সহীহ ইবনু হিব্বান
3181 - أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِدْرِيسَ الْأَنْصَارِيُّ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ: لَمَّا كَانَ مَرَضُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ذَكَرَ بَعْضُ نِسَائِهِ كَنِيسَةً رَأَيَاهَا بِأَرْضِ الْحَبَشَةِ، وَكَانَتْ أُمُّ سَلَمَةَ، وَأُمُّ حَبِيبَةَ قَدْ أَتَتَا أَرْضَ الْحَبَشَةِ، فَذَكَرْنَ كَنِيسَةً رَأَيْنَهَا بِأَرْضِ الْحَبَشَةِ يُقَالُ لَهَا مَارِيَةُ، وَذَكَرْنَ مِنْ حُسْنِهَا وَتَصَاوِيرَ فِيهَا، فَرَفَعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأْسَهُ، فَقَالَ: «إِنَّ أُولَئِكَ إِذَا مَاتَ مِنْهُمُ الرَّجُلُ الصَّالِحُ بَنَوْا عَلَى قَبْرِهِ مَسْجِدًا، ثُمَّ صَوَّرُوا فِيهِ تِلْكَ الصُّوَرَ، وَأُولَئِكَ شِرَارُ الْخَلْقِ عِنْدَ اللَّهِ تَعَالَى»
رقم طبعة با وزير = (3171)
আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন অসুস্থ হয়ে যান, তখন তাঁর কোন এক স্ত্রী বলেন যে, তিনি ইথিওপিয়াতে একটি গির্জা দেখেছেন। উম্মু সালামাহ ও উম্মু হাবীবাহ ইথিওপিয়াতে গিয়েছিলেন। তারা বলেন যে, তারা ইথিওপিয়ার ভুমিতে একটি গির্জা দেখেছেন, যার নাম মারিয়াহ। তারা সেটার সৌন্দর্য ও তার মধ্যস্থিত মূর্তির কথা উল্লেখ করেন। এটা শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথা উত্তোলন করেন এবং বলেন, “ঐ লোকগুলোর মাঝে কোন ভালো লোক মারা গেলে তারা তার কবরের উপর মাসজিদ নির্মাণ করতো। তারপর তারা সেখানে তাদের ছবি-মূর্তি তৈরি করতো। আল্লাহর নিকট এরাই হলো সৃষ্টির মাঝে নিকৃষ্ট লোক।”[1]
[1] সহীহুল বুখারী: ১৩৪১; বাগাবী: ৫০৯; আবূ আওয়ানা: ১/৪০০; সহীহ মুসলিম: ৫২৮; মুসনাদ আহমাদ: ৬/১২১; সুনান বাইহাকী: ৪/৮০; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ১৫৮৮; নাসাঈ: ৫৩১; দারেমী: ১/৩২৬। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আহকামুল জানাইয: ২৭৮)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «تحذير الساجد»، «أحكام الجنائز» (278): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناد صحيح على شرط الشيخين
3182 - أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى بْنِ مُجَاشِعٍ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَسْبَاطُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَعَنَ اللَّهُ قَوْمًا اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ»
رقم طبعة با وزير = (3172)
আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন এক সম্প্রদায়ের উপর অভিসম্পাত করেছেন, যারা তাদের নবীদের কবরসমূহকে মাসজিদ বানিয়ে নিয়েছিল।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৬/১৪৬; নাসাঈ: ৪/৯৫। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আহকামুল জানাইয: ২৭৬)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «تحذير الساجد»، «الأحكام» (276): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما
3183 - أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ الْعَبْدِيُّ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْأَسْوَدِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ نُبَيْحٍ الْعَنَزِيِّ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّهُ قَالَ: فِي قَتْلَى أُحُدٍ حَمَلُوا قَتْلَاهُمْ، فَنَادَى مُنَادِي رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَنْ رُدُّوا الْقَتْلَى إِلَى مَصَارِعِهِمْ»
رقم طبعة با وزير = (3173)
জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি উহুদে যুদ্ধের শহীদদের ব্যাপারে বলেন, “কিছু সাহাবী শহীদদের বহন করে নিয়ে আসেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একজন ঘোষক ঘোষনা করেন, “তোমরা শহীদদেরকে তাদের শাহাদতবরণ করার জায়াগায় ফিরিয়ে দাও।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৩/২৯৭; আত তায়ালিসী: ১৭৮০; তিরমিযী: ১৭১৭; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ; আবূ দাঊদ: ৩১৬৫; নাসাঈ: ৪/৭৯; ইবনু মাজাহ: ১৫১৬; ইবনুল জারুদ: ৫৫৩; সুনান বাইহাকী: ৪/৫৭। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আহকামুল জানাইয: ২৫)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الأحكام» (25).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي رجاله ثقات رجال الصحيحين غير نبيح العنزي
3184 - أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى بْنِ مُجَاشِعٍ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنِ الْأَسْوَدِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ نُبَيْحٍ الْعَنَزِيِّ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: خَرَجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَ الْمَدِينَةِ إِلَى الْمُشْرِكِينَ لِيُقَاتِلَهُمْ، فَقَالَ لِي أَبِي عَبْدِ اللَّهِ: يَا جَابِرُ لَا عَلَيْكَ أَنْ تَكُونَ فِي نُظَّارِ أَهْلِ الْمَدِينَةِ، حَتَّى تَعْلَمَ إِلَى مَا يَصِيرُ أَمْرُنَا، فَإِنِّي وَاللَّهِ لَوْلَا أَنِّي أَتْرُكُ بَنَاتٍ لِي بَعْدِي لَأَحْبَبْتُ أَنْ تُقْتَلَ بَيْنَ يَدَيَّ، فَبَيْنَا أَنَا فِي النَّظَّارِينَ، إِذْ جَاءَ ابْنُ عَمَّتِي بِأَبِي وَخَالِي، عَادَلَهُمَا عَلَى نَاضِحٍ، فَدَخَلَ بِهِمَا الْمَدِينَةَ، لِيَدْفِنَهُمَا فِي مَقَابِرِنَا، إِذْ لَحِقَ رَجُلٌ يُنَادِي: «أَلَا إِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تَرْجِعُوا بِالْقَتْلَى، فَتَدْفِنُوهَا فِي مَصَارِعِهَا حَيْثُ قُتِلَتْ» قَالَ: فَرَجَعْنَاهُمَا مَعَ الْقَتْلَى حَيْثُ قُتِلَتْ.
رقم طبعة با وزير = (3174) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: «فَرَجَعْنَاهُمَا أُضْمِرَ فِي: فَدَفَنَّاهُمَا»
জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনা থেকে মুশরিকদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য বের হন। তখন আমার বাবা আব্দুল্লাহ বলেন, “হে জাবির, তোমার জন্য কোন দূষনীয় হবে না, যদি তুমি মাদীনায় অবস্থানকারীদের মাঝে অবস্থান করো, যাতে তুমি জানতে পারো আমাদের পরিণতি সম্পর্কে। আল্লাহর কসম, যদি আমার পরে আমার মেয়েদের রেখে না যেতাম, তবে নিশ্চয়ই আমি ভালবাসতাম যে, তুমি আমার সামনে শাহাদাত বরণ করো। ফলে আমি মাদীনায় অবস্থানকারীদের মাঝে থাকি। অতঃপর আমার ফুফাত ভাই আমার বাবা ও আমার মামাকে উটের উপর নিয়ে আসেন। তিনি তাদেরকে নিয়ে মদীনায় নিয়ে আসেন, মদীনায় আমাদের গোরস্থানে দাফন করার জন্য। এমন সময় এক ব্যক্তি এসে ঘোষনা দেয়, “জেনে রাখুন, নিশ্চয়ই আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাদেরকে আদেশ করছেন তোমাদের মৃত ব্যক্তিদেরকে ফিরিয়ে নিয়ে তাদের শাহাদাতবরণ করার জায়গায় দাফন করাতে।” রাবী বলেন, “তারপর আমরা তাদেরকে দুইজনকে অন্যান্য নিহত ব্যক্তিদের সাথে ফিরিয়ে নিয়ে যাই, যেখানে তারা শাহাদাত বরণ করেছেন।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “অতঃপর আমরা তাদেরকে দুইজনকে ফিরিয়ে নিয়ে যাই” এখানে উহ্য রয়েছে, “এবং তাদেরকে দাফন করি।”
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৩/৩৯৭-৩৯৮। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আহকামুল জানাইয: ১৭৫)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الأحكام» (175).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي
3185 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ [ص:458] عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَهْمٍ الْأَنْطَاكِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ الْفَزَارِيُّ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مُوسَى، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَالِكِ بْنِ يَخَامِرَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ جُرِحَ جُرْحًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ، جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَدْمَى، اللَّوْنُ لَوْنُ دَمٍ، وَالرِّيحُ رِيحِ مِسْكٍ، وَمَنْ جُرِحَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ طُبِعَ بِطَابَعِ الشُّهَدَاءِ»
رقم طبعة با وزير = (3175)
মুয়ায বিন জাবাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় আহত হয়, সে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন আসবে এমন অবস্থায় যে, তার জখম থেকে রক্ত ঝরবে, যার রং হবে রক্তের রং আর ঘ্রাণ হবে মিশকে আম্বরের ঘ্রাণ। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় আহত হয়, তার উপর শহীদদের সীল লাগানো হয়।”[1]
[1] সুনান বাইহাকী: ৯/১৭০; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৯৫৩৪; মুসনাদ আহমাদ: ৫/২৩০-২৩১; তাবারানী আল কাবীর: ২০/২০৪; তিরমিযী: ১৬৫৭। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ২২৯১)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (2291)، وله تتمَّة تأتي (3181). تنبيه!! رقم (3181) = (3191) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن
3186 - أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى بْنِ مُجَاشِعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا [ص:459] وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ تَعُدُّونَ الشُّهَدَاءَ فِيكُمْ؟ » قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَنْ قُتِلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَهُوَ شَهِيدٌ قَالَ: «إِنَّ شُهَدَاءَ أُمَّتِي إِذًا لَقَلِيلٌ» قَالُوا: مَنْ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «مَنْ قُتِلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، فَهُوَ شَهِيدٌ، وَمَنْ مَاتَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، فَهُوَ شَهِيدٌ، وَمَنْ مَاتَ فِي الطَّاعُونِ فَهُوَ شَهِيدٌ، وَمَنْ مَاتَ فِي بَطْنٍ، فَهُوَ شَهِيدٌ». قَالَ سُهَيْلٌ: وَأَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مِقْسَمٍ، قَالَ: «أَشْهَدُ عَلَى أَبِيكَ، أَنَّهُ زَادَ فِي الْحَدِيثِ الْخَامِسَ وَمَنْ غَرِقَ فَهُوَ شَهِيدٌ»
رقم طبعة با وزير = (3176)
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের মাঝে তোমরা কাকে শহীদ হিসেবে গণ্য করো?” সাহাবীগণ জবাবে বললেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় নিহত হন, তিনি শহীদ।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তাহলে তো আমার উম্মাতের শহীদের সংখ্যা কম হয়ে যাবে!” সাহাবীগণ আরজ করলেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, শহীদ কে?” জবাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় নিহত হন, তিনি শহীদ। যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় মারা যায়, তিনি শহীদ। যে ব্যক্তি মহামারীতে মারা যায়, তিনি শহীদ। যে ব্যক্তি পেটের অসুস্থতায় মারা যায়, তিনিও শহীদ।” সুহাইল রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন উবাইদুল্লাহ বিন মিকসাম, তিনি বলেছেন, “আমি তোমার বাবার ব্যাপারে কসম করে বলছি, তিনি হাদীসে পঞ্চম আরেকটি বিষয় বৃদ্ধি করেছেন। সেটি হলো, “যে ব্যক্তি পানিতে ডুবে মারা যায়, তিনিও শহীদ।”[1]
[1] সহীহ মুসলিম: ১৯১৫; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৯৫৭৪; মুসনাদ আহমাদ: ২/৫২২; ইবনু মাজাহ: ২৮০৪; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৫/৩৩২। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ২২৯১)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الأحكام» (51): م.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم
3187 - أَخْبَرَنَا أَبُو خَلِيفَةَ، حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ تَعُدُّونَ الشُّهَدَاءَ فِيكُمْ؟ » قَالُوا: مَنْ قُتِلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَهُوَ شَهِيدٌ قَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَمَنْ مَاتَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَهُوَ شَهِيدٌ، وَمَنْ مَاتَ فِي طَاعُونٍ فَهُوَ شَهِيدٌ». قَالَ: وَحَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مِقْسَمٍ، أَنَّهُ قَالَ: وَأَشْهَدُ عَلَى أَبِيكَ، أَنَّهُ زَادَ «وَمَنْ غَرِقَ فَهُوَ شَهِيدٌ»
رقم طبعة با وزير = (3177)
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের মাঝে তোমরা কাকে শহীদ হিসেবে গণ্য করো?” সাহাবীগণ জবাবে বললেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় নিহত হন, তিনি শহীদ।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় মারা যায়, তিনি শহীদ। যে ব্যক্তি মহামারীতে মারা যায়, তিনি শহীদ।” সুহাইল রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন উবাইদুল্লাহ বিন মিকসাম, তিনি বলেছেন, “আমি তোমার বাবার ব্যাপারে কসম করে বলছি, তিনি হাদীসে পঞ্চম আরেকটি বিষয় বৃদ্ধি করেছেন। সেটি হলো, “যে ব্যক্তি পানিতে ডুবে মারা যায়, তিনিও শহীদ।”[1]
[1] সহীহ মুসলিম: ১৯১৫; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৯৫৭৪; মুসনাদ আহমাদ: ২/৫২২; ইবনু মাজাহ: ২৮০৪; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৫/৩৩২। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ২২৯১)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر ما قبله.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح
3188 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ سِنَانٍ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سُمَيٍّ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «الشَّهِيدُ خَمْسَةٌ: الْمَبْطُونُ، وَالْمَطْعُونُ، وَالْغَرِقُ، وَصَاحِبُ الْهَدْمِ، وَالشَّهِيدُ»
رقم طبعة با وزير = (3178)
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “শহীদ পাঁচ প্রকার। পেটের রোগে মারা যাওয়া ব্যক্তি, প্লেগে মারা যাওয়া ব্যক্তি, পানি ডুবে মারা যাওয়া ব্যক্তি, ধ্বসে চাপা পড়া ব্যক্তি এবং (আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করে) শহীদ।”[1]
[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/১৩১; মুসনাদ আহমাদ: ২/৩২৪-৩২৫; সহীহুল বুখারী: ৬৫৩; সহীহ মুসলিম: ১৯১৪; তিরমিযী; ১০৬৩; নাসাঈ আস সুনানুল কুবরার বরাতে তুহফাতুল আহওয়াযী: ৯/৩৯২। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আহকামুল জানাইয: ৫৩)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الأحكام» (53).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناد صحيح على شرط الشيخين
3189 - أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِدْرِيسَ الْأَنْصَارِيُّ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَابِرِ بْنِ عَتِيكٍ، عَنْ عَتِيكِ بْنِ الْحَارِثِ، وَهُوَ جَدُّ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَبُو أُمِّهِ، أَنَّ جَابِرَ بْنَ عَتِيكٍ، أَخْبَرَهُ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَاءَ يَعُودُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ ثَابِتٍ، فَوَجَدَهُ قَدْ غُلِبَ عَلَيْهِ، فَصَاحَ بِهِ، فَلَمْ يُجِبْهُ، فَاسْتَرْجَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَقَالَ: «غُلِبْنَا عَلَيْكَ يَا أَبَا الرَّبِيعِ» فَصَاحَ النِّسْوَةُ وَبَكَيْنَ، وَجَعَلَ ابْنُ عَتِيكٍ يُسَكِّتُهُنَّ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «دَعْهُنَّ فَإِذَا وَجَبَ فَلَا تَبْكِيَنَّ بَاكِيَةٌ»، فَقَالُوا: وَمَا الْوُجُوبُ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «إِذَا مَاتَ» قَالَتِ ابْنَتُهُ: وَاللَّهِ إِنْ كُنْتُ لَأَرْجُو أَنْ تَكُونَ شَهِيدًا فَإِنَّكَ كُنْتَ قَدْ قَضَيْتَ جِهَازَكَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَوْقَعَ أَجْرَهُ عَلَى قَدْرِ نِيَّتِهِ، وَمَا تَعُدُّونَ الشَّهَادَةَ؟ » قَالُوا: الْقَتْلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، قَالَ [ص:462] رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الشَّهَادَةُ سَبْعٌ سِوَى الْقَتْلِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ: الْمَبْطُونُ شَهِيدٌ، وَالْغَرِيقُ شَهِيدٌ، وَصَاحِبُ ذَاتِ الْجَنْبِ شَهِيدٌ، وَالْمَطْعُونُ شَهِيدٌ، وَالْحَرِيقُ شَهِيدٌ، وَالَّذِي يَمُوتُ تَحْتَ الْهَدْمِ شَهِيدٌ، وَالْمَرْأَةُ تَمُوتُ بِجَمْعٍ شَهِيدٌ»
رقم طبعة با وزير = (3179)
জাবির বিন আতীক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার আব্দুল্লাহ বিন সাবিত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে অসুস্থতায় দেখতে আসেন। অতঃপর তিনি দেখতে পান যে, তিনি রোগের কাছে পরাভূত হয়ে গেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডাক দিলেন, কিন্তু তিনি কোন জবাব দিলেন না। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ইন্না লিল্লাহ...’ বলেন, এবং তিনি বলেন, “আবুর রবী, নিশ্চয়ই আমরা তোমার ব্যাপারে পরাভূত হয়ে গেলাম।” তখন নারীরা চিৎকার করে কেঁদে উঠেন। আর ইবনু আতীক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাদেরকে শান্ত করানোর চেষ্টা করেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তাদেরকে ছেড়ে দাও। যখন অবধারিত হয়ে যাবে, তখন তোমাদের মাঝে কেউ যেন না কাঁদে।” সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, “অবধারিত হওয়া কি?” জবাবে তিনি বলেন, “যখন মারা যাবে।” জাবির বিন আতীক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর মেয়ে বলেন, “আল্লাহর কসম, নিশ্চয়ই আমি আশাবাদী যে, আপনি শহীদ হিসেবে গণ্য হবেন। কেননা আপনি তো জিহাদের সরঞ্জাম সম্পন্ন করেছিলেন।” এটা শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তার নিয়ত অনুসারে তার সাওয়াব কার্যকর করেছেন। তোমরা কোনটাকে শাহাদত হিসেবে গন্য করো?” সাহাবীগণ জবাবে বলেন, “আল্লাহর রাস্তায় নিহত হওয়া।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “আল্লাহর রাস্তায় নিহত হওয়া ছাড়াও সাত রকমের শাহাদতবরণ রয়েছে। পেটের পীড়ায় মৃত ব্যক্তি শহীদ, পানিতে ডুবে মারা যাওয়া ব্যক্তি শহীদ, প্লুরিসি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, প্লেগে মারা যাওয়া ব্যক্তি শহীদ, পুড়ে মারা যাওয়া ব্যক্তি শহীদ, ধ্বসে মারা যাওয়া ব্যক্তি শহীদ, গর্ভাবস্থায় কোন নারী মারা গেলে সে শহীদ।”[1]
[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৫/৩৩২; মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/২৩৩; মুসনাদ আহমাদ: ৫/৪৪৬; আবূ দাঊদ: ৩১১১; নাসাঈ: ৪/১৩; হাকিম: ১/৩৫১; সুনান বাইহাকী: ৪/৬৯-৭০; ইবনু মাজাহ: ২৭০৩; তাবারানী আল কাবীর: ১৭৮০; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৬৬৯৫; সহীহুল বুখারী: ২৮২৯; সহীহ মুসলিম: ১৯১৪; দারেমী: ২/২০৮; আত তায়ালিসী: ৫৮২। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আহকামুল জানাইয: ৫৪)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (2723)، «أحكام الجنائز» (54).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: Null
3190 - أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِدْرِيسَ الْأَنْصَارِيُّ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَابِرِ بْنِ عَتِيكٍ، عَنْ عَتِيكِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ عَتِيكٍ، وَهُوَ جَدُّ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَبُو أُمِّهِ، أَنَّ جَابِرَ بْنَ عَتِيكٍ، أَخْبَرَهُ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، جَاءَ يَعُودُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ ثَابِتٍ فَوَجَدَهُ قَدْ غُلِبَ عَلَيْهِ، فَصَاحَ بِهِ، فَلَمْ يُجِبْهُ، فَاسْتَرْجَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَ: «غُلِبْنَا عَلَيْكَ يَا أَبَا الرَّبِيعِ» فَصَاحَتِ النِّسْوَةُ، وَبَكَيْنَ، وَجَعَلَ ابْنُ عَتِيكٍ يُسَكِّتُهُنَّ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «دَعْهُنَّ، فَإِذَا وَجَبَ فَلَا تَبْكِينَّ بَاكِيَةٌ»، قَالُوا: وَمَا الْوُجُوبُ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «إِذَا مَاتَ» قَالَتِ ابْنَتُهُ: وَاللَّهِ إِنِّي كُنْتُ لَأَرْجُو أَنْ تَكُونَ شَهِيدًا فَإِنَّكَ كُنْتَ قَدْ قَضَيْتَ جِهَازَكَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَوْقَعَ أَجْرَهُ عَلَى قَدْرِ نِيَّتِهِ، [ص:464] وَمَا تَعُدُّونَ الشَّهَادَةَ؟ » قَالُوا: الْقَتْلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الشَّهَادَةُ سَبْعٌ سِوَى الْقَتْلِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ: الْمَبْطُونُ شَهِيدٌ، وَالْغَرِيقُ شَهِيدٌ، وَصَاحِبُ ذَاتِ الْجَنْبِ شَهِيدٌ، وَالْمَطْعُونُ شَهِيدٌ، وَصَاحِبُ الْحَرِيقِ شَهِيدٌ، وَالَّذِي يَمُوتُ تَحْتَ الْهَدْمِ شَهِيدٌ، وَالْمَرْأَةُ تَمُوتُ بِجَمْعٍ شَهِيدٌ»
رقم طبعة با وزير = (3180)
জাবির বিন আতীক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার আব্দুল্লাহ বিন সাবিত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে অসুস্থতায় দেখতে আসেন। অতঃপর তিনি দেখতে পান যে, তিনি রোগের কাছে পরাভূত হয়ে গেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডাক দিলেন, কিন্তু তিনি কোন জবাব দিলেন না। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ইন্না লিল্লাহ...’ বলেন এবং তিনি বলেন, “আবুর রবী, নিশ্চয়ই আমরা তোমার ব্যাপারে পরাভূত হয়ে গেলাম।” তখন নারীরা চিৎকার করে কেঁদে উঠেন। আর ইবনু আতীক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাদেরকে শান্ত করানোর চেষ্টা করেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তাদেরকে ছেড়ে দাও। যখন অবধারিত হয়ে যাবে, তখন তোমাদের মাঝে কেউ যেন না কাঁদে।” সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, “অবধারিত হওয়া কি?” জবাবে তিনি বলেন, “যখন মারা যাবে।” জাবির বিন আতীক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর মেয়ে বলেন, “আল্লাহর কসম, নিশ্চয়ই আমি আশাবাদী যে, আপনি শহীদ হিসেবে গণ্য হবেন। কেননা আপনি তো জিহাদের সরঞ্জাম সম্পন্ন করেছিলেন।” এটা শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তার নিয়ত অনুসারে তার সাওয়াব কার্যকর করেছেন। তোমরা কোনটাকে শাহাদত হিসেবে গন্য করো?” সাহাবীগণ জবাবে বলেন, “আল্লাহর রাস্তায় নিহত হওয়া।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “আল্লাহর রাস্তায় নিহত হওয়া ছাড়াও সাত রকমের শাহাদতবরণ রয়েছে। পেটের পীড়ায় মৃত ব্যক্তি শহীদ, পানিতে ডুবে মারা যাওয়া ব্যক্তি শহীদ, প্লুরিসি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, প্লেগে মারা যাওয়া ব্যক্তি শহীদ, পুড়ে মারা যাওয়া ব্যক্তি শহীদ, ধ্বসে মারা যাওয়া ব্যক্তি শহীদ, গর্ভাবস্থায় কোন নারী মারা গেলে সে শহীদ।”[1]
[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৫/৩৩২; মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/২৩৩; মুসনাদ আহমাদ: ৫/৪৪৬; আবূ দাঊদ: ৩১১১; নাসাঈ: ৪/১৩; হাকিম: ১/৩৫১; সুনান বাইহাকী: ৪/৬৯-৭০; ইবনু মাজাহ: ২৭০৩; তাবারানী আল কাবীর: ১৭৮০; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৬৬৯৫; সহীহুল বুখারী: ২৮২৯; সহীহ মুসলিম: ১৯১৪; দারেমী: ২/২০৮; আত তায়ালিসী: ৫৮২। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আহকামুল জানাইয: ৫৪)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الأحكام» (54).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: صحيح
3191 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ سِنَانٍ، حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ الْخَلَّالُ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ ثَوْبَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ مُرَّةَ، عَنْ مَالِكِ بْنِ يَخَامِرَ السَّكْسَكِيِّ، أَنَّ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ جُرِحَ جُرْحًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ، جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ رِيحُهُ كَرِيحِ الْمِسْكِ، لَوْنُهُ لَوْنَ الزَّعْفَرَانِ، عَلَيْهِ طَابَعُ الشُّهَدَاءِ، وَمَنْ سَأَلَ اللَّهَ الشَّهَادَةَ مُخْلِصًا، أَعْطَاهُ اللَّهُ أَجْرَ شَهِيدٍ، وَإِنَّ مَاتَ عَلَى فِرَاشِهِ»
رقم طبعة با وزير = (3181)
মুয়ায বিন জাবাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় আহত হয়, সে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন আসবে এমন অবস্থায় যে, তার ক্ষতের ঘ্রাণ হবে মিশকে আম্বরের, রং হবে জাফরানের রং আর তার উপর শহীদদের সীল লাগানো হয়। যে ব্যক্তি একনিষ্ঠভাবে শাহাদত কামনা করবে, মহান আল্লাহ তাকে শহীদের সাওয়াব দিবেন, যদিও সে নিজ বিছানায় মারা যায়।”[1]
[1] সুনান বাইহাকী: ৯/১৭০; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৯৫৩৪; মুসনাদ আহমাদ: ৫/২৩০-২৩১; তাবারানী আল কাবীর: ২০/২০৪; তিরমিযী: ১৬৫৭। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ২২৯১)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - تقدم طرفه الأول (1175). تنبيه!! رقم (1175) = (1178) من «طبعة المؤسسة». لكنه غير موجود بالرقم المشار إليه، وإنما موجود برقم (3175) الموافق لـ (3185) من طبعة المؤسسة. - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن
3192 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ شُرَيْحٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: «مَنْ سَأَلَ اللَّهَ الشَّهَادَةَ بِصِدْقٍ، بَلَّغَهُ اللَّهُ مَنَازِلَ الشُّهَدَاءِ وَإِنْ مَاتَ عَلَى فِرَاشِهِ»
رقم طبعة با وزير = (3182)
সাহল বিন হুনাইফ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি সততার সাথে আল্লাহর কাছে শাহাদত কামনা করবে, তাকে আল্লাহ মানযিলে পৌঁছাবেন, যদিও সে নিজ বিছানায় মারা যায়।”[1]
[1] সহীহ মুসলিম: ১৯০৯; আবূ দাঊদ: ১৫২০; নাসাঈ: ৬/৩৬-৩৭; ইবনু মাজাহ: ২৭৯৭; সুনান বাইহাকী: ৯/১৬৯-১৭০; তিরমিযী: ১৬৫৩; দারেমী: ২/২০৫; তাবারানী: ৬/৫৫৫০। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৩৬০)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1360): م.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الصحيح
3193 - أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي مَعْشَرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَيُّوبُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْوَزَّانُ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَبِي أُنَيْسَةَ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَوْفٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ حُسَيْنٍ، قَالَ: [ص:466] حَدَّثَتْنَا أُمُّ سَلَمَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَا هُوَ فِي بَيْتِهَا وَعِنْدَهُ نَفَرٌ مِنْ أَصْحَابِهِ إِذْ جَاءَهُ رَجُلٌ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ كَمْ صَدَقَةُ كَذَا وَكَذَا مِنَ التَّمْرِ؟ قَالَ: «كَذَا وَكَذَا» قَالَ الرَّجُلُ: فَإِنَّ فُلَانًا تَعَدَّى عَلَيَّ، وَأَخَذَ مِنِّي كَذَا وَكَذَا، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فَكَيْفَ إِذَا سَعَى عَلَيْكُمْ مَنْ يَتَعَدَّى عَلَيْكُمْ أَشَدَّ مِنْ هَذَا التَّعَدِّي»، فَخَاضَ الْقَوْمُ فِي ذَلِكَ، فَقَالَ الرَّجُلُ مِنْهُمْ: فَكَيْفَ بِنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِذَا كَانَ الرَّجُلُ مِنَّا غَائِبًا فِي إِبِلِهِ وَمَاشِيَتِهِ وَزَرْعِهِ وَنَخْلِهِ، فَأَدَّى زَكَاةَ مَالِهِ، فَتَعَدَّى عَلَيْهِ الْحَقَّ، فَكَيْفَ يَصْنَعُ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ أَدَّى زَكَاةَ مَالِهِ طَيْبَةً بِهَا نَفْسُهُ يُرِيدُ بِهَا وَجْهَ اللَّهِ وَالدَّارَ الْآخِرَةَ، ثُمَّ لَمْ يُغَيِّبُ مِنْهَا شَيْئًا، وَأَقَامَ الصَّلَاةَ، وَآتَى الزَّكَاةَ فَتَعَدَّى عَلَيْهِ الْحَقَّ، فَأَخَذَ سِلَاحَهُ، فَقَاتَلَ فَقُتِلَ، فَهُوَ شَهِيدٌ».
رقم طبعة با وزير = (3183) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «مَعْنَى هَذَا الْخَبَرِ إِذَا تَعَدَّى [ص:467] عَلَى الْمَرْءِ فِي أَخَذِ صَدَقَتِهِ، أَوْ مَا يُشْبِهُ هَذِهِ الْحَالَةَ، وَكَانَ مَعَهُ مِنَ الْمُسْلِمِينَ الَّذِي يُوَاطِؤُونَهُ عَلَى ذَلِكَ، وَفِيهِمْ كِفَايَةٌ بَعْدَ أَنْ لَا يَكُونَ قَصْدُهُمُ الدُّنْيَا، وَلَا شَيْئًا مِنْهَا دُونَ إِلْقَاءِ الْمَرْءِ نَفْسَهُ إِلَى التَّهْلُكَةِ» إِذِ الْمُصْطَفَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِأَبِي ذَرٍ: «اسْمَعْ وَأَطِعْ وَلَوْ عَبْدًا حَبَشِيًّا مُجَدَّعًا» وَقَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ حَمَلَ عَلَيْنَا السِّلَاحَ فَلَيْسَ مِنَّا»
উম্মু সালামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার গৃহে ছিলেন। এসময় তাঁর কাছে কিছু সাহাবী ছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি এসে বললো, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, এতো এতো পরিমাণ খেজুরের যাকাত কত?” জবাবে তিনি বলেন, “এতো এতো পরিমাণ।” তখন লোকটি বললো, ওমুক ব্যক্তি আমার উপর সীমালঙ্ঘন করেছে এবং আমার কাছ থেকে এতো পরিমাণ যাকাত গ্রহণ করেছে।” নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “সেসময় তোমাদের অবস্থা কেমন হবে, যখন তোমার উপর এমন শাসক আসবে, যারা তোমাদের উপর এরচেয়েও বেশি সীমালঙ্ঘন করবে?” তারপর লোকজন সেই বিষয়ে বলাবলি করে। তখন তাদের মাঝে এক ব্যক্তি বলেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সেই সময় আমাদের কী করা উচিত, যখন আমাদের কেউ তার উট, গবাদি পশু, খেজুরের কাছে উপস্থিত থাকে না, সেসময় যাকাত করা হলে যদি তার উপর সীমালঙ্ঘন করা হয়?” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি খুশি মনে, আল্লাহর সুন্তুষ্টি ও পরকালের আশায় যাকাত আদায় করে, যাকাতযোগ্য কোন পণ্যকে গোপন করে না, সালাত আদায় করে, যাকাত আদায় করে অতঃপর তার উপর সীমালঙ্ঘন করা হয় আর সেই ব্যক্তি অস্ত্র গ্রহণ করে সীমালঙ্ঘনকারীর সাথে লড়াই করে নিহত হয়, তবে সে ব্যক্তি শহীদ।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই হাদীসের অর্থ হলো যখন কোন মানুষের উপর সীমালঙ্ঘন করা হবে, তার যাকাতের মাল গ্রহণ করার ক্ষেত্রে অথবা এ ধরণের কোন অবস্থা সৃষ্টি হবে আর তার সাথে একদল মুসলিম থাকবে, যারা মোকাবেলা করার জন্য যথেষ্ট হবে। তাদের উদ্দেশ্য দুনিয়ার কোন কিছু হবে না এবং নিজেকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিবে না (তখন তিনি প্রতিরোধ গড়ে তুলবে; অন্যথায় নয়)। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ যার গিফারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বলেছিলেন, “তুমি (শাসকের কথা) শুনবে এবং তার আনুগত্য করবে। যদিও তিনি নাক-কান কাটা হাবশী ব্যক্তি হয়।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন, “যে ব্যক্তি আমাদের উপর অস্ত্র ধারণ করবে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।”
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৬/৩০১; হাকিম: ১/৪০৪-৪০৫; সুনান বাইহাকী: ৪/১৩৭; তাবারানী আল কাবীর: ২৩/৬৩২; হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ: ৩/৭২। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ২২৯১)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (2291).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: رجاله ثقات رجال الصحيح غير أيوب بن محمد الوزان وهو ثقة وعبد الله بن جعفر وثقه ابن معين وأبو حاتم
3194 - أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى السَّخْتِيَانِيُّ، بِجُرْجَانَ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَوْفٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ زَيْدٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ قُتِلَ دُونَ مَالِهِ فَهُوَ شَهِيدٌ»
رقم طبعة با وزير = (3184)
সাঈদ বিন যাইদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি স্বীয় সম্পদ রক্ষার্থে নিহত হয়, সে শহীদ।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ১/১৮৭; হুমাইদী: ৮৩; নাসাঈ: ৭/১১৫-১১৬; ইবনু মাজাহ: ২৫৮০; আবূ ইয়ালা: ৯৪৯; সুনান বাইহাকী: ৩/২৬৬; তিরমিযী: ১৪২১; আত তায়ালিসী: ২৩৩; আবূ দাঊদ: ৪৭৭২। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আহকামুল জানাইয: ৫৬)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «أحكام الجنائز» (56 و 57)، «الإرواء» (3/ 164 - 165)، «الروض النضير» (329).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط البخاري
3195 - أَخْبَرَنَا ابْنُ قُتَيْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَوْفِ ابْنِ أَخِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَهْلٍ الْمَدَنِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ زَيْدٍ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَنْ ظَلَمَ مِنَ الْأَرْضِ شِبْرًا طَوَّقَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ سَبْعِ أَرَضِينَ». قَالَ مَعْمَرٌ: وَبَلَغَنِي عَنِ الزُّهْرِيِّ فِي هَذَا الْحَدِيثِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ قُتِلَ دُونَ مَالِهِ فَهُوَ شَهِيدٌ».
رقم طبعة با وزير = (3185) [ص:469] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: «رَوَى هَذَا الْخَبَرَ أَصْحَابُ الزُّهْرِيِّ الثِّقَاتُ الْمُتْقِنُونَ، فَاتَّفَقُوا كُلُّهُمْ عَلَى رِوَايَتِهِمْ هَذَا الْخَبَرَ عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَوْفٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ زَيْدٍ، خَلَا مَعْمَرٍ وَحْدَهُ، فَإِنَّهُ أُدْخِلَ بَيْنَ طَلْحَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ وَبَيْنَ سَعِيدِ بْنِ زَيْدِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَهْلٍ، وَأَخَافُ أَنْ يَكُونَ ذَلِكَ وَهْمًا»، وَقَدْ قَالَ مَعْمَرٌ فِي هَذَا الْخَبَرِ «بَلَغَنِي عَنِ الزُّهْرِيِّ فَيُشَبِّهُ أَنْ يَكُونَ سَمِعَهُ مِنْ بَعْضِ أَصْحَابِهِ عَنِ الزُّهْرِيِّ فَالْقَلْبُ إِلَى رِوَايَةِ أُولَئِكَ أَمْيَلُ
সাঈদ বিন যাইদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, “যে ব্যক্তি অর্ধ হাত পরিমাণ জমিন অন্যায়ভাবে দখল করে নিবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ সাত তবক পর্যন্ত সেই জমিন তার গলায় ঝুলিয়ে দিবেন।” মা‘মার রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আমার কাছে ইমাম যুহরী থেকে এই হাদীস পৌঁছেছে, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি স্বীয় সম্পদ রক্ষার্থে নিহত হয়, সে শহীদ।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই হাদীসটি ইমাম যুহরী রহিমাহুল্লাহর নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় ছাত্ররা সবাই বর্ণনা করেছেন ইমাম যুহরী থেকে, তিনি তালহা বিন আব্দু্ল্লাহ বিন আওফ থেকে, তিনি সাঈদ বিন যাইদ থেকে। তবে মা‘মার এককভাবে হাদীসটি বর্ণনায় সানাদে তালহা বিন আব্দু্ল্লাহ ও সাঈদ বিন যাইদের মাঝে আব্দুর রহমান বিন সাহলকে ঢুকিয়েছেন। আমার আশংকা এটা তার ভুল। মা‘মার হাদীসটিতে বলেছেন, “আমার কাছে ইমাম যুহরী থেকে হাদীস পৌঁছেছে”। কাজেই হতে পারে তিনি হাদীসটি ইমাম যুহরীর কোন ছাত্র থেকে শ্রবণ করেছেন। তিনি ইমাম যুহরী থেকে বর্ণনা করেছেন। আর আমার হৃদয় ইমাম যুহরীর অন্যান্য ছাত্ররা যা ঐক্যমতের ভিত্তিতে বর্ণনা করেছেন, সেদিকেই বেশি ঝোঁকপ্রবণ।”
[1] মুসনাদ আহমাদ: ১/১৮৭; হুমাইদী: ৮৩; নাসাঈ: ৭/১১৫-১১৬; ইবনু মাজাহ: ২৫৮০; আবূ ইয়ালা: ৯৪৯; সুনান বাইহাকী: ৩/২৬৬; তিরমিযী: ১৪২১; আত তায়ালিসী: ২৩৩; আবূ দাঊদ: ৪৭৭২। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আর রওয: ৩৩৮)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الروض النضير» (338): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح
3196 - أَخْبَرَنَا ابْنُ قُتَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ: [ص:470] حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ سَلَمَةَ بْنَ الْأَكْوَعِ، قَالَ: لَمَّا كَانَ يَوْمَ خَيْبَرَ قَاتَلَ أَخِي قِتَالًا شَدِيدًا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَارْتَدَّ عَلَيْهِ سَيْفُهُ فَقَتَلَهُ، فَقَالَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي ذَلِكَ: رَجُلٌ مَاتَ بِسِلَاحِهِ وَشَكُّوا فِي بَعْضِ أَمْرِهِ، قَالَ سَلَمَةُ: فَقَفَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ خَيْبَرَ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، ائْذَنْ لِي أَنْ أَرْجُزَ بِكَ، فَأَذِنَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ: أَعْلَمُ مَا تَقُولُ: وَاللَّهِ لَوْلَا اللَّهُ مَا اهْتَدَيْنَا ... وَلَا تَصَدَّقْنَا وَلَا صَلَّيْنَا فَأَنْزِلَنْ سَكِينَةً عَلَيْنَا ... وَثَبِّتِ الْأَقْدَامَ إِنْ لَاقَيْنَا وَالْمُشْرِكُونَ قَدْ بَغَوْا عَلَيْنَا فَلَمَّا قَضَيْتُ رَجَزِي قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ قَالَ هَذَا؟ » قُلْتُ: أَخِي، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَرْحَمُهُ اللَّهُ»، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ نَاسًا أَبَوْا الصَّلَاةَ عَلَيْهِ، يَقُولُونَ: رَجُلٌ مَاتَ بِسِلَاحِهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «رَجُلٌ مَاتَ جَاهِدًا مُجَاهِدًا»
رقم طبعة با وزير = (3186)
সালামাহ বিন আকওয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “খায়বার যুদ্ধের দিন আমার ভাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে থেকে প্রচন্ড যুদ্ধ করেন। এক পর্যায়ে তার তরবারী ফিরে এসে তাকে আঘাত লাগে এবং তিনি নিহত হোন। তখন তার ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ বলেন, “লোকটি নিজের অস্ত্রের আঘাতে মারা গেলো!” এভাবে তারা তার (শাহাদাতের) ব্যাপারে সন্দেহ পোষন করলো।” সালামাহ বিন আকওয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার থেকে ফিরে আসেন। আমি তাঁকে বললাম, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আপনি আমাকে আপনার কাছে কবিতার কিছু চরণ আবৃতি করার অনুমতি দিন।” তখন তিনি আমাকে অনুমতি দিলেন। তখন উমার বিন খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আমি জানি তুমি কী বলবে।” (তারপর আমি কবিতা আবৃতি শুরু করি), (وَاللَّهِ لَوْلَا اللَّهُ مَا اهْتَدَيْنَا - وَلَا تصدَّقنا وَلَا صَلَّيْنَا) (فَأَنْزِلَنْ سَكِينَةً عَلَيْنَا - وَثَبِّتِ الْأَقْدَامَ إِنْ لَاقَيْنَا) (وَالْمُشْرِكُونَ قَدْ بَغَوْا عَلَيْنَا) “আল্লাহর কসম, আল্লাহ ছাড়া আমরা হেদায়েত পেতাম না, সাদাকাহ করতাম না এবং সালাতও আদায় করতাম না। আমাদের উপর শান্তি অবতীর্ণ করুন, আমরা যদি শত্রুর মুখোমুখি হই, তখন আমাদের পদযুগল সুদৃঢ় রাখুন। আর মুশরিকরা আমাদের উপর অত্যাচার করেছে।” যখন আমি আমার কবিতা শেষ করলাম, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “এটা কে বলেছে?” আমি বললাম, “আমার ভাই।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন।” আমি বললাম, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, লোকজন তার উপর সালাত আদায় করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তারা বলছে, “লোকটি নিজের অস্ত্রের আঘাতে মারা গেলো!” তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তিনি জিহাদরত, মুজাহিদ অবস্থায় নিহত হয়েছেন।” [1]
[1] আবূ দাঊদ: ২৫৩৮; নাসাঈ: ৬/৩০-৩২; সহীহ মুসলিম: ১৮০২; তাবারানী আল কাবীর: ৬২২৯; মুসনাদ আহমাদ: ৪/৪৬-৪৭। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ২২৮৯)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (2289): م.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم
3197 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ قُتَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ مَوْهَبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، أَخْبَرَهُ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، كَانَ يَجْمَعُ بَيْنَ الرَّجُلَيْنِ مِنْ قَتْلَى أُحُدٍ فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ، وَيَقُولُ: «أَيُّهُمَا أَكْثَرُ أَخْذًا لِلْقُرْآنِ؟ » فَإِذَا أُشِيرَ إِلَى أَحَدِهِمَا، قَدَّمَهُ فِي اللَّحْدِ قَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَنَا شَهِيدٌ عَلَى هَؤُلَاءِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ» وَأَمَرَ بِدَفْنِهِمْ بِدِمَائِهِمْ، [ص:472] وَلَمْ يُصَلِّ عَلَيْهِمْ، وَلَمْ يُغَسَّلُوا
رقم طبعة با وزير = (3187)
জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদ যুদ্ধের শহীদদের দুইজনকে এক কাপড়ে কাফন করেন। তিনি বলেন, “তাদের মাঝে কে বেশি কুরআন গ্রহণকারী?” অতঃপর যখন একজনের দিকে ইঙ্গিত করা হতো, তখন তিনি তাকে বগলী কবরে সামনে রাখতেন। তিনি বলেন, “আমি এঁদের ব্যাপারে কিয়ামতের দিন সাক্ষ্য দিবো।” তিনি তাদেরকে রক্তসহ দাফন করার নির্দেশ দেন। তিনি তাদের জানাযার সালাত আদায় করেননি এবং তাদের গোসলও দেননি।”[1]
[1] আবূ দাউদ: ৩১৩৮; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/২৫৩-২৫৪; সহীহুল বুখারী: ১৩৪৩; তিরমিযী: ১০৩৬; নাসাঈ: ৪/৬২; ইবনু মাজাহ: ১৫১৪; ইবনুল জারুদ: ৫৫২; তাহাবী: ১/৫০১; সুনান বাইহাকী: ৪/৩৪; বাগাবী: ১৫০০। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আহকামুল জানাইয: ১৮৪)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «تخريج فقه السنة» (270) «أحكام الجنائز» (184 - 185): خ.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح
3198 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ حَمَّادِ زُغْبَةَ، فَقَالَ: أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدِ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي الْخَيْرِ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، خَرَجَ يَوْمًا فَصَلَّى عَلَى أَهْلِ أُحُدٍ صَلَاتَهُ عَلَى الْمَيِّتِ، ثُمَّ انْصَرَفَ إِلَى الْمِنْبَرِ، فَقَالَ: «إِنِّي فَرَطٌ لَكُمْ، وَأَنَا شَهِيدٌ عَلَيْكُمْ، وَإِنِّي وَاللَّهِ لَأَنْظُرُ إِلَى [ص:473] حَوْضِي الَْآنَ، وَإِنِّي قَدْ أُعْطِيتُ مَفَاتِيحَ خَزَائِنِ الْأَرْضِ - أَوْ مَفَاتِيحَ الْأَرْضِ -، وَاللَّهِ مَا أَخَافُ عَلَيْكُمْ أَنْ تُشْرِكُوا بَعْدِي، وَلَكِنِّي أَخَافُ أَنْ تَتَنَافَسُوا فِيهَا»
رقم طبعة با وزير = (3188)
উকবাহ বিন আমির আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন বের হয়ে উহুদ যুদ্ধের শহীদদের উপর জানাযার সালাতের ন্যায় সালাত আদায় (দুআ) করেন। তারপর তিনি মিম্বারে চলে আসেন। অতঃপর বলেন, “নিশ্চয়ই আমি তোমাদের আগেই (হাওযে কাওসারে) গমন করবো এবং তোমাদের ব্যাপারে সাক্ষ্য দিবো। আল্লাহর কসম, নিশ্চয়ই আমি এখন হাওযে কাওসার দেখতে পাচ্ছি। নিশ্চয়ই আমাকে জমিনের ধনভান্ডারের চাবিকাঠি প্রদান করা হয়েছে অথবা তিনি বলেছেন (রাবীর সন্দেহ) জমিনের চাবিকাঠিসমূহ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহর কসম, আমি ভয় করি না যে, তোমরা আমার পরে শিরক করবে তবে আমার ভয় হয় যে, তোমরা দুনিয়ার ব্যাপারে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হবে।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৪/১৪৯; সহীহুল বুখারী: ১৩৪৪; সহীহ মুসলিম: ২২৯৬; আবূ দাউদ: ৩২২৩; নাসাঈ: ৪/৬১-৬২; তাহাবী: ১/৫০৪; তাবারানী আল কাবীর; ১৭/৭৬৭;বাগাবী: ৩৮২৩; দারাকুতনী: ২/৭৮। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আহকামুল জানাইয: ১০৭)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «تخريج الفقه» (271)، «أحكام الجنائز» (ص 107)، «ظلال الجنة» (735): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم
3199 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَرُوبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ وَهْبِ بْنِ أَبِي كَرِيمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحِيمِ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَبِي أُنَيْسَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي الْخَيْرِ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَّى عَلَى قَتْلَى أُحُدٍ، ثُمَّ انْصَرَفَ وَقَعَدَ عَلَى الْمِنْبَرِ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: «أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي بَيْنَ أَيْدِيكُمْ فَرَطٌ، وَإِنِّي عَلَيْكُمْ لِشَهِيدٌ، وَإِنِّي وَاللَّهِ مَا أَخَافُ عَلَيْكُمْ أَنْ تُشْرِكُوا بَعْدِي، وَلَكِنِّي قَدْ أُعْطِيتُ اللَّيْلَةَ مَفَاتِيحَ خَزَائِنِ الْأَرْضِ وَالسَّمَاءِ، وَأَخَافُ عَلَيْكُمْ أَنْ تَتَنَافَسُوا فِيهَا» ثُمَّ دَخَلَ، فَلَمْ يَخْرُجْ مِنْ بَيْتِهِ حَتَّى قَبَضَهُ اللَّهُ جَلَّ وَعَلَا.
رقم طبعة با وزير = (3189) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «خَصَّ الْمُصْطَفَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الشُّهَدَاءَ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي الْمَعْرَكَةِ، بِتَرْكِ الصَّلَاةِ عَلَيْهِمْ وَفَرَّقَ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ سَائِرِ الْمَوْتَى، فَإِنَّ سَائِرَ الْمَوْتَى يُغَسَّلُونَ، وَيُصَلَّى عَلَيْهِمْ، وَمَنْ قُتِلَ فِي الْمَعْرَكَةِ مِنَ الشُّهَدَاءِ لَا يُصَلَّى عَلَيْهِمْ، وَيُدْفَنُ بِدَمِهِ مِنْ غَيْرِ غُسْلٍ، فَأَمَّا خَبَرُ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ أَنَّ [ص:475] النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ فَصَلَّى عَلَى قَتْلَى أُحُدٍ لَيْسَ يُضَادُّ خَبَرَ جَابِرٍ الَّذِي ذَكَرْنَاهُ، إِذِ الْمُصْطَفَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ إِلَى أُحُدٍ، فَدَعَا لِشُهَدَاءِ أُحُدٍ كَمَا كَانَ يَدْعُو لِلْمَوْتَى فِي الصَّلَاةِ عَلَيْهِمْ، وَالْعَرَبُ تُسَمِّي الدُّعَاءَ صَلَاةً، فَصَارَ خُرُوجُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى شُهَدَاءِ أُحُدٍ، وَزِيَارَتُهُ إِيَّاهُمْ وَدُعَاؤُهُ لَهُمْ سُنَّةً لِمَنْ بَعْدَهُ مِنْ أُمَّتِهِ أَنْ يَزُورُوا شُهَدَاءَ أُحُدٍ يَدْعُونَ لَهُمْ كَمَا يَدْعُونَ لِلْمَيِّتِ فِي الصَّلَاةِ عَلَيْهِ، وَفِي خَبَرِ زَيْدِ بْنِ أَبِي أُنَيْسَةَ الَّذِي ذَكَرْنَاهُ، ثُمَّ دَخَلَ فَلَمْ يَخْرُجْ مِنْ بَيْتِهِ حَتَّى قَبَضَهُ اللَّهُ جَلَّ وَعَلَا، أَبْيَنُ الْبَيَانِ بِأَنَّ هَذِهِ الصَّلَاةَ كَانَتْ دُعَاءً لَهُمْ، وَزِيَادَةً قَصَدَ بِهَا إِيَّاهُمْ لَمَّا قَرُبَ خُرُوجُهُ مِنَ الدُّنْيَا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَوْ كَانَتِ الصَّلَاةُ الَّتِي ذَكَرَهَا عُقْبَةُ بْنُ عَامِرٍ كَالصَّلَاةِ عَلَى الْمَوْتَى سَوَاءً لَلَزِمَ مَنْ قَالَ بِهَذَا جَوَازُ الصَّلَاةِ عَلَى الْقَبْرِ وَلَوْ بَعْدَ سَبْعِ سِنِينَ، لِأَنَّ أُحُدًا كَانَتْ سَنَةَ ثَلَاثٍ مِنَ الْهِجْرَةِ، وَخُرُوجُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَيْثُ صَلَّى عَلَيْهِمْ قُرْبَ خُرُوجِهِ مِنَ الدُّنْيَا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعْدَ وَقْعَةِ أُحُدٍ بِسَبْعِ سِنِينَ، فَلَمَّا وَافَقْنَا مَنِ احْتَجَّ بِهَذَا الْخَبَرِ عَلَى أَنَّ الصَّلَاةَ عَلَى الْقُبُورِ غَيْرُ جَائِزَةٍ بَعْدَ سَبْعِ سِنِينَ، صَحَّ أَنَّ تِلْكَ الصَّلَاةَ كَانَتْ دُعَاءً لَا الصَّلَاةَ عَلَى الْمَوْتَى، سَوَاءً ضِدَّ قَوْلِ مَنْ زَعَمَ أَنَّ أَصْحَابَ الْحَدِيثِ يَرْوُونَ مَا لَا يَعْقِلُونَ، وَيَتَكَلَّمُونَ بِمَا لَا يَفْهَمُونَ، وَيَرَوُونَ الْمُتَضَادَّ مِنَ الْأَخْبَارِ»
উকবাহ বিন আমির আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন উহুদ যুদ্ধের শহীদদের উপর জানাযার সালাতের ন্যায় সালাত আদায় (দুআ) করেন। তারপর তিনি মিম্বারে বসেন। অতঃপর তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণকীর্তন করেন তারপর বলেন, “হে লোকসকল, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের আগেই (হাওযে কাওসারে) গমন করবো এবং তোমাদের ব্যাপারে সাক্ষ্য দিবো। আল্লাহর কসম, আমি ভয় করি না যে, তোমরা আমার পরে শিরক করবে। নিশ্চয়ই আমাকে আজ রাতে আসমান ও জমিনের ধনভান্ডারের চাবিকাঠি প্রদান করা হয়েছে। আর তোমাদের ব্যাপারে আমার ভয় হয় যে, তোমরা দুনিয়ার ব্যাপারে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হবে।” তারপর তিনি হুজরায় প্রবেশ করেন। তারপর মৃত্যু অবধি তিনি আর বাড়ি থেকে বের হননি।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “যুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাছ করে জানাযার সালাত আদায় করেননি। তিনি তাদেরকে অন্যান্য সমস্ত মৃত ব্যক্তিদের থেকে আলাদা করেন। কেননা অন্যান্য মৃত ব্যক্তিদের গোসল করানো হয় এবং তাদের জানাযার সালাত আদায় করা হয় এবং গোসল না দিয়ে তাদেরকে রক্তসহ দাফন করা হয়। আর উকবাহ বিন আমির উকবাহ বিন আমির আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসে যা বলা হয়েছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন বের হয়ে উহুদ যুদ্ধের শহীদদের উপর জানাযার সালাতের ন্যায় সালাত আদায় (দুআ) করেন- এটি পুর্বে উল্লেখিত জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসের বিপরীত নয়। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদের উদ্দেশ্যে বের হয়ে উহুদ যুদ্ধের শহীদদের জন্য দুআ করেন, যেভাবে তিনি অন্যান্য মৃতদের জন্য জানাযার সালাতে দুআ করেন। আরবরা দুআকে সালাত হিসেবে অভিহিত করেন। কাজেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক উহুদে গমন, তাদেরকে দেখতে যাওয়া, তাদের জন্য দুআ করা পরবর্তী উম্মতের জন্য সুন্নাত যে, তারা উহুদের শহীদদের দেখতে যাবেন এবং তাদের জন্য দুআ করবেন, যেভাবে তারা মৃতদের জন্য জানাযার সালাতে দুআ করে থাকেন। আমাদের উল্লেখিত যাইদ বিন উনাইসার হাদীসে বলা হয়েছে, “তারপর তিনি হুজরায় প্রবেশ করেন এবং মৃত্যু অবধি তিনি আর বাড়ি থেকে বের হননি” এখানে সুস্পষ্ট বিবরণ রয়েছে এই মর্মে যে, এই সালাতটি ছিল বাড়তি দুআ, যা তিনি খাছ করে উহুদ যুদ্ধের শহীদদের জন্য করতে চেয়েছিলেন, যখন দুনিয়া থেকে চলে যাওয়ার সময় ঘনীভূত হয়েছিল। উকবাহ বিন আমির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসে বর্ণিত সালাত দ্বারা হুবহু জানাযার সালাত উদ্দেশ্য হতো, তবে যারা এমনটা বলে, তাদের জন্য জরুরী হলো এটা বলা যে, সাত বছর পরেও কবরের উপর জানাযার সালাত আদায় করা জায়েয। কেননা উহুদ যুদ্ধ সাত হিজরী তৃতীয় বছরে সংঘটিত হয়েছিল। আর রাসূল উহুদের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে হয়ে জানাযার সালাত আদায় করার এই কাজটি হয়েছিল উহুদ যুদ্ধের সাত বছর পর, তাঁর দুনিয়া ত্যাগের কাছাকাছি সময়ে। কাজেই যারা এই হাদীস দ্বারা দলীল দেন, তারা এবং আমরা এই ব্যাপারে একমত হলাম যে, সাত বছর পর মৃত ব্যক্তির কবরের উপর জানাযার সালাত আদায় করা জায়েয নেই, সুতরাং বিশুদ্ধ মত এটাই হলো যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উক্ত সালাতটি দুআ ছিল; হুবহু জানাযার সালাত ছিল না। এটা হলো তাদের কথার বিপরীত যারা বলেন, “মুহাদ্দিসগণ এমন কিছু বর্ণনা করেন, যা তারা অনুধাবন করেন না, এমন কথা বলেন, যা তারা বুঝেন না এবং তারা পরস্পর বিরোধপূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেন।”
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৪/১৪৯; সহীহুল বুখারী: ১৩৪৪; সহীহ মুসলিম: ২২৯৬; আবূ দাউদ: ৩২২৩; নাসাঈ: ৪/৬১-৬২; তাহাবী: ১/৫০৪; তাবারানী আল কাবীর; ১৭/৭৬৭;বাগাবী: ৩৮২৩; দারাকুতনী: ২/৭৮। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আহকামুল জানাইয: ১০৭)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - وهو مكرر ما قبله.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح
3200 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سِمَاكٍ الْحَنَفِيِّ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ، يَقُولُ: «صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْبَيْتِ، وَسَيَأْتِي مَنْ يَنْهَى عَنْ ذَلِكَ وَابْنُ عَبَّاسٍ جَالِسٌ إِلَى جَنْبِهِ»
رقم طبعة با وزير = (3190)
সিমাক বিন হানাফী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইতুল্লাহর ভেতরে সালাত আদায় করেছেন। অচিরেই এমন লোকের আবির্ভাব হবে, যে এরকম করতে বারণ করবে।” রাবী বলেন, “এই সময় আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তার পাশে বসে ছিলেন।”[1]
[1] মুসনাদু আলী বিন জা‘দ: ১৫৫৬; আত তায়ালিসী: ১৮৬৭; মুসনাদ আহমাদ: ২/৪৫; তাহাবী: ১/৩৯১; সুনান বাইহাকী: ২/৩২৮; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৯০৬৬। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (ইরওয়াউল গালীল: ১/৩২১)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الإرواء» (1/ 321).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي