হাদীস বিএন


সহীহ ইবনু হিব্বান





সহীহ ইবনু হিব্বান (2841)


2841 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا حِبَّانُ بْنُ مُوسَى، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا يُونُسُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: انْكَسَفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى الصَّلَاةِ، فَقَرَأَ بِسُورَةِ طَوِيلَةٍ، ثُمَّ رَكَعَ نَحْوًا مِنْ قِيَامِهِ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ، فَافْتَتَحَ بِسُورَةٍ أُخْرَى، حَتَّى إِذَا فَرَغَ مِنْهَا رَكَعَ ثَانِيَةً، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ وَسَجَدَ، ثُمَّ قَامَ إِلَى الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ، فَقَرَأَ أَيْضًا بِسُورَةٍ، وَقَامَ دُونَ الْقِرَاءَةِ الْأُولَى، ثُمَّ رَكَعَ فَكَانَ رُكُوعُهُ دُونَ الْأَوْلِ، ثُمَّ سَجَدَ فَلَمَّا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ السُّجُودِ، قَالَ: «مَا مِنْ شَيْءٍ تُوعَدُونَهُ إِلَّا وَقَدْ رَأَيْتُهُ فِي مَقَامِي هَذَا، وَلَقَدْ رَأَيْتُنِي أُرِيدُ أَنْ آخُذَ قِطْفًا مِنَ الْجَنَّةِ حِينَ رَأَيْتُمُونِي أَتَقَدَّمُ، وَلَقَدْ رَأَيْتُ جَهَنَّمَ يَحْطِمُ بَعْضُهَا بَعْضًا حِينَ رَأَيْتُمُونِي تَأَخَّرْتُ، وَرَأَيْتُ عَمْرَو بْنَ لُحَيٍّ وَهُوَ الَّذِي سَيَّبَ السَّوَائِبَ»
رقم طبعة با وزير = (2830)




আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়ে একবার সূর্য গ্রহণ হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে দাঁড়ান। তিনি দীর্ঘ সূরা পাঠ করেন। তারপর তিনি কিয়ামের মতো লম্বা রুকূ‘ করেন। তারপর তিনি রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করেন। তারপর তিনি আরেকটি সূরা পাঠ শুরু করেন। যখন তিনি পাঠ শেষ করেন, তখন রুকূ‘ করেন, তখন দ্বিতীয় রুকূ‘ করেন। তারপর তিনি রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করেন অতঃপর সাজদা করেন। তারপর তিনি দ্বিতীয় রাকা‘আতের জন্য দাঁড়ান এবং দাঁড়িয়ে আরেকটি সূরা পাঠ করেন, তবে সেটা প্রথম কিরা‘আত অপেক্ষা ছোট। তারপর তিনি রুকূ‘ করেন, তবে সেটা প্রথম রুকূ‘ অপেক্ষা ছোট। তারপর সাজদা করেন। অতঃপর যখন সাজদা থেকে মাথা উত্তোলন করেন, তখন তিনি বলেন, “যেসব জিনিস তোমাদের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তার সবকিছু আমাকে এই জায়গায় দেখানো হয়েছে। আমি জান্নাতের এক থোকা ফল নিতে চেয়েছিলাম, যখন তোমরা আমাকে দেখেছো যে, আমি সামনে অগ্রসর হচ্ছি। অবশ্যই আমি জাহান্নামকে দেখেছি, তার একাংশ আরেক অংশকে আঘাত করছে, এটা আমি দেখেছি, যখন তোমরা আমাকে দেখেছো যে, আমি পিছু হটছি। আমি জাহান্নামে আমর বিন লুহাইকেও দেখেছি। সে হলো ঐ ব্যক্তি যে, সায়িবা (প্রতিমার নামে প্রাণী ছেড়ে দেওয়া) এর প্রচলন করেছিল।”[1]



[1] সহীহুল বুখারী: ১২১২; সহীহ মুসলিম: ৯০১; নাসাঈ: ৩/১৩০-১৩২; দারাকুতনী: ২/৬৩; আবূ দাউদ: ১১৮০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১০৭১)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1071): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناد صحيح على شرط الشيخين









সহীহ ইবনু হিব্বান (2842)


2842 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ الْقُرَشِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ نَمِرٍ، أَنَّهُ سَأَلَ الزُّهْرِيَّ، عَنْ سُنَّةِ صَلَاةِ الْكُسُوفِ فَقَالَ: أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: انْكَسَفَتِ الشَّمْسُ، فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلًا فَنَادَى أَنَّ الصَّلَاةَ جَامِعَةٌ، فَاجْتَمَعَ النَّاسَ، فَصَلَّى بِهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَكَبَّرَ، ثُمَّ قَرَأَ قِرَاءَةً طَوِيلَةً، ثُمَّ كَبَّرَ، فَرَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلًا مِثْلَ قِيَامِهِ أَوْ أَطْوَلَ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ»، ثُمَّ قَرَأَ قِرَاءَةً طَوِيلَةً هِيَ أَدْنَى مِنَ الْقِيَامِ الْأَوْلِ، ثُمَّ كَبَّرَ، فَرَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلًا، وَهُوَ أَدْنَى مِنَ الرُّكُوعِ الْأَوْلِ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَقَالَ: «سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ»، ثُمَّ كَبَّرَ، فَسَجَدَ سُجُودًا [ص:85] طَوِيلًا وَهُوَ أَدْنَى مِنْ رُكُوعِهِ أَوْ أَطْوَلُ، ثُمَّ كَبَّرَ، فَرَفَعَ رَأْسَهُ، ثُمَّ كَبَّرَ وَسَجَدَ، ثُمَّ كَبَّرَ فَقَامَ، فَقَرَأَ قِرَاءَةً طَوِيلَةً هِيَ أَدْنَى مِنَ الْقِرَاءَةِ الْأُولَى، ثُمَّ كَبَّرَ، فَرَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلًا هُوَ أَدْنَى مِنَ الرُّكُوعِ الْأَوْلِ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ، فَقَالَ: «سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ»، ثُمَّ قَرَأَ قِرَاءَةً طَوِيلَةً هِيَ أَدْنَى مِنَ الْقِرَاءَةِ الْأُولَى فِي الْقِيَامِ الثَّانِي، ثُمَّ كَبَّرَ فَرَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلًا دُونَ الرُّكُوعِ الْأَوْلِ، ثُمَّ كَبَّرَ، فَرَفَعَ رَأْسَهُ، فَقَالَ: «سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ»، ثُمَّ كَبَّرَ، فَسَجَدَ أَدْنَى مِنْ سُجُودِهِ الْأَوْلِ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ، ثُمَّ تَشَهَّدَ، ثُمَّ سَلَّمَ، وَقَامَ فِيهِمْ، فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: «إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ لَا يَنْخَسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ وَلَا لِحَيَاتِهِ، وَلَكِنَّهُمَا آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ، فَإِنْ خُسِفَ بِهِمَا أَوْ بِأَحَدِهِمَا فَافْزَعُوا إِلَى اللَّهِ وَالصَّلَاةِ». قَالَ الزُّهْرِيُّ: فَقُلْتُ لِعُرْوَةَ: وَاللَّهِ مَا صَنَعَ هَذَا أَخُوكَ عَبْدُ اللَّهِ حِينَ انْكَسَفَتِ الشَّمْسُ وَهُوَ بِالْمَدِينَةِ، وَمَا صَلَّى إِلَّا رَكْعَتَيْنِ مِثْلَ صَلَاةِ الصُّبْحِ، قَالَ: أَجَلْ، كَذَلِكَ صَنَعَ، وَأَخْطَأَ السُّنَّةَ «
رقم طبعة با وزير = (2831)




আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “(রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়ে একবার) সূর্য গ্রহণ হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে আদেশ করলেন ফলে তিনি জামা‘আতে সালাত সংঘটিত হবে মর্মে আহবান করলেন। অতঃপর লোকজন সমবেত হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিয়ে সালাত আদায় করেন। তিনি প্রথমে তাকবীর দেন। তারপর তিনি দীর্ঘ কিরা‘আত পাঠ করেন। তারপর তিনি তাকবীর দেন এবং কিয়ামের মতো অথবা তারচেয়ে বেশি দীর্ঘ রুকূ‘ করেন। তারপর তিনি রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করেন এবং বলেন, سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ (আল্লাহ শ্রবণ করেছেন, ঐ ব্যক্তির প্রশংসা, যে তার প্রশংসা করে)। তারপর তিনি দীর্ঘ কিরা‘আত পাঠ করেন, তবে সেটা প্রথম কিয়াম অপেক্ষা কম। তারপর তিনি তাকবীর দেন এবং দীর্ঘ রুকূ‘ করেন, তবে সেটা প্রথম রুকূ‘ অপেক্ষা কম। তারপর তিনি রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করেন এবং বলেন, سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ (আল্লাহ শ্রবণ করেছেন, ঐ ব্যক্তির প্রশংসা, যে তার প্রশংসা করে)। তারপর তিনি তাকবীর দেন এবং রুকূ‘র মতো অথবা তার চেয়ে দীর্ঘ সাজদা করেন। তারপর তিনি তাকবীর দেন এবং সাজদা থেকে মাথা উত্তোলন করেন। তারপর আবার তাকবীর দেন এবং সাজদা করেন। তারপর তিনি তাকবীর দিয়ে দাঁড়ান। তারপর তিনি দীর্ঘ কিরা‘আত পাঠ করেন, তবে সেটা প্রথম কিরা‘আত অপেক্ষা ছোট। তারপর তিনি তাকবীর দেন এবং দীর্ঘ রুকূ‘ করেন, তবে সেটা প্রথম রুকূ‘ অপেক্ষা কম দৈর্ঘের। তারপর তিনি রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করেন এবং বলেন, سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ (আল্লাহ শ্রবণ করেছেন, ঐ ব্যক্তির প্রশংসা, যে তার প্রশংসা করে)। তারপর তিনি দ্বিতীয় কিয়ামে দীর্ঘ কিরা‘আত পাঠ করেন, তবে সেটা প্রথম কিরা‘আত অপেক্ষা কম। তারপর তিনি তাকবীর দেন এবং দীর্ঘ রুকূ‘ করেন, তবে সেটা প্রথম রুকূ‘ অপেক্ষা কম। তারপর তিনি রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করেন এবং বলেন, سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ (আল্লাহ শ্রবণ করেছেন, ঐ ব্যক্তির প্রশংসা, যে তার প্রশংসা করে)। তারপর তিনি তাকবীর দেন এবং দীর্ঘ সাজদা করেন, তবে সেটা প্রথম সাজদা অপেক্ষা কম। তারপর তিনি তাকবীর দেন এবং সাজদা থেকে মাথা উত্তোলন করেন। তারপর তিনি তাশাহ্হুদ পাঠ করেন। তারপর সালাম ফেরান। অতঃপর তিনি সাহাবীদের মাঝে দাঁড়ান। তারপর তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণ-কীর্তন করেন। অতঃপর বলেন, “নিশ্চয়ই সূর্য ও চন্দ্র কারো বেঁচে থাকা অথবা কারো মৃত্যুবরণ করার কারণে গ্রহণ লাগে না। বরং এগুলি আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দুটি নিদর্শন। কাজেই এদুটি অথবা এদের যে কোন একটি গ্রহণ লাগবে, তখন তোমরা ভীত-সন্ত্রস্ত্র অবস্থায় আল্লাহর দিকে এবং সালাত আদায় করার দিকে ধাবিত হবে।” ইমাম যুহরী রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আমি উরওয়া বিন যুবাইর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বললাম, “আল্লাহর কসম, আপনার ভাই আব্দুল্লাহ বিন মাস‘ঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু মদীনায় অবস্থানকালে সূর্যগ্রহণ লাগলে এমনটা করেননি। তিনি ফজরের দুই রাকা‘আত সালাতের মতোই দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করেছেন।” জবাবে উরওয়া বিন যুবাইর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আপনি ঠিকই বলেছেন। তিনি এমনটাই করেছেন, তবে তিনি সুন্নাহ-পরিপন্থী কাজ করেছেন।”[1]



[1] নাসাঈ: ৩/১২৭; আবূ দাঊদ: ১১৯০; দারাকুতনী: ২/৬২-৬৩; সহীহুল বুখারী: ১০৬৫-১০৬৬; বাগাবী: ১১৪৬; সহীহ মুসলিম: ৯০১; ইবনু মাজাহ: ১২৬৩; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৩৮৭; মুসনাদ আহমাদ: ৬/১৬৮; তিরমিযী: ৫৬১। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১০৭২)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1072): خ (1076)، م.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: عمرو بن عثمان صدوق ومن فوقه من رجال الشيخين









সহীহ ইবনু হিব্বান (2843)


2843 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: انْكَسَفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَطَالَ الْقِيَامَ، ثُمَّ رَكَعَ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ، فَقَامَ دُونَ قِيَامِهِ الْأَوْلِ، ثُمَّ رَكَعَ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ، فَقَامَ دُونَ قِيَامِهِ الْأَوْلِ، ثُمَّ رَكَعَ ثَلَاثَ رَكَعَاتٍ، ثُمَّ سَجَدَ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ، فَقَامَ، فَرَكَعَ ثَلَاثَ رَكَعَاتٍ قَامَ فِيهِنَّ دُونَ قِيَامِهِ [ص:87] الْأَوْلِ، ثُمَّ سَجَدَ، ثُمَّ انْصَرَفَ وَقَدْ تَجَلَّتِ الشَّمْسُ فَقَالَ: «إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ لَا يَنْكَسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ وَلَا لِحَيَاتِهِ، وَهُمَا آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ، فَإِذَا رَأَيْتُمْ كُسُوفَهُمَا فَصَلُّوا حَتَّى يَنْجَلِيَ»
رقم طبعة با وزير = (2832)




জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়ে সূর্য গ্রহণ লাগলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করেন। তিনি দীর্ঘক্ষন কিয়াম করেন। তারপর রুকূ‘ করেন। তারপর রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করেন। তারপর আবার কিয়াম করেন, তবে সেটা প্রথম কিয়াম অপেক্ষা কম। তারপর রুকূ‘ করেন। তারপর রুকূ‘ মাথা উত্তোলন করেন। তারপর তিনি কিয়াম করেন, তবে সেটা প্রথম কিয়াম অপেক্ষা কম। তারপর তিনি রুকূ‘ করেন। তিনটি রুকূ‘। তারপর সাজদা করেন। তারপর সাজদা থেকে মাথা উত্তোলন করেন। তারপর তিনি দাঁড়ান। অতঃপর তিনটি রুকূ‘ করেন। এতে তিনি কিয়াম করেন, তবে সেটা প্রথম কিয়াম অপেক্ষা কম। তারপর আবার সাজদা করেন। তারপর সালাম ফেরান। ইতোমধ্যে সূর্য গ্রহণ শেষ হয়ে গেছে। তখন তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই সূর্য ও চন্দ্র কারো বেঁচে থাকা অথবা কারো মৃত্যুবরণ করার কারণে গ্রহণ লাগে না। বরং এগুলি আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দুটি নিদর্শন। কাজেই যখন তোমরা এদের গ্রহণ দেখবে, তখন তোমরা গ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় করবে।”[1]



[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৩৮৬; মুসনাদ আহমাদ: ৩/২১৭-২১৮; আবূ দাঊদ: ১১৭৮; সহীহ মুসলিম: ৯০৪; আবূ আওয়ানা: ২/৩৭২-৩৭৩; সুনান বাইহাকী: ৩/৩২৪; আত তায়ালিসী: ১৭৫৪। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। তবে তিন রুকূ‘ করার বিষয়টি শায। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১০৬৯-১০৭০)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الإرواء» (656)، «صحيح أبي داود» (1069 - 1070): م، لكن قوله: ثلاث ركعات .. شاذ، والمحفوظ: ركعتان؛ كما في بعض طرقه.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (2844)


2844 - أَخْبَرَنَا ابْنُ خُزَيْمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى الْقَطَّانُ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَطَاءٌ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: انْكَسَفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَذَلِكَ يَوْمَ مَاتَ فِيهِ إِبْرَاهِيمُ، فَقَالَ النَّاسُ: إِنَّمَا انْكَسَفَتِ الشَّمْسُ لِمَوْتِ إِبْرَاهِيمَ، فَقَامَ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَصَلَّى بِالنَّاسِ سِتَّ رَكَعَاتٍ وَأَرْبَعَ سَجَدَاتٍ، كَبَّرَ، ثُمَّ قَرَأَ، فَأَطَالَ الْقِرَاءَةَ، ثُمَّ رَكَعَ نَحْوًا مِمَّا قَامَ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ، فَقَرَأَ دُونَ الْقِرَاءَةِ الْأُولَى، ثُمَّ رَكَعَ نَحْوًا مِمَّا قَرَأَ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ، فَقَرَأَ دُونَ الْقِرَاءَةِ الثَّانِيَةِ، ثُمَّ رَكَعَ نَحْوًا مِمَّا قَرَأَ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ، ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى ثَلَاثَ رَكَعَاتٍ قَبْلَ أَنْ يَسْجُدَ لَيْسَ فِيهَا رَكْعَةٌ إِلَّا الَّتِي قَبْلَهَا أَطْوَلُ مِنَ الَّتِي بَعْدَهَا إِلَّا أَنَّ رُكُوعَهُ نَحْوًا مِنْ قِيَامِهِ، ثُمَّ تَأَخَّرَ فِي صَلَاتِهِ، فَتَأَخَّرَتِ الصُّفُوفُ مَعَهُ، ثُمَّ تَقَدَّمَ، فَتَقَدَّمْتُ الصُّفُوفُ مَعَهُ فَقَضَى الصَّلَاةَ وَقَدْ أَضَاءَتِ الشَّمْسُ، ثُمَّ قَالَ: «أَيُّهَا النَّاسُ [ص:88] إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ لَا يَنْكَسِفَانِ لِمَوْتِ بَشَرٍ، فَإِذَا رَأَيْتُمْ شَيْئًا مِنْ ذَلِكَ فَصَلُّوا حَتَّى يَنْجَلِيَ»
رقم طبعة با وزير = (2833)




জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়ে সূর্য গ্রহণ লাগে। এটা হয় যেদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ছেলে ইবরাহিম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু মারা যায়। তখন লোকজন বলতে থাকে, “ইবরাহিম মারা যাওয়ার কারণে সূর্য গ্রহণ লেগেছে।” তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ান এবং ছয়টি রুকূ‘ ও চারটি সাজদা করেন। তিনি তাকবীর দেন এবং দীর্ঘক্ষন কিরাআত পাঠ করেন। তারপর প্রায় কিয়ামের মতো রুকূ‘ করেন। তারপর রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করেন। তারপর তিনি কিরাআত পাঠ করেন, তবে তা প্রথম কিরা‘আত অপেক্ষা কম। তারপর তিনি কিরা‘আত সমপরিমাণ রুকূ‘ করেন। তারপর তিনি রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করেন। তারপর তিনি কিরাআত পাঠ করেন, তবে তা দ্বিতীয় কিরা‘আত অপেক্ষা কম। তারপর তিনি কিরা‘আত সমপরিমাণ রুকূ‘ করেন। তারপর তিনি রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করেন। তারপর তিনি দুটি সাজদা করেন। তারপর তিনি আবার দাঁড়ান। তারপর তিনি সাজদা করার আগে তিনটি রুকূ‘ করেন। প্রতিটি রাকা‘আতে আগের রাকা‘আত পরের রাকা‘আত অপেক্ষা দীর্ঘ ছিল। অবশ্য তাঁর রুকূ‘ তাঁর কিয়ামের প্রায় সমপরিমাণ ছিল। তারপর তিনি সালাতে পিছু হটে আসেন, ফলে তাঁর সাথে কাতারের লোকজনও পিছু হটে। তারপর তিনি সামনে অগ্রসর হন, তাঁর সাথে কাতারের লোকজনও সামনে অগ্রসর হয়। অতঃপর তিনি সালাত শেষ করেন। তখন ইতোমধ্যে সূর্য পরিস্ফূট হয়ে গেছে। তারপর তিনি বলেন, “হে লোকসকল, নিশ্চয়ই সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মাঝে দুটি নিদর্শন। যা কোন মানুষের মৃত্যুতে গ্রহণ লাগে না। কাজেই যখন তোমরা এর কোন কিছু দেখবে, তখন তোমরা গ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় করবে।”[1]



[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৩৮৬; মুসনাদ আহমাদ: ৩/২১৭-২১৮; আবূ দাঊদ: ১১৭৮; সহীহ মুসলিম: ৯০৪; আবূ আওয়ানা: ২/৩৭২-৩৭৩; সুনান বাইহাকী: ৩/৩২৪; আত তায়ালিসী: ১৭৫৪। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। তবে ছয় রুকূ‘ করার বিষয়টি শায। চার রুকূ‘ সহীহ। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১০৬৯-১০৭০)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح؛ لكن قوله: ست ركعات .. شاذ، والمحفوظ: أربع ركعات: م - انظر ما قبله.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (2845)


2845 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ سِنَانٍ الطَّائِيُّ، بِمَنْبِجَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، [ص:89] عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ: خَسَفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالنَّاسِ، فَقَامَ وَأَطَالَ الْقِيَامَ، ثُمَّ رَكَعَ، فَأَطَالَ الرُّكُوعَ، ثُمَّ قَامَ فَأَطَالَ الْقِيَامَ وَهُوَ دُونَ الْقِيَامِ الْأَوْلِ، ثُمَّ رَكَعَ فَأَطَالَ الرُّكُوعَ وَهُوَ دُونَ الرُّكُوعِ الْأَوْلِ، ثُمَّ رَفَعَ فَسَجَدَ، ثُمَّ فَعَلَ فِي الرَّكْعَةِ الْأُخْرَى مِثْلَ مَا فَعَلَ فِي الْأُولَى، ثُمَّ انْصَرَفَ وَقَدِ انْجَلَتِ الشَّمْسُ، فَخَطَبَ النَّاسَ، فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: «إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرِ آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ لَا يَخْسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ وَلَا لِحَيَاتِهِ، فَإِذَا رَأَيْتُمْ ذَلِكَ فَادْعُوا اللَّهَ وَكَبِّرُوا وَتَصَدَّقُوا» وَقَالَ: «يَا أُمَّةَ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَاللَّهِ مَا مِنْ أَحَدٍ أَغْيَرُ مِنَ اللَّهِ أَنْ يَزْنِي عَبْدُهُ أَوْ تَزْنِي أُمَّتُهُ، يَا أُمَّةَ مُحَمَّدٍ وَاللَّهِ لَوْ تَعْلَمُونَ مَا أَعْلَمُ لَضَحِكْتُمْ قَلِيلًا، وَلَبَكَيْتُمْ كَثِيرًا»
رقم طبعة با وزير = (2834)




আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়ে একবার সূর্য গ্রহণ হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করেন। তিনি দাঁড়ান এবং দীর্ঘক্ষন কিয়াম করেন। তারপর তিনি দীর্ঘ রুকূ‘ করেন। তারপর তিনি রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করেন এবং দীর্ঘ কিয়াম করেন, তবে সেটা প্রথম কিয়াম অপেক্ষা কম। তারপর তিনি দীর্ঘ রুকূ‘ করেন, তবে সেটা প্রথম রুকূ‘ অপেক্ষা কম। তারপর তিনি রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করেন অতঃপর সাজদা করেন। তারপর তিনি প্রথম রাকা‘আতে যেমন করেন, অনুরুপ দ্বিতীয় রাকা‘আতেও করেন। তারপর তিনি সালাম ফেরান, তখন ইতোমধ্যে সূর্য প্রকাশিত হয়ে গেছে। অতঃপর তিনি সাহাবীদের উদ্দেশ্যে ভাষন দেন। তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণ-কীর্তন করেন। অতঃপর বলেন, “নিশ্চয়ই সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দুটি নিদর্শন। এগুলি কারো বেঁচে থাকা অথবা কারো মৃত্যুবরণ করার কারণে গ্রহণ লাগে না। বরং কাজেই যখন এরকম দেখবে, তখন তোমরা আল্লাহর কাছে দু‘আ করবে, তাকবীর দিবে এবং সাদাকাহ করবে।” তিনি আরো বলেন, “হে মুহাম্মদের উম্মাত, আল্লাহর কসম, আল্লাহর চেয়ে অধিক আত্নমর্যাদার অধিকারী আর কেউ নেই, তাঁর কোন বান্দা বা বান্দী ব্যভিচার করুক। হে মুহাম্মদের উম্মাত, আল্লাহর কসম, আমি যা জানি তা যদি তোমরা জানতে, তবে অল্প হাসতে আর বেশি কাঁদতে।”[1]



[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/৮৬; সহীহুল বুখারী: ১০৪৪; সহীহ মুসলিম: ৯০১; নাসাঈ: ৩/১৩২-১৩৩; আবূ দাঊদ: ১১৯১; দারেমী: ১/৩৬০; বাগাবী: ১১৪২; মুসনাদ আহমাদ: ৬/১৬৪; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৩৯৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১০৭৭)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1077)، «جزء الكسوف»، «الإرواء» (658): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناد صحيح على شرط الشيخين









সহীহ ইবনু হিব্বান (2846)


2846 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَبَّانُ بْنُ مُوسَى، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: انْكَسَفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى الصَّلَاةِ، فَأَطَالَ الْقِيَامَ جِدًّا، ثُمَّ رَكَعَ فَأَطَالَ الرُّكُوعَ جِدًّا، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَأَطَالَ الْقِيَامَ وَهُوَ دُونَ الْقِيَامِ الْأَوْلِ، ثُمَّ رَكَعَ فَأَطَالَ الرُّكُوعَ وَهُوَ دُونَ الرُّكُوعِ الْأَوْلِ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ، ثُمَّ انْحَدَرَ بِالسُّجُودِ، فَسَجَدَ، ثُمَّ قَامَ فِي الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ، فَأَطَالَ الْقِيَامَ وَهُوَ دُونَ الْقِيَامِ الْأَوْلِ، ثُمَّ رَكَعَ فَأَطَالَ الرُّكُوعَ وَهُوَ دُونَ الرُّكُوعِ الْأَوْلِ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَأَطَالَ الْقِيَامَ وَهُوَ دُونَ الْقِيَامِ الْأَوْلِ، ثُمَّ رَكَعَ فَأَطَالَ الرُّكُوعَ وَهُوَ دُونَ الرُّكُوعِ الْأَوْلِ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَانْحَدَرَ بِالسُّجُودِ فَسَجَدَ، ثُمَّ قَالَ: «أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ لَا يَنْخَسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ وَلَا لِحَيَاتِهِ، فَإِذَا رَأَيْتُمْ ذَلِكَ فَصَلُّوا وَتَصَدَّقُوا وَكَبِّرُوا» «يَا أُمَّةَ مُحَمَّدٍ إِنْ أَحَدٌ أَغْيَرَ مِنَ اللَّهِ أَنْ يَزْنِيَ عَبْدُهُ أَوْ تَزْنِيَ أُمَّتُهُ، يَا أُمَّةَ مُحَمَّدٍ لَوْ تَعْلَمُونَ مَا أَعْلَمُ لَضَحِكْتُمْ قَلِيلًا وَلَبَكَيْتُمْ كَثِيرًا»
رقم طبعة با وزير = (2835)




আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়ে একবার সূর্য গ্রহণ হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে দাঁড়িয়ে যান। তিনি দীর্ঘক্ষন কিয়াম করেন। তারপর তিনি রুকূ‘ করেন, খুবই দীর্ঘ রুকূ‘ করেন। তারপর তিনি রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করেন এবং দীর্ঘ কিয়াম করেন, তবে সেটা প্রথম কিয়াম অপেক্ষা কম। তারপর তিনি দীর্ঘ রুকূ‘ করেন, তবে সেটা প্রথম রুকূ‘ অপেক্ষা কম। তারপর তিনি রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করেন অতঃপর সাজদায় চলে গেলেন এবং সাজদা করেন। তারপর তিনি দ্বিতীয় রাকাআতের জন্য দাঁড়ান। অতঃপর তিনি কিয়াম করেন, তবে সেটা প্রথম কিয়াম অপেক্ষা কম। তারপর দীর্ঘ রুকূ‘ করেন, তবে সেটা প্রথম রুকূ‘ অপেক্ষা কম। তারপর তিনি রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করেন এবং দীর্ঘ কিয়াম করেন, তবে সেটা প্রথম কিয়াম অপেক্ষা কম। তারপর তিনি দীর্ঘ রুকূ‘ করেন, তবে সেটা প্রথম রুকূ‘ অপেক্ষা কম। তারপর তিনি রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করেন অতঃপর সাজদায় চলে গেলেন এবং সাজদা করেন। তারপর বলেন, “হে লোকসকল, নিশ্চয়ই সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দুটি নিদর্শন। এগুলি কারো বেঁচে থাকা অথবা কারো মৃত্যুবরণ করার কারণে গ্রহণ লাগে না। বরং যখন এরকম দেখবে, তখন তোমরা সালাত আদায় করবে, তাকবীর দিবে এবং সাদাকাহ করবে। হে মুহাম্মাদের উম্মাত, আল্লাহর কসম, আল্লাহর চেয়ে অধিক আত্নমর্যাদার অধিকারী আর কেউ নেই, তাঁর কোন বান্দা বা বান্দী ব্যভিচার করার ব্যাপারে। হে মুহাম্মাদের উম্মাত, আল্লাহর কসম, আমি যা জানি তা যদি তোমরা জানতে, তবে অল্প হাসতে আর বেশি কাঁদতে।”[1]



[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/৮৬; সহীহুল বুখারী: ১০৪৪; সহীহ মুসলিম: ৯০১; নাসাঈ: ৩/১৩২-১৩৩; আবূ দাঊদ: ১১৯১; দারেমী: ১/৩৬০; বাগাবী: ১১৪২; মুসনাদ আহমাদ: ৬/১৬৪; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৩৯৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১০৭৭)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق - انظر ما قبله.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناد صحيح على شرط الشيخين









সহীহ ইবনু হিব্বান (2847)


2847 - أَخْبَرَنَا ابْنُ خُزَيْمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمَسْرُوقِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ بُرَيْدٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ: خَسَفَتِ الشَّمْسُ زَمَنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَامَ فَزِعًا، ثُمَّ قَالَ: «إِنَّ هَذِهِ الْآيَاتُ الَّتِي يُرْسِلُ اللَّهُ لَا تَكُونُ لِمَوْتِ أَحَدٍ وَلَا لِحَيَاتِهِ، وَلَكِنَّ اللَّهَ يُرْسِلُهَا يُخَوِّفُ بِهَا عِبَادَهُ، فَإِذَا رَأَيْتُمْ مِنْهَا شَيْئًا فَافْزَعُوا إِلَى ذِكْرِهِ وَاسْتِغْفَارِهِ».
رقم طبعة با وزير = (2836) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: «قَوْلُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَافْزَعُوا إِلَى ذِكْرِهِ: يُرِيدُ بِهِ إِلَى صَلَاةِ الْكُسُوفِ لِأَنَّ الصَّلَاةَ تُسَمَّى ذِكْرًا، أَوْ فِيهَا ذِكْرُ اللَّهِ، فَسَمَّى الصَّلَاةَ ذِكْرًا»




আবূ মূসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়ে সূর্য গ্রহণ লাগে। অতঃপর তিনি বলেন, “এসব নিদর্শনগুলি আল্লাহ পাঠান, যা কারো বেঁচে থাকা অথবা মৃত্যুবরণ করার কারণে হয় না। বরং আল্লাহ তা পাঠান তাঁর বান্দাদেরকে সতর্ক করার জন্য। কাজেই যখন তোমরা এর কোন কিছু দেখবে, তখন তোমরা দ্রুত যিকর ও ইস্তিগফারের দিকে ধাবিত হবে।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বক্তব্য “তখন তোমরা দ্রুত যিকরের দিকে ধাবিত হবে” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সূর্য গ্রহণের সালাতের দিকে। কেননা সালাতকে যিকর অভিহিত করা হয়, অথবা সালাতের মাঝে যিকর রয়েছে, এজন্য সালাতকে যিকির বলা হয়েছে।”



[1] সহীহুল বুখারী: ১০৫৯; সহীহ মুসলিম: ৯১২; নাসাঈ: ৩/১৫৩-১৫৪; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৩৭১। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (জুযউল কুসূফ)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - مضى (2825). تنبيه!! رقم (2825) = (2836) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (2848)


2848 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ حَيَّانَ بْنِ عُمَيْرٍ، [ص:92] عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ: «كُنْتُ أَرْمِي بَأْسَهُمٍ بِالْمَدِينَةِ، إِذْ خَسَفَتْ فَنَبَذْتُهَا»، فَقُلْتُ: «وَاللَّهِ لَأَنْظُرَنَّ مَا يُحَدِّثُ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فِي كُسُوفِ الشَّمْسِ» قَالَ: «فَأَتَيْتُهُ وَهُوَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَائِمٌ فِي الصَّلَاةِ رَافِعٌ يَدَيْهِ، قَالَ: فَجَعَلَ يُسَبِّحُ، وَيَحْمَدُ، وَيُكَبِّرُ، وَيُهَلِّلُ، وَيَدْعُو، حَتَّى حَسَرَ، فَلَمَّا حَسَرَ عَنْهَا قَرَأَ سُورَتَيْنِ وَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ»
رقم طبعة با وزير = (2837)




আব্দুর রহমান বিন সামুরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি মদীনায় তীর নিক্ষেপ করছিলাম। এমন সময় সূর্য গ্রহণ লাগে। তখন আমি তীর ফেলে দিলাম এবং মনে মনে বললাম, “আল্লাহর কসম, অবশ্যই আমি দেখব যে, সূর্য গ্রহণের সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কী অবস্থা ঘটে।” রাবী বলেন, “তারপর আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসি এমন অবস্থায় যে, তিনি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন, দুই হাত উত্তোলন করে ছিলেন।” রাবী বলেন, “তারপর তিনি তাসবীহ, তাহমীদ, তাকবীর, তাহলীল ও দু‘আ করতে লাগেন। অতঃপর গ্রহণ শেষ হয়ে যায়। যখন গ্রহণ শেষ হয়ে যায়, তখন তিনি দুটো সূরা পাঠ করে দুই রাকা‘আত সালাত সম্পন্ন করেন।”[1]



[1] সহীহুল বুখারী: ১০৫৯; সহীহ মুসলিম: ৯১২; নাসাঈ: ৩/১৫৩-১৫৪; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৩৭১। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (জুযউল কুসূফ)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - على أن المراد أن ذلك في كل ركعة؛ كما في حديث عائشة (2830) - «صحيح أبي داود» (1080): م.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (2849)


2849 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ نَمِرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، [ص:93] عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، «جَهَرَ بِالْقِرَاءَةِ فِي صَلَاةِ الْكُسُوفِ»
رقم طبعة با وزير = (2838)




আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য গ্রহণের সালাতে জোরে কিরা‘আত পাঠ করেছেন।”[1]



[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ২/৪৬৯; সহীহ মুসলিম: ৯১৩; আবূ দাঊদ: ১১৯৫; হাকিম: ১/৩২৯; মুসনাদ আহমাদ: ৫/৬১; নাসাঈ: ৩/১২৪-১২৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১০৮০)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1074): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناد صحيح على شرط الشيخين









সহীহ ইবনু হিব্বান (2850)


2850 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ نَمِرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: «كَسَفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَصَلَّى بِهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ فِي رَكْعَتَيْنِ، وَأَرْبَعَ سَجَدَاتٍ، وَجَهَرَ بِالْقِرَاءَةِ»
رقم طبعة با وزير = (2839)




আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময় সূর্য গ্রহণ হলে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের নিয়ে চার রুকূ‘ ও চার সাজদার মাধ্যমে দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করেন। তিনি এই সালাতে জোরে কিরা‘আত পাঠ করেন।”[1]



[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ২/৪৬৯; সহীহ মুসলিম: ৯১৩; আবূ দাঊদ: ১১৯৫; হাকিম: ১/৩২৯; মুসনাদ আহমাদ: ৫/৬১; নাসাঈ: ৩/১২৪-১২৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১০৮০)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق - انظر ما قبله.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (2851)


2851 - أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى بْنِ مُجَاشِعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ الْأَسْوَدِ بْنِ قَيْسٍ الْعَبْدِيِّ، عَنْ ثَعْلَبَةَ بْنِ عَبَّادٍ، عَنْ سَمُرَةَ، قَالَ: «صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْكُسُوفِ لَا نَسْمَعُ لَهُ صَوْتًا»
رقم طبعة با وزير = (2840)




সামুরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে সূর্য গ্রহণের সালাত আদায় করেন। আমরা তাঁর কোন আওয়াজ শুনতে পাইনি।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ৫/১৯; ইবনু মাজাহ: ১২৬৪; নাসাঈ: ৩/১৪৮; তাবারানী: ৭/৬৭৯৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ যঈফ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। (মিশকাত: ১৪৯০)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف - وهو مختصر الآتي بعده - «المشكاة» (1490).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده ضعيف









সহীহ ইবনু হিব্বান (2852)


2852 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، عَنِ الْأَسْوَدِ بْنِ قَيْسٍ، قَالَ: [ص:95] حَدَّثَنِي ثَعْلَبَةُ بْنُ عَبَّادٍ الْعَبْدِيُّ، أَنَّهُ شَهِدَ خِطْبَةَ يَوْمًا لِسَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، فَذَكَرَ فِي خُطْبَتِهِ حَدِيثًا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ سَمُرَةُ: بَيْنَا أَنَا يَوْمًا وَغُلَامٌ مِنَ الْأَنْصَارِ نَرْمِي غَرَضًا لَنَا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، حَتَّى إِذَا كَانَتِ الشَّمْسُ قَدْرَ رُمْحَيْنِ - أَوْ ثَلَاثَةٍ - فِي عَيْنِ النَّاظِرِ مِنَ الْأُفُقِ اسْوَدَّتْ، فَقَالَ أَحَدُنَا لِصَاحِبِهِ: انْطَلَقَ بِنَا إِلَى الْمَسْجِدِ فَوَاللَّهِ لَتُحْدِثَنَّ هَذِهِ الشَّمْسُ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فِي أُمَّتِهِ، حَدِيثًا قَالَ: فَدَفَعْنَا إِلَى الْمَسْجِدِ، فَوَافَقْنَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَإِذَا هُوَ بَارَزٌ حِينَ خَرَجَ إِلَى النَّاسِ قَالَ: «فَتَقَدَّمَ، فَصَلَّى بِنَا كَأَطْوَلِ مَا قَامَ بِنَا فِي صَلَاةٍ قَطُّ لَا نَسْمَعُ لَهُ صَوْتًا، ثُمَّ سَجَدَ كَأَطْوَلِ مَا سَجَدْنَا فِي صَلَاةٍ قَطُّ لَا نَسْمَعُ لَهُ صَوْتًا، ثُمَّ قَعَدَ فِي الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ مِثْلَ ذَلِكَ» قَالَ: فَوَافَقَ تَجَلِّي الشَّمْسُ جُلُوسَهُ فِي الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ، فَسَلَّمَ «
رقم طبعة با وزير = (2841)




সামুরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় আমি এবং আনসারী কিছু বালক আমরা আমাদের লক্ষ্যবস্তুতে তীর নিক্ষেপ করছিলাম। দর্শকের চোখে সূর্য যখন পূর্ব দিগন্তে দুই বা তিন বর্শা পরিমাণ উঁচুতে উঠে, তখন তা কালো হয়ে যায়। তখন আমাদের একজন তার সঙ্গীকে বলেন, “চলো, আমরা মাসজিদে যাই। আল্লাহর কসম, অবশ্যই এই সূর্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে কোন নতুন হুকম নিয়ে আসবে।” রাবী বলেন, “তারপর আমরা মাসজিদে যাই। আমরা দেখতে পাই যে, তিনি সাহাবীদের কাছে তাশরীফ এনেছেন। অতঃপর তিনি সামনে অগ্রসর হন এবং সবচেয়ে দীর্ঘ সালাত আদায় করেন, আমাদের নিয়ে তিনি এতো দীর্ঘ সালাত আর কখনই আদায় করেননি। আমরা তাঁর আওয়াজ শুনতে পারছিলাম না। তারপর তিনি দীর্ঘ সাজদা করেন, আমাদের নিয়ে তিনি এতো দীর্ঘ সাজদা আর কখনই করেননি। আমরা তাঁর আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলাম না। তারপর তিনি অনুরুপভাবে দ্বিতীয় রাকা‘আতে বসেন। অতঃপর দ্বিতীয় রাকআতে তাঁর বসার সময় সূর্য প্রকাশিত হয়। তারপর তিনি সালাম ফেরান।”[1]



[1] হাকিম: ১/৩২৯-৩৩১; সুনান বাইহাকী: ৩/৩৩৯; নাসাঈ: ৩/১৪০-১৪১; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২/৩২৭। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ যঈফ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। (মিশকাত: ১৪৯০)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف - «ضعيف أبي داود» (216)، «الإرواء» (662).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده ضعيف









সহীহ ইবনু হিব্বান (2853)


2853 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ سِنَانٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ قَالَ: خَسَفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَالنَّاسُ مَعَهُ، فَقَامَ طَوِيلًا نَحْوًا مِنْ سُورَةِ الْبَقَرَةِ، ثُمَّ رَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلًا، ثُمَّ رَفَعَ فَقَامَ طَوِيلًا وَهُوَ دُونَ الْقِيَامِ الْأَوْلِ، ثُمَّ رَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلًا وَهُوَ دُونَ الرُّكُوعِ الْأَوْلِ، ثُمَّ سَجَدَ، ثُمَّ قَامَ قِيَامًا طَوِيلًا وَهُوَ دُونَ الْقِيَامِ الْأَوْلِ، وَرَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلًا وَهُوَ دُونَ الرُّكُوعِ الْأَوْلِ، ثُمَّ سَجَدَ، ثُمَّ انْصَرَفَ وَقَدْ تَجَلَّتِ الشَّمْسُ، فَقَالَ: «إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ، لَا يَخْسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ وَلَا لِحَيَاتِهِ، فَإِذَا رَأَيْتُمْ ذَلِكَ فَاذْكُرُوا اللَّهَ» فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ رَأَيْنَاكَ تَنَاوَلْتَ شَيْئًا فِي مَقَامِكَ [ص:97] هَذَا، ثُمَّ رَأَيْنَاكَ تَكَعْكَعْتَ، فَقَالَ: «إِنِّي رَأَيْتَ الْجَنَّةَ - أَوْ أُرِيتُ الْجَنَّةَ -، فَتَنَاوَلْتُ مِنْهَا عُنْقُودًا، وَلَوْ أَخَذْتُهُ لَأَكَلْتُمْ مِنْهُ مَا بَقِيَتِ الدُّنْيَا، وَرَأَيْتُ النَّارَ فَلَمْ أَرَ كَالْيَوْمِ مَنْظَرًا قَطُّ، وَرَأَيْتُ أَكْثَرَ أَهْلِهَا النِّسَاءَ» قَالُوا: بِمَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «بِكُفْرِهِنَّ» قِيلَ: يَكْفُرْنَ بِاللَّهِ؟ قَالَ: «يَكْفُرْنَ الْعَشِيرَ، وَيَكْفُرْنَ الْإِحْسَانَ، لَوْ أَحْسَنْتَ إِلَى إِحْدَاهُنَّ الدَّهْرَ، ثُمَّ رَأَتْ مِنْكَ شَيْئًا قَالَتْ: وَاللَّهِ مَا رَأَيْتُ مِنْكَ خَيْرًا قَطُّ»
رقم طبعة با وزير = (2842)




আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময় সূর্য গ্রহণ লাগে। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করেন। অতঃপর তিনি সূরা বাকারার ন্যায় দীর্ঘ কিয়াম করেন। তারপর তিনি দীর্ঘ রুকূ‘ করেন। তারপর তিনি রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করেন। তারপর দীর্ঘ কিয়াম করেন। তবে সেটা প্রথম কিয়াম অপেক্ষা কম। তারপর তিনি দীর্ঘ রুকূ‘ করেন, তবে সেটা প্রথম রুকূ‘ অপেক্ষা কম। তারপর তিনি সাজদা করেন। তারপর তিনি দীর্ঘ কিয়াম করেন, তবে সেটা প্রথম কিয়াম অপেক্ষা কম। তারপর দীর্ঘ রুকূ‘ করেন, তবে সেটা প্রথম রুকূ‘ অপেক্ষা কম। তারপর রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করেন। অতঃপর দীর্ঘ কিয়াম করেন, তবে সেটা প্রথম কিয়াম অপেক্ষা কম। তারপর দীর্ঘ রুকূ‘ করেন, তবে সেটা প্রথম রুকূ‘ অপেক্ষা কম। তারপর সাজদা করেন। তারপর সালাত শেষ করেন এমন অবস্থায় যে সূর্য পরিস্ফুট হয়ে গেছে। তখন তিনি বলেন, নিশ্চয়ই সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শনসমূহ হতে দুটি নিদর্শন, এগুলি কারো জীবিত থাকা বা মৃত্যুবরণ করার কারণে গ্রহণ লাগে না। কাজেই যেখন তোমরা আল্লাহর যিকির করো।” সাহাবীগণ বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আমরা আপনাকে দেখেছি যে, আপনি আপনার এই জায়গা থেকে কিছু গ্রহণ করছেন তারপর আমরা দেখি যে, আপনি পিছু সরে আসছেন!” জবাবে তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই আমি জান্নাত দেখেছি। অথবা (রাবীর সন্দেহ তিনি বলেছেন) আমাকে জান্নাত দেখানো হয়েছে- অতঃপর আমি সেখান থেকে একটি থোকা (ফল) নিতে চাই। যদি আমি তা গ্রহণ করতাম, তবে দুনিয়া যতদিন বাকী থাকতো, ততদিন তোমরা তা খেতে পারতে। আর আমি জাহান্নামের আগুন দেখেছি। আমি আজকের মতো দৃশ্য আর কখনই দেখিনি। আমি দেখেছি জাহান্নামের অধিকাংশ অধিবাসী নারী!” সাহাবীগণ আরজ করলেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, এর কারণ কী?” তিনি জবাবে বলেন, “তাদের কুফরীর কারণে।” তাঁকে বলা হলো, “তারা কি আল্লাহর সাথে কুফরী করে?” তিনি বলেন, “তারা স্বামীর নাফরমানী করে। তারা অনুগ্রহের অকৃতজ্ঞতা করে। যদি তাদের কারো প্রতি যুগ যুগ ধরে উত্তম আচরণ করো, অতঃপর সে যদি তোমার মাঝে (মন্দ) কিছু দেখতে পায়, তবে বলবে, “আমি তোমার মাঝে কখনোই কোন ভালো কিছু দেখিনি!”[1]



[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/১৮৬-১৮৭; মুসনাদ আহমাদ: ১/১৯৮; সহীহুল বুখারী: ১০৫২; সহীহ মুসলিম: ৯০৭; নাসাঈ: ৩/১৪৬-১৪৮; বাগাবী: ১১৪০; আবূ দাঊদ: ১১৮৯; দারেমী: ১/৩৬০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১০৭৫)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - مضى (2821). تنبيه!! رقم (2821) = (2832) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما









সহীহ ইবনু হিব্বান (2854)


2854 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ هِشَامٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: «كُنَّا نَرَى الْآيَاتِ فِي زَمَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَرَكَاتٍ، وَأَنْتُمْ تَرَوْنَهَا تَخْوِيفًا»
رقم طبعة با وزير = (2843) [ص:98] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «خَبَرُ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ عَنْ طَاوُسٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، صَلَّى فِي كُسُوفِ الشَّمْسِ ثَمَانِيَ رَكَعَاتٍ وَأَرْبَعَ سَجَدَاتٍ، لَيْسَ بِصَحِيحٍ لِأَنَّ حَبِيبًا لَمْ يَسْمَعْ مِنْ طَاوُسٍ هَذَا الْخَبَرَ، [ص:99] وَكَذَلِكَ خَبَرُ عَلِيٍّ رِضْوَانُ اللَّهُ عَلَيْهِ، أَنَّهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، صَلَّى فِي صَلَاةِ الْكُسُوفِ هَذَا النَّحْوَ، لَأَنَا لَا نَحْتَجَّ بِحَنَشٍ وَأَمْثَالِهِ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ، وَكَذَلِكَ أَغْضَيْنَا عَنْ إِمْلَائِهِ»




আব্দুল্লাহ বিন মাস‘ঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়কালে নিদর্শনগুলোকে বরকত মনে করতাম আর তোমরা সেগুলোকে ভীতিকর মনে করো।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “তাউসের সূত্রে ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে হাবীব বিন আবূ সাবিতের হাদীস হলো নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য গ্রহণের সালাত আট রুকূ‘ ও চার সাজদা করে সালাত আদায় করেছেন। এটি সহীহ নয়। কেননা হাবীব তাউস রহিমাহুল্লাহ থেকে এই হাদীসটি শ্রবণ করেননি। এরকম সূর্য গ্রহণের সালাতের বিষয়ে আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসটিও সঠিক নয়। কেননা আমরা জানাশ এবং তার মতো আহলুল ইলম থেকে যেমন দলীল গ্রহণ করি না, অনুরুপভাবে তার হাদীস আমরা লিপিবদ্ধ করা থেকেও বিরত থাকি।”



[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/৩৯৬; সহীহুল বুখারী: ৩৫৭৯; দারেমী: ১/১৪-১৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ২৮৪৩)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: خ (3579).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (2855)


2855 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنَا زَائِدَةُ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ الْمُنْذِرِ، عَنِ أَسْمَاءَ، قَالَتْ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، «يَأْمُرُ بِالْعَتَاقَةِ فِي صَلَاةِ الْكُسُوفِ»
رقم طبعة با وزير = (2844)




আসমা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য গ্রহণের সালাতের সময় দাস ‍মুক্ত করার নির্দেশ দিতেন।”[1]



[1] আবূ দাঊদ: ১১৯২; হাকিম: ১/৩৩১; মুসনাদ আহমাদ: ৬/৩৪৫; সহীহুল বুখারী: ২৫১৯; বাগাবী: ১১৪৭; দারেমী: ১/৩৬০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১০৭৮)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1078): خ.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناد صحيح على شرط الشيخين









সহীহ ইবনু হিব্বান (2856)


2856 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا خَلْفُ بْنُ هِشَامٍ الْبَزَّارُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنِ الْأَسْوَدِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ ثَعْلَبَةَ بْنِ عَبَّادٍ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، قَالَ: قَامَ يَوْمًا خَطِيبًا فَذَكَرَ فِي خُطْبَتِهِ، حَدِيثًا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ سَمُرَةُ: بَيْنَا أَنَا وَغُلَامٌ مِنَ الْأَنْصَارِ نَرْمِي غَرَضًا لَنَا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، حَتَّى إِذَا طَلَعَتِ الشَّمْسُ فَكَانَتْ فِي عَيْنِ النَّاظِرِ قِيدَ رُمْحٍ أَوْ رُمْحَيْنِ اسْوَدَّتْ، فَقَالَ أَحَدُنَا لِصَاحِبِهِ: انْطَلَقَ بِنَا إِلَى مَسْجِدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَوَاللَّهِ لَتُحْدِثَنَّ هَذِهِ الشَّمْسُ الْيَوْمَ لِرَسُولِ اللَّهِ فِي أُمَّتِهِ حَدِيثًا، قَالَ: فَدَفَعْنَا إِلَى الْمَسْجِدِ، فَوَافَقْنَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، حِينَ خَرَجَ فَاسْتَقَامَ فَصَلَّى فَقَامَ بِنَا كَأَطْوَلِ مَا قَامَ فِي صَلَاةٍ قَطُّ، لَا نَسْمَعُ لَهُ صَوْتًا، ثُمَّ قَامَ فَفَعَلَ مِثْلَ ذَلِكَ بِالرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ، ثُمَّ جَلَسَ فَوَافَقَ جُلُوسَهُ تَجَلِّي الشَّمْسِ، فَسَلَّمَ وَانْصَرَفَ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ وَشَهِدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّهُ عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ، ثُمَّ قَالَ: «يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ رَسُولٌ أُذَكِّرُكُمْ بِاللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ أَنِّي قَصَّرْتُ عَنْ شَيْءٍ بِتَبْلِيغِ رِسَالَاتِ رَبِّي [ص:102] لَمَّا أَخْبَرْتُمُونِي»، فَقَالَ النَّاسُ: نَشْهَدُ أَنَّكَ قَدْ بَلَّغْتَ رِسَالَاتِ رَبِّكِ، وَنَصَحْتَ لِأُمَّتِكَ، وَقَضَيْتَ الَّذِي عَلَيْكَ، ثُمَّ قَالَ: «أَمَا بَعْدُ فَإِنَّ رِجَالًا يَزْعُمُونَ أَنَّ كُسُوفَ هَذِهِ الشَّمْسِ، وَكُسُوفَ هَذَا الْقَمَرِ، وَزَوَالِ هَذِهِ النُّجُومِ عَنْ مَطَالِعِهَا لِمَوْتِ رِجَالٍ عُظَمَاءَ مِنْ أَهْلِ الْأَرْضِ، وَإِنَّهُمْ كَذَبُوا، وَلَكِنَّهَا آيَاتُ اللَّهِ يَعْتَبِرُ بِهَا عِبَادُهُ لَيَنْظُرَ مَنْ يُحَدِّثُ مِنْهُمْ تَوْبَةً، وَإِنِّي وَاللَّهِ لَقَدْ رَأَيْتُ مَا أَنْتُمْ لَاقُونَ فِي أَمْرِ دُنْيَاكُمْ، وَأَخِرَتِكُمْ مُذْ قُمْتُ أُصَلِّي، وَإِنَّهُ وَاللَّهِ مَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَخْرُجَ ثَلَاثُونَ كَذَّابًا أَحَدُهُمُ الْأَعْوَرُ الدَّجَّالُ مَمْسُوحُ عَيْنِ الْيُسْرَى، كَأَنَّهَا عَيْنُ أَبِي تِحْيَى شَيْخٍ مِنَ الْأَنْصَارِ، بَيْنَهُ وَبَيْنَ حُجْرَةِ عَائِشَةَ خَشَبَةٌ، وَإِنَّهُ مَتَى يَخْرُجُ، فَإِنَّهُ سَوْفَ يَزْعُمُ أَنَّهُ اللَّهُ، فَمَنْ آمَنَ بِهِ وَصَدَّقَهُ، وَاتَّبَعَهُ، فَلَيْسَ يَنْفَعُهُ عَمِلٌ صَالِحٌ مِنْ عَمِلٍ سَلَفَ، وَإِنَّهُ سَيَظْهَرُ عَلَى الْأَرْضِ كُلِّهَا غَيْرَ الْحَرَمِ، وَبَيْتِ الْمَقْدِسِ، وَإِنَّهُ يَسُوقُ الْمُسْلِمِينَ إِلَى بَيْتِ الْمَقْدِسِ، فَيُحَاصَرُونَ حِصَارًا شَدِيدًا». قَالَ الْأَسْوَدُ: «وَظَنِّي أَنَّهُ قَدْ حَدَّثَنِي، أَنَّ عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ يَصِيحُ فِيهِ، [ص:103] فَيَهْزِمُهُ اللَّهُ وَجُنُودَهُ، حَتَّى إِنَّ أَصْلَ الْحَائِطِ، أَوْ جِذْمَ الشَّجَرَةِ لَيُنَادِي: يَا مُؤْمِنُ هَذَا كَافِرٌ، مُسْتَتِرٌ بِي، تَعَالَ فَاقْتُلْهُ، وَلَنْ يَكُونَ ذَلِكَ كَذَلِكَ حَتَّى تَرَوْا أُمُورًا عِظَامًا يَتَفَاقَمُ شَأْنُهَا فِي أَنْفُسِكُمْ، وَتَسَاءَلُونَ بَيْنَكُمْ: هَلْ كَانَ نَبِيِّكُمْ ذِكْرُ لَكُمْ مِنْهَا ذِكْرًا، وَحَتَّى تَزُولَ جِبَالٌ عَنْ مَرَاتِبِهَا، قَالَ: ثُمَّ عَلَى إِثْرِ ذَلِكَ الْقَبْضُ، ثُمَّ قَبَضَ أَطْرَافَ أَصَابِعِهِ، ثُمَّ قَالَ مَرَّةً أُخْرَى: وَقَدْ حَفِظْتُ مَا قَالَ، فَذَكَرَ هَذَا فَمَا قَدَّمَ كَلِمَةً عَنْ مَنْزِلِهَا وَلَا أَخَّرَ أُخْرَى»
رقم طبعة با وزير = (2845)




সামুরাহ বিন জুনদুব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, তিনি একদিন ভাষন দেওয়ার উদ্দেশ্যে দাঁড়ান। অতঃপর তিনি খুতবায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি হাদীস বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় আমি এবং আনসারী কিছু বালক আমরা আমাদের লক্ষ্যবস্তুতে তীর নিক্ষেপ করছিলাম। দর্শকের চোখে যখন তা দুই বা তিন বর্শা পরিমাণ উঁচুতে উঠে, তখন তা কালো হয়ে যায়। তখন আমাদের একজন তার সঙ্গীকে বলেন, “চলো, আমরা মাসজিদে যাই। আল্লাহর কসম, অবশ্যই এই সূর্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে কোন নতুন হুকম নিয়ে আসবে।” রাবী বলেন, “তারপর আমরা মাসজিদে যাই। আমরা দেখতে পাই যে, তিনি সাহাবীদের কাছে তাশরীফ এনেছেন। অতঃপর তিনি সোজাভাবে দাঁড়ান এবং সালাত আদায় করেন। তিনি আমাদের নিয়ে সবচেয়ে দীর্ঘ সালাত আদায় করেন, আমাদের নিয়ে তিনি এতো দীর্ঘ সালাত আর কখনই আদায় করেননি। আমরা তাঁর আওয়াজ শুনতে পারছিলাম না। তারপর তিনি দাঁড়ান অতঃপর তিনি দ্বিতীয় রাকা‘আতে অনুরুপভাবে সালাত আদায় করেন। তারপর তিনি বসেন। তাঁর বসার সময় সূর্য প্রকাশিত হয়। তারপর তিনি সালাম ফিরিয়ে সালাত শেষ করেন। তারপর তিনি আল্লাহর প্রশংসা, গুণ-কীর্তন করেন এবং সাক্ষ্য দেন যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা‘বূদ নেই এবং তিনি আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। তারপর তিনি বলেন, “হে লোকসকল, নিশ্চয়ই আমি একজন মানুষ এবং রাসূল। আমি তোমাদেরকে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলছি, যদি তোমরা জানো যে, আমি আমার প্রভুর বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপারে কোন ত্রুটি করেছি, তবে অবশ্যই তোমরা আমাকে তা জানাবে।” তখন লোকজন বলেন, “আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই আপনি আপনার প্রভুর বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন, আপনার উম্মতের কল্যাণ কামনা করেছেন এবং আপনার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছেন।” অতঃপর তিনি বলেন, “আম্মা বা‘দ। নিশ্চয়ই কিছু লোক মনে করে যে, চন্দ্র ও সূর্য গ্রহণ এবং নক্ষত্রসমূহ তাদের উদয়স্থল থেকে অপসারিত হওয়া পৃথিবীর কিছু মহান ব্যক্তির মৃত্যুর কারণে হয়ে থাকে। নিশ্চয়ই এ লোকগুলো মিথ্যা কথা বলেছে। বস্তুত এসব হলো আল্লাহর নিদর্শনাবলী। আল্লাহর বান্দাগণ এসবের মাধ্যমে উপদেশ গ্রহণ করে। তিনি দেখতে চান যে, তাদের মাঝে কে নতুন করে তাওবা করে। আল্লাহর কসম, নিশ্চয়ই যখন থেকে সালাত আদায় করেছি, তখন থেকে আমি দেখেছি সেসব জিনিস, দুনিয়া ও আখেরাতের যেসব জিনিসের তোমরা মুখোমুখী হবে। আল্লাহর কসম, নিশ্চয়ই ততক্ষন পর্যন্ত কিয়ামত কায়েম হবে না, যতক্ষন না ত্রিশজন চরম মিথ্যুক ব্যক্তির আবির্ভাব হবে। তাদের একজন কানা দাজ্জাল। তার বাম চোখ মুছানো। তার চোখ আনসারী গোত্রের বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তি আবূ তিহইয়ার চোখের মতো। তার ও আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার হুজরার মাঝে একটি কাঠ রয়েছে। সেই দাজ্জালের যখন আবির্ভাব হবে, সে নিজেকে আল্লাহ মনে করবে। যে ব্যক্তি তাকে বিশ্বাস করবে, তাকে সত্যায়ন করবে, তার অনুসরণ করবে, তার পূর্বের কোন ভাল আমল কোন কাজে আসবে না। সে মক্কার হারাম ও বাইতুল মাকদিস ব্যতীত সারা পৃথিবীতে বিচরণ করবে। সে মুসলিমদেরকে বাইতুল মাকদিসের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাবে। অতঃপর তাদেরকে কঠিন অবরোধ করা হবে।” [1] আসওয়াদ রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আমার ধারণা এটাও হাদীসে রয়েছে যে, ঈসা বিন মারইয়াম আলাইহিস সালামের এই সময়ে আবির্ভাব হবে। অতঃপর মহান আল্লাহ দাজ্জাল ও তার বাহিনীকে পরাস্ত করবেন। এসময় দেয়ালের ভিত্তি এবং গাছের মূল আহবান করবে, “হে মুমিন ব্যক্তি, এখানে কাফের ব্যক্তি আমার কাছে লুকিয়ে আছে। আসো এবং একে হত্যা করো।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “এমনটা ততক্ষন পর্যন্ত হবে না, যতক্ষন না তোমরা বড় বড় কিছু না প্রত্যক্ষ করেছো। সেগুলো তোমাদের কাছে খুবই গুরুতর মনে হবে। তোমরা পরস্পরকে জিজ্ঞাসা করবে, “তোমাদের নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি এব্যাপারে কোন কিছু আলোচনা করেছেন?” এবং এমনটা ততক্ষন পর্যন্ত হবে না, যতক্ষন না পর্বতসমূহ নিজের স্থানচ্যুত হবে।” তিনি বলেন, “তারপর ‍মুমিনদের রূহ কবজ করা হবে।” তারপর বর্ণনাকারী আঙ্গুলের পার্শ্বসমূহ ধারণ করে পুণরায় বলেন, “তিনি যা বলেছেন, তা আমি মুখস্থ করেছি। তারপর তিনি এই হাদীস বর্ণনা করেন। তিনি এর একটি শব্দও আগ-পিছ করেননি।”



[1] হাকিম: ১/৩২৯-৩৩১; সুনান বাইহাকী: ৩/৩৩৯; নাসাঈ: ৩/১৪০-১৪১; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২/৩২৭। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ যঈফ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। (মিশকাত: ১৪৯০)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف - انظر (2841). تنبيه!! رقم (2841) = (2852) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده ضعيف لجهالة ثعلبة









সহীহ ইবনু হিব্বান (2857)


2857 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ سِنَانٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ شَرِيكِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي نَمِرٍ، عَنِ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّهُ قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلَكَتِ الْمَوَاشِي، وَتَقَطَّعَتِ السُّبُلُ، فَادْعُ اللَّهَ، فَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: فَمُطِرْنَا مِنَ الْجُمُعَةِ إِلَى الْجُمُعَةِ، قَالَ: فَجَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، تَهَدَّمَتِ الْبُيُوتُ، وَهَلَكَتِ الْمَوَاشِي، فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: «اللَّهُمَّ عَلَى رُءُوسِ الْجِبَالِ، وَالْآكَامِ، وَبُطُونِ الْأَوْدِيَةِ، وَمَنَابِتِ الشَّجَرِ» قَالَ: فَانْجَابَتْ عَنِ الْمَدِينَةِ انْجِيَابَ الثَّوْبِ
رقم طبعة با وزير = (2846)




আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে এসে বলেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, গবাদি পশুগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে, রাস্তা-ঘাট বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, অতএব আপনি আল্লাহর কাছে দু‘আ করুন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দু‘আ করেন। আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “অতঃপর সেই জুমু‘আহ থেকে পরের জুমু‘আহ পর্যন্ত আমাদের বৃষ্টি দেওয়া হয়।” আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “অতঃপর এক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বলেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, বাড়ি-ঘর সব ধ্বসে গেলো, গবাদি পশুগুলো ধ্বংস হয়ে গেলো!” তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাঁড়িয়ে বলেন, “ “হে আল্লাহ, টিলা, পর্বত, উপত্যকা, বৃক্ষ উৎপাদনের জায়গায় বৃষ্টি বর্ষন করুন।” রাবী বলেন, “অতঃপর মদীনার আকাশ কাপড়ের মতো পরিস্কার হয়ে যায়।”[1]



[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/১৯১; সহীহ বুখারী: ১০১৬; সহীহ মুসলিম: ৮৯৭; আবূ দাঊদ: ১১৭৫; নাসাঈ: ৩/১৬১; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/৩২২; সুনান বাইহাকী: ৩/৩৫৫; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ১১৬৬; মুসনাদ আহমাদ: ৩/২৫৬। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১০৬৬।)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1066)، «الإرواء» (2/ 144 / 416): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين









সহীহ ইবনু হিব্বান (2858)


2858 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ، وَعُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَا: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى الصَّنْعَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ: سَمِعْتُ عُبَيْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنِ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَخْطُبُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ، فَقَامَ إِلَيْهِ النَّاسُ فَصَاحُوا فَقَالُوا: يَا نَبِيَّ اللَّهِ قَحِطَ الْمَطَرُ، وَاحْمَرَّ الشَّجَرُ، وَهَلَكَتِ الْبَهَائِمُ، فَادْعُ اللَّهَ أَنْ يَسْقِيَنَا، [ص:106] فَقَالَ: «اللَّهُمَّ اسْقِنَا» قَالَ: وَايْمُ اللَّهِ مَا نَرَى فِي السَّمَاءِ قَزَعَةً مِنْ سَحَابٍ، قَالَ: فَنَشَأَتْ سَحَابَةٌ، فَانْتَشَرَتْ، ثُمَّ إِنَّهَا مَطَرَتْ، فَنَزَلَ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَصَلَّى، وَانْصَرَفَ فَلَمْ تَزَلْ تُمْطِرُ إِلَى الْجُمُعَةِ الْأُخْرَى، فَلَمَّا قَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَخْطُبُ، صَاحُوا وَقَالُوا: يَا نَبِيَّ اللَّهِ، تَهَدَّمَتِ الْبُيُوتُ، وَانْقَطَعَتِ السُّبُلُ، فَادْعُ اللَّهَ يَحْبِسْهَا عَنَّا، قَالَ: فَتَبَسَّمَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَقَالَ: «اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا، وَلَا عَلَيْنَا» قَالَ: فَتَقَشَّعَتْ عَنِ الْمَدِينَةِ فَجَعَلَتْ تُمْطِرُ حَوْلَهَا، وَمَا تَقْطُرُ بِالْمَدِينَةِ قَطْرَةً، قَالَ: فَنَظَرْتُ إِلَى الْمَدِينَةِ، وَإِنَّهَا لَفِي مِثْلِ الْإِكْلِيلِ
رقم طبعة با وزير = (2847)




আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জুমু‘আর খুতবা দিচ্ছিলেন, এমন সময় লোকজন দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলেন, “হে আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, অনাবৃষ্টি শুরু হয়েছে, গাছ-পালা লাল হয়ে গেছে আর গবাদি পশুগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে, অতএব আপনি আল্লাহর কাছে দু‘আ করুন, যেন তিনি আমাদেরকে পানি দান করেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, اللَّهُمَّ اسْقِنَا (হে আল্লাহ, আপনি আমাদেরকে পানি দান করুন।” আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আমরা আকাশে এক টুকরো মেঘও দেখছিলাম না। অতঃপর আকাশে মেঘ সৃষ্টি হয়। তারপর তা পানি বর্ষন করে। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিম্বার থেকে অবতরণ করেন এবং সালাত আদায় করেন অতঃপর চলে যান। তারপর সেই জুমু‘আহ থেকে পরের জুমু‘আহ পর্যন্ত বৃষ্টি হতে থাকে।” আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পরের জুমু‘আর খুতবা দিচ্ছিলেন, এমন সময় লোকজন দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলেন, “হে আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, বাড়ি-ঘর সব ধ্বসে গেছে, রাস্তা-ঘাটগুলো ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে গেছে! অতএব আপনি আল্লাহর কাছে দু‘আ করুন, যেন তিনি এই বৃষ্টি বন্ধ করেন।” আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুঁচকি হাসেন এবং বলেন, اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلَا عَلَيْنَا (হে আল্লাহ, আমাদের আশে-পাশে বৃষ্টি দিন; আমাদের উপর নয়)।” রাবী বলেন, “অতঃপর মদীনা থেকে বৃষ্টি সরে যায় এবং মদীনার আশ-পাশে বর্ষন হতে থাকে। মদীনায় এক ফোঁটা পানিও আর বর্ষন হয়নি।” রাবী বলেন, “অতঃপর মদীনার দিকে তাকিয়ে দেখেছি সেটা মুকুটের মতো (পরিষ্কার) ছিল।”[1]



[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/১৯১; সহীহ বুখারী: ১০১৬; সহীহ মুসলিম: ৮৯৭; আবূ দাঊদ: ১১৭৫; নাসাঈ: ৩/১৬১; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/৩২২; সুনান বাইহাকী: ৩/৩৫৫; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ১১৬৬; মুসনাদ আহমাদ: ৩/২৫৬। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১০৬৬)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1065): خ، م مختصراً.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (2859)


2859 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ السَّامِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ الْمَقَابِرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي حُمَيْدٌ الطَّوِيلُ، عَنِ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَحِطَ الْمَطَرُ عَامًا، فَقَامَ بَعْضُ الْمُسْلِمِينَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ قَحِطَ الْمَطَرُ، وَأَجْدَبَتِ الْأَرْضُ، وَهَلَكَ الْمَالُ، قَالَ: فَرَفَعَ يَدَيْهِ، وَمَا نَرَى فِي السَّمَاءِ سَحَابَةً، فَمَدَّ يَدَيْهِ حَتَّى رَأَيْتُ بَيَاضَ إِبْطَيْهِ، يَسْتَسْقِي اللَّهَ، فَمَا صَلَّيْنَا الْجُمُعَةَ حَتَّى أَهَمَّ الشَّابَّ الْقَرِيبَ الدَّارِ الرُّجُوعُ إِلَى أَهْلِهِ، فَدَامَتْ جُمُعَةً، فَلَمَّا كَانَتِ الْجُمُعَةُ الَّتِي تَلِيهَا قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ تَهَدَّمَتِ الْبُيُوتُ، وَاحْتَبَسَ الرُّكْبَانُ، قَالَ: فَتَبَسَّمَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، لِسُرْعَةِ مَلَالَةِ ابْنِ آدَمَ وَقَالَ بِيَدَيْهِ: «اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا، وَلَا عَلَيْنَا» قَالَ: فَتَكَشَّفَتْ عَنِ الْمَدِينَةِ
رقم طبعة با وزير = (2848)




আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “এক বছর অনাবৃষ্টি হয়। তখন কিছু লোক রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বলেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, অনাবৃষ্টি শুরু হয়েছে, জমিন অনুর্বর হয়ে গেছে, সহায়-সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেছে!” রাবী বলেন, “অতঃপর তিনি দুই হাত উঠান। এসময় আমরা আকাশে কোন মেঘ দেখছিলাম না। তিনি তাঁর দুই হাত এমনভাবে প্রসারিত করলেন যে, আমি তাঁর বগলের শুভ্রতা দেখতে পেলাম। তিনি আল্লাহর কাছে পানি প্রার্থনা করেন। অতঃপর আমরা জুমু‘আর সালাত শেষ করতে না করতেই (বৃষ্টিপাত শুরু হয়) এমনকি ‘বাড়ি নিকটে এমন যুবককে’ বাড়ি ফিরে যাওয়ার জন্য ব্যস্ত করে তোলে! তারপর পুরো এক সপ্তাহ বৃষ্টি হয়। অতঃপর যখন পরের জুমু‘আহ আসে, তখন এক ব্যক্তি বলেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, বাড়ি-ঘরগুলো ধ্বসে গেলো, (ব্যবসায়িক) কাফেলাগুলো স্থবির হয়ে গেছে!” রাবী বলেন, “তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আদম সন্তানের এতো তাড়াতাড়ি ক্লান্ত হওয়া দেখে মুঁচকি হাসেন। তিনি দুই হাত দিয়ে আকাশে ইশারা করে বলেন, اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلَا عَلَيْنَا (হে আল্লাহ, আমাদের আশে-পাশে বৃষ্টি দিন; আমাদের উপর নয়)।” রাবী বলেন, “অতঃপর মদীনা পরিস্কার হয়ে যায়।”[1]



[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/১৯১; সহীহ বুখারী: ১০১৫; সহীহ মুসলিম: ৮৯৭; আবূ দাঊদ: ১১৭৪; নাসাঈ: ৩/১৬৫-১৬৬; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/৩২২; সুনান বাইহাকী: ৩/৩৫৫; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ১১৬৮; মুসনাদ আহমাদ: ৩/১০৪। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (ইরওয়াউল গালীল: ২/১৪৪-১৪৫।)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الإرواء» (2/ 144 - 145)، «التعليق على صحيح ابن خزيمة» (1789).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (2860)


2860 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ زُهَيْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا طَاهِرُ بْنُ خَالِدِ بْنِ نِزَارٍ الْأَيْلِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي، قَالَ: حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ مَبْرُورٍ، عَنْ يُونُسَ بْنِ يَزِيدَ الْأَيْلِيِّ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: شَكَا النَّاسُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَحْطَ الْمَطَرُ، فَأَمَرَ بِالْمِنْبَرِ، فَوُضِعَ لَهُ فِي الْمُصَلَّى، وَوَعَدَ النَّاسَ يَوْمًا يَخْرُجُونَ فِيهِ، قَالَتْ عَائِشَةُ: فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، حِينَ بَدَا حَاجِبُ الشَّمْسِ، فَقَعَدَ عَلَى الْمِنْبَرِ، فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَيْ عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: «إِنَّكُمْ شَكَوْتُمْ جَدْبَ جِنَانِكُمْ، وَاحْتِبَاسَ الْمَطَرِ عَنْ إِبَّانِ زَمَانِهِ عَنْكُمْ، وَقَدْ أَمَرَكُمُ اللَّهُ أَنْ تَدَعُوهُ، وَوَعَدَكُمْ أَنْ يَسْتَجِيبَ لَكُمْ» ثُمَّ قَالَ: «{الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ}، لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، تَفْعَلُ مَا تُرِيدُ، اللَّهُمَّ أَنْتَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، الْغَنِيُّ وَنَحْنُ الْفُقَرَاءُ، أَنْزِلْ عَلَيْنَا الْغَيْثَ، وَاجْعَلْ مَا أَنْزَلْتَ لَنَا قُوَّةً، وَبَلَاغًا إِلَى خَيْرٍ»، ثُمَّ رَفَعَ يَدَيْهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى رَأَيْنَا بَيَاضَ إِبْطَيْهِ، ثُمَّ حَوَّلَ إِلَى النَّاسِ ظَهْرَهُ، وَقَلَبَ - أَوْ حَوَّلَ رِدَاءَهُ وَهُوَ رَافِعٌ يَدَيْهِ - ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ، وَنَزَلَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ، فَأَنْشَأَ اللَّهُ سَحَابًا فَرَعَدَتْ، وَأَبْرَقَتْ، وَأَمْطَرَتْ بِإِذْنِ اللَّهِ، فَلَمْ نَلْبَثْ فِي مَسْجِدِهِ حَتَّى سَالَتِ السُّيُولُ، فَلَمَّا رَأَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، لَثَقَ [ص:110] الثِّيَابِ عَلَى النَّاسِ، ضَحِكَ حَتَّى بَدَتْ نَوَاجِذُهُ، وَقَالَ: «أَشْهَدُ أَنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، وَإِنِّي عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ»
رقم طبعة با وزير = (2849)




আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “লোকেরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে অনাবৃষ্টির অভিযোগ করলে তিনি ঈদগাহে মিম্বার স্থাপনের নির্দেশ দিলেন, অতঃপর মিম্বার স্থাপন করা হলো। তিনি মানুষদেরকে একদিন বের হওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতি দিলেন। আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বের হলেন, যখন সূর্য কিনারা প্রকাশ পায়, তারপর তিনি মিম্বারের উপর বসলেন, আল্লাহর প্রশংসা ও গুণকীর্তন করলেন, তারপর তিনি বললেন, “নিশ্চয়ই তোমরা তোমাদের বাগানের (জন্য) অনাবৃষ্টি এবং বৃষ্টির সময়ে বৃষ্টি না হওয়ার অভিযোগ করেছো, আর আল্লাহ আদেশ করেছেন তাঁর কাছে দু‘আ করতে এবং তিনি তোমাদের কাছে ওয়াদা করেছেন তোমাদের দু‘আ করার জন্য।” রাবী বলেন, “তারপর তিনি বলেন, الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ * الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ * مَالِكِ يَوْمِ الدين (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি জগৎসমূহের প্রতিপালক। তিনি সর্বদয়ালূ, সবিশেষ করুণাময়। প্রতিফল দিবসের অধিপতি - সূরা ফাতিহা: ২-৪) আপনি ছাড়া প্রকৃত কোন মা‘বূদ নেই, আপনি যা ইচ্ছা করেন, তা সম্পাদন করেন। হে আল্লাহ, আপনি আল্লাহ, আপনি ছাড়া প্রকৃত কোন মা‘বূদ নেই, আপনি ধনী আর আমরা দরিদ্র। আপনি আমাদের উপর বৃষ্টির পানি বর্ষন করুন, আর আপনি যা অবতীর্ণ করবেন, তা আমাদের জন্য শক্তি এবং নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পর্যাপ্ত করে দিন।” তারপর তিনি তাঁর দুই হাত উঠান এমনকি আমরা তাঁর দুই বগলের শুভ্রতা দেখতে পেলাম। তারপর তিনি তাঁর পিঠকে মানুষের দিকে ফেরালেন এবং হাত উঠানো অবস্থাতেই তাঁর চাদর পরিবর্তন বা উল্টিয়ে নিলেন। অতঃপর তিনি মানুষের অভিমুখী হলেন, মিম্বার থেকে নামলেন, অতঃপর দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করলেন। তারপর মহান আল্লাহ মেঘ সৃষ্টি করলেন, মেঘ গর্জন করলো, বিদ্যুৎ চমকালো এবং আল্লাহর অনুমতিতে বৃষ্টিপাত হলো। এমনকি তিনি সালাতের স্থানে অবস্থান করতেই বৃষ্টিতে প্লাবিত হয়ে গেলো। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন দেখলেন মানুষ নিজেদের উপর কাপড় জড়িয়ে নিচ্ছে, তখন তিনি মৃদু হাসলেন এমনকি তাঁর সামনের দাঁতগুলো প্রকাশ পেয়ে গেলো। তিনি বলেন, “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান, আর আমি আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।”[1]



[1] আবূ দাঊদ: ১১৭৩; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/৩২৫; সুনান বাইহাকী: ৩/৩৪৯; হাকিম: ১/৩২৮। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১০৬৪।)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - وهو مكرر (987). تنبيه!! رقم (987) = (991) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن