হাদীস বিএন


সহীহ ইবনু হিব্বান





সহীহ ইবনু হিব্বান (3412)


3412 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ زُهَيْرٍ أَبُو يَعْلَى، بِالْأُبُلَّةِ، قَالَ: حَدَّثَنَا سَلْمُ بْنُ جُنَادَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، [ص:202] عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، قَالَ: قُلْتُ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنِّي رَأَيْتُ فُلَانًا يَدْعُو وَيَذْكُرُ خَيْرًا، وَيَذْكُرُ أَنَّكَ أَعْطَيْتَهُ دِينَارَيْنِ، قَالَ: «لَكِنْ فُلَانٌ أَعْطَيْتُهُ مَا بَيْنَ كَذَا إِلَى كَذَا، فَمَا أَثْنَى وَلَا قَالَ خَيْرًا»
رقم طبعة با وزير = (3403)




উমার বিন খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললাম, “আমি এক ব্যক্তিকে দেখলাম, সে দুআ করছে এবং ভালো কথা বলছে। সে আরো বলছে যে, আপনি তাকে দুই দীনার প্রদান করেছেন।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “কিন্তু আমি তো ওমুক ব্যক্তিকে এই এই দিয়েছি। কিন্তু সে তার কোন প্রশংসা করলো না, ভালো কোন কিছুও বললো না!”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ৩/৪; বাযযার: ৯২৫; হাকিম: ১/৪৬; আবূ ইয়ালা: ১৩২৭। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ শক্তিশালী বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ২/৮, ১৫)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «التعليق الرغيب» (2/ 8 و 15).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي









সহীহ ইবনু হিব্বান (3413)


3413 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ سِنَانٍ، وَالْحُسَيْنُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ الْقَطَّانُ، قَالَا: حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدٍ الْجَوْهَرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْأَحْوَصُ بْنُ جَوَّابٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُعَيْرُ بْنُ الْخِمْسِ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ التَّيْمِيُّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ صُنِعَ إِلَيْهِ مَعْرُوفٌ فَقَالَ لِفَاعِلِهِ: جَزَاكَ اللَّهُ خَيْرًا، فَقَدْ أَبْلَغَ فِي الثَّنَاءِ»
رقم طبعة با وزير = (3404)




উসামাহ বিন যাইদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যার জন্য ভালো কিছু করা হয়, অতঃপর সেই ব্যক্তি ভালো কাজ সম্পাদনকারীর জন্য এই বলে দুআ করে, جَزَاكَ الله خيراً (আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান করুন), তবে সে পরিপূর্ণভাবে তার প্রশংসা করলো।”[1]



[1] তিরমিযী: ২০৩৫; ইবনুস সুন্নী: ২৭৬; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৯/৭০; বাযযার: ১৯৪৪। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ২/৫৫)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «التعليق» -أيضا- (2/ 55).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (3414)


3414 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ طَرِيفٍ الْبَجَلِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، أَنَّهُ دَخَلَ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، رَأَيْتُ فُلَانًا يَشْكُرُ، ذَكَرَ أَنَّكَ أَعْطَيْتَهُ دِينَارَيْنِ، فَقَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَكِنَّ فُلَانًا قَدْ أَعْطَيْتُهُ مَا بَيْنَ الْعَشَرَةِ إِلَى الْمِئَةِ، فَمَا يَشْكُرُهُ وَلَا يَقُولُهُ، إِنَّ أَحَدَكُمْ لَيَخْرُجُ مِنْ عِنْدِي لِحَاجَتِهِ مُتَأَبِّطَهَا، وَمَا هِيَ إِلَّا النَّارُ»، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ لِمَ تُعْطِهِمْ؟، قَالَ: «يَأْبَوْنَ إِلَّا أَنْ يَسْأَلُونِي، وَيَأْبَى اللَّهُ لِيَ الْبُخْلَ»
رقم طبعة با وزير = (3405)




উমার বিন খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, তিনি একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গমন করেন, অতঃপর বলেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামে, আমি ওমুক ব্যক্তিকে দেখলাম, সে শুকরিয়া আদায় করছে এবং বলছে যে, আপনি তাকে দুই দীনার প্রদান করেছেন।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “কিন্তু আমি তো ওমুক ব্যক্তিকে ১০ থেকে ১০০ দিরহাম প্রদান করেছি, কিন্তু সে তার কোন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেনি এবং এই কথা বলেওনি। নিশ্চয়ই তোমাদের মাঝে কোন কোন ব্যক্তি আমার কাছ থেকে তার প্রয়োজনীয় বগলে করে নিয়ে যায়, অথচ সেটা জাহান্নামের আগুন ছাড়া কিছুই নয়।” রাবী বলেন, “আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তবে কেন আপনি তাদেরকে প্রদান করেন?” জবাবে তিনি বলেন, “তারা আমার কাছে চাইতেই থাকে, অপরদিকে আল্লাহ আমার জন্য কৃপণতা বারণ করে দিয়েছেন।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ৩/৪; বাযযার: ৯২৫; হাকিম: ১/৪৬; আবূ ইয়ালা: ১৩২৭। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ শক্তিশালী বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ২/৮, ১৫)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «التعليق الرغيب» (2/ 8).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي









সহীহ ইবনু হিব্বান (3415)


3415 - أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي مَعْشَرٍ، بِحَرَّانَ، حَدَّثَنَا [ص:204] مُحَمَّدُ بْنُ وَهْبِ بْنِ أَبِي كَرِيمَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحِيمِ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَبِي أُنَيْسَةَ، عَنْ شُرَحْبِيلَ الْأَنْصَارِيِّ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: «مَنْ أُولِيَ مَعْرُوفًا فَلَمْ يَجِدْ لَهُ خَيْرًا إِلَّا الثَّنَاءَ، فَقَدْ شَكَرَهُ، وَمَنْ كَتَمَهُ فَقَدْ كَفَرَهُ، وَمَنْ تَحَلَّى بِبَاطِلٍ فَهُوَ كَلَابِسِ ثَوْبَيْ زُورٍ»
رقم طبعة با وزير = (3406)




জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, “যার জন্য ভালো কিছু করা হয়, অতঃপর সেই ব্যক্তি প্রশংসা করা ছাড়া ভালো কিছু করার মতো কিছু পায় না, তবে সে ব্যক্তি (প্রশংসা করার মাধ্যমে) তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলো। আর যে ব্যক্তি সেটাকে গোপন করলো, সে অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলো। আর যে ব্যক্তি মিথ্যার অলঙ্কার পরিধান করে (না পেয়েও পাওয়ার ভান করে), সে ব্যক্তি মিথ্যার দুই পোশাক পরিহিত ব্যক্তির মতো।”[1]



[1] মুসনাদ আশ শিহাব: ৪৮৫; ইমাম বুখারী, আদাবুল মুফরাদ: ২১৫; আবূ দাঊদ: ২০৩৪। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ যঈফ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (আত তিরমিযী: ২১২০)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن - «الترمذي» (2120).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده ضعيف









সহীহ ইবনু হিব্বান (3416)


3416 - أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنِ الْعَلَاءِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «قَالَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى: كُلُّ حَسَنَةٍ عَمِلَهَا ابْنُ آدَمَ جَزَيْتُهُ بِهَا عَشْرَ حَسَنَاتٍ إِلَى سَبْعِ مِائَةِ ضِعْفٍ إِلَّا الصِّيَامَ، فَهُوَ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ، الصِّيَامُ جُنَّةٌ، فَمَنْ كَانَ صَائِمًا فَلَا يَرْفُثْ وَلَا يَجْهَلْ، فَإِنِ امْرُؤٌ شَتَمُهُ أَوْ آذَاهُ فَلْيَقُلْ: إِنِّي صَائِمٌ إِنِّي صَائِمٌ»
رقم طبعة با وزير = (3407)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মহান আল্লাহ বলেছেন, “আদম সন্তান যে কোন ভালো আমল করে, আমি তার প্রতিদান ১০ গুণ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত সাওয়াব দেই। তবে সিয়াম ব্যতীত। এটা আমার জন্যই পালন করা হয়, আর আমি নিজেই তার প্রতিদান দিবো। সিয়াম ঢাল স্বরুপ। কাজেই যে ব্যক্তি সিয়াম রাখবে, সে যেন পাপাচারে লিপ্ত না হয়, অজ্ঞতাপূর্ণ কাজ না করে। যদি কোন ব্যক্তি তাকে গালি দেয়, অথবা কষ্ট দেয়, তবে সে যেন বলে, আমি সিয়াম রেখেছি, আমি সিয়াম রেখেছি।”[1]



[1] সহীহ মুসলিম: ১১৫১; নাসাঈ: ৪/১৬২-১৬৩; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৮৯৬; মুসনাদ আহমাদ: ২/২৭৩; সহীহুল বুখারী: ১৯০৪। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ২৪০৭)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: م.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: Null









সহীহ ইবনু হিব্বান (3417)


3417 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ يَزِيدَ الْمُحَمَّدَ ابَاذِيُّ، حَدَّثَنَا [ص:206] سَوَّارُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ أَبِي عَيَّاشٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يَصُومُ عَبْدٌ يَوْمًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ إِلَّا بَاعَدَ اللَّهُ بِذَلِكَ الْيَوْمِ وَجْهَهُ عَنِ النَّارِ سَبْعِينَ خَرِيفًا»
رقم طبعة با وزير = (3408)




আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কোন বান্দা আল্লাহর রাস্তায় একদিন সিয়াম পালন করলে, মহান আল্লাহ সেই দিনের বদৌলতে তার চেহারাকে জাহান্নামের আগুন থেকে সত্তর বছরের দূরত্বে রাখবেন।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ৩/৮৩; সহীহুল বুখারী: ২৮৪০; সহীহ মুসলিম: ১১৫৩; তিরমিযী: ১৬২২; নাসাঈ: ৪/১৭৩; সুনান বাইহাকী: ৪/১৭৪; আত তায়ালিসী: ২১৮৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকু রাগীব: ২/১৬২)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «التعليق الرغيب» (2/ 162)، «التعليق على ابن خزيمة» (2113): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: Null









সহীহ ইবনু হিব্বান (3418)


3418 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ الْفَضْلِ الْكَلَاعِيُّ الرَّاهِبُ، بِحِمْصَ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ بْنِ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي حُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، [ص:207] أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: «مَنْ أَنْفَقَ زَوْجَيْنِ مِنْ شَيْءٍ مِنَ الْأَشْيَاءِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ دُعِيَ مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ: يَا عَبْدَ اللَّهِ، هَذَا خَيْرٌ، وَلِلْجَنَّةِ أَبْوَابٌ، فَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصَّلَاةِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الصَّلَاةِ، وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْجِهَادِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الْجِهَادِ، وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصَّدَقَةِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الصَّدَقَةِ، وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصِّيَامِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الرَّيَّانِ» قَالَ: فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا عَلَى أَحَدٍ يُدْعَى مِنْ تِلْكَ الْأَبْوَابِ مِنْ ضَرُورَةٍ، هَلْ يُدْعَى مِنْهَا كُلُّ أَحَدٍ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟، قَالَ: «نَعَمْ وَأَرْجُو أَنْ تَكُونَ مِنْهُمْ»
رقم طبعة با وزير = (3409)




আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় কোন কিছু এক জোড়া ব্যয় করবে, জান্নাতের দরজাসমূহ থেকে তাকে ডাকা হবে: হে আল্লাহর বান্দা, এটি উত্তম।” কাজেই যারা সালাত আদায়কারী হবে, তাদেরকে সালাতের দরজা থেকে ডাকা হবে, যারা মুজাহিদ হবে, তাদেরকে জিহাদের দরজা থেকে ডাকা হবে, যারা সাদাকাকারী হবে,তাদেরকে সাদাকার দরজা থেকে ডাকা হবে, যারা সিয়াম পালনকারী হবে, তাদেরকে রাইয়ান নামক দরজা থেকে ডাকা হবে।” তখন আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: “কাউকে তো সব দরজা থেকে ডাকার কোন প্রয়োজন নেই। এমন কি কেউ থাকবে, যাকে সব দরজা থেকে ডাকা হবে?” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “হ্যাঁ, ডাকা হবে। আর আমি আশাবাদী যে, আপনি তাদের একজন হবেন।”[1]



[1] বাগাবী, শারহুস ‍সুন্নাহ: ১৬৩৫; মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ২/২৪; তিরমিযী: ৩৬৭৪; নাসাঈ: ৪/১৬৮; সহীহ আল বুখারী: ৩৬৬৬; সুনানু বাইহকী: ৯/১৭১। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ২৮৮৯।)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - مضى (308).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (3419)


3419 - أَخْبَرَنَا ابْنُ قُتَيْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي حُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ أَنْفَقَ [ص:208] زَوْجَيْنِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ دُعِيَ مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ، وَلِلْجَنَّةِ أَبْوَابٌ، فَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصَّلَاةِ دُعِيَ مِنْ أَبْوَابِ الصَّلَاةِ، وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصَّدَقَةِ دُعِيَ مِنْ أَبْوَابِ الصَّدَقَةِ، وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْجِهَادِ دُعِيَ مِنْ أَبْوَابِ الْجِهَادِ، وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصِّيَامِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الرَّيَّانِ»، فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا عَلَى أَحَدٍ مِنْ ضَرُورَةٍ مِنْ أَيِّهَا دُعِيَ، فَهَلْ يُدْعَى أَحَدٌ مِنْهَا كُلِّهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ؟، قَالَ: «نَعَمْ، وَأَرْجُو أَنْ تَكُونَ مِنْهُمْ»
رقم طبعة با وزير = (3410) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: «عَسَى» مِنَ اللَّهِ وَاجِبٌ وَأَرْجُو مِنَ النَّبِيِّ حَقٌّ




আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় কোন কিছু এক জোড়া ব্যয় করবে, জান্নাতের দরজাসমূহ থেকে তাকে ডাকা হবে: হে আল্লাহর বান্দা, এটি উত্তম।” কাজেই যারা সালাত আদায়কারী হবে, তাদেরকে সালাতের দরজা থেকে ডাকা হবে, যারা মুজাহিদ হবে, তাদেরকে জিহাদের দরজা থেকে ডাকা হবে, যারা সাদাকাকারী হবে,তাদেরকে সাদাকার দরজা থেকে ডাকা হবে, যারা সিয়াম পালনকারী হবে, তাদেরকে রাইয়ান নামক দরজা থেকে ডাকা হবে।” তখন আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: “কাউকে তো সব দরজা থেকে ডাকার কোন প্রয়োজন নেই। এমন কি কেউ থাকবে, যাকে সব দরজা থেকে ডাকা হবে?” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “হ্যাঁ, ডাকা হবে। আর আমি আশাবাদী যে, আপনি তাদের একজন হবেন।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আরবি عَسَى (সম্ভবত) শব্দটি আল্লাহর ক্ষেত্রে অনিবার্য অর্থ প্রদান করে। আর أرجو (আমি আশাবাদী) শব্দটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ক্ষেত্রে হক বা অনিবার্য সত্য অর্থে ব্যবহৃত হয়।”



[1] বাগাবী, শারহুস ‍সুন্নাহ: ১৬৩৫; মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ২/২৪; তিরমিযী: ৩৬৭৪; নাসাঈ: ৪/১৬৮; সহীহ আল বুখারী: ৩৬৬৬; সুনানু বাইহকী: ৯/১৭১। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ২৮৮৯।)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر ما قبله.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: حديث صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (3420)


3420 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ الْعِجْلِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بِلَالٍ، حَدَّثَنِي أَبُو حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ فِي الْجَنَّةِ بَابًا يُقَالُ لَهُ: الرَّيَّانُ يَدْخُلُ مِنْهُ الصَّائِمُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، لَا يَدْخُلُ مِنْهُ أَحَدٌ غَيْرُهُمْ، يُقَالُ: أَيْنَ الصَّائِمُونَ، فَيَقُومُونَ فَيَدْخُلُونَ مِنْهُ، فَإِذَا دَخَلَ آخِرُهُمْ أُغْلِقَ فَلَمْ يَدْخُلْ مِنْهُ أَحَدٌ»
رقم طبعة با وزير = (3411)




সাহল বিন সা‘দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয়ই জান্নাতে একটি দরজা রয়েছে, সেটার নাম রাইয়ান। কিয়ামতের দিন এখান দিয়ে সিয়াম পালনকারীগণ প্রবেশ করবে। অতঃপর যখন তাদের সর্বশেষ ব্যক্তি প্রবেশ করবে, তখন সেটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। অতঃপর সেখান দিয়ে আর কেউ প্রবেশ করবে না।”[1]



[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/৫-৬; সহীহুল বুখারী: ১৮৯৬; সহীহ মুসলিম: ১১৫২; নাসাঈ: ৪/১৬৮; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৯০২; বাগাবী: ১৭০৯; সুনানবাইহাকী: ৪/৩০৫; তিরমিযী: ৭৬৫; ইবনু মাজাহ: ১৬৪০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ২/৫৯-৬০)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «التعليق الرغيب» (2/ 95 - 60).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده على شرط البخاري









সহীহ ইবনু হিব্বান (3421)


3421 - أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْقَطَّانُ، بِالرَّافِقَةِ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْبَالِسِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ هِشَامٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فِي الْجَنَّةِ بَابٌ يُقَالُ لَهُ: الرَّيَّانُ، أُعِدَّ لِلصَّائِمِينَ، فَإِذَا دَخَلَ أُخْرَاهُمْ، أُغْلِقَ»
رقم طبعة با وزير = (3412)




সাহল বিন সা‘দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয়ই জান্নাতে একটি দরজা রয়েছে, সেটার নাম রাইয়ান। এটি সিয়াম পালনকারীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। অতঃপর যখন তাদের সর্বশেষ ব্যক্তি প্রবেশ করবে, তখন সেটি বন্ধ করে দেওয়া হবে।”[1]



[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/৫-৬; সহীহুল বুখারী: ১৮৯৬; সহীহ মুসলিম: ১১৫২; নাসাঈ: ৪/১৬৮; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৯০২; বাগাবী: ১৭০৯; সুনানবাইহাকী: ৪/৩০৫; তিরমিযী: ৭৬৫; ইবনু মাজাহ: ১৬৪০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ২/৫৯-৬০)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر ما قبله.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (3422)


3422 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: «كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ لَهُ إِلَّا الصِّيَامَ، وَالصِّيَامُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ، وَلَخُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ»
رقم طبعة با وزير = (3413)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আদম সন্তানের প্রতিটি আমল তার নিজের জন্য, শুধু সিয়াম ব্যতীত। সিয়াম আমার জন্য। আর আমি নিজেই সেটার প্রতিদান দিবো। সিয়াম পালনকারী ব্যক্তির মুখের ঘ্রাণ আল্লাহর নিকট মিসকের চেয়ে বেশি সুঘ্রাণময়।”[1]



[1] সহীহ মুসলিম: ১১৫১; নাসাঈ: ৪/১৬২-১৬৩; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৮৯৬; মুসনাদ আহমাদ: ২/২৭৩; সহীহুল বুখারী: ১৯০৪। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ২৪০৭)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: م.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين









সহীহ ইবনু হিব্বান (3423)


3423 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ تَسْنِيمٍ كُوفِيٌّ ثَبْتٌ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ الْبُرْسَانِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عَطَاءٌ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ الزَّيَّاتِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ لَهُ إِلَّا الصِّيَامَ فَهُوَ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ، وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَخُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ، لِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ: إِذَا أَفْطَرَ فَرِحَ بِفِطْرِهِ، وَإِذَا لَقِيَ اللَّهَ فَرِحَ بِصَوْمِهِ»
رقم طبعة با وزير = (3414) [ص:211] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: شِعَارُ الْمُؤْمِنِينَ فِي الْقِيَامَةِ التَّحْجِيلُ بِوُضُوئِهِمْ فِي الدُّنْيَا فَرَقًا بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ سَائِرِ الْأُمَمِ، وَشِعَارُهُمْ فِي الْقِيَامَةِ بِصَوْمِهِمْ طِيبُ خُلُوفِهِمْ أَطْيَبُ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ لِيُعْرَفُوا بَيْنَ ذَلِكَ الْجَمْعِ بِذَلِكَ الْعَمَلِ نَسْأَلُ اللَّهَ بَرَكَةَ ذَلِكَ الْيَوْمِ




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আদম সন্তানের প্রতিটি আমল তার নিজের জন্য, শুধু সিয়াম ব্যতীত। সিয়াম আমার জন্য। আর আমি নিজেই সেটার প্রতিদান দিবো। ঐ সত্তার কসম, যার হাতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রাণ, অবশ্যই সিয়াম পালনকারী ব্যক্তির মুখের ঘ্রাণ আল্লাহর নিকট মিসকের চেয়ে বেশি সুঘ্রাণময়। সিয়াম পালনকারী ব্যক্তির দুটি খুশির মুহূর্ত রয়েছে। যখন সে ইফতার করে, তখন ইফতারের মাধ্যমে খুশি হয় আর যখন সে আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করবে, তখন সিয়াম পালন করার জন্য খুশি হয়ে যাবে।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “কিয়ামতের দিন মুমিন ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ চিহ্ন হবে দুনিয়াতে ওযূ করার কারণে ওযূর অঙ্গগুলো উজ্জ্বল হবে। এটি তাদেরকে অন্যান্য সমস্ত উম্মত থেকে আলাদা করবে। আর দুনিয়াতে তাদের সিয়াম রাখার কারণে কিয়ামতের দিন তাদের মুখের ঘ্রাণ মিসকের চেয়ে সুঘ্রাণময় হবে, যাতে তাদের সমস্ত উম্মত থেকে চেনা যায়। আমরা আল্লাহর কাছে সেই দিনের বারাকাহ প্রার্থনা করছি।”



[1] সহীহ মুসলিম: ১১৫১; নাসাঈ: ৪/১৬২-১৬৩; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৮৯৬; মুসনাদ আহমাদ: ২/২৭৩; সহীহুল বুখারী: ১৯০৪। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ২৪০৭)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح الإسناد.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (3424)


3424 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَرُوبَةَ الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ، بِحَرَّانَ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ ذَكْوَانَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «كُلُّ حَسَنَةٍ يَعْمَلُهَا ابْنُ آدَمَ بِعَشْرِ حَسَنَاتٍ إِلَى سَبْعِ مِائَةِ ضِعْفٍ، يَقُولُ اللَّهُ: إِلَّا الصَّوْمَ فَهُوَ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ، يَدَعُ الطَّعَامَ مِنْ أَجْلِي، وَالشَّرَابَ مِنْ أَجْلِي، وَشَهْوَتَهُ مِنْ أَجْلِي، وَأَنَا أَجْزِي بِهِ، وَلِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ: فَرْحَةٌ حِينَ يُفْطِرُ، وَفَرْحَةٌ حِينَ يَلْقَى رَبَّهُ، وَلَخُلُوفِ فَمِ الصَّائِمِ حِينَ يَخْلُفُ مِنَ الطَّعَامِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ»
رقم طبعة با وزير = (3415)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আদম সন্তান যে কোন ভালো কাজ করলে তা ১০ গুণ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত সাওয়াব হয়। আল্লাহ বলেন, “তবে সিয়াম ব্যতীত। এটা আমার জন্য আর আমি নিজে সেটার প্রতিদান দিবো। সে আমার জন্য খাবার, আমার জন্য পানীয়, আমার জন্য প্রবৃত্তির চাহিদামূলক কাজসমূহ পরিহার করে, আর আমি নিজেই সেটার প্রতিদান দিবো। সিয়াম পালনকারী ব্যক্তির দুটি খুশির মুহূর্ত রয়েছে। একটি খুশির মুহূর্ত হলো যখন সে ইফতার করে আর আরেক খুশি যখন সে তার প্রভুর সাথে সাক্ষাত করবে। সিয়াম পালনকারী ব্যক্তি যখন খাবার ছেড়ে দেয়, তখন তার মুখের ঘ্রাণ, মিসকের চেয়ে বেশি সুঘ্রাণময় হয়।”[1]



[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/৫; মুসনাদ আহমাদ: ২/৪৪৩; সহীহ মুসলিম: ১১৫১; ইবনু মাজাহ: ১৬৩৮; সুনান বাইহাকী: ৪/৩০৪; বাগাবী: ১৭১০; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৭৮৯৩; সহীহুল বুখারী: ৭৪৯২; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৮৯৭; নাসাঈ: ৪/১৬৪; মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/৩১০; আত তায়ালিসী: ২৪৮৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ ‍বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহুত তারগীব: ৯৬৯)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح الترغيب» (969).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما









সহীহ ইবনু হিব্বান (3425)


3425 - أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا [ص:212] يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا مَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُونَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي يَعْقُوبَ، عَنْ رَجَاءِ بْنِ حَيْوَةَ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، قَالَ: أَنْشَأَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَيْشًا، فَأَتَيْتُهُ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، ادْعُ اللَّهَ لِي بِالشَّهَادَةِ، قَالَ: «اللَّهُمَّ سَلِّمْهُمْ وَغَنِّمْهُمْ»، فَغَزَوْنَا فَسَلِمْنَا وَغَنِمْنَا، حَتَّى ذَكَرَ ذَلِكَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، قَالَ: ثُمَّ أَتَيْتُهُ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنِّي أَتَيْتُكَ تَتْرَى ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، أَسْأَلُكَ أَنْ تَدْعُوَ لِي بِالشَّهَادَةِ، فَقُلْتَ: «اللَّهُمَّ سَلِّمْهُمْ وَغَنِّمْهُمْ» فَسَلِمْنَا وَغَنِمْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَمُرْنِي بِعَمَلٍ أَدْخُلُ بِهِ الْجَنَّةَ، فَقَالَ: «عَلَيْكَ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَا مِثْلَ لَهُ»، قَالَ: فَكَانَ أَبُو أُمَامَةَ لَا يُرَى فِي بَيْتِهِ الدُّخَانُ نَهَارًا إِلَّا إِذَا نَزَلَ بِهِمْ [ص:213] ضَيْفٌ، فَإِذَا رَأَوَا الدُّخَانَ نَهَارًا عَرَفُوا أَنَّهُ قَدِ اعْتَرَاهُمْ ضَيْفٌ
رقم طبعة با وزير = (3416) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: رَوَى هَذَا الْخَبَرَ مَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُونَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي يَعْقُوبَ، عَنْ رَجَاءِ بْنِ حَيْوَةَ، وَرَوَاهُ شُعْبَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي يَعْقُوبَ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلَالٍ، عَنْ رَجَاءِ بْنِ حَيْوَةَ




আবূ উমামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার একটি সেনাবাহিনী প্রস্তুত করেন। অতঃপর আমি তাঁর কাছে এসে বললাম, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আপনি আমার জন্য শাহাদাতের দুআ করুন।” তখন তিনি বলেন, “হে আল্লাহ, আপনি তাদেরকে নিরাপদ রাখুন এবং তাদেরকে গনীমত দান করুন।” অতঃপর আমরা যুদ্ধ করে নিরাপদ থাকি এবং গনীমত লাভ করি। এভাবে তিনি তিনবার এটা উল্লেখ করেন। রাবী বলেন, “তারপর আমি তাঁর কাছে এসে বলি, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমি আপনার কাছে পরপর তিনবার এসে আপনার কাছে চেয়েছিলাম যে, আপনি আমার জন্য শাহাদাতের দুআ করবেন। কিন্তু আপনি বলেছেন, “হে আল্লাহ, আপনি তাদেরকে নিরাপদ রাখুন এবং তাদেরকে গনীমত দান করুন।” অতঃপর আমরা যুদ্ধ করে নিরাপদ থাকি এবং গনীমত লাভ করি। হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আপনি আমাকে এমন একটি আমলের আদেশ করুন, যার বদৌলতে আমি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবো।” তখন তিনি বলেন, “তুমি সিয়াম পালন করো। কেননা এর সমতুল্য কোন আমল নেই।” অধঃস্তন রাবী বলেন, “তারপর আবূ উমামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর বাড়িতে মেহমান না আসলে দিনে ধোঁয়া দেখা যেতো না। কাজেই যখন দিনে তাদের বাড়িতে ধোঁয়া দেখা যেতো, তখন লোকজন বুঝতে পারতেন যে, তাঁদের বাড়িতে কোন মেহমান এসেছেন!”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই হাদীসটি মাহদী বিন মাইমূন, মুহাম্মাদ বিন আবী ইয়াকূব থেকে, তিনি রাজা বিন হাইওয়াহ থেকে বর্ণনা করেছেন। আর ইমাম শু‘বাহ রহিমাহুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আবী ইয়াকূব থেকে, তিনি হুমাইদ বিন হিলাল থেকে, তিন রাজা বিন হাইওয়াহ থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।”



[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/৫; মুসনাদ আহমাদ: ৫/২৫৫, ২৫৮; নাসাঈ: ৪/১৬৫; তাবারানী: ৭৪৬৩; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৭৮৯৯। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীক আলাল মুখতারাহ: ২১)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «التعليق على «المختارة»» تحت الحديث (21).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (3426)


3426 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَرُوبَةَ، بِحَرَّانَ، حَدَّثَنَا بُنْدَارٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي يَعْقُوبَ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا نَصْرٍ الْهِلَالِيَّ، عَنْ رَجَاءِ بْنِ حَيْوَةَ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، دُلَّنِي عَلَى عَمَلٍ، قَالَ: «عَلَيْكَ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَا عِدْلَ لَهُ»
رقم طبعة با وزير = (3417) [ص:214] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: أَبُو نَصْرٍ هَذَا هُوَ حُمَيْدُ بْنُ هِلَالٍ، وَلَسْتُ أُنْكِرُ أَنْ يَكُونَ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي يَعْقُوبَ سَمِعَ هَذَا الْخَبَرَ بِطُولِهِ، عَنْ رَجَاءِ بْنِ حَيْوَةَ، وَسَمِعَ بَعْضَهُ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلَالٍ، فَالطَّرِيقَانِ جَمِيعًا مَحْفُوظَانِ




আবূ উমামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমাকে একটি আমলের সন্ধান দিন।” তখন তিনি বলেন, “তুমি সিয়াম পালন করো। কেননা এর সমতুল্য কোন আমল নেই।” আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “হাদীসের একজন রাবী আবূ নাসর হলেন হুমাইদ বিন হিলাল। আমি এটা অস্বীকার করি না যে, মুহাম্মাদ বিন আবূ ইয়াকূব এই দীর্ঘ হাদীসটি রাজা বিন হাইওয়াহ থেকে শ্রবণ করেছেন। এবং হাদীসটির কিছু অংশ হুমাইদ বিন হিলাল থেকে শ্রবণ করেছেন। কাজেই দুটি সনদই মাহফূয তথা সহীহ।”[1]



[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৮৯৩; হাকিম: ১/৪২১; নাসাঈ: ৪/১৬৫-১৬৬) শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটির সানাদ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা'লীকাতুল হিসান: ৩৪১৭)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر ما قبله.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (3427)


3427 - أَخْبَرَنَا ابْنُ قُتَيْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: هَذَا مَا حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَذَكَرَ أَحَادِيثَ، وَقَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الصِّيَامُ جُنَّةٌ»
رقم طبعة با وزير = (3418)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বেশ কিছু হাদীস বর্ণনা করে বলেন, “এগুলো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “সিয়াম ঢাল স্বরুপ।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/৩১৩; সহীহ মুসলিম: ১১৫১; নাসাঈ: ৪/১৬২-১৬৩; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৮৯৬; মুসনাদ আহমাদ: ২/২৭৩; সহীহুল বুখারী: ১৯০৪। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ২০৪৬)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (2046): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (3428)


3428 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ سِنَانٍ، حَدَّثَنَا فَرَحُ بْنُ رَوَاحَةَ [ص:215] الْمَنْبِجِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، عَنْ سَعْدٍ الطَّائِيِّ، عَنْ أَبِي الْمُدِلَّةِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «ثَلَاثَةٌ لَا تُرَدُّ دَعْوَتُهُمُ: الصَّائِمُ حَتَّى يُفْطِرَ، وَالْإِمَامُ الْعَادِلُ، وَدَعْوَةُ الْمَظْلُومِ»
رقم طبعة با وزير = (3419) [ص:216] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: أَبُو الْمُدِلَّةِ: اسْمُهُ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، مَدَنِيٌّ ثِقَةٌ




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তিন শ্রেণির মানুষের দুআ ফেরত দেওয়া হয় না। সিয়াম পালনকারী (ব্যক্তির দুআ) যতক্ষন না ইফতার করেন, ন্যায়পরায়ন শাসক (এর দুআ) এবং মাযলূমের দুআ।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আবুল মুদিল্লাহ রাবীর নাম উবাইদুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ মাদানী। তিনি একজন নির্ভরযোগ্য রাবী।”



[1] আত তায়ালিসী: ২৫৮৪; মুসনাদ আহমাদ: ২/৩০৫; সুনান বাইহাকী: ৩/৩৪৫; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/৬-৭; তিরমিযী: ৩৫৯৮; ইবনু মাজাহ: ১৭৫২; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৯০১; বাগাবী: ১৩৯৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। (যঈফা: ১৩৫৮)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف - «الضعيفة» (1358)، «الصحيحة» (1797).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: Null









সহীহ ইবনু হিব্বান (3429)


3429 - أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ، حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ، عَنْ يَحْيَى الْقَطَّانِ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنِي عَطَاءٌ، عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «مَنْ فَطَّرَ صَائِمًا كُتِبَ لَهُ مِثْلَ أَجْرِهِ، لَا يَنْقُصُ مِنْ أَجْرِهِ شَيْءٌ»
رقم طبعة با وزير = (3420)




যাইদ বিন খালিদ আল জুহানী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোন সিয়াম পালনকারীকে ইফতার করায়, তার জন্য সিয়াম পালনকারীর সমপরিমাণ সাওয়াব লিখে দেওয়া হয়। এতে সিয়াম পালনকারীর সাওয়াবের কোন কমতি হবে না।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ৪/১১৪-১১৫; দারেমী: ২/৭; তিরমিযী: ৮০৭; ইবনু মাজাহ: ১৭৪৬; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২০৬৪; তাবারানী: ৫২৭৩; বাগাবী: ১৮১৮; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৭৯০৫; ইবনু মাজাহ: ১৭৪৬; বাগাবী: ১৮১৯। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ২/৯৫)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «التعليق الرغيب» (2/ 95)، «أحاديث البيوع».




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (3430)


3430 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ [ص:217] حَبِيبِ بْنِ زَيْدٍ الْأَنْصَارِيِّ، قَالَ: سَمِعْتُ مَوْلَاةً لَنَا يُقَالُ لَهَا لَيْلَى، تُحَدِّثُ عَنْ أُمِّ عُمَارَةَ بِنْتِ كَعْبٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ عَلَيْهَا فَدَعَتْ لَهُ بِطَعَامٍ، فَقَالَ: «تَعَالَيْ فَكُلِي»، فَقَالَتْ: إِنِّي صَائِمَةٌ، فَقَالَ: «إِنَّ الصَّائِمَ إِذَا أُكِلَ عِنْدَهُ صَلَّتْ عَلَيْهِ الْمَلَائِكَةُ»
رقم طبعة با وزير = (3421)




উম্মু উমারাহ বিনতু কা‘ব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার তার কাছে আসলে, তিনি তাঁর জন্য খাবার আনতে বলেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বলেন, “আসো, তুমিও খাও।” জবাবে তিনি বলেন, “আমি সিয়াম রেখেছি। ”তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “সিয়াম পালনকারী ব্যক্তির নিকট যখন খাবার খাওয়া হয়, তখন ফেরেস্তাগণ তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকেন।”[1]



[1] মুসনাদু আলী বিন জা‘দ: ৮৯৯; মুসনাদ আবী ইয়ালা: ২/৩৩১; বাগাবী, শারহুস ‍সুন্নাহ: ১৮১৭; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৭৯১১; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/৮৬; দারেমী: ২/৭; মুসনাদ আহমাদ: ৬/৪৩৯; তিরমিযী: ৭৮৫; ইবনু মাজাহ: ১৭৪৮; সুনান বাইহাকী: ৪/৩০৫। হাদীসটির ব্যাপারে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ স্পষ্ট কোন মন্তব্য করেননি। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। (যঈফা: ১৩৩২)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف - «الضعيفة» (1332).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: Null









সহীহ ইবনু হিব্বান (3431)


3431 - أَخْبَرَنَا شَبَابُ بْنُ صَالِحٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا خَالِدٌ، عَنْ خَالِدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «شَهْرَا عِيدٍ لَا يَنْقُصَانِ: رَمَضَانُ وَذُو الْحِجَّةِ»
رقم طبعة با وزير = (3422)




আবু বাকরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “ঈদের দুই মাস অর্থাৎ রমযান ও ‍যিলহ্জ্জ মাসে (সাওয়াবের) কোন কমতি হয় না।”[1]



[1] মুসনাদ আত তায়ালিসী: ৮৬৩; মুসনাদ আহমাদ: ৫/৪৭; শারহু মা‘আনিল আসার: ২/৫৮; সহীহ আল বুখারী: ১৯১২; সহীহ মুসলিম: ১০৮৯; সুনান বাইহাকী: ৪/২৫০; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ১৭১৭। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবু দাউদ: ২০১২)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق - مضى إسناده ومتنه (325).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم