সুনান আদ-দারিমী
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ أَبِي الْبَخْتَرِيِّ، وَزَاذَانَ، قَالَا: قَالَ عَلِيٌّ رِضْوَانُ اللَّهِ عَلَيْهِ " وَا بَرْدَهَا عَلَى الْكَبِدِ إِذَا سُئِلْتُ عَمَّا لَا أَعْلَمُ، أَنْ أَقُولَ: اللَّهُ أَعْلَمُ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف خالد بن عبد الله متأخر السماع من عطاء
১৮১. আবুল বুখতারী ও যাজান উভয়ে বর্ণনা করেন, আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আহ! হৃদয়ে শীতলতা দানকারী কতই না উত্তম কথা, যে কোন অজানা বিষয়ে আমার নিকট কিছু জিজ্ঞাসা করা হলে তার জবাবে আমার একথা বলা, ‘আল্লাহ-ই সবচেয়ে ভাল জানেন’![1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। খালিদ ইবনু আব্দুল্লাহ ‘আতা থেকে হাদীস শোনা হতে পিছিয়ে। (তবে পরবর্তী হাদীসের তাখরীজে বলা হয়েছে খতীব, ফাকিহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ ২/১৭১ এ বর্ণিত হাদীসটির সনদ শাহিদের কারণে সহীহ।)
তাখরীজ: ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানুল ইলম, নং ১৪০৫। পরবর্তী হাদীসটি দেখুন।
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ أَبِي الْبَخْتَرِيِّ، عَنْ عَلِيٍّ رِضْوَانُ اللَّهِ عَلَيْهِ، قَالَ: " يَا بَرْدَهَا عَلَى الْكَبِدِ أَنْ تَقُولَ لِمَا لَا تَعْلَمُ: اللَّهُ أَعْلَمُ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف شريك متأخر السماع من عطاء
১৮২. আবুল বুখতারী হতে বর্ণিত, আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আহ! হৃদয়ে শীতলতা দানকারী কতই না উত্তম কথা, যে তোমার অজানা বিষয়ে (জিজ্ঞাসিত হলে) তুমি একথা বলবে, ‘আল্লাহ-ই সবচেয়ে ভাল জানেন’![1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। শারীক আতা থেকে হাদীস শ্রবণ করা হতে পিছিয়ে। আবুল বুখতারী হল সাঈদ ইবনু ফিরোয, তার সম্পর্কে হাফিজ ইবনু হাজার তার ‘নুকাত’ ১/৩৯৬ এ বলেন: “তিনি আলী হতে কিছু শোনেননি।“।
তাখরীজ: খতীব, ফাকিহ ওয়াল মুতাফাক্বিহ ২/১৭১ অপর সনদে, শাহিদের কারণে তা সহীহ। পূর্বের ও পরের টীকাগুলি দেখুন।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا عُمَيْرُ بْنُ عَرْفَجَةَ، حَدَّثَنَا رَزِينٌ أَبُو النُّعْمَانِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: «إِذَا سُئِلْتُمْ عَمَّا لَا تَعْلَمُونَ، فَاهْرُبُوا» قَالَ: وَكَيْفَ الْهَرَبُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ؟ قَالَ: تَقُولُونَ: اللَّهُ أَعْلَمُ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :لم يحكم عليه المحقق
১৮৩. রাযীন আবু নু’মান আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যখন তোমাদেরকে এমন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়, যা তোমরা জান না, তখন তোমরা পালিয়ে যাও। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! এ পালিয়ে যাওয়াটা কেমন ভাবে? তিনি বললেন: তা হল, তোমরা বলবে: ‘আল্লাহ-ই ভাল জানেন’।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : রাযীন আবু নু’মানের জীবনী আমি আমার নিকট রক্ষিত কিতাবসমূহে পাইনি।
তাখরীজ: (মুহাক্বিক্ব কোন তাখরীজ করেন নি।-অনুবাদক) আগের ও পরের টীকাগুলি দেখুন।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ مُسْلِمٍ الْبَطِينِ، عَنْ عَزْرَةَ التَّمِيمِيِّ، قَالَ: قَالَ عَلِيٌّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، وَا بَرْدَهَا عَلَى الْكَبِدِ، ثَلَاثَ مَرَّاتٍ. قَالُوا: وَمَا ذَلِكَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ؟ قَالَ: " أَنْ يُسْأَلَ الرَّجُلُ عَمَّا لَا يَعْلَمُ فَيَقُولُ: اللَّهُ أَعْلَمُ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :لم يحكم عليه المحقق
১৮৪. আযুরাহ আত তামিমী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আহ! হৃদয়ে শীতলতা দানকারী কতই না উত্তম কথা- এ কথা তিনি তিনবার বলেন। তখন তারা জিজ্ঞাসা করলেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! সেটা কোন্ কথা? তখন তিনি বলেন, কোন লোক অজানা বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হলে তার একথা বলা, ‘আল্লাহ-ই সবচেয়ে ভাল জানেন’।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : মুহাম্মদ ইবনু হামীদ যঈফ। (তবে শাহিদের কারণে এটিকে মুহাক্বিক্ব পূর্বে একে সহীহ বলেছেন-দেখুন, ১৮২ নং হাদীসের তাখরীজ।)
তাখরীজ: বাইহাকী, আল মাদখাল নং ৭৯৪ (অপর সনদে); ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানুল ইলম নং ১৫৬৯ শা’বী থেকে তিনি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে।
أَخْبَرَنَا فَرْوَةُ بْنُ أَبِي الْمَغْرَاءِ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، أَنَّ رَجُلًا سَأَلَهُ عَنْ مَسْأَلَةٍ فَقَالَ: لَا عِلْمَ لِي بِهَا، فَلَمَّا أَدْبَرَ الرَّجُلُ، قَالَ ابْنُ عُمَرَ: " نِعْمَ مَا قَالَ ابْنُ عُمَرَ، سُئِلَ عَمَّا لَا يَعْلَمُ فَقَالَ: لَا عِلْمَ لِي بِهِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
১৮৫. উরওয়া হতে বর্ণিত, তিনি ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি ইবনু উমার রা: কে একটি মাস’আলা জিজ্ঞেস করেন। তখন তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার জানা নেই। যখন সেই লোকটি ফিরে গেল, তখন ইবনু উমার বললেন, ইবনু উমার কী উত্তম কথা-ই না বলেছে! যে বিষয়ে তাঁর জানা নেই-এমন বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বললেন, ‘এ বিষয়ে আমার জানা নেই।’[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: খতীব, আল ফাকীহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ, ২/১৭২; ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম নং ১৫৬৩, নাফি’ থেকে তিনি ইবনু উমার থেকে। এর উভয় সনদ হাসান। দেখুন, মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৬৪১।
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَمَّادٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ مُغِيرَةَ عَنِ الشَّعْبِيِّ قَالَ لَا أَدْرِي نِصْفُ الْعِلْمِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
১৮৬. মুগীরা থেকে বর্ণিত, তিনি শা’বী রাহিমাহুমুল্লাহ হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, ‘আমি জানি না’ -এ কথা বলা হল ‘ইলমে’র অর্ধাংশ।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: খতীব, আল ফাকীহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ, ২/১৭৩।
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ الْعُمَرِيُّ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ رَجُلًا أَتَى ابْنَ عُمَرَ يَسْأَلُهُ عَنْ شَيْءٍ فَقَالَ: لَا عِلْمَ لِي، ثُمَّ الْتَفَتَ بَعْدَ أَنْ قَفَّى الرَّجُلُ فَقَالَ: نِعْمَ مَا قَالَ ابْنُ عُمَرَ يسُألَ عَمَّا لَا يَعْلَمُ، فَقَالَ: لَا عِلْمَ لِي، يَعْنِي ابْنُ عُمَرَ نَفْسَهُ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :
১৮৭. নাফি’ হতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা’র নিকট এসে কোন একটি বিষয়ে প্রশ্ন করলো। তখন তিনি বললেন, এ ব্যাপারে আমার জানা নেই। অতঃপর লোকটি ফিরে যাওয়ার পর (লোকদের দিকে) লক্ষ্য করে বললেন, ইবনু উমার কী উত্তম কথা-ই না বলেছে! যে বিষয়ে তাঁর জানা নেই সে বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলে দিলেন, ‘এ বিষয়ে আমার তথা ইবনু উমারের জানা নেই।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এ সনদ হাসান।
তাখরীজ: ফাসাওয়ী, আল মা’রিফাতু ওয়াত তারীখ, ১/৯৩; খতীব, আল ফাকীহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ, ২/১৭২।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ، ثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مُغِيرَةَ، قَالَ: كَانَ عَامِرٌ " إِذَا سُئِلَ عَنْ شَيْءٍ يَقُولُ: لَا أَدْرِي، فَإِنْ رُدُّوا عَلَيْهِ، قَالَ: إِنْي حَلَفْتُ لَكَ بِاللَّهِ إِنْ كَانَ لِي بِهِ عِلْمٌ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف لضعف محمد بن حميد
১৮৮. মুগীরাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমিরকে যখন কোন বিষয়ে প্রশ্ন করা হত, তখন তিনি বলতেন, ‘আমি জানি না’। তারা তাকে পুনরায় একই প্রশ্ন করলে তিনি বলেন: আমি আল্লাহর কসম করে তোমাকে বলছি, এ ব্যাপারে আমার জানা নেই।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, মুহাম্মদ ইবনু হামীদ যঈফ হওয়ার কারণে।
তাখরীজ: খতীব, আল ফাকীহ ওয়াল মুতাফাকক্কিহ, ২/১৭৪ শু’বা সম্পর্কে এ কথা বর্ণিত হয়েছে। এর সনদ যঈফ। খতীব, অনুরূপ (২/১৮৪) শা’বী সম্পর্কেও বর্ণিত আছে; এর সনদও যঈফ।
أَخْبَرَنَا هَارُونُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، عَنْ حَفْصٍ، عَنْ أَشْعَثَ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، قَالَ: مَا أُبَالِي سُئِلْتُ عَمَّا أَعْلَمُ أَوْ مَا لَا أَعْلَمُ، لِأَنِّي " إِذَا سُئِلْتُ عَمَّا أَعْلَمُ، قُلْتُ مَا أَعْلَمُ، وَإِذَا سُئِلْتُ عَمَّا لَا أَعْلَمُ، قُلْتُ: لَا أَعْلَمُ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
১৮৯. ইবনু সীরীন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে আমার জানা বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হোক, আর অজানা বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হোক- আমি তা পরোয়া করিনা। কেননা, যখন আমাকে এমন বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়, যা আমি জানি তখন আমি যা জানি তা বলি, ; আর যখন আমাকে আমার অজানা কোন বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়, তখন আমি বলে দেই, আমি জানিনা।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমি এছাড়া অন্য কোথাও এটি পাইনি।
أَخْبَرَنَا هَارُونُ، عَنْ حَفْصٍ، عَنِ الْأَعْمَشِ، قَالَ: مَا سَمِعْتُ إِبْرَاهِيمَ يَقُولُ قَطُّ: حَلَالٌ وَلَا حَرَامٌ، إِنَّمَا كَانَ يَقُولُ: كَانُوا يتكْرهونَ، وَكَانُوا يَسْتَحِبُّونَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
১৯০. আ’মাশ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবরাহীম (আন নাখঈ’)-কে কখনো বলতে শুনিনি, ‘এটি হালাল’ আর, ‘এটি হারাম’। বরং তিনি বলতেন: তাঁরা (সাহাবীরা) তা ‘মাকরূহ’ (অপছন্দনীয়) মনে করতেন, এবং তাঁরা তা ‘মুস্তাহাব’ (পছন্দনীয়) মনে করতেন।’[১]
তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: এটি আমি অন্য কোথাও পাইনি।
أَخْبَرَنَا يَعْلَى، حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، عَنْ شَقِيقٍ، قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: " كَيْفَ أَنْتُمْ إِذَا لَبِسَتْكُمْ فِتْنَةٌ يَهْرَمُ فِيهَا الْكَبِيرُ، وَيَرْبُو فِيهَا الصَّغِيرُ، وَيَتَّخِذُهَا النَّاسُ سُنَّةً، فَإِذَا غُيِّرَتْ قَالُوا: غُيِّرَتِ السُّنَّةُ ". قَالُوا: وَمَتَى ذَلِكَ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ؟ قَالَ: إِذَا كَثُرَتْ قُرَّاؤُكُمْ، وَقَلَّتْ فُقَهَاؤُكُمْ، وَكَثُرَتْ أُمَرَاؤُكُمْ، وَقَلَّتْ أُمَنَاؤُكُمْ، وَالْتُمِسَتِ الدُّنْيَا بِعَمَلِ الْآخِرَةِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
১৯১. শাক্বীক্ব হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: তোমাদের অবস্থা তখন কেমন হবে যখন ফিতনা তোমাদের আচ্ছন্ন করে ফেলবে, যার মধ্যেই বড়রা বৃদ্ধ হবে এবং ছোটরা বেড়ে উঠবে। আর সেটিকেই লোকেরা সুন্নাত হিসেবে গ্রহণ করবে। যখন তা (ফিতনা) পরিবর্তন করা হবে, তখন লোকেরা বলবে, সুন্নাতকে পরিবর্তন করে ফেলা হল! তারা জিজ্ঞেস করল, হে আবু আব্দুর রহমান! এটা কখন ঘটবে? তিনি বললেন, যখন তোমাদের মধ্যে কুররা আবিদ বা দরবেশের সংখ্যা বেশি হবে এবং ফকীহ (বিশেষজ্ঞ আলিম) দের সংখ্যা কমে যাবে, আমীর বা নেতার সংখ্যা বেড়ে যাবে এবং আমানতদারের সংখ্যা কমে যাবে এবং আখিরাতের আমলের (কাজের) দ্বারা দুনিয়া (এর লাভ) অন্বেষণ করা হবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: হাকিম, আল মুসতাদরাক, ৪/৫১৪-৫১৫; হাকিম চুপ থেকেছেন এবং যাহাবী একে বুখারী-মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ বলেছেন। আর তিনি যা বলেছেন সেটিই সঠিক। (তার মানে বুখারী মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ।); ইবনু আবী শাইবা, ১৫/২৪ নং ১৯০০৩; ইবনু ওয়াদাহ, আল বিদ’আহ, পৃ: ৭৮ নং ৮০।
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: " كَيْفَ أَنْتُمْ إِذَا لَبِسَتْكُمْ فِتْنَةٌ يَهْرَمُ فِيهَا الْكَبِيرُ وَيَرْبُو فِيهَا الصَّغِيرُ، إِذَا تُرِكَ مِنْهَا شَيْءٌ قِيلَ: تُرِكَتِ السُّنَّةُ "، قَالُوا: وَمَتَى ذَلِكَ؟ قَالَ: «إِذَا ذَهَبَتْ عُلَمَاؤُكُمْ، وَكَثُرَتْ جُهَلَاؤُكُمْ، وَكَثُرَتْ قُرَّاؤُكُمْ، وَقَلَّتْ فُقَهَاؤُكُمْ، وَكَثُرَتْ أُمَرَاؤُكُمْ، وَقَلَّتْ أُمَنَاؤُكُمْ، وَالْتُمِسَتِ الدُّنْيَا بِعَمَلِ الْآخِرَةِ، وَتُفُقِّهَ لِغَيْرِ الدِّينِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف لضعف يزيد بن أبي زياد ولكن الحديث صحيح بما سبقه
১৯২. আলকামাহ বর্ণনা করেন, আব্দুল্লাহ (ইবনু মাসউদ) রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, তোমাদের অবস্থা তখন কেমন হবে যখন ফিতনা তোমাদের আচ্ছন্ন করে ফেলবে, যার মধ্যেই বড়রা বৃদ্ধ হবে এবং ছোটরা বেড়ে উঠবে? যখন তা (ফিতনা) থেকে সামান্য কিছু পরিত্যাগ করা হবে, তখন বলা হবে, সুন্নাতকে পরিত্যাগ করা হল! তারা জিজ্ঞেস করল, এটা কখন ঘটবে? তিনি বললেন, যখন তোমাদের মধ্যকার আলিমগণ মৃত্যুবরণ করবেন এবং তোমাদের মাঝে জাহিল (মূর্খ)দের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে, তোমাদের মধ্যে কুররা বা দরবেশের সংখ্যা বেশি হবে এবং ফকীহ (বিশেষজ্ঞ আলিম) দের সংখ্যা কমে যাবে, আমীর বা নেতার সংখ্যা বেড়ে যাবে এবং আমানতদারের সংখ্যা কমে যাবে, আখিরাতের আমলের (কাজের) দ্বারা দুনিয়া (এর লাভ) অন্বেষণ করা হবে এবং দ্বীনের উদ্দেশ্যে ব্যতীত অন্য উদ্দেশ্যে গভীর জ্ঞান (ফিকহ) অর্জন করা হবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ; কেননা, ইয়াযীদ ইবনু আবী যিয়াদ যঈফ। কিন্তু হাদীসটি সহীহ পূর্ববর্তী হাদীস অনুসারে।
তাখরীজ: ইবনু ওয়াদাহ, আল বিদ’আহ, পৃ: ৮৯ এবং সংক্ষিপ্ত আকারে পৃ: ৩৪ এ; ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম, নং ১১৩৫।
أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ، حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ، قَالَ: أُنْبِئْتُ أَنَّهُ كَانَ يُقَالُ: «وَيْلٌ لِلْمُتَفَقِّهِينَ لِغَيْرِ الْعِبَادَةِ وَالْمُسْتَحِلِّينَ الحرماتِ بِالشُّبُهَاتِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف
১৯৩. আওযায়ী বলতেন, আমার নিকট বর্ণনা করা হয়েছে যে, ধ্বংস ঐসকল ব্যক্তির জন্য যারা ইবাদতের উদ্দেশ্য ব্যতীত গভীর জ্ঞানার্জন করে এবং সংশয়পূর্ণ বস্তুসমূহের মাধ্যমে হারাম বস্তুসমূহকে হালাল প্রতিপন্ন করে ।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ।
তাখরীজ: খতীব, ইকতিদাউল ইলম ওয়াল আমল, পৃ: ৭৮ নং ১১৯; দেখুন শুয়াবুল ঈমান, নং ১৯২৪-১৯২৫।
حَدَّثَنَا صَالِحُ بْنُ سُهَيْلٍ، مَوْلَى يَحْيَى بْنِ أَبِي زَائِدَةَ، ثَنَا يَحْيَى، عَنْ مُجَالِدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: «لَا يَأْتِي عَلَيْكُمْ عَامٌ إِلَّا وَهُوَ شَرٌّ مِنَ الَّذِي كَانَ قَبْلَهُ. أَمَا إِنِّي لَسْتُ أَعْنِي عَامًا أَخْصَبَ مِنْ عَامٍ، وَلَا أَمِيرًا خَيْرًا مِنْ أَمِيرٍ، وَلَكِنْ عُلَمَاؤُكُمْ وَخِيَارُكُمْ وَفُقَهَاؤُكُمْ يَذْهَبُونَ، ثُمَّ لَا تَجِدُونَ مِنْهُمْ خَلَفًا، وَيَجِيءُ قَوْمٌ يَقِيسُونَ الْأُمُورَ بِرَأْيِهِمْ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف لضعف مجالد بن سعيد
১৯৪. মাসরূক্ব হতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তোমাদের আগামী বছর গুলো বিগত বছরগুলো থেকে অবশ্যই নিকৃষ্ট হবে। জেনে রাখ, আমি এ কথার দ্বারা এটা বুঝাচ্ছি না যে, এক বছরের চেয়ে আরেক বছর অধিক উর্বর হবে এবং এক আমীর অপর আমীর থেকে উত্তম হবে। বরং আমি এ দ্বারা একথা বুঝাতে চাচ্ছি যে, তোমাদের আলিমগণ, শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ এবং ফকীহগণ মৃত্যুবরণ করবেন। অতঃপর তোমরা তাদের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার মত কাউকে পাবে না। আর এমন একটি সম্প্রদায়ের আবির্ভাব হবে যারা তাদের সকল কাজে আপন রায় (মতামত) দ্বারা কিয়াস করবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, কেননা, মুজালিদ ইবনু সাঈদ যঈফ।
তাখরীজ: আমি মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৮৫৮ তে এর পূর্ণাঙ্গ তাখরীজ করেছি। এছাড়াও, ইবনু ওয়াদাহ, আল বিদ’আ নং ৭৮, ২৪৮; খতীব, আল ফাকিহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ, ১/১৮২; ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম,, নং ২০০৭, ২০০৮, ২০০৯ ।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي خَلَفٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمٍ، قَالَ: سَمِعْتُ دَاوُدَ بْنَ أَبِي هِنْدٍ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ قَالَ: أَوَّلُ مَنْ قَاسَ إِبْلِيسُ، وَمَا عُبِدَتِ الشَّمْسُ وَالْقَمَرُ إِلَّا بِالْمَقَايِيسِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده جيد
১৯৫. ইবনু সীরীন বলেন, ইবলিসই সর্বপ্রথম কিয়াস করেছিল এবং একমাত্রnbsp; কিয়াসের ভিত্তিতেই সূর্য ও চন্দ্রের ইবাদত করা (শুরু) হয়েছিল।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জায়্যেদ (উত্তম)।
তাখরীজ: তাবারী, আত তাফসীর, ৮/১৩১; ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম, নং ১৬৭৫; খতীব, আল ফাকিহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ, নং ৫০৬; দেখুন পরবর্তী হাদীসটি।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، عَنِ ابْنِ شَوْذَبٍ، عَنْ مَطَرٍ عَنِ الْحَسَنِ أَنَّهُ تَلَا هَذِهِ الْآيَةَ (خَلَقْتَنِي مِنْ نَارٍ وَخَلَقْتَهُ مِنْ طِينٍ) [الأعراف: 12] قَالَ: «قَاسَ إِبْلِيسُ وَهُوَ أَوَّلُ مَنْ قَاسَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف من أجل محمد بن كثير ومطر
১৯৬. মাতর থেকে বর্ণিত, হাসান এ আয়াত তেলাওয়াত করলেন, (خَلَقْتَنِي مِن نَّارٍ وَخَلَقْتَهُ مِن طِينٍ) (আমাকে আপনি আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি হতে“- সূরা আল-আরাফ: ১২) তারপর তিনি বললেন, ইবলিস কিয়াস (তুলনা) করল। আর ইবলিসই সর্বপ্রথম কিয়াস করেছিল।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, এর কারণ মুহাম্মদ ইবনু কাছীর।
তাখরীজ: তাবারী, আত তাফসীর, ৮/১৩১; ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম, নং ১৬৭৪; দেখুন পূর্ববর্তী হাদীসটি।
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ مَسْرُوقٍ أَنَّهُ قَالَ: «إِنِّي أَخَافُ أَوْ أَخْشَى أَنْ أَقِيسَ، فَتَزِلَّ قَدَمِي
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
১৯৭. মাসরূক বলেন, আমি কিয়াস করতে খুব ভয় পাই বা আশঙ্কাবোধ করি এই জন্য যে, আমার পা পিছলে যায় কি-না![1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম, নং ১৬৭৬, ১৬৭৭, ১৬৭৮; খতীব, আল ফাকিহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ, নং ৪৮৯;
أَخْبَرَنَا صَدَقَةُ بْنُ الْفَضْلِ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الْأَحْمَرُ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، قَالَ: وَاللَّهِ «لَئِنْ أَخَذْتُمْ بِالْمَقَايِيسِ، لَتُحَرِّمُنَّ الْحَلَالَ، وَلَتُحِلُّنَّ الْحَرَامَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
১৯৮. শা’বী বলতেন, আল্লাহর কসম, যদি তোমরা কিয়াস করাকে অবলম্বন কর, তাহলে অবশ্যই তোমরা হালালকে হারাম এবং হারামকে হালাল বানিয়ে ফেলবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: খতীব, আল ফাকিহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ, নং ১/১৮৩, ১৮৪; ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম, নং ১৬৭৯ ঈসা হান্নাতের সনদে, ঈসা হান্নাত মাতরূক।
أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ بِشْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ عَامِرٍ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ: " مَا أَبْغَضَ إِلَيَّ أَرَأَيْتَ، أَرَأَيْتَ يَسْأَلُ الرَّجُلُ صَاحِبَهُ فَيَقُولُ: أَرَأَيْتَ وَكَانَ لَا يُقَايِسُ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :لم يحكم عليه المحقق
১৯৯. ইসমাঈল হতে বর্ণিত, আমির বলতেন: আমার নিকট সবচেয়ে ঘৃণ্য কথা হল, ‘আপনার মতামত কী-’ ‘আপনার মতামত কী’। কোন লোক তার সাথীকে কোন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে অতঃপর বলে, ‘তোমার মতামত কী?’। আর তিনি (আমির) কিয়াস করতেন না।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : (মুহাক্কিক্ব এ হাদীসের কোন হুকুম লাগাননি। তবে ইবনু বাত্তা এটি সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন বলে জানিয়েছেন। তাখরীজ দ্রষ্টব্য)
তাখরীজ: ইবনু বাত্তাহ, আল ইবানাহ, ২/৫১৭ নং ৬০৫ ও ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম নং ২০৯৫ অন্য সনদে এটি বর্ণনা করেছেন। আর এ সনদটি সহীহ।
أَخْبَرَنَا صَدَقَةُ بْنُ الْفَضْلِ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنِ الزِّبْرِقَانِ، قَالَ: «نَهَانِي أَبُو وَائِلٍ أَنْ أُجَالِسَ أَصْحَابَ أَرَأَيْتَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
২০০. যিবরিক্বান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ ওয়ায়িল আমাকে সেই সেকল লোকদের নিকট বসা হতে বারণ করেছেন, যারা (কোন বিষয়ে প্রশ্ন করে) বলে ‘আপনার মতামত কী?’।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু বাত্তাহ, আল ইবানাহ ২/৪৫১ নং ৪১৫, ৪১৬, ২/৫১৬ নং ৬০৪; ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম নং ২০৯৪।