হাদীস বিএন


সুনান আদ-দারিমী





সুনান আদ-দারিমী (2483)


أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ سُفْيَانَ عَنْ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ مَا قَاتَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَوْمًا حَتَّى دَعَاهُمْ قَالَ عَبْد اللَّهِ سُفْيَانُ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ يَعْنِي هَذَا الْحَدِيثَ




২৪৮৩. ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো ক্বওমকে (ইসলামের দিকে) দাওয়াত না দেওয়া পর্যন্ত তাদের সাথে যুদ্ধ করেননি।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর বর্ণনাকারীগণ সকলেই বিশ্বস্ত। তবে সুফিয়ান ইবনু আবী নাজীহ হতে হাদীস শ্রবণ করেননি, যেমনটি দারেমী বলেছেন। তবে হাদীসটি সহীহ। অনেক বিশ্বস্ত রাবী হতে এর মুতাবিয়াত বর্ণিত আছে।

তাখরীজ: আহমাদ ১/২৩১, ২৩৬; মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৪৯৪, ২৫৯১; তাবারাণী, কাবীর ১১/১৩২ নং ১১১৫৯, ১১২৭০, ১১২৭১; বাইহাকী, সিয়ার ৯/১০৭; হাকিম নং ৩৮; ইবনু আব্দুল বারর, আত তামহীদ ২/২১৭।









সুনান আদ-দারিমী (2484)


حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُغِيرُ عِنْدَ صَلَاةِ الْفَجْرِ وَكَانَ يَسْتَمِعُ فَإِنْ سَمِعَ أَذَانًا أَمْسَكَ وَإِنْ لَمْ يَسْمَعْ أَذَانًا أَغَارَ




২৪৮৪. আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সময় অতর্কিত হামলা চালাতেন। তিনি (আযান) শোনার জন্য কান পাততেন; যখন তিনি (কোনো কওমের এলাকা থেকে) আযানের আওয়ায শুনতে পেতেন, তখন (তাদেরকে আক্রমণ করা হতে) বিরত হয়ে যেতেন। আর যখন আযান শুনতে পেতেন না, তখন হামলা চালাতেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।

তাখরীজ: বুখারী, আযান ৬১০; মুসলিম, সালাত ৩৮২।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩৩০৭ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2485)


أَخْبَرَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ النُّعْمَانِ بْنِ سَالِمٍ قَالَ سَمِعْتُ أَوْسَ بْنَ أَبِي أَوْسٍ الثَّقَفِيَّ قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي وَفْدِ ثَقِيفٍ قَالَ وَكُنْتُ فِي أَسْفَلِ الْقُبَّةِ لَيْسَ فِيهَا أَحَدٌ إِلَّا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَائِمٌ إِذْ أَتَاهُ رَجُلٌ فَسَارَّهُ فَقَالَ اذْهَبْ فَاقْتُلْهُ ثُمَّ قَالَ أَلَيْسَ يَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ قَالَ شُعْبَةُ وَأَشُكُّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ قَالَ بَلَى قَالَ إِنِّي أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فَإِذَا قَالُوهَا حَرُمَتْ عَلَيَّ دِمَاؤُهُمْ وَأَمْوَالُهُمْ إِلَّا بِحَقِّهَا وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللَّهِ قَالَ وَهُوَ الَّذِي قَتَلَ أَبَا مَسْعُودٍ قَالَ وَمَا مَاتَ حَتَّى قَتَلَ خَيْرَ إِنْسَانٍ بِالطَّائِفِ




২৪৮৫. আউস ইবনু আবী আউস সাকাফী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সাফীফ গোত্রের প্রতিনিধি দলের সাথে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আগমণ করলাম। তখন আমরা তাঁর সঙ্গে একটি কুব্বায় ছিলাম। আমি এবং তিনি ব্যতীত কুব্বায় কেউই ছিল, আর তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি এসে তার সংগে গোপনে কিছু বললো, তিনি আমাকে বললেনঃ “যাও, তাকে হত্যা কর।“

এরপর তিনি বললেনঃ “সে কি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর সাক্ষ্য দান করে না?“ রাবী শু’বা বলেন: এবং সেকি একথার সাক্ষ্য দান করে না যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বাসূল? তিনি বললেন, হাঁ, সে এরুপ বলে। তখন তিনি বললেনঃ “আমাকে লোকের বিরুদ্ধে যূদ্ধ করার আদেশ দান করা হয়েছে যতক্ষন না তারা বলে, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।’ যখন তারা এরুপ বলবে, তখন তাদের জানমাল আমার জন্য হারাম হয়ে যাবে,- তবে তার হক ব্যতীত।[1] রাবী বলেন, এ হলো সেই ব্যক্তি যে আবী মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে হত্যা করেছিল। তিনি বলেন, সে তায়িফের শ্রেষ্ট ব্যক্তিকে হত্যা না করা পর্যন্ত মরলো না।

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৮৬২ তে।

এছাড়াও, তায়ালিসী ১/২৬ নং ৩৭; তাবারাণী, কাবীর ১/২১৮ নং ৫৯৪; ইবনুল কানি’, মু’জামুস সাহাবাহ নং ২২; ইবনু আবী শাইবা, ৮/৭৪৩ নং ৬২৩১; ইবনু মাজাহ, ফিতান নং ৩৯২৯; আব্দুর রাযযাক নং ১৮৬৮৯।

এ মর্মে আবী হুরাইরা হাদীস রয়েছে যার তাখরীজের জন্য দেখুন ইবনু হিব্বান নং ১৭৩; ইবনু উমার হতে যার তাখরীজের জন্য দেখুন ১৭৫ এ।









সুনান আদ-দারিমী (2486)


أَخْبَرَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَحِلُّ دَمُ رَجُلٍ يَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ إِلَّا إِحْدَى ثَلَاثَةِ نَفَرٍ النَّفْسُ بِالنَّفْسِ وَالثَّيِّبُ الزَّانِي وَالتَّارِكُ لِدِينِهِ الْمُفَارِقُ لِلْجَمَاعَةِ




২৪৮৬. আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সেই ব্যক্তিকে হত্যা করা বৈধ নয়, যে সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। তিন ব্যক্তি ব্যতীত; ১. কিসাসে প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ; ২. বিবাহিত যিনাকারী; ৩. যে ব্যক্তি ইসলাম পরিত্যাগ করে মুসলিমদের দল হতে পৃথক হয়ে যায়।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।

তাখরীজ: এটি গত ২৩৪৪ নং এ গত হয়েছে।









সুনান আদ-দারিমী (2487)


حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا الْأَسْوَدُ بْنُ شَيْبَانَ عَنْ خَالِدِ بْنِ سُمَيْرٍ قَالَ قَدِمَ عَلَيْنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَبَاحٍ الْأَنْصَارِيُّ وَكَانَتْ الْأَنْصَارُ تُفَقِّهُهُ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو قَتَادَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعَثَ جَيْشَ الْأُمَرَاءِ قَالَ فَانْطَلَقُوا فَلَبِثُوا مَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ صَعِدَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمِنْبَرَ فَأَمَرَ فَنُودِيَ الصَّلَاةُ جَامِعَةٌ




২৪৮৭. আবী কাতাদাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেনাপতিদের একটি দল প্রেরণ করলেন। এরপর তাঁরা চলে যেতে উদ্যত হলেন, এরপর আল্লাহ যতক্ষণ চান তারা অপেক্ষা করলেন। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে আরোহন করলেন, তারপর তিনি আদেশ দান করলে ঘোষণা দেয়া হলো: “সালাত হলো একত্রকারী।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: ইবনু সা’দ ৩/১/২৬, ৩২; বাইহাকী, দালাইল ৪/৩৬৭; আহমাদ ৫/২৯৯, ৩০০, ৩০১; নাসাঈ, কুবরা নং , ৮১৫৯, ৮২৪৯; আবূ নুয়াইম, হিলইয়া ৯/১৬; ইবনু হিব্বান নং ৭০৪৮।









সুনান আদ-দারিমী (2488)


أَخْبَرَنَا الْأَسْوَدُ بْنُ عَامِرٍ حَدَّثَنَا شَرِيكٌ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي عَمْرٍو الشَّيْبَانِيِّ عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الْأَنْصَارِيِّ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْمُسْتَشَارُ مُؤْتَمَنٌ




২৪৮৮. আবী মাসউদ আল আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “পরামর্শদাতা হবেন আমানতদার বা বিশ্বাসভাজন।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি ও বেশকিছু শাহিদ উল্লেখ করেছি মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৯৯১ তে। (আবূ দাউদ, আদাব ৫১২৮; তিরমিযী, আদাব, ২৮২৩; নাসাঈ, ইবনু মাজাহ, আদাব ৩৭৪৬, হাকিম, ৪/১৩১; বাইহাকী, আাদাবুল কাযী ১০/১১২; ।– ফাতহুল মান্নান শারহে দারেমী হা/২৬০৬ এর টীকা হতে। -অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (2489)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ الْحِزَامِيُّ حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَرَادَ غَزْوَةً وَرَّى بِغَيْرِهَا




২৪৮৯. কা’ব ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো যুদ্ধে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করতেন, তখন (সঠিক স্থান প্রকাশ না করে) সেস্থান ব্যতীত অন্যত্র যাওয়ার মনস্থ করেছেন বলে বাহ্যিকভাবে দেখাতেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা, ১২/৫২৯-৫৩০ নং ১৫৫১০; আবূ দাউদ, ২৬৩৬; বাইহাকী, সিয়ার ৯/১৫০ সহীহ সনদে; আবূ দাউদে অতিরিক্ত আছে: ‘তিনি বলতেন: “যুদ্ধ প্রতারণা বা কৌশল মাত্র।“ আহমাদ ৩/৪৫৬।









সুনান আদ-দারিমী (2490)


حَدَّثَنَا إِسْحَقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ أَبِي عُمَيْسٍ عَنْ إِيَاسِ بْنِ سَلَمَةَ بْنِ الْأَكْوَعِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ بَارَزْتُ رَجُلًا فَقَتَلْتُهُ فَنَفَّلَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَلَبَهُ فَكَانَ شِعَارُنَا مَعَ خَالِدِ بْنِ الْوَلِيدِ أَمِتْ يَعْنِي اقْتُلْ




২৪৯০. সালমা ইবনুল আকওয়া হতে রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত। তিনি বলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট মুশরিকদের একজন গুপ্তচর আসলে তিনি লোকটিকে কতল করতে নির্দেশ দেন।) তখন আমিই সর্বপ্রথম তার মুখোমুখি হই এবং তাকে হত্যা করি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ফেলে যাওয়া মালপত্র আমাকে প্রদান করেন। তখন আমার ও খালিদ ইবনুল ওয়ালিদের মাঝে সাংকেতিক চিহ্ন ছিল, ‘আমিত’ অর্থ: ‘তাকে হত্যা কর।’[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।

তাখরীজ: বুখারী, জিহাদ ৩০৫১; মুসলিম, সিয়ার ওয়াল জিহাদ ১৭৫৪।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৮৩৯, ৪৮৪৩ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2491)


حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ وَعَفَّانُ قَالَا حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ يَعْلَى بْنِ عَطَاءٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَسَارٍ أَبِي هَمَّامٍ عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْفِهْرِيِّ قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي غَزْوَةِ حُنَيْنٍ فَكُنَّا فِي يَوْمٍ قَائِظٍ شَدِيدِ الْحَرِّ فَنَزَلْنَا تَحْتَ ظِلَالِ الشَّجَرِ فَذَكَرَ الْقِصَّةَ ثُمَّ أَخَذَ كَفًّا مِنْ تُرَابٍ قَالَ فَحَدَّثَنِي الَّذِي هُوَ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنِّي أَنَّهُ ضَرَبَ بِهِ وُجُوهَهُمْ وَقَالَ شَاهَتْ الْوُجُوهُ فَهَزَمَ اللَّهُ الْمُشْرِكِينَ قَالَ يَعْلَى فَحَدَّثَنِي أَبْنَاؤُهُمْ أَنَّ أَبَاءَهُمْ قَالُوا فَمَا بَقِيَ مِنَّا أَحَدٌ إِلَّا امْتَلَأَتْ عَيْنَاهُ وَفَمُهُ تُرَابًا




২৪৯১. আবূ আবদুর রহমান ফিহরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি হুনায়নের যুদ্ধের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম। আমরা এমন এক সময় সফর করি, যখন ছিল প্রচন্ড গরম। ফলে, আমরা একটি গাছের নীচে অবতরন করি। এরপর তিনি পুরো ঘটনা বর্ণনা করেন। (তিনি বলেন:) তারপর তিনি এক মুষ্টি মাটি যমিন থেকে তুলে নিলেন। এরপর তাদের মুখমন্ডলে তা নিক্ষেপ করলেন এবং বললেনঃ “তাদের মুখমন্ডল বিকৃত হয়ে গেছে।“ এভাবে আল্লাহ তা’আলা (এ দ্বারাই) তাদেরকে পরাজিত করলেন। বর্ণনাকারী ইয়া’লা বলেন, পরবর্তীতে তাদের ছেলেরা বর্ণনা করেছেন যে, তাদের পিতারা বলেন: এরপর আমাদের এমন কোনো লোক অবশিষ্ট ছিল না, যার চোখ-মুখ সে এক মুষ্টি মাটির ধুলায় ভরে যায়নি।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা, ১৪/৫২৯ নং ১৮৮৪৪; আহমাদ ৫/২৮৬; আবূ দাউদ, আদাব ৫২৩৩; ইবনুল আসীর, আসাদুল গাবাহ ৬/২০০।

এর সহীহ শাহিদ হাদীস রয়েছে আব্বাস ইবনু আব্দুল মুত্তালিব হতে আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৭০৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭০৪৯ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪৬৪ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2492)


حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ حَدَّثَنَا يُونُسُ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ قَالَ قَالَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَنَحْنُ مَعَهُ فِي مَجْلِسٍ بَايِعُونِي عَلَى أَنْ لَا تُشْرِكُوا بِاللَّهِ شَيْئًا وَلَا تَسْرِقُوا وَلَا تَزْنُوا وَلَا تَقْتُلُوا أَوْلَادَكُمْ وَلَا تَأْتُوا بِبُهْتَانٍ تَفْتَرُونَهُ بَيْنَ أَيْدِيكُمْ وَأَرْجُلِكُمْ فَمَنْ وَفَى مِنْكُمْ فَأَجْرُهُ عَلَى اللَّهِ وَمَنْ أَصَابَ شَيْئًا مِنْ ذَلِكَ فَسَتَرَهُ اللَّهُ فَأَمْرُهُ إِلَى اللَّهِ إِنْ شَاءَ عَاقَبَهُ وَإِنْ شَاءَ عَفَا عَنْهُ وَمَنْ أَصَابَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا فَعُوقِبَ بِهِ فِي الدُّنْيَا فَهُوَ كَفَّارَةٌ لَهُ قَالَ فَبَايَعْنَاهُ عَلَى ذَلِكَ




২৪৯২. উবাদা ইবনুস সামিত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমরা একটি মাজলিসে ছিলাম, এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ্zwnj; সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বলেনঃ “তোমরা আমার কাছে এই মর্মে বায়’আত গ্রহণ কর যে, আল্লাহ্zwnj;র সঙ্গে কিছু শরীক করবে না, চুরি করবে না, যিনা করবে না, তোমাদের সন্তানদের হত্যা করবে না এবং কাউকে মিথ্যা অপবাদ দেবে। তোমাদের মধ্যে যে তা পূরণ করবে, তার বিনিময় আল্লহ্zwnj;র কাছে। আর কেউ এর কোন একটিতে লিপ্ত হয়ে পড়লে এবং আল্লাহ্ তা অপ্রকাশিত রাখলে, তবে তা আল্লাহ্zwnj;র ইচ্ছাধীন। তিনি যদি চান, তাকে শাস্তি দেবেন আর যদি চান, তাকে মাফ করে দেবেন। আর কেউ এর কোন একটিতে লিপ্ত হয়ে পড়লে এবং দুনিয়াতে তার শাস্তি পেয়ে গেলে, তবে তা হবে তার জন্য কাফ্zwnj;ফারা।“ তিনি বলেন, আমরা তাঁর নিকট এর উপর বায়’আত গ্রহণ করলাম।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।

তাখরীজ: বুখারী, ঈমান ১৮; মুসলিম, হুদূদ ১৭০৯।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৫০৬ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৩৯১ সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৪০৫ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2493)


أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ حَدَّثَنَا لَيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّهُ قَالَ كُنَّا يَوْمَ الْحُدَيْبِيَةِ أَلْفًا وَأَرْبَعَ مِائَةٍ فَبَايَعْنَاهُ وَعُمَرُ آخِذٌ بِيَدِهِ تَحْتَ الشَّجَرَةِ وَهِيَ سَمُرَةٌ وَقَالَ بَايَعْنَاهُ عَلَى أَنْ لَا نَفِرَّ وَلَمْ نُبَايِعْهُ عَلَى الْمَوْتِ




২৪৯৩. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুদায়বিয়ার (সন্ধির) দিন আমরা সংখ্যায় ছিলাম চৌদ্দশ’। আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাতে বাইআত হলাম। ‘সামুরাহ’ গাছের নীচে উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাঁর হাত ধরে ছিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন না করার বাইআত করেছিলাম, কিন্তু মৃত্যুর জন্য বাইআত করিনি।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, মাগাযী ৪১৫৪; মুসলিম, ইমারাহ ১৮৫৬

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৮৩৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৮৭৫ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১৩১২ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2494)


أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَقَ قَالَ سَمِعْتُ الْبَرَاءَ بْنَ عَازِبٍ يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَنْقُلُ مَعَنَا التُّرَابَ يَوْمَ الْأَحْزَابِ وَقَدْ وَارَى التُّرَابُ بَيَاضَ إِبِطَيْهِ وَهُوَ يَقُولُ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :اللَّهُمَّ لَوْلَا أَنْتَ مَا اهْتَدَيْنَا وَلَا تَصَدَّقْنَا وَلَا صَلَّيْنَا فَأَنْزِلَنَّ سَكِينَةً عَلَيْنَا

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :وَثَبِّتْ الْأَقْدَامَ إِنْ لَاقَيْنَا إِنَّ الْأُولَى قَدْ بَغَوْا عَلَيْنَا

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :وَإِنْ أَرَادُوا فِتْنَةً أَبَيْنَا

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :وَيَرْفَعُ بِهَا صَوْتَهُ




২৪৯৪. বারা’ ইবনু আযিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আহযাবের দিন আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি যে, তিনি আমাদের সঙ্গে মাটি বহন করছেন। আর মাটি তাঁর উভয় বাহুমূলের শুভ্রতা ঢেকে ফেলেছে। সে সময় তিনি আবৃত্তি করছিলেন: হে আল্লাহ্!

আপনি না হলে আমরা হিদায়াত পেতাম না;

সদাকাহ দিতাম না এবং সালাত আদায় করতাম না।

তাই আমাদের উপর শান্তি নাযিল করুন।

যখন আমরা শত্রু সম্মুখীন হই তখন আমাদের পা সুদৃঢ় করুন।

ওরা আমাদের বিরুদ্ধাচরণ করেছে।

তারা যখনই কোন ফিতনা সৃষ্টি করতে চায় তখনই আমরা তা থেকে বিরত থাকি।“

আবৃত্তি করার সময় তাঁর কন্ঠস্বর উঁচু হচ্ছিল।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, জিহাদ ২৮৩৬, ২৮৩৭; মুসলিম, সিয়ার ১৮০৩।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৭১৬ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2495)


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ خَالِدِ بْنِ حَازِمٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ مَكَّةَ عَامَ الْفَتْحِ وَعَلَى رَأْسِهِ مِغْفَرٌ فَلَمَّا نَزَعَهُ جَاءَهُ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذَا ابْنُ خَطَلٍ مُتَعَلِّقٌ بِأَسْتَارِ الْكَعْبَةِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اقْتُلُوهُ




২৪৯৫. আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় প্রবেশ করেন। তখন তাঁর মাথায় ছিল লৌহ শিরস্ত্রাণ। তিনি যখন তা খুললেন, তখন তাঁকে বলা হল, ইয়া রাসূলুল্লাহ! এ হলো ইবনু খাতল, কা‘বার পর্দায় জড়িয়ে ধরে আছে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “তাকে হত্যা করে ফেল।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।

তাখরীজ: এটি ১৯৮১ নং এ গত হয়েছে।









সুনান আদ-দারিমী (2496)


أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ قَالَ كَانَ قَبِيعَةُ سَيْفِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ فِضَّةٍ قَالَ عَبْد اللَّهِ هِشَامٌ الدَّسْتَوَائِيُّ خَالَفَهُ قَالَ قَتَادَةُ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي الْحَسَنِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَزَعَمَ النَّاسُ أَنَّهُ هُوَ الْمَحْفُوظُ




২৪৯৬. আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তলওয়ারের বাটটি ছিল রৌপ্য খচিত।[1] আব্দুল্লাহ বলেন, হিশাম দুস্তাওয়ী তার বিপরীত কথা বলেছেন। তিনি বলেন, কাতাদাহ সাঈদ ইবনু আবীল হাসান হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। আর লোকদের ধারণা, এটিই মাহফূজ বা সংরক্ষিত।

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আবূ দাউদ, জিহাদ ২৫৮৩; মারাসীল ২৪৮৫; তাহাবী, মুশকিলিল আছার ২/১৬৬; তিরমিযী, জিহাদ ১৬৯১; শামাইল ১০০; নাসাঈ, কুবরা নং ৯৮১৩; বাইহাকী, যাকাত ৪/১৪৩; আবী শাইখ, আখলাকুন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম r পৃ: ১৪০।

এ হাদীসের অনেক গুলি শাহিদ রয়েছে যা একে শক্তিশালী করে। আল্লাহই ভাল জানেন।









সুনান আদ-দারিমী (2497)


أَخْبَرَنَا الْمُعَلَّى بْنُ أَسَدٍ حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ مُعَاذٍ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ عَنْ أَبِي طَلْحَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا ظَهَرَ عَلَى قَوْمٍ أَحَبَّ أَنْ يُقِيمَ بِعَرْصَتِهِمْ ثَلَاثًا




২৪৯৭. আবূ তালহা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন কওমের উপর বিজয়ী হতেন, তখন তিনি সেইস্থানে তিন রাত অতিবাহিত করতে পছন্দ করতেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : যারা সাঈদ এর স্মৃতি এলোমেলো হওয়ার পূর্বে তার নিকট হতে হাদীস শুনেছেন, মুয়ায ইবনু মুয়ায এর নাম তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে আব্দুল আ’লা এর মুতাবিয়াত বর্ণনা করেছেন। যা এর সনদকে সহীহতে পরিণত করে।

তাখরীজ: বুখারী, জিহাদ ৩০৬৫; মুসলিম, জান্নাত ওয়া সিফাতু নাঈমুহা ২৮৭৫।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৪১৫, ৩১৭৪ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৭৭৬, ৪৭৭৭, ৪৭৭৮ তে। এছাড়াও, ইবনু আবী শাইবা ১২/৩৫২ নং ১৩০৬৬ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2498)


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ حَرَّقَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَخْلَ بَنِي النَّضِيرِ




২৪৯৮. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত।রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনী নাযীর গোত্রের খেজুরের বাগান জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।

তাখরীজ: বুখারী, হারছ ওয়াল মাযারাআহ ২৩২৬; মুসলিম, জিহাদ ১৭৪৬।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৮৩৭ তে। এছাড়াও, ইবনু মানসূর ২৬৪২।









সুনান আদ-দারিমী (2499)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ أَبَانَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَقَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْأَشَجِّ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ الدَّوْسِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ الدَّوْسِيِّ قَالَ بَعَثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَرِيَّةٍ فَقَالَ إِنْ ظَفِرْتُمْ بِفُلَانٍ وَفُلَانٍ فَحَرِّقُوهُمَا بِالنَّارِ حَتَّى إِذَا كَانَ الْغَدُ بَعَثَ إِلَيْنَا فَقَالَ إِنِّي كُنْتُ أَمَرْتُكُمْ بِتَحْرِيقِ هَذَيْنِ الرَّجُلَيْنِ ثُمَّ رَأَيْتُ أَنَّهُ لَا يَنْبَغِي لِأَحَدٍ أَنْ يُعَذِّبَ بِالنَّارِ إِلَّا اللَّهُ فَإِنْ ظَفِرْتُمْ بِهِمَا فَاقْتُلُوهُمَا




২৪৯৯. আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে এক অভিযানে প্রেরণ করেন। তখন তিনি বলেছিলেন, “অমুক অমুক দুই ব্যক্তিকে যদি পাও তবে এদের আগুনে পুড়িয়ে ফেলবে।“ পরের দিন তিনি আমাদের নিকট একজন লোক পাঠিয়ে বললেন: “অমুক অমুক দুই ব্যক্তিকে আগুনে জ্বালিয়ে দিতে আমি তোমাদের নির্দেশ দিয়েছিলাম। পরে আমার মনে হলো যে, আল্লাহ ছাড়া আর কেউ আগুনে শাস্তি দিতে পারেন না। সুতরাং তোমরা যদি এদের দুই জনকে পাও তবে এদের হত্যা করবে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর রাবীগণ বিশ্বস্ত। তবে মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক এটি ‘আন ‘আন’ শব্দে বর্ননা করেছেন। তবে হাদীসটি সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, জিহাদ ৩০১৬।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৬১১ তে। এছাড়াও, ইবনু আবী শাইবা, ১২/২৮৯ নং ১৪০৮৮; ইবনু মানসূর ২৬৪৫; নাসাঈ, কুবরা নং , ৮৬১৩; বাইহাকী, সিয়ার ৯/৭১।









সুনান আদ-দারিমী (2500)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ مُسْهِرٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ هُوَ ابْنُ عُمَرَ بْنِ حَفْصِ بْنِ عَاصِمٍ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ وُجِدَ فِي بَعْضِ مَغَازِي رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ امْرَأَةٌ مَقْتُولَةٌ فَنَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ قَتْلِ النِّسَاءِ وَالصِّبْيَانِ




২৫০০. ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোন এক অভিযানে এক মহিলাকে নিহত অবস্থায় পাওয়া গেল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারী ও শিশু হত্যা নিষিদ্ধ করে দেন।[1]

[1]তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ।

তাখরীজ: বুখারী, জিহাদ ৩০১৪, ৩০১৫; মুসলিম, জিহাদ ১৭৪৪ ; ইবনু আবী শাইবা, ১২/৩৮১ নং ১৪০৫৮; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ৩/২২০;

আহমাদ ২/২২, ১২২, ১২৩; তাবারাণী, কাবীর ১২/৩৮৩ নং ৬৭৭; আওসাত ৮৯৩৫; আবূ দাউদ, জিহাদ ২৬৬৮; তিরমিযী, সিয়ার ১৫৬৯;ইবনু মাজাহ, জিহাদ ২৮৪১।









সুনান আদ-দারিমী (2501)


أَخْبَرَنَا عَاصِمُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَقَ الْفَزَارِيُّ عَنْ يُونُسَ بْنِ عُبَيْدٍ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ الْأَسْوَدِ بْنِ سَرِيعٍ قَالَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي غَزَاةٍ فَظَفِرَ بِالْمُشْرِكِينَ فَأَسْرَعَ النَّاسُ فِي الْقَتْلِ حَتَّى قَتَلُوا الذُّرِّيَّةَ فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ مَا بَالُ أَقْوَامٍ ذَهَبَ بِهُمْ الْقَتْلُ حَتَّى قَتَلُوا الذُّرِّيَّةَ أَلَا لَا تُقْتَلَنَّ ذُرِّيَّةٌ ثَلَاثًا




২৫০১. আসওয়াদ ইবনু সারি’ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে কোন এক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম। তখন মুশরিকদেরকে আয়ত্তে পেয়ে তারা তাদের লোকদেরকে দ্রুত হত্যা করে চললো। এমনকি তারা এক শিশু কে হত্যা করে ফেললো। তখন এ বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পৌছলে তিনি বললেন: “লোকদের কী হলো? তারা হত্যা করতে এতই আগ্রাসী হয়েছে যে, তারা শিশুকেও হত্যা করে ফেললো! সাবধান! কোনো শিশুকে হত্যা করবে না।“ একথা তিনি তিনিবার বললেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ:আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩২ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৬৫৮ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2502)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ عَنْ عَطِيَّةَ الْقُرَظِيِّ قَالَ عُرِضْنَا عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَئِذٍ فَمَنْ أَنْبَتَ الشَّعْرَ قُتِلَ وَمَنْ لَمْ يُنْبِتْ تُرِكَ فَكُنْتُ أَنَا مِمَّنْ لَمْ يُنْبِتْ الشَّعْرَ فَلَمْ يَقْتُلُونِي يَعْنِي يَوْمَ قُرَيْظَةَ




২৫০২. আতিয়্যা আল কুরাযী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সেদিন বনূ কুরায়যার বন্দীদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পেশ করা হলো। (তারা পর্যবেক্ষণ করতো) যার (নাভির নিচের) চুল গজাত, তাকে হত্যা করা হতো, আর যার গজায় নি, তাকে ছেড়ে দেওয়া হতো। আর আমি ছিলাম তাদের একজন যাদের চুল গজায়নি। ফলে আমাকে হত্যা করা হয়নি। অর্থাৎ: বনী কুরাইযার দিনে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ বুখারীর শর্তানুযায়ী সহীহ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৭৮০, ৪৭৮১, ৪৭৮২, ৪৭৮৩, ৪৭৮৮ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৪৯৯, ১৫০০, ১৫০১ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯১২, ৯১৩ তে। তে। ((আহমাদ ৪/৩১০, ৩৮৩, ৫/৩১২; ইবনু আবী শাইবা ১২/৫৩৯-৫৪০; আব্দুর রাযযাক ১০/১৭৯ নং ১৮৭৪৩; আবু দাউদ, হুদূদ ৪৪০৪; তিরমিযী, সিয়ার ১৫৮৪; নাসাঈ, তালাক ৩৪৩০; ইবনু মাজাহ, হুদুদ ২৫৪১, ২৫৪২।– ফাতহুল মান্নান শারহু দারিমী হা/২৬২১ এর টীকা হতে।-অনুবাদক))