সুনান আদ-দারিমী
حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مُوسَى عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَيُّمَا امْرَأَةٍ نُكِحَتْ بِغَيْرِ إِذْنِ وَلِيِّهَا فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ فَإِنْ اشْتَجَرُوا قَالَ أَبُو عَاصِمٍ وَقَالَ مَرَّةً فَإِنْ تَشَاجَرُوا فَالسُّلْطَانُ وَلِيُّ مَنْ لَا وَلِيَّ لَهُ فَإِنْ أَصَابَهَا فَلَهَا الْمَهْرُ بِمَا اسْتَحَلَّ مِنْ فَرْجِهَا قَالَ أَبُو عَاصِمٍ أَمْلَاهُ عَلَيَّ سَنَةَ سِتٍّ وَأَرْبَعِينَ وَمِائَةٍ
২২২৩. আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে কোন মহিলা তার ওলীর অনুমতি ব্যতিরেকে বিয়ে করবে,তার বিবাহ বাতিল, তার বিবাহ বাতিল,তার বিবাহ বাতিল।“ বর্ণনাকারী আবূ আসিম বলেন, তিনি আরেকবার বলেন, “তারা দ্বন্দ্বে লিপ্ত হলে, শাসকই হবে তার ওলী,যার ওলী নেই। যদি এরপর স্বামী তার সাথে সঙ্গত হয় তবে স্ত্রী মোহরানার হকদার হবে। যেহেতু তার স্বামী তার লজ্জাস্থানকে হালাল মনে করে ভোগ করেছে।“আবূ আসিম বলেন, হাদীসটি আমার দ্বারা লেখানো হয় ১৪৬ (হিজরী) সালে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান। সুলাইমান ইবনু মূসা’র কারণে। তবে ইবনু জুরাইজ হাদ্দাসান’ বলে বর্ণনা করেছেন মাউসিলীতে।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৫০৭, ২৫০৮, ৪৬৮২, ৪৬৯২, ৪৭৪৯; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪০৭৫ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১২৪৮ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ২৩০ তে, যেখানে বাড়তিভাবে লেখা হয়েছে : ‘এর সনদ সহীহ’। ((আবূ দাউদ, নিকাহ ২০৮৩; তিরমিযী, নিকাহ ১১০৮; ইবনু মাজাহ, নিকাহ ১৮৭৯।– ফাওয়ায আহমেদের দারেমী, হা/২১৮৪ এর টীকা হতে।-অনুবাদক))
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ أَبِي إِسْحَقَ حَدَّثَنِي أَبُو بُرْدَةَ بْنُ أَبِي مُوسَى عَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تُسْتَأْمَرُ الْيَتِيمَةُ فِي نَفْسِهَا فَإِنْ سَكَتَتْ فَقَدْ أَذِنَتْ وَإِنْ أَبَتْ لَمْ تُكْرَهْ
২২২৪. আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা ইয়াতীম মেয়েদেরকে বিয়ে করার জন্য তাদের নিকট থেকে সম্মতি গ্রহণ করো। যদি তারা চুপ থাকে, তবে সে অনুমতি দিল (বলে গণ্য হবে)। আর যদি সে অস্বীকার করে, তবে তাকে বাধ্য করা যাবে না।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭৩২৭; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪০৮৫ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১২৩৮ তে। ((আবূ দাউদ, নিকাহ ২০৯৩।- অনুবাদক))
أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تُنْكَحُ الثَّيِّبُ حَتَّى تُسْتَأْمَرَ وَلَا تُنْكَحُ الْبِكْرُ حَتَّى تُسْتَأْذَنَ وَإِذْنُهَا الصُّمُوتُ
২২২৫. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “অকুমারী মেয়েদেরকে তাদের সম্মতি না পাওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেওয়া যাবে না। আবার কুমারী মেয়েদেরকেও তাদের অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেওয়া যাবে না। আর চুপ থাকাই তার অনুমতি প্রদান।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬০১৯, ৭৩২৮; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪০৭৯, ৪০৮৬ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১২৩৯ তে। পূর্ণ তাখরীজের জন্য পরবর্তী হাদীসটি দেখুন।
أَخْبَرَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ يَحْيَى عَنْ أَبِي سَلَمَةَ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ حَدَّثَهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِهَذَا الْحَدِيثِ
২২২৬. (অপর সূত্রে) আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ হাদীস বর্ণিত আছে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী, নিকাহ ৫১৩৬; মুসলিম, নিকাহ ১৪১৯; আগের হাদীসটি দেখুন।
حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْفَضْلِ عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا وَالْبِكْرُ تُسْتَأْذَنُ فِي نَفْسِهَا وَإِذْنُهَا صُمَاتُهَا
২২২৭. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বিধবা নারী তার নিজের (বিয়ের) ব্যাপারে তার ওলীর চেয়ে অধিক কর্তৃত্বশীল। আর কুমারী মেয়ে থেকেও তার (বিয়ের) ব্যাপারে অনুমতি গ্রহণ করা কর্তব্য। আর তার চুপ থাকাই তার অনুমতি প্রদান।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ শক্তিশালী।
তাখরীজ: মালিক, নিকাহ ৪; মুসলিম, নিকাহ ১৪২১;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪০৮৪, ৪০৮৭, ৪০৮৮ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৫২৭ তে। এছাড়া, সাঈদ ইবনু মানসূর নং ৫৫৬; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ৩/১১, ৪/৩৬৬।
حَدَّثَنَا إِسْحَقُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنِي مَالِكٌ أَوَّلُ شَيْءٍ سَأَلْتُهُ عَنْهُ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْفَضْلِ عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تُسْتَأْذَنُ الْبِكْرُ وَإِذْنُهَا صُمَاتُهَا
২২২৮. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কুমারী মেয়ে থেকে তার (বিয়ের) ব্যাপারে অনুমতি গ্রহণ করা হবে। আর তার চুপ থাকাই তার অনুমতি প্রদান।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: এটি আগের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَوْهَبٍ أَخْبَرَنَا نَافِعُ بْنُ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْأَيِّمُ أَمْلَكُ بِأَمْرِهَا مِنْ وَلِيِّهَا وَالْبِكْرُ تُسْتَأْمَرُ فِي نَفْسِهَا وَصَمْتُهَا إِقْرَارُهَا
২২২৯. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “বিধবা নারী তার নিজের (বিয়ের) বিষয়ে তার ওলীর চেয়ে অধিক ক্ষমতাবান। আর কুমারী মেয়ে থেকেও তার (বিয়ের) ব্যাপারে অনুমতি গ্রহণ করতে হবে। আর তার চুপ থাকাই তার স্বীকারোক্তি।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান উবাইদুল্লাহ ইবনু আব্দুর রহমান ইবনু মুহাব এর কারণে। তবে হাদীসটি সহীহ। এটি আগের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।
তাখরীজ: আহমাদ ১/২৭৪; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ৩/১১, ৪/৩৬৬।
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ أَنَّهُ سَمِعَ الْقَاسِمَ بْنَ مُحَمَّدٍ أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ يَزِيدَ وَمُجَمِّعَ بْنَ يَزِيدَ الْأَنْصَارِيَّيْنِ حَدَّثَاهُ أَنَّ رَجُلًا مِنْهُمْ مِنْ الْأَنْصَارِ يُدْعَى خِذَامًا أَنْكَحَ بِنْتًا لَهُ فَكَرِهَتْ نِكَاحَ أَبِيهَا فَأَتَتْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لَهُ فَرَدَّ عَنْهَا نِكَاحَ أَبِيهَا فَنَكَحَتْ أَبَا لُبَابَةَ بْنَ عَبْدِ الْمُنْذِرِ فَذَكَرَ يَحْيَى أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّهَا كَانَتْ ثَيِّبًا
২২৩০. ‘আবদুর রহমান ইবনু ইয়াযীদ ও মুজাম্মি’উ ইবনু ইয়াযীদ আল-আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। খিযাম নামক এক ব্যক্তি তার মেয়েকে বিয়ে দেন। সে তার পিতার দেয়া এই বিয়ে অপছন্দ করে। এরপর মেয়েটি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বিষয়টি তাঁকে অবহিত করে। ফলে তিনি তার পিতার দেয়া তার এই বিবাহ বাতিল করে দেন। পরে সেই মেয়ে আবূ লুবাবা ইবনু ‘আবদুল মুনযির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-কে বিয়ে করে। ইয়াহ্ইয়া (রহ.) বলেন যে, তার নিকট এ খবর পৌঁছেছে যে, সে ছিল সায়্যিবা (বিধবা)।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা, ৪/১৩৪; ইবনু মাজাহ, নিকাহ ১৮৭৩; আহমাদ ৬/৩২৮; বুখারী, নিকাহ ৫১৩৯, হিয়াল ৬৯৬৯; সাঈদ ইবনু মানসূর নং ৫৭৬;
পূর্ণ তাখরীজের জন্য পরবর্তী টীকাটিও দেখুন।
أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ وُمُجَمِّعٍ ابْنَيْ يَزِيدَ ابْنِ جَارِيَةَ أَنَّ خَنْسَاءَ بِنْتَ خِذَامٍ زَوَّجَهَا أَبُوهَا وَهِيَ ثَيِّبٌ فَكَرِهَتْ ذَلِكَ فَأَتَتْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرَدَّ نِكَاحَهَا
২২৩১. ‘আবদুর রহমান ইবনু ইয়াযীদ ও মুজাম্মি’উ ইবনু ইয়াযীদ আল-আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। খিযামের মেয়ে খানসাকে তার পিতা বিয়ে দেন। সে ছিল সায়্যিবা (বিধবা)। আর সে একে (পিতার দেয়া এই বিয়েকে) অপছন্দ করে। এরপর মেয়েটি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি তার (পিতার দেয়া) এই বিয়ে বাতিল করে দেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ শক্তিশালী।
তাখরীজ: মালিক, নিকাহ ২৫; তার সূত্রে আহমাদ ৬/৩২৮; বুখারী, নিকাহ ৫১৩৮, ইকরাহ ৬৯৪৫; আবূ দাউদ, নিকাহ ২১০১; নাসাঈ, নিকাহ ৬/৮৬।
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا سَعِيدٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ أَوْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَيُّمَا امْرَأَةٍ زَوَّجَهَا وَلِيَّانِ لَهَا فَهِيَ لِلْأَوَّلِ مِنْهُمَا وَأَيُّمَا رَجُلٍ بَاعَ بَيْعًا مِنْ رَجُلَيْنِ فَهُوَ لِلْأَوَّلِ مِنْهُمَا
২২৩২. উক্ববাহ ইবনু আমির অথবা সামুরাহ ইবনু জুনদুব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কোন মহিলাকে যদি (সমপর্যায়ের) দুই ওলী বিয়ে দেয় তবে তাদের প্রথম জনের দেয়া বিয়েই কার্যকর হবে। আর কেউ যদি দুইজনের কাছে কোন জিনিস বিক্রি করে তবে তা এদের মধ্যে প্রথম জনই পাবে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। কেননা, হাসান সামুরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ও উকবাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে শোনেননি।
তাখরীজ: আহমাদ ৫/৮; তিরমিযী, নিকাহ ১১১০,; আবূ দাউদ, নিকাহ ২১০১; নাসাঈ, বুয়ূ ৭/৩১৪; কুবরা নং ৬২৭৯; ইবনু আবী শাইবা, ৪/১৩৯; ইবনু মাজাহ, ২য় অংশ সংক্ষিপ্ত আকারে, তিজারাহ ২১৯০; তাবারাণী, কাবীর ৭/২০৩ নং ৬৮৪২;
উকবাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, আহমাদ ৪/১৪৯; ইবনু আবী শাইবা, ৪/১৩৯; বাইহাকী, নিকাহ ৭/১৩৯। সামুরাহ’র হাদীসটি হলো পরবর্তী হাদীস।
حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ أَخْبَرَنَا قَتَادَةُ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ سَمُرَةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِنَحْوِهِ
২২৩৩. সামুরাহ ইবনু জুনদুব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে (পূর্বোক্ত হাদীসের) অনুরূপ।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ ইনকিতা’ বা বিচ্ছিন্নতার কারণে যঈফ।
তাখরীজ: আবূ দাউদ, নিকাহ ২০৮৮; তাবারাণী, কাবীর ৭/২০৩ নং ৬৮৩৯, ৬৮৪১, ৬৮৪৩; তায়ালিসী, ১/৩০৫ নং ১৫৫৫; বাইহাকী, নিকাহ ৭/১৩৯; আহমাদ ৫/১১, ১২,১৮; ইবনুল জারুদ নং ৬২২; হাকিম ২/৩৫, ১৭৪, ১৭৫; ইবনু মাজাহ, তিজারাহ ২১৯১। দেখুন, তালখীসুল হাবীর ৩/১৬৫।
أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ عَنْ الرَّبِيعِ بْنِ سَبْرَةَ أَنَّ أَبَاهُ حَدَّثَهُ أَنَّهُمْ سَارُوا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي حِجَّةِ الْوَدَاعِ فَقَالَ اسْتَمْتِعُوا مِنْ هَذِهِ النِّسَاءِ وَالِاسْتِمْتَاعُ عِنْدَنَا التَّزْوِيجُ فَعَرَضْنَا ذَلِكَ عَلَى النِّسَاءِ فَأَبَيْنَ أَنْ لَا نَضْرِبَ بَيْنَنَا وَبَيْنَهُنَّ أَجَلًا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ افْعَلُوا فَخَرَجْتُ أَنَا وَابْنُ عَمٍّ لِي مَعَهُ بُرْدٌ وَمَعِي بُرْدٌ وَبُرْدُهُ أَجْوَدُ مِنْ بُرْدِي وَأَنَا أَشَبُّ مِنْهُ فَأَتَيْنَا عَلَى امْرَأَةٍ فَأَعْجَبَهَا شَبَابِي وَأَعْجَبَهَا بُرْدُهُ فَقَالَتْ بُرْدٌ كَبُرْدٍ وَكَانَ الْأَجَلُ بَيْنِي وَبَيْنَهَا عَشْرًا فَبِتُّ عِنْدَهَا تِلْكَ اللَّيْلَةَ ثُمَّ غَدَوْتُ فَإِذَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَائِمٌ بَيْنَ الرُّكْنِ وَالْبَابِ فَقَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي قَدْ كُنْتُ أَذِنْتُ لَكُمْ فِي الِاسْتِمْتَاعِ مِنْ النِّسَاءِ أَلَا وَإِنَّ اللَّهَ قَدْ حَرَّمَهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ فَمَنْ كَانَ عِنْدَهُ مِنْهُنَّ شَيْءٌ فَلْيُخَلِّ سَبِيلَهَا وَلَا تَأْخُذُوا مِمَّا آتَيْتُمُوهُنَّ شَيْئًا
২২৩৪. রাবী ইবনু সাবরা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তাঁর পিতা বিদায় হাজ্জে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন । তিনি বললেন: “তোমরা এ নারীদের সাথে মুতআ (বিয়ে) করো।“ আর মুত’আ করা আমাদের নিকট বিয়ে হিসেবেই গণ্য ছিল। ফলে আমরা নারীদেরকে এর প্রস্তাব দিলে তারা আমাদের ও তাদের মাঝে একটি মেয়াদ নির্ধারিত না করলে তারা মানতে রাজি হচ্ছিল না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “তোমরা (তা-ই) করো।“ তখন আমিও আমার চাচাতো ভাই বেরিয়ে পড়লাম। আমাদের উভয়ের সাথে একটি করে চাদর ছিল। আমার চাদরটির চেয়ে আমার চাচাতো ভাইয়ের চাদরটি ছিল উৎকৃষ্ট। তবে আমি তার তুলনায় বয়সে অধিক তরুণ ছিলাম।
অবশেষে আমরা একটি যুবতী মেয়ের নিকট এলাম। আমার তারুণ্য তাকে মুগ্ধ করলো, আবার তার চাদরও তার পছন্দ হলো। ফলে সে বলতে লাগলো, চাদর তো চাদরের মতোই (চাদরে কী যায় আসে)। অতঃপর আমি তকে মুতআ বিবাহ করলাম দশদিনের মেয়াদে। এরপর আমি তার নিকট সেই রাত অতিবাহিত করলাম, এরপর সকাল হলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকনে ইয়ামানী ও বাবের মাঝে দাঁড়িয়ে বলতে লাগলেন: “হে লোক সকল! আমি তোমাদেরকে স্ত্রীলোকদের সাথে মুতআ বিবাহের অনুমতি দিয়েছিলাম। কিন্তু আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন পর্যন্ত তা হারাম করেছেন। অতএব, যার নিকট এই ধরনের (বিবাহ সূত্রে কোন স্ত্রীলোক) আছে, সে যেন তার পথ ছেড়ে দেয়। আর তোমরা তাদের যা কিছু দিয়েছ তা থেকে কিছুই কেড়ে রেখে দিও না।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মুসলিম, নিকাহ ১৪০৬; বাইহাকী, নিকাহ ৭/২০২, ২০৩, ২০৪; এছাড়াও আহমাদ ৩/৪০৪-৪০৬; আব্দুর রাযযাক ৭/৪৯৬-৫০৬; ইবনু আবী শাইবা, ৪/২৯২; তাবারাণী, কাবীর ৭/২০৩ নং ৬৮৩৯; তামহীদ ১০/১০২-১০৯ তে এর অনেকগুলি সূত্র রয়েছে।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৯৩৮, ৯৩৯; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪১৪৪, ৪১৪৬, ৪১৪৭, ৪১৪৮, ৪১৫০ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৮৭০ তে। পরবর্তী হাদীসটিও দেখুন।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ الرَّبِيعِ بْنِ سَبْرَةَ الْجُهَنِيِّ عَنْ أَبِيهِ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ نِكَاحِ الْمُتْعَةِ عَامَ الْفَتْحِ
২২৩৫. রবী’ ইবনু সাবরা আল জুহানী ((রহঃ)) থেকে তাঁর পিতার সুত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের বছরে মুতঁআ বিয়ে নিষিদ্ধ করেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মুসলিম, নিকাহ ১৪০৬; মুসনাদুল হুমাইদী নং ৮৬৯। এটি পূর্বের হাদীসটির সংক্ষিপ্তসার; সুতরাং পূর্ণ তাখরীজের জন্য সেটি দেখুন।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ حَدَّثَنِي ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ الْحَسَنِ وَعَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِيهِمَا قَالَ سَمِعْتُ عَلِيًّا يَقُولُ لِابْنِ عَبَّاسٍ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ الْمُتْعَةِ مُتْعَةِ النِّسَاءِ وَعَنْ لُحُومِ الْحُمُرِ الْأَهْلِيَّةِ عَامَ خَيْبَرَ
২২৩৬. হাসান ও আব্দুল্লাহ হতে তাদের উভয়ের পিতার সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে লক্ষ্য করে আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে বলতে শুনেছি: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের ষুদ্ধের বছরে মুত’আ: তখা নারীদের সাথে মুত’আ বিয়ে এবং গৃহপালিত গাধার গোশত নিষিদ্ধ করেছেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।
তাখরীজ: এটির তাখরীজ ২০৩৩ (অনুবাদে সম্ভবত: ২০২৩) নং এ গত হয়েছে।
أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ أَيُّوبَ بْنِ مُوسَى عَنْ نُبَيْهِ بْنِ وَهْبٍ عَنْ أَبَانَ بْنِ عُثْمَانَ عَنْ عُثْمَانَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْمُحْرِمُ لَا يَنْكِحُ وَلَا يُنْكِحُ
২২৩৭. উছমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “মুহরিম (হাজ্জের ইহরামরত) ব্যক্তি বিয়ে করবে না এবং (কাউকে) বিয়ে দিবেও না।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মুসলিম, নিকাহ ১৪০৯;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪১২৩, ৪১২৪, ৪১২৫, ৪১২৬ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৩৩ তে। আরও দেখুন, মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১২৭৪ এর টীকা।
أَخْبَرَنَا نُعَيْمُ بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ هُوَ ابْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ كَمْ كَانَ صَدَاقُ أَزْوَاجِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ كَانَ صَدَاقُهُ لِأَزْوَاجِهِ اثْنَتَيْ عَشْرَةَ أُوقِيَّةً وَنَشًّا وَقَالَتْ أَتَدْرِي مَا النَّشُّ قَالَ قُلْتُ لَا قَالَتْ نِصْفُ أُوقِيَّةٍ فَهَذَا صَدَاقُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِأَزْوَاجِهِ
২২৩৮. আবূ সালামা হতেবর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকেজিজ্ঞাসা করলাম যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রীদেরমোহরানা কেমন ছিলো? তিনি বলেন, তাঁর স্ত্রীদেরমোহরানার পরিমাণ ছিল বারো উকিয়াএবং এক‘নাশ’। আবারতিনিজিজ্ঞাসাকরেন, ‘নাশ’কী তা তুমি জানো? তিনি বলেন,আমি বললাম, না। তখন তিনি বললেন, তাহলঅর্ধ –উকিয়া। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদেরজন্য এ মোহরানাই ধার্য্য করেছিলেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।
তাখরীজ: শাফিঈ, আল মুসনাদ পৃ: ২৪৬; তার সূত্রে আবু নুয়াইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া ৯/১৬১; সহীহ সনদে। আহমাদ ৬/৯৩-৯৪; মুসলিম, নিকাহ ১৪২৬; নাসাঈ, নিকাহ ৬/১১৬-১১৭; আবূ দাউদ, নিকাহ ২১০৫; ইবনু মাজাহ, নিকাহ ১৮৮৬; ইবনু সা’দ, আত তাবাকাত ৮/১১৫ যঈফ সনদে।
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ أَخْبَرَنَا هُشَيْمٌ عَنْ مَنْصُورِ بْنِ زَاذَانَ عَنْ ابْنِ سِيرِينَ عَنْ أَبِي الْعَجْفَاءِ السُّلَمِيِّ قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ خَطَبَ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ أَلَا لَا تُغَالُوا فِي صُدُقِ النِّسَاءِ فَإِنَّهَا لَوْ كَانَتْ مَكْرُمَةً فِي الدُّنْيَا أَوْ تَقْوَى عِنْدَ اللَّهِ كَانَ أَوْلَاكُمْ بِهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا أَصْدَقَ امْرَأَةً مِنْ نِسَائِهِ وَلَا أُصْدِقَتْ امْرَأَةٌ مِنْ بَنَاتِهِ فَوْقَ اثْنَتَيْ عَشْرَةَ أُوقِيَّةً أَلَا وَإِنَّ أَحَدَكُمْ لَيُغَالِي بِصَدَاقِ امْرَأَتِهِ حَتَّى يَبْقَى لَهَا فِي نَفْسِهِ عَدَاوَةٌ حَتَّى يَقُولَ كَلِفْتُ إِلَيْكِ عَلَقَ الْقِرْبَةِ أَوْ عَرَقَ الْقِرْبَةِ
২২৩৯. আবীল আজফা’আ আস সুলামী (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উমার ইবনুল খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে খুতবা দান কালে বলতে শুনেছি, প্রথমে তিনি আল্লাহর হামদ ও ছানা পাঠ করেন অতঃপর বলেন, মহিলাদের মাহরের ব্যাপারে তোমরা বাড়াবাড়ি করো না। কেননা তা যদি পার্থিব জীবনে সম্মানের বস্তু অথবা আল্লাহর কাছে তাক্ওয়ার প্রতীক হতো, তাহলে তোমাদের চেয়ে মুহাম্মাদ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যাপারে অধিকতর যোগ্য ও অগ্রগণ্য হতেন। তিনি তাঁর স্ত্রী ও কন্যাদের মাহর বারো উকিয়ার বেশি ধার্য করেননি। জেনে রাখো, তোমাদের কেউ কেউ তার স্ত্রীর মোহরের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করে। তখন স্ত্রীর প্রতি স্বামীর মনে শত্রুতা সৃষ্টি হয়, এমনকি সে বলতে থাকে, আমি তোমার জন্য পানির মশক টানতে টানতে নিজেকে মলিন করেছি অথবা ঘর্মাক্ত হয়ে পড়েছি।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৬২০ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১২৫৯ তে। ((তিরমিযী, নিকাহ ১১১৪; আবূ দাউদ, নিকাহ ১৮৩৪; ইবনু মাজাহ, নিকাহ ১৮৮৭- অনুবাদক।))
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَبِي حَازِمٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ أَتَتْ امْرَأَةٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ إِنَّهَا وَهَبَتْ نَفْسَهَا لِلَّهِ وَلِرَسُولِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا لِي فِي النِّسَاءِ مِنْ حَاجَةٍ فَقَالَ رَجُلٌ زَوِّجْنِيهَا فَقَالَ أَعْطِهَا ثَوْبًا فَقَالَ لَا أَجِدُ قَالَ أَعْطِهَا وَلَوْ خَاتَمًا مِنْ حَدِيدٍ فَاعْتَلَّ لَهُ فَقَالَ مَا مَعَكَ مِنْ الْقُرْآنِ قَالَ كَذَا وَكَذَا قَالَ فَقَدْ زَوَّجْتُكَهَا عَلَى مَا مَعَكَ مِنْ الْقُرْآنِ
২২৪০. সাহল ইবন সা’দ সাঈদী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে জনৈকা মহিলা এসে বলল যে, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য তার নিজেকে হেবা করল। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “আমার কোনো নারীর প্রয়োজন নেই।“ তখন এক ব্যক্তি বলল, এই মহিলাকে আমার সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দিন। তিনি বললেন, “একে (মোহরানা হিসেবে) একটি কাপড় দাও।“ লোকটি বলল, আমার কাছে কিছুই নাই। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, একটি লোহার আংটি হলেও তাকে দাও।“বর্ণনাকারী বলেন, লোকটি বেশ দু:খিত হয়ে পড়লো। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “তোমার কাছে কোরানের কী পরিমাণ (মুখস্ত) আছে?“ লোকটি বলল: অমুক সূরা অমুক সূরা। তিনি বললেন, “তোমার কাছে কোরানের যা আছে তার বিনিময়ে এই মহিলাকে তোমার সাথে বিয়ে দিয়ে দিলাম।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।
তাখরীজ: বুখারী, ওয়াকালাত ২৩১০; মুসলিম, নিকাহ ১৪২৫;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭৫২১, ৭৫২২, ৭৫৩৯; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪০৯৩ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯৫৭ তে।
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ وَحَجَّاجٌ قَالَا حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ أَنْبَأَنَا أَبُو إِسْحَقَ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا عُبَيْدَةَ يُحَدِّثُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ عَلَّمَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خُطْبَةَ الْحَاجَةِ الْحَمْدُ لِلَّهِ أَوْ إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ ثُمَّ يَقْرَأُ ثَلَاثَ آيَاتٍ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمْ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعْ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا ثُمَّ يَتَكَلَّمُ بِحَاجَتِهِ
২২৪১. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস‘উদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের প্রয়োজনের (বিবাহের) খুতবা শিক্ষা দিয়েছেন (এভাবে):
‘‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। অথবা, সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের প্রবৃত্তির অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ্ যাকে সৎপথে পরিচালিত করেন তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না এবং যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার কোন পথপ্রদর্শক নাই। আমি সাক্ষ্য দেই যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ নাই, এবং আমি আরো সাক্ষ্য দেই যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রসূল।’’
এরপর সে (খুতবার সাথে কুরআনের) এ তিনটি আয়াত পাঠ করবে:
(يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلاَ تَمُوتُنَّ إِلاَّ وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ)
(يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِى خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا)
(يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً)
১. ‘‘হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে যেরূপ ভয় করা উচিত, তোমরা তাঁকে তদ্রূপ ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না’’ (সূরা আল ইমরান : ১০২)।
‘‘হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রভুকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তার থেকে তার সঙ্গিণীকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের দু’জন থেকে অসংখ্য পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচ্ঞা করে থাকো এবং জ্ঞাতিদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করো। নিশ্চয় আল্লাহ্ তোমাদের উপর পর্যবেক্ষক’’ (সূরা নিসা : ১)।
‘‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের কার্যাবলি সংশোধন করে দিবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করবেন। যে কেউ আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করে সে অবশ্যই মহাসাফল্য অর্জন করবে’’ (সূরা আহযাব : ৭০-৭১)।“ এরপর সে তার প্রয়োজনীয় কথা বলবে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ মুনকাতি’ বা বিচ্ছিন্ন। তবে হাদীসটি সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫২৩৩, ৫২৩৪ তে। ((আবূ দাউদ, নিকাহ ২১১৮; তিরমিযী, নিকাহ ১১০৫; নাসাঈ ৩/১০৫; ইবনু মাজাহ, নিকাহ ১৮৯২- ফাওয়ায আহমেদের দারেমীর তাহক্বীক্ব নং ২২০২।-অনুবাদক))
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ جَعْفَرٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ مَرْثَدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ أَحَقَّ الشُّرُوطِ أَنْ تُوفُوا بِهِ مَا اسْتَحْلَلْتُمْ بِهِ الْفُرُوجَ
২২৪২. ‘উক্ববাহ ইবনু আমির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “সকল শর্তের চেয়ে বিয়ের শর্ত পালন করা তোমাদের অধিক কর্তব্য, যার মাধ্যমে তোমাদের জন্য স্ত্রী অঙ্গ ভোগ করা হালাল করা হয়েছে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।
তাখরীজ: বুখারী, শুরুত্ব ২৭২১, নিকাহ ৫১৫১; মুসলিম, নিকাহ ১৪১৮;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৭৫৪; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪০৯২ তে।