হাদীস বিএন


সুনান আদ-দারিমী





সুনান আদ-দারিমী (1241)


أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ هُوَ ابْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ حَدَّثَنَا صَفْوَانُ بْنُ عِيسَى عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي عُبَيْدٍ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الْأَكْوَعِ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي الْمَغْرِبَ سَاعَةَ تَغْرُبُ الشَّمْسُ إِذَا غَابَ حَاجِبُهَا




১২৪১. সালামাহ ইবনুল আকওয়াহ বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাগরিবের সালাত আদায় করতেন সুর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে, যখন এর (উপরের) কিনারাও অদৃশ্য হয়ে যেতো।[1]

[1] তাহক্বীক্ব; এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৫৬১; সহীহ মুসলিম ৬৩৬; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩৫৯৩ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৫২৩। (( তিরমিযী ১৬৪; আবু দাউদ ৪১৭; ইবনু মাজাহ ৬৮৮; বাইহাকী ১/৪৪৬; আহমাদ ৪/৫৪; তাবারাণী ৬২৮৯; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ ৩৭২।- সহীহ ইবনু হিব্বান ১৫২৩ নং এর মুহাক্বিক্ব আরনাউত্বের টীকা হতে-অনুবাদক।))









সুনান আদ-দারিমী (1242)


أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى عَنْ عَبَّادِ بْنِ الْعَوَّامِ عَنْ عُمَرَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ الْأَحْنَفِ بْنِ قَيْسٍ عَنْ الْعَبَّاسِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا تَزَالُ أُمَّتِي بِخَيْرٍ مَا لَمْ يَنْتَظِرُوا بِالْمَغْرِبِ اشْتِبَاكَ النُّجُومِ




১২৪২. আব্বাস হতে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে, তিনি বলেন: “আমার zwj;উম্মত ততদিন পর্যন্ত কল্যাণের উপর থাকবে, যতদিন পর্যন্ত তারা তারকারাজি চমকানো পর্যন্ত মাগরিবের বিলম্বিত করবে না।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। আমর ইবনু ইবরাহীম আল আবদী সম্পর্কে ইমাম আহমদ বলেছেন: সে কাতাদা হতে অনেকগুলি মুনকার হাদীস বর্ণনা করে।... আর ইবাদ ইবনু আওয়াম তার সূত্রে মুনকার হাদীস তখা এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।....

তাখরীজ: ইবনু মাজাহ ৬৮৯; বাযযার নং ১৩০৫; ইবনু আদী, আল কামিল ৫/১৭০১; উকাইলী, আয যু’আফা’ ৩/১৪৭; হাকিম সহীহ শাহিদ হিসেবে ১/১৯১; বাইহাকী ১/৪৪৮; খতীব, তারীখ বাগদাদ ১/৪০৫;তাবারাণী, আস সগীর ১/২৮; আওসাত ১৭৯১।

তবে এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবু আইয়্যুব আনসারী রা: হতে আহমদ ৪/১৪৭, ৫/৪১৭,৪২২; আবু দাউদ ৪১৮ সহীহ সনদে। হাকিম ও যাহাবী সহীহ বলেছেন, দেখুন,ইলালুল হাদীস ১/১৭৭ নং ৫০৬।

এর অপর শাহিদ সাইব ইবনু ইয়াযীদ হতে বাইহাকী ১/৪৪৮; খতীব, তারীখ বাগদাদ ১৪/১৪ সহীহ সনদে।









সুনান আদ-দারিমী (1243)


أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ أَبِي بِشْرٍ عَنْ بَشِيرِ بْنِ ثَابِتٍ عَنْ حَبِيبِ بْنِ سَالِمٍ عَنْ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ قَالَ وَاللَّهِ إِنِّي لَأَعْلَمُ النَّاسِ بِوَقْتِ هَذِهِ الصَّلَاةِ يَعْنِي صَلَاةَ الْعِشَاءِ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّيهَا لِسُقُوطِ الْقَمَرِ لِثَالِثَةٍ قَالَ يَحْيَى أَمَلَّهُ عَلَيْنَا مِنْ كِتَابِهِ عَنْ بَشِيرِ بْنِ ثَابِتٍ




১২৪৩. নু’মান ইবনু বাশীর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি এ সালাত তথা এশার সালাতের ওয়াক্ত সম্পর্কে অন্যদের তুলনায় অধিক অবগত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই সালাত তৃতীয়ার চাঁদ অস্তমিত হওয়া পরিমাণ সময়ের পর আদায় করতেন।[1] ইয়াহইয়া বলেন, তিনি তার পাণ্ডুলিপি হতে আমাদের নিকট বাশীর ইবনু ছাবিত হতে বর্ণনা করেছেন।

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আহমাদ ৪/২৭২, ২৭৪; আবু দাউদ ৪১৯; তিরমিযী ১৬৫; নাসাঈ ৫২৯।









সুনান আদ-দারিমী (1244)


أَخْبَرَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ وَعَمْرُو بْنُ عَاصِمٍ قَالَا حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ بَهْدَلَةَ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ أَخَّرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَاةَ الْعِشَاءِ ذَاتَ لَيْلَةٍ حَتَّى كَادَ أَنْ يَذْهَبَ ثُلُثُ اللَّيْلِ أَوْ قَرِيبُهُ فَجَاءَ وَالنَّاسُ رُقَّدٌ وَهُمْ عِزُونَ وَهِيَ حِلَقٌ فَغَضِبَ فَقَالَ لَوْ أَنَّ رَجُلًا نَدَى النَّاسَ وَقَالَ عَمْرٌو نَدَبَ النَّاسَ إِلَى عَرْقٍ أَوْ مِرْمَاتَيْنِ لَأَجَابُوا إِلَيْهِ وَهُمْ يَتَخَلَّفُونَ عَنْ هَذِهِ الصَّلَاةِ لَهَمَمْتُ أَنْ آمُرَ رَجُلًا لِيُصَلِّيَ بِالنَّاسِ ثُمَّ أَتَخَلَّفَ عَلَى أَهْلِ هَذِهِ الدُّورِ الَّذِينَ يَتَخَلَّفُونَ عَنْ هَذِهِ الصَّلَاةِ فَأُضْرِمَهَا عَلَيْهِمْ بِالنِّيرَانِ




১২৪৪. আবী হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, একরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈশার সালাত কে পিছিয়ে দিলেন, এমনকি রাত্রির এক-তৃতীয়াংশ কিংবা তার কাছাকাছি সময় অতিক্রান্ত হওয়ার উপক্রম হলো। তারপর তিনি এলেন, লোকেরা তখন ছোট ছোট দলে (বিভক্ত হয়ে) বৃত্তাকারে ঘুমাচ্ছিলো, ফলে তিনি রাগান্বিত হলেন অত:পর বললেন:“যদি কোনো ব্যক্তি লোকদেরকে একটি গোশত ছাড়ানো হাড় কিংবা বর্শা (তথা খেলা-ধুলা)-এর দিকে আহবান করে- রাবী আমর বলেন, ডাকে, তবে অবশ্যই তারা সে আহবানে সাড়া দিতো। কিন্তু তারা এ সালাত (ঈশার সালাত) হতে পিছিয়ে থাকে। আর আমার ইচ্ছা হয়, আমি কোনো একজনকে লোকদেরকে নিয়ে সালাত আদায়ের নির্দেশ দেই, অত:পর এ সকল বাড়ীঘরের অধিবাসী যারা সালাত হতে পিছিয়ে রয়েছে (হাজির হয়নি), তাদের নিকট যাই এবং সেগুলি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেই।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান; তবে হাদীসটি বুখারী মুসলিমের।

তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৬৪৪; সহীহ মুসলিম ৬৫১; এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৩৩৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২০৯৬-২০৯৮; হুমাইদী নং ৯৮৬।









সুনান আদ-দারিমী (1245)


أَخْبَرَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ أَعْتَمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْعِشَاءِ حَتَّى نَادَاهُ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ قَدْ نَامَ النِّسَاءُ وَالصِّبْيَانُ فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ إِنَّهُ لَيْسَ أَحَدٌ مِنْ أَهْلِ الْأَرْضِ يُصَلِّي هَذِهِ الصَّلَاةَ غَيْرَكُمْ وَلَمْ يَكُنْ أَحَدٌ يُصَلِّي يَوْمَئِذٍ غَيْرَ أَهْلِ الْمَدِينَةِ




১২৪৫. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈশার সালাত কে রাত্রির এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত পিছিয়ে দিলেন। তখন উমার রা: তাঁকে এই বলে ডাকলেন যে, নারী ও শিশুরা তো ঘুমিয়ে পড়েছে। অত:পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বেরিয়ে এসে বললেন: তোমরা ব্যতীত পৃথিবীর অধিবাসীদের মধ্যে আর কেউ নেই যে এ সালাত আদায় করছে।“ আর তখন মদীনাবাসী ব্যতীত কেউ সালাত আদায় করতো না।[1]

[1] তাহক্বীক্ব; এর সনদ সহীহ। এটি বুখারী মুসলিমের হাদীস।

তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৫৬৬; সহীহ মুসলিম ৬৩৮; এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৫৩৫ এ।









সুনান আদ-দারিমী (1246)


حَدَّثَنَا إِسْحَقُ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنَا الْمُغِيرَةُ بْنُ حَكِيمٍ أَنَّ أُمَّ كُلْثُومٍ بِنْتَ أَبِي بَكْرٍ أَخْبَرَتْهُ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ أَعْتَمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ لَيْلَةٍ حَتَّى ذَهَبَ عَامَّةُ اللَّيْلِ وَرَقَدَ أَهْلُ الْمَسْجِدِ فَخَرَجَ فَصَلَّاهَا فَقَالَ إِنَّهَا لَوَقْتُهَا لَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي




১২৪৬. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈশার সালাত কে পিছিয়ে দিলেন। এমনকি রাত্রির প্রথম (এক-তৃতীয়) অংশ অতিবাহিত হয়ে গেলো। মসজিদে অবস্থানকারী লোকেরা ঘুমিয়ে পড়লো। অত:পর তিনি বের হলেন এবং ঈশার সালাত আদায় করলেন। তারপর বললেন: “যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর হবে বলে আশংকা না করতাম, তবে এটিই এর (ঈশার সালাতের zwj;মুস্তাহাব) ওয়াক্ত ছিলো।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ২১১৪; আহমাদ ৬/১৫০; সহীহ zwj;মুসলিম ৬৩৮ (২১৯); নাসাঈ ৫৩৭; আবু আউয়ানাহ ১/৩৬২; বাইহাকী ১/৪৫০; আরও দেখুন, আগের টীকাটি।









সুনান আদ-দারিমী (1247)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي خَلَفٍ أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَمْرٍو عَنْ عَطَاءٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ ح وَابْنُ جُرَيْجٍ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَخَّرَ الصَّلَاةَ ذَاتَ لَيْلَةٍ فَقِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ الصَّلَاةَ نَامَ النِّسَاءُ وَالْوِلْدَانُ فَخَرَجَ وَهُوَ يَمْسَحُ الْمَاءَ عَنْ شِقِّهِ وَهُوَ يَقُولُ هُوَ الْوَقْتُ لَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي




১২৪৭. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈশার সালাত কে পিছিয়ে দিলেন। তখন তাঁকে বলা হলো, ইয়া রাসূলুল্লাহ! নারী ও শিশুরা তো ঘুমিয়ে পড়েছে। অত:পর তিনি (মাথার) একপাশ হতে পানি মুছতে মুছতে বেরিয়ে এসে বললেন: “যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর হবে বলে আশংকা না করতাম, তবে এটিই এর (ঈশার সালাতের zwj;মুস্তাহাব) ওয়াক্ত ছিলো।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আবু ইয়ালা ২৩৯৮; হুমাইদী নং ৪৯৯; বুখারী ৫৭১; মুসলিম ৬৪২; এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৩৯৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১০৯৮, ১৫৩২, ১৫৩৩।









সুনান আদ-দারিমী (1248)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ حَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ حَدَّثَنِي عُرْوَةُ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كُنَّ نِسَاءُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّينَ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْفَجْرَ ثُمَّ يَرْجِعْنَ مُتَلَفِّعَاتٍ بِمُرُوطِهِنَّ قَبْلَ أَنْ يُعْرَفْنَ




১২৪৮. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রীগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে ফজর সালাত আদায় করতাম। অত:পর চিনে ফেলার পূর্বেই আমরা আমাদের চাদরে আবৃত হয়ে প্রত্যবর্তন করতাম।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: সহীহবুখারী ৩৭২; সহীহ মুসলিম ৬৪৫; এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৪১৫, ৪৪১৬ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৪৯৮-১৫০১; মুসনাদুল হুমাইদী নং ১৭৪।









সুনান আদ-দারিমী (1249)


حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَقَ عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ قَتَادَةَ عَنْ مَحْمُودِ بْنِ لَبِيدٍ عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَسْفِرُوا بِصَلَاةِ الصُّبْحِ فَإِنَّهُ أَعْظَمُ لِلْأَجْرِ




১২৪৯. রাফিঈ’ ইবনু খাদিজ হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমরা ফজরের সালাতকে ফর্সা (আলোকিত) করে আদায় করো। কেননা, সাওয়াবের দিক থেকে সেটিই উত্তম।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর রাবীগণ বিশ্বস্ত, তবে ইবনু ইসহাক ‘আনআন’ পদ্ধতিতে বর্ণনা করেছেন। তবে এর মুতাবিয়া’ত রয়েছে যেমন পরের হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে।

তাখরীজ: এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৪৮৯, ১৪৯০, ১৪৯১; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৬৩, ২৬৪, ২৬৫ টীকাসহ দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (1250)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ ابْنِ عَجْلَانَ عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ قَتَادَةَ عَنْ مَحْمُودِ بْنِ لَبِيدٍ عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَوِّرُوا بِصَلَاةِ الْفَجْرِ فَإِنَّهُ أَعْظَمُ لِلْأَجْرِ




১২৫০. রাফিঈ’ ইবনু খাদিজ বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমরা ফজরের সালাতকে আলোকিত (উজ্জ্বল) করে আদায় করো। কেননা, সাওয়াবের দিক থেকে সেটিই সর্ব্বোত্তম।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান মুহাম্মদ ইবনুল ‘ইজলান এর কারণে।

তাখরীজ: পূর্ণ তাখরীজের জন্য আগের টীকাটি দেখুন। এছাড়া, আব্দুর রাযযাক নং ২১৫৯।









সুনান আদ-দারিমী (1251)


أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ ابْنِ عَجْلَانَ نَحْوَهُ أَوْ أَسْفِرُوا




১২৫১. ইবনু ’ইজলান হতে অনুরূপ কিংবা “(তোমরা ফজরের সালাতকে) ফর্সা (আলোকিত) করে আদায় করো“- (কথাগুলিসহ) বর্ণিত হয়েছে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।

তাখরীজ: আগের টীকাটি দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (1252)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ أَدْرَكَ مِنْ صَلَاةٍ رَكْعَةً فَقَدْ أَدْرَكَهَا




১২৫২. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি কোনো সালাতের এক রাকা’আত পেলো, সে (পূরো) সালাত পেলো।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। কিন্তু হাদীসটি বুখারী-মুসলিমের।

তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৫৮০; সহীহ মুসলিম ৬০৭, ৬০৮; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৯৬২, ৫৯৬৬, ৫৯৬৭; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৪৮৩, ১৪৮৫, ১৪৮৭; ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯৭৬।









সুনান আদ-দারিমী (1253)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ حَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمِثْلِهِ




১২৫৩. (অপর সনদে) আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটিও বুখারী-মুসলিমের হাদীস।

তাখরীজ: আগের হাদীসটি দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (1254)


أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ وَعَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ وَعَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْأَعْرَجِ يُحَدِّثُونَهُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ أَدْرَكَ مِنْ الصُّبْحِ رَكْعَةً قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ فَقَدْ أَدْرَكَهَا وَمَنْ أَدْرَكَ مِنْ الْعَصْرِ رَكْعَةً قَبْلَ أَنْ تَغْرُبَ الشَّمْسُ فَقَدْ أَدْرَكَهَا




১২৫৪. (অপর সূত্রে) আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি সুর্য উদয়ের পূর্বে ফজর সালাতের এক রাকা’আত পায়, সে ফজরের সালাত পেয়েছে। যে ব্যক্তি সুর্য অস্ত যাওয়ার পূর্বে আসর সালাতের এক রাকা’আত পায়, সে আসরের সালাত পেয়েছে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটিও বুখারী-মুসলিমের হাদীস।

তাখরীজ: আগের হাদীসটি দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (1255)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ الْحُمَيْدِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ عَنْ دَرَّاجٍ أَبِي السَّمْحِ عَنْ أَبِي الْهَيْثَمِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا رَأَيْتُمْ الرَّجُلَ يَعْتَادُ الْمَسَاجِدَ فَاشْهَدُوا لَهُ بِالْإِيمَانِ فَإِنَّ اللَّهَ يَقُولُ إِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللَّهِ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ




১২৫৫. আবী সাঈদ আল খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমরা যদি কোনো লোককে মসজিদে (যাতায়াতে) অভ্যস্ত দেখো, তবে তোমরা তার ঈমানের ব্যাপারে (মু’মিন বলে) সাক্ষ্য দিতে পারো। কেননা, আল্লাহ তা’আলা বলেছেন: [“নিশ্চয় আল্লাহর মসজিদ সমূহকে একমাত্র সেই ব্যক্তি আবাদ রাখে যে আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে।“(সুরা তাওবা: ১৮)][1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। ইমাম আহমাদ বলেন: “আবী সাঈদ হতে আবী হাইছাম সূত্রে দাররাজ এর হাদীসসমূহে দুর্বলতা রয়েছে।“ ((যদিও ইবনু খুযাইমা ও এর মুহাক্বিক্ব (ড. মুস্তফা আ’যমী) সহীহ এবং তিরমিযী হাসান বলেছেন, তবে এর যঈফের কথা বলেছেন, আলবানী (তিরমিযী ২৬১৭, ইবনু মাজাহ ৮০২; আরনাউত্ব (আল ইহসান ফী তাক্বরীব সহীহ ইবনু হিব্বান হা/১৭২১) এবং মুগলাতী, (শরহে ইবনু মাজাহ’তে) একে যঈফ বলেছেন। হাকিম ও যাহাবী সহীহ বলেছেন বলে আরনাউত্ব উল্লেখ করলেও একই সাথে তিনি শারহে জামিউস সগীর ১/৩৫৮ হতে মুনাবী’র এ বক্তব্য উল্লেখ করেছেন যে, যাহাবী ‘হাকিমের সহীহ’ বলাকে এ বলে খণ্ডণ করেছেন যে, ‘এতে দাররাজ রয়েছে। আর সে অনেক মুনকার হাদীস বর্ণনাকারী।’ বিস্তারিত দেখুন, আল ইহসান ফী তাক্বরীব সহীহ ইবনু হিব্বান হা/১৭২১ আরনাউত্বের টীকাসহ-অনুবাদক))

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৭২১ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৩১০। ((আহমাদ ৩/৬৮, ৭৬; তিরমিযী ২৬১৭, ৩০৯৩; ইবনু মাজাহ ৮০২; বাইহাকী ৩/৬৬; হাকিম ২/৩৩২। - আল ইহসান ফী তাক্বরীব সহীহ ইবনু হিব্বান হা/১৭২১ আরনাউত্বের টীকাসহ-অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (1256)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ أَبِي سَهْلٍ قَالَ ح وَأَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ حَكِيمٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي عَمْرَةَ عَنْ عُثْمَانَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ صَلَّى الْعِشَاءَ فِي جَمَاعَةٍ كَانَ كَقِيَامِ نِصْفِ لَيْلَةٍ وَمَنْ صَلَّى الْفَجْرَ فِي جَمَاعَةٍ كَانَ كَقِيَامِ لَيْلَةٍ




১২৫৬. উছমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ’ঈশার সালাত জামা’আতে আদায় করলো, সে যেন অর্ধ রাত্রি পর্যন্ত (নফল) সালাত আদায় করলো। আর যে ব্যক্তি ফজরের সালাত জামা’আতে আদায় করলো, সে যেন পূরো রাত্রি নফল সালাত আদায় করলো।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ৬৫৬; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২০৫৮,২০৫৯।









সুনান আদ-দারিমী (1257)


أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ الْوَلِيدُ بْنُ عَيْزَارٍ أَخْبَرَنِي قَالَ سَمِعْتُ أَبَا عَمْرٍو الشَّيْبَانِيَّ يَقُولُ حَدَّثَنِي صَاحِبُ هَذِهِ الدَّارِ وَأَوْمَأَ بِيَدِهِ إِلَى دَارِ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّهُ سَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّ الْعَمَلِ أَفْضَلُ أَوْ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ قَالَ الصَّلَاةُ عَلَى مِيقَاتِهَا




১২৫৭. আবী আমর আশ শাইবানী বলেন, আমার নিকট এ বাড়ির মালিক বর্ণনা করেছেন- একথা বলে তিনি তার হাত দ্বারা আব্দুল্লাহ’র বাড়ির দিকে ইশারা করলেন- তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, কো্ন্ কাজটি সর্বোত্তম, কিংবা আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয়? তিনি বললেন: “ওয়াক্ত মতো সালাত আদায় করা।“[1]



[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৫২৭; সহীহ মুসলিম ৮৫। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫২৮৬; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৪৭৪-১৪৭৯।









সুনান আদ-দারিমী (1258)


أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ هُوَ ابْنُ النُّعْمَانِ الْأَنْصَارِيُّ حَدَّثَنِي سَعْدُ بْنُ إِسْحَقَ بْنِ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ الْأَنْصَارِيُّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ كَعْبٍ قَالَ خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَنَحْنُ فِي الْمَسْجِدِ سَبْعَةٌ مِنَّا ثَلَاثَةٌ مِنْ عَرَبِنَا وَأَرْبَعَةٌ مِنْ مَوَالِينَا أَوْ أَرْبَعَةٌ مِنْ عَرَبِنَا وَثَلَاثَةٌ مِنْ مَوَالِينَا قَالَ فَخَرَجَ عَلَيْنَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ بَعْضِ حُجَرِهِ حَتَّى جَلَسَ إِلَيْنَا فَقَالَ مَا يُجْلِسُكُمْ هَاهُنَا قُلْنَا انْتِظَارُ الصَّلَاةِ قَالَ فَنَكَتَ بِإِصْبَعِهِ فِي الْأَرْضِ وَنَكَسَ سَاعَةً ثُمَّ رَفَعَ إِلَيْنَا رَأْسَهُ فَقَالَ هَلْ تَدْرُونَ مَا يَقُولُ رَبُّكُمْ قَالَ قُلْنَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ إِنَّهُ يَقُولُ مَنْ صَلَّى الصَّلَاةَ لِوَقْتِهَا فَأَقَامَ حَدَّهَا كَانَ لَهُ بِهِ عَلَيَّ عَهْدٌ أُدْخِلُهُ الْجَنَّةَ وَمَنْ لَمْ يُصَلِّ الصَّلَاةَ لِوَقْتِهَا وَلَمْ يُقِمْ حَدَّهَا لَمْ يَكُنْ لَهُ عِنْدِي عَهْدٌ إِنْ شِئْتُ أَدْخَلْتُهُ النَّارَ وَإِنْ شِئْتُ أَدْخَلْتُهُ الْجَنَّةَ




১২৫৮. কা’ব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা সংখ্যায় সাতজন লোক মসজিদে বসে ছিলাম, তার মধ্যে তিনজন ছিলাম আরব ও চারজন অনারব মাওয়ালী, অথবা চারজন ছিলাম আরব এবং তিনজন ছিল অনারব মাওয়ালী; এমতাবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর কোনো একটি হুজরা হতে আমাদের নিকট বেরিয়ে এসে আমাদের সাথে বসে গেলেন। এরপর তিনি বললেন: কোন্ জিনিসটি তোমাদেরকে এখানে বসিয়ে রেখেছে?“ আমরা বললাম, সালাতের জন্য প্রতীক্ষা। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, তারপর তিনি তাঁর আঙ্গুল দিয়ে মাটি খুঁড়ে আবার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো ঠিক করে দিলেন। এরপর তিনি আমাদের দিকে মাথা উঠিয়ে বললেন: “তোমাদের রব কী বলেছেন, তা তোমরা জানো কি?“

তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই সর্বাধিক অবগত।তিনি বললেন: “তিনি (আল্লাহ তা’আলা) বলেন: ‘যে ব্যক্তি ওয়াক্তমতো সালাত আদায় করলো, আর সে সালাতের সীমা (উযু, রুকু’, সাজদা) সঠিকভাবে আদায় করলো, এর মাধ্যমে তার প্রতি আমার ওয়াদা হলো, আমি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবো। আর যে ব্যক্তি ওয়াক্তমতো সালাত আদায় করলো না এবং সে সালাতের সীমা (উযু, রুকু’, সাজদা)ও সঠিকভাবে আদায় করলো না, তার প্রতি আমার কোনো ওয়াদা নেই; ইচ্ছা হলে আমি তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবো, অথবা, ইচ্ছা হলে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবো।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ উত্তম। ((শাইখ আরনাউত্ব (মুসনাদে আহমাদ, তাহ: আরনাউত্ব ৪/২৪৪ নং ১৮১৩২) একে সহীহ লিগয়রিহী ও আহমদ শাকির (মুসনাদে আহমাদ, তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : শাকির নং ১৮০৫০) হাসান এবং মুনযিরী (ফাতহুর রব্বানী, কিতাবুস সালাত নং ১০৮২ এর তাখরীজে উল্লিখিত) একে হাসান ও হাইছামী (মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৩০২) একে যঈফ বলেছেন।- আরনাউতের তাহক্বীক্ব, মুসনাদে আহমাদ ৪/২৪৪ নং ১৮১৩২) এর টীকা হতে....... অনুবাদক।))

তাখরীজ: এর উপর পূর্ণাঙ্গ আলোচনা করেছি মাজমাউয যাওয়াইদ নং ১৭০১ এ।((মুসনাদে আহমাদ (তাহ: আরনাউত্ব) ৪/২৪৪ নং ১৮১৩২, বুখারী, আত তারীখ ১/৩৮৭; আব্দ ইবনু হুমাইদ, আল মুনতাখাব ৩৭১; তাবারাণী, আল কাবীর ১৯/৩১১, ৩১২; আউসাত ৪৭৬১; সাহমী, তারীখ জুরজান ২৯৬-২৯৭; তাহাবী, শারহু মুশকিলিল আছার ৩১৭৩, ৩১৭৪; হাইছামী, মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৩০২।

এর শাহিদ হাদীস রয়েছে উবাদাহ ইবনু ছামিত রা: হতে আহমদ ৫/৩১৭ সহীহ সনদে; এবং আবী কাতাদা রা: হতে আবু দাউদ ৪৩০; ইবনু মাজাহ ১৪০৩ যঈফ সনদে।- আরনাউতের তাহক্বীক্ব, মুসনাদে আহমাদ ৪/২৪৪ নং ১৮১৩২) এর টীকা হতে....... অনুবাদক।))









সুনান আদ-দারিমী (1259)


أَخْبَرَنَا سَهْلُ بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ بُدَيْلٍ عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ الْبَرَّاءِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ عَنْ أَبِي ذَرٍّ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَهُ كَيْفَ أَنْتَ إِذَا بَقِيتَ فِي قَوْمٍ يُؤَخِّرُونَ الصَّلَاةَ عَنْ وَقْتِهَا قَالَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ صَلِّ الصَّلَاةَ لِوَقْتِهَا وَاخْرُجْ فَإِنْ أُقِيمَتْ الصَّلَاةُ وَأَنْتَ فِي الْمَسْجِدِ فَصَلِّ مَعَهُمْ




১২৫৯. আবী যার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বলেছেন: “যখন তুমি এমন লোকদের মাঝে অবশিষ্ট থাকবে যারা সালাতকে তার ওয়াক্ত হতে পিছিয়ে দেয়, তুমি তখন কী করবে?“

তিনি বলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক অবগত।তিনি বললেন: “তুমি ওয়াক্তমতোই সালাত আদায় করবে এবং বের হবে। এরপর যদি (জামা’আতে) সালাতের ইকামত দেয়া হয়, আর তুমি (সেই সময়) মসজিদে থাকো, তবে তুমিও তাদের সাথে সালাত আদায় করবে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ৬৪৮; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৪৮২, ১৭১৮, ১৭১৯। আরও দেখুন, পরবর্তী হাদীসটি।









সুনান আদ-দারিমী (1260)


أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ حَدَّثَنَا أَبُو عِمْرَانَ الْجَوْنِيُّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا أَبَا ذَرٍّ كَيْفَ تَصْنَعُ إِذَا أَدْرَكْتَ أُمَرَاءَ يُؤَخِّرُونَ الصَّلَاةَ عَنْ وَقْتِهَا قُلْتُ مَا تَأْمُرُنِي يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ صَلِّ الصَّلَاةَ لِوَقْتِهَا وَاجْعَلْ صَلَاتَكَ مَعَهُمْ نَافِلَةً قَالَ أَبُو مُحَمَّد ابْنُ الصَّامِتِ هُوَ ابْنُ أَخِي أَبِي ذَرٍّ




১২৬০. আবী যার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “হে আবী যারর! যখন তুমি এমন শাসকদেরকে পাবে, যারা সালাতকে তার ওয়াক্ত হতে পিছিয়ে দিবে (সালাতের সময় শেষ করে সালাত আদায় করবে), তুমি তখন কী করবে?“

তিনি বলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি আমাকে কী করতে আদেশ দেন?

তিনি বললেন: “তুমি ওয়াক্তমতোই সালাত আদায় করবে এবং (এরপর যদি তাদের সাথে জামা’আত পাও তবে,) তাদের সাথে তোমার আদায়কৃত সালাতকে নফল বানিয়ে নাও।“[1]আবু মুহাম্মদ বলেন, ইবনু ছামিত হলেন আবী যারের ভাতিজা।

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ৬৪৮; এটি আগের হাদীসের পুনরাবৃত্তি।