হাদীস বিএন


সহীহ ইবনু হিব্বান





সহীহ ইবনু হিব্বান (2881)


2881 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ، عَنْ أَشْعَثَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، «صَفَّهُمْ صَفَّيْنِ، فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ بِالصَّفِّ الَّذِي يَلِيهِ، ثُمَّ سَلَّمَ، وَتَأَخَّرُوا، وَتَقَدَّمَ الْآخَرُونَ، فَصَلَّى بِهِمْ [ص:136] رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ سَلَّمَ، فَكَانَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ وَلِلْمُسْلِمِينَ رَكْعَتَيْنِ رَكْعَتَيْنِ»
رقم طبعة با وزير = (2870)




আবূ বাকরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (ভীতিকালীন সালাত আদায় করার জন্য) তাদেরকে দুই দলে বিভক্ত করেন। তারপর তিনি কাছের দলের সাহাবীদের নিয়ে দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করেন। তারপর তিনি সালাম ফেরান। তারা পিছনে চলে যান আর অন্য দলের সাহাবীগণ সামনে আসেন। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের নিয়ে দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করেন। তারপর সালাম ফেরান। ফলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চার রাকা‘আত আর সাহাবীদের দুই দুই রাকা‘আত সালাত হয়।”[1]



[1] দারাকুতনী: ২/৬১; সুনান বাইহাকী: ৩/২৫৯; নাসাঈ: ৩/১৭৯; মুসনাদ আহমাদ: ৫/৩৯; আবূ দাউদ: ১২৪৮; তাহাবী: ১/৩১৫; আত তায়ালিসী: ৮৭৭। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাউদ: ১১৩৫)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1135).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: رجاله ثقات رجال الصحيح غير أشعث وهو ابن عبد الملك الحمراني فإنه ثقة روى له أصحاب السنن









সহীহ ইবনু হিব্বান (2882)


2882 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ الْيَشْكُرِيِّ، أَنَّهُ سَأَلَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ إِقْصَارِ الصَّلَاةِ فِي الْخَوْفِ، أَيْنَ أُنْزِلَ وَأَيْنَ هُوَ؟ فَقَالَ: خَرَجْنَا نَتَلَقَّى عِيرًا لِقُرَيْشٍ أَتَتْ مِنَ الشَّامِ حَتَّى إِذَا كُنَّا بِنَخْلٍ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَسَيْفُهُ [ص:137] مَوْضُوعٌ، فَقَالَ: أَنْتَ مُحَمَّدٌ؟ قَالَ: «نَعَمْ»، قَالَ: أَمَا تَخَافُنِي؟ قَالَ: «لَا»، قَالَ: فَمَنْ يَمْنَعُكَ مِنِّي؟، قَالَ: «اللَّهُ يَمْنَعُنِي مِنْكَ»، قَالَ: فَسَلَّ سَيْفَهُ، وَتَهَدَّدَهُ الْقَوْمُ وَأَوْعَدُوهُ، فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، النَّاسَ بِالرَّحِيلِ وَبِأَخْذِ السِّلَاحِ، ثُمَّ نَادَى بِالصَّلَاةِ، فَصَلَّتْ طَائِفَةٌ خَلْفَهُ، وَطَائِفَةٌ تَحْرُسُ مُقْبِلِينَ عَلَى الْعَدُوِّ، فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالطَّائِفَةِ الَّتِي مَعَهُ رَكْعَتَيْنِ، وَأَقْبَلَتِ الطَّائِفَةُ الْأُخْرَى فَقَامَتْ فِي مَصَافِّ الَّذِينَ صَلَّوْا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَحَرَسَتِ الطَّائِفَةُ الَّذِينَ صَلَّوْا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَهُمْ مُقْبِلُونَ عَلَى الْعَدُوِّ، فَصَلَّى بِهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، رَكْعَتَيْنِ، فَصَارَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرْبَعًا وَلِأَصْحَابِهِ رَكْعَتَيْنِ
رقم طبعة با وزير = (2871)




সুলাইমান আল ইয়াশকুরী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, তিনি জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে ভীতিকালীন সময়ে সালাত কসর করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন, “এটি কোথায় অবতীর্ণ হয় এবং তিনি কোথায় ছিলেন?” তখন তিনি জবাবে বলেন, “আমরা কুরাইশদের একটি বানিজ্যিক কাফেলাকে ধরতে বের হই, যারা শাম থেকে আসছিল। যখন আমরা নাখল নামক জায়গায় যাই, তখন এক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসে। এসময় তিনি তরবারী রেখে দিয়েছিলেন। সেই ব্যক্তি বললো, “আপনি মুহাম্মাদ?” তিনি জবাবে বলেন, “হ্যাঁ।” সেই ব্যক্তি বলে, “আপনি কি আমাকে ভয় পান না?” তিনি জবাব দিলেন, “না।” সে বললো, “তবে আমার থেকে আপনাকে কে রক্ষা করবে?” তিনি জবাব দিলেন, “আল্লাহ আমাকে তোমার থেকে রক্ষা করবেন।” রাবী বলেন, “তারপর সে তার তরবারী কোষমু্ক্ত করে। এসময় সাহাবীগণ তাকে ধমকায় এবং ভীতি প্রদর্শন করেন। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে তাকে ও তরবারীকে নিয়ে যেতে বলেন। তারপর সালাতের ঘোষনা দেন। অতঃপর একদল তাঁর পিছনে সালাত আদায় করেন আরেক দল শত্রুর মুখোমুখী হয়ে পাহারায় থাকেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাথের সাহাবীদের নিয়ে দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করেন। তারপর অন্য দল আসে, তারা এসে সেই জায়গায় দাঁড়ান, যেখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথের সাহাবীগণ সালাত আদায় করেছেন। আর যারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সালাত আদায় করেছেন, তারা পাহারা দেওয়ার জন্য যান। তারা শত্রুর মুখোমুখী হন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের নিয়ে দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করেন। ফলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চার রাকা‘আত আর তাঁর সাহাবীদের দুই রাকা‘আত সালাত হয়।”[1]



[1] তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/৩১৭; তাফসীরে তাবারী: ১০৩২৫। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাউদ: ১১৬৪)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1164).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح رجاله رجال الشيخين غير سليمان وهو ابن قيس اليشكري لم يخرجا له وهو ثقة









সহীহ ইবনু হিব্বান (2883)


2883 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: قَاتَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، مُحَارِبَ خَصَفَةَ بِنَخْلٍ، فَرَأَوْا مِنَ الْمُسْلِمِينَ غِرَّةً، فَجَاءَ رَجُلٌ مِنْهُمْ، يُقَالُ لَهُ: عَوْفُ بْنُ الْحَارِثِ - أَوْ غَوْرَثُ بْنُ الْحَارِثِ - حَتَّى قَامَ عَلَى رَأْسِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، بِالسَّيْفِ، فَقَالَ: مَنْ يَمْنَعُكَ مِنِّي؟ قَالَ: «اللَّهُ»، قَالَ: فَسَقَطَ السَّيْفُ مِنْ يَدِهِ، فَأَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ السَّيْفَ، فَقَالَ لَهُ: «مَنْ يَمْنَعُكَ مِنِّي»، قَالَ: كُنَّ خَيْرًا مِنِّي، قَالَ: «تَشَهَّدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ؟ » قَالَ: لَا، وَلَكِنْ أُعَاهِدُكَ عَلَى أَنْ لَا أُقَاتِلَكَ وَلَا أَكُونَ مَعَ قَوْمٍ يُقَاتِلُونَكَ، قَالَ: فَخَلَّى سَبِيلَهُ، فَجَاءَ إِلَى أَصْحَابِهِ، فَقَالَ: جِئْتُكُمْ مِنْ عِنْدِ خَيْرِ النَّاسِ، فَلَمَّا كَانَ عِنْدَ الظُّهْرِ أَوِ الْعَصْرِ - شَكَّ أَبُو عَوَانَةَ - أَمَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، بِصَلَاةِ الْخَوْفِ قَالَ: فَكَانَ النَّاسُ طَائِفَتَيْنِ: طَائِفَةً بِإِزَاءِ الْعَدُوِّ، وَطَائِفَةً يُصَلُّونَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَصَلَّى بِالطَّائِفَةِ الَّذِينَ مَعَهُ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ انْصَرَفُوا، فَكَانُوا مَكَانَ أُولَئِكَ، وَجَاءَ أُولَئِكَ فَصَلَّوْا [ص:139] مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، رَكْعَتَيْنِ، فَكَانَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرْبَعُ رَكَعَاتٍ وَلِلْقَوْمِ رَكْعَتَانِ
رقم طبعة با وزير = (2872)




জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নাখলের মুহারিবে খাসাফায় যুদ্ধ করেন। শত্রুরা মুসলিমদের উপর গুপ্ত হামলা করার পরিকল্পনা করে। অতঃপর তাদের মাঝে এক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসে। তার নাম আওফ বিন হারিস অথবা গাওরাস বিন হারিস। সে তরবারী নিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাথার কাছে এসে দাঁড়ায়। অতঃপর বলে, “আমার থেকে আপনাকে কে রক্ষা করবে?” তিনি জবাব দিলেন, “আল্লাহ (আমাকে তোমার থেকে রক্ষা করবেন)।” রাবী বলেন, “তারপর তার হাত থেকে তরবারী পড়ে যায়। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তরবারীটি হাতে নিয়ে বলেন, “আমার থেকে তোমাকে কে রক্ষা করবে?” সে বললো, “আপনি আমার চেয়ে উত্তম ব্যক্তি হন।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তুমি কি সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা‘বূদ নেই?” সে বলে, “না।” কিন্তু আমি আপনার কাছে অঙ্গিকার করছি যে, আমি আপনার সাথে যুদ্ধ করবো না। এবং আমি সেসব লোকদের সাথেও থাকবো না, যারা আপনার সাথে যুদ্ধ করে।” রাবী বলেন, “অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার পথ ছেড়ে দেন। তারপর সে তার সঙ্গীদের কাছে এসে বলে, “আমি একজন উত্তম মানুষের কাছ থেকে আসলাম। তারপর যখন যোহর কিংবা আসরের সালাতের সময় হয় –আবূ আওয়ানা এরকম সন্দেহের ভিত্তিতে হাদীস বর্ণনা করেছেন-, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভীতিকালীন সালাত আদায় করার নির্দেশ দেন। রাবী বলেন, “অতঃপর সাহাবীগণ দুই দলে ভাগ হন; একদল শত্রুর মুখোমুখী অবস্থান নেন, আরেক দল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সালাত আদায় করেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাথের সাহাবীদের নিয়ে দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করেন। তারপর তারা চলে যান। অতঃপর তারা ঐ দলের জায়াগায় যান (যারা শত্রুর মুখোমুখী ছিলেন)। আর ঐ দলের সাহাবীগণ আসেন এবং তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করেন। ফলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চার রাকা‘আত আর তাঁর সাহাবীদের দুই রাকা‘আত সালাত হয়।”[1]



[1] তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/৩১৭; তাফসীরে তাবারী: ১০৩২৫। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাউদ: ১১৬৪)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - المصدر نفسه.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: رجاله ثقات إلا أنه منقطع









সহীহ ইবনু হিব্বান (2884)


2884 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَفَّانُ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبَانُ بْنُ يَزِيدَ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: «أَقْبَلْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، حَتَّى إِذْ كُنَّا بِذَاتِ الرِّقَاعِ، نُودِيَ: الصَّلَاةُ جَامِعَةٌ، فَصَلَّى بِطَائِفَةٍ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ تَأَخَّرُوا، وَصَلَّى بِالطَّائِفَةِ الْأُخْرَى رَكْعَتَيْنِ، فَكَانَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرْبَعُ رَكَعَاتٍ، وَلِلْقَوْمِ رَكْعَتَانِ»
رقم طبعة با وزير = (2873)




জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে আগমন করি। অতঃপর যখন আমরা যাতুর রিকা নামক জায়গায় আসি, তখন ঘোষনা দেওয়া হয়, الصَّلَاةُ جَامِعَةٌ (জামা‘আতে সালাত অনুষ্ঠিত হবে)। তারপর তিনি একদলকে নিয়ে দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করেন। তারপর তারা চলে যান। অতঃপর তিনি আরেক দলকে নিয়ে দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করেন। ফলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চার রাকা‘আত আর সাহাবীদের দুই রাকা‘আত সালাত হয়।”[1]



[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ২/৪৬৪-৪৬৫; সহীহুল ‍বুখারী: ৪১৩৬; সহীহ মুসলিম: ৮৪৩; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৩৬৪; বাগাবী: ১০৯৫; সুনান বাইহাকী: ৩/২৫৯; তাহাবী: ১/৩১৫; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৩৫৩। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাউদ: ১১৬৪)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: م (2/ 204).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده على شرطهما









সহীহ ইবনু হিব্বান (2885)


2885 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو يَحْيَى مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ صَاعِقَةُ قَالَ: حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، وَمَالِكٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ صَالِحِ بْنِ خَوَّاتٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ، أَنَّهُ قَالَ: «فِي صَلَاةِ الْخَوْفِ تَقُومُ طَائِفَةٌ وَرَاءَ الْإِمَامِ وَطَائِفَةٌ خَلْفَهُ، فَيُصَلِّي بِالَّذِينَ خَلْفَهُ رَكْعَةً وَسَجْدَتَيْنِ، ثُمَّ يَقْعُدُ مَكَانَهُ حَتَّى يَقْضُوا رَكْعَةً وَسَجْدَتَيْنِ، ثُمَّ يَتَحَوَّلُونَ إِلَى مَكَانِ أَصْحَابِهِمْ، ثُمَّ يَتَحَوَّلُ أَصْحَابُهُمْ إِلَى مَكَانِ هَؤُلَاءِ فَيُصَلِّي بِهِمْ رَكْعَةً وَسَجْدَتَيْنِ، ثُمَّ يَقْعُدُ مَكَانَهُ حَتَّى يُصَلُّوا [ص:141] رَكْعَةً وَسَجْدَتَيْنِ، ثُمَّ يُسَلِّمُ».
رقم طبعة با وزير = (2874)




সাহল বিন আবূ হাসমাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি ভীতিকালীন সালাত সম্পর্কে বলেন, “একদল ইমামের পিছনে দাঁড়াবে, আরেক দল তার পিছনে দাঁড়াবে। অতঃপর তার পিছনের মুসল্লীদের নিয়ে একটি রুকূ‘ ও দুটি সাজদা করবেন। তারপর তিনি নিজ স্থানে বসে থাকবেন, যাতে মুসল্লীরা আরেক রুকূ ও দুই সাজদা করে নিতে পারে। তারপর তারা তাদের অপর সঙ্গীদের জায়গায় যাবেন, তারা এদের জায়গায় আসবেন। অতঃপর ইমাম তাদের নিয়ে এক রুকূ‘ ও দুটি সাজদা করবেন। তারপর তিনি নিজ স্থানে বসে থাকবেন, যাতে পিছনের মুসল্লীরা আরেক রুকূ‘ ও দুটি সাজদা করে নিতে পারে। তারপর তিনি সালাম ফেরাবেন।”[1]



[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৩৫৮; মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/১৮৩-১৮৪; আবূ দাঊদ: ১২৩৯; সুনান বাইহাকী: ৩/২৫৪; তাহাবী: ১/৩১৩; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৪৪৮; তাবারানী: ৫৬৩১; তিরমিযী: ৫৬৫; দারেমী: ১/৩৫৮; ইবনু মাজাহ: ১২৫৯; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ২/৪৬৬; সহীহুল বুখারী: ৪১৩১। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাউদ: ১১২৮)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1128): خ.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط البخاري









সহীহ ইবনু হিব্বান (2886)


2886 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ، فِي عَقِبِهِ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ، قَالَ: حَدَّثَنَا رَوْحٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنِ الْقَاسِمِ، عَنْ صَالِحِ بْنِ خَوَّاتٍ، [ص:142] عَنْ سَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَ هَذَا
رقم طبعة با وزير = (2875)




সাহল বিন আবূ হাসমাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে অনুরুপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।”[1]



[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৩৫৮; মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/১৮৩-১৮৪; আবূ দাঊদ: ১২৩৯; সুনান বাইহাকী: ৩/২৫৪; তাহাবী: ১/৩১৩; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৪৪৮; তাবারানী: ৫৬৩১; তিরমিযী: ৫৬৫; দারেমী: ১/৩৫৮; ইবনু মাজাহ: ১২৫৯; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ২/৪৬৬; সহীহুল বুখারী: ৪১৩১। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাউদ: ১১২৮)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر ما قبله.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط البخاري









সহীহ ইবনু হিব্বান (2887)


2887 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ قَحْطَبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فِي صَلَاةِ الْخَوْفِ يَقُومُ الْإِمَامِ وَطَائِفَةٌ مِنَ النَّاسِ مَعَهُ فَيَسْجُدُونَ سَجْدَةً وَاحِدَةً، وَتَكُونُ طَائِفَةٌ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ الْعَدُوِّ، ثُمَّ يَنْصَرِفُ الَّذِينَ سَجَدُوا سَجْدَةً مَعَ الْإِمَامِ، وَيَكُونَونَ مَكَانَ الَّذِينَ لَمْ يُصَلُّوا، وَيَجِيءُ أُولَئِكَ فَيُصَلُّونَ مَعَ إِمَامِهِمْ سَجْدَةً وَاحِدَةً، ثُمَّ يَنْصَرِفُ إِمَامُهُمْ فَيُصَلِّي كُلُّ وَاحِدٍ مِنَ الطَّائِفَتَيْنِ بِصَلَاتِهِ سَجْدَةً وَاحِدَةً، فَإِنْ كَانَ خَوْفًا أَشَدَّ مِنْ ذَلِكَ فَرِجَالًا أَوْ رُكْبَانًا»
رقم طبعة با وزير = (2876)




আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভীতিকালীন সালাত সম্পর্কে বলেন, “ইমাম সালাতে দাঁড়াবে, তার সাথে একদল লোক দাঁড়াবে। অতঃপর তারা এক রাকা‘আত সালাত আদায় করবে। আরেকদল মুসলিমদের ও শত্রুদের মাঝে অবস্থান নিবে। তারপর যারা ইমামের সাথে এক রাকা‘আত সালাত আদায় করেছেন, তারা চলে ঐ দলের জায়গায় যাবে, যারা সালাত আদায় করেনি। আর তারা এসে ইমামের সাথে এক রাকা‘আত সালাত আদায় করবে। তারপর ইমাম সালাম ফেরাবেন। অতঃপর দুই দলের প্রত্যেকেই আরেক রাকা‘আত সালাত আদায় করবে। যদি ভীতি এই চেয়ে মারাত্নক হয়, তবে তারা বাহনে চড়ে অথবা পদব্রজ অবস্থায় সালাত আদায় করবে।”[1]



[1] ইবনু মাজাহ: ১২৫৮; সহীহ মুসলিম: ৮৩৯; নাসাঈ: ৩/১৭৩; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ২/৪৬৪; সুনান বাইহাকী: ৩/২৬০-২৬১; তাহাবী: ১/৩১২; মুসনাদ আহমাদ: ২/১৩২; সহীহুল বুখারী: ৯৪৩; মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/১৮৪; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৯৮০; বাগাবী: ১০৯৮। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাউদ: ১১৩২)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1132): م.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: Null









সহীহ ইবনু হিব্বান (2888)


2888 - أَخْبَرَنَا ابْنُ خُزَيْمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحِيمِ الْبَرْقِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ الْهَادِ، قَالَ: حَدَّثَنِي شُرَحْبِيلُ أَبُو سَعْدٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي صَلَاةِ الْخَوْفِ قَالَ: «قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَطَائِفَةٌ مِنْ خَلْفِهِ، وَطَائِفَةٌ مِنْ وَرَاءِ الَّتِي خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قُعُودٌ وَوُجُوهُهُمْ كُلُّهُمْ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَكَبَّرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَكَبَّرَتِ الطَّائِفَتَانِ، فَرَكَعَ وَرَكَعَتِ الطَّائِفَةُ الَّتِي خَلْفَهُ وَالْأُخْرَى قُعُودٌ، ثُمَّ سَجَدَ وَسَجَدُوا أَيْضًا وَالْآخَرُونَ قُعُودٌ، ثُمَّ قَامَ فَقَامُوا وَنَكَصُوا خَلْفَهُمْ حَتَّى كَانُوا مَكَانَ أَصْحَابِهِمْ قُعُودًا، وَأَتَتِ الطَّائِفَةُ الْأُخْرَى فَصَلَّى بِهِمْ رَكْعَةً [ص:145] وَسَجْدَتَيْنِ وَالْآخَرُونَ قُعُودٌ، ثُمَّ سَلَّمَ، فَقَامَتِ الطَّائِفَتَانِ كِلْتَاهُمَا، فَصَلُّوا لِأَنْفُسِهِمْ رَكْعَةً وَسَجْدَتَيْنِ».
رقم طبعة با وزير = (2877) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «هَذِهِ الْأَخْبَارُ لَيْسَ بَيْنَهَا تَضَادٌ وَلَا تَهَاتُرٌ، وَلَكِنَّ الْمُصْطَفَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، صَلَّى صَلَاةَ الْخَوْفِ مِرَارًا فِي أَحْوَالٍ مُخْتَلِفَةٍ بِأَنْوَاعٍ مُتَبَايِنَةٍ عَلَى حَسَبِ مَا ذَكَرْنَاهَا، أَرَادَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، بِهِ تَعْلِيمِ أُمَّتِهِ صَلَاةَ الْخَوْفِ، أَنَّهُ مُبَاحٌ لَهُمْ أَنْ يُصَلُّوا أَيَّ نَوْعٍ مِنَ الْأَنْوَاعِ التِّسْعَةِ الَّتِي صَلَّاهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْخَوْفِ عَلَى حَسَبِ الْحَاجَةِ إِلَيْهَا، وَالْمَرْءُ مُبَاحُ لَهُ أَنْ يُصَلِّيَ مَا شَاءَ عِنْدَ الْخَوْفِ مِنْ هَذِهِ الْأَنْوَاعِ الَّتِي ذَكَرْنَاهَا، إِذْ هِيَ مِنَ اخْتِلَافِ الْمُبَاحِ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَكُونَ بَيْنَهَا تَضَادٌ أَوْ تَهَاتُرٌ»




জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে ভীতিকালীন সালাতের বিবরণ সম্পর্কে বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাতে দাঁড়ান, তাঁর পিছনে একদল সাহাবীও দাঁড়ান। আরেক দল সাহাবী তাদের পিছনে তাঁর দিকে মুখ করে বসে থাকেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকবীর দিলে দুই সাহাবীর সবাই তাকবীর দেন। তারপর তিনি রুকূ‘ করলে, তাঁর পিছনের সাহাবীগণও রুকূ‘ করেন। আর তাদের পিছনে যারা ছিলেন, তারা বসেই থাকেন। তারপর তিনি সাজদা করলে, তারাও সাজদা করেন। অপর দল বসে থাকেন। তারপর তিনি দাঁড়ালে তারাও দাঁড়ান। অতঃপর তারা পিছনে যান, এভাবে তারা তাদের বসা সঙ্গীদের জায়গায় যান। আর অন্য দলের সাহাবীগণ (যারা পিছনে বসা ছিলেন), তারা সামনে আসেন। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের নিয়ে এক রুকূ‘ ও দুই সাজদা করেন। আর পিছনের দলের সাহাবীগণ বসে থাকেন। তারপর তিনি সালাম ফেরান। অতঃপর দুই দলের সবাই দাঁড়িয়ে নিজে নিজে এক রুকূ‘ ও দুই সাজদা করেন।”[1] আবূ হাতিম ইবনু ‍হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এসব হাদীসগুলোর মাঝে কোন বৈপরীত্ব নেই। বরং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিভিন্ন অবস্থায় বিভিন্নভাবে সালাত আদায় করেছেন, যা আমরা বর্ণনা করেছি। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো উম্মতকে এই শিক্ষা দেওয়া যে, প্রয়োজন অনুপাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে নয় পন্থায় সালাত আদায় করেছেন, সেসবের মধ্যে যে কোন এক ভাবে সালাত আদায় করা যায়। আমরা যেসব পন্থা উল্লেখ করেছি, তার যে কোন এক পন্থায় ভীতিকালীন সালাত আদায় ব্যক্তির জন্য বৈধ। কেননা এসব বিভিন্নতার সবগুলোই বৈধ। এসবের মাঝে কোন বৈপরীত্ব নেই।”



[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৩৫১; তাহাবী: ১/৩১৮; হাকিম: ১/৩৩৬। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাউদ: ১১৩৩ নং হাদীসের আওতাভুক্ত)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: منكر - «ضعيف أبي داود» تحت الحديث (1133).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده ضعيف









সহীহ ইবনু হিব্বান (2889)


2889 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ الْفَضْلِ الْكَلَاعِيُّ، بِحِمْصَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، قَالَ: وَلَا أَعْلَمُ إِلَّا أَنَّ أَبَا عَمْرٍو حَدَّثَنَا بِحَدِيثٍ، حَدَّثَنَا بِهِ شَيْبَانُ أَبُو مُعَاوِيَةَ، وَغَيْرُهُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ جَاءَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْلَةَ الْخَنْدَقِ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا كِدْتُ أُصَلِّي الْعَصْرَ حَتَّى كَادَتِ الشَّمْسُ أَنْ تَغْرُبَ وَذَلِكَ بَعْدَمَا أَفْطَرَ الصَّائِمُ قَالَ: «وَاللَّهِ مَا صَلَّيْنَاهَا بَعْدُ» قَالَ: فَنَزَلَ إِلَى بُطْحَانَ وَأَنَا مَعَهُ فَتَوَضَّأَ، ثُمَّ صَلَّى الْعَصْرَ بَعْدَمَا غَرَبَتِ الشَّمْسُ وَبَعْدَمَا أَفْطَرَ الصَّائِمُ
رقم طبعة با وزير = (2878)




উমার বিন খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি খন্দক যুদ্ধের রাতে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বলেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত আমি আসরের সালাত আদায় করতে পারি নাই। তিনি এটা সিয়াম পালনকারী ব্যক্তির ইফতার করার পর বলেছেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আল্লাহর কসম, আমরা এখনও তা আদায় করিনি।” রাবী বলেন, “তারপর তিনি বুতহান নামক অবতরণ করেন। এসময় আমি তাঁর সাথে ছিলাম। তিনি সূর্য অস্ত যাওয়ার সিয়াম পালনকারী ব্যক্তির ইফতার করার পর আসরের সালাত আদায় করেছেন।”[1]



[1] সহীহুল বুখারী: ৬৪১; সহীহ মুসলিম: ৬৩১; তিরমিযী: ১৮০; নাসাঈ: ৩/৮৪; বাগাবী: ৩৯৬। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ২৮৭৮)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (2890)


2890 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْمَقْبُرِيُّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: «حُبِسْنَا يَوْمَ الْخَنْدَقِ حَتَّى كَانَ بَعْدَ الْمَغْرِبِ، وَذَلِكَ قَبْلَ أَنْ يَنْزِلَ فِي الْقِتَالِ، فَلَمَّا كُفِينَا الْقِتَالَ، وَذَلِكَ قَوْلُ اللَّهِ جَلَّ وَعَلَا {وَكَفَى اللَّهُ الْمُؤْمِنِينَ الْقِتَالَ وَكَانَ اللَّهُ قَوِيًّا عَزِيزًا} [الأحزاب: 25] أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِلَالًا فَأَقَامَ الظُّهْرَ، فَصَلَّى كَمَا كَانَ يُصَلِّيهَا فِي وَقْتِهَا، ثُمَّ أَقَامَ الْعَصْرَ، فَصَلَّاهَا كَمَا كَانَ يُصَلِّيهَا فِي وَقْتِهَا، ثُمَّ أَقَامَ الْمَغْرِبَ، فَصَلَّى كَمَا كَانَ [ص:148] يُصَلِّيهَا فِي وَقْتِهَا»
رقم طبعة با وزير = (2879)




আবূ সা‘ঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “খন্দক যুদ্ধের দিন আমরা মাগরিবের পর পর্যন্ত (যু্দ্ধে) ব্যতি-ব্যস্ত থাকি। এটা যুদ্ধ সম্পর্কে আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার আগের ঘটনা। তারপর যখন আল্লাহ আমাদের জন্য যথেষ্ট হয়ে যায়, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হয়, আল্লাহর এই বাণী, وَكَفَى اللَّهُ الْمُؤْمِنِينَ الْقِتَالَ وَكَانَ اللَّهُ قَوِيًّا عَزِيزًا (যুদ্ধের ক্ষেত্রে মুমিনদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। আল্লাহ শক্তিশালী, পরাক্রমশালী।–সূরা আহযাব: ২৫), তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিলাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে আদেশ করেন, তিনি যোহরের ইকামত দেন। অতঃপর তিনি সেই সালাত আদায় করেন, যেভাবে তিনি যথাসময়ে আাদায় করেন। তারপর তিনি আসরের ইকামত দেন। অতঃপর আসরের সালাত আদায় করেন, যেভাবে তিনি যথাসময়ে আদায় করতেন। তারপর তিনি মাগরিবের সালাতের ইকামত দেন। অতঃপর মাগরিবের সালাত আদায় করেন, যেভাবে তিনি যথাসময়ে আদায় করতেন।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ৩/২৫; নাসাঈ: ২/১৭; দারেমী: ১/৩৫৮; আবূ ইয়ালা: ১২৯৬; সুনান বাইহাকী: ১/৪০২-৪০৩; আত তায়ালিসী: ২২৩১। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (ইরওয়াউল গালীল: ১/২৫৭)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الإرواء» (1/ 257)، «التعليق على ابن خزيمة» (974 و 996).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (2891)


2891 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْحَارِثِ الْمَرْوَزِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَبِي أُنَيْسَةَ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ زِرِّ بْنِ حُبَيْشٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ يَوْمَ الْخَنْدَقِ: «شَغَلُونَا عَنِ صَلَاةِ الْعَصْرِ، مَلَأَ اللَّهُ قُبُورَهُمْ وَبُيُوتَهُمْ [ص:149] نَارًا» قَالَ: وَلَمْ يُصَلِّهَا يَوْمَئِذٍ حَتَّى غَابَتِ الشَّمْسُ
رقم طبعة با وزير = (2880)




হুযাইফা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি খন্দক যুদ্ধের দিন বলেছেন, “ওরা আমাদেরকে আসরের সালাত থেকে বিরত রেখেছে, আল্লাহ ওদের কবর ও গৃহগুলোকে আগুনে পূর্ণ করে দিন।” রাবী বলেন, “সেদিন তিনি সূর্য অস্ত যাওয়া অবধি আসরের সালাত আদায় করতে পারেননি।”[1]



[1] বাযযার: ৩৮৮; হাইসামী, মাজমা‘উয যাওয়াইদ: ১/৩০৯; সহীহুল বুখারী: ২৯৩১; সহীহ মুসলিম: ৬২৭; তিরমিযী: ২৯৮৪; আবূ দাঊদ: ৪০৯; নাসাঈ: ১/২৩৬; ইবনু মাজাহ: ৬৮৪; মুসনাদ আহমাদ: ১/৭৯; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ২১৯৪; তাহাবী: ১/১৭৩;সুনান বাইহাকী: ১/৪৬০। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৪৪৩)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (443).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (2892)


2892 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ حَمَّادٍ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ كَثِيرِ بْنِ أَفْلَحَ، عَنْ عُبَيْدٍ سَنُوطَا، عَنْ خَوْلَةَ بِنْتِ قَيْسٍ، قَالَتْ: أَتَانَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَرَّبْتُ إِلَيْهِ طَعَامًا، فَوَضَعَ يَدَهُ فِيهِ، فَوَجَدَهُ حَارًّا، فَقَالَ: «حَسِّ»، وَقَالَ «ابْنُ آدَمَ إِنَّ أَصَابَهُ بَرْدٌ قَالَ: حَسِّ، وَإِنَّ أَصَابَهُ حَرٌّ قَالَ: حَسِّ»
رقم طبعة با وزير = (2881)

2892 - ثُمَّ تَذَاكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَحَمْزَةُ بْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ الدُّنْيَا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الدُّنْيَا خَضِرَةٌ حُلْوَةٌ، فَمَنْ أَخَذَهَا بِحَقِّهَا بُورِكَ لَهُ فِيهَا، وَرُبَّ مُتَخَوِّضٍ فِيمَا شَاءَتْ نَفْسُهُ فِي مَالِ [ص:151] اللَّهِ وَمَالِ رَسُولِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، لَهُ النَّارُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ»
رقم طبعة با وزير = (2881)




খাওলা বিনতু কাইস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার আমাদের কাছে আসেন, তখন আমি তাঁর কাছে খাদ্য পেশ করি। তিনি সেখানে হাত রাখেন। অতঃপর তিনি সেটাকে গরম অনুভব করেন। তখন তিনি ‘ওয়াও’ বলেন। অতঃপর তিনি বলেন, “আদম সন্তানকে ঠান্ডা পেয়ে বসলে, সে ‘ওয়াও’ বলে আবার গরম পেয়ে বসলেও ‘ওয়াও’ বলে। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং হামযা বিন আব্দুল ‍মুত্তালিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু দুনিয়ার ব্যাপারে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, “দুনিয়া সবুজ-শ্যামল, সুমিষ্ট। যে ব্যক্তি তা ন্যায় সঙ্গতভাবে গ্রহণ করবে, তাকে তাতে বারাকাহ দেওয়া হবে। অনেক ব্যক্তি আছে এমন, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সম্পদ স্বেচ্ছাচারিতার সাথে আচরণ করে, কিয়ামতের দিন তার জন্য রয়েছে জাহান্নাম।”[1]



[1] হুমাইদী: ৩৫৩; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৬৯৬২; মুসনাদ আহমাদ: ৬/৩৬৪; তিরমিযী: ২৩৭৪; তাবারানী: ৫৮৯; সহীহুল বুখারী: ৩১১৮; বাগাবী: ২৭৩০। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান-সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ১৫৯২)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن صحيح - «الصحيحة» (1592).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن









সহীহ ইবনু হিব্বান (2893)


2893 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ آدَمَ، حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنْ أَبِي عَامِرٍ الْخَزَّازِ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنِ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: «خَدَمْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَشَرَ [ص:153] سِنِينَ، فَمَا قَالَ لِي: لَمْ فَعَلْتَ كَذَا وَلَمْ تَفْعَلْ كَذَا»
رقم طبعة با وزير = (2882)




আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দশ বছর খেদমত করেছি। তিনি আমাকে কখনো বলেননি, “তুমি এমনটা কেন করলে?” এবং এটাও বলেননি, “তুমি কেন এমনটা করোনি?”[1]



[1] সহীহ মুসলিম: ২৩০৯; মুসনাদ আহমাদ: ৩/২৫৫; সহীহুল বুখারী: ৬০৩৮; সহীহ মুসলিম: ২৩০৯; দারেমী: ১/৩১; আদাবুল মুফরাদ: ২৭৭; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ১৭৯৪৬; আবূ দাঊদ: ৪৭৭৪; বাগাবী: ৩৬৬৫; তিরমিযী: ২০১; তাবারানী আস সাগীর: ১১০০। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (মুখতাসারুশ শামাইল: ২৯৬)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح بما بعده.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده على شرط مسلم إلا أن أبا عامر الخزاز وهو صالح بن رستم المزني كثير الخطأ لكنه قد توبع









সহীহ ইবনু হিব্বান (2894)


2894 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخٍ، أَخْبَرَنَا سَلَّامُ بْنُ مِسْكِينٍ، حَدَّثَنَا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: «خَدَمْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، عَشَرَ سِنِينَ، فَمَا قَالَ لِي: أُفٍّ قَطُّ، وَلَا قَالَ لِي: أَلَا صَنَعْتَ كَذَا وَكَذَا، وَلَمْ تَصْنَعْ كَذَا وَكَذَا»
رقم طبعة با وزير = (2883)




আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দশ বছর খেদমত করেছি। তিনি আমাকে কখনো ‘উফ্’ শব্দটি বলেননি। তিনি আমাকে বলেননি, “তুমি এটা এটা কেন করনি?” এবং এটাও বলেননি, “তুমি কেন এটা এটা করোনি?”[1]



[1] সহীহ মুসলিম: ২৩০৯; মুসনাদ আহমাদ: ৩/২৫৫; সহীহুল বুখারী: ৬০৩৮; সহীহ মুসলিম: ২৩০৯; দারেমী: ১/৩১; আদাবুল মুফরাদ: ২৭৭; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ১৭৯৪৬; আবূ দাঊদ: ৪৭৭৪; বাগাবী: ৩৬৬৫; তিরমিযী: ২০১; তাবারানী আস সাগীর: ১১০০। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (মুখতাসারুশ শামাইল: ২৯৬)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «مختصر الشمائل» (296): م، وسيأتي بفظ آخر (7135). تنبيه!! رقم (7135) = (7179) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (2895)


2895 - أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى بْنِ مُجَاشِعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ حَمَّادٍ سَجَّادَةُ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، مَرَّ بِامْرَأَةٍ عِنْدَ قَبْرٍ تَبْكِي، فَقَالَ: «يَا هَذِهِ، اصْبِرِي»، فَقَالَتْ: إِنَّكَ لَا تَدْرِي مَا مُصَابِي فَقِيلَ لَهَا [ص:155] بَعْدَ ذَلِكَ: هَذَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَتَتْهُ، فَقَالَتْ: لَمْ أَعْرِفْكَ
رقم طبعة با وزير = (2884)




আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার কবরের পাশে ক্রন্দনরত এক মহিলার পাশ দিয়ে অতিক্রম করেন। তিনি তাকে বলেন, “ওহে মহিলা, ধৈর্যধারণ করো।” তখন সেই মহিলা বললো, “আপনি জানেন না, আমার কী বিপদ!” তারপর সেই মহিলাকে বলা হলো, “ইনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।” অতঃপর সেই মহিলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বলেন, “আমি আপনাকে চিনতে পারি নাই!”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ৩/১৪৩; সহীহুল বুখারী: ১২৫২; সহীহ মুসলিম: ৯২৬; আবূ দাঊদ: ৩১২৪; নাসাঈ: ১০৬৮; সুনান বাইহাকী: ৩/৬৫; বাগাবী: ১৫৩৯; তিরমিযী: ৯৮৮। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আল জানাইয: ২২)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الجنائز» (22)، ق أتم منه.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن









সহীহ ইবনু হিব্বান (2896)


2896 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ صُهَيْبٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «عَجَبًا لِأَمْرِ الْمُؤْمِنِ إِنَّ أَمْرَهُ كُلَّهُ خَيْرٌ، إِنْ أَصَابَتْهُ سَرَّاءُ شَكَرَ، وَإِنَّ أَصَابَتْهُ ضَرَّاءُ [ص:156] صَبَرَ، وَكَانَ خَيْرًا لَهُ، وَلَيْسَ ذَلِكَ لِأَحَدٍ إِلَّا لِلْمُؤْمِنِ»
رقم طبعة با وزير = (2885)




সুহাইব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “মুমিন ব্যক্তির ব্যাপারটি বড়ই বিস্ময়কর। তার সমস্ত বিষয়ই কল্যাণকর। যদি তাকে সুখ-স্বচ্ছলতা পেয়ে বসে, তবে সে শুকরিয়া করে, আর যদি তাকে দুঃখ-কষ্ট পেয়ে বসে, তবে সে ধৈর্য ধারণ করে। আর এটা তার জন্য কল্যাণকর হয়ে যায়। এই ব্যাপারটি মুমিন ছাড়া আর কারো ক্ষেত্রে ঘটে না।”[1]



[1] সহীহ মুসলিম: ২৯৯৯; সুনান বাইহাকী: ৩/৩৭৫; মুসনাদ আহমাদ: ৪/৩৩২; তাবারানী: ৮/৭৩১৬; দারেমী: ২/৩১৮। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ১৪৭)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (147): م.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (2897)


2897 - أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ بَيَانِ بْنِ بِشْرٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ خَبَّابِ بْنِ الْأَرَتِّ، قَالَ: أَتَيْنَا النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَهُوَ مُتَوَسِّدٌ بُرْدَةً فِي ظِلِّ الْكَعْبَةِ وَقَدْ لَقِينَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ شِدَّةً، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلَا تَدْعُو اللَّهَ لَنَا، فَجَلَسَ مُغْضَبًا مُحْمَرًّا وَجْهُهُ، فَقَالَ: «إِنَّ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ لِيُسْأَلُ الْكَلِمَةَ فَمَا يُعْطِيهَا، فَيُوضَعُ عَلَيْهِ الْمِنْشَارِ، فَيَشُقُّ بِاثْنَيْنِ، مَا يَصْرِفُهُ ذَاكَ عَنْ دِينِهِ، وَإِنْ كَانَ أَحَدُهُمْ [ص:157] لَيُمْشَطُ مَا دُونَ عِظَامِهِ مِنْ لَحْمٍ أَوْ عَصَبٍ بِأَمْشَاطِ الْحَدِيدِ، وَمَا يَصْرِفُهُ ذَاكَ عَنْ دِينِهِ، وَلَكِنَّكُمْ تَعْجَلُونَ، وَلَيُتِمَّنَّ اللَّهُ هَذَا الْأَمْرَ حَتَّى يَسِيرَ الرَّاكِبُ مِنْ صَنْعَاءَ إِلَى حَضْرَمَوْتَ لَا يَخَافُ إِلَّا اللَّهَ وَالذِّئْبَ عَلَى غَنَمِهِ»
رقم طبعة با وزير = (2886)




খাব্বাব বিন আরাত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাবার ছায়ায় চাদর মাথায় দিয়ে শুয়ে ছিলেন এমন সময় আমরা তাঁর কাছে আসলাম। এসময় আমরা মুশরিকদের থেকে কঠিন আচরণের শিকার হচ্ছিলাম। ফলে তখন আমি বললাম, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আপনি কি আমাদের জন্য আল্লাহর কাছে দু‘আ করবেন না?” তখন রাসূল ক্রোধান্বিত, মুখমন্ডল লাল অবস্থায় বসলেন, অতঃপর তিনি বললেন, “তোমাদের পূর্ববর্তী যুগের লোকদের কাছে ঈমানের বাক্য ছেড়ে দেওয়ার দাবী করা হতো, কিন্তু তারা সেই দাবীতে সাড়া দিতেন না। ফলে তার উপর করাত রাখা হতো, অতঃপর তাকে দ্বিখন্ডিত করা হতো। তবুও এটি তাকে দ্বীন থেকে সরাতে পারতো না। তাদের কাউকে লোহার চিরুনী দিয়ে হাড় থেকে মাংস বা শিরা ছিন্ন করা হতো, তবুও এটি তাকে দ্বীন থেকে সরাতে পারতো না। কিন্তু তোমরা তাড়াহুড়া করছো! অবশ্যই আল্লাহ এই দ্বীনকে বিজয়ী করবেন। এমনকি আরোহী ব্যক্তি সুন‘আ থেকে হাযরামাউত পর্যন্ত সফর করবে, সে আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ভয় করবে না এবং তার মেষপালের জন্যও বাঘের ভয় করবে না।”[1]



[1] সহীহুল বুখারী: ৩৮৫২; নাসাঈ, আল কুবরা: ৩/১১৭; মুসনাদ আহমাদ: ৫/১০৯; আবূ দাউদ: ২৬৪৯; সুনান বাইহাকী: ৬/৫। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ২৩৮০)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (2380).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (2898)


2898 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ قُتَيْبَةَ، حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنَا نَافِعُ بْنُ يَزِيدَ، عَنْ عَقِيلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «[ص:158] إِنَّ أَيُّوبَ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَبِثَ فِي بَلَائِهِ ثَمَانَ عَشْرَةَ سَنَةً، فَرَفَضَهُ الْقَرِيبُ وَالْبَعِيدُ إِلَّا رَجُلَيْنِ مِنْ إِخْوَانِهِ كَانَا مِنْ أَخَصِّ إِخْوَانِهِ، كَانَا يَغْدُوَانِ إِلَيْهِ وَيَرُوحَانِ، فَقَالَ أَحَدُهُمَا لِصَاحِبِهِ: تَعْلَمُ وَاللَّهِ لَقَدْ أَذْنَبَ أَيُّوبُ ذَنْبًا مَا أَذْنَبَهُ أَحَدٌ مِنَ الْعَالَمِينَ قَالَ لَهُ صَاحِبُهُ: وَمَا ذَاكَ؟ قَالَ: مُنْذُ ثَمَانَ عَشْرَةَ سَنَةً لَمْ يَرْحَمْهُ اللَّهُ، فَيَكْشِفُ مَا بِهِ، فَلَمَّا رَاحَ إِلَيْهِ لَمْ يَصْبِرِ الرَّجُلُ حَتَّى ذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ، فَقَالَ أَيُّوبُ: لَا أَدْرِي مَا تَقُولُ غَيْرَ أَنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ أَنِّي كُنْتُ أَمُرُّ عَلَى الرَّجُلَيْنِ يَتَنَازَعَانِ فَيَذْكُرَانِ اللَّهَ، فَأَرْجِعُ إِلَى بَيْتِي فَأُكَفِّرُ عَنْهُمَا كَرَاهِيَةَ أَنْ يُذْكَرَ اللَّهُ إِلَّا فِي حَقٍّ قَالَ: وَكَانَ يَخْرُجُ إِلَى حَاجَتِهِ، فَإِذَا قَضَى حَاجَتَهُ أَمْسَكَتِ امْرَأَتُهُ بِيَدِهِ فَلَمَّا كَانَ ذَاتَ يَوْمٍ، أَبْطَأَ عَلَيْهَا، فَأَوْحَى اللَّهُ إِلَى أَيُّوبَ فِي مَكَانِهِ {ارْكُضْ بِرِجْلِكَ هَذَا مُغْتَسَلٌ بَارِدٌ وَشَرَابٌ} [ص: 42] فَاسْتَبْطَأَتْهُ فَبَلَغَتْهُ، فَأَقْبَلَ عَلَيْهَا قَدْ أَذْهِبِ اللَّهُ مَا بِهِ مِنَ الْبَلَاءِ فَهُوَ أَحْسَنُ مَا كَانَ، فَلَمَّا رَأَتْهُ قَالَتْ: أَيْ بَارِكَ اللَّهُ، فِيكَ هَلْ رَأَيْتَ نَبِيَّ اللَّهِ هَذَا الْمُبْتَلَى، وَاللَّهِ عَلَى ذَلِكَ مَا رَأَيْتُ أَحَدًا كَانَ أَشْبَهَ بِهِ مِنْكَ إِذْ كَانَ صَحِيحًا قَالَ: فَإِنِّي أَنَا هُوَ، وَكَانَ لَهُ أَنْدَرَانِ: [ص:159] أَنْدَرُ الْقَمْحِ، وَأَنْدَرُ الشَّعِيرِ، فَبَعَثَ اللَّهُ سَحَابَتَيْنِ، فَلَمَّا كَانَتْ إِحْدَاهُمَا عَلَى أَنْدَرِ الْقَمْحِ، أَفْرَغَتْ فِيهِ الذَّهَبَ حَتَّى فَاضَتْ، وَأَفْرَغَتِ الْأُخْرَى عَلَى أَنْدَرِ الشَّعِيرِ الْوَرِقَ حَتَّى فَاضَتْ»
رقم طبعة با وزير = (2887)




আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহর নাবী আইয়ূব আলাইহিস সালাম ১৮ বছর বিপদে ছিলেন। তাঁর অন্তরঙ্গ দুই ভাই ব্যতীত নিকটের ও দূরের সব আত্নীয় তাঁকে পরিত্যাগ করে। সেই দুই ব্যক্তি তাঁকে সকাল-বিকাল দেখতে আসতেন। একবার তাদের একজন অপরজনকে বললো, “আল্লাহর কসম, তুমি এটা জানো যে, আইয়ূব আলাইহিস সালাম এমন একটি পাপ করেছেন, যা পৃথিবীবাসীর কেউ করেনি।” তার সঙ্গী জবাবে বলেন, “সেটা কী?” সে বললো, “১৮ বছর ধরে আল্লাহ তাঁর উপর রহম করেননি যে, তিনি তাঁর বিপদ দূর করে দিবেন।” তারপর সন্ধায় সে ব্যক্তি যখন আইয়ূব আলাইহিস সালামের কাছে যান, তখন তিনি নিজেকে সংবরণ করতে পারেনি। ফলে সে বিষয়টি তাঁকে অবহিত করলে আইয়ূব আলাইহিস সালাম জবাবে বলেন, “তুমি যা বলছো, এরকম কিছু আমার জানা নেই। তবে একটি ব্যাপার আছে, যা আল্লাহ জানেন। সেটা হলো, একবার আমি দুইজন ব্যক্তির পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলাম। এসময় তারা নিজেদের মাঝে ঝগড়া করছিল আবার আল্লাহর যিকিরও করছিল। তারপর আমি বাড়িতে ফিরে আসি অতঃপর তাদের দুইজনের পক্ষ থেকে আমি কাফ্ফারা আদায় করি। এজন্য যে, তারা অন্যায্যভাবে আল্লাহর যিকির করেছে।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আইয়ূব আলাইহিস সালাম হাজত সারার জন্য বাইরে যেতেন। যখন তিনি বাইরে যেতেন, তখন তাঁর স্ত্রী হাত ধরে তাকে ‍নিয়ে আসতেন। এভাবে একদিন তিনি দেরি করেন। সেখানে আল্লাহ তাঁর প্রতি অহী করেন: ارْكُضْ بِرِجْلِكَ هَذَا مُغْتَسَلٌ بَارِدٌ وَشَرَابٌ (আপনি আপনার পা দ্বারা আঘাত করুন। এটি পানযোগ্য ও গোসলের শীতল পানি।–সূরা সোয়াদ: ৪২)। হাজত পূরণ করতে গিয়ে আইয়ূব আলাইহিস সালাম দেরি করলে তিনি তাঁর কাছে যান। অতঃপর তিনি দেখতে পান যে, মহান আল্লাহ তার বিপদ দূর করেছেন। তিনি উত্তম আকৃতিতে রয়েছেন। তিনি তাঁকে দেখে বলেন, “ওহে, আল্লাহ আপনাকে বারাকাহ দান করুন। আপনি কি বিপদগ্রস্থ আল্লাহর নাবী আলাইহিস সালামকে দেখেছেন?” আল্লাহর কসম, আমি আপনাকে তাঁর সাথে সবচেয়ে সাদৃশ্যশীল দেখতে পাচ্ছি, যখন তিনি সুস্থ ছিলেন।” তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই আমি সেই নাবী।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আইয়ূব আলাইহিস সালামের দুটি গোলাঘর ছিল; একটি গমের গোলাঘর আরেকটি যবের গোলাঘর। তারপর আল্লাহ দুটি মেঘ পাঠান। একটি মেঘ গমের গোলাঘরের উপর আসে এবং তাতে স্বর্ণ ঢেলে দেন, এমনকি তা পরিপূর্ণ হয়ে যায়। আরেকটি মেঘ যবের গোলাঘরের আসে এবং তাতে রুপা ঢেলে দেন, এমনকি তা পরিপূর্ণ হয়ে যায়।”[1]



[1] তাবারী, জামি‘ঊল বায়ান: ২৩/১৬৭; আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ: ১/২০৮; বাযযার: ২৩৫৭; হাকিম: ৫/১৮১-১৮২; আবূ নু‘আইম, হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৩/৩৭৪-৩৭৫; হাইসামী, মাজমা‘উয যাওয়াইদ: ৮/২০-৮; দর্রুল মানসূর: ৫/৬৫৯-৬৬০। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ১৭)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (17).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (2899)


2899 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ زُهَيْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مِسْكِينٍ الْيَمَامِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ بَكْرٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو عَبْدِ رَبٍّ، عَنْ مُعَاوِيَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا بَقِيَ مِنَ الدُّنْيَا [ص:160] إِلَّا بَلَاءٌ وَفِتْنَةٌ»
رقم طبعة با وزير = (2888)




মুআবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “বালা-মুসীবত আর পরীক্ষার বস্তু ছাড়া দুনিয়ার আর কোন কিছুই অবশিষ্ট নেই।”[1]



[1] আব্দুল্লাহ বিন মুবারাক, আয ‍যুহদ: ৫৯৬; মুসনাদ আহমাদ: ৪/৯৪; তাবারানী: ৯/৮৬; মুসনাদুশ শিহাব: ১১; ইবনু মাজাহ: ৪০৩৫। শায়খ শু‘আইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটির সানাদকে শক্তিশালী বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীক ‘আলা ইবনে মাজাহ।)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - تقدم برقم (689). تنبيه!! رقم (689) = (690) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي









সহীহ ইবনু হিব্বান (2900)


2900 - أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى بْنِ مُجَاشِعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا هُدْبَةُ بْنُ خَالِدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عَاصِمِ ابْنِ بَهْدَلَةَ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ أَشَدُّ النَّاسِ بَلَاءً؟ قَالَ: «الْأَنْبِيَاءُ، ثُمَّ الْأَمْثَلُ فَالْأَمْثَلُ، وَيُبْتَلَى الْعَبْدُ عَلَى حَسَبِ دِينِهِ، فَمَا يَبْرَحُ الْبَلَاءُ بِالْعَبْدِ حَتَّى يَدَعَهُ يَمْشِي عَلَى الْأَرْضِ، [ص:161] وَمَا عَلَيْهِ خَطِيئَةٌ»
رقم طبعة با وزير = (2889)




সা‘দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মানুষের মাঝে কারা সবচেয়ে বেশি বালা-মুসীবতে নিপতিত হন?” জবাবে তিনি বলেন, “নাবীগণ আলাইহিমুস সালাম। তারপর যিনি উত্তম ব্যক্তি। তারপর যিনি উত্তম ব্যক্তি। বান্দাকে তার দ্বীন অনুপাতে পরীক্ষা করা হয়। আল্লাহর বান্দাদের বিপদাপদ লেগেই থাকে, এভাবে এক পর্যায়ে বিপদাপদ তাকে এমন অবস্থায় ছেড়ে যায় যে, সে জমিনে হাঁটে, তার উপর আর কোন পাপ অবশিষ্ট থাকে না।”[1]



[1] হাকিম: ১/৪১; তিরমিযী: ২৩৯৮; মুসনাদ আহমাদ: ১/১৮৫; ইবনু মাজাহ: ৪০২৩; বাগাবী: ১৪৩৪; হাকিম: ১/৪১; দারেমী: ২/৩২০; সুনান বাইহাকী: ৩/৩৭২। শায়খ শু‘আইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকুল হিসান: ২৮৮৯।)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن - انظر ما بعده.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن