সুনান আদ-দারিমী
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُسْلِمٍ عَنْ طَاوُسٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ شَهِدْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ وَعُثْمَانَ يُصَلُّونَ قَبْلَ الْخُطْبَةِ فِي الْعِيدِ
১৬৪২. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এবং (তারপরে) আবূ বাকর, উমার ও উছমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম)-এর সাথে (ঈদের সালাতে) উপস্থিত থেকেছি। তারা সকলেই খুতবার পূর্বে ঈদের সালাত আদায় করেছেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটি বুখারী ও মুসলিম সম্মিলিতভাবে বর্ণনা করেছেন।
তাখরীজ: বুখারী, ঈদাইন ৯৬২; মুসলিম, সালাতুল ঈদাইন ৮৮৪; আব্দুর রাযযাক নং ৬৫৩২; ইবনু হাযম, আল মুহাল্লা ৫/৫৮৮; পূর্ণ তাখরীজের জন্য পূর্বের ও পরের হাদীসটি দেখুন।
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ حَدَّثَنِي عَدِيُّ بْنُ ثَابِتٍ قَالَ سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ جُبَيْرٍ يُحَدِّثُ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ يَوْمَ الْفِطْرِ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ وَلَمْ يُصَلِّ قَبْلَهَا وَلَا بَعْدَهَا قِيلَ لِأَبِي مُحَمَّدٍ تَقُولُ بِهَذَا قَالَ لِي وَأَوْمَأَ إِي نَعَمْ
১৬৪৩. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরের দিন (ঈদের সালাতের জন্য) বের হলেন, অতঃপর দু’ রাকা’আত সালাত আদায় করলেন। আর এর পূর্বেও তিনি কোনো সালাত আদায় করেননি এবং এর পরেও নয়।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটি বুখারী ও মুসলিম সম্মিলিতভাবে বর্ণনা করেছেন।
তাখরীজ: বুখারী, ঈদাইন ৯৬৪; মুসলিম, সালাতুল ঈদাইন ৮৮৪ (১৩); পূর্বের হাদীসটি দেখুন। পূর্ণ তাখরীজের জন্য দেখুন সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৮১৮ টি।
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحَجَّاجِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَعْدِ بْنِ عَمَّارِ بْنِ سَعْدٍ الْمُؤَذِّنِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمَّارٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُكَبِّرُ فِي الْعِيدَيْنِ فِي الْأُولَى سَبْعًا وَفِي الْأُخْرَى خَمْسًا وَكَانَ يَبْدَأُ بِالصَّلَاةِ قَبْلَ الْخُطْبَةِ
১৬৪৪. আব্দুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ ইবনু আম্মারের দাদা (আম্মার বিন সা’দ) রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম দু’ ঈদের সালাতের প্রথম রাক‘আতে সাত তাকবীর এবং দ্বিতীয় রাক‘আতে পাঁচ তাকবীর দিতেন। আর তিনি খুতবার পূর্বেই সালাত আদায় করা শুরু করতেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, আব্দুর রহমান ইবনু সা’দ যঈফ হওয়ার কারণে। আমি বলি: তবে এর শাহিদ হাদীস বর্ণিত আছে আব্দুল্লাহ ইবনু আমর, আয়িশা ও আমর ইবনু আওফ হতে, যা এর সনদকে শক্তিশালী করে। আল্লাহই ভাল জানেন।
তাখরীজ: ইবনু মাজাহ, ইকামাতিস সালাত ১২৭৭।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْتَشِرِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ حَبِيبِ بْنِ سَالِمٍ عَنْ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقْرَأُ فِي الْعِيدَيْنِ وَالْجُمُعَةِ بِسَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى وَهَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ الْغَاشِيَةِ وَرُبَّمَا اجْتَمَعَا فَقَرَأَ بِهِمَا
১৬৪৫. নূমান ইবন বাশীর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দু’ ঈদের সালাতে এবং জুমু’আর সালাতে [“সাব্বি হিসমা রব্বিকাল আ’লা“-(সূরা আ’লা:১)] এবং [“হাল আতাকা হাদীছুল গশিয়াহ।“] (সূরা গশিয়াহ:১)পাঠ করতেন । রাবী বলেন, কখনো এ দু’টি (ঈদ ও জুমু-আ) একই দিনে একত্রিত হয়ে পড়লে উক্ত সূরা দু-টি উভয় সালাতে পাঠ করতেন ।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: সহীহ মুসলিম, জুমু’আহ ৮৭৮ (৬৩); এটি গত হয়েছে ১৬০৯ (অনূবাদে ১৬০৬) নং এ, সেখানে দেখুন।এছাড়াও পূর্ণ তাখরীজের জন্য সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৮২১ দেখুন।
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا سَلَمَةُ يَعْنِي ابْنَ نُبَيْطٍ حَدَّثَنِي أَبِي أَوْ نُعَيْمُ بْنُ أَبِي هِنْدٍ عَنْ أَبِي قَالَ حَجَجْتُ مَعَ أَبِي وَعَمِّي فَقَالَ لِي أَبِي تَرَى ذَلِكَ صَاحِبَ الْجَمَلِ الْأَحْمَرِ الَّذِي يَخْطُبُ ذَلِكَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
১৬৪৬. ইবনু নুবাইত ইবনু আবী হিনদ থেকে তার পিতার সূত্রে অথবা, নুয়াইম ইবনু আবী হিন্দ থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতা ও চাচার সাথে হাজ্জ করলাম। তখন আমার পিতা আমাকে বলেন, লাল উটের পিঠে আরোহনকারী এই ব্যক্তিকে দেখো! যিনি উটের পিঠে আরোহিত অবস্থায় খুতবাহ দিচ্ছেন, ইনিই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এ সনদের কতক অংশ সহীহ। সালামাহ ইবনু নুবাইত্ব সম্পর্কে বলা হয় যে, তিনি তার পিতা হতে কিছু শ্রবণ করেননি। তবে তিনি ‘ছিকাহ’ বা নির্ভরযোগ্য। এবং তিনি ‘এটি হাদ্দাছানা’ বলে বর্ণনা করেছেন। আর তিনি মুদাল্লিস হিসেবে অভিযুক্ত রাবী নন। সুতরাং “সালামাহ ইবনু নুবাইত্ব, তিনি আবী হিন্দ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি নুবাইত্ব থেকে“ এ দ্বিতীয় সনদটি মুত্তাসিলের মধ্যে অতিরিক্ত। আল্লাহই ভাল জানেন।
তাখরীজ: আহমাদ ৪/৩০৫; ইবনু মাজাহ, ইকামাতিস সালাত ১২৮৬; নাসাঈ, মানাসিক ৫/২৫৩; বুখারী, তারীখূল কাবীর ৪/২/১৩৭; ইবনু কানি’, মু’জামুল সাহাবাহ ১১৪৪; আবূ দাউদ, মানাসিক ১৯১৬ জাহালতপূর্ণ সনদে; আবূ দাউদের সনদে ইবনু কাছীর, আল বিদা’আ ৫/১৭১।
أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ الصَّمَدِ عَنْ هِشَامٍ عَنْ حَفْصَةَ عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ قَالَتْ أَمَرَنَا بِأَبِي هُوَ أَنْ نُخْرِجَ يَوْمَ الْفِطْرِ وَيَوْمَ النَّحْرِ الْعَوَاتِقَ وَذَوَاتِ الْخُدُورِ فَأَمَّا الْحُيَّضُ فَإِنَّهُنَّ يَعْتَزِلْنَ الصَّفَّ وَيَشْهَدْنَ الْخَيْرَ وَدَعْوَةَ الْمُسْلِمِينَ قَالَتْ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لِإِحْدَاهُنَّ الْجِلْبَابُ قَالَ تُلْبِسُهَا أُخْتُهَا مِنْ جِلْبَابِهَا
১৬৪৭. উম্মে আতিয়্যা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, তিনি (নবী) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- আমার পিতা তাঁর জন্য কুরবান হোন- আমাদেরকে ঈদুল ফিতরের দিন এবং কুরবানীর ঈদের সালাতের জন্য বের করতে আদেশ করেছেন। বয়স্কা ও পর্দানশীল নির্বিশেষে সবার জন্য এ আদেশ। তবে ঋতুমতী মহিলারা কাতার (ঈদের সালাত) হতে দূরে থাকবে কিন্তু ‘কল্যাণ ও মুসলিমদের দু’আতে অংশগ্রহণ করবে।“ আমি আরয করলাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ! যদি আমাদের কারো ওড়না থাকে না (সে কি করবে?) তিনি বললেন, “নিজের ওড়নার ভেতরে তার বোনকে নিয়ে (ওড়না পরিধানে) শরীক করবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটি বুখারী ও মুসলিম সম্মিলিতভাবে বর্ণনা করেছেন।
তাখরীজ: বুখারী, হায়েয ৩২৪; মুসলিম, সালাতুল ঈদাইন ৮৯০; ইবনু খুযাইমা নং ১৪৬৬; ইবনু আবী শাইবা ২/১৮২; বাইহাকী, ঈদাইন ৩/৩০৫, ৩০৬; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৮১৬, ২৮১৭ তে।
أَخْبَرَنَا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ جَابِرٍ قَالَ شَهِدْتُ الصَّلَاةَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي يَوْمِ عِيدٍ فَبَدَأَ بِالصَّلَاةِ قَبْلَ الْخُطْبَةِ ثُمَّ قَامَ مُتَوَكِّئًا عَلَى بِلَالٍ حَتَّى أَتَى النِّسَاءَ فَوَعَظَهُنَّ وَذَكَّرَهُنَّ وَأَمَرَهُنَّ بِتَقْوَى اللَّهِ قَالَ تَصَدَّقْنَ فَذَكَرَ شَيْئًا مِنْ أَمْرِ جَهَنَّمَ فَقَامَتْ امْرَأَةٌ مِنْ سَفِلَةِ النِّسَاءِ سَفْعَاءُ الْخَدَّيْنِ فَقَالَتْ لِمَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ لِأَنَّكُنَّ تُفْشِينَ الشَّكَاءَ وَاللَّعْنَ وَتَكْفُرْنَ الْعَشِيرَ فَجَعَلْنَ يَأْخُذْنَ مِنْ حُلِيِّهِنَّ وَأَقْرَاطِهِنَّ وَخَوَاتِيمِهِنَّ يَطْرَحْنَهُ فِي ثَوْبِ بِلَالٍ يَتَصَدَّقْنَ بِهِ
১৬৪৮. জাবির ইবন আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে ঈদের দিন সালাতে উপস্থিত ছিলাম। তিনি খুতবার পূর্বে প্রথমে সালাত আরম্ভ করলেন। তারপর তিনি বিলালের গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়ালেন। এরপর মহিলাদের নিকট গেলেন এরপর তাদের উদ্দেশ্যে ওয়ায-নসীহত করলেন এবং তাদেরকে তাকওয়া অবলম্বনের নির্দেশ দিয়ে বললেন, “তোমরা সাদাকা কর।“ এরপর তিনি তাদেরকে জাহান্নামের কোনো একটি বিষয় বর্ণনা করলেন। তখন মহিলাদের মধ্যে থেকে একজন মহিলা উঠে দাঁড়াল যার উভয় গালে কিছু কালো দাগ ছিল। সে বলল, ইয়া রাসুলুল্লাহ! তা কেন? তিনি বললেন, “তোমরা অধিক হারে অভিযোগ করে থাকো এবং লা’নত (অভিশাপ) দিয়ে থাকো এবং স্বামীদের উপকার অস্বীকার কর।“ (রাবী বলেন), তখন মহিলাগণ সাদাকা স্বরূপ তাদের অলংকারাদি- তাদের কানের দুল, তাদের আংটি ইত্যাদি খুলে বিলাল (রাঃ) এর কাপড়ে ছুঁড়ে ফেলতে আরম্ভ করল।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: এটি সংক্ষিপ্ত আকারে ১৬৪৩ (অনূবাদে ১৬৩৯ ) নং এ গত হয়েছে। পূর্ণ তাখরীজ দেখুন সেখানে।
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَحْوَ هَذَا
১৬৪৯. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে এর অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: এটি ১৬৪৬ (অনূবাদে ১৬৪২ ) নং এ গত হয়েছে। দেখুন, সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৮১৮; মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবা ২/১৮৮।
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ إِسْرَائِيلَ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ الْمُغِيرَةِ عَنْ إِيَاسِ بْنِ أَبِي رَمْلَةَ قَالَ شَهِدْتُ مُعَاوِيَةَ يَسْأَلُ زَيْدَ بْنَ أَرْقَمَ أَشَهِدْتَ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عِيدَيْنِ اجْتَمَعَا فِي يَوْمٍ قَالَ نَعَمْ قَالَ فَكَيْفَ صَنَعَ قَالَ صَلَّى الْعِيدَ ثُمَّ رَخَّصَ فِي الْجُمُعَةِ فَقَالَ مَنْ شَاءَ أَنْ يُصَلِّيَ فَلْيُصَلِّ
১৬৫০. ইয়াস ইবনু আবী রামলা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মুয়াবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু’র নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি যাইদ ইবনু আরক্বাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কি এমন দিনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে উপস্থিত ছিলেন যেদিন একই দিনে দু’ঈদ (অর্থাৎ ঈদ ও জুম’আ) একত্রিত হয়েছিল? তিনি বললেন, হাঁ। তখন তিনি পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন, সেদিন তিনি কী করেছিলেন? তিনি বলেন, তিনি ঈদের সালাত আদায় করেছিলেন এবং জুম’আর ব্যাপারে ছাড় দিয়েছিলেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন: “যে (জুমু’আর) সালাত আদায় করতে চায়, সে আদায় করুক, (যে না চায়, সে না করুক)।“ [1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ (উত্তম)।
তাখরীজ: আল ফাসাওয়ী, আল মা’রিফাতু ওয়াত তারীখ ১/৩০৩; তার সূত্রে বাইহাকী, সালাতুল ঈদাইন ৩/৩১৭; তায়ালিসী, মানিহাতুল মা’বূদ ১/১৪৫-১৪৬ নং ৭০৪; তার সূত্রে তাহাবী, মুশকিলিল আছার ২/৫৩; আহমাদ ৪/৩৭২; ইবনু আবী শাইবা ২/১৮৮; আবূ দাউদ, সালাত ১০৭০; নাসাঈ, সালাতুল ঈদাইন ৩/১৯৪; ইবনু মাজাহ, ইকামাতিস সালাত ১৩১০; হাকিম, আল মুসতাদরাক ১/২৮৮; হাকিম বলেন: এ হাদীসের সনদ সহীহ যদিও তা তারা উভয়ে বর্ণনা করেননি।’ যাহাবী তার মত সমর্থন করেছেন।
আমরা বলছি: এর অনেকগুলি শাহিদ হাদীস রয়েছে, যা এক শক্তিশালী ও সহীহ পর্যায়ে উন্নীত করবে। আল্লাহই ভাল জানেন।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّلْتِ حَدَّثَنَا فُلَيْحٌ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْحَارِثِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا خَرَجَ إِلَى الْعِيدِ رَجَعَ فِي طَرِيقٍ آخَرَ
১৬৫১. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদের (মাঠের) উদ্দেশ্যে (এক রাস্তা দিয়ে) গমণ করেছিলেন আর অন্য রাস্তা দিয়ে ফিরে এসেছিলেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৮১৫; মাওয়ারিদুয যাম্’আন নং ৫৯২ তে। আর এর শাহিদ হাদীস জাবির রা: হতে বুখারী, ঈদাইন ৯৮৬ তে বর্ণিত হয়েছে।
((তিরমিযী, সালাত ৫৪১; হাকিম, আল মুসতাদরাক ১/২৯৬ হাকিম একে সহীহ বলেছেন, এবং যাহাবী তা সমর্থন করেছেন; আবূ দাউদ, সালাত ১১৫৬।- ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীক্বকৃত দারেমী নং ১৬১৩।-অনুবাদক))
حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ زَكَرِيَّا بْنِ إِسْحَقَ عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ صَيْفِيٍّ عَنْ أَبِي مَعْبَدٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا بَعَثَ مُعَاذًا إِلَى الْيَمَنِ قَالَ إِنَّكَ تَأْتِي قَوْمًا أَهْلَ كِتَابٍ فَادْعُهُمْ إِلَى أَنْ يَشْهَدُوا أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ فَإِنْ أَطَاعُوا لَكَ فِي ذَلِكَ فَأَخْبِرْهُمْ أَنَّ اللَّهَ فَرَضَ عَلَيْهِمْ خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِي كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوا لَكَ فِي ذَلِكَ فَأَخْبِرْهُمْ أَنَّ اللَّهَ فَرَضَ عَلَيْهِمْ صَدَقَةً فِي أَمْوَالِهِمْ تُؤْخَذُ مِنْ أَغْنِيَائِهِمْ وَتُرَدُّ عَلَى فُقَرَائِهِمْ فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوا لَكَ فِي ذَلِكَ فَإِيَّاكَ وَكَرَائِمَ أَمْوَالِهِمْ وَإِيَّاكَ وَدَعْوَةَ الْمَظْلُومِ فَإِنَّهُ لَيْسَ لَهَا مِنْ دُونِ اللَّهِ حِجَابٌ
১৬৫২. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি zwj;ওয়া সাল্লাম মু‘আয রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে (শাসকরূপে) ইয়ামান অভিমুখে প্রেরণকালে বলেন, “তুমি আহলে কিতাব সম্প্রদায়ের নিকট যাচ্ছো। ফলে তুমি তাদেরকে ’আল্লাহ ব্যতিত কোন ইলাহ নেই এবং আমি (মুহাম্মদ) (সাল্লাল্লাহু আলাইহি zwj;ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রাসূল’- এ কথার সাক্ষ্যদানের জন্য আহবান করবে। তারা যদি তোমার এ কথা মেনে নেয়, তাহলে তাদেরকে জানিয়ে দিবে, আল্লাহ তাদের উপর প্রতি দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন। তারা যদি তোমার এ কথা মেনে নেয়, তবে তাদেরকে জানিয়ে দিবে, আল্লাহ তাদের সম্পদে সাদাকা (যাকাত) ফরয করেছেন। তা (যাকাত) তাদের মধ্যকার (নিসাব পরিমাণ) সম্পদশালীদের নিকট থেকে আদায় করা হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। তারা যদি তোমার এ কথা মেনে নেয়, তবে তুমি তাদের ভাল ভাল মাল গ্রহণ করা হতে বিরত থাকবে। আর তুমি আত্মরক্ষা করবে মাযলুমের দু’আ থেকে। কেননা, তা এবং আল্লাহর মাঝে কোনো পর্দা থাকে না।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম সম্মিলিতভাবে বর্ননা করেছেন।
তাখরীজ: বুখারী, যাকাত ১৩৯৫; মুসলিম, ঈমান ১৯; এটি সামনে ১৬৭১ নং এও আসছে।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৫৬, ২৪১৯ নং এ।
أَخْبَرَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يُحَدِّثُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ لَيْسَ الْمِسْكِينُ الَّذِي تَرُدُّهُ اللُّقْمَةُ وَاللُّقْمَتَانِ وَالْكِسْرَةُ وَالْكِسْرَتَانِ وَالتَّمْرَةُ وَالتَّمْرَتَانِ وَلَكِنْ الْمِسْكِينُ الَّذِي لَيْسَ لَهُ غِنًى يُغْنِيهِ يَسْتَحْيِي أَنْ يَسْأَلَ النَّاسَ إِلْحَافًا أَوْ لَا يَسْأَلُ النَّاسَ إِلْحَافًا
১৬৫৩. আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “এক দু’ লোকমা খাদ্য, দু’-এক টুকরো রুটি ও দু’ একটা খেজুরের জন্য যাকে (দ্বারে দ্বারে) ঘুরতে হয়, সে মিসকীন নয় বরং (প্রকৃত) মিসকীন হল সেই ব্যক্তি যার (মৌলিক) প্রয়োজন পূরণের মতো স্বচ্ছলতা/সম্পদ নেই। আবার মানুষের কাছে অনুনয় বিনয় করে চাইতেও সে লজ্জা বোধ করে, অথবা, মানুষের কাছে অনুনয় বিনয় করে কিছু চায় না।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: zwj;বুখারী, যাকাত ১৪৭৬; মুসলিম , যাকাত, ১০৩৯;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৫৬, ২৪১৯ নং এ।
أَخْبَرَنَا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا مِنْ صَاحِبِ إِبِلٍ وَلَا بَقَرٍ وَلَا غَنَمٍ لَا يُؤَدِّي حَقَّهَا إِلَّا أُقْعِدَ لَهَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِقَاعٍ قَرْقَرٍ تَطَؤُهُ ذَاتُ الظِّلْفِ بِظِلْفِهَا وَتَنْطَحُهُ ذَاتُ الْقَرْنِ بِقَرْنِهَا لَيْسَ فِيهَا يَوْمَئِذٍ جَمَّاءُ وَلَا مَكْسُورَةُ الْقَرْنِ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا حَقُّهَا قَالَ إِطْرَاقُ فَحْلِهَا وَإِعَارَةُ دَلْوِهَا وَمِنْحَتُهَا وَحَلَبُهَا عَلَى الْمَاءِ وَحَمْلٌ عَلَيْهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ
১৬৫৪. জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে উট, গরু ও ছাগলের মালিক তার হক্ব আদায় করে না, কিয়ামতের দিন সে তাকে এক প্রশস্ত সমতল ভূমিতে বসান হবে । এরপর খূর বিশিষ্ট পশুগুলি তাকে স্বীয় খূর দ্বারা দলিত করতে থাকবে এবং শিংবিশিষ্ট পশুগুলি তাকে স্বীয় শিং দ্বারা আঘাত করতে থাকবে । সেদিন এদের মধ্যে শিংবিহীন এবং শিং ভাঙ্গা কোন পশু থাকবে না।“ তাঁরা বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! এগুলির হক্ক কি? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “এদের মধ্যকার পুরুষগুলিকে (মাদীগুলির) পাল নেওয়ার জন্য দেয়া, এদের পাত্রগুলি (পানি উঠাবার জন্য অন্যকে) ধার দেওয়া, দুগ্ধবতী উটনী অন্যকে দুধপানের জন্য দেয়া, পানি পান করানোর শর্তে এর দুধ দোহন করতে দেওয়া এবং আল্লাহর পথে এদের উপর (লোকদেরকে) পরিবহণ করা।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৩/২১৩; ইবনু আব্দুল বারর, আত তামহীদ ৪/২১৪; মুসলিম, যাকাত ৯৮৮ (২৮); পূর্ণ তাখরীজের জন্য পরবর্তী হাদীসটি দেখুন।
حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْحَكَمِ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَا مِنْ صَاحِبِ إِبِلٍ لَا يَفْعَلُ فِيهَا حَقَّهَا إِلَّا جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَكْثَرُ مَا كَانَتْ قَطُّ وَأُقْعِدَ لَهَا بِقَاعٍ قَرْقَرٍ تَسْتَنُّ عَلَيْهِ بِقَوَائِمِهَا وَأَخْفَافِهَا وَلَا صَاحِبِ بَقَرٍ لَا يَفْعَلُ فِيهَا حَقَّهَا إِلَّا جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَكْثَرُ مَا كَانَتْ قَطُّ وَأُقْعِدَ لَهَا بِقَاعٍ قَرْقَرٍ تَنْطَحُهُ بِقُرُونِهَا وَتَطَؤُهُ بِقَوَائِمِهَا وَلَا صَاحِبِ غَنَمٍ لَا يَفْعَلُ فِيهَا حَقَّهَا إِلَّا جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَكْثَرُ مَا كَانَتْ وَأُقْعِدَ لَهَا بِقَاعٍ قَرْقَرٍ تَنْطَحُهُ بِقُرُونِهَا وَتَطَؤُهُ بِأَظْلَافِهَا لَيْسَ فِيهَا جَمَّاءُ وَلَا مَكْسُورَةٌ قَرْنُهَا وَلَا صَاحِبِ كَنْزٍ لَا يَفْعَلُ فِيهِ حَقَّهُ إِلَّا جَاءَ كَنْزُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ شُجَاعًا أَقْرَعَ يَتْبَعُهُ فَاتِحًا فَاهُ فَإِذَا أَتَاهُ فَرَّ مِنْهُ فَيُنَادِيهِ خُذْ كَنْزَكَ الَّذِي خَبَّأْتَهُ قَالَ فَأَنَا عَنْهُ غَنِيٌّ فَإِذَا رَأَى أَنَّهُ لَا بُدَّ مِنْهُ سَلَكَ يَدَهُ فِي فَمِهِ فَيَقْضِمُهَا قَضْمَ الْفَحْلِ قَالَ أَبُو الزُّبَيْرِ سَمِعْتُ عُبَيْدَ بْنَ عُمَيْرٍ يَقُولُ هَذَا الْقَوْلَ ثُمَّ سَأَلْنَا جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ فَقَالَ مِثْلَ قَوْلِ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ قَالَ وَقَالَ أَبُو الزُّبَيْرِ سَمِعْتُ عُبَيْدَ بْنَ عُمَيْرٍ يَقُولُ قَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا حَقُّ الْإِبِلِ قَالَ حَلَبُهَا عَلَى الْمَاءِ وَإِعَارَةُ دَلْوِهَا وَإِعَارَةُ فَحْلِهَا وَمَنْحُهَا وَحَمْلٌ عَلَيْهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ
১৬৫৫. জাবির ইবন আব্দুল্লাহ আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি, “যে উটের মালিক তারহক্ক আদায় করবে না, কিয়ামতের দিন সে উট পুর্বের চেয়ে অধিক মোটাতাজা হয়ে মালিকের নিকট উপস্থিত হবে। এরপর তাকে একটি প্রশস্ত সমতল মাঠে বসানো হবে এবং ঐ উট তার পা ও খুরের দ্বারা তাকে পদদলিত করবে। আর কোন গরুর মালিক তার হক্ক আদায় না করলে কিয়ামতের দিন সে গরু পূর্বের চেয়ে ও অধিক মোটা-তাজা অবস্থায় মালিকের নিকট উপস্থিত হবে। এরপর তাকে এক প্রশস্ত সমতল প্রান্তরে বসানো হবে এবং সে গরু তাকে শিং দ্বারা গুতাবে ও খুর দ্বারা পদদলিত করতে থাকবে। আর কোন ছাগলের মালিক তার হক্ক আদায় না করলে কিয়ামতের দিন সে ছাগল পূর্বের চেয়ে ও অধিক মোটা-তাজা অবস্থায় মালিকের নিকট উপস্থিত হবে।
এরপর তাকে এক প্রশস্ত সমতল প্রান্তরে বসানো হবে এবং সে ছাগল তাকে শিং দ্বারা গুতাবে ও খুর দ্বারা পদদলিত করতে থাকবে। সেদিন এ ছাগল সমুহে কোনটি শিংবিহীন এবং শিংভাঙ্গা হবে না। আর যদি সোনা-রুপা সঞ্চয়কারী কোন ব্যক্তি এর হক আদায় না করে, তবে তার এ সঞ্চিত ধনরাশি কিয়ামতের দিন টাক মাথাওয়ালা বিষধর সাপরুপে মালিকের নিকট উপস্থিত হবে এবং মুখ হা করে তার পিছু ধাওয়া করবে। যখন সে সাপ তার নিকট আসবে তখন সে এর থেকে পালাবে। তখন সে তাকে ডেকে বলবে, তুমি তোমার সঞ্চয় গ্রহণ কর, যা তুমি লুকিয়ে রেখেছিলে।
তখন সে বলবে: আমার তার কোন প্রয়োজন নেই। আর মালিক যখন দেখবে যে, এর থেকে বাঁচবার কোন উপায় নেই তখন সে সাপটির মুখে হাত ঢুঁকিয়ে দিবে। এর পর সাপটি তার হাতকে ষাঁড়ের মত কামড় দিয়ে ধরবে।“
আবু যুবাইর রাহি. বলেন, আমি উবাইদ ইবন উমাইর (রাহি)-কে এ কথা বলতে শুনেছি । এর পর আমি জাবির ইবন আব্দুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-কে এ সস্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম তিনিও উবাইদ ইবন উমাইর (রা-)-এর অনুরূপ বললেন। তিনি বলেন, আবু যুবাইর (র) বলেন, আমি উবাইদ ইবন উমাইরকে বলতে শুনেছি, এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল, ইয়া রাসুলুল্লাহ! উটের হক্ব কি? তিনি বললেন, এর হক্ক হল, “পানি পান করানোর শর্তে এর দুধ দোহন করতে দেওয়া, এদের পাত্রগুলি (পানি উঠাবার জন্য অন্যকে) ধার দেওয়া, এদের মধ্যকার পুরুষগুলিকে (মাদীগুলির) পাল নেওয়ার জন্য দেয়া, দুগ্ধবতী উটনী (অন্যকে দুধপানের জন্য) দেয়া এবং আল্লাহর পথে এদের উপর (লোকদেরকে) পরিবহণ করা।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ৬৮৫৯, ৬৮৬৬; তার সূত্রে মুসলিম, যাকাত ৯৮৮; ইবনুল জারূদ, আল মুনতাক্বা নং ৩৩৫; আরো দেখুন, আগের টীকাটি দেখুন। আরও দেখুন, ইবনু হাযম, আল মুহাল্লা ৬/৮০; নিসবুর রায়াহ ৪/৪০৯; আমার তাহক্বী্ক্বকৃত মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৪৪০১ ও এর পরবর্তী হাদীসটি যা অত্র হাদীসের দু’টি শাহিদ হাদীস। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩২৫৫। এবং পরবর্তী হাদীসটিও দেখুন।
أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ الرَّبِيعِ حَدَّثَنَا أَبُو الْأَحْوَصِ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ الْمَعْرُورِ بْنِ سُوَيْدٍ عَنْ أَبِي ذَرٍّ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِبَعْضِ هَذَا الْحَدِيثِ
১৬৫৬. আবী যারর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে এ হাদীসের কোনো কোনো অংশ বর্ণনা করেছেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম সম্মিলিতভাবে বর্ণনা করেছেন।
তাখরীজ: zwj;বুখারী, যাকাত ১৪৬০; মুসলিম , যাকাত, ৯৯০;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩২৫৬ নং এ।
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ الْمُبَارَكِ حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ الْعَوَّامِ وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ صَدَقَةَ عَنْ سُفْيَانَ بْنِ حُسَيْنٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَتَبَ الصَّدَقَةَ فَكَانَ فِي الْغَنَمِ فِي كُلِّ أَرْبَعِينَ سَائِمَةً شَاةٌ إِلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ فَإِذَا زَادَتْ فَفِيهَا شَاتَانِ إِلَى مِائَتَيْنِ فَإِذَا زَادَتْ فَفِيهَا ثَلَاثُ شِيَاهٍ إِلَى ثَلَاثِ مِائَةٍ فَإِذَا زَادَتْ شَاةً لَمْ يَجِبْ فِيهَا إِلَّا ثَلَاثُ شِيَاهٍ حَتَّى تَبْلُغَ أَرْبَعَ مِائَةٍ فَإِذَا بَلَغَتْ أَرْبَعَ مِائَةِ شَاةٍ فَفِي كُلِّ مِائَةٍ شَاةٌ وَلَا تُؤْخَذُ فِي الصَّدَقَةِ هَرِمَةٌ وَلَا ذَاتُ عَوَارٍ وَلَا ذَاتُ عَيْبٍ
১৬৫৭. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, সাদকা (যাকাত) প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি ফরমান (অধ্যাদেশ) লিখালেন। (তাতে লেখা ছিল:) ছাগলের যাকাত হলঃ মুক্তভাবে বিচরণশীল প্রতি চল্লিশটি হতে একশত বিশটি পর্যন্ত ছাগলের জন্য একটি ছাগল; এর বেশি হলে দু’শত পর্যন্ত দু’টি ছাগল; এর বেশি হলে তিনশত পর্যন্ত ছাগলের জন্য তিনটি ছাগল; তারপর ছাগলের সংখ্যা বেশি হলেও আবার চারশত পর্যন্ত না পৌঁছানো পর্যন্ত এতে (বাড়তি ছাগলগুলির জন্য) তিনটি ছাগলের অধিক কোন কিছুই ওয়াজিব হবে না। এরপর ছাগলের সংখ্যা চারশতে পৌঁছালে প্রতি একশত ছাগলের জন্য একটি করে ছাগল (যাকাত দিতে হবে)। যাকাতে বৃদ্ধ এবং খুঁত ও ত্রুটিযুক্ত পশু গ্রহণ করা হবে না।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদে সুফিয়ান ইবনু হুসাইন রয়েছে যে যুহুরী হতে বর্ণনা করেছেন। ইবনু হিব্বান বলেছেন: যুহুরী হতে তার বর্ণনাসমূহে সংমিশ্রণ রয়েছে। …. যুহুরী ব্যতীত অন্যান্যদের থেকে তার বর্ণনা নির্ভরযোগ্য। তবে কতকগুলি শাহিদ হাদীস থাকার কারণে হাদীসটি সহীহ।
তাখরীজ: দেখুন, মুসনাদুল হুমাইদী নং ১২৭; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩২৬৬ (মুহাক্কিক্বের টীকাগুলি-অনুবাদক)। আমার এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৪৭০ তে। সামনে ১৬৬৬, ১৬৬৭ তেও এর কিছু অংশ আসছে।
((আবু দাউদ, যাকাত ১৫৬৮-১৫৬৯; তিরমিযী, যাকাত ৬২১; ইবনু মাজাহ , যাকাত ১৮০৫; দারুকুতনী, যাকাত ৪ ১১৬/২- ফাওয়ায আহমাদের তাহক্বীক্বকৃত দারেমী নং ১৬২০ এর টীকা হতে। - অনুবাদক))
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ مُوسَى حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ دَاوُدَ الْخَوْلَانِيِّ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَتَبَ إِلَى أَهْلِ الْيَمَنِ مَعَ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ مِنْ مُحَمَّدٍ النَّبِيِّ إِلَى شُرَحْبِيلَ بْنِ عَبْدِ كُلَالٍ وَالْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ كُلَالٍ وَنُعَيْمِ بْنِ عَبْدِ كُلَالٍ فِي أَرْبَعِينَ شَاةً شَاةٌ إِلَى أَنْ تَبْلُغَ عِشْرِينَ وَمِائَةٍ فَإِذَا زَادَتْ عَلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ وَاحِدَةً فَفِيهَا شَاتَانِ إِلَى أَنْ تَبْلُغَ مِائَتَيْنِ فَإِذَا زَادَتْ وَاحِدَةً فَفِيهَا ثَلَاثَةٌ إِلَى أَنْ تَبْلُغَ ثَلَاثَ مِائَةٍ فَمَا زَادَ فَفِي كُلِّ مِائَةِ شَاةٍ شَاةٌ
১৬৫৮. আমর ইবনু হাযম তার পিতার সূত্রে তার দাদা হতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমর ইবনু হাযমের মারফত ইয়ামানবাসীর নিকট একটি ফরমান (অধ্যাদেশ) লিখে পাঠালেন। (যাতে ছিল:) “পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে’। নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পক্ষ হতে শুরাহবীল ইবনু আব্দি কালাল, হারিছ ইবনু আব্দি কালাল এবং নু’আইম ইবনু আব্দি কালালের প্রতি। প্রতি চল্লিশটি ছাগল হতে একশত বিশটি পর্যন্ত ছাগলের জন্য একটি ছাগল; একশ’ বিশটি হতে একটি ছাগলও বেশি হলে দু’শত পর্যন্ত তা হতে দু’টি ছাগল; এর থেকে একটি মাত্র ছাগল বেশি হলেও তা হতে তিনশত পর্যন্ত ছাগলের জন্য তিনটি ছাগল; এরপর ছাগলের সংখ্যা বেশি হলে এতে প্রতি একশত ছাগলের জন্য একটি করে ছাগল (যাকাত দিতে হবে)।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। আমরা এর যঈফ হওয়ার কারণ বর্ণনা করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং৬৫৫৯ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৭৯৩ তে।
তাখরীজ: এটি সামনে ১৬৬২, ১৬৬৮, ১৬৭১, ১৬৭৫ (অনূবাদে ১৬৫৮, ১৬৬৪, ১৬৬৭, ১৬৭১) নং এ আসছে।
((তাখরীজের জন্য পরবর্তী হাদীসটি দেখুন।– অনুবাদক))
حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْحَكَمِ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَتَبَ لَهُمْ كِتَابًا فَذَكَرَ نَحْوَهُ
১৬৫৯. (অপর সনদে) আমর ইবনু হাযম তার পিতার সূত্রে তার দাদা হতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের নিকট একটি ফরমান (অধ্যাদেশ) লিখে পাঠালেন। এরপর তিনি অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এটি আগের হাদীসের পূণরাবৃত্তি। (তথা যঈফ)
তাখরীজ: ((নাসাঈ, কাসামাহ নং ৪৮৫৩, ৪৮৫৭; দারুকুতনী ১/১২২, ২/২৮৫; বাইহাকী, আল কুবরা ১/৮৭-৮৮, ৪/৮৯, ৮/২৫, ২৮, ৭৩, ৭৯, ৮১, ৮৮, ৯৫, ৯৭; খিলাফিয়াত নং ২৯৭; খতীব, তারীখ ৮/২২৮; ইবনু আদী, আল কামিল ৩/১১২৩-১১২৪; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ২৫৩৮; ও মাসাইলু ইমাম আহমদ নং ৭৩, ৯৯; তাবারাণী, (সম্ভবত)কাবীর; তার সূত্রে মিযযী, তাহযীব ১১/৪১৯; লালিকাঈ, শারহু উসূলুল ই’তিক্বাদ নং ৫৭১; ইবনু হিব্বান যেমন আল ইহসানে রয়েছে ৬৫৫৯ নং এ; মালিক, মুয়াত্তা; শাফিঈ, আল মুসনাদ নং ৩৬৩; আবী দাউদ, আল মারাসীল নং ২২৬; ইবনুল জারুদ, আল মুনতাক্বা নং ৭৮৪, ৭৮৬; ইবনু খুযাইমা নং ২২৬৯; হাকিম, আল মুসতাদরাক ১/৩৯৫…। -ফাতহুল মান্নান, হা/১৭৪৪, ১৭৪৫ এর টীকা হতে। (অনুবাদক)))
حَدَّثَنَا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ شَقِيقٍ عَنْ مَسْرُوقٍ وَالْأَعْمَشُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ قَالَا قَالَ مُعَاذٌ بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى الْيَمَنِ فَأَمَرَنِي أَنْ آخُذَ مِنْ كُلِّ أَرْبَعِينَ بَقَرَةً مُسِنَّةً وَمِنْ كُلِّ ثَلَاثِينَ تَبِيعًا أَوْ تَبِيعَةً
১৬৬০. মু’আয রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইয়ামান অভিমূখে পাঠানোর সময় নির্দেশ দিলেন যে, আমি যেন প্রত্যেক চল্লিশটি গরু থেকে একটি (তৃতীয় বছরে পদার্পণকারিণী[1]) বাছুর এবং প্রত্যেক ত্রিশটি গরু থেকে একটি (পূর্ণ এক বছর বয়সী) এঁড়ে বা বকনা বাছুর (যাকাত) আদায় করি।[2]
[1] ((মুহাক্বিক্বের টীকা হতে- অনুবাদক।))
[2] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : মাসরূক্ব এর সনদে এটি সহীহ, তবে ইবরাহীম এর সনদে এটি মাকতু’ (ছিন্নসূত্র)।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৮৮৬ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৭৯৪ তে। পরবর্তী হাদীসটিও দেখুন।
তবে এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ থেকে, যার পূর্ণ তাখরীজ আমরা দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫০১৬ তে।
أَخْبَرَنَا عَاصِمُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ مُعَاذٍ قَالَ بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى الْيَمَنِ فَأَمَرَنِي أَنْ آخُذَ مِنْ الْبَقَرِ مِنْ ثَلَاثِينَ تَبِيعًا حَوْلِيًّا وَمِنْ أَرْبَعِينَ بَقَرَةً مُسِنَّةً
১৬৬১. মাসরূক্ব রাহি. হতে (অপর সনদে), তিনি মু’আয রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে, তিনি বলেন, আমাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইয়ামান অভিমূখে পাঠানোর সময় নির্দেশ দিলেন যে, আমি যেন প্রত্যেক চল্লিশটি গরু থেকে একটি (তৃতীয় বছরে পদার্পণকারিণী) বাছুর এবং প্রত্যেক ত্রিশটি গরু থেকে একটি পূর্ণ এক বছর বয়সী এঁড়ে বাছুর (যাকাত) আদায় করি।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।