সুনান আদ-দারিমী
حَدَّثَنِي عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا عَبْدَةُ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ نُفِسَتْ أَسْمَاءُ بِمُحَمَّدِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ بِالشَّجَرَةِ فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَبَا بَكْرٍ أَنْ تَغْتَسِلَ وَتُهِلَّ
১৮৪১. আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যুলহুলায়ফার শাজারায় আসমা (বিনতু উমাইস) মুহাম্মদ ইবন আবূ বাকরকে প্রসব করলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে নির্দেশ দেন যে, তিনি (আসমা) যেন গোসল করেন এবং ইহরাম বাঁধেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মুসলিম, হাজ্জ ১২০৯; আবূ দাউদ, মানাসিক ১৭৪৩; ইবনু মাজাহ, মানাসিক ২৯১১; ইবনু হাযম, হাজ্জাতুল বিদা’ পৃ: ৭৫; মালিক, হাজ্জ (১); আহমাদ ৬/৩৬৯; নাসাঈ, কুবরা নং ৩৬৪৩; আর দেখুন, মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৪।
أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَابِرٍ فِي حَدِيثِ أَسْمَاءَ بِنْتِ عُمَيْسٍ حِينَ نُفِسَتْ بِذِي الْحُلَيْفَةِ فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَبَا بَكْرٍ أَنْ يَأْمُرَهَا أَنْ تَغْتَسِلَ وَتُهِلَّ
১৮৪২. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে আসমা বিনতে উমাইস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা সম্পর্কে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। যুলহুলায়ফায় আসমা বিনত উমাইস মুহাম্মদ ইবন আবূ বাকরকে প্রসব করলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে নির্দেশ দেন যে, তিনি যেন তাকে (আসমাকে) গোসল করার এবং ইহরাম বাঁধার নির্দেশ দেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মুসলিম, হাজ্জ ১২০৯;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২০২৭, ২১২৫, ৬৭৩৯ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৭৯১, ৩৯১৯, ১৯৪১, ৩৯৪২, ৩৯৪৩; ৩৯৪৪ (বিস্তারিত) ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ২৫১২, ১৩২৫ তে।
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ أَخْبَرَنَا عَبْدُ السَّلَامِ بْنُ حَرْبٍ عَنْ خُصَيْفٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَحْرَمَ دُبُرَ الصَّلَاةِ
১৮৪৩. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাতের পর ইহরাম বাঁধেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৫১৩। আর এটি রয়েছে নাসাঈ, আল কুবরা নং ৩৭৩৫। ((তিরমিযী, হাজ্জ ৮১৯; নাসাঈ, হাজ্জ ৫/১৬২- ফাওয়ায আহমেদের দারেমীর হা/১৮০৬ এর টীকা হতে। অনুবাদক))
আর এর শাহিদ হাদীস ইবনু উমার হতে যার তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৭৮৫ তে।
أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ قَالَ أَخْبَرَنَا النَّضْرُ هُوَ ابْنُ شُمَيْلٍ أَخْبَرَنَا أَشْعَثُ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَحْرَمَ أَوْ أَهَلَّ فِي دُبُرِ الصَّلَاةِ
১৮৪৪. আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাতের পর ইহরাম বাঁধেন বা (ইহরামের) তাহলীল উচ্চারণ করেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাসানের আনাস (রা:) এর থেকে শ্রবণ সাব্যস্ত। সুতরাং তার ‘আন আন’ পদ্ধতিতে এটি বর্ণনা করা এর কোনো ক্ষতি করবে না। আল্লাহই ভাল জানেন।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৫৪২২ তে।
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا يَحْيَى يَعْنِي ابْنَ سَعِيدٍ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا لَبَّى قَالَ لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ قَالَ يَحْيَى وَذَكَرَ نَافِعٌ أَنَّ ابْنَ عُمَرَ كَانَ يَزِيدُ هَؤُلَاءِ الْكَلِمَاتِ لَبَّيْكَ وَالرَّغْبَاءُ إِلَيْكَ وَالْعَمَلُ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ
১৮৪৫. ইবনু উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্নিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তালবিয়া পাঠের সময় বলতেন: “লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইকা; লা-শারীকা লাকা লাব্বাইকা, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুলকা, লা শারীকা লাকা।“
(অর্থ: ‘আমি হাজির, হে আল্লাহ! আমি হাজির; আপনার কোন শরীক নেই, আমি হাজির, সকল প্রশংসা ও সকল নিয়ামত আপনারই, সমস্ত বিশ্বের রাজত্ব আপনারই, আপনার কোন শরীক নেই।’) ইয়াহইয়া বলেন, নাফিঈ’ উল্লেখ করেছেন যে, ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এ শব্দগুলি বাড়িয়ে পাঠ করতেন: ‘লাব্বাইকা ওয়ার রাগবা-উ ইলাইকা ওয়াল আমলু, লাব্বাইকা, লাব্বাইকা।’ (অর্থ: ‘আমি হাজির, সকল প্রকার আশা-আকাংখা আপনারই প্রতি, আমলও আপনার (সন্তুষ্টির) জন্যই, আমি হাজির, আমি হাজির।’)[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বুখারী, হাজ্জ ১৫৪৯; মুসলিম, হাজ্জ ১১৮৪; এছাড়া, শাফিঈ, আল উম্মু ২/১৫৫; তার সূত্রে বাইহাকী, মা’রিফাহ নং ৯৫৭০।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৬৯২; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৭৯৯ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৬৭৫ তে।
তাহাবী, তার শারহু মা’আনিল আছার ২/১২৫ তে বলেন: সকল মুসলিমগণ একমত যে, এটি হাজ্জের মারফু’ তালবিয়া।
তবে একদল লোক বলেন: আল্লাহর যিকির এ বৃদ্ধি করায় কোনো দোষ নেই। … তারা বলেন, এভাবে (ইবনু উমার রা: এর মতো) তালবিয়ায় শব্দ বৃদ্ধি করাতেও কোনো দোষ নেই।
অপর দল তাদের বিরোধীতা করেন। তারা বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক লোকদেরকে শেখানো শব্দের উপর বৃদ্ধি করা সমীচীন নয়।… বরং তিনি সালাতের তাকবীর যেভাবে শিখিয়েছেন, সেভাবে এটা (তালবিয়া)ও শিখিয়েছেন। তাকবীর ব্যতীত অন্য কিছু করা যেমন সমীচীন নয়, তদ্রূপ তাঁর তালবিয়াতেও শিখানো পদ্ধতিতে বৃদ্ধি করা সমীচীন নয়। যেমন সা’দ রা: হতে বর্ণিত, হয়েছে, তিনি এক ব্যক্তি কে বলতে শুনলেন, ‘লাব্বাইকা যিল মা’আরিজ লাব্বাইক।’ তখন সা’দ রা: বললেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জামানায় এরূপ তালবিয়া পড়তাম না।’
সুতরাং সা’দ রা: যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের শেখাননি, সেরূপ বৃদ্ধিকে মাকরূহ গণ্য করেছেন। ফলে আমরাও এমত গ্রহণ করেছি।“
আরও দেখুন, শাফিঈ, আল উম্মু ২/১৫৬; ফাতহুল বারী ৩/৪১০ ও বাইহাকী, আল মা’রিফাহ ৭/১৩৬।
أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ عَنْ خَلَّادِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَتَانِي جِبْرَائِيلُ فَقَالَ مُرْ أَصْحَابَكَ أَوْ مَنْ مَعَكَ أَنْ يَرْفَعُوا أَصْوَاتَهُمْ بِالتَّلْبِيَةِ أَوْ بِالْإِهْلَالِ
১৮৪৬. খাল্লাদ ইবনুস সাইব হতে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “জিবরাঈল (আ.) আমার নিকট এসে বললেন, ‘আপনি আপনার সাথী ও সাহাবীদেরকে নির্দেশ দেন, তারা যেন উচ্চস্বরে তালবিয়া কিংবা ইহলাল পাঠ করে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৮০২; মাওয়ারিদুয যাম’আন ৩/২৯০-২৯২ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৮৭৬ তে।
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ بِإِسْنَادِهِ نَحْوَهُ
১৮৪৭. আব্দুল্লাহ ইবনু আবী বাকর তাঁর সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: হুমাইদী নং ৮৭৬। এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।
أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا ثَابِتُ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا هِلَالُ بْنُ خَبَّابٍ قَالَ فَحَدَّثْتُ عِكْرِمَةَ فَحَدَّثَنِي عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ ضُبَاعَةَ بِنْتَ الزُّبَيْرِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ أَتَتْ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أُرِيدُ أَنْ أَحُجَّ فَكَيْفَ أَقُولُ قَالَ قُولِي لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ وَمَحِلِّي حَيْثُ تَحْبِسُنِي فَإِنَّ لَكِ عَلَى رَبِّكِ مَا اسْتَثْنَيْتِ
১৮৪৮. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, যুবাআ বিনতু যুবাইর ইবনু আব্দুল মুত্তালিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছেএসে বললেন, ইয়া রাসূল্লাহ্! আমি হজ্জ করতে ইচ্ছা রাখি। এখন আমি কি বলবো? তিনি বললেন, তুমি বলবে, ‘লাব্বায়কা আল্লাহুম্মা লাব্বায়ক (হাযির আছি, হে আল্লাহ! আমি হাযির আছি।) আপনি যেখানে আমাকে বাধাগ্রস্ত করে দিবেন, সেখানেই আমি হালাল হব।’ এরপর যা তোমার থেকে বাদ পড়ে যাবে, তোমার রবের পক্ষ হতে (তার সাওয়াব) তোমাকে প্রদান করা হবে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মুসলিম, হাজ্জ ১২০৮; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৪৮০ সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৭৭৫ তে।
أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَفْرَدَ الْحَجَّ
১৮৪৯. আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইফরাদ হাজ্জ করেছেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ।
তাখরীজ: মুসলিম, হাজ্জ ১২১১ (১২২); আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৩৬১, ৪৩৬২, ৪৩৬৩ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৯৩৪, ৩৯৩৫, ৩৯৩৬ তে।
أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ أَخْبَرَنَا أَبُو هِلَالٍ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ مُطَرِّفٍ قَالَ قَالَ عِمْرَانُ بْنُ حُصَيْنٍ إِنِّي مُحَدِّثُكَ بِحَدِيثٍ لَعَلَّ اللَّهَ أَنْ يَنْفَعَكَ بِهِ بَعْدُ إِنَّهُ كَانَ يُسَلَّمُ عَلَيَّ وَإِنَّ ابْنَ زِيَادٍ أَمَرَنِي فَاكْتَوَيْتُ فَاحْتُبِسَ عَنِّي حَتَّى ذَهَبَ أَثَرُ الْمَكَاوِي وَاعْلَمْ أَنَّ الْمُتْعَةَ حَلَالٌ فِي كِتَابِ اللَّهِ لَمْ يَنْهَ عَنْهَا نَبِيٌّ وَلَمْ يَنْزِلْ فِيهَا كِتَابٌ قَالَ رَجُلٌ بِرَأْيِهِ مَا بَدَا لَهُ
১৮৫০. ইমরান ইবনু হুসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি তোমাদেরকে একটি হাদীস বর্ণনা করবো, সম্ভবত: পরবর্তীতে আল্লাহ এর মাধ্যমে তোমাদের উপকার করবেন। আর ইবনু যিয়াদের পরামর্শ অনুযায়ী আমি যখন দাগ লাগালাম, তখন দাগ লাগানোর চিহ্ন দূরীভূত না হওয়া পর্যন্ত আমার প্রতি[1] (ফিরিশতাগণের সালাম) বন্ধ হয়ে যায়। যাহোক, তোমরা জেনে রাখো, (হাজ্জে) তামাত্তু আল্লাহর কিতাবে হালাল করা হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ইন্তিকাল পর্যন্ত) তা থেকে নিষেধ করেননি এবং একে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে কুরআনের কোন আয়াতও নাযিল হয়নি। এখন (অমুক) লোক তার নিজস্ব অভিমত অনুযায়ী কথা বলে, যা সে (নিষিদ্ধ) মনে করে।[2]
[1] (মুহাকিক্বের টীকা:) ফিরিশতাগণ তাঁর প্রতি সালাম দেন। ইমাম নববী তার শারহে মুসলিম ৩/৩৬৫ এ এ হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন: “এ হাদীসের অর্থ: ইমরাণ ইবনু হুসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু অর্শ রোগী ছিলেন। তিনি এ কষ্টে সবর করতেন, ফলে ফিরিশতা গণ তাঁর প্রতি সালাম প্রেরণ করতেন। কিন্তু যখন তিনি আগুনের দাগা লাগান, তারপর তাঁর প্রতি ফিরিশতাগণের সালাম বন্ধ হয়ে যায়। এরপর যখন তিনি দাগ গ্রহণ পরিত্যাগ করেন, তখন ফিরিশতাগণ পুনরায় তাঁর প্রতি সালাম দেন।“
[2] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান, আবী হিলাল আর রাসিবী’র কারণে। তবে, হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বুখারী, হাজ্জ ১৫৭১, তাফসীর ৪৫১৮; মুসলিম, হাজ্জ ১২২৬; এছাড়া, আহমাদ ৪/৪২৮, ৪৩৬।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৯৩৭, ৩৯৩৮ তে।
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَقَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نَوْفَلٍ قَالَ سَمِعْتُ عَامَ حَجَّ مُعَاوِيَةُ يَسْأَلُ سَعْدَ بْنَ مَالِكٍ كَيْفَ تَقُولُ بِالتَّمَتُّعِ بِالْعُمْرَةِ إِلَى الْحَجِّ قَالَ حَسَنَةٌ جَمِيلَةٌ فَقَالَ قَدْ كَانَ عُمَرُ يَنْهَى عَنْهَا فَأَنْتَ خَيْرٌ مِنْ عُمَرَ قَالَ عُمَرُ خَيْرٌ مِنِّي وَقَدْ فَعَلَ ذَلِكَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ خَيْرٌ مِنْ عُمَرَ
১৮৫১. মুহাম্মদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু নাওফাল রাহি. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “যে বছর মুয়াবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হাজ্জ করেন, সেই সময় আমি তাকে বলতে শুনেছি, তিনি সা’দ ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বলেন, উমরাকে হাজ্জের সাথে একত্রিত করে তামাত্তু হাজ্জ করা সম্পর্কে আপনার মতামত কী? তিনি বলেন, অতিউত্তম- সুন্দর। তখন তিনি বলেন, কিন্তু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তো এটা নিষেধ করতেন। তবে কি উমারের চেয়েও আপনি উত্তম? তিনি বলেন, উমার আমার চেয়ে উত্তম, তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে এটা করেছেন; আর তিনি উমারের চেয়ে উত্তম।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ (উত্তম)।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৮০৫; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৯২৩, ৩৯৩৯; মাওয়ারিদুয যাম্’আন নং ৯৯৬, ৯৯৭তে।
((তিরমিযী, হাজ্জ, বাব: তামাত্তু সম্পর্কে হা/৮২৪ তিনি একে সহীহ এবং আলবানী হাসান বলেছেন; নাসাঈ, হা/২৭৩৫; আহমাদ ও বাইহাকী- অনুবাদক))
حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ حَدَّثَنَا قَيْسُ بْنُ مُسْلِمٍ عَنْ طَارِقٍ عَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ حَجَّ وَهُوَ مُنِيخٌ بِالْبَطْحَاءِ فَقَالَ لِي أَحَجَجْتَ قُلْتُ نَعَمْ قَالَ كَيْفَ أَهْلَلْتَ قَالَ قُلْتُ لَبَّيْكَ بِإِهْلَالٍ كَإِهْلَالِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَحْسَنْتَ اذْهَبْ فَطُفْ بِالْبَيْتِ وَبِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ ثُمَّ حِلَّ قَالَ فَطُفْتُ بِالْبَيْتِ وَبِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ ثُمَّ أَتَيْتُ امْرَأَةً مِنْ نِسَاءِ بَنِي قَيْسٍ فَجَعَلَتْ تَفْلِي رَأْسِي فَجَعَلْتُ أُفْتِي النَّاسَ بِذَلِكَ فَقَالَ لِي رَجُلٌ يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ قَيْسٍ رُوَيْدًا بَعْضَ فُتْيَاكَ فَإِنَّكَ لَا تَدْرِي مَا أَحْدَثَ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ فِي النُّسُكِ بَعْدَكَ فَقُلْتُ يَا أَيُّهَا النَّاسُ مَنْ كُنَّا أَفْتَيْنَاهُ فُتْيَا فَلْيَتَّئِدْ فَإِنَّ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ قَادِمٌ عَلَيْكُمْ فَبِهِ فَأْتَمُّوا فَلَمَّا قَدِمَ أَتَيْتُهُ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ إِنْ نَأْخُذْ بِكِتَابِ اللَّهِ فَإِنَّ كِتَابَ اللَّهِ يَأْمُرُ بِالتَّمَامِ وَإِنْ نَأْخُذْ بِسُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَحِلَّ حَتَّى بَلَغَ الْهَدْيُ مَحِلَّهُ
১৮৫২. আবু মূসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বাতহা নামক স্থানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট গেলাম। তিনি বললেনঃ হজ্জ সমাধা করেছ? আমি বললাম, হাঁ। তিনি বললেনঃ কিভাবে ইহরাম বেঁধেছিলে? আমি বললাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মত ইহরাম বেঁধে আমি তালবিয়া পাঠ করেছি। তিনি বললেনঃ ভালই করেছ। যাও বায়তুল্লাহর তাওয়াফ কর এবং সাফা-মারওয়ার সা’য়ী কর। এরপর হালাল হয়ে যাও। তখন আমি বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করলাম এবং সাফা-মারওয়ায় সা’য়ী করলাম। এরপর আমি বনূ কায়স গোত্রের এক মহিলার নিকট এলাম। তিনি আমার মাথার উকুন বেছে দিলেন।
(তখন থেকে উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুএর খিলাফরকাল পর্যন্ত) এ ভাবেই আমি লোকদের (হজ্জ এবং ‘উমরা সম্পর্কে) ফতোয়া দিয়ে চললাম। (উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর খিলাফাতকালে হাজ্জ মৌসুমে) এক ব্যক্তি এসে আমাকে বললো: “হে আব্দুল্লাহ ইবনু কাইস! আপনার কিছু ফাতওয়া আপাতত স্থগিত রাখুন। কেননা, আমীরুল মুমিনীন (উমার) আপনার পরে হজ্জের ব্যাপারে যে নতুন বিধান প্রবর্তন করেছেন, তা হয়তো আপনি জানেন না। তখন আমি বললাম: হে লোক সকল! আমি যাকে কোন ব্যাপারে ফতোয়া দিয়েছি সে যেন তাড়াহুড়া না করে। কেননা তোমাদের নিকট আমীরুল মুমিনীন শীঘ্রই আসছেন, সুতরাং তোমরা তাঁরই অনুসরণ কর। যখন তিনি আগমন করলেন, তখন আমি তাঁর নিকট গিয়ে বিষয়টি তাঁর সাথে আলোচনা করলাম। তখন তিনি বললেনঃ আমরা যদি আল্লাহর কিতাবকে অনুসরণ করি, তাহলে আল্লাহর কিতাব তো আমাদেরপূর্ণ করার নির্দেশ দেয়। আর যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাতের অনুসরণ করি তাহলে তো (দেখি যে), রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর জানোয়ার হালাল হওয়ার স্থানে পৌছার আগে হালাল হননি।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বুখারী, হাজ্জ, ১৫৫৭; মুসলিম, হাজ্জ ১২২১; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭২৭৮ তে। সেখানে টীকাটি দেখুন
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا يَحْيَى عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ خَمْسٌ لَا جُنَاحَ فِي قَتْلِ مَنْ قُتِلَ مِنْهُنَّ الْغُرَابُ وَالْفَأْرَةُ وَالْحِدَأَةُ وَالْعَقْرَبُ وَالْكَلْبُ الْعَقُورُ
১৮৫৩. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: পাঁচ শ্রেনীর প্রাণী হত্যায় কোন গুনাহ নেই, যদি কেউ এগুলোকে (হেরেম এলাকার মধ্যেও) হত্যা করে: কাক, ইঁদুর, চিল, বিচ্ছু ও পাগলা কুকুর।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বুখারী, হাজ্জ, ১৮২৬ মুসলিম, হাজ্জ ১১৯৯; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৫২৮, ৫৪৯৭, ৫৫৪৪; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৯৬১, ৩৯৬২ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৬৩১তে। এছাড়া, বাইহাকী, মা’রিফাতুস সুনান নং ১০৭৪২, ১০৭৪৮।
أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقَتْلِ خَمْسِ فَوَاسِقَ فِي الْحِلِّ وَالْحَرَمِ الْحِدَأَةِ وَالْغُرَابِ وَالْفَأْرَةِ وَالْعَقْرَبِ وَالْكَلْبِ الْعَقُورِ قَالَ عَبْد اللَّهِ الْكَلْبُ الْعَقُورُ وَقَالَ بَعْضُهُمْ الْأَسْوَدُ
১৮৫৪. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরামমুক্ত এবং ইহরামরত উভয় অবস্থায় পাঁচটি অনিষ্টকর প্রাণি হত্যা করতে আদেশ করেছেন: চিল, কাক, ইঁদুর, বিচ্ছু ও পাগলা কুকুর।“[1]
আব্দুল্লাহ বলেন, পাগলা কুকুর’। আর কেউ কেউ বর্ণনা করেছেন: ‘কালো কুকুর’।
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ৮৩৭৪; বুখারী, জাযাউয সাইয়্যেদ, ১৮২৯; মুসলিম, হাজ্জ১১৯৮; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৫০৩ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৬৩২, ৫৬৩৩ তে।
أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ قَالَ بَعْضُ أَصْحَابِنَا إِنَّ مَعْمَرًا كَانَ يَذْكُرُهُ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ وَعَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
১৮৫৫. সালিম হতে, তার পিতা (ইবনু উমার) হতে বর্ণিত হয়েছে।[1] এবং উরওয়াহ হতে, আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত হয়েছে।[2]
[1]পূর্বের হাদীস গুলিতে আমাদের টীকাসমূহ দেখুন।
[2] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : ((মুহাক্বিক্ব এর কোনো হুকুম লাগাননি। –অনুবাদক))
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ৮৩৭৪।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُثْمَانَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ احْتَجَمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ مُحْرِمٌ
১৮৫৬. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরামরত (মুহরিম) অবস্থায় শিঙা লাগিয়েছিলেন।[1]
[1]তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: আহমাদ ১/৩৩২-৩৩৩; দারুকুতনী ২/২৩৯ সহীহ সনদে; পূর্ণ তাখরীজের জন্য ১৮৬২ (অনূবাদে ১৮৫৮) নং হাদীসটি দেখুন।
حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلَالٍ حَدَّثَنَا عَلْقَمَةُ بْنُ أَبِي عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْأَعْرَجِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ابْنِ بُحَيْنَةَ قَالَ احْتَجَمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِلَحْيِ جَمَلٍ وَهُوَ مُحْرِمٌ
১৮৫৭. আব্দুল্লাহ ইবনু বুহাইনা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরামরত (মুহরিম) অবস্থায় ‘লাহ্ইল জামাল’ নামক স্থানে (মক্কা ও মদীনার মাঝে একটি পানির স্থানে) শিঙা লাগিয়েছিলেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বুখারী, জাযাউস সাইদ, ১৮৩৬; মুসলিম, হাজ্জ১২০৩; এছাড়া, বাইহাকী, মা’রিফাতুস সুনান নং ৯৭৩২। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৯৫৩ তে।
حَدَّثَنَا إِسْحَقُ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَمْرٍو عَنْ عَطَاءٍ وَطَاوُسٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ احْتَجَمَ وَهُوَ مُحْرِمٌ قَالَ إِسْحَقُ قَالَ سُفْيَانُ مَرَّةً عَنْ عَطَاءٍ وَمَرَّةً عَنْ طَاوُسٍ وَجَمَعَهُمَا مَرَّةً
১৮৫৮. (অপরসনদে) ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরামরত (মুহরিম) অবস্থায় শিঙা লাগিয়েছিলেন।[1]
ইসহাক্ব বলেন, সুফিয়ান একবার আতা থেকে বর্ণনা করেন, আরেকবার তাঊস থেকে বর্ণনা করেন। আবার কখনো উভয়ের থেকেই বর্ণনা করেন।[2]
[1]এর পুনরাবৃত্তি গত হয়েছে, যেটি দিয়ে এ হাদীসগুলি শুরু হয়েছে।
[2]তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বুখারী, জাযাউসসাইদ, ১৮৩৫; মুসলিম, হাজ্জ১২০২;এছাড়া, বাইহাকী, মা’রিফাতুস সুনান নং ৯৭২৬।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৩৬০, ২৩৯০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৯৫০, ৩৯৫১ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৫০৮, ৫০৯, ৫১০ তে।
حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ زَيْدٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ تَزَوَّجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ مُحْرِمٌ
১৮৫৯. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইহরামরত (মুহরিম) অবস্থায় বিবাহ করেছেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বুখারী, জাযাউস সাইদ, ১৮৩৭; মুসলিম, নিকাহ১৪১০;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৩৯৩, ২৭২৬ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪১২৯, ৪১৩১, ৪১৩৩ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৫১২তে। এবং এসকল স্থানে যে টীকা দিয়েছি, এ বিষয়ে তা-ই যথেষ্ট হবে ইনশা আল্লাহ। এছাড়া এ বাবের অন্যান্য হাদীসসমূহ এবং পরবর্তী হাদীসের টীকাটি দেখুন।
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ نُبَيْهِ بْنِ وَهْبٍ أَنَّ رَجُلًا مِنْ قُرَيْشٍ خَطَبَ إِلَى أَبَانَ بْنِ عُثْمَانَ وَهُوَ أَمِيرُ الْمَوْسِمِ فَقَالَ أَبَانُ لَا أُرَاهُ عِرَاقِيًّا جَافِيًا إِنَّ الْمُحْرِمَ لَا يَنْكِحُ وَلَا يُنْكِحُ أَخْبَرَنَا بِذَلِكَ عُثْمَانُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُئِلَ أَبُو مُحَمَّد تَقُولُ بِهَذَا قَالَ نَعَمْ
১৮৬০. নুবাই ইবনু ওয়াহাব রাহি. হতে বর্ণিত, কুরাইশ বংশের এক ব্যক্তি আবান ইবনু উছমান এর নিকট একটি বিয়ের প্রস্তাব পাঠালেন। সেই সময় তিনি হাজ্জ্ব মৌসুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। তখন আবান রাহি. বলেন, তাকে তো এক অভদ্র ইরাকী ছাড়া আর কিছুই মনে হচ্ছে না! নিশ্চয়ই মুহরিম (ইহরামরত) ব্যক্তি বিয়ে করতেও পারবে না আবার, কারো বিয়ে দিতেও পারবে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে একথা (আমার পিতা) উছমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। আবূ মুহাম্মদ কে জিজ্ঞাসা করা হলো, আপনারও এটাই মত? তিনি বলেন: হাঁ।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মুসলিম, নিকাহ ১৪০৯; এছাড়া, বাইহাকী, আল মারিফাতুস সুনান নং ৯৭৩৮, ৯৭৩৯; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪১২২-৪১২৮, ৪১৩৯ তে।