হাদীস বিএন


সুনান আদ-দারিমী





সুনান আদ-দারিমী (1061)


أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ عَطَاءٍ قَالَ لَا بَأْسَ أَنْ يَعْرَقَ الْجُنُبُ وَالْحَائِضُ فِي الثَّوْبِ يُصَلَّى فِيهِ




১০৬১. ইবনু জুরাইজ হতে বর্ণিত, আতা রাহি. বলেন, ‘জুনুবী’ (অপবিত্র) ব্যক্তি ও হায়িযগ্রস্ত মহিলা যে কাপড় পরিহিত অবস্থায় ঘেমে ভিজে যায়, তাদের সেই কাপড়ে সালাত আদায় করাতে কোনো আপত্তি নেই।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। তবে আব্দুর রাযযাকে ইবনু জুরাইজ ‘হাদ্দাসানা’ বলে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/১৯১; আব্দুর রাযযাক নং ১৪৩৬।









সুনান আদ-দারিমী (1062)


أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ أَخْبَرَنَا أَبُو الْأَحْوَصِ عَنْ أَبِي حَمْزَةَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ فِي الْجُنُبِ يَعْرَقُ فِي ثَوْبِهِ قَالَ لَا يَضُرُّهُ وَلَا يَنْضَحُهُ بِالْمَاءِ




১০৬২. আবী হামযাহ হতে বর্ণিত, ‘জুনুবী’ ব্যক্তির কাপড় পরিহিত অবস্থায় ঘেমে গেলে’ সেই সম্পর্কে ইবরাহীম রাহি. বলেন: এতে কোনো ক্ষতি নেই এবং তা পানি ঢালার (বা ছিটানোর) কোনো প্রয়োজন নেই।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, কেননা, আবী হামযাহ যঈফ।

তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/১৯১।









সুনান আদ-দারিমী (1063)


أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ عَنْ هِشَامٍ عَنْ حَمَّادٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ فِي الْحَائِضِ إِذَا عَرِقَتْ فِي ثِيَابِهَا فَإِنَّهُ يُجْزِئُهَا أَنْ تَنْضَحَهُ بِالْمَاءِ




১০৬৩. হাম্মাদ হতে বর্ণিত, হায়িযগ্রস্ত মহিলা কাপড় পরিহিত অবস্থায় ঘামলে’ সেই সম্পর্কে ইবরাহীম রাহি. বলেন, তাতে পানি ছিটিয়ে (বা ঢেলে) দেয়াই তার জন্য যথেষ্ট।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আগের হাদীসটি দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (1064)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ كَانَ يَعْرَقُ فِي الثَّوْبِ وَهُوَ جُنُبٌ ثُمَّ يُصَلِّي فِيهِ




১০৬৪. নাফি’ রাহি. হতে বর্ণিত, ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ‘জুনুবী’ (অপবিত্র) অবস্থায় কোনো কাপড় পরে ঘামতেন, আবার সেই কাপড় পরেই সালাত আদায় করতেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: মালিক ৮৯; ইবনু আবী শাইবা ১/১৯১; আব্দুর রাযযাক নং ১৪২৮।









সুনান আদ-দারিমী (1065)


أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ عَنْ هِشَامٍ هُوَ ابْنُ حَسَّانَ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ يَرَى بَأْسًا بِعَرَقِ الْحَائِضِ وَالْجُنُبِ




১০৬৫. ইকরিমাহ হতে বর্ণিত, ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু্ আনহুমা ‘জুনুবী’ (অপবিত্র) ব্যক্তি ও হায়িযগ্রস্ত মহিলার ঘামকে আপত্তিকর বলে মনে করতেন না।[1]

[1] হুশাইম এটি ‘আন আন’ পদ্ধতিতে এটি বর্ণনা করেছেন, আর তিনি মুদাল্লিস। তবে এর মুতাবিয়াত রয়েছে, যা হিশাম ইবনুল হিসান সূত্রে।

তাখরীজ: এটি বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাযযাক নং ১৪৩০; ইবনু আবী শাইবা ১/১৯১ ; বাইহাকী ২/৪০৯; হিশাম ইবনুল হিসান সূত্রে।









সুনান আদ-দারিমী (1066)


أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ قَالَ سَأَلَ رَجُلٌ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ مَا يَحِلُّ لِي مِنْ امْرَأَتِي وَهِيَ حَائِضٌ قَالَ لِتَشُدَّ عَلَيْهَا إِزَارَهَا ثُمَّ شَأْنَكَ بِأَعْلَاهَا




১০৬৬. মালিক ইবনু আনাস সূত্রে যাইদ ইবনু আসলাম হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন, হায়িযগ্রস্ত অবস্থায় আমার স্ত্রীর (সাথে কোন কোন আচরণ) আমার জন্য হালাল? তিনি বললেন: “স্ত্রীলোক তার পাজামা শক্তভাবে বেঁধে নেবে, তারপর তার উর্ধ্বাংশে তোমার কাজ (তথা তার উর্ধ্বাংশ দ্বারা তুমি উপকৃত হতে পারো)।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ মু’দ্বাল (একাধিক রাবীর নাম বাদ পড়েছে)।

তাখরীজ: মালিক, তাহারাত ৯৫; বাইহাকী ৭/১৯১; তাবারাণী, আল কাবীর ১০/৩৮২ নং ১০৭৬৫; ইবনু আব্বাস হতে... যঈফ সনদে। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি মাজমাউয যাওয়াইদ নং ১৫৭৩।









সুনান আদ-দারিমী (1067)


أَخْبَرَنَا خَالِدٌ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ قَالَ أَرْسَلَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ إِلَى عَائِشَةَ لِيَسْأَلَهَا هَلْ يُبَاشِرُ الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ فَقَالَتْ لِتَشُدَّ إِزَارَهَا عَلَى أَسْفَلِهَا ثُمَّ يُبَاشِرُهَا




১০৬৭. মালিক রাহি. থেকে বর্ণিত, নাফি’ রাহি. বলেন, (আব্দুল্লাহ ইবনু) আব্দুল্লাহ ইবনু উমার এক ব্যক্তিকে আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার নিকট এ কথা জিজ্ঞেস করতে পাঠালেন যে, হায়িয অবস্থায় কোনো লোক তার স্ত্রীর সাথে মেলামেশা করতে পারবে কি? তখন তিনি বললেন: তার নিচের অংশে ইযার (নিম্নাংশের পরিধেয় কাপড়) শক্ত করে বেঁধে নেবে, অতঃপর স্বামী তার সাথে মেলামেশা করিবে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর রাবীগণ নির্ভরযোগ্য।

তাখরীজ: মালিক তাহারাত ৯৭; বাইহাকী ৭/১৯০-১৯১; আব্দুর রাযযাক নং ১২৪১।

আয়িশা ও মায়মুনাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বুখারী মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে কোনো ব্যক্তির জিজ্ঞাসার জবাবে, যে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের সাথে কেমন আচরণ করতেন তাদের হায়িয অবস্থায়। পরবর্তী হাদীসটিও দেখুন। আরও দেখুন, ইবনু আবী শাইবা ৪/২৫৪, ২৫৫।









সুনান আদ-দারিমী (1068)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ عَنْ الْعَلَاءِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ حَمَّادٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ قَالَ الْحَائِضُ يَأْتِيهَا زَوْجُهَا فِي مَرَاقِّهَا وَبَيْنَ فَخِذَيْهَا فَإِذَا دَفَقَ غَسَلَتْ مَا أَصَابَهَا وَاغْتَسَلَ هُوَ




১০৬৮. হাম্মাদ হতে বর্ণিত, ইবরাহীম রাহি. বলেন, হায়িযগ্রস্ত মহিলার স্বামী তার পেট ও গুপ্তাংগের মধ্যবর্তী (প্রবেশ করানোর মত কোমল[1]) স্থানে এবং তার উভয় উরুর মাঝে সংগম করতে পারে। যদি স্বামীর (বীর্য) নির্গত হয়ে স্ত্রীর শরীরে লাগে, তবে সে তা ধুয়ে ফেলবে আর স্বামী গোসল করবে।[2]

[1] (( দেখুন দারিমীর শরহ ‘ফাতহুল মান্নান’ অত্র হাদীসের (নং ১১২৭) টীকা ও ব্যাখ্যা-অনুবাদক))

[2] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আমি এটি এখানে ব্যতীত অন্য কোথাও পাইনি।

এ অর্থে ইবরাহীম হতে বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাযযাক নং ৯৭১।









সুনান আদ-দারিমী (1069)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَدِيٍّ قَالَ سَأَلْتُ عَبْدَ الْكَرِيمِ عَنْ الْحَائِضِ فَقَالَ قَالَ إِبْرَاهِيمُ لَقَدْ عَلِمَتْ أُمُّ عِمْرَانَ أَنِّي أَطْعُنُ فِي أَلْيَتِهَا يَعْنِي وَهِيَ حَائِضٌ




১০৬৯. উবাইদুল্লাহ ইবনু আদী বলেন, আমি আব্দুল কারীম কে হায়িযগ্রস্ত মহিলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, ইবরাহীম বলেছেন, (আমার স্ত্রী) উম্মু ইমরাণ জানে যে, তার হায়িযগ্রস্ত অবস্থায় আমি তার নিতন্বে খোঁচা দিতাম (বিদ্ধ করতাম)।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আমি এটি আর অন্য কোথাও পাইনি।









সুনান আদ-দারিমী (1070)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ مِغْوَلٍ قَالَ سَأَلَ رَجُلٌ عَطَاءً عَنْ الْحَائِضِ فَلَمْ يَرَ بِمَا دُونَ الدَّمِ بَأْسًا




১০৭০. মালিক ইবনু মাগুল বলেন, এক ব্যক্তি আতা রাহি. কে হায়িযগ্রস্ত মহিলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি রক্ত (নির্গত হওয়ার স্থান) ব্যতীত অন্যত্র বা এর আশপাশে (সংগম করায়) কোনো দোষ আছে বলে মনে করেন নি।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ মুনকাতি’ বা বিচ্ছিন্ন। মালিক ইবনু মাগুল আতা হতে কিছু শ্রবন করেননি।

তাখরীজ: আমি এখানে ব্যতীত এটি আর কোথাও পাইনি। তবে আব্দুর রাযযাক নং ১২৪২ দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (1071)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ الْأَسْوَدِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كُنْتُ إِذَا حِضْتُ أَمَرَنِي النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَتَّزِرُ وَكَانَ يُبَاشِرُنِي




১০৭১. আসওয়াদ রাহি. হতে বর্ণিত, আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমার হায়িয হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নির্দেশ দিতেন ফলে আমি ইযার পরিধান করতাম এবং (এরপর) তিনি আমার সাথে মেলামেশা করতেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী মুসলিমের।

তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৩০০; সহীহ মুসলিম ২৯৩; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি ও এর শাহিদ হাদীসসমূহ উল্লেখ করেছি মুসনাদুল মাওসিলী নং ৪৮১০; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩৬৪।









সুনান আদ-দারিমী (1072)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ حَدَّثَنِي مَيْمُونُ بْنُ مِهْرَانَ قَالَ سُئِلَتْ عَائِشَةُ مَا يَحِلُّ لِلرَّجُلِ مِنْ امْرَأَتِهِ وَهِيَ حَائِضٌ قَالَتْ مَا فَوْقَ الْإِزَارِ




১০৭২. মায়মুন ইবনু মিহরাণ রাহি. বলেন, আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে জিজ্ঞেস করা হলো, কোনো পুরুষের স্ত্রী হায়েযগ্রস্ত অবস্থায় তার স্ত্রী ব্যবহার কতটুকু তার জন্য হালাল? তিনি বলেন, ইযার (পাজামা)-এর উপর দিয়ে যা কিছু করা সম্ভব।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৪/২৫৫। আরও দেখুন ১০৭২, ১০৭৩, ১০৭৭ (অনুবাদে ১০৬৬, ১০৬৭, ১০৭১) নং গুলো।









সুনান আদ-দারিমী (1073)


أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا عُيَيْنَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جَوْشَنٍ عَنْ مَرْوَانَ الْأَصْفَرِ عَنْ مَسْرُوقٍ قَالَ قُلْتُ لِعَائِشَةَ مَا يَحِلُّ لِلرَّجُلِ مِنْ امْرَأَتِهِ إِذَا كَانَتْ حَائِضًا قَالَتْ كُلُّ شَيْءٍ غَيْرُ الْجِمَاعِ قَالَ قَلْتُ فَمَا يَحْرُمُ عَلَيْهِ مِنْهَا إِذَا كَانَا مُحْرِمَيْنِ قَالَتْ كُلُّ شَيْءٍ غَيْرُ كَلَامِهَا




১০৭৩. মাসুরুক বলেন, আমি আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা কে বললাম, কোনো পুরুষের স্ত্রী হায়েযগ্রস্ত অবস্থায় তার স্ত্রী ব্যবহার কতটুকু তার জন্য হালাল? তিনি বলেন, সহবাস ব্যতীত সবকিছুই হালাল। তিনি (মাসরুক) বলেন, আমি বললাম, স্বামী-স্ত্রী উভয়ে মুহরিম (হজ্জ্বের ইহরাম বাঁধা) অবস্থায় স্বামীর উপর কোন কোন কাজ হারাম? তিনি বললেন, স্ত্রীর সাথে কথা-বার্তা বলা ব্যতীত আর সবই হারাম।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: দেখুন, আগের আয়িশার হাদীসটি।









সুনান আদ-দারিমী (1074)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ جَلْدِ بْنِ أَيُّوبَ عَنْ رَجُلٍ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ لِإِنْسَانٍ اجْتَنِبْ شِعَارَ الدَّمِ




১০৭৪. কোনো এক ব্যক্তি থেকে বর্ণিত, আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা লোকদের উদ্দেশ্যে বলেন, রক্তের চিহ্ন (স্থান) হতে দূরে থাকো।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ য়য়ীফ। কেননা, জিলদ ইবনু আইয়্যুব যঈফ এবং আয়িশা রা: হতে বর্ণনাকারী মাজহুল (অজ্ঞাত পরিচয়)।

তাখরীজ: দেখুন, আব্দুর রাযযাক নং ১২৪০, ১২৪১।









সুনান আদ-দারিমী (1075)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ إِسْمَعِيلَ عَنْ الشَّعْبِيِّ قَالَ إِذَا كَفَّ الْأَذَى يَعْنِي الدَّمَ




১০৭৫. ইসমাঈল হতে বর্ণিত, শা’বী রাহি. বলেন, (হায়িযগ্রস্ত মহিলার স্বামী তার সাথে মেলামেশা করতে পারবে,) যদি তার অপবিত্রতা তথা রক্তের স্থানে কাপড়ের টুকরা ব্যবহার করা হয়।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: তাবারী, তাফসীর ২/৩৮৪ সহীহ সনদে।

আর এর শাহিদ হাদীস বর্ণিত হয়েছে ইবনু আবী শাইবা ৪/২৫৫ শাইবানী হতে সহীহ সনদে।









সুনান আদ-দারিমী (1076)


أَخْبَرَنَا زَكَرِيَّا بْنُ عَدِيٍّ حَدَّثَنَا شَرِيكٌ عَنْ لَيْثٍ عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ لَا بَأْسَ أَنْ تُؤْتَى الْحَائِضُ بَيْنَ فَخِذَيْهَا وَفِي سُرَّتِهَا




১০৭৬. লাইছ হতে বর্ণিত, মুজাহিদ রাহি. বলেন, হায়িযগ্রস্ত মহিলার দুই উরুতে অথবা তার নাভীতে (তার স্বামীর) সহবাস করাতে কোনো দোষ নেই।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, কেননা, লাইছ যঈফ।

তাখরীজ: তবে হাসান সনদে এর শাহিদ বর্ণিত হয়েছে ইবনু আবী শাইবা ৪/২৫৬ হাসান রাহি. হতে।









সুনান আদ-দারিমী (1077)


أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ صَالِحٍ عَنْ لَيْثٍ عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ يُقْبِلُ بِهِ وَيُدْبِرُ إِلَّا الدُّبُرَ وَالْمَحِيضَ




১০৭৭. লাইছ হতে বর্ণিত, মুজাহিদ রাহি. বলেন, সামনে অথবা পিছন থেকে (সহবাস করায়) কোনো দোষ নেই, তবে পায়ুপথে অথবা হায়িযের সময় ব্যতীত।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, লাইছ যঈফ হওয়ার কারণে।

তাখরীজ; আমি এ শব্দে এটি আর কোথাও পাইনি। তবে আগের হাদীসটি দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (1078)


أَخْبَرَنَا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ وَيَزِيدُ بْنُ هَارُونَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ كُنْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي لِحَافٍ فَوَجَدْتُ مَا تَجِدُ النِّسَاءُ فَقُمْتُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا لَكِ أَنَفِسْتِ قُلْتُ وَجَدْتُ مَا تَجِدُ النِّسَاءُ قَالَ ذَاكَ مَا كَتَبَ اللَّهُ عَلَى بَنَاتِ آدَمَ قَالَتْ فَقُمْتُ فَأَصْلَحْتُ مِنْ شَأْنِي ثُمَّ رَجَعْتُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ادْخُلِي فِي اللِّحَافِ فَدَخَلْتُ




১০৭৮. আবী সালামাহ হতে বর্ণিত, উম্মু সালামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে এক লেপের নিচে ছিলাম। এমতাবস্থায় মেয়েদের যেরূপ হয়ে থাকে (তথা হায়িয), আমিও সেটা অনুভব করলাম। ফলে আমি উঠে দাঁড়ালাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “তোমার কি হলো? তোমার কি নিফাস (তথা হায়িয) হয়েছে?“ আমি বললাম, মেয়েদের যেরূপ হয়, আমিও সেরূপ অনুভব করছি (তথা আমার হায়িয হয়েছে)। তিনি বললেন: ওটি এমন জিনিস যা আল্লাহ আদম (আ:) এর কন্যা সন্তানের জন্য নির্ধারণ করেছেন। তিনি বলেন, আমি উঠে গেলাম এবং নিজের অবস্থা ঠিকঠাক করে নিয়ে তারপর ফিরে এলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “লেপের ভেতরে প্রবেশ করো।“ তারপর আমি ভেতরে প্রবেশ করলাম।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।

তাখরীজ: আহমাদ ৬/২৯৪; ইবনু মাজাহ ৬৩৭; আমরা এর তাখরীজ পূর্ণ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী ১২/৪২৬ এ; আরও দেখুন, পরবর্তী টীকাটি, মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবা ৪/২৫৪ ও মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক নং ১২৩৫।









সুনান আদ-দারিমী (1079)


أَخْبَرَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ عَنْ هِشَامٍ الدَّسْتَوَائِيِّ عَنْ يَحْيَى عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أُمِّ سَلَمَةَ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ بَيْنَا أَنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُضْطَجِعَةٌ فِي الْخَمِيلَةِ إِذْ حِضْتُ فَانْسَلَلْتُ فَأَخَذْتُ ثِيَابَ حِيضَتِي فَقَالَ أَنَفِسْتِ قُلْتُ نَعَمْ قَالَتْ دَعَانِي فَاضْطَجَعْتُ مَعَهُ فِي الْخَمِيلَةِ قَالَتْ وَكَانَتْ هِيَ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَغْتَسِلَانِ مِنْ الْإِنَاءِ الْوَاحِدِ مِنْ الْجَنَابَةِ وَكَانَ يُقَبِّلُهَا وَهُوَ صَائِمٌ




১০৭৯. যাইনাব বিনতে উম্মু সালামাহ হতে বর্ণিত, উম্মু সালামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে একটি মখমলের কম্বলের নিচে শায়িত ছিলাম। আকস্মিকভাবে আমার হায়িয শুরু হলে আমি চুপে চুপে বেরিয়ে গিয়ে আমার হায়িযের কাপড় পরিধান করে নিলাম। তখন তিনি বললেন: “তোমার কি নিফাস (হায়িয) হয়েছে?“ আমি বললাম: জ্বি। তিনি বলেন: তখন তিনি আমাকে ডাকলেন ফলে আমি তার সাথে কম্বলের ভেতর শুয়ে পড়লাম।তিনি বলেন: তিনি ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উভয়ে এক পাত্র হতে পানি নিয়ে জানাবাতের গোসল করতেন। আর তিনি সিয়ামরত অবস্থায় তাকে চুম্বন করতেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটি বুখারী ও মুসলিমের হাদীস।

তাখরীজ: সহীহ বুখারী ২৯৮; সহীহ মুসলিম ২৯৬।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৯৯১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩৬৩।









সুনান আদ-দারিমী (1080)


أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ حَدَّثَنَا خَالِدٌ عَنْ الشَّيْبَانِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَدَّادٍ عَنْ مَيْمُونَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُبَاشِرُ الْمَرْأَةَ مِنْ نِسَائِهِ فَوْقَ الْإِزَارِ وَهِيَ حَائِضٌ




১০৮০. আব্দুল্লাহ ইবনু শাদ্দাদ রাহি. হতে বর্ণিত, মাইমুনাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের কারো কারো সাথে ইযার (পায়জামা)-এর উপর দিয়ে মেলামেশা করতেন, অথচ তখন সেই স্ত্রী হায়িয অবস্থায় থাকতেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭০৮২ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩৬৮; আরও দেখুন, সুনানে বাইহাকী ৭/১৯১।