হাদীস বিএন


সহীহ ইবনু হিব্বান





সহীহ ইবনু হিব্বান (3421)


3421 - أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْقَطَّانُ، بِالرَّافِقَةِ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْبَالِسِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ هِشَامٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فِي الْجَنَّةِ بَابٌ يُقَالُ لَهُ: الرَّيَّانُ، أُعِدَّ لِلصَّائِمِينَ، فَإِذَا دَخَلَ أُخْرَاهُمْ، أُغْلِقَ»
رقم طبعة با وزير = (3412)




সাহল বিন সা‘দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয়ই জান্নাতে একটি দরজা রয়েছে, সেটার নাম রাইয়ান। এটি সিয়াম পালনকারীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। অতঃপর যখন তাদের সর্বশেষ ব্যক্তি প্রবেশ করবে, তখন সেটি বন্ধ করে দেওয়া হবে।”[1]



[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/৫-৬; সহীহুল বুখারী: ১৮৯৬; সহীহ মুসলিম: ১১৫২; নাসাঈ: ৪/১৬৮; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৯০২; বাগাবী: ১৭০৯; সুনানবাইহাকী: ৪/৩০৫; তিরমিযী: ৭৬৫; ইবনু মাজাহ: ১৬৪০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ২/৫৯-৬০)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر ما قبله.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (3422)


3422 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: «كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ لَهُ إِلَّا الصِّيَامَ، وَالصِّيَامُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ، وَلَخُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ»
رقم طبعة با وزير = (3413)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আদম সন্তানের প্রতিটি আমল তার নিজের জন্য, শুধু সিয়াম ব্যতীত। সিয়াম আমার জন্য। আর আমি নিজেই সেটার প্রতিদান দিবো। সিয়াম পালনকারী ব্যক্তির মুখের ঘ্রাণ আল্লাহর নিকট মিসকের চেয়ে বেশি সুঘ্রাণময়।”[1]



[1] সহীহ মুসলিম: ১১৫১; নাসাঈ: ৪/১৬২-১৬৩; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৮৯৬; মুসনাদ আহমাদ: ২/২৭৩; সহীহুল বুখারী: ১৯০৪। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ২৪০৭)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: م.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين









সহীহ ইবনু হিব্বান (3423)


3423 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ تَسْنِيمٍ كُوفِيٌّ ثَبْتٌ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ الْبُرْسَانِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عَطَاءٌ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ الزَّيَّاتِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ لَهُ إِلَّا الصِّيَامَ فَهُوَ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ، وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَخُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ، لِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ: إِذَا أَفْطَرَ فَرِحَ بِفِطْرِهِ، وَإِذَا لَقِيَ اللَّهَ فَرِحَ بِصَوْمِهِ»
رقم طبعة با وزير = (3414) [ص:211] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: شِعَارُ الْمُؤْمِنِينَ فِي الْقِيَامَةِ التَّحْجِيلُ بِوُضُوئِهِمْ فِي الدُّنْيَا فَرَقًا بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ سَائِرِ الْأُمَمِ، وَشِعَارُهُمْ فِي الْقِيَامَةِ بِصَوْمِهِمْ طِيبُ خُلُوفِهِمْ أَطْيَبُ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ لِيُعْرَفُوا بَيْنَ ذَلِكَ الْجَمْعِ بِذَلِكَ الْعَمَلِ نَسْأَلُ اللَّهَ بَرَكَةَ ذَلِكَ الْيَوْمِ




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আদম সন্তানের প্রতিটি আমল তার নিজের জন্য, শুধু সিয়াম ব্যতীত। সিয়াম আমার জন্য। আর আমি নিজেই সেটার প্রতিদান দিবো। ঐ সত্তার কসম, যার হাতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রাণ, অবশ্যই সিয়াম পালনকারী ব্যক্তির মুখের ঘ্রাণ আল্লাহর নিকট মিসকের চেয়ে বেশি সুঘ্রাণময়। সিয়াম পালনকারী ব্যক্তির দুটি খুশির মুহূর্ত রয়েছে। যখন সে ইফতার করে, তখন ইফতারের মাধ্যমে খুশি হয় আর যখন সে আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করবে, তখন সিয়াম পালন করার জন্য খুশি হয়ে যাবে।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “কিয়ামতের দিন মুমিন ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ চিহ্ন হবে দুনিয়াতে ওযূ করার কারণে ওযূর অঙ্গগুলো উজ্জ্বল হবে। এটি তাদেরকে অন্যান্য সমস্ত উম্মত থেকে আলাদা করবে। আর দুনিয়াতে তাদের সিয়াম রাখার কারণে কিয়ামতের দিন তাদের মুখের ঘ্রাণ মিসকের চেয়ে সুঘ্রাণময় হবে, যাতে তাদের সমস্ত উম্মত থেকে চেনা যায়। আমরা আল্লাহর কাছে সেই দিনের বারাকাহ প্রার্থনা করছি।”



[1] সহীহ মুসলিম: ১১৫১; নাসাঈ: ৪/১৬২-১৬৩; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৮৯৬; মুসনাদ আহমাদ: ২/২৭৩; সহীহুল বুখারী: ১৯০৪। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ২৪০৭)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح الإسناد.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (3424)


3424 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَرُوبَةَ الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ، بِحَرَّانَ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ ذَكْوَانَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «كُلُّ حَسَنَةٍ يَعْمَلُهَا ابْنُ آدَمَ بِعَشْرِ حَسَنَاتٍ إِلَى سَبْعِ مِائَةِ ضِعْفٍ، يَقُولُ اللَّهُ: إِلَّا الصَّوْمَ فَهُوَ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ، يَدَعُ الطَّعَامَ مِنْ أَجْلِي، وَالشَّرَابَ مِنْ أَجْلِي، وَشَهْوَتَهُ مِنْ أَجْلِي، وَأَنَا أَجْزِي بِهِ، وَلِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ: فَرْحَةٌ حِينَ يُفْطِرُ، وَفَرْحَةٌ حِينَ يَلْقَى رَبَّهُ، وَلَخُلُوفِ فَمِ الصَّائِمِ حِينَ يَخْلُفُ مِنَ الطَّعَامِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ»
رقم طبعة با وزير = (3415)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আদম সন্তান যে কোন ভালো কাজ করলে তা ১০ গুণ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত সাওয়াব হয়। আল্লাহ বলেন, “তবে সিয়াম ব্যতীত। এটা আমার জন্য আর আমি নিজে সেটার প্রতিদান দিবো। সে আমার জন্য খাবার, আমার জন্য পানীয়, আমার জন্য প্রবৃত্তির চাহিদামূলক কাজসমূহ পরিহার করে, আর আমি নিজেই সেটার প্রতিদান দিবো। সিয়াম পালনকারী ব্যক্তির দুটি খুশির মুহূর্ত রয়েছে। একটি খুশির মুহূর্ত হলো যখন সে ইফতার করে আর আরেক খুশি যখন সে তার প্রভুর সাথে সাক্ষাত করবে। সিয়াম পালনকারী ব্যক্তি যখন খাবার ছেড়ে দেয়, তখন তার মুখের ঘ্রাণ, মিসকের চেয়ে বেশি সুঘ্রাণময় হয়।”[1]



[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/৫; মুসনাদ আহমাদ: ২/৪৪৩; সহীহ মুসলিম: ১১৫১; ইবনু মাজাহ: ১৬৩৮; সুনান বাইহাকী: ৪/৩০৪; বাগাবী: ১৭১০; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৭৮৯৩; সহীহুল বুখারী: ৭৪৯২; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৮৯৭; নাসাঈ: ৪/১৬৪; মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/৩১০; আত তায়ালিসী: ২৪৮৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ ‍বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহুত তারগীব: ৯৬৯)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح الترغيب» (969).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما









সহীহ ইবনু হিব্বান (3425)


3425 - أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا [ص:212] يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا مَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُونَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي يَعْقُوبَ، عَنْ رَجَاءِ بْنِ حَيْوَةَ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، قَالَ: أَنْشَأَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَيْشًا، فَأَتَيْتُهُ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، ادْعُ اللَّهَ لِي بِالشَّهَادَةِ، قَالَ: «اللَّهُمَّ سَلِّمْهُمْ وَغَنِّمْهُمْ»، فَغَزَوْنَا فَسَلِمْنَا وَغَنِمْنَا، حَتَّى ذَكَرَ ذَلِكَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، قَالَ: ثُمَّ أَتَيْتُهُ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنِّي أَتَيْتُكَ تَتْرَى ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، أَسْأَلُكَ أَنْ تَدْعُوَ لِي بِالشَّهَادَةِ، فَقُلْتَ: «اللَّهُمَّ سَلِّمْهُمْ وَغَنِّمْهُمْ» فَسَلِمْنَا وَغَنِمْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَمُرْنِي بِعَمَلٍ أَدْخُلُ بِهِ الْجَنَّةَ، فَقَالَ: «عَلَيْكَ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَا مِثْلَ لَهُ»، قَالَ: فَكَانَ أَبُو أُمَامَةَ لَا يُرَى فِي بَيْتِهِ الدُّخَانُ نَهَارًا إِلَّا إِذَا نَزَلَ بِهِمْ [ص:213] ضَيْفٌ، فَإِذَا رَأَوَا الدُّخَانَ نَهَارًا عَرَفُوا أَنَّهُ قَدِ اعْتَرَاهُمْ ضَيْفٌ
رقم طبعة با وزير = (3416) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: رَوَى هَذَا الْخَبَرَ مَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُونَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي يَعْقُوبَ، عَنْ رَجَاءِ بْنِ حَيْوَةَ، وَرَوَاهُ شُعْبَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي يَعْقُوبَ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلَالٍ، عَنْ رَجَاءِ بْنِ حَيْوَةَ




আবূ উমামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার একটি সেনাবাহিনী প্রস্তুত করেন। অতঃপর আমি তাঁর কাছে এসে বললাম, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আপনি আমার জন্য শাহাদাতের দুআ করুন।” তখন তিনি বলেন, “হে আল্লাহ, আপনি তাদেরকে নিরাপদ রাখুন এবং তাদেরকে গনীমত দান করুন।” অতঃপর আমরা যুদ্ধ করে নিরাপদ থাকি এবং গনীমত লাভ করি। এভাবে তিনি তিনবার এটা উল্লেখ করেন। রাবী বলেন, “তারপর আমি তাঁর কাছে এসে বলি, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমি আপনার কাছে পরপর তিনবার এসে আপনার কাছে চেয়েছিলাম যে, আপনি আমার জন্য শাহাদাতের দুআ করবেন। কিন্তু আপনি বলেছেন, “হে আল্লাহ, আপনি তাদেরকে নিরাপদ রাখুন এবং তাদেরকে গনীমত দান করুন।” অতঃপর আমরা যুদ্ধ করে নিরাপদ থাকি এবং গনীমত লাভ করি। হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আপনি আমাকে এমন একটি আমলের আদেশ করুন, যার বদৌলতে আমি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবো।” তখন তিনি বলেন, “তুমি সিয়াম পালন করো। কেননা এর সমতুল্য কোন আমল নেই।” অধঃস্তন রাবী বলেন, “তারপর আবূ উমামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর বাড়িতে মেহমান না আসলে দিনে ধোঁয়া দেখা যেতো না। কাজেই যখন দিনে তাদের বাড়িতে ধোঁয়া দেখা যেতো, তখন লোকজন বুঝতে পারতেন যে, তাঁদের বাড়িতে কোন মেহমান এসেছেন!”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই হাদীসটি মাহদী বিন মাইমূন, মুহাম্মাদ বিন আবী ইয়াকূব থেকে, তিনি রাজা বিন হাইওয়াহ থেকে বর্ণনা করেছেন। আর ইমাম শু‘বাহ রহিমাহুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আবী ইয়াকূব থেকে, তিনি হুমাইদ বিন হিলাল থেকে, তিন রাজা বিন হাইওয়াহ থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।”



[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/৫; মুসনাদ আহমাদ: ৫/২৫৫, ২৫৮; নাসাঈ: ৪/১৬৫; তাবারানী: ৭৪৬৩; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৭৮৯৯। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীক আলাল মুখতারাহ: ২১)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «التعليق على «المختارة»» تحت الحديث (21).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (3426)


3426 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَرُوبَةَ، بِحَرَّانَ، حَدَّثَنَا بُنْدَارٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي يَعْقُوبَ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا نَصْرٍ الْهِلَالِيَّ، عَنْ رَجَاءِ بْنِ حَيْوَةَ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، دُلَّنِي عَلَى عَمَلٍ، قَالَ: «عَلَيْكَ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَا عِدْلَ لَهُ»
رقم طبعة با وزير = (3417) [ص:214] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: أَبُو نَصْرٍ هَذَا هُوَ حُمَيْدُ بْنُ هِلَالٍ، وَلَسْتُ أُنْكِرُ أَنْ يَكُونَ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي يَعْقُوبَ سَمِعَ هَذَا الْخَبَرَ بِطُولِهِ، عَنْ رَجَاءِ بْنِ حَيْوَةَ، وَسَمِعَ بَعْضَهُ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلَالٍ، فَالطَّرِيقَانِ جَمِيعًا مَحْفُوظَانِ




আবূ উমামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমাকে একটি আমলের সন্ধান দিন।” তখন তিনি বলেন, “তুমি সিয়াম পালন করো। কেননা এর সমতুল্য কোন আমল নেই।” আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “হাদীসের একজন রাবী আবূ নাসর হলেন হুমাইদ বিন হিলাল। আমি এটা অস্বীকার করি না যে, মুহাম্মাদ বিন আবূ ইয়াকূব এই দীর্ঘ হাদীসটি রাজা বিন হাইওয়াহ থেকে শ্রবণ করেছেন। এবং হাদীসটির কিছু অংশ হুমাইদ বিন হিলাল থেকে শ্রবণ করেছেন। কাজেই দুটি সনদই মাহফূয তথা সহীহ।”[1]



[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৮৯৩; হাকিম: ১/৪২১; নাসাঈ: ৪/১৬৫-১৬৬) শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটির সানাদ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা'লীকাতুল হিসান: ৩৪১৭)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر ما قبله.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (3427)


3427 - أَخْبَرَنَا ابْنُ قُتَيْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: هَذَا مَا حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَذَكَرَ أَحَادِيثَ، وَقَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الصِّيَامُ جُنَّةٌ»
رقم طبعة با وزير = (3418)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বেশ কিছু হাদীস বর্ণনা করে বলেন, “এগুলো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “সিয়াম ঢাল স্বরুপ।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/৩১৩; সহীহ মুসলিম: ১১৫১; নাসাঈ: ৪/১৬২-১৬৩; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৮৯৬; মুসনাদ আহমাদ: ২/২৭৩; সহীহুল বুখারী: ১৯০৪। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ২০৪৬)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (2046): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (3428)


3428 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ سِنَانٍ، حَدَّثَنَا فَرَحُ بْنُ رَوَاحَةَ [ص:215] الْمَنْبِجِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، عَنْ سَعْدٍ الطَّائِيِّ، عَنْ أَبِي الْمُدِلَّةِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «ثَلَاثَةٌ لَا تُرَدُّ دَعْوَتُهُمُ: الصَّائِمُ حَتَّى يُفْطِرَ، وَالْإِمَامُ الْعَادِلُ، وَدَعْوَةُ الْمَظْلُومِ»
رقم طبعة با وزير = (3419) [ص:216] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: أَبُو الْمُدِلَّةِ: اسْمُهُ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، مَدَنِيٌّ ثِقَةٌ




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তিন শ্রেণির মানুষের দুআ ফেরত দেওয়া হয় না। সিয়াম পালনকারী (ব্যক্তির দুআ) যতক্ষন না ইফতার করেন, ন্যায়পরায়ন শাসক (এর দুআ) এবং মাযলূমের দুআ।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আবুল মুদিল্লাহ রাবীর নাম উবাইদুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ মাদানী। তিনি একজন নির্ভরযোগ্য রাবী।”



[1] আত তায়ালিসী: ২৫৮৪; মুসনাদ আহমাদ: ২/৩০৫; সুনান বাইহাকী: ৩/৩৪৫; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/৬-৭; তিরমিযী: ৩৫৯৮; ইবনু মাজাহ: ১৭৫২; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৯০১; বাগাবী: ১৩৯৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। (যঈফা: ১৩৫৮)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف - «الضعيفة» (1358)، «الصحيحة» (1797).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: Null









সহীহ ইবনু হিব্বান (3429)


3429 - أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ، حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ، عَنْ يَحْيَى الْقَطَّانِ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنِي عَطَاءٌ، عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «مَنْ فَطَّرَ صَائِمًا كُتِبَ لَهُ مِثْلَ أَجْرِهِ، لَا يَنْقُصُ مِنْ أَجْرِهِ شَيْءٌ»
رقم طبعة با وزير = (3420)




যাইদ বিন খালিদ আল জুহানী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোন সিয়াম পালনকারীকে ইফতার করায়, তার জন্য সিয়াম পালনকারীর সমপরিমাণ সাওয়াব লিখে দেওয়া হয়। এতে সিয়াম পালনকারীর সাওয়াবের কোন কমতি হবে না।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ৪/১১৪-১১৫; দারেমী: ২/৭; তিরমিযী: ৮০৭; ইবনু মাজাহ: ১৭৪৬; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২০৬৪; তাবারানী: ৫২৭৩; বাগাবী: ১৮১৮; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৭৯০৫; ইবনু মাজাহ: ১৭৪৬; বাগাবী: ১৮১৯। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ২/৯৫)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «التعليق الرغيب» (2/ 95)، «أحاديث البيوع».




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (3430)


3430 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ [ص:217] حَبِيبِ بْنِ زَيْدٍ الْأَنْصَارِيِّ، قَالَ: سَمِعْتُ مَوْلَاةً لَنَا يُقَالُ لَهَا لَيْلَى، تُحَدِّثُ عَنْ أُمِّ عُمَارَةَ بِنْتِ كَعْبٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ عَلَيْهَا فَدَعَتْ لَهُ بِطَعَامٍ، فَقَالَ: «تَعَالَيْ فَكُلِي»، فَقَالَتْ: إِنِّي صَائِمَةٌ، فَقَالَ: «إِنَّ الصَّائِمَ إِذَا أُكِلَ عِنْدَهُ صَلَّتْ عَلَيْهِ الْمَلَائِكَةُ»
رقم طبعة با وزير = (3421)




উম্মু উমারাহ বিনতু কা‘ব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার তার কাছে আসলে, তিনি তাঁর জন্য খাবার আনতে বলেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বলেন, “আসো, তুমিও খাও।” জবাবে তিনি বলেন, “আমি সিয়াম রেখেছি। ”তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “সিয়াম পালনকারী ব্যক্তির নিকট যখন খাবার খাওয়া হয়, তখন ফেরেস্তাগণ তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকেন।”[1]



[1] মুসনাদু আলী বিন জা‘দ: ৮৯৯; মুসনাদ আবী ইয়ালা: ২/৩৩১; বাগাবী, শারহুস ‍সুন্নাহ: ১৮১৭; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৭৯১১; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/৮৬; দারেমী: ২/৭; মুসনাদ আহমাদ: ৬/৪৩৯; তিরমিযী: ৭৮৫; ইবনু মাজাহ: ১৭৪৮; সুনান বাইহাকী: ৪/৩০৫। হাদীসটির ব্যাপারে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ স্পষ্ট কোন মন্তব্য করেননি। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। (যঈফা: ১৩৩২)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف - «الضعيفة» (1332).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: Null









সহীহ ইবনু হিব্বান (3431)


3431 - أَخْبَرَنَا شَبَابُ بْنُ صَالِحٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا خَالِدٌ، عَنْ خَالِدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «شَهْرَا عِيدٍ لَا يَنْقُصَانِ: رَمَضَانُ وَذُو الْحِجَّةِ»
رقم طبعة با وزير = (3422)




আবু বাকরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “ঈদের দুই মাস অর্থাৎ রমযান ও ‍যিলহ্জ্জ মাসে (সাওয়াবের) কোন কমতি হয় না।”[1]



[1] মুসনাদ আত তায়ালিসী: ৮৬৩; মুসনাদ আহমাদ: ৫/৪৭; শারহু মা‘আনিল আসার: ২/৫৮; সহীহ আল বুখারী: ১৯১২; সহীহ মুসলিম: ১০৮৯; সুনান বাইহাকী: ৪/২৫০; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ১৭১৭। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবু দাউদ: ২০১২)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق - مضى إسناده ومتنه (325).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (3432)


3432 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ خَلَّادٍ الْبَاهِلِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، [ص:219] عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا، غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ»
رقم طبعة با وزير = (3423) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: «إِيمَانًا»، يُرِيدُ بِهِ: إِيمَانًا بِفَرْضِهِ، «وَاحْتِسَابًا» يُرِيدُ بِهِ: مُخْلِصًا فِيهِ




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি ঈমানসহ সাওয়াবের আশায় রমযানের সিয়াম পালন করবে, তার পূর্বের সমস্ত গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “ঈমানসহ অর্থ সিয়ামের ফরয হওয়ার বিশ্বাস করে, সাওয়াবের আশায় অর্থ খালেসভাবে সিয়াম পালন করে।”



[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/২; মুসনাদ আহমাদ: ২/২৩২; সহীহ আল বুখারী: ৩৮; নাসাঈ: ৪/১৫৭; সুনান বাইহাকী: ৪/৩০৪। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (ইরওয়াউল গালীল: ৯০৬)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (3433)


3433 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا حِبَّانُ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَيُّوبَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قُرْطٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، [ص:220] عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «مَنْ صَامَ رَمَضَانَ، وَعَرَفَ حُدُودَهُ، وَتَحَفَّظَ مَا يَنْبَغِي أَنْ يَتَحَفَّظَ، كَفَّرَ مَا قَبْلَهُ»
رقم طبعة با وزير = (3424)




আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি রমযানের সিয়াম পালন করবে, তার সীমারেখা জানবে এবং যা হেফাযত করা সমীচীন, তা হেফাযত করবে, তাহলে তার পূর্বের গোনাহসমূহ মোচন করা হবে।”[1]



[1] আব্দুল্লাহ বিন মুবারাক, আয যুহদ: ৯৮; মুসনাদ আহমাদ: ৪/৫৫; আবূ ইয়ালা: ১০৫৮; সুনান বাইহাকী: ৪/৩০৪। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। (যঈফা: ৫০৮৩)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف - «الضعيفة» (5083)، «تمام المِنَّة» / الصيام.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده ضعيف









সহীহ ইবনু হিব্বান (3434)


3434 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ قُتَيْبَةَ، حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنَا يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ أَبِي أَنَسٍ، أَنَّ أَبَاهُ، حَدَّثَهُ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا كَانَ رَمَضَانُ فُتِحَتْ لَهُ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ، وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ جَهَنَّمَ، وَسُلْسِلَتِ الشَّيَاطِينُ»
رقم طبعة با وزير = (3425) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: أَنَسُ بْنُ أَبِي أَنَسٍ هَذَا وَالِدُ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، [ص:221] وَاسْمُ أَبِي أَنَسٍ مَالِكُ بْنُ أَبِي عَامِرٍ مِنْ ثِقَاتِ أَهْلِ الْمَدِينَةِ، وَهُوَ مَالِكُ بْنُ أَبِي عَامِرِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ بْنِ غَيْمَانَ بْنِ خُثَيْلِ بْنِ عَمْرٍو، مِنْ ذِي أَصْبَحَ مِنْ أَقْيَالِ الْيَمَنِ




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন রমযান আসে, তখন জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “হাদীসের রাবী আনাস বিন আবী আনাস হলেন মালিক বিন আনাসের বাবা, আর আবূ আনাসের নাম মালিক বিন আবী আমির। তিনি মদীনার্ একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি। তিনি মালিক বিন আবূ আমির, বিন আমর বিন হারিস বিন গাইমান বিন খুসাইল বিন আমর। তিনি ইয়ামানের যুআসবাহের মানুষ।”



[1] সহীহ মুসলিম: ১০৭৯; সুনান বাইহাকী: ৪/৩০৩; মুসনাদ আহমাদ: ২/৪০১; সহীহুল বুখারী: ১৮৯৯; নাসাঈ: ৪/১২৬; দারেমী: ২/৬২; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৮৮২; বাগাবী: ১৭০৩; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/২-৩। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ১৩০৭)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (1307).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (3435)


3435 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلَاءِ بْنِ كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، [ص:222] عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «إِذَا كَانَ أَوَّلُ لَيْلَةٍ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ صُفِّدَتِ الشَّيَاطِينُ مَرَدَةُ الْجِنِّ، وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ النَّارِ فَلَمْ يُفْتَحْ مِنْهَا بَابٌ، وَفُتِحَتْ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ فَلَمْ يُغْلَقْ مِنْهَا بَابٌ، وَمُنَادٍ يُنَادِي: يَا بَاغِيَ الْخَيْرِ أَقْبَلْ، وَيَا بَاغِيَ الشَّرِّ أَقْصِرْ، وَلِلَّهِ عُتَقَاءُ مِنَ النَّارِ، وَذَلِكَ كُلَّ لَيْلَةٍ»
رقم طبعة با وزير = (3426)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন রমযান মাসের প্রথম রাত আসে, তখন অবাধ্য-বিদ্রোহী শয়তানদেরকে শৃঙ্খলিত করা হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয় ফলে একটি দরজাও খোলা থাকে না, জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়, ফলে একটি দরজাও বন্ধ রাখা হয় না এবং একজন আহবানকারী আহবান করতে থাকে, “হে কল্যাণ অন্বেষনকারী, তুমি (কলাণের কাজে) অগ্রসর হও। হে মন্দ অন্বেষনকারী, তুমি (মন্দ কাজ) ক্ষ্যান্ত দাও। এসময় আল্লাহ বহু সংখ্যক লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করে দেন। এমনটা প্রত্যেক রাতে হয়ে থাকে।”[1]



[1] তিরমিযী: ৬৮২; ইবনু মাজাহ: ১৬৪২; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৮৮৩; হাকিম: ১/৪২১; বাগাবী: ১৭০৫; সুনান বাইহাকী: ৪/৩০৩; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/১; মুসনাদ আহমাদ: ৪/৩১১; নাসাঈ: ৪/১৩০। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান-সহীহ বলেছেন। (মিশকাত: ১৯৬০)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن صحيح - «التعليق الرغيب» (2/ 68)، «المشكاة» (1960 - 1961).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي









সহীহ ইবনু হিব্বান (3436)


3436 - أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِدْرِيسَ الْأَنْصَارِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي يَعْفُورٍ، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ صُبَيْحٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا دَخَلَ الْعَشْرُ [ص:223] الْأَوَاخِرُ مِنْ رَمَضَانَ أَيْقَظَ أَهْلَهُ، وَشَدَّ الْمِئْزَرَ، وَأَحْيَا اللَّيْلَ»
رقم طبعة با وزير = (3427)




আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “যখন রমযানের শেষ দশক প্রবেশ করতো, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর পরিবারের লোকদের জাগিয়ে দিতেন, লুঙ্গি বেঁধে নিতেন এবং রাত্রি জাগরণ করতেন।”[1]



[1] আবূ দাঊদ: ১৩৭৬; মুসনাদ আহমাদ: ৬/৪১; সহীহুল বুখারী: ২০২৪; সহীহ মুসলিম: ১১৭৪; নাসাঈ: ৩/২১৭-২১৮; ইবনু মাজাহ: ১৭৬৮; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২২১৪; সুনান বাইহাকী: ৪/৩১৩; বাগাবী: ১৮২৯। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১২৪৬)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1246): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما









সহীহ ইবনু হিব্বান (3437)


3437 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ الْعَلَاءِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ عُبَيْدِ بْنِ نِسْطَاسٍ، عَنْ أَبِي الضُّحَى، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا دَخَلَ الْعَشْرُ أَحْيَا اللَّيْلَ، وَشَدَّ الْمِئْزَرَ، وَأَيْقَظَ أَهْلَهُ»
رقم طبعة با وزير = (3428)




আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “যখন রমযানের শেষ দশক প্রবেশ করতো, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাত্রি জাগরণ করতেন, লুঙ্গি বেঁধে নিতেন এবং তাঁর পরিবারের লোকদের জাগিয়ে দিতেন।”[1]



[1] আবূ দাঊদ: ১৩৭৬; মুসনাদ আহমাদ: ৬/৪১; সহীহুল বুখারী: ২০২৪; সহীহ মুসলিম: ১১৭৪; নাসাঈ: ৩/২১৭-২১৮; ইবনু মাজাহ: ১৭৬৮; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২২১৪; সুনান বাইহাকী: ৪/৩১৩; বাগাবী: ১৮২৯। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১২৪৬)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود»: ق - انظر ما قبله.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (3438)


3438 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَبْدِ الْجَبَّارِ الصُّوفِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ، حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ، عَنْ شُعَيْبِ بْنِ أَبِي حَمْزَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي حُسَيْنٍ، عَنْ عِيسَى بْنِ طَلْحَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ عَمْرَو بْنَ مُرَّةَ الْجُهَنِيَّ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى [ص:224] النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَرَأَيْتَ إِنْ شَهِدْتُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّكَ رَسُولُ اللَّهِ، وَصَلَّيْتُ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسَ، وَأَدَّيْتُ الزَّكَاةَ، وَصُمْتُ رَمَضَانَ، وَقُمْتُهُ، فَمِمَّنْ أَنَا؟، قَالَ: «مِنَ الصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ»
رقم طبعة با وزير = (3429)




আমর বিন মুর্রা আল জুহানী (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “একবার এক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বলেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আপনার কী অভিমত, যদি আমি সাক্ষ্য দেই যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা‘বূদ নেই, আপনি আল্লাহর রাসূল, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করি, যাকাত প্রদান করি, রমযানের সিয়াম পালন করি, রমযানের কিয়াম করি, তাহলে আমি কাদের অন্তর্ভুক্ত হবো?” জবাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “সিদ্দীক ও শহীদদের অন্তর্ভুক্ত হবে।”[1]



[1] হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ: ১/৪৬; ইমাম সুয়ূতী, আল জামিউল কাবীর: ২/৫৮২; বাযযার: ২৫। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ৩/২২১)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «التعليق الرغيب» (3/ 221).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين









সহীহ ইবনু হিব্বান (3439)


3439 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُكْرَمِ بْنِ خَالِدٍ الْبِرْتِيُّ، بِبَغْدَادَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْمُهَلَّبُ بْنُ أَبِي حَبِيبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «لَا يَقُولَنَّ أَحَدُكُمْ: إِنِّي صُمْتُ رَمَضَانَ كُلَّهُ وَقُمْتُهُ»، قَالَ: فَلَا أَدْرِي أَكَرِهَ التَّزْكِيَةَ، أَمْ قَالَ: «لَا بُدَّ مِنْ رَقْدَةٍ أَوْ غَفَلَةٍ»
رقم طبعة با وزير = (3430)




আবূ বাকরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের কেউ যেন না বলে, “আমি পুরো রমযান সিয়াম ও কিয়াম করেছি”। রাবী বলেন, “আমি জানি না, তিনি কি আত্নপ্রশংসা করা অপছন্দ করেছেন নাকি তিনি বলেছেন, “অবশ্যই রমযানে ঘুমানো ও অবসর নেওয়া জরুরী।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ৫/৩৯; আবূ দাঊদ: ২৪১৫; নাসাঈ: ৪/১৩০। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। (যঈফ আবূ দাঊদ: ৪১৭)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف - «التعليق على ابن خزيمة» (2075)، «ضعيف أبي داود» (417).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (3440)


3440 - أَخْبَرَنَا يُوسُفُ بْنُ يَعْقُوبَ الْمُقْرِئُ، بِوَاسِطَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الطَّحَّانُ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَجْوَدَ النَّاسِ بِالْخَيْرِ، وَكَانَ أَجْوَدَ مَا يَكُونُ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ، إِنَّ جِبْرِيلَ كَانَ يَلْقَاهُ فِي كُلِّ لَيْلَةٍ مِنْ رَمَضَانَ حَتَّى يَنْسَلِخَ، يَعْرِضُ عَلَيْهِ الْقُرْآنَ، فَإِذَا لَقِيَهُ جِبْرِيلُ كَانَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَجْوَدَ بِالْخَيْرِ مِنَ الرِّيحِ الْمُرْسَلَةِ»
رقم طبعة با وزير = (3431)




আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষের মাঝে সবচেয়ে বেশি দানশীল ছিলেন। আর তিনি রমযান মাসে আরো বেশি দান করতেন। জিবরীল আলাইহিস সালাম রমযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক রাতে তাঁর সাথে সাক্ষাত করে তাঁর কাছে কুরআন উপস্থাপন করতেন। যখন জিবরীল আলাইহিস সালাম তাঁর সাথে সাক্ষাত করতেন, তখন তিনি অবাধ বায়ুর চেয়ে বেশি দান করতেন।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/৩৬৩; সহীহুল বুখারী: ১৯০২; সহীহ মুসলিম: ২৩০৮; শামাইলে তিরমিযী: ৩৪৬; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৮৮৯; সুনানবাইহাকী: ৪/৩২৬; সহীহ মুসলিম: ২৩০৮। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সমার্থক বর্ণনা থাকার কারণে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ লিগাইরিহী বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩৪৩১)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح لغيره.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده ضعيف