সুনান আদ-দারিমী
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ وَهْبِ بْنِ مُنَبِّهٍ عَنْ أَخِيهِ عَنْ مُعَاوِيَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تُلْحِفُوا بِي فِي الْمَسْأَلَةِ فَوَاللَّهِ لَا يَسْأَلُنِي أَحَدٌ شَيْئًا فَأُعْطِيَهُ وَأَنَا كَارِهٌ فَيُبَارَكَ لَهُ فِيهِ
১৬৮১. মুআবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমরা আমার নিকট কোনো কিছু চাওয়ার ক্ষেত্রে পীড়াপীড়ি করবে না। কেননা, আল্লাহর কসম, তোমাদের কেউ আমার কাছে এমন জিনিস চাইবে, যা আমি অপছন্দনীয় করি, আর আমি তাকে তা দেব, তাহলে আল্লাহ্ তা’আলা তাতে বরকত দেবেন না।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মসলিম , যাকাত ১০৩৮; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৩৮৯ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৬১৫ তে। আর এর শাহিদ হাদীস রয়েছে যা সামনে ১৬৯০ ও ২৭৯৩ (অনূবাদে ১৬৮৬ ) নং এ আসছে।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرَّقَاشِيُّ حَدَّثَنَا يَزِيدُ هُوَ ابْنُ زُرَيْعٍ أَخْبَرَنَا سَعِيدٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ عَنْ مَعْدَانَ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ عَنْ ثَوْبَانَ مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ سَأَلَ النَّاسَ مَسْأَلَةً وَهُوَ عَنْهَا غَنِيٌّ كَانَتْ شَيْنًا فِي وَجْهِهِ
১৬৮২. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুক্তদাস ছাওবান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “সচ্ছল হওয়া সত্বেও যে ব্যক্তি লোকদের নিকট চেয়ে চেয়ে বেড়াবে, (কিয়ামত দিবসে) তার মুখমণ্ডল বিকৃত হয়ে যাবে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৪৫৮৯ তে। ((আহমাদ ও বাযযার ও তাবারাণী তার কাবীরে, আর এর রাবীগণ সকলেই বিশ্বস্ত।– ফাওয়ায আহমেদের দারেমী ১৬৪৫ এর টীকা হতে।– অনুবাদক))
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ الْمُبَارَكِ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّ نَاسًا مِنْ الْأَنْصَارِ سَأَلُوا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَعْطَاهُمْ ثُمَّ سَأَلُوهُ فَأَعْطَاهُمْ حَتَّى إِذَا نَفِدَ مَا عِنْدَهُ قَالَ مَا يَكُونُ عِنْدِي مِنْ خَيْرٍ فَلَنْ أَدَّخِرَهُ عَنْكُمْ وَمَنْ يَسْتَعِفَّ يُعِفَّهُ اللَّهُ وَمَنْ يَسْتَغْنِ يُغْنِهِ اللَّهُ وَمَنْ يَتَصَبَّرْ يُصَبِّرْهُ اللَّهُ وَمَا أُعْطِيَ أَحَدٌ عَطَاءً هُوَ خَيْرٌ وَأَوْسَعُ مِنْ الصَّبْرِ
১৬৮৩. আবূ সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। আনসারের কিছু লোক একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট কিছু সাহায্য প্রার্থনা করলে তিনি তাদের কিছু সাহায্য দিলেন। এরপর তারা আবার সাহায্য চাইলে তিনি তাদের তা দিলেন। অত:পর যখন তা শেষ হয়ে গেলো তখন তিনি বললেনঃ আমার কাছে যে অর্থ-সম্পদ আছে তোমাদের না দিয়ে আমি তা কখনো পুঞ্জিভূত করে রাখি না। যে মুখাপেক্ষীহীন হতে চায় আল্লাহ তাকে মুখাপেক্ষীহীন করে দেন। যে ব্যক্তি (যাঞ্চা থেকে) পবিত্র থাকতে চায় আল্লাহ তাকে পবিত্র রাখেন, যে ব্যক্তি ধৈর্য ধারণের তওফীক চায় আল্লাহ তাকে ধৈর্য ধারণের তওফীক দিয়ে দেন। ধৈর্য ধারণের চেয়ে উত্তম এবং ব্যাপক সম্পদ কাউকে প্রদান করা হয়নি।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী, ১৪৬৯; মুসলিম, যাকাত ১০৫৩; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১১২৯, ১২৬৭, ১৩৫২ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৪০০ তে।
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ قَالَ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ حَدَّثَنِي يُونُسُ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَالِمٍ أَنَّهُ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُعْطِينِي الْعَطَاءَ فَأَقُولُ أَعْطِهِ مَنْ هُوَ أَفْقَرُ إِلَيْهِ مِنِّي فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خُذْهُ وَمَا آتَاكَ اللَّهُ مِنْ هَذَا الْمَالِ وَأَنْتَ غَيْرُ مُشْرِفٍ وَلَا سَائِلٍ فَخُذْهُ وَمَا لَا فَلَا تُتْبِعْهُ نَفْسَكَ
১৬৮৪. আব্দুল্লাহ (ইবনু উমার) রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি উমার ইবনুল খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে কোনো একটি জিনিস দান করলেন। তখন আমি বললাম, এটি এমন কাউকে দিন, আমার চেয়েও এটি যার অধিক প্রয়োজন। তিনি বললেন, তুমি এটা নাও, আর তোমার চাওয়া এবং লালসা ব্যতীতে আল্লাহ যে সম্পদই তোমাকে দান করেন, তুমি তা নেবে। অন্যথায় তুমি তোমার মনকে তার পেছনে ধাবিত করবে না।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। তবে হাদীসটি (সহীহ এবং) বুখারী ও মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বুখারী, যাকাত ১৪৭৩, আহকাম ৭১৬৪; মুসলিম, যাকাত ১০৪৫। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৬৭ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৩০৫ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ২১ তে। এবং পরবর্তী টীকা দু’টিও দেখুন।
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ عَنْ شُعَيْبِ بْنِ أَبِي حَمْزَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ حَدَّثَنِي السَّائِبُ بْنُ يَزِيدَ أَنَّ حُوَيْطِبَ بْنَ عَبْدِ الْعُزَّى أَخْبَرَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ السَّعْدِيِّ أَخْبَرَهُ عَنْ عُمَرَ بِنَحْوِهِ
১৬৮৫. আব্দুল্লাহ ইবনু সা’দী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ; এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি। আবীল ইয়ামান হাকাম ইবনু নাফি’ হতে এটি বুখারী, আহকাম ৭১৬৩ তে বর্ণনা করেছেন। আগের এবং পরের হাদীসটি দেখুন।
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ بُكَيْرٍ عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ عَنْ ابْنِ السَّعْدِيِّ قَالَ اسْتَعْمَلَنِي عُمَرُ فَذَكَرَ نَحْوًا مِنْهُ
১৬৮৬. (অপর সনদে) আব্দুল্লাহ ইবনু সা’দী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আমাকে (সাদাকা আদায়কারী রূপে) নিযুক্ত করেন…“ অত:পর তিনি তাঁর (উমার রা:) থেকে এরূপ বর্ণনা করেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ; এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি। কুতাইবা ইবনু সাঈদ হতে মুসলিম, যাকাত ১০৪৫ (১১২)। পূর্ণ তাখরীজের জন্য আগের টীকা দু’টি দেখুন।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ وَعُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ أَنَّ حَكِيمَ بْنَ حِزَامٍ قَالَ سَأَلْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَعْطَانِي ثُمَّ سَأَلْتُهُ فَأَعْطَانِي ثُمَّ سَأَلْتُهُ فَأَعْطَانِي ثُمَّ سَأَلْتُهُ فَقَالَ يَا حَكِيمُ إِنَّ هَذَا الْمَالَ خَضِرٌ حُلْوٌ فَمَنْ أَخَذَهُ بِسَخَاوَةِ نَفْسٍ بُورِكَ لَهُ فِيهِ وَمَنْ أَخَذَهُ بِإِشْرَافِ نَفْسٍ لَمْ يُبَارَكْ لَهُ فِيهِ وَكَانَ كَالَّذِي يَأْكُلُ وَلَا يَشْبَعُ
১৬৮৭. হাকীম ইবনু হিযাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি একবার রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম –এর কাছে কিছু (সাহায্য) চাইলে তিনি আমাকে দান করলেন। এরপর আমি তাঁর কাছে পুনরায় চাইলে তিনি আমাকে কিছু দান (সাহায্য) করলেন। এরপর আমি তাঁর কাছে পুনরায় চাইলে তিনি এবারও আমাকে কিছু দান (সাহায্য) করলেন। এরপর পুনরায় চাইলাম, তখন তিনি বললেন, হে হাকীম! এ সমস্ত ধন- সম্পদ সবুজ-শ্যামল ও সুমিষ্ট। ফলে যে ব্যক্তি সেগুলো লোভ-লালসামুক্ত মন নিয়ে গ্রহণ করে, তার জন্য তাতে বরকত দেয়া হয়। আর যে ব্যক্তি তা লোভাতুর অন্তরে গ্রহণ করে, তার জন্য তাতে বরকত দেয়া হয় না। সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় হয়ে যায়, যে আহার করে কিন্তু পরিতৃপ্ত হয় না।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটি বুখারী ও মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বুখারী, যাকাত, ১৪৭২; মুসলিম, যাকাত ১০৫৩; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩২২০, ২৪০২, ২৪০৬ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৫৬৩ তে। সামনে ২৭৯৩ এ আসছে।
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ حَدَّثَنِي هِشَامٌ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ خَيْرُ الصَّدَقَةِ مَا تُصُدِّقَ بِهِ عَنْ ظَهْرِ غِنًى وَلْيَبْدَأْ أَحَدُكُمْ بِمَنْ يَعُولُ
১৬৮৮. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: “সচ্ছল অবস্থায় যে দান করা হয়, সেটিই সর্বোত্তম দান। আর তোমরা যাদের ভরণ-পোষণ করো, প্রথমে তাদেরকে দান করার মাধ্যমেই (দান) শুরু করবে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। তবে হাদীসটি সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী, যাকাত ১৪২৬; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৩৬৩, ৪২৪৩ তে।
সেখানে আরো সংযোজন করছি: এটি আরো বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাযযাক নং ১৬৪০৪; ইবনু খুযাইমা, আস সহীহ নং ২৪৩৯; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ১৬৭৪, ১৬৭৫; দাওলাবী, আল কুন্নী ১/১০৮; ইবনু আদী, আল কামিল ৪/১৫৮৬; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ৩৪১৯, ৮৫৭৫; আল মা’রিফাতুস সুনান ওয়াল আছার নং ৮৫০১।
أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ الْيَدُ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِنْ الْيَدِ السُّفْلَى قَالَ وَالْيَدُ الْعُلْيَا يَدُ الْمُعْطِي وَالْيَدُ السُّفْلَى يَدُ السَّائِلِ
১৬৮৯. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: “নিচের হাতের চেয়ে উপরের হাত উত্তম।“তিনি বলেন, “উপরের হাত হলো দাতার হাত এবং নিচের হাত হলো দান প্রার্থীর (যাচ্ঞাকারীর) হাত।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বুখারী, যাকাত ১৪২৯; মুসলিম, যাকাত ১০৩৩।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৭৩০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৩৬১, ৩৩৬৪ তে।
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ قَالَ سَمِعْتُ مُوسَى بْنَ طَلْحَةَ يَذْكُرُ عَنْ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَيْرُ الصَّدَقَةِ عَنْ ظَهْرِ غِنًى وَالْيَدُ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِنْ الْيَدِ السُّفْلَى وَابْدَأْ بِمَنْ تَعُولُ
১৬৯০. হাকিম ইবনু হিযাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “সচ্ছল অবস্থায় যে দান করা হয়, সেটিই সর্বোত্তম দান। আর উপরের হাত (দাতা) নিচের হাত (গ্রহীতা) হতে উত্তম। আর তোমরা যাদের ভরণ-পোষণ করো, প্রথমে তাদেরকে দান করার মাধ্যমেই (দান) শুরু করবে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বাইহাকী, যাকাত ৪/১৮০। ((বুখারী, যাকাত ১৪২৭; মুসলিম, যাকাত ১০৩৪; নাসাঈ, যাকাত ৫/৬৯; আহমাদ ৩/৪০২-৪০৩- ফাওয়ায আহমেদের দারেমী হা/১৬৫৩ নং হাদীসের টীকা হতে। -অনুবাদক))
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ سُلَيْمَانُ أَخْبَرَنِي قَالَ سَمِعْتُ أَبَا وَائِلٍ يُحَدِّثُ عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ عَنْ زَيْنَبَ امْرَأَةِ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّهَا قَالَتْ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَا مَعْشَرَ النِّسَاءِ تَصَدَّقْنَ وَلَوْ مِنْ حُلِيِّكُنَّ وَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ خَفِيفَ ذَاتِ الْيَدِ فَجِئْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَسْأَلُهُ فَوَافَقَتْ زَيْنَبَ امْرَأَةٌ مِنْ الْأَنْصَارِ تَسْأَلُ عَمَّا أَسْأَلُ عَنْهُ فَقُلْتُ لِبِلَالٍ سَلْ لِي رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيْنَ أَضَعُ صَدَقَتِي عَلَى عَبْدِ اللَّهِ أَوْ فِي قَرَابَتِي فَسَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَيُّ الزَّيَانِبِ فَقَالَ امْرَأَةُ عَبْدِ اللَّهِ فَقَالَ لَهَا أَجْرَانِ أَجْرُ الْقَرَابَةِ وَأَجْرُ الصَّدَقَةِ
১৬৯১. আব্দুল্লাহ’র স্ত্রী যাইনাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “হে নারী সমাজ! তোমরা সাদাকা কর যদিও তা তোমাদের অলংকারই হোক না কেন। রাবী বলেন, আবদুল্লাহ দরিদ্র ছিলেন। ফলে আমি এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম –এর নিকট এসে (দেখলাম তাঁর দরজার সামনে দণ্ডায়মান) যয়নাব নাম্নী অপর একজন আনসারী মহিলার সাথে (আমার বিষয়টি) মিলে গেলো এবং আমি যে ব্যাপারে প্রশ্ন করতে এসেছি তিনিও সে ব্যাপারেই প্রশ্ন করছেন। তখন আমি বিলালকে বললাম যে, আপনি আমার পক্ষ হতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম –এর কাছে গিয়ে এ ব্যাপারে তাঁকে জিজ্ঞাসাকরুন যে, আমি আমার সাদাকা কোথায় দান করবো- আব্দুল্লাহ’কে নাকি আমার আত্মীয়-স্বজনকে? তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম –এর কাছে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন তিনি প্রশ্ন করলেন, “কোন্ যাইনাব?“ তিনি (বিলাল) বললেন, আবদুল্লাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর স্ত্রী যয়নাব। তিনি বললেন, হ্যাঁ; তার জন্য দু’টি (দুই গুণ) সাওয়াব রয়েছে, আত্মীয়তার (সম্পর্ক বজায় রাখার) সাওয়াব এবং দান করার সাওয়াব।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আহমাদ ৩/৪০২, ৪৩৪; মুসলিম, যাকাত ১০৩৪; তিরমিযী, যাকাত ৬৩৫; বাইহাকী, যাকাত ৪/১৮০; শুয়াবুল ঈমান নং ৩৪১৮; নাসাঈ, আল কুবরা নং ২৩২৩; বুখারী, যাকাত ১৪২৭।
আর এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবী হুরাইরা হতে বুখারী ও মুসলিমের সম্মিলিতভাবে বর্ণিত, আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মা্ওসিলী নং ৬৫৮৫ তে।
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ الْمُبَارَكِ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ إِسْحَقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ عَنْ أَنَسٍ قَالَ كَانَ أَبُو طَلْحَةَ أَكْثَرَ أَنْصَارِيٍّ بِالْمَدِينَةِ مَالًا نَخْلًا وَكَانَتْ أَحَبَّ أَمْوَالِهِ إِلَيْهِ بَيْرُحَاءُ وَكَانَتْ مُسْتَقْبِلَةَ الْمَسْجِدِ وَكَانَ يَدْخُلُهَا وَيَشْرَبُ مِنْ مَائِهَا طَيِّبٌ فَقَالَ أَنَسٌ فَلَمَّا أُنْزِلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ قَالَ إِنَّ أَحَبَّ أَمْوَالِي إِلَيَّ بَيْرُحَاءُ وَإِنَّهَا صَدَقَةٌ لِلَّهِ أَرْجُو بِرَّهَا وَذُخْرَهَا عِنْدَ اللَّهِ فَضَعْهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ حَيْثُ شِئْتَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَخٍ ذَلِكَ مَالٌ رَابِحٌ أَوْ رَائِحٌ وَقَدْ سَمِعْتُ مَا قُلْتَ فِيهِ وَإِنِّي أَرَى أَنْ تَجْعَلَهُ فِي الْأَقْرَبِينَ فَقَالَ أَبُو طَلْحَةَ أَفْعَلُ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَسَّمَهُ أَبُو طَلْحَةَ فِي قَرَابَةِ بَنِي عَمِّهِ
১৬৯২. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মদীনার আনসারগণের মধ্যে আবূ তালহা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সবচাইতে বেশি খেজুর বাগানের মালিক ছিলেন। মসজিদে নাববীর সম্মুখে অবস্থিত বায়রূহা নামক বাগানটি তাঁর নিকট অধিক প্রিয় ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর বাগানে প্রবেশ করে এর সুপেয় পানি পান করতেন। আনাস রা: বলেন, যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হলো: “তোমরা যা ভালবাস তা হতে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনো পূণ্য লাভ করতে পারবে না“- (সূরা আলে ইমরাণ: ৯২)। তখন তিনি বললেন, আমার সকল মাল-সম্পদের মধ্যে বায়রূহা বাগানটিকে আমি অধিক ভালবাসি। ফলে এটিকে আল্লাহর নামে সাদাকাহ করা হলো। আমি এর সাওয়াব ও সঞ্চিত সম্পদ (বিনিময়) আ্ল্লাহর নিকটই আশা করি। তাই আপনি যাকে ইচ্ছা তাকে এটি দান করুন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “বেশ তো! এটি হচ্ছে লাভজনক কিংবা অগ্রাধিকারযোগ্য সম্পদ। তুমি যা বলেছো, তা আমি শুনেছি। আর আমি মনে করি, তুমি তোমার আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে এটি বন্টন করে দাও।“ তখন আবূ তালহা বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি তাই করব। এরপর আবূ তালহা সেটি তাঁর চাচার বংশধর আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে এটি বন্টন করে দিলেন।[1]
[1]তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মালিক, সাদাকা (২); বুখারী, যাকাত ১৪৬১; মুসলিম, যাকাত ৯৯৬। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি zwj;মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩৭৩২ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৩৪০ তে।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ حَدَّثَنَا أَبِي عَنْ قَتَادَةَ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ هَيَّاجِ بْنِ عِمْرَانَ عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ قَالَ مَا خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَّا أَمَرَنَا فِيهَا بِالصَّدَقَةِ وَنَهَانَا عَنْ الْمُثْلَةِ
১৬৯৩. ইমরান ইবনু হুসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক আমাদের সামনে প্রদত্ত প্রতিটি খুতবাতেই তিনি আমাদেরকে দান করার নির্দেশ দিতেন এবং অঙ্গছেদন (হাত, পা ইত্যাদি কর্তন) করতে নিষেধ করতেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ শক্তিশালী।
তাখরীজ: বুখারী, গোসল ২৯১; মুসলিম, হায়িয ৩৪৮; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মু’জামুস শুয়ূখ আবী ইয়ালা নং ১৬৪ ও মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৭০৬০।
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ مُرَّةَ قَالَ سَمِعْتُ خَيْثَمَةَ عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اتَّقُوا النَّارَ وَلَوْ بِشِقِّ تَمْرَةٍ فَإِنْ لَمْ تَجِدُوا فَبِكَلِمَةٍ طَيِّبَةٍ
১৬৯৪. আদী ইবনু হাতিম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমরা আগুন থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করো, যদিও তা এক টুকরা খেজুর (সাদাকা করার) দ্বারাও হয়। আর যদি তাও না পাও, তবে উত্তম কথার দ্বারা।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বুখারী, যাকাত ১৪১৩; মুসলিম, যাকাত ১০১৬; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৭৩, ৬৬৬, ২৮০৪ তে।
أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدِّمَشْقِيُّ دُحَيْمٌ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَسْلَمَةَ عَنْ إِسْمَعِيلَ بْنِ أُمَيَّةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لُبَابَةَ أَنَّ أَبَا لُبَابَةَ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ لَمَّا رَضِيَ عَنْهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ مِنْ تَوْبَتِي أَنْ أَهْجُرَ دَارَ قَوْمِي وَأُسَاكِنَكَ وَأَنْخَلِعَ مِنْ مَالِي صَدَقَةً لِلَّهِ وَلِرَسُولِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُجْزِي عَنْكَ الثُّلُثُ
১৬৯৫. আব্দুর রহমান ইবনু আবী লুবাবাহ হতে বর্ণিত, আবী লুবাবাহ তার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার প্রতি সন্তুষ্ট হলেন, তখন তিনি বলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার তওবা (সম্পূর্ণ করার উদ্দেশ্যে) আমি আমার সম্প্রদায়ের বাসস্থান হতে হিজরাত করে আপনার নিকট বসবাস করতে চাই এবং আমার সমস্ত মাল আল্লাহর উদ্দেশ্যে ও তাঁর রাসূলের জন্য সাদাকা হিসেবে দান করে দিতে চাই। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “তোমার (মালের) এক তৃতীয়াংশ (সাদাকা করা)-ই যথেষ্ট।“[1]
[1]তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদে দু’টি ত্রুটি বিদ্যমান। এক. সাঈদ ইবনুল মাসলামাহ যঈফ; দুই. আব্দুর রহমান ইবনু আবী লুবাবাহ পরিচয়হীনতা। তবে হাদীসটি সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৩৭১ ও মাওয়ারিদুয যামআন নং ৮৪১ তে।
أَخْبَرَنَا يَعْلَى وَأَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَقَ عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ قَتَادَةَ عَنْ مَحْمُودِ بْنِ لَبِيدٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ بَيْنَا نَحْنُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذْ جَاءَ رَجُلٌ بِمِثْلِ الْبَيْضَةِ مِنْ ذَهَبٍ أَصَابَهَا فِي بَعْضِ الْمَغَازِي قَالَ أَحْمَدُ فِي بَعْضِ الْمَعَادِنِ وَهُوَ الصَّوَابُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ خُذْهَا مِنِّي صَدَقَةً فَوَاللَّهِ مَا لِي مَالٌ غَيْرَهَا فَأَعْرَضَ عَنْهُ ثُمَّ جَاءَهُ عَنْ رُكْنِهِ الْأَيْسَرِ فَقَالَ مِثْلَ ذَلِكَ ثُمَّ جَاءَهُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ فَقَالَ مِثْلَ ذَلِكَ ثُمَّ قَالَ هَاتِهَا مُغْضَبًا فَحَذَفَهُ بِهَا حَذْفَةً لَوْ أَصَابَهُ لَأَوْجَعَهُ أَوْ عَقَرَهُ ثُمَّ قَالَ يَعْمِدُ أَحَدُكُمْ إِلَى مَالِهِ لَا يَمْلِكُ غَيْرَهُ فَيَتَصَدَّقُ بِهِ ثُمَّ يَقْعُدُ يَتَكَفَّفُ النَّاسَ إِنَّمَا الصَّدَقَةُ عَنْ ظَهْرِ غِنًى خُذْ الَّذِي لَكَ لَا حَاجَةَ لَنَا بِهِ فَأَخَذَ الرَّجُلُ مَالَهُ وَذَهَبَ قَالَ أَبُو مُحَمَّد كَانَ مَالِكٌ يَقُولُ إِذَا جَعَلَ الرَّجُلُ مَالَهُ فِي الْمَسَاكِينِ يَتَصَدَّقُ بِثُلُثِ مَالِهِ
১৬৯৬. জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট উপস্থিত ছিলাম। এমতাবস্থায় জনৈক ব্যক্তি ডিমের পরিমাণ এক টুকরা স্বর্ণ-যা সে কোনো যুদ্ধে (গণিমাত হিসেবে) –(বর্ণনাকারী আহমাদ বলেন, ‘কোনো খনিতে’- আর সেটিই সঠিক)- পেয়েছিল- তা নিয়ে তাঁর নিকট উপস্থিত হলো। অত:পর সে বললো, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার নিকট থেকে এটি সাদাকা হিসেবে গ্রহণ করুন। আল্লাহর কসম! এ ব্যতীত আমার আর কোনোই সম্পদ নেই। তখন তিনি তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। এরপর সে বাম পাশ থেকে এসে পুণরায় একই কথা বললো। এরপর সে সামনে দিয়ে এসে পুণরায় একই কথা বললো। তখন তিনি রেগে গিয়ে বললেন: “যাও, নিয়ে এসো!“ এরপর তিনি সেটি (নিয়ে) এত জোরে তার দিকে নিক্ষেপ করলেন যে, যদি সেটি তার গায়ে লাগত তবে নিশ্চয়ই সে আঘাত পেতো, কিংবা আহত হতো। অত:পর তিনি বললেন: “তোমাদের কেউ তার মালিকানার সমস্ত মাল-সম্পদ নিয়ে এসে বলে, ‘এটা সাদাকা স্বরূপ (দান করলাম)।’ অত:পর সে লোকদের নিকট সাহায্যের জন্য স্বীয় হাত প্রসারিত করে। (জেনে রাখো!) উত্তম সাদাকা তো তাই- যা সচ্ছল অবস্থায় দেওয়া হয়। (এরপর লোকটিকে উদ্দেশ্যে করে বললেন:) তোমার মাল তুমি নিয়ে যাও, এতে আমাদের কোনোই প্রয়োজন নেই।“
এরপর লোকটি তার মাল নিয়ে চলে গেলো।[1] আবূ মুহাম্মদ বলেন, মালিক বলতেন, যখন কোনো লোক তার মাল মিসকীনদেরকে দান করতে চাই, তখন সে যেন তার মালের এক তৃতীয়াংশ দান করে।
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর রাবীগণ সকলেই বিশ্বস্ত তবে ইবনু ইসহাক এটি আন’আন পদ্ধতিতে বর্ণনা করেছেন, আর তিনি মুদাল্লিস রাবী। ((আলবানী একে হাসান বলেছেন, আবু দাউদ ১৬৫৭-অনুবাদক))।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২০৮৪; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৩৭২ ও মাওয়ারিদুয যামআন নং ৮৩৯ তে। ((আবূ দাউদ, যাকাত ১৬৭৩-অনুবাদক))
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ قَالَ أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ نَتَصَدَّقَ فَوَافَقَ ذَلِكَ مَالًا عِنْدِي فَقُلْتُ الْيَوْمَ أَسْبِقُ أَبَا بَكْرٍ إِنْ سَبَقْتُهُ يَوْمًا فَجِئْتُ بِنِصْفِ مَالِي فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا أَبْقَيْتَ لِأَهْلِكَ قُلْتُ مِثْلَهُ قَالَ فَأَتَى أَبُو بَكْرٍ بِكُلِّ مَا عِنْدَهُ فَقَالَ يَا أَبَا بَكْرٍ مَا أَبْقَيْتَ لِأَهْلِكَ فَقَالَ أَبْقَيْتُ لَهُمْ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقُلْتُ لَا أُسَابِقُكَ إِلَى شَيْءٍ أَبَدًا
১৬৯৭. উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম আামাদেরকে দান করার নির্দেশ দিলেন। ঘটনাক্রমে সেদিন আমার নিকট মাল ছিল। আমি (মনে মনে) বললাম: আজকে আমি আবূ বাকর রা: এর চাইতে (দানের ব্যাপারে) অগ্রগামী হবই, যদিও কোনোদিনই আমি তার চেয়ে অগ্রগামী হতে পারিনি। তাই আমি আমার অর্ধেক মাল নিয়ে আসলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি তোমার পরিবারের জন্য কি রেখে এসেছো?“ আমি বললাম, এর সমপরিমাণ সম্পদ। উমার রা: বলেন, আর আবূ বাকর রা: আনলেন তাঁর সমস্ত মাল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি তোমার পরিবারের জন্য কি রেখে এসেছো?“ তিনি বললেন, আমি তাদের জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকেই রেখে এসেছি। উমার রা: বলেন, তখন আমি বললাম, আমি (ভবিষ্যতে) আর কোনোদিন কোনো ব্যাপারে (অধিক ফযীলতের অধিকারী হওয়ার জন্য) আপনার সাথে প্রতিযোগীতা করব না।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান, হিশাম ইবনু সা’দের কারণে।
তাখরীজ: আবূ দাউদ, যাকাত ১৬৭৮; তিরমিযী, মানাকিব ৩৬৭৬।
أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ فَرَضَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ زَكَاةَ الْفِطْرِ مِنْ رَمَضَانَ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ أَوْ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ عَلَى كُلِّ حُرٍّ وَعَبْدٍ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى مِنْ الْمُسْلِمِينَ قِيلَ لِأَبِي مُحَمَّدٍ تَقُولُ بِهِ قَالَ مَالِكٌ كَانَ يَقُولُ بِهِ
১৬৯৮. আব্দুল্লাহ্ ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে, স্বাধীন লোক অথবা গোলাম, পুরুষ অথবা স্ত্রীলোক নির্বিশেষে প্রত্যেক মুসলিমের উপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক সা’আ পরিমাণ খেজুর অথবা এক সা’আ পরিমাণ যব রামাযান মাসের ফিতরা হিসাবে নির্ধারণ করে দিয়েছেন।[1]
আবূ মুহাম্মদ কে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কি এমত গ্রহণ করেছেন? তিনি বললেন, মালিক এ মতামত দিতেন।
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ শক্তিশালী। আর হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বুখারী, যাকাত ১৫০৪; মুসলিম, যাকাত ৯৮৪; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৮৩৪; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৩০১, ৩৩০২, ৩৩০৩, ৩৩০৪ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৭১৮ তে।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِزَكَاةِ الْفِطْرِ عَنْ كُلِّ صَغِيرٍ وَكَبِيرٍ حُرٍّ أَوْ عَبْدٍ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ أَوْ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ قَالَ ابْنُ عُمَرَ فَعَدَلَهُ النَّاسُ بِمُدَّيْنِ مِنْ بُرٍّ
১৬৯৯. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছোট-বড়, স্বাধীন- দাস – নির্বিশেষে প্রত্যেকের পক্ষ থেকে এক সা’আ পরিমাণ যব অথবা এক সা’আ পরিমাণ খেজুর যাকাতুল ফিতর হিসাবে আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, কিন্তু পরবর্তিতে লোকেরা দুই ‘মুদ্দ’ পরিমাণ গমকে এর সমপরিমাণ ধরে নিয়েছে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটিও বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ قَيْسٍ عَنْ عِيَاضِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ كُنَّا نُخْرِجُ زَكَاةَ الْفِطْرِ إِذْ كَانَ فِينَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ كُلِّ صَغِيرٍ وَكَبِيرٍ حُرٍّ وَمَمْلُوكٍ صَاعًا مِنْ طَعَامٍ أَوْ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ أَوْ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ أَوْ صَاعًا مِنْ أَقِطٍ أَوْ صَاعًا مِنْ زَبِيبٍ فَلَمْ يَزَلْ ذَلِكَ كَذَلِكَ حَتَّى قَدِمَ عَلَيْنَا مُعَاوِيَةُ الْمَدِينَةَ حَاجًّا أَوْ مُعْتَمِرًا فَقَالَ إِنِّي أَرَى مُدَّيْنِ مِنْ سَمْرَاءِ الشَّامِ يَعْدِلُ صَاعًا مِنْ التَّمْرِ فَأَخَذَ النَّاسُ بِذَلِكَ قَالَ أَبُو سَعِيدٍ أَمَّا أَنَا فَلَا أَزَالُ أُخْرِجُهُ كَمَا كُنْتُ أُخْرِجُهُ قَالَ أَبُو مُحَمَّد أَرَى صَاعًا مِنْ كُلِّ شَيْءٍ
১৭০০. আবূ সাঈদ আল–খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের মাঝে থাকা অবস্থায় আমরা ছোট-বড়, স্বাধীন- দাস – নির্বিশেষে প্রত্যেকের পক্ষ থেকে এক সা’আ খাবার অথবা এক সা’আ খেজুর অথবা এক সা’আ যব অথবা এক সা’ পনির অথবা এক সা’ কিশমিশ যাকাতুল ফিতর হিসেবে দান করতাম। এটি এভাবেই চলে আসছিল। কিন্তু মুআবিয়া (রা) হজ্জ্ব কিংবা উমরার সফরে মাদিনায় এসে বললেন, আমি দেখছি, শামের (সিরিয়ার) দুই মুদ্দ গম এক সা’আ খেজুরের সমান। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর লোকেরা এটাই (এ মতটিই) অবলম্বন করলো। আবূ সাঈদ (রা) বলেন, কিন্তু আমি পূর্বে যেভাবে আদায় করতাম, সেভাবেই আদায় করতে থাকব।[1]
আবূ মুহাম্মদ বলেন, আমার মতে, প্রত্যেক জিনিসের (খাদ্যের) এক সা’আ পরিমাণ (দিয়েই আদায় করা যাবে)।
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বুখারী, যাকাত ১৫০৬; মুসলিম, যাকাত ৯৮৫।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১২২৭; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৩০৫, ৩৩০৬ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৭১৮।