সহীহ ইবনু হিব্বান
2821 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْجُنَيْدِ، قَالَ: حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنِ ابْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْتَشِرِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ سَالِمٍ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقْرَأُ فِي الْعِيدَيْنِ: بِ سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى، وَهَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ الْغَاشِيَةِ
رقم طبعة با وزير = (2810)
নু‘মান বিন বাশীর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই ঈদে সূরা আ‘লা ও সূরা গাশিয়াহ পড়তেন।”[1]
[1] সহীহ মুসলিম: ৮৭৮; তিরমিযী: ৫৩৩; আবূ দাঊদ: ১১২২; নাসাঈ: ৩/১৮৪; বাগাবী: ১০৯১; মুসনাদ আহমাদ: ৪/২৭১; ইবনু মাজাহ: ১২৮১; দারেমী: ১/৩৬৮; ইবনুল জারূদ, আল মুনতাকা: ২৬৫; মুসান্নাফ ইবনু ্আবী শায়বাহ: ২/১৭৬; আত তায়ালিসী: ২০৪৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১০২৭)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1027): م.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي على شرط مسلم
2822 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْتَشِرِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ سَالِمٍ، مَوْلَى النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، «يَقْرَأُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فِي الْجُمُعَةِ بِ سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكِ الْأَعْلَى، وَهَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ الْغَاشِيَةِ، فَإِذَا اجْتَمَعَ الْعِيدُ وَالْجُمُعَةُ فِي يَوْمٍ وَاحِدٍ، قَرَأَ [ص:63] بِهِمَا جَمِيعًا فِي الْجُمُعَةِ وَالْعِيدِ»
رقم طبعة با وزير = (2811)
‘নুমান বিন বাশীর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমু‘আর দিন জুমু‘আর সালাতে সূরা আ‘লা ও সূরা গাশিয়াহ পড়তেন। অতঃপর যখন একই দিন ঈদ ও জুমু‘আহ হতো, তখন জুমু‘আহ ও ঈদ উভয় সালাতে তিনি এই দুই সূরা পাঠ করতেন।”[1]
[1] সহীহ মুসলিম: ৮৭৮; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ২/২৪১-২৪২। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সিফাতুস সালাত)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صفة الصلاة»: م.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي
2823 - أَخْبَرَنَا أَبُو خَلِيفَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَابِسٍ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ، وَقِيلَ لَهُ: أَشَهِدْتَ الْخُرُوجَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ الْعِيدِ؟ قَالَ: «نَعَمْ، وَلَوْلَا مَكَانِي مِنْهُ مَا شَهِدْتُهُ مَعَهُ مِنَ الصِّغَرِ، خَرَجَ حَتَّى أَتَى الْعِلْمَ الَّذِي عِنْدَ دَارِ كَثِيرِ بْنِ الصَّلْتِ، فَصَلَّى، ثُمَّ خَطَبَ، ثُمَّ أَتَى النِّسَاءَ وَمَعَهُ بِلَالٌ، فَوَعَظَهُنَّ، وَذَكَّرَهُنَّ، وَأَمَرَهُنَّ بِالصَّدَقَةِ، فَرَأَيْتُهُنَّ يَرْمِيَنَّ بِأَيْدِيهِنَّ، وَيَقْذِفْنَهُ فِي ثَوْبِ بِلَالٍ، ثُمَّ انْطَلَقَ هُوَ وَبِلَالٌ إِلَى بَيْتِهِ»
رقم طبعة با وزير = (2812)
আব্দুর রহমান বিন আবিস রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমাকে বলতে শুনেছি –তাকে বলা হয়েছিল- “আপনি কি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ঈদের দিন ঈদগাহের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন?” জবাবে তিনি বলেন, “হ্যাঁ। যদি তাঁর কাছে আমার ভালো অবস্থান না থাকতো, তবে বয়সে নবীন হওয়ার কারণে তাঁর সাথে উপস্থিত হতে পারতাম না। তিনি বের হন এবং কাসীর বিন সালতের বাড়ির কাছে যে চিহ্ন রয়েছে, সেখানে আসেন। তারপর তিনি সালাত আদায় করেন। তারপর তিনি ভাষন দেন। তারপর তিনি বিলাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে সাথে নিয়ে নারীদের কাছে আসেন। তাদেরকে ওয়াজ-নসীহত করেন এবং তাদেরকে সাদাকাহ করার নির্দেশ দেন। তারপর আমি দেখেছি নারীরা হাত দিয়ে (গহনা) খুলে তা বিলাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর কাপড়ে রাখছেন। তারপর তিনি ও বিলাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বাড়িতে চলে আসেন।”[1]
[1] সহীহুল বুখারী: ৯৭৭; নাসাঈ: ৩/১৯২-১৯৩; মুসনাদ আহমাদ: ১/৩৬৮; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ২/১৭০; আবূ দাঊদ: ১১৪৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১০৪০)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «حجاب المرأة» (31/ 6)، «صحيح أبي داود» (1040): خ.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط البخاري
2824 - أَخْبَرَنَا أَبُو خَلِيفَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ، وَابْنُ كَثِيرٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ أَيُّوبَ، قَالَ: سَمِعْتُ عَطَاءً، يُحَدِّثُ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: أَشْهَدُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - أَوْ قَالَ عَطَاءٌ، أَشْهَدُ عَلَى ابْنِ عَبَّاسٍ -، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «خَرَجَ يَوْمَ فِطْرٍ فِي أَصْحَابِهِ، فَصَلَّى، ثُمَّ خَطَبَ، ثُمَّ أَتَى النِّسَاءَ فَأَمَرَهُنَّ بِالصَّدَقَةِ، فَجَعَلْنَ يُلْقِينَ»
رقم طبعة با وزير = (2813)
আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরের দিন সাহাবীদের নিয়ে বের হন। তারপর তিনি সালাত আদায় করেন। অতঃপর খুতবা দেন। তারপর নারীদের কাছে আসেন এবং তাদেরকে সাদাকাহ করার নির্দেশ দেন। অতঃপর নারীরা (তাদের গহনা) সাদাকাহ করতে শুরু করে।”[1]
[1] আবূ দাঊদ: ১১৪২; মুসনাদ আহমাদ: ১/২৮৬; সহীহ মুসলিম: ৮৮৪; নাসাঈ: ৩/১৮৪; বাগাবী: ১১০২; ইবনু মাজাহ: ১২৭৩; সহীহুল বুখারী: ১৪৪৯। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১০৩৬)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1036): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناد صحيح على شرط الشيخين
2825 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ قَيْسٍ، عَنْ عِيَاضِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، «خَطَبَ يَوْمَ الْعِيدِ عَلَى رجليه*»
رقم طبعة با وزير = (2814)
আবূ সা‘ঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিন দুই পায়ের উপর (দাঁড়িয়ে) খুতবা দিয়েছেন।”[1]
[1] মুসনাদ আবী ইয়ালা: ১১৮২; হাইসামী, মাজমা‘উয যাওয়াইদ: ২/২০৫; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৪৪৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ২৯৬৮)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (2968). * [رجليه] قال الشيخ: الأصل «راحلته»، والتصويب من «المسند» وغيره، وانظر المصدر المذكور أعلاه ‘ إذا شئت التفصيل.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم
2826 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ أَبِي شَيْخٍ، بِكَفْرِ تَوثَا مِنْ دِيَارِ [ص:66] رَبِيعَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَيْمُونُ بْنُ الْأُصْبَعِ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ مَسْعَدَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، «كَانَ يُصَلِّي الْفِطْرَ وَالْأَضْحَى، ثُمَّ يَخْطُبُ»
رقم طبعة با وزير = (2815)
আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার সালাত আদায় করতেন, তারপর তিনি খুতবা দিতেন।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/৯২; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৪৪৩; সহীহুল বুখারী: ৯৫৭; সহীহ মুসলিম: ৮৮৮; তিরমিযী: ৫৩১; নাসাঈ: ৩/১৮৩; ইবনু মাজাহ: ১২৭৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ২৮১৫)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: خ.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي
2827 - أَخْبَرَنَا أَبُو خَلِيفَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا زَائِدَةُ بْنُ قُدَامَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ عِلَاقَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ الْمُغِيرَةَ بْنَ شُعْبَةَ، يَقُولُ: انْكَسَفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَوْمَ مَاتَ إِبْرَاهِيمُ، فَقَالَ النَّاسُ: إِنَّمَا انْكَسَفَتْ لِمَوْتِ إِبْرَاهِيمَ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ، لَا يَنْكَسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ، وَلَا لِحَيَاتِهِ، فَإِذَا رَأَيْتُمُوهَا فَادْعُوا وَصَلُّوا، حَتَّى تَنْجَلِيَ»
رقم طبعة با وزير = (2816)
মুগীরা বিন শু‘বাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ছেলে ইবরাহিম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু যেদিন মারা যান, সেদিন সূর্য গ্রহণ লাগে। তখন লোকজন বলতে লাগে, “ইবরাহিম মারা যাওয়ার কারণে সূর্য গ্রহণ লেগেছে।” একথা শ্রবণ করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “নিশ্চয়ই চন্দ্র ও সূর্য আল্লাহর দুটি নিদর্শন; এরা কারো বেঁচে থাকা কিংবা মৃত্যুবরণ করার কারণে গ্রহণ লাগে না। কাজেই যখন তোমরা এমনটা দেখতে পাবে, গ্রহণ না ছাড়া পর্যন্ত তোমরা দু‘আ করবে এবং সালাত আদায় করবে।”[1]
[1] সহীহুল বুখারী: ১০৬০; তাবারানী: ২০/১০১৪; মুসনাদ আহমাদ: ৪/২৪৯; সহীহ মুসলিম: ৯১৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (তাখরীজু ফিকহিস সীরাহ: ৪৫০)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «تخريج فقه السيرة» (450)، «جزء صلاة الكسوف»: ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناد صحيح على شرط الشيخين
2828 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلْمٍ، حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ الْقَاسِمِ، حَدَّثَهُ عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ كَانَ يُخْبِرُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ لَا يَخْسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ وَلَا لِحَيَاتِهِ، وَلَكِنَّهُمَا آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ، فَإِذَا رَأَيْتُمُوهُمَا فَصَلُّوا».
رقم طبعة با وزير = (2817) [ص:69] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: «الْأَمْرُ بِالصَّلَاةِ عِنْدَ كُسُوفِ الشَّمْسِ وَالْقَمَرِ، أُرِيدَ بِهِ أَحَدُهُمَا، لِأَنَّهُمَا لَا يَنْكَسِفَانِ لِوَقْتٍ وَاحِدٍ»
আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয়ই চন্দ্র ও সূর্য কারো বেঁচে থাকা কিংবা মৃত্যুবরণ করার কারণে গ্রহণ লাগে না। বস্তুত এ'দুটি আল্লাহর নিদর্শনসমূহ হতে দুটি নিদর্শন। কাজেই যখন তোমরা এমনটা দেখতে পাবে, তখন তোমরা সালাত আদায় করবে।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “চন্দ্র ও সূর্য গ্রহণের সময় সালাত আদায় করার নির্দেশ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো একটির গ্রহণ; উভয়টির গ্রহণ নয়। কেননা একই সময়ে উভয়টি গ্রহণ লাগে না।”
[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/১০৯; সহীহুল বুখারী: ১০৪২; সহীহ মুসলিম: ৯১৪; নাসাঈ: ৩/১২৫-১২৬; তাবারানী: ১২/১৩০৯৫; দারাকুতনী: ২/৬৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (জুযউল কুসূফ)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «جزء الكسوف»: ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم
2829 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ *، حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: انْكَسَفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَامَ وَقُمْنَا مَعَهُ، ثُمَّ قَالَ: «أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ، فَإِذَا انْكَسَفَ أَحَدُهُمَا، فَافْزَعُوا إِلَى الْمَسَاجِدِ».
رقم طبعة با وزير = (2818) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: «أَمَرَ فِي هَذَا الْخَبَرِ بِالصَّلَاةِ عِنْدَ كُسُوفِ الشَّمْسِ وَالْقَمَرِ، وَهُوَ الْمَقْصُودُ، فَأَطْلَقَ هَذَا الْمَقْصُودَ عَلَى سَبَبِهِ وَهُوَ الْمَسَاجِدُ، لِأَنَّ الصَّلَاةَ تَتَّصِلُ فِيهَا لَا أَنَّ [ص:70] الْمَسَاجِدَ يُسْتَغْنَى بِحُضُورِهَا عِنْدَ كُسُوفِ الشَّمْسِ أَوِ الْقَمَرِ دُونَ الصَّلَاةِ»
আব্দুল্লাহ বিন আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময় সূর্য গ্রহণ লাগে, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ান আর আমরাও তাঁর সাথে দাঁড়াই। তারপর তিনি বলেন, “হে লোকসকল, নিশ্চয়ই চন্দ্র ও সূর্য আল্লাহর নিদর্শনসমূহ হতে দুটি নিদর্শন। কাজেই যখন এর কোন একটি গ্রহণ লাগবে, তখন ভীত-সন্ত্রস্ত্র হয়ে মাসজিদে যাবে।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই হাদীসে চন্দ্র ও সূর্য গ্রহণের সময় সালাত আদায় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটাই হলো হাদীস দ্বারা উদ্দেশ্য। এই উদ্দেশ্য বুঝাতে এখানে সবব বা উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে। আর সেটি হলো মাসজিদসমূহ। কেননা সালাত এখানেই আদায় করা হয়। এটা উদ্দেশ্য নয় যে, সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণের সময় সালাত আদায় না করে শুধু মাসজিদে উপস্থিত হলেই যথেষ্ট হয়ে যাবে।”
[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/১৫৯; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৩৮৯; নাসাঈ: ৩/১৩৭-১৩৮; হাকিম: ১/৩২৯; আবূ দাঊদ: ১১৯৪। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ লিগাইরিহী বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১০৬৮)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح لغيره - وهو مختصر الآتي (2827). * [أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ] قال الشيخ: هو صاحب «المُصنَّف»، وقد أخرجه فيه (2/ 467) ... بهذا الإسناد. وتابعه أحمد (2/ 159)؛ وهو صحيح لولا أنَّ عطاء بن السائب كان اختلط. لكن قد رواه شعبة - عنه - عند أحمد (2/ 188)، وهو أَتَمُّ. تنبيه!! رقم (2827) = (2838) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: رجاله ثقات إلا أن عطاء بن السائب قد اختلط وابن فضيل وهو محمد سمع منه بعد الاختلاط
2830 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ أَخْزَمَ، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «صَلَاةُ الْآيَاتِ سِتُّ رَكَعَاتٍ، وَأَرْبَعُ سَجَدَاتٍ».
رقم طبعة با وزير = (2819) [ص:71] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: «يُرِيدُ بِهِ أَنَّ صَلَاةَ الْآيَاتِ يَجِبُ أَنْ تُصَلَّى رَكْعَتَيْنِ، فِي كُلِّ رَكْعَةٍ ثَلَاثُ رُكُوعَاتٍ، وَسَجْدَتَانِ»، وَتَفْسِيرُهُ فِي خَبَرِ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ، عَنْ عَطَاءٍ عَنْ جَابِرٍ
আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “নিদর্শনের সালাত (চন্দ্র বা সূর্য গ্রহণের সালাত) ছয় রুকু ও চার সাজদা (বিশিষ্ট)।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই হাদীস দ্বারা উদ্দেশ্য হলো নিদর্শনের সালাতের ক্ষেত্রে ওয়াজিব হলো দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করা, যেখানে প্রত্যেক রাকা‘আতে তিনটি করে রুকূ‘ ও দুইটি করে সাজদা থাকবে। এর ব্যাখ্যা জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে আতা রহিমাহুল্লাহ সূত্রে আব্দুল মালিক বিন আবী সুলাইমান কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে রয়েছে।”
[1] সহীহ মুসলিম: ৯০২; নাসাঈ: ৩/১৩০; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৩৮২; নাসাঈ আল কুবরার বরাতে আত তুহফাহ: ১১/৪৮৬; নাসাঈ: ৩/১২৯-১৩০। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে শায বলেছেন। মাহফূয বা সঠিক হলো চার রুকূ‘ ও চার সাজদার বর্ণনা। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১০৬৮)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: شاذ، والمحفوظ: اربع ركعات، وأربع سجدات؛ كما يأتي (2831 و 2834 و 2839) - «صحيح أبي داود» (1068 و 1071)، «جزء الكسوف»، «الإرواء» (658). تنبيه!! رقم (2831) = (2842) من «طبعة المؤسسة». رقم (2834) = (2845) من «طبعة المؤسسة». رقم (2839) = (2850) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط البخاري
2831 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُعَافَى الْعَابِدُ بِصَيدَا، وَأَحْمَدُ بْنُ عُمَيْرِ بْنِ جَوْصَا، بِدِمَشْقَ، قَالَا: حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ الْقُرَشِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي كَثِيرُ بْنُ عَبَّاسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، «صَلَّى يَوْمَ كَسَفَتِ الشَّمْسُ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ فِي رَكْعَتَيْنِ، وَأَرْبَعَ سَجَدَاتٍ»
رقم طبعة با وزير = (2820)
আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময় একদিন সূর্য গ্রহণ লাগলে তিনি চার রুকূ‘ ও চার সাজদার মাধ্যমে দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করেন।”[1]
[1] সহীহ মুসলিম: ৯০১; নাসাঈ: ৩/১২৯; সহীহুল বুখারী: ১০৪৬; তাবারানী: ১০/১০৬৪৫; দারাকুতনী: ২/৬৩; মুসনাদ আহমাদ: ১/২১৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১০৭২)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1072): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: رجاله رجال الشيخين غير عمرو بن عثمان القرشي فهو صدوق
2832 - أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِدْرِيسَ الْأَنْصَارِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءَ بْنِ يَسَارٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ، قَالَ: خَسَفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَالنَّاسُ مَعَهُ، فَقَامَ قِيَامًا طَوِيلًا نَحْوًا مِنْ سُورَةِ الْبَقَرَةِ، ثُمَّ رَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلًا، ثُمَّ رَفَعَ، فَقَامَ قِيَامًا طَوِيلًا، وَهُوَ دُونَ الْقِيَامِ الْأَوْلِ، ثُمَّ رَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلًا، وَهُوَ دُونَ الرُّكُوعِ الْأَوْلِ، ثُمَّ سَجَدَ، ثُمَّ قَامَ قِيَامًا طَوِيلًا، دُونَ الْقِيَامِ الْأَوْلِ، ثُمَّ رَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلًا وَهُوَ دُونَ الرُّكُوعِ الْأَوْلِ، ثُمَّ رَفَعَ، فَقَامَ قِيَامًا طَوِيلًا، وَهُوَ دُونَ الْقِيَامِ الْأَوْلِ، ثُمَّ رَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلًا، وَهُوَ دُونَ الرُّكُوعِ الْأَوْلِ، ثُمَّ سَجَدَ، ثُمَّ انْصَرَفَ وَقَدْ تَجَلَّتِ الشَّمْسُ، فَقَالَ: «إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ، لَا يَخْسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ، وَلَا لِحَيَاتِهِ، فَإِذَا رَأَيْتُمْ ذَلِكَ، فَاذْكُرُوا [ص:73] اللَّهَ» فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ رَأَيْنَاكَ تَنَاوَلْتَ شَيْئًا فِي مَقَامِكَ هَذَا، ثُمَّ رَأَيْنَاكَ تَكَعْكَعْتَ، قَالَ: «إِنِّي رَأَيْتُ الْجَنَّةَ - أَوْ أُرِيتُ الْجَنَّةَ -، فَتَنَاوَلْتُ مِنْهَا عُنْقُودًا، وَلَوْ أَخَذْتُهُ لَأَكَلْتُمْ مِنْهُ مَا بَقِيَتِ الدُّنْيَا، وَرَأَيْتُ النَّارَ، فَلَمْ أَرَ كَالْيَوْمِ مَنْظَرًا قَطُّ، وَرَأَيْتُ أَكْثَرَ أَهْلِهَا النِّسَاءَ» قَالُوا: بِمَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «بِكُفْرِهِنَّ» قِيلَ: يَكْفُرْنَ بِاللَّهِ؟ قَالَ: «يَكْفُرْنَ الْعَشِيرَ، وَيَكْفُرْنَ الْإِحْسَانَ، لَوْ أَحْسَنْتَ إِلَى إِحْدَاهُنَّ الدَّهْرَ، ثُمَّ رَأَتْ مِنْكَ شَيْئًا قَالَتْ: وَاللَّهِ مَا رَأَيْتُ مِنْكَ خَيْرًا قَطُّ».
رقم طبعة با وزير = (2821) [ص:74] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: أَنْوَاعُ صَلَاةِ الْكُسُوفِ سَنَذْكُرُهَا فِيمَا بَعْدُ بِالتَّفْصِيلِ فِي الْقِسْمِ الْخَامِسِ فِي نَوْعِ الْأَفْعَالِ الَّتِي هِيَ مِنِ اخْتِلَافِ الْمُبَاحِ إِنَّ شَاءَ اللَّهُ ذَلِكَ وَيَسَّرَهُ «
আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময় সূর্য গ্রহণ লাগে। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করেন। অতঃপর তিনি সূরা বাকারার ন্যায় দীর্ঘ কিয়াম করেন। তারপর তিনি দীর্ঘ রুকূ‘ করেন। তারপর তিনি রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করেন। তারপর দীর্ঘ কিয়াম করেন। তবে সেটা প্রথম কিয়াম অপেক্ষা কম। তারপর তিনি দীর্ঘ রুকূ‘ করেন, তবে সেটা প্রথম রুকূ‘ অপেক্ষা কম। তারপর তিনি সাজদা করেন। তারপর তিনি দীর্ঘ কিয়াম করেন, তবে সেটা প্রথম কিয়াম অপেক্ষা কম। তারপর দীর্ঘ রুকূ‘ করেন, তবে সেটা প্রথম রুকূ‘ অপেক্ষা কম। তারপর রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করেন। অতঃপর দীর্ঘ কিয়াম করেন, তবে সেটা প্রথম কিয়াম অপেক্ষা কম। তারপর দীর্ঘ রুকূ‘ করেন, তবে সেটা প্রথম রুকূ‘ অপেক্ষা কম। তারপর সাজদা করেন। তারপর সালাত শেষ করেন এমন অবস্থায় যে সূর্য পরিস্ফুট হয়ে গেছে। তখন তিনি বলেন, নিশ্চয়ই সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শনসমূহ হতে দুটি নিদর্শন, এগুলি কারো জীবিত থাকা বা মৃত্যুবরণ করার কারণে গ্রহণ লাগে না। কাজেই যেখন তোমরা আল্লাহর যিকির করো।” সাহাবীগণ বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আমরা আপনাকে দেখেছি যে, আপনি আপনার এই জায়গা থেকে কিছু গ্রহণ করছেন তারপর আমরা দেখি যে, আপনি পিছু সরে আসছেন!” জবাবে তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই আমি জান্নাত দেখেছি। -অথবা (রাবীর সন্দেহ তিনি বলেছেন) আমাকে জান্নাত দেখানো হয়েছে- অতঃপর আমি সেখান থেকে একটি থোকা (ফল) নিতে চাই। যদি আমি তা গ্রহণ করতাম, তবে দুনিয়া যতদিন বাকী থাকতো, ততদিন তোমরা তা খেতে পারতে। আর আমি জাহান্নামের আগুন দেখেছি। আমি আজকের মতো দৃশ্য আর কখনই দেখিনি। আমি দেখেছি জাহান্নামের অধিকাংশ অধিবাসী নারী!” সাহাবীগণ আরজ করলেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, এর কারণ কী?” তিনি জবাবে বলেন, “তাদের কুফরীর কারণে।” তাঁকে বলা হলো, “তারা কি আল্লাহর সাথে কুফরী করে?” তিনি বলেন, “তারা স্বামীর নাফরমানী করে। তারা অনুগ্রহের অকৃতজ্ঞতা করে। যদি তাদের কারো প্রতি যুগ যুগ ধরে উত্তম আচরণ করো। অতঃপর সে যদি তোমার মাঝে (মন্দ) কিছু দেখতে পায়, তবে বলবে, “আমি তোমার মাঝে কখনই কোন ভালো কিছু দেখিনি!”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “সূর্য গ্রহণের সালাতের বিভিন্ন ধরণ আমরা পরিবর্তীতে বিস্তারিত পঞ্চম ভাগে আলোচনা করবো সেসব কর্মের আলোচনায় যেসব কর্ম বৈধ মতভেদ থেকে উদ্ভুত, যদি আল্লাহ চান এবং সহজ করে দেন।”
[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/১৮৬-১৮৭; মুসনাদ আহমাদ: ১/১৯৮; সহীহুল বুখারী: ১০৫২; সহীহ মুসলিম: ৯০৭; নাসাঈ: ৩/১৪৬-১৪৮; বাগাবী: ১১৪০; আবূ দাঊদ: ১১৮৯; দারেমী: ১/৩৬০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১০৭৫)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «جزء الكسوف»، «صحيح أبي داود» (1075): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناد صحيح على شرط الشيخين
2833 - أَخْبَرَنَا بَكْرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ سَعِيدٍ الْعَابِدُ، حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ نَصْرٍ، قَالَ: خَبَّرَنَا نُوحُ بْنُ قَيْسٍ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ عُبَيْدٍ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، قَالَ: انْكَسَفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ لَا يَنْكَسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ، وَلَا لِحَيَاتِهِ، فَإِذَا رَأَيْتُمْ شَيْئًا مِنْ ذَلِكَ فَصَلُّوا، حَتَّى تَنْجَلِيَ، أَوْ يُحَدِّثَ اللَّهُ أَمْرًا»
رقم طبعة با وزير = (2822)
আবূ বাকরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সূর্য গ্রহণ লাগে। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “নিশ্চয়ই সূর্য ও চন্দ্র কারো বেঁচে থাকা ও মৃত্যুবরণ করার কারণে গ্রহণ লাগে না। কাজেই যখন তোমরা এরকম কিছু দেখবে, তখন আল্লাহ কর্তৃক কোন কিছু ঘটানো অথবা গ্রহণ শেষে চন্দ্র বা সূর্য সুস্পষ্টভাবে প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় করবে।”[1]
[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/১৮৬-১৮৭; মুসনাদ আহমাদ: ১/১৯৮; সহীহুল বুখারী: ১০৫২; সহীহ মুসলিম: ৯০৭; নাসাঈ: ৩/১৪৬-১৪৮; বাগাবী: ১১৪০; আবূ দাঊদ: ১১৮৯; দারেমী: ১/৩৬০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১০৭৫)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «جزء صلاة الكسوف»: خ.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم
2834 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا هُدْبَةُ بْنُ خَالِدٍ الْقَيْسِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُبَارَكُ بْنُ فَضَالَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، قَالَ: كُنَّا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، جُلُوسًا فَانْكَسَفَتِ الشَّمْسُ، فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَزِعًا يَجُرُّ ثَوْبَهُ حَتَّى دَخَلَ الْمَسْجِدِ، فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ، فَلَمْ يَزَلْ يُصَلِّيهَا، حَتَّى انْجَلَتْ، وَكَانَ ذَلِكَ عِنْدَ مَوْتِ إِبْرَاهِيمَ ابْنِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ النَّاسُ: إِنَّمَا انْكَسَفَتِ الشَّمْسُ لِمَوْتِ إِبْرَاهِيمَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ، [ص:76] لَا يَنْكَسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ، فَإِذَا رَأَيْتُمْ ذَلِكَ، فَادْعُوا حَتَّى يَكْشِفَ مَا بِكُمْ».
رقم طبعة با وزير = (2823) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: «قَوْلُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَادْعُوا: أَرَادَ بِهِ فَصَلُّوا، إِذِ الْعَرَبُ تُسَمِّي الصَّلَاةَ دُعَاءً»
আবূ বাকরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বসে ছিলাম। অতঃপর সূর্য গ্রহণ লাগে। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভীত-সন্ত্রস্ত্র অবস্থায় নিজের কাপড় টানতে টানতে দাঁড়ান অতঃপর মাসজিদে প্রবেশ করেন এবং দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করেন। তারপর তিনি সূর্য গ্রহণ ছেড়ে স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত সালাত অব্যাহত রাখেন। এটা ছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ছেলে ইবরাহিম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু মৃত্যুবরণ করার দিন। ফলে লোকজন বলতে থাকে, “নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ছেলে ইবরাহিম মৃত্যুবরণ করার কারণে সূর্য গ্রহণ লেগেছে।” তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “নিশ্চয়ই সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দুটি নিদর্শন। এগুলো কারো মৃত্যুবরণ করার কারণে গ্রহণ লাগে না। কাজেই যখন তোমরা এরকম কিছু দেখবে, তখন তোমরা তোমাদের কাছে যা আরোপিত হয়েছে, তা উন্মোচিত না হওয়া পর্যন্ত দু‘আ করবে।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বক্তব্য “তোমরা দু‘আ করো” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তোমরা সালাত আদায় করো। কারণ আরবরা সালাতকে দু‘আ হিসেবে অভিহিত করে থাকে।”
[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/১৮৬-১৮৭; মুসনাদ আহমাদ: ১/১৯৮; সহীহুল বুখারী: ১০৫২; সহীহ মুসলিম: ৯০৭; নাসাঈ: ৩/১৪৬-১৪৮; বাগাবী: ১১৪০; আবূ দাঊদ: ১১৮৯; দারেমী: ১/৩৬০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১০৭৫)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر ما قبله.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: رجاله ثقات إلا أن مبارك بن فضالة مدلس وقد عنعن
2835 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ يُونُسَ بْنِ عُبَيْدٍ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، قَالَ: كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَكَسَفَتِ الشَّمْسُ، فَقَامَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، عَجْلَانًا إِلَى الْمَسْجِدِ فَجَرَ إِزَارَهُ - أَوْ ثَوْبَهُ - وَثَّابَ إِلَيْهِ نَاسٌ، فَصَلَّى بِهِمْ رَكْعَتَيْنِ نَحْوَ مَا تُصَلُّونَ، ثُمَّ جُلِّيَ عَنْهَا، فَأَقْبَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَثَّابَ إِلَيْهِ النَّاسُ، فَقَالَ: «إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ يُخَوِّفُ بِهِمَا عِبَادَهُ، وَإِنَّهُمَا لَا يَنْكَسِفَانِ [ص:77] لِمَوْتِ أَحَدٍ مِنَ النَّاسِ، وَكَانَ ابْنُهُ تُوُفِّيَ، فَإِذَا رَأَيْتُمْ مِنْهَا شَيْئًا، فَصَلُّوا حَتَّى يَكْشِفَ مَا بِكُمْ».
رقم طبعة با وزير = (2824) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «قَوْلُ أَبِي بَكْرَةَ: فَصَلَّى بِهِمْ رَكْعَتَيْنِ نَحْوَ مَا تُصَلُّونَ، أَرَادَ بِهِ تُصَلُّونَ صَلَاةَ الْكُسُوفِ رَكْعَتَيْنِ فِي أَرْبَعِ رَكَعَاتٍ، وَأَرْبَعِ سَجَدَاتٍ عَلَى حَسَبِ مَا تَقَدَّمَ ذِكْرُنَا لَهُ»
আবূ বাকরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ছিলাম। এমন সময় সূর্য গ্রহণ লাগে। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তরাপ্রবণ হয়ে মাসজিদে যাওয়ার উদ্দেশ্যে উঠে দাঁড়ান। তিনি নিজের লুঙ্গি –অথবা তার জামা- টানতে ছিলেন। লোকজনও তাঁর কাছে দ্রুত চলে আসেন। অতঃপর দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করেন, যেভাবে তোমরা সালাত আদায় করে থাকো। তারপর সূর্য গ্রহণ কেটে যায়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের মুখোমুখি হন আর লোকজনও তাঁর কাছে দ্রুত চলে আসেন। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “নিশ্চয়ই সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দুটি নিদর্শন। আল্লাহ তা‘আলা এই দুটির মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের ভয় দেখান। এদুটি কারা মৃত্যুবরণ করার কারণে গ্রহণ লাগে না। (এদিন তাঁর ছেলে মারা গিয়েছিলেন।) কাজেই যখন তোমরা এরকম কিছু দেখবে, তখন তোমরা তোমাদের কাছে যা আরোপিত হয়েছে, তা উন্মোচিত না হওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় করবে।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আবূ বাকরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর বক্তব্য “অতঃপর দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করেন, যেভাবে তোমরা সালাত আদায় করে থাকো” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তোমরা যেমন চার রুকূ‘ ও চার সাজদার মাধ্যমে সূর্য গ্রহণের দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করে থাকো, যেমনটা আমরা পূর্বে আলোচনা করেছি।”
[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/১৮৬-১৮৭; মুসনাদ আহমাদ: ১/১৯৮; সহীহুল বুখারী: ১০৫২; সহীহ মুসলিম: ৯০৭; নাসাঈ: ৩/১৪৬-১৪৮; বাগাবী: ১১৪০; আবূ দাঊদ: ১১৮৯; দারেমী: ১/৩৬০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১০৭৫)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر ما قبله.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما
2836 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا بُرَيْدٌ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ: كَسَفَتِ الشَّمْسُ زَمَنَ [ص:78] رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَامَ فَزِعًا، خَشِينَا أَنْ تَكُونَ السَّاعَةُ، حَتَّى أَتَى الْمَسْجِدَ، فَقَامَ فَصَلَّى بِأَطْوَلِ قِيَامٍ، وَرُكُوعٍ، وَسُجُودٍ مَا رَأَيْتُهُ يَفْعَلُ فِي صَلَاةٍ قَطُّ، ثُمَّ قَالَ: «إِنَّ هَذِهِ الْآيَاتِ الَّتِي يُرْسِلُ اللَّهُ لَا تَكُونُ لِمَوْتِ أَحَدٍ وَلَا لِحَيَاتِهِ، وَلَكِنَّ اللَّهَ يُرْسِلُهَا يُخَوِّفُ بِهَا عِبَادَهُ، فَإِذَا رَأَيْتُمْ مِنْهَا شَيْئًا، فَافْزَعُوا إِلَى ذِكْرِهِ، وَدُعَائِهِ، وَاسْتِغْفَارِهِ»
رقم طبعة با وزير = (2825)
আবূ মূসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়ে সূর্য গ্রহণ লাগে। অতঃপর তিনি ভীত-সন্ত্রস্ত্র হয়ে দাঁড়ান, এমনকি আমরা আশংকা করলাম যে, হয়তো কিয়ামত সংঘটিত হয়ে যাবে। অতঃপর তিনি মাসজিদে আসেন। তারপর তিনি দাঁড়িয়ে এতো দীর্ঘতর কিয়াম, রুকূ‘ ও সাজদার মাধ্যমে সালাত আদায় করেন, এরকম আর কোন সালাতে তাঁকে এরকম করতে দেখিনি। তারপর তিনি বলেন, “এসব নিদর্শনগুলি আল্লাহ পাঠান, যা কারো বেঁচে থাকা অথবা মৃত্যুবরণ করার কারণে হয় না। বরং আল্লাহই তা পাঠান তাঁর বান্দাদেরকে সতর্ক করার জন্য। যখন তোমরা এর কোন কিছু দেখবে, তখন তোমরা দ্রুত যিকর, দু‘আ ও ইস্তিগফারের দিকে ধাবিত হও।”[1]
[1] সহীহুল বুখারী: ১০৫৯; সহীহ মুসলিম: ৯১২; নাসাঈ: ৩/১৫৩-১৫৪; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৩৭১। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (জুযউল কুসূফ)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «جزء الكسوف»: م.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناد صحيح على شرط الشيخين
2837 - أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ التَّاجِرُ الْمَرْوَزِيُّ، بِمَرْوَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْكَرِيمِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ السُّكَّرِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَشْعَثُ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ «صَلَّى فِي كُسُوفِ [ص:79] الشَّمْسِ وَالْقَمَرِ رَكْعَتَيْنِ مِثْلَ صَلَاتِكُمْ».
رقم طبعة با وزير = (2826) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «قَوْلُ أَبِي بَكْرَةَ: » رَكْعَتَيْنِ مِثْلَ صَلَاتِكُمْ «أَرَادَ بِهِ مِثْلَ صَلَاتِكُمْ فِي الْكُسُوفِ»
আবূ বাকরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চন্দ্র ও সূর্য গ্রহণের সালাত তোমাদের সালাতের মতোই দুই রাকা‘আত আদায় করেছেন।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আবূ বাকরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর বক্তব্য “অতঃপর দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করেন, যেভাবে তোমরা সালাত আদায় করে থাকো” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তোমরা যেভাবে সূর্য গ্রহণের দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করে থাকো।”
[1] নাসাঈ: ১/৩৩৪-৩৩৫। হাদীসটির ব্যাপারে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ স্পষ্ট কোন মন্তব্য করেননি। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে চন্দ্রের উল্লেখসহ শায বা দুর্বল বলেছেন। (যঈফ আল মাওয়ারিদ)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: شاذ أو منكر بذكر القمر - «ضعيف الموارد».
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: رجاله ثقات غير عبد الكريم بن عبد الله السكري لم أقف له على ترجمة
2838 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: انْكَسَفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يُصَلِّي حَتَّى لَمْ يَكَدْ أَنْ يَرْكَعَ، ثُمَّ رَكَعَ حَتَّى لَمْ يَكَدْ أَنْ يَرْفَعَ رَأْسَهُ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ، فَجَعَلَ يَتَضَرَّعُ، وَيَبْكِي، وَيَقُولُ: «رَبِّ أَلَمْ تَعِدْنِي أَنْ لَا تُعَذِّبَهُمْ، وَأَنَا فِيهِمْ، أَلَمْ تَعِدْنِي أَنْ لَا تُعَذِّبَهُمْ وَنَحْنُ نَسْتَغْفِرُكَ»، فَلَمَّا صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ انْجَلَتِ الشَّمْسُ، فَقَامَ، فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ، وَقَالَ «إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ، فَإِذَا انْكَسَفَا، فَافْزَعُوا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ» ثُمَّ قَالَ: «لَقَدْ عُرِضَتْ عَلَيَّ الْجَنَّةُ [ص:80] حَتَّى لَوْ شِئْتُ لَتَعَاطَيْتُ قِطْفًا مِنْ قُطُوفِهَا، وَعُرِضَتْ عَلَيَّ النَّارُ، حَتَّى جَعَلْتُ أَتَّقِيهَا حَتَّى خَشِيتُ أَنْ تَغْشَاكُمْ، فَجَعَلْتُ أَقُولُ: أَلَمْ تَعِدْنِي أَنْ لَا تُعَذِّبَهُمْ وَأَنَا فِيهِمْ، رَبِّ أَلَمْ تَعِدْنِي أَنْ لَا تُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرِونَكَ»، قَالَ: «فَرَأَيْتُ فِيهَا الْحَمَيرِيَةَ السَّوْدَاءَ صَاحِبَةَ الْهِرَّةِ كَانَتْ حَبَسَتْهَا، فَلَمْ تُطْعِمْهَا وَلَمْ تَسْقِهَا، وَلَمْ تَتْرُكْهَا تَأْكُلُ مِنْ خَشَاشِ الْأَرْضِ، فَرَأَيْتُهَا كُلَّمَا أَدْبَرَتْ نُهِشَتْ فِي النَّارِ، وَرَأَيْتُ فِيهَا صَاحِبَ بَدَنَتَيْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَخَا دَعْدَعٍ، يُدْفَعُ فِي النَّارِ بِقَضِيبَيْنِ ذِي شُعْبَتَيْنِ، وَرَأَيْتُ صَاحِبَ الْمِحْجَنِ، فَرَأَيْتُهُ فِي النَّارِ عَلَى مِحْجَنِهِ مُتَوَكِّئًا»
رقم طبعة با وزير = (2827)
আব্দুল্লাহ বিন আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়ে সূর্য গ্রহণ হয়। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেন যে যেন তিনি রুকূ‘ই করবেন না। তারপর এতো দীর্ঘক্ষন রুকূ‘ করেন, যেন তিনি রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করবেন না। তারপর মাথা উত্তোলন করেন। অতঃপর তিনি আকুতি-মিনতি ও ক্রন্দন করতে থাকেন এবং বলেন, رَبِّ أَلَمْ تَعِدْنِي أَنْ لَا تُعَذِّبَهُم وَأَنَا فِيهِمْ أَلَمْ تَعِدْنِي أَنْ لَا تُعَذِّبَهُمْ وَنَحْنُ نَسْتَغْفِرُكَ (হে আমার প্রভু, আপনি কি আমাকে প্রতিশ্রুতি দেননি যে, আপনি তাদেরকে শাস্তি দিবেন না এমন অবস্থায় যে আমি তাদের মাঝে বিদ্যমান আছি। আপনি কি আমাকে প্রতিশ্রুতি দেননি যে, আপনি তাদেরকে শাস্তি দিবেন না এমন অবস্থায় যে, আমরা আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি?)।” অতঃপর যখন তিনি সালাত আদায় করেন, তখন সূর্য গ্রহণ কেটে যায়। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণ-কীর্তন করেন এবং বলেন, “নিশ্চয়ই সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর দুটি নিদর্শন। যখন এই দুটি গ্রহণ লাগবে, তখন তোমরা ভীত হয়ে আল্লাহর যিকিরে মনোনিবেশ করবে।” তারপর তিনি বলেন, “অবশ্যই আমার সামনে জান্নাত পেশ করা হয়, এমনকি যদি আমি চাইতাম, তবে তার কোন আহরণ করতে পারতাম এবং আমার কাছে জাহান্নামের আগুন পেশ করা হয়, এমনকি আমি তা থেকে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করি, এমনকি আমার আশংকা হয় যে, এই আগুন তোমাদেরকে পরিবেষ্টন করে ফেলবে! তখন আমি বলতে থাকি, أَلَمْ تَعِدْنِي أَنْ لَا تُعَذِّبَهُمْ وَأَنَا فِيهِمْ رَبِّ أَلَمْ تَعِدْنِي أَنْ لَا تُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرِونَكَ (আপনি কি আমাকে প্রতিশ্রুতি দেননি যে, আপনি তাদেরকে শাস্তি দিবেন না এমন অবস্থায় যে আমি তাদের মাঝে বিদ্যমান আছি। হে আমার প্রভু, আপনি কি আমাকে প্রতিশ্রুতি দেননি যে, আপনি তাদেরকে শাস্তি দিবেন না এমন অবস্থায় যে, তারা আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছে?)।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তারপর আমি সেখানে হিমইয়ারী গোত্রের কৃষ্ণবর্ণের বিড়ালের মালিক সেই মহিলাকে দেখেছি, যে তার বিড়ালকে আটকে রেখেছিল; সে তাকে খেতেও দেয়নি, পান করায়নি আবার সে তাকে ছেড়েও দেয়নি যে, সেটা জমিনের কীট-পতঙ্গ খাবে। আমি তাকে দেখেছি যে, যখনই সে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে, তখনই তাকে জাহান্নামে কামড়ানো হয়।আমি সেখানে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুটি উষ্ট্রীর রাখালকে দেখেছি, যে বানূ দা‘দা‘ গোত্রের লোক ছিল। তাকে দুই কোণ বিশিষ্ট্য দুটি ডাল দ্বারা জাহান্নামে তাড়িয়ে নেওয়া হচ্ছে। আমি লাঠিওয়ালা এক ব্যক্তিকে দেখেছি। আমি দেখেছি যে, তাকে জাহান্নামের আগুনে তার লাঠিতে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি।”[1]
[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৩৮৯; মুসনাদ আহমাদ: ২/১৫৯; নাসাঈ: ৩/১৩৭-১৩৮; হাকিম: ১/৩২৯; আবূ দাঊদ: ১১৯৪। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ লিগাইরিহী বলেছেন। কিন্তু মাহফূয হলো প্রত্যেক রাকা‘আতে দুটি করে রুকূ‘ করা এবং বানূ দা‘দা‘ গোত্রের লোক হলো লাঠিওয়ালা সেই ব্যক্তি। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১০৭৯)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح لغيره - «صحيح أبي داود» (1079)، لكن المحفوظ ركوعان في كل ركعة، وأن (أخا بني دعدع): هو صاحب المحجن. استراك على «طبعة باوزير»!! هناك حاشية بعد جملة «لَقَدْ عُرِضَتْ عَلَيَّ الْجَنَّةُ حَتَّى لَوْ» قال فيها الشيخ: ما بين المعقوفين سقط من مطبوعة «دار الكتب العلمية». لكنهم لم يضعوا المعقوفين؟! - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: صحيح
2839 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُعَافَى الْعَابِدُ، بِصَيدَا، وَمُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ الْفَضْلِ، بِحِمْصَ، وَعُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، بِصُغْدَ، وَأَحْمَدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ يُوسُفَ، بِدِمَشْقَ، قَالُوا: حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي كَثِيرُ بْنُ عَبَّاسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «يَوْمَ كَسَفَتَ الشَّمْسُ صَلَّى أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ فِي رَكْعَتَيْنِ، وَأَرْبَعَ سَجَدَاتٍ»
رقم طبعة با وزير = (2828)
আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “যে দিন সূর্য গ্রহণ হয়, সেদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চার রুকূ‘ ও চার সাজদার মাধ্যমে দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করেন।”[1]
[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/১৮৬-১৮৭; মুসনাদ আহমাদ: ১/১৯৮; সহীহুল বুখারী: ১০৫২; সহীহ মুসলিম: ৯০৭; নাসাঈ: ৩/১৪৬-১৪৮; বাগাবী: ১১৪০; আবূ দাঊদ: ১১৮৯; দারেমী: ১/৩৬০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১০৭২)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1072)، «جزء الكسوف».
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: Null
2840 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلْمٍ، بِبَيْتِ الْمَقْدِسِ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، أَنَّ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَتْهُ، أَنَّ عَائِشَةَ حَدَّثَتْهَا، أَنَّ يَهُودِيَّةً أَتَتْهَا، فَقَالَتْ: أَجَارَكِ اللَّهُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، فَقَالَتْ عَائِشَةُ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ النَّاسَ لَيُفْتَنُونَ فِي الْقَبْرِ؟ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «عَائِذٌ بِاللَّهِ»، قَالَتْ عَائِشَةُ: ثُمَّ إِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ مَخْرَجًا فَخَسَفَتِ الشَّمْسُ، فَخَرَجْنَا إِلَى الْحُجْرَةِ، وَاجْتَمَعَ إِلَيْنَا النِّسَاءُ، وَأَقْبَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَذَلِكَ ضَحْوَةً، فَقَامَ يُصَلِّي فَقَامَ قِيَامًا طَوِيلًا، ثُمَّ رَكَعَ رُكُوعًا، ثُمَّ رَفَعَ [ص:82] رَأْسَهُ، فَقَامَ دُونَ الْقِيَامِ الْأَوْلِ، ثُمَّ رَكَعَ دُونَ رُكُوعِهِ، ثُمَّ سَجَدَ، ثُمَّ قَامَ الثَّانِيَةَ، وَصَنَعَ مِثْلَ ذَلِكَ إِلَّا أَنَّ رُكُوعَهُ دُونَ الرَّكْعَةِ الْأُولَى، ثُمَّ سَجَدَ وَتَجَلَّتِ الشَّمْسُ، فَلَمَّا انْصَرَفَ قَعَدَ عَلَى الْمِنْبَرِ، فَقَالَ: فِيمَا يَقُولُ: «إِنَّ النَّاسَ يُفْتَنُونَ فِي قُبُورِهِمْ كَفِتْنَةِ الدَّجَّالِ»، قَالَتْ عَائِشَةُ: فَكُنَّا نَسْمَعُهُ بَعْدَ ذَلِكَ بِتَعَوُّذٍ مِنْ فِتْنَةِ الْقَبْرِ
رقم طبعة با وزير = (2829)
আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “এক ইয়াহুদী মহিলা তাঁর কাছে এসে বলেন, “আল্লাহ আপনাকে কবরের আযাব থেকে রক্ষা করুন।” অতঃপর আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলেন, “লোকদেরকে কি কবরে শাস্তি দেওয়া হবে?” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “আল্লাহর কাছে পানাহ চাই।” আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন বাড়ি থেকে বের হন অতঃপর সূর্য গ্রহণ লাগে। তারপর আমরা হুজরার উদ্দেশ্যে বের হই। নারীরা আমাদের কাছে সমবেত হন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করেন। সময়টা ছিল পুর্বাহ্ন। তারপর তিনি দাঁড়িয়ে সালাত পড়তে শুরু করেন। তিনি দীর্ঘক্ষন কিয়াম করেন। তারপর রুকূ‘ করেন। তারপর রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করেন। তারপর কিয়াম করেন, তবে সেটা প্রথম কিয়াম অপেক্ষা কম দীর্ঘ। তারপর রুকূ‘ করেন, তবে সেটা প্রথম রুকূ‘ অপেক্ষা কম দীর্ঘের। তারপর সাজদা করেন। তারপর দ্বিতীয়বার দাঁড়ান এবং আগের মতোই আমল করেন। তবে এখানে তাঁর রুকূ‘ প্রথম রুকূ‘ অপেক্ষা কম দীর্ঘের ছিল। তারপর তিনি সাজদা করেন। সেসময় সূর্য পরিস্ফূট হয়ে যায়। অতঃপর যখন সালাত শেষ করেন, তখন তিনি মিম্বারের উপর বসেন এবং বলেন, “নিশ্চয়ই লোকদের কবরে দাজ্জালের পরীক্ষার ন্যায় পরীক্ষা করা হবে।” আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “তারপর আমরা শুনতাম, তিনি কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাইতেন।”[1]
[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/১৮৭-১৮৮; সহীহুল বুখারী: ১০৪৯; বাগাবী: ১১৪১; নাসাঈ: ৩/১৩৩-১৩৪; মুসনাদ আহমাদ: ৬/৫৩; সহীহ মুসলিম: ৯০৩; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৩৭৮। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (জুযউল কুসূফ)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «جزء الكسوف»: ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم