হাদীস বিএন


সুনান আদ-দারিমী





সুনান আদ-দারিমী (1701)


حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ عِيَاضِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي سَرْحٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ كُنَّا نُخْرِجُ زَكَاةَ الْفِطْرِ مِنْ رَمَضَانَ صَاعًا مِنْ طَعَامٍ أَوْ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ أَوْ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ أَوْ صَاعًا مِنْ زَبِيبٍ أَوْ صَاعًا مِنْ أَقِطٍ




১৭০১. আবূ সাঈদ আল–খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা এক সা’আ খাবার অথবা এক সা’আ খেজুর অথবা এক সা’আ যব অথবা এক সা’ কিশমিশ অথবা এক সা’ পনির যাকাতুল ফিতর হিসেবে দান করতাম।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ শক্তিশালী; আর হাদীসটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।

তাখরীজ: মালিক, যাকাত ৫৪; এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি। পূর্ণ তাখরীজের জন্য সেখানে দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (1702)


أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ سُفْيَانَ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ عِيَاضِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ كُنَّا نُعْطِي عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرَ نَحْوَهُ




১৭০২. আবূ সাঈদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের যামানায় (যাকাতুল ফিতর হিসেবে) দান করতাম ...“ -অত:পর তিনি অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, যাকাত ১৫০৮। আর হাদীসটি আগের হাদীস দু’টির পুনরাবৃত্তি।









সুনান আদ-দারিমী (1703)


أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَقَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ شِمَاسَةَ قَالَ سَمِعْتُ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ صَاحِبُ مَكْسٍ قَالَ قَالَ أَبُو مُحَمَّد يَعْنِي عَشَّارًا




১৭০৩. উকবা ইবনু আমির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, “(নিদিষ্ট পরিমাণের চাইতে অধিক হারে) যাকাত আদায়কারী ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না।“[1] আবূ মুহাম্মদ বলেন, এর (‘যাকাত আদায়কারী ব্যক্তি’র) অর্থ: ওশর (এক দশমাংশ) আদায়কারী কর্মচারী।

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, এতে ইবনু ইসহাক রয়েছে, তিনি এটি ‘আন‘আন’ পদ্ধতে বর্ণনা করেছেন (আর তিনি মুদাল্লিস)।

তাখরীজ: আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৭৫৬ তে। (আবূ দাউদ, যাকাত ২৯৩৭-অনুবাদক)

আমাদের সংযোজন: তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ২/৩১; তাবারাণী, কাবীর ১৭/৩১৭, ৩১৮ নং ৮৭৮, ৮৭৯, ৮৮০; ইবনুল জারুদ, আল মুনতাক্বা, নং ৩৩৯; বাইহাকী, সাদাকাত ৭/১৬; ….।









সুনান আদ-দারিমী (1704)


أَخْبَرَنَا عَاصِمُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ مُعَاذٍ قَالَ بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى الْيَمَنِ فَأَمَرَنِي أَنْ آخُذَ مِنْ الثِّمَارِ مَا سُقِيَ بَعْلًا الْعُشْرَ وَمَا سُقِيَ بِالسَّانِيَةِ فَنِصْفَ الْعُشْرِ




১৭০৪. মুয়ায রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে ইয়ামান অভিমুখে পাঠান, তখন তিনি আমাকে নির্দেশ দেন যে, আমি যেন বৃষ্টি দ্বারা সিঞ্চিত জমি হতে এক দশমাংশ এবং সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে সিঞ্চিত জমি হতে ফসলের অর্ধ-উশর (যাকাত হিসেবে) গ্রহণ করি।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।

তাখরীজ: নাসাঈ, যাকাত ৫/৪২; ইবনু মাজাহ যাকাত ১৮১৮;

আর এর শাহিদ বর্ণিত হয়েছে জাবির রা: হতে সহীহ বুখারী ও মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনায়- বুখারী, যাকাত ১৪৮৩ ও মুসলিম, যাকাত ৯৮১ তে। আর zwj;মুয়ায রা: এর হাদীস দেখুন, বিগত ১৬৬৩, ১৬৬৪ নং এ।









সুনান আদ-দারিমী (1705)


أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ وَأَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ جُرْحُ الْعَجْمَاءِ جُبَارٌ وَالْبِئْرُ جُبَارٌ وَالْمَعْدِنُ جُبَارٌ وَفِي الرِّكَازِ الْخُمُسُ




১৭০৫. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “পশুর আঘাতে কোনো ক্ষতিপূরণ নেই (বৃথা); আবার কূপে (পড়ে আহত/নিহত অবস্থার)ও কোনো ক্ষতিপূরণ নেই এবং খনিতে (প্রাপ্ত) সম্পদে যাকাত হলো এক পঞ্চমাংশ।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ শক্তিশালী। হাদীসটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।

তাখরীজ: মালিক, যাকাত (৯); বুখারী, যাকাত ১৪৯৯; মুসলিম, হুদুদ ১৭১০; ((আবূ দাউদ, ইমারাহ ৩০৮৫; তিরমিযী, যাকাত ৬৪২; নাসাঈ, যাকাত ৫/৪৫; ইবনু মাজাহ, দিয়াত ২৬৭৩; আহমাদ ২/২২৮-২৩৯…. ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীক্বকৃত দারেমী নং ১৬৬৮ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি zwj;মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬০৫০; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬০০৫-৬০০৭; মুসনাদুল হুমাইদী নং ১১১০; আর এটি সামনে ২৪২২, ২৪২৩, ২৪২৫ নং এ আসছে।









সুনান আদ-দারিমী (1706)


أَخْبَرَنَا أَبُو الْيَمَانِ الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ حَدَّثَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ عَنْ أَبِي حُمَيْدٍ الْأَنْصَارِيِّ ثُمَّ السَّاعِدِيِّ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اسْتَعْمَلَ عَامِلًا عَلَى الصَّدَقَةِ فَجَاءَهُ الْعَامِلُ حِينَ فَرَغَ مِنْ عَمَلِهِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذَا الَّذِي لَكُمْ وَهَذَا أُهْدِيَ لِي فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَهَلَّا قَعَدْتَ فِي بَيْتِ أَبِيكَ وَأُمِّكَ فَنَظَرْتَ أَيُهْدَى لَكَ أَمْ لَا ثُمَّ قَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَشِيَّةً بَعْدَ الصَّلَاةِ عَلَى الْمِنْبَرِ فَتَشَهَّدَ وَأَثْنَى عَلَى اللَّهِ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ ثُمَّ قَالَ أَمَّا بَعْدُ مَا بَالُ الْعَامِلِ نَسْتَعْمِلُهُ فَيَأْتِينَا فَيَقُولُ هَذَا مِنْ عَمَلِكُمْ وَهَذَا أُهْدِيَ لِي فَهَلَّا قَعَدَ فِي بَيْتِ أَبِيهِ وَأُمِّهِ فَيَنْظُرَ هَلْ يُهْدَى لَهُ أَمْ لَا وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَا يَغُلُّ أَحَدُكُمْ مِنْهَا شَيْئًا إِلَّا جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَحْمِلُهُ عَلَى عُنُقِهِ إِنْ كَانَ بَعِيرًا جَاءَ بِهِ لَهُ رُغَاءٌ وَإِنْ كَانَتْ بَقَرَةً جَاءَ بِهَا لَهَا خُوَارٌ وَإِنْ كَانَتْ شَاةً جَاءَ بِهَا تَيْعَرُ فَقَدْ بَلَّغْتُ قَالَ أَبُو حُمَيْدٍ ثُمَّ رَفَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَيْهِ حَتَّى إِنَّا لَنَنْظُرُ إِلَى عُفْرَةِ إِبْطَيْهِ قَالَ أَبُو حُمَيْدٍ وَقَدْ سَمِعَ ذَلِكَ مَعِي مِنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ فَسَلُوهُ




১৭০৬. হুমায়দ সা#39;ইদী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জনৈক ব্যক্তিকে যাকাত আদায়ের জন্য কর্মচারী হিসাবে নিয়োগ করেন। যখন সে যাকাত আদায় করে ফিরে আসলো, তখন সে বললোঃ এগুলো আপনাদের জন্য এবং এগুলো আমাকে হাদিয়া স্বরূপ দেওয়া হয়েছে । তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “তুমি তোমার পিতা- মাতার গৃহে বসে থেকে দেখতে যে, তোমাকে হাদিয়া দেওয়া হয় কিনা? “অত:পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিকালের সালাত শেষে মিম্বরের উপর দাঁড়ালেন এবং শাহাদতের বাক্য উচ্চারণ করে আল্লাহর যথাযোগ্য প্রশংসা ও গুণগান আদায়ের পর বললেনঃ “অত:পর, আমি যাকে কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ করে পাঠাই, তার কী হলো যে, সে ফিরে এসে বলবেঃ ‘এই মাল তোমাদের এবং এই হাদিয়া আমাকে দেওয়া হয়েছে?!’

সে তার পিতা-মাতার গৃহে বসে থেকে দেখলো না কেন যে, তাকে হাদিয়া দেওয়া হয় কিনা? যাঁর হাতে আমার জীবন, সেই মহান সত্তার কসম! তোমাদের কেউ (যাকাতের সম্পদ হতে) zwj;কোনো জিনিস আত্মসাৎ করলে কিয়ামতের দিন সে তা (কাঁধে) বহন করে নিয়ে উপস্থিত হবে। যদি তা উট হয়, তবে সে উট আওয়ায করতে থাকবে। যদি গাভী হয়, তবে গরু হাম্বা-হাম্বা ডাক দিতে দিতে আসবে। আর যদি বকরী হয়, তবে সেটিও ডাকতে থাকবে। এরপর তিনি (সা) তাঁর দু#39;হাত (দু#39;আর জন্য) এত উপরে উঠালেন যে, আমরা তাঁর বগলের শুভ্রতা দেখতে পাচ্ছিলাম। অতঃপর তিনি বলেনঃ ইয়া আল্লাহ্! আমি কি (তোমার হুকুম) পৌছে দিয়েছি ?“ আবূ হুমাইদ বলেন, যাইদ ইবনু ছাবিত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুও আমার সাথে এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে শুনেছেন। ফলে তোমরা তাঁকে জিজ্ঞেস করে দেখ।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, জুমু’আহ ৯২৫, হাইল (কুটকৌশল) ৬৯৭৯; মুসলিম, ইমারাহ ১৮৩২। ((আবূ দাউদ, ইমারাহ ২৯৪৬; আহমাদ ৫/২২৭-, ২৮৫, ৪২৩-ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীক্বকৃত দারেমী ১৬৬৯ এর টীকা হতে। -অনুবাদক))

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি zwj;ুসহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৫১৫; মুসনাদুল হুমাইদী নং ৮৬৩ তে।









সুনান আদ-দারিমী (1707)


أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ أَخْبَرَنَا هُشَيْمٌ عَنْ دَاوُدَ وَمُجَالِدٍ عَنْ الشَّعْبِيِّ عَنْ جَرِيرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا جَاءَكُمْ الْمُصَدِّقُ فَلَا يَصْدُرَنَّ عَنْكُمْ إِلَّا وَهُوَ رَاضٍ




১৭০৭. জারীর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যাকাত আদায়কারী (সংগ্রহকারী) তোমাদের নিকটে আসলে তিনি যেন অবশ্যই (তোমাদের উপর) সন্তুষ্ট হয়েই ফিরতে পারে।“[1] (তার সাথে ভাল ব্যবহার কর।)

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, কেননা ‘আন আন’ পদ্ধতিতে হিশাম এটি বর্ণনা করেছেন। তবে হাদীসটি সহীহ।

তাখরীজ: মুসলিম, যাকাত ৯৮৯। ((আবূ দাউদ, যাকাত ১৫৮৯; তিরমিযী, যাকাত ৬৪৭; নাসাঈ, যাকাত ৫/৩১; -ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীক্বকৃত দারেমী ১৬৭০ এর টীকা হতে। -অনুবাদক))

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল হুমাইদী নং ৮১৪ তে। পরবর্তী টীকাটিও দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (1708)


حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ الْفَزَارِيِّ عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ عَنْ عَامِرٍ عَنْ جَرِيرٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَحْوَهُ




১৭০৮. (অপর সনদে) জারীর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে অনূরূপ বর্ণিত হয়েছে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: এটি আগের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।









সুনান আদ-দারিমী (1709)


أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ الْمُبَارَكِ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُعَاذٍ الْأَشْهَلِيِّ عَنْ جَدَّتِهِ يُقَالُ لَهَا حَوَّاءُ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ يَا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نِسَاءَ الْمُسْلِمَاتِ لَا تَحْقِرَنَّ إِحْدَاكُنَّ لِجَارَتِهَا وَلَوْ كُرَاعُ شَاةٍ مُحَرَّقٌ




১৭০৯. আমর ইবনু মুয়ায তার হাওয়া নাম্নী দাদী হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “হে মুসলিম নারীগণ! তোমাদের কেউ যেন তার প্রতিবেশীদেরকে অবজ্ঞা না করে, যদিও তা ছাগলের পায়ের একটি ঝলসানো হাড্ডি (হাদীয়া দেওয়ার মাধ্যমে) ও হয়।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ বা উত্তম।

তাখরীজ: মালিক, সাদাকা ৪; আহমাদ ৬/৪৩৪; বুখারী,, আদাবুল মুফরাদ নং ১২২; তাবারাণী, আল কাবীর ২৪/২২১ নং ৫৫৯; ইবনু আব্দুল বারর, আত তামহীদ ৪/২৯৫; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ৩৪৬২।

এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবী হুরাইরা রা: হতে বুখারী, হিবাহ ২৫৬৬; মুসলিম, যাকাত ১০৩০।









সুনান আদ-দারিমী (1710)


أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا أَبَانُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْبَجَلِيُّ حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي حَازِمٍ عَنْ صَخْرِ بْنِ الْعَيْلَةِ قَالَ أُخِذَتْ عَمَّةُ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ فَقَدِمَتْ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَمَّتَهُ فَقَالَ يَا صَخْرُ إِنَّ الْقَوْمَ إِذَا أَسْلَمُوا أَحْرَزُوا أَمْوَالَهُمْ وَدِمَاءَهُمْ فَادْفَعْهَا إِلَيْهِ وَكَانَ مَاءٌ لِبَنِي سُلَيْمٍ فَأَسْلَمُوا فَسَأَلُوهُ ذَلِكَ فَدَعَانِي فَقَالَ يَا صَخْرُ إِنَّ الْقَوْمَ إِذَا أَسْلَمُوا أَحْرَزُوا أَمْوَالَهُمْ وَدِمَاءَهُمْ فَادْفَعْهَا إِلَيْهِمْ فَدَفَعْتُهُ




১৭১০. সাখর ইবনুল আইলাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মুগীরা ইবন শো#39;বা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর ফুফুকে বন্দী করলাম। তখন সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলো। এরপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট গিয়ে তাঁর ফুফুকে (ফেরত) চাইলেন। এরপর তিনি (আমাকে ডেকে) বললেন: “হে সাখর! যখন কোন কওম মুসলিম হয়, তখন তাদের রক্ত (জান)-মালের হিফাযত করবে । তুমি তাকে (মুগীরার ফুফুকে) তাঁর (মুগীরার) নিকট ফিরিয়ে দাও।“ আবার বনী সুলাইমের একটি পুকুর ছিল। অবশেষে বনী-সুলাইম ইসলাম গ্রহণ করার পর তারা তাঁর নিকট এটি ফেরত চাইলো। এরপর তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) আমাকে ডেকে বললেন: “হে সাখর! যখন কোন কওম মুসলিম হয়, তখন তাদের রক্ত (জান)-মালের হিফাযত করবে। সুতরাং ঐ (কওমের পুকুর)-টি তাদেরকে ফিরিয়ে দাও।“ ফলে আমি তা ফেরত দিলাম।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।

তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা, ১২/৩১১; ইবনু সা’দ, আত তাবাকাত ৬/১৯; তাবারাণী, কাবীর ৪/৩১০-৩১১; ৮/২৯-৩০ নং ৭২৭৯, ৭২৮০; আবূ দাউদ, খারাজ ওয়াল ইমারাহ ৩০৬৭; বাইহাকী, সিয়ার ১/১১৪; ইবনু কাছীর, বিদা’আহ ৪/৩৪২; আহমাদ ৪/৩১০; পরবর্তী হাদীসটি দেখুন। আরও দেখুন, আদ দিরায়াহ ২/১২১-১২২; তালখীসুল হাবীর ৪/১১০, ১২০; আর আবী হুরাইরা রা: এর হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৮৪৭ তে।









সুনান আদ-দারিমী (1711)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا أَبَانُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ حَدَّثَنِي عُثْمَانُ بْنُ أَبِي حَازِمٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ صَخْرٍ أَطْوَلَ مِنْ حَدِيثِ أَبِي نُعَيْمٍ




১৭১১. (অপর সনদে) সাখর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, (পূর্বের হাদীসের প্রথম দিকের রাবী) আবী নুয়াইমের হাদীসের চেয়ে দীর্ঘ আকারে বর্ণিত হয়েছে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : ((মুহাক্কীক্ব এ হাদীসের কোনো হুকুম লাগাননি। আগের হাদীসটি হাসান হওয়ায় এটি হাসান লি গয়রিহী হবে ইনশাআল্লাহ।–অনুবাদক))

তাখরীজ: আবূ দাউদ, খারাজ ওয়াল ইমারাহ ৩০৬৭; পূর্ণ তাখরীজের জন্য আগের হাদীসটি দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (1712)


أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ الْمُغِيرَةِ عَنْ عِيسَى بْنِ يُونُسَ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا تَصَدَّقَ امْرُؤٌ بِصَدَقَةٍ مِنْ كَسْبٍ طَيِّبٍ وَلَا يَقْبَلُ اللَّهُ إِلَّا طَيِّبًا إِلَّا وَضَعَهَا حِينَ يَضَعُهَا فِي كَفِّ الرَّحْمَنِ وَإِنَّ اللَّهَ لَيُرَبِّي لِأَحَدِكُمْ التَّمْرَةَ كَمَا يُرَبِّي أَحَدُكُمْ فَلُوَّهُ أَوْ فَصِيلَهُ حَتَّى تَكُونَ مِثْلَ أُحُدٍ




১৭১২. আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “যে লোক পবিত্র (হালাল) উপার্জন হতে দান-খায়রাত করে, -আর আল্লাহ্ তা’আলা পবিত্র (হালাল) মাল ছাড়া গ্রহণ করেন না- সে যখন এটি (কাউকে) অর্পণ করে, তখন সে যেন দয়াময় ‘রহমান’ এর হাতে তা সমর্পণ করে। আর নিশ্চয়ই দয়াময় রাহমান তোমাদের কারো (দাতার) জন্য সেই (দানকৃত) খেজুরটি প্রতিপালন করতে থাকেন যেভাবে তোমাদের কেউ তার ঘোড়ার বা উটের দুধ ছাড়ানো বাচ্চাকে লালন পালন করে থাকে। এমনকি সেটি বড় হতে হতে উহুদ (পাহাড়) এর সমান হয়ে যায়।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।

তাখরীজ: বুখারী, যাকাত ১৪১০; মুসলিম, যাকাত ১০১৪।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৭০, ৩৩১৬, ৩৩১৮, ৩৩১৯ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১১৮৮ তে।









সুনান আদ-দারিমী (1713)


حَدَّثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ عَنْ الْعَلَاءِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا نَقَصَتْ صَدَقَةٌ مِنْ مَالٍ وَمَا زَادَ اللَّهُ عَبْدًا بِعَفْوٍ إِلَّا عِزًّا وَمَا تَوَاضَعَ أَحَدٌ لِلَّهِ إِلَّا رَفَعَهُ اللَّهُ




১৭১৩. আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “সাদাকার কারণে সম্পদ হ্রাস পায় না, ক্ষমা করার দ্বারা আল্লাহ তাআলা ব্যক্তির সম্মানই বৃদ্ধি করে থাকেন।আল্লাহর জন্য যদি কেউ বিনয় অবলম্বন করে তবে আল্লাহ তাআলা অবশ্যই তার মর্যাদা সমুচ্চ করেন।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: মুসলিম, বিরর ওয়াল সুলহ ২৫৮৮; এছাড়াও, বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ৩৪১১ ও ৮০৭১, ৮৩২৮; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ ও টীকা দিয়েছি ও মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৪৫৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩২৪৮ তে।









সুনান আদ-দারিমী (1714)


أَخْبَرَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ حَدَّثَنَا بَهْزُ بْنُ حَكِيمٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدَّهِ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ فِي كُلِّ إِبِلٍ سَائِمَةٍ فِي كُلِّ أَرْبَعِينَ بِنْتُ لَبُونٍ لَا تُفَرَّقُ إِبِلٌ عَنْ حِسَابِهَا مَنْ أَعْطَاهَا مُؤْتَجِرًا بِهَا فَلَهُ أَجْرُهَا وَمَنْ مَنَعَهَا فَإِنَّا آخِذُوهَا وَشَطْرَ إِبِلِهِ عَزْمَةٌ مِنْ عَزَمَاتِ اللَّهِ لَا يَحِلُّ لِآلِ مُحَمَّدٍ مِنْهَا شَيْءٌ




১৭১৪. বাহয ইবন হাকীম (র)-এর পিতার সূত্রে তাঁর দাদা থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে বলতে শুনেছি: “প্রত্যেক বিচরণকারী উটের যাকাত হল প্রত্যেক চল্লিশে একটি ‘ইবনাতুল লাবুন’ (তিন বছর বয়সী উটনী) । উটের হিসাব থেকে কোন উটকে বাদ দেওয়া হবে না । যে ব্যক্তি সওয়াবের নিয়্যাতে তা দান করবে তার জন্য তার সওয়াব রয়েছে। আর যে ব্যক্তি তা দেওয়া হতে বিরত থাকবে, তবে নিশ্চয়েই আমরা তার থেকে তা উসূল করে নেব, আর তার সাথে আরো অর্ধেক উট নিয়ে নেব আল্লাহ প্রদত্ত আবশ্যিক বিধানসমূহ থেকে একটি বিধান । মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর বংশধরদের জন্য এর সামান্য পরিমাণও হালাল হবে না।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ।

তাখরীজ: তাবারাণী, আল কাবীর ১৯/৪১১ নং ৯৮৮; আবূ দাউদ, যাকাত ১৫৭৫; আহমাদ ৫/২, ৪; নাসাঈ, যাকাত ৫/১৫-১৬; ইবনুল জারুদ নং ৩৪১; আব্দুর রাযযাক ৬৮২৪; ইবনু আবী শাইবা, ২/১২২; ইবনু খুযাইমা নং ২২৬৬; বাইহাকী, যাকাত ৪/১১৬; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ২/৯, ৩/৯৭; হাকিম ১/৩৯৮।









সুনান আদ-দারিমী (1715)


حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ وَأَبُو نُعَيْمٍ قَالَا حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ هَارُونَ بْنِ رِيَابٍ حَدَّثَنِي كِنَانَةُ بْنُ نُعَيْمٍ عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ مُخَارِقٍ الْهِلَالِيِّ قَالَ تَحَمَّلْتُ بِحَمَالَةٍ فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَسْأَلُهُ فِيهَا فَقَالَ أَقِمْ يَا قَبِيصَةُ حَتَّى تَأْتِيَنَا الصَّدَقَةُ فَنَأْمُرَ لَكَ بِهَا ثُمَّ قَالَ يَا قَبِيصَةُ إِنَّ الْمَسْأَلَةَ لَا تَحِلُّ إِلَّا لِأَحَدِ ثَلَاثَةٍ رَجُلٍ تَحَمَّلَ حَمَالَةً فَحَلَّتْ لَهُ الْمَسْأَلَةُ فَسَأَلَ حَتَّى يُصِيبَهَا ثُمَّ يُمْسِكَ وَرَجُلٍ أَصَابَتْهُ جَائِحَةٌ فَاجْتَاحَتْ مَالَهُ فَحَلَّتْ لَهُ الْمَسْأَلَةُ فَسَأَلَ حَتَّى يُصِيبَ قِوَامًا مِنْ عَيْشٍ أَوْ قَالَ سِدَادًا مِنْ عَيْشٍ وَرَجُلٍ أَصَابَتْهُ فَاقَةٌ حَتَّى يَقُولَ ثَلَاثَةٌ مِنْ ذَوِي الْحِجَى مِنْ قَوْمِهِ قَدْ أَصَابَ فُلَانًا الْفَاقَةُ فَحَلَّتْ لَهُ الْمَسْأَلَةُ فَسَأَلَ حَتَّى يُصِيبَ قِوَامًا مِنْ عَيْشٍ أَوْ سِدَادًا مِنْ عَيْشٍ ثُمَّ يُمْسِكَ وَمَا سِوَاهُنَّ مِنْ الْمَسْأَلَةِ سُحْتٌ يَا قَبِيصَةُ يَأْكُلُهَا صَاحِبُهَا سُحْتًا




১৭১৫. কাবীসা ইবনু মুখারিক আল হিলালী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একজনের পাওনা আদায় করে দেয়ার দায়িত্ব নিয়েছিলাম এবং তাই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে এ ব্যাপারে তাঁর সাহায্য চাইলাম। তখন তিনি বললেন: “হে ক্বাবীসা! আমার নিকট সাদাকার কোন মাল আসা পর্যন্ত তুমি অপেক্ষা কর; তবে (আসলেই) আমি তোমাকে দিয়ে দেয়ার আদেশ দেব।“ এরপর বললেন, “হে ক্বাবীসা! সাদাকা তিন ব্যক্তি ছাড়া আর কারো জন্য বৈধ নয়: যে কারো পাওনা আদায় করে দেয়ার যামিন হয় (দায়িত্ব নেয়), তার জন্য সাহায্য চাওয়া বৈধ। এমতাবস্থায় তা (পাওনা) পরিশোধ হওয়ার মতো না পাওয়া পর্যন্ত সে চাইতে পারে। এরপর (পাওনা পরিশোধ পরিমাণ যোগাড় হলে) সে (চাওয়া হতে) বিরত থাকবে। এরপর সেই ব্যক্তি যার উপর কোন বিপদ নিপতিত হয় এবং তার ধন –সম্পত্তি সমূলে শেষ করে দেয়- তার জন্য সাহায্য চাওয়া বৈধ, যতক্ষণ না তা তার জীবন ধারনের জন্য যথেষ্ট -কিংবা তিনি বলেছেন,- জীবন ধারণের উপযোগী হয়ে যায়। এরপর এমন (ধনাঢ্য) ব্যক্তি যার উপর দারিদ্র চেপে বসেছে, যার সম্পর্কে তার গোত্রের তিনজন জ্ঞানী ব্যক্তি সাক্ষ্য দেয় যে, ‘অমুকের উপর দারিদ্র চেপে বসেছে।’ তাহলে তার জন্যও সাহায্য চাওয়া বৈধ, যতক্ষণ না তা তার জীবন ধারনের জন্য যথেষ্ট (প্রয়োজন পরিমাণ) -কিংবা তিনি বলেছেন,- জীবন ধারণের উপযোগী হয়ে যায়। এরপর (যথেষ্ট হয়ে গেলে) সে (চাওয়া হতে) বিরত হয়ে যাবে। হে কাবীসা! এ তিন প্রকার ব্যক্তি ব্যতীত আর কারো জন্য সাহায্য চাওয়া হারাম। যার আহরণকারী তা হারাম রূপে ভক্ষণ করে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: মুসলিম, যাকাত ১০৪৪; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩২৯১, ৩৩৯৫, ৩৩৯৬ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৮৩৮ তে।









সুনান আদ-দারিমী (1716)


حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ عَبَّادِ بْنِ الْعَوَّامِ عَنْ سُفْيَانَ بْنِ حُسَيْنٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَيُّوبَ بْنِ بَشِيرٍ عَنْ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ أَنَّ رَجُلًا سَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الصَّدَقَاتِ أَيُّهَا أَفْضَلُ قَالَ عَلَى ذِي الرَّحِمِ الْكَاشِحِ




১৭১৬. হাকিম ইবনু হিযাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে জিজ্ঞেস করলো, সাদাকাসমূহের মাঝে কোন্ সাদাকাটি উত্তম? তিনি বললেন: “সম্পর্ক ছিন্নকারী নিকটাত্মীয়দেরকে (দেয়া সাদাকা)।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৪৭১৫ তে। ((আহমাদ ৩/৪০২ হাসান সনদে- ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীক্বকৃত দারেমী নং ১৬৭৯ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (1717)


أَخْبَرَنَا أَبُو حَاتِمٍ الْبَصْرِيُّ حَدَّثَنَا ابْنُ عَوْنٍ عَنْ حَفْصَةَ بِنْتِ سِيرِينَ عَنْ أُمِّ الرَّائِحِ بِنْتِ صُلَيْعٍ عَنْ سَلْمَانَ بْنِ عَامِرٍ الضَّبِّيِّ ذَكَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ الصَّدَقَةَ عَلَى الْمِسْكِينِ صَدَقَةٌ وَإِنَّهَا عَلَى ذِي الرَّحِمِ اثْنَتَانِ صَدَقَةٌ وَصِلَةٌ




১৭১৭. সালমান ইবনু আমির আয যবী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “মিসকীনদেরকে দান –খয়রাত করা শুধুমাত্র একটি (সাধারণ) দান বলেই গণ্য হয়; কিন্তু আত্মীয় –স্বজনকে দান করলে তাতে দু’টি (সাওয়াব) হয়: (সাধারণ) দান এবং আত্মীয়তা রক্ষা (এর সাওয়াব) হয়।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ বা উত্তম।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু zwj;হিব্বান নং ৩৩৪৪; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৮৩৩ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৮৪৪ তে। ((তিরমিযী ৬৫৮; ইবনু মাজাহ, যাকাত ১৮৪৪; নাসাঈ, যাকাত বা ৮২; আহমাদ ৪/১৭-১৮; আলবানী সহীহুল জামি’ ৩/২৬৩ এ বলেন: সহীহ।’- ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীক্বকৃত দারেমী নং ১৬৮০ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (1718)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ ابْنِ عُيَيْنَةَ قَالَ وَقَدْ سَمِعْتُهُ مِنَ الثَّوْرِيِّ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ حَفْصَةَ بِنْتِ سِيرِينَ عَنْ الرَّبَابِ عَنْ سَلْمَانَ بْنِ عَامِرٍ الضَّبِّيِّ يَرْفَعُهُ قَالَ الصَّدَقَةُ عَلَى الْمِسْكِينِ صَدَقَةٌ وَهِيَ عَلَى ذِي الرَّحِمِ اثْنَتَانِ صَدَقَةٌ وَصِلَةٌ




১৭১৮. (অপর সনদে) সালমান ইবনু আমির আয্ যবী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু (নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে মারফু’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন যে: “দরিদ্র-মিসকীনদেরকে দান–খয়রাত করা শুধুমাত্র একটি (সাধারণ) দান বলেই গণ্য হয়; কিন্তু আত্মীয়–স্বজনকে দান করলে তাতে দু’টি (সাওয়াব) হয়: (সাধারণ) দান এবং আত্মীয়তা রক্ষা (এর সাওয়াব) হয়।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ বা উত্তম।

তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।









সুনান আদ-দারিমী (1719)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الْأَحْمَرُ عَنْ عَمْرِو بْنِ قَيْسٍ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ صِلَةَ بْنِ زُفَرَ قَالَ كُنَّا عِنْدَ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ فَأُتِيَ بِشَاةٍ مَصْلِيَّةٍ فَقَالَ كُلُوا فَتَنَحَّى بَعْضُ الْقَوْمِ فَقَالَ إِنِّي صَائِمٌ فَقَالَ عَمَّارُ بْنُ يَاسِرٍ مَنْ صَامَ الْيَوْمَ الَّذِي يُشَكُّ فِيهِ فَقَدْ عَصَى أَبَا الْقَاسِمِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ




১৭১৯. সিলা (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা আম্মার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু- এর নিকট ছিলাম। সেখানে একটি ভুনা ছাগল পেশ করা হলে তিনি বললেন: তোমরা খাও। সেখানকার কোনো এক লোক (রোযা থাকার কারণে) তা খাওয়া হতে বিরত রইলো। সে বললো, আমি রোযাদার। তখন আম্মার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেন, যে ব্যক্তি এ সন্দেহপূর্ণ দিবসে রোযা রাখলো, সে তো আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নাফরমানী করেছে।[1]

[1] তাহক্বীক্ব; এর সনদ যঈফ; আমর ইবনু ক্বাইস আবী ইসহাক সাবিঈ হতে কিছু শ্রবন করা হতে পিছিয়ে। তবে হাদীসটি সহীহ লি গায়রিহী।

তাখরীজ: ইবনু হিব্বান নং ৩৫৯৫; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু zwj;হিব্বান নং ৩৫৮৫, ৩৫৯৫, ৩৫৯৬; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৮৭৮ ও মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৬৪৪ তে। (বুখারী, সিয়াম, তা’লিক হিসেবে বাব: ১১; আবূ দাউদ, সিয়াম ২৩৩৪; তিরমিযী, সওম, ৬৮৬; নাসাঈ, সওম বাব; ৩৭; ইবনু মাজাহ, সিয়াম ১৬৪৫; দারুকুতনী, সিয়াম ৫।-- ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীক্বকৃত দারেমী নং ১৬৮২ এর টীকা হতে।–অনুবাদক)









সুনান আদ-দারিমী (1720)


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ أَبِي صَغِيرَةَ عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ قَالَ أَصْبَحْتُ فِي يَوْمٍ قَدْ أُشْكِلَ عَلَيَّ مِنْ شَعْبَانَ أَوْ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ فَأَصْبَحْتُ صَائِمًا فَأَتَيْتُ عِكْرِمَةَ فَإِذَا هُوَ يَأْكُلُ خُبْزًا وَبَقْلًا فَقَالَ هَلُمَّ إِلَى الْغَدَاءِ فَقُلْتُ إِنِّي صَائِمٌ فَقَالَ أُقْسِمُ بِاللَّهِ لَتُفْطِرَنَّ فَلَمَّا رَأَيْتُهُ حَلَفَ وَلَا يَسْتَثْنِي تَقَدَّمْتُ فَعَذَّرْتُ وَإِنَّمَا تَسَحَّرْتُ قُبَيْلَ ذَلِكَ ثُمَّ قُلْتُ هَاتِ الْآنَ مَا عِنْدَكَ فَقَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صُومُوا لِرُؤْيَتِهِ وَأَفْطِرُوا لِرُؤْيَتِهِ فَإِنْ حَالَ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُ سَحَابٌ فَكَمِّلُوا الْعِدَّةَ ثَلَاثِينَ وَلَا تَسْتَقْبِلُوا الشَّهْرَ اسْتِقْبَالًا




১৭২০. সিমাক ইবনু হারব রাহি. বলেন, আমি একদিন সকালে (ঘুম থেকে) জেগে উঠার পর আমার সন্দেহ হলো সেদিনটি শাবান মাসের নাকি রমযান মাসের। ফলে সকালে উঠেই আমি সেদিন রোযা রাখলাম। এরপর আমি ইকরিমা রাহি. এর নিকট আসলাম, তখন তিনি রুটি ও সবজি খাচ্ছিলেন। এমতাবস্থায় তিনি আমাকে বললেন, এসো, সকালের নাস্তা কর।

তখন আমি বললাম, আমি রোযাদার। তখন তিনি বললেন, আমি আল্লাহর নামে কসম করে বলছি, তুমি অবশ্যই রোযা ভঙ্গ করবে।’ এরপর আমি যখন দেখলাম, তিনি কসম করছেন, কিন্তু ‘ইনশা আল্লাহ’ও বলছেন না, তখন আমি সামনে এগিয়ে গেলাম এবং (রোযা রাখার) অজুহাত পেশ করলাম; আর আমি তো এর কিছুক্ষণ পূর্বে সাহারী খেয়েছিলাম। অতঃপর তাঁকে বললাম: ‘এখন আপনার নিকট এ বিষয়ে কী প্রমাণ আছে নিয়ে আসেন।’ তখন তিনি বললেন, ইবনুআব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “(রামাযানের)চাঁদ দেখেতোমরা রোযা রাখবে এবং(শাওয়ালের) চাঁদ দেখে রোযা ভঙ্গ করবে।আর যদি তোমাদের ও চাঁদের মাঝে মেঘ (প্রতিবন্ধকরূপে) থাকে, (অর্থাৎ এসময়মেঘের কারণে চাঁদ দেখতে না পাও), তবে ত্রিশ দিন মেয়াদ পূর্ণ করবে। (রমযান) মাস আসার পূর্বেই তোমরা একে স্বাগত জানাবে না (এগিয়ে আনবে না)।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। ইকরিমা হতে সামাকের বর্ণনাগুলি ‘মুযতারিব’ (বিক্ষিপ্ত)। তবে হাদীসটি সহীহ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৩৫৫; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৫৯০, ৩৫৯৪; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৮৭৩, ৮৭৪; মুসনাদুল হুমাইদী নং ৫২৩; এটি সামনে ১৭২৮ নং এ আসছে সহীহ সনদে।

((আবূ দাউদ, সাওম ২৩২৭; তিরমিযী, সাওম ৬৮৮, তিনি একে হাসান সহীহ বলেছেন; নাসাঈ, সাওম বাব (১৩); আলবানীও তার সহীহহুল জামি’ ৩/২৫১ তে একে সহীহ বলেছেন। ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীক্বকৃত দারেমী নং ১৬৮৩ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))