হাদীস বিএন


সহীহ ইবনু হিব্বান





সহীহ ইবনু হিব্বান (1852)


1852 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ سِنَانٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا فَرَحُ بْنُ رَوَاحَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو الرَّقِّيُّ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلَابَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، صَلَّى بِأَصْحَابِهِ، فَلَمَّا قَضَى صَلَاتَهُ، أَقْبَلَ عَلَيْهِمْ بِوَجْهِهِ، فَقَالَ: «أَتَقْرَءُونَ فِي صَلَاتِكُمْ خَلْفَ الْإِمَامِ، وَالْإِمَامُ يَقْرَأُ؟ »، فَسَكَتُوا، قَالَهَا ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، فَقَالَ قَائِلٌ، أَوْ قَائِلُونَ: إِنَّا لَنَفْعَلُ، قَالَ: «فَلَا تَفْعَلُوا، وَلْيَقْرَأْ أَحَدُكُمْ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ فِي نَفْسِهِ». [1: 21]
رقم طبعة با وزير = (1849) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «سَمِعَ هَذَا الْخَبَرَ أَبُو قِلَابَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي عَائِشَةَ، عَنْ بَعْضِ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ [ص:163] صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَسَمِعَهُ مِنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، فَالطَّرِيقَانِ جَمِيعًا مَحْفُوظَانِ»




আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার তাঁর সাহাবীদের নিয়ে সালাত আদায় করেন, অতঃপর যখন তিনি সালাত শেষ করেন, তখন তিনি তাদের মুখোমুখি হন এবং বলেন, “ইমাম যখন কিরা‘আত পাঠ করে, তখন তোমরা কি ইমামের পিছনে কিরা‘আত পাঠ করো?” লোকজন তখন চুপ থাকেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এটি তিনবার বলেন। তখন একজন অথবা কয়েকজন বলেন, “আমরা এরকম করি।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “এরকম করবে না। বরং তোমরা মনে মনে সূরা ফাতিহা পাঠ করবে।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই হাদীসটি আবূ কিলাবাহ মুহাম্মাদ বিন আবূ আয়িশার সূত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোন এক সাহাবী থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকেও শুনেছেন। আর দুটো সানাদই মাহফূয বা সহীহ।”



[1] দারাকুতনী: ১/৩৪০; সুনান বাইহাকী: ২/১৬৬; ইমাম বাইহাকী, আল কিরা‘আত খলফাল ইমাম: ১৭৫। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে এই প্রেক্ষাপটে য‘ঈফ বলেছেন। (য‘ঈফ আল মাওয়ারিদ: ৩৭/৪৫৮-৪৫৯)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف بهذا السياق - «ضعيف الموارد» (37/ 458 - 459).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: في «ثقات المؤلف» 9/ 13: فرج بن رواحة المنبجي: يروى عن زهير بن معاوية، حدثنا عنه عمر بن سعيد بن سنان بمنبج، مستقيم الحديث جدا، مات سنة إحدى وثلاثين ومائتين أو قبلها أو بعدها بقليل، ومن فوقه ثقات من رجال الشيخين.









সহীহ ইবনু হিব্বান (1853)


1853 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ الْعَلَاءِ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ: سَمِعْتُ عَطَاءً، يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ: «فِي كُلِّ صَلَاةٍ قِرَاءَةٌ»، فَمَا أَسْمَعَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَسْمَعْنَاكُمْ وَمَا أَخْفَى عَلَيْنَا أَخْفَيْنَا عَنْكُمْ. [1: 21]
رقم طبعة با وزير = (1850)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “প্রত্যেক সালাতে কিরা‘আত পাঠ করতে হয়। কাজেই যেখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে কিরা‘আত পাঠ শুনাতেন, আমরাও তোমাদের তা শুনাবো আর যেখানে তিনি আমাদেরকে না শুনিয়ে কিরা‘আত আস্তে পড়েছেন, আমরাও সেখানে তোমাদেরকে আস্তে পড়ে শুনাবো।”[1]



[1] তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/২০৮; নাসাঈ: ২/১৬৩; সহীহ মুসলিম: ৩৯৬; আবূ আওয়ানা: ২/১২৫; সুনান বাইহাকী: ২/৪০; মুসনাদ আহমাদ: ২/২৫৮। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৭৬২)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - تقدم (1778). تنبيه!! رقم (1778) = (1781) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين غير عبد الجبار بن العلاء، فإنه من رجال مسلم، وقد تحرف في «الإحسان» إلى: «محمد بن عبد الجبار بن العلاء»، وجاء على الصواب في التقاسيم 1/ لوحة 370.









সহীহ ইবনু হিব্বান (1854)


1854 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ قَزَعَةَ، قَالَ: سَأَلْتُ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ عَنْ صَلَاةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: لَيْسَ لَكَ فِي ذَلِكَ خَيْرٌ، «كَانَتِ الصَّلَاةُ تُقَامُ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَيَخْرُجُ أَحَدُنَا إِلَى الْبَقِيعِ لِيَقْضُيَ حَاجَتَهُ، ثُمَّ يَجِيءُ، فَيَتَوَضَّأُ، فَيَجِدُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الرَّكْعَةِ الْأُولَى مِنَ الظُّهْرِ». [4: 1]
رقم طبعة با وزير = (1851)




কাযা‘আহ রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি আবূ সা‘ঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম, জবাবে তিনি বলেন, “এতে তোমার জন্য কোন কল্যাণ নেই। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য সালাতের ইকামত দেওয়া হতো, অতঃপর আমাদের কেউ তার হাজত পূরণ করার জন্য বাকী‘ নামক জায়গায় যেতো, তারপর তিনি ফিরে আসতেন, অতঃপর ওযূ করতেন, তারপরও তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যোহর সালাতের প্রথম রাকা‘আতে পেতেন।”[1]



[1] ইবনু মাজাহ: ৮২৫; সহীহ মুসলিম: ৪৫৪; নাসাঈ: ২/১৬৪; সুনান বাইহাকী: ২/৬৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সিফাতুস সালাহ)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صفة الصلاة»: م.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم.









সহীহ ইবনু হিব্বান (1855)


1855 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الْأَحْمَرُ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ، [ص:165] عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُطِيلُ فِي أَوَّلِ الرَّكْعَتَيْنِ مِنَ الْفَجْرِ وَالظُّهْرِ» وَقَالَ: «كُنَّا نَرَى أَنَّهُ يَفْعَلُ ذَلِكَ لِيَتَدَارَكَ النَّاسُ». [4: 1]
رقم طبعة با وزير = (1852)




আবূ কাতাদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজর ও যোহরের দুই রাকা‘আতের প্রথম রাকা‘আতে কিরা‘আত দীর্ঘ করতেন।” রাবী বলেন, “আমরা মনে করি, তিনি এরকম করতেন যাতে লোকজন (জামা‘আত বা প্রথম রাকা‘আত) পায়।”[1]



[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৫৮০; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ২৬৭৫; আবূ দাঊদ: ৮০০; সুনান বাইহাকী: ২/৬৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সিফাতুস সালাহ)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صفة الصلاة»، «صحيح أبي داود» (763).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: حديث صحيح، أبو خالد الأحمر -واسمه سليمان بن حيان- وهو وإن روى له البخاري متابعة، واحتج به مسلم، يغلط ويخطئ، لكنه لم ينفرد به، وباقي رجاله ثقات من رجال الشيخين.









সহীহ ইবনু হিব্বান (1856)


1856 - أَخْبَرَنَا الْمُفَضَّلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْجَنَدِيُّ، بِمَكَّةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ زِيَادٍ اللَّحْجِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو قُرَّةَ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الْأَنْصَارِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: «كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَخَفَّ النَّاسِ صَلَاةً فِي تَمَامٍ».
رقم طبعة با وزير = (1853) «[ص:166] يُرِيدُ أَخَفَّ النَّاسِ صَلَاةً فِيمَا اعْتَادَهَا النَّاسُ فِي ذَلِكَ الزَّمَانِ، عَلَى حَسْبِ عَادَةِ الْمُصْطَفَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي صَلَاتِهِ» «وَأَمَّا خَبَرُ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّهُ قَالَ: فَيَخْرُجُ أَحَدُنَا إِلَى الْبَقِيعِ لِيَقْضِيَ حَاجَتَهُ، ثُمَّ يَجِيءُ فَيَتَوَضَّأُ، فَيَجِدُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الرَّكْعَةِ الْأُولَى مِنَ الظُّهْرِ، إِنَّمَا كَانَ يَفْعَلُ ذَلِكَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِيَتَلَاحَقَ النَّاسُ فَيَشْهَدُونَ الصَّلَاةَ، وَلَا يَفْعَلُ ذَلِكَ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ، إِنَّمَا كَانَ يَفْعَلُهُ فِي الرَّكْعَةِ الْأُولَى فَقَطْ، وَفِيهِ كَالدَّلِيلِ عَلَى أَنَّ الْمُدْرِكَ لِلرُّكُوعِ مُدْرِكٌ لِلتَّكْبِيرَةِ الْأُولَى» [4: 1]




আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাত পরিপূর্ণভাবে আদায় করেও সবচেয়ে হালকা করে সালাত আদায় করতেন।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “হাদীসের উদ্দেশ্য হলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জামানায় তাঁর সালাতের অভ্যাস অনুসারে যে সালাতের উপর লোকজন অভ্যস্ত হয়েছিল, সে বিবেচনায় তাঁর সালাত একদিকে পরিপূর্ণ হওয়া সত্তেও হালকা ছিল। আর আবূ সা‘ঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসে বলা হয়েছে, “অতঃপর আমাদের কেউ তার হাজত পূরণ করার জন্য বাকী‘ নামক জায়গায় যাইতো, তারপর তিনি ফিরে আসতেন, অতঃপর ওযূ করতেন, তারপরও তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যোহর সালাতের প্রথম রাকা‘আতে পেতেন” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরকম করতেন, যাতে লোকজন জামা‘আতে যুক্ত হতে পারেন। প্রত্যেক রাকা‘আতে তিনি এরকম করতেন না; বরং শুধু প্রথম রাকা‘আতে করতেন। কাজেই এখানে যেন এই দলীল বিদ্যমান যে, রুকূ‘ পাওয়া ব্যক্তি তাকবীর উলা বা প্রথম তাকবীর প্রাপ্ত হিসেবে গণ্য।”



[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ২/৫২; মুসনাদ আহমাদ: ৩/১৮২; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৮৪০; আত তায়ালিসী: ১৯৯৭; সহীহ মুসলিম: ৪৬৯; তিরমিযী: ২৩৭; নাসাঈ: ২/৯৪; দারেমী: ১/২৮৮; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৬০৪; আবূ আওয়ানা: ২/৮৯; ‍সুনান বাইহাকী: ৩/১১৫; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৩৭১৮; সহীহ আল বুখারী: ৭০৬; ইবনু মাজাহ: ৯৮৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৭৯৯)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (799): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح، علي بن زياد اللَّحْجِي: ترجم له المؤلف في «الثقات» 8/ 470، فقال: من أهل اليمن سمع ابن عيينة، وكان راويا لأبي قُرَّة، حدثنا عنه المفضل بن محمد الجندي، مستقيم الحديث، مات يوم عرفة سنة ثمان وأربعين ومئتين، ومن فوقه ثقات، واللَّحْجي: نسبة إلى لحج، من قرى اليمن، وهي تقع شمال غرب عدن.









সহীহ ইবনু হিব্বান (1857)


1857 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنْ هِشَامٍ الدَّسْتُوَائِيِّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقْرَأُ بِنَا فِي الرَّكْعَتَيْنِ الْأُولَيَيْنِ مِنَ الظُّهْرِ، وَيُطِيلُ فِي الْأُولَى، وَيُقَصِّرُ فِي [ص:167] الثَّانِيَةِ» [4: 1]
رقم طبعة با وزير = (1854)




আবূ কাতাদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের নিয়ে যোহরের প্রথম দুই রাকা‘আতে কিরা‘আত পাঠ করতেন; তিনি প্রথম রাকা‘আতে কিরা‘আত দীর্ঘ করতেন আর দ্বিতীয় রাকা‘আতে কিরা‘আত খাটো করতেন।”[1]



[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/৩৫৬; সহীহ আল বুখারী: ৭৬২; আবূ দাঊদ: ৭৯৮; ইবনু মাজাহ: ৮২৯; আবূ আওয়ানা: ২/১৫১; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/২০৬; সুনান বাইহাকী: ২/৬৫; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৫৮৮। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সিফাতুস সালাহ)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صفة الصلاة»: ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين









সহীহ ইবনু হিব্বান (1858)


1858 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَنْصُورُ بْنُ زَاذَانَ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ أَبِي الصِّدِّيقِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: «كُنَّا نَحْزِرُ قِيَامَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الظُّهْرِ، وَالْعَصْرِ، فَحَزَرْنَا قِيَامَهُ فِي الرَّكْعَتَيْنِ الْأُولَيَيْنِ قَدْرَ ثَلَاثِينَ آيَةً، وَحَزَرْنَا قِيَامَهُ فِي الرَّكْعَتَيْنِ الْأُخْرَيَيْنِ عَلَى النِّصْفِ مِنْ ذَلِكَ، وَحَزَرْنَا قِيَامَهُ فِي الرَّكْعَتَيْنِ الْأُولَيَيْنِ مِنَ الْعَصْرِ عَلَى قَدْرِ الْأُخْرَيَيْنِ مِنَ الظُّهْرِ، وَحَزَرْنَا قِيَامَهُ فِي الْأُخْرَيَيْنِ مِنَ الْعَصْرِ عَلَى النِّصْفِ مِنْ ذَلِكَ». [4: 1]
رقم طبعة با وزير = (1855) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «قَوْلُ أَبِي سَعِيدٍ، فَحَزَرْنَا قِيَامَهُ فِي الرَّكْعَتَيْنِ الْأُولَيَيْنِ قَدْرَ ثَلَاثِينَ آيَةً، يُضَادُّ فِي الظَّاهِرِ [ص:168] قَوْلَ أَبِي قَتَادَةَ: وَيُطِيلُ فِي الْأُولَى، وَيُقَصِّرُ فِي الثَّانِيَةِ، وَلَيْسَ بِحَمْدِ اللَّهِ وَمَنِّهِ كَذَلِكَ، لِأَنَّ الرَّكْعَةَ الْأُولَى كَانَ يَقْرَأُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيهَا ثَلَاثِينَ آيَةً بِالتَّرْسِيلِ، وَالتَّرْتِيلِ، وَالتَّرْجِيعِ، وَالرَّكْعَةَ الثَّانِيَةَ كَانَ يَقْرَأُ فِيهَا مِثْلَ قِرَاءَتِهِ فِي الْأُولَى، بِلَا تَرْسِيلٍ وَلَا تَرْجِيعٍ، فَتَكُونُ الْقِرَاءَتَانِ وَاحِدَةٌ، وَالْأُولَى أَطْوَلُ مِنَ الثَّانِيَةِ»




আবূ সা‘ঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যোহরের সালাতের প্রথম দুই রাকা‘আতের কিয়াম অনুমান করতাম প্রত্যেক রাকা‘আতে ৩০ আয়াত পরিমাণ; সূরা সাজদার সমান, আর শেষ দুই রাকা‘আতে তার অর্ধেক। আসরের সালাতের প্রথম দুই রাকা‘আতের কিরা‘আত অনুমান করতাম, যোহরের শেষ দুই রাকা‘আতের সমান। আর আসরের শেষ দুই রাকা‘আত তার (প্রথম দুই রাকা‘আতের) অর্ধেক।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আবূ সা‘ঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর বক্তব্য “আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যোহরের সালাতের প্রথম দুই রাকা‘আতের কিয়াম অনুমান করতাম ৩০ আয়াত পরিমাণ” এটি বাহ্যিকভাবে আবূ কাতাদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর এই হাদীস “তিনি প্রথম রাকা‘আতে দীর্ঘ করতেন আর দ্বিতীয় রাকা‘আতে খাটো করতেন”এর বিপরীত। কিন্তু আল্লাহর দয়ায় আমি বলি, আলহামদু লিল্লাহ। ব্যাপারটি এমন নয়। কেননা তিনি প্রথম রাকা‘আতের ৩০ আয়াত পড়তেন ধীরস্থিরভাবে, টেনে টেনে ও দ্বিরুক্ত করে করে আর দ্বিতীয় রাকা‘আতেও অনুরুপ ৩০ আয়াত পড়তেন, তবে টেনে টেনে ও দ্বিরুক্ত করে করে নয়। কাজেই উভয় কিরা‘আতের আয়াত সংখ্যা এক হলেও প্রথম রাকা‘আত দ্বিতীয় রাকা‘আত অপেক্ষা দীর্ঘ ছিল।”



[1] মুসনাদ আবূ ইয়ালা: ১২৯২; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/৩৫৫; মুসনাদ আহমাদ: ৩/২; সহীহ মুসলিম:৪৫২; বাগাবী: শারহুস সুন্নাহ: ৫৯৩; দারেমী: ১/৯৫; নাসাঈ: ১/২৩৭; আবূ আওয়ানা: ২/১৫২; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/২০৭; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৫০৯; দারাকুতনী: ১/৩৩৭। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৭৬৬)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صفة الصلاة»: م.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: هو مكرر (1828).









সহীহ ইবনু হিব্বান (1859)


1859 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عُمَيْرٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ: كُنْتُ قَاعِدًا عِنْدَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، إِذْ جَاءَهُ نَاسٌ مِنْ أَهْلِ الْكُوفَةِ يَشْكُونَ سَعْدًا، حَتَّى قَالُوا لَهُ: إِنَّهُ لَا يُحْسِنُ الصَّلَاةَ، فَقَالَ: عَهْدِي بِهِ وَهُوَ حَسَنُ الصَّلَاةِ، فَدَعَاهُ فَأَخْبَرَهُ، فَقَالَ: «أَمَّا صَلَاةُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَدْ صَلَّيْتُ بِهِمْ، أَرْكُدُ فِي الْأُولَيَيْنِ، وَأَحْذِفُ فِي الْأُخْرَيَيْنِ»، فَقَالَ: ذَاكَ الظَّنُّ بِكَ أَبَا إِسْحَاقَ، فَبَعَثَ مَعَهُ مَنْ يَسْأَلُ عَنْهُ بِالْكُوفَةِ، فَطِيفَ بِهِ فِي مَسَاجِدِ الْكُوفَةِ، فَلَمْ يُقَلْ لَهُ إِلَّا خَيْرًا حَتَّى انْتَهَى إِلَى مَسْجِدِ بَنِي عَبْسٍ، فَإِذَا رَجُلٌ يُدْعَى أَبَا سَعْدَةَ، فَقَالَ: اللَّهُمَّ إِنَّهُ كَانَ لَا يَنْفِرُ فِي السَّرِيَّةِ، وَلَا يَقْسِمُ بِالسَّوِيَّةِ، [ص:169] وَلَا يَعْدِلُ فِي الْقَضِيَّةِ، قَالَ: فَغَضِبَ سَعْدٌ، وَقَالَ: «اللَّهُمَّ إِنْ كَانَ كَاذِبًا فَأَطِلْ عُمْرَهُ، وَشَدِّدْ فَقْرَهُ، وَاعْرِضْ عَلَيْهِ الْفِتَنَ»، قَالَ: فَزَعَمَ ابْنُ عُمَيْرٍ أَنَّهُ رَآهُ قَدْ سَقَطَ حَاجِبَاهُ عَلَى عَيْنَيْهِ، قَدِ افْتَقَرَ، وَافْتُتِنَ، فَلَمْ يَجِدْ شَيْئًا، يُسْأَلُ كَيْفَ أَنْتَ أَبَا سَعْدَةَ؟ فَيَقُولُ: شَيْخٌ كَبِيرٌ مَفْتُونٌ، أُجِيبَتْ فِيَّ دَعْوَةُ سَعْدٍ. [4: 1]
رقم طبعة با وزير = (1856)




জাবির বিন সামুরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি উমার বিন খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর নিকট বসে ছিলাম, এমন সময় সা‘দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে কুফা থেকে কিছু লোক আসলো। এমনকি তারা বললো, “নিশ্চয়ই সা‘দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ভালভাবে সালাত আদায় করেন না।” তখন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আমি যতদূর জানি সা‘দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু উত্তমভাবে সালাত আদায় করেন।” তারপর তিনি সা‘দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে ডেকে পাঠান এবং তাকে এই ব্যাপারে অবহিত করেন। জবাবে তিনি বলেন, “আমি তো তাদেরকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাত পড়াতাম। আমি প্রথম দুই রাকা‘আতে কিরা‘আত দীর্ঘ করতাম আর শেষ দুই রাকা‘আতে কিরা‘আত হালকা করতাম।” উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “হে আবূ ইসহাক, আপনার ব্যাপারে আমার ধারণাও তো এমনই।” অতঃপর উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তার সাথে কুফায় কিছু লোক পাঠালেন তার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার জন্য। তাকে নিয়ে কুফার মাসজিদে নিয়ে যাওয়া হলো। সেখানকার লোকজন তার ব্যাপারে ভাল ছাড়া কোন মন্দ কথা বললো না। এভাবে তিনি মাসজিদু বানী আবসে গেলেন। সেখানে আবূ সা‘দাহ নামক এক ব্যক্তি আছে, সে বললো, “হে আল্লাহ, তুমি সাক্ষ্যি, নিশ্চয়ই তিনি যুদ্ধাভিযানে যান না, মাল সমানভাবে বন্টন করেন না এবং বিচার ফায়সালায় ন্যায়পরায়নতা অবলম্বন করেন না!” রাবী বলেন, “এসব শুনে সা‘দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু রেগে গেলেন এবং বললেন, “হে আল্লাহ, যদি সে মিথ্যাবাদী হয়ে থাকে, তবে তার আয়ূ বাড়িয়ে দিন, তার দরিদ্রতা প্রকট করে দিন এবং তাকে ফিতনায় নিপতিত করুন।” রাবী বলেন, “ইবনু উমাইর বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ঐ ব্যক্তিকে পরবর্তীতে দেখেছেন যে, তার দুই ভ্রু দুই চোখের উপর এসে পড়েছে, সে নিতান্ত দরিদ্র হয়ে গেছে এবং সে ফিতনায় নিপতিত হয়েছে। তার কোন কিছুই ছিল না। তাকে জিজ্ঞেস করা হতো, হে আবূ সা‘দাহ, আপনি কেমন আছেন?” জবাবে সে বলতো, “আমি তো এক ফিতনাগ্রস্থ অতিশয় বৃদ্ধ, আমার ব্যাপারে সা‘দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর বদ-দু‘আ কবূল হয়েছে!”[1]



[1] সহীহ মুসলিম: ৪৫৩; মুসনাদ আহমাদ: ১/১৮০; আত তায়ালিসী: ২১৭; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৩৭০৬; সহীহ আল বুখারী: ৭৫৫; নাসাঈ: ২/১৭৪; আবূ আওয়ানা: ২/১৪৯; তাবারানী আল কাবীর: ৩০৮; সুনান বাইহাকী: ২/৬৫; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৫০৮। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৭৬৫)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (765): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين.









সহীহ ইবনু হিব্বান (1860)


1860 - أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا زَائِدَةُ بْنُ قُدَامَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ كُلَيْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، أَنَّ وَائِلَ بْنَ حُجْرٍ الْحَضْرَمِيَّ، أَخْبَرَهُ قَالَ: قُلْتُ: لَأَنْظُرَنَّ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَيْفَ يُصَلِّي، فَنَظَرْتُ إِلَيْهِ حِينَ قَامَ، «فَكَبَّرَ، وَرَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى حَاذَتَا أُذُنَيْهِ، ثُمَّ وَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى ظَهْرِ كَفِّهِ الْيُسْرَى، وَالرُّسْغِ، وَالسَّاعِدِ، ثُمَّ لَمَّا أَرَادَ أَنْ يَرْكَعَ رَفَعَ يَدَيْهِ مِثْلَهَا، ثُمَّ رَكَعَ، فَوَضَعَ يَدَيْهِ عَلَى رُكْبَتَيْهِ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَرَفَعَ يَدَيْهِ مِثْلَهَا، ثُمَّ سَجَدَ، فَجَعَلَ كَفَّيْهِ بِحِذَاءِ أُذُنَيْهِ، ثُمَّ جَلَسَ فَافْتَرَشَ فَخِذَهُ الْيُسْرَى، [وَجَعَلَ يَدَهُ الْيُسْرَى عَلَى فَخِذِهِ، وَرُكْبَتِهِ الْيُسْرَى]، وَجَعَلَ حَدَّ مِرْفَقِهِ الْأَيْمَنِ عَلَى فَخِذِهِ الْيُمْنَى، وَعَقَدَ ثِنْتَيْنِ مِنْ أَصَابِعِهِ، وَحَلَّقَ حَلْقَةً، ثُمَّ رَفَعَ إِصْبَعَهُ، فَرَأَيْتُهُ يُحَرِّكُهَا يَدْعُو بِهَا»، ثُمَّ جِئْتُ بَعْدَ [ص:171] ذَلِكَ فِي زَمَانٍ فِيهِ بَرْدٌ، فَرَأَيْتُ النَّاسَ عَلَيْهِمْ جُلُّ الثِّيَابِ تَتَحَرَّكُ أَيْدِيهِمْ تَحْتَ الثِّيَابِ. [5: 4]
رقم طبعة با وزير = (1857)




ওয়াইল বিন হুজর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি বললাম, “অবশ্যই আমি লক্ষ্য করবো যে, কিভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিভাবে সালাত আদায় করেন। অতঃপর যখন তিনি দাঁড়ালেন, আমি দেখলাম, তিনি তাকবীর দিলেন এবং রফ‘উল ইয়াদাইন বা দুই হাত উত্তোলন করলেন এমনকি তা তাঁর দুই কান বরাবর করলেন। তারপর তিনি ডান হাত বাম হাতের পাতার পিঠ, কব্জি ও বাহুর উপর রাখলেন। তারপর যখন রুকূ‘ করতে চাইলেন, তখনও অনুরুপভাবে রফ‘উল ইয়াদাইন বা দুই হাত উত্তোলন করলেন। তারপর রুকূ‘ করলেন। তিনি তাঁর দুই হাত দুই হাঁটুর উপর রাখলেন। তারপর তিনি রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করলেন এবং অনুরুপভাবে রফ‘উল ইয়াদাইন করলেন। তারপর সাজদা করলেন। তিনি তাঁর দুই হাতের পাতা দুই কান বরাবর রাখলেন। তারপর বসলেন। বাম উরু বিছিয়ে দিলেন এবং ডান হাত ডান উরু ও হাঁটুর উপর রাখলেন। আর ডান হাতের কুনুইয়ের সীমা বাম উরু বরাবর করেন এবং তাঁর দুই আঙ্গুলকে গিরা দিয়ে বৃত্ত বানান। তারপর তিনি তাঁর এক আঙ্গুল উঠান। আমি দেখতে পাই যে, তিনি তা নড়াচ্ছেন এবং তার মাধ্যমে দু‘আ করছেন। তারপর শীতকালে আবার তাঁর কাছে আসি, আমি লোকজনকে দেখতে পেলাম তারা ভারি কাপড় পরিধান করেছেন। কাপড়ের নিচে তাদের হাতগুলো নড়ছিলো (অর্থাৎ চাদরের নিচে তারা রফ‘উল ইয়াদাইন করছিলেন)।”[1]



[1] তাবারানী আল কাবীর: ২২/৮২; আবূ দাঊদ: ৭২৭; মুসনাদ আহমাদ: ৪/৩১৮; ইমাম বুখারী, কুররাতুল আইনাইন ফী রফইল ইয়াদাইন: ১১ পৃষ্ঠা; নাসাঈ: ২/১২৬; দারেমী: ১/৩১৪; ইবনুল জারূদ: ২০৮; হুমাইদী: ৮৮৫; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ২৫২২; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/২৩৪; ইবনু মাজাহ: ৮৬৭; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/২২৩; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৫৬৩। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ শক্তিশালী বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৭১৭)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (717).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي رجاله رجال الصحيح، غير كليب بن شهاب، وهو صدوق روى له الأربعة، لكن جملة «فرأيته يحركها» شاذة، انفرد بها زائدة بن قدامة، دون من رواه من الثقات، وهم جمع يزيد عل العشرة.









সহীহ ইবনু হিব্বান (1861)


1861 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا حِبَّانُ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ: «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا افْتَتَحَ الصَّلَاةَ، رَفَعَ يَدَيْهِ حَذْوَ مَنْكِبَيْهِ، وَإِذَا كَبَّرَ لِلرُّكُوعِ، وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ رَفَعَهُمَا كَذَلِكَ أَيْضًا، وَقَالَ: سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ، رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ، وَكَانَ لَا يَفْعَلُ ذَلِكَ فِي السُّجُودِ». [1: 21]
رقم طبعة با وزير = (1858)




আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সালাতের সূচনা করতেন, তখন কাঁধ বরাবর রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন। যখন তিনি রুকূ‘র জন্য তাকবীর দিতেন এবং রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করতেন, তখনও অনুরুপভাবে রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন, এবং বলতেন, سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ (আল্লাহ শ্রবণ করেন, যে তাঁর প্রশংসা করে। হে আমাদের প্রভু, আর আপনার জন্য সমস্ত প্রশংসা), আর তিনি সাজদা করার সময় এরকম (রফ‘উল ইয়াদাইন) করতেন না।”[1]



[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/৭৫; সহীহ আল বুখারী: ৭৩৫; আবূ দাঊদ: ৭৪২; নাসাঈ: ২/১২২; দারেমী: ১/২৮৫; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/২২৩; সুনান বাইহাকী: ২/৬৯; বাগাবী: ৫৫৯; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ২৫১৮; সহহি মুসলিম: ৩৯০; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৪৫৬; মুসনাদ ইমাম শাফে‘ঈ: ১/৭০; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/২৩৪; ইবনুল জারূদ: ১৭৮; বাগাবী: ৫৬১। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৭১২)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (712): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما.









সহীহ ইবনু হিব্বান (1862)


1862 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَجَّاجِ السَّامِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جُحَادَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ، قَالَ: كُنْتُ غُلَامًا لَا أَعْقِلُ صَلَاةَ أَبِي فَحَدَّثَنِي وَائِلُ بْنُ عَلْقَمَةَ، عَنْ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ، قَالَ: «صَلَّيْتُ خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: فَكَانَ إِذَا دَخَلَ فِي الصَّفِّ* رَفَعَ يَدَيْهِ وَكَبَّرَ، ثُمَّ الْتَحَفَ فَأَدْخَلَ يَدَهُ فِي ثَوْبِهِ، فَأَخَذَ شِمَالَهُ بِيَمِينِهِ، فَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَرْكَعَ أَخْرَجَ يَدَيْهِ وَرَفَعَهُمَا، وَكَبَّرَ، ثُمَّ رَكَعَ، فَإِذَا رَفَعَ [ص:174] رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ، رَفَعَ يَدَيْهِ، فَكَبَّرَ، فَسَجَدَ، ثُمَّ وَضَعَ وَجْهَهُ بَيْنَ كَفَّيْهِ» قَالَ ابْنُ جُحَادَةَ: فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِلْحَسَنِ بْنِ أَبِي الْحَسَنِ، فَقَالَ: «هِيَ صَلَاةُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَعَلَهُ مَنْ فَعَلَهُ، وَتَرَكَهُ مَنْ تَرَكَهُ». [5: 4]
رقم طبعة با وزير = (1859) [ص:175] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «مُحَمَّدُ بْنُ جُحَادَةَ مِنَ الثِّقَاتِ الْمُتْقِنِينَ وَأَهْلُ الْفَضْلِ فِي الدِّينِ، إِلَّا أَنَّهُ وَهِمَ فِي اسْمِ هَذَا الرَّجُلِ، إِذِ الْجَوَادُ يَعْثُرُ فَقَالَ: وَائِلُ بْنُ عَلْقَمَةَ، [ص:176] وَإِنَّمَا هُوَ عَلْقَمَةُ بْنُ وَائِلٍ»




ওয়াইল বিন হুজর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পিছনে সালাত আদায় করেছি, তিনি যখন সালাতের কাতারে প্রবেশ করতেন, তখন রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন এবং তাকবীর দিতেন অতঃপর কাপড় শরীরে জড়িয়ে নিতেন। তিনি তাঁর হাতকে কাপড়ে ঢুকিয়ে নিতেন এবং ডান হাত দিয়ে বাম হাতকে ধরতেন।অতঃপর যখন রুকূ‘ করার ইচ্ছা করতেন, তখন তখন তিনি তাঁর হাত বের করে রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন এবং তাকবীর দিতেন। তারপর তিনি রুকূ‘ করতেন। অতঃপর যখন তিনি রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করতেন, তখন তিনি রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন এবং তাকবীর দিতেন। অতঃপর তিনি তাঁর কপালকে দুই হাতের তালুর মাঝে রাখতেন এবং সাজদা করতেন ।” ইবনু জুহাদাহ বলেন, “অতঃপর আমি হাদীসটি হাসান বিন আবুল হাসানকে বললে তিনি বলেন, “এটিই ছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাত। যে এমনটা করার করছে আর যে ছাড়ার তা ছেড়ে দিয়েছে!” আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “মুহাম্মাদ বিন জুহাদাহ একজন নির্ভরযোগ্য মজবূত রাবী, দ্বীনদার ব্যক্তিত্ব। তবে তিনি এখানে রাবীর নাম বলার ক্ষেত্রে ভুল করেছেন। কারণ উৎকৃষ্ট মানের ঘোড়াও কখনো কখনো হোঁচট খায়। তিনি বলেছেন, “ওয়াইল বিন আলকামা। বস্তুত সেটি হবে আলকামা বিন ওয়াইল।” [1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ৪/৩১৭; সহীহ মুসলিম: ৪০১; সুনান বাইহাকী: ২/৭১; তাবারানী আল কাবীর: ২২/৬১; দারাকুতনী: ১/২৯১; বাগাবী: ৫৬৯; নাসাঈ: ২/১৯৮। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা'লীকাতুল হিসান: ১৮৫৯)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح. * [الصَّفِّ] قال الشيخ: في الأصل: «الصلاة».




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح، رجاله رجال الصحيح غير إبراهيم بن الحجاج السامي، وهو ثقة، روى له النسائي.









সহীহ ইবনু হিব্বান (1863)


1863 - أَخْبَرَنَا أَبُو خَلِيفَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ نَصْرِ بْنِ عَاصِمٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ: «أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، كَانَ إِذَا كَبَّرَ رَفَعَ يَدَيْهِ إِذَا دَخَلَ فِي الصَّلَاةِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا أُذُنَيْهِ، وَإِذَا رَكَعَ، وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ». [5: 4]
رقم طبعة با وزير = (1860)




মালিক বিন হুওয়াইরিস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সালাতে প্রবেশ করতেন, তাকবীর দিতেন এবং রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন, এমনকি তা কান বরাবর করতেন। আর যখন রুকূ‘ করতেন, রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করতেন, (তখনও তিনি অনুরুপভাবে রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন)।”[1]



[1] সহীহ আবূ দাঊদ: ৩৩০; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/২৩৩; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৪৩৬; ইমাম বুখারী, কুররাতুল আইনাইন: ১৭-১৮ পৃষ্ঠা; সহীহ মুসলিম: ৩৯১; নাসাঈ: ২/১২৩; ইবনু মাজাহ: ৮৫৯; দারাকুতনী: ১/২৯২; তাবারানী: ১৯/৬২৬; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/২২৪; সুনান বাইহাকী: ২/২৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৩৩০)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (330): م، خ نحوه.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (1864)


1864 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، وَأَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ، قَالَا: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: «رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا افْتَتَحَ الصَّلَاةَ، رَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ، وَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَرْكَعَ، وَبَعْدَ مَا يَرْفَعُ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ، وَلَا يَرْفَعُ بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ». [5: 4]
رقم طبعة با وزير = (1861)




আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সালাতের সূচনা করতেন, তখন কাঁধ বরাবর রফউল ইয়াদাইন করতেন। যখন তিনি রুকূ‘র জন্য তাকবীর দিতেন এবং রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করতেন, তখনও অনুরুপভাবে রফউল ইয়াদাইন করতেন, এবং বলতেন, سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ (আল্লাহ শ্রবণ করেন, যে তাঁর প্রশংসা করে। হে আমাদের প্রভু, আর আপনার জন্য সমস্ত প্রশংসা), আর তিনি সাজদা করার মাঝে এরকম (রফ‘উল ইয়াদাইন) করতেন না।”[1]



[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/৭৫; সহীহ আল বুখারী: ৭৩৫; আবূ দাঊদ: ৭৪২; নাসাঈ: ২/১২২; দারেমী: ১/২৮৫; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/২২৩; সুনান বাইহাকী: ২/৬৯; বাগাবী: ৫৫৯; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ২৫১৮; সহহি মুসলিম: ৩৯০; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৪৫৬; মুসনাদ ইমাম শাফে‘ঈ: ১/৭০; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/২৩৪; ইবনুল জারূদ: ১৭৮; বাগাবী: ৫৬১। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৭১২)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق - انظر (1858). تنبيه!! رقم (1858) = (1861) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما.









সহীহ ইবনু হিব্বান (1865)


1865 - أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَلِيٍّ الْهَزَارِيُّ، بِسَارِيَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ الْفَلَّاسُ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ، عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ جَعْفَرٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِي حُمَيْدٍ، قَالَ: سَمِعْتُهُ فِي عَشْرَةٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَحَدُهُمْ أَبُو قَتَادَةَ، قَالَ: أَنَا أَعْلَمُكُمْ بِصَلَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالُوا: مَا كُنْتَ أَقْدَمَنَا لَهُ صُحْبَةً، وَلَا أَكْثَرَنَا لَهُ تَبَعَةً! قَالَ: بَلَى، قَالُوا: فَاعْرِضْ، قَالَ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَامَ [ص:179] إِلَى الصَّلَاةِ، اسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ، وَرَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: اللَّهُ أَكْبَرُ، وَإِذَا رَكَعَ، كَبَّرَ، وَرَفَعَ يَدَيْهِ حِينَ رَكَعَ، ثُمَّ يَعْتَدِلُ فِي صُلْبِهِ وَلَمْ يَنْصِبْ رَأْسَهُ وَلَمْ يُقَنِّعْهُ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ، وَقَالَ: سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ، وَرَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ، ثُمَّ اعْتَدَلَ، ثُمَّ سَجَدَ وَاسْتَقْبَلَ بِأَطْرَافِ رِجْلَيْهِ الْقِبْلَةَ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَقَالَ: اللَّهُ أَكْبَرُ، فَثَنَى رِجْلَهُ الْيُسْرَى، وَقَعَدَ وَاعْتَدَلَ حَتَّى يَرْجِعَ كُلُّ عَظْمٍ إِلَى مَوْضِعِهِ مُعْتَدِلًا، ثُمَّ قَالَ: اللَّهُ أَكْبَرُ، وَإِذَا قَامَ مِنَ الرَّكْعَتَيْنِ، كَبَّرَ، ثُمَّ قَامَ حَتَّى إِذَا كَانَتِ الرَّكْعَةُ الَّتِي [ص:180] تَنْقَضِي فِيهَا أَخَّرَ رِجْلَهُ الْيُسْرَى وَقَعَدَ عَلَى رِجْلِهِ مُتَوَرِّكًا، ثُمَّ سَلَّمَ». [5: 4]
رقم طبعة با وزير = (1862)




আবূ হুমাইদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি দশজন সাহাবীর মাঝে এই হাদীস শুনেছি, তাদের মাঝে একজন আবূ কাতাদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু, তিনি বলেন, “আমি আপনাদের মাঝে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাতের বিষয়ে সবচেয়ে বেশি অবগত।” তখন অন্যান্য সাহাবীগণ বললেন, “আপনি তো আমাদের মাঝে সাহাবী হওয়ার দিক থেকে অগ্রগামী ছিলেন না, অনুসারী হওয়ার দিক দিয়েও আধিক্যের অধিকারী না!” জবাবে তিনি বলেন, “হ্যাঁ।” তাঁরা বললেন, “আপনি (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাতের বিবরণ) পেশ করুন।” তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাতে দাঁড়াতেন, তখন কিবলামুখী হতেন এবং রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন, হাতকে কাঁধ বরাবর করতেন। তারপর ‘আল্লাহু আকবার’ বলতেন। অতঃপর যখন রুকূ‘ করতেন, তখন তাকবীর দিতেন এবং রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন। তারপর রুকূ‘তে পিঠ সোজা করতেন; পিঠকে উঁচু করতেন না আবার নিচুও করতেন না। তারপর রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করতেন, বলতেন, سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ (আল্লাহ শ্রবণ করেন, যে তাঁর প্রশংসা করে) এবং রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন, এমনকি তা কাঁধ বরাবর করতেন। তারপর সোজা হয়ে দাঁড়াতেন। তারপর সাজদা করতেন। তিনি পায়ের আঙ্গুলগুলোকে কিবলামুখী করতেন। তারপর সাজদা থেকে মাথা উত্তোলন করতেন এবং বলতেন ‘আল্লাহু আকবার’। আর যখন দ্বিতীয় রাকা‘আত থেকে দাঁড়াতেন, তখন তাকবীর দিতেন তারপর দাঁড়াতেন। এভাবে যখন শেষ রাকা‘আতে থাকতেন, তখন তিনি বাম পা বের করে দিতেন এবং তাঁর পায়ের উপর তাওয়ার্রুক করে বসতেন। তারপর সালাম ফেরাতেন।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ৫/৪২৪; ইমাম বুখারী, কুররাতুল আইনাইন: ৫; আবূ দাঊদ: ৭৩০, ৯৬৩; তিরমিযী: ৩০৪; নাসাঈ: ৩/৩৪; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৫৫৫; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৫৮৭; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/২৩৫; বাইহাকী: ২/২৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৭২০)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (720).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم، عبد الحميد بن جعفر: من رجال مسلم، وباقي السند من رجال الشيخين.









সহীহ ইবনু হিব্বান (1866)


1866 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، مَوْلَى ثَقِيفٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ شُجَاعٍ السَّكُونِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِيُ، قَالَ: حَدَّثَنَا [ص:181] أَبُو خَيْثَمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ الْحُرِّ، قَالَ: حَدَّثَنِي عِيسَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، أَحَدُ بَنِي مَالِكٍ، عَنْ عَبَّاسِ بْنِ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ، أَنَّهُ كَانَ فِي مَجْلِسٍ كَانَ فِيهِ أَبُوهُ - وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - وَفِي الْمَجْلِسِ أَبُو هُرَيْرَةَ، وَأَبُو أُسَيْدٍ، وَأَبُو حُمَيْدٍ السَّاعِدِيُّ، مِنَ الْأَنْصَارِ، وَأَنَّهُمْ تَذَاكَرُوا الصَّلَاةَ، فَقَالَ أَبُو حُمَيْدٍ: أَنَا أَعْلَمُكُمْ بِصَلَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالُوا: فَأَرِنَا، قَالَ: فَقَامَ يُصَلِّي وَهُمْ يَنْظُرُونَ «فَبَدَأَ يُكَبِّرُ، وَرَفَعَ يَدَيْهِ حِذَاءَ الْمَنْكِبَيْنِ، ثُمَّ كَبَّرَ لِلرُّكُوعِ، فَرَفَعَ يَدَيْهِ أَيْضًا، ثُمَّ أَمْكَنَ يَدَيْهِ مِنْ رُكْبَتَيْهِ غَيْرَ مُقَنِّعٍ وَلَا مُصَوِّبٍ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ وَقَالَ: سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ، اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ، ثُمَّ رَفَعَ يَدَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: اللَّهُ أَكْبَرُ، فَسَجَدَ، فَانْتَصَبَ عَلَى كَفَّيْهِ وَرُكْبَتَيْهِ وَصُدُورِ قَدَمَيْهِ وَهُوَ سَاجِدٌ، ثُمَّ كَبَّرَ، فَجَلَسَ، وَتَوَرَّكَ إِحْدَى رِجْلَيْهِ، وَنَصَبَ قَدَمَهُ الْأُخْرَى، ثُمَّ كَبَّرَ فَسَجَدَ الْأُخْرَى، فَكَبَّرَ، فَقَامَ وَلَمْ يَتَوَرَّكْ، ثُمَّ عَادَ فَرَكَعَ الرَّكْعَةَ الْأُخْرَى، وَكَبَّرَ كَذَلِكَ، ثُمَّ جَلَسَ بَعْدَ الرَّكْعَتَيْنِ حَتَّى إِذَا هُوَ أَرَادَ أَنْ يَنْهَضَ لِلْقِيَامِ، كَبَّرَ، ثُمَّ رَكَعَ الرَّكْعَتَيْنِ الْأَخِيرَتَيْنِ، فَلَمَّا سَلَّمَ، سَلَّمَ عَنْ يَمِينِهِ: سَلَامٌ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ، وَسَلَّمَ عَنْ شِمَالِهِ: سَلَامٌ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ» [ص:182] قَالَ الْحَسَنُ بْنُ الْحُرِّ: وَحَدَّثَنِي عِيسَى أَنَّ مِمَّا حَدَّثَهُ أَيْضًا فِي الْمَجْلِسِ فِي التَّشَهُّدِ: «أَنْ يَضَعَ يَدَهُ الْيُسْرَى عَلَى فَخِذِهِ الْيُسْرَى، وَيَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى فَخِذِهِ الْيُمْنَى، ثُمَّ يُشِيرُ فِي الدُّعَاءِ بِإِصْبَعٍ وَاحِدَةٍ». [5: 4]
رقم طبعة با وزير = (1863) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «سَمِعَ هَذَا الْخَبَرَ مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِي حُمَيْدٍ السَّاعِدِيِّ، وَسَمِعَهُ مِنْ عَبَّاسِ بْنِ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، فَالطَّرِيقَانِ جَمِيعًا مَحْفُوظَانِ»




আব্বাস বিন সাহল বিন সা‘দ আস সা‘ঈদী থেকে বর্ণিত, তিনি বর্ণনা করেন যে, তিনি একটি মাজলিসে ছিলেন যাতে তার বাবা উপস্থিত ছিলেন। তার বাবা সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। মাজলিসে আরো উপস্থিত ছিলেন আবূ হুরাইরা, আবূ উসাইদ, আবূ হুমাইদ আস সা‘ঈদী আনসারী প্রমুখ সাহাবী। তাঁরা সালাতের আলোচনা করছিলেন। তখন আবূ হুমাইদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু, তিনি বলেন, “আমি আপনাদের মাঝে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাতের বিষয়ে সবচেয়ে বেশি অবগত।” তখন অন্যান্য সাহাবীগণ বলেন, “তবে আপনি আমাদেরকে (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাতের বিষয়) দেখিয়ে দিন।” আব্বাস বিন সাহল বিন সা‘দ আস সা‘ঈদী বলেন, “অতঃপর তিনি সালাত আদায় করার জন্য দাঁড়ালেন, আর তারা তা প্রত্যক্ষ করছিলেন। তিনি তাকবীর দিয়ে শুরু করলেন এবং হাত কাঁধ বরাবর উত্তোলন করলেন। তারপর রুকূ‘ করার জন্য তাকবীর দিলেন এবং কাঁধ বরাবর দুই হাত উত্তোলন করলেন। তারপর তিনি হাঁটুতে দুই হাত স্থাপন করলেন, তিনি পিঠকে উঁচু করেননি, আবার নিচুও করেননি। তারপর তিনি রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করেন এবং বলেন, , سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ (আল্লাহ শ্রবণ করেন, যে তাঁর প্রশংসা করে। হে আল্লাহ, আমাদের প্রভু, আর আপনার জন্য সমস্ত প্রশংসা), তারপর রফ‘ঊল ইয়াদাইন করেন। তারপর বলেন ‘আল্লাহু আকবার’ এবং সাজদা করেন। তিনি সাজদা অবস্থায় দুই হাতের তালু, দুই হাঁটু ও দুই পায়ের অগ্রভাগের উপর স্থাপিত হন। তারপর তিনি তাকবীর দেন এবং বসেন কিন্তু তাওয়ার্রুক করেননি। তারপর আরেক রাকা‘আত পড়ে নেন এবং অনুরুপভাবে তাকবীর দেন। তারপর দুই রাকা‘আতের পর বসেন, অতঃপর যখন তিনি দাঁড়ানোর ইচ্ছা করেন, তখন তিনি তাকবীর দেন। তারপর পরের দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করেন। তারপর যখন সালাম ফেরান, তখন ডান দিকে সালাম ফেরান এই বলে, سَلَامٌ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ (আপনাদের উপর আল্লাহর রহমত ও সালাম বর্ষিত হোক) এবং বাম দিকে সালাম ফেরান এই বলে , سَلَامٌ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ (আপনাদের উপর আল্লাহর রহমত ও সালাম বর্ষিত হোক)। হাসান বিন হুর্র বলেন, “আমাকে ইসা তাশাহ্হুদের বৈঠকের বিষয়ে হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, বাম হাত বাম উরুর উপর আর ডান হাত ডান উরুর উপর রাখবে। তারপর দু‘আ করার সময় এক আঙ্গুলের মাধ্যমে ইশারা করবে।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই হাদীসটি মুহাম্মাদ বিন আমর বিন আতা শ্রবণ করেছেন আবূ হুমাইদ সা‘ঈদী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে, তিনি হাদীসটি আব্বাস বিন সাহল বিন সা‘দ আস সা‘ঈদী থেকে, তিনি তার বাবা থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। কাজেই হাদীসটির দুটো সানাদই সহীহ।”



[1] আবূ দাঊদ: ৭৩৩, ৯৬৬; সুনান বাইহাকী: ২/১০১, ১১৮; মুসনাদ আহমাদ: ৫/৪২৪; ইমাম বুখারী, কুররাতুল আইনাইন: ৫; আবূ দাঊদ: ৭৩০, ৯৬৩; তিরমিযী: ৩০৪; নাসাঈ: ৩/৩৪; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৫৫৫; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৫৮৭; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/২৩৫; বাইহাকী: ২/২৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। (যঈফ আবূ দাঊদ: ১১৮)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف - «ضعيف أبي داود» (118).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن، عيسى بن عبد الله بن مالك: روى عنه جمع، وذكره المؤلف في «الثقات» 7/ 231، وترجم له البخاري في «التاريخ الكبير» 6/ 389 - 390، وابن أبي حاتم 6/ 280، فلم يذكرا فيه جرحاً ولا تعديلاً، وباقي رجاله ثقات، أبو خيثمة: هو زهير بن معاوية الجعفي.









সহীহ ইবনু হিব্বান (1867)


1867 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ زُهَيْرٍ الْحَافِظُ، بِتُسْتَرَ وَكَانَ أَسْوَدَ مِنْ رَأَيْتُ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ [ص:183] عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا حُمَيْدٍ السَّاعِدِيَّ، فِي عَشْرَةٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيهِمْ أَبُو قَتَادَةَ، فَقَالَ أَبُو حُمَيْدٍ: أَنَا أَعْلَمُكُمْ بِصَلَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالُوا: لِمَ؟ فَوَاللَّهِ مَا كُنْتَ أَكْثَرَنَا لَهُ تَبَعَةً، وَلَا أَقْدَمَنَا لَهُ صُحْبَةً، قَالَ: بَلَى، قَالُوا: فَاعْرِضْ، قَالَ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلَاةِ، كَبَّرَ، ثُمَّ رَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ، وَيُقِيمُ كُلَّ عَظْمٍ فِي مَوْضِعِهِ، ثُمَّ يَقْرَأُ، ثُمَّ يَرْفَعُ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ، ثُمَّ يَرْكَعُ وَيَضَعُ رَاحَتَيْهِ عَلَى رُكْبَتَيْهِ مُعْتَدِلًا لَا يُصَوِّبُ رَأْسَهُ وَلَا يَقْنَعْ بِهِ، يَقُولُ: سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ، وَيَرْفَعُ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ حَتَّى يَقَرَّ كُلُّ عَظْمٍ إِلَى مَوْضِعِهِ، ثُمَّ يَهْوِي إِلَى الْأَرْضِ، وَيُجَافِي يَدَيْهِ عَنْ جَنْبَيْهِ، ثُمَّ يَرْفَعُ رَأْسَهُ وَيَثْنِي رِجْلَهُ، فَيَقْعُدُ عَلَيْهَا وَيَفْتَخُ أَصَابِعَ رِجْلَيْهِ إِذَا سَجَدَ، ثُمَّ يَسْجُدُ، ثُمَّ يُكَبِّرُ وَيَجْلِسُ عَلَى رِجْلِهِ الْيُسْرَى حَتَّى يَرْجِعَ كُلُّ عَظْمٍ إِلَى مَوْضِعِهِ، ثُمَّ يَقُومُ فَيَصْنَعُ فِي الْأُخْرَى مِثْلَ ذَلِكَ، ثُمَّ إِذَا قَامَ مِنَ الرَّكْعَتَيْنِ، رَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ كَمَا صَنَعَ عِنْدَ افْتِتَاحِ الصَّلَاةِ، ثُمَّ يُصَلِّي بَقِيَّةَ صَلَاتِهِ هَكَذَا، حَتَّى إِذَا كَانَ فِي السَّجْدَةِ الَّتِي فِيهَا [ص:184] التَّسْلِيمُ أَخْرَجَ رِجْلَيْهِ وَجَلَسَ عَلَى شِقِّهِ الْأَيْسَرِ مُتَوَرِّكًا» فَقَالُوا: صَدَقْتَ هَكَذَا كَانَ يُصَلِّي النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. [1: 21]
رقم طبعة با وزير = (1864) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «فِي أَرْبَعِ رَكَعَاتٍ يُصَلِّيهَا الْإِنْسَانُ سِتُّ مِائَةِ سُنَّةٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَخَرَجْنَاهَا بِفُصُولِهَا فِي كِتَابِ صِفَةِ الصَّلَاةِ، فَأَغْنَى ذَلِكَ عَنْ نَظْمِهَا فِي هَذَا النَّوْعِ مِنْ هَذَا الْكِتَابِ» قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «عَبْدُ الْحَمِيدِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَحَدُ الثِّقَاتِ الْمُتْقِنِينَ، قَدْ سَبَرْتَ أَخْبَارَهُ، فَلَمْ أَرَهُ انْفَرَدَ بِحَدِيثٍ مُنْكَرٍ لَمْ يُشَارِكْ فِيهِ، وَقَدْ وَافَقَ فُلَيْحُ بْنُ سُلَيْمَانَ، وَعِيسَى بْنُ [ص:185] عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِي حُمَيْدٍ عَبْدَ الْحَمِيدِ بْنَ جَعْفَرٍ فِي هَذَا الْخَبَرِ»




মুহাম্মাদ বিন আমর বিন আতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবূ হুমাইদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে দশজন সাহাবীর মাঝে এই হাদীস বলতে শুনেছি, তাদের মাঝে একজন ছিলেন আবূ কাতাদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু। আবূ হুমাইদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আমি আপনাদের মাঝে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাতের বিষয়ে সবচেয়ে বেশি অবগত।” তখন অন্যান্য সাহাবীগণ বললেন, “আপনি তো আমাদের মাঝে সাহাবী হওয়ার দিক থেকে অগ্রগামী ছিলেন না, অনুসারী হওয়ার দিক দিয়েও আধিক্যের অধিকারী না!” জবাবে তিনি বলেন, “হ্যাঁ।” তাঁরা বললেন, “আপনি (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাতের বিবরণ) পেশ করুন।” তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সালাতে দাঁড়াতেন, তখন তাকবীর দিতেন, তারপর রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন, এমনকি হাত কাঁধ বরাবর করতেন। প্রতিটি অঙ্গকে স্বস্বস্থানে স্থাপন করতেন। তারপর কিরা‘আত পাঠ করতেন। তারপর রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন, এমনকি হাত কাঁধ বরাবর করতেন। তারপর রুকূ‘ করতেন, তিনি তাঁর দুই হাতের তালূকে হাঁটুর উপর স্থাপন করতেন। তিনি রুকূ‘তে পিঠ সোজা করতেন; পিঠকে উঁচু করতেন না আবার নিচুও করতেন না। তারপর রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করতেন, এসময় তিনি বলতেন, سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ (আল্লাহ শ্রবণ করেন, যে তাঁর প্রশংসা করে) এবং রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন, এমনকি হাত কাঁধ বরাবর করতেন। (তারপর তিনি এমন সোজা হয়ে দাঁড়াতেন যে,) তাঁর শরীরের প্রতিটি হাড় স্বস্বস্থানে ফিরে যেতো। তারপর তিনি জমিনে ধাবিত হতেন (সাজদা করার জন্য) তিনি সাজদার সময় তাঁর দুই হাত দুই পার্শ্ব থেকে পৃথক রাখতেন। তারপর সাজদা থেকে মাথা উত্তোলন করতেন এবং (বাম) পা বিছিয়ে দিতেন অতঃপর তার উপর বসতেন। যখন তিনি সাজদা করতেন, তখন তিনি পায়ের আঙ্গুলগুলোকে খোলা রাখতেন। তারপর আবার সাজদা দিতেন। তারপর তাকবীর দিতেন এবং বাম পায়ের উপর এমনভাবে বসতেন যে, প্রতিটি হাড় স্বস্ব স্থানে ফিরে যেতো। তারপর তিনি দ্বিতীয় রাকা‘আতের জন্য উঠে দাঁড়ান এবং প্রথম রাকা‘আতের অনুরুপ কাজ সম্পাদন আর যখন দ্বিতীয় রাকা‘আত থেকে দাঁড়াতেন, তখন রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন, এমনকি হাত কাঁধ বরাবর করতেন যেমনটা তিনি প্রথম তাকবীরের সময় করতেন। এভাবে যখন শেষ রাকা‘আতে থাকতেন, তখন তিনি বাম পা বের করে দিতেন এবং তাঁর বাম পাশের নিতম্বের উপর বসতেন।” তখন অন্যান্য সাহাবীগণ বলেন, “আপনি সত্যই বলেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এভাবেই সালাত আদায় করতেন।” [1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “যে কোন ব্যক্তি চার রাকা‘আত সালাত আদায় করলে, তাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ৬০০ সুন্নাত রয়েছে, যা আমরা ‘সিফাতুস সালাহ’ নামক কিতাবে বিস্তারিত বর্ণনা করেছি, এজন্য সেগুলি এখানে পুনরায় উল্লেখ করার প্রয়োজন বোধ করছি না। আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আব্দুল হামীদ একজন নির্ভরযোগ্য, মজবূত রাবী। আমি তার হাদীসগুলো তাহকীক করেছি, তাতে আমি তার এমন কোন মুনকার হাদীস দেখতে পাইনি, যা তিনি এককভাবে বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদ বিন আমরের সূত্রে আবূ হুমাইদ থেকে এই হাদীস বর্ণনায় আব্দুল হামীদ বিন জা‘ফরের সাথে ফুলাইহ বিন সুলাইমান ও ইসা বিন আব্দুল্লাহ বিন মালিক শরীক হয়েছেন।”



[1] মুসনাদ আহমাদ: ৫/৪২৪; ইমাম বুখারী, কুররাতুল আইনাইন: ৫; আবূ দাঊদ: ৭৩০, ৯৬৩; তিরমিযী: ৩০৪; নাসাঈ: ৩/৩৪; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৫৫৫; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৫৮৭; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/২৩৫; বাইহাকী: ২/২৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৭২০)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر (1862). تنبيه!! رقم (1862) = (1865) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم، رجاله رجال الشيخين غير عبد الحميد بن جعفر، فإنه من رجال مسلم، أبو عاصم: هو الضحاك بن خلد.









সহীহ ইবনু হিব্বান (1868)


1868 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَرُوبَةَ بِحَرَّانَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَنَّهُ كَانَ إِذَا دَخَلَ فِي الصَّلَاةِ رَفَعَ يَدَيْهِ، وَإِذَا رَكَعَ، وَإِذَا قَالَ: سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ، وَإِذَا قَامَ مِنَ الرَّكْعَتَيْنِ رَفَعَهُمَا إِلَى مَنْكِبَيْهِ». [5: 44]
رقم طبعة با وزير = (1865)




আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সালাতের সূচনা করতেন, তখন রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন। যখন তিনি রুকূ‘ করতেন, (রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করার সময় যখন) বলতেন, سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ (আল্লাহ শ্রবণ করেন, যে তাঁর প্রশংসা করে। হে আমাদের প্রভু, আর আপনার জন্য সমস্ত প্রশংসা) এবং যখন তিনি দ্বিতীয় রাকা‘আত থেকে দাঁড়াতেন, তখন তিনি কাঁধ বরাবর রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন।”[1]



[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/৭৫; সহীহ আল বুখারী: ৭৩৫; আবূ দাঊদ: ৭৪২; নাসাঈ: ২/১২২; দারেমী: ১/২৮৫; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/২২৩; সুনান বাইহাকী: ২/৬৯; বাগাবী: ৫৫৯; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ২৫১৮; সহহি মুসলিম: ৩৯০; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৪৫৬; মুসনাদ ইমাম শাফে‘ঈ: ১/৭০; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/২৩৪; ইবনুল জারূদ: ১৭৮; বাগাবী: ৫৬১। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৭১২)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (728).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين.









সহীহ ইবনু হিব্বান (1869)


1869 - أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُصْعَبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو الْغَزِّيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، حَدَّثَنِي اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْقُرَشِيِّ، وَعَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَلْحَلَةَ، [ص:186] عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، أَنَّهُ كَانَ جَالِسًا مَعَ نَفَرٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَبُو حُمَيْدٍ السَّاعِدِيُّ: أَنَا أَحْفَظُكُمْ لِصَلَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، «رَأَيْتُهُ إِذَا كَبَّرَ جَعَلَ يَدَيْهِ حَذْوَ مَنْكِبَيْهِ، وَإِذَا رَكَعَ أَمْكَنَ يَدَيْهِ مِنْ رُكْبَتَيْهِ، ثُمَّ هَصَرَ ظَهْرَهُ، فَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ اسْتَوَى، فَإِذَا سَجَدَ وَضَعَ يَدَيْهِ غَيْرَ مُفْتَرِشٍ وَلَا قَابِضٍ، وَاسْتَقْبَلَ بِأَطْرَافِ رِجْلَيْهِ إِلَى الْقِبْلَةِ، وَإِذَا جَلَسَ فِي الرَّكْعَةِ الْآخِرَةِ قَدَّمَ رِجْلَهُ الْيُسْرَى وَجَلَسَ عَلَى مَقْعَدَتِهِ». [5: 44]
رقم طبعة با وزير = (1866)




মুহাম্মাদ বিন আমর বিন আতা থেকে বর্ণিত, তিনি একবার একদল সাহাবীদের মাঝে বসে ছিলেন। তখন আবূ হুমাইদ আস সা‘ইদী বলেন, “আমি আপনাদের মাঝে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাতের বিষয়ে সবচেয়ে বেশি সংরক্ষনকারী” আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেছি, যখন তিনি সালাতে দাঁড়াতেন, তখন তিনি তাঁর হাতকে কাঁধ বরাবর করতেন। যখন তিনি রুকূ‘ করতেন, তখন তিনি তাঁর দুই হাত দিয়ে দুই হাঁটু মজবূতভাবে ধারণ করতেন অতঃপর তাঁর পিঠকে বরাবর করতেন। অতঃপর যখন তিনি রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করতেন, তখন সোজা হয়ে দাঁড়াতেন। তারপর যখন তিনি সাজদা করতেন, তখন তিনি দুই হাত মাটিতে রাখতেন; এসময় তিনি হাত বিছিয়ে রাখতেন না আবার হাত মুষ্টিবদ্ধও করতেন এবং তিনি পায়ের আঙ্গুলগুলোকে কিবলামুখী করতেন। যখন তিনি শেষ রাকা‘আতে বসতেন, তখন তিনি বাম পা সামনে বের করে দিতেন এবং নিতম্বের উপর বসতেন।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ৫/৪২৪; ইমাম বুখারী, কুররাতুল আইনাইন: ৫; আবূ দাঊদ: ৭৩০, ৯৬৩; তিরমিযী: ৩০৪; নাসাঈ: ৩/৩৪; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৫৫৫; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৫৮৭; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/২৩৫; বাইহাকী: ২/২৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৭২০)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (722): خ، وهو مختصر الذي بعده.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: عبد الله بن محمد بن عمرو الغَزِّي: ثقة روى له أبو داود، ومن فوقه ثقات من رجال الشيخين غير يزيد بن محمد، وهو ابن قيس بن مخرمة بن المطلب القرشي، فإنه من رجال البخاري، يحيى بن بكير: هو يحيى بن عبد الله بن بكير، والليث هو ابن سعد.









সহীহ ইবনু হিব্বান (1870)


1870 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْأَوْدِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا حُمَيْدٍ السَّاعِدِيَّ، يَقُولُ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلَاةِ اسْتَقْبَلَ، وَرَفَعَ يَدَيْهِ [ص:188] حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: اللَّهُ أَكْبَرُ، وَإِذَا رَكَعَ كَبَّرَ، وَرَفَعَ يَدَيْهِ حِينَ رَكَعَ، ثُمَّ عَدَلَ صُلْبَهُ، وَلَمْ يُصَوِّبْ رَأْسَهُ وَلَمْ يُقَنِّعْهُ، ثُمَّ قَالَ: سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ، وَرَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ، ثُمَّ اعْتَدَلَ حَتَّى رَجَعَ كُلُّ عَظْمٍ إِلَى مَوْضِعِهِ مُعْتَدِلًا، ثُمَّ هَوَى إِلَى الْأَرْضِ، فَقَالَ: اللَّهُ أَكْبَرُ، وَسَجَدَ وَجَافَى عَضُدَيْهِ عَنْ جَنْبَيْهِ، وَاسْتَقْبَلَ بِأَطْرَافِ أَصَابِعِ رِجْلَيْهِ الْقِبْلَةَ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ، وَقَالَ: اللَّهُ أَكْبَرُ، وَثَنَى رِجْلَهُ الْيُسْرَى وَقَعَدَ عَلَيْهَا، وَاعْتَدَلَ حَتَّى رَجَعَ كُلُّ عَظْمٍ إِلَى مَوْضِعِهِ مُعْتَدِلًا، ثُمَّ قَالَ: اللَّهُ أَكْبَرُ، ثُمَّ عَادَ فَسَجَدَ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ وَقَالَ: اللَّهُ أَكْبَرُ، ثُمَّ ثَنَّى رِجْلَهُ الْيُسْرَى، ثُمَّ قَعَدَ عَلَيْهَا حَتَّى رَجَعَ كُلُّ عَظْمٍ إِلَى مَوْضِعِهِ، ثُمَّ قَامَ فَصَنَعَ فِي الْأُخْرَى مِثْلَ ذَلِكَ، حَتَّى إِذَا قَامَ مِنَ الرَّكْعَتَيْنِ، كَبَّرَ وَصَنَعَ كَمَا صَنَعَ فِي ابْتِدَاءِ الصَّلَاةِ، حَتَّى إِذَا كَانَتِ السَّجْدَةُ الَّتِي تَكُونُ خَاتِمَةَ الصَّلَاةِ، رَفَعَ رَأْسَهُ مِنْهُمَا، وَأَخَّرَ رِجْلَهُ، وَقَعَدَ مُتَوَرِّكًا عَلَى رِجْلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ». [5: 44]
رقم طبعة با وزير = (1867)




আবূ হুমাইদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সালাতে দাঁড়াতেন, তখন কিবলামুখী হতেন এবং রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন, এমনকি হাতকে কাঁধ বরাবর করতেন। তারপর ‘আল্লাহু আকবার’ বলতেন। অতঃপর যখন রুকূ‘ করতেন, তখন তাকবীর দিতেন এবং রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন। তারপর রুকূ‘তে পিঠ সোজা করতেন; পিঠকে উঁচু করতেন না আবার নিচুও করতেন না। তারপর রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করতেন, বলতেন, سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ (আল্লাহ শ্রবণ করেন, যে তাঁর প্রশংসা করে), এবং রফ‘উল ইয়াদাইন করতেন, এমনকি হাতদ্বয়কে কাঁধ বরাবর করতেন। তারপর সোজা হয়ে দাঁড়াতেন, এমনকি প্রত্যেকটি হাড় স্বস্থানে ফিরে যেতো। তারপর (সাজদা করার জন্য) জমিনের দিকে ধাবিত হতেন, ‘আল্লাহু আকবার’ বলতেন এবং সাজদা করতেন। এসময় তিনি তাঁর বাহুদ্বয়কে তাঁর পার্শ্বদেশ থেকে ফাকা রাখতেন এবং পায়ের আঙ্গুলগুলোকে কিবলামুখী করতেন। তারপর সাজদা থেকে মাথা উত্তোলন করতেন এবং বলতেন ‘আল্লাহু আকবার’। তারপর তিনি বাম পা বিছিয়ে দিয়ে তার উপর সোজা হয়ে বসতেন, এমনকি তাঁর প্রত্যেকটি হাড় স্বস্থানে ফিরে যেতো। তারপর তিনি দাঁড়াতেন এবং অনুরুপভাবে আরেক রাকা‘আত পড়ে নিতেন। এভাবে যখন তিনি দ্বিতীয় রাকা‘আত থেকে উঠতেন, তখন তিনি তাকবীর দিতেন এবং তেমনি করতেন, যেমন তিনি সালাতের শুরুতে করেছেন। অতঃপর যখন তিনি শেষ সাজদায় থাকতেন, তখন তিনি সাজদা থেকে মাথা উত্তোলন করতেন, তিনি বাম পা বের করে দিতেন এবং তাঁর পায়ের উপর তাওয়ার্রুক করে বসতেন।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ৫/৪২৪; ইমাম বুখারী, কুররাতুল আইনাইন: ৫; আবূ দাঊদ: ৭৩০, ৯৬৩; তিরমিযী: ৩০৪; নাসাঈ: ৩/৩৪; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৫৫৫; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৫৮৭; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/২৩৫; বাইহাকী: ২/২৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৭২০)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر (1862)، وانظر ما يأتي برقم (1873). تنبيه!! رقم (1862) = (1865) من «طبعة المؤسسة». رقم (1873) = (1876) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح، عبد الله بن عمرو الأودي روى له ابن ماجه، وهو ثقة، ومن فوقه من رجال الشيخين غير عبد الحميد بن جعفر، وأبو أسامة: هو حماد بن أسامة.









সহীহ ইবনু হিব্বান (1871)


1871 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ زُهَيْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا فُلَيْحُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ: [ص:189] حَدَّثَنِي عَبَّاسُ بْنُ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيُّ، قَالَ: اجْتَمَعَ أَبُو حُمَيْدٍ السَّاعِدِيُّ، وَأَبُو أُسَيْدٍ السَّاعِدِيُّ، وَسَهْلُ بْنُ سَعْدٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ مَسْلَمَةَ، فَذَكَرُوا صَلَاةَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ أَبُو حُمَيْدٍ: أَنَا أَعْلَمُكُمْ بِصَلَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَامَ فَكَبَّرَ وَرَفَعَ يَدَيْهِ، ثُمَّ رَفَعَ يَدَيْهِ حِينَ كَبَّرَ لِلرُّكُوعِ، ثُمَّ رَكَعَ، فَوَضَعَ يَدَيْهِ عَلَى رُكْبَتَيْهِ كَالْقَابِضِ عَلَيْهِمَا فَوَتَرَ يَدَيْهِ فَنَحَّاهُمَا عَنْ جَنْبَيْهِ، وَلَمْ يُصَوِّبْ رَأْسَهُ وَلَمْ يُقَنِّعْهُ، ثُمَّ قَامَ فَرَفَعَ يَدَيْهِ فَاسْتَوَى حَتَّى رَجَعَ كُلُّ عُضْوٍ إِلَى مَوْضِعِهِ، ثُمَّ سَجَدَ أَمْكَنَ أَنْفَهُ وَجَبْهَتَهُ، وَنَحَّى يَدَيْهِ عَنْ جَنْبَيْهِ، وَوَضَعَ كَفَّيْهِ حَذْوَ مَنْكِبَيْهِ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ حَتَّى رَجَعَ كُلُّ عُضْوٍ فِي مَوْضِعِهِ حَتَّى فَرَغَ، ثُمَّ جَلَسَ فَافْتَرَشَ رِجْلَهُ الْيُسْرَى وَأَقْبَلَ بِصَدْرِ الْيُمْنَى عَلَى قِبْلَتِهِ، وَوَضَعَ كَفَّهُ الْيُمْنَى عَلَى رُكْبَتِهِ الْيُمْنَى، وَكَفَّهُ الْيُسْرَى عَلَى رُكْبَتِهِ الْيُسْرَى، وَأَشَارَ بِأُصْبُعِهِ السَّبَّابَةِ». [5: 2]
رقم طبعة با وزير = (1868)




আব্বাস বিন সাহল বিন সা‘দ আস সা‘ইদী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “একবার আবূ হুমাইদ, সাহল বিন সা‘দ, মুহাম্মাদ বিন মাসলামা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম একত্রিত হন। অতঃপর তাঁরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাতের বিষয়ে আলোচনা করেন। তখন আবূ হুমাইদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আমি আপনাদের মাঝে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাতের বিষয়ে সবচেয়ে বেশি অবগত। নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাতে দাঁড়ান, অতঃপর তাকবীর দেন এবং রফ‘উল ইয়াদাইন করেন। তারপর আবার রফ‘উল ইয়াদাইন করেন, যখন রুকূ‘ করার জন্য তাকবীর দেন। তারপর রুকূ‘ করেন এবং তাঁর দুই হাতকে হাঁটুর উপর স্থাপন করেন যেন তিনি হাঁটুকে আকড়ে ধরে আছেন। এসময় তিনি তাঁর দুই হাতকে ধনুক আকৃতির করতেন এবং হাতকে দুই পার্শ্ব থেকে দূরে রাখেন। তিনি রুকূ‘তে পিঠ সোজা করতেন; পিঠকে উঁচু করতেন না আবার নিচুও করেননি। তারপর তিনি দাঁড়ান এবং রফ‘উল ইয়াদাইন করেন। তারপর এমনভাবে সোজা হয়ে দাঁড়ান যে, তাঁর প্রত্যেকটি হাড় স্বস্থানে ফিরে যায়। তারপর তিনি সাজদা করেন, তিনি তাঁর নাক ও কপাল মাটিতে রাখেন, দুই হাতকে দুই পার্শ্ব থেকে দূরে রাখেন এবং দুই হাতের তালূ দুই কাঁধ বরাবর রাখেন। তারপর সাজদা থেকে মাথা উত্তোলন করেন (এবং এমন সোজা হয়ে বসেন যে) তাঁর প্রতিটি হাড় স্বস্থানে ফিরে যায়। এভাবে তা সম্পন্ন করেন। তারপর তিনি বাম পা বিছিয়ে তার উপর বসেন, আর ডান পায়ের অগ্রভাগ কিবলামূখী করেন। তিনি বৈঠকে ডান হাতের তালূকে ডান হাঁটুর উপর আর বাম হাতের তালূকে বাম হাঁটুর উপর রাখেন এবং তর্জনী অঙ্গুলীর মাধ্যমে ইশারা করেন।”[1]



[1] তিরমিযী: ২৬০; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৬৮৯; ইমাম বুখারী, কুররাতুল আইনাইন: ৫ পৃষ্ঠা; আবূ দাঊদ: ৭৩৪; সুনান বাইহাকী: ২/১১২; দারেমী: ১/২৯৯; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/২২৩। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৭২৩)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (723).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: رجاله ثقات رجال الشيخين، إلا أن فليح بن سليمان- وإن احتج به البخاري وأصحاب السنن، وروى له مسلم حديثاً واحداً- ضعفه يحيى بن معين، والنسائي، وأبو داود، وقال الساجي: هو من أهل الصدق، وكان يهم، وقال الدارقطني: مختلف فيه، ولا بأس به، وقال ابن عدي: له أحاديث صالحة مستقيمة، وغرائب، وهو عندي لا بأس به، ومثله يقوى حديثه عند المتابعة، وهذا منها.