সুনান আদ-দারিমী
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا بَشِيرُ بْنُ الْمُهَاجِرِ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كُنْتُ جَالِسًا عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجَاءَتْهُ امْرَأَةٌ مِنْ بَنِي غَامِدٍ فَقَالَتْ يَا نَبِيَّ اللَّهِ إِنِّي قَدْ زَنَيْتُ وَإِنِّي أُرِيدُ أَنْ تُطَهِّرَنِي فَقَالَ لَهَا ارْجِعِي فَلَمَّا كَانَ مِنْ الْغَدِ أَتَتْهُ أَيْضًا فَاعْتَرَفَتْ عِنْدَهُ بِالزِّنَا فَقَالَتْ يَا نَبِيَّ اللَّهِ طَهِّرْنِي فَلَعَلَّكَ أَنْ تَرْدُدَنِي كَمَا رَدَدْتَ مَاعِزَ بْنَ مَالِكٍ فَوَاللَّهِ إِنِّي لَحُبْلَى فَقَالَ لَهَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ارْجِعِي حَتَّى تَلِدِي فَلَمَّا وَلَدَتْ جَاءَتْ بِالصَّبِيِّ تَحْمِلُهُ فِي خِرْقَةٍ فَقَالَتْ يَا نَبِيَّ اللَّهِ هَذَا قَدْ وَلَدْتُ قَالَ فَاذْهَبِي فَأَرْضِعِيهِ ثُمَّ افْطِمِيهِ فَلَمَّا فَطَمَتْهُ جَاءَتْ بِالصَّبِيِّ فِي يَدِهِ كِسْرَةُ خُبْزٍ فَقَالَتْ يَا نَبِيَّ اللَّهِ قَدْ فَطَمْتُهُ فَأَمَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالصَّبِيِّ فَدُفِعَ إِلَى رَجُلٍ مِنْ الْمُسْلِمِينَ وَأَمَرَ بِهَا فَحُفِرَ لَهَا حُفْرَةٌ فَجُعِلَتْ فِيهَا إِلَى صَدْرِهَا ثُمَّ أَمَرَ النَّاسَ أَنْ يَرْجُمُوهَا فَأَقْبَلَ خَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ بِحَجَرٍ فَرَمَى رَأْسَهَا فَتَلَطَّخَ الدَّمُ عَلَى وَجْنَةِ خَالِدِ بْنِ الْوَلِيدِ فَسَبَّهَا فَسَمِعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَبَّهُ إِيَّاهَا فَقَالَ مَهْ يَا خَالِدُ لَا تَسُبَّهَا فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَقَدْ تَابَتْ تَوْبَةً لَوْ تَابَهَا صَاحِبُ مَكْسٍ لَغُفِرَ لَهُ فَأَمَرَ بِهَا فَصُلِّيَ عَلَيْهَا وَدُفِنَتْ
২৩৬৩. বুরাইদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামএর নিকট বসেছিলাম। এমতাবস্থায় গামিদ গোত্রের জনৈক মহিলা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললো, ইয়া নবীয়াল্লাহ! আমি তো যিনা করেছি আর আমি আশা করছি, আপনি আমাকে (এ পাপ হতে) পবিত্র করবেন। তখন তিনি তাকে বলেনঃ “তুমি ফিরে যাও।“ (এরপর সে মহিলা চলে যায়,) কিন্তু পরদিন আবার সে মহিলা হাযির হয়ে তার যিনার স্বীকারোক্তি করে বলেঃ ইয়া নবীয়াল্লাহ! আপনি আমাকে (এ পাপ হতে) পবিত্র করুন। সম্ভবত আপনি আমাকে সেরুপভাবে ফিরিয়ে দিতে চান, যেভাবে আপনি মায়িয ইবনু মালিককে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু আল্লাহর শপথ! আমি তো গর্ভবতী। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “তুমি ফিরে যাও, যতক্ষণ না তুমি তোমার সন্তান প্রসব করছ।“ এরপর সন্তান প্রসবের পর সে নব-জাতককে একটি কাপড়ে জড়িয়ে নিয়ে তাঁর নিকট হাযির হয় এবং বলেঃ ইয়া নবীয়াল্লাহ! আমি একে প্রসব করেছি। তখন তিনি বলেনঃ “তুমি ফিরে যাও এবং এ সন্তানকে ততদিন দুধপান করাও, যতদিন সে দুধ না ছাড়ে।“ এরপর সে মহিলা (চলে যায় এবং) দুধ ছাড়াবার পর পুনরায় তার সন্তানকে নিয়ে তাঁর কাছে হাযির হয়।
এ সময় তার সন্তানের হাতে রুটির একটি টুকরা ছিল। তখন সে বললো, ইয়া নবীয়াল্লাহ! সে দুধ ছেড়েছে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিলে সেই সন্তানকে কোন মুসলিমের হাতে সোপর্দ করা হলো এবং তিনি সে মহিলাকে (#39;রজম#39; করার) হুকুম দেন। তখন একটি গর্ত খুঁড়ে তাকে সেখানে বুক পর্যন্ত পোঁতা হয়, অতঃপর লোকদেরকে তাকে পাথর মেরে হত্যা করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর খালিদ ইবনু ওয়ালিদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু উপস্থিত হয়ে সে মহিলার মাথায় একটি পাথর দিয়ে আঘাত করলো। সে মহিলার দেহের রক্তের ফোঁটা তার গালের উপর এসে পড়ে, ফলে তিনি (রাগান্বিত হয়ে) সে মহিলা সম্পর্কে কটুক্তি করেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলার প্রতি খালিদের কটুক্তি শুনে ফেলেন। তখন তিনি তাকে বলেনঃ “হে খালিদ! তুমি থামো । আল্লাহর শপথ! যার হাতে আমার জীবন; এ মহিলা এমন তাওবা করেছে, যদি কোন জালিম ব্যক্তি এরুপ তাওবা করতো, তবে অবশ্যই তার সমস্ত গুনাহ মাফ করা হতো। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশে সে মহিলার জানাযার নামায আদায়ের পর তাকে দাফন করা হয়।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।
তাখরীজ: আর এটি পূর্বের ২৩৬৬ (অনুবাদে ক্রমিক নং ২৩৫৬) নং এ এর অংশবিশেষ গত হয়েছে যেখানে আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি। ((আবূ দাউদ, কিতাবুল হুদুদ ৪৪৪০।– অনুবাদক))
حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ يَحْيَى عَنْ أَبِي قِلَابَةَ عَنْ أَبِي الْمُهَلَّبِ عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ أَنَّ امْرَأَةً مِنْ جُهَيْنَةَ أَتَتْ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهِيَ حُبْلَى مِنْ الزِّنَا فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَصَبْتُ حَدًّا فَأَقِمْهُ عَلَيَّ فَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلِيَّهَا فَقَالَ اذْهَبْ فَأَحْسِنْ إِلَيْهَا فَإِذَا وَضَعَتْ حَمْلَهَا فَأْتِنِي بِهَا فَفَعَلَ فَأَمَرَ بِهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَشُكَّتْ عَلَيْهَا ثِيَابُهَا ثُمَّ أَمَرَ بِهَا فَرُجِمَتْ ثُمَّ صَلَّى عَلَيْهَا فَقَالَ عُمَرُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتُصَلِّي عَلَيْهَا وَقَدْ زَنَتْ فَقَالَ لَقَدْ تَابَتْ تَوْبَةً لَوْ قُسِمَتْ بَيْنَ سَبْعِينَ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ لَوَسِعَتْهُمْ وَهَلْ وَجَدْتَ أَفْضَلَ مِنْ أَنْ جَادَتْ بِنَفْسِهَا لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ
২৩৬৪. ইমরান ইবনু হুসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ একদা জুহায়না গোত্রের জনৈক মহিলা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হয়। আর সে যিনার দ্বারা গর্ভবতী হয়েছিল। তখন সে বললো, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি হাদ (নির্ধারিত শাস্তি)-এর যোগ্য হয়েছি। ফলে আপনি আমার উপর হাদ কায়িম করুন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার অভিভাবকদের ডেকে বলেনঃ “তোমরা একে নিয়ে গিয়ে এর সাথে সদ্ব্যবহার করবে, আর যখন সে বাচ্চা প্রসব করবে, তখন তাকে আমার কাছে নিয়ে আসবে।“ এরপর তারা তা করলে (সন্তান প্রসবের পর তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হাযির করলে) তিনি তার শরীরে ভালভাবে কাপড় পেঁচিয়ে, তাকে পাথর মেরে হত্যার নির্দেশ দেন।
ফলে তাকে পাথর মেরে হত্যা করার পর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাযার সালাত আদায় করেন। তখন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনি কি তার জানাযার নামায পড়বেন, অথচ সে যিনা করেছে? তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “আল্লাহর শপথ! যার হাতে আমার জীবন; সে মহিলা এমন তাওবা করেছে, যদি তা মদীনার সত্তর জন ব্যক্তির মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়, তবে তা-ই যথেষ্ট হবে । এর চাইতে উত্তম আর কি হতে পারে যে, সে তো আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা’র উদ্দেশ্যে তার জীবনটাই উৎসর্গ করে দিয়েছে!“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মুসলিম, হুদুদ ১৬৯৬।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৪০৩, ৪৪৪১ তে। এছাড়াও, ইবনুল জারুদ, আল মুনতাকা নং ৮১০; বাইহাকী, আল মা’রিফাতুস সুনান ওয়াল আছার নং ১৬৬৯৯ তে।
حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ وَأَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُئِلَ عَنْ الْأَمَةِ تَزْنِي وَلَمْ تُحْصَنْ فَقَالَ إِنْ زَنَتْ فَاجْلِدُوهَا ثُمَّ إِنْ زَنَتْ فَاجْلِدُوهَا ثُمَّ إِنْ زَنَتْ فَاجْلِدُوهَا قَالَ مَا أَدْرِي فِي الثَّالِثَةِ أَوْ فِي الرَّابِعَةِ فَبِيعُوهَا وَلَوْ بِضَفِيرٍ
২৩৬৫. যাইদ ইবনু খালিদ আল জুহানী এবং আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে অবিবাহিত দাসী যিনা করা (এর শাস্তি) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, “যদি সে দাসী যিনা করে তবে তাকে বেত্রাঘাত মারো। এরপর আবার সে যিনা করলে তাকে পুনরায় বেত্রাঘাত মারো।“ রাবী বলেন, আমি জানিনা, তৃতীয় বারে নাকি চতুর্থবারে তিনি বলেছেন: “এরপর একটি রশির বিনিময়ে হলেও তাকে বিক্রি করে দাও।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ শক্তিশালী।
তাখরীজ: মালিক, হুদুদ ১৪; বুখারী, বুয়ূ ২১৫৩; মুসলিম, হুদুদ ১৭০৪;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৪৪৪ ও মুসনাদুল হুমাইদী ন্ং ৮৩১ তে।
أَخْبَرَنَا بِشْرُ بْنُ عُمَرَ الزَّهْرَانِيُّ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ حِطَّانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ خُذُوا عَنِّي خُذُوا عَنِّي قَدْ جَعَلَ اللَّهُ لَهُنَّ سَبِيلًا الْبِكْرُ بِالْبِكْرِ وَالثَّيِّبُ بِالثَّيِّبِ الْبِكْرُ جَلْدُ مِائَةٍ وَنَفْيُ سَنَةٍ وَالثَّيِّبُ جَلْدُ مِائَةٍ وَالرَّجْمُ
২৩৬৬. উবাদাহ ইবনু সামিত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “তোমরা আমার কাছ থেকে গ্রহণ কর, তোমরা আমার কাছ থেকে গ্রহণ কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁআলা মহিলাদের জন্য একটি পথ বের করে দিয়েছেন। (তা হলো:) যদি কোন অবিবাহিত পুরুষ কোন কূমারী মেয়ের সাথে ব্যভিচার করে তবে একশ বেত্রাঘাত কর এবং এক বছরের জন্য নির্বাসন দাও। আর যদি বিবাহিত ব্যক্তি কোন বিবাহিতা মহিলার সঙ্গে ব্যভিচার করে- তবে তাদেরকে প্রথমত একশ- বেত্রাঘাত করবে এরপর পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করবে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মুসলিম, হুদুদ ১৬৯০।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি ইবনুল জাউযীর ‘নাসিখুল কুরআন ওয়াল মানসূখাহ’ পৃ: ৩২৩-৩২৪ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৪২৫, ৪৪২৬, ৪৪২৭, ৪৪৪৩ তে।
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ أَخْبَرَنَا هُشَيْمٌ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ حِطَّانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِنَحْوِهِ
২৩৬৭. উবাদাহ ইবনু সামিত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে অপর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসের পূনরাবৃত্তি।
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا أَبَانُ بْنُ يَزِيدَ عَنْ قَتَادَةَ قَالَ كَتَبَ إِلَيَّ خَالِدُ بْنُ عُرْفُطَةَ عَنْ حَبِيبِ بْنِ سَالِمٍ أَنَّ غُلَامًا كَانَ يُنْبَزُ فُرْفُورًا فَوَقَعَ عَلَى جَارِيَةِ امْرَأَتِهِ فَرُفِعَ إِلَى النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ فَقَالَ لَأَقْضِيَنَّ فِيهِ بِقَضَاءٍ شَافٍ إِنْ كَانَتْ أَحَلَّتْهَا لَهُ جَلَدْتُهُ مِائَةً وَإِنْ كَانَتْ لَمْ تُحِلَّهَا لَهُ رَجَمْتُهُ فَقِيلَ لَهَا زَوْجُكِ فَقَالَتْ إِنِّي قَدْ أَحْلَلْتُهَا لَهُ فَضَرَبَهُ مِائَةً قَالَ يَحْيَى هُوَ مَرْفُوعٌ
২৩৬৮. হাবীব ইবনু সালিম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জনৈক লোক, যাকে ‘কুরকুর’ বলা হতো, সে তার স্ত্রীর দাসীর সাথে যিনা করে। তখন এ ব্যাপারটি (কূফার শাসনকর্তা) নু#39;মান ইবন বশীরের গোচরে আনা হয। তিনি বলেনঃ আমি এ ব্যাপারে সন্তোষজনক ফায়সালা করবো।
এরপর তিনি বলেন: যদি তোমার স্ত্রী তোমার জন্য এ দাসীকে হালাল করে থাকে তবুও আমি তোমাকে একশত বেত্রাঘাত করবো। আর যদি সে তাকে তোমার জন্য হালাল না করে থাকে, তবুও আমি তোমাকে একশত বেত্রাঘাত করবো। আর যদি সে তাকে তোমার জন্য হালাল না করে থাকে, তবে আমি তোমাকে রজম করবো অর্থাৎ পাথর মেরে হত্যা করবো। তার স্ত্রীকে বলা হলো: তোমার স্বামী তো (তোমার দাসীর সাথে যিনা করেছে)! তখন তার স্ত্রী বললো: আমি নিশ্চয়ই তার জন্য সে দাসীকে হালাল করেছিলাম। এরপর নু#39;মান ইবন বাশীর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাকে একশত বেত্রাদণ্ডের নির্দেশ প্রদান করেন।[1]ইয়াহইয়া বলেন, এটি মারফু’ তথা এর সূত্র রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছেছে।
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ মাওকুফ হিসেবে যঈফ।
তাখরীজ: আহমাদ ৪/২৭৬; আবূ দাউদ, কিতাবুল হুদুদ ৪৪৫৮; বাইহাকী, হুদুদ ৮/২৩৯। পরবর্তী টীকাটিও দেখুন।
حَدَّثَنَا صَدَقَةُ بْنُ الْفَضْلِ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ أَبِي بِشْرٍ عَنْ خَالِدِ بْنِ عُرْفُطَةَ عَنْ حَبِيبِ بْنِ سَالِمٍ عَنْ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَحْوَهُ
২৩৬৯. হাবীব ইবনু সালিম সূত্রে নু#39;মান ইবন বশীর হতে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ খালিদ ইবনু উরফাতাহ’র দুর্বলতার কারণে যঈফ।
তাখরীজ: আহমাদ ৪/২৭৭; আবূ দাউদ, কিতাবুল হুদুদ ৪৪৫৯; তায়ালিসী ১/৩০০ নং ১৫২৯; বাইহাকী, হুদুদ ৮/২৩৯; তিরমিযী, হুদুদ ১৪৫১; আহমাদ ৪/২৭২; বাইহাকী ৮/২৩৯; তিরমিযী, হুদুদ ১৪৫১; ইবনু মাজাহ, হুদুদ ২৫৫১।
أَخْبَرَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ الدِّمَشْقِيُّ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنَكْدِرِ عَنْ ابْنِ خُزَيْمَةَ بْنِ ثَابِتٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ أُقِيمَ عَلَيْهِ حَدٌّ غُفِرَ لَهُ ذَلِكَ الذَّنْبُ
২৩৭০. খুযাইমা ইবনু ছাবিত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যার উপর হাদ (শাস্তি) প্রয়োগ করা হয়েছে, তার এ গুনাহ মাফ করা দেওয়া হবে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।
তাখরীজ: তাবারাণী, আল কাবীর ৪/৮৮ ৩৭৩১; বুখারী, কাবীর ৩/২০৬ তা’লীক হিসেবে; দারুকুতনী ৩/২১৪; বাইহাকী, আশরিবাহ ৮/৩২৮; খতীব, তারীখ বাগদাদ ৫/১৯৮; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ ৩৭৩২; আহমাদ ৫/২১৪, ২১৫ বিচ্ছিন্ন সনদে।
হাফিজ ইবনু হাজার, ফাতহুল বারী ১২/৮৪ তে বলেন: এর সনদ হাসান’ আর গত হয়েছে যে, আহমাদ এর সনদ বিচ্ছিন্ন।
তবে এর শাহিদ হাদীস রয়েছে উবাদাহ ইবনু ছামিত হতে যা বুখারী ও মুসলিম সম্মিলিতভাবে বর্ণনা করেছেন। আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৪০৫ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৩৯১ তে।
أَخْبَرَنَا سَهْلُ بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي بِشْرٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ امْرَأَةً نَذَرَتْ أَنْ تَحُجَّ فَمَاتَتْ فَجَاءَ أَخُوهَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَأَلَهُ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَوْ كَانَ عَلَيْهَا دَيْنٌ كُنْتَ قَاضِيَهُ قَالَ نَعَمْ قَالَ فَاقْضُوا اللَّهَ فَاللَّهُ أَحَقُّ بِالْوَفَاءِ
২৩৭১. ইবনু ‘আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, এক মহিলা হাজ্জের মানত করেছিল। কিন্তু সে মারা গেলো। তখন তার ভাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বিষয়টি সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞেস করলো। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “তার ওপর কোন ঋণ থাকলে তবে কি তুমি তা আদায় করতে না? লোকটি বলল, হাঁ। তিনি বললেনঃ “কাজেই আল্লাহর হককে আদায় করে দাও। কেননা, আল্লাহর হক আদায় করা আরো বড় কর্তব্য।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।
তাখরীজ: এটি ১৮০৯ নং এ গত হয়েছে। এছাড়াও, ইবনুল জারুদ, আল মুনতাক্বা নং ৫০১, ৯৪২। ((বুখারী, আইমান ওয়ান নুযূর ৬৬৯৯; মুসলিম, সিয়াম ১১৪৮))
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا حَفْصٌ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ عَنْ عُمَرَ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي نَذَرْتُ نَذْرًا فِي الْجَاهِلِيَّةِ ثُمَّ جَاءَ الْإِسْلَامُ قَالَ فِ بِنَذْرِكَ
২৩৭২. ‘উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে রাসূলুল্লাহ! আমি জাহেলিয়্যাতের যুগে একটি মানত করেছিলাম। এরপর ইসলাম এসে পড়লো (আমি মুসলিম হয়ে গেলাম)। তিনি বললেনঃ “তুমি তোমার মানত পূর্ণ কর।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।
তাখরীজ: বুখারী, ই’তিকাফ ২০৩২, আইমান ওয়ান নুযূর ৬৬৯৭; মুসলিম, আইমান ১৬৫৬।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৫৪ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৩৭৯, ৪৩৮০ তে।
أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ زَحْرٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الرُّعَيْنِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ الْجُهَنِيِّ قَالَ نَذَرَتْ أُخْتِي أَنْ تَحُجَّ لِلَّهِ مَاشِيَةً غَيْرَ مُخْتَمِرَةٍ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ مُرْ أُخْتَكَ فَلْتَخْتَمِرْ وَلْتَرْكَبْ وَلْتَصُمْ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ
২৩৭৩. উকবা ইবন আমির রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, আমার বোন পায়ে হেঁটে এবং ওড়না না পরে আল্লাহ’র (ঘরের) উদ্দেশ্যে হাজ্জ পালনের মানত করেছে। বিষয়টি আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জানালাম। তখন তিনি বললেন, তোমার বোনকে বলো, সে যেন খিমার বা ওড়না পরে, সওয়ারীতে আরোহণ করে যায় এবং (মানতের কাফফারা স্বরূপ) তিন দিন সওম পালন করে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ উবাইদুল্লাহ ইবনু যুহর এর দুর্বলতার কারণে। তবে হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।
তাখরীজ: বুখারী, জাযাউস সাইয়্যিদ ১৮৬৬; মুসলিম, নযর ১৬৪৪।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী ন্ং ১৭৫৩ তে। আর আমি ইতিপূর্বে সেখানে (ভূল করে) বলেছি: এর সনদ সহীহ’। তবে আমার রবের প্রশংসা যিনি বিভ্রান্ত হন না এবং ভুলেও যান না।
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ أَخْبَرَنِي قَتَادَةُ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ أُخْتَ عُقْبَةَ نَذَرَتْ أَنْ تَمْشِيَ إِلَى الْبَيْتِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللَّهَ لَغَنِيٌّ عَنْ نَذْرِ أُخْتِكَ لِتَرْكَبْ وَلْتُهْدِ هَدْيًا
২৩৭৪. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। উকবা ইবনু আমির-এর বোন পায়ে হেঁটে বাইতুল্লাহ’য় (হাজ্জে) যাওয়ার মানত করল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ্ তা#39;আলা তোমার বোনের এ মানতের মুখাপেক্ষী নন। সে যেন বাহনে সওয়ার হয়ে হজ্জ করতে যায় এবং একটি পশু কুরবানী করে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আবূ দাউদ, আইমান ওয়ান নুযূর ৩২৯৬, ৩২৯৭; আহমাদ ১/২৩৯, ২৫৩, ৩১১; তাবারাণী, কাবীর ১১/৩০৮ নং ১১৮২৮, ১১৮২৯; ইবনুল জারুদ, আল মুনতাক্বা, ৯৩৬; বাইহাকী, নুযুর ১০/৭৯; আবী ইয়া’লা নং ২৭৩৭; হাকিম ৪/৩০২ তে একে সহীহ বলেছেন; মুহাম্মদ ইবনু আব্দুল্লাহ, আল গাইলানির্য়্যাহ নং৭০৭, ৭০৮।
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ أَبِي عَمْرٍو عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَدْرَكَ شَيْخًا يَمْشِي بَيْنَ ابْنَيْهِ فَقَالَ مَا شَأْنُ هَذَا الشَّيْخِ فَقَالَ ابْنَاهُ نَذَرَ أَنْ يَمْشِيَ فَقَالَ ارْكَبْ فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنْكَ وَعَنْ نَذْرِكَ
২৩৭৫. আনাস ইবন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখতে পান যে, জনৈক বয়স্ক ব্যক্তি তার দু#39;ছেলের মাঝে পায়ে হেঁটে যাচ্ছিল । তখন তিনি জিজ্ঞাসা করেন: “এ লোকটির কী হয়েছে?“ তখন তার zwj;দু’ছেলে বললো: লোকটি পায়ে হেঁটে চলার জন্য মানত করেছে। তখন তিনি বলেনঃ “তুমি সাওয়ার হয়ে চলো। কেননা, আল্লাহ্ তা#39;আলা তোমার ও তোমার মানতের মুখাপেক্ষী নন।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মুসলিম, নযর ১৬৪৩।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী ন্ং ২৫৪ তে।
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ أَبِي قِلَابَةَ عَنْ أَبِي الْمُهَلَّبِ عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا وَفَاءَ لِنَذْرٍ فِي مَعْصِيَةِ اللَّهِ وَلَا فِيمَا لَا يَمْلِكُ ابْنُ آدَمَ
২৩৭৬. ইমরান ইবনু হুসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “এমন মানত পূরণ করার প্রয়োজন নেই, যা আল্লাহর নাফরমানীমূলক কাজে করা হয় এবং বনূ আদম যার মালিক নয়।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মুসলিম, নযর ১৬৪১।
আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৩৯১, ৪৩৯২, ৪৮৫৯ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৮৫১ তে।
حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ الْأَيْلِيِّ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ نَذَرَ أَنْ يَطِيعَ اللَّهَ فَلْيُطِعْهُ وَمَنْ نَذَرَ أَنْ يَعْصِيَ اللَّهَ فَلَا يَعْصِهِ
২৩৭৭. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি মানত করলো যে, সে আল্লাহর আনুগত্য করবে, তবে সে যেন তাঁর আনুগত্য করে; আর যে ব্যক্তি মানত করলো যে, সে আল্লাহর অবাধ্যতা করবে, সে যেন তাঁর অবাধ্যতা না করে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মালিক, নুযুর ৮ সহীহ সনদে; বুখারী, আইমান ওয়ান নুযূর ৬৭০০;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী ন্ং ৪৮৬৩ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৩৮৭, ৪৩৮৮, ৪৩৮৯, ৪৩৯০ তে।
حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي بَقِيَّةَ الْمُعَلِّمِ عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ رَجُلًا قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي نَذَرْتُ إِنْ فَتَحَ اللَّهُ عَلَيْكَ أَنْ أُصَلِّيَ فِي بَيْتِ الْمَقْدِسِ فَقَالَ صَلِّ هَا هُنَا فَأَعَادَ عَلَيْهِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَشَأْنُكَ إِذَنْ
২৩৭৮. জাবির ইবন আবদিল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। জনৈক ব্যক্তি (মক্কা বিজয়ের বছর) বললো: ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি এরূপ মানত করেছি যে, যদি আল্লাহ্ আপনাকে মক্কা বিজয় করিয়ে দেন, তবে আমি বায়তুল মাকদিসে গিয়ে দু#39;রাকআত সালাত আদায় করব। তখন তিনি বললেনঃ “তুমি এখানেই দু#39;রাকআত সালাত আদায় করে নাও। সে ব্যক্তি তিনবার কথাটির পুনরাবৃত্তি করলে তিনি বলেনঃ “তাহলে এ ব্যাপারে তোমার যা ইচ্ছা কর।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী ন্ং ২১১৬, ২২২৪ তে। এছাড়াও, হাকিম ৪/৩০৪-৩০৫; বাইহাকী, আল মা’রিফাতুস সুনান ওয়াল আছার ১৯৭০৭; ইবনুল জারুদ, আল মুনতাক্বা নং ৯৪৫। ((আবূ দাউদ, আইমান ওয়ান নুযূর নং ৩৩০৫- অনুবাদক।))
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ أَخْبَرَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ إِنَّ النَّذْرَ لَا يَرُدُّ شَيْئًا وَإِنَّمَا يُسْتَخْرَجُ بِهِ مِنْ الشَّحِيحِ
২৩৭৯. আবদুল্লাহ ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “মানত করাতে (তাকদীরের) কোন কিছু পরিবর্তন হয় না। তবে, মানতের দ্বারা কৃপণ বা লোভীর কাছ থেকে (কিছু মাল) বের করা হয়।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।
তাখরীজ: বুখারী, আইমান ওয়ান নুযূর ৬৬০৮; মুসলিম, নযর ১৬৫৬।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৩৭৫, ৪৩৭৫, ৪৩৭৮ তে। আরও দেখুন, মুসনাদুল মাউসিলী ১১/২৩৭।
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ الْمُبَارَكِ حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَدْرَكَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ وَهُوَ يَسِيرُ فِي رَكْبٍ وَهُوَ يَحْلِفُ بِأَبِيهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللَّهَ يَنْهَاكُمْ أَنْ تَحْلِفُوا بِآبَائِكُمْ فَمَنْ كَانَ حَالِفًا فَلْيَحْلِفْ بِاللَّهِ أَوْ لِيَصْمُتْ
২৩৮০. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমার ইবনুল খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-কে এমন অবস্থায় পেলেন, যখন তিনি সাওয়ারীতে আরোহী অবস্থায় যাত্রা করছিলেন এবং তিনি তাঁর পিতার নামে কসম খাচ্ছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “আল্লাহ্ তোমাদের বাপ-দাদার নামে শপথ করতে নিষেধ করেছেন। কাজেই যে কেউ শপথ করতে চায়, সে যেন কেবল আল্লাহর নামেই শপথ করে, নতুবা সে যেন চুপ থাকে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।
তাখরীজ: বুখারী, শাহাদাত ২৬৭৯; মুসলিম, আইমান ১৬৪৬।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী ন্ং ৫৪৩০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৩৫৯, ৪৩৬০, ৪৩৬১, ৪৩৬২ এবং মুসনাদুল হুমাইদী ন্ং ৭০৭ তে।
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ ثُمَّ قَالَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ فَقَدْ اسْتَثْنَى
২৩৮১. আব্দুল্লাহ ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি শপথ করে ইনশাআল্লাহ বললো, সে তো (তার শপথের) ব্যতিক্রম করলো।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৩৩৯, ৪৩৪০ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১১৮৩ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৭০৭ তে। ((ইবনু মাজাহ, কাফ্ফারাত, নং ২১০৫-২১০৬; নাসাঈ, আইমান ৭/১২; মালিক, মুয়াত্তা, আইমান হা/১০।))
أَخْبَرَنَا حَجَّاجٌ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ ثُمَّ قَالَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ فَهُوَ بِالْخِيَارِ إِنْ شَاءَ فَعَلَ وَإِنْ شَاءَ لَمْ يَفْعَلْ
২৩৮২. ইবনু ‘উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি তার শপথের সাথে ইনশাআল্লাহ যুক্ত করলো, তার জন্য ইখতিয়ার (অবকাশ) রয়েছে, সে চাইলে (শপথকৃত কাজটি) করতেও পারে আবার ইচ্ছা করলে তা নাও করতে পারে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৩৪২ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১১৮৪ তে। আগের টীকাটিও দেখুন।