হাদীস বিএন


সহীহ ইবনু হিব্বান





সহীহ ইবনু হিব্বান (2772)


2772 - (1) أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِدْرِيسَ الْأَنْصَارِيُّ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْهَادِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْحَارِثِ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ قَالَ: خَرَجْتُ إِلَى الطُّورِ، فَلَقِيتُ كَعْبَ الْأَحْبَارِ، فَجَلَسْتُ مَعَهُ، فَحَدَّثَنِي عَنِ التَّوْرَاةِ، وَحَدَّثْتُهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَكَانَ فِيمَا حَدَّثَتْهُ، أَنْ قُلْتُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «خَيْرُ يَوْمٍ طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ يَوْمُ الْجُمُعَةِ، فِيهِ خُلِقَ آدَمُ، وَفِيهِ أُهْبِطَ، وَفِيهِ مَاتَ، وَفِيهِ تِيبَ عَلَيْهِ، وَفِيهِ تَقُومُ السَّاعَةُ، وَمَا مِنْ دَابَّةٍ إِلَّا وَهِيَ مُصِيخَةٌ يَوْمَ الْجُمُعَةِ، مِنْ حِينِ تُصْبِحُ، حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ، شَفَقًا مِنَ السَّاعَةِ إِلَّا الْجِنَّ، وَالْإِنْسَ، وَفِيهِ سَاعَةٌ لَا يُصَادِفُهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ، وَهُوَ يُصَلِّي يَسْأَلُ اللَّهَ شَيْئًا إِلَّا أَعْطَاهُ إِيَّاهُ» قَالَ كَعْبٌ: ذَلِكَ فِي كُلِّ سَنَةٍ يَوْمٌ ‍ فَقُلْتُ: بَلْ فِي كُلِّ جُمُعَةٍ، قَالَ: فَقَرَأَ كَعْبٌ التَّوْرَاةَ، فَقَالَ: صَدَقَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
رقم طبعة با وزير = (2761)


2772 - (2) قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: فَلَقِيتُ بَصْرَةَ بْنَ أَبِي بَصْرَةَ الْغِفَارِيَّ، فَقَالَ: مِنْ أَيْنَ أَقْبَلْتَ؟ فَقُلْتُ: مِنَ الطُّورِ، فَقَالَ: لَوْ أَدْرَكْتُكَ قَبْلَ أَنْ تَخْرُجَ إِلَيْهِ مَا خَرَجْتَ إِلَيْهِ، سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: «لَا تُعْمَلُ * الْمَطِيُّ إِلَّا إِلَى ثَلَاثَةِ مَسَاجِدَ: إِلَى الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَإِلَى مَسْجِدِي هَذَا، [ص:8] وَإِلَى مَسْجِدِ إِيلِيَاءَ، أَوْ مَسْجِدِ بَيْتِ الْمَقْدِسِ» - شَكَّ أَيُّهُمَا -
رقم طبعة با وزير = (2761)


2772 - (3) قَالَ: قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: ثُمَّ لَقِيتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ سَلَامٍ، فَحَدَّثْتُهُ بِمَجْلِسِي مَعَ كَعْبِ الْأَحْبَارِ، وَمَا حَدَّثَتْهُ فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ، فَقُلْتُ لَهُ: قَالَ كَعْبٌ: وَذَلِكَ فِي كُلِّ سَنَةٍ يَوْمٌ، فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلَامٍ: كَذَبَ كَعْبٌ، قُلْتُ: ثُمَّ قَرَأَ التَّوْرَاةَ، فَقَالَ: بَلْ هِيَ فِي كُلِّ جُمُعَةٍ، فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلَامٍ: صَدَقَ كَعْبٌ، ثُمَّ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلَامٍ: قَدْ عَلِمْتُ أَيَّةَ سَاعَةٍ هِيَ؟ قَالَ: ثُمَّ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: فَقُلْتُ لَهُ: فَأَخْبِرْنِي بِهَا وَلَا تَضِنَّنَ عَلَيَّ، فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلَامٍ: هِيَ آخِرُ سَاعَةٍ فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ، قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: وَكَيْفَ تَكُونُ آخِرَ سَاعَةٍ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ، وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يُصَادِفُهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ وَهُوَ يُصَلِّي»، وَتِلْكَ سَاعَةٌ لَا يُصَلَّى فِيهَا، فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلَامٍ: أَلَمْ يَقُلْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ جَلَسَ يَنْتَظِرُ الصَّلَاةَ فَهُوَ فِي صَلَاةٍ، حَتَّى يُصَلِّيَهَا»، قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: بَلَى، قَالَ: فَهُوَ ذَاكَ
رقم طبعة با وزير = (2761)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি তূর পাহাড়ের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। অতঃপর কা‘ব আল আহবার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর সাথে সাক্ষাত করে তার সাথে বসি, তখন তিনি আমাকে তাওরাত সম্পর্কে আলোচনা করেন আর আমি তার কাছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস বর্ণনা করি। আমি তাকে যা বর্ণনা করেছিলাম, তন্মধ্যে অন্যতম হলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “সূর্য যত দিনের উপর উদিত হয়, তন্মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন হলো জুমু‘আর দিন। এই দিনে আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনে তাঁকে জান্নাত থেকে পৃথিবীতে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই দিনে তিনি মারা গিয়েছেন, এই দিনে তাঁর দুয়া কবূল করা হয় এবং এই দিনে কিয়ামত সংঘটিত হবে। জুমু‘আর দিন সকাল থেকে পরদিন সূর্য ‍উদিত হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি প্রাণী কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার শংকায় (শিঙ্গার ফুঁৎকার শুনার জন্য) মনোযোগী থাকে। এই দিনে একটি সময় আছে, সে সময়ে কোন মুসলিম ব্যক্তি সালাতরত অবস্থায় আল্লাহর কাছে কোন কিছু চাইলে, অবশ্যই আল্লাহ তাকে তা দিবেন।” কা‘ব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “এমনটা বছরে একদিন হয়ে থাকে।” আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আমি বললাম, বরং এটা প্রত্যেক জুমু‘আর দিন হয়ে থাকে।” তিনি বলেন, তারপর কা‘ব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাওরাত পাঠ করে বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্যই বলেছেন।” আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “তারপর আমি বসরাহ বিন আবূ বাসরাহ আল গিফারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর সাথে সাক্ষাত করি। তিনি আমাকে বলেন, “আপনি কোথায় থেকে আগমন করলেন?” আমি বললাম, “তূর পাহাড় থেকে।” তিনি বলেন, “তূর পাহাড়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করার আগে যদি আমি আপনার সাক্ষাত পেতাম, তবে আমি সেখানে যাত্রা করতেন না। আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, “তিনটি মাসজিদ ব্যতিত অন্য কোন কিছুর উদ্দেশ্যে বাহন প্রস্তুত করা যাবে না। তিনটি মাসজিদ হলো মাসজিদুল হারাম, আমার এই মাসজিদ এবং ঈলীয়া বা বাইতুল মাকদিস –অধঃস্তন রাবী সন্দেহ পোষন করেছেন-।” আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “তারপর আমি আব্দুল্লাহ বিন সালাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর সাথে সাক্ষাত করি অতঃপর আমি তাকে কা‘ব আল আহবার ও তাঁকে আমি জুমু‘আর দিন সম্পর্কে যা বর্ণনা করেছিলাম, সে সম্পর্কে জানাই। আমি তাকে বলি, কা‘ব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, “এমনটা বছরে একদিন হয়।” তখন আব্দুল্লাহ বিন সালাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “কা‘ব অসত্য কথা বলেছে।” আমি বললাম, “তারপর কা‘ব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাওরাত পাঠ করে বলেছেন, “বরং এটি প্রত্যেক জুমু‘আর দিন হয়।” তখন আব্দুল্লাহ বিন সালাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “কা‘ব সত্য বলেছে।” তারপর তিনি বলেন, “আপনি কি জানেন, সেটা কোন সময়?” আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আমি তাকে বললাম, আপনি আমাকে সে সম্পর্কে অবহিত করুন। দয়া করে এই ব্যাপারে কৃপণতা করবেন না।” জবাবে তিনি বলেন, “এটা হলো জুমু‘আর দিনের শেষ মুহুর্ত।” আমি বললাম, “কিভাবে এটা জুমু‘আর দিনের শেষ মুহুর্ত হবে, অথচ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলেননি, “যে ব্যক্তি সালাত আদায় করার জন্য অপেক্ষা করে, সে সালাত আদায় না করা পর্যন্ত সালাতের মধ্যের থাকে?” আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “হ্যাঁ।” তখন আব্দুল্লাহ বিন সালাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “এটি তেমনই।”[1]

[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/১০৮-১১০; আবূ দাঊদ: ১০৪৬; তিরমিযী: ৪৯১; মুসনাদ আহমাদ: ২/৪৮৬; বাগাবী: ১০৫০; হাকিম: ১/২৭৮; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৫৫৮৩; দারেমী: ১/৩৬৮; সহীহ মুসলিম: ৮৫৪; নাসাঈ: ৩/৮৯; ইবনু মাজাহ: ১১৩৯। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৯৬২)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: (1) صحيح - «صحيح أبي داود» (962)، «أحكام الجنائز» (287). <br> (2) صحيح - «صحيح أبي داود» (962)، «أحكام الجنائز» (287). * [لاَ تُعْمَلُ] قال الشيخ: المشهور في أكثر الأحاديث: «لا تشد ... ». <br> (3) صحيح - «صحيح أبي داود» (962)، «أحكام الجنائز» (287).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: (1) إسناد صحيح على شرط الشيخين <br> (2) إسناد صحيح على شرط الشيخين <br> (3) إسناد صحيح على شرط الشيخين









সহীহ ইবনু হিব্বান (2773)


2773 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ أَبُو الْقَاسِمِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فِي الْجُمُعَةِ سَاعَةٌ لَا يُوَافِقُهَا مُسْلِمٌ قَائِمٌ يُصَلِّي يَسْأَلُ اللَّهَ فِيهَا خَيْرًا، إِلَّا أَعْطَاهُ إِيَّاهُ»
رقم طبعة با وزير = (2762)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “জুমু‘আর দিনে এমন একটা সময় আছে, কোন মুসলিম ব্যক্তি সে সময়ে দাঁড়িয়ে সালাতরত অবস্থায় তাতে কল্যাণময় কিছু চাইলে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে তা দিবেন।”[1]



[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/১০৮-১১০; আবূ দাঊদ: ১০৪৬; তিরমিযী: ৪৯১; মুসনাদ আহমাদ: ২/৪৮৬; বাগাবী: ১০৫০; হাকিম: ১/২৭৮; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৫৫৮৩; দারেমী: ১/৩৬৮; সহীহ মুসলিম: ৮৫৪; নাসাঈ: ৩/৮৯; ইবনু মাজাহ: ১১৩৯। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৯৬২)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - المصدر نفسه: ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما









সহীহ ইবনু হিব্বান (2774)


2774 - أَخْبَرَنَا أَبُو سَعِيدٍ عَبْدُ الْكَبِيرِ بْنُ عُمَرَ الْخَطَّابِيُّ، بِالْبَصْرَةِ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْمِقْدَامِ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ الْقَاسِمِ، حَدَّثَنَا الْعَلَاءُ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: «عَلَى كُلِّ بَابٍ مِنْ أَبْوَابِ الْمَسْجِدِ مَلَكَانِ، يَكْتُبَانِ الْأَوْلَ فَالْأَوْلَ، فَكَرَجُلٍ قَدَّمَ بَدَنَةً، وَكَرَجُلٍ قَدَّمَ بَقَرَةً، وَكَرَجُلٍ قَدَّمَ شَاةً، وَكَرَجُلٍ قَدَّمَ طَيْرًا، وَكَرَجُلٍ قَدَّمَ [ص:12] بَيْضَةً، فَإِذَا قَعَدَ الْإِمَامُ طُوِيَتِ الصُّحُفُ»
رقم طبعة با وزير = (2763)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “মাসজিদের প্রতিটি দরজায় দুইজন করে ফেরেস্তা থাকেন। তারা প্রথমজন অতঃপর পরেরজন এভাবে নাম লিপিবদ্ধ করেন। (যিনি প্রথমে আসে, সে ব্যক্তি) ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে একটি উট সাদাকাহ করে, তারপরের ব্যক্তি ঐ ব্যক্তির ন্যায়, যে একটি মেষ সাদাকাহ করে, তারপরের ব্যক্তি ঐ ব্যক্তির ন্যায়, যে একটি পাখি সাদাকাহ করে, তারপরের ব্যক্তি ঐ ব্যক্তির ন্যায়, যে একটি ডিম সাদাকাহ করে। অতঃপর যখন ইমাম (খুতবার জন্য মিম্বারে) বসেন, তখন খাতাসমূহ ভাঁজ করে রেখে দেওয়া হয়।”[1]



[1] সহীহুল বুখারী: ৯২৯; সহীহ মুসলিম: ৮৫০; নাসাঈ: ২/১১৬; দারেমী: ১/৩৬৩; মুসনাদ আহমাদ: ২/২৫৯; ইবনু মাজাহ: ১০৯২। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ১/২৫৩)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «التعليق الرغيب» (1/ 253).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح رجاله رجال الصحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (2775)


2775 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ سِنَانٍ، بِمَنْبِجَ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سُمَيٍّ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «مَنِ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ غُسْلَ الْجَنَابَةِ، ثُمَّ رَاحَ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ بَدَنَةً، وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الثَّانِيَةِ، فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ بَقَرَةً، وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الثَّالِثَةِ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ كَبْشًا، وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الرَّابِعَةِ، فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ دَجَاجَةً، وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الْخَامِسَةِ، فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ بَيْضَةً، فَإِذَا خَرَجَ الْإِمَامُ حَضَرَتِ الْمَلَائِكَةُ يَسْتَمِعُونَ الذِّكْرَ».
رقم طبعة با وزير = (2764) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: «فِي هَذَا الْخَبَرِ بَيَانٌ وَاضِحٌ بِأَنَّ اسْمَ الرَّوَاحِ يَقَعُ عَلَى جَمِيعِ سَاعَاتِ النَّهَارِ ضِدَّ قَوْلِ مَنْ زَعَمَ أَنَّ الرَّوَاحَ لَا يَكُونُ إِلَّا بَعْدَ الزَّوَالِ»




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি জুমু‘আর দিন নাপাকীর গোসলের ন্যায় গোসল দিবে তারপর সকাল সকাল জুমু‘আয় গমন করে, তবে সে ব্যক্তি যেন একটি উট সাদাকাহ করলো, যে ব্যক্তি দ্বিতীয় সময়ে গমন করে, সে যেন একটি গাভী সাদাকাহ করলো, যে ব্যক্তি তৃতীয় সময়ে গমন করে, সে যেন একটি দুম্বা সাদাকাহ করলো, যে ব্যক্তি চতুর্থ সময়ে গমন করে, সে যেন একটি মুরগী সাদাকাহ করলো, যে ব্যক্তি পঞ্চম সময়ে গমন করে, সে যেন একটি ডিম সাদাকাহ করলো। অতঃপর ইমাম যখন খুতবার জন্য বের হন, তখন ফেরেস্তাগণ খুতবা শোনার জন্য উপস্থিত হন।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই হাদীসে স্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে যে, আরবি الرواح শব্দটি দিবসের পুরো ভাগের উপর ব্যবহার হয়। এটা তার কথার বিপরীত যে ব্যক্তি বলে যে, এই শব্দটি কেবল সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে যাওয়ার পরেই ব্যবহৃত হয়।”



[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/১০১; সহীহুল বুখারী: ৮৮১; সহীহ মুসলিম: ৮৫০; তিরমিযী: ৪৯৯; আবূ দাঊদ: ৫৩১; নাসাঈ: ৩/৯৮; মুসনাদ আহমাদ: ২/৪৬০; বাগাবী: ১০৬৩। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৩৭৮)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (378): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: Null









সহীহ ইবনু হিব্বান (2776)


2776 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ وَدِيعَةَ أَبُو وَدِيعَةَ، عَنْ سَلْمَانَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «مَنِ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ، فَتَطَهَّرَ مَا اسْتَطَاعَ مِنْ طُهْرٍ، ثُمَّ ادَّهَنَ مِنْ دُهْنِهِ، أَوْ طِيبِ بَيْتِهِ، ثُمَّ رَاحَ إِلَى الْجُمُعَةِ، وَلَمْ يُفَرِّقْ بَيْنَ اثْنَيْنِ، ثُمَّ صَلَّى مَا بَدَا لَهُ، فَإِذَا خَرَجَ الْإِمَامُ أَنْصَتَ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ، وَبَيْنَ الْجُمُعَةِ الْأُخْرَى»
رقم طبعة با وزير = (2765)




সালমান ফারেসী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি জুমু‘আর দিন গোসল করে, অতঃপর সাধ্যমত পবিত্রতা অর্জন করে তারপর তার বাড়ির তেল বা সুগন্ধি ব্যবহার করে সকাল সকাল জুমু‘আয় গমন করে এবং দুইজনকে ভেদ করে (সামনে গমন করে) না তারপর সে সালাত আদায় করে, যতটা পড়তে মনে চায়। অতঃপর ইমাম যখন খুতবার উদ্দেশ্যে বের হয়, তখন সে চুপ থাকে- তবে তাকে তার মাঝে ও পরবর্তী জুমু‘আহর মাঝে (সংঘটিত গোনাহসমূহ) ক্ষমা করে দেওয়া হয়।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ৫/৪৩৮; সহীহুল বুখারী: ৮৮৩; দারেমী: ১/৩৬২; ইবনু মাজাহ: ১০৯৭; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৭৬৩। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ২৭৬৫)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: خ.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط البخاري









সহীহ ইবনু হিব্বান (2777)


2777 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ أَبِي سَلَمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، وَيَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ رَجُلٍ مِنْهُمْ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَطَبَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ، فَرَأَى عَلَيْهِمْ ثِيَابَ النِّمَارِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا عَلَى أَحَدِكُمْ إِنْ وَجَدَ سَعَةً [ص:16] أَنْ يَتَّخِذَ ثَوْبَيْنِ لِجُمُعَتِهِ سِوَى ثَوْبَيْ مِهْنَتِهِ»
رقم طبعة با وزير = (2766)




আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমু‘আয় খুতবা দিচ্ছিলেন, অতঃপর তিনি সাহাবীদের পরিধানে কাজের পোশাক দেখলেন, তখন তিনি বলেন, “তোমাদের কারো উপর কোন কিছু (দোষ) হবে না যদি তার স্বচ্ছলতা থাকে, আর কাজের পোশাক ব্যতীত জুমু‘আর জন্য দুটো কাপড় বানিয়ে নেয়।”[1]



[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৭৬৫; ইবনু মাজাহ: ১০৯৬; আবূ দাঊদ: ১০৭৮। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সমার্থক বর্ণনার কারণে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৯৮০-৯৯০)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (989 - 990).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: حديث صحيح بشاهده









সহীহ ইবনু হিব্বান (2778)


2778 - أَخْبَرَنَا ابْنُ خُزَيْمَةَ، حَدَّثَنَا الدَّوْرَقِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ [ص:17] إِبْرَاهِيمَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَأَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَأَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَا: سَمِعْنَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: «مَنِ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَاسْتَنَّ، وَمَسَّ مِنْ طِيبٍ إِنْ كَانَ عِنْدَهُ، وَلَبِسَ مِنْ أَحْسَنِ ثِيَابِهِ، ثُمَّ جَاءَ إِلَى الْمَسْجِدِ، وَلَمْ يَتَخَطَّ رِقَابَ النَّاسِ، ثُمَّ رَكَعَ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَرْكَعَ، ثُمَّ أَنْصَتَ إِذَا خَرَجَ إِمَامُهُ حَتَّى يُصَلِّيَ، كَانَتْ كَفَّارَةً مَا بَيْنَهَا وَبَيْنَ الْجُمُعَةِ الَّتِي كَانَتْ قَبْلَهَا»
رقم طبعة با وزير = (2767)




আবূ হুরাইরা ও আবূ সা‘ঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি জুমু‘আর দিন গোসল করে, মিসওয়াক করে, যদি তার কাছে সুগন্ধি থাকে, তবে সুগন্ধি গ্রহণ করে, উত্তম পোশাক পরিধান করে, তারপর মাসজিদে গমন করে, মানুষের গর্দান ধরে না (সামনে যাওয়ার জন্য), তারপর আল্লাহ যতটুকু চান সালাত আদায় করে, অতঃপর ইমাম যখন (খুতবার উদ্দেশ্যে) আসে, তখন থেকে সালাত আদায় করা পর্যন্ত চুপ থাকে, তবে এটি এই জুমু‘আর ও আগের জুমু‘আর মধ্যবর্তী (গোনাহের) জন্য কাফফারা হবে।”[1]



[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৭৬২; হাকিম: ১/২৮৩; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৮১; আবূ দাঊদ: ৩৪৩; বাগাবী: ১০৬০। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৩৭১)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن - «صحيح أبي داود» (371).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي









সহীহ ইবনু হিব্বান (2779)


2779 - أَخْبَرَنَا أَبُو خَلِيفَةَ، حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ، ثُمَّ أَتَى الْجُمُعَةَ، فَسَمِعَ وَأَنْصَتَ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَ الْجُمُعَةِ إِلَى الْجُمُعَةِ، وَزِيَادَةُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ، وَمَنْ مَسَّ الْحَصَى، فَقَدْ لَغَا».
رقم طبعة با وزير = (2768) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: «قَدْ يَتَوَهَّمُ مَنْ لَمْ يَسْبُرْ صِنَاعَةَ الْحَدِيثِ أَنَّ الْجُمُعَةَ إِلَى الْجُمُعَةِ ثَمَانِيَةُ أَيَّامٍ وَلَيْسَ كَذَلِكَ، لِأَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، لَمْ يَقُلْ غُفِرَ لَهُ مِنَ الْجُمُعَةِ إِلَى الْجُمُعَةِ، فَوَقْتُ الْجُمُعَةِ زَوَالُ الشَّمْسِ، فَمِنْ زَوَالِ الشَّمْسِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ إِلَى زَوَالِ الشَّمْسِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ الْأُخْرَى سَبْعَةُ أَيَّامٍ، وَقَوْلُهُ زِيَادَةُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ تَمَامُ الْعَشْرِ، قَالَ اللَّهُ جَلَّ وَعَلَا {مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا} [الأنعام: 160]، وَهَذَا مِمَّا نَقُولُ فِي كُتُبِنَا: إِنَّ الْمَرْءَ قَدْ يَعْمَلُ [ص:19] طَاعَةَ اللَّهِ جَلَّ وَعَلَا، فَيَغْفِرُ اللَّهُ لَهُ بِهَا ذَنُوبًا لَمْ يَكْتَسِبْهَا بَعْدُ»




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি উত্তমরুপে ওযূ করে জুমু‘আর আসে, অতঃপর খুতবা শ্রবণ করে এবং চুপ থাকে, তবে সেই জুমু‘আহ থেকে পরবর্তী জুমু‘আহ এবং অতিরিক্ত আরো তিন দিন পর্যন্ত ক্ষমা করে দেওয়া হয়। আর যে ব্যক্তি কঙ্কর স্পর্শ করে, সে নিশ্চয়ই অনর্থক কাজে করে।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “যে ব্যক্তি হাদীসের জ্ঞানে পরিপক্কতা অর্জন করেনি, সে ব্যক্তি কোন কোন সময় এই সংশয়ে নিপতিত হয় যে, এক জুমু‘আহ থেকে আরেক জুমু‘আহ পর্যন্ত আট দিন। কিন্তু বিষয়টি এমন নয়। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘এক জুমু‘আহ থেকে আরেক জুমু‘আহ পর্যন্ত’ বলেননি। জুমু‘আর সময় হলো সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে যাওয়া। সুতরাং জুমু‘আর দিন সূর্য অস্ত যাওয়ার পর থেকে পরের জুমু‘আহর সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে যাওয়া পর্যন্ত সময় সাত দিন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বক্তব্য “অতিরিক্ত আরো তিন ‍দিন”, উভয়টি মিলে মোট পূর্ণ ১০ দিন। মহান আল্লাহ বলেছেন, “যে ব্যক্তি ভাল কাজ করবে, তার জন্য রয়েছে ১০ গুণ (সাওয়াব)।” –সূরা আ‘রাফ: ১৬০। এই বিষয়টি আমরা আমাদের কিতাবে বর্ণনা করেছি যে, কোন কোন সময় মানুষ ভালো কাজ করে, মহান আল্লাহ তার বদৌলতে এমন কিছু পাপ ক্ষমা করে দেন, যা সে পরে সম্পাদন করবে না।”



[1] সহীহ মুসলিম: ৮৫৭; মুসনাদ আহমাদ: ২/৪২৪; তিরমিযী: ৪৯৮; ইবনু মাজাহ: ১০৯০; বাগাবী: ৩৩৬। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৩৭১)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (371 و 9064): م.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط البخاري









সহীহ ইবনু হিব্বান (2780)


2780 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ رُشَيْدٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنِ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ، فَأَحْسَنَ غُسْلَهُ وَلَبِسَ مِنْ صَالِحِ ثِيَابِهِ، وَمَسَّ مِنْ طِيبِ بَيْتِهِ، أَوْ دُهْنِهِ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجُمُعَةِ الْأُخْرَى، وَزِيَادَةُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ مِنَ الَّتِي بَعْدَهَا»
رقم طبعة با وزير = (2769)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি জুমু‘আর দিন উত্তমরুপে গোসল করে উত্তম পোশাক পরিধান করে, এবং বাড়ির সুগন্ধি বা তেল স্পর্শ করে, তবে তাকে তার মাঝে ও পরবর্তী জুমু‘আহ মাঝের এবং অতিরিক্ত আরো তিন দিনের গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।”[1]



[1] সহীহ মুসলিম: ৮৫৭; মুসনাদ আহমাদ: ২/৪২৪; তিরমিযী: ৪৯৮; ইবনু মাজাহ: ১০৯০; বাগাবী: ১০৫৯। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৩৭১)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: م - انظر ما قبله.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: Null









সহীহ ইবনু হিব্বান (2781)


2781 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ الشَّيْبَانِيُّ، حَدَّثَنَا حِبَّانُ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا الْأَوْزَاعِيُّ، عَنْ حَسَّانَ بْنِ عَطِيَّةَ، حَدَّثَنِي أَبُو الْأَشْعَثِ الصَّنْعَانِيُّ، عَنْ أَوْسِ بْنِ أَوْسٍ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: «[ص:20] مَنْ غَسَّلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَاغْتَسَلَ، ثُمَّ بَكَّرَ، وَابْتَكَرَ، وَمَشَى فَدَنَا، وَاسْتَمَعَ، وَأَنْصَتَ، وَلَمْ يَلْغُ كَتَبَ اللَّهُ لَهُ بِكُلِّ خُطْوَةٍ يَخْطُوهَا عَمَلَ سَنَةٍ صِيَامَهَا وَقِيَامَهَا»
رقم طبعة با وزير = (2770) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: قَوْلُهُ: «مَنْ غَسَّلَ: يُرِيدُ غَسَلَ رَأْسَهُ، وَاغْتَسَلَ: يُرِيدُ اغْتَسَلَ بِنَفْسِهِ، لِأَنَّ الْقَوْمَ كَانَتْ لَهُمْ جُمَمٌ احْتَاجُوا إِلَى تَعَاهُدِهَا وَقَوْلُهُ: بَكَّرَ وَابْتَكَرَ: يُرِيدُ بِهِ بَكَّرَ إِلَى الْغُسْلِ، وَابْتَكَرَ إِلَى الْجُمُعَةِ»




আওস বিন আওস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি জুমু‘আর দিন (মাথা) ধৌত করে অতঃপর পুরো শরীর ধৌত করে, তারপর সকাল সকাল জুমু‘আয় আগমন করে, পায়ে হেঁটে যায়, অতঃপর ইমামের নিকটবর্তী হয়, মন দিয়ে খুতবা শ্রবণ করে, চুপ থাকে এবং কোন অনর্থক কাজ করে না তবে আল্লাহ তার প্রতিটি পদক্ষেপ, যা ফেলে (সে মাসজিদে গমন করে), তার বদৌলতে এক বছর কিয়াম ও সিয়াম রাখার সাওয়াব লিখে দেন।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বক্তব্য “যে ব্যক্তি ধৌত করে” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মাথা ধৌত করে। আর وَاغْتَسَلَ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো নিজে গোসল করে। কেননা সাহাবীদের বাবরি চুল ছিল, যা ভালভাবে খেয়াল করে ধৌত করার প্রয়োজন পড়তো। আর بَكَّرَ وَابْتَكَرَ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সকাল সকাল গোসল করে সকাল সকাল জুমু‘আয় যায়।”



[1] মুসনাদ আহমাদ: ৪/১০৪; আবূ দাঊদ: ৩৪৫; ইবনু মাজাহ: ১০৮৭; বাগাবী: ১০৬৫; হাকিম: ১/২৮২; তিরমিযী: ৪৯৬; নাসাঈ: ৩/৯৫; দারেমী: ১/৩৬৩; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৭৬৭। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৩৭৩)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (373).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: Null









সহীহ ইবনু হিব্বান (2782)


2782 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ مُسْلِمٍ الزُّهْرِيُّ، عَنْ طَاوُسٍ الْيَمَانِيِّ، قَالَ: قُلْتُ لِابْنِ عَبَّاسٍ: زَعَمُوا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «اغْتَسِلُوا يَوْمَ الْجُمُعَةِ، وَاغْسِلُوا رُءُوسَكُمْ، إِلَّا أَنْ تَكُونُوا جُنُبًا، وَمَسُّوا مِنَ الطِّيبِ». قَالَ: فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: أَمَّا الطِّيبُ فَلَا أَدْرِي، وَأَمَّا الْغُسْلُ فَنَعَمْ.
رقم طبعة با وزير = (2771) [ص:22] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: قَوْلُهُ «إِلَّا أَنْ تَكُونُوا جُنُبًا: فِيهِ دَلِيلٌ عَلَى أَنَّ الِاغْتِسَالَ مِنَ الْجَنَابَةِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ بَعْدَ انْفِجَارِ الصُّبْحِ يُجْزِئُ عَنِ الِاغْتِسَالِ لِلْجُمُعَةِ، وَفِيهِ دَلِيلٌ عَلَى أَنَّ غُسْلَ يَوْمِ الْجُمُعَةِ لَيْسَ بِفَرْضٍ، إِذْ لَوْ كَانَ فَرْضًا لَمْ يُجْزِئْ أَحَدُهُمَا عَنِ الْآخَرِ»




তাওস আল ইয়ামানী রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আমি আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমাকে বললাম, “লোকদের ধারণা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা জুমু‘আর দিন গোসল করো এবং তোমাদের মাথা ধৌত করো তবে যদি তোমরা জুনুবী হও (তবে ভিন্ন কথা) আর সুগন্ধি স্পর্শ (ব্যবহার) কর।” আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, “সুগন্ধি ব্যাপারটি আমার জানা নেই। আর গোসলের ব্যাপার, হ্যাঁ, সেটা ঠিক আছে।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বক্তব্য “তবে যদি তোমরা জুনুবী হও” এখানে এই মর্মে দলীল রয়েছে যে, জুমু‘আর দিনে কোন ব্যক্তি যদি সুবহে সাদিক উদিত হওয়ার পর জুনুবী গোসল করে, তবে এটি জুমু‘আর দিনের গোসলের জন্য যথেষ্ঠ হয়ে যাবে। এখানে আরো দলীল রয়েছে যে, জুমু‘আর দিনে গোসল ফরয নয়। কেননা সেটা ফরয হতো, তবে এক ফরয আরেক ফরযের জন্য যথেষ্ঠ হতো না।”



[1] মুসনাদ আহমাদ: ১/২৬৫; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৭৫৯; সহীহুল বুখারী: ৮৮৪; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৫৩০৩; সহীহ মুসলিম: ৮৪৮। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহুত তারগীব: ৬৯২)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح الترغيب» (692): خ.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي









সহীহ ইবনু হিব্বান (2783)


2783 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ زَبِيدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، [ص:23] عَنْ عُمَرَ، قَالَ: «صَلَاةُ السَّفَرِ، وَصَلَاةُ الْفِطْرِ، وَصَلَاةُ الْأَضْحَى، وَصَلَاةُ الْجُمُعَةِ رَكْعَتَانِ تَمَامٌ، غَيْرُ قَصْرٍ عَلَى لِسَانِ نَبِيِّكُمْ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ»
رقم طبعة با وزير = (2772)




উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “সফরের সালাত, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা ও জুমু‘আর সালাত কসর ছাড়া পূর্ণই দুই রাকা‘আত। এটি তোমাদের নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জবানীতে বর্ণিত হয়েছে।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ১/৩৭; নাসাঈ: ৩/১৮৩; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ৪২১; সুনান বাইহাকী: ৩/২০০; ইবনু মাজাহ: ১০৬৩। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৬৩৮)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الإرواء» (638).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: رجاله ثقات رجال الشيحين لكن الحفاظ لا يثبتون سماع عبد الرحمن بن أبي ليلى من عمر مع أن سماعه محتمل









সহীহ ইবনু হিব্বান (2784)


2784 - أَخْبَرَنَا ابْنُ قُتَيْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، [ص:24] عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «نَحْنُ السَّابِقُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بَيْدَ أَنَّهُمْ أُوتُوا الْكِتَابَ مِنْ قَبْلِنَا، وَأُوتِينَاهُ مِنْ بَعْدِهُمْ، فَهَذَا يَوْمُهُمُ الَّذِي فُرِضَ عَلَيْهِمْ، فَاخْتَلَفُوا فِيهِ، فَهَدَانَا اللَّهُ لَهُ، فَهُمْ لَنَا فِيهِ تَبَعٌ، الْيَهُودُ غَدًا، وَالنَّصَارَى بَعْدَ غَدٍ».
رقم طبعة با وزير = (2773) سَمِعْتُ مُوسَى بْنَ مُحَمَّدٍ الذُّهْلِيَّ بِأَنْطَاكِيَةَ يَقُولُ: سَمِعْتُ [ص:25] الْمُزَنِيَّ يَقُولُ: «بَيْدَ»: مِنْ أَجْلِ




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আমরা কিয়ামতের দিন (অন্যান্য জাতীর উপর) অগ্রগামী হবো। এই কারণে যে, তাদেরকে আগে কিতাব দেওয়া হয়েছে আর আমাদেরকে কিতাব পরে দেওয়া হয়েছে। এটা হলো সেই দিন যা তাদের উপর ফরয করা হয়েছিল অতঃপর তারা তাতে মতভেদে লিপ্ত হয়। মহান আল্লাহ আমাদেরকে হেদায়েত দান করেছেন। কাজেই তারা আমাদের অনুগামী। ইয়াহুদিরা পরের দিন আর খ্রীষ্টানরা তার পরের দিন (পালন করে)।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আমি মুসা বিন মুহাম্মাদ দাইলামীকে আনতাকিয়াতে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, “بَيْدَ অর্থ এই কারণে।”



[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/২৭৪; সহীহুল বুখারী; ৬৬২৪; সহীহ মুসলিম: ৮৫৫; নাসাঈ: ৩/৮৫; ইবনু মাজাহ: ১০৮৩; দারাকুতনী: ২/৩। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ২৭৭৩)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «التعليق على نهاية السول» (49).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (2785)


2785 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا هِشَامٌ الدَّسْتُوَائِيُّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَّامٍ، عَنِ الْحَكَمِ بْنِ مِينَاءَ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، وَابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُمَا شَهِدَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ: «لَيَنْتَهِيَنَّ قَوْمٌ عَنْ وَدْعِهِمُ الْجُمُعَاتِ، أَوْ لَيَخْتِمَنَّ اللَّهُ عَلَى قُلُوبِهِمْ، وَلَيَكُونُنَّ مِنَ الْغَافِلِينَ»
رقم طبعة با وزير = (2774)




আব্দুল্লাহ বিন উমার ও আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম থেকে বর্ণিত, “তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে উপস্থিত ছিলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারের উপর বলেছেন, “অবশ্যই যেন লোকেরা জুমু‘আহ ত্যাগ করার কাজ পরিহার করে, অন্যথায় অবশ্যই আল্লাহ তাদের অন্তরসমূহে মোহর মেরে দিবেন এবং অবশ্যই তারা গাফিলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ১/২১৩৯; সহীহ মুসলিম: ৮৬৫; বাগাবী: ১০৫৪; নাসাঈ: ৩/৮৮। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ২৯৬৭)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (2967).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (2786)


2786 - أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ سِنَانٍ الْقَطَّانُ إِمْلَاءً، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مَسْعُودٍ الْجَحْدَرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ عَلْقَمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُبَيْدَةُ بْنُ سُفْيَانَ الْحَضْرَمِيُّ، عَنْ أَبِي الْجَعْدِ الضَّمْرِيِّ، وَكَانَتْ لَهُ صُحْبَةٌ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ تَرَكَ الْجُمُعَةَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ تَهَاوُنًا بِهَا، طَبَعَ اللَّهُ عَلَى قَلْبِهِ»
رقم طبعة با وزير = (2775)




আবুল জা‘দ আদ দোমরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি অবহেলা বশত করে তিন জুমু‘আহ পরিত্যাগ করে, মহান আল্লাহ তার অন্তরে মোহর মেরে দিবেন।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ৩/৪২৪; আবূ দাঊদ: ১০৫২; তিরমিযী: ৫০০; নাসাঈ: ৩/৮৮; দারেমী: ১/৩৬৯; সুনান বাইহাকী: ৩/১৭২; হাকিম: ৩/৬২৪; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৮৫৭; ইবনু মাজাহ: ১১২৬। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান-সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৩৬৫)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن صحيح - «المشكاة» (1371)، «التعليق الرغيب» (1/ 259)، «صحيح أبي داود» (365).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن









সহীহ ইবনু হিব্বান (2787)


2787 - أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ دَاوُدَ بْنِ وَرْدَانَ، بِالْفُسْطَاطِ، قَالَ: حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ حَمَّادٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ عَجْلَانَ، عَنِ الْقَعْقَاعِ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا أَخْطَأَ خَطِيئَةً نُكِتَ فِي قَلْبِهِ نُكْتَةٌ، فَإِنْ هُوَ نَزَعَ وَاسْتَغْفَرَ وَتَابَ صُقِلَتْ، فَإِنْ عَادَ زِيدَ فِيهَا، وَإِنْ عَادَ زِيدَ فِيهَا حَتَّى تَعْلُوَ فِيهِ، فَهُوَ الرَّانُ الَّذِي ذَكَرَ اللَّهُ جَلَّ وَعَلَا: {كَلَّا بَلْ رَانَ عَلَى قُلُوبِهِمْ مَا كَانُوا يَكْسِبُونَ} [المطففين: 14]»
رقم طبعة با وزير = (2776)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন কোন বান্দা কোন পাপ কাজ করে, তখন তার অন্তরে একটি কালো দাগ পড়ে যায়, যদি সে পাপ কাজ থেকে বিরত থাকে, আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং তাওবা করে, তবে সে দাগ উঠে অন্তর পরিষ্কার হয়ে যায়। যদি সে আবারো পাপ কাজ করে, তবে সে দাগ আরো বৃদ্ধি পায়, এভাবে তা পুরো অন্তর ছাপিয়ে যায়। এটাই হলো ‘মরিচা’ যা মহান আল্লাহ কুরআনে বর্ণনা করেছেন, كَلَّا بَلْ رَانَ عَلَى قُلُوبِهِمْ مَا كَانُوا يَكْسِبُونَ (কখনোই না, বরং তাদের কৃতকর্মের জন্য তাদের অন্তরের উপর মরিচা ধরেছে। -সূরা মুতাফ্ফিফীন: ১৪)।”[1]



[1] তিরমিযী: ৩৩৩৪; নাসাঈ, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ: ৪১৮; ইবনু মাজাহ: ৪২৪৪; তাবারী: ৩০/৯৮; হাকিম: ২/৫১৭। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ২/২৬৮-২৬৯।)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن - مكرر (926). تنبيه!! رقم (926) = (930) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي









সহীহ ইবনু হিব্বান (2788)


2788 - أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى بْنِ مُجَاشِعٍ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ هَمَّامٍ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، حَدَّثَنِي قُدَامَةُ بْنُ وَبَرَةَ، رَجُلٌ مِنْ بَنِي عُجَيْفٍ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «مَنْ فَاتَتْهُ الْجُمُعَةُ، فَلْيَتَصَدَّقْ بِدِينَارٍ، فَإِنْ لَمْ يَجِدْ، فَبِنِصْفِ دِينَارٍ»
رقم طبعة با وزير = (2777)




সামুরা বিন জুনদুব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যার জুমু‘আহ ছুটে যায়, সে যেন এক দীনার (৪.২৫ গ্রাম স্বর্ণ) সাদাকা করে। যদি সে তার সামর্থ না রাখে, তবে সে যেন অর্ধ দীনার সাদাকাহ করে।”[1]



[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৩/১৭৭; মুসনাদ আহমাদ: ৫/১৪; আবূ দাঊদ: ১০৫৩; নাসাঈ: ৩/৮৯। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। (যঈফ আবূ দাঊদ: ১৯৫-১৯৮)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف - «ضعيف أبي داود» (195 - 198).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده ضعيف









সহীহ ইবনু হিব্বান (2789)


2789 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ بْنِ عُبَيْدٍ، أَخْبَرَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ قُدَامَةَ بْنِ وَبَرَةَ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ تَرَكَ الْجُمُعَةَ مِنْ غَيْرِ عُذْرٍ، فَلْيَتَصَدَّقْ بِدِينَارٍ، فَإِنْ لَمْ يَجِدْ، فَبِنِصْفِ دِينَارٍ»
رقم طبعة با وزير = (2778)




সামুরা বিন জুনদুব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি ওজর ছাড়া জুমু‘আহ ত্যাগ করবে, সে যেন এক দীনার (৪.২৫ গ্রাম স্বর্ণ) সাদাকা করে। যদি সে তার সামর্থ না রাখে, তবে সে যেন অর্ধ দীনার সাদাকাহ করে।”[1]



[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৩/১৭৭; মুসনাদ আহমাদ: ৫/১৪; আবূ দাঊদ: ১০৫৩; নাসাঈ: ৩/৮৯। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। (যঈফ আবূ দাঊদ: ১৯৫-১৯৮)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف - انظر ما قبله.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده ضعيف









সহীহ ইবনু হিব্বান (2790)


2790 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: سَمِعْتُ مُعَاوِيَةَ بْنَ صَالِحٍ، عَنْ أَبِي الزَّاهِرِيَّةِ، [ص:30] عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُسْرٍ، قَالَ: كُنْتُ جَالِسًا إِلَى جَنْبِ الْمِنْبَرِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ، فَجَاءَ رَجُلٌ يَتَخَطَّى رِقَابَ النَّاسِ، وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْطُبُ النَّاسَ، فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اجْلِسْ فَقَدْ آذَيْتَ وَآنَيْتَ»
رقم طبعة با وزير = (2779)




আব্দুল্লাহ বিন বুসর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি জুমু‘আর দিন মিম্বারের পাশে বসে ছিলাম। এমন সময় এক ব্যক্তি মানুষের ঘাড় ডিঙ্গিয়ে সামনে আসছিল আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লোকদের উদ্দেশ্যে খুতবা দিচ্ছিলেন, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “বসে পড়। নিশ্চয়ই তুমি (মানুষকে) কষ্ট দিয়েছে এবং দেরিতে এসেছো।”[1]



[1] নাসাঈ: ৩/১০৩; মুসনাদ আহমাদ: ৪/১৯০; আবূ দাঊদ: ১১১৮; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৮১১; হাকিম: ১/২৮৮; ইবনু মাজাহ: ১১১৫। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১০২৫)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1025).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (2791)


2791 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، حَدَّثَنَا سُرَيْجُ بْنُ يُونُسٍ، حَدَّثَنَا [ص:31] عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبْجَرَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ وَاصِلِ بْنِ حَيَّانَ، قَالَ: قَالَ أَبُو وَائِلٍ، خَطَبَنَا عَمَّارُ بْنُ يَاسِرٍ، فَأَوْجَزَ وَأَبْلَغَ، فَلَمَّا نَزَلَ قُلْنَا: يَا أَبَا الْيَقْظَانِ، لَقَدْ أَبَلَغْتَ وَأَوْجَزْتَ، فَلَوْ كُنْتَ تَنَفَّسْتَ، فَقَالَ: إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّ طُولَ صَلَاةِ الرَّجُلِ وَقِصَرَ خُطْبَتِهِ مَئِنَّةٌ مِنْ فِقْهِ الرَّجُلِ، فَأَطِيلُوا الصَّلَاةَ، وَاقْصُرُوا الْخُطْبَةَ، وَإِنَّ مِنَ الْبَيَانِ سِحْرًا»
رقم طبعة با وزير = (2780)




আবূ ওয়াইল রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আম্মার বিন ইয়াসার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আমাদের উদ্দেশ্যে খুতবা দেন। তিনি খুতবাকে অলঙ্কারপূর্ণ ও সংক্ষিপ্ত করেন। অতঃপর যখন তিনি মিম্বার থেকে অবতরণ করেন, তখন আমরা তাঁকে বললাম, “হে আবুল ইয়াকযোন, নিশ্চয়ই আপনি খুতবাকে অলঙ্কারপূর্ণ ও সংক্ষিপ্ত করেছেন। যদি আপনি দীর্ঘ খুতবা দিতেন (তবে সেটা কতইনা ভালো হতো)।” জবাবে তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, “নিশ্চয় সালাতকে দীর্ঘ করা আর খুতবাকে সংক্ষেপ করা ব্যক্তির বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক। কাজেই তোমরা সালাতকে দীর্ঘ করবে আর খুতবাকে সংক্ষেপ করবে। আর নিশ্চয়ই কিছু বক্তব্যের মাঝে যাদু আছে।”[1]



[1] মুসনাদ আবী ইয়ালা: ১৬৪২; সহীহ মুসলিম: ৮৬৯; মুসনাদ আহমাদ: ৪/২৬৩; দারেমী: ১/৩৬৫; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৭৮২; আবূ দাঊদ: ১১০৬; হাকিম: ১/২৮৯। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (ইরওয়াউল গালীল: ৬১৮)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الإرواء» (618): م.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم