হাদীস বিএন


সুনান আদ-দারিমী





সুনান আদ-দারিমী (2563)


أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ الْمُبَارَكِ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ غِفَارٌ غَفَرَ اللَّهُ لَهَا وَأَسْلَمُ سَالَمَهَا اللَّهُ وَعُصَيَّةُ عَصَتْ اللَّهَ وَرَسُولَهُ




২৫৬৩. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “গিফার গোত্রকে আল্লাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন, আসলাম গোত্রকে নিরাপত্তা দান করেছেন। আর উসায়্যাহ গোত্র আল্লাহ ও তার রাসুলের নাফরমানী করেছে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ বুখারীর শর্তানুযায়ী সহীহ। আর হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।

তাখরীজ: বুখারী, মানাকিব ৩৫১৩; মুসলিম, ফাযাইলুস সাহাবাহ ২৫১৫।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭২৮৯ তে। এছাড়াও, বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ ৩৮৫১, ৩৮৫২; খতীব, তারীখ বাগদাদ ৬/১৯৭।









সুনান আদ-দারিমী (2564)


أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا شَرِيكٌ عَنْ سِمَاكٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قِيلَ لِشَرِيكٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ نَعَمْ لَا حِلْفَ فِي الْإِسْلَامِ وَفِي الْجَاهِلِيَّةِ لَمْ يَزِدْهُ الْإِسْلَامُ إِلَّا شِدَّةً وَجِدَّةً




২৫৬৪. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “ইসলামে (অবৈধ) চুক্তি বা প্রতিজ্ঞার কোন স্থান নেই। আর জাহিলী যুগের শপথের মাঝে ভাল উদ্দেশ্যে যে ওয়াদা ও চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে, ইসলাম তাকে আরো শক্তিশালী ও উজ্জীবিত করে দিয়েছে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। তবে হাদীসটি সহীহ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৩৩৬; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৩৭০ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২০৬১ তে।

এর শাহিদ হাদীস রয়েছে উম্মু সালামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৯০২ তে।

এর শাহিদ হাদীস রয়েছে জুবাইর ইবনু মুতঈম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৩৭১, ৪৩৭২ ও নাসিখুল কুরআন ওয়াল মানসূখাহ পৃ: ৭২ তে।

এর শাহিদ হাদীস রয়েছে কাইস ইবনু আসিম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৩৬৯ ও মুসনাদুল মাউসিলী নং ১২/৩৩০ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2565)


أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ قُلْتُ لِمُعَاوِيَةَ بْنِ قُرَّةَ أَكَانَ أَنَسٌ يَذْكُرُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِلنُّعْمَانِ بْنِ مُقَرِّنٍ ابْنُ أُخْتِ الْقَوْمِ مِنْهُمْ قَالَ نَعَمْ




২৫৬৫. শু’বাহ (রহঃ) বলেন, আমি মু’আবিয়া ইবনু কুররাহ (রহঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কি বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নু’মান ইবনু মুকার্রিন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে বলেন, “কোন কাওমের বোনের পুত্র সে কাওমেরই অন্তর্ভুক্ত“? তিনি বলেন, হাঁ।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, ফারযিল খুমুস ৩১৪৬; মুসলিম, যাকাত ১০৫৯।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩০০২, ৩২০৭, ৩২২৯, ৩২৩০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৫০১ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2566)


حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ الْمُغِيرَةِ حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ عَنْ كَثِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَوْلَى الْقَوْمِ مِنْهُمْ وَحَلِيفُ الْقَوْمِ مِنْهُمْ وَابْنُ أُخْتِ الْقَوْمِ مِنْهُمْ




২৫৬৬. কাছীর ইবনু আব্দুল্লাহ তার পিতা হতে, তার দাদার সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “কোন কাওমের গোলাম সে কওমেরই অন্তুর্ভূক্ত; আবার কোনো কওমের (মৈত্রিচুক্তিতে আবদ্ধ) মিত্র সেই কওমেরই অন্তুর্ভূক্ত; আবার কওমের বোনের পুত্র সে কওমেরই অন্তর্ভুক্ত।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ কাসীর ইবনু আব্দূল্লাহবিন আমর ইবনু আওফ এর দুর্বলতার কারণে। তবে হাদীসটি সহীহ।

তাখরীজ: তাবারানী, কাবীর ১৭/১২ নং ২। দেখুন, মাজমাউয যাওয়াইদ ৯৫৭, ৯৫৮, ৯৬১, ৯৬২ হাদীসগুলি।

আরও দেখুন, নাসবুর রায়াহ ৪/১৪৮-১৪৯ ও তালখীসুল হাবীর ৪/২১৪।









সুনান আদ-দারিমী (2567)


حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ الدَّسْتَوَائِيُّ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ غَنْمٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ خَارِجَةَ قَالَ كُنْتُ تَحْتَ نَاقَةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ مَنْ ادَّعَى إِلَى غَيْرِ أَبِيهِ أَوْ انْتَمَى إِلَى غَيْرِ مَوَالِيهِ رَغْبَةً عَنْهُمْ فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ لَا يُقْبَلُ مِنْهُ صَرْفٌ وَلَا عَدْلٌ




২৫৬৭. ‘আমর ইবনে খারিজা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর (আরোহী) উটের নিচে অবস্থান করছিলাম। এমতাবস্থায় তিনি বলেনঃ “যে ব্যক্তি তার পিতাকে বাদ দিয়ে অন্যকে তার পিতা বলে দাবী করে (পরিচয় দেয়) অথবা নিজের মনিবকে বাদ দিয়ে অপরকে মনিব বলে পরিচয় দেয়, তার উপর আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকুল এবং সকল মানুষের অভিশাপ। তার নফল বা ফরয কোন কিছুই কবুল করা হবে না।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৫০৮ তে। ((তিরমিযী ২১২১; ইবনু মাজাহ, ওয়াসা’ইয়া ২৭১২; নাসায়ী ৩৬৪১, ৩৬৪২, ৩৬৪৩; আহমাদ ১৭২১০, ১৭৬১৫, ১৭৬২১। - অনুবাদক))

সংযোজনী: এছাড়াও, তাবারাণী, কাবীর ১৭/৩২-৩৩ নং ৬০; ইবনু মাজাহ, ওয়াসায়া ২৭১২; ইবনুল কানি’, মু’জামুস সাহাবাহ নং ৭২৪; দারুকুতনী ৪/১৫২-১৫৩; বাইহাকী, ওয়াসায়া ৬/২৬৪; ইবনু আবী আসিম, আহাদ ওয়াল মাছানী নং ৭৮৬, ২৪৮১; সাঈদ ইবনু মানসুর নং ৪২৮; ইবনু আবী শাইবা ১১/১৪৯ নং ১০৭৬৬; আব্দুর রাযযাক, নং ১৬৩০৬। আমি এটি তাখরীজ করেছি মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৭১৯৮ তে।

((এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বুখারী, জিযইয়া নং ২১৭২ তে। -অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (2568)


أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ عَنْ سَعْدٍ وَأَبِي بَكْرَةَ أَنَّهُمَا حَدَّثَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ ادَّعَى إِلَى غَيْرِ أَبِيهِ وَهُوَ يَعْلَمُ أَنَّهُ غَيْرُ أَبِيهِ فَالْجَنَّةُ عَلَيْهِ حَرَامٌ




২৫৬৮. সা‘দ এবং আবূ বাকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তাঁরা দু’জন বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি জেনে শুনে অন্যকে নিজের পিতা বলে দাবী করে, জান্নাত তার জন্য হারাম।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, মাগাযী ৪৩২৬, ৪৩২৬; মুসলিম, ঈমান ৬৩। এটি সামনে ২৯০২ তে আসছে, সেখানে তাখরীজ দেখুন।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪১৫, ৪১৬ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2569)


أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا عَنْ الشَّعْبِيِّ قَالَ سَمِعْتُ النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ الْحَلَالُ بَيِّنٌ وَالْحَرَامُ بَيِّنٌ وَبَيْنَهُمَا مُتَشَابِهَاتٌ لَا يَعْلَمُهَا كَثِيرٌ مِنْ النَّاسِ فَمَنْ اتَّقَى الشُّبُهَاتِ اسْتَبْرَأَ لِعِرْضِهِ وَدِينِهِ وَمَنْ وَقَعَ فِي الشُّبُهَاتِ وَقَعَ فِي الْحَرَامِ كَالرَّاعِي يَرْعَى حَوْلَ الْحِمَى فَيُوشِكُ أَنْ يُوَاقِعَهُ وَإِنَّ لِكُلِّ مَلِكٍ حِمًى أَلَا وَإِنَّ حِمَى اللَّهِ مَحَارِمُهُ أَلَا وَإِنَّ فِي الْجَسَدِ مُضْغَةً إِذَا صَلَحَتْ صَلَحَ الْجَسَدُ كُلُّهُ وَإِذَا فَسَدَتْ فَسَدَ الْجَسَدُ كُلُّهُ أَلَا وَهِيَ الْقَلْبُ




২৫৬৯. নু’মান ইবনু বাশীর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্zwnj; সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: “হালালও স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট। আর এ দু’য়ের মাঝে রয়েছে বহু সন্দেহজনক বিষয়- যা অনেকেই জানে না। যে ব্যক্তি সেই সন্দেহজনক বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকবে, সে তার মর্যাদা ও দীন রক্ষা করতে পারবে। আর যে সন্দেহজনক বিষয়সমূহে লিপ্ত হয়ে পড়ে, সে হারামে লিপ্ত হয়ে পড়বে; এর উপমা সে রাখালের ন্যায়, যে তার পশু (বাদশাহ্zwnj;র) সংরক্ষিত চারণভুমির আশে পাশে (চরায়), অচিরেই সে সেখানে ঢুকে পড়ার আশংকা রয়েছে। জেনে রাখ, প্রত্যেক বাদশাহ্zwnj;রই একটি সংরক্ষিত এলাকা রয়েছে। আর আল্লাহ্zwnj;র সংরক্ষিত এলাকা হলো তাঁর নিষিদ্ধ কাজসমূহ। জেনে রাখ, শরীরের মধ্যে একটি গোশতের টুকরা আছে, তা যখন ঠিক হয়ে যায়, গোটা শরীরই তখন ঠিক হয়ে যায়। আর তা যখন খারাপ হয়ে যায়, গোটা শরীরই তখন খারাপ হয়ে যায়। জেনে রাখ, সেটি হল কলব।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, ঈমান ৫২; মুসলিম, মাসাকাহ ১৫৯৯।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭২১ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯৪৩, ৯৪৭ তে।

ইমাম নববী রাহিমাহুল্লাহ তাঁর শারহু সহীহ মুসলিম ৪/১১০ বলেন: “এ হাদীসের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিপন্ন হওয়া, এর বহু (ফায়িদাহ) উপকারীতার ব্যাপারে আলিমগণ ঐক্যমত পোষণ করেছেন। আর ইসলাম যে সকল মুলবিষয়গুলির উপর কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়, সে সকল হাদীসের অন্যতম এটি।

আলিমগণের একটি দল বলেন: এটি ইসলামের এক তৃতীয়াংশ, এটি এবং অপর হাদীস: ‘প্রত্যেকটি কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল’ এবং অপর একটি হাদীস: ‘কোনো ব্যক্তির ইসলামের সৌন্দর্য হলো তার অপ্রয়োজনীয় কাজ বর্জন করা।’ (এক তিনটি হাদীস) কে কেন্দ্র করেই ইসলাম আবর্তিত হয়।

আবী দাউদ সিজিসতানী বলেন: (ইসলাম) চারটি হাদীসের উপর ভিত্তিশীল। উল্লিখিত তিনটি এবং চতুর্থ হাদীসটি: ‘তোমাদের কেউ মু’মিন হবে না, যতক্ষণ না তার ভাইয়ের জন্য তাই পছন্দ করবে, যা তার নিজের জন্য পছন্দ করে।’

আবার বলা হয়: (চতুর্থ) হাদীস: “দুনিয়ার বিষয়ে নিরাসক্ত হও, তবে আল্লাহ তোমাকে ভালবাসবেন। আর মানুষের হাতে যা রয়েছে তা থেকে নিরাসক্ত হও, তবে মানুষ তোমাকে ভালবাসবে।’

আলিমগণ বলেন: এর শ্রেষ্ঠ অবস্থানের কারণ এতে তিনি (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খবর দিয়েছেন খাবার গ্রহণকারী, পানকারী, পোশাক পরিধানকারী ও অন্যান্য ব্যক্তিদের সংশোধনীর সম্পর্কে। তার উচিত সন্দেহজনক বিষয় পরিহার করা। কেননা, এটিই তার দীন ও দুনিয়াবী বিষয়ের সুরক্ষার মাধ্যম।...“ বাকী আলোচনা দেখুন, ফাতুহল বারী ১/১২৬ ও এর পরবর্তীতে এবং জামিউল উলুম ওয়াল হিকাম পৃ: ৬৩-৭২।









সুনান আদ-দারিমী (2570)


أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ بُرَيْدِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ عَنْ أَبِي الْحَوْرَاءِ السَّعْدِيِّ قَالَ قُلْتُ لِلْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ مَا تَحْفَظُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ سَأَلَهُ رَجُلٌ عَنْ مَسْأَلَةٍ لَا أَدْرِي مَا هِيَ فَقَالَ دَعْ مَا يَرِيبُكَ إِلَى مَا لَا يَرِيبُكَ




২৫৭০. আবীল হাওরা আস সা’দী (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আলী হাসানইবনুলআমি রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-কে বললাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোন বিষয়টি স্মরণ রেখেছেন? তিনি বললেন, একটি লোক তাঁকে একটি বিষয়ে প্রশ্ন করলো। বিষয়টি কী ছিলো, তা আমি জানি না। তখন তিনি বললেন: “যা তোমাকে সন্দেহে ফেলে দেয় তা ছেড়ে দাও, যা তোমাকে সন্দেহে ফেলে না, তার প্রতি (ধাবিত হও)।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৭৬২; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭২২ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৫১২ তে। এটি গত হয়েছে ১৬৩২, ১৬৩৩, ১৬৩৪ নং এ।









সুনান আদ-দারিমী (2571)


حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ الزُّبَيْرِ أَبِي عَبْدِ السَّلَامِ عَنْ أَيُّوبَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مِكْرَزٍ الْفِهْرِيِّ عَنْ وَابِصَةَ بْنِ مَعْبَدٍ الْأَسَدِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِوَابِصَةَ جِئْتَ تَسْأَلُ عَنْ الْبِرِّ وَالْإِثْمِ قَالَ قُلْتُ نَعَمْ قَالَ فَجَمَعَ أَصَابِعَهُ فَضَرَبَ بِهَا صَدْرَهُ وَقَالَ اسْتَفْتِ نَفْسَكَ اسْتَفْتِ قَلْبَكَ يَا وَابِصَةُ ثَلَاثًا الْبِرُّ مَا اطْمَأَنَّتْ إِلَيْهِ النَّفْسُ وَاطْمَأَنَّ إِلَيْهِ الْقَلْبُ وَالْإِثْمُ مَا حَاكَ فِي النَّفْسِ وَتَرَدَّدَ فِي الصَّدْرِ وَإِنْ أَفْتَاكَ النَّاسُ وَأَفْتَوْكَ




২৫৭১. ওয়াবিসা ইবনু মা’বাদ আল আসাদী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াবিসাকে বলেন, “তুমি আমাকে পাপ ও পুণ্য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে এসেছ?“ তিনি বলেন, হাঁ। তিনি বলেন, তখন তিনি তাঁর আঙ্গুলগুলি মুষ্টিবদ্ধ করে তা দ্বারা তার বুকে আঘাত করে বললেন: “হে ওয়াবিসা! তুমি তোমার নাফসকে জিজ্ঞেস কর, তোমার অন্তরকে জিজ্ঞেস কর।“- একথা তিনি তিনবার বললেন। “তোমার নাফস বা মন যে বিষয়ে প্রশান্তি বা নিশ্চিন্ততা লাভ করে, তোমার অন্তর যে বিষয়ের প্রতি প্রশান্ত- নিশ্চিন্ত হয়-তা-ই হলো পূণ্য। আর তোমার মন যে বিষয়ে চিন্তিত হয়, তোমার অন্তরে যা ইতস্ততবোধ বা দ্বিধা সঞ্চার করে-তা-ই হলো পাপ। লোকেরা যদি তোমাকে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়, তবে তুমি তা গ্রহণ করবে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ বিচ্ছিন্নতার কারণে যঈফ। যুবাইর আবূ আব্দুস সালাম আইয়্যূব হতে শোনেননি। তবে এর শাহিদ রয়েছে কয়েকটি যা একে সহীহ তে রূপান্তরিত করে।

আমি এটি তাখরীজ করেছি মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৮২৪, ৮২৫ তে, এবং এখানে সেই ভূল সংশোধন করেছি যা মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৫৮৬ তে আমাদের উপর আপতিত হয়েছিল। সেই মহান সত্তারই সকল প্রশংসা যিনি বিভ্রান্ত হন না, ভূলেও যান না।

এর শাহিদের মধ্যে রয়েছে নাওয়াস বিন সাম’আন হতে মুসলিম, বিরর ওয়াস সুলহ ২৫৫৩।









সুনান আদ-দারিমী (2572)


حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَبِي حُرَّةَ الرَّقَاشِيِّ عَنْ عَمِّهِ قَالَ كُنْتُ آخِذًا بِزِمَامِ نَاقَةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي أَوْسَطِ أَيَّامِ التَّشْرِيقِ أَذُودُ النَّاسَ عَنْهُ فَقَالَ أَلَا إِنَّ كُلَّ رِبًا فِي الْجَاهِلِيَّةِ مَوْضُوعٌ أَلَا وَإِنَّ اللَّهَ قَدْ قَضَى أَنَّ أَوَّلَ رِبًا يُوضَعُ رِبَا عَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ لَكُمْ رُءُوسُ أَمْوَالِكُمْ لَا تَظْلِمُونَ وَلَا تُظْلَمُونَ




২৫৭২. আবী হুররা আর রাক্কাশী তার চাচার সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, (বিদায় হাজ্জে) ‘আইয়্যামুত তাশরীক্ব’ এর মাঝামাঝি সময়ে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উটের লাগাম ধরে তাঁর নিকট হতে লোকদেরকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছিলাম। তখন তিনি বলেন: “জেনে রাখ, জাহিলিয়া যুগের সকল সুদ বাতিল ঘোষিত হ‘ল। জেনে রাখ, আল্লাহ তা’আলা ফায়সালা করেছেন যে, সর্বপ্রথম যে সূদ বাতিল করা হবে, তা হবে আব্বাস ইবনু আবদুল মুত্তালিবের সূদ। আর তোমাদের মুলধন তোমাদেরই থাকবে, তোমরাও যুলুম করবে না, আর তোমাদের প্রতিও যুলুম করা হবে না।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৫৬৯২, ৬৬৬০ এবং মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৫৬৯ তে।

এর শাহিদ রয়েছে আমর ইবনুল আহওয়াস হতে ১৫/২৬ নং ১৯০০৯; ইবনু মাজাহ, মানাসিক ৩০৫৫; আবী দাউদ, বুয়ূ ৩২৩৪; তিরমিযী, তাফসীর ৩০৮৭ তে জাইয়্যেদ সনদে।









সুনান আদ-দারিমী (2573)


أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ أَبِي قَيْسٍ عَنْ هُزَيْلٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ آكِلَ الرِّبَا وَمُؤْكِلَهُ




২৫৭৩. আব্দুল্লাহ (ইবন মাসঊদ) রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুদখোর ও সুদ দাতা উভয়কে লা’নত করেছেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: মুসলিম, মাসাকাহ ১৫৯৭।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৯৮১, ৫১৪৬ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2574)


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَيَأْتِيَنَّ زَمَانٌ لَا يُبَالِي الْمَرْءُ بِمَا أَخَذَ الْمَالَ بِحَلَالٍ أَمْ بِحَرَامٍ




২৫৭৪. আবূ হুরাইরাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “নিশ্চয়ই এমন এক যুগ আসবে, যখন মানুষ পরোয়া করবে না যে, সে কোথা হতে সম্পদ উপার্জন করল, হালাল উপায়ে, না হারাম উপায়ে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, বুয়ূ ২০৫৯।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬৭২৬ তে।

সংযোজনী: এছাড়াও, বাইহাকী, বুয়ূ ৫/২৬৪, দালাইলুন নুবুওয়াত ৬/৫৩৫; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ ৮/১৭ নং ২০৩২; খতীব, তারীখ বাগদাদ ১২/৩২৭।









সুনান আদ-দারিমী (2575)


أَخْبَرَنَا قَبِيصَةُ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عُمَارَةَ بْنِ عُمَيْرٍ عَنْ عَمَّتِهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ أَحَقَّ مَا يَأْكُلُ الرَّجُلُ مِنْ أَطْيَبِ كَسْبِهِ وَإِنَّ وَلَدَهُ مِنْ أَطْيَبِ كَسْبِهِ




২৫৭৫. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “মানুষের জন্য উত্তম খাবার হলো তার নিজের হাতের উপার্জন এবং তার সন্তান তার উত্তম উপার্জনের অন্যতম।“ [1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। তবে হাদীসটি সহীহ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪২৫৯, ৪২৬০, ৪২৬০ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১০৯১, ১০৯২, ১০৯৩ তে। ((আবূ দাউদ, বুয়ূ ৩৫২৮; নাসাঈ, বুয়ূ বাব (১); ইবনু মাজাহ, তিজারাত ২১৩৭, ২২৯০; আহমাদ ৬/৩১-৪২-১২৭-১৯৩-২২০।– ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীক্ব দারেমী হা/২৫৩৭ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (2576)


أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ هُوَ ابْنُ عُثْمَانَ بْنِ خُثَيْمٍ عَنْ إِسْمَعِيلَ بْنِ رِفَاعَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى الْبَقِيعِ فَقَالَ يَا مَعْشَرَ التُّجَّارِ حَتَّى إِذَا اشْرَأَبُّوا قَالَ التُّجَّارُ يُحْشَرُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فُجَّارًا إِلَّا مَنْ اتَّقَى وَبَرَّ وَصَدَقَ قَالَ أَبُو مُحَمَّد كَانَ أَبُو نُعَيْمٍ يَقُولُ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ رِفَاعَةَ وَإِنَّمَا هُوَ إِسْمَعِيلُ بْنُ عُبَيْدِ بْنِ رِفَاعَةَ




২৫৭৬. রিফাআ রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত যে, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘বাক্বী’-এর দিকে গেলেন। অত:পর তিনি বললেন, “হে ব্যবসায়ীগণ!“ তারা সকলেই রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি তাদের ঘাড় ও চোখ তুলে তাকাল। তিনি বললেন, “ব্যবসায়ীদের কিয়ামতের দিন ফাজির-পাপীরূপে উত্থিত করা হবে। তবে সে ব্যতীত, যে আল্লাহকে ভয় করেছে, নেক আমল করেছে এবং সত্য অবলম্বন করেছে।“[1] আবূ মুহাম্মদ বলেন, আবী নুয়াইম (তার বর্ণনায়) উবাইদুল্লাহ ইবনু রিফা’আহ’র নাম বলতেন, কিন্তু আসলে তিনি হলেন ইসমাঈল ইবনু উবাইদ ইবনু রিফাআহ।

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ বা উত্তম।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৯১০ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১০৯৫ তে। ((তিরমিযী, বুয়ূ ১২১০; ইবনু মাজাহ, তিজারাত ২১৪৬; আহমাদ ৩/৪২৮-৪৪৪; হাকিম ২/৬।- ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীক্ব দারেমী হা/২৫৩৮ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))

সংযোজনী: এছাড়াও, তাবারাণী, কাবীর ৫/৪৪ নং ৪৫৩৯, ৪৫৪০, ৪৫৪১, ৪৫৪৩, ৫৪৪২; তাবারী, তাহযীবুল আসার, মুসনাদে আলী নং ৯২, ৯৩, ৯৪, ৯৫; আব্দুর রাযযাক নং ২০৯৯৯; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ৪৮৪৯।

ইবনু আব্বাস হতে তাবারাণী, কাবীর ১২/৬৮ নং ১২৪৯৯; তাবারী, তাহযীবুল আসার, মুসনাদে আলী নং ৯৬; ইবনু হিব্বান, আল মাজরুহীন ২/২২৪-২২৫ যঈফ সনদে।

এর শাহিদ রয়েছে মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৬৩৮৩ ও এর পরেরগুলিতে; শুয়াবুল ঈমান নং ৪৮৪৮ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2577)


أَخْبَرَنَا قَبِيصَةُ أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ عَنْ أَبِي حَمْزَةَ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ التَّاجِرُ الصَّدُوقُ الْأَمِينُ مَعَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ قَالَ عَبْد اللَّهِ لَا عِلْمَ لِي بِهِ إِنَّ الْحَسَنَ سَمِعَ مِنْ أَبِي سَعِيدٍ وَقَالَ أَبُو حَمْزَةَ هَذَا هُوَ صَاحِبُ إِبْرَاهِيمَ وَهُوَ مَيْمُونٌ الْأَعْوَرُ




২৫৭৭. আবূ সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেবর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ী নবী, সিদ্দীক ও শহীদগণের সঙ্গে থাকবে।“[1]আমার জানা নাই যে, হাসান আবী সাঈদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে শুনেছেন কি-না। তিনি আরও বলেন, এ আবী হামযাহ হলেন ইবরাহীমের সঙ্গী, আর তিনি ছিলেন সৌভাগ্যবান ও অন্ধ ব্যক্তি।

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ বিচ্ছিন্নতার কারণে যঈফ। হাসান আবী সাঈদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে শোনেননি।

তাখরীজ: তিরমিযী, বুয়ূ ১২০৯; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ ২০২৫।

এর শাহিদ রয়েছে ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হয়েছে ইবনু মাজাহ, তিজারাত ২১৩৯; তাবারাণী, আওসাত ৭৩৯০; দারুকুতনী ৩/৭; হাকিম ২/৬। ইবনু আবী হাতিম তার ইলালুল হাদীস নং ১১৫৬ তে বলেন: আমি আমার পিতাকে কাছীর বিন হিশাম, কুলছুম বিন জাওশান... সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। আামার পিতা বলেন: এ হাদীস ভিত্তিহীন, কুলছুম হাদীস বর্ণনায় দুর্বল।

আমরা বলছি: বরং এর ভিত্তি রয়েছে। আগের হাদীসটি দেখুন। আর কুলছুম বিন জাওশান সম্পর্কে: আবু হাতিম বলেন: ‘হাদীস বর্ণনায় দুর্বল’। আবূ দাউদ বলেন: ‘মুনকারুল হাদীস’ (হাদীস বর্ণনায় অস্বীকৃত)।

ইবনু হিব্বান তার মাজরুহীন ২/২৩০ বলেন: এ হলো সেই ব্যক্তিদের অন্তর্ভূক্ত যিনি বিশ্বস্ত রাবী সূত্রে ত্রুটিপূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেন এবং বিশ্বস্ত রাবী সূত্রে মিথ্যা হাদীস বর্ণনা করেন।

আর বুখারী তাকে ছিকাহ’ বা বিশ্বস্ত বলেছেন। ইবনু মাঈন বলেন, তার ব্যাপারে কোনো দোষ নেই’, ইবনু হিব্বান তাকে ‘আস সিকাত’ ৭/৩৫৬ তে উল্লেখ করেছেন। ইবনু শাহীন, তারীখ আসমাউস সিকাত নং ১১৮৩ তে বলেন, তাতে কোনো দোষ নেই’। ফলে তিনি হাদীস বর্ণনায় ‘হাসান’ বলে গণ্য হবে, আল্লাহই ভাল জানেন। দেখুন, হাশিয়া ইহইয়াউ উলুমুদ্দীন ২/৬১; মিসবাহুয যুজাজাহ ২/১৫৭-১৫৮।









সুনান আদ-দারিমী (2578)


حَدَّثَنَا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ عَنْ قَيْسٍ عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ بَايَعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى إِقَامِ الصَّلَاةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ وَالنُّصْحِ لِكُلِّ مُسْلِمٍ




২৫৭৮. জারীর ইবনু আবদুল্লাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাতে বায়’আতগ্রহণ করেছি সালাত কায়েম করার, যাকাত দেওয়ার এবং সকল মুসলিমের কল্যাণ কামনা করার।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।

তাখরীজ: বুখারী, ঈমান ৫৭; মুসলিম, ঈমান ৫৬।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭৫০৩, ৭৫০৯ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৫৪৫, ৪৫৪৬ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৮১৩ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2579)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّلْتِ حَدَّثَنَا أَبُو عَقِيلٍ يَحْيَى بْنُ الْمُتَوَكِّلِ قَالَ أَخْبَرَنِي الْقَاسِمُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ سَالِمٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّ بِطَعَامٍ بِسُوقِ الْمَدِينَةِ فَأَعْجَبَهُ حُسْنُهُ فَأَدْخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَهُ فِي جَوْفِهِ فَأَخْرَجَ شَيْئًا لَيْسَ كَالظَّاهِرِ فَأَفَّفَ بِصَاحِبِ الطَّعَامِ ثُمَّ قَالَ لَا غِشَّ بَيْنَ الْمُسْلِمِينَ مَنْ غَشَّنَا فَلَيْسَ مِنَّا




২৫৭৯. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, একদা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনার বাজারের স্তূপীকৃত খাদ্যশস্যের পাশ দিয়া যাচ্ছিলেন। ফলে খাদ্য শস্যের চাকচিক্য তাঁর চিত্তাকর্ষণ করল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্তূপের মধ্যে তার হাত ঢুকালেন । এরপর তিনি (তাঁর হাত) দিয়ে এমন কিছু খাদ্যশস্য বের করে আনলেন, যেগুলি (স্তুপের) উপরের অংশে ছিল না। তখন তিনি খাদ্যশস্যের মালিকের প্রতি অসন্তুষ্ট হলেন, অত:পর বললেনঃ “মুসলিমদের মাঝে কোনো ধোকা দেওয়া বা প্রতারণা করা যাবে না। যে ব্যক্তি আমাদেরকে ধোকা দেয় সে আমাদের দলভূক্ত নয়।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ ইয়াহইয়া ইবনুল মুতাওয়াক্কির এর দুর্বলতার কারণে। ((এর সহীহ শাহিদ থাকায় হাদীসটি সহীহ। তাখরীজে বিস্তারিত দেখুন।–অনুবাদক))

তাখরীজ: কুদায়ী, মুসনাদুশ শিহাব, নং ৩৫১; মুসলিম, ঈমান ৫৬।

আমরা এটি তাখরীজ করেছি মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৬৪২৩ তে।

এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে সহীহ মুসলিম, ঈমান ১০২ তে, আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৫২০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৯০৫ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১০৬৩ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2580)


حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ الرَّبِيعِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ سُلَيْمَانَ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا وَائِلٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِكُلِّ غَادِرٍ لِوَاءٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يُقَالُ هَذِهِ غَدْرَةُ فُلَانٍ




২৫৮০. আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “প্রত্যেক ওয়াদা ভঙ্গকারীর (বিশ্বাসঘাতকের) জন্য কিয়ামতের দিন একটি করে পতাকা হবে এবং বলা হবে: এ হলো অমুকের বিশ্বাসঘাতকতা (-এর পতাকা)।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, জিযইয়া ৩১৮৬; মুসলিম, জিহাদ ওয়াস সিয়ার ১৭৩৬; আহমাদ১/৪১১, ৪১৭, ৪৪১; বাইহাকী, সিয়ার ৯/১৪২।

এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবী সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১১০১,১২১৩, ১২৪৫ তে। আবার, এর অপর শাহিদ হাদীস রয়েছে আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে (বুখারী, ৩১৮৬, ৩১৮৭), আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩৩৮২, ৩৫২০ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2581)


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَقَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ مَعْمَرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نَافِعِ بْنِ نَضْلَةَ الْعَدَوِيِّ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَا يَحْتَكِرُ إِلَّا خَاطِئٌ مَرَّتَيْنِ




২৫৮১. মামার ইবন আবদুল্লাহ ইবনু নাফিঈ’ আল আদাবী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি: “অপরাধী লোক ব্যতীত কেউ গুদামজাত (মজুতদারী) করে না“- দু’বার (তিনি একথা বলেন)।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর রাবীগণ বিশ্বস্ত তবে মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক এটি ‘আন ‘আন’ শব্দে বর্ণনা করেছেন, আর তিনি মুদাল্লিস। তবে হাদীসটি সহীহ।

তাখরীজ: মুসলিম, মাসাকাত ১৬০৫।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৯৩৬ তে।

সংযোজনী: এছাড়াও, ইবনু সা’দ, তাবাকাত ৪/১/১০৩; ইবনুল কানি’, মু’জামুস সাহাবাহ নং ১০৬৫; খতীব, তারীখ বাগদাদ ১৪৪৭; আব্দুর রাযযাক নং ১৪৮৮৯।









সুনান আদ-দারিমী (2582)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ إِسْرَائِيلَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ سَالِمٍ عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدِ بْنِ جُدْعَانَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْجَالِبُ مَرْزُوقٌ وَالْمُحْتَكِرُ مَلْعُونٌ




২৫৮২. উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “পণ্য আমদানীকারক ব্যবসায়ী রিযিক প্রাপ্ত এবং মজুতদার অভিশপ্ত।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ।

তাখরীজ: ইবনু মাজাহ, তিজারাহ ২১৫৩; বাইহাকী, বুয়ূ ৬/৩০; আব্দ ইবনু হুমাইদ নং ৩৩; উকাইলী, আয যু’আফা ৩/৩৩২; ইবনু আদী, আল কামিল ৫/১৮৪৭; হাকিম ২/১১।

সাখাবী মাকসিদুল হাসানাহ নং ৩৬১ তে এটিকে ইবনু মাজাহ, হাকিম, ইসহাক, দারেমী, আব্দ ইবনু হুমাইদ, আবী ইয়া’লা ও উকাইলীর প্রতি সম্বোন্ধিত করেছেন এবং বলেছেন: ‘এর সনদ যঈফ’। আরও দেখুন, কাশফুল খফা’ নং ১০৫৮; আশ শাজারাহ নং ৩২০; আসনাল মাতালিব নং ৫৩৭; তালখীসুল হাবীর ৩/১৩; নাসবুর রায়াহ ৪/২৬১।