হাদীস বিএন


সুনান আদ-দারিমী





সুনান আদ-দারিমী (2723)


أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا الْعَوَّامُ بْنُ حَوْشَبٍ قَالَ حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ مُرَّةَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى عَنْ عَلِيٍّ قَالَ أَتَانَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى وَضَعَ قَدَمَهُ بَيْنِي وَبَيْنَ فَاطِمَةَ فَعَلَّمَنَا مَا نَقُولُ إِذَا أَخَذْنَا مَضَاجِعَنَا ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ تَسْبِيحَةً وَثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ تَحْمِيدَةً وَأَرْبَعًا وَثَلَاثِينَ تَكْبِيرَةً قَالَ عَلِيٌّ فَمَا تَرَكْتُهَا بَعْدُ فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ وَلَا لَيْلَةَ صِفِّينَ قَالَ وَلَا لَيْلَةَ صِفِّينَ




২৭২৩. আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের এখানে আসলেন এবং আমার ও ফাতিমা’র মাঝে পা দিয়ে (বসে) পড়লেন। এরপর তিনি আমাদেরকে শিক্ষা দিলেন, যা আমরা ঘুমানোর উদ্দেশে বিছানায় যাওয়ার সময় বলবো যে: তেত্রিশবার ‘সুবহানাল্লাহ’, তেত্রিশবার আল হামদুলিল্লাহ’ ও চৌত্রিশ বার ‘আল্লাহ্ আকবার’। আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এরপর থেকে আমি আর কখনো এটা পরিত্যাগ করিনি। তাকে এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলো, এমনকি সিফফীনের রাতেও না? তিনি বললেন, সিফফীনের রাতেও না।’[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম উভয়ে সমন্বিতভাবে বর্ণনা করেছেন।

তাখরীজ: বুখারী, ফারযুল খুমুস ৩১১৩; মুসলিম, যিকর ওয়াদ zwj;দু’আ ২৭২৭।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৭৪, ৩৪৫, ৫৫১, ৫৭৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৫২৪, ৫৫২৯ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪৩ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2724)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا اسْتَيْقَظَ قَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ




২৭২৪. হুযাইফাহ ইবনু ইয়ামান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঘুম থেকে জেগে উঠতেন তখন বলতেনঃ “যাবতীয় প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের মৃত্যুদানের পর আবার আমাদের পুনর্জীবিত করেছেন। আর প্রত্যাবর্তন তো তাঁর দিকেই।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ বুখারীর শর্তানুযায়ী সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, দাওয়াত ৬৩১২।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৫৩২, ৫৫৩৯ তে।

সংযোজনী: আদাবুল মুফরাদ ১২০৫; ইবনুস সু্ন্নী, আমলূল ইয়াওমু ওয়াল লাইলাহ নং ৭০৭; খতীব, তারীখ বাগদাদ ১২/৪৪২।









সুনান আদ-দারিমী (2725)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ الْحِزَامِيُّ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ قَالَ حَدَّثَنِي عُمَيْرُ بْنُ هَانِىءٍ الْعَنْسِيُّ قَالَ حَدَّثَنِي جُنَادَةُ بْنُ أَبِي أُمَيَّةَ قَالَ حَدَّثَنِي عُبَادَةُ بْنُ الصَّامِتِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ تَعَارَّ مِنْ اللَّيْلِ فَقَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَاللَّهُ أَكْبَرُ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ ثُمَّ قَالَ رَبِّ اغْفِرْ لِي أَوْ قَالَ ثُمَّ دَعَا اسْتُجِيبَ لَهُ فَإِنْ عَزَمَ فَتَوَضَّأَ ثُمَّ صَلَّى قُبِلَتْ صَلَاتُهُ




২৭২৫. উবাদাহ ইবনু সামিত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রাতে জেগে ওঠে বলে- ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়্যিন ক্বদীর। সুবহানাল্লাহি ওয়াল আলহামদু লিল্লাহি ওয়া আল্লাহু আকবার ওয়া লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।’ ‘রব্বিগফিরলী’

(অর্থ: ‘এক আল্লাহ্ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই। তিনি এক তাঁর কোন শরীক নেই। রাজ্য তাঁরই। যাবতীয় প্রশংসা তাঁরই। তিনিই সব কিছুর উপরে শক্তিমান। যাবতীয় হাম্দ আল্লাহরই জন্য, আল্লাহ্ তা‘আলা পবিত্র, আল্লাহ্ ব্যতীত সত্য কোন ইলাহ নেই। আল্লাহ্ মহান, গুনাহ হতে বাঁচার এবং নেক কাজ করার কোন শক্তি নেই আল্লাহর তাওফীক ব্যতীত।’) অতঃপর বলে, ‘রব্বিগফিরলী’ (‘হে আল্লাহ্! আমাকে ক্ষমা করুন।)’ বা (অন্য কোন) দু‘আ করে, তাঁর দু‘আ কবূল করা হয়। অতঃপর উযূ করে সালাত আদায় করলে তার সালাত কবূল করা হয়।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, তাহাজ্জুদ ১১৫৪।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৫৯৬ তে।

সংযোজনী: আবূ নুয়াইম, হিলইয়া ৫/১৫৯; আবূ নুয়াইম বলেন, ‘সহীহ, আমির ইবনু হানী ও আওযাঈ’র হাদীসটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।









সুনান আদ-দারিমী (2726)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى عَنْ أَبِيهِ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَصْبَحَ قَالَ أَصْبَحْنَا عَلَى فِطْرَةِ الْإِسْلَامِ وَكَلِمَةِ الْإِخْلَاصِ وَدِينِ نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ وَمِلَّةِ أَبِينَا إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا مُسْلِمًا




২৭২৬. আব্দুল্লাহ ইবনু আব্দুর রহমান ইবনু আবযা তার পিতা সূত্রে বর্ণনা করেন তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকালবেলায় বলতেন: “আসবাহনা আলা ফিতরাতিল ইসলাম ওয়া কালিমাতিল ইখলাসি ওয়া দীনি নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদিন ওয়া মিল্লাতি আবীনা ইবরাহীমা হানিফান মুসলিমান। (অর্থ: আমরা স্বভাব ধর্ম ইসলামের উপর, ইখলাসের কালিমার উপর, আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দীনের উপর এবং আমাদের পিতা ইবরাহীম (আ.) এর মিল্লাতের উপর একনিষ্ঠ মুসলিম হিসেবে সকাল করলাম।)[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। আব্দুল্লাহ ইবনু আব্দুর রহমানকে আহমাদ ও ইবনু হিব্বান ‘ছিকাহ’ বা বিশ্বস্ত বলেছেন।

তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৯/৭৭ নং ৬৫৯১; ইবনুস সুন্নী, আমলুল ইয়াওমু ওয়াল লাইলাহ নং ৩৪; আহমাদ ৩/৪০৬( বুখারীর শর্তানুযায়ী সহীহ), ৪০৭।









সুনান আদ-দারিমী (2727)


أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ يَعْلَى بْنِ عَطَاءٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ عَاصِمٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ أَبُو بَكْرٍ يَا رَسُولَ اللَّهِ مُرْنِي بِشَيْءٍ أَقُولُهُ إِذَا أَصْبَحْتُ وَإِذَا أَمْسَيْتُ قَالَ قُلْ اللَّهُمَّ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ رَبَّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيكَهُ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِي وَمِنْ شَرِّ الشَّيْطَانِ وَشِرْكِهِ قَالَ قُلْهُ إِذَا أَصْبَحْتَ وَإِذَا أَمْسَيْتَ وَإِذَا أَخَذْتَ مَضْجَعَكَ




২৭২৭. আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু একদিন বললেনঃ ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমাকে এমন কিছু বিষয় বলুন যা আমি সকাল সন্ধ্যা পাঠ করতে পারি।

তিনি বললেনঃ “বলুন, ‘আল্লাহুম্মা ফাতিরিস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ, আলিমিল গইবী ওয়াশ শাহাদাতি, রব্বি কুল্লি শাইয়্যিন ওয়া মালিকাহু, আশহাদু আন লা-ইলাহা ইল্লা আনতা, আউযুবিকা মিন শাররি নাফসী, ওয়া মিন শাররিশ শায়তানি ওয়া শিরকিহ।“

(অর্থ: হে আল্লাহ ! যিনি অদৃশ্য ও দৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা যিনি প্রতিটি বস্ত্তর প্রতিপালক ও নিয়ন্ত্রক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে কোন ইলাহ নেই তুমি ছাড়া। তোমারই নিকট পানাহ চাই আমার নফসের মন্দ থেকে এবং শয়তানের ক্ষতি ও তার শিরক থেকে।) তিনি বললেনঃ “সকাল, সন্ধ্যা এবং শয্যাগ্রহণের সময় তুমি এই দু’আ পাঠ করবে।“ [1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭৭ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৯৬২ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৩৪৯ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2728)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ الْمُقْرِئُ حَدَّثَنَا سَعِيدٌ هُوَ ابْنُ أَبِي أَيُّوبَ عَنْ أَبِي مَرْحُومٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ مُعَاذِ بْنِ أَنَسٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ لَبِسَ ثَوْبًا فَقَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي كَسَانِي هَذَا وَرَزَقَنِيهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِنِّي وَلَا قُوَّةٍ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ




২৭২৮. সাহল ইবনু মুআয ইবনু আনাস থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “যে ব্যক্তি কোনো পোশাক পরিধান করে একথাগুলি বলে, ‘‘আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী কাসানী হাযা ওয়া রযাক্বানীহি মিন গাইরি হাওলিম মিন্নী ওয়ালা কুওয়াতিন’’ (অর্থ: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা‘আলার জন্য যিনি আমাকে আমার শক্তি ও ক্ষমতা ব্যতীত এটি পরিধান করিয়েছেন ও তা রিযিকরুপে দান করেছেন’), তাহলে তার পূর্ববর্তী গুনাহসমুহ মাফ করে দেয়া হবে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।

তাখরীজ: আহমাদ ৩/৪৩৯; আবূ দাউদ, লিবাস ৪০২৩; তিরমিযী, দাওয়াত ৩৪৫৪; ইবনুস সু্ন্নী, আমলূল ইয়াওমু ওয়াল লাইলাহ নং ২৭১; ইবনু মাজাহ, আতইমাহ ৩২৮৫; হাকিম৪/১৬২ হাসান সনদে।









সুনান আদ-দারিমী (2729)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ يَعْنِي ابْنَ بِلَالٍ عَنْ رَبِيعَةَ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ سَعِيدٍ عَنْ أَبِي حُمَيْدٍ أَوْ أَبِي أُسَيْدٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا دَخَلَ أَحَدُكُمْ الْمَسْجِدَ فَلْيَقُلْ اللَّهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ وَإِذَا خَرَجَ فَلْيَقُلْ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ




২৭২৯. আবূ হুমাইদ অথবা আবী উসাইদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশকালে যেন বলেঃ “আল্লাহুম্মাফতাহলী আবওয়াবা রহমতিকা’ (অর্থ: হে আল্লাহ্! আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করে দিন) এবং বের হওয়ার সময় যেন বলেঃ “আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা মিন ফাযলিকা’ (অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আপনার অনুগ্রহ প্রার্থনা করি’)।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন ৭১৩; আহমাদ ৩/৪৯৭, ৫/৪২৫; নাসাঈ, মাসাজিদ ২/৫৩; ইবনুস সু্ন্নী, আমলূল ইয়াওমু ওয়াল লাইলাহ নং ১৭৭; ইবনু হিব্বান নং ২০৪৯।

এর শাহিদ হাদীস রয়েছে ফাতিমা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৭৫৪ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2730)


أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا أَزْهَرُ بْنُ سِنَانٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ وَاسِعٍ قَالَ قَدِمْتُ مَكَّةَ فَلَقِيتُ بِهَا أَخِي سَالِمَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ فَحَدَّثَنِي عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ دَخَلَ السُّوقَ فَقَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ حَيٌّ لَا يَمُوتُ بِيَدِهِ الْخَيْرُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ كَتَبَ اللَّهُ لَهُ أَلْفَ أَلْفِ حَسَنَةٍ وَمَحَا عَنْهُ أَلْفَ أَلْفِ سَيِّئَةٍ وَرَفَعَ لَهُ أَلْفَ أَلْفِ دَرَجَةٍ قَالَ فَقَدِمْتُ خُرَاسَانَ فَلَقِيتُ قُتَيْبَةَ بْنَ مُسْلِمٍ فَقُلْتُ إِنِّي أَتَيْتُكَ بِهَدِيَّةٍ فَحَدَّثْتُهُ فَكَانَ يَرْكَبُ فِي مَوْكِبِهِ فَيَأْتِي السُّوقَ فَيَقُومُ فَيَقُولُهَا ثُمَّ يَرْجِعُ




২৭৩০. সালিম ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উমার তার পিতার সূত্রে তার পিতামহ উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “কেউ যদি বাজারে প্রবেশ করে এই দু’আটি পাঠ করে: “‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ইউহয়ী ওয়া ইইমিতু ওয়াহুয়া হাইয়্যূ লা ইয়ামুতু বিইয়াদিহিল খাইর, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়্যিন ক্বদীর“ (অর্থ: ‘এক আল্লাহ্ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই। তিনি এক তাঁর কোন শরীক নেই। রাজ্য তাঁরই। যাবতীয় প্রশংসা তাঁরই। তিনিই জীবিত করেন, এবং তিনিই মৃত্যু দেন, তিনি চিরঞ্জীব, তিনি কখনো মৃত্যুবরণ করেন না, সকল কল্যাণ তাঁরই হাতে, তিনিই সব কিছুর উপরে শক্তিমান’) তবে আল্লাহ তা’আলা তার জন্য দশ লক্ষ সাওয়াব লিখবেন, দশ লক্ষ গুনাহ মাফ করে দিবেন এবং তার দশ লক্ষ মর্যাদা বুলন্দ করে দিবেন।“[1] তিনি বলেন, আমি খুরাসানে কুতাইবা ইবনু মুসলিমের সাক্ষাতে গিয়ে তাকে বললাম, আমি আপনার জন্য একটি হাদিয়া নিয়ে এসেছি, এ বলে আমি তাকে হাদীসটি বর্ণনা করলাম। এরপর থেকে তার বাহনে আরোহী হয়ে তিনি বাজারে আসতেন, এরপর দাঁড়িয়ে এ দু’আটি বলতেন এরপর সেখান থেকে ফিরে যেতেন।

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, আযহার বিন সিনান এর দুর্বলতার কারণে।

তাখরীজ: তিরমিযী, দাওয়াত ৩৪২৪; ইবনু মাজাহ, তিজারাত ২২৩৫; ইবনুস সু্ন্নী, আমলূল ইয়াওমু ওয়াল লাইলাহ নং ১৮২; বাযযার, বাহরুয যুখার নং ১২৪, ১২৫; ১২৬ যঈফ সনদে; আবী হাতিম, ইলাল নং ২০৩৮; হাকিম ১/৫৩৯; আবূ নুয়াইম, যিকরু আখবারিল আসবাহান ২/১৮০, হিলইয়া ৮/২৮০; আবীশ শাইখ, তাবাকাতুল মুহাদ্দিসীন বিআসবাহান ২/১৭৪ নং ১৮৫; ইবনু আদী, আল কামিল ৫/১৭৮৬; দাওলাবী, আল কুন্নী ১/১২৯; তাবারাণী, কাবীর ১২/৩০০ নং ১৩১৭৫।

হাকিম বলেন, এ বাবে জাবির, আবী হুরাইরা, বুরাইদা আল আসলামী ও আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন হতে হাদীস বর্ণিত আছে।’

………..

মুনযিরী তারগীব ২/৫৩১ এ বলেন, এর সনদ মুত্তাসিল হাসান। নির্ভরযোগ্য ছিকাহ রাবী হতে বর্ণিত। আর আযহার ইবনু সিনান সম্পর্কে ইবনু আদী বলেন, আমি আশা করি তার ব্যাপারে ‘কোনো দোষ নেই’...।

আর আমরা আগের পরের আলোচনা থেকে এ কথা বলতে পারি যে, হাদীসটি তার অনেকগুলি সনদ ও শাহিদ থাকার কারণে হাসান হবে। আল্লাহই ভাল জানেন।









সুনান আদ-দারিমী (2731)


أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ هِشَامٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَسَمَّوْا بِاسْمِي وَلَا تَكَنَّوْا بِكُنْيَتِي




২৭৩১. আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “আমার নামে তোমরা নাম রেখ; কিন্তু আমার উপনামে (কুনিয়াতে) তোমরা উপনাম রেখ না।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম উভয়ে সমন্বিতভাবে বর্ণনা করেছেন।

তাখরীজ: বুখারী, ইলম ১১০; মুসলিম, আদাব ২১৩৪।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬১০২, ৬১২২, ৬৫৩০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৮১২ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১১৭৮ তে।

এ মাসআলার ক্ষেত্রে আলিমগণের মতভিন্নতা দেখতে চাইলে দেখুন, শারহু মুসলিম, ৪/৮৪২, ৮৪৩; ফাতহুল বারী ১০/৫৭১, ৫৭৪।









সুনান আদ-দারিমী (2732)


حَدَّثَنَا عَفَّانُ بْنُ مُسْلِمٍ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ أَخْبَرَنَا دَاوُدُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي زَكَرِيَّا الْخُزَاعِيِّ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّكُمْ تُدْعَوْنَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِأَسْمَائِكُمْ وَأَسْمَاءِ آبَائِكُمْ فَأَحْسِنُوا أَسْمَاءَكُمْ




২৭৩২. আবূ দারদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে তোমাদের স্ব-স্ব নাম ও তোমাদের পিতার নাম সহকারে ডাকা হবে। অতএব তোমরা সুন্দর নাম রাখবে।“ [1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৮১৮ ও মাওয়ারিদুয যাম্’আন নং ১৯৪৪ তে।

সংযোজনী: এছাড়া, ইবনু হাজার, ফাতহুল বারী ১০/৫৭৭ এ এটি উল্লেখ করে একে আবূ দাউদ ও ইবনু হিব্বানের প্রতি সম্পর্কিত করেছেন। এবং তিনি বলেছেন: তবে এর সনদে ‘ইনকিতা’ বা বিচ্ছিন্নতা রয়েছে।’ আরও দেখুন, তারগীব ওয়াত তারহীব ৩/৬৯।









সুনান আদ-দারিমী (2733)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ أَخْبَرَنَا عَبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَحَبُّ الْأَسْمَاءِ إِلَى اللَّهِ عَبْدُ اللَّهِ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ




২৭৩৩. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “আল্লাহর কাছে সব চাইতে প্রিয় নাম হলো ‘আবদুল্লাহ’ এবং ‘আবদুর রহমান’।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : ((এর সনদ হাসান- যা মুহাক্কিক্ব টীকার শেষে উল্লেখ করেছেন- অনুবাদক))

তাখরীজ: আহমাদ ২/২৪, ১২৮; ইবনু আবী শাইবা ৮/৬৬৭ নং ৫৯৬২; ইবনু মাজাহ, আদাব ৩৭২৮; তিরমিযী, আদাব ২৮৩৬; ইবনু আদী, আল কামিল ৪/১৪৬০ এ সনদটি হাসান।

মুসলিম, আদাব ২১৩২; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ৩৩৬৭; আবূ দাউদ, আদাব ৪৯৪৯; তাবারাণী, কাবীর ১২/৩৭০ নং ১৩৩৭৪; বাইহাকী, যাহাইয়া ৯/৩০৬;

খতীব, তারীখ বাগদাদ ১০/৩২৩।

তিরমিযী ২৮৩৫; হাকিম ৪/২৭৪; খতীব, আলমুত্তাফাকু ওয়াল মুফতারিক্বু ৩/১৪৮৯ নং ৯০৭। ((এরপর মুহাক্বিক্ব এ সনদটিকে জাইয়্যেদ বলেছেন, অত:পর এর রাবী আলী ইবনু সালিহ আল মাক্কী সম্পর্কে মুহাদ্দিসগণের ইখতিলাফ উল্লেখ করেন। …))

এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৭৭৮ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2734)


أَخْبَرَنَا زَكَرِيَّا بْنُ عَدِيٍّ حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ عَنْ الرُّكَيْنِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ سَمُرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى أَنْ نُسَمِّيَ أَرِقَّاءَنَا أَرْبَعَةَ أَسْمَاءٍ أَفْلَحُ وَنَافِعٌ وَرَبَاحٌ وَيَسَارٌ




২৭৩৪. সামুরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দাস-দাসীদের চারটি নাম রাখতে নিষেধ করেছেন; আর তা হলোঃ আফলাহ, নাফি’ ও রাবাহ, ইয়াসার।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: মুসলিম, আদাব ২১৩৬।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৮৩৭, ৫৮৩৮, ৫৮৩৯ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2735)


حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ هُوَ ابْنُ سَلَمَةَ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ أُمَّ عَاصِمٍ كَانَ يُقَالُ لَهَا عَاصِيَةُ فَسَمَّاهَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَمِيلَةَ




২৭৩৫. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ উম্মু আসিমকে ‘আসিয়াহ’ নামে ডাকা হতো, অত:পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নাম রাখেন ‘জামিলা’।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: মুসলিম, আদাব ২১৩৯।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৮১৯, ৫৮২০ তে।

সংযোজনী: এছাড়াও, ইবনু সা’দ, আত তাবাকাত ৩/১/১৯০।









সুনান আদ-দারিমী (2736)


حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ حَدَّثَنَا عَطَاءُ بْنُ أَبِي مَيْمُونَةَ عَنْ أَبِي رَافِعٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ كَانَ اسْمُ زَيْنَبَ بَرَّةَ فَسَمَّاهَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ زَيْنَبَ




২৭৩৬. আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, আগে যাইনাবের নাম ছিল বাররা। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নাম রাখেন যায়নব।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, আদাব ৬১৯২; মুসলিম, আদাব ২১৪১।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৮৩০ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2737)


أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ عَنْ الطُّفَيْلِ أَخِي عَائِشَةَ قَالَ قَالَ رَجُلٌ مِنْ الْمُشْرِكِينَ لِرَجُلٍ مِنْ الْمُسْلِمِينَ نِعْمَ الْقَوْمُ أَنْتُمْ لَوْلَا أَنَّكُمْ تَقُولُونَ مَا شَاءَ اللَّهُ وَشَاءَ مُحَمَّدٌ فَسَمِعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لَا تَقُولُوا مَا شَاءَ اللَّهُ وَشَاءَ مُحَمَّدٌ وَلَكِنْ قُولُوا مَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ شَاءَ مُحَمَّدٌ




২৭৩৭. আয়িশার ভাই তুফাইল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। মুশরিকদের এক ব্যক্তি মুসলিমদের এক ব্যক্তিকে বললো, তোমরা কতই না উত্তম জাতি, যদি তোমরা একথা না বলে থাকতে যে, ‘‘আল্লাহ্ যা ইচ্ছা করেন এবং মুহাম্মাদ যা ইচ্ছা করেন।’’ অতঃপর সে কথাটি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুনে ফেললেন। তখন তিনি বললেন: “তোমরা একথা বলবে না যে, ‘আল্লাহ্ যা ইচ্ছা করেন এবং মুহাম্মাদ যা ইচ্ছা করেন।’ বরং তোমরা বলবে, ‘আল্লাহ্ যা ইচ্ছা করেন, এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা চান’।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: ইবনুল কানি’, মু’জামুস সাহাবাহ নং ৪৮৯। পূর্ণ তাখরীজের জন্য দেখুন, সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৭২৫ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৯৯৮ ও মুসনাদুল মাউসিলী ৮/১১৯।

আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন, মাউসিলী নং ৪৬৫৫ আর সেখানে আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি।









সুনান আদ-দারিমী (2738)


أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدٌ هُوَ ابْنُ إِسْحَقَ عَنْ صَالِحِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَقُولُوا لِحَائِطِ الْعِنَبِ الْكَرْمُ إِنَّمَا الْكَرْمُ الرَّجُلُ الْمُسْلِمُ




২৭৩৮. আবূ হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “তোমরা আঙ্গুর বাগানকে ‘কারম’ বলো না, কেননা, প্রকৃতপক্ষে ‘কারম’ হলো মুসলিম ব্যক্তি।“ [1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, তবে হাদীসটি সহীহ, এটি বুখারী ও মুসলিম সম্মিলিতভাবে বর্ণনা করেছেন।

তাখরীজ: বুখারী, আদাব ৬১৮২; মুসলিম, আলফাজ ২২৪৭।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৯২৯,৬৩১৫, ৬৩৩৬ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৮৩২, ৫৮৩৩, ৫৮৩৪ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১১৩০ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2739)


حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدٍ عَنْ أَنَسٍ قَالَ كَانَ غُلَامٌ يَسُوقُ بِأَزْوَاجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا أَنْجَشَةُ رُوَيْدًا سَوْقَكَ بِالْقَوَارِيرِ




২৭৩৯. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একটি গোলাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিনীগণকে নিয়ে উট হাকিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি (গোলামটিকে) বললেন: “হে আনজাশা! তোমার কাঁচপাত্র (রূপী স্ত্রীলোকদের)কে নিয়ে ধীরে চালাও।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদের কোনো নাকও নেই, লাগামও (আগা-মাথা কিছুই) নেই। তবে হাদীসটি সহীহ, এটি বুখারী ও মুসলিম সম্মিলিতভাবে বর্ণনা করেছেন।

তাখরীজ: বুখারী, আদাব ৬১৪৯; মুসলিম, আলফাজ ২৩২৩।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৮০৯, ২৮১০, ২৮৬৮, ৩১২৬, ৪০৬৪, ৪০৭৫ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৮০১, ৫৮০২, ৫৮০৩ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১২৪৩ তে।

সংযোজনী: ইবনু সা’দ, ৮/৩১৫, রমহরমুযী, আমছালুল হাদীস ৮৭, ৮৮; আবূ নুয়াইম, হিলইয়া ৩/১০৬।









সুনান আদ-দারিমী (2740)


أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا بَهْزُ بْنُ حَكِيمٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ وَيْلٌ لِلَّذِي يُحَدِّثُ فَيَكْذِبُ لِيُضْحِكَ بِهِ الْقَوْمَ وَيْلٌ لَهُ وَيْلٌ لَهُ




২৭৪০. বাহয ইবন হাকীম তার পিতা সূত্রে তার পিতামহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, “ধ্বংস সেই ব্যক্তির জন্য, যে লোকদের হাসানোর উদ্দেশ্যে কথা বলতে গিয়ে মিথ্যা বলে; তার জন্য ধ্বংস; তার জন্য ধ্বংস।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ।

তাখরীজ: আহমাদ ৫/২, ৩, ৭; হাকিম নং ১৪৪; আব্দুল্লাহ ইবনু মুবারক, যুহদ নং ৭৩৩; নাসাঈ, কুবরা ১১৬৫৫; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ৪১৩০;

আবূ দাউদ, আদাব ৪৯৯০; তিরমিযী, যুহদ ২৩১৬; তাবারাণী, কাবীর ১৯/৪০৩ নং ৯৫০; খতীব, তারীখ বাগদাদ ৪/৪, ৭/১৩৩-১৩৪।









সুনান আদ-দারিমী (2741)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَقَ عَنْ يَعْقُوبَ بْنِ عُتْبَةَ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ صَدَّقَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُمَيَّةَ بْنَ أَبِي الصَّلْتِ فِي بَيْتَيْنِ مِنْ الشِّعْرِ فَقَالَ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :رَجُلٌ وَثَوْرٌ تَحْتَ رِجْلِ يَمِينِهِ وَالنَّسْرُ لِلْأُخْرَى وَلَيْثٌ مُرْصَدُ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَدَقَ قَالَ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :وَالشَّمْسُ تَطْلُعُ كُلَّ آخِرِ لَيْلَةٍ حَمْرَاءَ يُصْبِحُ لَوْنُهَا يَتَوَرَّدُ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَدَقَ قَالَ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :تَأْبَى فَمَا تَطْلُعُ لَنَا فِي رِسْلِهَا إِلَّا مُعَذَّبَةً وَإِلَّا تُجْلَدُ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَدَقَ




২৭৪১. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহ zwj;আলাইহি ওয়া সাল্লাম (কবি) উমাইয়া ইবনু আবী সালতের দু’টি পংক্তিকে সত্যায়ন করেছেন। (তাতে) সে বলেছিল:

‘(আরশ বহনকারী ফিরিশতাগণ হলেন[1]:) একজন পুরুষ (আকৃতির), (অপর) একটি ষাঁড় (আকৃতির, যারা রয়েছে) তাঁর ডান পায়ের নীচে, আরেকটি ঈগল (আকৃতির), সিংহ(আকৃতির অপরটি) সদা প্রস্তুত।’

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে সত্যই বলেছে।

তিনি বলেন,

‘আর প্রত্যেক নিশি শেষে সুর্য উদিত হয়, চমতকার রক্তিম বর্ণে সুশোভিত হয়ে।’

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে সত্যই বলেছে।

তখন এক ব্যক্তি বললো,

সুর্য প্রত্যাবর্তন করে আমাদের উপর ধীরে ধীরে উদিত হয়, কেবল শাস্তিপ্রাপ্ত ও আঘাতপ্রাপ্ত হিসেবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে সত্যই বলেছে।[2]

[1] ((অনুবাদকের টীকা: এগুলি ইবনু খুযাইমা, বাইহাকী ও অন্যান্য আলিমগণ কুরাআন সুন্নাহয় বর্ণিত মহান আল্লাহর কোনো কোনো সিফাতের বর্ণনায় নিয়ে এসেছেন। বিস্তারিত দেখুন, ফাতহুল মান্নান, হা/২৮৬৮ এর টীকাটি))

[2] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ।

তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৮/৬৯৩ নং ৬০৬৪; ইবনু আবী আসিম, আসসুন্নাহ ১/২৫৬ নং ৫৭৯; তাবারাণী, কাবীর ১১/২৩৩ নং ১১৫৯১; ইবনু আব্দুল বারর, আত তামহীদ ৪/৮-৯; ইবনু কাছীর, আল বিদায়া ১/১২। ইবনু কাছীর বলেন, এ হাদীসের সনদ সহীহ, রাবীগণ সকলেই বিশ্বস্ত।’

আমি বলছি: রাবীগণ সকলেই বিশ্বস্ত, কথাটি সত্য, তবে এর সনদ সহীহ হওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়। কেননা, ইবনু ইসহাক এটি ‘আন আন’ শব্দে বর্ণনা করেছেন, আর তিনি মুদাল্লিস।

এছাড়া, আহমাদ, মুসনাদ ও তাঁর ছেলে, যাওয়াইদ আলাল মুসনাদ ১/২৫৬; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ৪/২৯৯; বাইহাকী, আসমা ওয়াস সিফাত পৃ: ৩৬০ (যঈফ সনদে)।









সুনান আদ-দারিমী (2742)


أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ زِيَادٍ هُوَ ابْنُ سَعْدٍ أَخْبَرَنِي أَنَّ ابْنَ شِهَابٍ أَخْبَرَهُ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ هِشَامٍ عَنْ مَرْوَانَ بْنِ الْحَكَمِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْأَسْوَدِ بْنِ عَبْدِ يَغُوثَ عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ مِنْ الشِّعْرِ حِكْمَةً




২৭৪২. ‘উবাই ইবনু কা‘ব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “নিশ্চয়ই কোন কোন কবিতার মধ্যে জ্ঞানের কথাও আছে।“ [1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। ইবনু জুরাইজ এটি ‘আন আন’ শব্দে বর্ণনা করেছেন, তবে আহমাদে তিনি ‘হাদ্দাছানা’ বলে বর্ণনা করেছেন। (ফলে আহমাদের সনদটি জাইয়্যেদ- যা পরে উল্লেখিত হয়েছে।’

তাখরীজ: বুখারী, আদাবুল মুফরাদ নং ৮৫৮, ৮৬৪; আস সহীহ, আদাব ৬১৪৫; আহমাদ ৫/১২৫ জাইয়্যেদ সনদে; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ৩৩৯৮; বাইহাকী; হাজ্জ ৫/৬৮, শাহাদাত ১০/২৩৭; মা’রিফাতুস সুনান ওয়াল আছার নং ২০২১০; আহমাদ, মুসনাদ ও আব্দুল্লাহ ইবনু আহমাদ, যাওয়াইদ আলাল মুসনাদ ৫/১২৫; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ৪/২৯৭; ইবনু আবী শাইবা ৮/৬৯১ নং ৬০৫৬; আবূ দাউদ, আদাব ৫০১০; ইবনু মাজাহ, আদাব ৩৭৫৫; আব্দুর রাযযাক, নং ২০৪৯৯; তায়ালিসী ২/৬৬ নং ২২২০, এ সনদটি সহীহ।