সহীহ ইবনু হিব্বান
2541 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مُسْلِمُ بْنُ خَالِدٍ، عَنِ الْعَلَاءِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَإِذَا النَّاسُ فِي رَمَضَانَ يُصَلُّونَ فِي نَاحِيَةِ الْمَسْجِدِ، فَقَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا هَؤُلَاءِ؟ » فَقِيلَ: نَاسٌ لَيْسَ مَعَهُمْ قُرْآنٌ، وَأُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ يُصَلِّي بِهِمْ، وَهُمْ يُصَلُّونَ بِصَلَاتِهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَصَابُوا، أَوْ نِعْمَ مَا صَنَعُوا»
رقم طبعة با وزير = (2532)
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমযানের একরাতে বের হয়ে দেখতে পেলেন যে, লোকজন মাসজিদের এক কোণায় সালাত আদায় করছে। তখন তিনি বলেন, “এরা কী (সালাত আদায় করছে)?” তাঁকে বলা হলো, “এরা এমন কিছু লোক যাদের কুরআন মুখস্থ নেই তাই উবাই বিন কা‘ব তাদের নিয়ে সালাত আদায় করেন আর তারা তার সাথে সালাত আদায় করে।” তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তারা সঠিক কাজ করেছে অথবা (রাবীর সন্দেহ যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন) তারা যা করছে, তা কতইনা ভালো।”[1]
[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ:২২০৮; আবূ দাঊদ: ১৩৭৭; সুনান বাইহাকী: ২/৪৯৫। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। (যঈফ আবূ দাঊদ: ২৪৩)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف - «ضعيف أبي داود» (243).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده ضعيف
2542 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ سِنَانٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَّى فِي الْمَسْجِدِ ذَاتَ لَيْلَةٍ فَصَلَّى بِصَلَاتِهِ نَاسٌ، ثُمَّ صَلَّى مِنَ الْقَابِلَةِ فَكَثُرَ النَّاسُ، ثُمَّ اجْتَمَعُوا مِنَ اللَّيْلَةِ الثَّالِثَةِ أَوِ الرَّابِعَةِ، فَلَمْ يَخْرُجْ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَلَمَّا أَصْبَحَ قَالَ: «قَدْ رَأَيْتُ الَّذِي صَنَعْتُمْ، فَلَمْ يَمْنَعْنِي مِنَ الْخُرُوجِ إِلَيْكُمْ إِلَّا أَنِّي خَشِيتُ أَنْ تُفْرَضَ عَلَيْكُمْ»، وَذَلِكَ فِي رَمَضَانَ
رقم طبعة با وزير = (2533)
আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমযানের এক রাতে সালাত আদায় করেন। অতঃপর লোকজন তাঁর সাথে সালাত আদায় করেন। তারপরের দিনও তিনি সালাত আদায় করেন। এদিন লোকসংখ্যা বেড়ে যায়। তারপর সাহাবীগণ তৃতীয় বা চতুর্থ রাতে জমায়েত হন কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের উদ্দেশ্যে বের হয়ে আসেননি। অতঃপর যখন প্রভাত হয়, তখন তিনি বলেন, “ নিশ্চয়ই আমি দেখেছি যা তোমরা করেছো কিন্তু তোমাদের উদ্দেশ্যে বের হতে আমাকে এটাই বাঁধা দিয়েছে যে, নিশ্চয়ই আমি আশংকা করেছি যে, এটি তোমাদের উপর ফরয করে দেওয়া হবে।” আর এটা রমযান মাসে ঘটেছিল।[1]
[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/১১৩; সহীহ মুসলিম: ৭৬১; আবূ দাঊদ: ১৩৮৩; নাসাঈ: ৩/২০২; সুনান বাইহাকী: ২/৪৯২-৪৯৩; বাগাবী: ৯৮৯। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১২৪৩)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1243): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين
2543 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَارِثِ الْمَخْزُومِيُّ، عَنْ يُونُسَ بْنِ يَزِيدَ الْأَيْلِيِّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، [ص:284] أَنَّ عَائِشَةَ أَخْبَرَتْهُ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ فِي جَوْفِ اللَّيْلِ فَصَلَّى فِي الْمَسْجِدِ، فَصَلَّى النَّاسُ، فَأَصْبَحَ النَّاسُ يَتَحَدَّثُونَ بِذَلِكَ، فَكَثُرَ النَّاسُ، فَخَرَجَ عَلَيْهِمُ اللَّيْلَةَ الثَّانِيَةَ فَصَلَّى، فَصَلَّوْا بِصَلَاتِهِ، فَأَصْبَحُوا يَتَحَدَّثُونَ بِذَلِكَ حَتَّى كَثُرَ النَّاسُ، فَخَرَجَ مِنَ اللَّيْلَةِ الثَّالِثَةِ، فَصَلَّى فَصَلَّوْا بِصَلَاتِهِ، فَأَصْبَحَ النَّاسُ يَتَحَدَّثُونَ بِذَلِكَ، فَكَثُرَ النَّاسُ حَتَّى عَجَزَ الْمَسْجِدُ عَنْ أَهْلِهِ، فَلَمْ يَخْرُجْ إِلَيْهِمْ، فَطَفِقَ النَّاسُ يَقُولُونَ: الصَّلَاةَ، فَلَمْ يَخْرُجْ إِلَيْهِمْ حَتَّى خَرَجَ لِصَلَاةِ الْفَجْرِ، فَلَمَّا قَضَى صَلَاةَ الْفَجْرِ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ فَتَشَهَّدَ، ثُمَّ قَالَ: «أَمَّا بَعْدُ، فَإِنَّهُ لَمْ يَخْفَ عَلَيَّ شَأْنُكُمُ اللَّيْلَةَ، وَلَكِنِّي خَشِيتُ أَنْ تُفْرَضَ عَلَيْكُمْ صَلَاةُ اللَّيْلِ، فَتَعْجِزُوا عَنْ ذَلِكَ»، وَكَانَ يُرَغِّبُهُمْ فِي قِيَامِ رَمَضَانَ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَأْمُرَهُمْ بِعَزِيمَةٍ، يَقُولُ: «مَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا، غَفَرَ اللَّهُ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ» قَالَ: فَتُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالْأَمْرُ عَلَى ذَلِكَ، ثُمَّ كَذَلِكَ كَانَ فِي خِلَافَةِ أَبِي بَكْرٍ وَصَدْرٍ مِنْ خِلَافَةِ عُمَرَ، حَتَّى جَمَعَهُمْ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ عَلَى أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ، فَقَامَ بِهِمْ فِي رَمَضَانَ، وَكَانَ ذَلِكَ أَوَّلَ اجْتِمَاعِ النَّاسِ عَلَى قَارِئٍ وَاحِدٍ فِي رَمَضَانَ»
رقم طبعة با وزير = (2534)
আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমযানের এক মধ্য রাতে বের হন এবং মাসজিদে সালাত আদায় করেন। লোকজনও তাঁর সাথে সালাত আদায় করেন। অতঃপর লোকজন সকাল বেলায় এটা নিয়ে আলোচনা করেন। ফলে লোকসংখ্যা বেড়ে যায়। দ্বিতীয় রাতেও তিনি বের হন এবং সালাত আদায় করেন। লোকজনও তাঁর সাথে সালাত আদায় করেন। অতঃপর লোকজন সকাল বেলায় এটা নিয়ে আলোচনা করেন। ফলে লোকসংখ্যা বেড়ে যায়। তারপর তৃতীয় রাতেও তিনি বের হন এবং সালাত আদায় করেন। লোকজনও তাঁর সাথে সালাত আদায় করেন। অতঃপর লোকজন সকাল বেলায় এটা নিয়ে আলোচনা করেন। ফলে লোকসংখ্যা বেড়ে যায়, এমনকি মাসজিদে লোক সংকুলান হয়নি। এদিন তিনি বের হলেন না। তখন লোকজন বলতে লাগলো, “আস সালাহ” তারপরও তিনি তাদের উদ্দেশ্যে বের হলেন না। অতঃপর তিনি ফজরের সালাত আদায় করার জন্য বের হন। যখন তিনি ফজরের সালাত শেষ করেন, তখন তিনি হামদ-সানা পাঠ করেন তারপর বলেন, “আম্মা বা‘দ। নিশ্চয়ই তোমাদের আজকের রাতের কর্মকান্ড আমার কাছে গোপন ছিল না। কিন্তু আমি আশংকা করেছি যে, রাতের এই সালাত তোমাদের উপর ফরয করে দেওয়া হবে, অতঃপর তোমরা তা পালনে অক্ষম হয়ে যাবে।” রাবী বলেন, “তিনি লোকদের রমযানের কিয়াম করতে উদ্বুদ্ধ করতেন কিন্তু তাদের দৃঢ়তার সাথে আদেশ করতেন না। তিনি বলতেন, “যে ব্যক্তি ঈমানসহ সাওয়াবের আশায় কদরের রাতে কিয়াম করবে, আল্লাহ তার পূর্বের গোনাহ ক্ষমা করে দিবেন।” রাবী বলেন, “তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মারা যান, ব্যাপারটি এরকই থাকে। তারপর আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর খেলাফতকালে এবং উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর খেলাফতকালের শুরুর দিকেও অনুরুপ ছিল। তারপর উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু উবাই বিন কা‘ব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর পিছনে লোকদের জমায়েত করেন। ফলে তিনি লোকদের নিয়ে রমযানে সালাত আদায় করেন। রমযান মাসে একজন কারীর পিছনে এটাই ছিল লোকদের প্রথম জমায়েত।”[1]
[1] সুনান বাইহাকী: ২/৪৯৩; সহীহ আল বুখারী: ৯২৪; তাবারানী আস সাগীর: ৫২৫; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১০৭০; হাইসামী, মাজমা‘উয যাওয়াইদ: ৩/১৭২। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটির ব্যাপারে স্পষ্ট কোন মন্তব্য করেননি। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১২৪৩)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق نحوه - انظر ما قبله.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم
2544 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ قُتَيْبَةَ بِعَسْقَلَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَائِشَةَ أَخْبَرَتْهُ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ فِي جَوْفِ اللَّيْلِ، فَصَلَّى فِي الْمَسْجِدِ، فَصَلَّى رِجَالٌ بِصَلَاتِهِ، فَأَصْبَحَ النَّاسُ يَتَحَدَّثُونَ بِذَلِكَ، فَاجْتَمَعَ أَكْثَرُ مِنْهُمْ، فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي اللَّيْلَةِ الثَّانِيَةِ فَصَلَّى، فَصَلَّوْا بِصَلَاتِهِ، فَأَصْبَحَ النَّاسُ يَتَذَاكَرُونَ ذَلِكَ، فَكَثُرَ أَهْلُ الْمَسْجِدِ فِي اللَّيْلَةِ الثَّالِثَةِ، فَخَرَجَ فَصَلَّى بِهِمْ، فَصَلَّوْا بِصَلَاتِهِ، فَلَمَّا كَانَتِ اللَّيْلَةُ الرَّابِعَةُ عَجَزَ الْمَسْجِدُ عَنْ أَهْلِهِ، فَلَمْ يَخْرُجْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَطَفِقَ رِجَالٌ مِنْهُمْ يَقُولُونَ: الصَّلَاةَ، فَلَمْ يَخْرُجْ إِلَيْهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى خَرَجَ لِصَلَاةِ الْفَجْرِ، فَلَمَّا قَضَى الْفَجْرَ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ، ثُمَّ تَشَهَّدَ فَقَالَ: «أَمَّا بَعْدُ، فَإِنَّهُ لَمْ يَخْفَ عَلَيَّ شَأْنُكُمُ اللَّيْلَةَ، وَلَقَدْ خَشِيتُ [ص:286] أَنْ تُفْرَضَ عَلَيْكُمْ صَلَاةُ اللَّيْلِ، فَتَعْجِزُوا عَنْهَا»
رقم طبعة با وزير = (2535)
আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার মধ্য রাতে বের হন এবং মাসজিদে সালাত আদায় করেন। কিছু সাহাবীও তাঁর সাথে সালাত আদায় করেন। অতঃপর লোকজন সকাল বেলায় এটা নিয়ে আলোচনা করেন। ফলে পরের রাতে আরো অধিক সংখ্যক লোক জমায়েত হন। দ্বিতীয় রাতেও তিনি বের হন এবং সালাত আদায় করেন। লোকজনও তাঁর সাথে সালাত আদায় করেন। অতঃপর লোকজন সকাল বেলায় এটা নিয়ে আলোচনা করেন। ফলে তৃতীয় রাতে মসজিদের মুসল্লী আরো বৃদ্ধি পায়। তৃতীয় রাতেও তিনি বের হন এবং সালাত আদায় করেন। লোকজনও তাঁর সাথে সালাত আদায় করেন। এভাবে যখন চতুর্থ রাত হল, (তখন লোকসংখ্যা এতো বেড়ে যায় যে) মাসজিদে লোক সংকুলান হয়নি। এ রাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বের হলেন না। অতঃপর তিনি ফজরের সালাত আদায় করার জন্য বের হন। যখন তিনি ফজরের সালাত শেষ করেন, তখন তিনি সাহাবীদের মুখোমুখি হন তারপর হামদ-সানা পাঠ করেন অতঃপর বলেন, “আম্মা বা‘দ। নিশ্চয়ই তোমাদের রাতের কর্মকান্ড আমার কাছে গোপন ছিল না। কিন্তু আমি আশংকা করেছি যে, সালাতুল লাইল তোমাদের উপর ফরয করে দেওয়া হবে, অতঃপর তোমরা তা পালনে অক্ষম হয়ে যাবে।”[1]
[1] সুনান বাইহাকী: ২/৪৯৩; সহীহ আল বুখারী: ৯২৪; তাবারানী আস সাগীর: ৫২৫; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১০৭০; হাইসামী, মাজমা‘উয যাওয়াইদ: ৩/১৭২। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটির ব্যাপারে স্পষ্ট কোন মন্তব্য করেননি। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১২৪৩)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر ما قبله.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم
2545 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ قُتَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَائِشَةَ أَخْبَرَتْهُ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ مِنْ جَوْفِ اللَّيْلِ فِي الْمَسْجِدِ، فَصَلَّى رِجَالٌ بِصَلَاتِهِ، فَأَصْبَحَ النَّاسُ يَتَحَدَّثُونَ بِذَلِكَ، فَاجْتَمَعَ أَكْثَرُ، فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي اللَّيْلَةِ الثَّانِيَةِ، فَصَلَّوْا بِصَلَاتِهِ، فَأَصْبَحَ النَّاسُ يَتَذَاكَرُونَ ذَلِكَ، فَكَثُرَ أَهْلُ الْمَسْجِدِ مِنَ اللَّيْلَةِ الثَّالِثَةِ، فَخَرَجَ يُصَلِّي بِهِمْ، فَصَلَّوْا بِصَلَاتِهِ، فَلَمَّا كَانَتِ اللَّيْلَةُ الرَّابِعَةُ عَجَزَ الْمَسْجِدُ عَنْ أَهْلِهِ، فَلَمْ يَخْرُجْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى خَرَجَ لِصَلَاةِ الْفَجْرِ، فَلَمَّا قَضَى الْفَجْرَ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ، ثُمَّ تَشَهَّدَ فَقَالَ: «أَمَّا بَعْدُ، إِنَّهُ لَمْ يَخْفَ عَلَيَّ شَأْنُكُمُ اللَّيْلَةَ، وَلَكِنِّي خَشِيتُ أَنْ تُفْرَضَ عَلَيْكُمْ صَلَاةُ اللَّيْلِ فَتَعْجِزُوا عَنْهَا»
رقم طبعة با وزير = (2536)
আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার মধ্যরাতে বের হন এবং মাসজিদে সালাত আদায় করেন। কিছু সাহাবীও তাঁর সাথে সালাত আদায় করেন। অতঃপর লোকজন সকাল বেলায় এটা নিয়ে আলোচনা করেন। ফলে পরের রাতে আরো অধিক সংখ্যক লোক জমায়েত হন। দ্বিতীয় রাতেও তিনি বের হন এবং সালাত আদায় করেন। লোকজনও তাঁর সাথে সালাত আদায় করেন। অতঃপর লোকজন সকাল বেলায় এটা নিয়ে আলোচনা করেন। ফলে তৃতীয় রাতে মাসজিদের মুসল্লী আরো বৃদ্ধি পায়। তৃতীয় রাতেও তিনি বের হন এবং সালাত আদায় করেন। লোকজনও তাঁর সাথে সালাত আদায় করেন। এভাবে যখন চতুর্থ রাত হল আর এত মানুষ জড়ো হল যে মসজিদে স্থান সংকুলান হয়নি। এ রাতে আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বের হলেন না। অতঃপর তিনি ফজরের সালাত আদায় করার জন্য বের হন। যখন তিনি ফজরের সালাত শেষ করেন, তখন তিনি সাহাবীদের মুখোমুখি হন তারপর হামদ-সানা পাঠ করেন অতঃপর বলেন, “আম্মা বা‘দ। নিশ্চয়ই তোমাদের রাতের কর্মকান্ড আমার কাছে গোপন ছিল না। কিন্তু আমি আশংকা করেছি যে, সালাতুল লাইল তোমাদের উপর ফরয করে দেওয়া হবে, অতঃপর তোমরা তা পালনে অক্ষম হয়ে যাবে।”[1]
[1] সুনান বাইহাকী: ২/৪৯৩; সহীহ আল বুখারী: ৯২৪; তাবারানী আস সাগীর: ৫২৫; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১০৭০; হাইসামী, মাজমা‘উয যাওয়াইদ: ৩/১৭২। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটির ব্যাপারে স্পষ্ট কোন মন্তব্য করেননি। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১২৪৩)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر ما قبله.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم
2546 - أَخْبَرَنَا ابْنُ قُتَيْبَةَ، حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لِرَمَضَانَ: «مَنْ قَامَهُ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ»
رقم طبعة با وزير = (2537) [ص:288] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: «الِاحْتِسَابُ: قَصْدُ الْعَبِيدِ إِلَى بَارِئِهِمْ بِالطَّاعَةِ رَجَاءَ الْقَبُولِ»
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমযান উপলক্ষ্যে বলেছেন, “যে ব্যক্তি ঈমানসহ সাওয়াবের আশায় রমযান মাসে কিয়াম (তারাবীহ/কিয়ামুল লাইল) করে, তার পূর্বের সমস্ত গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “ইহতেসাব হলো: বান্দা তার প্রভুর নিকট আনুগত্যসহকারে এমনভাবে আমল করে, যাতে তার উদ্দেশ্য হয় শুধুই আল্লাহর সন্তুষ্টি ও প্রতিদান লাভ।
[1] নাসাঈ: ৪/১৫৫; সুনান বাইহাকী: ২/৪৯২; মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/১১৩; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৭৭১৯; আবূ দাঊদ: ১৩৭১; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২২০২; মুসনাদ আহমাদ: ২/২৮১; সহীহ আল বুখারী: ২০০৮; সহীহ মুসলিম: ৭৫৯; তিরমিযী: ৮০৮; দারেমী: ২/২৬; ইবনু মাজাহ: ১৩২৬; বাগাবী: ১৭০৭। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (ইরওয়াউল গালীল: ৯০৬)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الإرواء» (906)، «صحيح أبي داود» (1242).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم
2547 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو قُدَامَةَ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ: صُمْنَا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَمَضَانَ فَلَمْ يَقُمْ بِنَا فِي السَّادِسَةِ، وَقَامَ بِنَا فِي الْخَامِسَةِ حَتَّى ذَهَبَ يَنْتَظِرُ اللَّيْلَ، فَقُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، لَوْ نَفَّلْتَنَا بَقِيَّةَ لَيْلَتِنَا هَذِهِ، فَقَالَ: «إِنَّهُ مَنْ قَامَ مَعَ الْإِمَامِ حَتَّى يَنْصَرِفَ كُتِبَ لَهُ قِيَامُ لَيْلَةٍ»، ثُمَّ لَمْ يُصَلِّ بِنَا حَتَّى بَقِيَ ثَلَاثَةٌ مِنَ الشَّهْرِ، فَقَامَ بِنَا فِي الثَّالِثَةِ، وَجَمَعَ أَهْلَهُ وَنِسَاءَهُ، فَقَامَ بِنَا حَتَّى تَخَوَّفْنَا أَنْ يَفُوتَنَا الْفَلَاحُ قُلْتُ: وَمَا الْفَلَاحُ؟ قَالَ: «السَّحُورُ»
رقم طبعة با وزير = (2538) [ص:289] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «قَوْلُ أَبِي ذَرٍّ: لَمْ يَقُمْ بِنَا فِي السَّادِسَةِ، وَقَامَ بِنَا فِي الْخَامِسَةِ، يُرِيدُ: مِمَّا بَقِيَ مِنَ الْعَشْرِ لَا مِمَّا مَضَى مِنْهُ، وَكَانَ الشَّهْرُ الَّذِي خَاطَبَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُمَّتَهُ بِهَذَا الْخَطَّابِ فِيهِ تِسْعًا وَعِشْرِينَ، فَلَيْلَةُ السَّادِسَةِ مِنْ بَاقِي تِسْعٍ وَعِشْرِينَ تَكُونُ لَيْلَةَ أَرْبَعٍ وَعِشْرِينَ، وَلَيْلَةُ الْخَامِسَةِ مِنْ بَاقِي تِسْعٍ وَعِشْرِينَ تَكُونُ لَيْلَةَ الْخَامِسِ وَالْعِشْرِينَ»
আবূ যার গিফারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সিয়াম রাখি অতঃপর তিনি আমাদের নিয়ে ষষ্ঠ রাতে (অর্থাৎ যখন ষষ্ঠ রাত অবশিষ্ট ছিল, সে রাতে) কিয়াম করলেন না। তারপর পঞ্চম রাতে আমাদের নিয়ে কিয়াম করেন, অতঃপর তিনি (বাকী) রাত (শেষ হওয়ার) প্রতিক্ষা করতে থাকেন। তখন আমরা বললাম, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যদি আপনি আমাদের নিয়ে এই রাতের বাকী অংশও কিয়াম করতেন, (তবে সেটা কতইনা ভালো হতো)।” জবাবে তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি ইমামের সাথে শেষাবধি কিয়াম করে, তার জন্য পুরো রাত কিয়াম করার সাওয়াব লিখে দেওয়া হয়।” তারপর তিনি আমাদের নিয়ে আর কিয়াম করেননি। এমনকি আর মাত্র তিনরাত বাকী থাকে। তখন তিনি তৃতীয় রাতে (অর্থাৎ যখন তৃতীয় রাত অবশিষ্ট ছিল, সে রাতে) কিয়াম করেন। এ রাতে তিনি তাঁর স্ত্রী-পরিবার-পরিজনকে জমায়েত করেন। অতঃপর তিনি আমাদের নিয়ে (এতো দীর্ঘ) কিয়াম করেন যে, আমরা আশংকা করি যে, হয়তো আমাদের ফালাহ (সাহারী খাওয়া) ছুটে যাবে।”[1] অধঃস্তন রাবী বলেন, “আমি বললাম, “আচ্ছা, ফালাহ কী?” জবাবে তিনি বলেন, “সাহারী।” আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আবূ যার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর বক্তব্য “তিনি আমাদের নিয়ে ষষ্ঠ রাতে (অর্থাৎ যখন ষষ্ঠ রাত অবশিষ্ট ছিল, সে রাতে) কিয়াম করলেন না। তারপর পঞ্চম রাতে আমাদের নিয়ে কিয়াম করেন” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো শেষ দশ রাত থেকে যা বাকী থাকে, সেটা; এর দ্বারা বিগত রাত উদ্দেশ্য নয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেই রমযান মাসে এই ভাষন দিয়েছিলেন, সেই রমযান মাসটি ২৯ শে ছিল। কাজেই ২৯ রাত থেকে যখন ৬ষ্ঠ রাত বাকী ছিল, সেই রাতটি ছিল ২৪ রমযান দিবাগত রাত। আর ২৯ রাত থেকে যখন ৫ম রাত বাকী ছিল, সেই রাতটি ছিল ২৫ রমযান দিবাগত রাত।”
[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২২০৬; নাসাঈ: ৩/২০২-২০৩; মুসনাদ আহমাদ: ৫/১৫৯-১৬০; দারেমী: ২/২৬-২৭; আবূ দাঊদ: ১৩৭৫; ইবনু মাজাহ: ১৩২৭; ইবনুল জারূদ: ৪০৩। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১২৪৫)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1245).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم
2548 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: ذَكَرْنَا لَيْلَةَ الْقَدْرِ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كَمْ مَضَى مِنَ الشَّهْرِ؟ » فَقُلْنَا: مَضَى اثْنَانِ وَعِشْرُونَ يَوْمًا، وَبَقِيَ ثَمَانٌ، فَقَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا، بَلْ مَضَى اثْنَانِ وَعِشْرُونَ يَوْمًا، وَبَقِيَ سَبْعٌ، الشَّهْرُ تِسْعٌ وَعِشْرُونَ يَوْمًا، فَالْتَمِسُوهَا اللَّيْلَةَ»
رقم طبعة با وزير = (2539)
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে লাইলাতুল কদর সম্পর্কে আলোচনা করলে, তিনি বলেন, “রমযানের কতদিন বাকী আছে?” আমরা বললাম, “২২ দিন চলে গেছে আর ৮ দিন আছে।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “না, বরং ২২ দিন গত হয়েছে আর ৭ দিন বাকী আছে। এই মাস ২৯ দিনের। কাজেই তোমরা এই রাতে তা (লাইলাতুল কদর) অন্বেষন করো।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/২৫১; ইবনু মাজাহ: ১৬৫৬; সুনান বাইহাকী: ৪/৩১০। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ২০০৮)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (2008).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما
2549 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى بْنُ حَمَّادٍ النَّرْسِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ الْقُمِّيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ جَارِيَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: جَاءَ أُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، كَانَ مِنِّي اللَّيْلَةَ شَيْءٌ فِي رَمَضَانَ، قَالَ: «وَمَا ذَاكَ يَا أُبَيُّ؟ » قَالَ: نِسْوَةٌ فِي دَارِي قُلْنَ: إِنَّا لَا نَقْرَأُ الْقُرْآنَ، فَنُصَلِّي بِصَلَاتِكَ، قَالَ: فَصَلَّيْتُ بِهِنَّ ثَمَانِيَ رَكَعَاتٍ، ثُمَّ أَوْتَرْتُ، قَالَ: فَكَانَ شِبْهُ الرِّضَا، وَلَمْ يَقُلْ شَيْئًا
رقم طبعة با وزير = (2540)
জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “একবার উবাই বিন কা‘ব রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রমযানের আজকের রাতে আমার একটা ঘটনা ঘটে গেছে!” তিনি জিজ্ঞেস করেন, “হে উবাই, সেটা কী?” জবাবে তিনি বলেন, “আমার বাড়ির মহিলারা আমাকে বলেছে, “আমরা তো কুরআন পাঠে পারদর্শী নই, কাজেই আমরা আপনার সাথে সালাত আদায় করতে চাই।” তিনি বলেন, “তারপর আমি তাদের নিয়ে আট রাকা‘আত সালাত আদায় করি তারপর বিতর সালাত আদায় করি।” জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, “তাঁর অবস্থা সন্তুষ্টির মতোই ছিল এবং তিনি তাকে কোন কিছুই বললেন না।”[1]
[1] মুসনাদ আবী ইয়ালা: ১৮০১; হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ: ২/৭৪। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ যঈফ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। (সালাতুত তারাবীহ: ৭৯-৮০)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف - «صلاة التراويح» (79 - 80).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده ضعيف
2550 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى بْنُ حَمَّادٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ الْقُمِّيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ جَارِيَةَ، حَدَّثَنَا جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: جَاءَ أُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّهُ كَانَ مِنِّي اللَّيْلَةَ شَيْءٌ - يَعْنِي فِي رَمَضَانَ - قَالَ: «وَمَا ذَاكَ يَا أُبَيُّ؟ قَالَ: نِسْوَةٌ فِي دَارِي قُلْنَ: إِنَّا لَا نَقْرَأُ الْقُرْآنَ، فَنُصَلِّي بِصَلَاتِكَ، قَالَ: فَصَلَّيْتُ بِهِنَّ ثَمَانِيَ رَكَعَاتٍ، ثُمَّ أَوْتَرْتُ، قَالَ: فَكَانَ شِبْهُ الرِّضَا، وَلَمْ يَقُلْ شَيْئًا
رقم طبعة با وزير = (2541)
জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “একবার উবাই বিন কা‘ব রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রমযানের আজকের রাতে আমার একটা ঘটনা ঘটে গেছে!” তিনি জিজ্ঞেস করেন, “হে উবাই, সেটা কী?” জবাবে তিনি বলেন, “আমার বাড়ির মহিলারা আমাকে বলেছে, “আমরা তো কুরআন পাঠে পারদর্শী নই, কাজেই আমরা আপনার সাথে সালাত আদায় করতে চাই।” তিনি বলেন, “তারপর আমি তাদের নিয়ে আট রাকা‘আত সালাত আদায় করি তারপর বিতর সালাত আদায় করি।” জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, “তাঁর অবস্থা সন্তুষ্টির মতোই ছিল, এবং তিনি তাকে কোন কিছুই বললেন না।”[1]
[1] মুসনাদ আবী ইয়ালা: ১৮০১; হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ: ২/৭৪। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ যঈফ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। (সালাতুত তারাবীহ: ৭৯-৮০)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف - انظر ما قبله.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده ضعيف
2551 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى، قَالَ: أَخْبَرَنَا سَعْدُ بْنُ هِشَامِ بْنِ عَامِرٍ، وَكَانَ جَارًا لَهُ، أَنَّهُ قَالَ لِعَائِشَةَ: أَخْبِرِينِي عَنْ خُلُقِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَتْ: أَلَسْتَ تَقْرَأُ الْقُرْآنَ؟ قُلْتُ: بَلَى، قَالَتْ: «خُلُقُ نَبِيِّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ الْقُرْآنَ»، قَالَ: فَهَمَمْتُ أَنْ أَقُومَ وَلَا أَسْأَلُهَا عَنْ شَيْءٍ
رقم طبعة با وزير = (467 و 2542)
2551 - فَقُلْتُ: يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ، أَنْبِئِينِي عَنْ قِيَامِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَتْ: أَلَسْتَ تَقْرَأُ هَذِهِ السُّورَةَ: {يَا أَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ} [المزمل: 1]؟ قُلْتُ: بَلَى، قَالَتْ: «فَإِنَّ اللَّهَ جَلَّ وَعَلَا افْتَرَضَ الْقِيَامَ فِي أَوَّلِ هَذِهِ السُّورَةِ، فَقَامَ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَصْحَابُهُ حَوْلًا حَتَّى انْتَفَخَتْ أَقْدَامُهُمْ، وَأَمْسَكَ اللَّهُ خَاتِمَتَهَا اثْنَيْ عَشَرَ شَهْرًا فِي السَّمَاءِ، ثُمَّ أَنْزَلَ اللَّهُ جَلَّ وَعَلَا التَّخْفِيفَ فِي آخِرِ هَذِهِ السُّورَةِ، فَصَارَ قِيَامُ اللَّيْلِ تَطَوُّعًا بَعْدَ فَرِيضَتِهِ»
رقم طبعة با وزير = (467 و 2542)
সা‘দ বিন হিশাম বিন আমির থেকে বর্ণিত, তিনি আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে জিজ্ঞেস করেন, “আপনি আমাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চরিত্র সম্পর্কে অবহিত করুন।” জবাবে তিনি বলেন, “তুমি কি কুরআন পড়নি?” আমি বললাম, “অবশ্যই।” তিনি বলেন,“আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চরিত্র ছিল হুবহু কুরআন।” রাবী বলেন, “আমার মনে হলো যে, আমি উঠে যাব আর কোন কিছু সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবো না। অতঃপর বললাম, “হে উম্মুল মু‘মিনূন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা, আপনি আমাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কিয়াম সম্পর্কে অবহিত করুন।” জবাবে তিনি বলেন, “তুমি কি يَا أَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ (হে চাদরাবৃত ব্যক্তি।–সূরা মুযাম্মিল: ১) পড়নি?” আমি বললাম, “জ্বী, পড়েছি।” তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা এই সূরার প্রথমে কিয়ামুল লাইল ফরয করেছেন। অতঃপর আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ এক বছর এতো অধিক পরিমাণ কিয়াম করেন যে, তাদের পা ফুলে যেতো। মহান আল্লাহ আয়াতের শেষাংশ ১২ মাস আসমানে রেখে দেন। তারপর মহান আল্লাহ সূরার শেষে সহজতার বিধান অবতীর্ণ করেন। ফলে কিয়ামুল লাইল ফরযের পর নফলে পরিণত হয়।”[1]
[1] মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৪৭১৪; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১০৭৮। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১২১৩)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: [تنبيه!! ] تكرر هذا الحديث في «طبعة باوزير» في موضعين برقم (467 و 2542) وفي كِلا الموضعين قال الشيخ: صحيح - «صحيح أبي داود» (1213): م. أما في «طبعة المؤسسة» فلم يرد إلا في هذا الموضع - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما
2552 - أَخْبَرَنَا ابْنُ خُزَيْمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى، عَنْ سَعْدِ بْنِ هِشَامٍ، عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا صَلَّى صَلَاةً أَحَبَّ أَنْ يُدَاوِمَ عَلَيْهَا، وَكَانَ إِذَا شَغَلَهُ عَنْ قِيَامِ اللَّيْلِ نَوْمٌ أَوْ مَرَضٌ، أَوْ وَجَعٌ صَلَّى مِنَ النَّهَارِ ثِنْتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً»
رقم طبعة با وزير = (2543)
আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কোন সালাত আদায় করতেন, তখন তিনি সেটাকে নিয়মিত পড়তে ভালবাসতেন। আর তিনি যদি ঘুম, অসুস্থতা বা ব্যথা-বেদনার কারণে রাতের সালাত (তাহাজ্জুদ) না আদায় করতে পারতেন, তখন তিনি দিনে ১২ রাকা‘আত সালাত আদায় করতেন।”[1]
[1] সহীহ মুসলিম: ৭৪৬; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১১৬৯; বাগাবী: ৯৮৭; আবূ দাঊদ: ১৩৪২; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৪৭১৪; আবূ আওয়ানা: ২/৩২১-৩২২। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবু দাউদ: ১২১৩)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - مضى (2411). تنبيه!! رقم (2411) = (2420) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما
2553 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ سِنَانٍ الْعَابِدُ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ الزُّهْرِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الْأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «يَعْقِدُ الشَّيْطَانُ عَلَى قَافِيَةِ رَأْسِ أَحَدِكُمْ إِذَا هُوَ نَامَ ثَلَاثَ عُقَدٍ يَضْرِبُ مَكَانَ كُلِّ عُقْدَةٍ: عَلَيْكَ لَيْلٌ طَوِيلٌ فَارْقُدْ، فَإِنِ اسْتَيْقَظَ فَذَكَرَ اللَّهَ، انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ، وَإِنْ تَوَضَّأَ انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ، وَإِنْ صَلَّى انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ، [ص:294] فَأَصْبَحَ نَشِيطًا طَيِّبَ النَّفْسِ، وَإِلَّا أَصْبَحَ خَبِيثَ النَّفْسِ كَسْلَانَ»
رقم طبعة با وزير = (2544)
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ ঘুমায়, তখন শয়তান তার মাথার পশ্চাৎভাগে তিনটি গিরা দেয়। প্রত্যেকটি গিরার জায়গায় সে এটা সিল মেরে দেয়, “তোমার অনেক রাত বাকী আছে। কাজেই তুমি ঘুমাও।” অতঃপর যদি সে জাগ্রত হয় এবং আল্লাহর যিকর করে, তবে একটি গিরা খুলে যায়। আর যদি সে ওযূ করে, তখন আরেকটি গিরা খুলে যায়। যদি সে সালাত আদায় করে, তখন আরেকটি গিরা খুলে যায়। ফলে সে ভাল ও প্রফুল্ল মনে সকাল করে। অন্যথায় সে খারাপ মন ও অলসতা নিয়ে সকাল করে।”[1]
[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/১৭৬; সহীহ আল বুখারী: ১১৪২; আবূ দাঊদ: ১৩০৬; মুসনাদ্ আহমাদ: ২/২৪৩; সহীহ মুসলিম: ৭৭৬; নাসাঈ: ৩/২০৩-২০৪; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১১৩১; সুনান বাইহাকী: ৩/১৫-১৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ১/২১৩)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «التعليق الرغيب» (1/ 213).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناد صحيح على شرط الشيخين
2554 - أَخْبَرَنَا ابْنُ خُزَيْمَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى الذُّهْلِيُّ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا سُفْيَانَ يَقُولُ: سَمِعْتُ جَابِرًا يَقُولُ: قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا مِنْ ذَكَرٍ وَلَا أُنْثَى إِلَّا عَلَى رَأْسِهِ جَرِيرٌ مَعْقُودٌ حِينَ يَرْقُدُ، فَإِنِ اسْتَيْقَظَ [ص:295] فَذَكَرَ اللَّهَ، انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ، فَإِذَا قَامَ فَتَوَضَّأَ وَصَلَّى، انْحَلَّتِ الْعُقَدُ»
رقم طبعة با وزير = (2545)
জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বলেছেন, “যে কোন নারী বা পুরুষ যখন সে ঘুমায়, তখন তার মাথায় গিরা দেওয়া হয়। অতঃপর যদি সে জাগ্রত হয় এবং আল্লাহর যিকর করে, তবে একটি গিরা খুলে যায়। আর যখন সে উঠে ওযূ করে সালাত আদায় করে, তখন সবগুলো গিরা খুলে যায়।”[1]
[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১১৩৩; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৩১৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ১/২১৩)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «التعليق الرغيب» (1/ 213).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح
2555 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلْمٍ، حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، أَنَّ أَبَا عُشَّانَةَ حَدَّثَهُ، أَنَّهُ سَمِعَ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ يَقُولُ: لَا أَقُولُ الْيَوْمَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا لَمْ يَقُلْ، سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ بَيْتًا مِنْ جَهَنَّمَ»
رقم طبعة با وزير = (2546)
2555 - وَسَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «رَجُلٌ مِنْ أُمَّتِي يَقُومُ مِنَ اللَّيْلِ يُعَالِجُ نَفْسَهُ إِلَى الطَّهُورِ وَعَلَيْهِ عُقَدٌ، فَإِذَا وَضَّأَ يَدَيْهِ انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ، فَإِذَا وَضَّأَ وَجْهَهُ انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ، وَإِذَا مَسَحَ رَأْسَهُ انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ، وَإِذَا وَضَّأَ رِجْلَيْهِ انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ، فَيَقُولُ اللَّهُ جَلَّ وَعَلَا لِلَّذِي وَرَاءَ الْحِجَابِ: انْظُرُوا إِلَى عَبْدِي هَذَا يُعَالِجُ نَفْسَهُ [ص:296] لَيَسْأَلَنِي، مَا سَأَلَنِي عَبْدِي هَذَا فَهُوَ لَهُ، مَا سَأَلَنِي عَبْدِي هَذَا فَهُوَ لَهُ»
رقم طبعة با وزير = (2546)
উকবাহ বিন আমির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আজকে আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নামে এমন কথা বলবো না, যা তিনি বলেননি, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, “যে ব্যক্তি আমার ব্যাপারে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা কথা বলবে, সে যেন জাহান্নামে তার বাড়ি বানিয়ে নেয়।” আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আরো বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, “আমার উম্মাতের এক ব্যক্তি রাত্রে উঠে কষ্ট করে পবিত্রতা অর্জন করে। আর এসময় তার উপর (শয়তানের) গিরা দেওয়া থাকে। অতঃপর সে যখন তার দুই হাত ধৌত করে, তখন একটি গিরা খুলে যায়। যখন সে তার মুখ ধৌত করে, তখন আরেকটি গিরা খুলে যায়। যখন সে তার মাথা মাসেহ করে, তখন আরেকটি গিরা খুলে যায়। যখন সে তার দুই পা ধৌত করে, তখন আরেকটি গিরা খুলে যায়। তখন মহান আল্লাহ পর্দার বাইরের ফেরেস্তাদের বলেন, “তোমরা আমার এই বান্দার দিকে দেখো, সে কষ্ট স্বীকার করছে আমার কাছে চাওয়ার জন্য। আমার এই বান্দা যা কিছু চাইবে, তাকে তা দিয়ে দেওয়া হবে। আমার এই বান্দা যা কিছু চাইবে, তাকে তা দিয়ে দেওয়া হবে।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৪/২০১; আত তাবারানী আল কাবীর: ১৭/৩০৫; হাইসামী, মাজমা‘উয যাওয়াইদ: ১/২২৪। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ১/২২০।)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن - مضى (1049). تنبيه!! رقم (1049) = (1052) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح
2556 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَا مِنْ مُسْلِمٍ، ذَكَرٍ وَلَا أُنْثَى، يَنَامُ إِلَّا وَعَلَيْهِ جَرِيرٌ مَعْقُودٌ، فَإِنِ اسْتَيْقَظَ فَذَكَرَ اللَّهَ، انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ، وَإِنْ هُوَ تَوَضَّأَ ثُمَّ قَامَ إِلَى الصَّلَاةِ أَصْبَحَ نَشِيطًا قَدْ أَصَابَ خَيْرًا، وَقَدِ انْحَلَّتْ عُقَدُهُ كُلُّهَا، وَإِنْ أَصْبَحَ وَلَمْ يَذْكُرِ [ص:297] اللَّهَ أَصْبَحَ وَعُقَدُهُ عَلَيْهِ، وَأَصْبَحَ ثَقِيلًا كَسْلَانًا لَمْ يُصِبْ خَيْرًا»
رقم طبعة با وزير = (2547)
জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বলেছেন, “যে কোন নারী বা পুরুষ যখন সে ঘুমায়, তখন তার মাথায় গিরা দেওয়া হয়। অতঃপর যদি সে জাগ্রত হয় এবং আল্লাহর যিকর করে, তবে একটি গিরা খুলে যায়। আর যদি সে উঠে ওযূ করে তারপর দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে, তখন সে প্রফুল্লচিত্তে সকাল করে এমন অবস্থায় যে তার সবগুলো গিরা খুলে গিয়েছে। আর যদি সে সকাল করে এমন অবস্থায় যে, সে আল্লাহর যিকর করেনি, তবে সে সকাল করে এমন অবস্থায় যে, তার উপর তার গিরাগুলো থেকে যায় এবং সে ভারী-অলস হয়ে সকাল করে; সে কোন কল্যাণ অর্জন করেনি।”[1]
[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১১৩৩; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৩১৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ১/২১৩)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «التعليق الرغيب» (1/ 213).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم
2557 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ غِيَاثٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ مُرَّةَ الْهَمْدَانِيِّ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «عَجِبَ رَبُّنَا مِنْ رَجُلَيْنِ: رَجُلٍ ثَارَ مِنْ وِطَائِهِ وَلِحَافِهِ مِنْ بَيْنِ حِبِّهِ وَأَهْلِهِ إِلَى الصَّلَاةِ، فَيَقُولُ اللَّهُ جَلَّ وَعَلَا: انْظُرُوا إِلَى عَبْدِي ثَارَ مِنْ فِرَاشِهِ وَوِطَائِهِ مِنْ بَيْنَ حِبِّهِ وَأَهْلِهِ إِلَى صَلَاتِهِ رَغْبَةً فِيمَا عِنْدِي، وَشَفَقَةً مِمَّا عِنْدِي، وَرَجُلٍ غَزَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ، فَانْهَزَمَ النَّاسُ، وَعَلِمَ مَا عَلَيْهِ فِي الِانْهِزَامِ، وَمَا لَهُ فِي الرُّجُوعِ، فَرَجَعَ حَتَّى أُهْرِيقَ دَمُهُ، فَيَقُولُ اللَّهُ لِمَلَائِكَتِهِ: انْظُرُوا إِلَى عَبْدِي، رَجَعَ رَجَاءً فِيمَا [ص:298] عِنْدِي، وَشَفَقَةً مِمَّا عِنْدِي حَتَّى أُهْرِيقَ دَمُهُ»
رقم طبعة با وزير = (2548)
আব্দুল্লাহ বিন মাস‘ঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমাদের প্রভু দুইজন ব্যক্তির প্রতি খুশি হন। (১) ঐ ব্যক্তি, যে তার পরিবার ও প্রিয়জনের মাঝ থেকে, তার বিছানা ও কম্বল ছেড়ে সালাতের জন্য উঠে। তখন মহিমান্বিত, সুমহান আল্লাহ বলেন, “তোমরা আমার এই বান্দার দিকে দেখো, সে তার পরিবার ও প্রিয়জনের মাঝ থেকে, তার বিছানা ও কম্বল ছেড়ে সালাতের জন্য উঠেছে আমার কাছে যে প্রতিদান রয়েছে তার আগ্রহে এবং আমার কাছে যে শাস্তি রয়েছে তার ভয়ে। (২) ঐ ব্যক্তি, যে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে অতঃপর লোকজন পরাস্ত হয়ে পলায়ন করে। আর এই ব্যক্তি জানে যে পলায়ন করলে, তাতে কী শাস্তি আছে এবং যুদ্ধে ফিরে যাওয়ার মাঝে কী প্রতিদান রয়েছে, ফলে সে যুদ্ধে ফিরে যায় এমনকি তার রক্ত প্রবাহিত করা হয়। তখন মহান আল্লাহ ফিরেস্তাদের বলেন, “তোমরা আমার এই বান্দার দিকে দেখো, সে আমার কাছে যে প্রতিদান রয়েছে, তার আগ্রহে এবং আমার কাছে যে শাস্তি রয়েছে, তার ভয়ে যুদ্ধে ফিরে এসেছে এমনকি তার রক্ত প্রবাহিত করা হয়।”[1]
[1] মুসনাদ আবী ইয়া‘লা: ২/২৫২; সুনান বাইহাকী: ৯/১৬৪; মুসনাদ আহমাদ: ১/৪১৬; আবূ দাঊদ: ২৫৩৬; ইবনু আবী আসিম, আস সুন্নাহ: ৫৬৯; মুসতাদরাক হাকিম: ২/১১২। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ শক্তিশালী বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ২৫৪৮)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن - انظر ما بعده.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي
2558 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَحْمُودِ بْنِ عَدِيٍّ بِنَسَا، حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ زَنْجُوَيْهِ، حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ أَسْلَمَ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ مُرَّةَ الْهَمْدَانِيِّ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «عَجِبَ رَبُّنَا مِنْ رَجُلَيْنِ: رَجُلٍ ثَارَ عَنْ وِطَائِهِ وَلِحَافِهِ مِنْ بَيْنَ حِبِّهِ وَأَهْلِهِ إِلَى صَلَاتِهِ، فَيَقُولُ اللَّهُ جَلَّ وَعَلَا لِمَلَائِكَتِهِ: انْظُرُوا إِلَى عَبْدِي، ثَارَ عَنْ فِرَاشِهِ وَوِطَائِهِ مِنْ بَيْنَ حِبِّهِ وَأَهْلِهِ إِلَى صَلَاتِهِ رَغْبَةً فِيمَا عِنْدِي، وَشَفَقَةً مِمَّا عِنْدِي، وَرَجُلٍ غَزَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ، فَانْهَزَمَ أَصْحَابُهُ، وَعَلِمَ مَا عَلَيْهِ فِي الِانْهِزَامِ، وَمَا لَهُ فِي الرُّجُوعِ، فَرَجَعَ حَتَّى هُرِيقَ دَمُهُ، فَيَقُولُ اللَّهُ لِمَلَائِكَتِهِ: انْظُرُوا إِلَى عَبْدِي، رَجَعَ رَجَاءً فِيمَا [ص:299] عِنْدِي، وَشَفَقًا مِمَّا عِنْدِي حَتَّى هُرِيقَ دَمُهُ»
رقم طبعة با وزير = (2549)
আব্দুল্লাহ বিন মাস‘ঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমাদের প্রভু দুইজন ব্যক্তির প্রতি খুশি হন। (১) ঐ ব্যক্তি, যে তার পরিবার ও প্রিয়জনের মাঝ থেকে, তার বিছানা ও কম্বল ছেড়ে সালাতের জন্য উঠে। তখন মহিমান্বিত, সুমহান আল্লাহ ফেরেস্তাদের বলেন, “তোমরা আমার এই বান্দার দিকে দেখো, সে তার পরিবার ও প্রিয়জনের মাঝ থেকে, তার বিছানা ও কম্বল ছেড়ে সালাতের জন্য উঠেছে আমার কাছে যে প্রতিদান রয়েছে তার আগ্রহে এবং আমার কাছে যে শাস্তি রয়েছে তার ভয়ে। (২) ঐ ব্যক্তি, যে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে অতঃপর লোকজন পরাস্ত হয়ে পলায়ন করে। আর এই ব্যক্তি জানে যে পলায়ন করলে তাতে কী শাস্তি আছে এবং যুদ্ধে ফিরে যাওয়ার মাঝে কী প্রতিদান রয়েছে, ফলে সে যুদ্ধে ফিরে যায় এমনকি তার রক্ত প্রবাহিত করা হয়। তখন মহান আল্লাহ ফিরেস্তাদের বলেন, “তোমরা আমার এই বান্দার দিকে দেখো, সে আমার কাছে যে প্রতিদান রয়েছে তার আগ্রহে এবং আমার কাছে যে শাস্তি রয়েছে তার ভয়ে যুদ্ধে ফিরে এসেছে, এমনকি তার রক্ত প্রবাহিত করা হয়।”[1]
[1] মুসনাদ আবী ইয়া‘লা: ২/২৫২; সুনান বাইহাকী: ৯/১৬৪; মুসনাদ আহমাদ: ১/৪১৬; আবূ দাঊদ: ২৫৩৬; ইবনু আবী আসিম, আস সুন্নাহ: ৫৬৯; মুসতাদরাক হাকিম: ২/১১২। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ শক্তিশালী বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ২২৮৭)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن - «صحيح أبي داود» (2287).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: حديث صحيح
2559 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ، حَدَّثَنَا هَمَّامُ بْنُ يَحْيَى، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي مَيْمُونَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنِّي إِذَا رَأَيْتُكَ طَابَتْ نَفْسِي، وَقَرَّتْ عَيْنِي، أَنْبِئْنِي عَنْ كُلِّ شَيْءٍ، قَالَ: «كُلُّ شَيْءٍ خُلِقَ مِنَ الْمَاءِ»، فَقُلْتُ: أَخْبِرْنِي بِشَيْءٍ إِذَا عَمِلْتُ بِهِ دَخَلْتُ الْجَنَّةَ، قَالَ: «أَطْعِمِ الطَّعَامَ، وَأَفْشِ السَّلَامَ، وَصِلِ الْأَرْحَامَ، وَقُمْ بِاللَّيْلِ وَالنَّاسُ نِيَامٌ، تَدْخُلِ الْجَنَّةَ بِسَلَامٍ»
رقم طبعة با وزير = (2550) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: قَوْلُ أَبِي هُرَيْرَةَ: أَنْبِئْنِي عَنْ كُلِّ شَيْءٍ، [ص:300] أَرَادَ بِهِ عَنْ كُلِّ شَيْءٍ خُلِقَ مِنَ الْمَاءِ، وَالدَّلِيلُ عَلَى صِحَّةِ هَذَا جَوَابُ الْمُصْطَفَى إِيَّاهُ، حَيْثُ قَالَ: «كُلُّ شَيْءٍ خُلِقَ مِنَ الْمَاءِ»، فَهَذَا جَوَابٌ خَرَجَ عَلَى سُؤَالٍ بِعَيْنِهِ، لَا أَنَّ كُلَّ شَيْءٍ خُلِقَ مِنَ الْمَاءِ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ مَخْلُوقًا
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি বললাম, হে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, নিশ্চয়ই যখন আমি আপনাকে দেখি আমার মন খুশি হয়ে যায়, আমার চক্ষু শীতল হয়ে যায়। আপনি আমাকে প্রতিটি জিনিস সম্পর্কে অবহিত করুন।” জবাবে তিনি বলেন, “প্রতিটি জিনিস পানি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।” অতঃপর আমি বললাম, “আমাকে এমন কিছু সম্পর্কে বলুন, যা আমি আমল করলে, জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবো।” তিনি জবাবে বলেন, “তুমি মানুষকে খাদ্য খাওয়াবে, ব্যাপকভাবে সালাম প্রদান করবে, রক্ত সম্পর্ক বজায় রাখবে, আর রাতে সালাত আদায় করবে, যখন লোকজন ঘুমিয়ে থাকে, তবে তুমি নিরাপদে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর বক্তব্য “আপনি আমাকে প্রতিটি জিনিস সম্পর্কে অবহিত করুন” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এমন প্রত্যেক জিনিস যা পানি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আমাদের এই ব্যাখ্যার বিশুদ্ধতার পক্ষে দলীল হলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জবাব, যেখানে তিনি বলেছেন, “প্রতিটি জিনিস পানি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে”। কাজেই এই জবাবটি তার খোদ প্রশ্ন থেকে উদ্গত হয়েছে; এটা উদ্দেশ্য নয় যে, প্রত্যেকটি জিনিস পানি থেকে সৃষ্টি হয়েছে, যদিও সেটা মাখলূক না হয়।”
[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/২৯৫; হাকিম: ৪/১২৯; মাজমা‘উয যাওয়াইদ: ৫/১৬। হাদীসটিকে শায়খ শু‘আইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। (আল মাওয়ারিদ: ৬৪২) উল্লেখ যে, শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে অত্র কিতাবের ৫০৮ নং হাদীসে একাধিক সমর্থক বর্ণনা থাকার কারণে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ১৬৯, ১৭১।)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف - «الموارد» (642).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: رجاله ثقات رجال الشيخين غير أبي ميمونة
2560 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مُحَمَّدٍ النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْقَاسِمِ سُحَيْمٌ حَرَّانِيٌّ ثَبْتٌ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ فُلَانًا يُصَلِّي اللَّيْلَ كُلَّهُ، فَإِذَا أَصْبَحَ سَرَقَ، قَالَ: «سَيَنْهَاهُ مَا تَقُولُ»
رقم طبعة با وزير = (2551) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: قَوْلُهُ: «سَيَنْهَاهُ مَا تَقُولُ» مِمَّا نَقُولُ فِي كُتُبِنَا: إِنَّ الْعَرَبَ تُضِيفُ الْفِعْلَ إِلَى الْفِعْلِ نَفْسِهِ، كَمَا تُضِيفُ [ص:301] إِلَى الْفَاعِلِ، أَرَادَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ الصَّلَاةَ إِذَا كَانَتْ عَلَى الْحَقِيقَةِ فِي الِابْتِدَاءِ وَالِانْتِهَاءِ، يَكُونُ الْمُصَلِّي مُجَانِبًا لِلْمَحْظُورَاتِ مَعَهَا، كَقَوْلِهِ عَزَّ وَجَلَّ: {إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ} [العنكبوت: 45]
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলা হলো, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, নিশ্চয়ই ওমুক ব্যক্তি সারা রাত তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করে। অতঃপর যখন সে সকাল করে, তখন সে চুরি করে!” জবাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তুমি যা বলছো, তা থেকে অচিরেই এটি (তাহাজ্জুদ সালাত) তাকে বাধা দিবে।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য “তুমি যা বলছো, তা থেকে অচিরেই এটি (তাহাজ্জুদ সালাত) তাকে বাধা দিবে” এর দ্বারা উদ্দেশ্য যা আমরা আমাদের কিতাব বলেছি, সেটা হলো: আরবরা অনেক সময় ক্রিয়াকে খোদ ক্রিয়ার দিকে সম্পর্কিত করে, যেভাবে তারা কর্তার দিকে সম্পর্কিত করে থাকে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উদ্দেশ্য হলো যখন সালাত শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যথাযথভাবে আদায় করা হবে, তখন মুসল্লী ব্যক্তি নিষিদ্ধ কাজসমূহ থেকে বিরত থাকবে। যেমনটা মহান আল্লাহ বলেছেন, “নিশ্চয়ই সালাত মন্দ ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখে।” (সূরা আনকাবূত: ৪৫)
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৮/৬৬; বাযযার: ২/৪৪৭; বাযযার: ৭২০; হাইসামী, মাজমা‘উয যাওয়াইদ: ২/২৫৮। হাদীসটিকে শায়খ শু‘আইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ৩৪৮২)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (3482)، «الضعيفة» تحت الحديث (2).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي