হাদীস বিএন


সহীহ ইবনু হিব্বান





সহীহ ইবনু হিব্বান (3021)


3021 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ [ص:291] عُمَرَ بْنِ أَبَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْثَرٌ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، قَالَ: قَالَتْ عَائِشَةَ: مَا فَعَلَ يَزِيدُ بْنُ قَيْسٍ عَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ؟ قَالُوا: قَدْ مَاتَ. قَالَتْ: فَأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ، فَقَالُوا لَهَا: مَا لَكَ لَعَنْتِيهِ، ثُمَّ قُلْتِ: أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ؟ قَالَتْ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا تَسُبُّوا الْأَمْوَاتَ، فَإِنَّهُمْ أَفْضَوْا إِلَى مَا قَدَّمُوا».
رقم طبعة با وزير = (3010) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: «مَاتَتْ عَائِشَةُ سَنَةَ سَبْعٍ وَخَمْسِينَ، وَوُلِدَ مُجَاهِدٌ سَنَةَ إِحْدَى وَعِشْرِينَ فِي خِلَافَةِ عُمَرَ، فَدَلَكَ هَذَا عَلَى أَنَّ مَنْ زَعَمَ أَنَّ مُجَاهِدًا لَمْ يَسْمَعْ مِنْ عَائِشَةَ كَانَ وَاهِمًا فِي قَوْلِهِ ذَلِكَ»




মুজাহিদ রহিমাহুল্লাহ বলেন, আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “ইয়াযিদ বিন কাইস কী করলো? তারপর উপর আল্লাহর লা‘নত বর্ষিত হোক!” লোকজন বললো, “সে মারা গিয়েছে।” তখন আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।” লোকজন তাঁকে বললো, “কী ব্যাপার, আপনি তার প্রতি লা‘নত করলেন, তারপর আবার বললেন, আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি?” জবাবে তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা মৃতদের গালি দিবে না। কেননা তারা যা আগে পাঠিয়েছে, সেদিকে তারা চলে গিয়েছে।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা ৫৭ হিজরীতে মারা যান আর মুজাহিদ রহিমাহুল্লাহ উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর সময়ে ২১ হিজরীতে জন্ম গ্রহণ করেন। কাজেই যে ব্যক্তি মনে করে যে, মুজাহিদ রহিমাহুল্লাহ আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে হাদীস শ্রবণ করেননি, তিনি তার এই কথায় ভ্রমের মধ্যে রয়েছেন।”



[1] মুসনাদ আহমাদ: ৬/১৮০; দারেমী: ২/২৩৯; সহীহুল বুখারী: ১৩৯৩; নাসাঈ: ৪/৫৩; মুসনাদ আশ শিহাব: ৯২৩; সুনান বাইহাকী: ৪/৭৫; বাগাবী: ১৫০৯। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আর রওযুন নাযীর: ১/৪৩৮)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الروض النضير» (1/ 437): خ المرفوع فقط.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (3022)


3022 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الْمُلَائِيُّ، وَأَبُو دَاوُدَ الْحَفَرِيُّ، قَالَا: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ زِيَادِ بْنِ عِلَاقَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ الْمُغِيرَةَ بْنَ شُعْبَةَ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَسُبُّوا الْأَمْوَاتَ فَتُؤْذُوا الْأَحْيَاءَ»
رقم طبعة با وزير = (3011)




মুগীরা বিন শু‘বাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা মৃত ব্যক্তিদের গালী দিয়ো না। তাহলে তোমরা (এর মাধ্যমে) জীবিত ব্যক্তিদের কষ্ট দিবে।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ৪/২৫২; তাবারানী: ২০/১০১৩। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ২৩৯৭)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (2397).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناد صحيح على شرط الشيخين









সহীহ ইবনু হিব্বান (3023)


3023 - أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ الْجُمَحِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ، عَنِ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: مَرُّوا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِجِنَازَةٍ، فَأَثْنَوْا عَلَيْهَا شَرًّا، فَقَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَجَبَتْ»، وَمَرُّوا بِأُخْرَى، فَأَثْنَوْا عَلَيْهَا خَيْرًا، فَقَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَجَبَتْ»، فَقَالَ عُمَرُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا وَجَبَتْ؟ قَالَ: «مَرُّوا بِتِلْكَ، فَأَثْنَوْا عَلَيْهَا شَرًّا، فَوَجَبَتِ النَّارُ، [ص:293] وَمَرُّوا بِهَذِهِ، فَأَثْنَوْا عَلَيْهَا خَيْرًا فَوَجَبَتِ الْجَنَّةُ، وَأَنْتُمْ شُهَدَاءُ اللَّهِ فِي الْأَرْضِ»
رقم طبعة با وزير = (3012)




আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “লোকজন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাশ দিয়ে একটি জানাযা নিয়ে যায়, তখন লোকজন তার সম্পর্কে মন্দ বলে। তাদের কথা শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “অবধারিত হয়ে গেলো।” অতঃপর লোকজন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাশ দিয়ে আরেকটি জানাযা নিয়ে যায়, তখন লোকজন তার সম্পর্কে ভালো বলে। তাদের কথা শুনে বলেন, “অবধারিত হয়ে গেলো।” তখন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, কী অবধারিত হয়ে গেলো?” জবাবে তিনি বলেন, “ঐ জানাযা গমন করলে তারা তার সম্পর্কে মন্দ বলে, ফলে তার জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব হয়ে যায় আর এই জানাযা গমন করলে তারা তার সম্পর্কে ভালো বলে, ফলে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়। আর তোমরা হলে জমিনে আল্লাহর সাক্ষী।”[1]



[1] আত তায়ালিসী: ২০৬২; বাগাবী, মুসনাদু ইবনুল জা‘দ: ১৪৮৯; সহীহুল বুখারী: ১৩৬৭; সুনান বাইহাকী: ৪/৭৪-৭৫; মুসনাদ আহমাদ: ৩/১৭৯; তিরমিযী: ১০৫৮। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আহকামুল জানাইয: ৬০)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «أحكام الجنائز» (60): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناد صحيح على شرط الشيخين









সহীহ ইবনু হিব্বান (3024)


3024 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ مُرَّ عَلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِجِنَازَةٍ فَأُثْنِيَّ عَلَيْهَا خَيْرًا مِنْ مَنَاقِبِ الْخَيْرِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: [ص:294] وَجَبَتْ أَنْتُمْ شُهُودُ اللهِ فِي الأَرْضِ.
رقم طبعة با وزير = (3013)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাশ দিয়ে একটি জানাযা নিয়ে যাওয়া হলে লোকজন তার ভালো প্রশংসা করেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “অবধারিত হয়ে গেলো। তোমরা জমিনে আল্লাহর সাক্ষী।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/৫২৮; ইবনু মাজাহ: ১৪৯২; মিসবাহুয যুজাজাহ: ১/৪৮৬। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান-সহীহ বলেছেন। (আহকামুল জানাইয: ৬০ পৃষ্ঠা)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن صحيح - «الأحكام» (ص 60).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن









সহীহ ইবনু হিব্বান (3025)


3025 - أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى بْنِ مُجَاشِعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ بْنِ حِسَابٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ قَالَ مُرَّ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِجِنَازَةٍ فَأُثْنِيَ عَلَيْهَا خَيْرًا فَقَالَ صلى الله عليه وسلم وَجَبَتْ، ثُمَّ مُرَّ عَلَيْهِ بِجِنَازَةٍ فَأُثْنِيَ عَلَيْهَا شَرًّا فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَجَبَتْ فَقِيلَ يَا رَسُولَ اللهِ قُلْتَ لِهَذَا وَجَبَتْ وَقُلْتَ لِهَذَا وَجَبَتْ فَقَالَ شَهَادَةُ الْقَوْمِ وَالْمُؤْمِنُونَ شُهَدَاءُ اللهِ فِي الأَرْضِ.
رقم طبعة با وزير = (3014)




আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাশ দিয়ে একটি জানাযা নিয়ে যাওয়া হলে লোকজন তার ভালো প্রশংসা করেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “অবধারিত হয়ে গেলো।” তারপর তাঁর পাশ দিয়ে আরেকটি জানাযা নিয়ে যাওয়া হলে লোকজন তার সম্পর্কে মন্দ কথা বলেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “অবধারিত হয়ে গেলো।” তখন বলা হলো, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আপনি এই জানাযার ক্ষেত্রেও বললেন, “অবধারিত হয়ে গেলো” আবার ঐ জানাযার ক্ষেত্রেও বললেন, “অবধারিত হয়ে গেলো”? জবাবে তিনি বলেন, “লোকদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে (তাদের জন্য জান্নাত ও জাহান্নাম অবধারিত হয়ে গেছে)। মুমিনগণ জমিনে আল্লাহর সাক্ষী।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ৩/১৮৬৫; সহীহুল বুখারী: ২৬৪২; সহীহ মুসলিম: ৯৪৯; ইবনু মাজাহ: ১৪৯১; সুনান বাইহাকী: ১০/২০৯; বাগাবী: ১৫০৮। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আহকামুল জানাইয: ৬০ পৃষ্ঠা)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الأحكام» (ص 60): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (3026)


3026 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عُمَرَ الْوَكِيعِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَمُوتُ فَيَشْهَدُ لَهُ أَرْبَعَةُ أَهْلِ أَبْيَاتٍ مِنْ جِيرَتِهِ الْأَدْنَيْنَ أَنَّهُمْ لَا يَعْلَمُونَ إِلَّا خَيْرًا إِلَّا قَالَ اللَّهُ جَلَّ وَعَلَا: قَدْ قَبِلْتُ عِلْمَكُمْ فِيهِ، وَغَفَرْتُ لَهُ مَا لَا تَعْلَمُونَ»
رقم طبعة با وزير = (3015)




আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে কোন মুসলিম ব্যক্তি মারা যায়, অতঃপর তার ব্যাপারে তার নিকটতম চার পরিবারের লোকজন সাক্ষ্য দেন যে, তারা তার ব্যাপারে ভালো ছাড়া অন্য কিছু জানেন না, তবে মহান আল্লাহ বলেন, “তার ব্যাপারে তোমাদের যে ইলম, তা আমি গ্রহণ করলাম। আর তোমরা যা জানো না, তা আমি ক্ষমা করে দিলাম।”[1]



[1] মুসনাদ আবী ইয়ালা: ৩৪৮১; মুসনাদ আহমাদ: ২/২৪২; হাকিম: ১/৩৭৮; হাইসামী, মাজমা‘উয যাওয়াইদ: ৩/৪। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সমার্থক হাদীস থাকার কারণে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আহকামুল জানাইয)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «أحكام الجنائز».




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: حديث صحيح بشواهده









সহীহ ইবনু হিব্বান (3027)


3027 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَقُولُ: مَاتَ رَجُلٌ فَمَرُّوا بِجَنَازَتِهِ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَثْنَوْا عَلَيْهَا شَرًّا، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَجَبَتْ»، وَمَرُّوا بِأُخْرَى، فَأَثْنَوْا عَلَيْهَا خَيْرًا، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَجَبَتْ» فَسَأَلَهُ عُمَرُ عَنْ ذَلِكَ، فَقَالَ: «أَنْتُمْ شُهُودُ اللَّهِ فِي الْأَرْضِ»
رقم طبعة با وزير = (3016)




আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “এক ব্যক্তি মারা যায়, অতঃপর লোকজন তার জানাযা নিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলে লোকজন তার সম্পর্কে মন্দ কথা বলেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “অবধারিত হয়ে গেলো।” তারপর তাঁর পাশ দিয়ে আরেকটি জানাযা নিয়ে যাওয়া হলে লোকজন তার সম্পর্কে ভালো কথা বলেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “অবধারিত হয়ে গেলো।” তখন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এই সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, “তোমরা জমিনে আল্লাহর সাক্ষী।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ৩/১৮৬৫; সহীহুল বুখারী: ২৬৪২; সহীহ মুসলিম: ৯৪৯; ইবনু মাজাহ: ১৪৯১; সুনান বাইহাকী: ১০/২০৯; বাগাবী: ১৫০৮। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আহকামুল জানাইয: ৬০ পৃষ্ঠা)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الأحكام» - أيضا -: ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط البخاري









সহীহ ইবনু হিব্বান (3028)


3028 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الطَّالَقَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْمُقْرِئُ، قَالَ: حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ أَبِي الْفُرَاتِ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِي الْأَسْوَدِ الدِّيلِيِّ، قَالَ: أَتَيْتُ الْمَدِينَةَ وَقَدْ وَقَعَ بِهَا مَرَضٌ، فَهُمْ يَمُوتُونَ مَوْتًا ذَرِيعًا، فَجَلَسْتُ إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، فَمَرَّتْ بِهِ جَنَازَةٌ، فَأُثْنِيَ عَلَى صَاحِبِهَا خَيْرًا، فَقَالَ عُمَرُ: وَجَبَتْ، ثُمَّ مُرَّ بِأُخْرَى فَأُثْنِيَ عَلَى صَاحِبُهَا شَرًّا، فَقَالَ عُمَرُ: وَجَبَتْ، قَالَ أَبُو الْأَسْوَدِ: وَمَا وَجَبَتْ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ قَالَ: كَمَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَيُّمَا مُسْلِمٍ يَشْهَدُ لَهُ أَرْبَعَةٌ بِخَيْرٍ إِلَّا أَدْخَلَهُ اللَّهُ الْجَنَّةَ» قَالَ: قُلْنَا: وَثَلَاثَةٌ قَالَ: «وَثَلَاثَةٌ» قَالَ: فَقُلْنَا: وَاثْنَانِ قَالَ: «وَاثْنَانِ»، وَلَمْ نَسْأَلَهُ عَنِ الْوَاحِدِ
رقم طبعة با وزير = (3017)




আবুল আসওয়াদ আদ দিলী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি একবার মদীনায় আসি এমন অবস্থায় যে, তখন সেসময় এক মরণ ব্যধির প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। ফলে লোকজন দ্রুত মারা যাচ্ছিল। আমি উমার বিন খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর পাশে বসলাম। অতঃপর তার আনহু পাশ দিয়ে একটি জানাযা নিয়ে যাওয়া হলে লোকজন তার ভালো প্রশংসা করেন। তখন উমার বিন খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “অবধারিত হয়ে গেলো।” তারপর তাঁর পাশ দিয়ে আরেকটি জানাযা নিয়ে যাওয়া হলে লোকজন তার সম্পর্কে মন্দ কথা বলেন। তখন উমার বিন খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুও বলেন, “অবধারিত হয়ে গেলো।” আবুল আসওয়াদ বলেন, “হে আমীরুল মুমিনীন, কী অবধারিত হয়ে গেলো?” জবাবে তিনি বলেন, “বিষয়টি তেমনিই, যেমনটা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তিনি বলেছেন, “কোন মুসলিম ব্যক্তির পক্ষে চারজন ব্যক্তি ভালো সাক্ষ্য দিলে, মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।” উমার বিন খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “তখন আমরা বললাম, “আর তিনজন (ভালো সাক্ষ্যি দিলে)?” জবাবে তিনি বলেন, “তিনজন সাক্ষ্যি দিলেও (মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন)।” উমার বিন খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আমরা বললাম, “আর দুইজন (ভালো সাক্ষ্যি দিলে)?” জবাবে তিনি বলেন, “দুইজন সাক্ষ্যি দিলেও।” আর আমরা তাঁকে একজন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করিনি।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ১/৩০; নাসাঈ: ৪/৫০-৫১; সহীহুল বুখারী: ১৩৬৮; তিরমিযী: ১০৫৯। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আহকামুল জানাইয: ৬১ পৃষ্ঠা)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «أحكام الجنائز» (61): خ.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (3029)


3029 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْقَوَارِيرِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى الْقَطَّانُ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مُوسَى بْنِ أَبِي عَائِشَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، وَعَائِشَةَ، أَنَّ أَبَا بَكْرٍ قَبَّلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ مَيِّتٌ.
رقم طبعة با وزير = (3018)




আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস ও আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মৃত অবস্থায় চুম্বন করেছেন।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ৬/৪৪; সহীহুল বুখারী: ৪৪৫৫; নাসাঈ: ৪/১১; ইবনু মাজাহ: ১৪৫৭; বাগাবী: ১৪৭১। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আহকামুল জানাইয: ৩১ পৃষ্ঠা)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «أحكام الجنائز» (ص 13): خ.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما









সহীহ ইবনু হিব্বান (3030)


3030 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْبُخَارِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي أُوَيْسٍ *، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَخِي، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بِلَالٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي عَتِيقٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ: دَخَلَ أَبُو بَكْرٍ الْمَسْجِدَ وَعُمَرُ يُكَلِّمُ النَّاسَ حِينَ دَخَلَ بَيْتَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الَّذِي تُوُفِّيَ فِيهِ، وَهُوَ بَيْتُ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَكَشَفَ عَنْ وَجْهِهِ بُرْدَ حِبَرَةٍ كَانَ مُسَجًّى بِهِ، فَنَظَرَ إِلَى وَجْهِهِ، ثُمَّ أَكَبَّ عَلَيْهِ، فَقَبَّلَهُ، وَقَالَ: «بِأَبِي أَنْتَ، فَوَاللَّهِ لَا يَجْمَعُ اللَّهُ عَلَيْكَ مَوْتَتَيْنِ، لَقَدْ مِتَّ الْمُوتَةَ الَّتِي لَا تَمُوتُ بَعْدَهَا»
رقم طبعة با وزير = (3019)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু মাসজিদে প্রবেশ করেন, এসময় উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু লোকদের সাথে কথা-বার্তা বলছিলেন। আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই ঘরে প্রবেশ করেন, যে ঘরে তাঁর ওফাত হয়েছে, সেটা হলো আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার ঘর। অতঃপর আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাঁর চেহারা উন্মুক্ত করলেন, এসময় তাঁর চেহারা হেবরায় তৈরি চাদর দিয়ে ঢাকা ছিল। তিনি তাঁর চেহারার দিকে তাকালেন তারপর তিনি তাঁর প্রতি ঝুঁকে পড়লেন এবং তাঁকে চুম্বন করলেন। অতঃপর তিনি বলেন, “আপনার জন্য আমার বাবা কুরবান হোক। আল্লাহর কসম, নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনাকে দুইবার মৃত্যু দিবেন না। অবশ্যই আপনি সেই মৃত্যুই বরণ করেছেন, যার পর আপনি আর মৃত্যু বরণ করবেন না।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ১/৩৩৪; সহীহুল বুখারী: ১২৪১; নাসাঈ: ৪/১১; সুনান বাইহাকী: ৩/৪০৬। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান-সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩০১৯ পৃষ্ঠা)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن صحيح - انظر التعليق. * [إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي أُوَيْسٍ] قال الشيخ: هذا مع كونِه من رجال الشيخين، ففيه كلامٌ مِنْ قِبَلِ حِفْظِهِ. وأخوه اسمه: عبد الحميد، أبو بكر بنُ عبد الله بن أبي أويسٍ، ثقة من رجالهما. ومحمد بن أبي عتيق نُسِبَ إِلَى جَدَّهِ، واسمُ أَبِيهِ: عبد الله، وهو ثقة؛ خلافاً للحافظ. وسائرُ الرجال ثقات رجال الشيخين؛ فالإسنادُ حسنٌ. وهو صحيحٌ، فقد تُوبِع إسماعيل فَقَالَ ابنُ سعد (2/ 268): أخبرنا أبو بكر بن عبد الله بن أبي أويس به. وهذا إسناد صحيح. ثُمَّ روى له شاهدا من حديث عائشة نحوه: رواه البخاري وغيره، وهو مخرَّجٌ في «أحكام الجنائز» (20 - 21).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (3031)


3031 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، عَنْ قُطْبَةَ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا جَمَّرْتُمُ الْمَيِّتَ فَأَوْتِرُوا»
رقم طبعة با وزير = (3020)




জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমরা মৃত ব্যক্তিকে কঙ্করময় মাটি দিবে, তখন তোমরা বেজোড় সংখ্যায় মাটি দিবে।”[1]



[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/২৬৫; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৩৩১; হাকিম: ১/৩৩৫; সুনান বাইহাকী: ৩/৪০৫; বাযযার: ৮১৩; মাজমাউয যাওয়াইদ: ৩/২৬। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আহকামুল জানাইয: ৮৪ পৃষ্ঠা)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الأحكام» (84).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (3032)


3032 - أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى بْنِ مُجَاشِعٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ بْنِ حِسَابٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ، قَالَتْ: دَخَلَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَنَحْنُ نَغْسِلُ ابْنَتَهُ، فَقَالَ: «اغْسِلْنَهَا ثَلَاثًا، أَوْ خَمْسًا، أَوْ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ إِنْ رَأَيْتُنَّ ذَلِكَ بِمَاءٍ وَسِدْرٍ، وَاجْعَلْنَ فِي الْآخِرَةِ كَافُورًا، أَوْ شَيْئًا مِنْ كَافُورٍ، فَإِذَا فَرَغْتُنَّ فَآذِنَّنِي» قَالَتْ: فَلَمَّا فَرَغْنَا، آذَنَّاهُ قَالَتْ: فَأَلْقَى إِلَيْنَا حِقْوَهُ، وَقَالَ: «أَشْعِرْنَهَا إِيَّاهُ» قَالَ: وَقَالَتْ حَفْصَةُ، عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ: اغْسِلْنَهَا مَرَّتَيْنِ، أَوْ ثَلَاثًا، أَوْ خَمْسًا، أَوْ سَبْعًا قَالَتْ أُمُّ عَطِيَّةَ: وَمَشَطْتُهَا ثَلَاثَةَ قُرُونٍ، وَكَانَ فِيهِ أَنَّهُ قَالَ: «ابْدَأْنَ بِمَيَامِنِهَا وَمَوَاضِعِ الْوُضُوءِ».
رقم طبعة با وزير = (3021) [ص:304] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: «الْأَمْرُ بِغُسْلِ الْمَيِّتِ فَرْضٌ، وَالشَّرْطُ الَّذِي قُرِنَ بِهِ هُوَ الْعَدَدُ الْمَذْكُورُ فِي الْخَبَرِ قُصِدَ بِتَعْيِينِهِ النَّدْبُ لَا الْحَتْمُ»




উম্মু আতিয়্যাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মেয়েকে গোসল দিচ্ছিলাম, এমন সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে আসেন, অতঃপর তিনি বলেন, “তোমরা তাকে তিনবার অথবা পাঁচবার অথবা তোমরা মনে করলে তার চেয়ে বেশিবার তাকে ধৌত করাবে। তাকে গোসল করাবে পানি ও বরই পাতা দিয়ে। আর শেষবারে কর্পুর দিবে অথবা (রাবীর সন্দেহ তিনি বলেছেন) কর্পুরের কিছু অংশ। অতঃপর যখন তোমরা গোসল সম্পন্ন করবে, তখন তোমরা আমাকে অবহিত করবে।” উম্মু আতিয়্যাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “অতঃপর যখন আমরা গোসল শেষ করলাম, তখন আমরা তাঁকে অবহিত করি। তখন তিনি আমাদেরকে তাঁর তহবন্দ প্রদান করে বলেন, “তোমরা এটাকে তার শরীরে জড়িয়ে দাও।” অধঃস্তন একজন রাবী হাফসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার মাধ্যমে উম্মু আতিয়্যাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেছেন, সেখানে বলা হয়েছে, বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা তাকে দুইবার অথবা তিনবার অথবা পাঁচবার অথবা সাতবার ধৌত করাবে।” উম্মু আতিয়্যাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “আমরা তার চুলগুলো আঁচড়িয়ে তিনটি বেণী করে দেই।” এই হাদীসে এটাও উল্লেখ রয়েছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা ডান দিক ও ওযূর অঙ্গসমূহ প্রথমে ধৌত করবে।” আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “মৃত ব্যক্তিকে গোসল করার নির্দেশটি ফরয নির্দেশক। আর হাদীসে যে নির্দিষ্ট সংখ্যায় গোসল করার কথা বলা হয়েছে, সেটা মুস্তাহাব; ফরয নয়।” [1]



[1] আবূ দাউদ: ৩১৪৬; সহীহুল বুখারী: ১২৫৮; সহীহ মুসলিম: ৯৩৯; নাসাঈ: ৪/৩১; সুনান বাইহাকী: ৩/৩৮৯; তাবারানী: ২৫/৯০; মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/২২২; বাগাবী: ১৪৭২; ইবনুল জারুদ: ৫১৮; ইবনু মাজাহ: ১৪৫৯; তিরমিযী: ৯৯০। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আহকামুল জানাইয: ১৬৫)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الأحكام» (65)، «الإرواء» (1/ 164 / 119): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (3033)


3033 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَجَّاجِ السَّامِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ أَيُّوبَ، وَهِشَامٍ، وَحَبِيبٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ، قَالَتْ: تُوُفِّيَتِ ابْنَةٌ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «اغْسِلْنَهَا بِالْمَاءِ، وَالسِّدْرِ ثَلَاثًا، أَوْ خَمْسًا، أَوْ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ إِنَّ رَأَيْتُنَّ ذَلِكَ، وَاجْعَلْنَ فِي آخِرِهِنَّ شَيْئًا مِنْ كَافُورٍ، فَإِذَا فَرَغْتُنَّ فَآذِنَّنِي» فَآذَنَّاهُ فَأَلْقَى إِلَيْنَا حِقْوَهُ، وَقَالَ: «أَشْعِرْنَهَا إِيَّاهُ». قَالَ أَيُّوبُ، وَقَالَتْ حَفْصَةُ: «اغْسِلْنَهَا ثَلَاثًا، أَوْ خَمْسًا، [ص:305] أَوْ سَبْعًا، وَاجْعَلْنَ لَهَا ثَلَاثَةَ قُرُونٍ»
رقم طبعة با وزير = (3022)




উম্মু আতিয়্যাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক মেয়ে মারা যায়। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তোমরা তাকে তিনবার অথবা পাঁচবার অথবা তোমরা মনে করলে তার চেয়ে বেশিবার পানি ও বরই পাতা দিয়ে ধৌত করাবে। আর শেষবারে কর্পুর দিবে অথবা (রাবীর সন্দেহ তিনি বলেছেন) কর্পুরের কিছু অংশ দিবে। অতঃপর যখন তোমরা গোসল সম্পন্ন করবে, তখন তোমাকে আমাকে অবহিত করবে।” উম্মু আতিয়্যাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “অতঃপর যখন আমরা গোসল শেষ করলাম, তখন আমরা তাঁকে অবহিত করি। তখন তিনি আমাদেরকে তাঁর তহবন্দ প্রদান করে বলেন, “তোমরা এটাকে তার শরীরে জড়িয়ে দাও।”[1] অধঃস্তন একজন রাবী আইয়ূব রহিমাহুল্লাহ বলেন, হাফসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা তাকে তিনবার অথবা পাঁচবার অথবা সাতবার ধৌত করাবে এবং তার চুলগুলোকে তিনটি বেণী করে দিবে।”



[1] তাবারানী: ২৫/৯৮; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/২৬৫; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৩৩১; হাকিম: ১/৩৩৫; সুনান বাইহাকী: ৩/৪০৫; বাযযার: ৮১৩; মাজমাউয যাওয়াইদ: ৩/২৬। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বেণী করার নির্দেশসহ হাদীসটিকে শায বা দুর্বল বলেছেন। (আয যঈফা: ৬৪৯৬)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: شاذ بذكر الأمر في (القرون) - «الضعيفة» (6496).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (3034)


3034 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ الصَّبَّاحِ الْبَزَّارُ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ الْكَرِيمِ، حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَقِيلِ بْنِ مَعْقِلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ وَهْبِ بْنِ مُنَبِّهٍ، قَالَ: هَذَا مَا سَأَلْتُ عَنْهُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، فَذَكَرَ أَحَادِيثَ، فَقَالَ: إِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَطَبَ يَوْمًا، فَذَكَرَ رَجُلًا مِنْ أَصْحَابِهِ، قُبِضَ، فَكُفِّنَ فِي كَفَنٍ غَيْرِ طَائِلٍ، وَقُبِّرَ لَيْلًا، فَزَجَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنْ يُقْبَرَ الرَّجُلُ بِلَيْلٍ، أَوْ يُصَلَّى عَلَيْهِ إِلَّا أَنْ يُضْطَرَّ إِلَى ذَلِكَ، وَقَالَ: «إِذَا وَلِيَ أَحَدُكُمْ أَخَاهُ، فَلْيُحْسِنْ كَفَنَهُ»
رقم طبعة با وزير = (3023)




জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার ভাষন দিচ্ছিলেন। অতঃপর তিনি একজন সাহাবীর কথা আলোচনা করেন, যিনি মারা গিয়েছিলো অতঃপর নাতিদীর্ঘ কাফনে কাফন করা হয়েছিল এবং তাকে রাতে দাফন করা হয়েছিল। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একান্ত বাধ্য না হলে রাতে কাউকে কবরস্থ করতে অথবা জানাযার সালাত আদায় করতে নিষেধ করেন। তিনি বলেন, “যখন তোমাদের কেউ তার কোন ভাইয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করবে, সে যেন সুন্দর করে তার কাফন করে।”[1]



[1] হাকিম: ১/৩৬৯; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৩২৯; বাগাবী: ১৪৭৮; তিরমিযী: ৯৯৫; ইবনু মাজাহ: ১৪৭৪। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে শক্তিশালী বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আল আহকাম: ৭৭)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الأحكام» (77): م.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي









সহীহ ইবনু হিব্বান (3035)


3035 - أَخْبَرَنَا حَامِدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ شُعَيْبٍ، حَدَّثَنَا سُرَيْجُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْمَاعِيلَ الْمُؤَدِّبُ، عَنْ يَعْقُوبَ بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ الْفَضْلِ بْنِ الْعَبَّاسِ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «كُفِّنَ فِي ثَوْبَيْنِ سَحُولِيَّيْنِ»
رقم طبعة با وزير = (3024)




ফযল বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দুটি সাহুলী কাপড়ে কাফন দেওয়া হয়েছিল।”[1]



[1] তাবারানী: ১৮/৬৯৬; আবূ ইয়ালা: ২/৩০৮। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুনকার বা যঈফ বলেছেন। (আয যঈফা: ৫৮৪৪)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: منكر - «الضعيفة» (5844).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده ضعيف









সহীহ ইবনু হিব্বান (3036)


3036 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ *، أَخْبَرَنَا الْمَقْرِئُ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ، حَدَّثَنِي جَعْفَرُ بْنُ رَبِيعَةَ، عَنْ مُجَاهِدِ بْنِ وَرْدَانَ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: كُنْتُ عِنْدَ أَبِي بَكْرٍ حِينَ حَضَرَتْهُ الْوَفَاةُ، فَتَمَثَّلْتُ بِهَذَا الْبَيْتِ: مَنْ لَا يَزَالُ دَمْعُهُ مُقَنَّعًا ... يُوشِكُ أَنْ يَكُونَ مَدْفُوقًا * فَقَالَ: يَا بُنَيَّةُ، لَا تَقُولِي هَكَذَا، وَلَكِنْ قُولِي: {وَجَاءَتْ سَكْرَةُ الْمَوْتِ بِالْحَقِّ ذَلِكَ مَا كُنْتَ مِنْهُ تُحِيدُ} [ق: 19] ثُمَّ قَالَ: فِي كَمْ كُفِّنَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَقُلْتُ: «فِي ثَلَاثَةِ أَثْوَابٍ»، فَقَالَ: كَفِّنُونِي فِي ثَوْبَيَّ هَذَيْنِ، وَاشْتَرُوا إِلَيْهِمَا ثَوْبًا جَدِيدًا، فَإِنَّ الْحَيَّ أَحْوَجُ إِلَى الْجَدِيدِ مِنَ الْمَيِّتِ، وَإِنَّمَا هِيَ لِلْمِهْنَةِ أَوْ لِلْمُهْلَةِ
رقم طبعة با وزير = (3025)




আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “যে সময় আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু মুহূর্ষু অবস্থায় ছিলেন, তখন আমি তার কাছে ছিলাম। এসময় আমি কবিতার একটি চরণ আবৃতি করি, مَنْ لَا يَزَالُ دَمْعُهُ مُقَنَّعاً يُوشك أَنْ يَكُونَ مَدْفُوقًا (যার চোখ কখনও অশ্রু ঝরাতো না, অচিরেই সে চোখ প্রবল অশ্রু বিসর্জন দিবে)!” তখন আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “হে আমার মেয়ে, এরকম বলো না। বরং তুমি বলো, وَجَاءَتْ سَكْرَةُ الْمَوْتِ بِالْحَقِّ ذَلِكَ مَا كُنْتَ مِنْهُ تحِيدُ (আর সত্যিই মৃত্যু যন্ত্রণা উপস্থিত হয়েছে, এটা তো সেই জিনিস যা থেকে তুমি পলায়ন করতে। -সূরা ক্বফ: ১৯)।” তারপর তিনি জিজ্ঞেস করেন, “কয় কাপড়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কাফন দেওয়া হয়েছিল?” আমি জবাবে বললাম, “তিন কাপড়ে।” তিনি বলেন, “তোমরা আমাকে এই দুই কাপড় এবং এর সাথে আরেকটি নতুন কাপড় ক্রয় করে তাতে কাফন দিবে। কেননা মৃতদের চেয়ে জীবিতরা নতুন কাপড় পাওয়ার বেশি হকদার। নিশ্চয়ই এটা কাজের পোশাক।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ৬/৪০; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৬১৭৬; সহীহুল বুখারী: ১৩৮৭; সুনান বাইহাকী: ৩/৩৯৯। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩০২৫)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - وعند البخاري قصَّة الكفن. * [إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ] قال الشيخ: هو ابن راهويه الحافظ صاحب «المسند»، والحديث فيه (2/ 305 - 306). ومن فوقه ثقات من رجال الشيخين، غير مجاهد بن وردان؛ وهو ثقة. وعزاه المُعلِّقُ على «إحسان المؤسسة» لِجَمعٍ من طريق هشام بن عروة عن أبيه؛ منهم البخاري (1387)، وهو من تَسَاهُلِه، أو قِلَّة تحقيقه؛ لأنَّه ليس عنده ما قبل قول أبي بكر: «في كم كُفِّنَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم؟ »! وكذلك قال الحافظ في «شرح البخاري» (3/ 253): زاد أبو نعيم في «المستخرج» من هذا الوجه: «فرأيت به الموت، فقلت ... » فذكرها. وأخرجها ابن سعد في «الطبقات» (3/ 197) مُفردة من طريق أُخرى عن هشام به. * [مَدْفُوقًا] قال الشيخ: الأصل «مدفونا»، وكذا في «الموارد» (2177)، والتصحيح من «ابن سعد»، و «الفتح».




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح رجاله رجال الشيخين غير مجاهد بن وردان









সহীহ ইবনু হিব্বান (3037)


3037 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ سِنَانٍ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، «كُفِّنَ فِي ثَلَاثَةِ أَثْوَابٍ بِيضٍ سُحُولِيَّةٍ لَيْسَ فِيهَا قَمِيصٌ وَلَا عِمَامَةٌ»
رقم طبعة با وزير = (3026)




আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সাহুলী তিনটি সাদা কাপড়ে কাফন দেওয়া হয়েছিল; তাতে কোন জামা বা পাগড়ী ছিল না।”[1]



[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/২২৩; মুসনাদ ইমাম শাফে‘ঈ: ৫৭৪; সহীহুল বুখারী: ১২৭৩; নাসাঈ: ৪/৩৫; ‍সুনান বাইহাকী: ৩/৩৯৯; বাগাবী: ১৪৭৬; আত তায়ালিসী: ১৪৫৩। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (ইরওয়াউল গালীল: ৭২২)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الإرواء» (722): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناد صحيح على شرط الشيخين









সহীহ ইবনু হিব্বান (3038)


3038 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ أَبِيهِ، سَمِعَ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا وُضِعَتِ الْجَنَازَةُ وَاحْتَمَلَهَا الرِّجَالُ عَلَى أَعْنَاقِهِمْ، فَإِنْ كَانَتْ صَالِحَةً قَالَتْ: قَدِّمُونِي، وَإِنْ كَانَتْ غَيْرَ صَالِحَةٍ قَالَتْ: يَا وَيْلَهَا أَيْنَ يَذْهَبُونَ بِهَا، يَسْمَعُ صَوْتَهَا كُلُّ شَيْءٍ إِلَّا الْإِنْسَانَ، وَلَوْ سَمِعَهَا الْإِنْسَانُ لَصَعِقَ»
رقم طبعة با وزير = (3027)




আবূ সা‘ঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন জানাযা রাখা হয় এবং লোকজন তাকে কাঁধে উঠায়, তবে যদি সে ব্যক্তি সৎ হয়ে থাকে, তখন সে বলে, “তোমরা আমাকে সামনে নিয়ে চলো।” আর যদি সে সৎ না হয়ে থাকে, তখন সে বলে, হায় দুর্ভোগ! ওরা আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে!” মানুষ ছাড়া সবাই তার কথা শুনতে পায়। যদি মানুষ তা শুনতে পেতো, তবে তারা জ্ঞান হারিয়ে ফেলতো।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ৩/৪১; সহীহুল বুখারী: ১৩১৪; নাসাঈ: ৪/৪১; সুনান বাইহাকী: ৪/২১; বাগাবী: ১৪৮২; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৬২৫০। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ৪৪৪)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (444): خ.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناد صحيح على شرط الشيخين









সহীহ ইবনু হিব্বান (3039)


3039 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ حَمَّادٍ زُغْبَةَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا وُضِعَتِ الْجَنَازَةُ، وَاحْتَمَلَهَا الرِّجَالُ عَلَى أَعْنَاقِهِمْ، فَإِنْ كَانَتْ صَالِحَةً قَالَتْ: قَدِّمُونِي، وَإِنْ كَانَتْ غَيْرَ صَالِحَةٍ قَالَتْ: يَا وَيْلَهَا أَيْنَ يَذْهَبُونَ بِهَا، يَسْمَعُ صَوْتَهَا كُلُّ شَيْءٍ إِلَّا الْإِنْسَانَ، وَلَوْ سَمِعَهَا الْإِنْسَانُ لَصَعِقَ»
رقم طبعة با وزير = (3028)




আবূ সা‘ঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন জানাযা রাখা হয় এবং লোকজন তাকে কাঁধে উঠায়, তবে যদি সে ব্যক্তি সৎ হয়ে থাকে, তখন সে বলে, “তোমরা আমাকে সামনে নিয়ে চলো।” আর যদি সে সৎ না হয়ে থাকে, তখন সে বলে, হায় দুর্ভোগ! ওরা আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে!” মানুষ ছাড়া সবাই তার কথা শুনতে পায়। যদি মানুষ তা শুনতে পেতো, তবে তারা জ্ঞান হারিয়ে ফেলতো।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ৩/৪১; সহীহুল বুখারী: ১৩১৪; নাসাঈ: ৪/৪১; সুনান বাইহাকী: ৪/২১; বাগাবী: ১৪৮২; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৬২৫০। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ৪৪৪)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: خ - مكرر ما قبله.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (3040)


3040 - أَخْبَرَنَا حَامِدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ شُعَيْبٍ الْبَلْخِيُّ، بِبَغْدَادَ، حَدَّثَنَا مَنْصُورُ بْنُ أَبِي مُزَاحِمٍ، حَدَّثَنَا أَبُو الْأَحْوَصِ، عَنْ أَشْعَثَ بْنِ أَبِي الشَّعْثَاءِ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ سُوَيْدٍ، عَنِ الْبَرَاءِ، قَالَ: «أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِاتِّبَاعِ الْجَنَائِزِ، وَعِيَادَةِ الْمَرْضَى، وَتَشْمِيتِ الْعَاطِسِ، وَإِبْرَارِ الْمُقْسِمِ، وَنُصْرَةِ الْمَظْلُومِ، وَإِفْشَاءِ السَّلَامِ، وَإِجَابَةِ الدَّاعِي».
رقم طبعة با وزير = (3029) [ص:313] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: «الْأَمْرُ بِاتِّبَاعِ الْجَنَائِزِ، وَعِيَادَةِ الْمَرْضَى، أَمْرٌ لِطَلَبِ الثَّوَابِ دُونَ أَنْ يَكُونَ حَتْمًا، وَالْأَمْرُ بِتَشْمِيتِ الْعَاطِسِ، وَإِبْرَارِ الْمُقْسِمِ، لَفْظٌ عَامٌ مُرَادُهُمَا الْخُصُوصُ، وَذَلِكَ أَنَّ الْعَاطِسَ لَا يَجِبُ أَنْ يُشَمَّتَ إِلَّا إِذَا حَمِدَ اللَّهَ، وَإِبْرَارُ الْمُقْسِمِ فِي بَعْضِ الْأَحْوَالِ دُونَ الْكُلِّ، وَالْأَمْرُ بِنُصْرَةِ الْمَظْلُومِ، وَإِجَابَةِ الدَّاعِي أَمْرَا حَتْمٍ فِي الْوَقْتِ دُونَ الْوَقْتِ، وَالْأَمْرِ بِإِفْشَاءِ السَّلَامِ أَمْرٌ بِلَفْظِ الْعُمُومِ، وَالْمُرَادُ مِنْهُ اسْتِعْمَالُهُ مَعَ الْمُسْلِمِينَ دُونَ غَيْرِهِمْ»




বারা বিন আযিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে জানাযার অনুসরণ, রোগীকে দেখতে যাওয়া, হাঁচি দানকারীর জবাব দেওয়া, শপথকারীর শপথ পূর্ণ করতে সাহায্য করা, মাযলূমকে সাহায্য করা, সালামের ব্যাপক প্রচলন ঘটানো ও আহবানকারীর আহবানে সাড়া দেওয়ার জন্য নির্দেশ করেছেন।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “জানাযার অনুসরণ করা ও রোগীকে দেখতে যাওয়ার নির্দেশটি হলো সাওয়াব অনুসন্ধান করার জন্য নির্দেশ; এটি আবশ্যকতা নির্দেশক নয়। হাঁচি দানকারীর জবাব দেওয়া ও শপথকারী শপথ পূর্ণ করতে সহযোগিতা করার শব্দটি ব্যাপক অর্থবোধক কিন্তু উদ্দেশ্য খাছ বা বিশিষ্টার্থক। এটা এভাবে যে, হাঁচি দানকারীর জবাব দেওয়া কেবল তখনই ওয়াজিব হয়, যখন সে আলহামদু লিল্লাহ বলবে। শপথকারীর শপথ পূর্ণ করার বিষয়টি কিছু অবস্থায় প্রযোজ্য; সর্বক্ষেত্রে নয়। আহবানকারীর আহবানে সাড়া, মাযলূমকে সাহায্য করার নির্দেশটি কখন বাধ্যতামূলক আবার কোন সময় বাধ্যতামূলক হয় না। সালাম ব্যাপকভাবে প্রচলিত করার নির্দেশ ব্যাপক অর্থবোধক হলেও এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মুসলিমদের সাথে সালাম আদান-প্রদান করা; অন্যদের সাথে নয়।”



[1] সহীহুল বুখারী: ৫১৭৫; আদাবুল মুফরাদ: ৯২৪; নাসাঈ: ৪/৫৪; মুসনাদ আহমাদ: ৪/২৮৪; আত তায়ালিসী: ৭৪৬; সহীহ মুসলিম: ২০৬৯; তিরমিযী: ২৮০৯; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/৪৮২; সুনান বাইহাকী: ৬/৯৪। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩০২৯)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: خ.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم