হাদীস বিএন


সুনান আদ-দারিমী





সুনান আদ-দারিমী (2583)


أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ حُمَيْدٍ وَثَابِتٍ وَقَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ قَالَ غَلَا السِّعْرُ عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ النَّاسُ يَا رَسُولَ اللَّهِ غَلَا السِّعْرُ فَسَعِّرْ لَنَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللَّهَ هُوَ الْخَالِقُ الْقَابِضُ الْبَاسِطُ الرَّازِقُ الْمُسَعِّرُ وَإِنِّي أَرْجُو أَنْ أَلْقَى رَبِّي وَلَيْسَ أَحَدٌ مِنْكُمْ يَطْلُبُنِي بِمَظْلَمَةٍ ظَلَمْتُهَا إِيَّاهُ بِدَمٍ وَلَا مَالٍ




২৫৮৩. আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে একবার জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেলো। লোকজন বললো, হে আল্লাহর রাসূল! জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে। অতএব আপনি আমাদের জন্য মূল্য বেঁধে দিন। তিনি বলেনঃ “নিশ্চয় আল্লাহই হলেন স্রষ্টা (অপর বর্ণনায়: মূল্য নিয়ন্ত্রণকারী), সংকোচনকারী, সম্প্রসারণকারী এবং রিযিক দানকারী। আমি আমার রবের সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাত করতে চাই যে, যেন আমার বিরুদ্ধে রক্তের ও সম্পদের কোনরূপ অভিযোগ তোমাদের কারো না থাকে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৭৭৪, ২৮৬১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৯৩৫ তে। ((তিরমিযী, বুয়ূ ১৩১৪, আবূ দাউদ, তিজারাহ ৩৪৫১, আহমাদ ১২১৮১, ১৩৬৪৩, ইবনু মাজাহ্, তিজারাহ ২২০০। -ফাওয়ায আহমেদের দারিমী’র হা/২৫৩৫ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (2584)


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا مَنْصُورُ بْنُ الْمُعْتَمِرِ عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ أَنَّ حُذَيْفَةَ حَدَّثَهُمْ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَلَقَّتْ الْمَلَائِكَةُ رُوحَ رَجُلٍ مِمَّنْ قَبْلَكُمْ فَقَالُوا عَمِلْتَ مِنْ الْخَيْرِ شَيْئًا فَقَالَ لَا قَالُوا تَذَكَّرْ قَالَ كُنْتُ أُدَايِنُ النَّاسَ فَآمُرُ فِتْيَانِي أَنْ يُنْظِرُوا الْمُعْسِرَ وَيَتَجَاوَزُوا عَنْ الْمُوسِرِ قَالَ قَالَ اللَّهُ تَجَاوَزُوا عَنْهُ




২৬৮৪. হুযাইফাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের পূর্ববর্তীদের মধ্যে এক ব্যক্তির রূহের সাথে ফেরেশতা সাক্ষাৎ করে (রূহ কবয করার সময়) জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি কোন নেক কাজ করেছ? লোকটি উত্তর দিল, না। তারা বললো, তুমি ভালভাবে মনে করে দেখ। তখন সে বললো, আমি লোকদেরকে (অর্থকড়ি) ধার দিতাম, আর আমি আমার কর্মচারীদের আদেশ করতাম যে, তারা যেন দরিদ্র-অভাবগ্রস্ত ব্যক্তিকে অবকাশ দেয় এবং এবং সচ্ছল ব্যক্তিদেরকে ক্ষমা করে দেয়।“ তিনি বলেন, “আল্লাহ বললেন, তোমরাও তাঁকে ক্ষমা করে দাও।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, বুয়ূ ২০৭৭, ইসতিক্বরায ২৩৯১, আহাদীসুল আম্বিয়া ৩৪৫১; মুসলিম, মাসাকাত ১৫৬০,; বাইহাকী, বুয়ূ ৫/৩৫৬; আহমাদ ৫/৩৯৫; ইবনু মাজাহ, সাদাকাত ২৪২০; তাবারাণী, কাবীর ১৭/২৩১, ২৩২, নং ৬৪২, ৬৪৩, ৬৪৪।

এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে যেটি বুখারী ও মুসলিম সম্মিলিত ভাবে বর্ণনা করেছেন। আর আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫০৪২, ৫০৪৩, ৫০৪৬।









সুনান আদ-দারিমী (2585)


أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ سَعِيدٍ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ صَالِحٍ أَبِي الْخَلِيلِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ عَنْ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْبَيِّعَانِ بِالْخِيَارِ مَا لَمْ يَتَفَرَّقَا فَإِنْ صَدَقَا وَبَيَّنَا بُورِكَ لَهُمَا فِي بَيْعِهِمَا وَإِنْ كَذَبَا وَكَتَمَا مُحِقَ بَرَكَةُ بَيْعِهِمَا




২৫৮৫. হাকীম ইবনু হিযাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ক্রেতা-বিক্রেতা যতক্ষণ পরস্পর বিচ্ছিন্ন না হয়, ততক্ষণ তাদের ইখতিয়ার থাকবে (ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন করা বা বাতিল করা)। যদি তারা সত্য বলে এবং অবস্থা ব্যক্ত করে তবে তাদের ক্রয়-বিক্রয়ে বরকত হবে আর যদি মিথ্যা বলে এবং দোষ গোপন করে তবে তাদের ক্রয়-বিক্রয়ের বরকত দূর করে দেয়া হয়।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। যারা সাঈদ ইবনু আবী আরুবাহ হতে প্রথমদিকে শ্রবণ করেছেন, সাঈদ ইবনু আমিরকে তাদের মধ্যে উল্লেখ করা হয়নি। তবে হাদীসটি (সহীহ), বুখারী ও মুসলিম সম্মিলিত ভাবে বর্ণনা করেছেন।

তাখরীজ: বুখারী, বুয়ূ ২০৯৭; মুসলিম, বুয়ূ ১৫৩২।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৯০৪ তে। সংযোজনী: এছাড়াও, বাইহাকী, মা’রিফাতুস সুনান ওয়াল আছার নং ১০৯৬৫।









সুনান আদ-দারিমী (2586)


أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ بِإِسْنَادِهِ مِثْلَهُ




২৫৮৬. কাতাদাহ হতে তার সনদে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।









সুনান আদ-দারিমী (2587)


أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي لَيْلَى عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ الْبَيِّعَانِ إِذَا اخْتَلَفَا وَالْبَيْعُ قَائِمٌ بِعَيْنِهِ وَلَيْسَ بَيْنَهُمَا بَيِّنَةٌ فَالْقَوْلُ مَا قَالَ الْبَائِعُ أَوْ يَتَرَادَّانِ الْبَيْعَ




২৫৮৭. ইবনু মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন ক্রেতা এবং বিক্রেতার মাঝে মতবিরোধ হয় এবং বিক্রয়ের মাল তাদের সামনে বিদ্যমান থাকে, আর তাদের মাঝে কোনো সাক্ষী না থাকে, তবে বিক্রেতার কথাই গ্রহণীয় হবে, নতুবা তারা উভয়ে এ লেন-দেন প্রত্যাহার করবে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। তবে হাদীসটি সহীহ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৯৮৪, ৫৪০৫ তে। ((আবূ দাউদ, বুয়ূ ৩৫১১; তিরমিযী, বুয়ূ ১২৭০; নাসাঈ, বুয়ূ ৭/৩০২-৩০৩। ফাওয়ায আহমেদের দারিমী’র হা/২৫৪৯ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (2588)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرَّقَاشِيُّ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ هُوَ ابْنُ إِسْحَقَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ شِمَاسَةَ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَا يَحِلُّ لِامْرِئٍ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ أَنْ يَبِيعَ عَلَى بَيْعِ أَخِيهِ حَتَّى يَتْرُكَهُ




২৫৮৮. উকবাহ ইবনু আমির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখে, তার জন্য তার ভাইয়ের ক্রয়-বিক্রয়ের উপর ক্রয়-বিক্রয় করা হালাল নয়, যতক্ষণ না সে তা পরিত্যাগ করে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। মুসনাদুল মাউসিলীতে ইবনু ইসহাক ‘হাদ্দাছানা’ বলে বর্ণনা করেছেন।

তাখরীজ: মুসলিম, নিকাহ ১৪১৪। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৭৬২ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2589)


حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا أَبَانُ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ عُهْدَةُ الرَّقِيقِ ثَلَاثَةُ أَيَّامٍ




২৫৮৯. উকবা ইবনু আমির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “গোলাম (ক্রয় করার পর ফেরত দেওয়ার) মেয়াদ হলো তিন দিন।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ।

তাখরীজ: আমরা এটি সম্পর্কে আমাদের পূর্ণ বক্তব্য পেশ করেছি মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৬৬০৪ তে। ((আবূ দাউদ, বুয়ূ ৩৫০৬-৩৫০৭; ইবনু মাজাহ, তিজারাত ২২৪৪-২২৪৫; আহমাদ ৪/১৫২; হাকিম ২/২১ (‘চারদিন’ শব্দে); বাইহাকী।--ফাওয়ায আহমেদের দারিমী’র হা/২৫৫১ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (2590)


أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ عَنْ هَمَّامٍ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عُهْدَةُ الرَّقِيقِ ثَلَاثٌ فَفَسَّرَهُ قَتَادَةُ إِنْ وَجَدَ فِي الثَّلَاثِ عَيْبًا رَدَّهُ بِغَيْرِ بَيِّنَةٍ وَإِنْ وَجَدَهُ بَعْدَ ثَلَاثٍ لَمْ يَرُدَّهُ إِلَّا بِبَيِّنَةٍ




২৫৯০. (অপর সনদে) উকবা ইবনু আমির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “গোলাম (ক্রয় করার পর ফেরত দেওয়ার) মেয়াদ হলো তিন দিন।“ কাতাদা এর ব্যাখ্যা করেছেন যে, যদি তিন দিনের মধ্যে দাস বা দাসীর মধ্যে কোন দোষ-ক্রটি দেখা যায়, তবে ক্রেতা কোন সাক্ষী পেশ করা ব্যতীত তা মালিকের নিকট ফেরত দিতে পারবে। আর যদি তিন দিনের পর কোন দোষ-ক্রটি প্রকাশ পায়, তখন এর জন্য (তথা এর মধ্যে যে এ দোষত্রুটি ক্রয় করার সময় বিদ্যমান ছিল, তার) সাক্ষ্য-প্রমাণ ব্যতীত একে ফেরত দিতে পারবে না।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ।

তাখরীজ: এটি আগের হাদীসটির পূনরাবৃত্তি।









সুনান আদ-দারিমী (2591)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمِنْهَالِ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ حَدَّثَنَا هِشَامٌ هُوَ ابْنُ حَسَّانَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ اشْتَرَى شَاةً مُصَرَّاةً أَوْ لَقْحَةً مُصَرَّاةً فَهُوَ بِالْخِيَارِ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ فَإِنْ رَدَّهَا رَدَّ مَعَهَا صَاعًا مِنْ طَعَامٍ لَا سَمْرَاءَ




২৫৯১. আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “যদি কোন ব্যক্তি ওলানে দুধ আটকে রাখা কোন বকরী অথবা, উষ্ট্রী ক্রয় করে, তবে তিনদিন পর্যন্ত তার ইখতিয়ার থাকবে। এরপর সে ব্যক্তি তা ফেরত দিতে চাইলে এক সা#39;আ পরিমাণ খাদ্য-শস্যসহ তা ফিরিয়ে দিতে পারবে, তবে গম দেবে না।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।

তাখরীজ: বুখারী, বুয়ূ ২১৫০; মুসলিম, বুয়ূ ১৫২৪।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬০৪৯ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৯৭০ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১০৫৮, ১০৫৯ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2592)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا يَحْيَى الْقَطَّانُ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ بَيْعِ الْغَرَرِ




২৫৯২. আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামধোঁকা বা প্রতারণাপূর্ণ ক্রয়-বিক্রয় থেকে নিষেধ করেছেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: মুসলিম, বুয়ূ ১৫১৩।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৯৫১ তে।

সংযোজনী: এছাড়াও, বাইহাকী, মা’রিফাতুস সুনান ওয়াল আছার নং ১০৯৫২।









সুনান আদ-দারিমী (2593)


أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ بَيْعِ الثِّمَارِ حَتَّى يَبْدُوَ صَلَاحُهَا نَهَى الْبَائِعَ وَالْمُشْتَرِيَ




২৫৯৩. আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, (ব্যবহারের) উপযোগিতা প্রকাশ না পাওয়া পর্যন্ত ফল বিক্রয় করতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। তিনি ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়কে এরূপ করতে নিষেধ করেছেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ শক্তিশালী।

তাখরীজ: মালিক, বুয়ূ ১০; বুখারী, বুয়ূ ২১৯৪; মুসলিম, বুয়ূ ১৫৩৪।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৪১৫, ৫৪৭৬, ৫৬১১, ৫৭৯৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৯৮১, ৪৯৮৯, ৪৯৯১ তে।

সংযোজনী: এছাড়াও, বাইহাকী, মা’রিফাতুস সুনান ওয়াল আছার নং ১১১৫৮।









সুনান আদ-দারিমী (2594)


أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ ابْتَاعَ ثَمَرَةً فَأَصَابَتْهُ جَائِحَةٌ فَلَا يَأْخُذَنَّ مِنْهُ شَيْئًا بِمَ تَأْخُذُ مَالَ أَخِيكَ بِغَيْرِ حَقٍّ




২৫৯৪. জাবির ইবনু আবদুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “কোন ব্যক্তি ফলের বাগান বিক্রয় করার পর তার উপর দুর্যোগ আপতিত (হয়ে তা বিনষ্ট) হলে, সে যেন তার ভাই (ক্রেতা) থেকে কিছুই গ্রহণ না করে। কিরূপে তুমি অন্যায়ভাবে তোমার মুসলিম ভাইয়ের মাল গ্রহণ করবে?“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: মুসলিম, মাসাকাহ ১৫৫৪।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫০৩৪, ৫০৩৫ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2595)


أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الْمُحَاقَلَةِ وَالْمُزَابَنَةِ قَالَ عَبْد اللَّهِ الْمُحَاقَلَةُ بَيْعُ الزَّرْعِ بِالْبُرِّ وَقَالُوا كَذَلِكَ يَقُولُ ابْنُ الْمُسَيَّبِ




২৫৯৫. আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘মুহাকালা’ ও ‘মুযাবানা’[1] থেকে বারণ করেছেন।[2] আব্দুল্লাহ বলেন, মুহাকালাহ হলো (আহরিত শুকনো) গমের বিনিময়ে ক্ষেতের শস্য ক্রয়-বিক্রয় করা। আর তারা বলেন, ইবনুল মুসাইয়্যিবও তা-ই বলতেন।

[1] বুখারীতে মুযাবানার ব্যাখ্যা করা হয়েছে:- শুকনো খেজুরের বিনিময়ে গাছের মাথায় অবস্থিত তাজা ফল ক্রয় করা।

আর মুসলিমে রয়েছে: ‘জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: ‘মুযানাহ’: ফলের বিনিময়ে খেজুর। এবং ‘হুকুল’: চাষের জমির ভাড়া (বর্গা দেওয়া)।’

আর সাহাবীই এ হাদীসের উদ্দেশ্য অধিক অবগত। আল্লাহই ভাল জানেন। দেখুন, বাইহাকীর মা’রিফাহ ৮/৯৩-৯৭।

[2] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান। তবে হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।

তাখরীজ: বুখারী, বুয়ূ ২১৮৬; মুসলিম, বুয়ূ ১৫৪৬।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১১৯১, ১২৬৯, ১৩১৯ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2596)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَالِمٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ قَالَ رَخَّصَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي بَيْعِ الْعَرَايَا بِالتَّمْرِ وَالرُّطَبِ وَلَمْ يُرَخِّصْ فِي غَيْرِ ذَلِكَ




২৫৯৬. আবদুল্লাহ ইবনে উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু যায়েদ ইবনে সাবিতের রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেনাবেচার ‘আরিয়া’ পদ্ধতির অধীনে শুকনো খেজুরের সাথে তাজা খেজুরের বিনিময় করার অনুমতি দিয়েছেন, কিন্তু অন্য কিছুর ক্ষেত্রে এই অনুমতি দেননি।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, বুয়ূ ২১৮৮; মুসলিম, বুয়ূ ১৫৩৯।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫০০১, ৫০০৪, ৫০০৫, ৫০০৯ তে। আরও দেখুন, বাইহাকী, মা’রিফাতুস সুনান ওয়াল আছার নং ১১২৬৪, ১১২৬৫, ১১২৬৬।

আরিইয়া: ইবনুল আসীর তার নিহায়াহ ৩/২২৪ এ বলেন: যে জন্য মুযানাবাহ থেকে তিনি নিষেধ করলেন- তা হলো গাছের মাথায় থাকা তাজা খেজুর শুকনো খেজুরের বিনিময়ে বিক্রি করা- আর মুযানাবা’র মধ্যে আরিয়া পদ্ধতিকে তিনি অনুমতি দিলেন। আর তা হলো- যার খেজুর গাছ নেই, খেজুরের প্রয়োজন রয়েছে; আবার পরিবার পরিজনের জন্য শুকনো খেুজর কেনার মতো কোনো মুদ্রা বা অর্থও তার হাতে নেই; আবার তার এমন কোনো খেজুর বাগান নেই যা থেকে তাদের খেতে দিতে পারে; তবে তার প্রয়োজনের অতিরিক্ত শুকনো খেজুর রয়েছে। এমতাবস্থায় সে খেজুরের বাগানের মালিকের নিকট এসে বললো: আনুমানিক এত পরিমাণ শুকনো খেজুরের বিনিময়ে আমার নিকট তোমার একটি কিংবা দু’টি খেজুর গাছ বিক্রি করো। তখন তার অতিরিক্ত খেজুর এ দুটি খেজুর গাছের বদলে প্রদান করা যাতে লোকদের সাথে সেও তাজা খেজুর পেতে পারে। এ পদ্ধতির অনুমতি দেয়া হয়েছে যদি তার পরিমাণ পাঁচ ওয়াসাক এর বেশি না হয়।“

(( ‘তা হল তাজা ফল অনুমানে বিক্রি করা, যাতে (ক্রেতা) তাজা খেজুর খাওয়ার সুযোগ লাভ করতে পারে। রাবী সুফইয়ান (রহ.) আর একবার এভাবে বর্ণনা করেছেন, অবশ্য তিনি [আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] আরিয়্যা এর ক্ষেত্রে অনুমতি দিয়েছেন যে, ফলের মালিক অনুমানে তাজা খেজুর বিক্রয় করে, যাতে তারা (ক্রেতাগণ) তাজা খেজুর খেতে পারে।’- বুখারী, হা/২১৯১ হতে।

ইমাম) মালিক (রহ.) বলেন, আরায়্যা এর অর্থ- কোন একজন কর্তৃক কাউকে খেজুর গাছ (তার ফল খাওয়ার জন্য) দান করা। পরে ঐ ব্যক্তির বাগানে প্রবেশের কারণে সে বিরক্তি বোধ করে, ফলে তাকে অনুমতি দেয়া হয় যে, সে শুকনো ফলের বিনিময়ে গাছগুলো (এর ফল) ঐ ব্যক্তির নিকট হতে ক্রয় করে নিবে। মুহাম্মাদ ইবনু ইদরীস [ইমাম শাফিঈ (রহ.)] বলেন, শুকনো খেজুর এর বিক্রি নগদ নগদ এবং মাপের মাধ্যমে হবে, অনুমান করে হবে না। (ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন, ইমাম শাফিঈ (রহ.) এর মতের সমর্থন পাওয়া যায় সাহাল ইবনু আবূ হাসমা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-এর এ কথা থেকে ‘‘সুনির্দিষ্ট মাপের মাধ্যমে’’। নাফি‘ (রহ.)-এর সূত্রে ইবনু ‘উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেন যে, মালিক কর্তৃক তার বাগান হতে একটি বা দুটি খেজুর গাছ দান করাকে আরাইয়া বলা হয়। সুফিয়ান ইবনু হুসাইন (রহ.) ইয়াযীদ (রহ.) হতে বর্ণনা করেন যে, আরাইয়া হলো কিছু সংখ্যক খেজুর গাছ গরীব মিসকীনদের দান করা হত, কিন্তু তারা খেজুর পাকা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারত না বিধায় তাদের অনুমতি দেয়া হতো যে, তারা যে পরিমাণ খেজুরের ইচ্ছা, তা বিক্রি করে দিবে।

মূসা ইবনু ‘উকবা (রহ.) বলেন, আরাইয়া বলা হয়, বাগানে এসে কতগুলো নির্দিষ্ট গাছের খেজুর (শুকনা খেজুরের বদলে) ক্রয় করে নেয়া।– বুখারী, বাব: আরিয়্যা’র ব্যাখ্যা’সহ হা/২১৯২।– অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (2597)


أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ ابْتَاعَ طَعَامًا فَلَا يَبِعْهُ حَتَّى يَقْبِضَهُ




২৫৯৭. ইবনে উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “কোন ব্যক্তি কোনো খাদ্যবস্তু ক্রয় করে তা পুরোপুরি হস্তগত করার পূর্বে যেন বিক্রি না করে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ শক্তিশালী।

তাখরীজ: মালিক, বুয়ূ ৪২; মুসলিম, বুয়ূ ১৫২৫, ১৫২৬, ১৫২৭।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৭৯৮, ৫৮০০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৯৮১, ৪৯৮৯, ৪৯৯১ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2598)


أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ عَنْ حُسَيْنٍ الْمُعَلِّمِ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ سَلَفٍ وَبَيْعٍ وَعَنْ شَرْطَيْنِ فِي بَيْعٍ وَعَنْ رِبْحِ مَا لَمْ يُضْمَنْ




২৫৯৮. আবদুল্লাহ্ইবন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই সঙ্গে ঋণ ও বিক্রি থেকে, এক বিক্রিতে দুই ধরণের শর্ত করা থেকে এবং যিমান’ বা লোকসানের দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত মুনাফা গ্রহণ করা থেকে নিষেধ করেছেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মাওয়ারিদুয যাম্’আন নং ১১০৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৩২১ তে। ((আহমাদ ২/১৭৪-১৭৫, ১৭৮-১৭৯, ২০৫; আবূ দাউদ, বুয়ূ ৩৫০৪; তিরমিযী, বুয়ূ ১২৩৪; নাসাঈ, বুয়ূ নং ৪৬১১, ৪৬১২; ইবনু মাজাহ, তিজারাত ২১৮৮..।– ফাতহুল মান্নান, হা/২৭২২ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))

সংযোজনী: এছাড়াও, তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ৪/৪৬; ইবনু আদী, আল কামিল ৫/১৭৩৬; দারুকুতনী ৩/৭৫। আরও দেখুন, নাসবুর রায়াহ ৪/১৮, ৪৫; তালখীসুল হাবীর ৩/১২।









সুনান আদ-দারিমী (2599)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ عَنْ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ اشْتَرَى عَبْدًا وَلَمْ يَشْتَرِطْ مَالَهُ فَلَا شَيْءَ لَهُ




২৫৯৯. আবদুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি গোলাম ক্রয় করে কিন্তু তার মাল ক্রয়ের শর্ত না করে, তাহলে সে কিছুই পাবে না।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, মাসাকাহ ২৩৭৯; মুসলিম, বুয়ূ ১৫৪৩।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৪২৭, ৫৪৬৮, ৫৪৭৯, ৫৫০৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৯২১, ৪৯২২, ৪৯২৩, ৪৯২৪ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2600)


أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ بَيْعَتَيْنِ وَعَنْ لِبْسَتَيْنِ عَنْ بَيْعِ الْمُنَابَذَةِ وَالْمُلَامَسَةِ قَالَ عَبْد اللَّهِ الْمُنَابَذَةُ يَرْمِي هَذَا إِلَى ذَاكَ وَيَرْمِي ذَاكَ إِلَى ذَا قَالَ كَانَ هَذَا فِي الْجَاهِلِيَّةِ




২৬০০. আবু সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’প্রকার ক্রয়-বিক্রয় এবং দু’ধরনের কাপড় পরিধান করতে নিষেধ করেছেন। ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্যে মুলামাসা ও মুনাবাযা[1] করতে নিষেধ করেছেন।[2] আব্দুল্লাহ বলেন, মোনাবাযা হচ্ছে এই যে, এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তির দিকে এবং অপর ব্যক্তি এই ব্যক্তির দিকে নিজ নিজ কাপড় নিক্ষেপ করবে। তিনি আরও বলেন: এটি জাহিলিয়্যাহ যুগে প্রচলিত ছিল।

[1] ((মুলামাসা: এক ব্যক্তি (ক্রেতা) অপর ব্যক্তির (বিক্রেতার) কাপড় (রাত্রে অথবা দিনের বেলায় নিজ হাতে স্পর্শ করা এবং তা ভালোভাবে উল্টে-পাল্টে না দেখা। এরপর আর তাদের ইখতিায়ার থাকবে না।

আর মোনাবাযা: হচ্ছে এই যে, এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তির দিকে এবং অপর ব্যক্তি এই ব্যক্তির দিকে নিজ নিজ কাপড় নিক্ষেপ করবে। এভাবে না দেখেই এবং পরস্পরের সম্মতি ব্যতিরেকেই ক্রয়-বিক্রয় উভয়ের জন্য বাধ্যতামূলক হয়ে যাবে।

[2] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান। তবে হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।

তাখরীজ: বুখারী, সালাত ৩৬৭; মুসলিম, বুয়ূ ১৫১২।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৯৭৬, ১১১৬ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৯৭৬, ৫৪২৭ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৭৪৭ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2601)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ بَيْعِ الْغَرَرِ وَعَنْ بَيْعِ الْحَصَاةِ قَالَ عَبْد اللَّهِ إِذَا رَمَى بِحَصًا وَجَبَ الْبَيْعُ




২৬০১. আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতারণামূলক ক্রয়-বিক্রয় এবং পাথর নিক্ষেপে নির্ধারিত ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ করেছেন।[1] আবূ মুহাম্মদ বলেন, যখন এক টুকরা পাথর নিক্ষেপ করা হবে, তখন ক্রয়-বিক্রয় বাধ্যতামুলক হয়ে যাবে।

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: মুসলিম, বুয়ূ ১৫১৩।

এর অংবিশেষ গত হয়েছে ২৫৯৬ (অণুবাদে ২৫৮৯) নং এ গত হয়েছে। ((তিরমিযী, ১২৩০, আবু দাউদ ৩৩৭৬, নাসাঈ ৪৫১৮; ইবনু মাজাহ ২১৯৪-অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (2602)


أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ وَجَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ عَنْ سَعِيدٍ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ بَيْعِ الْحَيَوَانِ بِالْحَيَوَانِ نَسِيئَةً ثُمَّ إِنَّ الْحَسَنَ نَسِيَ هَذَا الْحَدِيثَ وَلَمْ يَقُلْ جَعْفَرٌ ثُمَّ إِنَّ الْحَسَنَ نَسِيَ هَذَا الْحَدِيثَ




২৬০২. সামুরা ইবনে জুনদুব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পশুর বিনিময়ে পশু ধারে ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।এরপর হাসান এ হাদীস ভুলে যান। কিন্তু জা’ফর (তার বর্ণনায়) একথা উল্লেখ করেন নি যে, ‘এরপর হাসান এ হাদীস ভুলে যান।’[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। সাঈদ ও জা’ফর উল্লেখ করেননি যে, ইবনু আবী আরুবাহ পূর্বে শুনেছেন কি-না। তবে তাদের মুতাবিয়াত বর্ণনা রয়েছে যে তারা পূর্বেই শুনেছেন যেমন আমরা তাখরীজে উল্লেখ করেছি। তবে সামুরাহ হতে হাসানের শ্রবন প্রমাণিত নয়। ফলে সনদটি বিচ্ছিন্ন।

তাখরীজ: আহমাদ ৫/১২, ১৯; নাসাঈ, বুয়ূ ৭/২৯২; কুবরা ৭/২০৫ নং ৬৮৫১; ইবনু মাজাহ, তিজারাত ২২৭০; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার৪/৬০; তাবারাণী, কাবীর নং ৬৮৪৯; বাইহাকী, বুয়ূ ৫/২৮৮; আবূ দাউদ, zwj;বুয়ূ ৩৩৫৬; তিরমিযী, zwj;বুয়ূ ১২৩৭; খতীব, তারীখ বাগদাদ ২/৩৫৪।

তবে এর অনেকগুলি সূত্র ও শাহিদ রয়েছে যা একে শক্তিশালী করে। দেখুন, আমাদের তাহক্বীক্বৃকত মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৬৫৯৩, ৬৫৯৪, ৬৫৯৫, ৬৫৯৬।

এর শাহিদ রয়েছে ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫০২৮ ও মাজমাউয যাওয়াইদ নং ১১১৩ তে।