হাদীস বিএন


সুনান আদ-দারিমী





সুনান আদ-দারিমী (2703)


أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا ثَابِتُ بْنُ يَزِيدَ قَالَ حَدَّثَنَا عَاصِمٌ الْأَحْوَلُ عَنْ مُوَرِّقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَفَلَ تُلُقِّيَ بِي وَبِالْحَسَنِ أَوْ بِالْحُسَيْنِ قَالَ وَأُرَاهُ قَالَ الْحَسَنَ فَحَمَلَنِي بَيْنَ يَدَيْهِ وَالْحَسَنَ وَرَاءَهُ قَدِمْنَا الْمَدِينَةَ وَنَحْنُ عَلَى الدَّابَّةِ الَّتِي عَلَيْهَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ




২৭০৩. আবদুল্লাহ্ ইবনু জাফর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন সফর হতে ফেরার সময় একদিন আমাকে এবং হাসান বা হুসাইনকে সম্মুখে পেলেন। তিনি (রাবী) বলেন, আমার মনে হয় হাসানকে। তারপর তিনি আমাকে তাঁর সামনে বসালেন আর হাসানকে তাঁর পেছনে বসালেন। এমনকি এভাবে আমরা সেই পশুর উপর আরোহী অবস্থায় মদীনায় প্রবেশ করলাম, যার উপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: মুসলিম, ফাযাইলুস সাহাবাহ ২৪২৮; ((আবূ দাউদ, জিহাদ ২৫৬৬; নাসাঈ, কুবরা ২/৪৭৭-৪৭৮ নং ৪২৪৬; ইবনু মাজাহ, আদাব ৩৭৭৩ আহমাদ ১/২০৩।– ফাতহুল মান্নান হা/২৮৩০ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৭৯১ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৫৪৮ তে।

সংযোজনী: ইবনু আবী শাইবা ৯/৩৫ নং ৬৪২৪।









সুনান আদ-দারিমী (2704)


أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ إِسْحَقَ بْنِ يَحْيَى بْنِ طَلْحَةَ عَنْ الْمُسَيَّبِ بْنِ رَافِعٍ وَمَعْبَدِ بْنِ خَالِدٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ الْخَطْمِيِّ وَكَانَ أَمِيرًا عَلَى الْكُوفَةِ قَالَ أَتَيْنَا قَيْسَ بْنَ سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ فِي بَيْتِهِ فَأَذَّنَ الْمُؤَذِّنِ لِلصَّلَاةِ وَقُلْنَا لِقَيْسٍ قُمْ فَصَلِّ لَنَا فَقَالَ لَمْ أَكُنْ لِأُصَلِّيَ بِقَوْمٍ لَسْتُ عَلَيْهِمْ بِأَمِيرٍ فَقَالَ رَجُلٌ لَيْسَ بِدُونِهِ يُقَالُ لَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ حَنْظَلَةَ بْنِ الْغَسِيلِ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الرَّجُلُ أَحَقُّ بِصَدْرِ دَابَّتِهِ وَصَدْرِ فِرَاشِهِ وَأَنْ يَؤُمَّ فِي رَحْلِهِ قَالَ قَيْسُ بْنُ سَعْدٍ عِنْدَ ذَاكَ يَا فُلَانُ لِمَوْلًى لَهُ قُمْ فَصَلِّ لَهُمْ




২৭০৪. কু’ফার আমীর আব্দুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ আল খাত্বমী (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা কাইস ইবনু সা’দ ইবনু উবাদাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর বাড়িতে তার নিকট এলাম। তখন মুয়াযযিন সালাতের জন্য আযান দিলেন। তাই আমরা কাইস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বললাম, আপনি উঠে আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করুন। তখন তিনি বললেন, আমি যাদের আমীর নই, সেই লোকদের নিয়ে আমি কিছুতেই সালাত আদায় করব না। আব্দুল্লাহ ইবনু হানযালাহ ইবনুল গাছিল নামক এক ব্যক্তি যিনি নিকটে ছিলেন না, তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “মানুষ নিজেই তার বাহনের পশুর (মর্যাদাপূর্ণ) অগ্রভাগের, তার বিছানার (মর্যাদাপূর্ণ) অগ্রভাগের এবং তার বাড়িতে ইমামতি করার সর্বাধিক হকদার।“ এ সময় কাইস ইবনু সা’দ তার এক গোলামকে বললেন, হে অমুক, উঠে তাদের কে নিয়ে সালাত আদায় করো।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মাজমাউয যাওয়াইদ নং ২৩৬৩ তে। তবে এর কয়েকটি শাহিদ রয়েছে যা একে শক্তিশালী করে। এ ব্যাপারে আমার বিস্তারিত আলোচনা করেছি মাজমাউয যাওয়াইদ নং ২৩৬৩ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2705)


أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ حَمْزَةَ بْنِ عَمْرٍو الْأَسْلَمِيِّ قَالَ وَقَدْ صَحِبَ أَبُوهُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى ذِرْوَةِ كُلِّ بَعِيرٍ شَيْطَانٌ فَإِذَا رَكِبْتُمُوهَا فَسَمُّوا اللَّهَ وَلَا تُقَصِّرُوا عَنْ حَاجَاتِكُمْ




২৭০৫. মুহাম্মদ ইবনু হামযাহ ইবনু আমর আল আসলামী যার পিতা ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবী, তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “প্রত্যেক উটের উপরিভাগে একটি করে শয়তান থাকে, সুতরাং তোমরা যখন এর পিঠে আরোহন করবে, তখন বিসমিল্লাহ’ বলবে, কিন্তু তোমাদের প্রয়োজন সমূহ থেকে বিরত থাকবে না।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৭০৩, ২৬৯৪ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২০০০ তে।

সংযোজনী: এছাড়া, ইবনু আবী শাইবা ১০/৩৯১ নং ৯৭৭২; তাবারাণী, আওসাত নং ১৯৪৫।









সুনান আদ-দারিমী (2706)


أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا شَبَابَةُ بْنُ سَوَّارٍ حَدَّثَنَا لَيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ مُعَاذِ بْنِ أَنَسٍ عَنْ أَبِيهِ وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ ارْكَبُوا هَذِهِ الدَّوَابَّ سَالِمَةً وَلَا تَتَّخِذُوهَا كَرَاسِيَّ




২৭০৬. সাহল ইবনু মুয়ায ইবনু আনাস যার পিতা ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবী, তিনি তার পিতা হতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “এ সকল পশুদের উপর নিরাপদে তোমরা আরোহন করো, তবে এদেরকে চেয়ার বা সিংহাসনরূপে ব্যবহার করো না।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৬১৯ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২০০২ তে।

সংযোজনী: এছাড়া, ইবনুল কানি’, মু’জামুস সাহাবাহ ৯৭৩।









সুনান আদ-দারিমী (2707)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ عَنْ اللَّيْثِ إِلَّا أَنَّهُ يُخَالِفُ شَبَابَةَ فِي شَيْءٍ




২৭০৭. আব্দুল্লাহ ইবনু সালিহ সূত্রে তিনি লাইছ হতে ….(এটি বর্ণনা করেছেন), তবে তিনি কিছু বিষয়ে ‘শাবাবাহ’র বিরোধীতা করেছেন।[1]

[1] আব্দুল্লাহ ইবনু সালিহ যঈফ। ফলে তার আগের সনদটির বিরোধিতা করা সেটির কোন ক্ষতি করতে পারবে না।









সুনান আদ-দারিমী (2708)


أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ سُمَيٍّ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ السَّفَرُ قِطْعَةٌ مِنْ الْعَذَابِ يَمْنَعُ أَحَدَكُمْ نَوْمَهُ وَطَعَامَهُ وَشَرَابَهُ فَإِذَا قَضَى نَهْمَتَهُ مِنْ وَجْهِهِ فَلْيُعَجِّلْ الرَّجْعَةَ إِلَى أَهْلِهِ




২৭০৮. আবূ হুরাইরাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “সফর ‘আযাবের অংশ বিশেষ। তা তোমাদের যথাসময় নিদ্রা ও পানাহারে ব্যঘাত ঘটায়। কাজেই নিজের প্রয়োজন মিটিয়ে অবিলম্বে সে যেন আপন পরিজনের কাছে ফিরে যায়।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ শক্তিশালী।

তাখরীজ: মালিক, ইসতিআযান ৩৯; বুখারী, উমরাহ ১৮০৪; মুসলিম, ইমারাহ ১৯২৭।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৭০৩ তে।

সংযোজনী: এছাড়া, তাবারাণী, সগীর ১/২২০; আবূ নুয়াইম, হিলইয়া ৬/৩৪৪; খতীব বাগদাদী, তারীখ ২/৫৩-৫৪; ৭/২৮৪; সাহমী, তারীখ জুরজান পৃ: ৩৯৪।









সুনান আদ-দারিমী (2709)


حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي كَعْبٍ أَبُو الْحَسَنِ الْعَبْدِيُّ قَالَ حَدَّثَنِي مُوسَى بْنُ مَيْسَرَةَ الْعَبْدِيُّ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لَهُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ إِنِّي أُرِيدُ السَّفَرَ فَقَالَ لَهُ مَتَى قَالَ غَدًا إِنْ شَاءَ اللَّهُ قَالَ فَأَتَاهُ فَأَخَذَ بِيَدِهِ فَقَالَ لَهُ فِي حِفْظِ اللَّهِ وَفِي كَنَفِهِ زَوَّدَكَ اللَّهُ التَّقْوَى وَغَفَرَ لَكَ ذَنْبَكَ وَوَجَّهَكَ لِلْخَيْرِ أَيْنَمَا تَوَخَّيْتَ أَوْ أَيْنَمَا تَوَجَّهْتَ شَكَّ سَعِيدٌ فِي إِحْدَى الْكَلِمَتَيْنِ




২৭০৯. আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললঃ ইয়া নাবিয়াল্লাহ! আমি সফরের ইচ্ছা করছি। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, “কখন?“ সে বলল, আগামীকাল ইনশা আল্লাহ। এরপর তিনি এসে নিজ হাতে তার হাত ধরলেন। এরপর তিনি বললেনঃ “আল্লাহর হেফাজতে ও তাঁর আশ্রয়ে (হাওয়ালা করছি)। আল্লাহ তা’আলা তোমাকে পাথেয় হিসাবে তাকওয়া দান করুন। আর তিনি তোমার গুনাহ মাফ করুন। তোমার জন্য আল্লাহ তা’আলা কল্যাণ সহজলভ্য করে দিন, তুমি যে স্থানেরই নিয়াত করনা কেন- কিংবা যে স্থানই উদ্দেশ্য করনা কেন।“ রাবী সাঈদের সন্দেহ, এ দু’বাক্যের কোন একটি হবে। [1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ।

তাখরীজ: ইবনুস সুন্নী, আমলুল ইয়াওমু ওয়াল লাইলাহ নং ৫০২, ৫০৩; তিরমিযী, দাওয়াত ৩৪৪০; হাকিম ২/৯৭।









সুনান আদ-দারিমী (2710)


أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا عَاصِمٌ هُوَ الْأَحْوَلُ قَالَ وَثَبَّتَنِي شُعْبَةُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَرْجِسٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا سَافَرَ قَالَ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ وَعْثَاءِ السَّفَرِ وَكَآبَةِ الْمُنْقَلَبِ وَالْحَوْرِ بَعْدَ الْكَوْرِ وَدَعْوَةِ الْمَظْلُومِ وَسُوءِ الْمَنْظَرِ فِي الْأَهْلِ وَالْمَالِ




২৭১০. আবদুল্লাহ ইবনে সারজিস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে রওয়ানার প্রাক্কালে বলতেনঃ ‘‘হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট সফরের কষ্ট-ক্লান্তি বা মন্দ কাজ, প্রত্যাবর্তন স্থলের বিষন্নতা বা অবসাদ, প্রাচুর্যের পরে রিক্ততা, নির্যাতিতের বদদোয়া এবং পরিবার-পরিজন ও মাল-সম্পদের প্রতি কুদৃষ্টি থেকে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করি।’’[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আহমাদ ৫/৮২, ৮৩; নাসাঈ, ইসতিআযান ৮/২৭২; মুসলিম, হাজ্জ ১৩৪৩; ইবনু মাজাহ, দু’আ ৩৮৮৮; তিরমিযী, দাওয়াত ৩৪৩৫; ইবনুস সুন্নী, আমলুল ইয়াওমু ওয়াল লাইলাহ নং ৪৯২; আব্দুর রাযযাক, নং ৯২৩১, ২০৯২৭; ইবনু আবী শাইবা ১০/৩৫৯ নং ৯৬৫৬; আবূ নুয়াইম, হিলইয়া ৩/১২২।









সুনান আদ-দারিমী (2711)


أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْبَارِقِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا سَافَرَ فَرَكِبَ رَاحِلَتَهُ كَبَّرَ ثَلَاثًا وَيَقُولُ سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ فِي سَفَرِي هَذَا الْبِرَّ وَالتَّقْوَى وَمِنْ الْعَمَلِ مَا تَرْضَى اللَّهُمَّ هَوِّنْ عَلَيْنَا السَّفَرَ وَاطْوِ لَنَا بُعْدَ الْأَرْضِ اللَّهُمَّ أَنْتَ الصَّاحِبُ فِي السَّفَرِ وَالْخَلِيفَةُ فِي الْأَهْلِ اللَّهُمَّ اصْحَبْنَا فِي سَفَرِنَا وَاخْلُفْنَا فِي أَهْلِنَا بِخَيْرٍ




২৭১১. ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সফর করতেন তখন সওয়ারীতে আরোহন করে তিন বার আল্লাহু আকবার বলতেন এরপর বলতেনঃ

“সুবহানাল্লাযী সাখখারা লানা হাযা ওয়ামা কুন্না লাহু মুক্বরিনীন। ওয়াইন্না-ইলা রব্বিনা লামুনক্বলিবুন। আল্লাহুম্মা! ইন্নী আসআলুকা ফী সাফারী হাযাল বিরর ওয়াত তাক্বওয়া ওয়া মিনাল আমলি মা তারদ্ব’। আল্লাহুম্মা হাওয়িন্ আলাইনাস সাফারা ওয়াত্বয়ি লানা বু’দাল আরদি। আল্লাহুম্মা আনতাস সাহিবু ফিস সাফার ওয়া খলিফাতু ফী আহলি; আল্লাহুম্মাসহ(মাসেহ)াবনা ফী সাফারিনা; ওয়াখলুফনা ফী আহলিনা বিখইরিন।“[1]

(অর্থ: হে আল্লাহ! আমার এই সফরে এমন নেকি তাকওয়া ও আমল প্রার্থনা করি যার উপর তুমি সন্তুষ্ট থাক। হে আল্লাহ! আমাদের উপর এই সফর সহজ করে দাও। আমাদের জন্য যমীনের দূরত্ব সংকুচিত করে দাও। হে আল্লাহ! তুমিই আমার সফরের সাথী আর পরিজনদের মাঝে স্থলবর্তী। হে আল্লাহ! আমাদের এ সফরে তুমি কল্যাণসহ আমাদের সঙ্গী হও আর আমাদের পরিজনদের মধ্যে আমাদের স্থলবর্তী হও।)

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: মুসলিম, হাজ্জ ১৩৪২।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৬৯৫, ২৬৯৬ তে। সামনের ২৭২৫ নং এ এর কিয়দংশের টীকায় দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (2712)


أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ حَدَّثَنَا أَبُو زُبَيْدٍ عَنْ حُصَيْنٍ عَنْ سَالِمٍ عَنْ جَابِرٍ قَالَ كُنَّا إِذَا صَعِدْنَا كَبَّرْنَا وَإِذَا هَبَطْنَا سَبَّحْنَا




২৭১২. জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যখন কোন (উঁচু স্থানে) আরোহণ করতাম, তখন ‘তাকবীর’ ধ্বনি উচ্চারণ করতাম আর যখন কোন (উপত্যকায়) অবতরণ করতাম, সে সময় ‘সুবহানাল্লাহ্’ বলতাম।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, জিহাদ ২৯৯৩, ২৯৯৪; সহীহ ইবনু খুযাইমা ৩/৩৩৩; আহমাদ ৫/৮২ (যঈফ সনদে)।









সুনান আদ-দারিমী (2713)


أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ الْمُبَارَكِ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِي الْجَرَّاحِ مَوْلَى أَمِّ حَبِيبَةَ عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْعِيرُ الَّتِي فِيهَا الْجَرَسُ لَا تَصْحَبُهَا الْمَلَائِكَةُ




২৭১৩. উম্মু হাবীবা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “(রহমতের) ফিরিশতাগণ সে কাফেলা বা অভিযাত্রী দলের সহগামী হন না, যাদের মধ্যে ঘন্টা থাকে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২১২৫, ৭১৩৩, ৭১৩৬ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৭০০, ৪৭০৫ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন ১৪৯২ তে। পরবর্তী হাদীসটি দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (2714)


أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا سُهَيْلُ بْنُ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا تَصْحَبُ الْمَلَائِكَةُ رِفْقَةً فِيهَا كَلْبٌ أَوْ جَرَسٌ




২৭১৪. আবী হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “(রহমতের) ফিরিশতাগণ সে কাফেলা বা অভিযাত্রী দলের ঘনিষ্ঠ সহগামী হন না, যাদের মধ্যে কুকুর অথবা ঘন্টা থাকে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: মুসলিম, লিবাস ২১১৪।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৫১৯ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৭০৪ তে। আগের হাদীসটিও দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (2715)


أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ أَبِي قِلَابَةَ عَنْ أَبِي الْمُهَلَّبِ عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ فِي سَفَرٍ فَسَمِعَ لَعْنَةً فَقَالَ مَا هَذَا قَالُوا فُلَانَةُ لَعَنَتْ رَاحِلَتَهَا فَقَالَ ضَعُوا عَنْهَا فَإِنَّهَا مَلْعُونَةٌ قَالَ فَوَضَعُوا عَنْهَا قَالَ عِمْرَانُ كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَيْهَا نَاقَةً وَرْقَاءَ




২৭১৫. ইমরান ইবন হুসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন এক সফরে যেতে যেতে পথিমধ্যে অভিশাপের বাণী শুনতে পেলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “কেন এ অভিশাপ?“ লোকজন উত্তরে বললেন, অমুক নারী তার ভারবাহী পশুকে অভিশাপ দিচ্ছে। তখন তিনি বললেনঃ “তোমরা (এর পিঠ হতে) তাকে তার (মালপত্রসহ) নামিয়ে ফেল। কারণ তার পশুটি তো অভিশপ্ত।“ লোকজন তাকে নামিয়ে ফেলল। ইমরান বলেন, আমি যেন এখনও উক্ত পশুটিকে দেখতে পাচ্ছি যে, তা একটি সাদা- কালো মিশ্রিত উটনীছিল।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: মুসলিম, বিরর ওয়াস সুলহ ২৫৯৫। (আবূ দাউদ, জিহাদ ২৫৬১)

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৭৪০, ৫৭৪১ তে।

সংযোজনী: এছাড়াও, তাবারাণী, কাবীর ১৮/১৮৯ নং ৪৫০; ইবনু আবী শাইবা নং ৫৯৮৩; আব্দুর রাযযাক, নং ১৯৫৩২।









সুনান আদ-দারিমী (2716)


حَدَّثَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تُسَافِرْ الْمَرْأَةُ سَفَرًا ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ فَصَاعِدًا إِلَّا وَمَعَهَا أَبُوهَا أَوْ أَخُوهَا أَوْ زَوْجُهَا أَوْ ذُو مَحْرَمٍ مِنْهَا




২৭১৬. আবূ সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে নারী আল্লাহ্এবং শেষ দিনে ঈমান রাখে তার জন্য তার পিতা, ভ্রাতা, স্বামী বা যাকে বিয়ে করা হারাম এমন ব্যক্তির সঙ্গে ছাড়া তিন দিন বা ততোধিক দিনের সফর করা বিধেয় নয়।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, ফাযলুস সালাত ১১৯৭; মুসলিম, হাজ্জ ১৩৪০।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১১৬১, ১১৬৬ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৬১৭, ২৭১৮, ২৭১৯, ৩৫৯৯ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৭৬৭ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2717)


أَخْبَرَنَا الْهَيْثَمُ بْنُ جَمِيلٍ حَدَّثَنَا عَاصِمٌ هُوَ ابْنُ مُحَمَّدٍ الْعُمَرِيُّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَوْ يَعْلَمُ النَّاسُ مَا فِي الْوَحْدَةِ لَمْ يَسْرِ رَاكِبٌ بِلَيْلٍ وَحْدَهُ أَبَدًا




২৭১৭. ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “একা চলার মধ্যে যা (যে ক্ষতি) রয়েছে, যদি লোকেরা তা জানতো, তাহলে কোন আরোহী রাতে কখনো একা সফর করত না।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, জিহাদ ২৯৯৮।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৭০৪ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৯৭০ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৬৭৬ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2718)


أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَقَ وَعَفَّانُ قَالَا حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ حَدَّثَنَا ابْنُ عَجْلَانَ عَنْ يَعْقُوبَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْأَشَجِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ سَعْدِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ خَوْلَةَ بِنْتِ حَكِيمٍ قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا نَزَلَ مَنْزِلًا قَالَ أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ لَمْ يَضُرَّهُ فِي ذَلِكَ الْمَنْزِلِ شَيْءٌ حَتَّى يَرْتَحِلَ مِنْهُ




২৭১৮. খাওলা বিনতে হাকীম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: তোমাদের কেউ কোন স্থানে অবতরণ করে যদি বলে, ‘আউযু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক্ব’- (অর্থ: আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাক্যাবলীর উসীলায় তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি), তাহলে সে স্থান থেকে বিদায় হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সেখানে কোন কিছু তার ক্ষতি করতে পারবে না।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান, তবে হাদীসটি সহীহ।

তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১০/২৮৭ নং ৯৪৫৭; ইবনু মাজাহ, তিব্ব ৩৫৪৭; তাবারাণী, কাবীর ২৪/২৩৮ নং ৬০৬; আহমাদ ৬/৩৭৭, ৪০৯; মুসলিম, যিকর ওয়াদ দু’আ ২৭০৮; তিরমিযী, দাওয়াত ৩৪৩৩; বাইহাকী, হাজ্জ ৫/২৫৩; ইবনুস সুন্নী, আমলুল ইয়াওমু ওয়াল লাইলাহ নং ৫২৮; সহীহ ইবনু খুযাইমা নং ২৫৬৬, ২৫৬৭; মালিক, ইসতিআযান ৩৪; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ ৫/১৪৫ নং ১৩৪৭।









সুনান আদ-দারিমী (2719)


أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ سَعْدٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا نَزَلَ مَنْزِلًا لَمْ يَرْتَحِلْ مِنْهُ حَتَّى يُصَلِّيَ رَكْعَتَيْنِ أَوْ يُوَدِّعَ الْمَنْزِلَ بِرَكْعَتَيْنِ قَالَ عَبْد اللَّهِ عُثْمَانُ بْنُ سَعْدٍ ضَعِيفٌ




২৭১৯. আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো স্থানে অবতরণ (যাত্রা বিরতি) করতেন, সেখানে দু’রাকা’আত সালাত আদায় না করা পর্যন্ত সেস্থান থেকে চলে যেতেন না। অথবা দু’রাকাআত সালাত আদায় করার পর কোনো স্থান থেকে বিদায় নিতেন।[1] আব্দুল্লাহ বলেন, ইছমান ইবনু সা’দ যয়ীফ বা দুর্বল।

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, উছমান ইবনু সা’দ এর দুর্বলতার কারণে।

তাখরীজ: বাযযার, কাশফুল আসতার ১/৩৫৭ নং ৭৪৭; তাবারাণী, আওসাত নং ৩৪৬৫; ইবনু আদী, আল কামিল ৫/১৮১৭; উকাইলী, দু’আফা ৩/২০৫;

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৩১৫, ৪৩১৬ ও মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৩৭২৫ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2720)


أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْبَارِقِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا رَجَعَ مِنْ سَفَرِهِ قَالَ آيِبُونَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَائِبُونَ عَابِدُونَ لِرَبِّنَا حَامِدُونَ




২৭২০. আব্দুল্লাহ ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন সফর থেকে প্রত্যাবর্তন করতেন তখন বলতেনঃ “আয়িবুনা ইনশা আল্লাহু, তায়িবূনা আবিদূনা, লিরব্বিনা হামিদূন।“ (অর্থ: আমরা আল্লাহর ইচ্ছায় প্রত্যাবর্তনকারী, আমরা তাওবাকারী, আমারা ইবাদতকারী, আমরা আমাদের প্রভুর প্রশংসা কারী।)[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, উমরাহ ১৭৯৭; মুসলিম, হাজ্জ ১৩৪৪।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৫১৩ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৭০৭ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৬৫৭ তে। পূর্ণ তাখরীজের জন্য বিগত ১৭১৬ নং হাদীসের অংশবিশেষ দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (2721)


أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَقَ قَالَ سَمِعْتُ الْبَرَاءَ بْنَ عَازِبٍ يَقُولُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَ رَجُلًا إِذَا أَخَذَ مَضْجَعَهُ أَنْ يَقُولَ اللَّهُمَّ أَسْلَمْتُ نَفْسِي إِلَيْكَ وَوَجَّهْتُ وَجْهِي إِلَيْكَ وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْكَ وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِي إِلَيْكَ رَغْبَةً وَرَهْبَةً إِلَيْكَ لَا مَلْجَأَ وَلَا مَنْجَى مِنْكَ إِلَّا إِلَيْكَ آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ وَنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ فَإِنْ مَاتَ مَاتَ عَلَى الْفِطْرَةِ




২৭২১. বারা ইবনু ‘আযিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো ব্যক্তিকে আদেশ করেন যে, সে যেন বিছানায় যাওয়ার সময় একথা বলে:

“হে আল্লাহ্! আমার জীবন আপনার কাছে সমর্পণ করলাম। আমার চেহারাকে আপনার অভিমুখী করলাম, আর আমার সকল কাজ আপনার কাছে সোপর্দ করলাম এবং আমি আপনার আশ্রয় গ্রহণ করলাম, আপনার প্রতি আগ্রহ ও ভয় নিয়ে। আপনি ছাড়া কোন আশ্রয়স্থল ও নাজাতের স্থান নেই। হে আল্লাহ্! আমি ঈমান আনলাম আপনার নাযিলকৃত কিতাবের উপর এবং আপনার প্রেরিত নবীর উপর।’ তারপর যদি সে রাতেই তোমার মৃত্যু হয় তবে ফিতরাতে ইসলামের উপর তোমার মৃত্যু হবে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, উযু ২৪৭; মুসলিম, যিকর ওয়াদ zwj;দু’আ ২৭১০।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৬৬৮, ১৭২১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৫২৭, ৫৫৩৬, ৫৫৪২ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৭৪০ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2722)


أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَوَى أَحَدُكُمْ إِلَى فِرَاشِهِ فَلْيَنْفُضْ فِرَاشَهُ بِدَاخِلَةِ إِزَارِهِ فَإِنَّهُ لَا يَدْرِي مَا خَلَفَهُ فِيهِ وَلْيَقُلْ اللَّهُمَّ بِكَ وَضَعْتُ جَنْبِي وَبِكَ أَرْفَعُهُ اللَّهُمَّ إِنْ أَمْسَكْتَ نَفْسِي فَاغْفِرْ لَهَا وَإِنْ أَرْسَلْتَهَا فَاحْفَظْهَا بِمَا تَحْفَظُ بِهِ عِبَادَكَ الصَّالِحِينَ




২৭২২. আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “যদি তোমাদের কোন ব্যক্তি শয্যা গ্রহণ করতে যায়, তখন সে যেন তার লুঙ্গির ভেতর দিক দিয়ে নিজ বিছানাটা ঝেড়ে নেয়। কারণ, সে জানে না যে, বিছানার উপর তার অনুপস্থিতিতে পীড়াদায়ক কোন কিছু আছে কিনা। তারপর পড়বেঃ ‘হে আমার রব! আপনারই নামে আমার শরীরটা বিছানায় রাখলাম এবং আপনারই নামে আবার উঠবো। যদি আপনি ইতোমধ্যে আমার জান কবয করে নেন তা হলে, তার উপর রহম করবেন। আর যদি তা আমাকে ফিরিয়ে দেন, তবে তাকে এমনভাবে হিফাযত করবেন, যেভাবে আপনি আপনার নেক বান্দাদের হিফাযাত করে থাকেন।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম উভয়ে সমন্বিতভাবে বর্ণনা করেছেন।

তাখরীজ: বুখারী, দাওয়াত ৬৩২০; মুসলিম, যিকর ওয়াদ zwj;দু’আ ২৭১৪।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৫৩৪, ৫৫৩৫ তে।

সংযোজনী: বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ ৫/৯৯ নং ১৩১৩; ইবনুস সুন্নী, আমলুল ইয়াওমু ওয়াল লাইলাহ নং ৭১০।