হাদীস বিএন


সুনান আদ-দারিমী





সুনান আদ-দারিমী (1421)


أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ هُوَ ابْنُ الْحَارِثِ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ هِلَالٍ عَنْ أَبِي يَحْيَى عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ بَلَغَنِي أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ صَلَاةُ الرَّجُلِ جَالِسًا نِصْفُ الصَّلَاةِ قَالَ فَدَخَلْتُ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يُصَلِّي جَالِسًا فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ بَلَغَنِي أَنَّكَ قُلْتَ صَلَاةُ الرَّجُلِ جَالِسًا نِصْفُ الصَّلَاةِ وَأَنْتَ تُصَلِّي جَالِسًا قَالَ أَجَلْ وَلَكِنِّي لَسْتُ كَأَحَدٍ مِنْكُمْ




১৪২১. আব্দুল্লাহ ইবনু আমর হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার নিকট এ খবর পৌঁছেছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “কোনো ব্যক্তির বসা অবস্থায় আদায়কৃত সালাত (এর ফযীলত) হলো (দাঁড়িয়ে আদায়কৃত) সালাতের অর্ধেক।“ তিনি বলেন, এরপর (একদা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বসে সালাত আদায় করছিলেন, এমতাবস্থায় আমি তাঁর নিকট প্রবেশ করলাম। তখন আমি তাঁকে বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার নিকট এ খবর পৌঁছেছে যে, আপনি বলেছেন: “কোনো ব্যক্তির বসা অবস্থায় আদায়কৃত সালাত (এর ফযীলত) হলো (দাঁড়িয়ে আদায়কৃত) সালাতের অর্ধেক।“ অথচ আপনিই বসা অবস্থায় সালাত আদায় করছেন। জবাবে তিনি বললেন: “হাঁ, নিশ্চয়ই। তবে আমি তোমাদের কারো মতো নই।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান, জা’ফর ইবনুল হারিছের কারণে। তবে এর মুতাবিয়াত জারির হতে সহীহ মুসলিম ও অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে ফলে এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক ৪১২৩; আহমাদ ২/২০৩; মুসলিম ৭৩৫; আবু দাউদ ৯৫০; বাইহাকী ৭/৬২; নাসাঈ ৩/২২৩; সহীহ ইবনু খুযাইমা ১২৩৭।









সুনান আদ-দারিমী (1422)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ حَدَّثَنِي يُونُسُ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ حَدَّثَنِي السَّائِبُ بْنُ يَزِيدَ عَنْ الْمُطَّلِبِ بْنِ أَبِي وَدَاعَةَ أَنَّ حَفْصَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ لَمْ أَرَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي فِي سُبْحَتِهِ وَهُوَ جَالِسٌ حَتَّى كَانَ قَبْلَ أَنْ يُتَوَفَّى بِعَامٍ وَاحِدٍ أَوْ عَامَيْنِ فَرَأَيْتُهُ يُصَلِّي فِي سُبْحَتِهِ وَهُوَ جَالِسٌ فَيُرَتِّلُ السُّورَةَ حَتَّى تَكُونَ أَطْوَلَ مِنْ أَطْوَلَ مِنْهَا




১৪২২. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রী হাফসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বসে নফল সালাত আদায় করতে দেখিনি। অবশেষে তাঁর ইন্তিকালের এক বছর বা দু’ বছর আগে থেকে নফল সালাত বসে আদায় করতেন এবং যে সূরা পাঠ করতেন তা এতই তারতীলের সাথে (স্পষ্টভাবে ধীরে ধীরে) পাঠ করতেন যে, তা এর চেয়ে দীর্ঘ সূরার চাইতেও অধিক দীর্ঘ হয়ে যেতো।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, লাইছের কাতিব আব্দুল্লাহ ইবনু সালিহের কারণে। তবে হাদীসটি সহীহ।

তাখরীজ: মালিক, জামা’আত ২২; মুসলিম ৭৩৩; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭০৫৫ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৫৩০।









সুনান আদ-দারিমী (1423)


أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ الْمُطَّلِبِ بْنِ أَبِي وَدَاعَةَ عَنْ حَفْصَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِهَذَا الْحَدِيثِ




১৪২৩. (অপর সনদে) হাফসা সূত্রে এ হাদীস নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণিত হয়েছে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: মালিক, জামা’আত ২২; পূর্ণ তাখরীজের জন্য আগের টীকাটি দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (1424)


حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ حَدَّثَنِي مُعَيْقِيبٌ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قِيلَ لَهُ فِي الْمَسْحِ فِي الْمَسْجِدِ قَالَ إِنْ كُنْتَ لَا بُدَّ فَاعِلًا فَوَاحِدَةً قَالَ هِشَامٌ أُرَاهُ قَالَ مَسْحِ الْحَصَا




১৪২৪. মুয়াইক্বীব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট মসজিদে কংকর (নুড়ি পাথর) সরানো সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। তখন তিনি বললেন: “যদি তা করা তোমার জন্য অতি জরুরী হয়, তবে একবার (করতে পারো)।“ হিশাম (বর্ণনাকারী) বলেন, আমার ধারণা, তিনি (যা) বললেন, এ দ্বারা তিনি কংকর বা নুড়ি পাথর সরানোকে বুঝিয়েছেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ২/৪১১; আহমাদ ৫/৪২৫; মুসলিম ৫৪৬; ইবনুল জারুদ, আল মুনতাক্বা নং ২১৮; বুখারী ১২০৭; বাইহাকী ২/২৮৪, ২৮৫; আবু আউয়ানাহ ২/১৯০-১৯১; ইবনু খুযাইমাহ ৮৯৫; আবু দাউদ ৯৪৬; তিরমিযী ৩৮০; নাসাঈ ৩/৭; ইবনু মাজাহ ১০২৬।...









সুনান আদ-দারিমী (1425)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَامَ أَحَدُكُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَإِنَّ الرَّحْمَةَ تُوَاجِهُهُ فَلَا يَمْسَحْ الْحَصَا




১৪২৫. আবী যারর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের কেউ যখন সালাতে দাঁড়ায়, তখন তার সামনের দিক হতে রহমত নাযিল হয়। সে যেন (তার সামনের থেকে) কংকর না সরায়।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২২৭৩; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৪৮১ ও মুসনাদুল হুমাইদী ১২৮ তে। এছাড়া: তায়ালিসী ১/১০০ নং ৪৪৫; ইবনুল জারুদ ২১৯; মা’রিফাতুস সুনান ওয়াল আছার ৩/২০৪ নং ৪২৭৪ ও।

((আবু দাউদ ৯৪৫; তিরমিযী ৩৭৯; নাসাঈ ৩/৬; মালিক, কসর সালাত নং ৪৩ ... ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীক্বকৃত সুনানে দারেমী নং ১৩৮৮ হতে। - অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (1426)


أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ حَدَّثَنَا سَيَّارٌ قَالَ سَمِعْتُ يَزِيدَ الْفَقِيرَ يَقُولُ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُعْطِيتُ خَمْسًا لَمْ يُعْطَهُنَّ نَبِيٌّ قَبْلِي كَانَ النَّبِيُّ يُبْعَثُ إِلَى قَوْمِهِ خَاصَّةً وَبُعِثْتُ إِلَى النَّاسِ كَافَّةً وَأُحِلَّتْ لِيَ الْمَغَانِمُ وَحُرِّمَتْ عَلَى مَنْ كَانَ قَبْلِي وَجُعِلَتْ لِيَ الْأَرْضُ طَيِّبَةً مَسْجِدًا وَطَهُورًا وَيَرْعَبُ مِنَّا عَدُوُّنَا مَسِيرَةَ شَهْرٍ وَأُعْطِيتُ الشَّفَاعَةَ




১৪২৬. জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আমাকে এমন পাঁচটি বিষয় প্রদান করা হযেছে, যা আমার পূর্বে আর কোনো নবীকেই প্রদান করা হয়নি। ১. প্রত্যেক নবী নির্দিষ্ট কওম (গোত্র)-এর জন্য প্রেরিত হয়েছিলেন, আর আমাকে প্রেরণ করা হয়েছে সকল মানুষের জন্য। ২. আমার জন্য গণিমাত (যুদ্ধেলব্ধ মাল-সম্পদ) হালাল করা হয়েছে, যা আমার পূর্ববর্তীদের জন্য হারাম ছিল। ৩. আমার জন্য সমগ্র ভূমিকে পবিত্র মসজিদ (সালাতের স্থান) ও পবিত্রকারী বানিয়ে দেয়া হয়েছে। ৪. আমাদের শত্রুদের (অন্তরে) আমাদের থেকে এক মাসের দূরত্ব সত্বেও ভীতি সৃষ্টি করা হয়েছে এবং ৫. আমাকে শাফা’আত (এর অনুমতি) প্রদান করা হয়েছে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী ৩৩৫; মুসলিম ৫২১; এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি আমি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬৩৯৮ তে।









সুনান আদ-দারিমী (1427)


أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ أَنَا سَأَلْتُهُ عَنْهُ قَالَ أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ يَحْيَى عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْأَرْضُ كُلُّهَا مَسْجِدٌ إِلَّا الْمَقْبَرَةَ وَالْحَمَّامَ قِيلَ لِأَبِي مُحَمَّدٍ تُجْزِئُ الصَّلَاةُ فِي الْمَقْبَرَةِ قَالَ إِذَا لَمْ تَكُنْ عَلَى الْقَبْرِ فَنَعَمْ وَقَالَ الْحَدِيثُ أَكْثَرُهُمْ أَرْسَلُوهُ




১৪২৭. আবী সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “জমিনের সকল স্থানই মাসজিদ (সালাতের স্থান), কেবল কবরস্থান ও গোসলখানা ব্যতীত।“[1] আবী মুহাম্মদ কে বলা হলো, কবরস্থানে আদায়কৃত সালাতের সাওয়াব পাওয়া যাবে কি? তিনি বললেন: যখন তা সরাসরি কবরের উপরে না হবে, তখন হ্যাঁ, পাবে। তিনি আরও বলেন, এ হাদীসটি অধিকাংশ বর্ণনাকারীই ‘মুরসাল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি আমি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৩৫০, সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৬৯৯ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৩৩৮ তে। এছাড়া: বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ১৪৭৯, ১৪৮০; ইবনু আব্দুল বারর, আত তামহীদ ৫/২২১-২২২; আবু নুয়াইম, হিলইয়া ৮/৩১৬।

((আবু দাউদ ৪৯২; তিরমিযী ৩১৭; ইবনু মাজাহ ৭৪৫- ... ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীক্বকৃত সুনানে দারেমী নং ১৩৯০ হতে। - অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (1428)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ حَسَّانَ عَنْ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا حَضَرَتْ الصَّلَاةُ فَلَمْ تَجِدُوا إِلَّا مَرَابِضَ الْغَنَمِ وَأَعْطَانَ الْإِبِلِ فَصَلُّوا فِي مَرَابِضِ الْغَنَمِ وَلَا تُصَلُّوا فِي أَعْطَانِ الْإِبِلِ




১৪২৮. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যদি সালাতের সময় উপস্থিত হয়, আর তোমরা ছাগলের খোঁয়াড় এবং উটের আস্তাবল ব্যতীত আর কোনো স্থান না পাও, তবে তোমরা ছাগলের খোঁয়াড়ে সালাত আদায় করে নেবে কিন্তু উটের আস্তাবলে সালাত আদায় করবে না।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি আমি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩৮৪, ১৭০০, ১৭০১ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৩৩৬, ৩৩৭ তে।

((তিরমিযী ৩৪৮, ৩৪৯; ইবনু মাজাহ ৭৬৮ ... ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীক্বকৃত সুনানে দারেমী নং ১৩৯১ হতে। - অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (1429)


حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ جَعْفَرٍ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ مَحْمُودِ بْنِ لَبِيدٍ أَنَّ عُثْمَانَ لَمَّا أَرَادَ أَنْ يَبْنِيَ الْمَسْجِدَ كَرِهَ النَّاسُ ذَلِكَ فَقَالَ عُثْمَانُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ بَنَى لِلَّهِ مَسْجِدًا بَنَى اللَّهُ لَهُ فِي الْجَنَّةِ مِثْلَهُ




১৪২৯. মাহমূদ ইবনু লাবীদ হতে বর্ণিত, যখন উছমান মসজিদ নির্মানের ইচ্ছা করলেন, তখন লোকেরা এটি অপছন্দ করলো। তখন উছমান রা: বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: “যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে মসজিদ নির্মান করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে অনুরূপ (ঘর) নির্মান করেন।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী ৪৫০; মুসলিম ৫৩৩। এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি আমি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৬০৯ তে।









সুনান আদ-দারিমী (1430)


أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ وَفُلَيْحُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ عَامِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمٍ عَنْ أَبِي قَتَادَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا جَاءَ أَحَدُكُمْ الْمَسْجِدَ فَلْيَرْكَعْ رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ أَنْ يَجْلِسَ




১৪৩০. আবী কাতাদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন তোমাদের কেউ মসজিদে আগমন করে, তখন সে যেন বসার পূর্বে দু’ রাকা’আত সালাত আদায় করে নেয়।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী ৪৪৪; মুসলিম ৭১৪; এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি আমি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৪৯৫, ২৪৯৮ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৩২৩ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪২৫ তে।









সুনান আদ-দারিমী (1431)


حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ سُوَيْدٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا حُمَيْدٍ أَوْ أَبَا أُسَيْدٍ الْأَنْصَارِيَّ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا دَخَلَ أَحَدُكُمْ الْمَسْجِدَ فَلْيُسَلِّمْ عَلَى النَّبِيِّ ثُمَّ لِيَقُلْ اللَّهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ وَإِذَا خَرَجَ فَلْيَقُلْ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ




১৪৩১. আবী হুমাইদ ও আবী উসাইদ আল আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করে, তখন সে যেন নবী’র উপর সালাম প্রেরণ করে এরপর বলে, ‘আল্লাহুম্মাফতাহ লী আবওয়াবা রহমতিকা’। আর যখন বের হবে, তখন সে যেন বলে, ‘আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা মিন ফাদ্বলিকা’।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: মুসলিম ৭১৩; এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি আমি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২০৪৮, ২০৪৯।









সুনান আদ-দারিমী (1432)


حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ قُلْتُ لِقَتَادَةَ أَسَمِعْتَ أَنَسًا يَقُولُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْبُزَاقُ فِي الْمَسْجِدِ خَطِيئَةٌ قَالَ نَعَمْ وَكَفَّارَتُهَا دَفْنُهَا




১৪৩২. শু’বাহ বলেন, আমি কাতাদাকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে এ কথা বর্ণনা করতে শুনেছেন: “মসজিদে থুথু ফেলা একটি পাপের কাজ“? তিনি বললেন, হাঁ। আর এর কাফফারা (প্রতিবিধান) হলো একে (মাটিতে) পুঁতে ফেলা।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী ৪১৫; মুসলিম ৫৫২; আমরা এর তাখরীজ পূর্ণ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৭৫০ তে।









সুনান আদ-দারিমী (1433)


أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا حُمَيْدٌ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا صَلَّى فَإِنَّمَا يُنَاجِي رَبَّهُ أَوْ رَبُّهُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْقِبْلَةِ فَإِذَا بَزَقَ أَحَدُكُمْ فَلْيَبْصُقْ عَنْ يَسَارِهِ أَوْ تَحْتَ قَدَمِهِ أَوْ يَقُولُ هَكَذَا وَبَزَقَ فِي ثَوْبِهِ وَدَلَكَ بَعْضَهُ بِبَعْضٍ




১৪৩৩. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “বান্দা যখন সালাত আদায় করে, তখন কেবল তার রবের সাথে গোপনে আলাপ করে- অথবা, তার রব তার ও তার কিবলার মাঝে থাকেন। তাই যখন তোমাদের কেউ থুথু ফেলবে, সে যেন তার বামপাশে অথবা, তার পায়ের নিচে থুথু ফেলে, অথবা তিনি এরূপ বলেছেন।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী ২৪১; মুসলিম ৫৫১; আমরা এর তাখরীজ পূর্ণ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৮৮৪; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২২৬৭ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১২৫৩ তে।









সুনান আদ-দারিমী (1434)


أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ بَيْنَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْطُبُ إِذْ رَأَى نُخَامَةً فِي قِبْلَةِ الْمَسْجِدِ فَتَغَيَّظَ عَلَى أَهْلِ الْمَسْجِدِ وَقَالَ إِنَّ اللَّهَ قِبَلَ أَحَدِكُمْ إِذَا كَانَ فِي صَلَاتِهِ فَلَا يَبْزُقَنَّ أَوْ قَالَ لَا يَتَنَخَّعَنَّ ثُمَّ أَمَرَ بِهَا فَحُكَّ مَكَانُهَا وَأَمَرَ بِهَا فَلُطِخَتْ قَالَ حَمَّادٌ لَا أَعْلَمُهُ إِلَّا قَالَ بِزَعْفَرَانٍ




১৪৩৪. ইবনু উমার বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুতবা দিচ্ছিলেন, তখন মসজিদে কিবলার দিকে তিনি কফ দেখতে পেলেন। ফলে তিনি মসজিদের লোকদের উপর ভীষণ রাগ করলেন এবং বললেন: “যখন তোমাদের কেউ সালাতে রত থাকে, তখন আল্লাহ তার সামনে থাকেন। ফলে সে অবশ্যই (সেদিকে) থুথু ফেলবে না। অথবা- তিনি বলেছেন: নাক ঝাড়বে না। এরপর তিনি এর স্থানটি ঘষে তুলে ফেলার আদেশ দিলেন, অথবা, তিনি আদেশ দিলে তা (মলে) বিবর্ণ করে দেয়া হলো।“হাম্মাদ বলেন, আমি কেবল এটা শুনেছি যে, ‘তিনি বললেন, ওখানে ‘জা’ফরান দ্বারা (মলে দাও)’।[1]

[1] তাহক্বীক্ব; এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী ৭৫৩, ১২১৩; বাইহাকী ২/২৯৩; আহমাদ ২/৬, ১৪১; মুসলিম ৫৪৭ (৫১); আবু দাউদ ৪৭৯; মালিক, কিবলা ৪।...









সুনান আদ-দারিমী (1435)


حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ أَبَا سَعِيدٍ وَأَبَا هُرَيْرَةَ أَخْبَرَاهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَى نُخَامَةً فِي جِدَارِ الْمَسْجِدِ فَتَنَاوَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَصَاةً وَحَتَّهَا ثُمَّ قَالَ إِذَا تَنَخَّمَ أَحَدُكُمْ فَلَا يَتَنَخَّمَنَّ قِبَلَ وَجْهِهِ وَلَا عَنْ يَمِينِهِ وَلْيَبْصُقْ عَنْ يَسَارِهِ أَوْ تَحْتَ قَدَمِهِ




১৪৩৫. আবী সাঈদ ও আবী হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা উভয়ে বর্ণনা করেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদের দেয়ালে কফ দেখতে পেলেন। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি লাঠি এনে তা ঘষে তুলে ফেললেন, এরপর বললেন: “যদি তোমাদের কেউ নাক ঝাড়ে (বা কফ ফেলে), তবে সে যেনো তার সম্মুখের দিকে ও ডান দিকে তা না ফেলে। বরং সে যেন তা তার বাম পাশে কিংবা পায়ের নিচে ফেলে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী ৪০৮, ৪০৯; মুসলিম ৫৪৮; আমরা এর তাখরীজ পূর্ণ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৯৭৫, ৯৯৩, ১০৮১; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২২৬৮ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৭৪৫, ৭৪৬ তে।









সুনান আদ-দারিমী (1436)


حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ الْمُغِيرَةِ حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ عَنْ أَبِي حَرْبِ بْنِ أَبِي الْأَسْوَدِ الدِّيلِيِّ عَنْ عَمِّهِ عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ أَتَانِي نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا نَائِمٌ فِي الْمَسْجِدِ فَضَرَبَنِي بِرِجْلِهِ قَالَ أَلَا أَرَاكَ نَائِمًا فِيهِ قُلْتُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ غَلَبَتْنِي عَيْنِي




১৪৩৬. আবী যার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি মসজিদে ঘুমাচ্ছিলাম, এমতাবস্থায় আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার নিকট আসলেন এবং তাঁর পা দিয়ে আমাকে নাড়া দিলেন এবং বললেন: “তুমি তো দেখি (মসজিদ)-এর মধ্যে ঘুমাচ্ছো, তাই নয়কি?“ আমি বললাম, হে আল্লাহর নবী! আমার খুব ঘুম পেলো।’[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬৬৬৮ ও মাওয়ারিদুয যামআন নং ১৫৪৮ তে।









সুনান আদ-দারিমী (1437)


حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ خَالِدٍ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ الْفَزَارِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ كُنْتُ أَبِيتُ فِي الْمَسْجِدِ وَلَمْ يَكُنْ لِي أَهْلٌ فَرَأَيْتُ فِي الْمَنَامِ كَأَنَّمَا انْطُلِقَ بِي إِلَى بِئْرٍ فِيهَا رِجَالٌ مُعَلَّقُونَ فَقِيلَ انْطَلِقُوا بِهِ إِلَى ذَاتِ الْيَمِينِ فَذَكَرْتُ الرُّؤْيَا لِحَفْصَةَ فَقُلْتُ قُصِّيهَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَصَّتْهَا عَلَيْهِ فَقَالَ مَنْ رَأَى هَذِهِ قَالَتْ ابْنُ عُمَرَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نِعْمَ الْفَتَى أَوْ قَالَ نِعْمَ الرَّجُلُ لَوْ كَانَ يُصَلِّي مِنْ اللَّيْلِ قَالَ وَكُنْتُ إِذَا نِمْتُ لَمْ أَقُمْ حَتَّى أُصْبِحَ قَالَ فَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يُصَلِّي اللَّيْلَ




১৪৩৭. ইবনে উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মসজিদে রাত্রি যাপন করতাম, তখন আমার কোনো পরিবার-পরিজন ছিল না। সেসময় আমি (একদা) স্বপ্নে দেখলাম যে, আমাকে যেন একটি কুপের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল যেখানে কিছু লোককে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। এরপর বলা হলো, ‘তাকে ডান দিকে নিয়ে চলো।’ এরপর এ স্বপ্নের কথা আমি হাফসার নিকট বর্ণনা করে বললাম: তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এটি (স্বপ্নটি) বর্ণনা করবে। ফলে সে তাঁর নিকট এটি বর্ণনা করলে তিনি বললেন: “এ (স্বপ্ন)টি কে দেখেছে?“ সে (হাফসা) বললো, ‘ইবনু উমার (দেখেছে)।’

তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “(আব্দুল্লাহ) কতই না ভাল যুবক!“- অথবা তিনি বলেছেন: “(আব্দুল্লাহ) কতই না ভাল লোক! যদি সে রাতে সালাত (তাহাজ্জুদ বা কিয়ামুল্লাইল) আদায় করতো!“তিনি বলেন, আর আমি যখন ঘুমাতাম তখন ভোর (ফজরের) হওয়ার আগে উঠতাম না।’ এরপর তিনি (রাবী) বলেন, এরপর থেকে ইবনু উমার রাতে সালাত (কিয়ামুল্লাইল) আদায় করতেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ।

তাখরীজ: বুখারী ১১২১, ১১২২; মুসলিম ২৪৭৯; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭০৭০, ৭০৭১, ৭০৭২ ও মাওয়ারিদুয যামআন নং ১৫৪৮ তে।









সুনান আদ-দারিমী (1438)


أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَبِي زَيْدٍ الْكُوفِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ أَخْبَرَنِي يَزِيدُ بْنُ خُصَيْفَةَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ ثَوْبَانَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا رَأَيْتُمْ مَنْ يَبِيعُ أَوْ يَبْتَاعُ فِي الْمَسْجِدِ فَقُولُوا لَا أَرْبَحَ اللَّهُ تِجَارَتَكَ وَإِذَا رَأَيْتُمْ مَنْ يَنْشُدُ فِيهِ الضَّالَّةَ فَقُولُوا لَا أَدَّى اللَّهُ عَلَيْكَ




১৪৩৮. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যদি তোমরা মসজিদের মধ্যে কাউকে ক্রয়-বিক্রয় করতে দেখো, তবে তোমরা বলবে: ‘আল্লাহ যেন তোমার ব্যবসা লাভজনক না করেন।’ আর তোমরা যদি মসজিদে কাউকে হারানো বিজ্ঞপ্তি প্রচার করতে দেখো, তবে বলবে: ‘আল্লাহ যেন তোমাকে তা ফেরত না দেন।’[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখলীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৬৫০ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৩১৩ তে। ((সহীহ ইবনু খুযাইমা২/২৭৪ নং ১৩০৫; তিরমিযী ১৩২১; নাসাঈ, আমলুল ইয়াম ওয়াল লাইল নং ১৭৬; বাইহাকী ২/৪৪৭; হাকিম ২/৫৬ তিনি একে সহীহ বলেছেন ও যাহাবী তা সমর্থন করেছেন; দেখুন, মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক ১/৪৪১ নং ১৭২৫।- মুহাক্কিক্বের মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৩১৩ এর টীকা হতে।- অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (1439)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُبَارَكِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ قَالَ قُلْتُ لِعَمْرِو بْنِ دِينَارٍ أَسَمِعْتَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ يَقُولُ مَرَّ رَجُلٌ فِي الْمَسْجِدِ يَحْمِلُ نَبْلًا فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمْسِكْ نُصُولَهَا قَالَ نَعَمْ




১৪৩৯. সুফিয়ান ইবনু উয়াইনা বলেন, আমি আমর ইবনু দীনার কে জিজ্ঞেস করলাম, যে, ‘এক ব্যক্তি তীর সাথে নিয়ে (মসজিদ) অতিক্রম করছিল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন: “তুমি এর ফলাগুলো (ধারালো অংশ) (হাত দিয়ে) ধরে রাখো।“ -আপনি কি জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে এ হাদীস বলতে শুনেছেন? তিনি (আমর) বললেন, হাঁ।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী ৪৫১; মুসলিম ২৬১৪; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৮৩৩; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৬৪৭ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১২৮৯ তে।









সুনান আদ-দারিমী (1440)


أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ وَعَائِشَةَ قَالَا لَمَّا نُزِلَ بِالنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ طَفِقَ يَطْرَحُ خَمِيصَةً لَهُ عَلَى وَجْهِهِ فَإِذَا اغْتَمَّ كَشَفَهَا عَنْ وَجْهِهِ فَقَالَ وَهُوَ كَذَلِكَ لَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الْيَهُودِ وَالنَّصَارَى اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ يُحَذِّرُ مِثْلَ مَا صَنَعُوا




১৪৪০. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মৃত্যু পীড়া শুরু হলে তিনি তাঁর একটি চাদর (কালো কাপড়) দিয়ে মুখমণ্ডল আবৃত করছিলেন। যখন এতে কষ্ট হতে লাগলো তখন তিনি তাঁর মুখের উপর থেকে সেটাকে সরিয়ে দিলেন। তখন তিনি যা বললেন, তা ছিল এরূপ: “ইয়াহুদী ও নাসারাদের প্রতি আল্লাহর লা’নত (অভিশাপ)! তারা তাদের নবীগণের কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করেছে।“ (এভাবে) তারা যে (শিরকী) কার্যকলাপ করেছিলো, তেমন (কার্যকলাপ) থেকে তিনি সতর্ক করছিলেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী ৪৩৫, ৪৩৬; মুসলিম ৫৩১; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬৬১৯ তে।