَيَّاجِ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْأَرْحَبِيُّ، حَدَّثَنِي عُبَيْدَةُ بْنُ الْأَسْوَدِ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ الْوَلِيدِ، عَنْ سِنَانِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ مُصَرِّفٍ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ مُصَرِّفٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ مِنَ الْأَنْصَارِ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، كَلِمَاتٌ أَسْأَلُ عَنْهُنَّ، قَالَ: «اجْلِسْ»، وَجَاءَ رَجُلٌ مِنْ ثَقِيفٍ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، كَلِمَاتٌ أَسْأَلُ عَنْهُنَّ، فَقَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «سَبَقَكَ الْأَنْصَارِيُّ»، فَقَالَ الْأَنْصَارِيُّ: إِنَّهُ رَجُلٌ غَرِيبٌ، وَإِنَّ لِلْغَرِيبِ حَقًّا، فَابْدَأْ بِهِ، فَأَقْبَلَ عَلَى الثَّقَفِيِّ، فَقَالَ: «إِنْ شِئْتَ أَجَبْتُكَ عَمَّا كُنْتَ تَسْأَلُ، وَإِنْ شِئْتَ سَأَلْتَنِي وَأُخْبِرْكَ»، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، بَلْ أَجِبْنِي عَمَّا كُنْتُ أَسْأَلُكَ، قَالَ: «جِئْتَ تَسْأَلُنِي عَنِ الرُّكُوعِ، وَالسُّجُودِ، وَالصَّلَاةِ، وَالصَّوْمِ»، فَقَالَ: لَا وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ مَا أَخْطَأْتَ مِمَّا كَانَ فِي نَفْسِي شَيْئًا، قَالَ: «فَإِذَا رَكَعْتَ، فَضَعْ رَاحَتَيْكَ عَلَى رُكْبَتَيْكَ، ثُمَّ فَرِّجْ بَيْنَ أَصَابِعِكَ، ثُمَّ أَمْكُثْ حَتَّى يَأْخُذَ كُلُّ عُضْوٍ مَأْخَذَهُ، وَإِذَا سَجَدْتَ، فَمَكِّنْ جَبْهَتَكَ، وَلَا تَنْقُرُ نَقْرًا، وَصَلِّ أَوَّلَ النَّهَارِ وَآخِرَهُ»، فَقَالَ: يَا نَبِيَّ [ص:207] اللَّهِ، فَإِنْ أَنَا صَلَّيْتُ بَيْنَهُمَا؟ قَالَ: «فَأَنْتَ إِذًا مُصَلِّي، وَصُمْ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ، ثَلَاثَ عَشْرَةَ، وَأَرْبَعَ عَشْرَةَ، وَخَمْسَ عَشْرَةَ»، فَقَامَ الثَّقَفِيُّ، ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَى الْأَنْصَارِيِّ، فَقَالَ: «إِنْ شِئْتَ أَخْبَرْتُكَ عَمَّا جِئْتَ تَسْأَلُ، وَإِنْ شِئْتَ سَأَلْتَنِي فَأُخْبِرْكَ»، فَقَالَ: لَا يَا نَبِيَّ اللَّهِ، أَخْبَرَنِي عَمَّا جِئْتُ أَسْأَلُكَ، قَالَ: «جِئْتَ تَسْأَلُنِي عَنِ الْحَاجِّ مَا لَهُ حِينَ يَخْرُجُ مِنْ بَيْتِهِ؟ وَمَا لَهُ حِينَ يَقُومُ بِعَرَفَاتٍ؟ وَمَا لَهُ حِينَ يَرْمِي الْجِمَارَ؟ وَمَا لَهُ حِينَ يَحْلِقُ رَأْسَهُ؟ وَمَا لَهُ حِينَ يَقْضِي آخِرَ طَوَافٍ بِالْبَيْتِ؟ » فَقَالَ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ، وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ مَا أَخْطَأْتَ مِمَّا كَانَ فِي نَفْسِي شَيْئًا، قَالَ: «فَإِنَّ لَهُ حِينَ يَخْرُجُ مِنْ بَيْتِهِ أَنَّ رَاحِلَتَهُ لَا تَخْطُو خُطْوَةً إِلَّا كُتِبَ لَهُ بِهَا حَسَنَةٌ، أَوْ حُطَّتْ عَنْهُ بِهَا خَطِيئَةٌ، فَإِذَا وَقَفَ بِعَرَفَةَ، فَإِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَنْزِلُ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا، فَيَقُولُ: انْظُرُوا إِلَى عِبَادِي شُعْثًا غُبْرًا، اشْهَدُوا أَنِّي قَدْ غَفَرْتُ لَهُمْ ذُنُوبَهُمْ، وَإِنْ كَانَ عَدَدَ قَطْرِ السَّمَاءِ وَرَمْلِ عَالِجٍ، وَإِذَا رَمَى الْجِمَارَ لَا يَدْرِي أَحَدٌ مَا لَهُ حَتَّى يُوَفَّاهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَإِذَا حَلَقَ رَأْسَهُ فَلَهُ بِكُلِّ شَعْرَةٍ سَقَطَتْ مِنْ رَأْسِهِ نُورٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَإِذَا قَضَى آخِرَ طَوَافِهِ بِالْبَيْتِ خَرَجَ مِنْ ذُنُوبِهِ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ»
رقم طبعة با وزير = (1884)




আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “এক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বলেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমি কিছু বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে চাই।” জবাবে তিনি বলেন, “বসো।” অতঃপর সাকীফ গোত্রের এক ব্যক্তি এসে বললো, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমি কিছু বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে চাই।” জবাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আনসারী সাহাবী তোমার আগে প্রশ্ন করেছে।” তখন আনসারী ব্যক্তি বলেন, “নিশ্চয়ই সে প্রবাসী ব্যক্তি। আর প্রবাসী ব্যক্তির অধিকার রয়েছে (আগে উত্তর পাওয়ার)। কাজেই আপনি আগে তার প্রশ্নেরই উত্তর দিন।” অতঃপর তিনি সাকাফী গোত্রের ব্যক্তির প্রতি মনোনিবেশ করলেন এবং তাকে বললেন, “যদি তুমি চাও, তবে তুমি যা জানতে চাও, তার জবাব দিবো (আমাকে বলার আগেই) আর যদি চাও তাহলে তুমি আমাকে প্রশ্ন করো, তারপর আমি তোমাকে উত্তর দিবো।” তখন সেই ব্যক্তি বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আপনি বরং আমাকে সেই বিষয় জানিয়ে দিন, আমি আপনাকে যে বিষয়ে প্রশ্ন করতে চাই!” জবাবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তুমি আমার কাছে এসেছো রুকূ‘, সাজদা, সালাত ও সিয়াম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার জন্য।” তখন সেই ব্যক্তি বলেন, “ঐ সত্তার কসম, যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, না, আমার মনে যা রয়েছে, তাতে আপনি কোন ভুল করেননি!” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যখন তুমি রুকূ‘ করবে, তখন তুমি তোমার হাতের তালূ তোমার দুই হাঁটুর উপর রাখবে। তারপর তুমি তোমার আঙ্গুলগুলোর মাঝে ফাঁকা রাখবে। তারপর দেরি করবে, যাতে প্রত্যেকটি অঙ্গ স্বস্থানে ফিরে যায়। আর যখন তুমি সাজদা করবে, তখন তুমি তোমার কপাল মাটিতে স্থান দিবে; ঠোকর দিবে না। তুমি দিবসের প্রথম ও শেষ ভাগে সালাত আদায় করবে।” সেই ব্যক্তি বললেন, “হে আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যদি আমি এর মাঝে সালাত আদায় করি?” জবাবে তিনি বলেন, “তাহলে তো তুমি পুরো দস্তুর মুসল্লী। আর প্রত্যেক মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে সিয়াম রাখবে।” তখন সাকাফী ব্যক্তি দাঁড়িয়ে চলে গেলেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আনসারী ব্যক্তির প্রতি মনোনিবেশ করে বললেন, যদি তুমি চাও, তবে তুমি যা জানতে চাও, তার জবাব দিবো (আমাকে বলার আগেই) আর যদি চাও তাহলে তুমি আমাকে প্রশ্ন করো, তারপর আমি তোমাকে উত্তর দিবো।” আনসারী ব্যক্তি বললেন, “না, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আপনি বরং আমাকে সেই বিষয় জানিয়ে দিন, আমি আপনাকে যে বিষয়ে প্রশ্ন করতে চাই!” জবাবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তুমি আমার কাছে এসেছো এটা জিজ্ঞেস করার জন্য যে, হজ্জ পালনকারী ব্যক্তির জন্য কী প্রতিদান রয়েছে, যখন তিনি হজ্জ করার জন্য বাড়ি থেকে বের হন, তার জন্য কী প্রতিদান রয়েছে, যখন তিনি আরাফায় দন্ডায়মান হন, তার জন্য কী প্রতিদান রয়েছে, যখন তিনি জামরায় পাথর নিক্ষেপ করেন, তার জন্য কী প্রতিদান রয়েছে, যখন তিনি মাথা মুন্ডন করেন, তার জন্য কী প্রতিদান রয়েছে, যখন তিনি বাইতুল্লায় বিদায়ী তাওয়াফ করেন?” “তখন সেই ব্যক্তি বলেন, “হে আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ঐ সত্তার কসম, যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, না, আমার মনে যা রয়েছে, তাতে আপনি কোন ভুল করেননি!” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “নিশ্চয়ই হজ্জ আদায়ে ইচ্ছুক ব্যক্তি যখন বাড়ি থেকে বের হন, তখন তার বাহন একটি পদক্ষেপ ফেললে, এর বদৌলতে তার জন্য একটি সাওয়াব লিখে দেওয়া হয় অথবা এজন্য তার একটি গোনাহ মোচন করা হয়, অতঃপর যখন সে আরাফার মাঝে দন্ডায়মান হয়, তখন মহান আল্লাহ দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন অতঃপর বলেন, “এলোমেলো কেশবিশিষ্ট ধুলোমলিন আমার বান্দাদের প্রতি লক্ষ্য করো, তোমরা সাক্ষ্যি থাকো, আমি তাদের গোনাহসমূহ ক্ষমা করে দিলাম, তাদের পাপ আসমানের বৃষ্টির পানির ফোঁটা ও স্তুপের বালিকণার সমান হয়। যখন সে জামরায় পাথর নিক্ষেপ করে, তখন কেউ জানে না যে, তার জন্য কী পরিমাণ সাওয়াব রয়েছে, এমনকি কিয়ামতের দিন তাকে এর পরিপূর্ণ সাওয়াব প্রদান করা হবে। যখন সে মাথা মুন্ডন করে, তখন তার মাথা থেকে একটি চুল পড়ে গেলে, এর বদৌলতে কিয়ামতের দিন তার জন্য একটি নূর হবে। আর যখন সে বাইতুল্লায় বিদায়ী তাওয়াফ করে, তখন ঐ দিনের মতো (নিষ্পাপ) হয়ে যায়, যেদিন তার মা তাকে জন্ম দিয়েছিল।”[1]



[1] ইমাম বাইহাকী, দালাইলুন নুবুওয়াত: ৬/২৯৪; মুসনাদ আল বাযযার: ১০৮২; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৮৮৩০; তাবারানী: ১৩৫৬৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ যঈফ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান লিগাইরিহী বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ২/১২৯-১৩০)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن لغيره - «التعليق الرغيب» (2/ 129 - 130). * [عُبَيْدَةُ بْنُ الْأَسْوَدِ] قال الشيخ: مدلس، انظر الحديث (1754). تنبيه!! رقم (1754) = (1757) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده ضعيف، يحيى بن عبد الرحمن الأرحبي، قال أبو حاتم: شيخ لا أرى في حديثه إنكاراً، يروي عن عبيدة بن الأسود أحاديث غرائب، وقال الدارقطني: صالح يعتبر به، وذكره المؤلف في «الثقات»، وقال ربما خالف، وعبيدة بن الأسود: ذكره المؤلف أيضاً في الثقات 8/ 437، وقال: يعتبر حديثه إذا بين السماع في روايته، وكان فوقه ودونه ثقات، والقاسم بن الوليد: وثقه ابن معين، والعجلي، وابن سعد، وذكره المؤلف في «الثقات» 7/ 338، وقال: يخطئ ويخالف، وقال الحافظ في «التقريب»: صدوق يغرب، وسنان بن الحارث: لم يوثقه غير المؤلف.









সহীহ ইবনু হিব্বান (1888)


1888 - أَخْبَرَنَا الْقَطَّانُ، بِالرَّقَّةِ، قَالَ: حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ أَبِي الْعِشْرِينَ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَسْوَأُ النَّاسِ سَرَقَةً الَّذِي يَسْرِقُ صَلَاتَهُ»، قَالَ: وَكَيْفَ يَسْرِقُ صَلَاتَهُ؟ قَالَ: «لَا يُتِمُّ رُكُوعَهَا، وَلَا سُجُودَهَا». [2: 92]
رقم طبعة با وزير = (1885)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “মানুষের মাঝে নিকৃষ্ট চোর হলো ঐ ব্যক্তি যে তার সালাতে চুরি করে।” সাহাবীগণ আরয করলেন, “কিভাবে সে সালাতে চুরি করে?” জবাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “সে পরিপূর্ণভাবে রুকূ‘ সাজদা করে না।”[1]



[1] মুসতাদরাকে হাকিম: ১/২২৯; সুনান বাইহাকী: ২/৩৮৬; হাইসামী, মাজমা‘উয যাওয়াইদ: ২/১২০; মুসনাদ আহমাদ: ৫/৩১০; দারেমী: ১/৩০৪-৩০৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ লিগাইরিহী বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ২/১৮১)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح لغيره - «المشكاة» (885)، «صلاة التراويح» (ص 119 - 120)، «التعليق الرغيب» (1/ 181).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن، عبد الحميد بن أبي العشرين: هو عبد الحميد بن حبيب، وهو كاتب الأوزاعي، ولم يرو عن غيره، مختلف فيه، وقال الحافظ في التقريب: صدوق ربما أخطأ، فمثله يكون حسن الحديث، وباقي رجاله ثقات رجال الشيخين غير هشام بن عمار، فإنه من رجال البخاري، وقد كبر، فصار يتلقن.









সহীহ ইবনু হিব্বান (1889)


1889 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْقَوَارِيرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى الْقَطَّانُ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ: حَدَّثَنِي سَعِيدٌ الْمَقْبُرِيُّ، عَنْ عُمَرَ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ، [عَنْ أَبِيهِ]، أَنَّ عَمَّارَ بْنَ يَاسِرٍ، صَلَّى رَكْعَتَيْنِ، فَخَفَّفَهُمَا، فَقَالَ لَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْحَارِثِ: يَا أَبَا الْيَقْظَانِ، أَرَاكَ قَدْ خَفَّفْتَهُمَا، قَالَ: إِنِّي بَادَرْتُ بِهِمَا الْوَسْوَاسَ، وَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّ الرَّجُلَ لِيُصَلِّي الصَّلَاةَ، وَلَعَلَّهُ [ص:211] لَا يَكُونُ لَهُ مِنْهَا إِلَّا عُشْرُهَا، أَوْ تُسْعُهَا، أَوْ ثُمُنُهَا، أَوْ سُبُعُهَا، أَوْ سُدْسُهَا» حَتَّى أَتَى عَلَى الْعَدَدِ.
رقم طبعة با وزير = (1886) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «هَذَا إِسْنَادٌ يُوهِمُ مَنْ [ص:212] لَمْ يُحْكِمْ صِنَاعَةَ الْعِلْمِ أَنَّهُ مُنْفَصِلٌ غَيْرُ مُتَّصِلٍ، وَلَيْسَ كَذَلِكَ؛ لِأَنَّ عُمَرَ بْنَ أَبِي بَكْرٍ سَمِعَ هَذَا الْخَبَرَ عَنْ جَدِّهِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ، عَنْ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ، عَلَى مَا ذَكَرَهُ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، لِأَنَّ عُمَرَ بْنَ أَبِي بَكْرٍ لَمْ يَسْمَعْهُ مِنْ عَمَّارٍ عَلَى ظَاهِرِهِ»




আবূ বকর বিন আব্দুর রহমান বিন হারিস বিন হিশাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “একবার আম্মার বিন ইয়াসির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করেন অতঃপর তিনি তা হালকা করে আদায় করেন। তখন আব্দুর রহমান বিন হারিস তাকে বলেন, হে আবুল ইয়াকযোন, আমি আপনাকে দেখলাম যে, আপনি সালাত হালকা করে আদায় করলেন!” তখন তিনি বলেন, “আমি সালাতে ওয়াসওয়াসা আসার আগেই তা সম্পন্ন করলাম। নিশ্চয়ই আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, “নিশ্চয়ই মানুষ সালাত আদায় করে, অথচ তার জন্য সালাতের অংশ থাকে এক দশমাংশ অথবা এক নবমাংশ অথবা এক অষ্টমাংশ অথবা এক সপ্তমাংশ অথবা এক ষষ্ঠাংশ এভাবে তিনি এক সংখ্যা পর্যন্ত বলেন।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “অপরিপক্ক ইলমের অধিকারী ব্যক্তি এই হাদীসের বিষয়ে এই সংশয়ের শিকার হন যে, হাদীসটি হয়তো মু্ত্তাসিল নয়; মুসফাসিল বা বিচ্ছিন্ন সানাদের। অথচ ব্যাপারটি এমন নয়। কেননা উমার বিন আবূ বকর এই হাদীসটি তার দাদা আব্দুর রহমান বিন হারিস বিন হিশামের মাধ্যমে আম্মার বিন ইয়াসির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর থেকে শ্রবণ করেছেন, যা উবাইদ বিন ‍উমার বর্ণনা করেছেন। কেননা উমার বিন আবূ বকর বাহ্যত সরাসরি আম্মার বিন ইয়াসির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে শ্রবণ করেননি।”



[1] মুসনাদ আহমাদ: ৪/৩১৯; আবূ দাঊদ: ৭৯৬; নাসাঈ: ৭/৪৭৮; সুনান বাইহাকী: ২/২৮১; আত তায়ালিসী: ৬৫০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৭৬১)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صفة الصلاة» / المقدمة، «صحيح أبي داود» (761).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن، عمر بن أبي بكر بن عبد الرحمن: روى عنه جمع، وذكره المؤلف في «الثقات» 7/ 167، وترجم له البخاري 6/ 144، وابن أبي حاتم 6/ 100 فلم يذكرا فيه جرحاً ولا تعديلاً، وباقي رجاله ثقات رجال الشيخين.









সহীহ ইবনু হিব্বান (1890)


1890 - أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي مَعْشَرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، قَالَ: حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، دَخَلَ الْمَسْجِدَ، فَدَخَلَ رَجُلٌ فَصَلَّى ثُمَّ جَاءَ فَجَلَسَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «ارْجِعْ فَصَلِّ فَإِنَّكَ لَمْ تُصَلِّ» حَتَّى فَعَلَ ذَلِكَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، فَقَالَ الرَّجُلُ: وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ مَا أَعْرِفُ غَيْرَ هَذَا، فَعَلِّمْنِي، قَالَ: «إِذَا قُمْتُ إِلَى الصَّلَاةِ، فَكَبِّرْ، وَاقْرَأْ مَا تَيَسَّرَ مَعَكَ مِنَ الْقُرْآنِ، ثُمَّ ارْكَعْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ رَاكِعًا، ثُمَّ ارْفَعْ حَتَّى تَعْتَدِلَ قَائِمًا، ثُمَّ اسْجُدْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ [ص:213] سَاجِدًا، ثُمَّ ارْفَعْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ جَالِسًا، وَافْعَلْ ذَلِكَ فِي صَلَاتِكَ كُلِّهَا». [1: 85]
رقم طبعة با وزير = (1887) [ص:214] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: قَوْلُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَاقْرَأْ مَا تَيَسَّرَ مَعَكَ مِنَ الْقُرْآنِ»، يُرِيدُ فَاتِحَةَ الْكِتَابِ، وَقَوْلُهُ: «[ص:216] ارْجِعْ فَصَلِّ، فَإِنَّكَ لَمْ تُصَلِّ»، نَفَى الصَّلَاةَ عَنْ هَذَا الْمُصَلِّي؛ لِنَقْصِهِ عَنْ حَقِيقَةِ إِتْيَانِ مَا كَانَ عَلَيْهِ مِنْ فَرْضِهَا، لَا أَنَّهُ لَمْ يُصَلِّ، فَلَمَّا كَانَ فِعْلُهُ نَاقِصًا عَنْ حَالَةِ الْكَمَالِ، نَفَى عَنْهُ الِاسْمَ بِالْكُلِّيَّةِ.




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাসজিদে প্রবেশ করেন, অতঃপর এক ব্যক্তি মাসজিদে প্রবেশ করে সালাত আদায় করেন। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বসেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বলেন, “তুমি ফিরে যাও এবং সালাত আদায় করো। কেননা তুমি সালাত আদায় করনি।” এভাবে তিনি তিনবার এরকম করেন। অতঃপর সে ব্যক্তি বলেন, “ঐ সত্তার কসম, যিনি আপনাকে হক সহ পাঠিয়েছেন, আমি এর চেয়ে ভালো সালাত আদায় করতে জানি না। কাজেই আপনি আমাকে শিক্ষা দিন (আমি কিভাবে সালাত আদায় করবো)।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যখন তুমি সালাতে দাঁড়াবে, তখন তাকবীর দিবে এবং কুর‘আন থেকে যা তোমার জন্য সহজ হয়, তা পাঠ করবে।তারপর রুকূ‘ করবে, এমনকি রুকূ‘ অবস্থায় প্রশান্ত হবে। তারপর রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করবে এমনকি সোজা হয়ে দাঁড়াবে। তারপর সাজদা করবে এমনকি সাজদায় প্রশান্ত হবে। তারপর মাথা ‍উত্তোলন করবে এমনকি বসা অবস্থায় প্রশান্ত হবে। পুরো সালাতেই তুমি এরকমই করবে।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী “কুর‘আন থেকে যা তোমার জন্য সহজ হয়, তা পাঠ করবে” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সূরা ফাতিহা পাঠ করা এবং তাঁর বাণী “তুমি ফিরে যাও এবং সালাত আদায় করো। কেননা তুমি সালাত আদায় করনি” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সালাত আদায়কারী সেই সাহাবীর সালাতকে নাকচ করা, কেননা সালাতে তার উপর যা আদায় করা ফরজ ছিল, তা আদায়ে কমতি ছিল; এর দ্বারা এটা উদ্দেশ্য নয় যে, সে সালাত আদায় করেনি। সুতরাং তার কর্ম যখন পরিপূর্ণ অবস্থা থেকে কমতি ছিল, তখন তার ব্যাপারে তিনি পুরো সালাতকেই নাকচ করে দিয়েছেন।”



[1] সহীহ আল বুখারী: ৭৫৭; তিরমিযী: ৩০৩; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৫৯০; তাহাবী: ১/২৩৩; সুনান বাইহাকী: ২/১২৪; আবূ দাঊদ: ৮৫৬; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৪৩৭। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৮০২)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الإرواء» (1/ 321 / 289)، «صحيح أبي داود» (802): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما









সহীহ ইবনু হিব্বান (1891)


1891 - أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ، عَنْ مُلَازِمِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَدْرٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ شَيْبَانَ الْحَنَفِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، وَكَانَ أَحَدَ الْوَفْدِ السِّتَّةِ، قَالَ: قَدِمْنَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَصَلَّيْنَا مَعَهُ، فَلَمَحَ بِمُؤَخَّرِ عَيْنَيْهِ رَجُلًا لَا يُقِرُّ صُلْبَهُ فِي الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ، فَقَالَ: «إِنَّهُ لَا صَلَاةَ لِمَنْ لَمْ يُقِمْ صُلْبَهُ». [2: 86]
رقم طبعة با وزير = (1888)




আলী বিন শাইবান হানাফী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু, যিনি ছয়জনের প্রতিনিধি দলের একজন ছিলেন, তিনি বলেন, “আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আগমন করি অতঃপর আমরা তাঁর সাথে সালাত আদায় করি। এসময় তিনি চোখের কোণায় লক্ষ্য করেন যে, এক ব্যক্তি রুকূ‘ ও সাজদায় তার পিঠ সোজা করছে না। তখন তিনি বলেন, “ঐ ব্যক্তির সালাত নেই, যে ব্যক্তি সালাতে তার পিঠ সোজা করে না।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ৪/২৩; ইবনু মাজাহ: ৮৭১; সুনান বাইহাকী: ৩/১০৫; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৫৯৩, ৬৬৭। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ২৫৩৬)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صفة الصلاة»، «الصحيحة» (2536).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح، رجاله ثقات.