সুনান আদ-দারিমী
حَدَّثَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ مَنْ أَحَبَّ الْقُرْآنَ فَلْيُبْشِرْ
৩৩৬৩. (অপর সনদে) আব্দুর রহমান ইবনু ইয়াযীদ হতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যে ব্যক্তি কুরআনকে ভালবাসে সে যেন আনন্দিত হয়।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আর এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।
حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا هَمَّامٌ عَنْ عَاصِمِ بْنِ أَبِي النُّجُودِ عَنْ الشَّعْبِيِّ أَنَّ ابْنَ مَسْعُودٍ كَانَ يَقُولُ يَجِيءُ الْقُرْآنُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيَشْفَعُ لِصَاحِبِهِ فَيَكُونُ لَهُ قَائِدًا إِلَى الْجَنَّةِ وَيَشْهَدُ عَلَيْهِ وَيَكُونُ لَهُ سَائِقًا إِلَى النَّارِ
৩৩৬৪. শা’বী হতে বর্ণিত, ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলতেন, কিয়ামতের দিন কুরআন এসে তার সাথী (পাঠক)-এর জন্য শাফা’আত করবে এবং তাকে জান্নাতের দিকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাবে। আবার তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে এবং তাকে জাহান্নামের দিকে চালিয়ে নিয়ে যাবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ শা’বী পর্যন্ত হাসান।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১০/৪৯৭ নং ১০১০২; ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ৯৬, ১০৮; আবুল ফাযল আর রাযী, নং ১২৪ (কিছুটা ভিন্ন শব্দে।)
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَبِي جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا بُدَيْلٌ عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ لِلَّهِ أَهْلِينَ مِنْ النَّاسِ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ هُمْ قَالَ أَهْلُ الْقُرْآنِ
৩৩৬৫. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “নিশ্চয়ই লোকদের মাঝে আল্লাহর ‘আহল’ বা পরিজন রয়েছে।“ তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তারা কারা? তিনি বললেন: “আহলুল কুরআন’ বা কুরআনের অধিকারীগণ।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ হাসান ইবনু আবী জা’ফর এর দুর্বলতার কারণে। তবে তিনি এ বর্ণনায় একাকী নন, তার মুতাবিয়াত রয়েছে। যেমন তাখরীজে উল্লেখিত হয়েছে।
তাখরীজ: আবূ দাউদ তায়ালিসী, ২/৩ নং ১৮৮৫; আবী নুয়াইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া ৩/৬৩; আহমাদ ৩/১২৭-১২৮, ২৪২; নাসাঈ, কুবরা ৫/১৭ নং ৮০৩১; সুনান, ফাযাইলুল কুরআন নং ৫৬; ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ৭৫; ইবনু কাছীর, ফাযাইলুল কুরআন পৃ: ২৭৫; ইবনু মাজাহ, মুকাদ্দমাহ নং ২১৫; আবুল ফাযল আর রাযী, নং ৩৭; হাকিম ১/৫৫৬ সহীহ সনদে।
বুসীরী, মিসবাহুয যুজাজাহ ১/৯১ তে বলেন, এ সনদ সহীহ, সকলেই বিশ্বস্ত।’
খতীব, তারীখ ২/৩১১ অপর সূত্রে।
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَاصِمٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ عَاصِمِ بْنِ بَهْدَلَةَ عَنْ مُغِيثٍ عَنْ كَعْبٍ قَالَ عَلَيْكُمْ بِالْقُرْآنِ فَإِنَّهُ فَهْمُ الْعَقْلِ وَنُورُ الْحِكْمَةِ وَيَنَابِيعُ الْعِلْمِ وَأَحْدَثُ الْكُتُبِ بِالرَّحْمَنِ عَهْدًا وَقَالَ فِي التَّوْرَاةِ يَا مُحَمَّدُ إِنِّي مُنَزِّلٌ عَلَيْكَ تَوْرَاةً حَدِيثَةً تَفْتَحُ فِيهَا أَعْيُنًا عُمْيًا وَآذَانًا صُمًّا وَقُلُوبًا غُلْفًا
৩৩৬৬. কা’ব হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, তোমরা কুরআনকে আঁকড়ে ধরো। কেননা, মনের উপলব্ধি, প্রজ্ঞার আলোকবর্তিকা, ইলমের ঝরণা, কালের বিবেচনায় আল্লাহর কিতাবসমূহের মধ্যে সবচেয়ে নবতর কিতাব।[1] তিনি বলেন, তাওরাত কিতাবে আছে, হে মুহাম্মদ! আমি আপনার প্রতি নবতর তাওরাত নাযিল করেছি, যা অন্ধ দৃষ্টিকে, বধির কানকে এবং অনুভুতিহীন আবদ্ধ হৃদয়কে উন্মুক্ত করে দেবে।[2]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।
তাখরীজ: আবী উবাইদ, ফাযাইলুল কুরআন পৃ: নং ৭৭।
[2] তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১১/৪৮১ নং ১১৭৮৭ মুগীছ হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম r বলেছেন: “আমার নিকট নাযিল করা হয়েছে তাতে রয়েছে প্রজ্ঞার আলোকবর্তিকা, ইলমের ঝরণা; এর দ্বারা অন্ধ দৃষ্টিকে, অনুভুতিহীন আবদ্ধ হৃদয়কে এবং বধির কানকে উন্মুক্ত করে দেওয়ার জন্য।আর তা আল্লাহর কিতাবসমূহের মধ্যে সবচেয়ে নবতর কিতাব।“
এর সনদ মুগীছ পর্যন্ত সহীহ। তবে এটি মুগীছের উপর মাওকুফ (তার নিজের বক্তব্য হিসেবে বর্ণিত)।
حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ مِخْرَاقٍ عَنْ أَبِي إِيَاسٍ عَنْ أَبِي كِنَانَةَ عَنْ أَبِي مُوسَى أَنَّهُ قَالَ إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ كَائِنٌ لَكُمْ أَجْرًا وَكَائِنٌ لَكُمْ ذِكْرًا وَكَائِنٌ بِكُمْ نُورًا وَكَائِنٌ عَلَيْكُمْ وِزْرًا اتَّبِعُوا الْقُرْآنَ وَلَا يَتَّبِعْكُمْ الْقُرْآنُ فَإِنَّهُ مَنْ يَتَّبِعْ الْقُرْآنَ يَهْبِطْ بِهِ فِي رِيَاضِ الْجَنَّةِ وَمَنْ اتَّبَعَهُ الْقُرْآنُ يَزُخُّ فِي قَفَاهُ فَيَقْذِفُهُ فِي جَهَنَّمَ قَالَ أَبُو مُحَمَّد يَزُخُّ يَدْفَعُ
৩৩৬৭. আবী কিনানাহ হতে বর্ণিত, আবূ মুসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এ কুরআন হলো তোমাদের জন্য সাওয়াব অর্জনের মাধ্যম, যিকিরের উপাদান, তোমাদের জন্য আলোকবর্তিকা এবং তোমাদের পক্ষে বোঝা বহনকারী। তোমরা এ কুরআনের অনুসরণ করো, আর এ কুরআন যেন তোমাদের পশ্চাদ্ধাবন না করে। কারণ যে ব্যক্তি কুরআনের অনুসরণ করবে, এর মাধ্যমে সে জান্নাতের বাগানে অবতরণ (অবস্থান) করবে। আর যে ব্যক্তি কুরআনকে তার অনুগামী করবে, তা তার ঘাড় ধরে ঠেলে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : আবূ কিনানাহ সম্পর্কে আমি কোনো মুহাদ্দিসকে ‘জারাহ ও তা’দীল (সুনাম বা দুর্নাম) করতে দেখিনি। বাকী রাবীগণ বিশ্বস্ত। ফলে এটি ইবনু হিব্বানের শর্তানুযায়ী সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১০/৪৮৪ নং ১০০৪৩, ১৩/২৮৬ নং ১৬৬৭১; ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ৬৭; সাঈদ ইবনু মানসূর ১/৪৯ নং ৮ ; আবী নুয়াইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া ২/২৫৭; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান ২০২৩, ২০২৪।
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ أَيُّوبَ قَالَ سَمِعْتُ عَمِّي إِيَاسَ بْنَ عَامِرٍ يَقُولُ أَخَذَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ بِيَدِي ثُمَّ قَالَ إِنَّكَ إِنْ بَقِيتَ سَيَقْرَأُ الْقُرْآنَ ثَلَاثَةُ أَصْنَافٍ فَصِنْفٌ لِلَّهِ وَصِنْفٌ لِلْجِدَالِ وَصِنْفٌ لِلدُّنْيَا وَمَنْ طَلَبَ بِهِ أَدْرَكَ
৩৩৬৮. মুসা ইবনু আইয়্যূব হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার চাচা ইয়াস ইবনু আমির বলতেন, আলী ইবনু আবী তালিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আমার হাত ধরে বলেন, তুমি যদি আমার পরে বেঁচে থাক, তবে অচিরেই (দেখবে), তিন প্রকারে কুরআন পাঠ করা হবে: ১. আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ২. তর্ক-বিতর্ক করার উদ্দেশ্যে এবং ৩. দুনিয়া (মাল-সম্পদ) কামাইয়ের উদ্দেশ্যে। আর তা দ্বারা যে যা-ই অন্বেষণ করবে, তা সে পাবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: তাহক্বীক্ব, উস্তায আলী রিযা, মুসনাদু আলী নং ৭৩৪। তিনি একে যঈফ বলেছেন। তবে তা সেরূপ তথা যঈফ নয়।
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ عَنْ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ أَبِي قِلَابَةَ أَنَّ رَجُلًا قَالَ لِأَبِي الدَّرْدَاءِ إِنَّ إِخْوَانَكَ مِنْ أَهْلِ الْكُوفَةِ مِنْ أَهْلِ الذِّكْرِ يُقْرِئُونَكَ السَّلَامَ فَقَالَ وَعَلَيْهِمْ السَّلَامُ وَمُرْهُمْ فَلْيُعْطُوا الْقُرْآنَ بِخَزَائِمِهِمْ فَإِنَّهُ يَحْمِلُهُمْ عَلَى الْقَصْدِ وَالسُّهُولَةِ وَيُجَنِّبُهُمْ الْجَوْرَ وَالْحُزُونَةَ
৩৩৬৯. আবী কিলাবাহ হতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি আবূ দারদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে বললো, আপনার কুফাবাসী যিকিরকারী (অধিক কুরআন পাঠকারী খারেজীগণ) ভাইগণ আপনাকে সালাম প্রদান করেছেন। তখন তিনি বললেন, তাদের প্রতি সালাম। তাদেরকে আদেশ করো যে, তারা যেন কুরআনের হাতে তাদের আনুগত্যের লাগাম প্রদান করে (অর্থাৎ- তারা যেন কুরআনের হুকুমের আনুগত্য করে ও তার সাথে লেগে থাকে)। ফলে কুরআন তাদেরকে সরল-সোজা ও সহজ পথের দিকে অনুপ্রাণীত করবে এবং তাদেরকে বাড়াবাড়ি-জুলুম ও কাঠিন্য-কঠোরতা হতে দুরে রাখবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ ইনকিতা’আ বা বিচ্ছিন্নতার কারণে। আবু কিলাবাহ আবূ দারদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর সাক্ষাত পাননি।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১০/৫২৭ নং ১০২১১; আব্দুর রাযযাক নং ৫৯৯৬।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ الرِّفَاعِيُّ حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ الْجُعْفِيُّ عَنْ حَمْزَةَ الزَّيَّاتِ عَنْ أَبِي الْمُخْتَارِ الطَّائِيِّ عَنْ ابْنِ أَخِي الْحَارِثِ عَنْ الْحَارِثِ قَالَ دَخَلْتُ الْمَسْجِدَ فَإِذَا أُنَاسٌ يَخُوضُونَ فِي أَحَادِيثَ فَدَخَلْتُ عَلَى عَلِيٍّ فَقُلْتُ أَلَا تَرَى أَنَّ أُنَاسًا يَخُوضُونَ فِي الْأَحَادِيثِ فِي الْمَسْجِدِ فَقَالَ قَدْ فَعَلُوهَا قُلْتُ نَعَمْ قَالَ أَمَا إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ سَتَكُونُ فِتَنٌ قُلْتُ وَمَا الْمَخْرَجُ مِنْهَا قَالَ كِتَابُ اللَّهِ كِتَابُ اللَّهِ فِيهِ نَبَأُ مَا قَبْلَكُمْ وَخَبَرُ مَا بَعْدَكُمْ وَحُكْمُ مَا بَيْنَكُمْ هُوَ الْفَصْلُ لَيْسَ بِالْهَزْلِ هُوَ الَّذِي مَنْ تَرَكَهُ مِنْ جَبَّارٍ قَصَمَهُ اللَّهُ وَمَنْ ابْتَغَى الْهُدَى فِي غَيْرِهِ أَضَلَّهُ اللَّهُ فَهُوَ حَبْلُ اللَّهِ الْمَتِينُ وَهُوَ الذِّكْرُ الْحَكِيمُ وَهُوَ الصِّرَاطُ الْمُسْتَقِيمُ وَهُوَ الَّذِي لَا تَزِيغُ بِهِ الْأَهْوَاءُ وَلَا تَلْتَبِسُ بِهِ الْأَلْسِنَةُ وَلَا يَشْبَعُ مِنْهُ الْعُلَمَاءُ وَلَا يَخْلَقُ عَنْ كَثْرَةِ الرَّدِّ وَلَا تَنْقَضِي عَجَائِبُهُ وَهُوَ الَّذِي لَمْ يَنْتَهِ الْجِنُّ إِذْ سَمِعَتْهُ أَنْ قَالُوا إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآنًا عَجَبًا هُوَ الَّذِي مَنْ قَالَ بِهِ صَدَقَ وَمَنْ حَكَمَ بِهِ عَدَلَ وَمَنْ عَمِلَ بِهِ أُجِرَ وَمَنْ دَعَا إِلَيْهِ هُدِيَ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ خُذْهَا إِلَيْكَ يَا أَعْوَرُ
৩৩৭০. হারিছ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একদা মসজিদে প্রবেশ করে দেখলাম কতক লোক সেখানে কথাবার্তায় নিমগ্ন। তখন আমি আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর নিকট গিয়ে বললাম, আপনি কি দেখছেন না যে, মসজিদে লোকেরা বাকবিতণ্ডায় নিমগ্ন হয়ে আছে? তখন তিনি বললেন, তারা কি তাই করছে? আমি বললাম, হাঁ। তিনি বললেন, শোন, নিশ্চয়ই আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: “অচিরেই ফিতনাসমূহ আবির্ভাব হবে।“ আমি বললাম, তা হতে বের হওয়ার উপায় কি? তিনি বললেন, “আল্লাহর কিতাব। আল্লাহর কিতাবে তোমাদের পূর্ববর্তীগণের সকল সংবাদ রয়েছে এবং তোমাদের পরবর্তীদের সংবাদও রয়েছে, এবং তোমাদের মধ্যকার প্রয়োজনীয় হুকুম-আহকাম রয়েছে। আর তা হলো চুড়ান্ত সত্য, এটি কোনো ঠাট্টা-তামাশার বস্তু নয়। দাপট-অহংকারবশত: যে ব্যক্তি একে বর্জন করবে, আল্লাহ তাকে ধ্বংস করবেন। আর যে ব্যক্তি এ ব্যতীত অন্য কোথাও হেদায়েত-পথনির্দেশনা অন্বেষণ করবে, আল্লাহ তাকে পথভ্রষ্ট করবেন।
আর এ হলো আল্লাহর মজবুত রশি; আর এ হলো প্রজ্ঞাপুর্ণ যিকির; আর এ হলো সিরাতুল মুস্তাক্বীম-সরল-সোজা পথ। এ হলো সেই বস্তু যার মাধ্যমে প্রবৃত্তি-মনমর্জি বক্র হয় না, আর এর দ্বারা জবান অস্পষ্ট হয় না। আর এ থেকে উলামাগণ কখনো পরিতৃপ্ত হয় না; বার বার পাঠেও তা কখনো জীর্ণ ও পুরাতন হয় না; এর বিস্ময়সমূহ কখনো শেষ হয় না; এ হলো সেই কুরআন যা শুনে জ্বিনেরা এ কথা না বলে পারেনি যে, إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآناً عَجَباً (অর্থ: “আমরা তো এক বিস্ময়কর কুরআন শ্রবণ করেছি।“ সুরা জ্বিন: ১) আর এ হলো সেই কুরআন, যার দ্বারা কেউ কথা বললে সত্য বলে; যার দ্বারা কেউ বিচার-ফায়সালা করলে, সে ন্যায়বিচার করে; এর দ্বারা যে আমল করে, সে প্রতিদান লাভ করলো; আর এর দিকে যে আহ্বান করলো, সে ‘সিরাতুল মুস্তাক্বিম’ বা সরল পথের দিশা পেল।“ (আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাকে বললেন,) হে আওয়ার, তুমি এ কুরআনকে অবলম্বন-অনুসরণ করো।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদে দু’জন অজ্ঞাত নামা রাবী রয়েছে: আবুল মুখতার সা’দ আত তাঈ ও ইবনু আখীল হারিছ (হারিছের ভাতিজা)।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১০/৪৮২ নং ১০০৫৬; তিরমিযী, ছাওয়াবুল কুরআন ২৯০৮; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান ১৯৩৫, ১৯৩৬; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ১১৮১। (তিরমিযী বলেন: হাদীসটি গারীব। হামযা আয যিয়াত হতে ব্যতীত এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই। এর সনদ মাজহুল বা অজ্ঞাত। হারিছের বর্ণনা সম্পর্কে সমালোচনা রয়েছে।“
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلَاءِ حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ عَدِيٍّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ أَبِي سِنَانٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ عَنْ أَبِي الْبَخْتَرِيِّ عَنْ الْحَارِثِ عَنْ عَلِيٍّ قَالَ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أُمَّتَكَ سَتُفْتَتَنُ مِنْ بَعْدِكَ قَالَ فَسَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوْ سُئِلَ مَا الْمَخْرَجُ مِنْهَا قَالَ الْكِتَابُ الْعَزِيزُ الَّذِي لَا يَأْتِيهِ الْبَاطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلَا مِنْ خَلْفِهِ تَنْزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ مَنْ ابْتَغَى الْهُدَى فِي غَيْرِهِ أَضَلَّهُ اللَّهُ وَمَنْ وَلِيَ هَذَا الْأَمْرَ مِنْ جَبَّارٍ فَحَكَمَ بِغَيْرِهِ قَصَمَهُ اللَّهُ هُوَ الذِّكْرُ الْحَكِيمُ وَالنُّورُ الْمُبِينُ وَالصِّرَاطُ الْمُسْتَقِيمُ فِيهِ خَبَرُ مَنْ قَبْلَكُمْ وَنَبَأُ مَا بَعْدَكُمْ وَحُكْمُ مَا بَيْنَكُمْ وَهُوَ الْفَصْلُ لَيْسَ بِالْهَزْلِ وَهُوَ الَّذِي سَمِعَتْهُ الْجِنُّ فَلَمْ تَتَنَاهَى أَنْ قَالُوا إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآنًا عَجَبًا يَهْدِي إِلَى الرُّشْدِ وَلَا يَخْلَقُ عَنْ كَثْرَةِ الرَّدِّ وَلَا تَنْقَضِي عِبَرُهُ وَلَا تَفْنَى عَجَائِبُهُ ثُمَّ قَالَ عَلِيٌّ لِلْحَارِثِ خُذْهَا إِلَيْكَ يَا أَعْوَرُ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :
৩৩৭১. হারিছ হতে বর্ণিত, আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলা হলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার পরে অচিরেই আপনার উম্মাত ফিতনায় পতিত হবে। অত:পর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, অথবা, তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো, তা হতে পরিত্রাণের হওয়ার উপায় কি? তিনি বললেন, “মহা পরাক্রান্ত আল্লাহর কিতাব – কোনো মিথ্যা এতে অনুপ্রবেশ করবে না- অগ্র হতেও নয়, পশ্চাত হতেও নয়। এটা প্রজ্ঞাবান, প্রশংসনীয় আল্লাহর নিকট হতে অবতীর্ণ। (সুরা ফুসসিলাত: ৪২) আর যে ব্যক্তি এ ব্যতীত অন্য কোথাও হেদায়েত-পথনির্দেশনা অন্বেষণ করবে, আল্লাহ তাকে পথভ্রষ্ট করবেন। আর যে ব্যক্তি শাসন ক্ষমতা লাভ করবে, অত:পর সে এ ব্যতীত অন্যকিছু দ্বারা বিচার-ফায়সালা করবে, আল্লাহ তাকে ধ্বংস করবেন। আর এ হলো প্রজ্ঞাপুর্ণ যিকির ও সুস্পষ্ট আলোকবর্তিকা; আর সিরাতুল মুস্তাক্বীম-সরল-সোজা পথ।
এতে তোমাদের পূর্ববর্তীগণের সকল খবরা-খবর এবং তোমাদের পরবর্তীদের সংবাদ রয়েছে, এবং তোমাদের মধ্যকার প্রয়োজনীয় হুকুম-আহকাম রয়েছে। আর তা হলো চুড়ান্ত সত্য, এটি কোনো ঠাট্টা-তামাশার বস্তু নয়। এ হলো সেই কুরআন যা শুনে জ্বিনেরা এ কথা না বলে পারেনি যে, إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآناً عَجَباً (অর্থ: “আমরা তো এক বিস্ময়কর কুরআন শ্রবণ করেছি। এটি সুপথে পরিচালিত করে।“ সুরা জ্বিন: ১) বার বার পাঠেও তা কখনো জীর্ণ ও পুরাতন হয় না; এর উপদেশ-শিক্ষা বিস্ময়সমূহ কখনো নষ্ট হবে না এবং এর বিস্ময়সমূহ কখনো শেষ হবে না।“ এরপর আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হারিছকে বললেন, ‘হে আওয়ার, তুমি একে (কুরআনকে) আঁকড়ে ধরো।’[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান। ((মুহাক্বিক্ব পুর্বের হাদীসটিতে আবুল মুখতার কে মাজহুল বা অজ্ঞাত পরিচয় বললেন, অথচ এখানে এর সনদকে ‘হাসান বললেন। এছাড়া, অপর রাবী হারিছের সম্পর্কে এর পূর্বের টীকায় তিরমিযীর সমালোচনা আমরা দেখেছি।– যার ফলে এর সনদও যঈফ হওয়াই বাঞ্ছনীয়। আল্লাহই ভাল জানেন।– অনুবাদক।))
তাখরীজ: খতীব, ফাকীহ ওয়াল মুত্তাফাকীহ ১/৫৫, ৫৬; আবুল ফাযল আর রাযী, ফাযাইলুল কুরআন নং ৩৫।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ أَبِي حُرَّةَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ وَمَنْ يُؤْتَ الْحِكْمَةَ فَقَدْ أُوتِيَ خَيْرًا كَثِيرًا قَالَ الْفَهْمَ بِالْقُرْآنِ
৩৩৭২. আবী হুররাহ হতে বর্ণিত, وَمَنْ يُؤْتَ الْحِكْمَةَ فَقَدْ أُوتِىَ خَيْراً كَثِيراً (অর্থ: “আর যাকে হিকমাত (প্রজ্ঞা) প্রদান করা হয়েছে, বস্তুত: তাকে প্রভূত কল্যাণ দেওয়া হয়েছে।“ সুরা বাকারা: ২৬৯) ইবরাহীম (রহঃ) এ আয়াত সম্পর্কে বলেন, (হিকমাত’ অর্থ:) কুরআনের জ্ঞান।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ ইবরাহীম পর্যন্ত যঈফ।
তাখরীজ: তাবারী, তাফসীর ৩/৯০।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ وَرْقَاءَ عَنْ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ عَنْ مُجَاهِدٍ يُؤْتِي الْحِكْمَةَ مَنْ يَشَاءُ قَالَ الْكِتَابَ يُؤْتِي إِصَابَتَهُ مَنْ يَشَاءُ
৩৩৭৩. আবী নাজীহ হতে বর্ণিত, يُؤْتِى الْحِكْمَةَ مَنْ يَشَاءُ (অর্থ: “আর তিনি যাকে ইচ্ছা হিকমাত (প্রজ্ঞা) প্রদান করেন।“ সুরা বাকারা: ২৬৯) এ আয়াত সম্পর্কে মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, অর্থাৎ আল্লাহর কিতাব। যাকে ইচ্ছা তিনি কুরআন মাজীদের যথার্থ জ্ঞান দান করেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ মুজাহিদ পর্যন্ত সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৭/২৩১ নং ৩০০৯; তাবারী, তাফসীর ৩/৯০।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ خَيْثَمَةَ قَالَ قَالَ لِامْرَأَتِهِ إِيَّاكِ أَنْ تُدْخِلِي بَيْتِي مَنْ يَشْرَبُ الْخَمْرَ بَعْدَ أَنْ كَانَ يُقْرَأُ فِيهِ الْقُرْآنُ كُلَّ ثَلَاثٍ
৩৩৭৪. আ’মাশ হতে বর্ণিত, খাইছামা তার স্ত্রীকে বলেন, এই তুমিই আমার বাড়িতে মদপানকারীকে প্রবেশ করতে দিয়েছ, যেখানে প্রতি তিন দিনে পুরো কুরআন পঠিত হতো।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান মুহাম্মদ ইবনু ইয়াযীদ আবী হাশিম রিফাঈ’র কারণে।
তাখরীজ: আলফাসাওয়ী, আল মা’রিফাতু ওয়াত তারীখ ৩/১৪৩ সহীহ সনদে; এছাড়া, আবূ নুয়াইম, হিলইয়া ৪/১১৫ তে সেখানে রয়েছে: খাইছামা বলেন, … আমি একজন মাত্র লোককে ভয় করি, সে আমার ভাই মুহাম্মদ ইবনু আব্দুর রহমান, সে ফাসিক লোক মদপান করে। ফলে আমার বাড়িতে মদ পান করা হবে, তা আমি অপছন্দ করি। কেননা, সেখানে প্রতি তিনদিন পর কুরআন পাঠ (খতম) করা হয়।’ এর সনদ সহীহ।
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا فِطْرٌ عَنْ الْحَكَمِ عَنْ مِقْسَمٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ مَا يَمْنَعُ أَحَدَكُمْ إِذَا رَجَعَ مِنْ سُوقِهِ أَوْ مِنْ حَاجَتِهِ فَاتَّكَأَ عَلَى فِرَاشِهِ أَنْ يَقْرَأَ ثَلَاثَ آيَاتٍ مِنْ الْقُرْآنِ
৩৩৭৫. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, তোমরা বাজার হতে কিংবা তোমাদের কোন প্রয়োজন সেরে বাড়িতে প্রবেশ করে বিছানায় হেলান দিয়ে বসে কুরআনের তিনটি আয়াত পাঠ করা হতে তোমাদেরকে কিসে বাধা দেয়?[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনুল মুবারক, যুহদ নং ৮০৭; ইবনু আদী, আল কামিল ১/২৪৯; তাবারাণী, কাবীর ১১/৩৯৮ নং ১২১১৯; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান ২০০৩, ২১৯৮ মারফু’ হিসেবে, এর সনদ সহীহ।
أَخْبَرَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِسْحَقَ حَدَّثَنَا النُّعْمَانُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ عَلِيٍّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُ
৩৩৭৬. আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের মাঝে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম যে কুরআন (নিজে) শিখে এবং (অপরকে) তা শিখায়।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ আব্দুর রহমান ইবনু ইসহাক এর দুর্বলতার কারণে।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১০/৫০৩ নং ১০১২১; আব্দুল্লাহ ইবনু আহমাদ, যাওয়াইদুল মুসনাদ ১/১৫৩; তিরমিযী, ছাওয়াবুল কুরআন ২৯১১;
ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ১৩৬; আবুল ফাযল আর রাযী, ফাযাইলুল কুরআন নং ৩৮, ৩৯; তামাম ফী ফাওয়াইদুহ নং ১৩৬; কুযাঈ, মুসনাদুশ শিহাব নং ১২৪১; খতীব, তারীখ ১/৪৫৯।
তিরমিযী বলেন, আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত রিওয়ায়ত হিসাবে আবদুর রহমান ইবন ইসহাক (র)-এর সূত্র ছাড়া এই হাদীসটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই ‘
আমরা বলছি: তবে হাদীসটি সহীহ। পরবর্তী হাদীসটি দেখুন।
حَدَّثَنَا الْحَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ أَخْبَرَنِي عَلْقَمَةُ بْنُ مَرْثَدٍ قَالَ سَمِعْتُ سَعْدَ بْنَ عُبَيْدَةَ عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ عَنْ عُثْمَانَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ خَيْرَكُمْ مَنْ عَلَّمَ الْقُرْآنَ أَوْ تَعَلَّمَهُ قَالَ أَقْرَأَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ فِي إِمْرَةِ عُثْمَانَ حَتَّى كَانَ الْحَجَّاجُ قَالَ ذَاكَ أَقْعَدَنِي مَقْعَدِي هَذَا
৩৩৭৭. উছমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম যে (অপরকে) কুরআন শিক্ষা দেয় অথবা (নিজে) তা শিখে।“
আবূ আব্দুর রহমান উছমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর শাসনামলে কুরআন পড়িয়েছেন হাজ্জাজ আসার পুর্ব পর্যন্ত।তিনি বলেন, আমার এ বসার স্থানে তিনি আমাকে বসিয়েছিলেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু কাছীর, ফাযাইলুল কুরআন পৃ: ২০৫; নাসাঈ, ফাযাইলুল কুরআন নং ৬১, ৬২; ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ১৩২; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান ২২০৫, ২২০৬, ২২০৭।
আর মারফু’ অংশটুকুর আমরা পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১১৮। আরও দেখুন, মুসনাদুল মাউসিলী ২/১৩৬-১৩৭; আসমা ওয়াস সিফাত পৃ: ২৩৭ -২৩৮; বাইহাকী, আল ই’তিকাদ পৃ: ৬২; ফিরইয়াবী, ফাযাইলুল কুরআন নং ১০-১৯।
حَدَّثَنَا الْمُعَلَّى بْنُ أَسَدٍ حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ نَبْهَانَ حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ بَهْدَلَةَ عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خِيَارُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَ الْقُرْآنَ قَالَ فَأَخَذَ بِيَدِي فَأَقْعَدَنِي هَذَا الْمَقْعَدَ أُقْرِئُ
৩৩৭৮. সা’দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু রাদি: থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের মাঝে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম যে কুরআন (নিজে) শিখে এবং কুরআন (অপরকে) শিখায়।“তিনি বলেন, এরপর তিনি আমার হাত ধরে আমাকে এ স্থানে বসালেন আর আমি পাঠ করাচ্ছিলাম।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : হারিছ ইবনু নাবহান মাতরুক (পরিত্যক্ত রাবী)।
তাখরীজ: ইবনু মানসূর ১/১০২ নং ২০।
আমরা পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৮১৪।
তবে হাদীসটি সহীহ পূর্বের হাদীসগুলি এর শাহিদ।
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ عَنْ عِيسَى عَنْ رَجُلٍ عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا مِنْ رَجُلٍ يَتَعَلَّمُ الْقُرْآنَ ثُمَّ يَنْسَاهُ إِلَّا لَقِيَ اللَّهَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَهُوَ أَجْذَمُ قَالَ أَبُو مُحَمَّد عِيسَى هُوَ ابْنُ فَائِدٍ
৩৩৭৯. সা’দ ইবনু উবাদাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে কুরআন শেখার পর তা ভুলে যায়, সে কিয়ামতের দিন হস্ত-কর্তিত অবস্থায় আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করবে।“[1]
[1] তাহক্বীক্ক: এর সনদে তিনটি ত্রুটি বিদ্যমান: ১. ঈসা ইবনু ফাইদ এর জাহালাত বা পরিচয়হীনতা, ২. কোন এক ব্যক্তি’র জাহালাত বা পরিচয়হীনতা ৩. ইয়াযীদ ইবনু আবী যিনাদ এর দুর্বলতা।
তাখরীজ: বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান ১৯৬৯, ১৯৭০; আহমাদ ৫/২৮৪, ২৮৫; আবদ ইবনু হুমাইদ নং ৩০৬; বাযযার, কাশফুল আস্তার ২/২৫৪ নং ১৬৪২; আবূল ফাযল আব্দুর রহমান ইবনু আহমাদ, ফাযাইলুল কুরআন নং ১; ইবনু আব্দুল বারর, আত তামহীদ ১/১৩২; তাবারাণী, কাবীর নং ৫৩৯০, ৫৩৯২; আব্দুর রাযযাক নং ৫৯৮৯; ইবনু আবী শাইবা ১০/৭৪ নং ১০০৪৪; আব্দুর রাযযাক নং ৫৯৯৬; আবূ দাউদ, সালাত ১৪৭৪।
حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عُبَيْدَةَ عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ عَنْ نَاجِيَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ أَكْثِرُوا تِلَاوَةَ الْقُرْآنِ قَبْلَ أَنْ يُرْفَعَ قَالُوا هَذِهِ الْمَصَاحِفُ تُرْفَعُ فَكَيْفَ بِمَا فِي صُدُورِ الرِّجَالِ قَالَ يُسْرَى عَلَيْهِ لَيْلًا فَيُصْبِحُونَ مِنْهُ فُقَرَاءَ وَيَنْسَوْنَ قَوْلَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَيَقَعُونَ فِي قَوْلِ الْجَاهِلِيَّةِ وَأَشْعَارِهِمْ وَذَلِكَ حِينَ يَقَعُ عَلَيْهِمْ الْقَوْلُ
৩৩৮০. আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, কুরআনকে তুলে নেওয়ার পূর্বে তোমরা বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত কর। লোকেরা বললো, এ কুরআনের মাসহাফসমূহকে না হয় তুলে নেওয়া হলো, কিন্তু লোকদের অন্তরে যে মুখস্ত কুরআন রয়েছে, তা কিভাবে তুলে নেওয়া হবে? তিনি বললেন, এক রাতে তার নিকট আগমণকারী আসবে (এবং তাদের থেকে কুরআনকে উঠিয়ে নিয়ে যাবে), অতঃপর তারা সকালে ঘুম থেকে উঠবে নিঃস্ব (কুরআন হীন) অবস্থায়। এমনকি তারা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ কালিমাও ভুলে যাবে। তখন তারা জাহিলী যুগের কথাবার্তা-ও কাব্য-কবিতাতে মত্ত হবে। আর এ সময় তাদের উপর প্রতিশ্রুতি (কিয়ামত) সংঘটিত হবে।[1] [1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ মুসা ইবনু উবাইদাহ’র দুর্বলতার কারণে যঈফ। আর এটি ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর বক্তব্য (মাওকুফ)। (অপর একটি উত্তম সনদেও এটি বর্ণিত। তাখরীজ দেখুন।–অনুবাদক))
তাখরীজ: বুখারী, কাবীর ৮/১০৭-১০৮ সংক্ষিপ্তাকারে প্রথম অংশটুকু।
ইবনুল মুবারাক, আয যুহদ নং ৮০৩ যঈফ সনদে; ইবনু আবী শাইবা ১০/৫৩৪ নং ১০২৪২; ইবনু মানসূর ২/৩৩৫ নং ৯৭; হাকিম ৪/৫০৪; আব্দুর রাযযাক নং ৫৯৮১; তাবারাণী, কাবীর ৯/১৫৩ নং ৮৬৯৮, ৮৬৯৯, ৮৭০০ এর সনদ উত্তম।
حَدَّثَنَا الْمُعَلَّى بْنُ أَسَدٍ حَدَّثَنَا سَلَّامٌ يَعْنِي ابْنَ أَبِي مُطِيعٍ قَالَ كَانَ قَتَادَةُ يَقُولُ اعْمُرُوا بِهِ قُلُوبَكُمْ وَاعْمُرُوا بِهِ بُيُوتَكُمْ قَالَ أُرَاهُ يَعْنِي الْقُرْآنَ
৩৩৮১. ইবনু আবী মুতী’ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কাতাদা বলতেন, তোমরা তোমাদের অন্তরগুলোকে তা দ্বারা আবাদ করো এবং তোমাদের ঘর-বাড়িগুলোকেও তা দ্বারা আবাদ কর। আমার (রাবী ইবনু আবী মুতী’) ধারণা, ‘তা’ বলতে তিনি কুরআনকে বুঝিয়েছেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : কাতাদাহ হতে সালাম ইবনু আবী মুতী’র বর্ণনার ক্ষেত্রে সমালোচনা রয়েছে। আর এটি কাতাদাহ এর বক্তব্য (মাওকুফ)।
তাখরীজ: আমি এটি আর কোথাও পাইনি।
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَاصِمٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ زِرٍّ عَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ لَيُسْرَيَنَّ عَلَى الْقُرْآنِ ذَاتَ لَيْلَةٍ فَلَا يُتْرَكُ آيَةٌ فِي مُصْحَفٍ وَلَا فِي قَلْبِ أَحَدٍ إِلَّا رُفِعَتْ
৩৩৮২. যির হতে বর্ণিত, ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এক রাত্রিতে আগন্তুক এসে কুরআনকে উঠিয়ে নিয়ে যাবে, ফলে কুরআনের মুসহাফে এবং কোন লোকের অন্তরে কুরআনের একটি আয়াতও বিদ্যমান থাকবে না।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ আব্দুল্লাহ পর্যন্ত হাসান। আর এটি তার বক্তব্য (মাওকুফ)।
তাখরীজ: দীঘাকারে ও স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন ইবনু আবী শাইবা ১০/৫৩৪ নং ১০২৪২; আব্দুর রাযযাক নং ৫৯৮০; বুখারী, খালকু আফ’আলিল ইবাদ পৃ: ৮৬ সহীহ সনদে। আগের টীকাটি দেখুন।