সহীহ ইবনু হিব্বান
3392 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ الرَّجُلَ يَأْتِينِي مِنْكُمْ لَيَسْأَلَنِي فَأُعْطِيهِ، فَيَنْطَلِقُ وَمَا يَحْمِلُ فِي حِضْنِهِ إِلَّا النَّارَ»
رقم طبعة با وزير = (3383)
জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয়ই তোমাদের মাঝে কোন ব্যক্তি আমার কাছে এসে সাহায্য চায়, অতঃপর আমি তাকে প্রদান করি। তারপর সে চলে যায়। অথচ তার কোলে জাহান্নামের আগুন ছাড়া কিছুই বহন করে না।”[1]
[1] আবদ বিন হুমাইদ: ১১১৩; ইমাম সুয়ূতী, আল জামিউল কাবীর: ১/১৯৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ২/৮)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «التعليق» -أيضا- (2/ 8).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما
3393 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ: [ص:187] حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ الْقَعْقَاعِ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَمَنْ سَأَلَ النَّاسَ مِنْ أَمْوَالِهِمْ فَإِنَّمَا يَسْأَلُ جَمْرًا، فَلْيَسْتَقِلَّ مِنْهُمْ أَوْ لِيَسْتَكْثِرْ»
رقم طبعة با وزير = (3384)
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি মানুষের সম্পদ চেয়ে নেয়, বস্তুত সে আগুনের অঙ্গার চেয়ে নেয়। কাজেই সে চাইলে তা বেশি করুক, অথবা কম করুক।”[1]
[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/২০৮-২০৯; ইবনু মাজাহ: ১৮৩৮; মুসনাদ আহমাদ: ২/২৩১; সহীহ মুসলিম: ১০৪১; মুসনাদ আশ শিহাব: ৫২৫; সুনান বাইহাকী: ৪/১৯৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩৩৮৪)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: م.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما
3394 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُكْرَمٍ الْبِرْتِيُّ، بِبَغْدَادَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ يَزِيدَ بْنَ جَابِرٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي رَبِيعَةُ بْنُ يَزِيدَ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو كَبْشَةَ السَّلُولِيُّ، أَنَّهُ سَمِعَ سَهْلَ بْنَ الْحَنْظَلِيَّةِ صَاحِبَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَنَّ الْأَقْرَعَ وَعُيَيْنَةَ سَأَلَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَيْئًا، فَأَمَرَ مُعَاوِيَةَ أَنْ يَكْتُبَ بِهِ لَهُمَا، وَخَتَمَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَأَمَرَ بِدَفْعِهِ إِلَيْهِمَا، فَأَمَّا عُيَيْنَةَ فَقَالَ: مَا فِيهِ؟، فَقَالَ: فِيهِ الَّذِي أَمَرْتَ بِهِ، فَقَبَّلَهُ وَعَقْدَهُ فِي عِمَامَتِهِ، وَكَانَ أَحْلَمَ الرَّجُلَيْنِ، وَأَمَّا الْأَقْرَعُ فَقَالَ: أَحْمِلُ صَحِيفَةً [ص:188] لَا أَدْرِي مَا فِيهَا كَصَحِيفَةِ الْمُتَلَمِّسِ، فَأَخْبَرَ مُعَاوِيَةُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقَوْلِهِمَا، وَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي حَاجَتِهِ، فَمَرَّ بِبَعِيرٍ مُنَاخٍ عَلَى بَابِ الْمَسْجِدِ فِي أَوَّلِ النَّهَارِ، ثُمَّ مَرَّ بِهِ فِي آخِرِ النَّهَارِ، وَهُوَ فِي مَكَانِهِ، فَقَالَ: «أَيْنَ صَاحِبُ هَذَا الْبَعِيرِ»، فَابْتُغِيَ فَلَمْ يُوجَدْ، فَقَالَ: «اتَّقُوا اللَّهَ فِي هَذِهِ الْبَهَائِمِ، ارْكَبُوهَا صِحَاحًا، وَكُلُوهَا سِمَانًا، كَالْمُتَسَخِّطِ آنِفًا، إِنَّهُ مَنْ سَأَلَ شَيْئًا وَعِنْدَهُ مَا يُغْنِيهِ فَإِنَّمَا يَسْتَكْثِرُ مِنْ جَمْرِ جَهَنَّمَ»، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَمَا يُغْنِيهِ؟، قَالَ: «مَا يُغَدِّيهِ، أَوْ يُعَشِّيهِ»
رقم طبعة با وزير = (3385) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: قَوْلُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا يُغَدِّيهِ، أَوْ يُعَشِّيهِ»، أَرَادَ بِهِ عَلَى دَائِمِ الْأَوْقَاتِ حَتَّى يَكُونَ مُسْتَغْنِيًا بِمَا عِنْدَهُ، أَلَا تَرَاهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فِي خَبَرِ أَبِي هُرَيْرَةَ: «لَا تَحِلُّ الصَّدَقَةُ لِغَنِيٍّ، وَلَا لِذِي مِرَّةٍ سَوِيٍّ» فَجَعَلَ الْحَدَّ الَّذِي تَحْرُمُ الصَّدَقَةُ عَلَيْهِ بِهِ هُوَ الْغِنَى عَنِ النَّاسِ، وَبِيَقِينٍ نَعْلَمُ أَنَّ وَاجِدَ الْغَدَاءِ أَوِ الْعِشَاءِ لَيْسَ مِمَّنِ اسْتَغْنَى عَنْ غَيْرِهِ حَتَّى تَحْرُمَ عَلَيْهِ الصَّدَقَةُ، عَلَى أَنَّ الْخِطَابَ وَرَدَ فِي هَذِهِ الْأَخْبَارِ بِلَفْظِ الْعُمُومِ، وَالْمُرَادُ مِنْهُ صَدَقَةُ الْفَرِيضَةِ دُونَ التَّطَوُّعِ
সাহল বিন হানযালাহ আল আনসারী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই ‘উআইনা এবং আকরা‘রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে কিছু সাহায্য চান। ফলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মু‘আবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে আদেশ করেন, তাদের জন্য অনুদান লিখে দিতে। মু‘আবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাই করেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাতে সীল মোহর মেরে দেন এবং সেটি তাদেরকে প্রদান করার নির্দেশ দেন। অতঃপর ‘উআইনা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু জিজ্ঞেস করেন, “এতে কী রয়েছে?” মু‘আবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আমাকে যা লিখে দেওয়ার আদেশ করা, এতে তাই রয়েছে।” অতঃপর ‘উআইনা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তা গ্রহণ করেন এবং সেটি তাঁর পাগড়ীর সাথে বেঁধে নেন। তিনি তাদের মাঝে বেশি ধৈর্যশীল ছিলেন। আর আকরা‘ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আমি কি মুতালামমিসের চিঠির মতো[1] এমন চিঠি বহন করে নিয়ে যাবো, যেখানে আমি জানি না যে, সেখানে কী রয়েছে?” তারপর মু‘আবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাদের উভয়ের কথা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে বর্ণনা করেন। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর কোন এক প্রয়োজনে বের হলেন। এসময় তিনি একটি উটের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন, যা মসজিদে নববীর দরজার পাশে দিনের প্রথম প্রহরে বাঁধা ছিল। তারপর তিনি দিনের শেষ ভাগে আবার সেখান দিয়ে অতিক্রম করেন, সেসময়ও উটটি সেই অবস্থাতেই ছিল। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “এই উটের মালিক কোথায়?”অতঃপর তাকে খোঁজা হলো কিন্তু পাওয়া গেলো না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “তোমরা এসব চতুষ্পদ প্রাণীর ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করবে। সুস্থ অবস্থায় তোমরা এদের উপর আরোহন করবে এবং মোটা-তাজা অবস্থায় (জবেহ করে গোসত) ভক্ষন করবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেন গোস্বা অবস্থায় বলেন: “নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি মানুষের কাছে সাহায্য চায়, অথচ তার কাছে এই পরিমাণ সম্পদ আছে, যা দিয়ে মানুষের কাছে চাওয়া থেকে অমুখাপেক্ষী থাকতে পারে, তবে সে ব্যক্তি (এর মাধ্যমে) জাহান্নামের অঙ্গার বৃদ্ধি করে নেয়। রাবী বলেন: “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, কী পরিমাণ সম্পদ থাকলে, একজন ব্যক্তি মানুষের কাছে চাওয়া থেকে অমুখাপেক্ষী থাকতে পারে?” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “ যখন তার কাছে সকাল ও সন্ধার খাবার মজুদ থাকে।”[2] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “যখন তার কাছে সকাল ও সন্ধার খাবার মজুদ থাকে” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সব সময় দুই বেলা খাবার থাকে, এভাবে সে অন্যের কাছে চাওয়া থেকে মুখাপেক্ষীহীন থাকে। তুমি কি দেখো না যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসে বলেছেন, “ধনী ও সুস্থ-সবল মানুষের জন্য সাদাকাহ বৈধ নয়।” এখানে তিনি সাদাকাহ হারাম হওয়ার জন্য যে সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন, সেটা হলো মানুষের থেকে মুখাপেক্ষীহীন থাকা। আর এটা আমরা নিশ্চিতভাবেই জানি যে, সকাল ও রাতের খাবার প্রাপ্ত ব্যক্তি অন্যের থেকে মুখাপেক্ষীহীন নয় যে, তার উপর সাদাকাহ হারাম হবে। বস্তুত এসব হাদীসে বক্তব্য আমভাবে বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ফরয সাদাকাহ; নফল সাদাকাহ নয়।”
[1] মুতালামমিস হিরাতের একজন কবি ছিলেন।তিনি সেখানে কাবূস বিন হিনদ ও আমর বিন হিনদের কাছে দীর্ঘদিন অবস্থান করার ফলে বিরক্তি বোধ করেন। ফলে তিনি তাদের কাছে বাহরাইনে যাওয়ার অনুমতি চান। তারা তাকে অনুমতি দেন এবং তার হাতে বাহরাইনের গভর্ণরের উদ্দেশ্যে একটি চিঠি দেন। অতঃপর তিনি নাজাফ নামক জায়গায় পৌঁছে চিঠির বিষয়বস্তু জানার জন্য আগ্রহী হন। অতঃপর তিনি ভালো পড়তে জানে এরকম এক গোলামকে চিঠিটি পড়তে বলেন। অতঃপর তিনি দেখেন যে, সেখানে বাহরাইনের গভর্ণরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাকে হত্যা করার জন্য! অতঃপর তিনি চিঠিটি পানিতে ছুড়ে ফেলে দেন। এবং একটি কবিতা আবৃতি করেন। এরপর থেকে এটি আরবে উপমা হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে।
[2] মুসনাদ আহমাদ: ৪/১৮০, ১৮১; আবু দাউদ: ১৬২৯; তাবারানী, আল কাবীর: ৫৬২০। হাদীসটিকে শায়খ শু‘আইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবু দাউদ: ১৪৪১।)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1441).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح
3395 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ [ص:189] إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَارُونَ بْنِ رِئَابٍ، عَنْ كِنَانَةَ الْعَدَوِيِّ، قَالَ: كُنْتُ عِنْدَ قَبِيصَةَ بْنِ الْمُخَارِقِ فَاسْتَعَانَ بِهِ نَفَرٌ مِنْ قَوْمِهِ فِي نِكَاحِ رَجُلٍ مِنْ قَوْمِهِ، فَأَبَى أَنْ يُعْطِيَهُمْ شَيْئًا، فَانْطَلَقُوا مِنْ عِنْدِهِ، قَالَ كِنَانَةُ: فَقُلْتُ لَهُ: أَنْتَ سَيِّدُ قَوْمِكَ، وَأَتَوْكَ يَسْأَلُونَكَ، فَلَمْ تُعْطِهِمْ شَيْئًا، قَالَ: أَمَّا فِي هَذَا، فَلَا أُعْطِي شَيْئًا، وَسَأُخْبِرُكَ عَنْ ذَلِكَ، تَحَمَّلْتُ بِحَمَالَةٍ فِي قَوْمِي، فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَخْبَرْتُهُ وَسَأَلْتُهُ أَنْ يُعِينَنِي، فَقَالَ: «بَلْ نَحْمِلُهَا عَنْكَ يَا قَبِيصَةُ، وَنُؤَدِّيهَا إِلَيْهِمْ مِنْ إِبِلِ الصَّدَقَةِ»، ثُمَّ قَالَ: «إِنَّ الْمَسْأَلَةَ لَا تَحِلُّ إِلَّا لِثَلَاثٍ: رَجُلٍ تَحَمَّلَ حَمَالَةً، فَقَدْ حَلَّتْ لَهُ حَتَّى يُؤَدِّيَهَا، أَوْ رَجُلٍ أَصَابَتْهُ جَائِحَةٌ فَاجْتَاحَتْ مَالَهُ حَتَّى يُصِيبَ قِوَامًا مِنْ عَيْشٍ أَوْ سِدَادًا مِنْ عَيْشٍ، وَرَجُلٍ أَصَابَتْهُ فَاقَةٌ فَشَهِدَ لَهُ ثَلَاثَةٌ مِنْ ذَوِي الْحِجَا مِنْ قَوْمِهِ أَنْ قَدْ حَلَّتْ لَهُ الْمَسْأَلَةُ، فَقَدْ حَلَّتْ لَهُ حَتَّى يُصِيبَ قِوَامًا مِنْ عَيْشٍ، أَوْ سِدَادًا مِنْ عَيْشٍ، وَالْمَسْأَلَةُ فِيمَا سِوَى ذَلِكَ سُحْتٌ»
رقم طبعة با وزير = (3386) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: قَوْلُهُ «وَالْمَسْأَلَةُ فِيمَا سِوَى ذَلِكَ سُحْتٌ» أَرَادَ بِهِ أَنَّ الْمَسْأَلَةَ فِي سِوَى هَذِهِ الْأَشْيَاءِ الثَّلَاثَةِ مِنَ السُّلْطَانِ عَنْ فَضْلِ حِصَّتِهِ مِنْ بَيْتِ الْمَالِ سُحْتٌ، لِأَنَّ الْمَسْأَلَةَ فِي غَيْرِ هَذِهِ الْخِصَالِ الثَّلَاثَةِ مِنْ غَيْرِ السُّلْطَانِ عَنْ غَيْرِ بَيْتِ مَالِ الْمُسْلِمِينَ تَكُونَ سُحْتًا إِذَا كَانَ الْإِنْسَانُ غَيْرَ مُسْتَغْنٍ بِمَا عِنْدَهُ
কিনানাহ আল আদাবী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি একবার কবীসাহ বিন মুখারিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর কাছে ছিলাম। এমন সময় তার কওমের কিছু লোক এক ব্যক্তির বিবাহের জন্য তার কাছে সাহায্য চান। কিন্তু তিনি তাদেরকে কিছু সাহায্য করতে অস্বীকৃতি জানান। অতঃপর তারা সেখান থেকে চলে যান।” কিনানাহ আল আদাবী বলেন, “তখন আমি তাকে বললাম, “আপনি আপনার সম্প্রদায়ের নেতা। আর তারা আপনার কাছে সাহায্য চাইতে এসেছিলেন, কিন্তু আপনি তাদেরকে কিছুই দিলেন না!” তখন তিনি জবাবে বলেন, “এই ব্যাপারে আমি কোন কিছুই দিবো না। অচিরেই আমি এই সম্পর্কে তোমাকে হাদীস বলবো। একবার আমি আমার কওমের এক ব্যক্তির ঋণ পরিশোধ করার দায়িত্ব গ্রহণ করি। অতঃপর আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বিষয়টি তাঁকে অবহিত করি এবং তাঁর কাছে সাহায্য চাই। তখন তিনি বলেন, “হে কবীসা, বরং আমরা সেই ঋণ পরিশোধ করার দায়িত্ব তোমার থেকে আমরা গ্রহণ করে নিলাম। আমরা যাকাতের উট থেকে তা পরিশোধ করে দিবো। তারপর তিনি বলেন, “চাওয়া কেবল তিন শ্রেণির মানুষের জন্য বৈধ। (১) ঐ ব্যক্তি যে অন্যের ঋণ পরিশোধ করার দায়িত্ব নেয়। তবে তার জন্য তা পরিশোধ না করা পর্যন্ত মানুষের কাছে সাহায্য চাওয়া বৈধ (২) ঐ ব্যক্তি যাকে কোন দুর্যোগ পেয়ে বসে অতঃপর তার সম্পদ ধ্বংস হয়ে যায়। তবে তার জন্য সাহায্য চাওয়া বৈধ, যতদিন না তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন এবং (৩) যে ব্যক্তি দারিদ্র হয়ে পড়ে, অতঃপর তার কওমের তিনজন জ্ঞানী লোক তার ব্যাপারে সাক্ষ্য দেয়, তাহলে তার জন্য সাহায্য চাওয়া বৈধ, যতদিন না সে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে। এছাড়া অন্য কোন কারণে ভিক্ষা করা হারাম।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লামের বাণী “এছাড়া অন্য কোন কারণে ভিক্ষা করা হারাম” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, বাইতুল মাল থেকে তার প্রাপ্য অংশের অতিরিক্ত সম্পদ এই তিন কারণ ছাড়া মুসলিম শাসকের কাছে চাওয়া হারাম। কেননা বাইতুল ব্যতীত এবং শাসক ব্যতীত অন্যের কাছে সাহায্য চাওয়া হারাম হবে, যখন সে চাওয়া থেকে মুখাপেক্ষীহীন থাকবে।”
[1] মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ২০০৮; তাবারানী আল কাবীর: ১৮/৯৪৬; বাগাবী: ১৬২৫; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৪৭৭; হুমাইদী: ৮১৯; দারেমী: ১/৩৯৬; সহীহ মুসলিম: ১০৪৪; আবূ দাঊদ: ১৬৪০; নাসাঈ: ৫/৮৯; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২৩৫৯; ইবনুল জারুদ: ৩৬৭; তাহাবী: ২/১৭-১৮; তাবারানী: ২/১১৯-১২০; সুনান বাইহাকী: ৬/৭৩; দারাকুতনী: ২/১১৯। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (ইরওয়াউল গালীল: ৮৬৮)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1448): م.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم
3396 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا حَوْثَرَةُ بْنُ أَشْرَسَ الْعَدَوِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ هَارُونَ بْنِ رِئَابٍ، عَنْ كِنَانَةَ بْنِ نُعَيْمٍ الْعَدَوِيِّ، عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ مُخَارِقٍ الْهِلَالِيِّ، قَالَ: تَحَمَّلْتُ حَمَالَةً، فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَسْأَلُهُ مِنْهَا، فَقَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَقِمْ يَا قَبِيصَةُ حَتَّى تَجِيئَنَا الصَّدَقَةُ فَنَأْمُرَ لَكَ بِهَا»، ثُمَّ قَالَ: «يَا قَبِيصَةُ إِنَّ الْمَسْأَلَةَ لَا تَحِلُّ إِلَّا لِإِحْدَى ثَلَاثٍ: رَجُلٍ تَحَمَّلَ بِحَمَالَةٍ فَحَلَّتْ لَهُ الْمَسْأَلَةُ حَتَّى يُصِيبَهَا ثُمَّ يُمْسِكَ، وَرَجُلٍ أَصَابَتْهُ جَائِحَةٌ فَاجْتَاحَتْ مَالَهُ فَحَلَّتْ لَهُ الْمَسْأَلَةُ حَتَّى يُصِيبَ قِوَامًا مِنْ عَيْشٍ، أَوْ سِدَادًا مِنْ عَيْشٍ، وَرَجُلٍ أَصَابَتْهُ فَاقَةٌ حَتَّى يَقُولَ ثَلَاثَةٌ مِنْ ذَوِي الْحِجَا مِنْ قَوْمِهِ: لَقَدْ أَصَابَتْ فُلَانًا فَاقَةٌ، فَحَلَّتْ لَهُ الْمَسْأَلَةُ حَتَّى يُصِيبَ قِوَامًا مِنْ عَيْشٍ، أَوْ قَالَ: سِدَادًا مِنْ عَيْشٍ، وَمَا سِوَاهُنَّ مِنَ الْمَسْأَلَةِ سُحْتٌ يَأْكُلُهَا صَاحِبُهَا سُحْتًا»
رقم طبعة با وزير = (3387)
কবীসাহ বিন মুখারিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “একবার আমি আমার কওমের এক ব্যক্তির ঋণ পরিশোধ করার দায়িত্ব গ্রহণ করি। অতঃপর আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে তাঁর কাছে সাহায্য চাই। তখন তিনি বলেন, “হে কবীসা, দাঁড়াও, আমাদের কাছে সাদাকাহ আসলে সেখান থেকে তোমাকে দেওয়ার নির্দেশ দিবো।” তারপর তিনি বলেন, “হে কবীসা, চাওয়া কেবল তিন শ্রেণির মানুষের জন্য বৈধ। (১) ঐ ব্যক্তি যে অন্যের ঋণ পরিশোধ করার দায়িত্ব নেয়। তবে তার জন্য তা পরিশোধ না করা পর্যন্ত মানুষের কাছে সাহায্য চাওয়া বৈধ, (২) ঐ ব্যক্তি যাকে কোন দুর্যোগ পেয়ে বসে অতঃপর তার সম্পদ ধ্বংস হয়ে যায়। তবে তার জন্য সাহায্য চাওয়া বৈধ, যতদিন না তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন এবং (৩) যে ব্যক্তি দারিদ্র হয়ে পড়ে, অতঃপর তার কওমের তিনজন জ্ঞানী লোক তার ব্যাপারে সাক্ষ্য দেয়, তাহলে তার জন্য সাহায্য চাওয়া বৈধ, যতদিন না সে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে। এছাড়া অন্য কোন কারণে ভিক্ষা করা হারাম। এরকম সাহায্যপ্রার্থী হারাম ভক্ষন করে।”[1]
[1] মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ২০০৮; তাবারানী আল কাবীর: ১৮/৯৪৬; বাগাবী: ১৬২৫; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৪৭৭; হুমাইদী: ৮১৯; দারেমী: ১/৩৯৬; সহীহ মুসলিম: ১০৪৪; আবূ দাঊদ: ১৬৪০; নাসাঈ: ৫/৮৯; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২৩৫৯; ইবনুল জারুদ: ৩৬৭; তাহাবী: ২/১৭-১৮; তাবারানী: ২/১১৯-১২০; সুনান বাইহাকী: ৬/৭৩; দারাকুতনী: ২/১১৯। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (ইরওয়াউল গালীল: ৮৬৮)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: م - انظر ما قبله.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح
3397 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ سَعِيدٍ السَّعْدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا [ص:191] عَلِيُّ بْنُ خَشْرَمٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «إِنَّمَا الْمَسَائِلُ كُدُوحٌ يَكْدَحُ بِهَا الرَّجُلُ وَجْهَهُ، فَمَنْ شَاءَ أَبْقَى عَلَى وَجْهِهِ وَمَنْ شَاءَ تَرَكَ، إِلَّا أَنْ يَسْأَلَ ذَا سُلْطَانٍ أَوْ فِي أَمْرٍ لَا يَجِدُ مِنْهُ بُدًّا»
رقم طبعة با وزير = (3388)
সামুরাহ বিন জুনদুব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয়ই এই ভিক্ষাবৃত্তি হলো জখম, এর দ্বারা মানুষ নিজের চেহারায় জখম করে। কাজেই যে ব্যক্তি চায়, সে তার চেহারায় তা বহাল রাখুন আর যে চায় তা ছেড়ে দিক। তবে শাসকের কাছে চাওয়া ব্যতীত অথবা এমন অবস্থা ব্যতীত, যেখানে কোন ব্যক্তির কাছে এমন পরিস্থিতি নেমে আসে, যার কারণে তাকে অবধারিতভাবেই চাইতে হয়।”[1]
[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/২০৮; তিরমিযী: ৬৮১; নাসাঈ: ৫/১০০; তাবারানী: ৬৭৬৬; বাগাবী: ১৬২৪; মুসনাদ আহমাদ: ৫/১০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৪৪৭)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر (3377). تنبيه!! رقم (3377) = (3386) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح
3398 - أَخْبَرَنَا زَكَرِيَّا بْنُ يَحْيَى السَّاجِيُّ، بِالْبَصْرَةِ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ غِيَاثٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا أُرِيدُ أَنْ أَسْأَلَهُ، فَسَمِعْتُهُ يَخْطُبُ، وَهُوَ يَقُولُ: «مَنْ يَسْتَغْنِ يُغْنِهِ اللَّهُ، وَمَنْ [ص:192] يَسْتَعْفِفْ يُعِفُّهُ اللَّهُ، وَمَنْ سَأَلَنَا أَعْطَيْنَاهُ»، قَالَ: فَرَجَعْتُ وَلَمْ أَسْأَلْهُ، فَأَنَا الْيَوْمَ أَكْثَرُ الْأَنْصَارِ مَالًا
رقم طبعة با وزير = (3389)
আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে সাহায্য চাওয়ার জন্য আসি। অতঃপর আমি এসে তাঁকে খুতবায় বলতে শুনি, তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি মানুষের থেকে মুখাপেক্ষীহীন থাকতে চায়, আল্লাহ তাকে মুখাপেক্ষীহীন রাখেন, যে ব্যক্তি নিষ্কলুষ থাকতে চায়, আল্লাহ তাকে নিষ্কলুষ রাখেন আর যে ব্যক্তি আমার কাছে সাহায্য চাইবে, আমরা তাকে প্রদান করবো।” রাবী বলেন, “তারপর আমি তাঁর কাছে কোন কিছু না চেয়ে চলে আসি। আর আজ আমি আনসারদের মাঝে সবচেয়ে বেশি সম্পদশালী।”[1]
[1] আত তায়ালিসী: ২২১১; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/২১১; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৩; আবূ ইয়ালা: ১১২৯; নাসাঈ: ৫/৯৮। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৪৫১)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن - «صحيح أبي داود» (1451).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن
3399 - أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ دَاوُدَ بْنِ وَرْدَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ حَمَّادٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ عَجْلَانَ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ أَهْلَهُ شَكَوْا إِلَيْهِ الْحَاجَةَ، فَخَرَجَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيَسْأَلَهُ لَهُمْ شَيْئًا، فَوَافَقَهُ عَلَى الْمِنْبَرِ، وَهُوَ يَقُولُ: «أَيُّهَا النَّاسُ، قَدْ آنَ لَكُمْ أَنْ تَسْتَغْنُوا عَنِ الْمَسْأَلَةِ، فَإِنَّهُ مَنْ يَسْتَعْفِفْ يُعِفُّهُ اللَّهُ، وَمَنْ يَسْتَغْنِ يُغْنِهِ اللَّهُ، وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ مَا رُزِقَ عَبْدٌ شَيْئًا أَوْسَعَ مِنَ الصَّبْرِ، وَلَئِنْ أَبَيْتُمْ إِلَّا أَنْ تَسْأَلُونِي لَأُعْطِيَنَّكُمْ مَا وَجَدْتُ»
رقم طبعة با وزير = (3390)
আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, তার পরিবার একবার তার কাছে অভাবের অনুযোগ করেন। অতঃপর তিনি তাদের জন্য সাহায্য চাওয়ার জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসেন। অতঃপর তিনি তাকে মিম্বারের উপর দেখতে পান। এসময় তিনি বলছিলেন, “হে লোকসকল, তোমাদের জন্য সময় এসেছে চাওয়া থেকে বিরত থাকা। কেননা যে ব্যক্তি নিষ্কলুষ থাকতে চায়, আল্লাহ তাকে নিষ্কলুষ রাখবেন, আর যে ব্যক্তি মানুষের থেকে মুখাপেক্ষীহীন থাকতে চায়, আল্লাহ তাকে মুখাপেক্ষীহীন রাখবেন। ঐ সত্তার কসম, যার হাতে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর প্রাণ, কোন বান্দাকে সবরের চেয়ে প্রশস্ত রিযিক প্রদান করা হয় না। যদি তোমরা অগত্যা সাহায্য চাও, তবে আমি সাধ্য অনুযাযী প্রদান করবো।”[1]
[1] আত তায়ালিসী: ২২১১; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/২১১; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৩; আবূ ইয়ালা: ১১২৯; নাসাঈ: ৫/৯৮। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৪৫১)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن صحيح - انظر ما قبله.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن
3400 - أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِدْرِيسَ الْأَنْصَارِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ نَاسًا مِنَ الْأَنْصَارِ سَأَلُوا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَعْطَاهُمْ، ثُمَّ سَأَلُوهُ فَأَعْطَاهُمْ حَتَّى إِذَا نَفِدَ مَا عِنْدَهُ، قَالَ: «مَا يَكُنْ عِنْدِي مِنْ خَيْرٍ فَلَنْ أَدَّخِرَهُ عَنْكُمْ، وَمَنْ يَسْتَعْفِفْ يُعِفُّهُ اللَّهُ، وَمَنْ يَسْتَغْنِ يُغْنِهِ اللَّهُ، وَمَنْ يَتَصَبَّرْ يُصَبِّرْهُ اللَّهُ، وَمَا أُعْطِيَ أَحَدٌ عَطَاءً هُوَ خَيْرٌ وَأَوْسَعُ مِنَ الصَّبْرِ»
رقم طبعة با وزير = (3391)
আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “কিছু লোক রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে সাহায্য চান। অতঃপর তিনি তাদেরকে দান করেন। অতঃপর তাঁর কাছে যা ছিলো, যখন তা শেষ হয়ে যায়, তখন তিনি বলেন, “আমার কাছে যা থাকে, সেটা আমি তোমাদের না দিয়ে কখনই জমা করে রাখব না। আর যে ব্যক্তি নিষ্কলুষ থাকতে চায়, আল্লাহ তাকে নিষ্কলুষ রাখবেন, আর যে ব্যক্তি মানুষের থেকে মুখাপেক্ষীহীন থাকতে চায়, আল্লাহ তাকে মুখাপেক্ষীহীন রাখবেন। যে সবর করতে চায়, মহান আল্লাহ তাকে সবর করার তাওফীক দান করেন। আর কোন ব্যক্তিকে সবরের চেয়ে উত্তম ও প্রশস্ত কোন কিছু প্রদান করা হয় না।”[1]
[1] আত তায়ালিসী: ২২১১; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/২১১; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৩; আবূ ইয়ালা: ১১২৯; নাসাঈ: ৫/৯৮। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ২৩১৪)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (2314): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما
3401 - أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى بْنِ مُجَاشِعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، [ص:194] قَالَ: حَدَّثَنَا رَبِيعَةُ بْنُ يَزِيدَ الدِّمَشْقِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَامِرٍ الْيَحْصِبِيِّ، قَالَ: سَمِعْتُ مُعَاوِيَةَ، يَقُولُ عَلَى مِنْبَرِ دِمِشْقَ: إِيَّاكُمْ وَأَحَادِيثَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَّا حَدِيثًا كَانَ فِي عَهْدِ عُمَرَ، فَإِنَّ عُمَرَ كَانَ يُخِيفُ النَّاسَ فِي اللَّهِ، سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: «مَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ» وَسَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: «إِنَّمَا أَنَا خَازِنٌ، فَمَنْ أَعْطَيْتُهُ عَنْ طِيبِ نَفْسٍ يُبَارَكُ لَهُ فِيهِ، وَمَنْ أَعْطَيْتُهُ عَنْ مَسْأَلَةٍ، وَعَنْ شَرَهٍ كَانَ كَالَّذِي يَأْكُلُ وَلَا يَشْبَعُ»
رقم طبعة با وزير = (3392)
আব্দুল্লাহ বিন আমির আল ইয়াহসিবী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি মুআবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে দিমাশকের মিম্বারের উপর বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, “তোমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকবে। তবে সেসব হাদীস ব্যতীত, যেগুলো উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর শাসনামলে প্রচলিত ছিল। কেননা তিনি মানুষকে আল্লাহকে ভয় করার জন্য উৎসাহ দিতেন। আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, “আল্লাহর যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন।” আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আরো বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, “নিশ্চয়ই আমি একজন কোষাধ্যক্ষ মাত্র। কাজেই যাকে আমি খুশি মনে কিছু প্রদান করি, তাকে তাতে বারাকাহ দেওয়া হবে, আর যাকে আমি চাওয়ার কারণে এবং এর প্রতি লোভাতুর থাকার কারণে প্রদান করি, সে ঐ ব্যক্তির মতো, যে খায় কিন্তু পরিতৃপ্ত হয় না।”[1]
[1] সহীহ মুসলিম: ১০৩৭; মুসনাদ আহমাদ: ৪/৯৯। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ১১৯৪)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (1194 - 1196).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم
3402 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا فُلَيْحٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، وَسَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، أَنَّ حَكِيمَ بْنَ حِزَامٍ، قَالَ: سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَعْطَانِي، ثُمَّ سَأَلْتُهُ فَأَعْطَانِي ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا حَكِيمُ، إِنَّ هَذَا الْمَالَ حُلْوَةٌ خَضِرَةٌ، فَمَنْ أَخَذَهُ بِسَخَاوَةِ نَفْسٍ بُورِكَ لَهُ فِيهِ، وَمَنْ أَخَذَهُ بِإِشْرَافِ نَفْسٍ لَمْ يُبَارَكْ لَهُ فِيهِ، وَكَانَ [ص:195] كَالَّذِي يَأْكُلُ وَلَا يَشْبَعُ، وَالْيَدُ الْعُلْيَا أَخْيَرُ مِنَ الْيَدِ السُّفْلَى»، قَالَ حَكِيمٌ: فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ لَا أَرْزَأُ أَحَدًا بَعْدَكَ شَيْئًا حَتَّى أُفَارِقَ الدُّنْيَا
رقم طبعة با وزير = (3393)
হাকিম বিন হিযাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে কিছু চাইলে তিনি আমাকে কিছু প্রদান করেন। তারপর আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আবার কিছু চাই, তিনি আমাকে এভাবে তিনবার প্রদান করেন। তারপর তিনি বলেন, “হে হাকিম বিন হিযাম, নিশ্চয়ই এই সম্পদ সবুজ-শ্যামল সুমিষ্ট। যে ব্যক্তি তা নির্লোভ মনে গ্রহণ করে, তার জন্য তাতে বারাকাহ দেওয়া হয় আর যে ব্যক্তি তা লোভাতুর মনে গ্রহণ করবে, তার জন্য তাতে বারাকাহ দেওয়া হয় না এবং সে ব্যক্তি ঐ ব্যক্তির মতো, যে খায় কিন্তু পরিতৃপ্ত হয় না। আর নিচু হাত অপেক্ষা উঁচু হাত উত্তম।” হাকিম বিন হিযাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, ঐ সত্তার কসম, যিনি আপনাকে হকসহ পাঠিয়েছেন, আপনার পর আমি দুনিয়া ত্যাগ করা পর্যন্ত আর কারো কাছে কোন কিছু চাইবো না।”[1]
[1] নাসাঈ: ৫/১০১-১০২; তাবারানী: ৩০৮৩; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ২০০৪১; সহীহুল বুখারী: ১৪৭২; তিরমিযী: ২৪৬৩; দারেমী: ১/৩৮৮; সুনান বাইহাকী: ৪/১৯৬; বাগাবী: ১৬১৯; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৪০৩। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩২১০)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «البيوع»: ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: صحيح
3403 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلْمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، أَنَّ بَكْرَ بْنَ سَوَادَةَ حَدَّثَهُ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ يَزِيدَ الْمَعَافِرِيَّ حَدَّثَهُ، عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ ذُؤَيْبٍ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، أَعْطَى ابْنَ السَّعْدِيِّ أَلْفَ دِينَارٍ فَأَبَى أَنْ يَقْبَلَهَا، وَقَالَ: أَنَا عَنْهَا غَنِيٌّ، فَقَالَ لَهُ عُمَرُ: إِنِّي قَائِلٌ لَكَ مَا قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا سَاقَ اللَّهُ إِلَيْكَ رِزْقًا مِنْ غَيْرِ مَسْأَلَةٍ، وَلَا إِشْرَافِ نَفْسٍ فَخُذْهُ، فَإِنَّ اللَّهَ أَعْطَاكَهُ»
رقم طبعة با وزير = (3394)
কাবীসা বিন যুআইব (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই উমার বিন খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ইবনুস সা‘দীকে অনুদান হিসেবে এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা প্রদান করেন। কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি প্রদান করেন এবং বলেন, “আমার এর কোন প্রয়োজন নেই।” তখন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাকে বলেন, “আমি তোমাকে তা-ই বলবো, যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছিলেন, তিনি আমাকে বলেছিলেন, “যখন আল্লাহ তোমার কাছে কোন জীবিকা পাঠাবেন, যা তুমি চাওনি এবং এই ব্যাপারে তোমার কোন লোভ না থাকে, তবে তা গ্রহণ করবে। কেননা আল্লাহই এটি তোমাকে প্রদান করেছেন।”[1]
[1] মুসনাদ আবূ ইয়ালা: ৯২৫; মুসনাদ আহমাদ: ৪/৩২০-৩২১; হাকিম: ২/৬২; হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ: ৩/১০০। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাউদ ১৪৫৩)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1453).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم
3404 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّوْرَقِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْمُقْرِئُ، قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو الْأَسْوَدِ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْأَشَجِّ، عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، [ص:196] عَنْ خَالِدِ بْنِ عَدِيٍّ الْجُهَنِيِّ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: «مَنْ بَلَغَهُ مَعْرُوفٌ عَنْ أَخِيهِ مِنْ غَيْرِ مَسْأَلَةٍ وَلَا إِشْرَافِ نَفْسٍ فَلْيَقْبَلْهُ، وَلَا يَرُدَّهُ، فَإِنَّمَا هُوَ رِزْقٌ سَاقَهُ اللَّهُ إِلَيْهِ»
رقم طبعة با وزير = (3395) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: هَذَا الْأَمْرُ الَّذِي أُمِرْنَا بِاسْتِعْمَالِهِ هُوَ أَخْذُ مَا أُعْطِيَ الْمَرْءُ، وَالشَّيْئَانِ الْمَعْلُومَانِ الَّذِي أُبِيحَ لَهُ ذَلِكَ عِنْدَ عَدَمِهِمَا هُوَ الْمَسْأَلَةُ وَإِشْرَافُ النَّفْسِ، فَإِنْ وُجِدَ أَحَدُهُمَا فِي الْغَنِيِّ الْمُسْتَقِلِّ بِمَا عِنْدَهُ زُجِرَ عَنْ أَخْذِ مَا أُعْطِيَ دُونَ الْفُقَرَاءِ الْمُضْطَرِّينَ، وَالتَّارَةُ الَّتِي يُبَاحُ فِيهَا أَخْذُ مَا أُعْطِيَ الْمَرْءُ، وَإِنْ وُجِدَ فِيهِ الْمَسْأَلَةُ وَإِشْرَافُ النَّفْسِ هِيَ حَالَةُ الِاضْطِرَارِ، وَالِاضْطِرَارُ عَلَى ضَرْبَيْنِ: اضْطِرَارٌ بِجِدَةٍ، وَاضْطِرَارٌ بِعُدْمٍ، وَالِاضْطِرَارُ الَّذِي يَكُونُ بِجِدَةٍ هُوَ أَنْ يَمْلِكَ الْمَرْءُ الشَّيْءَ الْكَثِيرَ مِنْ حُطَامِ هَذِهِ الدُّنْيَا سِوَى الْمَأْكُولِ وَالْمَشْرُوبِ، وَهُوَ فِي مَوْضِعٍ لَا يُبَاعُ فِيهِ الطَّعَامُ وَالشَّرَابُ أَصْلًا، فَهُوَ وَإِنْ كَانَ وَاجِدًا حُكْمُهُ حُكْمُ الْمُضْطَرِّ، لَهُ أَخْذُ مَا أُعْطِيَ، وَإِنْ كَانَ سَائِلًا أَوْ مُشْرِفَ النَّفْسِ إِلَيْهِ، وَاضْطِرَارُ الْعُدْمِ هُوَ وَاضِحٌ لَا يَحْتَاجُ إِلَى الْكَشْفِ عَنْهُ
খালিদ বিন আদী আল জুহানী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, “ মনের লোভ ও চাওয়া ছাড়া যে ব্যক্তির কাছে তার ভাইয়ের পক্ষ থেকে কোন অনুদান আসে, তবে সে যেন তা গ্রহণ করে এবং তা ফেরত না দেয়। কেননা নিশ্চয়ই এটা আল্লাহ প্রদত্ত রিযিক, যা তিনি তার কাছে পাঁঠিয়েছেন।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এখানে আমাদেরকে যা আদেশ করা হয়েছে, তা হলো কোন মানুষকে কোন কিছু প্রদান করা হলে, তা গ্রহণ করা। আর এটি বৈধ হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট দুটি জিনিস থাকা যাবে না। সেগুলো হলো চাওয়া ও লোভ। কাজেই কোন স্বাবলম্বী ধনীর মাঝে এই দুটির যে কোন একটি পাওয়া যায়, তবে তার জন্য প্রদত্ত জিনিস গ্রহণ করা নিষেধ। এটি নিরুপায় দরিদ্র লোকদের জন্য প্রযোজ্য নয়। আবার বাধ্যগত অবস্থায় চাওয়া ও লোভ থাকার পরেও প্রদত্ত জিনিস গ্রহণ করা বৈধ হয়। আর বাধ্যগত অবস্থা দুই ধরণের। এক. সামর্থবান ব্যক্তি বাধ্যগত অবস্থায় নিপতিত হওয়া। দুই. নিঃস্ব ব্যক্তির নিরুপায় অবস্থায় নিপতিত হওয়া। সামর্থবান ব্যক্তি বাধ্যগত অবস্থায় নিপতিত হওয়া হলো, যে ব্যক্তি নগণ্য দুনিয়ার প্রচুর সহায়-সম্পদের মালিক, কিন্তু সে এমন অবস্থায় রয়েছে, যেখানে আদৌ খাদ্য-পানীয় বিক্রি করা হয় না, আর তার কাছেও খাদ্য-পানীয় নেই, তবে সেই ব্যক্তি সামর্থবান হওয়া সত্ত্বেও তার জন্য নিরুপায় ব্যক্তির হুকুম প্রযোজ্য হবে। এই অবস্থায় তার জন্য প্রদত্ত অনুদান গ্রহণ করা বৈধ, যদিও তিনি সেটা পাওয়ার ব্যাপারে লোভাতুর ছিলেন বা তা সাহায্য চেয়েছিলেন। আর নিঃস্ব ব্যক্তির নিরুপায় হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট, যা ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নেই।”
[1] মুসনাদ আবূ ইয়ালা: ৯২৫; মুসনাদ আহমাদ: ৪/৩২০-৩২১; হাকিম: ২/৬২; হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ: ৩/১০০। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ১০০৫)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «التعليق الرغيب» (2/ 16)، «الصحيحة» (1005).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم
3405 - أخْبَرَنَا ابْنُ قُتَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ مَوْهَبٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ الْأَشَجِّ، عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنِ ابْنِ السَّاعِدِيِّ الْمَالِكِيِّ، قَالَ: اسْتَعْمَلَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ عَلَى الصَّدَقَةِ، فَلَمَّا فَرَغْتُ مِنْهَا وَأَدَّيْتُهَا إِلَيْهِ أَمَرَ لِيَ بِعُمَالَةٍ، فَقُلْتُ لَهُ: إِنَّمَا عَمِلْتُ لِلَّهِ، وَأَجْرِي عَلَى اللَّهِ، قَالَ: خُذْ مَا أُعْطِيتَ، فَإِنِّي قَدْ قُلْتُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِعَمَلِي مِثْلَ قَوْلِكَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا أُعْطِيتَ شَيْئًا مِنْ غَيْرِ أَنْ تَسْأَلَ فَكُلْ وَتَصَدَّقْ»
رقم طبعة با وزير = (3396)
ইবনুস সাঈদী আল মালেকী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “উমার বিন খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আমাকে সাদাকাহ উসূল করার জন্য নিযুক্ত করেন। অতঃপর যখন আমি দায়িত্ব পালন করি এবং তাঁকে তা আদায় করে দেই, তখন কিছু অনুদান দেওয়া নির্দেশ দেন। তখন আমি তাকে বললাম, “আমি তো এই কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করেছি আর আমার প্রতিদান আল্লাহ দিবেন।” তখন তিনি বলেন, “তোমাকে যা প্রদান করা হয়েছে, তা তুমি গ্রহণ করো। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময়ে আমার কাজের জন্য আমি তোমার মতোই বলেছিলাম। তখন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যখন আপনাকে না চাইতে কোন কিছু প্রদান করা হবে, তখন আপনি তা নিজে খেতে এবং সাদাকাহ করতে পারবেন।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ১/৫২; দারেমী: ১/৩৮৮; সহীহ মুসলিম: ১০৪৫; আবূ দাঊদ: ১৬৪৭; নাসাঈ: ৫/১০২; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২৩৬৪; সুনান বাইহাকী: ৭/১৫; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ২০০৪৬; হুমাইদী: ২১; সহীহুল বুখারী: ৭১৬৩; বাগাবী: ১৬২৯। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩৩৯৬)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق - انظر (1453). تنبيه!! رقم (1453) = (1455) من «طبعة المؤسسة». لكن الحديث غير موجود بالرقم المشار إليه! - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح
3406 - أَخْبَرَنَا حَامِدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ شُعَيْبٍ الْبَلْخِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُرَيْجُ بْنُ يُونُسَ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ، وَعُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، [ص:198] أَنَّهُمَا سَمِعَا حَكِيمَ بْنَ حِزَامٍ، يَقُولُ: سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَعْطَانِي، ثُمَّ سَأَلْتُهُ فَأَعْطَانِي، ثُمَّ قَالَ: «إِنَّ هَذَا الْمَالَ حُلْوَةٌ خَضِرَةٌ، فَمَنْ أَخَذَهُ بِطِيبِ نَفْسٍ بُورِكَ لَهُ فِيهِ، وَمَنْ أَخَذَهُ بِإِشْرَافِ نَفْسٍ لَهُ لَمْ يُبَارَكْ لَهُ فِيهِ، وَكَانَ كَالَّذِي يَأْكُلُ وَلَا يَشْبَعُ، وَالْيَدُ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِنَ الْيَدِ السُّفْلَى»
رقم طبعة با وزير = (3397)
হাকিম বিন হিযাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে কিছু চাইলে তিনি আমাকে কিছু প্রদান করেন। তারপর আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আবার কিছু চাই, তিনি আমাকে প্রদান করেন। তারপর তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই এই সম্পদ সবুজ-শ্যামল, সুমিষ্ট। যে ব্যক্তি তা নির্লোভ-ভালো মনে গ্রহণ করে, তার জন্য তাতে বারাকাহ দেওয়া হয় আর যে ব্যক্তি তা লোভাতুর মনে গ্রহণ করবে, তার জন্য তাতে বারাকাহ দেওয়া হয় না এবং সে ব্যক্তি ঐ ব্যক্তির মতো, যে খায় কিন্তু পরিতৃপ্ত হয় না। আর নিচু হাত অপেক্ষা উঁচু হাত উত্তম।”[1]
[1] নাসাঈ: ৫/১০১-১০২; তাবারানী: ৩০৮৩; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ২০০৪১; সহীহুল বুখারী: ১৪৭২; তিরমিযী: ২৪৬৩; দারেমী: ১/৩৮৮; সুনান বাইহাকী: ৪/১৯৬; বাগাবী: ১৬১৯; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৪০৩। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩২১০)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «أحاديث البيوع»: ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما
3407 - سَمِعْتُ أَبَا خَلِيفَةَ، يَقُولُ: سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ بَكْرِ بْنِ الرَّبِيعِ بْنِ مُسْلِمٍ، يَقُولُ: سَمِعْتُ الرَّبِيعَ بْنَ مُسْلِمٍ، يَقُولُ: سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ زِيَادٍ، يَقُولُ: [ص:199] سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا الْقَاسِمِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: «لَا يَشْكُرُ اللَّهَ مَنْ لَا يَشْكُرُ النَّاسَ»
رقم طبعة با وزير = (3398)
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, “যে ব্যক্তি মানুষের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে না, সে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।”[1]
[1] আত তায়ালিসী: ২৪৯১; মুসনাদ আহমাদ: ২/২৫৮; ইমাম বুখারী, আদাবুল মুফরাদ: ২১৮; আবূ দাঊদ: ৪৮১১; তিরমিযী: ১৯৫৫; সুনান বাইহাকী: ৬/১৮২; বাগাবী: ৩৬১০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ৭১৬)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (716).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم
3408 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنِ اسْتَعَاذَكُمْ بِاللَّهِ فَأَعِيذُوهُ، وَمَنْ سَأَلَكُمْ بِاللَّهِ فَأَعْطُوهُ، وَمَنْ دَعَاكُمْ فَأَجِيبُوهُ، وَمَنْ صَنَعَ إِلَيْكُمْ مَعْرُوفًا فَكَافِئُوهُ، فَإِنْ لَمْ تَجِدُوا مَا تُكَافِئُونَهُ فَادْعُوا اللَّهَ لَهُ حَتَّى تَرَوْا أَنْ قَدْ كَافَأْتُمُوهُ»
رقم طبعة با وزير = (3400) [ص:200] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: قَصَّرَ جَرِيرٌ فِي إِسْنَادِهِ، لِأَنَّهُ لَمْ يَحْفَظْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيَّ فِيهِ
আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর দোহাই দিয়ে আশ্রয় চাইবে, তোমরা তাকে আশ্রয় দিবে, যে ব্যক্তি আল্লাহর দোহাই দিয়ে সাহায্য চাইবে, তোমরা তাকে তা প্রদান করবে এবং যে ব্যক্তি তোমাদেরকে দাওয়াত দিবে, তোমরা তার দাওয়াত কবূল করবে এবং যে ব্যক্তি তোমাদের জন্য ভালো কিছু করবে, তোমরা তাকে বিনিময় দিবে। যদি তোমরা বিনিময় দেওয়ার মত কোন কিছু না পাও, তবে তোমরা তার জন্য এই পরিমাণ দুআ করবে যে, তোমরা মনে করবে যে তোমরা তার প্রতিদান দিয়েছো।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, “এই হাদীস বর্ণনায় জারীর রহিমাহুল্লাহ ত্রুটি করেছেন। কেননা তিনি এখানে ইবরাহিম আত তাইমীর নাম সংরক্ষন করেননি।”
[1] আবূ দাঊদ: ৫১০৮; মুসনাদ আহমাদ: ১/২৪৯-২৫০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৪৬৯)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر ما قبله. تنبيه!! قول الشيخ أنظر ما قبله يقصد رقم (3399) لأن هذا الحديث رقمه (3400) وما قبله هو (3399) وهذا بسبب اختلاف الطبعتين فطبعة باوزير قدمت هذا الحديث على الآتي وأشار الناشر إلى ذلك بقوله: وقع هذان الحديثان في «طبعة المؤسسة» متبادلي المواقع؛ فاقتضى التنبيه والخلاصة انظر إلى الحديث الآتي فهو مراد الشيخ. - مدخل بينات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما
3409 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ زُهَيْرٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْلِمٍ الطُّوسِيُّ *، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عُبَيْدَةَ بْنِ مَعْنٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ سَأَلَ بِاللَّهِ فَأَعْطُوهُ، وَمَنِ اسْتَعَاذَ بِاللَّهِ فَأَعِيذُوهُ، وَمَنْ دَعَاكُمْ فَأَجِيبُوهُ»
رقم طبعة با وزير = (3399)
আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর দোহাই দিয়ে সাহায্য চাইবে, তোমরা তাকে তা প্রদান করবে, যে ব্যক্তি আল্লাহর দোহাই দিয়ে আশ্রয় চাইবে, তোমরা তাকে আশ্রয় দিবে এবং যে ব্যক্তি তোমাদেরকে দাওয়াত দিবে, তোমরা তার দাওয়াত কবূল করবে।”[1]
[1] আবূ দাঊদ: ৫১০৮; মুসনাদ আহমাদ: ১/২৪৯-২৫০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৪৬৯)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1469)، «الصحيحة»، (254). * [عَلِيُّ بْنُ مُسْلِمٍ الطُّوسِيُّ] قال الشيخ: وقع هنا في الأصل: «حدثنا أبي»! ولم ترد في «الموارد» (2072)؛ ولا ذَكرَوا له رواية عن أبيه. انظر «تاريخ بغداد»، و «التهذيب». ثُمَّ رأيث فيما تقدَّم (3364) على الصواب. تنبيه!! رقم (3364) = (3375) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: صحيح
3410 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ السَّامِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَرَرْتُ بِرَجُلٍ فَلَمْ يُضَيِّفْنِي، وَلَمْ يَقْرِنِي، أَفَأَحْتَكِمُ؟، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «بَلِ اقْرِهِ»
رقم طبعة با وزير = (3401)
আবুল আহওয়াস তার বাবা থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, “আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমি এক ব্যক্তির পাশে ছিলাম, কিন্তু সে আমাকে মেহমানদারী করেনি এবং কোন সৌজন্যমূলক আচরণ করেনি, তবে আমিও কি তার সাথে এরকম করবো?” জবাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “বরং তুমি তার সাথে সৌজন্যমূলক আচরণ করবে।”[1]
[1] তাবারানী: ১৯/৬০৬; তিরমিযী: ২০০৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ১২৯০)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (1290).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم
3411 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَجَّاجِ السَّامِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عَمَّارِ بْنِ أَبِي عَمَّارٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: جَاءَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ، فَأَطْعَمْنَاهُمْ رُطَبًا، وَسَقَيْنَاهُمْ مِنَ الْمَاءِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هَذَا مِنَ النَّعِيمِ الَّذِي تُسْأَلُونَ عَنْهُ»
رقم طبعة با وزير = (3402)
জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “একবার আমাদের কাছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবূ বকর ও উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা আসেন। অতঃপর আমরা তাঁদের তাজা খেজুর খাওয়াই ও পানি পান করাই। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “এটা সেই নিআমতের অন্তর্ভু্ক্ত, যা সম্পর্কে তোমাদের জিজ্ঞাসা করা হবে!”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৩/৩৩৮; নাসাঈ: ৬/২৪৬; দুররুল মানসূর: ৮/৬০৪। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আর রওয: ১/৪০৩)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الروض النضير» (1/ 403).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح