সহীহ ইবনু হিব্বান
3261 - أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ الْجُمَحِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنِ الْعَلَاءِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَأْتِي الْمَالُ الَّذِي لَا يُعْطَى فِيهِ الْحَقُّ تَطَأُ الْإِبِلُ سَيِّدَهَا بِأَخْفَافِهَا، وَيَأْتِي الْبَقَرُ وَالْغَنَمُ فَتَطَأُ صَاحِبَهَا بِأَظْلَافِهَا، وَتَنْطَحُهُ بِقُرُونِهَا، وَيَأْتِي الْكَنْزُ شُجَاعًا أَقْرَعَ فَيَلْقَى صَاحِبَهُ، فَيَفِرُّ مِنْهُ صَاحِبُهُ، ثُمَّ يَسْتَقْبِلُهُ وَيَفِرُّ مِنْهُ، وَيَقُولُ: مَا لِي وَلَكَ؟، فَيَقُولُ: أَنَا كَنْزُكَ، فَيَلْقَمُ يَدَهُ»
رقم طبعة با وزير = (3250)
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যেসব মালের হক আদায় করা হয়নি, তা কিয়ামতের দিন আসবে। উট তার মালিককে খুর দ্বারা পদদলিত করবে। গরু ও মেষ আসবে অতঃপর তাদের মালিককে খুর দ্বারা পদদলিত করবে আর শিং দ্বারা আঘাত করবে। আর গুপ্তধন কেশহীন বিশাল আকারের বিষাক্ত সাপ হিসেবে আবির্ভুত হবে। অতঃপর সে তার মালিকের সাথে সাক্ষাত করতে চাইবে, তখন সে পলায়ন করবে। তারপর সে আবার তার সামনে আসবে তখনও সে পালাবে এবং বলবে, “আমার সাথে তোমার কী হয়েছে?” সে জবাবে বলবে, “আমি তোমার গচ্ছিত সম্পদ, আমি তোমার গচ্ছিত সম্পদ।” অতঃপর সে তার হাত দ্বারা তার সাথে সাক্ষাত করবে। তখন সাপ তার হাত গ্রাস করবে।”[1]
[1] ইবনু মাজাহ: ১৭৮৬; মুসনাদ আহমাদ: ২/৫২০; সহীহুল বুখারী: ১৪০২; নাসাঈ: ৬/২৩-২৪। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৪৬২)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - مضى (3243). تنبيه!! رقم (3243) = (3254) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم
3262 - أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِدْرِيسَ الْأَنْصَارِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَمِّهِ أَبِي سُهَيْلِ بْنُ مَالِكٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ أَهْلِ نَجْدٍ ثَائِرَ الرَّأْسِ يُسْمَعُ دَوِيُّ صَوْتِهِ وَلَا يُفْقَهُ مَا يَقُولُ، حَتَّى دَنَا، فَإِذَا هُوَ يَسْأَلُ عَنِ الْإِسْلَامِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «خَمْسُ [ص:54] صَلَوَاتٍ فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ»، قَالَ: هَلْ عَلَيَّ غَيْرُهَا؟، قَالَ: «لَا إِلَّا أَنْ تَطَوَّعَ» قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَصِيَامُ شَهْرِ رَمَضَانَ»، فَقَالَ: هَلْ عَلَيَّ غَيْرُهُ؟، قَالَ: «لَا إِلَّا أَنْ تَطَوَّعَ»، قَالَ: وَذَكَرَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الزَّكَاةَ، فَقَالَ: هَلْ عَلَيَّ غَيْرُهَا؟ قَالَ: لَا إِلَّا أَنْ تَطَوَّعَ «، قَالَ: فَأَدْبَرَ الرَّجُلُ وَهُوَ يَقُولُ وَاللَّهِ لَا أَزِيدُ عَلَى هَذَا وَلَا أَنْقُصُ مِنْهُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: » أَفْلَحَ إِنْ صَدَقَ «
رقم طبعة با وزير = (3251)
সুহাইল বিন মালিক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তিনি তালহা বিন উবাইদুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেছেন, “নজদের অধিবাসী এলোমেলো চুলধারী এক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসেন, তার কথার উচ্চ আওয়াজ শুনা যাচ্ছিল কিন্তু সে যা বলছিল তা বুঝা যাচ্ছিল না। এক পর্যায়ে তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসেন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “দিনে রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা।” সে ব্যক্তি বলেন, “আমার উপর এছাড়া আর কোন সালাত আবশ্যক আছে কি?” জবাবে তিনি বলেন, “না, তবে যদি তুমি নফল সালাত আদায় করো, সেটা ভিন্ন কথা।” রাবী বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরোও বলেন, “এবং রমযান মাসের সিয়াম পালন করা।” সে ব্যক্তি বলেন, “আমার উপর এছাড়া আর কোন সিয়াম আবশ্যক আছে কি?” জবাবে তিনি বলেন, “না, তবে যদি তুমি নফল সিয়াম পালন করো, সেটা ভিন্ন কথা।” রাবী বলেন, “এছাড়াও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে যাকাতের কথা বলেন। সে ব্যক্তি বলেন, “আমার উপর এছাড়া আর কোন আবশ্যক বিধান আছে কি?” জবাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “না, তবে যদি তুমি নফল ইবাদত পালন করো, সেটা ভিন্ন কথা।” রাবী বলেন, “অতঃপর সে ব্যক্তি এই বলতে বলতে চলে যান, “আল্লাহর কসম, আমি এর চেয়ে বেশি করবো না, এর কোন কিছু কমও করবো না।” তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যদি সে সত্য বলে থাকে, তবে সে সফল হবে।”[1]
[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/১৭৫; মুসনাদ ইমাম শাফে‘ঈ: ১/৪৬; মুসনাদ আহমাদ: ১/১৬২; সহীহ মুসলিম: ১১; আবূ দাঊদ: ৩৯১; নাসাঈ: ১/২২৬-২২৮; ইবনুল জারূদ, আল মুনতাকা: ১৪৪; সুনান বাইহাকী: ১/৩৬১; সহীহ আল বুখারী: ১৮৯১। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুর হিসান: ১৭২১)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما
3263 - أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْعُمَرِيُّ، بِالْمَوْصِلِ، حَدَّثَنَا مُعَلَّى بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: تُوُفِّيَ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الصُّفَّةِ فَوَجَدُوا فِي شَمْلَتِهِ دِينَارَيْنِ، فَذَكَرُوا ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: «كَيَّتَانِ»
رقم طبعة با وزير = (3252)
আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আহলে সুফফার এক ব্যক্তি মারা যায়, অতঃপর সাহাবীগণ তার চাদরে দুই দীনার পান। অতঃপর তারা বিষয়টি আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অবহিত করেন। তখন তিনি বলেন, “এই দুটি দ্বারা তাকে সেক দেওয়া হবে।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ১/৪৫৭; আবূ ইয়ালা: ৫০৩৭; বাযযার: ৩৬৫২; হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ: ১০/২৪০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান-সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ২/৪৩)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن صحيح - «التعليق الرغيب» (2/ 43).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن
3264 - أَخْبَرَنَا أَبُو خَلِيفَةَ، حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ، عَنْ يَحْيَى الْقَطَّانِ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي عُبَيْدٍ، [ص:55] عَنْ سَلَمَةَ بْنَ الْأَكْوَعِ، قَالَ: كُنْتُ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأُتِيَ بِجِنَازَةٍ، فَقَالُوا: صَلِّ عَلَيْهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: «هَلْ تَرَكَ عَلَيْهِ دَيْنًا»، قَالُوا: لَا، قَالَ: «فَهَلْ تَرَكَ مِنْ شَيْءٍ»، قَالُوا: ثَلَاثَةُ دَنَانِيرَ، قَالَ: «ثَلَاثُ كَيَّاتٍ» ثُمَّ أُتِيَ بِالثَّانِيَةِ، فَقَالُوا: يَا نَبِيَّ اللَّهِ صَلِّ عَلَيْهَا، قَالَ: «هَلْ تَرَكَ مِنْ دَيْنٍ»، قَالُوا: نَعَمْ، قَالَ: «فَهَلْ تَرَكَ مِنْ شَيْءٍ»، قَالُوا: لَا، فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْأَنْصَارِ يُقَالُ لَهُ أَبُو قَتَادَةَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ عَلَيَّ دَيْنُهُ، قَالَ: «فَصَلَّى عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ»
رقم طبعة با وزير = (3253)
সালামাহ বিন আকওয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম, এমন সময় তাঁর কাছে একটি জানাযা আনা হলো। লোকজন বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আপনি এর জানাযার সালাত আদায় করুন।” তিনি জিজ্ঞেস করেন, “সে কি কোন ঋণ রেখে গিয়েছে?” সাহাবীগণ জবাব দিলেন, “জ্বী, না।” তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, “সে কি কোন কিছু রেখে গিয়েছে?” সাহাবীগণ জবাব দিলেন, “তিন দীনার।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তিনটি সেক দেওয়ার মাধ্যম।” তারপর তাঁর কাছে দ্বিতীয় আরেকটি জানাযা আনা হলো। লোকজন বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আপনি এর জানাযার সালাত আদায় করুন।” তিনি জিজ্ঞেস করেন, “সে কি কোন ঋণ রেখে গিয়েছে?” সাহাবীগণ জবাব দিলেন, “জ্বী, হ্যাঁ।” তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, “সে কি কোন কিছু রেখে গিয়েছে?” সাহাবীগণ জবাব দিলেন, “জ্বী, না।” তখন আবূ কাতাদা নামক একজন আনসারী সাহাবী বলেন, “হে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তার ঋণ পরিশোধ করার দায়িত্ব আমার।” রাবী বলেন, “তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাযার সালাত আদায় করেন।”[1]
[1] তাবারানী: ৬২৯১; মুসনাদ আহমাদ: ৪/৪৭; সহীহুল বুখারী: ২২৮৯; সুনান বাইহাকী: ৬/৭২; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/৩৭১; নাসাঈ: ৪/৬৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ২/৪৪)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «التعليق الرغيب» (2/ 44).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط البخاري
3265 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ الْمُقَدَّمِيُّ، حَدَّثَنَا [ص:56] فُضَيْلُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي يَحْيَى الْأَسْلَمِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: بَيْنَمَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُقَسِّمُ ذَهَبًا إِذْ أَتَاهُ رَجُلٌ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَعْطِنِي، فَأَعْطَاهُ، ثُمَّ قَالَ: زِدْنِي فَزَادَهُ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، ثُمَّ وَلَّى مُدْبِرًا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَأْتِينِي الرَّجُلُ فَيَسْأَلُنِي فَأُعْطِيهِ، ثُمَّ يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيهِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، ثُمَّ وَلَّى مُدْبِرًا وَقَدْ جَعَلَ فِي ثَوْبِهِ نَارًا إِذَا انْقَلَبَ إِلَى أَهْلِهِ»
رقم طبعة با وزير = (3254)
আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন স্বর্ণ বন্টন করছিলেন, এমন সময় এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বলেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আমাকে দিন।” অতঃপর তিনি তাকে প্রদান করেন। তারপর সেই ব্যক্তি বলেন, “আমাকে আরেকটু বাড়িয়ে দিন।” অতঃপর তিনি তিনবার তাকে বাড়িয়ে দেন। তারপর সে ব্যক্তি পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে চলে যায়। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “আমার কাছে এক ব্যক্তি এসে সাহায্য চায়। অতঃপর আমি তাকে প্রদান করি। তারপর সে আমার কাছে আবার চায়। আমি তাকে তিনবার সাহায্য প্রদান করি। তারপর সে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে চলে যায়। মহান আল্লাহ তার কাপড়ে আগুন রেখে দিয়েছেন, যখন সে বাড়ি চলে যায়।”[1]
[1] হাদীসটির ব্যাপারে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ কোন মন্তব্য করেননি। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ২/৮)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «التعليق الرغيب» (2/ 8).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: فضيل بن سليمان كثير الخطأ وباقي السند رجاله ثقات
3266 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ بُجَيْرٍ الْبُجَيْرِيُّ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، بِبُسْتَ، قَالَا: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَا: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْأَنْصَارِيُّ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ ثُمَامَةَ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، أَنَّ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ لَمَّا اسْتُخْلِفَ كَتَبَ لَهُ حِينَ وَجَّهَهُ إِلَى الْيَمَنِ هَذَا الْكِتَابَ: «بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، هَذِهِ فَرِيضَةُ الصَّدَقَةِ الَّتِي فَرَضَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الْمُسْلِمِينَ الَّتِي أَمَرَ اللَّهُ بِهَا رَسُولَهُ، فَمَنْ سُئِلَهَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ عَلَى وَجْهِهَا فَلْيُعْطِهَا، وَمَنْ سُئِلَ فَوْقَهَا فَلَا يُعْطِهَا، فِي أَرْبَعَةٍ وَعِشْرِينَ مِنَ الْإِبِلِ فَمَا دُونَهَا الْغَنَمُ فِي كُلِّ خَمْسٍ شَاةٌ، فَإِذَا بَلَغَتْ خَمْسًا وَعِشْرِينَ إِلَى خَمْسٍ وَثَلَاثِينَ فَفِيهَا ابْنَةُ مَخَاضٍ، فَإِنْ لَمْ يَكُنْ بِنْتُ مَخَاضٍ، فَابْنُ لَبُونٍ ذَكَرٌ، فَإِذَا بَلَغَتْ سِتًّا وَثَلَاثِينَ إِلَى خَمْسٍ وَأَرْبَعِينَ فَفِيهَا ابْنَةُ لَبُونٍ، فَإِذَا بَلَغَتْ سِتًّا وَأَرْبَعِينَ إِلَى سِتِّينَ فَفِيهَا حِقَّةٌ طَرُوقَةُ الْجَمَلِ، فَإِذَا [ص:58] بَلَغَتْ وَاحِدَةً وَسِتِّينَ إِلَى خَمْسٍ وَسَبْعِينَ فَفِيهَا جَذَعَةٌ، فَإِذَا بَلَغَتْ سِتًّا وَسَبْعِينَ إِلَى تِسْعِينَ فَفِيهَا ابْنَتَا لَبُونٍ، فَإِذَا بَلَغَتْ إِحْدَى وَتِسْعِينَ إِلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ فَفِيهَا حِقَّتَانِ طَرُوقَتَا الْجَمَلِ، فَإِذَا زَادَتْ عَلَى عِشْرِينَ وَمِئَةٍ فَفِي كُلِّ أَرْبَعِينَ ابْنَةُ لَبُونٍ، وَفِي كُلِّ خَمْسِينَ حِقَّةٌ، وَإِنَّ مَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ مِنَ الْإِبِلِ صَدَقَةُ الْجَذَعَةِ وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ جَذَعَةٌ وَعِنْدَهُ حِقَّةٌ فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ الْحِقَّةُ، وَيَجْعَلُ مَعَهَا شَاتَيْنِ أَوْ عِشْرِينَ دِرْهَمًا، وَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ الْحِقَّةِ وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ حِقَّةٌ وَعِنْدَهُ جَذَعَةٌ فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ الْجَذَعَةُ وَيُعْطِيهِ الْمُصَّدِّقُ عِشْرِينَ دِرْهَمًا أَوْ شَاتَيْنِ، وَمَنْ بَلَغَتْ صَدَقَتُهُ الْحِقَّةُ وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ إِلَّا ابْنَةُ لَبُونٍ فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ، وَيُعْطِي شَاتَيْنِ أَوْ عِشْرِينَ دِرْهَمًا، وَمَنْ بَلَغَتْ صَدَقَتُهُ ابْنَةَ لَبُونٍ وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ إِلَّا حِقَّةٌ فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ الْحِقَّةُ وَيُعْطِيهِ الْمُصَّدِّقُ عِشْرِينَ دِرْهَمًا أَوْ شَاتَيْنِ، وَمَنْ بَلَغَتْ صَدَقَتُهُ ابْنَةَ لَبُونٍ وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ ابْنَةُ مَخَاضٍ وَيُعْطِي مَعَهَا عِشْرِينَ دِرْهَمًا أَوْ شَاتَيْنِ وَمَنْ بَلَغَتْ صَدَقَتُهُ ابْنَةَ مَخَاضٍ وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ، وَعِنْدَهُ ابْنَةُ لَبُونٍ فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ ابْنَةُ لَبُونٍ وَيُعْطِيهِ الْمُصَّدِّقُ عِشْرِينَ دِرْهَمًا أَوْ شَاتَيْنِ، وَمَنْ لَمْ يَكُنْ عِنْدَهُ ابْنَةُ مَخَاضٍ، وَعِنْدَهُ ابْنُ لَبُونٍ فَإِنَّهُ يُقْبَلُ مِنْهُ وَلَيْسَ مَعَهُ شَيْءٌ، وَمَنْ لَمْ يَكُنْ مَعَهُ إِلَّا أَرْبَعَةٌ مِنَ الْإِبِلِ فَلَيْسَ فِيهَا صَدَقَةٌ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ رَبُّهَا، فَإِذَا بَلَغَتْ خَمْسًا مِنَ الْإِبِلِ فَفِيهَا شَاةٌ، [ص:59] وَصَدَقَةُ الْغَنَمِ فِي كُلِّ سَائِمَتِهَا إِذَا كَانَتْ أَرْبَعِينَ إِلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ شَاةٌ، فَإِذَا زَادَتْ عَلَى عِشْرِينَ وَمِئَةٍ إِلَى أَنْ تَبْلُغَ مِائَتَيْنِ، فَفِيهَا شَاتَانِ فَإِنْ زَادَتْ عَلَى الْمِئَتَيْنِ إِلَى ثَلَاثِ مِائَةٍ فَفِيهَا ثَلَاثُ شِيَاهٍ، فَإِذَا زَادَتْ عَلَى ثَلَاثِ مِئَةٍ فَفِي كُلِّ مِئَةٍ شَاةٌ، وَلَا يَخْرُجُ فِي الصَّدَقَةِ هَرِمَةٌ وَلَا ذَاتُ عَوَارٍ، وَلَا تَيْسٌ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ الْمُصَّدِّقُ، وَلَا يُجْمَعُ بَيْنَ مُتَفَرِّقٍ وَلَا يُفَرَّقُ بَيْنَ مُجْتَمِعٍ خَشْيَةَ الصَّدَقَةِ، وَمَا كَانَ مِنْ خَلِيطَيْنِ فَإِنَّهُمَا يَتَرَاجَعَانِ بَيْنَهُمَا بِالسَّوِيَّةِ، وَإِذَا كَانَتْ سَائِمَةُ الرَّجُلِ نَاقِصَةً مِنْ أَرْبَعِينَ شَاةً شَاةً وَاحِدَةً فَلَيْسَ فِيهَا صَدَقَةٌ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ رَبُّهَا، وَفِي الرِّقَةِ رُبْعُ الْعُشْرِ فَإِذَا لَمْ يَكُنْ مَالٌ إِلَّا تِسْعِينَ وَمِئَةً فَلَيْسَ فِيهَا صَدَقَةٌ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ رَبُّهَا»
رقم طبعة با وزير = (3255)
আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু যখন খলিফা নিযুক্ত হন, তখন তিনি আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে যাকাত আদায়ের জন্য ইয়ামানে প্রেরণ করেন, তখন তিনি তার উদ্দেশ্যে এই চিঠি লিখেছিলেন: “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সর্বদয়ালূ, সবিশেষ করুণাময়। এটা যাকাতের বাধ্যবাধকা, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিমদের উপর ফরয করেছেন এবং এটি আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আদেশ করেছেন। কাজেই যেকোন মুসলিমের নিকট বিধি অনুসারে যাকাত চাওয়া হবে, সে যেন তা দিয়ে দেয়। কিন্তু কারো কাছে অতিরিক্ত দাবি করা হলে সে যেন অতিরিক্ত না দেয়। পঁচিশটি উটের কম হলে প্রতি পাঁচটি উটের জন্য একটি মাদী মেষ দিতে হবে। উটের সংখ্যা পঁচিশ থেকে পঁয়ত্রিশ হলে তাতে একটি বিনতু মাখাদ (দুই বছরের) উষ্ট্রী দিতে হবে। তার কাছে এরূপ উট না থাকলে একটি ’ইবনু লাবূন’ (তিন বছরের) পুরুষ উট দিতে হবে। উটের সংখ্যা ছত্রিশ থেকে পঁয়তাল্লিশের মধ্যে হলে তাতে একটি ’বিনতু লাবূন’ (তিন বছর বয়সের উষ্ট্রী) দিতে হবে। উটের সংখ্যা ছেচল্লিশ থেকে ষাট পর্যন্ত হলে তাতে পাল দেওয়ার উপযুক্ত একটি ’হিক্কাহ’ (চার বছরের) উষ্ট্রী দিতে হবে। উটের সংখ্যা একষট্রি থেকে পঁচাত্তর হলে তাতে একটি ’জাযাআহ্’ (পাঁচ বছরের) উষ্ট্রী দিতে হবে। উটের সংখ্যা ছিয়াত্তর থেকে নব্বই হলে তাতে দু’টি ’বিনতু লাবূন’ দিতে হবে। উটের সংখ্যা একানব্বই থেকে একশত বিশ হলে পাল দেওয়ার উপযুক্ত দু’টি হিক্কাহ দিতে হবে। এক শত বিশ-এর উর্ধে হলে প্রতি চল্লিশটির জন্য একটি করে ’বিনতু লাবূন’ এবং প্রতি পঞ্চাশটির জন্য একটি করে ’হিক্কাহ’ দিবে। যদি কারো যাকাত হিসেবে জাযাআহ্ ওয়াজিব হয়, কিন্তু তার কাছে সেটার পরিবর্তে হিক্কাহ থাকে, তখন হিক্কাহ গ্রহণ করা হবে এবং এর সাথে দু’টি মেষ কিংবা বিশ দিরহামও দিতে হবে। অনুরুপভাবে কারো উপর হিক্কাহ দেয়া ওয়াজিব, কিন্তু তার কাছে সেটা নেই বরং জাযাআহ আছে। তখন তার থেকে জাযাআহ গ্রহণ করা হবে এবং যাকাত উসুলকারী বিশ দিহরাম কিংবা দু’টি মেষ যাকাত প্রদানকারীকে দিবে। এমনিভাবে কারো উপর হিক্কাহ ওয়াজিব, কিন্তু তার কাছে তা নেই, বরং বিনতু লাবূন আছে। তবে তার থেকে সেটাই গ্রহণ করা হবে এবং এর সাথে দু’টি মেষ কিংবা বিশ দিরহামও দিতে হবে। যদি কারো যাকাত হিসেবে বিনতু লাবূন ওয়াজিব হয়, কিন্তু তার কাছে সেটার পরিবর্তে হিক্কাহ থাকে, তখন হিক্কাহ গ্রহণ করা হবে এবং যাকাত উসুলকারী বিশ দিহরাম কিংবা দু’টি মেষ যাকাত প্রদানকারীকে দিবে। যদি কারো যাকাত হিসেবে বিনতু লাবূন ওয়াজিব হয়, কিন্তু তার কাছে সেটা না থাকে (বরং তার কাছে বিনতু মাখাদ রয়েছে), তখন তার কাছ থেকে বিনতু মাখাদ গ্রহণ করা হবে এবং এর সাথে দু’টি মেষ কিংবা বিশ দিরহামও দিতে হবে। যদি কারো যাকাত হিসেবে বিনতু মাখাদ ওয়াজিব হয়, কিন্তু তার কাছে সেটা না থাকে, বরং তার কাছে বিনতু লাবূন রয়েছে, তখন তার কাছ থেকে বিনতু লাবূন গ্রহণ করা হবে এবং যাকাত উসূলকারী তাকে দু’টি মেষ কিংবা বিশ দিরহাম প্রদান করবেন। আর যার কাছে বিনতু মাখাদ নেই, কিন্তু তার কাছে ইবনু লাবূন রয়েছে, তবে তার কাছ থেকে সেটাই গ্রহণ করা হবে। সে তার সাথে আর কোন কিছু পাবে না। আর কারো কাছে চারটি উট থাকলে তাকে কিছুই দিতে হবে না। অবশ্য উটের মালিক স্বেচ্ছায় কিছু দিলে তা ভিন্ন কথা। অতঃপর যখন উটের সংখ্যা পাঁচটি হবে, তখন তাতে একটি মেষ যাকাত দিতে হবে। মাঠে বিচরণশীল মেষের সংখ্যা চল্লিশ থেকে একশো বিশ পর্যন্ত পৌছলে একটি মেষ দিতে হবে। একশত বিশ অতিক্রম করে দুইশ পর্যন্ত পৌঁছলে দু’টি মেষ মেষের সংখ্যা দুইশ অতিক্রম করে তিনশ পর্যন্ত হলে তিনটি মেষ এবং তিনশ থেকে অধিক হলে প্রতি একশটির জন্য একটি মেষ যাকাত দিতে হবে। যাকাত হিসেবে অতিবৃদ্ধ অথবা লেংড়া মেষ বা পাঠা নেয়া হবে না। তবে আদায়কারী তা নিতে চাইলে ভিন্ন কথা। যাকাতের ভয়ে পৃথক পৃথক মালকে একত্রিত করা যাবে না এবং একত্রে থাকা মালকে পৃথক করা যাবে না। দুই শরীকের কাছ থেকে যে যাকাত আদায় করা হবে সেটা তারা নিজ নিজ অংশ অনুপাতে সমানহারে তাদের মাঝে ফিরে আসবে। মাঠে চরে বেড়ানো মেষের সংখ্যা চল্লিশ থেকে একটি কম হলেও তাতে যাকাত নেই। তবে মালিক স্বেচ্ছায় কিছু দিতে চাইলে ভিন্ন কথা। রূপার যাকাতের পরিমাণ হলো চল্লিশ ভাগের এক ভাগ। রৌপ্য মুদ্রা একশ নব্বই হলে তাতে যাকাত দিতে হবে না। তবে মালিক স্বেচ্ছায় কিছু দিতে চাইলে ভিন্ন কথা।[1]
[1] আবূ দাঊদ: ১৫৬৭; মুসনাদ আহমাদ: ১/১১; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২২৬১; ইবনু মাজাহ: ১৮০০; সহীহুল বুখারী: ১৪৪৮; তাহাবী: ২/৩৩; ইবনুল জারূদ: ৩৪২; সুনান বাইহাকী: ৪/৮৫; দারাকুতনী: ২/১১৩-১১৪; বাগাবী: ১৫৭; নাসাঈ: ৫/১৮-২৩; আবূ ইয়ালা: ১২৭; হাকিম: ১/৩৯-৪০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (ইরওয়াউল গালীল: ৩/২৬৫)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الإرواء» (3/ 265 - 266).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: حديث صحيح
3267 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى بْنُ حَمَّادٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنِ الْحَسَنِ، [ص:62] عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «لَا جَلَبَ، وَلَا جَنَبَ، وَلَا شِغَارَ، وَمَنِ انْتَهَبَ نُهْبَةً فَلَيْسَ مِنَّا»
رقم طبعة با وزير = (3256)
ইমরান বিন হুসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “ইসলামে জালাব (যাকাতের ভয়ে যাকাতযোগ্য সম্পদ একত্রিতকরণ), জানাব (যাকাতের ভয়ে যাকাতযোগ্য সম্পদ দুরে সরানো), শিগার (বিনিময় বিবাহ, যেখানে কোন মোহর থাকে না) নেই। আর যে ব্যক্তি ছিনতাই করে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৪/৪৪৩; আত তায়ালিসী: ৮৩৮; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৪/৩৮১; সুনান বাইহাকী: ১০/২১; নাসাঈ: ৬/১১১; দারাকুতনী: ৪/৩০৩; আবূ দাঊদ: ১৫৯১। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ২৩২৪)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (2324).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: حديث صحيح
3268 - أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى بْنِ مُجَاشِعٍ، وَالْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَا: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ بْنِ حِسَابٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، وَأَيُّوبُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ ذَوْدٍ صَدَقَةٌ، وَلَا فِيمَا دُونَ خَمْسِ أَوَاقٍ صَدَقَةٌ، [ص:63] وَلَا فِيمَا دُونَ خَمْسَةِ أَوْسُقٍ صَدَقَةٌ»
رقم طبعة با وزير = (3257) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: هَذَا الْخَبَرُ يُبَيِّنُ بِأَنَّ الْمُرَادَ مِنْ قَوْلِهِ: {خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ} [التوبة: 103] أَرَادَ بِهِ بَعْضَ الْمَالِ، إِذِ اسْمُ الْمَالِ وَاقِعٌ عَلَى مَا دُونَ الْخَمْسِ مِنَ الذَّوْدِ، وَالْخَمْسِ مِنَ الْأَوَاقِ، وَالْخَمْسِ مِنَ الْأَوْسُقِ، وَقَدْ نَفَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِيجَابَ الصَّدَقَةِ عَنْ مَا دُونَ الَّذِي حَدَّ
আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “পাঁচ উটের কমে কোন যাকাত নেই। পাঁচ উকিয়ার (২০০ দিরহাম) কমে কোন যাকাত নেই। পাঁচ ওয়াসাকের (এক ওয়াসাক সমান ৬০ সা‘) কমে কোন যাকাত নেই।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই হাদীসটি স্পষ্ট করে দেয় যে, আল্লাহর বাণী “আপনি তাদের সম্পদ থেকে যাকাত গ্রহণ করুন, যা তাদেরকে পবিত্র করবে এবং এর মাধ্যমে আপনি তাদেরকে পরিশুদ্ধ করবেন” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কিছু সম্পদ। কেননা পাঁচ উটের কম, পাঁচ উকিয়ার (২০০ দিরহাম) কম এবং পাঁচ ওয়াসাকের (এক ওয়াসাক সমান ৬০ সা‘) কম সম্পদের ক্ষেত্রেও ‘সম্পদ’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়। অথচ এই সীমার কম সম্পদে যাকাত নেই।”
[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২২৯৩; তাহাবী: ২/৩৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৩৯৪)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1394): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم
3269 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ صَالِحٍ الْأَزْدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي يُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَعْدِ بْنِ زُرَارَةَ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ، [ص:64] عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ: بَعَثَنِي النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى صَدَقَةِ بَلِيَّ وَعُذْرَةَ، فَمَرَرْتُ بِرَجُلٍ مِنْ بَلِيَّ لَهُ ثَلَاثُونَ بَعِيرًا، فَقُلْتُ لَهُ: إِنَّ عَلَيْكَ فِي إِبِلِكَ هَذِهِ بِنْتَ مَخَاضٍ، قَالَ: ذَاكَ مَا لَيْسَ فِيهِ ظَهْرٌ وَلَا لَبَنٌ، وَإِنِّي لَأَكْرَهُ أَنْ أُقْرِضُ اللَّهَ شَرَّ مَالِي، فَتَخَيَّرْهُ، فَقَالُ لَهُ أُبَيُّ: مَا كُنْتُ لِآخُذَ فَوْقَ مَا عَلَيْكَ، وَهَذَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأْتِهِ، فَأَتَاهُ، فَقَالَ نَحْوًا مِمَّا قَالَ لِأَبِيٍّ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هَذَا مَا عَلَيْكَ فَإِنْ جِئْتَ بِفَوْقِهِ، قَبِلْنَاهُ مِنْكَ»، قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذِهِ نَاقَةٌ عَظِيمَةٌ سَمِينَةٌ فَمَنْ يَقْبِضُهَا؟، فَأَمَرَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ يَقْبِضُهَا، وَدَعَا لَهُ فِي مَالِهِ بِالْبَرَكَةِ قَالَ عُمَارَةُ: فَضَرَبَ الدَّهْرُ ضَرْبَةً فَوَلَّانِي مَرْوَانُ صَدَقَةَ بَلِيَّ وَعُذْرَةَ فِي زَمَنِ مُعَاوِيَةَ، فَمَرَرْتُ بِهَذَا الرَّجُلِ فَصَدَقْتُ مَالَهُ ثَلَاثِينَ حِقَّةً، فِيهَا فَحْلُهَا عَلَى أَلْفٍ وَخَمْسِ مِائَةِ بَعِيرٍ، قَالَ ابْنَ إِسْحَاقَ: قُلْتُ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ: مَا فَحْلُهَا؟، قَالَ: فِي السُّنَّةِ إِذَا بَلَغَ صَدَقَةُ الرَّجُلِ ثَلَاثُونَ حِقَّةً أُخِذَ مَعَهَا فَحْلُهَا
رقم طبعة با وزير = (3258)
উবাই বিন কা‘ব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বালী ও উজরার যাকাত আদায় করার জন্য পাঠান। অতঃপর আমি বালীর এক পাশ দিয়ে অতিক্রম করেন, যা ৩০ টি উট ছিল। আমি তাকে বললাম, “নিশ্চয়ই আপনার উপর একটি দুই বছরের উষ্ট্রী ফরয হয়েছে।” জবাবে তিনি বলেন, “এই উট তো দুধ দিবে না, তার উপর সওয়ারও হওয়া যাবে না। আমি অপছন্দ করি যে, আমি মন্দ সম্পদ আল্লাহকে ঋণ দিবো। কাজেই আপনি বেছে নিন।” তখন উবাই বিন কা‘ব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাকে বলেন, “আপনার উপর যা ওয়াজিব হয়েছে, আমি তার চেয়ে বেশি বয়সের উট নিবো না। এখানে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আছেন, কাজেই আপনি তাঁর কাছে যান।” অতঃপর তিনি তাঁর কাছে এসে সেই কথাই বলেছেন, যা উবাই বিন কা‘ব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বলেছিলেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তোমার উপর এটা ফরয হয়েছে। তবে তুমি যদি তার চেয়ে বেশি বয়সের উট দাও, তবে আমরা তোমার থেকে তা গ্রহণ করবো।” তিনি বলেন, “হে আল্লহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, এটা বিশাল মোটাতাজা উষ্ট্রী, এটাকে কে গ্রহণ করবে?” অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে তা গ্রহণ করার নির্দেশ দেন এবং তার জন্য তার সম্পদে বারাকাতের দুআ করেন।” উমারাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “তারপর দীর্ঘকাল অতিবাহিত হয়। অতঃপর মুআবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর সময়কালে মারওয়ান আমাকে বালী ও উজরার যাকাত আদায় করার জন্য পাঠান। অতঃপর আমি এই ব্যক্তির পাশ দিয়ে অতিক্রম করি। অতঃপর আমি তার সম্পদ থেকে ৩০ হিক্কাহ বা চার বছর বয়সী উষ্ট্রী গ্রহণ করি। সেখানে একটি নর উট ছিল। তার উটের সংখ্যা ছিল ১৫০০।” ইবনু ইসহাক রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আমি আব্দুল্লাহ বিন আবূ বকর রহিমাহুল্লাহকে জিজ্ঞেস করলাম, فَحْلُها দ্বারা উদ্দেশ্য কী?” জবাবে তিনি বলেন, “সুন্নাহ হলো কারো যাকাত যখন ৩০ টি হিক্কাহ হবে, তখন সেগুলোর সাথে একটি নর উট নেওয়া হবে।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৫/১৪২; আবূ দাঊদ: ১৫৮৩; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২২৭৭; হাকিম: ১/৩৯৯-৪০০; সুনান বাইহাকী: ৪/৯৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৪১১)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن - «صحيح أبي داود» (1411).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي
3270 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الْأُمَوِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْأَنْصَارِيُّ، عَنْ نَافِعٍ، [ص:65] عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعَثَ سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ مُصَّدِّقًا، وَقَالَ: «إِيَّاكَ يَا سَعْدُ أَنْ تَجِيءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِبَعِيرٍ لَهُ رُغَاءٌ»، فَقَالَ: لَا أَجِدُهُ وَلَا أَجِيءُ بِهِ، فَأَعْفَاهُ
رقم طبعة با وزير = (3259)
আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সা‘দ বিন উবাদাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে যাকাত উসূলকারী হিসেবে পাঠানোর সময় বলেন, “হে সা‘দ, তুমি কিয়ামতের দিন উটসহ আগমন করা থেকে বিরত থাকো যে, উট গরগর আওয়াজ করতে থাকবে!” তখন তিনি বলেন, “আমি এটা করতে পারবো না, আমি কিয়ামতের দিন সেটা সহও আসবো না।” অতঃপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন।”[1]
[1] বাযযার: ৮৯৮; হাকিম: ১/৩৯৯; মুসনাদ আহমাদ: ৫/২৮৫; তাবারানী: ৫৩৬৩; হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ: ৩/৮৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ২৫৪২)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح الموارد» (669/ 804)، «الصحيحة» (2542).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين
3271 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي غَيْلَانَ، أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، وَعَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ الْمَاجِشُونِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، أَنَّهُ سَمِعَ سُلَيْمَانَ بْنَ يَسَارٍ، يُحَدِّثُ عَنْ عِرَاكِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «لَيْسَ عَلَى الْمُسْلِمِ فِي فَرَسِهِ، وَلَا عَبْدِهِ، صَدَقَةٌ»
رقم طبعة با وزير = (3260)
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “মুসলিম ব্যক্তির ঘোড়া ও দাসে কোন যাকাত নেই।”[1]
[1] বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ১৫৭৪; মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/২৭৭; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৬৮৭৮; মুসনাদ আহমাদ: ২/২৪২; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/১৫১; দারেমী: ১/৩৮৪; সহীহুল বুখারী: ১৪৬৪; সহীহ মুসলিম: ৯৮২; আবূ দাঊদ: ১৫৯৫; ইবনু মাজাহ: ১৮১২; তাহাবী: ২/২৯; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২২৮৫; দারাকুতনী: ২/২৭। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৪২১)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1421): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط البخاري
3272 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُحَمَّدٍ الدَّغُولِيُّ، حَدَّثَنَا [ص:66] مُحَمَّدُ بْنُ إِدْرِيسَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ، حَدَّثَنَا نَافِعُ بْنُ يَزِيدَ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ رَبِيعَةَ، عَنْ عِرَاكِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «لَا صَدَقَةَ عَلَى الرَّجُلِ فِي فَرَسِهِ وَعَبْدِهِ، إِلَّا زَكَاةَ الْفِطْرِ»
رقم طبعة با وزير = (3261) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: فِي هَذَا الْخَبَرِ دَلِيلٌ عَلَى أَنَّ الْعَبْدَ لَا يَمْلِكُ، إِذِ الْمُصْطَفَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوْجَبَ زَكَاةَ الْفِطْرِ الَّتِي تَجِبُ عَلَى الْعَبْدِ عَلَى مَالِكِهِ عَنْهُ دُونَهُ
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “মুসলিম ব্যক্তির ঘোড়া ও দাসে যাকাতুল ফিতর ছাড়া আর কোন যাকাত নেই।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই হাদীসে এই মর্মে দলীল রয়েছে যে, দাস কোন সম্পদের মালিক হতে পারে না। কেননা দাসের উপর যে সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হয়, সেটাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মালিকের উপর ওয়াজিব করেছেন; দাসের উপর নয়।”
[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২২৮৮; সহীহ মুসলিম: ৯৮২; আবূ দাঊদ: ১৯৫৪; সুনান বাইহাকী: ৪/১১৭। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৪২০)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1420): م.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح
3273 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُشْكَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا شَبَابَةُ، قَالَ: حَدَّثَنَا وَرْقَاءُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْأَعْرَجُ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ: بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ عَلَى الصَّدَقَةِ، فَمَنَعَ ابْنُ جَمِيلٍ، وَخَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ، وَالْعَبَّاسُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا يَنْقِمُ ابْنُ جَمِيلٍ إِلَّا أَنْ كَانَ فَقِيرًا فَأَغْنَاهُ اللَّهُ، وَأَمَّا خَالِدٌ فَإِنَّكُمْ تَظْلِمُونَ خَالِدًا لَقَدِ احْتَبَسَ أَدْرَاعَهُ وَأَعْتَادَهُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، وَأَمَّا الْعَبَّاسُ فَعَمُّ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَهُوَ عَلَيَّ وَمِثْلُهَا»، ثُمَّ قَالَ: «أَمَا شَعَرْتَ أَنَّ عَمَّ الرَّجُلِ صِنْوُ الرَّجُلِ أَوْ صِنْوُ أَبِيهِ»
رقم طبعة با وزير = (3262) [ص:68] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: قَوْلُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَأَمَّا خَالِدٌ فَإِنَّكُمْ تَظْلِمُونَ خَالِدًا قَدِ احْتَبَسَ أَدْرَاعَهُ وَأَعْتَادَهُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ»، يُرِيدُ إِنَّكُمْ تَظْلِمُونَهُ أَنَّهُ حَبَسَ مَالَهُ مِنَ الْأَدْرَاعِ وَالْأَعْتَادِ حَتَّى لَمْ يَبْقَ لَهُ مَالٌ تَجِبُ عَلَيْهِ الصَّدَقَةُ، وَقَوْلُهُ فِي شَأْنِ الْعَبَّاسِ: «هُوَ عَلَيَّ وَمِثْلُهَا» يُرِيدُ أَنَّ صَدَقَتَهُ عَلَيَّ أَنِّي ضَامِنٌ عَنْهُ، وَمِثْلُهَا مَعَهَا مِنْ صَدَقَةٍ ثَانِيَةٍ مِنَ الْعَامِ الْمُقْبِلِ، [ص:69] وَقَدْ رَوَى شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ هَذَا الْخَبَرَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، وَقَالَ فِي شَأْنِ الْعَبَّاسِ: «فَهِيَ عَلَيْهِ صَدَقَةٌ وَمِثْلُهَا مَعَهَا»، وَيُشْبِهُ أَنْ يَكُونَ مَعْنَاهُ: فَهِيَ لَهُ صَدَقَةٌ، لِأَنَّ الْعَرَبَ فِي لُغَتِهَا تَقُولُ: «عَلَيْهِ» بِمَعْنَى لَهُ، قَالَ اللَّهُ: {أُولَئِكَ لَهُمُ اللَّعْنَةُ وَلَهُمْ سُوءُ الدَّارِ} [الرعد: 25] يُرِيدُ: عَلَيْهِمُ اللَّعْنَةُ، وَالْعَبَّاسُ لَمْ يَحِلَّ لَهُ أَخَذُ الصَّدَقَةِ مِنْ وَجْهَيْنِ، أَحَدُهُمَا: أَنَّهُ كَانَ غَنِيًّا لَا يَحِلُّ لَهُ أَخَذُ الصَّدَقَةِ الْفَرِيضَةِ، وَالْأُخْرَى: أَنَّهُ كَانَ مِنْ صِبَيَةِ بَنِي هَاشِمٍ، فَكَيْفَ يَتْرُكُ الْمُصْطَفَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَدَقَتَهُ عَلَيْهِ، وَهُوَ لَا يَحِلُّ لَهُ أَخَذُهَا، وَيَمْنَعُهَا مِنْ أَهْلِهَا مِنَ الْفُقَرَاءِ؟، وَقَدْ رَوَى مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ هَذَا الْخَبَرَ، وَقَالَ فِي شَأْنِ الْعَبَّاسِ: «فَهِيَ لَهُ وَمِثْلُهَا مَعَهَا» يُرِيدُ: فَهِيَ لَهُ عَلَيَّ، كَمَا قَالَ وَرْقَاءُ بْنُ عُمَرَ فِي خَبَرِهِ
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমার বিন খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে যাকাত উসূল করার জন্য পাঠান। অতঃপর ইবনু জামিল, খালিদ বিন ওয়ালিদ ও আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম যাকাত দিতে অস্বীকৃতি জানান। অতঃপর রাসূল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “ইবনু জামীলকে কিসে যাকাত দিতে বাধা দিলো, অথচ সে দরিদ্র ছিল অতঃপর আল্লাহ তাকে সম্পদশালী করে দিয়েছেন? খালিদের ব্যাপারে তোমরা অন্যায় করেছো, সে তো তার বর্ম ও অস্ত্র-সস্ত্র-বাহন আল্লাহর রাস্তায় ওয়াকফ করে দিয়েছে। আর আব্বাস, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচা। কাজেই সেটা এবং তার অনুরুপ যাকাত আমার দায়িত্ব।” তারপর তিনি বলেন, “আপনি কি জানেন না যে, নিশ্চয়ই কোন ব্যক্তির চাচা, তার বাবার সমতুল্য?”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বক্তব্য “খালিদের ব্যাপারে তোমরা অন্যায় করেছো, সে তো তার বর্ম ও অস্ত্র-সস্ত্র-বাহন সব কিছু আল্লাহর রাস্তায় ওয়াকফ করে দিয়েছে” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তোমরা তার উপরে অন্যায় করেছো, এমনকি তার কাছে যাকাতযোগ্য কোন সম্পদ নেই। আর আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বক্তব্য, “সেটা এবং তার অনুরুপ যাকাত আমার দায়িত্ব” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তার সাদাকার দায়িত্ব আমার উপর, আমি তার পক্ষ থেকে জামিনদার এবং তার অনুরুপ আগামী আরো এক বছরের যাকাত আমার দায়িত্ব। শু‘আইব বিন আবূ হামযা এই হাদীসটি আবুয যিনাদ থেকে বর্ণনা করেছেন, সেখানে তিনি আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর ব্যাপারে বলেছেন, “সেটা তার জন্য সাদাকাহ এবং অনুরুপ আরো এক যাকাত। এখানে হতে পারে তার অর্থ হলো এটা তার জন্য সাদাকাহ। কেননা আরবরা তাদের ভাষায় لَهُ অর্থে عَلَيْهِ ব্যবহার করেন। মহান আল্লাহ বলেছেন, “তাদের উপর লা‘নত এবং তাদের জন্য রয়েছে মন্দ বাসস্থান।” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাদের উপর লা‘নত। আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর জন্য তো সাদাকাহ গ্রহণ করা দুই দিক থেকে জায়েয নেই। প্রথম কারণ হলো তিনি ধনী ছিলেন, কাজেই তার জন্য যাকাত গ্রহণ করা জায়েয নেই্ দ্বিতীয়ত: তিনি বানু হাশিম গোত্রের ছিলেন, যাদের জন্য যাকাত গ্রহণ করা বৈধ হবে না। কাজেই কিভাবে আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার যাকাত নিজের উপর রেখে দিলেন অথচ ফরয যাকাত গ্রহণ করা তার জন্য বৈধ নয় এবং তিনি দরিদ্র মুসলিমদের তা দিলেন না? মুসা বিন উকবাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু, আবুয যিনাদ থেকে এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, “কাজেই সেটা এবং তার অনুরুপ যাকাত আমার দায়িত্ব।” অর্থাৎ সেটা তার জন্য আমার দায়িত্ব তা পরিশোধ করা। যেমনটা ওয়ারাকা বিন উমার স্বীয় হাদীসে বর্ণনা করেছেন।”
[1]আবূ দাঊদ: ১৬২৩; সুনান বাইহাকী: ৬/১৬৪-১৬৫; দারাকুতনী: ২/১২৩; সহীহ মুসলিম: ৯৮৩; সহীহুল বুখারী: ১৪৬৮; নাসাঈ: ৫/৩৩; বাগাবী: ১৫৭৮। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৪৩৫)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1435): م تمامه خ دون قوله «أما شعرت ... »، وقال: «فهي عليه صدقة، ومثلها معها»، وهو الأرجح.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح
3274 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا وَكِيعٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، [ص:70] قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ أَبِي أَوْفَى، يَقُولُ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَتَاهُ رَجُلٌ بِصَدَقَةِ مَالِهِ صَلَّى عَلَيْهِ، فَأَتَيْتُ بِصَدَقَةِ مَالِي، فَقَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى آلِ أَبِي أَوْفَى»
رقم طبعة با وزير = (3263)
ইবনু আবী আওফা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “কোন ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে সাদাকাহ নিয়ে আসলে তিনি তার জন্য দুআ করতেন। রাবী বলেন, অতঃপর আমি তাঁর কাছে সাদাকাহ নিয়ে আসলে তিনি বলেন, اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى آل أبي أوفى (হে আল্লাহ, আপনি আবূ আওফার পরিবার-পরিজনের উপর সালাত তথা রহম করুন)।”[1]
[1] আবূ দাঊদ আত তায়ালিসী: ৮১৯; হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৫/৯৬; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৬৯৫৭; মুসনাদ আহমাদ: ৪/৩৫৩; সহীহ আল বুখারী: ১৪৯৭; সহীহ মুসলিম: ১০৭৮; আবূ দাঊদ: ১৫৯০; সুনান বা্ইহাকী: ২/১৫২। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৪১৫।)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق - مضى (913). تنبيه!! رقم (913) = (917) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين
3275 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا بُنْدَارٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، وَسُفْيَانُ، وَمَالِكٌ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى بْنِ عُمَارَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «لَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسَةِ أَوَاقٍ صَدَقَةٌ، وَلَا فِيمَا دُونَ خَمْسَةِ أَوْسُقٍ صَدَقَةٌ، وَلَا فِيمَا دُونَ خَمْسِ ذَوْدٍ صَدَقَةٌ»
رقم طبعة با وزير = (3264)
আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “পাঁচ উকিয়ার (২০০ দিরহাম) কমে কোন যাকাত নেই। পাঁচ ওয়াসাকের (এক ওয়াসাক সমান ৬০ সা‘) কমে কোন যাকাত নেই। পাঁচ উটের কমে কোন যাকাত নেই।”[1]
[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২২৯৩; তাহাবী: ২/৩৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৩৯৪)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق - مضى (3257). تنبيه!! رقم (3257) = (3268) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما
3276 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ بْنِ إِسْحَاقَ، قَالَ: حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ يَحْيَى الْحَسَّانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ الْقَاسِمِ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ يَحْيَى الْمَازِنِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يَحِلُّ فِي الْبُرِّ وَالتَّمْرِ زَكَاةٌ حَتَّى يَبْلُغَ خَمْسَةَ أَوْسُقٍ، وَلَا يَحِلُّ فِي الْوَرِقِ زَكَاةٌ حَتَّى يَبْلُغَ خَمْسَ أَوَاقٍ، وَلَا يَحِلُّ فِي الْإِبِلِ زَكَاةٌ حَتَّى يَبْلُغَ خَمْسَ ذَوْدٍ»
رقم طبعة با وزير = (3265)
আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “পাঁচ ওয়াসাকের (এক ওয়াসাক সমান ৬০ সা‘) কম গম ও খেজুরে যাকাত বৈধ নয়। পাঁচ উকিয়ার (২০০ দিরহাম) কম রৌপ্যে যাকাত বৈধ নয়। পাঁচ উটের কমে যাকাত বৈধ নয়।”[1]
[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২২৯৩; তাহাবী: ২/৩৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৩৯৪)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر ما قبله.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما
3277 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا حِبَّانُ بْنُ مُوسَى، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أُمَيَّةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حِبَّانَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عُمَارَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «لَيْسَ فِي [ص:73] حَبٍّ وَلَا تَمْرٍ دُونَ خَمْسَةِ أَوْسُقٍ صَدَقَةٌ، وَلَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ ذَوْدٍ صَدَقَةٌ، وَلَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ أَوَاقٍ صَدَقَةٌ»
رقم طبعة با وزير = (3266)
আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “পাঁচ ওয়াসাকের (এক ওয়াসাক সমান ৬০ সা‘) কম শস্য ও খেজুরে যাকাত নেই। পাঁচ উকিয়ার (২০০ দিরহাম) কম রৌপ্যে যাকাত নেই। পাঁচ উটের কমে যাকাত নেই।”[1]
[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২২৯৩; তাহাবী: ২/৩৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৩৯৪)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الإرواء» (3/ 275): م.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما
3278 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلْمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نَافِعٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ صَالِحٍ التَّمَّارِ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ عَتَّابِ بْنِ أُسَيْدٍ: «أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَبْعَثُ عَلَى النَّاسِ مَنْ يُخْرَصِ كُرُومَهُمْ وَثِمَارَهُمْ»
رقم طبعة با وزير = (3267)
আত্তাব বিন উসাইদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের জন্য এমন কাউকে পাঠাতেন, যিনি লোকদের আঙ্গুর ও ফল-ফলাদি অনুমান করতেন।”[1]
[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২৩১৬; সুনান বাইহাকী: ৪/১২১; দারাকুতনী: ২/১৩৩; আবূ দাঊদ: ১৬০৪; ইবনু মাজাহ: ১৮১৯; তাহাবী: ২/৩৯০; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/১৯৫; নাসাঈ: ৫/১০৯; হাকিম: ৩/৫৯৫; মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ২/৭০৩; মুসনাদ আহমাদ: ৬/১৬৩। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। (যঈফ আবূ দাঊদ: ২৮০)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف - «ضعيف أبي داود» (280).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: حديث صحيح
3279 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلْمٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نَافِعٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ صَالِحٍ التَّمَّارِ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ عَتَّابِ بْنِ أُسَيْدٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «الْكَرْمُ يُخْرَصُ كَمَا يُخْرَصُ النَّخْلُ، ثُمَّ تُؤَدَّى زَكَاتُهُ زَبِيبًا كَمَا تُؤَدَّى زَكَاةُ النَّخْلِ تَمْرًا»
رقم طبعة با وزير = (3268)
আত্তাব বিন উসাইদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কাঁচা খেজুর যেভাবে অনুমান করা হয়, অনুরুপভাবে আঙ্গুরও অনুমান করা হবে। অতঃপর আঙ্গুরের যাকাত কিসমিস দিয়ে আদায় করতে হবে, যেভাবে কাঁচা খেজুরের যাকাত শুকনো খেজুর দিয়ে আদায় করতে হয়।”[1]
[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২৩১৬; সুনান বাইহাকী: ৪/১২১; দারাকুতনী: ২/১৩৩; আবূ দাঊদ: ১৬০৪; ইবনু মাজাহ: ১৮১৯; তাহাবী: ২/৩৯০; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/১৯৫; নাসাঈ: ৫/১০৯; হাকিম: ৩/৫৯৫; মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ২/৭০৩; মুসনাদ আহমাদ: ৬/১৬৩। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। (যঈফ আবূ দাঊদ: ২৮০)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف - انظر ما قبله.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: رجاله ثقات لكنه منقطع
3280 - أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ، حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، أَخْبَرَنَا خُبَيْبُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ مَسْعُودِ بْنِ نِيَارٍ يُحَدِّثُ، قَالَ: جَاءَنَا سَهْلُ بْنُ أَبِي حَثْمَةَ إِلَى مَسْجِدِنَا فَحَدَّثَنَا، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «إِذَا خَرَصْتُمْ فَخُذُوا وَدَعُوا الثُّلُثَ، فَإِنْ لَمْ تَدْعُوا الثُّلُثْ، فَدَعُوا الرُّبُعَ»
رقم طبعة با وزير = (3269) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: لِهَذَا الْخَبَرِ مَعْنَيَانِ: أَحَدُهُمَا أَنْ يُتْرَكَ الثُّلُثُ أَوِ الرُّبُعُ مِنَ الْعُشْرِ، وَالثَّانِي: أَنْ يُتْرَكَ ذَلِكَ مِنْ نَفْسِ التَّمْرِ قَبْلَ أَنْ يُعَشَّرَ إِذَا كَانَ ذَلِكَ حَائِطًا كَبِيرًا يَحْتَمِلُهُ
আব্দুর রহমান বিন মাসঊদ বিন নিয়ার বর্ণনা করেন, “আমাদের মাসজিদে সাহল বিন আবূ হাসমাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এসে হাদীস বর্ণনা করেন। নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমরা ফল-ফলাদি অনুমান করবে, তখন এক-তৃতীয়াংশ ছেড়ে দিয়ে উশর গ্রহণ করবে। যদি তোমরা এক-তৃতীয়াংশ ছাড়তে না চাও, তবে এক-চতুর্থাংশ ছেড়ে দিবে।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই হাদীসটির দুটো অর্থ রয়েছে। একটি হলো, উশর থেকে এক-তৃতীয়াংশ বা এক-চতুর্থাংশ ছেড়ে দেওয়া। দ্বিতীয়টি হলো, উশর বের করার আগে এক-তৃতীয়াংশ ছেড়ে দেওয়া। যদি সেটা সম্ভাব্য বড় বাগান হয়ে থাকে।”
[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/১৯৫; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৪৪৮; আবূ দাউদ: ১৬০৫; নাসাঈ: ৫/৪২; তিরমিযী: ৬৪৩; তাহাবী: ২/৩৯; ইবনু খুযাইমাহ: ২৩১৯; হাকিম: ১/৪০২; সুনান বাইহাকী: ৪/২৩। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ যঈফ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। (যঈফ আবূ দাঊদ: ২৮১)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف - «ضعيف أبي داود» (281).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده ضعيف