হাদীস বিএন


সুনান আদ-দারিমী





সুনান আদ-দারিমী (1761)


حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا لَيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْأَشَجِّ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ سَعِيدٍ الْأَنْصَارِيِّ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ هَشِشْتُ فَقَبَّلْتُ وَأَنَا صَائِمٌ فَجِئْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ إِنِّي صَنَعْتُ الْيَوْمَ أَمْرًا عَظِيمًا قَبَّلْتُ وَأَنَا صَائِمٌ قَالَ أَرَأَيْتَ لَوْ مَضْمَضْتَ مِنْ الْمَاءِ قُلْتُ إِذًا لَا يَضِيرُ قَالَ فَفِيمَ




১৭৬১. জাবির ইবন আবদুল্লাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমার ইবনুল খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, একদা রোযাদার অবস্থায় আমি (আমার স্ত্রীর সাথে) আনন্দ করতে করতে চুম্বন করে ফেলি। এরপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে বলি, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আজ আমি একটি গুরুতর কাজ করে ফেলেছি - রোযাদার অবস্থায় আমি (আমার স্ত্রীকে) চুম্বন করে ফেলেছি।’ তিনি বলেন, “তুমি যদি (রোযাদার অবস্থায়) পানি দিয়ে কুলি করতে, তবে (সে ক্ষেত্রে) তোমার মতামত কি? আমি বলি, ‘সেক্ষেত্রে তো কোন ক্ষতি হতো না।’ তিনি বললেন: “তদ্রূপ এতে আর কি?“[1] (কোনো ক্ষতি নেই)।

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৫৪৪ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৯০৫ তে। এছাড়া ইবনু হাযম আল মুহাল্লা ৬/২০৯ আবূ দাউদের সনদে। ((আবূ দাউদ ২৩৮৫-অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (1762)


أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ يَعْنِي ابْنَ جُرَيْجٍ قَالَ أَخْبَرَنِي ابْنُ شِهَابٍ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ أَخْبَرَهُ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ أُمَّ سَلَمَةَ وَعَائِشَةَ أَخْبَرتَاهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُصْبِحُ جُنُبًا مِنْ أَهْلِهِ ثُمَّ يَصُومُ




১৭৬২. উম্মু সালামাহ ও আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা উভয়ে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পরিজনের সাথে (সহবাস জনিত) কারণে ‘জুনুবী’ (অপবিত্র) অবস্থায় ভোরে উপনীত হতেন এবং এরপর রোযা রাখতেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।

তাখরীজ: বুখারী, সওম ১৯২৬; মুসলিম, সিয়াম ১১০৯।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৪৮৭, ৩৪৮৯, ৩৪৯৬, ৩৪৯৮ তে। আর আয়িশা রা: এর একাকী বর্ণিত হাদীসটির তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৪২৭, ৪৫৫১, ৪৬৩৭ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৪৮৮, ৩৪৯০, ৩৪৯১ তে।

আর উম্মু সালামার হাদীসটির পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৫৪৫, ৬৯৬২, ৬৯৯৯; ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৫০০ তে।









সুনান আদ-দারিমী (1763)


أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ هِشَامِ بْنِ حَسَّانَ عَنْ ابْنِ سِيرِينَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ نَسِيَ وَهُوَ صَائِمٌ فَأَكَلَ أَوْ شَرِبَ فَلْيُتِمَّ صَوْمَهُ فَإِنَّمَا أَطْعَمَهُ اللَّهُ وَسَقَاهُ




১৭৬৩. আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি সাওমরত অবস্থায় ভুলক্রমে আহার করে বা পান করে ফেলে, তবে সে যেন তার সাওম পুরা করে নেয়। কেননা আল্লাহই তাকে আহার করিয়েছেন এবং তিনিই তাকে পান করিয়েছেন।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।

তাখরীজ: বুখারী, সওম ১৯৩৩; মুসলিম, সিয়াম ১১৫৫।

রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬০৩৮, ৬০৫৮, ৬০৭১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৫১৯, ৩৫২০, ৩৫২২ তে।









সুনান আদ-দারিমী (1764)


أَخْبَرَنَا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ مِهْرَانَ الْجَمَّالُ حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَعِيلَ عَنْ الْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي ذُبَابٍ عَنْ عَمِّهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَكَلَ أَحَدُكُمْ أَوْ شَرِبَ نَاسِيًا وَهُوَ صَائِمٌ ثُمَّ ذَكَرَ فَلْيُتِمَّ صِيَامَهُ فَإِنَّمَا أَطْعَمَهُ اللَّهُ وَسَقَاهُ قَالَ أَبُو مُحَمَّد أَهْلُ الْحِجَازِ يَقُولُونَ يَقْضِي وَأَنَا أَقُولُ لَا يَقْضِي




১৭৬৪. আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি সাওমরত অবস্থায় যদি ভুলক্রমে কিছু আহার করে বা পান করে ফেলে, এরপর তার (সিয়ামের কথা) স্মরণ হয়, তবে সে যেন তার সাওম পুরা করে নেয়। কেননা আল্লাহই তাকে আহার করিয়েছেন এবং তিনিই তাকে পান করিয়েছেন।“[1]

আবূ মুহাম্মদ বলেন: হিজাযবাসী গণ বলেন, তাকে এ রোযার কাযা আদায় করতে হবে। তবে আমার মতে, এর কাযা আদায় করতে হবে না।

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ উত্তম (জাইয়্যেদ), যদি উম্মুল হারিছের সাহাবী হওয়া সাব্যস্ত হয়। আর তিনি হলেন: আইয়ায ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু সা’দ ইবনু আবী যি’আব, যাকে ইবনু মানদাহ ও আবু নুয়াইম সাহাবীগনের অন্তর্ভূক্ত করেছেন। যদি এটি সাব্যস্ত না হয়, তবে তিনি মাজহুল (অজ্ঞাত পরিচয়)। তবে হাদীসটি (সহীহ) বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।

তাখরীজ: এটি আগের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।









সুনান আদ-দারিমী (1765)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ حَدَّثَنِي أَبِي حَدَّثَنِي حُسَيْنٌ الْمُعَلِّمُ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ عَنْ يَعِيشَ بْنِ الْوَلِيدِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ مَعْدَانَ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَاءَ فَأَفْطَرَ قَالَ فَلَقِيتُ ثَوْبَانَ بِمَسْجِدِ دِمَشْقَ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ صَدَقَ أَنَا صَبَبْتُ لَهُ الْوَضُوءَ قَالَ عَبْد اللَّهِ إِذَا اسْتَقَاءَ




১৭৬৫. মা’দান ইবনু তালহা (রাহি.) আবূ দারদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেন, একদা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বমি করেন, এরপর রোযা ভঙ্গ করেন। তিনি বলেন, তারপর (একদা) দামেশকের এক মসজিদে আমার সাথে সাওবান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর দেখা হয়। আমি তাঁর নিকট এ (হাদীস)টি বর্ণনা করলে তিনি (সাওবান) বলেন, তিনি সত্য বলেছেন। আর ঐ সময় আমি তাঁকে ওযূর জন্য পানি ঢেলে দিয়েছিলাম।[1] [আব্দুল্লাহ বলেন: যখন ইচ্ছাকৃত বমি করে।]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী ১১/৪৮৪ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১০৯৭ এবং মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৯০৮ তে। সেখানে আমরা ছাওবান রা: এর হাদীসের তাখরীজ দিয়েছি এবং এর শাহিদ হাদীসসমূহও উল্লেখ করেছি।

((আবূ দাউদ, সিয়াম ২৩৮১; দারুকুতনী, সিয়াম ২/১৮১ নং ৫; আবূ তাইয়্যেব ‘হামিশ দারুকুতনী’ ২/১৮১ তে বলেন: ইবনু মানদাহ বলেন, এর সনদ সহীহ মুত্তাসিল।; তিরমিযী বলেন: ‘ জাওদাহ হুসাইন হলেন মুয়াল্লিম আর তিনি এ বাবের মধ্যে সবচেয়ে সহীহ।’ আহমাদ ও অনুরূপ বলেছেন। আর বাইহাকী বলেন: সঠিক কথা হলো, ইচ্ছাকৃত বমিকারী ব্যক্তির উপর (কাযার) দায়িত্ব রয়েছে।’- ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীক্বকৃত দারেমী হা/১৭২৮ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (1766)


أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ عَنْ هِشَامِ بْنِ حَسَّانَ عَنْ ابْنِ سِيرِينَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا ذَرَعَ الصَّائِمَ الْقَيْءُ وَهُوَ لَا يُرِيدُهُ فَلَا قَضَاءَ عَلَيْهِ وَإِذَا اسْتَقَاءَ فَعَلَيْهِ الْقَضَاءُ قَالَ عِيسَى زَعَمَ أَهْلُ الْبَصْرَةِ أَنَّ هِشَامًا أَوْهَمَ فِيهِ فَمَوْضِعُ الْخِلَافِ هَا هُنَا




১৭৬৬. আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি রোযা থাকাবস্থায় অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি করে তার জন্য কাযা আদায় করা জরুরী নয়। অবশ্য যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করে তবে তার জন্য কাযা আদায় জরুরী।“[1]

’ঈসা বলেন: বছরাবাসীর ধারণা, হিশাম এ ব্যাপারে ভূল করেছেন। আর এটি মতভেদেরই স্থান।

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি ও এর শাহিদ হাদীস হাদীস উল্লেখ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী ৬৬০৪ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৫১৮ এবং মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৯০৭ তে। এছাড়াও, এখানে সংযোজন করছি: ইবনুল জারুদ, আল মুনতাক্বা নং ৩৮৫; ইবনু হাযম, আল মুহাল্লা ৬/১৭৫।

((আবূ দাউদ, সওম ২৩৮০; তিরমিযী, সওম ৭২০; ইবনু মাজাহ, সিয়াম ১৬৭৬; আহমাদ ২/৪৯৮; তায়ালিসী নং ৯৯৩; দারুকুতনী, সিয়াম ২১, ২২, ২৫।- ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীক্বকৃত দারেমী হা/১৭২৯ তথা অত্র হাদীসের টীকা হতে।–অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (1767)


أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا عَاصِمٌ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ أَبِي الْأَشْعَثِ الصَّنْعَانِيِّ عَنْ أَبِي أَسْمَاءَ الرَّحَبِيِّ عَنْ شَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ قَالَ مَرَرْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي ثَمَانِ عَشْرَةَ خَلَتْ مِنْ رَمَضَانَ فَأَبْصَرَ رَجُلًا يَحْتَجِمُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَفْطَرَ الْحَاجِمُ وَالْمَحْجُومُ




১৭৬৭. শাদ্দাদ ইবনু আওস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে (বাকী নামক স্থানে) হাঁটছিলাম। তখন রমযান মাসের আঠার দিন গত হয়েছে। তিনি এক ব্যক্তিকে শিঙা লাগাতে (রক্তমোক্ষণ করতে) দেখলেন। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ শিঙা যে লাগালো (রক্তমোক্ষণকারী) ও যাকে লাগিয়ে দেয়া হলো (যার রক্তমোক্ষণ করা হলো), তারা উভয়ে রোযা ভঙ্গ করেছে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি ও মুসনাদুল মাউসিলী ১০/২৩১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৫৩৩, ৩৫৩৪ এবং মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৯০০, ৯০১ তে। পরবর্তী হাদীসটিও দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (1768)


أَخْبَرَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ يَحْيَى عَنْ أَبِي قِلَابَةَ أَنَّ أَبَا أَسْمَاءَ الرَّحَبِيَّ حَدَّثَهُ أَنَّ ثَوْبَانَ حَدَّثَهُ قَالَ بَيْنَمَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَمْشِي بِالْبَقِيعِ فَإِذَا رَجُلٌ يَحْتَجِمُ فَقَالَ أَفْطَرَ الْحَاجِمُ وَالْمَحْجُومُ قَالَ أَبُو مُحَمَّد أَنَا أَتَّقِي الْحِجَامَةَ فِي الصَّوْمِ فِي رَمَضَانَ




১৭৬৮. ছাওবান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন যে, একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাকী নামক স্থানে হাঁটছিলেন। তখন এক ব্যক্তি শিঙা লাগাচ্ছিল (রক্তমোক্ষণ করছিল)। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “শিঙা যে লাগালো (রক্তমোক্ষণকারী) ও যাকে লাগিয়ে দেয়া হলো (যার রক্তমোক্ষণ করা হলো), তারা উভয়ে রোযা ভঙ্গ করেছে।“[1]

আবূ মুহাম্মদ বলেন: আমি রমযান মাসের রোযা রাখা অবস্থায় ‘হিজামাহ’ (শিঙা লাগানো) থেকে বিরত থাকি।

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি ও মুসনাদুল মাউসিলী ১০/২৩১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৫৩২ এবং মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৮৯৯ তে।









সুনান আদ-দারিমী (1769)


أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ وَاصِلٍ مَوْلَى أَبِي عُيَيْنَةَ عَنْ بَشَّارِ بْنِ أَبِي سَيْفٍ عَنْ الْوَلِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عِيَاضِ بْنِ غُطَيْفٍ عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ بْنِ الْجَرَّاحِ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ الصَّوْمُ جُنَّةٌ مَا لَمْ يَخْرِقْهَا قَالَ أَبُو مُحَمَّد يَعْنِي بِالْغِيبَةِ




১৭৬৯. আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন যে, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: “সাওম ঢালস্বরুপ যতক্ষণ পর্যন্ত তা ভেঙ্গে ফেলা না হয়।“[1]

আবূ মুহাম্মদ বলেন, এর অর্থ: গীবতের দ্বারা (নষ্ট করা)।

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি ও মুসনাদুল মাউসিলী নং ৮৭৮ বিস্তারিতভাবে ও মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৩৮৩০ তে।

এছাড়া, বুখারী, আল কাবীর ৭/২১; ((নাসাঈ, সিয়াম বাব: ৪৩। আলবানী যঈফুল জামি’ ১/২৮৯ তে একে যঈফ বলেছেন।’- ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীক্বকৃত দারেমী হা/১৭৩২ তথা অত্র হাদীসের টীকা হতে।–অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (1770)


أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ النُّعْمَانِ أَبُو النُّعْمَانِ الْأَنْصَارِيُّ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ جَدِّي وَكَانَ جَدِّي قَدْ أُتِيَ بِهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَمَسَحَ عَلَى رَأْسِهِ وَقَالَ لَا تَكْتَحِلْ بِالنَّهَارِ وَأَنْتَ صَائِمٌ اكْتَحِلْ لَيْلًا بِالْإِثْمِدِ فَإِنَّهُ يَجْلُو الْبَصَرَ وَيُنْبِتُ الشَّعَرَ قَالَ أَبُو مُحَمَّد لَا أَرَى بِالْكُحْلِ بَأْسًا




১৭৭০. আবদুর রহমান ইবনু নু‘মান আবী নু’মান আল আনসারী রাহি. তাঁর পিতা হতে, তিনি তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর তার নিকট এসে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়েছেন এবং বলেছেন: “দিনের বেলায় রোযাদার অবস্থায় তুমি (চোখে) সুরমা ব্যবহার করবে না বরং রাতে সুরমা ব্যবহার করবে। কেননা, তা দৃষ্টিকে উজ্জ্বল ও স্পষ্ট করে এবং বোধ-বুদ্ধি উৎপন্ন করে।“[1]

আবূ মুহাম্মদ বলেন, সুরমা লাগানোয় আমি কোনো দোষ দেখি না।

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : ((মুহাক্বিক্ব এর কোনো হুকুম লাগান নি-তবে শেষের দিকে হাসান বলার চেষ্টা করেছেন। তবে একে আলবানী (আবূ দাউদ ২৩৭৭) যঈফ, আবূ দাউদ মুনকার বলেছেন, যা কিছু পরেই আমরা উল্লেখ করব ইনশা আল্লাহ–অনুবাদক))

তাখরীজ: বুখারী, আল কাবীর ৭/৩৯৮; বাইহাকী, সিয়াম ৪/২৬২; তাবারাণী, আল কাবীর ২০/৩৪১ নং ৮০২; আহমাদ ৩/৪৯৯-৫০০; আবূ দাউদ, সওম ২৩৭৭; ইবনুল আছীর, আসদুল গাবাহ ৫/২২৩; ইবনুল কানি’,মু’জামুস সাহাবাহ নং ১০৫৯; ইমাম আবূ দাঊদ (র) বলেন, আমাকে ইয়াহ্ইয়া ইবন মা‘ঈন বলেছেন, সুরমা ব্যবহার সংক্রান্ত এ হাদীসটি মুনকার (অস্বীকৃত তথা গ্রহণীয় নয়)।...









সুনান আদ-দারিমী (1771)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنِي بَكْرٌ هُوَ ابْنُ مُضَرَ عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ عَنْ يَزِيدَ مَوْلَى سَلَمَةَ بْنِ الْأَكْوَعِ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الْأَكْوَعِ أَنَّهُ قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ قَالَ كَانَ مَنْ أَرَادَ أَنْ يُفْطِرَ وَيَفْتَدِيَ فَعَلَ حَتَّى نَزَلَتْ الْآيَةُ الَّتِي بَعْدَهَا فَنَسَخَتْهَا




১৭৭১. সালামা ইবনুল আকওয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন এ আয়াত নাযিল হয়ঃ (অর্থ:) ‘‘আর যারা এ ব্যাপারে (রোযা রাখতে) সক্ষম, তারা তারপরিবর্তে একজন মিসকীনকে খাদ্য দান করবে।“ (সূরা বাক্বারা: ১৮৭) তিনি বলেন, তখন আমাদের মধ্যে যারা রোযা না রেখে ফিদিয়া (খাদ্য) দেওয়ার ইচ্ছা করতো, তারা তা করতো, যতক্ষণ না এর পরবর্তী আয়াতটি নাযিল হয়, যা পূরবর্তী আয়াতের হুকুম মানসূখ (রহিত) করে দেয়।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। তবে হাদীসটি (সহীহ এবং তা) বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।

তাখরীজ: বুখারী, তাফসীর ৪৫০৬; মুসলিম, সিয়াম ১১৪৫।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ এবং টীকা দিয়েছি ‘নাওয়াসিখুল কুরআন ওয়া মানসূখাহ- নাওয়াসিখুল কুরআন পৃ: ২০৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৪৭৮, ৩৪৮৯, ৩৬২৪ তে।









সুনান আদ-দারিমী (1772)


أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ عَنْ هَارُونَ ابْنِ ابْنَةِ أُمِّ هَانِئٍ أَوْ ابْنِ ابْنِ أُمِّ هَانِئٍ عَنْ أُمِّ هَانِئٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ عَلَيْهَا وَهِيَ صَائِمَةٌ فَأُتِيَ بِإِنَاءٍ فَشَرِبَ ثُمَّ نَاوَلَهَا فَشَرِبَتْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنْ كَانَ قَضَاءَ رَمَضَانَ فَصُومِي يَوْمًا آخَرَ وَإِنْ كَانَ تَطَوُّعًا فَإِنْ شِئْتِ فَاقْضِيهِ وَإِنْ شِئْتِ فَلَا تَقْضِيهِ




১৭৭২. উম্মু হানী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, (একবার) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার নিকট প্রবেশ করলেন, আর তখন তিনি রোযাদার ছিলেন। এমতাবস্থায় তাঁর নিকট কিছু শরবত এল। এরপর তিনি এ থেকে পান করলেন, এরপর তাকে তা দিলেন। তিনিও তা থেকে কিছু পান করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “তা যদি রমযানের রোযার কাযা আদায় করার জন্য হয়ে থাকে, তবে অন্য একদিন রোযা রাখবে। আর যদি তা নফল রোযা হয়ে থাকে, তবে তুমি চাইলে এর কাযা আদায় করবে, না চাইলে এর কাযা আদায় করবে না।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। হারুণ মাজহুল (অজ্ঞাত পরিচয় রাবী)।

তাখরীজ: তায়ালিসী ১/১৯১ নং ৯১৬; বাইহাকী ৪/২৭৮; মা’রিফাহ নং ৮৯২০; আহমাদ ৬/৩৪৩; তাবারাণী, আল কাবীর ২৪/৪০৭ নং ৯৯০; নাসাঈ, আল কুবরা নং ৩৩০৫; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ২/১০৭; দারুকুতনী, zwj;সুনান ২/১৭৪ নং ১২; তিরমিযী, সওম ৭৩১, ৭৩২; হাকিম ১/৪৩৯; পরবর্তী হাদীসটি দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (1773)


حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ عَنْ أُمِّ هَانِئٍ قَالَتْ لَمَّا كَانَ يَوْمُ فَتْحِ مَكَّةَ جَاءَتْ فَاطِمَةُ فَجَلَسَتْ عَنْ يَسَارِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأُمُّ هَانِئٍ عَنْ يَمِينِهِ قَالَتْ فَجَاءَتْ الْوَلِيدَةُ بِإِنَاءٍ فِيهِ شَرَابٌ فَنَاوَلَتْهُ فَشَرِبَ مِنْهُ ثُمَّ نَاوَلَهُ أُمَّ هَانِئٍ فَشَرِبَتْ مِنْهُ ثُمَّ قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَقَدْ أَفْطَرْتُ وَكُنْتُ صَائِمَةً فَقَالَ لَهَا أَكُنْتِ تَقْضِينَ شَيْئًا قَالَتْ لَا قَالَ فَلَا يَضُرُّكِ إِنْ كَانَ تَطَوُّعًا قَالَ أَبُو مُحَمَّد أَقُولُ بِهِ




১৭৭৩. উম্মে হানী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন ফাতিমা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা আগমন করেন। এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বামদিকে উপবেশন করেন এবং উম্মে হানী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা ডানদিকে। তিনি (রাবী) বলেন, এ সময় জনৈক দাসী একটি পাত্রে কিছু পানীয় দ্রব্য এনে পেশ করলে তিনি তা পান করেন। এরপর তিনি তা (এর অবশিষ্টাংশ) উম্মে হানীকে পান করতে দেন। তিনি তা পান করে বলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আমি তো ইফতার করে ফেললাম, কিন্তু আমি যে রোযা ছিলাম। তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন: “তুমি কি কোন (রোযার) কাযা আদায় করছিলে?“ তিনি বলেন, না। তিনি বলেন: “যদি তা নফল রোযা হয়, তবে এতে তোমার কোন ক্ষতি হবে না।“[1]

আবূ মুহাম্মদ বলেন: এটিই আমার মত।

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। ইয়াযীদ ইবনু আবী যিয়াদের দুর্বলতা (যু’আফ)-এর কারণে।

তাখরীজ: আবূ দাউদ, সওম ২৪৫৬; তার সূত্রে বাইহাকী, সিয়াম ৪/২৭৭।

নাসাঈ বলেন: “এ হাদীসটি মুযতারিব (বিক্ষিপ্ত)।… আর জা’দাহ’র হাদীসের বিষয়টি হলো, তিনি উম্মু হানী থেকে কোনো কিছু শ্রবণ করেননি।“

তুর্কমানী ‘জাওহারুন নাক্বী হামিশ বাইহাকী ৪/২৭৮ তে বলেন: “এ হাদীসটি মতন ও সনদের দিক থেকে ‘ইযতিরাব’যুক্ত (বিক্ষিপ্ততা)।….









সুনান আদ-দারিমী (1774)


أَخْبَرَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا دُعِيَ أَحَدُكُمْ إِلَى طَعَامٍ وَهُوَ صَائِمٌ فَلْيَقُلْ إِنِّي صَائِمٌ




১৭৭৪. আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ রোযা রাখলে যদি তাকে খাওয়ার জন্য ডাকা হয়, তবে সে যেনো বলে, ‘আমি রোযাদার’।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: মুসলিম, সিয়াম ১১৫০; ইবনু হাযম, আল মুহাল্লা ৭/৩৩ ((আবূ দাউদ ২৪৬১, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ-অনুবাদক।)) আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬২৮০ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১০৪২, ১০৪৩ তে।









সুনান আদ-দারিমী (1775)


أَخْبَرَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ حَبِيبٍ الْأَنْصَارِيِّ قَالَ سَمِعْتُ مَوْلَاةً لَنَا يُقَالُ لَهَا لَيْلَى تُحَدِّثُ عَنْ جَدَّتِهَا أُمِّ عُمَارَةَ بِنْتِ كَعْبٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ عَلَيْهَا فَدَعَتْ لَهُ بِطَعَامٍ فَقَالَ لَهَا كُلِي فَقَالَتْ إِنِّي صَائِمَةٌ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ الصَّائِمَ إِذَا أُكِلَ عِنْدَهُ صَلَّتْ عَلَيْهِ الْمَلَائِكَةُ حَتَّى يَفْرُغُوا وَرُبَّمَا قَالَ حَتَّى يَقْضُوا أَكْلَهُمْ




১৭৭৫. উম্মু ‘উমারা বিনতে কা’ব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের এখানে আসলে আমরা তাঁর সামনে খাদ্যসামগ্রী পরিবেশন করলাম। তখন তিনি তাকে বলেনঃ “তুমি খাও।“ তখন তিনি (উমারাহ) বলেন: ‘আমি তো রোযাদার।’ তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “যখন রোযাদারের সামনে আহার করা হয়, তখন ফেরেশতাগণ তার জন্য (আল্লাহর) অনুগ্রহ কামনা করতে থাকেন, যতক্ষণ তারা আহার করা হতে বিরত না হয়।“ তিনি (বর্ণনাকারী) কখনো বলেন, “যতক্ষণ তারা তাদের আহার গ্রহণ শেষ না করে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ (উত্তম)।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি ও মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭১৪৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৪৩০ এবং মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৯৫৩ তে।

এছাড়া, নাসাঈ, আল কুবরা নং ৩২৬৭, ৩২৬৮। ((তিরমিযী, সওম ৭৮৫; তিনি বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ; ইবনু মাজাহ, সিয়াম ১৭৪৮; আহমাদ ৬/৩৬৫, ৪৩৯; তায়ালিসী ১৬৬৬; আলবানী যঈফূল জামি’ ২/৫৪ তে বলেন: যঈফ’।– ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীর্ক্ককৃত দারেমী হা/১৭৩৮ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (1776)


أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ إِسْرَائِيلَ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَامَ شَهْرًا تَامًّا إِلَّا شَعْبَانَ فَإِنَّهُ كَانَ يَصِلُهُ بِرَمَضَانَ لِيَكُونَا شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ وَكَانَ يَصُومُ مِنْ الشَّهْرِ حَتَّى نَقُولَ لَا يُفْطِرُ وَيُفْطِرُ حَتَّى نَقُولَ لَا يَصُومُ




১৭৭৬. উম্মু সালামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে শা’বান ব্যতীত আর কোন মাসে পুরা মাসব্যাপী সাওম পালন করতে দেখি নি। আর তিনি একে (শাবান মাসের রোযাকে) রমযানের সাথে মিলিয়ে দিতেন, যাতে একাধারে দু’মাস (সাওম পালন) হয়ে যায়। কোনো মাসে তিনি এমনভাবে (নফল) সাওম পালন করতে থাকতেন এমনকি আমরা বলতাম, তিনি হয়তো আর সাওম পালন পরিত্যাগই করবেন না।’ আবার (কখনো) এতদিন ধরে সাওম পালন পরিত্যাগ করতেন এমনকি আমরা বলতাম, ‘তিনি (হয়তো আর) সাওমই পালন করবেন না।’[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৯৭০ তে। আর এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আয়িশা রা: হতে বুখারী ও মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনায়। সেটির তাখরীজ আমরা দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৬৩৩, ৪৭৫১ তে।

((আবূ দাউদ, সওম ২৩৩৬; তিরমিযী, সওম ৭৩৬ তিনি একে হাসান বলেছেন। নাসাঈ, সিয়াম বাব: ৩৩, ৩৪, ৭০; ইবনু মাজাহ, সিয়াম ১৬৪৮।’- ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীর্ক্ককৃত দারেমী হা/১৭৩৯ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (1777)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ الْحَنَفِيُّ يُقَالُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ عَنْ الْعَلَاءِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا كَانَ النِّصْفُ مِنْ شَعْبَانَ فَأَمْسِكُوا عَنْ الصَّوْمِ




১৭৭৭. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: যখন শা’বান মাসের অর্ধেক (১৫ তারিখ) অতিবাহিত হয়, তখন তোমরা সাওম পালন হতে বিরত হয়ে যাবে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : ((মুহাক্বিক্ব এর কোনো হুকুম লাগান নি। রাবী আব্দুর রহমান ইবনু ইবরাহীম সম্পর্কে বিভিন্ন মুহাদ্দিসের মতভেদ উল্লেখ করেছেন। তবে শেষের দিকে এর সনদকে সহীহ বলেছেন। তবে তিরমিযী একে হাসান সহীহ এবং আলবানী (সহীহুল জামি’ ১/১৬৮) একে সহীহ বলেছেন।–অনুবাদক))

তাখরীজ: তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ২/২৮; আহমাদ ২/৪৪২; ইবনু আবী শাইবা ৩/২১; নাসাঈ, আল কুবরা নং ২৯১১; আব্দুর রাযযাক নং ৭৩২৫; আবূ দাউদ, সওম ২৩৩৭; তিরমিযী, সওম ৭৩৮; ইবনু মাজাহ, সিয়াম ১৬৫১; বাইহাকী, সিয়াম ৪/২০৯; ইবনু হিব্বান, আস সহীহ নং ৩৫৮৯; মাওয়ারিদ নং ৮৭৬; খতীব, তারীখ বাগদাদ ৮/৪৮; আবূ নুয়াইম যিকরু আখবারু আসবাহান ১/২৮৩; ইবনু আদী আল কামিল ২/৪৭৬, ৪/১৬১৭।









সুনান আদ-দারিমী (1778)


أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ الْمُبَارَكِ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ الْعَلَاءِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ نَحْوَ هَذَا




১৭৭৮. (অপর সনদে) আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: এটি আগের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি। দেখুন, মাকাসিদুল হাসানাহ নং ৫৫, শাযারাহ নং ৫১; কাশফুল খফা’ নং ২০৯।









সুনান আদ-দারিমী (1779)


أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا الْجُرَيْرِيُّ عَنْ أَبِي الْعَلَاءِ بْنِ الشِّخِّيرِ عَنْ مُطَرِّفٍ عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِرَجُلٍ هَلْ صُمْتَ مِنْ سَرَرِ هَذَا الشَّهْرِ فَقَالَ لَا قَالَ فَإِذَا أَفْطَرْتَ مِنْ رَمَضَانَ فَصُمْ يَوْمَيْنِ قَالَ أَبُو مُحَمَّد سَرَرُهُ آخِرُهُ




১৭৭৯. ইমরান ইবন হুসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করেন: “তুমি কি এ মাসের শেষে[1] রোযা রাখ?“ সে বলে, না। তিনি বললেনঃ “যখন তুমি রামাযানের রোযা শেষ করবে, তখন দু‘দিন রোযা রাখবে।“[2]আবূ মুহাম্মদ বলেন, ‘سَرَرُهُ’ অর্থ: ‘آخِرُهُ’ ‘এর শেষাংশে’।

[1] আবী উবাইদ এবং জমহুর তথা অধিকাংশ উলামা এ অর্থই বলেছেন। এ ছাড়া এ সম্পর্কে এও বলা হয়েছে যে, মাসের শুরু’। এবং ‘মাসের মাঝামাঝি’ ও বলা হয়েছে।

[2] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। আর হাদীসটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।

তাখরীজ: বুখারী, সাওম ১৯৮৩; মুসলিম, সিয়াম ১১৬১। এছাড়াও তাবারাণী, আল কাবীর ১৮/১১৪, ১১৫, ১১৬ নং ২১৯-২২৫; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আাছার ২/৮৪; বাইহাকী, মা’রিফাহ নং ৮৫৯৬; ইবনু হাযম আল মুহাল্লা ৭/২৪।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ এবং টীকা দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৫৮৭, ৩৫৮৮ তে।









সুনান আদ-দারিমী (1780)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ أَبِي بِشْرٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ مَا صَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَهْرًا كَامِلًا غَيْرَ رَمَضَانَ وَإِنْ كَانَ لَيَصُومُ إِذَا صَامَ حَتَّى يَقُولَ الْقَائِلُ لَا وَاللَّهِ لَا يُفْطِرُ وَيُفْطِرُ إِذَا أَفْطَرَ حَتَّى يَقُولَ الْقَائِلُ لَا وَاللَّهِ لَا يَصُومُ




১৭৮০. ইবন ‘আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমযান ব্যতীত কোন মাসে পুরা মাসব্যাপী সাওম পালন করেন নাই। তিনি (নফল) সাওম পালন করা শুরু করলে তা করতেই থাকতেন, এমনকি কেউ বলতে চাইলে বলতে পারতো, ‘আল্লাহর কসম! তিনি আর সাওম পালন পরিত্যাগ করবেন না।’ আবার এমনভাবে (নফল) সাওম পরিত্যাগ করে চলতেন যে, কেউ বলতে চাইলে বলতে পারতো, ‘আল্লাহর কসম! তিনি আর সাওম পালন করবেন না।’[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। আর হাদীসটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।

তাখরীজ: বুখারী, সাওম ১৯৭১; মুসলিম, সিয়াম ১১৫৭।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৬০২ তে।