হাদীস বিএন


সুনান আদ-দারিমী





সুনান আদ-দারিমী (1521)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُخْتَارٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَقَ عَنْ عَمِّهِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي رَافِعٍ عَنْ عَلِيٍّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا كَانَ ثُلُثُ اللَّيْلِ أَوْ نِصْفُ اللَّيْلِ فَذَكَرَ النُّزُولَ




১৫২১. আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন রাতের এক-তৃতীয়াংশ কিংবা অর্ধাংশ (অতিক্রান্ত) হয়, .... ।“ এরপর তিনি ‘নুযূল’ (মহান আল্লাহর অবতরণের হাদীস) বর্ণনা করেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। এতে দু’টি ত্রুটি রয়েছে: মুহাম্মদ ইবনু হুমাইদ যঈফ এবং ইবনু ইসহাক এটি ‘আন আন’ পদ্ধতিতে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু আমি বলছি: এটি সহীহ সনদে পরবর্তী হাদীসের পরেই সামনে বর্ণনা আসছে ১৫২৬ (অনূবাদে ১৫২৩) নং এ।

তাখরীজ: ((মুহাক্বিক্ব এর কোনো তাখরীজ দেননি। তবে এটি যেহেতু সামনে ১৫২৩ আসছে, তাই তাখরীজের জন্য সেখানে দেখা যেতে পারে।- অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (1522)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا أَبِي عَنْ ابْنِ إِسْحَقَ حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيُّ عَنْ عَطَاءٍ مَوْلَى أُمِّ صُبَيَّةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لَأَمَرْتُهُمْ بِالسِّوَاكِ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ وَلَأَخَّرْتُ الْعِشَاءَ الْآخِرَةَ إِلَى ثُلُثِ اللَّيْلِ فَإِنَّهُ إِذَا مَضَى ثُلُثُ اللَّيْلِ الْأَوَّلُ هَبَطَ اللَّهُ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا فَلَمْ يَزَلْ هُنَالِكَ حَتَّى يَطْلُعَ الْفَجْرُ يَقُولُ قَائِلٌ أَلَا سَائِلٌ يُعْطَى أَلَا دَاعٍ يُجَابُ أَلَا سَقِيمٌ يَسْتَشْفِي فَيُشْفَى أَلَا مُذْنِبٌ يَسْتَغْفِرُ فَيُغْفَرَ لَهُ




১৫২২. আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: “যদি আমার উম্মতের উপর কষ্টকর না হতো, তবে আমি অবশ্যই তাদেরকে প্রতি সালাতের সময় মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম এবং সর্বশেষ ঈশার সালাতকে রাতের এক-তৃতীয়াংশ অতিক্রান্ত হওয়া পর্যন্ত পিছিয়ে দিতাম। কেননা, যখন রাতের প্রথম এক-তৃতীয়াংশ অতিক্রান্ত হয়, তখন আল্লাহ তা’আলা দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন। আর ফজর (সুবহে সাদিক) উদিত হওয়া পর্যন্ত সেথায় অবস্থান করতে থাকেন।(এ সময়) একজন আহবানকারী বলতে থাকেন : “ কোনো যাচ্ঞাকারী কি নাই, (যে যাচ্ঞা করবে), ফলে তাকে (তার প্রার্থিত জিনিস) প্রদান করা হবে? কোনো রোগাক্রান্ত ব্যক্তি কি নাই, যে তার রোগমুক্তি কামনা করবে, আর তাকে রোগমুক্তি দান করা হবে? কোনো ক্ষমাপ্রার্থী কি নাই, যে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, ফলে তাকে ক্ষমা করা হবে?“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৫৭৬ ও পরবর্তী হাদীসটির সনদও একই। পূর্বের ১৫১৯, ১৫১৬ নং হাদীসও দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (1523)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدٌ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ ابْنِ إِسْحَقَ حَدَّثَنِي عَمِّي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ يَسَارٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي رَافِعٍ مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَ حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ




১৫২৩. উবাইদুল্লাহ ইবনু আবী রাফি’র পিতা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুক্তদাস আবী রাফি’ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, তিনি আলী ইবনু আবী তালিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু’র হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ (উত্তম)।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৫৭৬ তে, এর পূর্বর্তী হাদীসটি সহ, যার সনদ একই।









সুনান আদ-দারিমী (1524)


حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ هُوَ ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ سُلَيْمَانَ الْأَحْوَلِ عَنْ طَاوُسٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَامَ يَتَهَجَّدُ مِنْ اللَّيْلِ قَالَ اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ نُورُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ قَيِّمُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ مَلِكُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ أَنْتَ الْحَقُّ وَقَوْلُكَ الْحَقُّ وَوَعْدُكَ الْحَقُّ وَلِقَاؤُكَ حَقٌّ وَالْجَنَّةُ حَقٌّ وَالنَّارُ حَقٌّ وَالْبَعْثُ حَقٌّ وَالنَّبِيُّونَ حَقٌّ وَمُحَمَّدٌّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَقٌّ اللَّهُمَّ لَكَ أَسْلَمْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْكَ أَنَبْتُ وَبِكَ خَاصَمْتُ وَإِلَيْكَ حَاكَمْتُ فَاغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ وَمَا أَسْرَرْتُ أَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِكَ




১৫২৪. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্zwnj; সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাতে তাহাজ্জুদের উদ্দেশ্যে যখন দাঁড়াতেন, তখন দু’আয় বলতেন- “ইয়া আল্লাহ! আপনারই জন্যই সমস্ত প্রশংসা। আপনি আসমান যমীন এবং এ দু’য়ের মাঝে যা কিছু আছে সব কিছুর নূর। আর আপনারই জন্য সমস্ত প্রশংসা, আপনিই আসমানসমূহ, যমীন এবং এসবের মাঝে বিদ্যমান সব কিছুর (‘ক্বইয়্যুম’) তত্ত্বাবধায়ক। আর আপনারই জন্য সমস্ত প্রশংসা, আপনি আসমান যমীন এবং তাদের মাঝে বিদ্যমান সব কিছুর মালিক। আপনিই চির সত্য। আপনার বাণী সত্য; আপনার ওয়াদা চির সত্য; আপনার সাক্ষাত সত্য; জান্নাত সত্য; জাহান্নাম সত্য; পুনুরুত্থান সত্য; নবীগণ সত্য; মুহাম্মাদসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সত্য। ইয়া আল্লাহ! আপনার কাছেই আমি আত্মসমর্পণ করলাম; আপনার প্রতি ঈমান আনলাম; আপনার উপরেই তাওয়াক্কুল (ভরসা) করালাম, আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তন করলাম; আপনার (সস্তুষ্টির জন্যই) শত্রুতায় লিপ্ত হলাম, আপনাকেই বিচারক মেনে নিলাম। তাই আপনি আমার পূর্বাপর ও প্রকাশ্য-গোপন সব অপরাধ ক্ষমা করুন। আপনিই অগ্র পশ্চাতের মালিক। আপনি ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই, আর আপনার শক্তি ও ক্ষমতা ব্যতীত আর কারো কোনো শক্তি ও ক্ষমতা নেই।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী (তাহাজ্জুদ) ১১২০; মুসলিম (সালাতুল মুসাফিরীন) ৭৬৯; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৪০৪ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৫৯৭, ২৫৯৮, ২৫৯৯ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৫০৩ তে। সেখানে আমাদের টীকা দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (1525)


حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ مَنْ قَرَأَ الْآيَتَيْنِ الْآخِرَتَيْنِ مِنْ سُورَةِ الْبَقَرَةِ فِي لَيْلَةٍ كَفَتَاهُ




১৫২৫. আবী মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্নিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি রাতে সূরাতুল বাক্বারার শেষ দু’টি আয়াত পাঠ করবে, সেই দু’টি-ই তার জন্য যথেষ্ট হবে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, (ফাযাইলূল কুরআন) ৫০০৮, ৫০০৯; মুসলিম, (আস সালাতুল মুসাফিরীন) ৮০৭। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি

ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৮১, ২৫৭৫, ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪৫৭ তে।









সুনান আদ-দারিমী (1526)


أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا أَذِنَ اللَّهُ لِشَيْءٍ كَإِذْنِهِ لِنَبِيٍّ يَتَغَنَّى بِالْقُرْآنِ يَجْهَرُ بِهِ




১৫২৬. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্নিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “কোনো নবীর উচ্চস্বরে সূর দিয়ে কুরআন তিলাওয়াত আল্লাহ যেভাবে কান পেতে শ্রবণ করেন, আর কোন কিছুই তিনি এমনভাবে কান পেতে শ্রবন করেন না।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটি বুখারী মুসলিমের সমন্বিত বর্ণনা।

তাখরীজ: বুখারী (ফাযাইলূল কুরআন) ৫০২৪; মুসলিম (সালাতুল মুসাফিরীন) ৭৯২; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৯৫৯ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৫১, ৭৫২ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯৭৯ তে। এটি সামনে ১৫৩২ নং এও আসছে।









সুনান আদ-দারিমী (1527)


أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ ابْنُ عُيَيْنَةَ أُرَاهُ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ سَمِعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَبَا مُوسَى وَهُوَ يَقْرَأُ فَقَالَ لَقَدْ أُوتِيَ هَذَا مِنْ مَزَامِيرِ آلِ دَاوُدَ




১৫২৭. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবু মুসা কে কুরআন পাঠ করতে শুনলেন। তখন তিনি বললেন: তাকে দাঊদ (আঃ) পরিবারের বাশরী সমুহের মধ্য থেকে এটি (অর্থাৎ সুমধুর সূর) দান করা হয়েছে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: ((নাসাঈ ২/১৮০; আর আবূ মূসা হতে বুখারী, ফাযাইলুল কুরআন ৫০৪৮; মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন ৭৯৩; তিরমিযী ৩৮৫৫; আহমাদ ৫/৩৪৯ ও ২/৩৬৯-৪৫০। -সুনানে দারেমী’র ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীক্বকৃত, নং ১৪৮৯। -অনুবাদক।))

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭১৯৫ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২২৬৩ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ২৮৪ তে।









সুনান আদ-দারিমী (1528)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي خَلَفٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَمْرٍو يَعْنِي ابْنَ دِينَارٍ عَنْ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي نَهِيكٍ عَنْ سَعْدٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَيْسَ مِنَّا مَنْ لَمْ يَتَغَنَّ بِالْقُرْآنِ




১৫২৮. সা’দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি সুন্দর সূরে কুরআন পাঠ করে না, সে আমাদের দলভূক্ত নয়।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: ((আবু দাউদ, সালাত ১৪৭০; আহমাদ ১/১৭২-১৭৫-১৭৯; বাযযার ও তাবারাণী, যেমন মাজমাউয যাওয়াইদ ৭/১৭০ এ বলা হয়েছে। আর এটি আবূ হুরাইরা হতে বুখারী বর্ণনা করেছেন।- -সুনানে দারেমী’র ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীক্বকৃত, নং ১৪৯০। -অনুবাদক।))

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১২০ ও মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৮৯, ৭৪৮ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৭৭ তে।









সুনান আদ-দারিমী (1529)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا أَذِنَ اللَّهُ لِشَيْءٍ مَا أَذِنَ لِنَبِيٍّ يَتَغَنَّى بِالْقُرْآنِ قَالَ أَبُو مُحَمَّد يُرِيدُ بِهِ الِاسْتِغْنَاءَ




১৫২৯. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্নিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “একজন নবীর সূর দিয়ে কুরআন তিলাওয়াত আল্লাহ যেভাবে কান পেতে শ্রবণ করেন, আর কোন কিছুই তিনি এমনভাবে কান পেতে শ্রবন করেন না।“আবূ মুহাম্মদ বলেন, (‘কান পেতে শোনা’)এর দ্বারা তিনি ‘সন্তুষ্ট হওয়া’ বুঝিয়েছেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।

তাখরীজ: এটি ১৫২৯ (অনূবাদে ১৫২৬) নং এ গত হয়েছে।









সুনান আদ-দারিমী (1530)


أَخْبَرَنَا بِشْرُ بْنُ عُمَرَ الزَّهْرَانِيُّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ خُبَيْبِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ حَفْصِ بْنِ عَاصِمٍ عَنْ أَبِي سَعِيدِ بْنِ الْمُعَلَّى قَالَ مَرَّ بِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَلَمْ يَقُلْ اللَّهُ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَجِيبُوا لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ إِذَا دَعَاكُمْ ثُمَّ قَالَ أَلَا أُعَلِّمُكَ سُورَةً أَعْظَمَ سُورَةٍ مِنْ الْقُرْآنِ قَبْلَ أَنْ أَخْرُجَ مِنْ الْمَسْجِدِ فَلَمَّا أَرَادَ أَنْ يَخْرُجَ قَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ وَهِيَ السَّبْعُ الْمَثَانِي وَالْقُرْآنُ الْعَظِيمُ الَّذِي أُوتِيتُمْ




১৫৩০. আবী সাঈদ ইবনুল মু’আল্লী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার পাশ দিয়ে গেলেন (ও আমাকে ডাকলেন, তখন আমি সালাতরত ছিলাম)। ফলে তিনি বললেন: “আল্লাহ কি বলেন নি যে, “ওহে যারা ঈমান এনেছো! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ডাকে সাড়া দিবে, যখন তোমাদেরকে ডাক দেন।“ (সূরাতুন নামল: ২৪)?“ এরপর তিনি বললেন: “তুমি মাসজিদ থেকে বের হওয়ার পূর্বেই আমি কি তোমাকে কুরআনের সূরাসমূহ থেকে একটি অতি মহান সূরাহ আমি তোমাকে শিক্ষা দিব না?“ এরপর তিনি যখন মসজিদ হতে বের হওয়ার ইচ্ছা করলেন, তখন বললেন: [“আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল ’আলামীন।“] আর এটিই হলো বার বার পঠিত সাতটি আয়াত এবং মহান কুরআন যা কেবল আমাকেই দেয়া হয়েছে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, তাফসীর ৪৪৭৪; আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী ৬৮৩৭ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৭৭ তে।









সুনান আদ-দারিমী (1531)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمِنْهَالِ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَبِي الْعَلَاءِ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَفْقَهُ مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ فِي أَقَلَّ مِنْ ثَلَاثٍ




১৫৩১. আব্দুল্লাহ ইবনু আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্নিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তিনদিনের চেয়েও কম সময়ে যে ব্যক্তি কুরআন খতম করে, সে (কুরআনের) কিছুই বুঝতে পারে না।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আহমাদ ২/১৯৫; তিরমিযী, (ক্বিরা’আত) ২৯৫০; ইবনু মাজাহ (ইকামাতিস সালাত) ১৩৪৭; আবু দাউদ, (আস সালাত) ১৩৯৪;

এর শাহিদ হাদীস বর্ণিত হয়েছে সাঈদ ইবনু মানছুরে সহীহ সনদে ইবনু মাসউদ রা: হতে: তোমরা সাতদিনে কুরআন খতম করো, তবে তিনদিনের কম সময়ে কুরআন পড়ো (খতম করো) না।“

আয়িশা রা: হতে আবী উবাইদ বর্ণনা করেছেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনদিনের কম সময়ে কুরআন খতম করতেন না।“









সুনান আদ-দারিমী (1532)


أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ يَحْيَى عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا نُودِيَ بِالْأَذَانِ أَدْبَرَ الشَّيْطَانُ لَهُ ضُرَاطٌ حَتَّى لَا يَسْمَعَ الْأَذَانَ فَإِذَا قُضِيَ الْأَذَانُ أَقْبَلَ فَإِذَا ثُوِّبَ أَدْبَرَ فَإِذَا قُضِيَ التَّثْوِيبُ أَقْبَلَ حَتَّى يَخْطِرَ بَيْنَ الْمَرْءِ وَنَفْسِهِ فَيَقُولُ اذْكُرْ كَذَا اذْكُرْ كَذَا لِمَا لَمْ يَكُنْ يَعْنِي يَذْكُرُ حَتَّى يَظَلَّ الرَّجُلُ إِنْ يَدْرِي كَمْ صَلَّى فَإِذَا لَمْ يَدْرِ أَحَدُكُمْ كَمْ صَلَّى ثَلَاثًا أَمْ أَرْبَعًا فَلْيَسْجُدْ سَجْدَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ




১৫৩২. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন (সালাতের জন্য) আযান দেয়া হয়, তখন শয়তান বাতকর্ম করতে করতে পিছন ফিরে পলায়ন করতে থাকে, যাতে সে আযান শুনতে না পায়। এরপর যখন আযান শেষ হয়, তখন সে ফিরে আসে। আবার যখন সালাতের ‘ইকামাত’ হয়, তখন আবার সে পলায়ন করে। অতঃপর ‘ইকামত’ শেষ হলে সে পূনরায় ফিরে এসে লোকদের মনে কুমন্ত্রণা দিতে (স্মরণ করাতে) থাকে এবং বলে, ‘এটা স্মরণ কর, ওটা স্মরণ কর।’ (এভাবে সে এমনসব বিষয় স্মরণ করিয়ে দেয়) যা ইতিপূর্বে তার স্মরণে আসেনি। তখন এমন হয় যে, সেই লোকটি আর মনে করতে পারে না, সে কত রাকা’আত আদায় করেছে। ফলে যখন তোমাদের কেউ এরূপ মনে করতে না পারবে যে, সে কত রাকা’আত সালাত আদায় করেছে, চার- নাকি তিন রাকা’আত, তখন সে যেন বসা অবস্থায় দু’টি (সাহু) সিজদা করে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।

তাখরীজ: এটি ১২৪০ (অনূবাদে ১২৩৬) নং এ গত হয়েছে। ((সহীহ বুখারী ৬০৮; সহীহ মুসলিম ৩৮৯))









সুনান আদ-দারিমী (1533)


أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ هُوَ ابْنُ أَبِي سَلَمَةَ الْمَاجِشُونُ أَخْبَرَنَا زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا لَمْ يَدْرِ أَحَدُكُمْ أَثَلَاثًا صَلَّى أَمْ أَرْبَعًا فَلْيَقُمْ فَلْيُصَلِّ رَكْعَةً ثُمَّ يَسْجُدُ بَعْدَ ذَلِكَ سَجْدَتَيْنِ فَإِنْ كَانَ صَلَّى خَمْسًا شَفَعَتَا لَهُ صَلَاتَهُ وَإِنْ كَانَ صَلَّى أَرْبَعًا كَانَتَا تَرْغِيمًا لِلشَّيْطَانِ قَالَ أَبُو مُحَمَّد آخُذُ بِهِ




১৫৩৩. আবী সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন তোমাদের কেউ এরূপ মনে করতে না পারবে যে, সে কত রাকা’আত সালাত আদায় করেছে, চার রাকা’আত- নাকি তিন রাকা’আত, তখন সে যেন দাঁড়িয়ে আরো এক রাকা’আত সালাত আদায় করে অতঃপর এরজন্য বসা অবস্থায় দু’টি (সাহু) সিজদা করে। ফলে যদি (মোট) সে পাঁচ রাকা’আত সালাত আদায় করে থাকে, তবে এ দু’টি (সাজদা) তার সালাতকে জোড় বানিয়ে দিবে। আর যদি সে চার রাকা’আত আদায় করে থাকে, তবে এ দু’টি (সাজদা) হবে শয়তানের জন্য লাঞ্ছনা (বা মাটি নিক্ষেপ) স্বরূপ।“[1]

আবু মুহাম্মদ বলেন: আমি এ মত গ্রহণ করেছি।

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: সহীহ মুসলিম (মাসাজিদ) ৫৭১। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল হুমাইদী নং ১১৪১, ১২৪১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৬৬৩, ২৬৬৪, ২৬৬৭, ২৬৬৯ তে।









সুনান আদ-দারিমী (1534)


أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا ابْنُ عَوْنٍ عَنْ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِحْدَى صَلَاتَيْ الْعَشِيِّ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ سَلَّمَ وَقَامَ إِلَى خَشَبَةٍ مُعْتَرِضَةٍ فِي الْمَسْجِدِ فَوَضَعَ يَدَهُ عَلَيْهَا قَالَ يَزِيدُ وَأَرَانَا ابْنُ عَوْنٍ وَوَضَعَ كَفَّيْهِ إِحْدَاهُمَا عَلَى ظَهْرِ الْأُخْرَى وَأَدْخَلَ أَصَابِعَهُ الْعُلْيَا فِي السُّفْلَى وَاضِعًا وَقَامَ كَأَنَّهُ غَضْبَانُ قَالَ فَخَرَجَ السَّرَعَانُ مِنْ النَّاسِ وَجَعَلُوا يَقُولُونَ قُصِرَتْ الصَّلَاةُ قُصِرَتْ الصَّلَاةُ وَفِي الْقَوْمِ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ فَلَمْ يَتَكَلَّمَا وَفِي الْقَوْمِ رَجُلٌ طَوِيلُ الْيَدَيْنِ يُسَمَّى ذُو الْيَدَيْنِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنَسِيتَ الصَّلَاةَ أَمْ قُصِرَتْ فَقَالَ مَا نَسِيتُ وَلَا قُصِرَتْ الصَّلَاةُ فَقَالَ أَوَ كَذَلِكَ قَالُوا نَعَمْ قَالَ فَرَجَعَ فَأَتَمَّ مَا بَقِيَ ثُمَّ سَلَّمَ وَكَبَّرَ فَسَجَدَ طَوِيلًا ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَكَبَّرَ وَسَجَدَ مِثْلَ مَا سَجَدَ ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ وَانْصَرَفَ




১৫৩৪. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দিবাভাগের দুই ওয়াক্ত সালাতের কোন এক সালাত (অর্থাৎ যোহর কিংবা আসরের সালাত) আদায় করলেন। কিন্তু দুই রাকা’আত আদায় করার পরই সালাম ফিরালেন। এরপর তিনি রাগান্বিত মনে মসজিদের মধ্যস্থানে স্থাপিত একটি (খেজুর) কাষ্ঠখণ্ডের উপর ভর দিয়ে দাঁড়ালেন।

ইয়াযীদ (বর্ণনাকারী) বলেন, আমরা ইবনু আউনকে তার দু’ হাতের তালুর একটিকে অপরটির পিঠের উপর স্থাপন করতে দেখলাম। এরপর তিনি সবচেয়ে লম্বা আঙ্গুলটিকে সবচেয়ে নিচু আঙ্গুলটির মধ্যে প্রবেশ করিয়ে রেখে দিলেন।তিনি বলেন, তাড়াহুড়াকারী লোকেরা তো এ কথা বলতে বলতে দ্রুত মসজিদ থেকে বের হয়ে গেলো যে, সালাতকে কমিয়ে দেয়া হয়েছে, সালাতকে কমিয়ে দেয়া হয়েছে। এই সময় সবার মাঝে আবু বকর ও উমারও ছিলেন। কিন্তু (এই পরিস্থিতিতে) তারা কেউই কোনো কথা বলছিলেন না। অতঃপর যুলইয়াদাইন নামে পরিচিত লম্বা হাত বিশিষ্ট এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললো, হে আল্লাহর রাসূল, আপনি সালাত ভুলে গিয়েছেন- নাকি সালাতকেই কম করে দেয়া হয়েছে?

একথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “আমি ভূলেও যাইনি, আবার সালাতকেও সংক্ষিপ্ত করে দেয়া হয়নি।“ তারপর জিজ্ঞেস করলেন, “ব্যাপারটা কি সেরকমই?“ (সে যা বলছে, তা কি ঠিক?) সবাই জবাব দিলো, হাঁ। (সে যা বলেছে সত্য বলেছে।) তখন তিনি সালাতের বাকী অংশ আদায় করে সালাম ফিরালেন। এর পর তাকবীর বলে লম্বা সিজদা করলেন এবং তাকবীর বলে মাথা উঠালেন। তারপর আবার তাকবীর বলে অনুরূপ সিজদা করলেন এবং তাকবীর বলে মাথা উঠালেন। এরপর তিনি (সালাত) সমাপ্ত করলেন।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, (সালাত) ৪৮২; মুসলিম (মাসাজিদ) ৫৭৩; আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী ৫৮৬০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২২৪৯ ও মুসনাদুল হুমাইদী ১০১৩ তে।









সুনান আদ-দারিমী (1535)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ حَدَّثَنِي يُونُسُ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَخْبَرَنِي ابْنُ الْمُسَيَّبِ وَأَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَأَبُو بَكْرِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَاةَ الظُّهْرِ أَوْ الْعَصْرِ فَسَلَّمَ فِي رَكْعَتَيْنِ مِنْ إِحْدَاهُمَا فَقَالَ لَهُ ذُو الشِّمَالَيْنِ بْنُ عَبْدِ عَمْرِو بْنِ نَضْلَةَ الْخُزَاعِيُّ وَهُوَ حَلِيفُ بَنِي زُهْرَةَ أَقُصِرَتْ أَمْ نَسِيتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ أَنْسَ وَلَمْ تُقْصَرْ فَقَالَ ذُو الشِّمَالَيْنِ قَدْ كَانَ بَعْضُ ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَأَقْبَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى النَّاسِ فَقَالَ أَصَدَقَ ذُو الْيَدَيْنِ قَالُوا نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَتَمَّ الصَّلَاةَ وَلَمْ يُحَدِّثْنِي أَحَدٌ مِنْهُمْ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَجَدَ سَجْدَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ فِي تِلْكَ الصَّلَاةِ وَذَلِكَ فِيمَا نُرَى وَاللَّهُ أَعْلَمُ مِنْ أَجْلِ أَنَّ النَّاسَ يَقَّنُوا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى اسْتَيْقَنَ




১৫৩৫. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যোহর কিংবা আসরের সালাত আদায় করলেন। কিন্তু সেই সালাতের দুই রাকা’আত আদায় করার পরই তিনি সালাম ফিরালেন। অতঃপর ‘যুশিমালাইন’ নামে পরিচিত ইবনু আব্দু আমর ইবনু নাদ্বলাহ আল খুযাঈ, যে বনী যুহরাহ গোত্রের সাথে চুক্তিবদ্ধ ছিল, সে বললো, হে আল্লাহর রাসূল, সালাতকেই কম করে দেয়া হয়েছে - নাকি আপনিই ভুলে গিয়েছেন? (একথা শুনে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “আমি ভূলেও যাইনি, আবার (সালাতকে) সংক্ষিপ্তও করে দেয়া হয়নি।“

তখন ‘যুশিমালাইন’ বললো, হে আল্লাহর রাসূল, এতদুভয়ের কোনো একটি তো হয়েছে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লোকদের দিকে ফিরে বললেন: “যুলইয়াদাইন’ কি ঠিক বলেছে?“সবাই জবাব দিলো, হাঁ, ইয়া রাসূলুল্লাহ। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাঁড়িয়ে সালাত পূর্ণ করলেন। আর তাদের মধ্যে আর কেউই বর্ণনা করেননি যে, ‘ঐ সালাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বসা অবস্থায় দু’টি সাজদা করলেন।’ এর কারণ হিসেবে যা ধারণা করা হয় - আসলে আল্লাহই ভাল জানেন-, তাহলো এই যে, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিশ্চিতরূপে সেটি জানতে না পারেন, তখন লোকেরা তাঁকে (বিষয়টি) নিশ্চিত করে দেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ লাইছের কাতিব আব্দুল্লাহ ইবনু লাইছের কারণে। ((তবে হাদীসটি সহীহ। আগের হাদীসটি দেখুন))

তাখরীজ: আগের হাদীসটি দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (1536)


حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ الْحَكَمِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ صَلَّى الظُّهْرَ خَمْسًا فَقِيلَ لَهُ فَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ




১৫৩৬. আব্দুল্লাহ (ইবনু মাসউদ) রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যোহরের সালাত পাঁচ রাকা’আত আদায় করলেন। যখন তাকে (বিষয়টি) বলা হলো, তখন তিনি দু’টি সাজদা করলেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, (সালাত) ৪০১; মুসলিম (মাসাজিদ) ৫৭২; আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী ৫০০২ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৬৫৬ ও মুসনাদুল হুমাইদী ৯৬ তে।









সুনান আদ-দারিমী (1537)


أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ هُرْمُزَ الْأَعْرَجِ عَنْ ابْنِ بُحَيْنَةَ قَالَ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ قَامَ وَلَمْ يَجْلِسْ وَقَامَ النَّاسُ فَلَمَّا قَضَى الصَّلَاةَ نَظَرْنَا تَسْلِيمَهُ فَكَبَّرَ فَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ قَبْلَ أَنْ يُسَلِّمَ ثُمَّ سَلَّمَ




১৫৩৭. আবদুল্লাহ ইবন বুহায়না (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করার সময় দুই রাকাতের পর না বসে (ভুলবশত: তৃতীয় রাকাতের) জন্য দন্ডায়মান হন এবং লোকেরাও তাঁর সাথে দাঁড়িয়ে যায়। সালাত শেষে আমরা যখন তাঁর সালামের অপেক্ষায় ছিলাম, তখন তিনি তাকবীর দিয়ে বসা অবস্থায় সালামের পূর্বে দুইটি সিজদা করেন অত:পর তিনি সালাম ফিরান।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, (আযান) ৮২৯; মুসলিম (মাসাজিদ) ৫৭০; আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী ২৬৩৯ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৯৩৮, ১৯৩৯, ১৯৪১ তে।









সুনান আদ-দারিমী (1538)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْفَضْلِ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْأَعْرَجِ عَنْ مَالِكِ ابْنِ بُحَيْنَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَامَ فِي الرَّكْعَتَيْنِ مِنْ الظُّهْرِ أَوْ الْعَصْرِ فَلَمْ يَرْجِعْ حَتَّى فَرَغَ مِنْ صَلَاتِهِ ثُمَّ سَجَدَ سَجْدَتَيْ الْوَهْمِ ثُمَّ سَلَّمَ




১৫৩৮. ইবন বুহায়না হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুহর কিংবা আসরের সালাত আদায় করার সময় দুই রাকাতের পর না বসে (ভুলবশত: তৃতীয় রাকাতের) জন্য দন্ডায়মান হন এবং তিনি (বসার জন্য) প্রত্যাবর্তন করেননি, এমনকি তিনি (এভাবেই) তাঁর সালাত শেষ করেন। এরপর তিনি ভুলের জন্য দুইটি সিজদা করেন অত:পর তিনি সালাম ফিরান।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, (সাহু) ১২২৫; মুসলিম (মাসাজিদ) ৫৭০; এটি পূর্বের হাদীসের পুনরাবৃত্তি। পূর্ণ তাখরীজের জন্য সেখানে দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (1539)


أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ عَنْ الْمَسْعُودِيِّ عَنْ زِيَادِ بْنِ عِلَاقَةَ قَالَ صَلَّى بِنَا الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ فَلَمَّا صَلَّى رَكْعَتَيْنِ قَامَ وَلَمْ يَجْلِسْ فَسَبَّحَ بِهِ مَنْ خَلْفَهُ فَأَشَارَ إِلَيْهِمْ أَنْ قُومُوا فَلَمَّا فَرَغَ مِنْ صَلَاتِهِ سَلَّمَ وَسَجَدَ سَجْدَتَيْ السَّهْوِ وَسَلَّمَ وَقَالَ هَكَذَا صَنَعَ بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَزِيدُ يُصَحِّحُونَهُ




১৫৩৯. যিয়াদ ইবনু ‘ইলাকাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুগীরাহ ইবনু শু’বাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আমাদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করার সময় দুই রাকাতের পর না বসে (ভুলবশত: তৃতীয় রাকাতের জন্য) দন্ডায়মান হন। ফলে এজন্য তাঁর পিছনের মুসল্লীগণ তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ) পাঠ করতে আরম্ভ করেন, তখন তিনি তাদেরকে ইশারায় দাঁড়িয়ে যেতে বলেন। এরপর তিনি তাঁর সালাত শেষ করে সালাম ফিরান এবং তিনি ভুলের জন্য দুইটি সাহু (ভূলের) সিজদা করেন অত:পর সালাম ফিরান এবং বলেন: ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের সঙ্গে (সালাত আদায়ের সময়) এরূপ করেছেন।’[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, আব্দুর রহমান ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উতবাহ আল মাসউদী হতে শ্রবন করা হতে ইয়াযীদ ইবনু হারুণ পিছিয়ে রয়েছে।

তাখরীজ: আহমাদ ৪/২৪৭, ২৫৩, ২৫৪; আবু দাউদ (সালাত) ১০৩৬, ১০৩৭; তিরমিযী, আস সালাত ৩৬৫; ইবনু হাযম, আল মুহাল্লা ৪/১৭২; আব্দুর রাযযাক নং ৩৪৮৩।









সুনান আদ-দারিমী (1540)


حَدَّثَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ عَنْ يَحْيَى عَنْ هِلَالِ بْنِ أَبِي مَيْمُونَةَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ الْحَكَمِ السُّلَمِيِّ قَالَ بَيْنَا أَنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الصَّلَاةِ إِذْ عَطَسَ رَجُلٌ مِنْ الْقَوْمِ فَقُلْتُ يَرْحَمُكَ اللَّهُ قَالَ فَحَدَّقَنِي الْقَوْمُ بِأَبْصَارِهِمْ فَقُلْتُ وَا ثُكْلَاهُ مَا لَكُمْ تَنْظُرُونَ إِلَيَّ قَالَ فَضَرَبَ الْقَوْمُ بِأَيْدِيهِمْ عَلَى أَفْخَاذِهِمْ فَلَمَّا رَأَيْتُهُمْ يُسْكِتُونَنِي قُلْتُ مَا لَكُمْ تُسْكِتُونَنِي لَكِنِّي سَكَتُّ قَالَ فَلَمَّا انْصَرَفَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَبِأَبِي هُوَ وَأُمِّي مَا رَأَيْتُ مُعَلِّمًا قَبْلَهُ وَلَا بَعْدَهُ أَحْسَنَ تَعْلِيمًا مِنْهُ وَاللَّهِ مَا ضَرَبَنِي وَلَا كَهَرَنِي وَلَا سَبَّنِي وَلَكِنْ قَالَ إِنَّ صَلَاتَنَا هَذِهِ لَا يَصْلُحُ فِيهَا شَيْءٌ مِنْ كَلَامِ النَّاسِ إِنَّمَا هِيَ التَّسْبِيحُ وَالتَّكْبِيرُ وَتِلَاوَةُ الْقُرْآنِ




১৫৪০. মুআবিয়া ইবনুল হাকাম আস-সুলামী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর সাথে কোনো একটি সালাত আদায় করেছিলাম। ইত্যবসরে লোকদের মধ্য থেকে একজন হাঁচি দিল। ফলে আমি বললাম, ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’।

তিনি বলেন, তখন লোকেরা আড়চোখে আমার দিকে তাকাতে লাগল। আমি বললাম “আমার মায়ের পুত্র বিয়োগ হোক! তোমরা আমার প্রতি (এভাবে) তাকাচ্ছো কেন? তখন তারা তাদের উরুর উপর হাত চাপড়াতে লাগল। আমি যখন দেখলাম যে, তারা আমাকে চুপ করাতে চাচ্ছে, তখন আমি বললাম, তোমরা আমাকে চুপ করাতে চাচ্ছো কেন? যাহোক, আমি চুপ হয়ে গেলাম। তিনি বলেন, অতঃপর যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাত শেষ করলেন, আমার মাতা-পিতা তাঁর জন্য কুরবান হোক! আমি কোনো শিক্ষাদাতাকে তার মতো এত সুন্দর করে শিক্ষা দান করতে পূর্বেও কখনো দেখিনি, তাঁর পরেও কখনো দেখিনি। আল্লাহর কসম! তিনি আমাকে মারলেন না, ধমক দিলেন না, গালিও দিলেন না। বরং তিনি বললেন: “আমাদের এ সালাতে কোনো লোকের কোনো কথাবার্তা বলা ঠিক নয়। বরং তা হচ্ছে- তাসবীহ, তাকবীর ও কুরআন পাঠের জন্য।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: মুসলিম, মাসাজিদ ৫৩৭; নাসাঈ, সাহু ৩/১৪-১৮; আবু আউয়ানাহ ২/১৪১; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ১/৪৪৬; তাবারাণী, আল কাবীর ১৯/৪০১ নং ৯৪৫, ৯৪৭; বাইহাকী, আস সালাত ২/২৪৯; খতীব, ফাকিহ ওয়াল মুতাফাকিহ নং ৯৮২; আহমাদ ৫/৪৪৭, ৪৪৮; ইবনু আবী শাইবা ২/৪৩২; আবু দাউদ, আস সালাত ৯৩০; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ ৭২৬; ইবনুল জারুদ নং ২১২; ইবনু হাযম, আল মুহাল্লা ৩/১৪৯ ও ৪/৪; তায়ালিসী ১/১০৭ নং ৪৮৬; আমরা এটি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৬৫,২২৪৭, ২২৪৮ তে। আরও দেখুন, তালখীসুল হাবীর ১/২৮০, ২৮১।