সুনান আদ-দারিমী
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ نَحْوَهُ
১৩৮১. আওযাঈ হতে ও অনুরূপ বর্ণিত আছে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। তবে হাদীসটি সহীহ।
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।
حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ عَنْ إِسْمَعِيلَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُسَلِّمُ عَنْ يَمِينِهِ حَتَّى يُرَى بَيَاضُ خَدِّهِ ثُمَّ يُسَلِّمُ عَنْ يَسَارِهِ حَتَّى يُرَى بَيَاضُ خَدِّهِ
১৩৮২. আমর ইবনু সা’দ হতে বর্ণিত, তার পিতা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ডানদিকে এমনভাবে সালাম ফিরাতেন যে, (পাশ থেকে) তাঁর গালের শুভ্রতা দেখা যেতো। এরপর বাম দিকে এমনভাবে সালাম ফিরাতেন যে, তাঁর গালের শুভ্রতা দেখা যেতো।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ শক্তিশালী।
তাখরীজ: মুসলিম ৫৮২; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৮০১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৯৯২ তে।
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ شُعْبَةَ عَنْ الْحَكَمِ وَمَنْصُورٍ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنْ أَبِي مَعْمَرٍ قَالَ صَلَّيْتُ خَلْفَ رَجُلٍ بِمَكَّةَ فَسَلَّمَ تَسْلِيمَتَيْنِ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِعَبْدِ اللَّهِ فَقَالَ أَنَّى عَلِقَهَا وَقَالَ الْحَكَمُ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَفْعَلُ ذَلِكَ
১৩৮৩. আবী মা’মার বলেন, আমি মক্কায় এক ব্যক্তির পিছনে সালাত আদায় করলাম। তিনি দুই সালাম (-এর মাধ্যমে সালাত শেষ) করলেন। এ বিষয়টি যখন আমি আব্দুল্লাহ’ (ইবনু মাসউদ)-এর নিকট উল্লেখ করলাম, তখন তিনি বললেন, সে এ (সুন্নাত) টি কোথা থেকে পেয়েছে? আর হাকাম বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরূপ করতেন (তথা দু’দিকে সালাম ফিরাতেন)।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মুসলিম ৫৮১; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫২৪৪। ‘أنى علقها’ অর্থ: সে এ সুন্নাতটি কোথা থেকে হাসিল ও সংরক্ষণ করেছে?! দেখুন, মুসনাদুল মাউসিলী হাদীস নং ৫০৫১, ৫১০২।
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا عَاصِمٌ عَنْ أَبِي الْوَلِيدِ هُوَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَارِثِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ مَا كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَجْلِسُ بَعْدَ الصَّلَاةِ إِلَّا قَدْرَ مَا يَقُولُ اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلَامُ وَمِنْكَ السَّلَامُ تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ
১৩৮৪. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম ওয়া মিনকাস সালাম, তাবারাকতা ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম।“ এ (দু’আ) টি পড়তে যতটুকু সময় লাগে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাতের পরে এর অধিক পরিমাণ সময় বসতেন না।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মুসলিম ৫৯২; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৭২১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২০০০, ২০০১ তে।
أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ عَنْ شَدَّادٍ أَبِي عَمَّارٍ عَنْ أَبِي أَسْمَاءَ الرَّحَبِيِّ عَنْ ثَوْبَانَ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَنْصَرِفَ مِنْ صَلَاتِهِ اسْتَغْفَرَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ قَالَ اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلَامُ وَمِنْكَ السَّلَامُ تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ
১৩৮৫. ছাওবান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সালাত সমাপ্ত করতেন, তখন তিনি তিনবার ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ বলতেন এরপর পড়তেন, “আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম ওয়া মিনকাস সালাম তাবারাকতা ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ৫৯১; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২০০৩।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ عَنْ وَرَّادٍ كَاتِبِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ قَالَ أَمْلَى عَلَيَّ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ فِي كِتَابٍ إِلَى مُعَاوِيَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ مَكْتُوبَةٍ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ اللَّهُمَّ لَا مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلَا مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ وَلَا يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ
১৩৮৬. মুগীরাহ ইবনু শু’বাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর কাতিব (লিপিকার) ওয়াররাদ বলেন, মুগীরাহ ইবনু শু’বাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আমাকে মু’আবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর (নিকট পাঠানোর) জন্য একটি খাতায় লিখে দিতে বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রত্যেক ফরয সালাতের শেষে পাঠ করতেন: “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়্যিন ক্বদীর। আল্লাহুম্মা লা মানি’আ লিমা আ’তইতা, ওয়া লা মু’তিআ লিমা মানা’তা, ওয়া লা ইয়ানফা’ঊ যাল জাদ্দি মিনকাল জাদ্দু।“[1] (অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক তাঁর কোনোই শারীক নেই। সকল রাজত্ব তারই, সকল প্রশংসাও তাঁরই জন্য। আর তিনি সকল কিছুর উপরে ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ! আপনি যা দেন, তা প্রতিরোধ করার কেউ নেই, আর আপনি যা আটকে দেন, তা দানকারী কেউ নেই। কোনো সম্পদশালীর সম্পদ আপনার মোকাবেলায় কোনো উপকারে আসে না।)
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী ৮৪৪; মুসলিম ৫৯৩; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২০০৫, ২০০৬, ২০০৭ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৭৮০তে।
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ عُمَارَةَ عَنْ الْأَسْوَدِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ لَا يَجْعَلْ أَحَدُكُمْ لِلشَّيْطَانِ نَصِيبًا مِنْ صَلَاتِهِ يَرَى أَنَّ حَقًّا عَلَيْهِ أَنْ لَا يَنْصَرِفَ إِلَّا عَنْ يَمِينِهِ لَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَثِيرًا يَنْصَرِفُ عَنْ يَسَارِهِ
১৩৮৭. আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তোমাদের কেউ যেন শয়তানের জন্য তার সালাতের কোনো অংশ নির্দিষ্ট না করে। তা হলো, কারো এ ধারণা করা যে, কেবল ডান পাশ দিয়ে ঘুরে বসাই তার জন্য জরুরী। বরং আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অধিকাংশ সময় বামপাশ দিয়ে ঘুরে (বসতে) দেখেছি।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী ৮৫২; মুসলিম ৭০৭; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫১৭৪; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৯৯৭ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১২৭।
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ إِسْرَائِيلَ عَنْ السُّدِّيِّ قَالَ سَمِعْتُ أَنَسًا يَقُولُ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَنْصَرِفُ عَنْ يَمِينِهِ
১৩৮৮. সুদ্দী বলেন, আমি আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহকে বলতে শুনেছি, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ডানপাশ দিয়ে ঘুরে (বসতে) দেখেছি।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান। তবে হাদীসটি সহীহ, মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে।
তাখরীজ: মুসলিম ৭০৮; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪০৪২ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৯৯৬; আগের টীকাটি ও পরের হাদীসটি দেখুন।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ السُّدِّيِّ قَالَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ قَالَ انْصَرَفَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ يَمِينِهِ يَعْنِي فِي الصَّلَاةِ
১৩৮৯. (অপর সনদে) সুদ্দী বলেন, আমি আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহকে বলতে শুনেছি, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সালাতে (এর শেষে) ডানপাশ দিয়ে ঘুরে (বসতে) দেখেছি।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।
তাখরীজ: আগের টীকাটি দেখুন।
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ مُوسَى حَدَّثَنَا هِقْلٌ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ قَالَ حَدَّثَنِي حَسَّانُ بْنُ عَطِيَّةَ قَالَ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عَائِشَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ أَبُو ذَرٍّ يَا رَسُولَ اللَّهِ ذَهَبَ أَصْحَابُ الدُّثُورِ بِالْأُجُورِ يُصَلُّونَ كَمَا نُصَلِّي وَيَصُومُونَ كَمَا نَصُومُ وَلَهُمْ فُضُولُ أَمْوَالٍ يَتَصَدَّقُونَ بِهَا وَلَيْسَ لَنَا مَا نَتَصَدَّقُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَفَلَا أُعَلِّمُكَ كَلِمَاتٍ إِذَا أَنْتَ قُلْتَهُنَّ أَدْرَكْتَ مَنْ سَبَقَكَ وَلَمْ يَلْحَقْكَ مَنْ خَلَفَكَ إِلَّا مَنْ عَمِلَ بِمِثْلِ عَمَلِكَ قَالَ قُلْتُ بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ تُسَبِّحُ دُبُرَ كُلِّ صَلَاةٍ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ وَتَحْمَدُهُ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ وَتُكَبِّرُهُ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ وَتَخْتِمُهَا بِلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
১৩৯০. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ যারর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! সম্পদশালী লোকেরাই তো সব সাওয়াব নিয়ে গেলো। তারা আমাদের মতোই সালাত আদায় করে, আমাদের মতো সিয়াম পালন করে। অধিকন্তু তাদের তো অর্থ-বিত্ত রয়েছে অনেক যা তারা সাদাকা করে, কিন্তু আমাদের তো কিছুই নেই (যা আমরা সাদাকা করবো)। তখন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “তোমাকে কি আমি এমন কিছু কালিমা শিক্ষা দেবো না, যা বললে zwj;তুমি তোমার অগ্রবর্তীদের নাগাল পেয়ে যাবে, কিন্তু তোমার পশ্চাদবর্তীগণ তোমার নাগাল পাবে না, যদি না তারাও তোমার মতো আমল করে (তথা সেগুলো বলে)?“
তিনি বললেন, হাঁ, অবশ্যই, ইয়া রাসূলুল্লাহ।তিনি বললেন: “তুমি প্রত্যেক সালাত শেষে তেঁত্রিশ বার তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ), তেঁত্রিশ বার তাহমীদ (আলহামদু লিল্লাহ) ও তেঁত্রিশ বার তাকবীর (আল্লাহু আকবার) পাঠ করবে। আর, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়্যিন ক্বদীর“- পাঠের মাধ্যমে তা শেষ করবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
এর সনদ সহীহ।
সহীহ মুসলিম ৮৪৩; মুসলিম ৫৯৫; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৫৮৭ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২০১৫, ২০১৬।
أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ حَسَّانَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ عَنْ كَثِيرِ بْنِ أَفْلَحَ عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ قَالَ أُمِرْنَا أَنْ نُسَبِّحَ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ وَنَحْمَدَهُ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ وَنُكَبِّرَ أَرْبَعًا وَثَلَاثِينَ فَأُتِيَ رَجُلٌ أَوْ أُرِيَ رَجُلٌ مِنْ الْأَنْصَارِ فِي الْمَنَامِ فَقِيلَ أَمَرَكُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ تُسَبِّحُوا اللَّهَ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ وَتَحْمَدُوا ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ وَتُكَبِّرُوا أَرْبَعًا وَثَلَاثِينَ قَالَ نَعَمْ قَالَ فَاجْعَلُوهَا خَمْسًا وَعِشْرِينَ خَمْسًا وَعِشْرِينَ وَاجْعَلُوا مَعَهَا التَّهْلِيلَ فَأُخْبِرَ بِذَلِكَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ افْعَلُوهَا
১৩৯১. যাইদ ইবনু ছাবিত হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা প্রত্যেক সালাত শেষে তেঁত্রিশ বার তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ), তেঁত্রিশ বার তাহমীদ (আলহামদু লিল্লাহ) ও চৌঁত্রিশ বার তাকবীর (আল্লাহু আকবার) পাঠ করতাম। তখন আনসারগণের মধ্য থেকে এক ব্যক্তির নিকট কেউ এলো কিংবা স্বপ্নে দেখানো হলো যে, তাকে জিজ্ঞেস করা হলো: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি তোমাদেরকে প্রত্যেক সালাত শেষে তেঁত্রিশ বার তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ), তেঁত্রিশ বার তাহমীদ (আলহামদু লিল্লাহ) ও চৌঁত্রিশ বার তাকবীর (আল্লাহু আকবার) পাঠ করতে নির্দেশ দিয়েছেন?
তিনি বললেন: হাঁ। তখন সে বললো, এর প্রতিটিকে (বাড়িয়ে) পঁচিশ-পঁচিশ করে নির্ধারণ করো। আর, এর সাথে তাহলীল (“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু) কে যোগ করে নাও।’নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এ খবর দেওয়া হলে তিনি বললেন: “তোমরা তা-ই করো।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: নাসাঈ ৩/৭৬; কুবরা ১/৪০১-৪০২ নং ১২৭৩।
أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى عَنْ تَمِيمٍ الدَّارِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ أَوَّلَ مَا يُحَاسَبُ بِهِ الْعَبْدُ الصَّلَاةُ فَإِنْ وَجَدَ صَلَاتَهُ كَامِلَةً كُتِبَتْ لَهُ كَامِلَةً وَإِنْ كَانَ فِيهَا نُقْصَانٌ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى لِمَلَائِكَتِهِ انْظُرُوا هَلْ لِعَبْدِي مِنْ تَطَوُّعٍ فَأَكْمِلُوا لَهُ مَا نَقَصَ مِنْ فَرِيضَتِهِ ثُمَّ الزَّكَاةُ ثُمَّ الْأَعْمَالُ عَلَى حَسَبِ ذَلِكَ قَالَ أَبُو مُحَمَّد لَا أَعْلَمُ أَحَدًا رَفَعَهُ غَيْرَ حَمَّادٍ قِيلَ لِأَبِي مُحَمَّدٍ صَحَّ هَذَا قَالَ إِي
১৩৯২. তামীম দারী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, : রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “বান্দার সর্ব প্রথম যে বিষয়ের হিসাব নেওয়া হবে, তা হলো সালাত। আর তা যদি পরিপূর্ণ হিসেবে পায়, তবে তা পরিপূর্ণ হিসেবে লিখা হবে। আর তাতে কোনো ঘাটতি থাকলে আল্লাহ তা’আলা মালাইকা (ফিরিশতা) দেরকে বলবেন, “তোমরা (খুঁজে) দেখো, আমার বান্দার নফল (সালাত) আছে কি-না। (থাকলে) তার ফরয সালাতের যে ঘাটতি রয়েছে, তার এ (নফল) দ্বারা তোমরা তা পূর্ণ করে দাও। তারপর যাকাত, তারপর অন্যান্য আমলসমূহের হিসাবও (এভাবে) নেওয়া হবে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু মাজাহ ১৪২৬; আহমাদ ৪/১০৩; আবু দাউদ ৮৬৬; বাইহাকী ২/৩৮৭; হাকিম ১/২৬২-২৬৩; তাবারাণী, আল আওয়াইল নং ৩০।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবী হুরাইরা রা: হতে যা আমরা মুসনাদুল মাউসিলী ৬২২৬ নং এ ((ইবনু মাজাহ, ১৪২৫- অনুবাদক)); এবং আনাস রা: হতে যা আমরা মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩৯৭৬ নং ও মাজমাউয যাওয়াইদ নং ১৬৩১ এ তাখরীজ করেছি।
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ جَعْفَرٍ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا حُمَيْدٍ السَّاعِدِيَّ فِي عَشَرَةٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَحَدُهُمْ أَبُو قَتَادَةَ قَالَ أَنَا أَعْلَمُكُمْ بِصَلَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالُوا لِمَ فَمَا كُنْتَ أَكْثَرَنَا لَهُ تَبَعَةً وَلَا أَقْدَمَنَا لَهُ صُحْبَةً قَالَ بَلَى قَالُوا فَاعْرِضْ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلَاةِ رَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ ثُمَّ كَبَّرَ حَتَّى يَقَرَّ كُلُّ عَظْمٍ فِي مَوْضِعِهِ ثُمَّ يَقْرَأُ ثُمَّ يُكَبِّرُ وَيَرْفَعُ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ ثُمَّ يَرْكَعُ وَيَضَعُ رَاحَتَيْهِ عَلَى رُكْبَتَيْهِ حَتَّى يَرْجِعَ كُلُّ عَظْمٍ إِلَى مَوْضِعِهِ وَلَا يُصَوِّبُ رَأْسَهُ وَلَا يُقْنِعُ ثُمَّ يَرْفَعُ رَأْسَهُ فَيَقُولُ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ ثُمَّ يَرْفَعُ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ يَظُنُّ أَبُو عَاصِمٍ أَنَّهُ قَالَ حَتَّى يَرْجِعَ كُلُّ عَظْمٍ إِلَى مَوْضِعِهِ مُعْتَدِلًا ثُمَّ يَقُولُ اللَّهُ أَكْبَرُ ثُمَّ يَهْوِي إِلَى الْأَرْضِ فَيُجَافِي يَدَيْهِ عَنْ جَنْبَيْهِ ثُمَّ يَسْجُدُ ثُمَّ يَرْفَعُ رَأْسَهُ فَيَثْنِي رِجْلَهُ الْيُسْرَى فَيَقْعُدُ عَلَيْهَا وَيَفْتَحُ أَصَابِعَ رِجْلَيْهِ إِذَا سَجَدَ ثُمَّ يَعُودُ فَيَسْجُدُ ثُمَّ يَرْفَعُ رَأْسَهُ فَيَقُولُ اللَّهُ أَكْبَرُ وَيَثْنِي رِجْلَهُ الْيُسْرَى فَيَقْعُدُ عَلَيْهَا مُعْتَدِلًا حَتَّى يَرْجِعَ كُلُّ عَظْمٍ إِلَى مَوْضِعِهِ مُعْتَدِلًا ثُمَّ يَقُومُ فَيَصْنَعُ فِي الرَّكْعَةِ الْأُخْرَى مِثْلَ ذَلِكَ فَإِذَا قَامَ مِنْ السَّجْدَتَيْنِ كَبَّرَ وَرَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ كَمَا فَعَلَ عِنْدَ افْتِتَاحِ الصَّلَاةِ ثُمَّ يَصْنَعُ مِثْلَ ذَلِكَ فِي بَقِيَّةِ صَلَاتِهِ حَتَّى إِذَا كَانَتْ السَّجْدَةُ أَوْ الْقَعْدَةُ الَّتِي يَكُونُ فِيهَا التَّسْلِيمُ أَخَّرَ رِجْلَهُ الْيُسْرَى وَجَلَسَ مُتَوَرِّكًا عَلَى شِقِّهِ الْأَيْسَرِ قَالَ قَالُوا صَدَقْتَ هَكَذَا كَانَتْ صَلَاةُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
১৩৯৩. আতা রাহি. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দশ জন সাহাবী- যাদের মাঝে আবী কাতাদাও ছিলেন, তাঁদের উপস্থিতিতে আবী হুমাইদ আস সাঈদীকে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাতের ব্যাপারে তোমাদের চেয়ে আমি অধিক অবগত আছি। তখন তাঁরা বললেন, কি কারণে? আপনি তো আমাদের চেয়ে তাঁকে অধিক অনুসরণ করেননি, আর তাঁর সান্নিধ্য লাভের ব্যাপারেও আপনি আমাদের থেকে অগ্রগামী নন, (তাহলে)? তিনি বললেন, হাঁ। তাঁরা বললেন, এখন আপনি আপনার বক্তব্য পেশ করুন। তিনি বললেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাতে দাঁড়াতেন তখন তিনি তাঁর উভয় হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠাতেন, এরপর তাকবীর দিতেন। এমনকি তাঁর প্রত্যেকটি অস্থি স্ব-স্ব স্থানে স্থির হয়ে যেতো। এরপর তিনি কিরা’আত করতেন, এরপর রুকূ’র জন্য তাকবীর দিতেন ও তাঁর দু’হাত কাঁধ বরাবর উঠাতেন, এরপর রুকূ’তে যেতেন এবং তাঁর দু’ হাতের তালু দু’ হাঁটুর উপর স্থাপন করতেন এমনকি তাঁর প্রত্যেকটি অস্থি স্ব-স্ব স্থানে ফিরে আসতো। আর তাঁর মাথাকে (পিঠের চেয়ে) নিচু করতেন না, আবার উঁচুও করতেন না (সমান করে রাখতেন)।
এরপর তিনি তাঁর মাথা উঠাতেন এবং বলতেন: ‘সামি’আল্লাহু লিমান হামিদাহ’ এবং তাঁর দু’হাত কাঁধ বরাবর উঠাতেন।- (রাবী) আবু আসিমের ধারণা, তিনি আরও বলেছেন, এমনকি তাঁর প্রত্যেকটি অস্থি স্ব-স্ব স্থানে যথাযথভাবে ফিরে আসতো। এরপর তিনি ‘আল্লাহু আকবার’ বলে মাটির দিকে ঝুঁকে যেতেন এবং (সিজদায় গিয়ে) তাঁর দু’হাত দু’পাঁজর হতে পৃথক করে রাখতেন। এরপর (এভাবে) সিজদা করতেন। তারপর মাথা উঠাতেন এবং বাম পা ভাঁজ করে তার উপর বসতেন। আর সিজদার সময় তাঁর পায়ের আঙ্গুল সমূহ খুলে দিতেন। এরপর তিনি পূনরায় সাজদা করতেন। এরপর ‘আল্লাহু আকবার’ বলে মাথা উঠাতেন ও বাম পা ভাঁজ করে তার উপর স্থিরভাবে বসতেন, এমনকি তাঁর প্রত্যেকটি অস্থি স্ব-স্ব স্থানে যথাযথভাবে ফিরে আসতো। এরপর দাঁড়িয়ে যেতেন এবং অপর রাকা’আতেও এরূপ করতেন। আর যখন (বৈঠক শেষে) দ্বিতীয় রাকা’আত হতে দাঁড়াতেন, তখন তাকবীর বলতেন ও তাঁর উভয় হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠাতেন, যেমন করতেন তিনি সালাত শুরু করার সময়। তারপর তাঁর অবশিষ্ট সালাত এরূপভাবে আদায় করতেন। যখন শেষ শেষ রাকা’আত বা সালামের (শেষ) বৈঠক আসতো, তখন বাম পা পিছিয়ে দিয়ে বাম পাশের নিতন্বের উপর ভর দিয়ে বসতেন।রাবী বলেন, তাঁরা বললেন: আপনি সত্যই বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাত এরূপই ছিল।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৮৬৫-১৮৬৭; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৪৪২ ও ৪৯১-৪৯৫ এ। ((বাইহাকী ২/১১৬; আহমাদ ৫/৪২৪; আবু দাউদ ৭৩০, ৭৬৩; তিরমিযী ৩০৪; বাগাবী, শারহুসু সুন্নাহ ৩/১ নং ৫৫৫-; নাসাঈ ৩/৩৪-৩৫; ইবনু খুযাইমা ১/২৯৭ নং ৫৮৭; ইবনু মাজাহ ১০৬১.... মাওয়ারিদ নং ৪৪২ এ মুহাক্বিক্বের টীকা হতে।- অনুবাদক))
حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ عَمْرٍو حَدَّثَنَا زَائِدَةُ بْنُ قُدَامَةَ حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ كُلَيْبٍ أَخْبَرَنِي أَبِي أَنَّ وَائِلَ بْنَ حُجْرٍ أَخْبَرَهُ قَالَ قُلْتُ لَأَنْظُرَنَّ إِلَى صَلَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَيْفَ يُصَلِّي فَنَظَرْتُ إِلَيْهِ فَقَامَ فَكَبَّرَ فَرَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى حَاذَتَا بِأُذُنَيْهِ وَوَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى ظَهْرِ كَفِّهِ الْيُسْرَى قَالَ ثُمَّ لَمَّا أَرَادَ أَنْ يَرْكَعَ رَفَعَ يَدَيْهِ مِثْلَهَا وَوَضَعَ يَدَيْهِ عَلَى رُكْبَتَيْهِ ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَرَفَعَ يَدَيْهِ مِثْلَهَا ثُمَّ سَجَدَ فَجَعَلَ كَفَّيْهِ بِحِذَاءِ أُذُنَيْهِ ثُمَّ قَعَدَ فَافْتَرَشَ رِجْلَهُ الْيُسْرَى وَوَضَعَ كَفَّهُ الْيُسْرَى عَلَى فَخِذِهِ وَرُكْبَتِهِ الْيُسْرَى وَجَعَلَ مِرْفَقَهُ الْأَيْمَنَ عَلَى فَخْذِهِ الْيُمْنَى ثُمَّ قَبَضَ ثِنْتَيْنِ فَحَلَّقَ حَلْقَةً ثُمَّ رَفَعَ أُصْبُعَهُ فَرَأَيْتُهُ يُحَرِّكُهَا يَدْعُو بِهَا قَالَ ثُمَّ جِئْتُ بَعْدَ ذَلِكَ فِي زَمَانٍ فِيهِ بَرْدٌ فَرَأَيْتُ عَلَى النَّاسِ جُلَّ الثِّيَابِ يُحَرِّكُونَ أَيْدِيَهُمْ مِنْ تَحْتِ الثِّيَابِ
১৩৯৪. ওয়ায়িল ইবনু হুজর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি বললাম, আমি নিশ্চয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাত দেখেছি, তিনি কিভাবে সালাত আদায় করতেন। তখন আমি তার দিকে দেখতে লাগলাম, তিনি দাঁড়িয়ে তাকবীর দিয়ে তাঁর উভয় হাত তাঁর কান বরাবর উঠালেন, এরপর ডান হাত বাম হাতে তালুর পিঠের উপর স্থাপন করলেন।
তিনি বলেন, এরপর যখন রুকূ’ করার ইচ্ছা করলেন, তখন আগের মতো দু’হাত উঠালেন ও তাঁর দু’হাত দু’হাঁটুর উপর স্থাপন করলেন। এরপর (রুকূ’ হতে) মাথা উঠানোর সময়ও অনুরূপভাবে দু’হাত উঠালেন। এরপর সাজদা করলেন এবং তাঁর হাত দু’টিকে কান বরাবর রাখলেন। এরপর (রুকূ’ হতে) উঠে বাম পা বিছিয়ে বসলেন ও বামহাতের তালু তার বাম উরু ও হাঁটুর উপর রাখলেন এবং তার ডান কনুই ডান উরুর উপর স্থাপন করলেন। এরপর তিনি কনিষ্ঠ ও অনামিক আঙ্গুল দু’টিকে আবদ্ধ করে রাখেন। এরপর একটি (বৃদ্ধাঙ্গুল ও মধ্যমা অাঙ্গুল দ্বারা) একটি বৃত্তাকার বানান। এরপর (তর্জনী) আঙ্গুল উঠিয়ে রাখেন। আর আমি তাকে সেটা নাড়াতে দেখলাম, যা দিয়ে তিনি দু’আ করছিলেন।এর কিছুদিন পর আমি সেখানে অত্যন্ত ঠাণ্ডার সময় গিয়ে দেখতে পাই যে, লোকেরা তাদের শরীরে কাপড় জড়িয়ে রয়েছেন এবং স্ব-স্ব কাপড়ের নিচ দিয়েই তাদের হাত গুলি নড়াচড়া করছিল।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৮৬০; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৪৮৫; মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯০৯ এ। ((আবু দাউদ ৭২৭; আহমদ ৪/৩১৮; নাসাঈ ২/১২৬;, ৩/৩৭; বাইহাকী ২/১৩২; ইবনু খুযাইমা ১/২৪৩ নং ৪৮০; দারুকুতনী ১/৯২; তাবারাণী ২২/৩৫... মাওয়ারিদ নং ৪৮৫ এ মুহাক্বিক্বের টীকা হতে।- অনুবাদক))
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ يُونُسَ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ حِطَّانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الرَّقَاشِيِّ قَالَ صَلَّى بِنَا أَبُو مُوسَى إِحْدَى صَلَاتَيْ الْعَشِيِّ فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ الْقَوْمِ أُقِرَّتْ الصَّلَاةُ بِالْبِرِّ وَالزَّكَاةِ فَلَمَّا قَضَى أَبُو مُوسَى الصَّلَاةَ قَالَ أَيُّكُمْ الْقَائِلُ كَلِمَةَ كَذَا وَكَذَا فَأَرَمَّ الْقَوْمُ فَقَالَ لَعَلَّكَ يَا حِطَّانُ قُلْتَهَا قَالَ مَا أَنَا قُلْتُهَا وَقَدْ خِفْتُ أَنْ تَبْكَعَنِي بِهَا فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ الْقَوْمِ أَنَا قُلْتُهَا وَمَا أَرَدْتُ بِهَا إِلَّا الْخَيْرَ فَقَالَ أَبُو مُوسَى أَوَ مَا تَعْلَمُونَ مَا تَقُولُونَ فِي صَلَاتِكُمْ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَطَبَنَا فَعَلَّمَنَا صَلَاتَنَا وَبَيَّنَ لَنَا سُنَّتَنَا قَالَ أَحْسَبُهُ قَالَ إِذَا أُقِيمَتْ الصَّلَاةُ فَلْيَؤُمَّكُمْ أَحَدُكُمْ فَإِذَا كَبَّرَ فَكَبِّرُوا وَإِذَا قَالَ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ فَقُولُوا آمِينَ يُجِبْكُمْ اللَّهُ فَإِذَا كَبَّرَ وَرَكَعَ فَكَبِّرُوا وَارْكَعُوا فَإِنَّ الْإِمَامَ يَرْكَعُ قَبْلَكُمْ وَيَرْفَعُ قَبْلَكُمْ قَالَ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَتِلْكَ بِتِلْكَ فَإِذَا قَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَقُولُوا اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ أَوْ قَالَ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ فَإِنَّ اللَّهَ قَالَ عَلَى لِسَانِ نَبِيِّهِ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ وَإِذَا كَبَّرَ وَسَجَدَ فَكَبِّرُوا وَاسْجُدُوا فَإِنَّ الْإِمَامَ يَسْجُدُ قَبْلَكُمْ وَيَرْفَعُ قَبْلَكُمْ قَالَ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَتِلْكَ بِتِلْكَ فَإِذَا كَانَ عِنْدَ الْقَعْدَةِ فَلْيَكُنْ مِنْ أَوَّلِ قَوْلِ أَحَدِكُمْ التَّحِيَّاتُ الطَّيِّبَاتُ الصَّلَوَاتُ لِلَّهِ السَّلَامُ أَوْ سَلَامٌ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلَامُ أَوْ سَلَامٌ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ
১৩৯৫. হিত্তান ইবনু আব্দুল্লাহ আর রুকাশী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (একদা) আমি আবূ মুসা রা: এর সাথে ’ইশা’র সালাত আদায় করলাম। তিনি যখন তাশাহহুদের বৈঠকে ছিলেন তখন মুসল্লীদের মধ্যে থেকে এক ব্যক্তি বলে উঠলো, ‘সালাত নেকী ও যাকাতের সাথে ফরয করা হয়েছে’। হিত্তান বলেন, আবূ মুসা রা: যখন সালাত শেষ করে সালাম ফিরালেন তখন বললেন, তোমাদের মধ্যে এই ধরণের কথা কে বলেছো? সবাই চুপ করে রইলো। তিনি আবার বললেন, এরকম কথা তোমাদের মধ্য থেকে কে বলেছো? সবাই চুপ করে রইলো। তিনি বললেন, হিত্তান! তুমিই হয়তো এরকম বলেছো।’ হিত্তান বললেন, আমি এটা বলিনি। আমি ভয় করছিলাম যে, আপনি এ কারণে আমাকে তিরস্কার করবেন। অতঃপর এক ব্যক্তি বললো, আমি এটি বলেছি। আর আমি এর কেবলমাত্র সাওয়াবের উদ্দেশ্যেই বলেছি।’
আবূ মূসা রা: বললেন, তোমরা তোমাদের সালাতে কী বলবে, তা জান না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের সামনে খুতবা দিয়েছেন এরপর আমাদেরকে সালাত শিক্ষা দিয়েছেন এবং আমাদের জন্য পন্থা-পদ্ধতি (সুন্নাত) প্রবর্তন করেছেন। তিনি বলেন, আমার ধারণা, তিনি বলেছেন: “সালাতের ইকামাত দেয়া হলে তোমাদের মধ্যে থেকে কোনো একজন যেন তোমাদের ইমামতি করে। ফলে সে যখন তাকবীর দেবে, তখন তোমরাও তাকবীর দেবে। আর যখন সে পাঠ করবে [“গয়রিল মাগদ্বুবি আলাইহিম ওয়ালাদ্দ্বল্লীন।“ (সুরা ফাতিহা: ৭)] তখন তোমরা বলবে, ‘আমীন’। তাহলে আল্লাহ তোমাদের (দু’আ) কে কবুল করবেন। আর যখন সে তাকবীর দিয়ে রুকূ’ করবে তখন তোমরাও তাকবীর দিয়ে রুকূ’ করবে।
তবে ইমাম অবশ্যই তোমাদের পূর্বে রুকু’ করবেন এবং তোমাদের পূর্বেই রুকূ’ হতে উঠবেন।“ নবীউল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “ফলে ঐটার সঙ্গেই ঐটা। আর যখন সে বলবে, ‘সামি’য়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’ তখন তোমরা বলবে, আল্লাহুম্মা রব্বানা লাকাল হামদ’ অথবা, তিনি বলেন: ‘রব্বানা ওয়া লাকাল হামদ’। কেননা, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁর নবীর মুখ দিয়ে বলিয়েছেন, ‘সামি’য়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’ (অর্থ: যে ব্যক্তি আল্লাহ’র প্রশংসা করে, মহান আল্লাহ তা শোনেন)।’
এরপর তিনি যখন তাকবীর দিয়ে সাজদা করবে, তখন তোমরাও তাকবীর দিয়ে সাজদা করবে। আর ইমাম অবশ্যই তোমাদের পূর্বে সাজদা করবেন এবং তোমাদের পূর্বেই (সিজদা হতে মাথা) উঠাবেন।“নবীউল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “ফলে ঐটার সঙ্গেই ঐটা। আর যখন সে বসবে, তোমাদের কারো প্রথম কথা যেন হয়: ‘আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি, ওয়াস সলাওয়াতু ওয়াত তয়্যিবাতু, আস সালামু- অথবা সালামু আলাইকা আইয়্যূহান নাবিয়্যূ ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহু; আস সালামু- অথবা সালামু- আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস স্বলিহীন।’ তোমরা যখন একথা বলবে, তখন আসমান-যমীনের সকল সালেহীন বান্দাগণ তা প্রাপ্ত হবে।- (এরপর বলবে) ‘আশহাদু আন্ লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আব্দুহু ওয়া রসূলুহু।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। সাঈদ ইবনু আমির সাঈদ ইবনু আবী আরুবাহ হতে কিছু শ্রবণ করা হতে পিছিয়ে। তবে হাদীসটি সহীহ।
তাখরীজ: মুসলিম ৪০৪; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭২২৪ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২১৬৭ তে। দেখুন, বিগত ১৩৫১ (অনূবাদে ১৩৪৮) নং টি।
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ هُوَ النَّبِيلُ عَنْ ابْنِ عَجْلَانَ عَنْ الْمَقْبُرِيِّ عَنْ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمٍ عَنْ أَبِي قَتَادَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ يُصَلِّي وَقَدْ حَمَلَ عَلَى عُنُقِهِ أَوْ عَاتِقِهِ أُمَامَةَ بِنْتَ زَيْنَبَ فَإِذَا رَكَعَ وَضَعَهَا وَإِذَا قَامَ حَمَلَهَا
১৩৯৬. আবী কাতাদাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বের হয়ে সালাত আদায় করলেন, অথচ তাঁর ঘাড়ে অথবা, কাঁধে উমামাহ বিনতে যায়নাব (যায়নাবের শিশু সন্তান) কে বহন করছিলেন। আর যখন তিনি রুকূ’ করলেন, তাকে নামিয়ে রাখলেন। আবার যখন তিনি দাঁড়ালেন, তখন তাকে (কাঁধে বা ঘাড়ে) উঠিয়ে নিলেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান। তবে হাদীসটি বুখারী-মুসলিমে বর্ণিত।
তাখরীজ: বুখারী ৫১৬; মুসলিম ৫৪৩। আমরা এর পূর্ণ তাখলীজ ও টীকা দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান ১১০৯, ১১১০, ২৩৩৯ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪২৬ এ। পরবর্তী টীকাটিও দেখুন।
حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ عَامِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمٍ الزُّرَقِيِّ عَنْ أَبِي قَتَادَةَ الْأَنْصَارِيِّ قَالَ حَمَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُمَامَةَ بِنْتَ زَيْنَبَ بِنْتِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ فِي الصَّلَاةِ فَإِذَا سَجَدَ وَضَعَهَا وَإِذَا قَامَ حَمَلَهَا
১৩৯৭. আবী কাতাদাহ আল আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উমামাহ বিনতে যায়নাব বিনতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মেয়ে যায়নাবের শিশু সন্তান) কে (কাঁধে বা ঘাড়ে) বহন করছিলেন, অথচ, তিনি তখন সালাতে ছিলেন। করলেন, আর যখন তিনি রুকূ’ করলেন, তাকে নামিয়ে রাখলেন। আবার যখন তিনি দাঁড়ালেন, তখন তাকে উঠিয়ে নিলেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: এটি আগের হাদীসটির পূনরাবৃত্তি।
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا لَيْثُ بْنُ سَعْدٍ أَخْبَرَنِي بُكَيْرٌ هُوَ ابْنُ الْأَشَجِّ عَنْ نَابِلٍ صَاحِبِ الْعَبَاءِ عَنْ ابْنِ عُمَرَ عَنْ صُهَيْبٍ قَالَ مَرَرْتُ بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ وَهُوَ يُصَلِّي فَرَدَّ إِلَيَّ إِشَارَةً قَالَ لَيْثٌ أَحْسَبُهُ قَالَ بِأُصْبُعِهِ
১৩৯৮. সুহাইব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে সালাম দিলাম, আর তখন তিনি সালাতরত ছিলেন। আর তিনি ইশারায় আমার সালামের জবাব দিলেন। লাইছ বলেন, আমার ধারণা, তিনি এও বলেছেন: ‘তাঁর আঙ্গুল দ্বারা’।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখলীজ ও টীকা দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান ২২৫৯; দেখুন পরবর্তী টীকাটিও দেখুন।
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ مَسْجِدَ بَنِي عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ فَدَخَلَ النَّاسُ يُسَلِّمُونَ عَلَيْهِ وَهُوَ فِي الصَّلَاةِ قَالَ فَسَأَلْتُ صُهَيْبًا كَيْفَ كَانَ يَرُدُّ عَلَيْهِمْ قَالَ هَكَذَا وَأَشَارَ بِيَدِهِ
১৩৯৯. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বনী আমর ইবনু আওফের মসজিদে প্রবেশ করলেন। আর লোকেরাও সেখানে প্রবেশ করে তাঁকে সালাম দিলো, অথচ তিনি তখন সালাতরত ছিলেন।তিনি বলেন, আমি সুহাইবকে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি কিভাবে তাদের সালামের জবাব দিলেন? তিনি বললেন, “এভাবে“, (একথা বলে) তিনি তার হাত দিয়ে ইশারা করলেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ ও টীকা দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৬৩৮, ৫৬৪৩ ও সহীহ ইবনু হিব্বান ২২৫৯ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৫৩২ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ২৪৮ এ। ((আহমাদ ২/১০; আব্দুর রাযযাক ২/৩৩৬ নং ৩৫৯৭; নাসাঈ ৩/৫; ইবনু মাজাহ ১০১৭; বাইহাকী ২/২৫৯; ইবনু খুযাইমা ২/৪৯ নং ৮৮৮- মুসনাদে আবী ইয়ালা মাউসিলী নং ৫৬৩৮ এর মুহাক্বিক্বের টীকা হতে।- অনুবাদক))
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ التَّسْبِيحُ لِلرِّجَالِ وَالتَّصْفِيقُ لِلنِّسَاءِ
১৪০০. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “পুরুষদের জন্য তাসবীহ ও নারীদের জন্য হাত তালি দেওয়া (অনুমোদিত)।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী ১২০৩; মুসলিম ৪২২। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৯৫৫, ৬০৪২ ও সহীহ ইবনু হিব্বান ২২৬২, ২২৬৩ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯৭৮ এ। পরবর্তী হাদীসটিও দেখুন।