সুনান আদ-দারিমী
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ، حَدَّثَنِي بَكْرُ بْنُ عَمْرٍو الْمَعَافِرِيُّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ مُسْلِمِ بْنُ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ أُفْتِيَ بِفُتْيَا مَنْ غَيْرِ ثَبْتٍ، فَإِنَّمَا إِثْمُهُ عَلَى مِنْ أَفْتَاهُ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده حسن إذا كان بكر بن عمرو سمعه من أبي عثمان
১৬১. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি এমন ফতওয়া দিল যা (দলীল-প্রমাণ দ্বারা) সাব্যস্ত নয়, তাহলে ভুল ফতওয়া দানের পাপ ফতওয়া দানকারীর উপরই বর্তাবে।’[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান, যখন বাকর ইবনু আমর (এ হাদীসের একজন রাবী) আবী উছমান থেকে কিছু শ্রবণ করে থাকেন।
তাখরীজ: আবু দাউদ, ৩৬৫৭; বুখারী, আদাবুল মুফরাদ ২৫৯; তাহাবী, মুশকিলিল আছার ১/১৭১; হাকিম ১/১২৬; খতীব, ফাকীহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ ১/১৫৫; বাইহাকী, আদাবুল কাযী ১০/১১২; হাকিম ও যাহাবী একে বুখারী মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। তবে আমি বলছি: এটি বুখারী মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ নয়, বরং এর রাবী মুসলিম ইবনু ইয়াসার হতে ইমাম মুসলিম তার সহীহ মুসলিমের মুকদ্দমায় এর শাহীদ নিয়ে এসেছেন।
ইবনু হাযম, আল আহকাম ৬/১০২১ ইবনু আব্বাস হতে, সনদ সহীহ; আহমদ ২/৩২১, সনদ হাসান, (এছাড়াও শাইখ এর অনেকগুলো সনদ তাখরীজ করেছেন-অনুবাদক)
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَبِي سِنَانٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنُ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنه، قَالَ: «مَنْ أَفْتَى بِفُتْيَا يُعَمَّى عنهَا، فَإِثْمُهَا عَلَيْهِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
১৬২. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি কোন বিষয়ে অজ্ঞ হয়েও সে বিষয়ে ফতওয়া প্রদান করে, তবে এই ভুল ফতওয়ার পাপ তার উপরই বর্তাবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। ‘يعمى عليها অর্থ لم يهتد اليها ( এর সঠিক সীমা না জেনেই)।
তাখরীজ: ইবনু আব্দুল বার, জামি বায়ানুল ইলম, নং ১৬২৬, ১৬২৭, ১৮৯২; খতীব, আল ফাকিহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ, ২/১৫৫;
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّلْتِ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ بُرْقَانَ، حَدَّثَنَا مَيْمُونُ بْنُ مِهْرَانَ، قَالَ: كَانَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، إِذَا وَرَدَ عَلَيْهِ الْخَصْمُ نَظَرَ فِي كِتَابِ اللَّهِ، فَإِنْ وَجَدَ فِيهِ مَا يَقْضِي بَيْنَهُمْ، قَضَى بِهِ، وَإِنْ لَمْ يَكُنْ فِي الْكِتَابِ، وَعَلِمَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي ذَلِكَ الْأَمْرِ سُنَّةً، قَضَى بِهِ، فَإِنْ أَعْيَاهُ، خَرَجَ فَسَأَلَ الْمُسْلِمِينَ وَقَالَ: «أَتَانِي كَذَا وَكَذَا، فَهَلْ عَلِمْتُمْ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَضَى فِي ذَلِكَ بِقَضَاءٍ؟» فَرُبَّمَا اجْتَمَعَ إِلَيْهِ النَّفَرُ كُلُّهُمْ يَذْكُرُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيهِ قَضَاءً. فَيَقُولُ أَبُو بَكْرٍ: «الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي جَعَلَ فِينَا مَنْ يَحْفَظُ عَلَى نَبِيِّنَا،» صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، " فَإِنْ أَعْيَاهُ أَنْ يَجِدَ فِيهِ سُنَّةً مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، جَمَعَ رُءُوسَ النَّاسِ وَخِيَارَهُمْ فَاسْتَشَارَهُمْ، فَإِذَا اجْتَمَعَ رَأْيُهُمْ عَلَى أَمْرٍ، قَضَى بِهِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :رجاله ثقات غير أن ميمون بن مهران لم يدرك أبا بكر فالإسناد منقطع
১৬৩. মাইমুন ইবনু মিহরান রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আবু বাকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-এর নিকট কোনো বিচার-বিসম্বাদ এসে পৌঁছলে তিনি প্রথমে আল্লাহর কিতাবে (এর হুকুম খুঁজে) দেখতেন। তাদের মধ্যকার বিবাদমান বিষয়টি সেখানে পেয়ে গেলে তিনি সে অনুযায়ী তাদের মধ্যে ফায়সালা করতেন। আর তা যদি কিতাবে না থাকত, আর এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নাত তাঁর জানা থাকত, তবে তিনি সে অনুযায়ী এর ফায়সালা করতেন। আর যদি তিনি এতে (এ বিষয়ে সুন্নাত জানতে) ব্যর্থ হতেন, তবে তিনি লোকদেরকে জিজ্ঞেস করার জন্য বেরিয়ে পড়তেন। তিনি বলতেন: ‘আমার নিকট এমন এমন বিচার-বিসম্বাদ এসেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ বিষয়ে কিভাবে ফায়সালা করেছেন, তা তোমরা জানো কি? তখন লোকেরা দলে দলে তার নিকট একত্রিত হতেন এবং তাদের প্রত্যেকেই উল্লিখিত বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রায় বর্ণনা করতেন। তখন আবু বাকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলতেন: ‘আলহামদু লিল্লাহ! আল্লাহর জন্যই সমস্ত প্রশংসা যিনি আমাদের মাঝ থেকে এমন ব্যক্তি তৈরি করেছেন, যে আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে (তাঁর হাদীস) সংরক্ষণ করেছেন। আর যদি তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাত থেকে এ বিষয়ে কোনো ফায়সালা পেতে ব্যর্থ হতেন, তখন তিনি লোকদের মধ্যকার শ্রেষ্ঠ ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদেরকে একত্রিত করতেন এবং তাদের সাথে পরামর্শ করতেন। যখন তারা সকলে একটি বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছতেন, তখন তিনি তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত বা রায় দিতেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর রাবীগণ নির্ভরযোগ্য। কিন্তু মাইমুন ইবনু মিহরান আবু বাকরের সাক্ষাত পাননি। ফলে এ সনদ বিচ্ছিন্ন।
তাখরীজ: বাইহাকী, আদাবুল কাযী ১০/১১৪;
أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، وَعَمْرُو بْنُ زُرَارَةَ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي سُهَيْلٍ، قَالَ: كَانَ عَلَى امْرَأَتِي اعْتِكَافُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ فِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ، فَسَأَلْتُ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ، وَعِنْدَهُ ابْنُ شِهَابٍ، قَالَ: قُلْتُ عَلَيْهَا صِيَامٌ. قَالَ ابْنُ شِهَابٍ: لَا يَكُونُ اعْتِكَافٌ إِلَّا بِصِيَامٍ. فَقَالَ لَهُ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ: أَعَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قَالَ: لَا. قَالَ: فَعَنْ أَبِي بَكْرٍ؟ قَالَ: لَا؟ قَالَ: فَعَنْ عُمَرَ؟ قَالَ: لَا. قَالَ: فَعَنْ عُثْمَانَ؟ قَالَ: لَا. قَالَ عُمَرُ: مَا أَرَى عَلَيْهَا صِيَامًا. فَخَرَجْتُ فَوَجَدْتُ طَاوُسًا وَعَطَاءَ بْنَ أَبِي رَبَاحٍ، فَسَأَلْتُهُمَا، فَقَالَ طَاوُسٌ: كَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، «لَا يَرَى عَلَيْهَا صِيَامًا إِلَّا أَنْ تَجْعَلَهُ عَلَى نَفْسِهَا». قَالَ: وَقَالَ عَطَاءٌ: ذَلِكَ رَأْيِي
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
১৬৪. আবু সুহাইল রাহিমাহুল্লাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার স্ত্রীর উপর মাসজিদুল হারামে তিনদিনের জন্য মানতের ই’তিকাফ রয়ে গিয়েছিল। যখন আমি (এ বিষয়ে) উমার ইবনু আব্দুল আযীয রাহিমাহুল্লাহকে জিজ্ঞেস করলাম, তখন তাঁর নিকট ইবনু শিহাব যুহুরী রাহিমাহুল্লাহও ছিলেন। তিনি বলেন, আমি বললাম, তার উপর কি সিয়ামও রয়েছে? তখন ইবনু শিহাব বললেন: সিয়াম ব্যতীত কোনো ই’তিকাফ হয় না।
তখন উমার ইবনু আব্দুল আযীয তাকে জিজ্ঞেস করলেন, এটা কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে (বর্ণনা করছেন)? তিনি বললেন, না। তিনি তাকে আবার জিজ্ঞেস করলেন, এটা কি তাহলে আবু বাকর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে (বর্ণনা করছেন)? তিনি বললেন, না। তিনি আবার তাকে জিজ্ঞেস করলেন, এটা কি তবে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে (বর্ণনা করছেন)? তিনি জবাবে বললেন, না। তিনি অনুরূপভাবে জিজ্ঞেস করলেন, এটা কি তবে উছমান রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে (বর্ণনা করছেন)? তিনি এর জবাবে আবারও বললেন, না।
তখন তিনি বললেন, আমার মত হল, (ই’তিকাফ করার জন্য) এ মহিলার উপর সিয়াম বাধ্যতামুলক নয়। তখন আমি বের হয়ে গেলাম এবং তাউস ও আতা ইবনু আবী রাবাহকে পেয়ে গেলাম। ফলে তাদের দু’জনকে বিষয়টি জিজ্ঞেস করলাম। তাউস বললেন: ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু (ই’তিকাফের জন্য) এ ক্ষেত্রে তার উপর সিয়াম অপরিহার্য বলে মনে করতেন না, যদি না সে নিজের উপর তা ধার্য করে নেয়। তিনি বলেন, আতা বললেন, এটি আমারও মত।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমি এ হাদীসটি এখানে ব্যতীত অন্য কোথাও পাইনি। তবে দেখুন, মুছান্নাফ ইবনু আবী শাইবা, ৩/৮৭; মা’রিফাতুস সুনান ওয়াল আছার ৬/৩৯৫-৩৯৬; মুছান্নাফ আব্দুর রাযযাক ৪/৩৫৩-৩৫৪।
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبُو عَقِيلٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ الْجُرَيْرِيُّ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ قَالَ: لَمَّا قَدِمَ أَبُو سَلَمَةَ الْبَصْرَةَ، أَتَيْتُهُ أَنَا وَالْحَسَنُ فَقَالَ لِلْحَسَنِ: أَنْتَ الْحَسَنُ؟ «مَا كَانَ أَحَدٌ بِالْبَصْرَةِ أَحَبَّ إِلَيَّ لِقَاءً مِنْكَ، وَذَلِكَ أَنَّهُ بَلَغَنِي أَنَّكَ تُفْتِي بِرَأْيِكَ، فَلَا تُفْتِ بِرَأْيِكَ إِلَّا أَنْ تَكُونَ سُنَّةٌ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوْ كِتَابٌ مُنْزَلٌ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :رجاله ثقات غير أن أبا عقيل بشير بن عقبة لم يذكر فيمن سمعوا سعيد بن إياس الجريري قبل الاختلاط
১৬৫, আবু নাদ্বরাহ্ বলেন, আবু সালামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু যখন বসরায় এলেন, তখন আমি এবং হাসান তাঁর নিকট এলাম। তিনি হাসানকে বললেন, তুমিই হাসান? বসরায় এমন কোন ব্যক্তি নেই, যার সাথে সাক্ষাৎ করা আমার নিকট তোমার সাথে সাক্ষাৎ অপেক্ষা অধিক প্রিয়। এর কারণ হল, আমার নিকট এ সংবাদ পৌঁছেছে যে, তুমি তোমার আপন রায় (মতামত) দ্বারা ফাতওয়া প্রদান কর। (শোনো), নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাত কিংবা (আল্লাহর) নাযিলকৃত কিতাবের দলীল ব্যতীত তুমি কখনো তোমার নিজের রায় দ্বারা ফতওয়া দিও না।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর রাবীগণ নির্ভরযোগ্য। তবে সাঈদ ইবনু ইয়াস হতে যারা তার স্মৃতি গোলমাল হয়ে যাওয়ার পূর্বে শুনেছেন বলে বর্ণিত আছে, আবু উকাইল বাশীর ইবনু উকবাহকে তাদের মধ্যে উল্লেখ করা হয় না।
তাখরীজ: খতীব, আল ফাকীহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ নং ১০৭১; সনদ সহীহ।
أَخْبَرَنَا عِصْمَةُ بْنُ الْفَضْلِ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عُقْبَةَ، حَدَّثَنَا الضَّحَّاكُ، عَنْ جَابِرِ بْنِ زَيْدٍ، أَنَّ ابْنَ عُمَرَ لَقِيَهُ فِي الطَّوَافِ فَقَالَ لَهُ: يَا أَبَا الشَّعْثَاءِ إِنَّكَ مِنْ فُقَهَاءِ الْبَصْرَةِ فَلَا تُفْتِ إِلَّا بِقُرْآنٍ نَاطِقٍ، أَوْ سُنَّةٍ مَاضِيَةٍ، فَإِنَّكَ إِنْ فَعَلْتَ غَيْرَ ذَلِكَ، هَلَكْتَ وَأَهْلَكْتَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده حسن
১৬৬. জাবির বিন যায়িদ থেকে বর্ণিত, তাওয়াফ করার সময় ইবনু উমার তার সাথে সাক্ষাৎ করলেন, অতঃপর বললেন, ওহে আবূ শা’ছা’! নিশ্চয়ই তুমি বসরার ফকীহদের (প্রজ্ঞাবানদের) একজন। ফলে ফয়সালাকারী কুরআন কিংবা বিগত কোন সুন্নাত ব্যতীত তুমি ফতওয়া দিও না। আর যদি তুমি তা কর (কুরআন-সুন্নাহ ব্যতীত ফতওয়া দাও), তবে তুমি নিজেও ধ্বংস হবে এবং (অন্যদেরকেও) ধ্বংস করবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।
তাখরীজ: বুখারী, আত তারীখ ২/২০৪; খতীব, আল ফাকীহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ ১/১৮৩ ও ২/১৬৩; আবু নুয়াইম, হিলইয়া ৩/৮৬;
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ حُرَيْثِ بْنِ ظُهَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: أَتَى عَلَيْنَا زَمَانٌ لَسْنَا نَقْضِي وَلَسْنَا هُنَالِكَ، وَإِنَّ اللَّهَ قَدْ قَدَّرَ مِنَ الْأَمْرِ أَنْ قَدْ بَلَغْنَا مَا تَرَوْنَ، «فَمَنْ عَرَضَ لَهُ قَضَاءٌ بَعْدَ الْيَوْمِ، فَلْيَقْضِ فِيهِ بِمَا فِي كِتَابِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ فَإِنْ جَاءَهُ مَا لَيْسَ فِي كِتَابِ اللَّهِ، فَلْيَقْضِ بِمَا قَضَى بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَإِنْ جَاءَهُ مَا لَيْسَ فِي كِتَابِ اللَّهِ، وَلَمْ يَقْضِ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَلْيَقْضِ بِمَا قَضَى بِهِ الصَّالِحُونَ، وَلَا يَقُلْ إِنِّي أَخَافُ، وَإِنِّي أُرَى، فَإِنَّ الْحَرَامَ بَيِّنٌ، وَالْحَلَالَ بَيِّنٌ، وَبَيْنَ ذَلِكَ أُمُورٌ مُشْتَبِهَةٌ، فَدَعْ مَا يَرِيبُكَ إِلَى مَا لَا يَرِيبُكَ
১৬৭. আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের উপর এক যামানা এসেছিল, যখন আমরা কোন ফায়সালা বা সমাধান দিতাম না, আর সে অবস্থাও আমাদের ছিল না। এরপর মহান আল্লাহ এ বিষয়টি নির্ধারণ করলেন এবং আমাদেরকে সেই অবস্থায় পৌঁছে দিলেন, যেখানে তোমরা আজকে আমাদেরকে দেখছ। কাজেই আজকের পর থেকে কারো নিকট এমন কোন মুকাদ্দমা-বিবাদ উত্থাপিত হলে সে যেন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা’-এর কিতাব অনুযায়ী ফায়সালা করে। আর তার নিকট যদি এমন কোন বিবাদ আসে যা আল্লাহর কিতাবে নেই, তবে সে যেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ফায়সালা দ্বারা ফায়সালা করে। আর যদি তার নিকট এমন কিছু আসে, যা আল্লাহর কিতাবেও নেই, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও সে ব্যাপারে কোন ফায়সালা দেননি, তবে সে বিষয়ে সে সলিহীন (নেককার)দের ফায়সালা অনুযায়ী ফায়সালা দেবে। ‘আমার ভয় হয়’ বা ‘আমি মনে করি’- এ জাতীয় কথা সে যেন না বলে। কেননা, হারাম স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে এবং হালালও স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে। এতদুভয়ের মাঝে রয়েছে সন্দেহজনক বিষয়সমূহ। সুতরাং তোমাকে যা সন্দেহে পতিত করে, তা তুমি পরিত্যাগ করে সেই বিষয় অবলম্বন কর যা তোমাকে সন্দেহে পতিত করে না।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জায়্যেদ (উত্তম)।
তাখরীজ: নাসাঈ, আদাবুল কুযাত ৮/২৩০-২৩১; খতীব, আল ফাকীহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ ১/২০০-২০১; বাইহাকী, আদাবুল কাযী ১০/১১৫; ইবনু আব্দুল বাররা, জামিউ’ বায়ানুল ইলম, ১৫৯৫, ১৫৯৬।
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي يَزِيدَ، قَالَ: كَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، «إِذَا سُئِلَ عَنِ الْأَمْرِ فَكَانَ فِي الْقُرْآنِ، أَخْبَرَ بِهِ، وَإِنْ لَمْ يَكُنْ فِي الْقُرْآنِ وَكَانَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَخْبَرَ بِهِ، فَإِنْ لَمْ يَكُنْ، فَعَنْ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا - فَإِنْ لَمْ يَكُنْ، قَالَ فِيهِ بِرَأْيِهِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
১৬৮. উবাইদুল্লাহ বিন আবু ইয়াযীদ বলেন, ইবনু আব্বাসকে যখন কোন বিষয় জিজ্ঞাসা করা হত, যদি তা কুরআনে থাকে, তবে তিনি তা জানিয়ে দিতেন। আর তা যদি কুরআনে না থাকে, কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত থাকে, তবে তাও তিনি জানিয়ে দিতেন। আর যা কুরআন-হাদীসে নাই, তবে আবু বকর ও উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে সে বিষয়ে কিছু বর্ণিত আছে, তাও তিনি জানিয়ে দিতেন। আর তা (উল্লিখিত স্থানসমূহে) কোথাও-ই না থাকলে তিনি সে ব্যাপারে আপন মতামত ব্যক্ত করতেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: হাকিম, ১/১২৭; খতীব, আল ফাকীহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ ১/২০৩; বাইহাকী, আদাবুল কাযী ১০/১১৫; সনদ সহীহ।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ مُسْهِرٍ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ شُرَيْحٍ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ كَتَبَ إِلَيْهِ: " إِنْ جَاءَكَ شَيْءٌ فِي كِتَابِ اللَّهِ، فَاقْضِ بِهِ وَلَا تَلْفِتْكَ عَنْهُ الرِّجَالُ، فَإِنْ جَاءَكَ مَا لَيْسَ فِي كِتَابِ اللَّهِ فَانْظُرْ سُنَّةَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَاقْضِ بِهَا، فَإِنْ جَاءَكَ مَا لَيْسَ فِي كِتَابِ اللَّهِ وَلَمْ يَكُنْ فِيهِ سُنَّةٌ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَانْظُرْ مَا اجْتَمَعَ عَلَيْهِ النَّاسُ فَخُذْ بِهِ، فَإِنْ جَاءَكَ مَا لَيْسَ فِي كِتَابِ اللَّهِ وَلَمْ يَكُنْ فِي سُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَلَمْ يَتَكَلَّمْ فِيهِ أَحَدٌ قَبْلَكَ. فَاخْتَرْ أَيَّ الْأَمْرَيْنِ شِئْتَ: إِنْ شِئْتَ أَنْ تَجْتَهِدَ برأْيكَ ثُمَّ تَقَدَّمَ فَتَقَدَّمْ، وَإِنْ شِئْتَ أَنْ تتأخَّرَ، فَتَأَخَّرْ، وَلَا أَرَى التَّأَخُّرَ إِلَّا خَيْرًا لَكَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده جيد
১৬৯. শুরাইহ থেকে বর্ণিত, উমার ইবনুল খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাকে লিখে পাঠিয়েছিলেন, ‘তোমার কাছে যদি এমন বিষয় আসে যা আল্লাহর কিতাবে (কুরআনে) রয়েছে, তবে সেই অনুযায়ী তুমি বিচার ফায়সালা করবে। কোন ব্যক্তি যেন তোমাকে তা থেকে (ডানে বামে) সরিয়ে না দেয়। আর যদি এমন বিষয় আসে যা আল্লাহর কিতাবে নেই তাহলে তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ দেখবে এবং সে অনুযায়ী ফায়সালা করবে। আর যদি তোমার নিকট এমন বিষয় আসে যা আল্লাহর কিতাবেও নেই, সে বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কোন সুন্নাহও নেই, তাহলে দেখবে লোকেরা কোন্ বিষয়ের উপর ঐকমত্য পোষণ করছে, তুমি সেটি গ্রহণ করবে। আর যদি তোমার নিকট এমন বিষয় আসে যা আল্লাহর কিতাবেও নেই, সে বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাহও নেই, আর তোমার পূর্বে এ বিষয়ে কেউ কোন কথাই বলে যাননি, তবে তুমি দু’টি বিষয়ের যেকোন একটি গ্রহণ করতে পারো; যদি চাও তুমি আপন মতামতের ভিত্তিতে ইজতিহাদ করে অগ্রসর হবে, তবে অগ্রসর হতে পারো। আর যদি তুমি চাও (এ ব্যাপারে আপন মতামত প্রদান করা হতে) তুমি বিষয়টি মুলতুবি রাখবে, তবে মুলতুবি রাখতেও পার। তবে মুলতুবি রাখাই তোমার জন্য কল্যাণকর হবে বলে আমি মনে করি।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ (উত্তম)।
তাখরীজ: : বাইহাকী, আদাবুল কাযী ১০/১১৫; নাসাঈ, আদাবুল কুযাত ৮/২৩১; খতীব, আল ফাকীহ ওয়াল মুতাফাকিহ ১/১৯৯-২০১; ইবনু আব্দুল বাররা, জামিউ’ বয়ানুল ইলম, ১৪৩৯; ইবনু হাযম, আল আহকাম ৬/১০০৫;
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمَّادٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ الثَّقَفِيِّ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ عَمْرِو، ابْنِ أَخِي الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، عَنْ نَاسٍ مِنْ أَهْلِ حِمْصٍ مِنْ أَصْحَابِ مُعَاذٍ عَنْ مُعَاذٍ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا بَعَثَهُ إِلَى الْيَمَنِ قَالَ: أَرَأَيْتَ إِنْ عَرَضَ لَكَ قَضَاءٌ كَيْفَ تَقْضِي؟ " قَالَ: أَقْضِي بِكِتَابِ اللَّهِ، قَالَ: «فَإِنْ لَمْ يَكُنْ فِي كِتَابِ اللَّهِ؟». قَالَ: فَبِسُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. قَالَ: " فَإِنْ لَمْ يَكُنْ فِي سُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ؟. قَالَ: أَجْتَهِدُ رَأْيِي وَلَا آلُو. قَالَ: فَضَرَبَ صَدْرَهُ ثُمَّ قَالَ: «الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي وَفَّقَ رَسُولَ رَسُولِ اللَّهِ لِمَا يُرْضِي رَسُولَ اللَّهِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف لانقطاعه
১৭০. মু’আয রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তাকে ইয়ামানে পাঠান, তখন বলেন: তোমার নিকট বিচার-বিসম্বাদ উত্থাপিত হলে তুমি কিভাবে তার বিচার-ফয়সালা করবে? মু’আয বললেন, আমি আল্লাহর কিতাব অনুসারে ফায়সালা করব। তিনি বললেন, ‘তা যদি আল্লাহর কিতাবে না থাকে?’ তখন তিনি বললেন, তাহলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নাহ অনুযায়ী ফায়সালা করব। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, ‘যদি তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নাহতেও না থাকে?’ তিনি জবাবে বললেন, তাহলে আমি আপন মতামতের ভিত্তিতে ইজতিহাদ করব, আমি অবহেলা করব না। তখন নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার বুকে চাপড় মেরে বললেন, সেই আল্লাহর জন্যই সমস্ত প্রশংসা যিনি রাসূলুল্লাহ’র দূতকে এমন বিষয়ে তাওফীক দিয়েছেন, যা রাসূলুল্লাহকে সন্তুষ্ট করেছে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, কেননা এতে ‘ইনক্বিত্বা’ বা বিচ্ছিন্নতা রয়েছে। তিরমিযী বলেন, ‘এ হাদীসটি এ সনদে ছাড়া অপর সনদে জানতে পারিনি, আর আমার নিকট এর সনদ ‘মুত্তাসিল’ (অবিচ্ছিন্ন) নয়।’ এছাড়া জাওযাকানী (আবাতীল ওয়াল মানাকীর, ১/১০৬) বলেন, এ হাদীস বাতিল।
তাখরীজ: তায়ালিসী ১/২৮৬ নং ১৪৫২; ইবনু আবী শাইবা ১০/১৭৭ নং ৯১৪৯; আহমদ ৫/২৩০, ২৩৬, ২৪২; আবু দাউদ ৩৫৯৩; তিরমিযী ১৩২৮;
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَمَّادٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ حُرَيْثِ بْنِ ظُهَيْرٍ، قَالَ: أَحْسَبُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: " قَدْ أَتَى عَلَيْنَا زَمَانٌ وَمَا نُسْأَلُ، وَمَا نَحْنُ هُنَاكَ، وَإِنَّ اللَّهِ قَدَّرَ أَنْ بَلَغْتُ مَا تَرَوْنَ. فَإِذَا سُئِلْتُمْ عَنْ شَيْءٍ، فَانْظُرُوا فِي كِتَابِ اللَّهِ، فَإِنْ لَمْ تَجِدُوهُ فِي كِتَابِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ فَفِي سُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ، فَإِنْ لَمْ تَجِدُوهُ فِي سُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ، فَمَا أَجْمَعَ عَلَيْهِ الْمُسْلِمُونَ، فَإِنْ لَمْ يَكُنْ فِيمَا أَجْمَعَ عَلَيْهِ الْمُسْلِمُونَ، فَاجْتَهِدْ رَأْيَكَ، وَلَا تَقُلْ: إِنِّي أَخَافُ وَأَخْشَى، فَإِنَّ الْحَلَالَ بَيِّنٌ، وَالْحَرَامَ بَيِّنٌ، وَبَيْنَ ذَلِكَ أُمُورٌ مُشْتَبِهَةٌ، فَدَعْ مَا يَرِيبُكَ إِلَى مَا لَا يَرِيبُكَ
১৭১. হুরাইছ বিন জুহাইর হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার ধারণা, আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আমাদের জীবনে এমন একটি সময় অতিবাহিত হয়েছে, যখন আমরা কোন বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হতাম না, আর সে অবস্থাও আমাদের ছিল না। এরপর মহান আল্লাহ (আমাদেরকে) এ অবস্থার যোগ্য করে তুললেন এবং সেই অবস্থায় পৌঁছে দিলেন, যেখানে তোমরা আজকে আমাকে দেখছ। কাজেই তোমাদেরকে কোন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তোমরা আল্লাহ-এর কিতাবে তা খুঁজে দেখো। যদি বিষয়টি আল্লাহর কিতাবে (খুঁজে) না পাও, তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম্-এর সুন্নাতে তা তালাশ কর। আর যদি বিষয়টি রাসূলুল্লাহ’র সুন্নাতেও না পাও, তবে সে বিষয়ে মুসলিমগণের (সাহাবীদের) ইজমা (ঐকমত্য) তালাশ করবে। যদি সেই বিষয়ে মুসলিমগণের ইজমা না পাও, তবে কেবল তখনই তুমি তোমার আপন মতামতের ভিত্তিতে ইজতিহাদ করতে পার। এমন বলো না যে, ‘আমি ভয় পাচ্ছি ও শংকিত হচ্ছি’। কেননা, হালাল স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে এবং হারামও স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে। এতদুভয়ের মাঝে রয়েছে সন্দেহজনক বিষয়সমূহ। সুতরাং তোমাকে যা সন্দেহে পতিত করে, তা তুমি পরিত্যাগ করে সেই বিষয় অবলম্বন কর যা তোমাকে সন্দেহে পতিত করে না।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জায়্যেদ (উত্তম)।
তাখরীজ: খতীব, আল ফাকীহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ ১/২০১। পূর্ণাঙ্গ তাখরীজের জন্য দেখুন পূর্বের হা/১৬৭।
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمَّادٍ، عَنْ أَبِي عَوَانَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ نَحْوَهُ
১৭২. আব্দুর রহমান ইবনু ইয়াযীদ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: পূর্বের হাদীসটি দেখুন।
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بِنَحْوِهِ
১৭৩. কাসিম ইবনু আব্দুর রহমান তার পিতা আব্দুর রহমান হতে, তিনি আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতেও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: (মুহাক্বিক্ব এর কোন তাখরীজ করেন নি-অনুবাদক)।
أَخْبَرَنَا هَارُونُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، عَنْ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ، حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: «أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّكُمْ سَتُحْدِثُونَ وَيُحْدَثُ لَكُمْ، فَإِذَا رَأَيْتُمْ مُحْدَثَةً، فَعَلَيْكُمْ بِالْأَمْرِ الْأَوَّلِ» قَالَ حَفْصٌ: كُنْتُ أُسْنِدُ عَنْ حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، ثُمَّ دَخَلَنِي مِنْهُ شَكٌّ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده منقطع لم يسمع الأعمش من ابن مسعود
১৭৪. আ’মাশ বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: হে মানবমণ্ডলী! অচিরেই তোমরা নতুন বিষয় (মত-পথ) উদ্ভাবন করবে এবং তোমাদের জন্যও নতুন বিষয় (মত-পথ) উদ্ভাবন করা হবে। কাজেই যখনই তোমরা কোন নতুন বিষয় (মত-পথ) দেখবে, তখন তোমাদের উপর আবশ্যক হল, প্রাথমিক যুগের (রাসূল সা: ও সাহাবাগণের) নির্দেশ অনুসরণ করা।[1]
হাফস বলেন: আমি হাবীব থেকে তিনি আবু আব্দুর রহমান থেকে- এ সনদে এটি বর্ণনা করতাম। তারপর এ সনদ সম্পর্কে আমার সন্দেহ হল। (ফলে সে সনদ বাদ দিয়ে উল্লিখিত সনদে বর্ণনা করছি)।[2]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ বিচ্ছিন্ন (মুনক্বাতি’)। আ’মাশ ইবনু মাসউদ হতে কিছু শোনেননি। (আছারটি সহীহ লি গয়রিহী। তাখরীজের আলোচনা দ্রষ্টব্য-অনুবাদক।)
তাখরীজ: মারওয়াযী, আস সুন্নাহ নং ৮০; ইবনু বাত্তাহ, আল ইবানাহ ১/৩২৯, ৩৩০ নং ১৮০-১৮১; সনদ সহীহ। ইবনু বাত্তাহ নং ১৮২ তে আম্মারাহ ইবনু উবাইদ থেকে তিনি ইবনু মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন। এর সনদ জায়্যেদ ক্বাবী (উত্তম শক্তিশালী)। আবার নং ১৮৩ তেও আসওয়াদ্ ইবনু হিলাল থেকে তিনি আব্দুল্লাহ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। এর সনদ সহীহ।
[2] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : (এর কোন হুকুম লাগাননি)। এর রাবীগণ বিশ্বস্ত, তবে হাবীব বিন আবী ছাবিত মুদাল্লিস, তিনি ‘আন ‘আন পদ্ধতিতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
তাখরীজ: খতীব, আল ফাকীহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ ১/১৮২ ইবনু আবী শাইবা সূত্রে।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّلْتِ، حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنْ مُحَمَّدٍ قَالَ: قَالَ عُمَرُ لِابْنِ مَسْعُودٍ: «أَلَمْ أُنْبَأْ - أَوْ أُنْبِئْتُ - أَنَّكَ تُفْتِي وَلَسْتَ بِأَمِيرٍ؟ وَلِّ حَارَّهَا مَنْ تَوَلَّى قَارَّهَا
১৭৫. ইবনু আউন হতে বর্ণিত, তিনি মুহাম্মাদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বলেন, আমি জানতে পেরেছি যে, তুমি ফতওয়া দিচ্ছো, অথচ তুমি শাসক নও। এর শীতলতার ভার তুমি তাকেই অর্পণ কর, যাকে এর উত্তাপেরও ভার দিয়েছ (শাসক বা আমীর ফতওয়া দেওয়ার কর্তৃত্বশীল, ফতওয়া দানের ক্ষতির ভার ও তাকেই বহন করতে দাও)।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। মুহাম্মদ ইবনু সীরীন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর সাক্ষাৎ পাননি।
তাখরীজ: আব্দুল বার, জামিউ’ বায়ানুল ইলম, নং ২০৬৪, ২২১৬;
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: «إِنَّ الَّذِي يُفْتِي النَّاسَ فِي كُلِّ مَا يُسْتَفْتَى لَمَجْنُونٌ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
১৭৬. ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লোকদের জিজ্ঞাসিত সকল বিষয়ে যে ব্যক্তি ফতোয়া দিয়ে দেয়, নিশ্চয়ই সেই ব্যক্তি একজন উন্মাদ বা পাগল।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: খতীব, আল ফাকীহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ, নং ১১৯৪-১১৯৫; মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৮৭০ দেখুন।
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: " إِنَّمَا يُفْتِي النَّاسَ ثَلَاثَةٌ: رَجُلٌ إِمَامٌ أَوْ وَالٍ، وَرَجُلٌ يَعْلَمُ نَاسِخَ الْقُرْآنِ مِنَ الْمَنْسُوخِ - قَالُوا: يَا حُذَيْفَةُ، مِنْ ذَاكَ؟ قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ - أَوْ أَحْمَقُ مُتَكَلِّفٌ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف لانقطاعه محمد بن سيرين لم يدرك حذيفة
১৭৭. হুযায়ফা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কেবলমাত্র তিন প্রকারের মানুষ লোকদেরকে ফতওয়া দিতে পারো: (এক.) যে ব্যক্তি ইমাম, কিংবা শাসক, (দুই.) যে ব্যক্তি আল-কুরআনের নাসিখ ও মানসুখ সম্পর্কে অভিজ্ঞ। তারা জিজ্ঞাসা করল, হে হুযায়ফা! ঔ ব্যক্তিটি কে? তিনি বললেন, উমার বিন খাত্ত্বাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু।nbsp; (তিন.) এবং বোকা, (কিন্তু জ্ঞানীর) ভানকারী।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ ‘ইনকিত্বা’ বা বিচ্ছিন্নতার কারণে। কেননা, মুহাম্মদ ইবনু সীরীন হুযায়ফার সাক্ষাৎ পাননি। তবে এই হাদীসটি সহীহ। দেখুন পরবর্তী টীকা।
তাখরীজ: খতীব, ফাকীহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ ২/১৪৬-১৪৭; ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানুল ইলম, নং ২২১৪, ২২১৭;
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، أَنبَأَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ حَسَّانَ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ بْنِ حُذَيْفَةَ قَالَ: قَالَ حُذَيْفَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: " إِنَّمَا يُفْتِي النَّاسَ أَحَدُ ثَلَاثَةٍ: رَجُلٌ عَلِمَ نَاسِخَ الْقُرْآنِ مِنْ مَنْسُوخِهِ، قَالُوا: وَمَنْ ذَاكَ؟ قَالَ: عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ - قَالَ: «وَأَمِيرٌ لَا يَجِدُ بُدًّا، أَوْ أَحْمَقُ مُتَكَلِّفٌ» ثُمَّ قَالَ مُحَمَّدٌ: فَلَسْتُ بِوَاحِدٍ مِنْ هَذَيْنِ، وَأَرْجُو أَنْ لَا أَكُونَ الثَّالِثَ
১৭৮. আবী ওবাইদাহ ইবনু হুযায়ফা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুযায়ফা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, কেবলমাত্র তিন প্রকারের মানুষ লোকদেরকে ফতওয়া দিতে পারে: (এক) যে ব্যক্তি আল-কুরআনের নাসিখ ও মানসুখ সম্পর্কে জ্ঞানী। তারা বলল, হে হুযায়ফা! ঐ ব্যক্তিটি কে? তিনি বললেন, উমার বিন খাত্ত্বাব । তিনি বলে চললেন, (দুই.) সেই শাসক যার (ফতওয়া না দিয়ে) গত্যন্তর থাকে না; কিংবা বোকা, (কিন্তু জ্ঞানীর) ভানকারী।
অতঃপর মুহাম্মদ বলেন: আর আমি তো এ দু’প্রকার (উমার ইবনুল খাত্ত্বাব কিংবা শাসক) এর অন্তর্ভূক্ত নই-ই, আর আমি আশা করি আমি তৃতীয় প্রকারেরও (ভানকারী আহাম্মকের) অন্তর্ভূক্ত নই।’[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জায়্যেদ (উত্তম)।
তাখরীজ: ইবনুল জাওযী, নাসিখুল কুরআন মিনাল মানসুখ, পৃ: ১৩৪ (আমাদের তাহক্বীক্বকৃত) সেখানে আমরা এর তাখরীজ করেছি।
أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ مُسْلِمٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: " مَنْ عَلِمَ مِنْكُمْ عِلْمًا، فَلْيَقُلْ بِهِ، وَمَنْ لَمْ يَعْلَمْ، فَلْيَقُلْ لِمَا لَا يَعْلَمُ: اللَّهُ أَعْلَمُ. فَإِنَّ: الْعَالِمَ إِذَا سُئِلَ عَمَّا لَا يَعْلَمُ، قَالَ: اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ أَعْلَمُ، " وَقَدْ قَالَ اللَّهُ لِرَسُولِهِ: (قُلْ مَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُتَكَلِّفِينَ)
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح والحديث متفق عليه
১৭৯. মাসরূক হতে বর্ণিত, তিনি আব্দুল্লাহ হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোন বিষয়ে জ্ঞান রাখে, সে যেন সেই জ্ঞান অনুযায়ী কথা-বার্তা বলে। আর যে কোন বিষয়ে জ্ঞান রাখে না, সে যেন তার অজানা বিষয়ে একথা বলে, ‘আল্লাহ-ই ভাল জানেন।’ আর যখন আলিম এমন বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হয় যা সে জানে না, তবে সে যেন বলেন, ‘আল্লাহ-ই ভাল জানেন।’ আর মহান আল্লাহ তাঁর রাসূলকে বলেছেন: “বল, আমি তোমাদের নিকট কোনো পারিশ্রমিক চাই না এবং আমি ভানকারীদের অন্তর্ভূক্তও নই।“(সূরা ছোয়াদ : ৮৬)।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটি বুখারী-মুসলিমের হাদীস।
তাখরীজ: সহীহ বুখারী, কিতাবুত তাফসীর নং ৪৭৭৪, ৪৮২২; সহীহ মুসলিম কিতাবুল সিফাতুল মুনাফিকীন নং ২৭৯৮।
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَبِي رَجَاءٍ، عَنْ أَبِي الْمُهَلَّبِ،: أَنَّ أَبَا مُوسَى رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ، فِي خُطْبَتِهِ: «مَنْ عَلِمَ عِلْمًا، فَلْيُعَلِّمْهُ النَّاسَ، وَإِيَّاهُ أَنْ يَقُولَ مَا لَا عِلْمَ لَهُ بِهِ فَيَمْرُقُ مِنَ الدِّينِ وَيَكُونَ مِنَ الْمُتَكَلِّفِينَ
১৮০. আবুল মুহাল্লাব হতে বর্ণিত, (একদা) আবু মুসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু খুতবায় বলেন, যে ব্যক্তি কোন বিষয়ে জানে, সে যেন তা লোকদেরকে শেখায়। আর সে যেন এমন বিষয়ে কথা বলা থেকে বিরত থাকে, যে বিষয় তার জানা নেই। কেননা এর মাধ্যমে সে দীন থেকে বেরিয়ে যাবে এবং ভানকারীদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর রাবীগণ বিশ্বস্ত, তবে এ সনদটি মুনকাতি’ বা বিচ্ছিন্ন। কেননা, আবু রিজা’ সালমান মাওলা আবী কিলাবাহ; তিনি আবী কিলাবার চাচা আবীল মুহাল্লাব হতে কিছু শোনেননি।
তাখরীজ: আমি এটা এ ব্যতীত অন্য কোথাও পাইনি।