সুনান আদ-দারিমী
أَخْبَرَنَا صَدَقَةُ بْنُ الْفَضْلِ، أَنبَأَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، قَالَ: «لَوْ أَنَّ هَؤُلَاءِ كَانُوا عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَنَزَلَتْ عَامَّةُ الْقُرْآنِ يَسْأَلُونَكَ يَسْأَلُونَكَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :
২০১. শা’বী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যদি এসকল (অনাগত বিষয়ে অধিক প্রশ্নকারী) লোকেরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জামানার হত, তবে (এদের প্রশ্নের জবাবে) অবশ্যই পুরো কুরআনই নাযিল হত (একথা বলে) যে,‘তারা আপনাকে জিজ্ঞেস করছে’, তারা আপনাকে জিজ্ঞেস করছে’।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: এ আছারটি সনদসহ আমি আর কোথাও পাইনি। আর ইবনু বাত্তাহ (সনদবিহীনভাবে) ‘আল ইবানা’ ১/৪১৯ তে কাছাকাছি শব্দে এটি বর্ণনা করেছেন।
أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبَانَ، أَخْبَرَنِي مُحَمَّدٌ هُوَ: ابْنُ طَلْحَةَ، عَنْ مَيْمُونٍ أَبِي حَمْزَةَ قَالَ: قَالَ لِي إِبْرَاهِيمُ: يَا أَبَا حَمْزَةَ، «وَاللَّهِ لَقَدْ تَكَلَّمْتُ، وَلَوْ وَجَدْتُ بُدًّا مَا تَكَلَّمْتُ، وَإِنَّ زَمَانًا أَكُونُ فِيهِ فَقِيهَ أَهْلِ الْكُوفَةِ زَمَانُ سُوءٍ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف لضعف ميمون أبي حمزة القصاب
২০২. মাইমুন আবু হামযা বলেন, ইবরাহীম আমাকে বলেন, হে আবু হামযা! আল্লাহর কসম! আমি কথা বলেছি (ফতওয়া দিয়েছি)। কিন্তু, আমার যদি কোন গত্যন্তর থাকত তবে আমি কোন কথা-ই বলতাম না (কোন ফতওয়া দিতাম না) । কেননা, যে যুগে আমি কুফাবাসীদের ফকীহ হয়েছি, সেই যুগটি অত্যন্ত মন্দ।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, কেননা, মায়মুন আবু হামযাহ যঈফ।
তাখরীজ: দাওলাবী, আল কুন্নী ১/১৫৮; আবু নুয়াইম, হিলইয়া ৪/২২৩।
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ: قَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: " إِيَّاي وَالْمُكَايَلَةَ يَعْنِي: فِي الْكَلَامِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف من أجل ليث وهو: ابن أبي سليم
২০৩. মুজাহিদ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, তুমি যে কারও কথারnbsp;(কিয়াস করার মাধ্যমে) প্রতিউত্তর দেয়া[1] থেকে বিরত থাকো।[2]
[1] কিয়াস করা; আপন মত দ্বারা ফতওয়া দেওয়া।- ফতহুল মান্নান, শরহে দারেমী, হা/২০৮ এর টীকা দ্র:
[2] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ লাইছের কারণে। আর সে হল ইবনু আবী সালীম।
তাখরীজ: আবু খায়ছামা, আল ইলম, নং ৬৫; খতীব, ফাকীহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ, ১/১৮২।
أَخْبَرَنَا حَجَّاجٌ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ الْهُذَلِيُّ، عَنِ الشَّعْبِيِّ قَالَ: شَهِدْتُ شُرَيْحًا وَجَاءَهُ رَجُلٌ مِنْ مُرَادٍ، فَقَالَ: يَا أَبَا أُمَيَّةَ، مَا دِيَةُ الْأَصَابِعِ؟ قَالَ: «عَشْرٌ عَشْرٌ». قَالَ: يَا سُبْحَانَ اللَّهِ، أَسَوَاءٌ هَاتَانِ؟ جَمَعَ بَيْنَ الْخِنْصِرِ وَالْإِبْهَامِ. فَقَالَ شُرَيْحٌ: يَا سُبْحَانَ اللَّهِ، أَسَوَاءٌ أُذُنُكَ وَيَدُكَ؟ فَإِنَّ الْأُذُنَ يُوَارِيهَا الشَّعْرُ وَالْكُمَّةُ وَالْعِمَامَةُ فِيهَا نِصْفُ الدِّيَةِ، وَفِي الْيَدِ نِصْفُ الدِّيَةِ. وَيْحَكَ: إِنَّ السُّنَّةَ سَبَقَتْ قِيَاسَكُمْ فَاتَّبِعْ وَلَا تَبْتَدِعْ، فَإِنَّكَ لَنْ تَضِلَّ مَا أَخَذْتَ بِالْأَثَرِ. قَالَ أَبُو بَكْرٍ: فَقَالَ لِي الشَّعْبِيُّ: يَا هُذَلِيُّ، لَوْ أَنَّ أَحْنَفَكُمْ قُتِلَ وَهَذَا الصَّبِيُّ فِي مَهْدِهِ، أَكَانَ دِيَتُهُمَا سَوَاءً؟ قُلْتُ: نَعَمْ قَالَ: فَأَيْنَ الْقِيَاسُ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :في إسناده أبو بكر الهذلي وهو متروك
২০৪. শা’বী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি শুরাইহ-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তখন তার নিকট মুরাদ গোত্রের এক ব্যক্তি এসে বললো, হে আবু উমাইয়্যা! আঙুলসমূহের দিয়াত (রক্তপণ) কী? তিনি বলেন, (প্রতিটি আঙুলের জন্য) দশ দশটি (করে উট)। লোকটি বলল, সুবহানাল্লাহ! এ দু’টি আঙ্গুল কি সমান? একথা বলে সে কনিষ্ঠ অঙ্গুলি ও বৃদ্ধাঙ্গুলি একত্রিত করল। তখন শুরাইহ বললেন, সুবহানাল্লাহ! তোমার কান আর তোমার হাত কি সমান? কান তো চুল, টুপি ও পাগড়ী দ্বারা আবৃত থাকে, তার জন্য অর্ধেক দিয়াত (রক্তপণ), আবার হাতের জন্যও অর্ধেক দিয়াত।
তোমার জন্য আফসোস! নিশ্চয় সুন্নাত (হাদীছ) তোমাদের কিয়াস হতে অগ্রবর্তী। সুতরাং সুন্নাতের অনুসরণ কর, বিদ’আত তৈরি করো না। কেননা, তুমি কখনো পথভ্রষ্ট হবে না, যতক্ষণ তুমি হাদীসকে আঁকড়ে ধরে থাকবে।
আবু বাকর বলেন, তারপর শা’বী আমাকে বলেন, হে হুযালী! যদি তোমাদের মধ্যকার একজন জ্ঞানী ব্যক্তিকে এবং এই দোলনার শিশুকে হত্যা করা হয়, তবে এদের দিয়াত সমান হবে কি? আমি বললাম, হাঁ। তখন তিনি বললেন, তাহলে কিয়াস (তুলনা-অনুমান) কোথায় গেল?[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদে আবু বাকর আল হুযালী রয়েছে। তিনি পরিত্যক্ত রাবী।
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক, আল মুছান্নাফ নং ১৭৭০৩ অতি সংক্ষিপ্ত আকারে; ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম, নং ২০২৪।
أَخْبَرَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ يَزِيدَ، قَالَ: قَالَ مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، " يُفْتَحُ الْقُرْآنُ عَلَى النَّاسِ حَتَّى يَقْرَأَهُ الْمَرْأَةُ وَالصَّبِيُّ وَالرَّجُلُ، فَيَقُولُ الرَّجُلُ: قَدْ قَرَأْتُ الْقُرْآنَ فَلَمْ أُتَّبَعُ، وَاللَّهِ لَأَقُومَنَّ بِهِ فِيهِمْ لَعَلِّي أُتَّبَعُ، فَيَقُومُ بِهِ فِيهِمْ فَلَا يُتَّبَعُ، فَيَقُولُ: قَدْ قَرَأْتُ الْقُرْآنَ فَلَمْ أُتَّبَعْ، وَقَدْ قُمْتُ بِهِ فِيهِمْ، فَلَمْ أُتَّبَعْ، لَأَحتَظِرَنَّ فِي بَيْتِي مَسْجِدًا لَعَلِّي أُتَّبَعُ، فَيَحْتَظِرُ فِي بَيْتِهِ مَسْجِدًا فَلَا يُتَّبَعُ، فَيَقُولُ: قَدْ قَرَأْتُ الْقُرْآنَ فَلَمْ أُتَّبَعْ، وَقُمْتُ بِهِ فِيهِمْ فَلَمْ أُتَّبَعْ، وَقَدِ احْتظرْتُ فِي بَيْتِي مَسْجِدًا، فَلَمْ أُتَّبَعْ، وَاللَّهِ لَآتِيَنَّهُمْ: بِحَدِيثٍ لَا يَجِدُونَهُ فِي كِتَابِ اللَّهِ - جَلَّ وَعَلَا - وَلَمْ يَسْمَعُوهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَعَلِّي أُتَّبَعُ قَالَ مُعَاذٌ: فَإِيَّاكُمْ وَمَا جَاءَ بِهِ فَإِنَّ مَا جَاءَ بِهِ ضَلَالَةٌ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
২০৫. রবীয়াহ ইবনু ইয়াযীদ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুয়ায রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, মানুষদের সামনে কুরআনকে উন্মুক্ত করে দেয়া হবে এমনকি মহিলা, শিশু, পুরুষ সকলেই তা পাঠ করতে থাকবে। অতঃপর এক ব্যক্তি বলবে: আমি তো কুরআন পাঠ করলাম, কিন্তু কেউ-ই তো আমার অনুসরণ করল না। আল্লাহর কসম, নিশ্চয়ই আমি লোকদের মাঝে এ (কুরআন) নিয়ে দণ্ডায়মান হব, যাতে তারা আমার অনুসরণ করে। অত:পর সে তা নিয়ে তাদের মাঝে দণ্ডায়মান হবে, কিন্তু কেউ-ই তার অনুসরণ করবে না। তখন সে বলবে, আমি তো কুরআন পাঠ করলাম তবুও কেউ আমার অনুসরণ করল না! আমি তাদের মাঝে তা নিয়ে দণ্ডায়মান হলাম (বাস্তবায়ন করলাম), তাতেও তারা আমার অনুসরণ করল না! ফলে এখন আমি অবশ্যই আমার বাড়িতে চারপাশে পর্দা বা বেড়া দিয়ে ঘিরে দেব একটি সিজদার স্থান বানাব (খানকা তৈরী করব), যাতে লোকেরা আমার অনুসরণ করে। ফলে সে তার বাড়িতে চারপাশে পর্দা বা বেড়া দিয়ে ঘিরে একটি সিজদার স্থান বানাবে (খানকা তৈরী করবে), কিন্তু তারপরও কেউ-ই তার অনুসরণ করবে না।
তাই সে বলবে, আমি এত কুরআন পড়লাম, কিন্তু কেউ-ই তো আমার অনুসরণ করল না। আমি তাদের মাঝে তা নিয়ে দাঁড়ালাম, তাতেও তারা আমার অনুসরণ করল না! আমার বাড়িতেnbsp;চারপাশে পর্দা বা বেড়া দিয়ে ঘিরে সিজদার স্থান বানালাম (খানকা তৈরী করলাম), তবুও কেউ আমার অনুসরণ করল না! আল্লাহর কসম, তাহলে আমি তাদের নিকট এমন কথা বা বাণী নিয়ে উপস্থিত হব, যা তারা আল্লাহ জাল্লা ওয়া ‘আলা’র কিতাবে খুঁজে পাবে না, আর তারা তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট থেকেও শুনেনি, যেন তারা আমার অনুসরণ করে।
মুয়ায বলেন, সাবধান! তারা যা নিয়ে আসবে, তা থেকে তোমরা দূরে থাকবে। কেননা, তারা যা নিয়ে আসবে, নিশ্চয়ই তা পথভ্রষ্টতা বা বিভ্রান্তি।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মা’মার, জামি’ ১১/৩৬৩-৩৬৪ নং ২০৭৫০; আবু দাউদ, ৪৬১১; ইবনু ওয়াদা, আল বিদ’আ নং ৫৯-৬৩; ইবনু বাত্তাহ, আল ইবানাহ ১/৩০৮ নং ১৪৩; আল আজুরী, আশ শরীয়াহ পৃ.৫৪-৫৫; ফাসওয়ায়ী, আল মারেফাতু ওয়াত তারীখ ২/৩২১-৩২২; লালিকায়ী, শরহু উসুলুল ই’তিকাদ নং ১১৬-১১৭।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ هُوَ: ابْنُ مِغْوَلٍ، قَالَ: قَالَ لِيَ الشَّعْبِيُّ «مَا حَدَّثُوكَ هَؤُلَاءِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَخُذْ بِهِ، وَمَا قَالُوهُ بِرَأْيِهِمْ، فَأَلْقِهِ فِي الْحُشِّ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
২০৬. ইবনু মিগওয়াল বলেন, শা’বী আমাকে বলেছেন, এরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে তোমাদের নিকট যে সকল হাদীস বর্ণনা করে, তা তোমরা গ্রহণ করবে। আর তারা আপন রায় বা মতামত দ্বারা যা বলবে, সেগুলি তোমরা আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করবে।’[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু বাত্তাহ, আল ইবানাহ ১/৩০৮ নং ১৪৩; ইবনু হাযম, আল zwj;আহকাম ৬/১০৩০; ইবনু আব্দুল বারর, জামি’ নং ১০৬৬।
أَخْبَرَنِا الْعَبَّاسُ بْنُ سُفْيَانَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ حُبَابٍ، أَخْبَرَنِي رَجَاءُ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَةَ بْنَ أَبِي لُبَابَةَ، يَقُولُ: " قَدْ رَضِيتُ مِنْ أَهْلِ زَمَانِي هَؤُلَاءِ أَنْ لَا يَسْأَلُونِي وَلَا أَسْأَلُهُمْ، إِنَّمَا يَقُولُ أَحَدُهُمْ: أَرَأَيْتَ، أَرَأَيْتَ؟
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده حسن من أجل عباس بن سفيان الدبوسي
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :
২০৭. রজা’ ইবনু আবী সালামাহ বলেন, আব্দাহ ইবনু আবু লুবাবাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন, আমি আমার জামানার এ সকল লোকদের সাথে সম্মত হয়েছি যে, তারা আমাকে কিছু জিজ্ঞেস করবে না, আর আমিও তাদেরকে কিছু জিজ্ঞেস করব না। নিশ্চয়ই এদের কেউ কেউ বলে, ‘আপনার মতামত কী’, ‘আপনার মতামত কী’?[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান, আব্বাস ইবনু সুফইয়ান আদ দাবুসী’র জন্য।
তাখরীজ: আবু যুরআহ, তারীখ নং ৭৪৩।
أَخْبَرَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، حَدَّثَنَا عَاصِمُ ابْنُ بَهْدَلَةَ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: خَطَّ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا خَطًّا ثُمَّ قَالَ: «هَذَا سَبِيلُ اللَّهِ» ثُمَّ خَطَّ خُطُوطًا عَنْ يَمِينِهِ، وَعَنْ شِمَالِهِ، ثُمَّ قَالَ: «هَذِهِ سُبُلٌ عَلَى كُلِّ سَبِيلٍ مِنْهَا شَيْطَانٌ يَدْعُو إِلَيْهِ» ثُمَّ تَلَا (وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ) [الأنعام: 153]
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده حسن
২০৮. আবী ওয়াইল হতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ বলেন, তিনি বলেন, আমাদের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি সরল রেখা টেনে বললেন: “এটা হল আল্লাহর রাস্তা, অতঃপর ডানে ও বামে আরও কতকগুলি রেখা টেনে বললেন: “এও কতকগুলি রাস্তা; তবে এসকল রাস্তার প্রত্যেকটির উপরই একটি করে শয়তান রয়েছে, তারা লোকদেরকে তার দিকে আহ্বান করছে। অতঃপর তিনি (প্রমাণ স্বরূপ) পাঠ করলেন: (“নিশ্চয়ই এটিই আমার সরল পথ, তোমরা এরই অনুসরণ কর। তোমরা অন্যান্য পথসমূহের অনুসরণ করো না। নইলে সেগুলো তোমাকে তাঁর রাস্তা থেকে দূরে সরিয়ে দিবে। ... (সূরা আনআম ৬: ১৫৩)) আয়াতের শেষ পযর্ন্ত।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান। (আলবানী একে হাসান সহীহ (তা’লিকাতুল হিসান, হা/৬), আরনাউত্ব (তাহক্বীক্ব, আল ইহসান) ‘হাসান’ এবং হাকিম (আল মুস্তাদরাক, ২/৩১৮) একে সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তা বজায় রেখেছেন । দেখুন, সহীহ ইবনু হিব্বান, হা/৬- অনুবাদক)
তাখরীজ: আহমাদ, ১/৪৩৫ ও ৪৬৫; নাসাঈ (কুবরা); সহীহ ইবনু হিব্বান, হা/৬; হাকিম, মুস্তাদরাক (তাহকীক, যাহাবী) (2/318); আল ইহসান তাক্বরীব ইবনু হিব্বান, হা/6 (আরনাউত্বের তাহক্বীক্বসহ); মাওয়ারিদুয যাম’আন আলা যাওয়াইদি ইবনু হিব্বান, ৫/৪১০ হা/১৭৪১; আরো অনেকে।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا وَرْقَاءُ، عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ،: " (وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ) [الأنعام: 153] قَالَ: الْبِدَعَ وَالشُّبُهَاتِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
২০৯. ইবনু আবী নাজীহ মুজাহিদ হতে বর্ণনা করেন, (وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ) (অন্য পথসমূহের অনুসরণ কর না। সূরা আন’আম: ১৫৩) (এ আয়াতের ব্যাখ্যায়) তিনি বলেন, (অন্য পথসমূহ বলতে এখানে) বিদ’আত ও সন্দেহ-সংশয় (এর পথ বুঝানো হয়েছে)।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মারওয়াযী, আস সুন্নাহ নং ১৯-২০; ইবনু বাত্তাহ, আল ইবানাহ নং ১৩৪; আবু নুয়াইম, হিলইয়া ৩/২৯৩।
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَنبَأَنَا عَمْرُو بْنُ يَحْيَى، قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي، يُحَدِّثُ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: كُنَّا نَجْلِسُ عَلَى بَابِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَبْلَ صَلَاةِ الْغَدَاةِ، فَإِذَا خَرَجَ، مَشَيْنَا مَعَهُ إِلَى الْمَسْجِدِ، فَجَاءَنَا أَبُو مُوسَى الْأَشْعَرِيُّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَقَالَ: أَخَرَجَ إِلَيْكُمْ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ قُلْنَا: لَا، بَعْدُ. فَجَلَسَ مَعَنَا حَتَّى خَرَجَ، فَلَمَّا خَرَجَ، قُمْنَا إِلَيْهِ جَمِيعًا، فَقَالَ لَهُ أَبُو مُوسَى: يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ، إِنِّي رَأَيْتُ فِي الْمَسْجِدِ آنِفًا أَمْرًا أَنْكَرْتُهُ وَلَمْ أَرَ - وَالْحَمْدُ لِلَّهِ - إِلَّا خَيْرًا. [ص: 287] قَالَ: فَمَا هُوَ؟ فَقَالَ: إِنْ عِشْتَ فَسَتَرَاهُ. قَالَ: رَأَيْتُ فِي الْمَسْجِدِ قَوْمًا حِلَقًا جُلُوسًا يَنْتَظِرُونَ الصَّلَاةَ فِي كُلِّ حَلْقَةٍ رَجُلٌ، وَفِي أَيْدِيهِمْ حصًا، فَيَقُولُ: كَبِّرُوا مِائَةً، فَيُكَبِّرُونَ مِائَةً، فَيَقُولُ: هَلِّلُوا مِائَةً، فَيُهَلِّلُونَ مِائَةً، وَيَقُولُ: سَبِّحُوا مِائَةً، فَيُسَبِّحُونَ مِائَةً، قَالَ: فَمَاذَا قُلْتَ لَهُمْ؟ قَالَ: مَا قُلْتُ لَهُمْ شَيْئًا انْتِظَارَ رَأْيِكَ أَوِ انْتظارَ أَمْرِكَ. قَالَ: «أَفَلَا أَمَرْتَهُمْ أَنْ يَعُدُّوا سَيِّئَاتِهِمْ، وَضَمِنْتَ لَهُمْ أَنْ لَا يَضِيعَ مِنْ حَسَنَاتِهِمْ»، ثُمَّ مَضَى وَمَضَيْنَا مَعَهُ حَتَّى أَتَى حَلْقَةً مِنْ تِلْكَ الْحِلَقِ، فَوَقَفَ عَلَيْهِمْ، فَقَالَ: «مَا هَذَا الَّذِي أَرَاكُمْ تَصْنَعُونَ؟» قَالُوا: يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ حصًا نَعُدُّ بِهِ التَّكْبِيرَ وَالتَّهْلِيلَ وَالتَّسْبِيحَ. قَالَ: «فَعُدُّوا سَيِّئَاتِكُمْ، فَأَنَا ضَامِنٌ أَنْ لَا يَضِيعَ مِنْ حَسَنَاتِكُمْ شَيْءٌ وَيْحَكُمْ يَا أُمَّةَ مُحَمَّدٍ، مَا أَسْرَعَ هَلَكَتَكُمْ هَؤُلَاءِ صَحَابَةُ نَبِيِّكُمْ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُتَوَافِرُونَ، وَهَذِهِ ثِيَابُهُ لَمْ تَبْلَ، وَآنِيَتُهُ لَمْ تُكْسَرْ، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، إِنَّكُمْ لَعَلَى مِلَّةٍ هِيَ أَهْدَى مِنْ مِلَّةِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أوْ مُفْتَتِحُو بَابِ ضَلَالَةٍ». قَالُوا: وَاللَّهِ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ، مَا أَرَدْنَا إِلَّا الْخَيْرَ. قَالَ: «وَكَمْ مِنْ مُرِيدٍ لِلْخَيْرِ لَنْ يُصِيبَهُ، إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَدَّثَنَا أَنَّ» قَوْمًا يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ لَا يُجَاوِزُ تَرَاقِيَهُمْ "، وَايْمُ اللَّهِ مَا أَدْرِي لَعَلَّ أَكْثَرَهُمْ مِنْكُمْ، ثُمَّ تَوَلَّى عَنْهُمْ. فَقَالَ عَمْرُو بْنُ سَلَمَةَ: رَأَيْنَا عَامَّةَ أُولَئِكَ الْحِلَقِ يُطَاعِنُونَا يَوْمَ النَّهْرَوَانِ مَعَ الْخَوَارِجِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده جيد
২১০. আমর ইবনু ইয়াহইয়া তার পিতা ইয়াহইয়াকে তার দাদা আমর ইবনু সালামাহ হতে বর্ণনা করতে শুনেছেন, তিনি বলেন, আমরা (হাদীস ও ইলম শিক্ষার জন্য তালেবে ইলমগণ) ফজর নামাযের পূর্বেই আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর বাড়ির দরজায় গিয়ে বসে থাকতাম। যখন তিনি মসজিদে যাওয়ার জন্য বাহির হতেন, তখন আমরা তাঁর সাথে সাথে যেতাম। একদিন আবূ মূসা আল আশ’আরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এসে আমাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, আবু আব্দুর রহমান (আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ) কি বের হয়েছেন? আমরা বললাম, না, এখনো বের হননি। তখন তিনিও আমাদের সাথে বসে পড়লেন। যখন তিনি বের হলেন তখন আমরা সবাই উঠে তাঁর কাছে গেলাম। আবু মূসা আশ’আরী রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে বললেন, হে আবু আব্দুর রহমান (আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ) আমি একটু আগে মসজিদের মধ্যে একটি বিষয় দেখেছি এবং দেখে অপছন্দ করেছি, যদিও যা দেখেছি তা ভালো ছাড়া খারাপ মনে হয়নি, আলহামদুলিল্লাহ।
ইবনু মাসউদ বললেন, বিষয়টি কী? আবু মূসা বললেন: আপনি জীবিত থাকলে, একটু পরেই তা দেখতে পাবেন। তিনি বলেন: আমি দেখলাম কিছু মানুষ কয়েকটি হালাকায় (বৃত্তাকারে) বসে নামাযের অপেক্ষা করছে। প্রত্যেক হালাকায় (গ্রুপে) একজন (নেতা গোছের) ব্যক্তি রয়েছে, তাদের প্রত্যেকের হাতে (তাসবীহের মতো) কাঁকর রয়েছে। নেতা গোছের ব্যক্তি বলছে, সবাই একশতবার ‘আল্লাহু আকবার’ পড়ুন, তখন সবাই ১০০ বার ‘আল্লাহ আকবার’ বলছে। তখন সে বলছে, সবাই ১০০ বার ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পড়ুন। এতে সবাই ১০০ বার ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলছেন। তখন সে বলছে: সবাই ১০০ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ বলুন। সবাই তখন ১০০ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ বলছে। ইবনু মাসউদ বললেন: আপনি তাদেরকে কী বলেছেন? তিনি বললেন: আমি আপনার মতামতের ও নির্দেশের অপেক্ষায় তাদেরকে কিছু বলিনি।
ইবনু মাসউদ বললেন: আপনি তাদেরকে বললেন না কেন যে, তোমরা তোমাদের পাপগুলি গুণে গুণে রাখ, আর আপনি দায়িত্ব নিতেন যে, তাদের কোনো নেককর্ম নষ্ট হবে না? এরপর আমরা সবাই তাঁর সাথে মসজিদে গেলাম। তিনি ঐ হালকাগুলি (গ্রুপগুলির) একটি হালাকার নিকট গিয়ে তাদেরকে বললেন: আমি তোমাদেরকে এ কী করতে দেখছি? তারা বলল: হে আবু আব্দুর রহমান (আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ)! আমরা কাঁকর দিয়ে তাসবীহ, তাহলীল, তাকবীর গণনা করছি। তিনি বললেন: তোমরা তোমাদের পাপগুলি গণনা কর, আমি দায়িত্ব নিচ্ছি যে, তোমাদের নেক কর্ম বিনষ্ট হবে না। হতভাগা উম্মতে মুহাম্মাদী! কত দ্রুত তোমরা ধ্বংসের পথে এগিয়ে চলেছ! এখনো তোমাদের মাঝে তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণ বিপুল সংখ্যায় জীবিত রয়েছেন। দেখ! তাঁর পোশাকগুলি এখনো পুরাতন হয়নি, তাঁর আসবাবপত্র এখনো ভেঙ্গে নষ্ট হয়নি। (অথচ তার আগেই তোমরা ধ্বংসের পথে চলে গেলে) আল্লাহর কসম করে বলছি: তোমরা কি মুহাম্মাদের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ধর্মের চেয়েও ভালো কোনো ধর্মের ওপরে আছো? নাকি তোমরা বিভ্রান্তি ও গোমরাহীর দরজা খুলে নিলে?
সমবেত যিকিরকারীরা বলল: হে আবু আব্দুর রহমান (আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ)! আমরা তো একান্তই ভাল নিয়্যাতে এ কাজ করেছি। তিনি জবাবে বললেন: অনেক মানুষেরই উদ্দেশ্য ভালো হয়, তবে সে ভালো পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না। (কারণ, উদ্দেশ্য ভাল হয়, কিন্তু উদ্দেশ্য অর্জনের পন্থা ভালো হয় না)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে বলেছেন যে, কিছু মানুষ কুরআন তিলাওয়াত করবে, কিন্তু তাদের তিলাওয়াত কণ্ঠনালীর নিচে নামবে না। (বিদ’আতে লিপ্ত থাকার ফলে তাদের আমল কবুল হবে না)। আল্লাহর কসম! আমি জানি না, হয়ত তোমাদের অনেকেই এই শ্রেণির অন্তর্গত। এরপর তিনি তাদের কাছ থেকে চলে গেলেন।
আমর ইবনু সালামাহ (বর্ণনাকারী) বলেন, এ সকল হলাকায় যারা উপস্থিত ছিল তাদের অধিকাংশকেই দেখেছি নাহরাওয়ানের যুদ্ধে খারেজীদের পক্ষে আমাদের (আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু এর বিপক্ষে) যুদ্ধ করছে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ (উত্তম)।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা, আল মুছান্নাফ ১৫/৩০৬ নং ১৯৭৩৬; তাবারানী, আল কাবীর নং ৮৬৩৬ (সনদ যঈফ); আহমদ (অতি সংক্ষিপ্ত আকারে) ১/৪৪৪; তিরমিযী ২১৮৯; ইবনু মাজাহ, মুকাদ্দামাহ ১৬৮।
أَخْبَرَنَا يَعْلَى، حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، عَنْ حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللَّهِ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ -: اتَّبِعُوا وَلَا تَبْتَدِعُوا، فَقَدْ كُفِيتُمْ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :في اسناده علتان: الأولى: تدليس حبيب بن أبي ثابت وقد عنعن والثانية: قول شعبة: " لم يسمع أبو عبد الرحمن: عبد الله بن حبيب من عبد الله بن مسعود ". ولكن قال الإمام أحمد: " في قول شعبة: لم يسمع من ابن مسعود شيئا أراه وهما
২১১. আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, তোমরা অনুসরণ করো, নতুন মত-পথ (বিদ’আত) উদ্ভাবন করো না। তবেই তোমরা রক্ষা পাবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদে দু’টি ত্রুটি বিদ্যমান। হাবীব ইবনু আবী ছাবিত তাদলীস (উস্তাদের নাম গোপন) করে ‘আন-‘আন পদ্ধতিতে বর্ণনা করেছেন এবং শু’বাহ বলেছেন: ‘আবী আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ ইবনু হাবীব ইবনু মাসউদ থেকে কোন কিছু শোনেননি।
তাখরীজ: ওয়াকী’, আয যুহদ নং ৩১৫; ইবনু বাত্তাহ, আল ইবানাহ নং ১৭৫; ইবনু ওযাদা’, আল বিদ’আ নং ৫৪; মারওয়াযী , আস সুন্নাহ নং ৭৮; লালিকাঈ, শারহে উসূল নং ১০৪; আহমাদ, আয যুহদ পৃ: ১৬২
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي خَلَفٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمٍ، حَدَّثَنِي جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْأَنْصَارِيِّ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا - قَالَ: خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ: إِنَّ أَفْضَلَ الْهَدْيِ هَدْيُ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَشَرَّ الْأُمُورِ مُحْدَثَاتُهَا، وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده حسن من أجل يحيى بن سليم ولكنه لم ينفرد به بل تابعه عليه عبد الوهاب الثقفي وسليمان بن بلال وسفيان فيصح الإسناد
২১২. জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতা করলেন। প্রথমে তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও তা’রীফ করলেন, তারপর বললেন: ‘সর্বোত্তম হেদায়াত (পথ-নির্দেশনা) হল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর হেদায়াত, সবচেয়ে নিকৃষ্ট কাজ হচ্ছে নতুন প্রবর্তিত কাজ। আর প্রত্যেক বিদ’আতই (নব উদ্ভাবন) ভ্রষ্টতা।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান, ইয়াহইয়া ইবনু সালীম এর কারণে। তবে তিনি এ বর্ণনায় একাকী নন, এতে তার অনুসরণ করেছেন আব্দুল ওয়াহাব ছাকাফী ও সুলাইমান ইবনু বিলাল এবং সুফইয়ান। ফলে তা সহীহ’র স্তরে উন্নীত হয়। আল্লাহই ভাল জানেন। তবে এটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন। (তবে শাইখ আলবানী ও আরনাউত্ব একে সহীহ বলেছেন, দেখুন, আলবানী, আল ইহসান ও এবং সহীহ ইবনু হিব্বান, তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : আরনাউত্ব নং ১০-অনুবাদক।)
তাখরীজ: এর বিস্তারিত তাখরীজ করেছি আমার তাহক্বীক্বকৃত, মুসনাদে মাউসিলী ৪/৮৫ নং ২১১১ ও ২১১৯ এ। (সহীহ, বুখারী ৬০৯৮, ৭২৭৭; সহীহ মুসলিম, কিতাবুল জুমু’আ, (৪৩,৪৪,৪৫)(৮৬৭), নাসাঈ ৩/১৮৮; আহমাদ, আল মুসনাদ ৩/৩১০, ৩৩৮, ৩৭১; সহীহ ইবনু হিব্বান, ১০। - অনুবাদক)।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ الْفَزَارِيِّ، عَنْ أَسْلَمَ الْمِنْقَرِيِّ، عَنْ بِلَادِ بْنِ عِصْمَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَقُولُ، وَكَانَ إِذَا كَانَ عَشِيَّةَ الْخَمِيسِ ليْلةِ الْجُمُعَةِ، قَامَ فَقَالَ: «إِنَّ أَصْدَقَ الْقَوْلِ قَوْلُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ وَإِنَّ أَحْسَنَ الْهَدْيِ هَدْيُ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالشَّقِيُّ مَنْ شَقِيَ فِي بَطْنِ أُمِّهِ، وَإِنَّ شَرَّ الرَّوَايَا رَوَايَا الْكَذِبِ، وَشَرَّ الْأُمُورِ مُحْدَثَاتُهَا، وَكُلَّ مَا هُوَ آتٍ قَرِيبٌ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده جيد
২১৩. বিলায ইবনু ইছমাহ বলেন, আমি আব্দুল্লাহ মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছি, যখন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা তথা জুমু’আর রাত্রি আগমন করতো, তিনি দাঁড়িয়ে যেতেন এবং বলতেন, ‘সবচেয়ে সত্য বাণী হল আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-’র বাণী আর ‘সর্বোত্তম হেদায়াত (পথ-নির্দেশনা) হল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর হেদায়াত। আর দুর্ভাগা সেই ব্যক্তি যে তার মায়ের গর্ভে থাকাকালীন দুর্ভাগা (বলে নির্ধারিত) হয়েছে। আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট বর্ণনা হল মিথ্যা বর্ণনা, সবচেয়ে নিকৃষ্ট কাজ হচ্ছে নতুন প্রবর্তিত কাজ (বিদ’আত)। আর এর (বিদ’আতের) প্রত্যেকটিই অদূর ভবিষ্যতে আগমন করবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ (উত্তম)।
তাখরীজ: মা’মার, জামি’ (লেখকের এ কিতাবের সাথে সংযুক্ত) ১/১১৪ নং ২০০৭৬।
أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ الْفَزَارِيِّ عَنْ لَيْثٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، قَالَ: مَا أَخَذَ رَجُلٌ بِبِدْعَةٍ فَرَاجَعَ سُنَّةً
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف لضعف الليث وهو ابن أبي سليم
২১৪. ইবনু সীরীন রাহি. বলেন, যখনই কোন ব্যক্তি কোন বিদ’আতকে আকড়ে ধরে, তখনই সে কোন একটি সুন্নাত থেকে (মুখ) ফিরিয়ে নেয়।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, কেননা, বর্ণনাকারী লাইছ যঈফ।
তাখরীজ: আবু শামাহ, আল বায়িছ পৃ: ২৬।
أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلَابَةَ، عَنْ أَبِي أَسْمَاءَ، عَنْ ثَوْبَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: إِنَّمَا أَخَافُ عَلَى أُمَّتِي الْأَئِمَّةَ الْمُضِلِّينَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
২১৫. ছাওবান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ‘আমার উম্মাতের জন্য আমি সর্বাধিক ভয় করি গোমরাহকারী ইমাম (অনুসৃত আলিম/নেতা)-গণকে ।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আহমাদ, ৫/২৭৮, ২৮৪; আবু দাউদ ৪২৫২; তিরমিযী ২২৩০; ইবনু মাজাহ ৩৯৫২; কুদায়ী, মুসনাদুশ আশ শিহাব নং ১১১৬; বাইহাকী, দালাইল ৬/৫২৭; হাকিম, আল মুসতাদরাক ৪/৪৪৯। হাকিম ও যাহাবী একে বুখারী মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ বলেছেন। কিন্তু এটি শুধু মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ। আল্লাহই ভাল জানেন। এর শাহিদ হাদীস রয়েছে, যা শাদ্দাদ ইবনু আউস ও আবী দারদা কর্তক বর্ণিত যা সামনে ২১৮ নং এ আসছে।
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ أَبُو الْوَلِيدِ الْهَرَوِيُّ، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ مُعَاذٍ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ بْنِ عَمْرِو بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ حَيَّةَ بِنْتِ أَبِي حَيَّةَ، قَالَتْ: دَخَلَ عَلَيْنَا رَجُلٌ بِالظَّهِيرَةِ فَقُلْتُ: يَا عَبْدَ اللَّهِ مِنْ أَيْنَ أَقْبَلْتَ؟ قَالَ: «أَقْبَلْتُ أَنَا وَصَاحِبٌ لِي فِي بُغَاءٍ لَنَا فَانْطَلَقَ صَاحِبِي يَبْغِي وَدَخَلْتُ أَنَا أَسْتَظِلُّ بِالظِّلِّ وَأَشْرَبُ مِنَ الشَّرَابِ». فَقُمْتُ إِلَى لُبَيْنَةٍ حَامِضَةٍ - ورُبَّما قَالَتْ: فَقُمْتُ إِلَى ضَيْحَةٍ حَامِضَةٍ - فَسَقَيْتُهُ مِنْهَا، فَشَرِبَ وَشَرِبْتُ. قَالَتْ: وَتَوَسَّمْتُهُ فَقُلْتُ: يَا عَبْدَ اللَّهِ مَنْ أَنْتَ؟ فَقَالَ: «أَنَا أَبُو بَكْرٍ». قُلْتُ: أَنْتَ أَبُو بَكْرٍ صَاحِبُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الَّذِي سَمِعْتُ بِهِ؟ قَالَ: «نَعَمْ». قَالَتْ: فَذَكَرْتُ غَزْوَنَا خَثْعَمًا، وَغَزْوَةَ بَعْضِنَا بَعْضًا فِي الْجَاهِلِيَّةِ، وَمَا جَاءَ اللَّهُ بِهِ مِنَ الْأُلْفَةِ وَأَطْنَابِ الْفَسَاطِيطِ - وَشَبَّكَ ابْنُ عَوْنٍ أَصَابِعَهُ، وَوَصَفَهُ لَنَا مُعَاذٌ، وَشَبَّكَ أَحْمَدُ - فَقُلْتُ: يَا عَبْدَ اللَّهِ حَتَّى مَتَى تَرَى أَمْرَ النَّاسِ هَذَا؟ قَالَ: «مَا اسْتَقَامَتِ الْأَئِمَّةُ»، قُلْتُ: مَا الْأَئِمَّةُ؟ قَالَ: أَمَا رَأَيْتَ السَّيِّدَ يَكُونُ فِي الْحِوَاءِ فَيَتَّبِعُونَهُ وَيُطِيعُونَهُ؟ فَمَا اسْتَقَامَ أُولَئِكَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده حسن
২১৬. হায়্যাত বিনতে আবী হায়্যাত বলেন, (একদা) এক লোক দুপুর বেলায় আমাদের নিকট এলেন। তখন আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর বান্দা! আপনি কোথা হতে এসেছেন। তিনি উত্তরে বললেন, আমি ও আমার সাথী আমাদের কোনো একটি বিষয়ের খোঁজে এসেছি। আমার সাথী তা খুঁজতে বের হলেন, আর আমি এখানে ছায়ায় একটু আশ্রয় গ্রহণ এবং একটু কিছু পান করার উদ্দেশ্যে এলাম।
আমি তখন উঠে টক দুধ আনতে গেলাম, বর্ণনাকারী বলেন, (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) কখনো তিনি বলেছেন, আমি টক দই আনতে গেলাম। এরপর আমি তাকে তা পান করালাম। আর তিনিও পান করলেন এবং আমিও পান করলাম। এরপর আমি তাকে মনোযোগ সহকারে লক্ষ্য করলাম এবং বললাম: হে আল্লাহর বান্দা! আপনি কে? তখন তিনি বললেন, আমি আবু বাকর। আমি বললাম, আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথী আবু বকর, যার সম্পর্কে আমি শুনেছি? তিনি বললেন, হাঁ। তখন আমি খাছ’আম গোত্রের সাথে আমাদের যুদ্ধ ও জাহিলিয়্যাতের কোন কোন যুদ্ধের কথা উল্লেখ করলাম। এরপর বললাম, এরপর আল্লাহ আমাদের মধ্যে সম্প্রীতি ও বন্ধুত্ব সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁবু সমুহের রশিগুলি (এর ন্যায় সেতুবন্ধন) এনে দিয়েছেন। বর্ণনাকারী ইবনু আউন এক হাতের আঙ্গুলসমূহকে অপর হাতের আঙ্গুলের ফাঁকে প্রবেশ করিয়ে দেখালেন। মুয়ায (অপর বর্ণনাকারী) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদও এক হাতের আঙ্গুলসমূহকে অপর হাতের আঙ্গুলের ফাঁকে প্রবেশ করিয়ে দেখালেন।
[বর্ণনাকারী (হায়্যাত) বলেন]: আমি বললাম, হে আল্লাহর বান্দা! লোকদের এ অবস্থা কতদিন পর্যন্ত বহাল থাকবে বলে আপনি মনে করেন? তিনি বললেন, ইমামগণ যতক্ষণ সরল পথে স্থির থাকবে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইমামগণ কারা? তিনি বললেন, তুমি কি (একত্রে বসবাসকারী) জনগোষ্ঠীর নেতাকে দেখনি, বিভিন্ন মহল্লায় যেমন সর্দার থাকে আর তারা তাকে অনুসরণ করে এবং তার আনুগত্য করে? ফলে এরা যতদিন সরল পথে স্থির থাকে, (ততদিন তা ঠিক থাকবে)।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।
তাখরীজ: (মুহাক্বিক্ব এর কোন তাখরীজ করেন নি।– অনুবাদক)
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّلْتِ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَخٍ لِعَدِيِّ بْنِ أَرْطَاةَ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ أَخْوَفُ مَا أَخَافُ عَلَيْكُمُ الْأَئِمَّةَ الْمُضِلِّينَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف فيه جهالة ولكن الحديث صحيح يشهد له الحديث قبل السابق
২১৭. আবু দারদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আমি তোমাদের জন্য যে সকল জিনিসকে ভয় করি, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভয় করি গোমরাহকারী ইমাম (নেতা)-দেরকে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। এতে অজ্ঞাত রাবী রয়েছে। তবে হাদীসটি সহীহ, যার শাহিদ হাদীস পূর্বে গত হয়েছে।
তাখরীজ: আহমদ, ৬/৪৪১, সনদ আগেরটির চেয়েও অধিক যঈফ।
أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ بَيَانٍ بْنِ بِشْرٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، قَالَ: دَخَلَ أَبُو بَكْرٍ رِضْوَانُ اللَّهِ عَلَيْهِ عَلَى امْرَأَةٍ مِنْ أَحْمَسَ يُقَالُ لَهَا زَيْنَبُ، قَالَ: «فَرَآهَا لَا تَتَكَلَّمُ»، فَقَالَ: مَا لَهَا لَا تَتَكَلَّمُ؟ قَالُوا: نَوَتْ حَجَّةً مُصْمِتَةً. فَقَالَ لَهَا: «تَكَلَّمِي، فَإِنَّ هَذَا لَا يَحِلُّ، هَذَا مِنْ عَمَلِ الْجَاهِلِيَّةِ». قَالَ: فَتَكَلَّمَتْ، فَقَالَتْ: مَنْ أَنْتَ. قَالَ: " أَنَا امْرُؤٌ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ. قَالَتْ: مِنْ أَيِّ الْمُهَاجِرِينَ؟ قَالَ: «مِنْ قُرَيْشٍ» قَالَتْ: فَمِنْ أَيِّ قُرَيْشٍ أَنْتَ؟ قَالَ: " إِنَّكِ لَسَئُولٌ، أَنَا أَبُو بَكْرٍ. قَالَتْ: مَا بَقَاؤُنَا عَلَى هَذَا الْأَمْرِ الصَّالِحِ الَّذِي جَاءَ اللَّهُ بِهِ بَعْدَ الْجَاهِلِيَّةِ؟ فَقَالَ: «بَقَاؤُكُمْ عليْهِ مَا اسْتَقَامَتْ بِكُمْ أَئِمَّتُكُمْ». قَالَتْ " وَمَا الْأَئِمَّةُ؟ قَالَ: «أَمَا كَانَ لِقَوْمِكِ رُؤَسَاءُ وَأَشْرَافٌ يَأْمُرُونَهُمْ فَيُطِيعُونَهُمْ؟» قَالَتْ: بَلَى، قَالَ: «فَهُمْ مِثْلُ أُولَئِكَ عَلَى النَّاسِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
২১৮. কায়িস ইবনু আবু হাযিম বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আবু বাকর আহমাস গোত্রের এক মহিলার নিকট গেলেন, যাকে যায়নাব বলে ডাকা হত। তিনি বলেন, তিনি মহিলাকে দেখলেন যে, সে কোনো কথা-বার্তা বলছে না। তখন তিনি (লোকদেরকে) জিজ্ঞেস করলেন, তার কী হয়েছে যে সে কথা বলছে না? তারা বলল, সে কথা-বার্তাহীন (নিশ্চুপ) হজ্জ করার নিয়াত করেছে। তিনি তাকে বললেন, তুমি কথা বলো। কারণ, এটি জায়েয নয়। এটি জাহিলী যুগের কাজ। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, তারপর সে কথা বলল। তখন সে জিজ্ঞেস করল, আপনি কে? তিনি (আবু বাকর) বললেন, আমি মুহাজিরগণের একজন । সে তখন জিজ্ঞেস করল, কোন্ মুহাজিরগণের? তিনি বললেন, কুরাইশ বংশের। তখন সে আবারও প্রশ্ন করল, আপনি কুরাইশদের কোন্ (গোত্রের)? তিনি বললেন, তুমি তো দেখি খুব বেশি বেশি প্রশ্ন কর! আমি আবু বাকর। তখন ঐ মহিলা বললেন, জাহিলিয়্যাহ যুগের পরে আল্লাহ আমাদের জন্য যে কল্যাণকর অবস্থা সৃষ্টি করেছেন, তার উপর আমরা কতদিন পর্যন্ত স্থির থাকবো? তিনি বললেন, তোমরা এর উপর ততদিন পর্যন্ত স্থির থাকবে, যতদিন পর্যন্ত তোমাদের ইমামগণ সরল পথে স্থির থাকবে। সে বলল, ইমামগণ আবার কী? তিনি বললেন: ‘তোমাদের গোত্রে কি নেতৃস্থানীয় সর্দার ও সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিবর্গ আছেন না, যারা লোকদেরকে আদেশ করেন এবং তারা তাদের আদেশ মান্য করে? সে বলল, হাঁ, অবশ্যই আছে। তিনি বললেন, ফলে তারাই হলো লোকদের জন্য ঐ ব্যক্তিবর্গের (ইমামগণের) মত।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী, সহীহ ৩৮৩৪; ইবনু সা’দ, আত তাবাকাত ৮/৩৪৫, যঈফ সনদে ।
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ وَاصِلٍ، عَنِ امْرَأَةٍ يُقَالُ لَهَا: عَائِذَةُ، قَالَتْ: رَأَيْتُ ابْنَ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يُوصِي الرِّجَالَ وَالنِّسَاءَ وَيَقُولُ: «مَنْ أَدْرَكَ مِنْكمْ مِنَ امْرَأَةٍ أَوْ رَجُلٍ، فَالسَّمْتَ الْأَوَّلَ السَّمْتُ الْأَوَّلُ، فَإِنَّكُمْ عَلَى الْفِطْرَةِ» قَالَ عَبْدُ اللَّهِ السَّمْتُ: الطَّرِيقُ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
২১৯. আইযা নামক এক মহিলা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে নারী-পুরুষদেরকে নসীহত করতে শুনেছি। তিনি বলতেন: “তোমাদের মধ্যকার নারী বা পুরুষ যে-ই (ফিতনা ও বিদআতের যুগ) পায় সে যেনো অনুসরণ করেnbsp;প্রথমযুগের লোকদের পথ, প্রাচীনদের পন্থা (তথা সাহাবীগণের পন্থা)। কেননা, তবেই তোমরা ফিতরাত’ তথা স্বভাব ধর্ম (ইসলাম)-এর উপর থাকবে।
(পরবর্তী বর্ণনাকারী) আব্দুল্লাহ বলেন, السمت মানে রাস্তা, পথ-পন্থা।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু সা’দ, আত তাবাকাত ৮/৩৫৮; ইবনু আবী শাইবা ১৪/১৩৩ নং ১৭৮৫৬; বিস্তারিত তাখরীজ দেখুন পূর্বে উল্লেখিত হাদীস নং ১৭৪।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُيَيْنَةَ، أَنبَأَنَا عَلِيٌّ هُوَ ابْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ زِيَادِ بْنِ حُدَيْرٍ، قَالَ: قَالَ لِي عُمَرُ: «هَلْ تَعْرِفُ مَا يَهْدِمُ الْإِسْلَامَ؟» قَالَ: قُلْتُ: لَا، قَالَ: يَهْدِمُهُ زَلَّةُ الْعَالِمِ، وَجِدَالُ الْمُنَافِقِ بِالْكِتَابِ وَحُكْمُ الْأَئِمَّةِ الْمُضِلِّينَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
২২০. যিয়াদ ইবনু হুদাইর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তুমি কি জানো, কিসে ইসলামকে ধ্বংস করবে? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, আলিমগণের পদস্খলন বা ভ্রান্তি, কিতাব তথা কুরআন নিয়ে মুনাফিকদের বিতর্ক-বিবাদ এবং গোমরাহকারী ইমাম (নেতা)-দের শাসন-পরিচালনা।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু বাত্তাহ, আল ইবানাহ নং ৬৪১, ৬৪৩; খতীব, আল ফাকীহ ওয়াল মুতাফাকিহ নং ৬০৭; ইবনু আব্দুল বারর, জামি’ নং ১৮,৬৭, ১৮৬৯, ১৮৭০।