হাদীস বিএন


সুনান আদ-দারিমী





সুনান আদ-দারিমী (2243)


أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَى عَلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ صُفْرَةً فَقَالَ مَا هَذِهِ الصُّفْرَةُ قَالَ تَزَوَّجْتُ امْرَأَةً عَلَى وَزْنِ نَوَاةٍ مِنْ ذَهَبٍ قَالَ بَارَكَ اللَّهُ لَكَ أَوْلِمْ وَلَوْ بِشَاةٍ




২২৪৩. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর শরীরে হলুদ রং দেখতে পেলেন। তখন তিনি তাকে বললেন: “এ হলুদ রং কিসের?“ তখন সে বললো, আমি একজন (আনসারী) মহিলাকে খেজুরের আঁটির পরিমাণ স্বর্ণ (মোহরাণা) দিয়ে বিয়ে করেছি। তিনি বললেন: “আল্লাহ্ তোমাকে বারকাত দান করুন। একটি ছাগল দিয়ে হলেও ওয়ালীমাহ কর।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।

তাখরীজ: বুখারী, বুয়ূ ২০৪৯, নিকাহ ৫১৬৭; মুসলিম, নিকাহ ১৪২৭;

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩২০৫, ৩৩৪৮; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪০৬০, ৪০৯৬ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১২৫২ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2244)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ خَالِدٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا دُعِيَ أَحَدُكُمْ إِلَى وَلِيمَةٍ فَلْيُجِبْ قَالَ أَبُو مُحَمَّد يَنْبَغِي أَنْ يُجِيبَ وَلَيْسَ الْأَكْلُ عَلَيْهِ بِوَاجِبٍ




২২৪৪. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের কাউকে ওয়ালীমা (ভোজ)-এর দাওয়াত দিলে সে যেন তা কবুল করে।“[1] আবূ মুহাম্মদ বলেন, দাওয়াত কবুল করা উচিত, তবে তাতে খাওয়া-দাওয়া করা ওয়াজিব নয়।

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।

তাখরীজ: বুখারী, নিকাহ ৫১৭৩; মুসলিম, নিকাহ ১৪২৯;

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫২৯৪ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2245)


حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ النَّضْرِ بْنِ أَنَسٍ عَنْ بَشِيرِ بْنِ نَهِيكٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ كَانَتْ لَهُ امْرَأَتَانِ فَمَالَ إِلَى إِحْدَاهُمَا جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَشِقُّهُ مَائِلٌ




২২৪৫. আবী হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যার দু’জন স্ত্রী আছে, আর সে তাদের একজনের চেয়ে অপরজনের প্রতি বেশি ঝুঁকে পড়ে, তবে সে কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় উপস্থিত হবে যে, তার (দেহের) এক পার্শ্ব কাত হয়ে থাকবে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪২০৭ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৩০৭ তে। ((আবূ দাউদ, নিকাহ ২১৩৩; তিরমিযী, নিকাহ ১১৪১; নাসাঈ, নিকাহ ৭/৬৩; ইবনু মাজাহ, নিকাহ ১৯৬৯; আহমাদ ২/৩৪৭-৪৭১।- ফাওয়ায আহমেদের দারেমীর তাহক্বীক্ব নং ২২০৬ এর টীকা।-অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (2246)


أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَاصِمٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ أَبِي قِلَابَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ الْخَطْمِيِّ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقْسِمُ فَيَعْدِلُ وَيَقُولُ اللَّهُمَّ هَذِهِ قِسْمَتِي فِيمَا أَمْلِكُ فَلَا تَلُمْنِي فِيمَا تَمْلِكُ وَلَا أَمْلِكُ




২২৪৬. আয়িশাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপন স্ত্রীদের মধ্যে ন্যায়পরায়নতার সাথে সমানভাবে বণ্টন করতেন, অতঃপর বলতেন : “হে আল্লাহ্! এ হলো আমার সামর্থ্য অনুযায়ী আমার বন্টন। যে বিষয় তোমার ক্ষমতাধীন আছে, আমার সাধ্যাতীত, সে বিষয়ে আমাকে তিরস্কার করো না।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪২০৫ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৩০৫ তে। এছাড়াও, ইবনু সা’দ, আত তাবাকাত ২/২/২৮ ও ৮/১২১ মুরসাল হিসেবে। আবূ দাউদ, নিকাহ ২১৩৪; তিরমিযী, নিকাহ ১১৪০; নাসাঈ, নিকাহ ৭/৬৪; ইবনু মাজাহ, নিকাহ ১৯৭১; আহমাদ, ইবনু হিব্বান ও হাকিম। হাকিম ও যাহাবী একে সহীহ বলেছেন।- ফাওয়ায আহমেদের দারেমীর তাহক্বীক্ব নং ২২০৬ এর টীকা।-অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (2247)


أَخْبَرَنَا إِسْمَعِيلُ حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ عَنْ يُونُسَ بْنِ يَزِيدَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا سَافَرَ أَقْرَعَ بَيْنَ نِسَائِهِ فَأَيَّتُهُنَّ خَرَجَ سَهْمُهَا خَرَجَ بِهَا مَعَهُ




২২৪৭. আয়িশাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে রওয়ানা হলে তাঁর স্ত্রীদের মধ্যে (কে তাঁর সাথে যাবেন তা নির্ধারণের জন্য) লটারির ব্যবস্থা করতেন। তাদের মধ্যে যার পালা লটারীতে উঠতো, তিনি তাঁর সাথে যেতেন।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।

তাখরীজ: বুখারী, হিবাহ ২৫৯৩; মুসলিম, তাওবাহ ২৭৭০।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৩৯৭, ৪৯২৭, ৪৯২৮; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪২১২, ৭০৯৯ তে। ইবনু সা’দ, আত তাবাকাত ৮/১২১।









সুনান আদ-দারিমী (2248)


أَخْبَرَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَقَ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ أَبِي قِلَابَةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِلْبِكْرِ سَبْعٌ وَلِلثَّيِّبِ ثَلَاثٌ




২২৪৮. আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “(অন্য স্ত্রী থাকা অবস্থায়) কুমারী মহিলা (বিয়ে করলেতার) নিকট লাগাতার সাত দিন অবস্থান করবে আর অকুমারী মহিলা (কে বিয়ে করলে তার) নিকট সে লাগাতার তিন দিন অবস্থান করবে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর রাবীগণ সকলেই বিশ্বস্ত। তবে, ইবনু ইসহাক এটি আন’আন পদ্ধতিতে বর্ণনা করেছেন। তবে, হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।

তাখরীজ: বুখারী, নিকাহ ৫২১৩; মুসলিম, রিদা’আ ১৪৬১।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৮২৩, ৩৭৮৯; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪২০৮, ৪২০৯ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2249)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا تَزَوَّجَ أُمَّ سَلَمَةَ أَقَامَ عِنْدَهَا ثَلَاثًا وَقَالَ إِنَّهُ لَيْسَ بِكِ عَلَى أَهْلِكِ هَوَانٌ إِنْ شِئْتِ سَبَّعْتُ لَكِ وَإِنْ سَبَّعْتُ لَكِ سَبَّعْتُ لِسَائِرِ نِسَائِي




২২৪৯. উম্মু সালামা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন উম্মু সালামা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে বিবাহ করেন, তখন তাঁর নিকট তিন রাত অবস্থান করেন। এরপর তিনি বলেন, “এটা তোমার জন্য তোমার পরিবারের উপর কোনো অপমান নয়। অবশ্য যদি তুমি চাও তবে আমি তোমার সাথে সাত রাত অবস্থান করব। আর আমি যদি তোমার সাথে সাত রাত অবস্থান করি, তখন আমার অন্যান্য স্ত্রীদের সাথেও আমাকে (সমতা রক্ষার্থে) সাত রাত অতিবাহিত করতে হবে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: মুসলিম, রিদা’আ ১৪৬০।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৯৯৬; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪২১০ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2250)


أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ سُفْيَانَ عَنْ إِسْمَعِيلَ بْنِ أُمَيَّةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ تَزَوَّجَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي شَوَّالٍ وَأُدْخِلْتُ عَلَيْهِ فِي شَوَّالٍ فَأَيُّ نِسَائِهِ كَانَ أَحْظَى عِنْدَهُ مِنِّي قَالَ وَكَانَتْ تَسْتَحِبُّ أَنْ تُدْخِلَ عَلَى النِّسَاءِ فِي شَوَّالٍ




২২৫০. আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে শাওয়াল মাসে বিবাহ করেনএবং শাওয়াল মাসেই তাঁর সঙ্গে আমার বাসর হয়। আর তাঁর কোন্ স্ত্রী তাঁর নিকট আমার চেয়ে অধিক মর্যাদাবান? তিনি (আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) (তাঁর পরিবারের) মেয়েদের জন্য শাওয়াল মাসে বাসর হওয়া পছন্দ করতেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আহমাদ ৬/৫৪, ২০৬; মুসলিম, নিকাহ ১৪২৩; ইবনু মাজাহ ১৯৯০; তিরমিযী, নিকাহ ১০৯৩।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪০৫৮ তে। আরও দেখুন, ইবনু আদী, আল কামিল ৫/১৮৮১।









সুনান আদ-দারিমী (2251)


أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ إِسْرَائِيلَ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ سَالِمٍ عَنْ كُرَيْبٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا يَمْنَعُ أَحَدَكُمْ أَنْ يَقُولَ حِينَ يُجَامِعُ أَهْلَهُ بِسْمِ اللَّهِ اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَجَنِّبْ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا فَإِنْ قَضَى اللَّهُ وَلَدًا لَمْ يَضُرَّهُ الشَّيْطَانُ




২২৫১. ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনিবলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের কেউ তার স্ত্রীর সাথে মিলনের সময় যেন একথা বলতে অক্ষম না হয়: যে: ‘‘হে আল্লাহ্! আমাকে শয়তান থেকে দূরে রাখো এবং যে সন্তান আমাদের দান করবে তাকেও শয়তান থেকে দূরো রাখো।’’ অতঃপর যদি আল্লাহ (তাদের সেই মিলনের দ্বারা) কোন সন্তান স্থির করেন, তবে শয়তান তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।

তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৪/৩১১; বুখারী, উযূ ১৪১, বাদাউল খালক ৩২৭১, ৩২৮৩, নিকাহ, ৫১৬১, দাওয়াত ৬৩৮৮, তাওহীদ ৭৩৯৬; মুসলিম, নিকাহ ১৪৩৪; আবূ দাউদ, নিকাহ ২১৬১; ইবনু মাজাহ, নিকাহ ১৯১৯; আহমাদ ১/২২০, ২৮৩; তিরমিযী, নিকাহ ১০৯২; তায়ালিসী ১/৩১১ নং ১৫৮৭; বাইহাকী, নিকাহ ৭/১৪৯; ইবনুস সুন্নী, নং ৬০৮।









সুনান আদ-দারিমী (2252)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ عَنْ الْوَلِيدِ بْنِ كَثِيرٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحُصَيْنِ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عَمْرِو بْنِ قَيْسٍ الْخَطْمِيِّ عَنْ هَرَمِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ سَمِعْتُ خُزَيْمَةَ بْنَ ثَابِتٍ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّ اللَّهَ لَا يَسْتَحْيِي مِنْ الْحَقِّ لَا تَأْتُوا النِّسَاءَ فِي أَعْجَازِهِنَّ




২২৫২. খুযাইমা ইবনু সাবিত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ তা’আলা হাক্ক প্রকাশে লজ্জা বোধ করেন না। তোমরা নারীদের পশ্চাদ্দারে গমণ করবে না।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪১৯৮, ৪২০০ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১২৯৯, ১৩০০ তে। ((ইবনু মাজাহ, ১৯২৪)) এটি গত হয়েছে ১১৮৩ নং এ।









সুনান আদ-দারিমী (2253)


حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ الْيَهُودَ قَالُوا لِلْمُسْلِمِينَ مَنْ أَتَى امْرَأَتَهُ وَهِيَ مُدْبِرَةٌ جَاءَ وَلَدُهُ أَحْوَلَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ




২২৫৩. জাবির ইবনু আবদুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, ইয়াহুদীরা মুসলিমদেরকে বলত যে, কোন লোক তার স্ত্রীর পিছন দিক থেকে (তার যোনি দ্বারে) সংগম করলে এতে সন্তান টেরা চক্ষু বিশিষ্ট হবে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা’আলা নাযিল করলেন: অর্থাৎ “স্ত্রীগণ তোমাদের জন্য শস্যক্ষেত্র অতএব, তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করতে পার।“[1] (সূরা বাকারাঃ ২২৩)

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ শক্তিশালী। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।

তাখরীজ: এটি গত হয়েছে ১১৭২ নং এ। (( বুখারী, তাফসীর, ৪৫২৮; মুসলিম, নিকাহ ১৪৩৫))









সুনান আদ-দারিমী (2254)


أَخْبَرَنَا قَبِيصَةُ أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَلَّامٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ رَأَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ امْرَأَةً فَأَعْجَبَتْهُ فَأَتَى سَوْدَةَ وَهِيَ تَصْنَعُ طِيبًا وَعِنْدَهَا نِسَاءٌ فَأَخْلَيْنَهُ فَقَضَى حَاجَتَهُ ثُمَّ قَالَ أَيُّمَا رَجُلٍ رَأَى امْرَأَةً تُعْجِبُهُ فَلْيَقُمْ إِلَى أَهْلِهِ فَإِنَّ مَعَهَا مِثْلَ الَّذِي مَعَهَا




২২৫৪. আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোনো এক স্ত্রীলোককে দেখলেন। আর সে তাঁকে মুগ্ধ করল। তখন তিনি তাঁর স্ত্রী সাওদাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা-এর নিকট আসলেন। তিনি তখন সুগন্ধি প্রস্তুত করছিলেন এবং তার নিকট অন্যান্য স্ত্রীলোকও ছিল। এরপর তিনি তাঁর সাথে নিভৃতে চলে গেলেন এবং তিনি (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজের প্রয়োজন পূরণ করলেন। অতঃপর তিনি বললেন:“যখন কোনো লোক কোন স্ত্রীলোককে দেখে এবং সে তাকে মুগ্ধ করে তখন সে যেন তার স্ত্রীর নিকট যায়। কেননা, এর নিকট যা রয়েছে, তার স্ত্রী’র নিকটও অনুরূপ রয়েছে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।

তাখরীজ: বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ৫৪৩৫, ৫৪৩৬;

আর এর শাহিদ হাদীস রয়েছে জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে সহীহ মুসলিম, নিকাহ ১৪০৩ তে, আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৫৭২, ৫৫৭৩ এ।

আবার এর অপর শাহিদ রয়েছে আবী কাবশা হতে আহমাদ ৪/২৩১ তে যার সনদ জাইয়্যেদ বা উত্তম।









সুনান আদ-দারিমী (2255)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُطِيعٍ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ أَخْبَرَنَا سَيَّارٌ عَنْ الشَّعْبِيِّ حَدَّثَنَا جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ فَلَمَّا قَفَلْنَا تَعَجَّلْتُ فَلَحِقَنِي رَاكِبٌ قَالَ فَالْتَفَتُّ فَإِذَا أَنَا بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لِي مَا أَعْجَلَكَ يَا جَابِرُ قَالَ إِنِّي حَدِيثُ عَهْدٍ بِعُرْسٍ قَالَ أَفَبِكْرًا تَزَوَّجْتَهَا أَمْ ثَيِّبًا قَالَ قُلْتُ بَلْ ثَيِّبًا قَالَ فَهَلَّا بِكْرًا تُلَاعِبُهَا وَتُلَاعِبُكَ قَالَ ثُمَّ قَالَ لِي إِذَا قَدِمْتَ فَالْكَيْسَ الْكَيْسَ قَالَ فَلَمَّا قَدِمْنَا ذَهَبْنَا نَدْخُلُ قَالَ أَمْهِلُوا حَتَّى نَدْخُلَ لَيْلًا أَيْ عِشَاءً لِكَيْ تَمْتَشِطَ الشَّعِثَةُ وَتَسْتَحِدَّ الْمُغِيبَةُ




২২৫৫. জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে কোনো এক সফরে ছিলাম। এরপর যখন আমরা ফিরে আসছিলাম, তখন আমি তাড়াতাড়ি চলছিলাম। এমন সময় আমি এক আরোহীর সাক্ষাত পেলাম।

তিনি বলেন, এরপর আমি ফিরে দেখি যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে রয়েছি। তখন তিনি আমাকে প্রশ্ন করলেন, “হে জাবির, তোমার এত তাড়াতাড়ি করার কারণ কী?“ আমি উত্তর দিলাম, আমি নতুন বিয়ে করেছি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কি কুমারী মেয়ে বিয়ে করলে, না বিধবা?“ আমি উত্তর দিলাম, বিধবা। তিনি বললেন, “তুমি কুমারী মেয়ে বিয়ে করলে না কেন? যার সঙ্গে খেলা-কৌতুক করতে পারতে আর সেও তোমার সঙ্গে খেলা-কৌতুক করত।“

এরপর তিনি আমাকে বললেন, “যখন তুমি পৌঁছবে, তখন তুমি মিলিত হবে, তুমি মিলিত হবে।“তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, এরপর তিনি আমাকে বললেন, যখন আমরা (মদিনায়) পৌঁছলাম, এবং আমরা (বাড়িতে) প্রবেশ করব, এমন সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, তুমি রাতে প্রবেশ করা থেকে অপেক্ষা কর, যেন (অনুপস্থিত স্বামীর স্ত্রী) নিজের অবিন্যস্ত কেশরাশি বিন্যাস করতে পারে এবং (গোপনাঙ্গের) লোম পরিষ্কার করতে পারে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।

তাখরীজ: বুখারী, মাগাযী, ৪০৫২, নিকাহ ৫০৭৯; মুসলিম, রাদা’আ ৭১৫।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৭৯৩, ১৮৫০, ১৮৯৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৭১৭, ৬৬৮৩, ৭১৩৮ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ১২৬১ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2256)


أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ نَوْفَلٍ الْأَسَدِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ عَنْ جُدَامَةَ بِنْتِ وَهْبٍ الْأَسَدِيَّةِ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ أَنْهَى عَنْ الْغِيلَةِ حَتَّى ذَكَرْتُ أَنَّ فَارِسَ وَالرُّومَ يَصْنَعُونَ ذَلِكَ فَلَا يَضُرُّ أَوْلَادَهُمْ قَالَ أَبُو مُحَمَّد الْغِيلَةُ أَنْ يُجَامِعَهَا وَهِيَ تُرْضِعُ




২২৫৬. জুদামা বিনতু ওয়াহাব আসাদিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমি স্তন্যদায়িনী স্ত্রীর সাথে সংগম নিষিদ্ধ ঘোষণা করার ইচ্ছে করলাম। এরপর আমার নিকট আলোচনা করা হল যে, রোম ও পারস্যবাসী লোকেরাও তা করে থাকে, অথচ তাতে তাদের সন্তানদের কোন ক্ষতি হয় না।“[1] আবূ মুহাম্মদ বলেন, ‘গীলাহ’ হলো স্তন্যদায়িনী স্ত্রীর সাথে সংগম করা।

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ শক্তিশালী।

তাখরীজ: মালিক, রা’দ্বা’আ ১৬ সহীহ সনদে; মুসলিম, নিকাহ ১৪৪২; ইবনুল আছীর, আসদুল গাবাহ ৭/৪৮।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪১৯৬ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2257)


حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ مَا ضَرَبَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَادِمًا قَطُّ وَلَا ضَرَبَ بِيَدِهِ شَيْئًا قَطُّ إِلَّا أَنْ يُجَاهِدَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ




২২৫৭. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো তাঁর কোনো খাদিমকে প্রহার করেননি; আর তিনি নিজ হাতে কোনো কিছুকেই হত্যা করেননি। তবে তিনি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা’র রাস্তায় জিহাদ করেছেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: মুসলিম, ফাযাইল ২৩২৭।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৩৭৫, এতে বাড়তি অংশও রয়েছে; ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৮৮, ৬৪৪৪; এ বাড়তি অংশটুকু বর্ণনা করেছেন বুখারী, মানাকিব ৩৫৬০ তে এবং আমাদের তাহক্বীক্বকৃত মুসনাদুল হুমাইদী নং ২৬০ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2258)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي خَلَفٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ إِيَاسِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي ذُبَابٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَضْرِبُوا إِمَاءَ اللَّهِ فَجَاءَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ قَدْ ذَئِرْنَ عَلَى أَزْوَاجِهِنَّ فَرَخَّصَ فِي ضَرْبِهِنَّ فَأَطَافَ بِآلِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نِسَاءٌ كَثِيرٌ يَشْكُونَ أَزْوَاجَهُنَّ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَقَدْ طَافَ بِآلِ مُحَمَّدٍ نِسَاءٌ كَثِيرٌ يَشْكُونَ أَزْوَاجَهُنَّ لَيْسَ أُولَئِكَ بِخِيَارِكُمْ




২২৫৮. ইয়াস ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু আবূ যুবাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা আল্লাহর দাসীদের প্রহার করো না।“ অতঃপর ‘উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে এসে বলেন : নারীরা তো তাদের স্বামীদের অবাধ্যাচরণ করছে। অতঃপর তিনি তাদেরকে মারার অনুমতি দিলেন (এবং তারা প্রহৃত হলো।) ফলে অনেক নারী তাদের নিজ নিজ স্বামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাড়িতে আসা-যাওয়া করলো। তখন (সকাল বেলায়) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ‘‘আজ রাতে মুহাম্মাদের পরিবারে অনেক মহিলা এসে তাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। এসকল (মারপিটকারীরা) তোমাদের মধ্যে উত্তম লোক নয়।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪১৮৯ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৩১৬ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯০০ তে।

((আব্দুর রাযযাক, আল মুছান্নাফ ১৭৯৪৫; তাবারাণী ৭৮৪; বাইহাকী ৭/৩০৪; ইবনু মাজাহ, নিকাহ ১৯৮৫; আবূ দাউদ, নিকাহ ২১৪৬; নাসাঈ, কুবরা; শাফিঈ ২/২৮; হাকিম ২/১৮৮, ১৯১; বাগাবী, ২৩৪৬; হাকিম একে সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তা সমর্থন করেছেন।– মুহাক্বিক্বের সহীহ ইবনু হিব্বান হা/৪১৮৯ এর টীকা হতে।– অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (2259)


أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَمَعَةَ قَالَ خَطَبَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ النَّاسَ يَوْمًا فَوَعَظَهُمْ فِي النِّسَاءِ فَقَالَ مَا بَالُ الرَّجُلِ يَجْلِدُ امْرَأَتَهُ جَلْدَ الْعَبْدِ وَلَعَلَّهُ يُضَاجِعُهَا فِي آخِرِ يَوْمِهِ




২২৫৯. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু যামআহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন লোকদের মাঝে খুতবাহ দিলেন। এ খুতবায় তিনি নারীদের ব্যাপারে লোকদেরকে উপদেশ দিলেন। তিনি বলেন, “সেই লোকের অবস্থা কী, যে তার স্ত্রীকে ক্রীতদাসের মত মারপিট করে; কিন্তু ঐ দিনের শেষেই সে আবার তার সঙ্গে (এক বিছানায়) মিলিত হয়?!“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।

তাখরীজ: বুখারী, তাফসীর, ৪৯৪২; মুসলিম, জান্নাত ওয়া সিফাতু নাঈমুহা ২৮৫৫। এছাড়াও, ইবনুল কানি’, মু’জামুস সাহাবাহ, তরজমাহ নং ৬০২।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪১৯০ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2260)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرَّقَاشِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ حَدَّثَنَا الْجُرَيْرِيُّ عَنْ أَبِي الْعَلَاءِ عَنْ نُعَيْمِ بْنِ قَعْنَبٍ عَنْ أَبِي ذَرٍّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ الْمَرْأَةَ خُلِقَتْ مِنْ ضِلَعٍ فَإِنْ تُقِمْهَا كَسَرْتَهَا فَدَارِهَا فَإِنَّ فِيهَا أَوَدًا وَبُلْغَةً




২২৬০. আবী যার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :“নারীকে পাজরের (বাঁকা) হাড় হতে সৃষ্টি করা হয়েছে। ফলে তুমি যদি তাকে সোজা করতে যাও, তবে তাকে ভেঙ্গে ফেলবে; ফলে তুমি তার সাথে কোমল আচরণ করো। কেননা, তার মাঝে যেমন বক্রতা/ কষ্ট আছে তেমনি প্রাচুর্য/ পূর্ণতাও রয়েছে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বাযযার, কাশফুল আসতার নং ১৪৭৮; আহমাদ ৫/১৫১; নাসাঈ, আশারাতুন নিসা নং ২৭০ সহীহ সনদে; আর এর শাহিদ পরবর্তী হাদীসটি।









সুনান আদ-দারিমী (2261)


أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّمَا الْمَرْأَةُ كَالضِّلَعِ إِنْ تُقِمْهَا تَكْسِرْهَا وَإِنْ تَسْتَمْتِعْ تَسْتَمْتِعْ وَفِيهَا عِوَجٌ




২২৬১. আবূ হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “নারীরা হচ্ছে পাঁজরের হাড়ের ন্যায়। যদি একেবারে সোজা করতে চাও, তাহলে ভেঙ্গে যাবে। সুতরাং, যদি তোমরা তাদের থেকে উপকার লাভ করতে চাও, তাহলে ঐ বাঁকা অবস্থাতেই লাভ করতে হবে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ শক্তিশালী। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।

তাখরীজ: বুখারী, নিকাহ, ৫১৮৪; মুসলিম, রাদা’আ ১৪৬৮।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬২১৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪১৭৯, ৪১৮০ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ১২০২ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2262)


أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْهَاشِمِيُّ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ سَأَلَ رَجُلٌ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الْعَزْلِ فَقَالَ أَوَ تَفْعَلُونَ ذَلِكَ فَلَا عَلَيْكُمْ أَنْ لَا تَفْعَلُوا فَإِنَّهُ لَيْسَ مِنْ نَسَمَةٍ قَضَى اللَّهُ تَعَالَى أَنْ تَكُونَ إِلَّا كَانَتْ




২২৬২. আবী সাঈদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ‘আযল করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন: “তোমরা কি তা করো নাকি? তোমরা যদি তা (আযল) না কর তাতে তোমাদের কোন ক্ষতি নেই। কারণ আল্লাহ তাআলা যে প্রাণ (সৃষ্টি) হওয়ার ফায়সালা করে রেখেছেন, তা অবশ্যই হবে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।

তাখরীজ: বুখারী, বুয়ূ, ২২২৯; মুসলিম, নিকাহ ১৪৩৮।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১০৫০, ১২৫০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪১৯১, ৪১৯৩ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ৭৬৪ তে। পরবর্তীটিও দেখুন।