হাদীস বিএন


সুনান আদ-দারিমী





সুনান আদ-দারিমী (1361)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ سُحَيْمٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْبَدٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَشَفَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ السِّتَارَةَ وَالنَّاسُ صُفُوفٌ خَلْفَ أَبِي بَكْرٍ فَقَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّهُ لَمْ يَبْقَ مِنْ مُبَشِّرَاتِ النُّبُوَّةِ إِلَّا الرُّؤْيَا الصَّالِحَةُ يَرَاهَا الْمُسْلِمُ أَوْ تُرَى لَهُ أَلَا إِنِّي نُهِيتُ أَنْ أَقْرَأَ رَاكِعًا أَوْ سَاجِدًا فَأَمَّا الرُّكُوعُ فَعَظِّمُوا رَبَّكُمْ وَأَمَّا السُّجُودُ فَاجْتَهِدُوا فِي الدُّعَاءِ فَقَمِنٌ أَنْ يُسْتَجَابَ لَكُمْ




১৩৬১. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সর্বশেষ অসুস্থতার সময়ে ঘরের) পর্দা তুলে ধরলেন- তখন লোকেরা আবু বাকরের পিছনে কাতারবদ্ধ ছিলেন। তখন তিনি বললেন: “হে মানবমণ্ডলী! নবুওয়াতের সুসংবাদের আর কোনো কিছুই আর অবশিষ্ট নেই, তবে কোনো মুসলিম যে সুস্বপ্ন দেখবে বা তার পক্ষে দেখানো হবে, তা ব্যতীত। আর জেনে রাখো, আমাকে রুকূ কিংবা সিজদারত অবস্থায় কিরা’আত (কুরআন) পাঠ করতে নিষেধ করা হয়েছে। তাই তোমরা রুকূতে তোমাদের রবের ‘তা’যীম’ (মহত্ত্ব) বর্ণনা করবে এবং সিজদায় (বেশি বেশি) দু’আ করার চেষ্টা করবে। কেননা, সেটি তোমাদের দু’আ কবুলের উপযুক্ত সময়।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ৪৭৯; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪১৭, ২৩৮৭ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৮৯৬ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪৯৫ এ।









সুনান আদ-দারিমী (1362)


أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ وَإِسْمَعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ سُحَيْمٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْبَدِ بْنِ عَبَّاسٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنِّي نُهِيتُ أَنْ أَقْرَأَ وَأَنَا رَاكِعٌ أَوْ سَاجِدٌ فَأَمَّا الرُّكُوعُ فَعَظِّمُوا فِيهِ الرَّبَّ وَأَمَّا السُّجُودُ فَاجْتَهِدُوا فِي الدُّعَاءِ فَقَمِنٌ أَنْ يُسْتَجَابَ لَكُمْ




১৩৬২. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আমার রুকূ’ অথবা সাজদারত অবস্থায় আমাকে কিরা’আত (কুরআন) পাঠ করতে নিষেধ করা হয়েছে। তাই তোমরা রুকূতে তোমাদের রবের ‘তা’যীম’ (মহত্ত্ব) বর্ণনা করবে এবং সিজদায় (বেশি বেশি) দু’আ করার চেষ্টা করবে। কেননা, সেটি হলো তোমাদের দু’আ কবুলের উপযুক্ত সময়।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: এটি আগের হাদীসটির পূনরাবৃত্তি। পূর্ণ তাখরীজের জন্য সেখানে দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (1363)


أَخْبَرَنَا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ عُمَارَةَ هُوَ ابْنُ عُمَيْرٍ عَنْ أَبِي مَعْمَرٍ عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تُجْزِئُ صَلَاةٌ لَا يُقِيمُ الرَّجُلُ فِيهَا صُلْبَهُ فِي الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ




১৩৬৩. আবী মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি রুকূ’ ও সিজদায় (তথা রুকূ’ ও সিজদা হতে উঠে) তার পিঠ সোজা করবে না, তার সালাত যথেষ্ট হবে না।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৮৯২, ১৮৯৩; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৫০১, ৫০২ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪৫৯। ((আবু দাউদ ৮৫৫; আহমাদ ৪/১১৯, ১২২; তায়ালিসী ১/৯৭ নং ৪২৭; ইবুন হাযম, আল মুহাল্লা ৩/২৫৭; তাবারাণী, আল কাবীর ১৭/২১৩; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ ১/৩০০ নং ৫৯১, ৫৯২, ৬৬৬; ইবনু হিব্বান নং ১৮৯০; দারুকুতনী ১/৩৪৮; ইবনু মাজাহ ৮৭০; তিরমিযী ২৬৫; আব্দুর রাযযাক ২/১৫০ নং ২৮৫৬, ৩৭৩৬; হুমাইদী ১/২১৬ নং ৪৫৪; বাইহাকী ২/৮৮; নাসাঈ ২/১৮৩, ২১৪; বাগাবী, শারহুস zwj;সুন্নাহ নং ৬১৭।- মাওয়ারিদুয যাম’আন ৫০১, ৫০২ মুহাক্বিক্বের টীকা হতে। -অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (1364)


أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ مُوسَى حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَسْوَأُ النَّاسِ سَرِقَةً الَّذِي يَسْرِقُ صَلَاتَهُ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَكَيْفَ يَسْرِقُ صَلَاتَهُ قَالَ لَا يُتِمُّ رُكُوعَهَا وَلَا سُجُودَهَا




১৩৬৪. আবী কাতাদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: সবচেয়ে নিকৃষ্ট চোর হলো সেই লোক যে তার সালাত চুরি করে।“ তারা বললো, ইয়া রাসূলুল্লাহ! সালাত আবার সে কিভাবে চুরি করে? তিনি বললেন: “সে সালাতের রুকূ’ ও সিজদা কোনোটিই পরিপূর্ণভাবে আদায় করে না।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। এতে ওয়ালিদ ইবনু মুসলিম ‘আন‘আন পদ্ধতে এটি বর্ণনা করেছেন। (তবে আবী হুরাইরা থেকে সহীহ সনদে এটি বর্ণিত হয়েছে ইবনু হিব্বান ১৮৮৮, হাকিম ১/২২৯; আহমাদ ৫/৩১০ ও অন্যান্যরা। দেখুন মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৫০৩ এ মুহাক্কিক্বের টীকাটি ও আল ইহসান, নং ১৮৮৮ আরনাউত্বের টীকাটিও।-অনুবাদক))

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি আবী ইয়া’লা’র মু’জামুস শুয়ূখ’ নং ১৫০ এবং সেখানে এর সনদকে সহীহ বলা ভূল হয়েছে; এবং মাজমাউয যাওয়াইদ নং ২৭৪৪ এ।

তবে এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবী সাঈদ খুদরী, আবী হুরাইরা ও আব্দুল্লাহ ইবনু মুগাফ্ফাল হতে। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৭৪৫, ২৭৪৬, ২৭৪৭ এ।

আবী হুরাইরা’র সহীহ হাদীসটি আমরা সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৮৮৮; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৫০৩ এ।









সুনান আদ-দারিমী (1365)


أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ حَدَّثَنَا إِسْحَقُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ عَلِيِّ بْنِ يَحْيَى بْنِ خَلَّادٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَمِّهِ رِفَاعَةَ بْنِ رَافِعٍ وَكَانَ رِفَاعَةُ وَمَالِكُ ابْنَيْ رَافِعٍ أَخَوَيْنِ مِنْ أَهْلِ بَدْرٍ قَالَ بَيْنَمَا نَحْنُ جُلُوسٌ حَوْلَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَالِسٌ وَنَحْنُ حَوْلَهُ شَكَّ هَمَّامٌ إِذْ دَخَلَ رَجُلٌ فَاسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ فَصَلَّى فَلَمَّا قَضَى الصَّلَاةَ جَاءَ فَسَلَّمَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَلَى الْقَوْمِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَلَيْكَ ارْجِعْ فَصَلِّ فَإِنَّكَ لَمْ تُصَلِّ فَرَجَعَ الرَّجُلُ فَصَلَّى وَجَعَلْنَا نَرْمُقُ صَلَاتَهُ لَا نَدْرِي مَا يَعِيبُ مِنْهَا فَلَمَّا قَضَى صَلَاتَهُ جَاءَ فَسَلَّمَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَلَى الْقَوْمِ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَلَيْكَ ارْجِعْ فَصَلِّ فَإِنَّكَ لَمْ تُصَلِّ قَالَ هَمَّامٌ فَلَا أَدْرِي أَمَرَهُ بِذَلِكَ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا قَالَ الرَّجُلُ مَا أَلَوْتُ فَلَا أَدْرِي مَا عِبْتَ عَلَيَّ مِنْ صَلَاتِي فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّهَا لَا تَتِمُّ صَلَاةُ أَحَدِكُمْ حَتَّى يُسْبِغَ الْوُضُوءَ كَمَا أَمَرَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فَيَغْسِلُ وَجْهَهُ وَيَدَيْهِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ وَيَمْسَحُ بِرَأْسِهِ وَرِجْلَيْهِ إِلَى الْكَعْبَيْنِ ثُمَّ يُكَبِّرُ اللَّهَ وَيَحْمَدُهُ ثُمَّ يَقْرَأُ مِنْ الْقُرْآنِ مَا أَذِنَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لَهُ فِيهِ ثُمَّ يُكَبِّرُ فَيَرْكَعُ فَيَضَعُ كَفَّيْهِ عَلَى رُكْبَتَيْهِ حَتَّى تَطْمَئِنَّ مَفَاصِلُهُ وَتَسْتَرْخِيَ وَيَقُولُ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَيَسْتَوِي قَائِمًا حَتَّى يُقِيمَ صُلْبَهُ فَيَأْخُذَ كُلُّ عَظْمٍ مَأْخَذَهُ ثُمَّ يُكَبِّرُ فَيَسْجُدُ فَيُمَكِّنُ وَجْهَهُ قَالَ هَمَّامٌ وَرُبَّمَا قَالَ جَبْهَتَهُ مِنْ الْأَرْضِ حَتَّى تَطْمَئِنَّ مَفَاصِلُهُ وَتَسْتَرْخِيَ ثُمَّ يُكَبِّرُ فَيَسْتَوِي قَاعِدًا عَلَى مَقْعَدِهِ وَيُقِيمُ صُلْبَهُ فَوَصَفَ الصَّلَاةَ هَكَذَا أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ حَتَّى فَرَغَ لَا تَتِمُّ صَلَاةُ أَحَدِكُمْ حَتَّى يَفْعَلَ ذَلِكَ




১৩৬৫. রাফি’র দুই পূত্র রিফা’আ ও মালিক দু’ভাই যারা বদরযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ছিলেন, তাদের উভয় থেকে বর্ণিত, তারা বলেন, আমরা একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চারপাশে বসে ছিলাম- রাবী হাম্মামের সন্দেহ- অথবা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বসে ছিলেন এবং আমরা তাঁর চারপাশে বসে ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি এসে কিবলামুখী হয়ে সালাত আদায় করতে আরম্ভ করে দিলো। এরপর যখন সে সালাত শেষ করলো, তখন সে এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ও লোকদেরকে সালাম দিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “তোমার উপরও (সালাম)। তুমি ফিরে গিয়ে (পুনরায়) সালাত আদায় করো। কেননা, তুমি সালাত আদায় করনি।“ তখন লোকটি ফিরে গেলো এবং পুনরায় সালাত আদায় করতে লাগলো। আর আমরা তার সালাত পর্যবেক্ষণ করছিলাম, কিন্তু আমরা বুঝতে পারছিলাম না সে সালাতে কী ত্রুটি করেছিলো। এরপর যখন সে সালাত শেষ করলো, তখন সে এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ও লোকদেরকে সালাম দিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “তোমার উপরও (সালাম)। তুমি ফিরে গিয়ে (পুনরায়) সালাত আদায় করো। কেননা, তুমি সালাত আদায় করনি।“

হাম্মাম (বর্ণনাকারী) বলেন, আমি জানিনা, তিনি তাকে দু’বার নাকি তিনবার এর নির্দেশ দিয়েছিলেন।

লোকটি বললো, আমি তো কম করিনি; ফলে আমি আমার সালাতে কী ত্রুটি করেছি তা নিজে থেকে বুঝতে পারছি না।তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “তোমাদের কারো সালাত ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ হবে না, যতক্ষণ না তোমরা পরিপূর্ণরূপে ওযু করবে, যেভাবে আল্লাহ তা করতে নির্দেশ দিয়েছেন- তথা সে তার মুখমণ্ডল ও দু’হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করবে আর তার মাথা মাসেহ করবে এবং গিঁঠ পর্যন্ত দু’পা ধৌত করবে; এরপর ‘আল্লাহু আকবার’ বলে তাঁর ‘হামদ’-প্রশংসা বর্ণনা করবে, অতঃপর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা যেটুকু অনুমতি দিয়েছেন সে পরিমাণ কুরআন তিলাওয়াত করবে। অতঃপর তাকবীর দিয়ে রুকূ’ করবে আর সে এতে তার উভয় হাতের তালু উভয় হাঁটুতে স্থাপন করবে যতক্ষণ না তার শরীরের জোড়াসমূহ শিথিল হয়ে স্ব-স্ব স্থানে যথারীতি স্থির হয়ে যাবে। এরপর সে বলবে: ‘সামি’আল্লাহু লিমান হামিদাহ’। এরপর সে সটান দাঁড়িয়ে যাবে যতক্ষণ না তার পিঠ সোজা হয়ে যায় ফলে তার হাড়সমূহ স্ব-স্ব স্থানে যথারীতি অবস্থান করে। এরপর সে তাকবীর বলে সিজদায় গমণ করবে এবং তার চেহারাকে -“ (রাবী) হাম্মাম বলেন, সম্ভবত তিনি বলেছেন, “- তার কপালকে মাটিতে সুপ্রতিষ্ঠিত করবে, যতক্ষণ না তার শরীরের জোড়াসমূহ শিথিল হয়ে স্ব-স্ব স্থানে যথারীতি স্থির হয়ে যাবে। সে তাকবীর দিয়ে তার অবস্থানস্থলে সোজা হয়ে বসে যাবে যতক্ষণ না তার পিঠ সোজা হয়ে যাবে।“ এভাবে তিনি এ চার রাকা’আত সালাত আদায় পদ্ধতি শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করলেন। (শেষে বললেন:) “তোমাদের কারো সালাত পূর্ণ হবে না, যতক্ষণ না সে এরূপ করবে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৬২৩; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৭৮৭ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৪৮৪ এ।









সুনান আদ-দারিমী (1366)


أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ بُرْقَانَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ الْأَصَمِّ عَنْ مَيْمُونَةَ بِنْتِ الْحَارِثِ قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا سَجَدَ جَافَى حَتَّى يَرَى مَنْ خَلْفَهُ وَضَحَ إِبِطَيْهِ




১৩৬৬. মাইমুনাহ বিনতুল হারিস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সাজদা করতেন, তখন তিনি তার দু’হাতকে (পার্শ্বদেশ হতে) আলাদা করে রাখতেন এমনকি তাঁর পেছনে যারা থাকতেন, তারা তাঁর উভয় বাহুমুলের ঔজ্জ্বল্য স্পষ্টভাবে দেখতে পেতেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: মুসলিম ৪৯৭; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭০৯৬, ৭০৯৭, ৭১০২ এ।









সুনান আদ-দারিমী (1367)


أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ وَإِسْمَعِيلُ بْنُ زَكَرِيَّا عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْأَصَمِّ عَنْ عَمِّهِ يَزِيدَ بْنِ الْأَصَمِّ عَنْ مَيْمُونَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا سَجَدَ جَافَى حَتَّى لَوْ شَاءَتْ بَهْمَةٌ تَمُرُّ تَحْتَهُ لَمَرَّتْ




১৩৬৭. মাইমুনাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সাজদা করতেন, তখন তিনি (তার দু’হাতকে) পার্শ্বদেশ হতে এমনভাবে আলাদা করে রাখতেন যে, একটি ছাগলের বাচ্চা ইচ্ছে করলে তাঁর নিচ দিয়ে চলে যেতে পারতো।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: পূর্ণ তাখরীজের জন্য পূর্বের ও পরের হাদীস দু’টি দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (1368)


حَدَّثَنَا إِسْحَقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا مَرْوَانُ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْأَصَمِّ عَنْ يَزِيدَ بْنِ الْأَصَمِّ عَنْ مَيْمُونَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا سَجَدَ خَوَّى بِيَدَيْهِ يَعْنِي جَنَّحَ حَتَّى يُرَى وَضَحُ إِبْطَيْهِ مِنْ وَرَائِهِ وَإِذَا قَعَدَ اطْمَأَنَّ عَلَى فَخِذِهِ الْيُسْرَى




১৩৬৮. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সহধর্মিনী মাইমূনাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সাজদা করতেন, তখন তিনি তার দু’বাহুকে পার্শ্বদেশ হতে এমনভাবে আলাদা করে রাখতেন যে, তাঁর পেছন থেকে তাঁর উভয় বাহুমুলের শুভ্রতা স্পষ্টভাবে দেখা যেতো। আর যখন বসতেন তখন তাঁর বাম উরুর উপর শান্ত হয়ে বসতেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ৪৯৭; দেখুন, আগের হাদীসটি এবং আমার তাহক্বীক্বৃকত মাজমাউয যাওয়াইদে ২২৮৬ নং টি।









সুনান আদ-দারিমী (1369)


أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ الرَّبِيعِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ الْحَكَمِ عَنْ ابْنِ أَبِي لَيْلَى حَدَّثَنِي الْبَرَاءُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ رُكُوعُهُ إِذَا رَكَعَ وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنْ الرُّكُوعِ وَسُجُودُهُ وَبَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ قَرِيبًا مِنْ السَّوَاءِ




১৩৬৯. বারা’আ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রুকু’, রুকূ’ হতে মাথা উঠানোর পরবর্তী সময়, সাজদা ও উভয় সাজদার মধ্যবর্তী সময় প্রায় সম পরিমাণ হতো।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৭৯২; মুসলিম ৪৭১ (১৯৪)। আমরা পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৬৮০; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৮৮৪ তে। পরবর্তী হাদীসটি ও তার টীকাটি দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (1370)


أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ هِلَالِ بْنِ حُمَيْدٍ الْوَزَّانِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى عَنْ الْبَرَاءِ قَالَ رَمَقْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي صَلَاتِهِ فَوَجَدْتُ قِيَامَهُ وَرَكْعَتَهُ وَاعْتِدَالَهُ بَعْدَ الرَّكْعَةِ فَسَجْدَتَهُ فَجِلْسَتَهُ بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ فَسَجْدَتَهُ فَجِلْسَتَهُ بَيْنَ التَّسْلِيمِ وَالِانْصِرَافِ قَرِيبًا مِنْ السَّوَاءِ قَالَ أَبُو مُحَمَّد هِلَالُ بْنُ حُمَيْدٍ أُرَى أَبُو حُمَيْدٍ الْوَزَّانُ




১৩৭০. বারা’আ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাত পর্যবেক্ষণ করেছি। অতএব, তাঁর কিয়াম (সালাতে দাঁড়ানো), রুকূ’, রুকূ’ হতে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর অবস্থা, এরপর তাঁর সাজদা ও উভয় সিজদার মধ্যবর্তী বসা, অতঃপর তাঁর (দ্বিতীয়) সাজদা এবং সালাম ও (মুসল্লীদের দিকে) ফিরে বসার মধ্যবর্তী সময় - এ সবগুলোকেই প্রায় সমান পেয়েছি।[1] আবু মুহাম্মদ বলেন, হিলাল ইবনু হুমাইদ হলেন আবু হুমাইদ আল ওয়াযযান।

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ৪৭১; এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি। তাই পূর্ণ তাখরীজ সেখানে দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (1371)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ حَدَّثَنِي عُقَيْلٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَخْبَرَنِي عَبَّادُ بْنُ زِيَادٍ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الْمُغِيرَةِ وَحَمْزَةَ بْنِ الْمُغِيرَةِ أَنَّهُمَا سَمِعَا الْمُغِيرَةَ بْنَ شُعْبَةَ يُخْبِرُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَقْبَلَ وَأَقْبَلَ مَعَهُ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ حَتَّى وَجَدُوا النَّاسَ قَدْ أَقَامُوا الصَّلَاةَ صَلَاةَ الْفَجْرِ وَقَدَّمُوا عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ يُصَلِّي بِهِمْ فَصَلَّى بِهِمْ عَبْدُ الرَّحْمَنِ رَكْعَةً مِنْ صَلَاةِ الْفَجْرِ قَبْلَ أَنْ يَأْتِيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ جَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَصَفَّ مَعَ النَّاسِ وَرَاءَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ فِي الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ فَلَمَّا سَلَّمَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ صَلَّى فَفَزِعَ النَّاسُ لِذَلِكَ وَأَكْثَرُوا التَّسْبِيحَ فَلَمَّا قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَاتَهُ قَالَ لِلنَّاسِ قَدْ أَصَبْتُمْ أَوْ قَدْ أَحْسَنْتُمْ




১৩৭১. মুগীরাহ ইবনু শু’বাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এগিয়ে চললেন এবং মুগীরা ইবনু শু’বাও তাঁর সাথে এগিয়ে চললেন। তখন তাঁরা লোকদেরকে ফজর সালাতে দণ্ডায়মান অবস্থায় পেলেন। আর লোকেরা আব্দুর রহমান ইবনু আউফ কে তাদের নিয়ে সালাত আদায়ের জন্য আগে বাড়িয়ে দিয়েছেন। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফিরে আসার পূর্বে আব্দুর রহমান তাদের নিয়ে ফজর সালাতের এক রাকা’আত আদায় করলেন; অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফিরে আসলেন এবং দ্বিতীয় রাকা’আতে আব্দুর রহমানের পিছনে লোকদের সাথে কাতারবদ্ধ হয়ে দাঁড়ালেন। অতঃপর যখন আব্দুর রহমান সালাম ফিরালেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঠে দাঁড়িয়ে (ছুটে যাওয়া এক রাকা’আত) সালাত আদায় করলেন। এজন্য লোকেরা ভীত হয়ে পড়লো এবং অধিক পরিমানে তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ) পড়তে লাগলো। এরপর যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সালাত শেষ করলেন, তখন লোকদেরকে বললেন: “তোমরা ঠিকই করেছো“ অথবা “তোমরা ভালই করেছো“।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। তবে হাদীসটি সহীহ।

তাখরীজ: আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২২২৪; মাওয়ারিদ নং ৩৭১ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৭৭৫; পরবর্তী হাদীসটিও দেখুন। ((সহীহ মুসলিম ২৭৪ (১০৫); আহমাদ ৪/২৪৯, ২৫১; আবু দাউদ ১৪৯; নাসাঈ ৭৯; বাগাবী শারহুস সুন্নাহ ১/৪৫৫-৪৫৬ নং ২৩৬; বাইহাকী ১/২৭৪; তাবারাণী, আল কাবীর ২০/৩৭৬ নং ৮৮০, ৮৮১; ইবনু খুযাইমা ৩/৮ নং ১৫১৪।- মুহাক্বিক্বের মাওয়ারিদুয যাম’আন নং৩৭১ এর টীকা হতে- অনুবাদক।))









সুনান আদ-দারিমী (1372)


أَخْبَرَنَا مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ الطَّوِيلُ حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْمُزَنِيُّ عَنْ حَمْزَةَ بْنِ الْمُغِيرَةِ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ قَالَ فَانْتَهَيْنَا إِلَى الْقَوْمِ وَقَدْ قَامُوا إِلَى الصَّلَاةِ يُصَلِّي بِهِمْ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ وَقَدْ رَكَعَ بِهِمْ فَلَمَّا أَحَسَّ بِالنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَهَبَ يَتَأَخَّرُ فَأَوْمَى إِلَيْهِ بِيَدِهِ فَصَلَّى بِهِمْ فَلَمَّا سَلَّمَ قَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقُمْتُ فَرَكَعْنَا الرَّكْعَةَ الَّتِي سُبِقْنَا قَالَ أَبُو مُحَمَّد أَقُولُ فِي الْقَضَاءِ بِقَوْلِ أَهْلِ الْكُوفَةِ أَنْ يَجْعَلَ مَا فَاتَهُ مِنْ الصَّلَاةِ قَضَاءً




১৩৭২. মুগীরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যখন আমরা লোকদের নিকট এসে পৌঁছলাম, তখন তারা সালাতে ছিলো, আর আব্দুর রহমান ইবনু আউফ তাদের নিয়ে সালাত আদায় করছিলেন। আর তখন তিনি তাদের সাথে রুকূ’ করছিলেন। ফলে তিনি যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপস্থিতি টের পেলেন, তিনি পিছিয়ে আসতে চাইলেন। তখন তিনি তাদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করার জন্য তাকে হাত দ্বারা ইশারা করলেন। এরপর যখন তিনি সালাম ফেরালেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঠে দাঁড়ালেন, আমিও উঠে দাঁড়ালাম এবং আমরা ছুটে যাওয়া এক রাকা’আত সালাত আদায় করলাম।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ২৭৪ (৮১)। আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩২৬, ১৩৪৬, ১৩৪৭, ২২২৪, ২২২৫ তে। ((আগের টীকাটি দেখুন- অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (1373)


أَخْبَرَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ حَدَّثَنَا غَالِبٌ الْقَطَّانُ عَنْ بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَنَسٍ قَالَ كُنَّا نُصَلِّي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي شِدَّةِ الْحَرِّ فَإِذَا لَمْ يَسْتَطِعْ أَحَدُنَا أَنْ يُمَكِّنَ جَبْهَتَهُ مِنْ الْأَرْضِ بَسَطَ ثَوْبَهُ فَصَلَّى عَلَيْهِ




১৩৭৩. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বলেন, আমরা ভীষণ গরমের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সালাত আদায় করেছি। এমতাবস্থায় যখন আমাদের কেউ জমিনে কপাল স্থির রাখতে সক্ষম হতো না, তখন সে তার কাপড় বিছিয়ে তার উপর সালাত আদায় (সাজদা) করতো।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৩৮৫; মুসলিম ৬২০। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪১৫২ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৩৫৪ তে।









সুনান আদ-দারিমী (1374)


أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ ابْنِ عَجْلَانَ عَنْ عَامِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدْعُو هَكَذَا فِي الصَّلَاةِ وَأَشَارَ ابْنُ عُيَيْنَةَ بِأُصْبُعِهِ وَأَشَارَ أَبُو الْوَلِيدِ بِالسَّبَّاحَةِ




১৩৭৪. আব্দুল্লাহ ইবনু যুবাইর এর পিতা (যুবাইর) রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেছি, তিনি সালাতে এভাবে দু’আ করতেন।’ (এটি বর্ণনার সময় বর্ণনাকারী) ইবনু উয়াইনাহ তার আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করলেন। আর (অপর বর্ণনাকারী) আবীল ওয়লীদ তর্জনী আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করে দেখালেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান, ইবনু ইজলানের কারণে। ((তবে হাদীসটি সহীহ যা মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে- অনুবাদক))

তাখরীজ: মুসলিম ৫৭৯। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৮০৬, ৬৮০৭; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৯৪৩, ১৯৪৪ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯০৩ তে। আঙ্গুল নাড়ানো জন্য দেখুন, মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৭৬৭ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৬৬২, ৬৬৩। সেটিই পরের হাদীসটি।









সুনান আদ-দারিমী (1375)


أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا قَعَدَ فِي آخِرِ الصَّلَاةِ وَضَعَ يَدَهُ الْيُسْرَى عَلَى رُكْبَتِهِ الْيُسْرَى وَوَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى رُكْبَتِهِ الْيُمْنَى وَنَصَبَ إِصْبَعَهُ




১৩৭৫. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সালাতের শেষে (বৈঠকে) বসতেন, তখন তাঁর বাম হাত তাঁর বাম হাঁটুর উপর এবং ডান হাত তাঁর ডান হাঁটুর উপর রাখতেন এবং তাঁর (তর্জনী) আঙ্গুল উঠিয়ে রাখতেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: মুসলিম ৫৮০; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৭৬৭; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৯৪২ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৬৬২।

হুমাইদীতে অতিরিক্ত আছে: ‘সুফিয়ান বলেন: ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আমাদের নিকট মুসলিম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যখন আমি মুসলিমের সাথে সাক্ষাত করলাম, তিনি আমার নিকট এ হাদীসটি বর্ণনা করলেন এবং এতে অতিরিক্ত বললেন: ‘এটি শয়তান তাড়ানোর যন্ত্র, ফলে কেউ যেন তা ভূলে না যায়।’ আর আরও বলতেন: আর তা ‘এভাবে’ (নাড়াতে হবে বলে) হুমাইদী তার আঙ্গুল উঠিয়ে রাখলেন।









সুনান আদ-দারিমী (1376)


حَدَّثَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ شَقِيقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ كُنَّا إِذَا صَلَّيْنَا خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُلْنَا السَّلَامُ عَلَى اللَّهِ قَبْلَ عِبَادِهِ السَّلَامُ عَلَى جِبْرِيلَ السَّلَامُ عَلَى مِيكَائِيلَ السَّلَامُ عَلَى إِسْرَافِيلَ السَّلَامُ عَلَى فُلَانٍ وَفُلَانٍ قَالَ فَأَقْبَلَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى هُوَ السَّلَامُ فَإِذَا جَلَسْتُمْ فِي الصَّلَاةِ فَقُولُوا التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ فَإِنَّكُمْ إِذَا قُلْتُمُوهَا أَصَابَتْ كُلَّ عَبْدٍ صَالِحٍ فِي السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ ثُمَّ لِيَتَخَيَّرْ مَا شَاءَ




১৩৭৬. আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পিছনে সালাত আদায় করার সময় আমরা বলতাম: ‘আস সালামু আলাল্লাহ ক্ববলা ইবাদিহী; আস সালামু আলা জিবরীল, আস সালামু আলা মীকাঈল, আস সালামু আলা ইসরাফীল, আস সালামু আলা ফুলান ওয়া ফুলান’। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের নিকট এসে বললেন: “আল্লাহ তা’আলা তো নিজেই ‘আস সালাম’। ফলে যখন তোমরা সালাতে বসবে, তখন বলবে: ‘আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি, ওয়াস সলাওয়াতু ওয়াত তয়্যিবাতু, আস সালামু আলাইকা আইয়্যূহান নাবিয়্যূ ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহু; আস সালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস স্বলিহীন।’ তোমরা যখন একথা বলবে, তখন আসমান-যমীনের সকল সালেহীন বান্দাগণ তা প্রাপ্ত হবে।- (এরপর বলবে) ‘আশহাদু আন্ লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আব্zwnj;দুহু ওয়া রসূলুহু।’ এরপর সে ইচ্ছামতো (দু’আ) বেছে নেবে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী ৮৩১ সহ অন্যান্য স্থানে; মুসলিম ৪০২; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫০৮২; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৯৪৮, ১৯৪৯, ১৯৫০, ১৯৫১, ১৯৫৫, ১৯৫৬, ১৯৬১, ১৯৬২, ১৯৬৩ তে।









সুনান আদ-দারিমী (1377)


أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ عَنْ الْحَسَنِ بْنِ حُرٍّ حَدَّثَنِي الْقَاسِمُ بْنُ مُخَيْمِرَةَ قَالَ أَخَذَ عَلْقَمَةُ بِيَدِي فَحَدَّثَنِي أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ أَخَذَ بِيَدِهِ وَأَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَخَذَ بِيَدِ عَبْدِ اللَّهِ فَعَلَّمَهُ التَّشَهُّدَ فِي الصَّلَاةِ التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ قَالَ زُهَيْرٌ أُرَاهُ قَالَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ أَيْضًا شَكَّ فِي هَاتَيْنِ الْكَلِمَتَيْنِ إِذَا فَعَلْتَ هَذَا أَوْ قَضَيْتَ فَقَدْ قَضَيْتَ صَلَاتَكَ إِنْ شِئْتَ أَنْ تَقُومَ فَقُمْ وَإِنْ شِئْتَ أَنْ تَقْعُدَ فَاقْعُدْ




১৩৭৭. আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার হাত ধরে সালাতে তাশাহহুদ পাঠ তাকে শিক্ষা দিয়েছিলেন: “আত তাহিয়্যাতু লিল্লাহি, ওয়াস সলাওয়াতু ওয়াত তয়্যিবাতু, আস সালামু আলাইকা আইয়্যূহান নাবিয়্যূ ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহু; আস সালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস স্বলিহীন।’ যুহাইর (বর্ণনাকারী) বলেন, আমার ধারণা, তিনি আরও বলেছেন: ‘আশহাদু আন্ লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আব্দুহু ওয়া রসূলুহু।’ তিনি (বর্ণনাকারী) এ বাক্য দু’টির ব্যাপারেও (তিনি বলেছিলেন কি-না তা নিয়ে) সন্দেহে নিপতিত হয়েছেন - ‘‘যখন তুমি এটি করলে অথবা সম্পন্ন করলে, তখন zwj;তুমি তোমার সালাত সম্পন্ন করলে। (এরপর) তুমি উঠে যেতে চাইলে উঠে যেতে পারো, আবার বসে থাকতে চাইলে বসেও থাকতে পারো।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: এটি আগের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি। এছাড়া ইবনু হিব্বান নং ১৯৬১; আগের টীকাটি দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (1378)


أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ الْحَكَمُ أَخْبَرَنِي قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ أَبِي لَيْلَى يَقُولُ لَقِيَنِي كَعْبُ بْنُ عُجْرَةَ فَقَالَ أَلَا أُهْدِي لَكَ هَدِيَّةً إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ عَلَيْنَا فَقُلْنَا قَدْ عَلِمْنَا السَّلَامَ عَلَيْكَ فَكَيْفَ نُصَلِّي قَالَ قُولُوا اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ




১৩৭৮. হাকাম বলেন, আমি ইবনু আবী লাইলা রাহি. কে বলতে শুনেছি, আমার নিকট কা’ব ইবনু উজরাহ এসে বললেন, আমি কি তোমাকে একটি উপহার দেবো না? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের নিকট বেরিয়ে এলে আমরা তাঁকে বললাম, আপনাকে কিভাবে সালাম দিতে হবে, তা তো আমরা শিখেছি, কিন্তু আমরা আপনার উপর সালাত (দরূদ) পাঠাবো কিভাবে?তিনি বললেন: “তোমরা বলো: ‘আল্লাহুম্মা সল্লি ‘আলা মুহাম্মাদ, ওয়া ‘আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা সল্লাইতা ‘আলা ইবরাহীম, ওয়া ‘আলা আলি ইবরাহীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ; ‘আল্লাহুম্মা বারিক ‘আলা মুহাম্মাদ, ওয়া ‘আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা বারাকতা ‘আলা ইবরাহীম, ওয়া ‘আলা আলি ইবরাহীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী ৩৩৭০ ও অন্যত্র; মুসলিম ৪০৬; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৯১২, ১৯৫৭, ১৯৬৪ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৭২৮, ৭২৯ তে।









সুনান আদ-দারিমী (1379)


أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ نُعَيْمٍ الْمُجْمِرِ مَوْلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ الْأَنْصَارِيَّ الَّذِي كَانَ أُرِيَ النِّدَاءَ بِالصَّلَاةِ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَا مَسْعُودٍ الْأَنْصَارِيَّ قَالَ أَتَانَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجَلَسَ مَعَنَا فِي مَجْلِسِ سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ فَقَالَ لَهُ بَشِيرُ بْنُ سَعْدٍ وَهُوَ أَبُو النُّعْمَانِ بْنُ بَشِيرٍ أَمَرَنَا اللَّهُ أَنْ نُصَلِّيَ عَلَيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَكَيْفَ نُصَلِّي عَلَيْكَ قَالَ فَصَمَتَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى تَمَنَّيْنَا أَنَّهُ لَمْ يَسْأَلْهُ ثُمَّ قَالَ قُولُوا اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ فِي الْعَالَمِينَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ وَالسَّلَامُ كَمَا قَدْ عَلِمْتُمْ




১৩৭৯. উমার ইবনুল খাত্তাব এর মুক্ত দাস নুয়াইম আল মুজমিরি হতে বর্ণিত, zwj;মুহাম্মদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু যাইদ আল আনসারী যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময়ে স্বপ্নে আযান (এর বাক্যাবলী ও পদ্ধতি) দেখেছিলেন, তিনি তার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবী মাসউদ আল আনসারী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের নিকট এসে আমাদের সাথে সা’দ ইবনু উবাদাহ’র মাজলিসে বসে গেলেন। তখন বুশাইর ইবনু সা’দ তথা আবু নু’মান ইবনু বাশীর তাঁকে বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে আপনার উপর সালাত (দরূদ) পাঠ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এখন আমরা কিভাবে আপনার উপর সালাত পাঠ করবো? তিনি (রাবী) বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চুপ থাকলেন, এমনকি আমরা কামনা করতে লাগলাম যে, সে যদি এ প্রশ্নটি তাঁকে জিজ্ঞেসই না করতো! এরপর তিনি বললেন: “তোমরা বলো: ‘আল্লাহুম্মা সল্লি ‘আলা মুহাম্মাদ, ওয়া ‘আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা সল্লাইতা ‘আলা ইবরাহীম; ‘ওয়া বারিক ‘আলা মুহাম্মাদ, ওয়া ‘আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা বারাকতা ‘আলা ইবরাহীম ফীল ‘আলামীন, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।’ আর সালাম (কিভাবে দিবে তা) তো তোমরা জেনেছেই।“[1]

[1] তাহক্বীক্ব; এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: মালিক ৭০; তার সূত্রে মুসলিম ৪০৫; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৯৫৮, ১৯৫৯ তে।









সুনান আদ-দারিমী (1380)


أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ عَنْ حَسَّانَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي عَائِشَةَ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا فَرَغَ أَحَدُكُمْ مِنْ التَّشَهُّدِ فَلْيَتَعَوَّذْ بِاللَّهِ مِنْ أَرْبَعٍ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ وَعَذَابِ الْقَبْرِ وَفِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ وَشَرِّ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ




১৩৮০. মুহাম্মদ ইবনু আয়িশা বলেন, আমি আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের কেউ যখন তাশাহহুদ পাঠ শেষ করে, তখন সে যেন চারটি বিষয়ে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করে: ‘জাহান্নামের আযাব, কবরের আযাব, জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা ও মাসীহিদ দাজ্জাল এর অনিষ্ট হতে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ৫৮৮; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬১৩৩ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১০০২, ১০১৮, ১০১৯, ১৯৬৭ তে।