হাদীস বিএন


সুনান আদ-দারিমী





সুনান আদ-দারিমী (1081)


أَخْبَرَنَا بِشْرُ بْنُ عُمَرَ الزَّهْرَانِيُّ حَدَّثَنَا أَبُو الْأَحْوَصِ حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَقَ عَنْ أَبِي مَيْسَرَةَ عَمْرِو بْنِ شُرَحْبِيلَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْمُرُ إِحْدَانَا إِذَا كَانَتْ حَائِضًا أَنْ تَشُدَّ عَلَيْهَا إِزَارَهَا ثُمَّ يُبَاشِرُهَا




১০৮১. আবী মায়সারাহ আমর ইবনু শুরাহবীল হতে বর্ণিত, আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমাদের কারো হায়িয হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নির্দেশ দিতেন যে, সে যেনো তার ইযার শক্তভাবে বেঁধে নেয়। এরপর তিনি তার সাথে মেলামেশা করতেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: ১০৭৭ (অনুবাদে ১০৭১) নং এর তাখরীজ গত হয়েছে।









সুনান আদ-দারিমী (1082)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ أَبِي مَيْسَرَةَ قَالَ قَالَتْ أُمُّ الْمُؤْمِنِينَ كُنْتُ أَتَّزِرُ وَأَنَا حَائِضٌ ثُمَّ أَدْخُلُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي لِحَافِهِ




১০৮২. আবী মাইসারাহ হতে বর্ণিত, উম্মুল মু’মিনীনদের কোনো একজন বলেন, আমি হায়িযগ্রস্ত হলে ইযার পরিধান করতাম। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে তাঁর লেপের ভেতরে প্রবেশ করতাম।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বাইহাকী ১/৩১৪; আগের টীকাটি দেখুন। এছাড়া আয়িশা রা: এর হাদীস পরবর্তী ১০৯২ (অণুবাদে ১০৮৬) নং এও আসছে।









সুনান আদ-দারিমী (1083)


أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ عَنْ خَالِدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ قَالَ سُئِلَ ابْنُ جُبَيْرٍ مَا لِلرَّجُلِ مِنْ امْرَأَتِهِ إِذَا كَانَتْ حَائِضًا قَالَ مَا فَوْقَ الْإِزَارِ




১০৮৩. ইয়াযীদ ইবনু আবী যিয়াদ বলেন, ইবনু জুবাইর কে জিজ্ঞেস করা হলো, স্ত্রী যখন হায়িযগ্রস্ত হয়, তখন একজন পুরুষের জন্য তার স্ত্রীর কতটুকু হালাল?তিনি বললেন: ইযার (পাজামা)-এর উপর দিয়ে যা কিছু করা সম্ভব।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। কারণ, ইয়াযীদ ইবনু আবী যিয়াদ যঈফ।

তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৪/২৫৪।









সুনান আদ-দারিমী (1084)


أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا ابْنُ عَوْنٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ عَنْ عَبِيدَةَ فِي الْحَائِضِ قَالَ الْفِرَاشُ وَاحِدٌ وَاللُّحُفُ شَتَّى فَإِنْ كَانُوا لَا يَجِدُونَ رَدَّ عَلَيْهَا مِنْ لِحَافِهِ




১০৮৪. মুহাম্মদ ইবনু সীরীন থেকে বর্ণিত, হায়িযগ্রস্ত মহিলা সম্পর্কে আবীদাহ রাহি. বলেন, বিছানা একটিই হবে, তবে লেপ হতে হবে আলাদা। কিন্তু যদি আলাদা লেপ না থাকে, তবে স্বামী নিজের লেপ দিয়েই তাকে জড়িয়ে নেবে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: তাবারী, তাফসীর ২/৩৮২।









সুনান আদ-দারিমী (1085)


أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا ابْنُ عَوْنٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ عَنْ شُرَيْحٍ قَالَ لَهُ مَا فَوْقَ السَّرَرِ أَوْ السُّرَّةِ




১০৮৫. মুহাম্মদ ইবনু সীরীন হতে বর্ণিত, শুরাইহ রাহি. বলেন: (হায়িযগ্রস্ত স্ত্রীর) নাভীর উপরের অংশে যা কিছু করা সম্ভব, (স্বামী করতে পারে)।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ১২৩৯; তাবারী, তাফসীর ২/৩৮৪।









সুনান আদ-দারিমী (1086)


حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ أَبِي عِمْرَانَ الْجَوْنِيِّ عَنْ يَزِيدَ بْنِ بَابَنُوسَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَوَشَّحُنِي وَأَنَا حَائِضٌ وَيُصِيبُ مِنْ رَأْسِي وَبَيْنِي وَبَيْنَهُ ثَوْبٌ




১০৮৬. ইয়াযীদ ইবনু বাবানূস থেকে বর্ণিত, তিনি আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণনা করেন যে, আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেছেন, আমি হায়িযগ্রস্ত থাকা অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে জড়িয়ে ধরতেন এবং আমার মাথায় আদর করতেন। তখন আমার ও তাঁর মাঝে কেবল একটি কাপড় থাকতো।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: ((মুসনাদে আহমাদ ৬/১৮৭ নং ২৫৫৮৩)); আবু দাউদ তায়ালিসী ১/৬২ নং ২৩৮; বাইহাকী ১/৩১২; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৪৮৭; পূর্ণ তাখরীজের জন্য দেখুন ১০৭৭, ১০৭৮, ১০৮৭, ১০৮৮ (অনুবাদে ১০৭১, ১০৭২, ১০৮১, ১০৮২) নং হাদীসগুলি।









সুনান আদ-দারিমী (1087)


أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ الْيَهُودَ كَانُوا إِذَا حَاضَتْ الْمَرْأَةُ فِيهِمْ لَمْ يُؤَاكِلُوهَا وَلَمْ يُشَارِبُوهَا وَأَخْرَجُوهَا مِنْ الْبَيْتِ وَلَمْ تَكُنْ مَعَهُمْ فِي الْبُيُوتِ فَسُئِلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ذَلِكَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى وَيَسْأَلُونَكَ عَنْ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى فَأَمَرَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُؤَاكِلُوهُنَّ وَأَنْ يُشَارِبُوهُنَّ وَأَنْ يَكُنَّ مَعَهُمْ فِي الْبُيُوتِ وَأَنْ يَفْعَلُوا كُلَّ شَيْءٍ مَا خَلَا النِّكَاحَ فَقَالَتْ الْيَهُودُ مَا يُرِيدُ هَذَا أَنْ يَدَعَ شَيْئًا مِنْ أَمْرِنَا إِلَّا خَالَفَنَا فِيهِ فَجَاءَ عَبَّادُ بْنُ بِشْرٍ وَأُسَيْدُ بْنُ حُضَيْرٍ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَخْبَرَاهُ بِذَلِكَ وَقَالَا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَفَلَا نَنْكِحُهُنَّ فِي الْمَحِيضِ فَتَمَعَّرَ وَجْهُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَمَعُّرًا شَدِيدًا حَتَّى ظَنَنَّا أَنَّهُ وَجَدَ عَلَيْهِمَا فَقَامَا فَخَرَجَا فَاسْتَقْبَلَتْهُمَا هَدِيَّةُ لَبَنٍ فَبَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي آثَارِهِمَا فَرَدَّهُمَا فَسَقَاهُمَا فَعَلِمْنَا أَنَّهُ لَمْ يَغْضَبْ عَلَيْهِمَا




১০৮৭. ছাবিত হতে বর্ণিত, তিনি আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেন, যখন ইয়াহুদীদের কোনো নারীর হায়েয হতো, তখন তারা তার সাথে একত্রে বসে খানাপিনা করতো এবং তাকে ঘর থেকে বের করে দিতো আর সেও তাদের সাথে একইঘরে থাকতো না।

এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে আল্লাহ তা’আলা নাযিল করলেন: (“এবং তারা তোমাকে (স্ত্রীলোকদের) ঋতুকাল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছে; তুমি বলো: ওটা হচ্ছে কষ্টদায়ক অবস্থা...।“ (সুরা বাকার: ২২২)) তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের (হায়িযগ্রস্ত মহিলাদের) সাথে একত্রে বসে খানাপিনা করতে এবং তাকে তাদের সাথে একইঘরে থাকতে নির্দেশ দিলেন। আর সহবাস ব্যতীত আর সকল কিছু করতে তাদেরকে আদেশ করলেন। তখন এক ইয়াহুদী বললো, এ লোকটি তো উদ্দেশ্যই হলো প্রতিটি কাজেই আমাদের বিরোধিতা করা।

তারপর আব্বাদ ইবনু বিশর ও উসাইদ ইবনু হুযাইর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে এ খবর দিয়ে বললো, ইয়া রাসূলুল্লাহ! তাদের হায়িযকালীন সময়ে আমরা কি তাদের সাথে মিলিত হবো না? (একথা শুনে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চেহারা ভীষণ বিবর্ণ হয়ে গেলো। এমনকি আমরা ধারণা করলাম, তিনি তাদের দু’জনের উপর রাগান্বিত হয়েছেন। তারা উঠে দাঁড়িয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে গেলেন। আর তখনই দুধ হাদিয়া এসে গেলো। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের দু’জনের অনসন্ধানে লোক পাঠালেন এবং সে তাদেরকে ফিরিয়ে আনল এবং তিনি তাদেরকে (দুধ) পান করালেন। তখন আমরা বুঝতে পারলাম যে, তিনি তাদের দু’জনের উপর রাগান্বিত হননি।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ৩০২; আমরা এর পূর্ণাঙ্গ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩৫৩৩ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১২৬২ তে।









সুনান আদ-দারিমী (1088)


أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا أَبُو هِلَالٍ حَدَّثَنِي شَيْبَةُ بْنُ هِشَامٍ الرَّاسِبِيُّ قَالَ سَأَلْتُ سَالِمَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ الرَّجُلِ يُضَاجِعُ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ فِي لِحَافٍ وَاحِدٍ فَقَالَ أَمَّا نَحْنُ آلَ عُمَرَ فَنَهْجُرُهُنَّ إِذَا كُنَّ حُيَّضًا




১০৮৮. শাইবা ইবনু হিশাম আর রাসিবী বলেন, আমি সালিম ইবনু আব্দুল্লাহকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম যে তার হায়িযগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে একই লেপের মধ্যে শয়ন করে। কথা হলো, আমরা উমারের (রা:) পরিবারের লোক। অতএব, আমাদের স্ত্রীগণ হায়িযগ্রস্ত হলে আমরা তাদের থেকে দূরে থাকি।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান, আবী হিলাল আর রাসিবীর কারণে।

তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৪/২৫৫।









সুনান আদ-দারিমী (1089)


أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَقَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ لَا بَأْسَ بِفَضْلِ وَضُوءِ الْمَرْأَةِ مَا لَمْ تَكُنْ جُنُبًا أَوْ حَائِضًا




১০৮৯. নাফি’ রাহি. হতে বর্ণিত, ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, কোনো নারীর ওযুর অবশিষ্ট পানি ব্যাবহারে কোনো দোষ নেই, যতক্ষণ সে ‘জুনুবী’ (অপবিত্র) অথবা হায়েযগ্রস্ত না হয়।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : রাবীগণ নির্ভরযোগ্য। তবে ইবনু ইসহাক মুদাল্লিস আর তিনি এটি ‘আন আন’ পদ্ধতিতে বর্ণনা করেছেন। ফলে এ সনদ যঈফ। ((তবে হাদীসটি সহীহ লিগয়রিহী- যা তাখরীজে উল্লেখিত হয়েছে- অনুবাদক))।

তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/৩৩; আব্দুর রাযযাক নং ৩৯৪ সহীহ সনদে।









সুনান আদ-দারিমী (1090)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ غَيْلَانَ عَنْ الْحَكَمِ قَالَ يَضَعُهُ وَضْعًا يَعْنِي عَلَى الْفَرْجِ




১০৯০. গায়লান হতে বর্ণিত, হাকাম বলেন, সেই মহিলা তার স্বামীর সাথে যথাস্থানে তথা গোপনাঙ্গের উপর জড়াজড়ি করতে পারবে (এতে কোনো দোষ নেই। তবে, স্বামী তাতে প্রবিষ্ট করাবে না)।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৪/২৫৫; সেখানকার শব্দাবলি: “তার গোপনাঙ্গে তা স্থাপন করাতে কোনো দোষ নেই, তবে সে তা প্রবিষ্ট করাতে পারবে না।“









সুনান আদ-দারিমী (1091)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ قَالَ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ حَدَّثَنِي ابْنُ شِهَابٍ عَنْ حَبِيبٍ مَوْلَى عُرْوَةَ عَنْ نُدْبَةَ مَوْلَاةِ مَيْمُونَةَ عَنْ مَيْمُونَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُبَاشِرُ الْمَرْأَةَ مِنْ نِسَائِهِ وَهِيَ حَائِضٌ إِذَا كَانَ عَلَيْهَا إِزَارٌ يَبْلُغُ أَنْصَافَ الْفَخِذَيْنِ أَوْ الرُّكْبَتَيْنِ مُحْتَجِزَةً بِهِ




১০৯১. মায়মুনাহ’র মুক্তদাসী নুদবাহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সহধর্মিণী মায়মুনাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর স্ত্রীগণের কারো সাথে মেলামেশা (জড়াজড়ি) করতেন, অথচ সে তখন হায়িযগ্রস্ত থাকতো। তখন তার পরিধেয় ইযার (নিম্নাংশের পোশাক) তার উরুদ্বয় কিংবা হাঁটুদ্বয়ের অর্ধাংশ পর্যন্ত আবৃত রাখতো।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, তবে হাদীসটি সহীহ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী (৭০৮২, ৭০৮৯, ৭০৯২, ৭১০৪ ; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩৬৫। আরও দেখুন, বিগত ১০৮৬ (অনুবাদে ১০৮০) নং হাদীসটি।









সুনান আদ-দারিমী (1092)


أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كُنْتُ أُرَجِّلُ رَأْسَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا حَائِضٌ




১০৯২. উরওয়াহ রাহি. থেকে বর্ণিত, আয়িশাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাথা আঁচড়ে দিতাম, অথচ তখন আমি হায়িযগ্রস্ত অবস্থায় ছিলাম।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : হাদীসটি সহীহ।

তাখরীজ: মালিক ১০৪; সহীহ বুখারী ২৯৫; সহীহ মুসলিম ২৯৭; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী ৪৬৩২ নং ; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩৫৯ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ১৮৪ এ।









সুনান আদ-দারিমী (1093)


أَخْبَرَنَا خَالِدٌ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كُنْتُ أُرَجِّلُ رَأْسَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا حَائِضٌ




১০৯৩. হিশাম ইবনু উরওয়াহ তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, তিনি আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাথা আঁচড়ে দিতাম, অথচ তখন আমি হায়িযগ্রস্ত অবস্থায় ছিলাম।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : হাদীসটি সহীহ।

তাখরীজ: দেখুন, আগের টীকাটি।









সুনান আদ-দারিমী (1094)


أَخْبَرَنَا خَالِدٌ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ قَالَ كُنَّ جَوَارِي ابْنِ عُمَرَ يَغْسِلْنَ رِجْلَيْهِ وَهُنَّ حُيَّضٌ وَيُعْطِينَهُ الْخُمْرَةَ




১০৯৪. মালিক রাহি. হতে বর্ণিত, নাফিঈ’ রাহি. বলেন, ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর দাসীগণ তার পা দু’টি ধুয়ে দিত এবং তাকে ‘খুমরাহ’ বা জায়নামায এনে দিত; অথচ তখন তারা হায়িযগ্রস্ত থাকত।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এ হাদীসটি সহীহ।

তাখরীজ: মালিক ৯০; আব্দুর রাযযাক নং ১২৫৫; ইবনু আবী শাইবা ১/২০২।









সুনান আদ-দারিমী (1095)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ الْمِقْدَامِ بْنِ شُرَيْحِ بْنِ هَانِئٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كُنْتُ أُوتَى بِالْإِنَاءِ فَأَضَعُ فَمِي فَأَشْرَبُ وَأَنَا حَائِضٌ فَيَضَعُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَمَهُ عَلَى الْمَكَانِ الَّذِي وَضَعْتُ فَيَشْرَبُ وَأُوتَى بِالْعَرْقِ فَأَنْتَهِسُ فَيَضَعُ فَاهُ عَلَى الْمَكَانِ الَّذِي وَضَعْتُ فَيَنْتَهِسُ ثُمَّ يَأْمُرُنِي فَأَتَّزِرُ وَأَنَا حَائِضٌ وَكَانَ يُبَاشِرُنِي




১০৯৫. মিক্বদাম ইবনু শুরাইহ ইবনু হানী তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমি হায়িযগ্রস্ত অবস্থায় আমার নিকট পাত্র আনা হলে আমি তা থেকে পান করতাম। এরপর আমি পাত্রের যে স্থানে মুখ লাগিয়ে পান করতাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঠিক সেইস্থানেই মুখ লাগিয়ে পান করতেন। আমাকে গোশতের হাড্ডি দেয়া হলে আমি গোশতের হাড়ের যেস্থানে কামড় দিতাম, তিনিও ঠিক সেইস্থানেই মুখ লাগিয়ে কামড় দিতেন। তারপর আমার হায়িযগ্রস্ত অবস্থায় তিনি আমাকে ইযার পরার নির্দেশ দিতেন এবং তিনি আমার সাথে মেলামেশা (জড়াজড়ি) করতেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এ হাদীসটি সহীহ।

তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ৩০০; আমরা এর তাখরীজ পূর্ণ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৭৭১; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১২৯৩, ১৩৬০, ১৩৬১ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ১৬৬ তে।









সুনান আদ-দারিমী (1096)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ مُغِيرَةَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ قَالَ كَانَ يُقَالُ الْحَائِضُ لَيْسَتْ الْحِيضَةُ فِي يَدِهَا تَغْسِلُ يَدَهَا وَتَعْجِنُ وَتَنْبِذُ




১০৯৬. মুগীরাহ হতে বর্ণিত, ইবরাহীম রাহি. বলেন, তার নিকট বলা হয়েছে: হায়িযগ্রস্ত মহিলার হায়িয তার হাতে লেগে নেই। সে তার হাত ধুয়ে নেবে এবং আটার খামীর বানাবে এবং নবীয তৈরি করবে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আমি এটি আর কোথাও পাইনি। তবে এটি মারফু’ হিসেবে সহীহ। দেখুন ৭৯৮ ও ১১০৫ (অনুবাদে ৭৯২, ১০৯৯) নং ও পরবর্তী হাদীসটি।









সুনান আদ-দারিমী (1097)


أَخْبَرَنَا أَبُو زَيْدٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ مُغِيرَةَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ قَالَ كَانَ يَقُولُ إِنَّ الْحَائِضَ حِيضَتُهَا لَيْسَتْ فِي يَدِهَا وَكَانَ يَقُولُ الْحَائِضُ حُبُّ الْحَيِّ




১০৯৭. মুগীরাহ হতে বর্ণিত, ইবরাহীম রাহি. বলতেন, হায়িযগ্রস্ত মহিলার হায়িয তার হাতে লেগে নেই। তিনি আরও বলতেন: হায়িযগ্রস্ত মহিলা তো জীবিত (অনেক নারী-পূরুষে)-দের প্রিয়ভাজন ব্যক্তি।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আমি এটি আর কোথাও পাইনি। আগের হাদীসটি দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (1098)


أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ حَمَّادٍ قَالَ سَأَلْتُ إِبْرَاهِيمَ عَنْ مُصَافَحَةِ الْيَهُودِيِّ وَالنَّصْرَانِيِّ وَالْمَجُوسِيِّ وَالْحَائِضِ فَلَمْ يَرَ فِيهِ وُضُوءًا




১০৯৮. হাম্মাদ রাহি. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবরাহীম রাহি. কে ইযাহুদী, নাসারা এবং অগ্নিপুজকদের সাথে মুসাফাহ’ করা ও হায়িযগ্রস্ত মহিলার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি এ জন্য ওযু করা প্রয়োজন বলে মনে করেননি।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ৪৫৫।









সুনান আদ-দারিমী (1099)


أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا زَائِدَةُ حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ السُّدِّيُّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ الْبَهِيِّ قَالَ حَدَّثَتْنِي عَائِشَةُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ فِي الْمَسْجِدِ فَقَالَ لِلْجَارِيَةِ نَاوِلِينِي الْخُمْرَةَ قَالَتْ أَرَادَ أَنْ يَبْسُطَهَا وَيُصَلِّيَ عَلَيْهَا فَقَالَتْ إِنَّهَا حَائِضٌ فَقَالَ إِنَّ حِيضَتَهَا لَيْسَ فِي يَدِهَا




১০৯৯. আব্দুল্লাহ আল বাহী বলেন, আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে ছিলেন। এমতাবস্থায় তিনি তার দাসীকে ডেকে বললেন: “আমাকে ‘খুমরাহ’ বা জায়নামায এনে দাও।“ তিনি (আয়িশা রা:) বলেন, তিনি তা বিছিয়ে সালাত আদায় করতে চেয়েছিলেন। তখন সেই দাসী বলল যে, তার তো হায়িয হয়েছে। তখন তিনি বললেন: “তোমার হাতে তো আর হায়িয লেগে নেই।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান জাফর ইবনু হারিস আল ওয়ারিসীর কারণে। তবে হাদীসটি বুখারী মুসলিমের হাদীস।

তাখরীজ: বুখারী ৩০১; মুসলিম ২৯৭; আবু আউয়ানা ১/৩১৩ সহীহ সনদে। আমরা এর পূর্ণাঙ্গ তাখরীজ করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৬৬৮, ৩৬৬৯। আরও দেখুন, পরবর্তী হাদীসটি এবং বিগত ১০৯৮, ১০৯৯ ও ১১০৬ (অনুবাদে ১০৯২, ১০৯৩ ও ১১০০) নং হাদীসসমূহ।









সুনান আদ-দারিমী (1100)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ حَدَّثَنَا فُضَيْلُ بْنُ عِيَاضٍ عَنْ سُلَيْمَانَ عَنْ تَمِيمِ بْنِ سَلَمَةَ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُخْرِجُ إِلَيَّ رَأْسَهُ مِنْ الْمَسْجِدِ فَأَغْسِلُهُ يَعْنِي وَهُوَ مُعْتَكِفٌ




১১০০. উরওয়াহ হতে বর্ণিত, আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে অবস্থানকালে তাঁর মাথা বের করে দিতেন এবং আমি তা ধুয়ে দিতাম। তারমানে তখন তিনি ই’তিকাফকারী ছিলেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ২৯৮ (৮)। সামনে ১১০৯ (অনুবাদে ১১০৩) নং এ আসছে। পূর্ণাঙ্গ তাখরীজের জন্য দেখুন বিগত ১০৯৮, ১০৯৯ (অনুবাদে ১০৯২, ১০৯৩) নং হাদীসগুলি।