সুনান আদ-দারিমী
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَاصِمٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ حَبِيبِ بْنِ الشَّهِيدِ عَنْ مَيْمُونِ بْنِ مِهْرَانَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ الْأَصَمِّ أَنَّ مَيْمُونَةَ قَالَتْ تَزَوَّجَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَنَحْنُ حَلَالَانِ بَعْدَمَا رَجَعَ مِنْ مَكَّةَ بِسَرِفَ
১৮৬১. ইয়াযিদ ইবনু আসাম্ম থেকে বর্ণিত, মাইমূনাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে মাক্কা হতে ফিরার পথে সারিফ’ নামক স্থানে আমাকে বিবাহ করেন, আর তখন আমরা উভয়েই হালাল (ইহরামমুক্ত) ছিলাম।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মুসলিম, নিকাহ ১৪১১; এছাড়া, বাইহাকী, আল মারিফাতুস সুনান নং ৯৭৪৪; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭১০৫, ৭১০৬ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪১৩৪, ৪১৩৬, ৪১৩৭, ৪১৩৮ তে। এ হাদীসটি ও মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৩৯৩ এ আমাদের টীকাসমূহ দেখুন।
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ مَطَرٍ الْوَرَّاقِ عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ عَنْ أَبِي رَافِعٍ قَالَ تَزَوَّجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَيْمُونَةَ حَلَالًا وَبَنَى بِهَا حَلَالًا وَكُنْتُ الرَّسُولَ بَيْنَهُمَا
১৮৬২. আবূ রাফি রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকেবর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মায়মূনা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা-কে হালাল অবস্থায় বিবাহ করেছিলেন এবং হালাল অবস্থায়ই তাঁর সাথে বাসর হয়েছিল। আমিই তাঁদের মাঝে মাধ্যম (পয়গামবাহক) হিসাবে ছিলাম।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।
তাখরীজ: ((তিরমিযী, হাজ্জ ৮৪১; আহমাদ ৬/৩৯২-৩৯৩- ফাওয়ায আহমাদের দারেমী হা/১৮২৫ এর টীকা হতে। -অনুবাদক))
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪১৩০, ৪১৩৫ তে। এছাড়া, বাইহাকী, আল মারিফাতুস সুনান নং ৯৭৪৯।
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ الدَّسْتَوَائِيُّ عَنْ يَحْيَى عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ قَالَ انْطَلَقَ أَبِي مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَ الْحُدَيْبِيَةِ فَأَحْرَمَ أَصْحَابُهُ وَلَمْ يُحْرِمْ أَبُو قَتَادَةَ فَأَصَابَ حِمَارَ وَحْشٍ فَطَعَنَهُ وَأَكَلَ مِنْ لَحْمِهِ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَصَبْتُ حِمَارَ وَحْشٍ فَطَعَنْتُهُ فَقَالَ لِلْقَوْمِ كُلُوا وَهُمْ مُحْرِمُونَ
১৮৬৩. আব্দুল্লাহ ইবনু আবী কাতাদা (রাঃ) হতে বর্নিত, তার পিতা হুদাইবিয়ার বছর রাসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে (সফরে) ছিলেন। তার সঙ্গীরা ইহরাম অবস্থায় ছিলেন, কিন্তু আবী কাতাদা নিজে মুহরিম ছিলেন না। তিনি একটি বন্য গাধা পেয়ে (তার বর্শা দিয়ে)গাধাটিকে আক্রমন করে মেরে ফেললেন এবং এর গোশত খেলেন। (তিনি বলেন:) তখন আমি রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-(এর সাথে তারা মিলিত হয়ে) তাঁকে বললাম: ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি তো একটি বন্য গাধা পেয়ে (বর্শা দিয়ে) গাধাটিকে আক্রমন করে মেরে ফেলেছি এবং এর গোশত খেয়েছি।’ তখন তিনি লোকদেরকে বললেন: তোমরা খাও।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বুখারী, জাযাউস সাইদ, ১৮২১; মুসলিম, হাজ্জ ১১৯৬;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৯৬৬, ৩৯৭৪, ৩৯৭৫, ৩৯৭৭ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪২৮ তে।
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَوْهَبٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ بَيْنَمَا نَحْنُ نَسِيرُ وَهُمْ مُحْرِمُونَ وَأَبُو قَتَادَةَ حَلَالٌ إِذْ رَأَيْتُ حِمَارًا فَرَكِبْتُ فَرَسًا فَأَصَبْتُهُ فَأَكَلُوا مِنْ لَحْمِهِ وَهُمْ مُحْرِمُونَ وَلَمْ آكُلْ فَأَتَوْا النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَأَلُوهُ فَقَالَ أَشَرْتُمْ قَتَلْتُمْ أَوْ قَالَ ضَرَبْتُمْ قَالُوا لَا قَالَ فَكُلُوا
১৮৬৪. আব্দুল্লাহ ইবনু আবী কাতাদা (রাঃ) এর পিতা হতে বর্ণিত,‘আমরা অভিযাত্রা করছিলাম। (বর্ণনাকারী বলেন,) আর তারা (তার সঙ্গীরা) মুহরিম ছিলেন কিন্তু আবী কাতাদা নিজে মুহরিম ছিলেন না। (তিনি বলেন,) হঠাৎ আমি একটি বন্য গাধা দেখতে পেলাম। সেই মূহুর্তে আমি ঘোড়ায় উঠে চড়ে বসলাম এবং গাধাটিকে আক্রমন করে মেরে ফেললাম। তারা তার গোশত খেলেন, অথচ তারা মুহরিম ছিলেন। কিন্তু আমি খাইনি। ইতোমধ্যে তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে তারা মিলিত হয়ে তাঁকে এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি বললেন: তোমরা কি এটিকে আক্রমণ করেছিলে, তোমরা কি একে হত্যা করেছিলে? অথবা, তিনি (রাবী) তোমরা কি একে আঘাত করেছিলে? তারা বললেন: না। তখন তিনি বলেন: তাহলে তোমরা খেতে পারো।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বুখারী, জাযাউস সাইদ, ১৮২৪; মুসলিম, হাজ্জ ১১৯৬; এটি পূর্বের হাদীসের পূনরাবৃত্তি।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ صَالِحِ بْنِ كَيْسَانَ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ الصَّعْبِ بْنِ جَثَّامَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُتِيَ بِلَحْمِ حِمَارِ وَحْشٍ فَرَدَّهُ وَقَالَ إِنَّا حُرُمٌ لَا نَأْكُلُ الصَّيْدَ
১৮৬৫. সা’ব ইবনু জাছ্ছামা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বন্য গাধার গোশত পেশ করা হলে তিনি তা ফিরিয়ে দিয়ে বলেন: “আমরা তো মুহরিম। (এ অবস্থায়) আমরা শিকারলব্ধ প্রাণির গোশত খাই না।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বুখারী, জাযাউস সাইদ, ১৮২৫; মুসলিম, হাজ্জ ১১৯৩;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩৬, ৩৯৬৭, ৩৯৬৯ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৮০১ তে।
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ ابْنِ الْمُنْكَدِرِ عَنْ مُعَاذِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عُثْمَانَ التَّيْمِيِّ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كُنَّا مَعَ طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ فِي سَفَرٍ فَأُهْدِيَ لَهُ طَيْرٌ وَهُمْ مُحْرِمُونَ وَهُوَ رَاقِدٌ فَمِنَّا مَنْ أَكَلَ وَمِنَّا مَنْ تَوَرَّعَ فَاسْتَيْقَظَ طَلْحَةُ فَأَخْبَرُوهُ فَوَفَّقَ مَنْ أَكَلَهُ وَقَالَ أَكَلْنَاهُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
১৮৬৬. মুয়ায ইবন আবদুর রহমান তায়মী তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ ‘আমরা তালহা ইবন উবাইদুল্লাহর সঙ্গে কোনো এক সফরে ছিলাম। আর তারা সকলে ছিলেন মুহরিম, এমতাবস্থায় তাকে একটি পাখি হাদিয়া দেওয়া হলো। সেই সময় তিনি নিদ্রারত ছিলেন। আমাদের মধ্যে কেউ তা আহার করলো আর কেউ তা আহার করা হতে বিরত রইল। ইত্যবসরে তালহা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু নিদ্রা থেকে জাগলেন। যারা তা খেয়েছিলেন, তিনি তাদের সমর্থন করলেন এবং বললেন: (মুহরিম অবস্থায়) আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সঙ্গে আহার করেছি।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মুসলিম, হাজ্জ ১১৯৭;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩৬, ৩৯৬৭, ৩৯৬৯ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৮০১ তে।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ حَدَّثَنِي الصَّعْبُ بْنُ جَثَّامَةَ قَالَ مَرَّ بِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا بِالْأَبْوَاءِ أَوْ بِوَدَّانَ فَأَهْدَيْتُ لَهُ لَحْمَ حِمَارِ وَحْشٍ فَرَدَّهُ عَلَيَّ فَلَمَّا رَأَى فِي وَجْهِي الْكَرَاهِيَةَ قَالَ إِنَّهُ لَيْسَ بِنَا رَدٌّ عَلَيْكَ وَلَكِنَّا حُرُمٌ
১৮৬৭. সা’ব ইবনু জাছ্ছামা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন, তখন আমি ‘আবওয়া’[1]- কিংবা ‘ওয়াদ্দান’ নামক স্থানে ছিলাম। তখন আমি তাঁকে বন্য গাধার গোশত হাদীয়া দিলে তিনি তা আমাকে ফিরিয়ে দিলেন। যখন তিনি আমার চেহারায় (এর প্রতি) ঘৃণা লক্ষ্য করলেন, তিনি বললেন: আমরা মুহরিম (ইহরামরত) নাহলে, তোমাকে এটা ফিরিয়ে দিতাম না।[2]
[1] আবওয়া: হিজাযের অন্যতম একটি উপত্যকা, মদীনা হতে প্রায় ২৮ কিলোমিটার পশ্চিমে … বলা হয়ে থাকে যে, এখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাতা আমিনাহ বিনতে ওয়াহাব এর কবর রয়েছে।’
আর ওয়াদ্দান: মাদীনা ও মক্কার মধ্যবর্তী একটি স্থান, তবে মদীনা মাসতুরাহ হতে নিকটবর্তী, প্রায় ১২ কিলো দূরে অবস্থিত।– (মুহাক্কিক্বের টীকা- অনুবাদক)।
[2] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: এটি ১৮৭০ (অনূবাদে ১৮৬৫) নং এ গত হয়েছে।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرَّقَاشِيُّ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ الْفَضْلِ بْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ كَانَ رَدِيفَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ جَاءَتْ امْرَأَةٌ مِنْ خَثْعَمَ فَقَالَتْ إِنَّ فَرِيضَةَ اللَّهِ فِي الْحَجِّ عَلَى عِبَادِهِ أَدْرَكَتْ أَبِي شَيْخًا كَبِيرًا لَا يَسْتَمْسِكُ عَلَى رَاحِلَتِهِ وَلَمْ يَحُجَّ أَفَأَحُجُّ عَنْهُ قَالَ نَعَمْ سُئِلَ أَبُو مُحَمَّد تَقُولُ بِهَذَا قَالَ نَعَمْ
১৮৬৮. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে তার ভাই আল-ফাদল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-র সূত্রে বর্ণিত। তিনি বিদা’ঈ হাজ্জের সফরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সওয়ারীতে তাঁর পিছনে উপবিষ্ট ছিলেন। তখন খাছআম গোত্রের এক মহিলা তাঁর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! বান্দাদের উপর আল্লাহর ধার্যকৃত হজ্জ আমার পিতার উপরও তার বৃদ্ধ বয়সে ফরয হয়েছে। কিন্তু তিনি বাহনের পিঠে চেপে বসতেই পারেননা। ফলে তিনি হাজ্জ করতে পারেন নি। এমতাবস্থায়, আমি কি তার পক্ষ থেকে হাজ্জ করবো? তিনিবলেনঃ হাঁ।[1]
আবূ মুহাম্মদকে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার মতও কি তাই? তিনি বললেন: হাঁ।
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বুখারী, হাজ্জ, ১৫১৩; মুসলিম, হাজ্জ১৩৩৪;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৩৫১, ২৩৮৪; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৯৮৯, ৩৯৯৫, ৩৯৯৬ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৫১৭তে।
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ الْفَضْلِ هُوَ ابْنُ عَبَّاسٍ أَنَّ امْرَأَةً سَأَلَتْ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ إِنَّ أَبِي شَيْخٌ لَا يَسْتَوِي عَلَى الْبَعِيرِ أَدْرَكَتْهُ فَرِيضَةُ اللَّهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حُجِّي عَنْهُ
১৮৬৯. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে (তার ভাই) আল-ফাযল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-র সূত্রে বর্ণিত। এক মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে বললো, আমার পিতা অতি বৃদ্ধ ব্যক্তি। তিনি উটের পিঠে বসে থাকতে সক্ষম নন। এমতাবস্থায় আল্লাহর ধার্যকৃত (হজ্জ) তার উপরও ফরয হয়েছে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: তুমি তার পক্ষ থেকে হজ্জ করো।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী, জাযাউস সাইদ, ১৮৫৩; মুসলিম, হাজ্জ১৩৩৫;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৭১৭ তে।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ حَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ امْرَأَةً مِنْ خَثْعَمَ اسْتَفْتَتْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ وَالْفَضْلُ بْنُ عَبَّاسٍ رَدِيفُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ فَرِيضَةَ اللَّهِ عَلَى عِبَادِهِ أَدْرَكَتْ أَبِي شَيْخًا كَبِيرًا لَا يَسْتَطِيعُ أَنْ يَسْتَوِيَ عَلَى الرَّاحِلَةِ فَهَلْ يَقْضِي أَنْ أَحُجَّ عَنْهُ قَالَ نَعَمْ
১৮৭০. ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। আল-ফাদল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বিদায় হাজ্জের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সওয়ারীতে তাঁর পিছনে উপবিষ্ট ছিলেন। তখন খাছআম গোত্রের এক মহিলা তাঁর নিকট এসে জানতে চাইলো, হে আল্লাহর রাসূল! বান্দাদের উপর আল্লাহর ধার্যকৃত হজ্জ আমার পিতার উপরও অতি বৃদ্ধ বয়সে ফরয হয়েছে। কিন্তু তিনি বাহনের পিঠে চেপে বসতে সক্ষম নন। ফলে আমি তার পক্ষ থেকে হাজ্জ করলে তা আদায় হবে কি? তিনিবলেনঃ হাঁ।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বুখারী, মাগাযী, ১৫১৩; আগের হাদীসটি দেখুন।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَحْوًا مِنْ حَدِيثِ الْأَوْزَاعِيِّ
১৮৭১. (অপরসূত্রে) ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আওযাঈ’র হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত আছে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: আবূ ইয়ালা মাউসিলী নং ২৩৮৪ সেখানে আমি এর তাখরীজ দিয়েছি; এছাড়া তাহাবী, মুশকিলিল আছার, ৩/২২০; এটি আগের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ حَدَّثَنِي الْفَضْلُ بْنُ عَبَّاسٍ أَوْ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ الْعَبَّاسِ أَنَّ رَجُلًا قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أَبِي أَوْ أُمِّي عَجُوزٌ كَبِيرٌ إِنْ أَنَا حَمَلْتُهَا لَمْ تَسْتَمْسِكْ وَإِنْ رَبَطْتُهَا خَشِيتُ أَنْ أَقْتُلَهَا قَالَ أَرَأَيْتَ إِنْ كَانَ عَلَى أَبِيكَ أَوْ أُمِّكَ دَيْنٌ أَكُنْتَ تَقْضِيهِ قَالَ نَعَمْ قَالَ فَحُجَّ عَنْ أَبِيكَ أَوْ أُمِّكَ
১৮৭২. আল-ফাদল ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু – অথবা- উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, এক লোক বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমারপিতা- অথবা আমার মাতা অতি বৃদ্ধ মানুষ। আমি যদি তাকে বাহনে আরোহন করাই, তবে তিনি বাহনের উপর স্থিত হয়ে বসে থাকতে পারেননা। এমতাবস্থায় আমি যদি তাকে বাহনের উপর বেঁধে দেই, তাহলে আমার আশংকা হয় যে, আমিই যেন তাকে হত্যা করে ফেলছি (আমার বেঁধে দেয়ার কারণেই সে মারা যাবে)। তিনিবললেন: “আচ্ছা তোমার পিতা অথবা, মাতার দায়িত্বে কোন ঋণ থাকলে তা তুমি পরিশোধ করতে কি-না? সে বললো, হাঁ। তিনিবললেন: “সুতরাং তোমার পিতা অথবা, মাতারপক্ষ হতে তুমি হাজ্জ সম্পাদন কর।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : উবাইদুল্লাহ ইবনু আব্বাসের সনদটি সহীহ।
তাখরীজ: তাহাবী, মুশকিলিল আছার ৩/২২০; আহমাদ ১/২১২, ৩০৯; এ বাবের হাদীসগুলি দেখুন এবং তাতে আমাদের টীকাসমূহও দেখুন।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنْ يُوسُفَ بْنِ الزُّبَيْرِ مَوْلًى لِآلِ الْزُّبَيْرِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ مِنْ خَثْعَمَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ إِنَّ أَبِي أَدْرَكَهُ الْإِسْلَامُ وَهُوَ شَيْخٌ كَبِيرٌ لَا يَسْتَطِيعُ رُكُوبَ الرَّحْلِ وَالْحَجُّ مَكْتُوبٌ عَلَيْهِ أَفَأَحُجُّ عَنْهُ قَالَ أَنْتَ أَكْبَرُ وَلَدِهِ قَالَ نَعَمْ قَالَ أَرَأَيْتَ لَوْ كَانَ عَلَى أَبِيكَ دَيْنٌ فَقَضَيْتَهُ عَنْهُ أَكَانَ ذَلِكَ يُجْزِئُ عَنْهُ قَالَ نَعَمْ قَالَ فَاحْجُجْ عَنْهُ
১৮৭৩. আব্দুল্লাহ ইবনু যুবাইর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, খাছ’আম গোত্রের এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললো, ইসলাম আমার পিতার নিকট (এর ফরয হাক্ক সহ) পৌঁছে গেছে। আমার পিতা অতি বৃদ্ধ মানুষ। তিনি বাহনে আরোহন করতে সক্ষম নন। আর তার উপর হাজ্জ ফরয হয়েছে। এমতাবস্থায় আমি কি আমার পিতার পক্ষ থেকে হজ্জ করতে পারি?
তিনি বলেনঃ “তুমি কি তার সবচেয়ে বড়সন্তান?“ সে বললো: হাঁ। তিনি বললেন: “আচ্ছা, তোমার পিতার দায়িত্বে কোন ঋণ থাকতো, আর তুমি যদি তা পরিশোধ করতে, তবে সেটি তার পক্ষ হতে আদায় হয়ে যেতো কি-না?“ সে বললো, হাঁ। তিনি বললেন: “অতএব, তুমি তোমার পিতার পক্ষ থেকে হজ্জ করো।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, মুহাম্মদ ইবনু হুমাইদের যঈফ হওয়ার কারণে। তবে এ বর্ণনায় তিনি একাকী নন; বরং এর অনেকগুলি মুতাবি’আত বর্ণনা রয়েছে নির্ভরযোগ্য/বিশ্বস্ত রাবীগণ হতে। ((ফলে এটি হাসান পর্যায়ের উন্নীত হয়।–অনুবাদক))
তাখরীজ: আবূ ইয়ালা মাউসিলী নং ৬৮১৩; বাইহাকী, হাজ্জ ৪/৩২৯; তাহাবী, মুশকিলিল আছার ৩/২২১ জাইয়্যেদ সনদে। ((নাসাঈ, হাজ্জ, ৫/১১৭-১১৮; আহমাদ ৫/৪।- ফাওয়ায আহমেদের দারেমী হা/১৮৩৬ এর টীকা হতে।– অনুবাদক))
এর তাখরীজ দিয়েছি আমরা মুসনাদুল মাউসিলী তে। এছাড়া, ইবনু আবী শাইবা ১/৪/৪৪১।
أَخْبَرَنَا صَالِحُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ هُوَ ابْنُ عَبْدِ الصَّمَدِ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنْ مَوْلَى ابْنِ الزُّبَيْرِ يُقَالُ لَهُ يُوسُفُ بْنُ الزُّبَيْرِ أَوْ الزُّبَيْرُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سَوْدَةَ بِنْتِ زَمْعَةَ قَالَتْ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ إِنَّ أَبِي شَيْخٌ كَبِيرٌ لَا يَسْتَطِيعُ أَنْ يَحُجَّ قَالَ أَرَأَيْتَ لَوْ كَانَ عَلَى أَبِيكَ دَيْنٌ فَقَضَيْتَهُ عَنْهُ قُبِلَ مِنْهُ قَالَ نَعَمْ قَالَ اللَّهُ أَرْحَمُ حُجَّ عَنْ أَبِيكَ
১৮৭৪. সাওদা বিনতে যাম’আহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললো, আমার পিতা অতি বৃদ্ধ মানুষ। তিনি হাজ্জ সম্পাদন করতে সক্ষম নন। তিনি বললেন: আচ্ছা, যদি তোমার পিতার কোন ঋণ থাকতো, আর তুমি তা পরিশোধ করতে, তবে তা কবুল করা হতো কি-না? সেবললো, হাঁ।
তিনি বললেন: আল্লাহ হলেন সর্বাধিক দয়াশীল! তুমি তোমার পিতার পক্ষ থেকে হাজ্জ করো।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ (উত্তম)।
তাখরীজ: তাহাবী, মুশকিলিল আছার ৩/২২১; ((আহমাদ; তাবারাণী, আল কাবীর, বাইহাকী; হাইছামী বলেন: এর রাবীগণ বিশ্বস্ত।’-- ফাওয়ায আহমেদের দারেমী হা/১৮৩৭ এর টীকা হতে।– অনুবাদক))
এর তাখরীজ দিয়েছি আমরা মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৮১৮ ও মাযমাউয যাওয়াইদ নং ৫৭৫৬ তে।
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ مَا تَرَكْتُ اسْتِلَامَ هَذَيْنِ الرُّكْنَيْنِ فِي شِدَّةٍ وَلَا رَخَاءٍ مُنْذُ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْتَلِمُهُمَا قُلْتُ لِنَافِعٍ أَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يَمْشِي بَيْنَ الرُّكْنَيْنِ قَالَ إِنَّمَا كَانَ يَمْشِي لِيَكُونَ أَيْسَرَ لِاسْتِلَامِهِ
১৮৭৫. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি যখন থেকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে (তাওয়াফ করার সময়) এ দু’টি রুকন (রুকনে ইয়ামানী ও হাজরে আসওয়াদ)ইসতিলাম (চুম্বন) করতেদেখেছি- তখন থেকে আমি কষ্টকর হোক, কিংবা স্বাচ্ছন্দ্যময় হোক, কোনো অবস্হায়ই উক্ত রুকনদ্বয় ইসতিলাম করা বাদ দেইনি। (রাবী উবাইদুল্লাহ বলেন,) আমি নাফি’ঈ কে বললাম, ইবনু উমার কি এ দুই রুকনের মাঝে স্বাভাবিকভাবে হেটে যেতেন? তিনি বললেন, ইসতিলাম করা যাতে সহজ হয়, সেজন্য তিনি স্বাভাবিকভাবে হেটে যেতেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বুখারী, হাজ্জ, ১৬০৬; মুসলিম, হাজ্জ১২৬৮;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৪৭৩; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৮২৭ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৬৬৬ তে।
حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ وَسُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ قَالَا حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ خُثَيْمٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَيَبْعَثَنَّ اللَّهُ الْحَجَرَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَهُ عَيْنَانِ يُبْصِرُ بِهِمَا وَلِسَانٌ يَنْطِقُ بِهِ يَشْهَدُ عَلَى مَنْ اسْتَلَمَهُ بِحَقٍّ قَالَ سُلَيْمَانُ لِمَنْ اسْتَلَمَهُ
১৮৭৬. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন এই পাথরকে আল্লাহ এমন অবস্থায় পুন:উত্থিত করবেন যে, এর দু‘টি চোখ থাকবে, যা দিয়ে সেটি দেখবে এবং একটি জিহবা থাকবে যা দিয়ে সেটি কথা বলবে এবং যে ব্যক্তি তাকে যথাযথভাবে চুম্বন করেছে, সেটি সেই লোকের পক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করবে।[1]
সালমান (তার বর্ণনায়) বলেন: যে ব্যক্তি তাকে চুম্বন করেছে, তার জন্য (অর্থাৎ ‘যথাযথভাবে’ শব্দটি ব্যতীত)।
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ((তিরমিযী, ৯৬১; ইবনু মাজাহ, হাজ্জ ২৯৪৪; আহমাদ ২২১৬, ২৩৯৪, ২৬৩৮, ২৭৯৩, ৩৫০১ – অনুবাদক))
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৭১৯; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৭১১, ৩৭১২ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১০০৫ তে।
এছাড়া, তাবারানী, আল কাবীর ১২/৬৩ নং ১২৪৭৯।
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَابِرٍ قَالَ رَمَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ الْحَجَرِ إِلَى الْحَجَرِ ثَلَاثَةَ أَشْوَاطٍ
১৮৭৭. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজরে আসওয়াদ হতে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত (প্রথম) তিন চক্করে রমল করেছেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মালিক, হাজ্জ, ১০৮; মুসলিম, হাজ্জ১২৬৩;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৮১০, ১৮৮২, ২২০২;সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৮১৩ ও মাযমাউয যাওয়াইদ নং ৫৫৩৪, ৫৫৩৫ তে।
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ حَدَّثَنِي نَافِعٌ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا طَافَ بِالْبَيْتِ الطَّوَافَ الْأَوَّلَ خَبَّ ثَلَاثَةً وَمَشَى أَرْبَعَةً وَكَانَ يَسْعَى بِبَطْنِ الْمَسِيلِ إِذَا سَعَى بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَقُلْتُ لِنَافِعٍ أَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ يَمْشِي إِذَا بَلَغَ الرُّكْنَ الْيَمَانِيَ قَالَ لَا إِلَّا أَنْ يُزَاحَمَ عَلَى الرُّكْنِ فَإِنَّهُ كَانَ لَا يَدَعُهُ حَتَّى يَسْتَلِمَهُ
১৮৭৮. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইতুল্লাহর প্রথম তাওয়াফ (তাওয়াফে উলা) করার সময় তিনবার রমল করেন (দুলে দুলে চলেন) এবং চারবার স্বাধারণভাবে হেঁটে তাওয়াফ করেন। তারপর সাফা ও মারওয়া সাঈ করার সময় তিনি ‘বাতনে মাসীলে’ (উপত্যকায়) এসে দ্রুতহেঁটে চলেন।
(বর্ণনাকারী উবাইদুল্লাহ বলেন), এরপর আমি নাফি’ঈ-কে বললাম, আব্দুল্লাহ (রা:) যখন রুকনে ইয়ামানীতে পৌঁছতেন, তখন কি তিনি স্বাভাবিকভাবে হেঁটে চলতেন? তিনি বললেন, না। তবে রুকনের নিকট ভীড় থাকলে (একটু মন্থর গতিতে চলতেন)। কেননা, তিনি একে চুম্বন না করা পর্যন্ত তা ছেড়ে যেতেননা।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বুখারী, হাজ্জ, ১৬০৩, ১৬১৬, ১৬১৭, ১৬৪৪; মুসলিম, হাজ্জ১২৬১ (২৩১, ২৩২); আবূদাউদ, মানাসিক১৮৯৩; নাসাঈ, কুবরা নং ৩৯৩৫, ৩৯৩৮, ৩৯৩৯; বাইহাকী, হাজ্জ ৫/৯৪; আহমাদ২/৩০; ইবনু মাজাহ, মানাসিক ২৯৫০।
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ أَبَانَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ رَمَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ الْحَجَرِ إِلَى الْحَجَرِ ثَلَاثًا وَمَشَى أَرْبَعًا
১৮৭৯. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজরে আসওয়াদ হতে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত (প্রথম) তিন চক্করে রমল করেন (দুলে দুলে চলেন) এবং চারবার স্বাধারণভাবে হেঁটে তাওয়াফ করেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মুসলিম, হাজ্জ১২৬২; বাইহাকী, হাজ্জ৫/৮৩; আবূ দাউদ, মানাসিক১৮৯১; আহমাদ২/৭৫। আগের হাদীসটিও দেখুন।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ هُوَ ابْنُ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ يَعْلَى عَنْ أَبِيهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ طَافَ مُضْطَبِعًا
১৮৮০. ইবনু ইয়া’লা তার পিাতা ইয়া‘লা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর (একটি সবুজ) চাঁদর তাঁর ডান বগলের নিচ দিয়ে তার দু#39;পাশ বাম কাঁধে প্যাঁচানো অবস্থায় (বায়তুল্লাহ)তাওয়াফ সম্পন্ন করেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ; ইবনু জুরাইজ এটি আন’আন পদ্ধতিতে বর্ণনা করেছেন।
তাখরীজ: ইবনু মাজাহ, মানাসিক ২৯৫৪; বাইহাকী, হাজ্জ ৫/৭৯; আহমাদ ৪/২২২,২২৩, ২২৪; আবূ দাউদ, মানাসিক ১৮৮৩; তিরমিযী, হাজ্জ ৮৫৯। আমার বক্তব্য: এর শাহিদ হাদীস রয়েছে ইবনু আব্বাস (রা:) হতে যার তাখরীজ আমরা দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৫৭৪তে সহীহ সনদে। দেখুন, তালখীসুল হাবীর ২/২৪৮ ও নাইলূল আওতার ৫/১১০-১১১।