হাদীস বিএন


সুনান আদ-দারিমী





সুনান আদ-দারিমী (1801)


أَخْبَرَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عُلَيٍّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمُ عَرَفَةَ وَأَيَّامُ التَّشْرِيقِ عِيدُنَا أَهْلَ الْإِسْلَامِ وَهِيَ أَيَّامُ أَكْلٍ وَشُرْبٍ




১৮০১. উক্ববা ইবনু আমির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “আরাফার দিন এবং তাশরীকের দিনগুলো আমাদের মুসলিমদের জন্য ঈদ স্বরূপ। আর এই দিনগুলি পানাহারের জন্য নির্ধারিত।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৬০৩; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৮৫৯ তে।

((আবূ দাউদ, সওম ২৪১৯; তিরমিযী, সওম ৭৭৩; আলবানী সহীহুল জামি’ ৬/৩৬৬ তে বলেন: সহীহ।’- ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীক্বকৃত দারেমী হা/১৭৬৪ এর টীকা হতে।– অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (1802)


أَخْبَرَنَا الْمُعَلَّى بْنُ أَسَدٍ حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي نَجِيحٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ سُئِلَ ابْنُ عُمَرَ عَنْ صَوْمِ يَوْمِ عَرَفَةَ فَقَالَ حَجَجْتُ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمْ يَصُمْهُ وَحَجَجْتُ مَعَ أَبِي بَكْرٍ فَلَمْ يَصُمْهُ وَحَجَجْتُ مَعَ عُمَرَ فَلَمْ يَصُمْهُ وَحَجَجْتُ مَعَ عُثْمَانَ فَلَمْ يَصُمْهُ وَأَنَا لَا أَصُومُهُ وَلَا آمُرُ بِهِ وَلَا أَنْهَى عَنْهُ




১৮০২. আবূ নাজীহ (রহঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে আরাফার দিনে সিয়াম পালন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে হজ্জ করেছি, তিনি এ দিন সিয়াম পালন করেননি; আবূ বকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) এর সঙ্গেও হজ্জ পালন করেছি। তিনিও এ দিন সিয়াম পালন করেননি; উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) এর সঙ্গেও হজ্জ করেছি তিনিও এ দিন সিয়াম পালন করেননি; উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) এর সঙ্গেও হজ্জ করেছি। তিনিও এ দিন সিয়াম পালন করেননি। আমি নিজেও এই সিয়াম পালন করিনা এবং তা কাউকে পালন করতে বলিওনা এবং নিষেধও করিনা।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৫৯৫; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৬০৪; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৮৩৪ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৬৯৮ তে।

(( তিরমিযী, সওম ৭৫১; তিনি বলেন: হাদীসটি হাসান।’- ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীক্বকৃত দারেমী হা/১৭৬৫ এর টীকা হতে।– অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (1803)


حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ بِشْرِ بْنِ سُحَيْمٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَهُ أَوْ أَمَرَ رَجُلًا يُنَادِي أَيَّامَ التَّشْرِيقِ أَنَّهُ لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ إِلَّا مُؤْمِنٌ وَهِيَ أَيَّامُ أَكْلٍ وَشُرْبٍ




১৮০৩. বিশর ইবনু সুহাইম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ‘আইয়্যামে তাশরীকে’ তাকে অথবা কোনো এক ব্যক্তিকে এ ঘোষণা দেওয়ার আদেশ দেন: “মুসলিম ব্যক্তি ব্যতীত কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না এবং এই দিনসমূহ হচ্ছে পানাহারের দিন।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আহমাদ ৩/৪১৫, ৪/৩৩৫; তাবারাণী, আল কাবীর ২/৩৭ নং ১২১৩; ইবনু খুযাইমা, আস সহীহ নং ২৯৬০; নাসাঈ, আল কুবরা নং ২৮৯৫, ২৮৯৬, ২৮৯৮; ইবনু আবী শাইবা, ঈমান নং ১২; ৪/২০-২১; ইবনু মাজাহ, সিয়াম ১৭২০; বাইহাকী, সিয়াম ৪/২৯৮।









সুনান আদ-দারিমী (1804)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ حَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِي مُرَّةَ مَوْلَى عَقِيلٍ أَنَّهُ دَخَلَ هُوَ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو عَلَى عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ وَذَلِكَ الْغَدَ أَوْ بَعْدَ الْغَدِ مِنْ يَوْمِ الْأَضْحَى فَقَرَّبَ إِلَيْهِمْ عَمْرٌو طَعَامًا فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ إِنِّي صَائِمٌ فَقَالَ عَمْرٌو أَفْطِرْ فَإِنَّ هَذِهِ الْأَيَّامَ الَّتِي كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْمُرُنَا بِفِطْرِهَا وَيَنْهَانَا عَنْ صِيَامِهَا فَأَفْطَرَ عَبْدُ اللَّهِ فَأَكَلَ وَأَكَلْتُ مَعَهُ




১৮০৪. আকীলের আযাদকৃত গোলাম আবূ মু্র্রা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা তিনি এবং আবদুল্লাহ্ ইবন আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আমর ইবনুল ‘আস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর নিকট গমন করেন। ঘটনাটি ছিল ঈদুল আযহার পরের দিন কিংবা তার পরের দিন (তথা তাশরীকের দিনে)। আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাদের সম্মুখে কিছু খাদ্যদ্রব্য নিয়ে আসেন। তখন আবদুল্লাহ্ ইবন আমর বলেন, আমি তো রোযাদার। আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তুমি রোযা ভেঙ্গে ফেলো, কেননা এসকল দিনগুলো সেই দিনসমূহের অন্তর্ভুক্ত যেই দিনগুলোতে রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে ইফতার করতে নির্দেশ দিতেন এবং রোযা রাখতে নিষেধ করতেন। তখন আবদুল্লাহ্ রা: রোযা ভেঙ্গে ফেললেন এবং খাবার খেলেন আর আমিও তাঁর সঙ্গে খেলাম।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, আব্দুল্লাহ ইবনু সালিহ এর ‘দুর্বলতা-এর কারণে। তবে তিনি এ বর্ণনায় একাকী নন। তার অনুসরণে বর্ণনা করেছেন শুয়াইব ইবনু লাইছ ইবনু সা’দ, আর তিনি বিশ্বস্ত ফাকীহ শ্রেষ্ঠ। ফলে এটি এ সনদকে সহীহতে পরিণত করে।

তাখরীজ: ইবনু খুযাইমা, আস সহীহ নং ২১৪৯; মালিক, হাজ্জ্ব ১৩৮; আবূ দাউদ, সওম ২৪১৮; বাইহাকী, সিয়াম ৪/২৯৭।









সুনান আদ-দারিমী (1805)


حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي بِشْرٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ امْرَأَةً نَذَرَتْ أَنْ تَحُجَّ فَمَاتَتْ فَجَاءَ أَخُوهَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَأَلَهُ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَوْ كَانَ عَلَيْهَا دَيْنٌ أَكُنْتَ قَاضِيَهُ قَالَ نَعَمْ قَالَ فَاقْضُوا اللَّهَ اللَّهُ أَحَقُّ بِالْوَفَاءِ قَالَ فَصَامَ عَنْهَا




১৮০৫. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একটি মহিলা রোযা মানত করার পরে মৃত্যু বরণ করলো। তখন তার ভাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম – এর নিকট এসে বিষয়টি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলো। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ “দেখো, কোন ঋণ যদি তোমার বোনের উপর থাকত, তাহলে কি তুমি সেটা পরিশোধ করতে? সে বলল, হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ তাহলে আল্লাহর ঋণ পরিশোধ করো। কেননা, আল্লাহ্ তা’আলার ঋণ সবচেয়ে অগ্রগণ্য। তুমি তার পক্ষ থেকে রোযা রাখো।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।

তাখরীজ: বুখারী, সওম ১৯৫৩; মুসলিম, সিয়াম ১১৪৮;

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৫৩০, ৩৫৭০ তে।… এসম্পর্কিত দু’টি ঘটনা রয়েছে ‘একটি সিয়াম আদায়ের, অপরটি হাজ্জ আদায়ের। দেখুন, সুনানুল কুবরা, নাসাঈ হাদীস ২৯১২ হতে ২৯১৮ পর্যন্ত এবং সহীহ বুখারীও।









সুনান আদ-দারিমী (1806)


أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ وَلِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ فَرْحَةٌ عِنْدَ فِطْرِهِ وَفَرْحَةٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ




১৮০৬. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “সাওম পালনকারীর মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিশকের সুগন্ধের চেয়েও অধিক উত্তম। আর সাওম পালনকারীর জন্য দু‘টি আনন্দ। একটি আনন্দ হলো যখন সে ইফ্তার করে; আরেকটি হলো কিয়ামত দিবসে (যখন সে তার রবের সঙ্গে সাক্ষাত করবে)।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান, মুহাম্মদ ইবনু আমরের জন্য। তবে হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।

তাখরীজ: বুখারী, সওম ১৮৯৪; মুসলিম, সিয়াম ১১৫১;

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৯৪৭; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৪২২, ৩৪২৩, ৩৪২৪ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১০৪০ তে। পরবর্তী টীকাটিও দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (1807)


أَخْبَرَنَا يَزِيدُ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ لَهُ فَالْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا إِلَى سَبْعِ مِائَةِ ضِعْفٍ إِلَّا الصِّيَامَ هُوَ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ إِنَّهُ يَتْرُكُ الطَّعَامَ وَشَهْوَتَهُ مِنْ أَجْلِي وَيَتْرُكُ الشَّرَابَ وَشَهْوَتَهُ مِنْ أَجْلِي فَهُوَ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ




১৮০৭. আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ তা’আলা বলেন, সাওম ব্যতীত আদম সন্তানের প্রতিটি কাজই তাঁর নিজের জন্য, আর প্রত্যেক নেক কাজের বিনিময় দশ থেকে সাতশ’ গুণ। কিন্তু সিয়াম আমার জন্য, তাই আমি এর প্রতিদান দেব। সে আমার জন্য আহার ও কামাচার পরিত্যাগ করে এবং আমার জন্য পান ও কামাচার পরিত্যাগ করে। ফলে তা (সিয়াম) আমারই জন্য। তাই এর পুরষ্কার আমি নিজেই দান করব।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান, মুহাম্মদ ইবনু আমরের জন্য। তবে হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৪১৬ তে। পূর্ণ তাখরীজের জন্য আগের টীকাটি দেখুন।

তাঁর বাণী: ‘রোযা আমারই জন্য’ …. অর্থ রোযা একমাত্র আমার জন্য, এতে সে কাউকে শরীক করেনি, আর সে আমার ব্যতীত আর কারো ইবাদত এর মাধ্যমে করেনি। ফলে আজ আমি তার আমার প্রতি ইখলাছ এর পরিমাণে তাকে পুরস্কৃত করব; নিজেই তার দিব….। দেখুন, জামিউল উসূল, ৯/৪৫৪; ফাতহুর বারী ৪/১০৭-১১০।









সুনান আদ-দারিমী (1808)


أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الصَّوْمُ جُنَّةٌ




১৮০৮. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “সিয়াম হলো ঢাল স্বরূপ।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।

তাখরীজ: বুখারী, সওম ১৮৯৪; মুসলিম, সিয়াম ১১৫১;

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৪২৭ তে। এটি আগের হাদীস দু’টির অংশ বিশেষ।









সুনান আদ-দারিমী (1809)


أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا هِشَامٌ الدَّسْتَوَائِيُّ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا أَفْطَرَ عِنْدَ أُنَاسٍ قَالَ أَفْطَرَ عِنْدَكُمْ الصَّائِمُونَ وَأَكَلَ طَعَامَكُمْ الْأَبْرَارُ وَتَنَزَّلَتْ عَلَيْكُمْ الْمَلَائِكَةُ




১৮০৯. আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কোনো লোকের নিকট (বাড়িতে) ইফতার করতেন, তখন বলতেন: “রোযাদারগণ তোমাদের নিকট ইফতার করেছে, নেককার গণ তোমাদের খাবার খেয়েছে এবং ফিরিশতাগণ তোমাদের উপর অবতীর্ণ হয়েছে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৩১৯ , ৪৩২০. ৪৩২১, ৪৩২২ তে।

এছাড়াও: ইবনু আবী শাইবা ৩/১০০। ((আহমাদ ৩/১৩৮ ও বাইহাকী ৭/২৮৭; আলবানী সহীহুল জামি’ ৪/২০৯ তে বলেন: সহীহ’-- ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীক্বকৃত দারেমী হা/১৭৭২ এর টীকা হতে।– অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (1810)


حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ الرَّبِيعِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ سُلَيْمَانَ قَالَ سَمِعْتُ مُسْلِمًا الْبَطِينَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا الْعَمَلُ فِي أَيَّامٍ أَفْضَلَ مِنْ الْعَمَلِ فِي عَشْرِ ذِي الْحِجَّةِ قِيلَ وَلَا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ قَالَ وَلَا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ إِلَّا رَجُلٌ خَرَجَ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ ثُمَّ لَمْ يَرْجِعْ بِشَيْءٍ




১৮১০. ইবনু ‘আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহর নিকট যুলহিজ্জার দশ দিনের নেক আমলের চাইতে অধিক ফযীলতপূর্ণ আর কোনো দিনের নেক আমল নেই।“ সাহাবীগণ বলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ্! আল্লাহর পথে জিহাদও কি নয়? তিনি বলেন, “আল্লাহর পথে জিহাদও নয়, কিন্তু যে ব্যক্তি তার জান-মালসহ আল্লাহর পথে বের হয়, কিন্তু তার কোন কিছু নিয়েই আর ফিরে আসে না (তার মর্যাদা অনেক)।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, ঈদাইন ৯৬৯; বাইহাকী, সিয়াম ৪/২৮৪; তা্য়ালিসী নং ২৬৩১; আহমাদ ১/৩৪৬; আবূ দাউদ, সওম ২৪৩৮; আব্দুর রাযযাক নং ৮১২১; তাবারাণী, আল কাবীর ২/১৩ নং ১২৩২৬; তিরমিযী, সওম ৭৫৭; বাগাব, শারহুস সুন্নাহ নং ১১২৫; ইবনু মাজাহ, সিয়াম ১৭২৭।

এর শাহিদ হাদীস জাবীর রা: হতে বর্ণিত হয়েছে যার তাখরীজ আমরা দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২০৯০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৬২৩, ৬০১১ তে।

এছাড়া, আব্দুল্লাহ ইবনু আমর, আব্দুল্লাহ্ ইবনু মাসউদ, ইবনু আব্বাস এর অপর বর্ণনা: এর শাহিদ হিসেবে বর্ণিত আছে, যার তাখরীজ আমরা দিয়েছি মাজামউয যাওয়াইদ নং ৬০০৭-৬০১০ তে। আরও দেখুন, পরবর্তী হাদীসটি এবং তারগীব ২/১৯৮-২০০।









সুনান আদ-দারিমী (1811)


أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا أَصْبَغُ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ أَبِي أَيُّوبَ عَنْ سَعِيدٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا مِنْ عَمَلٍ أَزْكَى عِنْدَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ وَلَا أَعْظَمَ أَجْرًا مِنْ خَيْرٍ تَعْمَلُهُ فِي عَشْرِ الْأَضْحَى قِيلَ وَلَا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ قَالَ وَلَا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ إِلَّا رَجُلٌ خَرَجَ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ فَلَمْ يَرْجِعْ مِنْ ذَلِكَ بِشَيْءٍ قَالَ وَكَانَ سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ إِذَا دَخَلَ أَيَّامُ الْعَشْرِ اجْتَهَدَ اجْتِهَادًا شَدِيدًا حَتَّى مَا يَكَادُ يَقْدِرُ عَلَيْهِ




১৮১১. (অপর সনদে) ইবনু ‘আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আযহা’র (যুলহিজ্জার) দশ দিনে যে নেক আমল করা হয়, তার চাইতে আল্লাহর নিকট অধিক পবিত্র, অধিক সাওয়াবের আর কোনো নেক আমল নেই।“ জিজ্ঞাসা করা হলো, আল্লাহর পথে জিহাদও কি নয়? তিনি বলেন, “আল্লাহর পথে জিহাদও নয়, তবে, যে ব্যক্তি তার জান-মালসহ আল্লাহর পথে (জিহাদে) বের হয়, কিন্তু এর কোন কিছু নিয়েই সে আর ফিরে আসে না (তার মর্যাদা অনেক)।“ [1] তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, সাঈদ ইবনু যুবাইর যখন (যুলহাজ্জের) প্রথম দশকে উপনীত হতেন, তখন তিনি তাঁর সাধ্যানুযায়ী সর্বাধিক কঠোর সাধনা করতেন।

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: তাহাবী, মুশকিলিল আছার ৪/১১৩-১১৪; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ৩৭৫২; পূর্ণ তাখরীজের জন্য আগের টীকাটি দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (1812)


حَدَّثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا أَبُو سُهَيْلٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا جَاءَ رَمَضَانُ فُتِحَتْ أَبْوَابُ السَّمَاءِ وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ النَّارِ وَصُفِّدَتْ الشَّيَاطِينُ




১৮১২. আবী হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন রমযান মাস আগমন করে, তখন আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানদেরকে শৃংখলাবদ্ধ করা হয়।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।

তাখরীজ: বুখারী, সওম ১৮৯৮; মুসলিম, সিয়াম ১০৭৯;

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৪৩৪, ৩৪৩৫ তে।









সুনান আদ-দারিমী (1813)


حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ




১৮১৩. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “ঈমানের সাথে এবং সাওয়াবের প্রত্যাশায় যে লোক রামাযান মাসে (ইবাদাতের উদ্দেশ্যে) রাত্রি জাগরণ করলো, তার পূর্ববর্তী পাপগুলো ক্ষমা করে দেওয়া হলো। আর ঈমানের সাথে এবং সাওয়াবের প্রত্যাশায় যে লোক লাইলাতুল ক্বদরে (ইবাদাতের জন্য) রাত্রি জাগরণ করলো, তারও পূর্ববর্তী পাপগুলো ক্ষমা করে দেওয়া হয়।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।

তাখরীজ: বুখারী, সওম ১৯০১; ঈমান ৩৫; মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন ৭৬০;

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৯৬০, ৫৯৯৭ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৬৮২ তে।

এর প্রথম অংশটি আরো তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৯৩০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৪৩২ তে। আর দ্বিতীয় অংশের তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩৬৩২। পূর্ণ তাখরীজের জন্য দেখুন, মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯৮০, ১০৩৭ এবং ‘আল মা’রিফাহ নং ৯০৭৯।









সুনান আদ-দারিমী (1814)


حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ عَدِيٍّ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ عَنْ الْوَلِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ صُمْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَهْرَ رَمَضَانَ قَالَ فَلَمْ يَقُمْ بِنَا مِنْ الشَّهْرِ شَيْئًا حَتَّى بَقِيَ سَبْعٌ قَالَ فَقَامَ بِنَا حَتَّى ذَهَبَ ثُلُثُ اللَّيْلِ قَالَ فَلَمَّا كَانَتْ السَّادِسَةُ لَمْ يَقُمْ بِنَا فَلَمَّا كَانَتْ الْخَامِسَةُ قَامَ بِنَا حَتَّى ذَهَبَ شَطْرُ اللَّيْلِ الْآخِرُ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ لَوْ نَفَّلْتَنَا بَقِيَّةَ هَذِهِ اللَّيْلَةِ فَقَالَ إِنَّ الرَّجُلَ إِذَا قَامَ مَعَ الْإِمَامِ حَتَّى يَنْصَرِفَ مِنْ صَلَاتِهِ حُسِبَ لَهُ قِيَامُ لَيْلَتِهِ فَلَمَّا كَانَتْ الرَّابِعَةُ لَمْ يَقُمْ بِنَا فَلَمَّا كَانَتْ الثَّالِثَةُ جَمَعَ أَهْلَهُ وَنِسَاءَهُ وَالنَّاسَ فَقَامَ بِنَا حَتَّى خَشِينَا أَنْ يَفُوتَنَا الْفَلَاحُ قُلْنَا وَمَا الْفَلَاحُ قَالَ السُّحُورُ قَالَ ثُمَّ لَمْ يَقُمْ بِنَا بَقِيَّةَ الشَّهْرِ




১৮১৪. আবী যার্র রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সঙ্গে আমরা রমযান মাসের সিয়াম পালন করেছি।– তিনি বলেন, তিনি রামাযান মাসে আমাদের নিয়ে (নফল) সালাত আদায় করেননি। যখন সাত দিন অবশিষ্ট রইলো (তেইশ রমযানের রাতে) তিনি আমাদের নিয়ে সালাত দাড়ালেন।’ তিনি বলেন- ‘এমনকি রাতের এক তৃতীয়াংশ এতে অতিবাহিত হয়ে গেল।’ তিনি বলেন, ‘এরপর ষষ্ঠ রাতে আর আমাদের নিয়ে সালাতে দাড়ালেন না। এরপর পঞ্চম রাত অবশিষ্ট থাকতে আবার আমাদের নিয়ে সালাতে দাড়ালেন। এমনকি এতে অর্ধেক রাত অতিবাহিত হয়ে গেল। আমরা তাঁকে বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমাদের অবশিষ্ট রাতটুকুও যদি নফল আদায় করে অতিবাহিত করে দিতেন।’ তিনি বললেন: “কেউ যদি ইমামের সঙ্গে সালাতে দাঁড়ায় এবং ইমামের সালাত শেষ করা পর্যন্ত তাঁর সাথে থাকে, তবে তার জন্য তা সারারাত সালাতে দাড়ানো বলে গণ্য হয়। এরপর চতুর্থ রাতে আমাদের নিয়ে আর সালাতে দাড়ালেন না। এরপর তৃতীয় (সাতাশে রমযানের) রাতে তিনি তাঁর পরিজন ও স্ত্রীগণকে ও লোকদেরকে একত্রিত করে আমাদের নিয়ে সালাতে দাড়ালেন। অনন্তর তিনি এত দীর্ঘক্ষণ সালাত আদায় করলেন যে আমরা আমাদের ‘ফালাহ’ ছুটে যাওয়ার আশংকা করলাম।’ (রাবী বলেন) আমরা জিজ্ঞেস করলাম, ‘ফালাহ’ কি? তিনি বললেন, ‘সাহরী খাওয়া।’ তিনি বলেন, ‘এরপর মাসের অবশিষ্ট (রাতসমূহ) আর সালাতের জন্য দাড়াননি।’[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ৭৭০৬; আহমাদ ৫/১৫৯, ১৬০, ১৬৩; ইবনু আবী শাইবা ২/৩৯৪; আবূ দাউদ, সালাত ১৩৭৫; তিরমিযী, সালাত ৮০৬; নাসাঈ, কুবরা নং ১২৮৭; ইবনু মাজাহ, ইকামাতিস সালাত ১৩২৭; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ১/৩৪৯; ইবনু খুযাইমা, সহীহ নং ২২০৬; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ৯৯১; ইবনুল জারুদ, আল মুনতাকা নং ৪০৩।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৫৪৭ তে।









সুনান আদ-দারিমী (1815)


حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ سُفْيَانَ عَنْ دَاوُدَ عَنْ الْوَلِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْجُرَشِيِّ عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ الْحَضْرَمِيِّ عَنْ أَبِي ذَرٍّ نَحْوَهُ




১৮১৫. (অপর সনদে) আবী যার্র রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: ইবনুল জারুদ, আল মুনতাকা। পূর্ণ তাখরীজের জন্য আগের টীকাটি দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (1816)


حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنِ عَيَّاشٍ عَنْ أَبِي حَصِينٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعْتَكِفُ الْعَشْرَ الْأَوَاخِرَ فَلَمَّا كَانَ الْعَامُ الَّذِي قُبِضَ فِيهِ اعْتَكَفَ عِشْرِينَ يَوْمًا




১৮১৬. আবী হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (প্রতি রমযান মাসে) শেষ দশ দিন ই’তিকাফে অতিবাহিত করতেন। কিন্তু যে বছর তাঁর ইন্তিকাল হয়, সে বছর তিনি বিশদিন ই’তিকাফ করেছিলেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান আবী বাকর ইবনু আয়্যাশ এর কারণে।

তাখরীজ: আহমাদ ২/৩৩৬, ৩৫৫; বুখারী, ই’তিকাফ ২০৪৪, ফাযাইলুল কুরআন ৪৯৯৮; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ১৮৩৫; আবূ দাউদ, সওম ২৪৬৬; ইবনু মাজাহ, সিয়াম ১৭৬৯; ইবনু খুযাইমা, আস সহীহ নং ২২২১; খতীব, তারীখ বাগদাদ ১৪/১৭৬; বাইহাকী, সিয়াম ৪/৩১৪; দালাইলুল নবুওয়াত ৭/১৪৬; শুয়াবুল ঈমান নং ৩৯৬১। আরো দেখুন, মুছান্নাফ আব্দুর রাযযাক নং ৭৬৮২; সুনানে দারুকুতনী ২/২০১ নং ১০।









সুনান আদ-দারিমী (1817)


حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ أَخْبَرَنَا شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ أَخْبَرَنِي عَلِيُّ بْنُ حُسَيْنٍ أَنَّ صَفِّيَةَ بِنْتَ حُيَيٍّ أَخْبَرَتْهُ أَنَّهَا جَاءَتْ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَزُورُهُ فِي اعْتِكَافِهِ فِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ فَتَحَدَّثَتْ عِنْدَهُ سَاعَةً ثُمَّ قَامَتْ




১৮১৭. সাফিয়্যা বিনতে হুয়াই রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, তিনি একদা রমযান মাসের শেষ দশকে মাসজিদুল হারামে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে দেখা করতে আসেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখানে ই‘তিকাফরত ছিলেন। তিনি কিছুক্ষণ তাঁর সাথে কথাবার্তা বলেন। এরপর তিনি (ফিরে যাওয়ার জন্য) উঠে দাড়ান।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।

তাখরীজ: বুখারী, ই’তিকাফ ২০৩৫; মুসলিম, সালাম ২১৭৫;

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭১২১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৬৭১ তে।









সুনান আদ-দারিমী (1818)


أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ عَنْ أَنَسٍ عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ قَالَ خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يُرِيدُ أَنْ يُخْبِرَنَا بِلَيْلَةِ الْقَدْرِ فَتَلَاحَى رَجُلَانِ مِنْ الْمُسْلِمِينَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنِّي خَرَجْتُ إِلَيْكُمْ وَأَنَا أُرِيدُ أَنْ أُخْبِرَكُمْ بِلَيْلَةِ الْقَدْرِ وَكَانَ بَيْنَ فُلَانٍ وَفُلَانٍ لِحَاءٌ فَرُفِعَتْ وَعَسَى أَنْ يَكُونَ خَيْرًا فَالْتَمِسُوهَا فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ فِي الْخَامِسَةِ وَالسَّابِعَةِ وَالتَّاسِعَةِ




১৮১৮. ‘উবাদা ইবনুস সামিত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে লাইলাতুল কাদরের (নির্দিষ্ট তারিখ) সম্পর্কে অবহিত করার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন। তখন দুজন মুসলিম ঝগড়া করছিল। তখন (তা দেখে) তিনি বললেন: আমি তোমাদেরকে লাইলাতুল ক্বদরের সংবাদ দিবার জন্য বের হয়েছিলাম, কিন্তু তখন অমুক অমুক ঝগড়া করছিল, ফলে তা (নির্দিষ্ট তারিখ) উঠিয়ে নেয়া হলো। সম্ভবত: এর মধ্যে তোমাদের জন্য কল্যাণ নিহিত রয়েছে। তোমরা শেষ দশদিনের মধ্যকার পঞ্চম (তথা পঁচিশতম), সপ্তম (সাতাশতম) ও নবম (ঊনত্রিশতম) রাতে তা অনুসন্ধান কর।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, ঈমান ৪৯, ই’তিকাফ ২০২৩; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৬৭৯ তে।

আরো সংযোজনী: ইবনু আবী শাইবা ২/৫১৪; ইবনু আব্দুল বারর, তামহীদ ২/২০০।









সুনান আদ-দারিমী (1819)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ حَدَّثَنِي يُونُسُ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ وَقَالَ أَبُو سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أُرِيتُ لَيْلَةَ الْقَدْرِ ثُمَّ أَيْقَظَنِي بَعْضُ أَهْلِي فَنَسِيتُهَا فَالْتَمِسُوهَا فِي الْعَشْرِ الْغَوَابِرِ




১৮১৯. আবী হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আমাকে (স্বপ্নযোগে) লাইলাতুল কাদর (-এর নির্দিষ্ট তারিখ) দেখানো হয়েছিল। এরপর আমার পরিবারের কেউ আমাকে জাগিয়ে দেয়। ফলে আমাকে তা ভূলিয়ে দেয়া হয়। এমতাবস্থায় তোমরা শেষ দশকে তা অনুসন্ধান করো।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। তবে হাদীসটি সহীহ।

তাখরীজ: মুসলিম, সিয়াম ১১৬৬;

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৯৭২ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৬৭৮ তে।

এ অনুচ্ছেদে আনাস, ইবনু উমার, আবী সাঈদ খুদরী হতেও হাদীস বর্ণিত আছে, যা আমরা তাখরীজ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী আউয়াল নং ৩৭১২, ৪০২১, ছানী নং ৫৪১৯, ৫৪৮৪, ৫৫৪২ ও ছালিছ নং ১০৭৬, ১২৮০, ১৩২৪ তে।









সুনান আদ-দারিমী (1820)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ حَدَّثَنِي عُقَيْلٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ أَخْبَرَنِي سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْتَمِسُوا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي السَّبْعِ الْأَوَاخِرِ




১৮২০. আব্দুল্লাহ ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমরা শেষ (দশকের) সপ্তম দিনে তা অনুসন্ধান করো।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। তবে (হাদীসটি সহীহ এবং) হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।

তাখরীজ: বুখারী, ফাযলী লাইলাতুল ক্বদর, ২০১৫; মুসলিম, সিয়াম ১১৬৫;

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৪১৯ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৬৭৫, ৩৬৭৬, ৩৬৮১ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৬৪৭ তে। এছাড়াও, ইবনুল জারুদ, আল মুনতাক্বা নং ৪০৫।