সুনান আদ-দারিমী
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ الرَّقِّيُّ وَسَعِيدُ بْنُ الْمُغِيرَةِ عَنْ ابْنِ الْمُبَارَكِ عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ حَمَّادٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ فِي رَجُلٍ اشْتَرَى ابْنَهُ فِي مَرَضِهِ قَالَ إِنْ خَرَجَ مِنْ الثُّلُثِ وَرِثَهُ وَإِنْ وَقَعَتْ عَلَيْهِ السِّعَايَةُ لَمْ يَرِثْ
৩০৪৩. হাম্মাদ (রহঃ) হতে বর্ণিত, কোনো লোক তার অসুস্থতার সময় তার একটি ছেলেকে ক্রয় করলো, এ লোক সম্পর্কে ইবরাহীম (রহঃ) বলেন, যদি (এ ক্রয় মুল্য) এক তৃতীয়াংশ থেকে অধিক হয়, তবে সে তার ওয়ারিস হবে, আর যদি তা তার উপর কষ্টকর হয়, তবে সে ওয়ারিস হবে না।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : সনদটি ইবরাহীম পর্যন্ত সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১১/১৭৭ নং ১১৮৭২; আব্দুর রাযযাক আল মুসান্নাফ নং ১৬৪৮৫।
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا حَسَنٌ عَنْ أَبِيهِ عَنْ الشَّعْبِيِّ قَالَ حَدُّ الْمُكَاتَبِ حَدُّ الْمَمْلُوكِ حَتَّى يُعْتَقَ
৩০৪৪. হাসান তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, শা’বী (রহঃ) বলেন, মুকাতাবের (চুক্তিবদ্ধ দাসের) অংশ হলো একজন সাধারণ দাসের অনুরুপ, যতক্ষণ তাকে মুক্ত করা না হবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : সনদটি হাসান পর্যন্ত সহীহ।
তাখরীজ: এর শাহিদ হাদীস রয়েছে ইবনু আবী শাইবা ৬/১৪৮ নং ৬১১, ৯/৫১৭ নং ৮২৩৯; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ৩/১১১ ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে … এর সনদ সহীহ; ইবনু হাযম, আল মুহাল্লা ৯/২২৮।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ حَدَّثَنَا يُونُسُ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَوْلَى أَخٌ فِي الدِّينِ وَنِعْمَةٌ أَحَقُّ النَّاسِ بِمِيرَاثِهِ أَقْرَبُهُمْ مِنْ الْمُعْتِقِ
৩০৪৫. যুহুরী (রহঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মুক্ত দাস হলো দীনী ভাই ও একটি নিয়ামাত। আর তার মীরাসের সর্বাধিক হকদার হলো যে মুক্তিদানের দিক থেকে তার অধিক নিকটবর্তী।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : সনদটি সহীহ।
তাখরীজ: সাঈদ ইবনু মানসূর নং ২৭২; বাইহাকী, মুকাতিব ১০/৩০৪।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ أَخْبَرَنَا مَنْصُورٌ عَنْ الْحَسَنِ وَمُحَمَّدُ بْنُ سَالِمٍ عَنْ الشَّعْبِيِّ فِي رَجُلٍ أَعْتَقَ مَمْلُوكًا ثُمَّ مَاتَ الْمَوْلَى وَالْمَمْلُوكُ وَتَرَكَ الْمُعْتِقُ أَبَاهُ وَابْنَهُ قَالَا الْمَالُ لِلِابْنِ
৩০৪৬. হাসান হতে[1] এবং মুহাম্মদ ইবনু সালিম হতে বর্ণিত, কোনো লোক একটি দাস মুক্ত করলো এবং এ লোকটি ও দাসটি উভয়ে মৃত্যুবরণ করলো, আর দাসের মুক্তিদানকারী লোকটি তার পিতা ও এক পূত্র রেখে গেলো। এ ব্যক্তি সম্পর্কে শা’বী (রহঃ) বলেন: এ (উভয়ের) মালের পুরোটাই তার পূত্র পাবে।[2]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : সনদটি হাসান পর্যন্ত সহীহ।
তাখরীজ: সাঈদ ইবনু মানসূর নং ২৬২; ইবনু আবী শাইবা ১১/৩৯৪ নং ১১৫৬৮।
[2] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : সনদটি যঈফ মুহাম্মদ ইবনু সালিমের দুর্বলতার কারনে।
তাখরীজ: সাঈদ ইবনু মানসূর নং ২৬৩; ইবনু আবী শাইবা ১১/৩৯৪ নং ১১৫৬৯।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا عَبَّادٌ عَنْ عُمَرَ بْنِ عَامِرٍ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ فِي رَجُلٍ تَرَكَ أَبَاهُ وَابْنَ ابْنِهِ فَقَالَ الْوَلَاءُ لِابْنِ الِابْنِ
৩০৪৭. সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যেব (রহঃ) হতে বর্ণিত, যে লোক তার পিতা ও তার পৌত্র (পুত্রের পুত্র) রেখে মৃত্যুবরণ করল, তার সম্পর্কে যাইদ ইবনু ছাবিত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘ওয়ালা’ (মালিকানা) লাভ করবে তার পৌত্র।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এ সনদটি হাসান।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১১/৩৯৩ নং ১১৫৬৬ (এতে রয়েছে: পুরো সম্পদ তার পুত্র পাবে।); আব্দুর রাযযাক আল মুসান্নাফ নং ১৬২৯৮ (এখানে রয়েছে: ‘ওয়ালা (মালিকানা) পুত্র লাভ করবে।)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا مُعَمَّرٌ حَدَّثَنَا خُصَيْفٌ عَنْ زِيَادِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ أَنَّ امْرَأَةً أَعْتَقَتْ عَبْدًا لَهَا ثُمَّ تُوُفِّيَتْ وَتَرَكَتْ ابْنَهَا وَأَخَاهَا ثُمَّ تُوُفِّيَ مَوْلَاهَا فَأَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ابْنُ الْمَرْأَةِ وَأَخُوهَا فِي مِيرَاثِهِ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِيرَاثُهُ لِابْنِ الْمَرْأَةِ فَقَالَ أَخُوهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ لَوْ أَنَّهُ جَرَّ جَرِيرَةً عَلَى مَنْ كَانَتْ قَالَ عَلَيْكَ
৩০৪৮. যাইদ ইবনু আবী মারইয়াম (রহঃ) হতে বর্ণিত, এক মহিলা তার একটি দাস মুক্ত করল। এরপর সে তার এক পুত্র ও এক ভাই রেখে সে (মহিলা) মৃত্যু বরণ করলো। এরপর তার মুক্ত দাসটিও মৃত্যু বরণ করলো। তখন মহিলাটির পুত্র ও ভাই দুজনেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট তার মীরাছের ব্যাপারে আসলো। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “তার মীরাছ তার ছেলে পাবে।“ তখন মহিলাটির ভাই বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে যদি কোনো অপরাধ (দেনা) করে যেতো তবে তার দায়িত্ব কার উপর অর্পিত হতো? তখন তিনি বললেন: “তোমার উপর।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এ সনদটি হাসান।
তাখরীজ: আমি এটি এ শব্দে আর কোথাও পাইনি কেবল ‘ইরওয়াউল গালীল’ ১৬৯৭ নং ব্যতীত। দেখুন, ইবনু আবী শাইবা ১১/৩৯০-২৯১ ও আব্দুর রাযযাক আল মুসান্নাফ ৯/৩৫। ((এর বর্ণনাকারী খুসাইফ দুর্বল স্মৃতিশক্তির কারণে সনটি দুর্বল। এটি বর্ণনা করেছেন বাইহাকী, কুবরা ১০/৩০৩।– ফাতহুল মান্নান হা/৩২১৮।–অনুবাদক))
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّلْتِ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ أَخْبَرَنَا مُغِيرَةُ قَالَ سَأَلْتُ إِبْرَاهِيمَ عَنْ رَجُلٍ أَعْتَقَ مَمْلُوكًا لَهُ فَمَاتَ وَمَاتَ الْمَوْلَى فَتَرَكَ الْمُعْتِقُ أَبَاهُ وَابْنَهُ فَقَالَ لِأَبِيهِ كَذَا وَمَا بَقِيَ فَلِابْنِهِ
৩০৪৯. মুগীরাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এক লোক সম্পর্কে ইবরাহীমকে জিজ্ঞেস করলাম, যে তার একটি দাস মুক্ত করল। এরপর তার পিতা ও এক পুত্র রেখে সে দাসমুক্তকারী লোকটি মৃত্যু বরণ করলো এবং তার মুক্ত দাসটিও মৃত্যু বরণ করলো। তখন তিনি বললেন: ‘তার পিতা পাবে এই পরিমাণ এবং বাকী সম্পদ তার পুত্র পাবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : সনদটি আতা পর্যন্ত সহীহ।
তাখরীজ: সাঈদ ইবনু মানসূর নং ২৬১; ইবনু আবী শাইবা ১১/৩৯৩ নং ১১৫৬৭; আব্দুর রাযযাক আল মুসান্নাফ নং ১৬২৫৭, ১৬২৯৭।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّلْتِ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ عَنْ شُعْبَةَ قَالَ سَمِعْتُ الْحَكَمَ وَحَمَّادًا يَقُولَانِ هُوَ لِلِابْنِ
৩০৫০. শু’বাহ বলেন আমি হাকাম ও হাম্মাদ উভয়কে বলতে শুনেছি, তারা বলতেন: এ (মীরাছ) ছেলে পাবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এ সনদটি যঈফ হুশাইম এটি আন আন’ শব্দে বর্ণনা করেছেন।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১১/৩৯৪, ৩৯৫ নং ১১৫৭০, ১১৫৭৪; আব্দুর রাযযাক আল মুসান্নাফ নং ১৬২৫৭।
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا الْأَشْعَثُ عَنْ الْحَسَنِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ إِلَى الْبَقِيعِ فَرَأَى رَجُلًا يُبَاعُ فَأَتَاهُ فَسَاوَمَ بِهِ ثُمَّ تَرَكَهُ فَرَآهُ رَجُلٌ فَاشْتَرَاهُ فَأَعْتَقَهُ ثُمَّ جَاءَ بِهِ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ إِنِّي اشْتَرَيْتُ هَذَا فَأَعْتَقْتُهُ فَمَا تَرَى فِيهِ فَقَالَ هُوَ أَخُوكَ وَمَوْلَاكَ قَالَ مَا تَرَى فِي صُحْبَتِهِ فَقَالَ إِنْ شَكَرَكَ فَهُوَ خَيْرٌ لَهُ وَشَرٌّ لَكَ وَإِنْ كَفَرَكَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكَ وَشَرٌّ لَهُ قَالَ مَا تَرَى فِي مَالِهِ قَالَ إِنْ مَاتَ وَلَمْ يَتْرُكْ عَصَبَةً فَأَنْتَ وَارِثُهُ
৩০৫১. হাসান (রহঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাকী’ কবরস্থানের দিকে গেলেন, সেখানে একটি লোক বিক্রি হতে দেখলেন। তখন তিনি তার নিকট এসে তার ব্যাপারে (বিক্রেতার সাথে) দর কষাকষি করলেন এবং না কিনে ফিরে গেলেন। তখন এক লোক বিষয়টি দেখে লোকটিকে ক্রয় করে নিয়ে মুক্ত করে দিলেন। অত:পর তাকে নিয়ে সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললেন, আমি লোকটিকে ক্রয় করে নিয়ে মুক্ত করে দিয়েছি। এ সম্পর্কে আপনার মতামত কি? তখন তিনি বললেন, “সে তোমারই ভাই এবং তোমার মুক্ত দাস (মাওলা)।“ লোকটি বললেন, তার সঙ্গ গ্রহণের ব্যাপারে আপনি কি বলেন? তখন তিনি বললেন, “সে যদি তোমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, তবে তার জন্য তা কল্যাণকর, আর তোমার জন্য ক্ষতিকর। আর যদি সে তোমার (উপকার) অস্বীকার করে, তবে তা তোমার জন্য কল্যাণকর, আর তার জন্য ক্ষতিকর।“ লোকটি বললেন, তবে তার সম্পদ সম্পর্কে আপনার মতামত কি? তিনি বললেন, “যদি সে মৃত্যুবরণ করে, আর তার কোনো আসাবাহ (নিকটাত্মীয়) না থাকে, তবে তুমি হবে তার ওয়ারিছ।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : সনদটি যঈফ আশআস ইবনু সিওয়ারের দুর্বলতার কারনে। আর এটি মুরসাল।
তাখরীজ: বাইহাকী, ফারাইয ৬/২৪০; আব্দুর রাযযাক আল মুসান্নাফ নং ১৬২১৪।
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا أَشْعَثُ عَنْ الْحَكَمِ وَسَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَدَّادٍ أَنَّ ابْنَةَ حَمْزَةَ أَعْتَقَتْ عَبْدًا لَهَا فَمَاتَ وَتَرَكَ ابْنَتَهُ وَمَوْلَاتَهُ بِنْتَ حَمْزَةَ فَقَسَمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِيرَاثَهُ بَيْنَ ابْنَتِهِ وَمَوْلَاتِهِ بِنْتِ حَمْزَةَ نِصْفَيْنِ
৩০৫২. আবদুল্লাহ ইবনু শাদ্দাদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হামযা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর কন্যা তার একটি দাসকে মুক্ত করেন। এরপর মুক্তদাসটি একটি কন্যা সন্তান ও তার মুক্তিদাত্রী হামযার কন্যাকে রেখে মারা যায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পরিত্যক্ত সম্পদ তার সেই কন্যা ও মুক্তিদাত্রী হামযার কন্যার মধ্যে অর্ধেক-অর্ধেক করে বণ্টন করেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : সনদটি যঈফ আশআস ইবনু সিওয়ারের দুর্বলতার কারনে। আর এটি মুরসাল।
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক আল মুসান্নাফ নং ১৬২১০; তাবারাণী, কাবীর ২৪/৩৫৫, ৩৫৭ নং ৮৮০,৮৮৫,৮৮৬; ইবনু আবী শাইবা ১১/২৬৭ নং ১১১৮২, ১১১৮৪; সাঈদ ইবনু মানসূর নং ১৭৩, ১৭৪; বাইহাকী, ফারাইয ৬/২৪১ সনদ সহীহ। এছাড়া, ইবনু মাজাহ ২৭৩৪; হাকিম ৪/৬৬; সহীহ সনদে।…
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ مُسْهِرٍ عَنْ الشَّيْبَانِيِّ عَنْ الْحَكَمِ عَنْ شَمُوسَ الْكِنْدِيَّةِ قَالَتْ قَاضَيْتُ إِلَى عَلِيٍّ فِي أَبٍ مَاتَ فَلَمْ يَدَعْ أَحَدًا غَيْرِي وَمَوْلَاهُ فَأَعْطَانِي النِّصْفَ وَأَعْطَى مَوْلَاهُ النِّصْفَ
৩০৫৩. শুমুস আল কিনদীয়া হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার পিতা মারা গেলেন, আমি এবং তার এক মুক্ত গোলাম ব্যতীত আর কোনো ওয়ারিস ছিল না। এ বিষয়ে আমি আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর নিকট ফায়সালা চাইলে তিনি আমাকে অর্ধেক সম্পদ দিলেন এবং তার মুক্ত গোলামকে অর্ধেক দিলেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : সনদটি শুমুস পর্যন্ত সহীহ। আর শুমূসের জীবনী আমি কোথাও পাইনি।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১১/২৬৮ নং ১১১৮৬; সাঈদ ইবনু মানসূর নং ১৬৭। পুর্ণ তাখরীজের জন্য পরবর্তী হাদীসটি দেখুন।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ مُسْهِرٍ عَنْ ابْنِ أَبِي لَيْلَى عَنْ الْحَكَمِ عَنْ أَبِي الْكَنُودِ عَنْ عَلِيٍّ أَنَّهُ أُتِيَ بِابْنَةٍ وَمَوْلًى فَأَعْطَى الِابْنَةَ النِّصْفَ وَالْمَوْلَى النِّصْفَ قَالَ الْحَكَمُ فَمَنْزِلِي هَذَا نَصِيبُ الْمَوْلَى الَّذِي وَرِثَهُ عَنْ مَوْلَاهُ
৩০৫৪. আবী কুনূদ হতে বর্ণিত, (মৃত ব্যক্তির) এক কন্যা এবং তার এক মুক্ত গোলাম কে আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর নিকট নিয়ে আসা হলো। আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কন্যাকে অর্ধেক সম্পদ দিলেন এবং তার মুক্ত গোলামকে অর্ধেক দিলেন।হাকাম বলেন, তবে (এটা) ঐ অবস্থায় যে, গোলামের অংশ যা তার মালিকের পক্ষ হতে ওয়ারিস হয়।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : সনদটি যঈফ মুহাম্মদ ইবনু আবী লাইলার দুর্বলতার কারনে। তিনি স্মৃতিশক্তির ক্ষেত্রে অতি দুর্বল।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১১/২৬৮ নং ১১১৮৮।
أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى عَنْ ابْنِ إِدْرِيسَ عَنْ أَشْعَثَ عَنْ الْحَكَمِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُدْلِجٍ أَنَّهُ مَاتَ وَتَرَكَ ابْنَتَهُ وَمَوَالِيَهُ فَأَعْطَى عَلِيٌّ ابْنَتَهُ النِّصْفَ وَمَوَالِيَهُ النِّصْفَ
৩০৫৫. হাকাম হতে বর্ণিত, আব্দুর রহমান ইবনু মুদলিজ তার এক কন্যা ও এক মুক্ত দাস রেখে মৃত্যু বরণ করেন। তখন আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তার কন্যাকে অর্ধেক সম্পদ দেন এবং তার মুক্ত গোলামকে অর্ধেক দেন।[1
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : সনদটি যঈফ আশআস ইবনু সিওয়ারের দুর্বলতার কারনে। আর এটি মুরসাল।
তাখরীজ: তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ৪/৪০২; বাইহাকী, ফারাইয ৬/২৪১; (অপর একটি সহীহ সনদে আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, সেখানে ইবনু মুদলিজের কথা উল্লেখ নেই)।
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ عَنْ ابْنِ إِدْرِيسَ عَنْ الشَّيْبَانِيِّ عَنْ الْحَكَمِ عَنْ الشَّمُّوسِ أَنَّ أَبَاهَا مَاتَ فَجَعَلَ عَلِيٌّ لَهَا النِّصْفَ وَلِمَوَالِيهِ النِّصْفَ
৩০৫৬. শুমুস হতে বর্ণিত, তার পিতা মারা গেলে আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাকে অর্ধেক সম্পদ দিলেন এবং তার মুক্ত গোলামকে অর্ধেক দিলেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : শুমুস অজ্ঞাত পরিচয় নারী। অবশিষ্ট বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১১/২৬৮ নং ১১১৮৭; পুর্ণ তাখরীজের জন্য পূর্ববর্তী ৩০৫০ নং হাদীসটি দেখুন।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ حَدَّثَنَا أَشْعَثُ عَنْ جَهْمِ بْنِ دِينَارٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ أَنَّهُ سُئِلَ عَنْ أُخْتَيْنِ اشْتَرَتْ إِحْدَاهُمَا أَبَاهَا فَأَعْتَقَتْهُ ثُمَّ مَاتَ قَالَ لَهُمَا الثُّلُثَانِ فَرِيضَتُهُمَا فِي كِتَابِ اللَّهِ وَمَا بَقِيَ فَلِلْمُعْتِقَةِ دُونَ الْأُخْرَى
৩০৫৭. জাহম ইবনু দীনার হতে বর্ণিত, ইবরাহীম (রহঃ) কে এমন দু’বোন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো যাদের একজন তাদের পিতাকে (দাস অবস্থায় পেয়ে) ক্রয় করে মুক্ত করে দিলো। এরপর সে লোকটি মৃত্যুবরণ করলো। তিনি বললেন, আল্লাহর কিতাব অনুসারে তাদের উভয়ের নির্ধারিত অংশ হলো দুই তৃতীয়াংশ। এরপর অবশিষ্ট সম্পদ পাবে তাকে দাসত্ব হতে মুক্তিদানকারী মেয়েটি, অপর মেয়েটি পাবে না।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : সনদটি যঈফ আশআস ইবনু সিওয়ারের দুর্বলতার কারনে।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১১/৩৯০ নং ১১১৮২, ১১১৮৪। আর আব্দুর রাযযাক আল মুসান্নাফ নং ১৬২১৫ এ যুহুরী হতে সহীহ সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ১৬২৭০ নং টিও দেখুন।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ حَدَّثَنَا الْأَشْعَثُ عَنْ الشَّعْبِيِّ فِي امْرَأَةٍ أَعْتَقَتْ أَبَاهَا فَمَاتَ الْأَبُ وَتَرَكَ أَرْبَعَ بَنَاتٍ هِيَ إِحْدَاهُنَّ قَالَ لَيْسَ عَلَيْهِ مِنَّةٌ لَهُنَّ الثُّلُثَانِ وَهِيَ مَعَهُنَّ
৩০৫৮. আশআস ইবনু সিওয়ার হতে বর্ণিত, শা’বী (রহঃ) কে এমন এক মেয়ে সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো যে তার পিতাকে (দাস অবস্থায় পেয়ে ক্রয় করে) মুক্ত করে দিলো। এরপর পিতা লোকটি এ মেয়েটিসহ চারটি কন্যা রেখে মৃত্যুবরণ করলো। তিনি বললেন, সে লোকটির উপর অনুগ্রহের কোনো দায়িত্ব নেই; তাদের সকলে মিলে দুই তৃতীয়াংশ পাবে। আর সে মেয়েটিও তাদের সাথেই পেয়ে থাকবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : সনদটি যঈফ আশআস ইবনু সিওয়ারের দুর্বলতার কারনে। আর এটি শা’বী হতে মাওকুফ হিসেবে বর্ণিত।
তাখরীজ: এটি আমি আর কোথাও পাইনি। দেখুন, আব্দুর রাযযাক আল মুসান্নাফ নং ১৬২১৩ টি দেখুন।
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ عَنْ حَيَّانَ بْنِ سَلْمَانَ قَالَ كُنْتُ عِنْدَ سُوَيْدِ بْنِ غَفَلَةَ فَجَاءَهُ رَجُلٌ فَسَأَلَهُ عَنْ فَرِيضَةِ رَجُلٍ تَرَكَ ابْنَتَهُ وَامْرَأَتَهُ قَالَ أَنَا أُنْبِئُكَ قَضَاءَ عَلِيٍّ قَالَ حَسْبِي قَضَاءُ عَلِيٍّ قَالَ قَضَى عَلِيٌّ لِامْرَأَتِهِ الثُّمُنَ وَلِابْنَتِهِ النِّصْفَ ثُمَّ رَدَّ الْبَقِيَّةَ عَلَى ابْنَتِهِ
৩০৫৯. হাইয়্যান ইবনু সুলাইমান (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সুওয়াইদ ইবনু গাফালা’র নিকট ছিলাম, এমন সময় একজন লোক এসে এক ব্যক্তির উত্তরাধিকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলো, যে তার এক কন্যা ও স্ত্রী রেখে মৃত্যু বরণ করেছে। তখন তিনি বললেন, আমি তোমাকে আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর ফায়সালা জানিয়ে দিচ্ছি।সে বললো, আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর ফায়সালাই আমার জন্য যথেষ্ট। তিনি বললেন, আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ফায়সালা করেছেন যে, স্ত্রী পাবে এক অষ্টমাংশ এবং কন্যা পাবে অর্ধেক। এরপর বাকী সম্পদ কন্যার দিকে ফিরে আসবে (তথা, কন্যা অবশিষ্ট সম্পদ পুনরায় পাবে)।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এ সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১১/৩৭৩ নং ১১২০৮; ফাসাওয়ী, মা’রিফাতু ওয়াত তারীখ ৩/১৯১; বাইহাকী, ফারাইয ৬/২৪২।
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ عَنْ إِسْرَائِيلَ عَنْ أَبِي الْهَيْثَمِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ أَنَّ مَوْلَاةً لِإِبْرَاهِيمَ تُوُفِّيَتْ وَتَرَكَتْ مَالًا فَقُلْتُ لِإِبْرَاهِيمَ فَقَالَ إِنَّ لَهَا ذَا قَرَابَةٍ
৩০৬০. আবীল হাইছাম হতে বর্ণিত, ইবরাহীমের একটি মুক্ত দাসী কিছু সম্পদ রেখে মৃত্যুবরণ করলো। তখন আমি ইবরাহীমকে তা বললাম। তখন তিনি বললেন, নিশ্চয়ই তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজন রয়েছে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এ সনদ ইবরাহীম পর্যন্ত সহীহ।
তাখরীজ: (ভিন্ন শব্দে ও সূত্রে) সাঈদ ইবনু মানসূর নং ১৮২। আব্দুর রাযযাক আল মুসান্নাফ নং ১৬১৯৬; ইবনু আবী শাইবা ১১/২৭৪ নং ১১২১২।
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا أَشْعَثُ عَنْ الشَّعْبِيِّ عَنْ عُمَرَ وَعَلِيٍّ وَزَيْدٍ قَالَ وَأَحْسَبُهُ قَدْ ذَكَرَ عَبْدَ اللَّهِ أَيْضًا أَنَّهُمْ قَالُوا الْوَلَاءُ لِلْكُبْرِ يَعْنُونَ بِالْكُبْرِ مَا كَانَ أَقْرَبَ بِأَبٍ أَوْ أُمٍّ
৩০৬১. শা’বী (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমার, আলী, যাইদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম বর্ণনা করেছেন এবং আমার মনে হয়- আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুও বর্ণনা করেছেন যে, তারা বলেছেন: অভিভাবকত্বের অধিকারী হবে বয়োজেষ্ঠ ব্যক্তি।’ এর দ্বারা তারা বয়োজেষ্ঠ বলতে ঐ সকল ব্যক্তিদেরকে বুঝিয়েছেন, যারা ছিলেন পিতা কিংবা মাতার দিক থেকে নিকটাত্মীয়।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : সনদটি যঈফ আশআস ইবনু সিওয়ারের দুর্বলতার কারনে।
তাখরীজ: বাইহাকী, ফারাইয ১০/৩০৩; সাঈদ ইবনু মানসূর নং ২৬৭। এটি সামনেও আসছে।
حَدَّثَنَا يَزِيدُ حَدَّثَنَا أَشْعَثُ عَنْ ابْنِ سِيرِينَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ قَالَ كُتِبَ إِلَى عُمَرَ فِي شَأْنِ فُكَيْهَةَ بِنْتِ سَمْعَانَ أَنَّهَا مَاتَتْ وَتَرَكَتْ ابْنَ أَخِيهَا لِأَبِيهَا وَأُمِّهَا وَابْنَ أَخِيهَا لِأَبِيهَا فَكَتَبَ عُمَرُ إِنَّ الْوَلَاءَ لِلْكُبْرِ
৩০৬২. আব্দুল্লাহ ইবনু উতবাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর নিকট পত্র যোগে ফুকাইহাহ বিনতে সাম’আন সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলো যে তার সহোদর ভাইয়ের এক ছেলে এবং বৈমাত্রেয় এক ভাইয়ের ছেলে রেখে মৃত্যু বরণ করেছিল। তখন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু লিখে পাঠালেন যে, ‘অভিভাবকত্বের অধিকারী হবে বয়োজেষ্ঠ ব্যক্তি।’[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : সনদটি যঈফ আশআস ইবনু সিওয়ারের দুর্বলতার কারনে।
তাখরীজ: বাইহাকী, ফারাইয ৬/২৩৯ অপর একটি সহীহ সনদে ইবনু সীরীন হতে।