সুনান আদ-দারিমী
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ مُطَرِّفِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الشِّخِّيرِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ ذُكِرَ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلٌ يَصُومُ الدَّهْرَ فَقَالَ لَا صَامَ وَلَا أَفْطَرَ
১৭৮১. আব্দুল্লাহ ইবনু শিখখীর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এক ব্যক্তির কথা আলোচনা করা হলো যে সারা বছর সাওম পালন করে। তখন তিনি বললেন, “সে সাওমও পালন করেনি এবং ইফতারও করেনি।“[1] (তার এ দু’টির কোনোটিই গ্রহণযোগ্য হবে না।)
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৫৮২, ৩৫৮৩ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৯৩৭, ৯৩৮ তে।
((মুসলিম, সিয়াম ১১৫৯; নাসাঈ, সিয়াম বাব: ৭২; ইবনু মাজাহ, সিয়াম ১৭০৫।– ফাওয়ায আহমেদের দারেমী’ নং ১৭৪৪ এর টীকা হতে।-অনুবাদক))
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا الْعَوَّامُ بْنُ حَوْشَبٍ قَالَ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ أَوْصَانِي خَلِيلِي بِثَلَاثٍ لَسْتُ بِتَارِكِهِنَّ أَنْ لَا أَنَامَ إِلَّا عَلَى وِتْرٍ وَأَنْ أَصُومَ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ وَأَنْ لَا أَدَعَ رَكْعَتَيْ الضُّحَى
১৭৮২. আবী হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার প্রিয়তম বন্ধু আমাকে তিনটি বিষয়ে ওয়াসীয়াত (নির্দেশ প্রদান) করেছেন, যেগুলি আমি (আমার মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত) পরিত্যাগ করবো না: আমি যেন ঘুমানোর পূর্বে বিতর আদায় করি, প্রত্যেক মাসে তিনদিন সিয়াম পালন করি এবং দু’হার (পূর্বাহ্নের) সময় দু’ রাকা’আত সালাত আমি যেন না ছাড়ি।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী, তাহাজ্জুদ ১১৭৮; মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন ৭২১; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬২২৬, ৬৩৬৯; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৫৩৬ যা সামনে ১৭৮৬ নং এ আসছে। এছাড়া, খতীব, আল মুত্তাফিক ওয়াল মুফতারিক্ব নং ৯৪৬; আহমাদ ২/২২৯, ২৩৩, ২৬০, ৩২৯, ৩৩১, ৭২-৪৭৩; তায়ালিসী ২/৫২ নং ২১৪০; নাসাঈ ৪/২১৮; তাবারাণী, আস সগীর ১/১৭৯; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান ৩৮৪৩; বুখারী, আল কাবীর ৪/১৫; ইবনু হাযম, আল মুহাল্লা ২/২৩২; আবু নুয়াইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া: (সেখানে) ‘সালাতুত দুহা’-র পরিবর্তে ‘জুম’আর দিনে গোসল করা’র কথা রয়েছে।
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَبَّاسٍ الْجُرَيْرِيِّ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ نَحْوَهُ
১৭৮৩. (অপর সনদে) আবী হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: এটি আগের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি। সেখানে পূর্ণ তাখরীজ দেখুন।
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ قُرَّةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ صِيَامُ الْبِيضِ صِيَامُ الدَّهْرِ وَإِفْطَارُهُ
১৭৮৪. মু’আবিয়া ইবনু কুররাহ তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ‘ইয়াও্মিল বীয’ শুক্লপক্ষের (অর্থাৎ চন্দ্র মাসের তেরো, চৌদ্দ ও পনের তারিখে) রোযা সমূহের মর্যাদা (ফযীলত) সারা বছর রোযা ও ইফতারের সমতুল্য।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৬৫২, ৩৬৫৩ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৯৪৭, ৯৪৮; মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৫২৫৮ তে। আর মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৩/৪৯২, ৪৯৩ এর শাহিদসমূহ উল্লেখ করেছি।
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ شَيْبَةَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبَّادِ بْنِ جَعْفَرٍ قَالَ قُلْتُ لِجَابِرٍ أَنَهَى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ صَوْمِ يَوْمِ الْجُمُعَةِ قَالَ نَعَمْ وَرَبِّ هَذَا الْبَيْتِ
১৭৮৫. মুহাম্মাদ ইবনু আব্বাদ ইবনু জা‘ফর (রাহি.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি (আল্লাহর ঘর তাওয়াফকালে) জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি জুমু‘আহ’র দিন রোযা রাখতে নিষেধ করেছেন? তিনি বলেন, হাঁ, এই ঘরের প্রভুর শপথ![1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বুখারী, সওম ১৯৮৪; মুসলিম, সিয়াম ১১৪৩; বাইহাকী, সিয়াম ৪/৩০১-৩০২; আল মারিফাহ নং ৯০৪০; আব্দুর রাযযাক নং ৭৮০৮; আহমাদ ৩/২৯৬; ইবনু মাজাহ, সিয়াম ১৭২৪; এর তাখরীজ আমি দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২২০৬ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১২৬০ তে।
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ ثَوْرٍ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُسْرٍ عَنْ أُخْتِهِ يُقَالُ لَهَا الصَّمَّاءُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا تَصُومُوا يَوْمَ السَّبْتِ إِلَّا فِيمَا افْتُرِضَ عَلَيْكُمْ وَإِنْ لَمْ يَجِدْ أَحَدُكُمْ إِلَّا كَذَا أَوْ لِحَاءَ شَجَرَةٍ فَلْيَمْضَغْهُ
১৭৮৬. আব্দুল্লাহ ইবনু বুসর তার সাম্মাহ নামক এক বোন থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ফরয সিয়াম ব্যতীত তোমরা শনিবার সিয়াম পালন করবেনা। যদি তোমাদের কেউ এরূপ বা গাছের ডাল ছাড়া আর কিছুই না পায়, তবে সে যেন তা-ই চিবিয়ে নেয়।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আহমাদ ৬/৩৬৮; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ২/৮০; তাবারাণী, আল কাবীর ২৪/৩২৫ নং ৮১৮; ইবনু খুযাইমা, আস সহীহ নং ২১৬৪, ২১৬৫; বাইহাকী, সিয়াম ৪/৩০২; নাসাঈ, আল কুবরা নং ২৭৬৪; আবূ দাউদ, সওম ২৪২১; তিরমিযী, সওম ৭৪৪; ইবনু মাজাহ, সিয়াম ১৭২৬; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ৬/৩৬১ নং ১৮০৬; হাকিম ১/৪৩৫।
আমরা আব্দুল্লাহ ইবনু বুসরের হাদীসটির পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৬১৫ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৯৪০ তে।...
حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ يَحْيَى عَنْ عُمَرَ بْنِ الْحَكَمِ بْنِ ثَوْبَانَ أَنَّ مَوْلَى قُدَامَةَ بْنِ مَظْعُونٍ حَدَّثَهُ أَنَّ مَوْلَى أُسَامَةَ حَدَّثَهُ قَالَ كَانَ أُسَامَةُ يَرْكَبُ إِلَى مَالٍ لَهُ بِوَادِي الْقُرَى فَيَصُومُ الِاثْنَيْنِ وَالْخَمِيسَ فِي الطَّرِيقِ فَقُلْتُ لَهُ لِمَ تَصُومُ الِاثْنَيْنِ وَالْخَمِيسَ فِي السَّفَرِ وَقَدْ كَبِرْتَ وَضَعُفْتَ أَوْ رَقِقْتَ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَصُومُ الِاثْنَيْنِ وَالْخَمِيسَ وَقَالَ إِنَّ أَعْمَالَ النَّاسِ تُعْرَضُ يَوْمَ الِاثْنَيْنِ وَالْخَمِيسِ
১৭৮৭. উসামা ইবন যায়দের আযাদকৃত গোলাম (মূসা ইবন ইসমাঈল) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা তিনি উসামা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু’র সাথে কুরা নামক উপত্যকায় তাঁর মালের উদ্দেশ্যে আরোহী হয়ে গমন করেন। এ সফরে তিনি (উসামা) সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখেন। আমি তাঁকে বললাম, আপনি সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখেন কেন অথচ আপনি অতি বৃদ্ধ ও দুর্বল- অথবা (রাবী বলেন), শীর্ণকায় হয়ে গেছেন। তখন তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সোম ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখতেন। (এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হয়ে) তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ মানুষের আমলসমূহ সোমবার ও বৃহস্পতিবার (আল্লাহর সমীপে) পেশ করা হয়।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। এতে দু’জন মাজহুল রাবী রয়েছে।
তাখরীজ: ইবনে আবী শাইবা ৩/৪২-৪৩; আহমাদ ৫/২০৪-২০৫, ২০৮-২০৯; তায়ালিসী ১/১৯৩-১৯৪; বাইহাকী, সিয়াম ৪/২৯৩; আবূ দাউদ, সওম ২৪৩৬; তাবারাণী, আল কাবীর ১/১৬৭ নং ৪০৯; নাসাঈ, কুবরা নং ২৬৬৭।
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ رِفَاعَةَ عَنْ سُهَيْلٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَصُومُ يَوْمَ الِاثْنَيْنِ وَالْخَمِيسِ فَسَأَلْتُهُ فَقَالَ إِنَّ الْأَعْمَالَ تُعْرَضُ يَوْمَ الِاثْنَيْنِ وَالْخَمِيسِ
১৭৮৮. আবী হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সোম ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখতেন। (এ ব্যাপারে) আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ “আমলসমূহ সোমবার ও বৃহস্পতিবার (আল্লাহর সমীপে) পেশ করা হয়।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।
তাখরীজ: তিরমিযী, সওম ৭৪৭ তিনি একে হাসান বলেছেন; শামাইল নং ২৯৮; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ১৭৯৯; ইবনু মাজাহ, সিয়াম ১৭৪০; বুসীরী মিসবাহুজ যুজাজাহ ২/৩১ এ বলেন, এর সনদ সহীহ।; তায়ালিসী, মানিহাতুল মা’বূদ ২/৬২, ২০৭ নং ২১৯৪, ২৭৪৫ সহীহ সনদে; মুসলিম, zwj;বিরর ওয়াস সুলহ ২৫৬৫; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ৬৬২৭; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৬৪৪;
এর শাহিদ রয়েছে উসামাহ ইবনু যাইদ হতে যেটি আবূ দাউদ ও নাসাঈ বর্ণনা করেছেন; তালহা ইবনু উবাইদুল্লাহ হতে খতীব তারীখ বাগদাদ ৩/২৫ তে এবং ইবনু মাসউদ হতে ইবনু আদী, আল কামিল ৪/১৬৩২ এ বর্ণনা করেছেন।
أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَمْرٍو يَعْنِي ابْنَ دِينَارٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ أَوْسٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو يَرْفَعُهُ قَالَ أَحَبُّ الصِّيَامِ إِلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ صِيَامُ دَاوُدَ كَانَ يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمًا وَأَحَبُّ الصَّلَاةِ إِلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ صَلَاةُ دَاوُدَ كَانَ يُصَلِّي نِصْفًا وَيَنَامُ ثُلُثًا وَيُسَبِّحُ سُدُسًا قَالَ أَبُو مُحَمَّد هَذَا اللَّفْظُ الْأَخِيرُ غَلَطٌ أَوْ خَطَأٌ إِنَّمَا هُوَ أَنَّهُ كَانَ يَنَامُ نِصْفَ اللَّيْلِ وَيُصَلِّي ثُلُثَهُ وَيُسَبِّحُ تَسْبِيحَةً
১৭৮৯. আব্দুল্লাহ ইবনু আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু মারফু’ হিসেবে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে) বর্ণনা করেন যে, আল্লাহ্ আযযা ওয়া জাল্লা’র নিকট অধিক প্রিয় রোযা হল দাঊদ (আ.)-এর রোযা। তিনি একদিন রোযা রাখতেন এবং একদিন রোযা রাখা পরিত্যাগ করতেন (অর্থাৎ একদিন অন্তর রোযা রাখতেন)। আবার আল্লাহ্ আযযা ওয়া জাল্লা’র নিকট সবচেয়ে প্রিয় সালাত হল দাঊদ (আ.)-এর সালাত। তিনি অর্ধরাত পর্যন্ত সালাত আদায় করতেন এবং পরে এর এক তৃতীআংশ সময় ঘুমাতেন। আর (সব কাজ শেষে) তিনি এর এক ষষ্ঠাংশ সময় তাসবীহ পড়তেন।“ [1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বুখারী, তাহজ্জুদ ১১৩১; মুসলিম, সালাত ১১৫৯;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৫২, ২৯৫০ মুসনাদুল হুমাইদী নং ৬০০, ৬০১ তে ।
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ عَنْ قَزَعَةَ مَوْلَى زِيَادٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا صَوْمَ يَوْمَيْنِ يَوْمَ الْفِطْرِ وَيَوْمَ النَّحْرِ
১৭৯০. আবী সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমরা দু’টি দিনে রোযা রাখবে না: ইয়ামুল ফিতর (রোযার ঈদের দিন) ও ইয়ামুদ নাহর (কুরবাণীর ঈদের দিন)।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বুখারী, ফাযলুস সালাত বিমাক্কা ১১৮৮; মুসলিম, হাজ্জ ৮২৭;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১১৬০; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৬১৭, ২৬১৮, ২৭১৯, ৩৫৯৯ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ৭৬৭ তে ।
حَدَّثَنَا نُعَيْمُ بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا صَفْوَانُ وسَعْدُ بْنُ سَعِيدٍ عَنْ عُمَرَ بْنِ ثَابِتٍ عَنْ أَبِي أَيُّوبَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ صَامَ رَمَضَانَ ثُمَّ أَتْبَعَهُ سِتَّةً مِنْ شَوَّالٍ فَذَلِكَ صِيَامُ الدَّهْرِ
১৭৯১. আবী আইয়্যুব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি রমযানের রোযা রাখল এবং এরপরই শাওয়ালে ছয়টি রোযা রাখল, তবে তা পূর্ণ এক বছরের রোযা রাখার সমতুল্য (সাওয়াব) হলো।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান। তবে হাদীসটি সহীহ।
তাখরীজ: মুসলিম, সিয়াম ১১৬৪;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৬৩৪ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ৩৮৫, ৩৮৬ তে । আরো দেখুন, মাজমাউয যাওয়াইদ হাদীস ৫১৭৭ এবং এর টীকা।
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ الْحَارِثِ الذِّمَارِيُّ عَنْ أَبِي أَسْمَاءَ الرَّحَبِيِّ عَنْ ثَوْبَانَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ صِيَامُ شَهْرٍ بِعَشَرَةِ أَشْهُرٍ وَسِتَّةِ أَيَّامٍ بَعْدَهُنَّ بِشَهْرَيْنِ فَذَلِكَ تَمَامُ سَنَةٍ يَعْنِي شَهْرَ رَمَضَانَ وَسِتَّةَ أَيَّامٍ بَعْدَهُ
১৭৯২. সাওবান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “এক মাসের রোযা (রমযানের রোযা) দশমাসের রোযার সমতুল্য। এরপর আরও (শাওয়ালের) ছয়দিনের রোযা দুই মাসের সমতুল্য। এভাবে তা (সাওয়াবের দিক দিয়ে) পূর্ণ এক বছর এর সমতুল্য হলো।“[1]
আবূ মুহাম্মদ বলেন, এর অর্থ: রমযান মাস ও এর পরবর্তী (মাসের) ছয় দিনকে বুঝানো হয়েছে।
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৬৩৫, মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৯২৮ তে এবং মাওয়ারিদ-এ এর শাহিদ হাদীসও উল্লেখ করেছি।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ إِسْحَقَ عَنْ النُّعْمَانِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى عَلِيٍّ فَسَأَلَهُ عَنْ شَهْرٍ يَصُومُهُ فَقَالَ لَهُ عَلِيٌّ مَا سَأَلَنِي أَحَدٌ عَنْ هَذَا بَعْدَ إِذْ سَمِعْتُ رَجُلًا سَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّ شَهْرٍ يَصُومُهُ مِنْ السَّنَةِ فَأَمَرَهُ بِصِيَامِ الْمُحَرَّمِ وَقَالَ إِنَّ فِيهِ يَوْمًا تَابَ اللَّهُ عَلَى قَوْمٍ وَيَتُوبُ فِيهِ عَلَى قَوْمٍ
১৭৯৩. নু’মান ইবনু সা’দ রাহি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, একবার জনৈক ব্যক্তি আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর নিকট এসে তাঁকে রমযান মাসের পরে কোনো একটি মাসের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করল, যে মাসে সে সিয়াম পালন করতে পারে। তখন আলী রা: তাকে বললেন, যেদিন আমি এক ব্যক্তিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট এ বিষয়ে প্রশ্ন করতে শুনেছি, তারপর থেকে এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে আমাকে কেউ প্রশ্ন করেনি: (প্রশ্নটি ছিল,) সে রমযান ব্যতীত বছরের কোন্ মাসটিতে (নফল) সিয়াম পালন করবে? তখন তিনি তাকে মুহাররামের সিয়াম পালন করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেছিলেন: “নিশ্চয়ই এতে (এ মাসে) এমন একটি দিন আছে যে দিন আল্লাহ তায়ালা এক সম্প্রদায়ের তওবা কবুল করেছিলেন এবং আগামীতেও তিনি আরেক সম্প্রদায়ের তওবা এই দিনে কবুল করবেন।“[1]
[1] তাহ্ক্বীক্ব: এর সনদ যঈফ, আব্দুর রহমান ইবনু ইসহাক্ব যঈফ হওয়ার জন্য। তবে পরবর্তী হাদীসটি একে শক্তিশালী করে। তিরমিযী বলেন: হাদীসটি হাসান গারীব।’
তাখরীজ: তিরমিযী, সওম ৭৪১; ইবনু আবী শাইবা ৩/৪১; আব্দুল্লাহ ইবনু আহমাদ, যাওয়াইদ আলাল মুসনাদ ১/১৫৫; আবূ ইয়ালা আল মাউসিলী নং ২৬৭; ইবনু আদী, আল কামিল৪/১৬১৪;
أَخْبَرَنَا زَيْدُ بْنُ عَوْفٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْتَشِرِ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَفْضَلُ الصِّيَامِ بَعْدَ شَهْرِ رَمَضَانَ شَهْرُ اللَّهِ الَّذِي تَدْعُونَهُ الْمُحَرَّمَ
১৭৯৪. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “রামাযান মাসের সিয়ামের পরে সবচেয়ে ফযীলতপূর্ণ সিয়াম হলো আল্লাহর মাসের সিয়াম, যাকে তোমরা ‘মুহাররাম’ নামে ডাকো।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : যাইদ ইবনু আউফ মাতরুক (পরিত্যক্ত)। আবূ যুরআহ তার ত্রুটি উল্লেখ করেছেন। তবে হাদীসটি সহীহ মুত্তাসিল। দেখুন পরবর্তী হাদীসটি।
তাখরীজ: মুসলিম, সিয়াম ১১৬৩; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৫৬৩, ৩৬৩৬ তে। এছাড়া আরো বর্ণনা করেন: আহমাদ ২/৩০৩; তাহাবী, মুশকিলিল আছার ২/১০১; বাইহাকী, সিয়াম ৪/২৯১; শুয়াবুল ঈমান নং ৩৭৭২, ৩৭৭৩, ৩৭৭৪; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ৯২৩, ১৭৮৮।
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ وَأَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ أَخْبَرَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ أَبِي بِشْرٍ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحِمْيَرِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَفْضَلُ الصِّيَامِ بَعْدَ شَهْرِ رَمَضَانَ الْمُحَرَّمُ
১৭৯৫. (অপর সূত্রে) আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “রামাযান মাসের সিয়ামের পরে সবচেয়ে ফযীলতপূর্ণ সিয়াম হলো মুহাররাম মাসের সিয়াম।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মুসলিম, সিয়াম ১১৬৩ যা আমরা পূর্বের হাদীসটিত উল্লেখ করেছি। এছাড়া বাগাবী নং ১৭৮৮। পূর্ণ তাখরীজ দেখুন পূর্বের হাদীসটিতে।
أَخْبَرَنَا سَهْلُ بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي بِشْرٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ قَالَ قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِينَةَ وَالْيَهُودُ يَصُومُونَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ فَسَأَلَهُمْ فَقَالُوا هَذَا الْيَوْمُ الَّذِي ظَهَرَ فِيهِ مُوسَى عَلَى فِرْعَوْنَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْتُمْ أَوْلَى بِمُوسَى فَصُومُوهُ
১৭৯৬. ইবনু ‘আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (হিজরত করে) মাদীনায় উপনীত হলেন, সেই সময় ইয়াহুদীরা আশুরার দিন রোযা রাখত। তিনি তাদেরকে (এ ব্যাপারে) জিজ্ঞেস করলে তারা বললো, এ দিনে আল্লাহ্ মূসা (আঃ)-কে ফিরাউনের উপর বিজয় দান করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সাহাবীদেরকে লক্ষ্য করে) বলেন: “তোমরা মূসা (আঃ)-এর (অনুসরণের) ব্যাপারে তাদের চেয়ে) অধিক নিকটবর্তী। ফলে তোমরা এদিন রোযা পালন করো।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বুখারী, সওম ২০০৪; মুসলিম, সিয়াম ১১৩০;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৫৬৭; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৬২৫ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ৫২৫ তে।
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَصُومُ يَوْمَ عَاشُورَاءَ وَيَأْمُرُنَا بِصِيَامِهِ
১৭৯৭. ‘আয়িশাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাথেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আশূরার দিন রোযা রাখতেন এবং এ দিন রোযা রাখতে নির্দেশ দিতেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বুখারী, হাজ্জ ১৫৯২; মুসলিম, সিয়াম ১১২৫; বাইহাকী, আল মা’রিফাহ নং ৮৯৮৮;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৬৩৮; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৬২১ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ২০২ তে।
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي عُبَيْدٍ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الْأَكْوَعِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعَثَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ رَجُلًا مِنْ أَسْلَمَ إِنَّ الْيَوْمَ يَوْمُ عَاشُورَاءَ فَمَنْ كَانَ أَكَلَ أَوْ شَرِبَ فَلْيُتِمَّ بَقِيَّةَ يَوْمِهِ وَمَنْ لَمْ يَكُنْ أَكَلَ أَوْ شَرِبَ فَلْيَصُمْهُ
১৭৯৮. সালামা ইবন আকওয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, ‘আশূরার দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আসলাম গোত্রের এক ব্যক্তিকে এ বলে লোকদের মধ্যে ঘোষণা দেওয়ার জন্য পাঠালেন: “আজকের দিনটি হলো আশুরার দিন। ফলে যে ব্যক্তি খেয়েছিল, বা পান করেছিল, সে যেন দিনের অবশিষ্টাংশ পূর্ণ করে। আর যে এখনো খায়নি বা পান করেনি, সে যেন সাওম পালন করে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বুখারী, সাওম ১৯২৪; মুসলিম, সিয়াম ১১৩৫;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৬১৯ তে।
أَخْبَرَنَا يَعْلَى عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَقَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَذَا يَوْمُ عَاشُورَاءَ كَانَتْ قُرَيْشٌ تَصُومُهُ فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَمَنْ أَحَبَّ مِنْكُمْ أَنْ يَصُومَهُ فَلْيَصُمْهُ وَمَنْ أَحَبَّ مِنْكُمْ أَنْ يَتْرُكَهُ فَلْيَتْرُكْهُ وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ لَا يَصُومُهُ إِلَّا أَنْ يُوَافِقَ صِيَامَهُ
১৭৯৯. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট আশূরার দিন সম্পর্কে আলোচনা করা হলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “জাহিলী যুগে কুরাইশরা এ দিন রোযা রাখতো। অতএব তোমাদের কেউ এ দিন রোযা রাখতে আগ্রহী হলে সে রোযা রাখতে পারে এবং কেউ রোযা রাখতে অনাগ্রহী হলে নাও রাখতে পারে।“[1]
ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এ দিন রোযা রাখতেন না তবে তার (অন্য কোনো) রোযার সাথে এটি একইদিনে পড়লে সেটি ভিন্ন কথা।
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর বর্ণনাকারীগণ সকলেই বিশ্বস্ত। তবে ইবনু ইসহাক ‘আন আন’ পদ্ধতিতে এটি বর্ণনা করেছেন। তবে এর মুতাবি’আত রয়েছে। আর হাদীসটি সহীহ। হাদীসটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বুখারী, সাওম ১৮৯২; মুসলিম, সিয়াম ১১২৬;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৬২২, ৩৬২৩ তে।
أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ إِسْحَقَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ يَوْمُ عَاشُورَاءَ يَوْمًا تَصُومُهُ قُرَيْشٌ فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَلَمَّا قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِينَةَ صَامَهُ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ حَتَّى إِذَا فُرِضَ رَمَضَانُ كَانَ رَمَضَانُ هُوَ الْفَرِيضَةُ وَتُرِكَ يَوْمُ عَاشُورَاءَ فَمَنْ شَاءَ صَامَهُ وَمَنْ شَاءَ تَرَكَهُ
১৮০০. আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আশূরা ছিল এমন একটি দিন যে দিন কুরাইশরা জাহেলী যুগেও সিয়াম পালন করত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (হিজরতের করে) মদীনায় আসার পর তিনি এই দিন সিয়াম পালন করেছেন এবং লোকদেরকেও সিয়াম পালন করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর রামাযানের সিয়াম পালন ফরয হওয়ার পর রামাযানই ফরয হিসাবে রয়ে গেল আর আশূরার সিয়াম (ফরয হিসাবে) রইল না। ফলে যার ইচ্ছা এই দিনের সিয়াম পালন করে চললো আর যার ইচ্ছা তা ছেড়ে দিলো।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বুখারী, সাওম ২০০১, ২০০২; মুসলিম, সিয়াম ১১৩৫; এছাড়া, বাইহাকী, আল মা’রিফাহ নং ৮৯৮০; মালিক, সওম (৩৩)।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী ৪৬৩৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৬২১ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ২০২ তে। আরও দেখুন পূর্বের ১৮০০ (অনূবাদে ১৭৯৬) নং হাদীসটি।