হাদীস বিএন


সুনান আদ-দারিমী





সুনান আদ-দারিমী (1661)


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَيَّاشٍ بِنَحْوِهِ




১৬৬২. আবী বাকর ইবনু আইয়্যাশ রাহি. হতেও অনুরূপ বর্ণিত আছে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।

তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।









সুনান আদ-দারিমী (1662)


أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ الْمُبَارَكِ حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ الْعَوَّامِ وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ صَدَقَةَ عَنْ سُفْيَانَ بْنِ حُسَيْنٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَتَبَ الصَّدَقَةَ فَلَمْ تُخْرَجْ إِلَى عُمَّالِهِ حَتَّى قُبِضَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا قُبِضَ أَخَذَهَا أَبُو بَكْرٍ فَعَمِلَ بِهَا مِنْ بَعْدِهِ فَلَمَّا قُبِضَ أَبُو بَكْرٍ أَخَذَهَا عُمَرُ فَعَمِلَ بِهَا مِنْ بَعْدِهِمَا وَلَقَدْ قُتِلَ عُمَرُ وَإِنَّهَا لَمَقْرُونَةٌ بِسَيْفِهِ أَوْ بِوَصِيَّتِهِ وَكَانَ فِي صَدَقَةِ الْإِبِلِ فِي كُلِّ خَمْسٍ شَاةٌ إِلَى خَمْسٍ وَعِشْرِينَ فَإِذَا بَلَغَتْ خَمْسًا وَعِشْرِينَ فَفِيهَا بِنْتُ مَخَاضٍ إِلَى خَمْسٍ وَثَلَاثِينَ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ بِنْتُ مَخَاضٍ فَابْنُ لَبُونٍ ذَكَرٌ فَإِذَا زَادَتْ فَفِيهَا بِنْتُ لَبُونٍ إِلَى خَمْسٍ وَأَرْبَعِينَ فَإِذَا زَادَتْ فَفِيهَا حِقَّةٌ إِلَى سِتِّينَ فَإِذَا زَادَتْ فَفِيهَا جَذَعَةٌ إِلَى خَمْسٍ وَسَبْعِينَ فَإِذَا زَادَتْ فَفِيهَا بِنْتَا لَبُونٍ إِلَى تِسْعِينَ فَإِذَا زَادَتْ فَفِيهَا حِقَّتَانِ إِلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ فَإِذَا زَادَتْ فَفِيهَا فِي كُلِّ خَمْسِينَ حِقَّةٌ وَفِي كُلِّ أَرْبَعِينَ بِنْتُ لَبُونٍ




১৬৬৩. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাদাকা (যাকাত) প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম (একটি ফরমান বা অধ্যাদেশ) লিখালেন। তাঁর কর্মচারিদের নিকটে পাঠানোর আগেই তিনি মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পর আবূ বাকার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তা গ্রহণ করেন এবং তাঁর পরে তিনি তা কার্যকর করেন। এরপর যখন আবূ বাকার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুও মারা যান, তখন উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তা গ্রহণ করেন ও তাঁদের উভয়ের পরে তিনি সে অনুযায়ী কাজ করেন। তারপর তিনি নিহত হন। আর তিনি এটা নিজের তরবারি কিংবা ওয়াসীয়াতের সাথে রেখেছিলেন। তাতে উটের সাদাকা (যাকাত)-এর ব্যাপারে(লেখা) ছিল উটের সংখ্যা পঁচিশ হওয়া পর্যন্ত প্রতি পাঁচটি উটের জন্য একটি বকরী। উটের সংখ্যা পঁচিশে পৌঁছলে তা হতে পঁয়ত্রিশ পর্যন্ত উটের জন্য একটি ‘বিনতু মাখায’ (পূর্ণ এক বছর বয়স্ক মাদী উট); ‘বিনতু মাখায’ না পাওয়া গেলে একটি নর ‘ইবনু লাবুন’ (একটি পূর্ণ দুই বছরের নর উট); এর বেশি হলে পঁয়তাল্লিশ পর্যন্ত (ছত্রিশ হতে পঁয়তাল্লিশ পর্যন্ত) উটের জন্য একটি ‘বিনতু লাবূন’ (একটি পূর্ণ দুই বছরের মাদী উট); এর বেশি হলে ষাট পর্যন্ত (ছেচল্লিশ হতে ষাট পর্যন্ত) উটের জন্য একটি হিক্কাহ (একটি পূর্ণ তিন বছরের মাদী উট); আবার এর বেশি হলে পঁচাত্তর পর্যন্ত (একষট্টি হতে পঁচাত্তর পর্যন্ত) উটের জন্য একটি ‘জাযাআহ’ (একটি চার বছরের মাদী উট); আরো বেশি হলে নব্বই পর্যন্ত (ছিয়াত্তর হতে নব্বই পর্যন্ত) উটের জন্য দু’টি ‘বিনতু লাবূন’ আরো বেশি হলে একশত বিশ পর্যন্ত (একানব্বই হতে একশত বিশ) উটের জন্য দু’টি ‘হিক্কাহ’ এবং যখন একশত বিশের বেশি হবে তখন প্রতি পঞ্চাশ উটের জন্য একটি ‘হিক্কাহ’ এবং প্রতি চল্লিশ উটের জন্য একটি ‘বিনতু’ লাবূন যাকাত আদায় করতে হবে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। তবে শাহিদ হাদীসসমূহ থাকার কারণে হাদীসটি সহীহ।

তাখরীজ: এটি ১৬৬০ (অনূবাদে ১৬৫৬) নং এ গত হয়েছে। দেখুন, মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৪৭০।









সুনান আদ-দারিমী (1663)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ الْفَزَارِيِّ عَنْ سُفْيَانَ بْنِ حُسَيْنٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَحْوَهُ




১৬৬৪. (অপর সূত্রে) ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ।

তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।









সুনান আদ-দারিমী (1664)


أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ مُوسَى حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ دَاوُدَ الْخَوْلَانِيِّ حَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَتَبَ مَعَ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ إِلَى شُرَحْبِيلَ بْنِ عَبْدِ كُلَالٍ وَالْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ كُلَالٍ وَنُعَيْمِ بْنِ عَبْدِ كُلَالٍ إِنَّ فِي كُلِّ خَمْسِ أَوَاقٍ مِنْ الْوَرِقِ خَمْسَةَ دَرَاهِمَ فَمَا زَادَ فَفِي كُلِّ أَرْبَعِينَ دِرْهَمًا دِرْهَمٌ وَلَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ أَوَاقٍ شَيْءٌ




১৬৬৫. আমর ইবনু হাযম তার পিতার সূত্রে তার দাদা হতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমর ইবনু হাযমের মারফত শুরাহবীল ইবনু আব্দি কালাল, হারিছ ইবনু আব্দি কালাল এবং নু’আইম ইবনু আব্দি কালালের প্রতি একটি ফরমান (অধ্যাদেশ) লিখে পাঠালেন। (যাতে ছিল:) “প্রতি পাঁচ উকিয়া রৌপ্য মুদ্রায় পাঁচ দিরহাম; এর অধিক হলে প্রতি চল্লিশ দিরহামে এক দিরহাম; আর পাঁচ উকিয়ার কমে কোনো (যাকাত) নেই।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ।

তাখরীজ: এটি ১৬৬১ (অনূবাদে ১৬৫৭) নং এ গত হয়েছে।









সুনান আদ-দারিমী (1665)


أَخْبَرَنَا الْمُعَلَّى بْنُ أَسَدٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ عَنْ عَلِيٍّ رَفَعَهُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ عَفَوْتُ عَنْ صَدَقَةِ الْخَيْلِ وَالرَّقِيقِ هَاتُوا صَدَقَةَ الرِّقَةِ مِنْ كُلِّ أَرْبَعِينَ دِرْهَمًا دِرْهَمٌ وَلَيْسَ فِي تِسْعِينَ وَمِائَةٍ شَيْءٌ حَتَّى تَبْلُغَ مِائَتَيْنِ




১৬৬৬. আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি একে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন। তিনি বলেছেন: “ঘোড়া ও গোলামের সাদাকা (যাকাত) আমি ক্ষমা করে দিয়েছি। আর প্রতি চল্লিশ দিরহাম রূপার ক্ষেত্রে এক দিরহাম সাদাকা (যাকাত) আদায় কর। কিন্তু একশত নব্বই দিরহামে কোন সাদাকা নেই। যখন তা দু’ই শত দিরহামে পৌঁছবে তখন তাতে পাঁচ দিরহাম সাদাকা দিতে হবে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ বা উত্তম। আবূ আওয়ানাহ এটি একাকী বর্ণনা করেননি। বরং অনেকেই তার সমর্থক বর্ণনা করেছেন, যেমন: আ’মাশ। তিনি প্রথম জীবনে আবূ ইসহাকের নিকট শ্রবণ করেছেন।

তাখরীজ: আমি এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি ও এর শাহিদ হাদীসসমূহ উল্লেখ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৯৯ তে।

সেখানকার সাথে সংযোজন করছি: এটি বর্ণনা করেছেন, বাইহাকী, যাকাত ৪/১১৮; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ১৫৮২; দারুকুতনী ২/১২৬; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ২/২৮; আবু নুয়াইম, আখবারুল আসবাহান ২/২৬৩; তাবারাণী, সগীর ১/২৩২; ইবনু খুযাইমা, আস সহীহ নং ২২৮৪; খতীব, তারীখ বাগদাদ ৭/১৪১, ৩০২ হাসান সনদে।

((আবূ দাউদ, যাকাত ১৫৭৪; তিরমিযী, যাকাত ৬২০; তিরমিযী বলেন: আমি এ হাদীস সম্পর্কে মুহাম্মদ (তথা বুখারী) কে জিজ্ঞেস করেছি। তিনি বলেছেন, আমার নিকট এ উভয়েই সহীহ।“ নাসাঈ, যাকাত ৫/৩৭; ইবনু মাজাহ, যাকাত ১৭৯০; আহমাদ ১/৯২, ১১৩, ১৩২, ১৪৫, ১৪৬।– ফাওয়ায আহমেদে তাহক্বীক্বকৃত দারেমী নং ১৬২৯ এর টীকা হতে।– অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (1666)


أَخْبَرَنَا الْأَسْوَدُ بْنُ عَامِرٍ حَدَّثَنَا شَرِيكٌ عَنْ عُثْمَانَ الثَّقَفِيِّ عَنْ أَبِي لَيْلَى هُوَ الْكِنْدِيُّ عَنْ سُوَيْدِ بْنِ غَفَلَةَ قَالَ أَتَانَا مُصَدِّقُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَخَذْتُ بِيَدِهِ فَقَرَأْتُ فِي عَهْدِهِ أَنْ لَا يُجْمَعَ بَيْنَ مُتَفَرِّقٍ وَلَا يُفَرَّقَ بَيْنَ مُجْتَمِعٍ خَشْيَةَ الصَّدَقَةِ




১৬৬৭. সুয়াইদ ইবনু গাফালা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর যাকাত আদায়কারী কর্মচারি আমাদের নিকট আসলে আমি তার হাত ধরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এই শপথ পাঠ করে শুনালাম : ‘‘যাকাতের ভয়ে বিচ্ছিন্ন মালকে একত্র করা এবং একত্রিত মালকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে না।’’[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।

তাখরীজ: আবু দাউদ, যাকাত ১৫৭৯, ১৫৮০; ইবনু মাজাহ, যাকাত ১৮০১; নাসাঈ, যাকাত ৫/৩৯-৪০ উত্তম (জাইয়্যেদ) সনদে।

আর এর শাহিদ হাদীস বর্ণিত রয়েছৈ আবূ বাকরা রা: হতে, যার তাখরীজ আমরা দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১২৭।









সুনান আদ-দারিমী (1667)


أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ زَكَرِيَّا عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ صَيْفِيٍّ عَنْ أَبِي مَعْبَدٍ مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا بَعَثَ مُعَاذًا إِلَى الْيَمَنِ قَالَ إِيَّاكَ وَكَرَائِمَ أَمْوَالِهِمْ




১৬৬৮. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মুয়ায রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে ইয়ামান অভিমুখে পাঠালেন, তখন তিনি বললেন: “তুমি তাদের ভাল ভাল সম্পদ (গ্রহণ করা) হতে বিরত থাকবে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।

তাখরীজ: এটি ১৬৫৫ (অনূবাদে ১৬৫১) নং এ গত হয়েছে।









সুনান আদ-দারিমী (1668)


حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دِينَارٍ أَخْبَرَنِي قَالَ سَمِعْتُ سُلَيْمَانَ بْنَ يَسَارٍ يُحَدِّثُ عَنْ عِرَاكِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَيْسَ عَلَى فَرَسِ الْمُسْلِمِ وَلَا عَلَى غُلَامِهِ صَدَقَةٌ




১৬৬৯. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “মুসলিম ব্যক্তির ঘোড়া ও দাসের উপর কোনো সাদাকা (যাকাত) নেই।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।

তাখরীজ: বুখারী, যাকাত ১৪৬৩; মুসলিম, যাকাত ৯৮২।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬১৩৮, ৬১৩৯, ৬৫৬৩, ৬৫৬৪; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩২৭১, ৩২৭২; মুসনাদুল হুমাইদী নং ১১০৪, ১১০৫, ১১০৬ তে।

সেখানকার সাথে সংযোজন করছি: এটি আরও বর্ণনা করেছেন, ইবনুল জারুদ, আল মুনতাকা নং ৩৫৫; তাহাবী, মুশকিলিল আছার ৩/৮০, ৮১।









সুনান আদ-দারিমী (1669)


حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ سُفْيَانَ عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسَةِ أَوْسُقٍ صَدَقَةٌ وَلَا فِيمَا دُونَ خَمْسِ أَوَاقٍ صَدَقَةٌ وَلَا فِيمَا دُونَ خَمْسِ ذَوْدٍ صَدَقَةٌ قَالَ أَبُو مُحَمَّد الْوَسْقُ سِتُّونَ صَاعًا وَالصَّاعُ مَنَوَانِ وَنِصْفٌ فِي قَوْلِ أَهْلِ الْحِجَازِ وَأَرْبَعَةُ أَمْنَاءٍ فِي قَوْلِ أَهْلِ الْعِرَاقِ




১৬৭০. আবূ সাঈদ আল-খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “পাঁচ ‘ওয়াসাক’-এর কম পরিমাণ উ?পাদিত শস্যে, পাঁচ ‘উকিয়া’-এর কম পরিমাণ মুদ্রায় এবং পাঁচের কম সংখ্যক উটে যাকাত নেই।“[1]

আবূ মুহাম্মদ বলেন: ‘ওয়াসাক’ হয় ছয় সা’ এ; হিজাজবাসীদের মতে আর এক সা’ হলো আড়াই ‘মানা’-তে (এক ‘মানা’ দুই রতলের সমান[2])। আর ইরাকবাসীদের মতে, এক সা চার ‘মানা’র সমান।

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।

তাখরীজ: বুখারী, ১৪০৫; মুসলিম, যাকাত ৯৭৯।

আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৯৭৯, ১০৩৪, ১০৭১; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩২৬৮, ৩২৭৫, ৩২৭৬, ৩২৭৭; মুসনাদুল হুমাইদী নং ৭৫২ তে।

[2] ((মুহাক্বিক্বের টীকা হতে। -অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (1670)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ إِسْمَعِيلَ بْنِ أُمَيَّةَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ عَنْ يَحْيَى بْنِ عُمَارَةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسَةِ أَوْسُقٍ صَدَقَةٌ مِنْ حَبٍّ وَلَا تَمْرٍ وَلَا فِيمَا دُونَ خَمْسِ أَوَاقٍ صَدَقَةٌ وَلَا فِيمَا دُونَ خَمْسِ ذَوْدٍ صَدَقَةٌ




১৬৭১. আবূ সাঈদ আল-খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “পাঁচ ‘ওয়াসাক’-এর কম পরিমাণ উৎপাদিত শস্যে এবং খেজুরে যাকাত নেই, পাঁচ ‘উকিয়া’-এর কম পরিমাণ মুদ্রায়ও যাকাত নেই এবং পাঁচের কম সংখ্যক উটেও যাকাত নেই।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।

তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।









সুনান আদ-দারিমী (1671)


أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ مُوسَى حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ دَاوُدَ الْخَوْلَانِيِّ حَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَتَبَ مَعَ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ إِلَى شُرَحْبِيلَ بْنِ عَبْدِ كُلَالٍ وَالْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ كُلَالٍ وَنُعَيْمِ بْنِ عَبْدِ كُلَالٍ إِنَّ فِي كُلِّ خَمْسِ أَوَاقٍ مِنْ الْوَرِقِ خَمْسَةَ دَرَاهِمَ فَمَا زَادَ فَفِي كُلِّ أَرْبَعِينَ دِرْهَمًا دِرْهَمٌ وَلَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ أَوَاقٍ شَيْءٌ




১৬৭২. আমর ইবনু হাযম তার পিতার সূত্রে তার দাদা হতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমর ইবনু হাযমের মারফত শুরাহবীল ইবনু আব্দি কালাল, হারিছ ইবনু আব্দি কালাল এবং নু’আইম ইবনু আব্দি কালালের প্রতি একটি ফরমান (অধ্যাদেশ) লিখে পাঠালেন। (যাতে ছিল:) “প্রতি পাঁচ উকিয়া রৌপ্য মুদ্রায় পাঁচ দিরহাম; এর অধিক হলে প্রতি চল্লিশ দিরহামে এক দিরহাম; আর পাঁচ উকিয়ার কমে কোনো (যাকাত) নেই।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ।

তাখরীজ: এটি ১৬৬৮ (অনূবাদে ১৬৬৪) নং এ গত হয়েছে।









সুনান আদ-দারিমী (1672)


أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ زَكَرِيَّا عَنْ الْحَجَّاجِ بْنِ دِينَارٍ عَنْ الْحَكَمِ بْنِ عُتَيْبَةَ عَنْ حُجَيَّةَ بْنِ عَدِيٍّ عَنْ عَلِيٍّ أَنَّ الْعَبَّاسَ سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي تَعْجِيلِ صَدَقَتِهِ قَبْلَ أَنْ تَحِلَّ فَرَخَّصَ فِي ذَلِكَ قَالَ أَبُو مُحَمَّد آخُذُ بِهِ وَلَا أَرَى فِي تَعْجِيلِ الزَّكَاةِ بَأْسًا




১৬৭৩. আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই অগ্রিম যাকাত আদায় করার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন তিনি তাকে এ ব্যাপারে অনুমতি দিলেন।[1]আবূ মুহাম্মদ বলেন, আমি এ মত গ্রহণ করেছি এবং বছর পূর্তির পূর্বে যাকাত প্রদানে আমি কোনো দোষ দেখি না।

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ (উত্তম)।

তাখরীজ: আহমাদ ১/১০৪; আবূ দাউদ, যাকাত ১৬২৪; তিরমিযী, যাকাত ৬৭৮; ইবনু মাজাহ, যাকাত ১৭৯৫; ইবনু সা’দ, আত তাবাকাত ৪/১/১৭; বাইহাকী, যাকাত ৪/১১১; হাকিম ৩/৩৩২ একে সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তা সমর্থন করেছেন।

.. এর হাদীসের কয়েকটি শাহিদ হাদীস রয়েছে যা একে শক্তিশালী করে। দেখুন, তাবাকাত ৪/১/১৭; মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবা ৩/১৪৮; বাইহাকী ৪/১১১।

তিরমিযী বলেন, আলিমদের মাঝে অগ্রিম যাকাত আদায় করার ব্যাপারে দ্বিমত আছে। একদল মনীষী অগ্রিম যাকাত আদায় করা উচিৎ নয় বলে মত ব্যক্ত করেছেন। সুফিয়ান সাওরি এই মতের সমর্থন করেছেন। তিনি বলেছেন, এটা না করাই আমার মতে উত্তম। বেশিরভাগ মনীষী অগ্রিম যাকাত আদায় করলে তা জায়িয হওয়ার কথা বলেছেন। এ মতের প্রবক্তা হচ্ছেন শাফিঈ, আহ্মাদ ও ইসহাক।’ দেখুন, নাইলূল আওতার ৪/২১২-২১৪।









সুনান আদ-দারিমী (1673)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الطُّفَيْلِ حَدَّثَنَا شَرِيكٌ عَنْ أَبِي حَمْزَةَ عَنْ عَامِرٍ عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّ فِي أَمْوَالِكُمْ حَقًّا سِوَى الزَّكَاةِ




১৬৭৪. ফাতিমাহ বিনতে কাইস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, “তোমাদের মাল-সম্পদে যাকাত ছাড়া আরো হক্ক রয়েছে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, আবী হামযাহ মায়মূন আল আউর এর যঈফ হওয়ার কারণে।

তাখরীজ: তিরমিযী, যাকাত ৬৫৯,৬৬০; ইবনু আদী, আল কামিল৪/১৩২৮; দারুকুতনী ২/১২৫; বাইহাকী, যাকাত ৪/৮৪; ইবনু আবী হাতিম, ইবনু মারদুবিয়াহ-যা ইবনু কাছীর তার তাফসীর ১/২৯৮ এ উল্লেখ করেছেন; তাবারী ২/৯৬; ইবনু মাজাহ, যাকাত ১৭৮৯;

ইমাম বাইহাকী (মা’রেফাতুস সুনান ৬/১২ তে) এর দূর্বলতার কথা ইমাম আহমাদ, ইবনু মাঈন ও অন্যান্যদের থেকে উল্লেখ করেছেন।









সুনান আদ-দারিমী (1674)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ حَدَّثَنَا أَبُو الْجُوَيْرِيَةِ الْجَرْمِيُّ أَنَّ مَعْنَ بْنَ يَزِيدَ حَدَّثَهُ قَالَ بَايَعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَا وَأَبِي وَجَدِّي وَخَطَبَ عَلَيَّ فَأَنْكَحَنِي وَخَاصَمْتُ إِلَيْهِ كَانَ أَبِي يَزِيدُ أَخْرَجَ دَنَانِيرَ يَتَصَدَّقُ بِهَا فَوَضَعَهَا عِنْدَ رَجُلٍ فِي الْمَسْجِدِ فَجِئْتُ فَأَخَذْتُهَا فَأَتَيْتُهُ بِهَا فَقَالَ وَاللَّهِ مَا إِيَّاكَ أَرَدْتُ بِهَا فَخَاصَمْتُهُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لَكَ مَا نَوَيْتَ يَا يَزِيدُ وَلَكَ يَا مَعْنُ مَا أَخَذْتَ




১৬৭৫. মা’না ইবনু ইয়াযীদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি, আমার পিতা ও আমার দাদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাতে বাইয়াত গ্রহণ করলাম। আর তিনি আমার বিবাহের প্রস্তাব দেন এবং আমার বিবাহ সম্পন্ন করে দেন। আমি তাঁর নিকট (এক বিষয়ে) বিচার প্রার্থী হই, একদা আমার পিতা ইয়াযীদ কিছু স্বর্ণ মুদ্রা সাদাকাহ করার নিয়্যাতে মসজিদে এক ব্যক্তি নিকট রেখে আসেন। আমি সে ব্যক্তি নিকট হতে তা গ্রহণ করে পিতার নিকট আসলাম। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! তোমাকে দেওয়ার ইচ্ছা আমার ছিল না। আমি বিষয়টি নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট বিচার প্রার্থী হলাম। তিনি বললেন: “হে ইয়াযীদ, তুমি যার নিয়্যাত করেছো, তা তুমি পাবে। আর হে মা’ন! তুমি যা গ্রহণ করেছো, তা তোমারই।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, যাকাত ১৪২২; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৫৫১ তে।

সেখানে আমার সংযোজন: ইবনু কানি’, মু’জামুল সাহাবাহ নং ১০৫৫।









সুনান আদ-দারিমী (1675)


أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ سَأَلَ رَجُلٌ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ صَلَاةِ اللَّيْلِ فَقَالَ مَثْنَى مَثْنَى فَإِذَا خَشِيَ أَحَدُكُمْ الصُّبْحَ فَلْيُصَلِّ رَكْعَةً وَاحِدَةً تُوتِرُ مَا قَدْ صَلَّى قِيلَ لِأَبِي مُحَمَّدٍ تَأْخُذُ بِهِ قَالَ نَعَمْ




১৬২২. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোনো এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে রাতের সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলো। তখন তিনি বললেন: “দু’- দু’ রাকা’আত করে। আর যখন তোমাদের কেউ ভোর হয়ে যাওয়ার আশংকা করবে তখন সে যেন এক রাকা’আত সালাত আদায় করে নেয়, যা তার (পূর্বে) আদায়কৃত সালাতকে বিতর (বিজোড়) করে দেবে।“[1]

আবূ মুহাম্মদকে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কি এমত গ্রহণ করেছেন? তিনি বললেন: হাঁ।

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ শক্তিশালী। তবে এটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।

তাখরীজ: এটি ১৫০০ (অনূবাদে ১৪৯৭) নং এ গত হয়েছে। ((বুখারী ৪৭২; zwj;মুসলিম ৭৪৯। আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৬২৩, ৫৪৩১, ৫৪৯৪, ৫৬১৮, ৫৬২০; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৪২৬, ২৬১৯, ২৬২০, ২৬২৩, ২৬২৪ তে।- ১৪৯৭ নং এর টীকা হতে- অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (1676)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ وَأَبُو نُعَيْمٍ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ رَيْحَانَ بْنِ يَزِيدَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَحِلُّ الصَّدَقَةُ لِغَنِيٍّ وَلَا لِذِي مِرَّةٍ سَوِيٍّ قَالَ أَبُو مُحَمَّد يَعْنِي قَوِيٍّ




১৬৭৬. আব্দুল্লাহ ইবনু আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “অবস্থা সম্পন্ন সচ্ছল ও সুস্থ–সবল লোকের জন্য যাকাত নেয়া বৈধ নয়।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, আল কাবীর ৩/৩২৯; বাইহাকী, সাদাকাত ৭/১৩; তায়ালিসী ১/১৭৭ নং ৮৪২; তিরমিযী, যাকাত ৬৫২; আব্দুর রাযযাক নং ৭১৫৫; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ ১৫৯৯; ইবনু আবী শাইবা ৩/২০৭; আহমাদ ২/১৬৪, ১৯২; আবী উবাইদ, আল আমওয়াল নং ১৭২৭; আবূ দাউদ, যাকাত ১৬৩৪; হাকিম ১/৪০৭; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ২/১৪।

তিরমিযী বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনু আমরের হাদীসটি হাসান।…

এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবী হুরাইরা কর্তৃক যার পূর্ণ তাখরীজ আমরা দিয়েছি মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৮০৬ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩২৯০ ও মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩২৯০ তে।









সুনান আদ-দারিমী (1677)


أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا شَرِيكٌ عَنْ حَكِيمِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ سَأَلَ عَنْ ظَهْرِ غِنًى جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَفِي وَجْهِهِ خُمُوشٌ أَوْ كُدُوحٌ أَوْ خُدُوشٌ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا الْغِنَى قَالَ خَمْسُونَ دِرْهَمًا أَوْ قِيمَتُهَا مِنْ الذَّهَبِ




১৬৭৭. আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি সচ্ছলতা সত্ত্বেও (মানুষের নিকট) হাত পাতে (সাহায্য প্রার্থনা করে),সে কিয়ামত দিবসে (এই সাহায্য চাওয়ার জন্য) তার মুখমণ্ডলে অসংখ্য জখম, নখের আঁচড় ও ক্ষত চিহ্ন নিয়ে উপস্থিত হবে।“ প্রশ্ন করা হল, হে আল্লাহর রাসূল! সচ্ছলতা (-এর সীমা) কি? তিনি বললেনঃ “পঞ্চাশ দিরহাম বা সমমূল্যের স্বর্ণ।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।

তাখরীজ: আমরা এর zwj;পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি ও এর শাহিদ হাদীসসমূহ উল্লেখ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫২১৭ তে।

এখানে তার সাথে সংযোজন করছি: ইবনু আবী শাইবা ৩/১৮০; ফাসাওয়ী, মা’রিফাতুত তারীখ ৩/৯৮-৯৯; ইবনু আদী, আল কামিল ২/৬৩৫, ৬৩৭; খতীব, তারীখ বাগদাদ ৩/২০৫; পরবর্তী হাদীসটি দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (1678)


أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ وَمُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ حَكِيمِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِنَحْوِهِ




১৬৭৮. (অপর সনদে) আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।

তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি। এছাড়া ইবনু আদী, আল কামিল ২/৬৩৬।









সুনান আদ-দারিমী (1679)


أَخْبَرَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ زِيَادٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ أَخَذَ الْحَسَنُ تَمْرَةً مِنْ تَمْرِ الصَّدَقَةِ فَجَعَلَهَا فِي فِيهِ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كِخْ كِخْ أَلْقِهَا أَمَا شَعَرْتَ أَنَّا لَا نَأْكُلُ الصَّدَقَةَ




১৬৭৯. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা হাসান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সাদাকার খেজুর হতে একটি খেজুর তুলে নিয়েই তার মুখে পুরে দিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “ওয়াক্ ওয়াক্ (বমির পূর্বের আওয়াজের মত) করে ওটি ফেলে দাও। তুমি কি জান না যে, আমরা সাদাকা ভক্ষণ করি না?“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ্

তাখরীজ: বুখারী ১৪৯১; মুসলিম, যাকাত ১০৬৯; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩২৯৪, ৩২৯৫ তে। এছাড়া সেখানকার সাথে আমার সংযোজনী: তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ২/৯; ইবনু আব্দুল বারর, আত তামহীদ ৩/৯১।









সুনান আদ-দারিমী (1680)


أَخْبَرَنَا الْأَسْوَدُ بْنُ عَامِرٍ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عِيسَى عَنْ عِيسَى عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى عَنْ أَبِي لَيْلَى قَالَ كُنْتُ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعِنْدَهُ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ فَأَخَذَ تَمْرَةً مِنْ تَمْرِ الصَّدَقَةِ فَانْتَزَعَهَا مِنْهُ وَقَالَ أَمَا عَلِمْتَ أَنَّهُ لَا تَحِلُّ لَنَا الصَّدَقَةُ




১৬৮০. আবী লাইলা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট ছিলাম এবং তাঁর সাথে হাসান ইবনু আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমাও ছিলেন। হঠাৎ তিনি (হাসান রা:) সাদাকার খেজুর হতে একটি খেজুর তুলে নিলেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার নিকট হতে সেটি কেড়ে নিলেন, তারপর বললেন: “তুমি কি জান না যে, আমাদের জন্য সাদাকাহ বৈধ নয়?“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আহমাদ ৪/৩৪৮; ইবনু আবী শাইবা ৩/২১৫, ১৪/২৭৯ নং ১৮৩৭৫; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ২/১০; আগের হাদীসটি এর শাহিদ।