হাদীস বিএন


সুনান আদ-দারিমী





সুনান আদ-দারিমী (3383)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ وَاقِدٍ عَنْ قَتَادَةَ قَالَ مَا جَالَسَ الْقُرْآنَ أَحَدٌ فَقَامَ عَنْهُ إِلَّا بِزِيَادَةٍ أَوْ نُقْصَانٍ ثُمَّ قَرَأَ وَنُنَزِّلُ مِنْ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ وَلَا يَزِيدُ الظَّالِمِينَ إِلَّا خَسَارًا




৩৩৮৩. আব্দুল্লাহ ইবনু ওয়াকিদ হতে বর্ণিত, কাতাদা বলেন, ‘যে ব্যক্তি কুরআনের নিকট বসে, অত:পর সেখান থেকে উঠে যায়, সে হয় লাভবান হয় অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’ অত:পর তিনি তিলাওয়াত করেন, অর্থ: “আর আমি কুরআন নাযিল করেছি, যা মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও দয়া। কিন্তু তা সীমালঙ্ঘনকারীদের কেবল ক্ষতিই বৃদ্ধি করে।“ [সুরা বনী ইসরাঈল (ইসরা): ৮২][1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ মুহাম্মদ ইবনু কাছীর ইবনু আবী আতা’র দুর্বলতার কারণে যঈফ। আর এটি কাতাদা এর বক্তব্য (মাওকুফ)।

তাখরীজ: আবূ উবাইদ, ফাযাইল পৃ:৫৬-৫৭।









সুনান আদ-দারিমী (3384)


حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا رِفْدَةُ الْغَسَّانِيُّ حَدَّثَنَا ثَابِتُ بْنُ عَجْلَانَ الْأَنْصَارِيُّ قَالَ كَانَ يُقَالُ إِنَّ اللَّهَ لَيُرِيدُ الْعَذَابَ بِأَهْلِ الْأَرْضِ فَإِذَا سَمِعَ تَعْلِيمَ الصِّبْيَانِ الْحِكْمَةَ صَرَفَ ذَلِكَ عَنْهُمْ قَالَ مَرْوَانُ يَعْنِي بِالْحِكْمَةِ الْقُرْآنَ




৩৩৮৪. ছাবিত ইবনু আজলান আল-আনসারী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, তার নিকট বর্ণনা করা হতো যে, আল্লাহ তা’আলা জমিনবাসীদের উপর শাস্তি প্রদানের ইচ্ছা করেন, কিন্তু যখন তিনি অল্প বয়স্ক যুবকদের হিকমাহ’ শিক্ষা করতে দেখেন, তখন তাদের উপর থেকে তা উঠিয়ে নেন। মারওয়ান বলেন, হিকমাহ অর্থ: আল-কুরআন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ রিফদাহ ইবনু কুযা’আ’র দুর্বলতার কারণে যঈফ। আর এটি ছাবিত এর বক্তব্য (মাওকুফ)।

তাখরীজ: আমি এটি আর কোথাও পাইনি।









সুনান আদ-দারিমী (3385)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُبَارَكِ حَدَّثَنَا صَدَقَةُ بْنُ خَالِدٍ عَنْ ابْنِ جَابِرٍ حَدَّثَنَا شَيْخٌ يُكَنَّى أَبَا عَمْرٍو عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ قَالَ سَيَبْلَى الْقُرْآنُ فِي صُدُورِ أَقْوَامٍ كَمَا يَبْلَى الثَّوْبُ فَيَتَهَافَتُ يَقْرَءُونَهُ لَا يَجِدُونَ لَهُ شَهْوَةً وَلَا لَذَّةً يَلْبَسُونَ جُلُودَ الضَّأْنِ عَلَى قُلُوبِ الذِّئَابِ أَعْمَالُهُمْ طَمَعٌ لَا يُخَالِطُهُ خَوْفٌ إِنْ قَصَّرُوا قَالُوا سَنَبْلُغُ وَإِنْ أَسَاءُوا قَالُوا سَيُغْفَرُ لَنَا إِنَّا لَا نُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا




৩৩৮৫. আবী আমর নামক এক বৃদ্ধ হতে বর্ণিত, মু’আয ইবনু জাবাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, পোশাক যেমন জীর্ণ-পুরাতন হয়ে যায়, তদ্রূপ অচিরেই লোকদের অন্তরে কুরআন ও জীর্ণ-পুরাতন হয়ে যাবে। ফলে তার অবক্ষয়-অবনতি ঘটবে। তারা কুরআন পড়বে কিন্তু তাতে কোনো মজা ও স্বাদ অনুভব করবে না। যেন নেকড়ের অন্তরের উপর তারা ভেড়ার চামড়া পরিধান করবে (তাদের অন্তর নেকড়ের মত ধূর্ত হলেও উপরে তারা মেষের চামড়ার মতে পশম-কোমল পোশাক পরবে)। তাদের আমলসমূহ অত্যন্ত লোভনীয় হবে, কিন্তু তাতে ভয় মিশ্রিত থাকবে না; তারা (আমলে) শিথিলতা-অবহেলা করলেও তারা বলবে, আমরা তো অচিরেই (জান্নাতে) পৌঁছে যাব। আর যখন তারা মন্দ কাজ করবে, তখন বলবে, আমাদেরকে তো ক্ষমা করাই হবে। কেননা, আমরা তো আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরীক করি নি।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ মু’আয রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু পর্যন্ত সহীহ। আর এটি তার বক্তব্য (মাওকুফ)।

তাখরীজ: ((মুহাক্বিক্ব এর কোনো তাখরীজ করেননি। তবে মুহাম্মদ ইবনু নাসর, কিয়ামুল লাইল এ আবী লাইলা হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ফাতহুল মান্নান হা/৩৬১০ দ্র:–অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (3386)


حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ مَنْصُورٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا وَائِلٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ بِئْسَمَا لِأَحَدِكُمْ أَنْ يَقُولَ نَسِيتُ آيَةَ كَيْتَ وَكَيْتَ بَلْ هُوَ نُسِّيَ وَاسْتَذْكِرُوا الْقُرْآنَ فَإِنَّهُ أَسْرَعُ تَفَصِّيًا مِنْ صُدُورِ الرِّجَالِ مِنْ النَّعَمِ مِنْ عُقُلِهَا




৩৩৮৬. ‘আবদুল্লাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “এটা খুবই খারাপ কথা যে, তোমাদের মধ্যে কেউ বলবে, আমি কুরআনের অমুক অমুক আয়াত ভুলে গেছি; বরং তাকে ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। সুতরাং, তোমরা কুরআন তিলাওয়াত করতে থাক কেননা, উটের রশি থেকে উটের পলায়নের চেয়েও তা মানুষের অন্তর থেকে দ্রুত গতিতে চলে যায়।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। আর এটি বুখারী ও মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।

তাখরীজ: বুখারী, ফাযাইলুল কুরআন নং ৫০৩২; মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন ৭৯০।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মুাউসিলী নং ৫১৩৬; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৬২; মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯১; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৭৮৪ তে। এছাড়াও, নাসাঈ, ফাযাইলুল কুরআন নং ৬৪, ৬৭।









সুনান আদ-দারিমী (3387)


حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ حَدَّثَنَا مُوسَى يَعْنِي ابْنَ عُلَيٍّ قَالَ سَمِعْتُ أَبِي قَالَ سَمِعْتُ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ يَقُولُ تَعَلَّمُوا كِتَابَ اللَّهِ وَتَعَاهَدُوهُ وَتَغَنَّوْا بِهِ وَاقْتَنُوهُ فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ أَوْ فَوَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَهُوَ أَشَدُّ تَفَلُّتًا مِنْ الْمَخَاضِ فِي الْعُقُلِ




৩৩৮৭. উকবাহ ইবনু আমির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তোমরা আল্লাহর কিতাব শিক্ষা কর, আর তার ব্যাপারে যত্নবান হও এবং তা সুন্দর আওয়াজে পাঠ কর এবং তার (জ্ঞান) অর্জন করতে থাকো। কেননা যার হাতে আমার জীবন, অথবা, যার হাতে মুহাম্মাদের জীবন তাঁর কসম- অবশ্যই রশি ছিড়ে পলায়নপর উটের চেয়েও তা অধিক পলায়নপর।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১০/৪৭৭ নং ১০০৪০; আহমাদ ৪/১৪৬, ১৫০, ১৫৩; নাসাঈ, ফাযাইলুল কুরআন নং ৫৯,৬০; মাওকুফ হিসেবে। পূর্ণ তাখরীজের জন্য পরবর্তী হাদীসটি দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (3388)


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ قَالَ حَدَّثَنِي مُوسَى عَنْ أَبِيهِ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ تَعَلَّمُوا كِتَابَ اللَّهِ تَعَالَى وَتَعَاهَدُوهُ وَاقْتَنُوهُ وَتَغَنَّوْا بِهِ فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَهُوَ أَشَدُّ تَفَلُّتًا مِنْ الْمَخَاضِ فِي الْعُقُلِ




৩৩৮৮. (অপর সনদে) উকবাহ ইবনু আমির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তোমরা আল্লাহর কিতাব শিক্ষা কর, আর তার ব্যাপারে যত্নবান হও, তা সংরক্ষণ কর এবং তা সুন্দর আওয়াজে পাঠ করতে থাকো। কেননা যার হাতে আমার জীবন, অথবা, যার হাতে মুহাম্মাদের জীবন তাঁর কসম- অবশ্যই রশি ছিড়ে পলায়নপর উটের চেয়েও তা অধিক পলায়নপর।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ আব্দুল্লাহ ইবনু সালিহ’র দুর্বলতার কারণে যঈফ।

তাখরীজ: নাসাঈ, ফাযাইলুল কুরআন নং ৬০; তাবারাণী, কাবীর ১৭/২৯০, ২৯১ নং ৮০০, ৮০১, ৮০২; আওসাত নং ৩২১১।

আমাদের বক্তব্য: হাদীসটি সহীহ। আগের টীকাটি দেখুন।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১১৯; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৭৮৮ তে।









সুনান আদ-দারিমী (3389)


أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ أَنَّ عِكْرِمَةَ بْنَ أَبِي جَهْلٍ كَانَ يَضَعُ الْمُصْحَفَ عَلَى وَجْهِهِ وَيَقُولُ كِتَابُ رَبِّي كِتَابُ رَبِّي




৩৩৮৯. ইবনু আবী মুলাইকা (রহঃ) হতে বর্ণিত, ইকরিমাহ ইবনু আবূ জাহল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কুরআনকে তার মুখমণ্ডলের উপর রেখে বলতেন, ‘আমার রবের কিতাব, আমার রবের কিতাব।’[1]

[1] তাহক্বীক্ক: এর সনদ মুনকাতি’, ইবনু আবী মুলাইকা ইকরিমাহ’র সাক্ষাত লাভ করেননি। আর এটি ইকরিমার উপর মাওকুফ।

তাখরীজ: হাকিম, ৩/২৪৩; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান ২২২৯; তাবারাণী, কাবীর ১৭/৩৭১ নং ১০১৮।









সুনান আদ-দারিমী (3390)


حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ حَدَّثَنَا ثَابِتٌ قَالَ كَانَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي لَيْلَى إِذَا صَلَّى الصُّبْحَ قَرَأَ الْمُصْحَفَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ قَالَ وَكَانَ ثَابِتٌ يَفْعَلُهُ




৩৩৯০. ছাবিত হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আব্দুর রহমান ইবনু আবী লাইলা (রহঃ) ফজর সালাত আদায় করার পর সুর্য্য উদিত হওয়া পর্যন্ত কুরআন পড়তেন। রাবী বলেন, ছাবিতও এরূপ করতেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ ছাবিত পর্যন্ত সহীহ। আর এটি তার বক্তব্য (মাওকুফ)।

তাখরীজ: ইবনু সা’দ, আত তাবাকাত ৬/৭৫।









সুনান আদ-দারিমী (3391)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرَّقَاشِيُّ عَنْ يَزِيدَ بْنِ زُرَيْعٍ عَنْ سَعِيدٍ عَنْ قَتَادَةَ قَالَ فَأَمَّا الَّذِينَ آمَنُوا فَيَعْلَمُونَ أَنَّهُ الْحَقُّ مِنْ رَبِّهِمْ قَالَ أَيْ يَعْلَمُونَ أَنَّهُ كَلَامُ الرَّحْمَنِ




৩৩৯১. ইয়াযীদ ইবনু যুরাঈ হতে বর্ণিত,

إِنَّ اللَّهَ لَا يَسْتَحْيِي أَنْ يَضْرِبَ مَثَلًا مَا بَعُوضَةً فَمَا فَوْقَهَا فَأَمَّا الَّذِينَ آَمَنُوا فَيَعْلَمُونَ أَنَّهُ الْحَقُّ مِنْ رَبِّهِمْ وَأَمَّا الَّذِينَ كَفَرُوا فَيَقُولُونَ مَاذَا أَرَادَ اللَّهُ بِهَذَا مَثَلًا يُضِلُّ بِهِ كَثِيرًا وَيَهْدِي بِهِ كَثِيرًا وَمَا يُضِلُّ بِهِ إِلَّا الْفَاسِقِينَ



(অর্থ: নিশ্চয় আল্লাহ মশা অথবা তদপেক্ষা ক্ষুদ্রতর দৃষ্টান্ত বর্ণনা করতে লজ্জাবোধ করেননা, সুতরাং যারা ঈমান এনেছে, তারা জানে যে, তা সত্যই তাদের রবের পক্ষ হতে। আর যারা কাফির হয়েছে, তারা বলবে যে, এসকল নগন্য বস্তুর উপমা দ্বারা আল্লাহর উদ্দেশ্যেই বা কি? তিনি এর দ্বারা অনেককে বিপথগামী করে থাকেন এবং এর দ্বারা অনেককে সঠিক পথ প্রদর্শন করেন, আর্ এর দ্বারা তিনি শুধু ফাসিকদেরকেই (পাপাচারী, অনাচারী) বিপথগামী করে থাকেন।“ (সুরা বাকারা: ২৬)

এ আয়াতের ব্যাখ্যায় কাতাদা বলেন, এর অর্থ: তারা জানে যে, এটি দয়াময় আল্লাহর কালাম বা বাণী।’[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ কাতাদাহ পর্যন্ত সহীহ। আর এটি তার বক্তব্য (মাওকুফ)।

তাখরীজ: তাবারী, তাফসীর ১/১৮৯; সেখানে অতিরিক্ত রয়েছে: ‘এবং তা আল্লাহর পক্ষ হতে আগত সত্য।’ এর সনদও সহীহ।









সুনান আদ-দারিমী (3392)


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ عَنْ عَطِيَّةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا مِنْ كَلَامٍ أَعْظَمُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ كَلَامِهِ وَمَا رَدَّ الْعِبَادُ إِلَى اللَّهِ كَلَامًا أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ كَلَامِهِ




৩৩৯২. আতিয়্যাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “আল্লাহর নিকট তাঁর নিজ কালাম (বাণী)-এর চেয়ে অধিক সম্মানিত আর কোন কালাম নেই; এবং বান্দা কর্তৃক বার বার পঠিত আর কোনো কালামই আল্লাহর নিকট তাঁর নিজ কালামের চেয়ে অধিক প্রিয় নয়।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদে দু’জন যঈফ রাবী রয়েছে: মুহাম্মদ ইবনু সালিহ এবং আবী বাকর ইবনু আবী মারইয়াম। আর এটি মুরসালও বটে।

তাখরীজ: বাইহাকী, আসমা ওয়াস সিফাত পৃ: ২৪৪। এটি আতিয়ার বক্তব্য (মাওকুফ) হিসেবেও তিনি বর্ণনা করেছেন।









সুনান আদ-দারিমী (3393)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ إِسْرَائِيلَ حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ الثَّقَفِيُّ عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعْرِضُ نَفْسَهُ فِي الْمَوْسِمِ عَلَى النَّاسِ فِي الْمَوْقِفِ فَيَقُولُ هَلْ مِنْ رَجُلٍ يَحْمِلُنِي إِلَى قَوْمِهِ فَإِنَّ قُرَيْشًا مَنَعُونِي أَنْ أُبَلِّغَ كَلَامَ رَبِّي




৩৩৯৩. জাবির ইবনু আবদুল্লাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (হিজরতের পূর্বে) নিজেকে হজ্জের মওসুমে বিভিন্ন গোত্রের কাছে পেশ করে বলতেন: “এমন কোন ব্যক্তি আছে কি যে আমাকে তার সম্প্রদায়ে নিয়ে যাবে? কেননা কুরায়শরা তো আমার রবের কালাম পৌঁছে দিতে আমাকে বাধা দিচ্ছে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আহমাদ ৩/৩৯০; ইবনু আবী শাইবা ১৪/৩১০ নং ১৮৪৩১; আবূ দাউদ, সুন্নাহ ৪৭৩৪; তিরমিযী, ছাওবুল কুরআন ২৯২৬; বুখারী, খালকু আফ’আলিল ইবাদ পৃ: ৬০; বাইহাকী, আল ইতিকাদ পৃ: ৬১; আবূ নুয়াইম, দালাইল নং ২১৭; হাকিম, ২/৬১৩; ইবনু কাছীর, আল বিদায়া ৩/১৪৬; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ১১৮।









সুনান আদ-দারিমী (3394)


حَدَّثَنَا إِسْحَقُ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ لَيْثٍ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ عَنْ أَبِي الزَّعْرَاءِ قَالَ قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ كَلَامُ اللَّهِ فَلَا أَعْرِفَنَّكُمْ فِيمَا عَطَفْتُمُوهُ عَلَى أَهْوَائِكُمْ




৩৩৯৪. আবু যা’রা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমার ইবনুল খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এ কুরআন হলো আল্লাহর কালাম। ফলে তিনি তোমাদের সেসব অপরাধ ক্ষমা করবেন না, যা তোমরা তোমাদের মন-মর্জিমত এতে (এর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে) সংযোজন করার দ্বারা করেছো।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ লাইছ ইবনু আবী সালিম দুর্বলতার কারণে যঈফ।

তাখরীজ: বাইহাকী, আসমা ওয়াস সিফাত পৃ: ২৪২; আজুরী, আশ-শরীয়াহ পৃ: ৭৮ সহীহ সনদে; আরো দেখুন, মা’রিফাতু কুর্রাউল কিবার ১/৫২-৫৩;

বাইহাকী, আল ইতিকাদ পৃ: ৬৪।









সুনান আদ-দারিমী (3395)


أَخْبَرَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ التَّرْجُمَانِيُّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ الْهَمْدَانِيُّ عَنْ عَمْرِو بْنِ قَيْسٍ عَنْ عَطِيَّةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ شَغَلَهُ قِرَاءَةُ الْقُرْآنِ عَنْ مَسْأَلَتِي وَذِكْرِي أَعْطَيْتُهُ أَفْضَلَ ثَوَابِ السَّائِلِينَ وَفَضْلُ كَلَامِ اللَّهِ عَلَى سَائِرِ الْكَلَامِ كَفَضْلِ اللَّهِ عَلَى خَلْقِهِ




৩৩৯৫. আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মহান ও বরকতময় রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন, কুরআন পাঠের ব্যস্ততা যাকে আমার কাছে প্রার্থনা করা থেকে এবং আমার যিকর বিরত রাখে আমি তাকে প্রার্থনাকারীদের চেয়ে উত্তম প্রতিদান দিব। সব কালামের উপর আল্লাহর কালামের মর্যাদা সেরূপ যেরূপ সকল সৃষ্টি উপর আল্লাহর মর্যাদা রয়েছে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদে দু’জন যঈফ রাবী রয়েছে: মুহাম্মদ ইবনু হাসান আল হামদানী এবং আতিয়া আল আওফী।

তাখরীজ: তিরমিযী, ছাওবুল কুরআন ২৯২৭; ইবনু কাছীর, ফাযাইলুল কুরআন পৃ: ২৭৪; উকাইলী, আয যুআফা ৪/৪৯; আবুল ফাযল আর রাযী, ফাযাইলুল কুরআন নং ৭৬; ইবনু হিব্বান, মাজরুহীন ২/২৭৭; আবূ নুয়াইম, হিলইয়া ৫/১০৬; বাইহাকী, আসমা ওয়াস সিফাত পৃ: ২৩৮; আল ই’তিকাদ পৃ: ৬২; শুয়াবুল ঈমান নং ২০১৫; ইবনুল আম্বারী, আল ওয়াকফ ওয়াল ইবতিদা … (এর মুহাক্বিক্ব লম্বা করে এ দু’জন রাবী সম্পর্কে মুহাদ্দিসগণের মন্তব্য উল্লেখ করেছেন।–অনুবাদক))

আর এর শাহিদ হাদীস রয়েছে উমার ইবনুল খাত্তাব হতে ইয়াহইয়া ইবনু আব্দুল হামীদ হিমানী, আল মুসনাদ, যা হাফিজ তার ফাতহুল বারী ৯/৬৬ তে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া, মুসনাদুশ শিহাব ২/৩২৬ নং ১৪৫৫। এ সনদে সাফওয়ান বিন আবী সুহবাহ রয়েছে যার সম্পর্কে ইখতিলাফ রয়েছে।

(এ সনদের সাফওয়ান বিন আবী সুহবাহকে মুহাক্বিক্ব ছিকাহ বলে গণ্য করেছেন এবং ইয়াহইয়া আল হিমানীর হাদীসকে হাসান বলে মন্তব্য করেছেন।–অনুবাদক।); এছাড়া, বুখারী, খালকু আফআলীল ইবাদ পৃ: ১০৯; কাবীর ২/১১৫ যঈফ সনদে।

তবে এর মুতাবিয়াত বর্ণনা করেছেন উছমান ইবনু যাফর হতে বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ৫৭২ তে। আর তিনি বিশ্বস্ত রাবী।

এর অপর শাহিদ হাদীস রয়েছে হুযাইফা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে আবী নুয়াইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া ৭/৩১৩ তে বর্ণিত। আর এটি হাসান হাদীস ইনশা আল্লাহ। এরপর অপর শাহিদ রয়েছে আবী হুরাইরা হতে, দেখুন, ইবনু আবী শাইবা ১০/২৩৭ নং ৯৩২০; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ৫৭৩, ৫৭৪; আল লা’আলী আল মাসনু’আহ ২/৩৪২-৩৪৩।









সুনান আদ-দারিমী (3396)


حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ أَشْعَثَ الْحُدَّانِيِّ عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَضْلُ كَلَامِ اللَّهِ عَلَى كَلَامِ خَلْقِهِ كَفَضْلِ اللَّهِ عَلَى خَلْقِهِ




৩৩৯৬. শাহর ইবনু হাওশাব হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “সৃষ্টিকুলের কালামের উপর আল্লাহর কালামের মর্যাদা সেরূপ যেরূপ সকল সৃষ্টি উপর আল্লাহর মর্যাদা।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান। (এর সনদে শাহর ইবনু হাওশাব রয়েছে যিনি যঈফ।–অনুবাদক) আর তা মুরসাল।

তাখরীজ: ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ১৩৯; আবু দাউদ, মারাসীল নং ৫৩৫; আবূ ইয়ালা, মু’জামুস শুয়ূখ নং ২৯৪; ইবনু আদী, আল কামিল ৫/১৭০৫; বাইহাকী, আসমা ওয়াস সিফাত পৃ: ২৩৯; শুয়াবুল ঈমান নং ২২০৮ আবী হুরাইরা হতে, আর তা মাওকুফ … সনদ যঈফ।









সুনান আদ-দারিমী (3397)


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي جَعْفَرٍ عَنْ رَجُلٍ مِنْ شُيُوخِ مِصْرَ أَنَّهُ حَدَّثَهُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ الْقُرْآنُ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنْ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ




৩৩৯৭. আব্দুল্লাহ ইবনু আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আসমানসমূহ, যমীন এবং এতদুভয়ের মাঝে যা কিছু আছে-সকল কিছুর চেয়ে কুরআন আল্লাহর নিকট বেশি প্রিয়।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, এতে জাহালাত (অজ্ঞাত পরিচয় রাবী) রয়েছে। এছাড়া: আব্দুল্লাহ ইবনু সালিহর স্মৃতিশক্তি খুবই দুর্বল।

তাখরীজ: আবুল ফাযল আর রাযী, ফাযাইলুল কুরআন নং ২৮। এতে মিথ্যাবাদী রাবী রয়েছে।









সুনান আদ-দারিমী (3398)


حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا هَارُونُ الْأَعْوَرُ عَنْ أَبِي عِمْرَانَ الْجَوْنِيِّ عَنْ جُنْدُبٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اقْرَءُوا الْقُرْآنَ مَا ائْتَلَفْتُمْ عَلَيْهِ فَإِذَا اخْتَلَفْتُمْ فِيهِ فَقُومُوا




৩৩৯৮. জুনদুব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের (মনের) অনুকুল হয় ততক্ষণ কুরআন তিলাওয়াত করতে থাক এবং (তাতে) ইখতিলাফ ঘটলে পড়া ত্যাগ কর।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। আর এটি বুখারী ও মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।

তাখরীজ: বুখারী, ফাযাইলুল কুরআন নং ৫০৬০; মুসলিম, ঈলম ২৬৬৭।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মুাউসিলী নং ১৫১৯; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৩২, ৭৫৯।

এছাড়াও, নাসাঈ, ফাযাইলুল কুরআন নং ১২১, ১২২, ১২৩, ১২৪; ইবনু কাছীর, ফাযাইলুল কুরআন পৃ: ২৬৭-২৬৮। এটি সামনেও আসছে মুরসাল ও মারফু’ হিসেবে।









সুনান আদ-দারিমী (3399)


أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ حَدَّثَنَا أَبُو عِمْرَانَ الْجَوْنِيُّ عَنْ جُنْدُبِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ اقْرَءُوا الْقُرْآنَ مَا ائْتَلَفَتْ عَلَيْهِ قُلُوبُكُمْ فَإِذَا اخْتَلَفْتُمْ فِيهِ فَقُومُوا




৩৩৯৯. জুনদুব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের মনের অনুকুল হয় ততক্ষণ কুরআন তিলাওয়াত করতে থাক এবং (তাতে) ইখতিলাফ ঘটলে পড়া ত্যাগ কর।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটি জুনদুব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর বক্তব্য (মাওকুফ)।

তাখরীজ: তবে পূর্বের ও পরের হাদীস দু’টি দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (3400)


حَدَّثَنَا أَبُو غَسَّانَ مَالِكُ بْنُ إِسْمَعِيلَ حَدَّثَنَا أَبُو قُدَامَةَ حَدَّثَنَا أَبُو عِمْرَانَ الْجَوْنِيُّ عَنْ جُنْدُبٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اقْرَءُوا الْقُرْآنَ مَا ائْتَلَفَتْ عَلَيْهِ قُلُوبُكُمْ فَإِذَا اخْتَلَفْتُمْ فِيهِ فَقُومُوا




৩৪০০. জুনদুব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের (মনের) অনুকুল হয় ততক্ষণ কুরআন তিলাওয়াত করতে থাক এবং (তাতে) ইখতিলাফ ঘটলে পড়া ত্যাগ কর।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: এটি পূর্বের ৩৩৯৩ নং হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।









সুনান আদ-দারিমী (3401)


حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا فِطْرٌ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ الْحَارِثِ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ مِنْ النَّاسِ مَنْ يُؤْتَى الْإِيمَانَ وَلَا يُؤْتَى الْقُرْآنَ وَمِنْهُمْ مَنْ يُؤْتَى الْقُرْآنَ وَلَا يُؤْتَى الْإِيمَانَ وَمِنْهُمْ مَنْ يُؤْتَى الْقُرْآنَ وَالْإِيمَانَ وَمِنْهُمْ مَنْ لَا يُؤْتَى الْقُرْآنَ وَلَا الْإِيمَانَ ثُمَّ ضَرَبَ لَهُمْ مَثَلًا قَالَ فَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ الْإِيمَانَ وَلَمْ يُؤْتَ الْقُرْآنَ فَمَثَلُهُ مَثَلُ التَّمْرَةِ حُلْوَةُ الطَّعْمِ لَا رِيحَ لَهَا وَأَمَّا مَثَلُ الَّذِي أُوتِيَ الْقُرْآنَ وَلَمْ يُؤْتَ الْإِيمَانَ فَمَثَلُ الْآسَةِ طَيِّبَةُ الرِّيحِ مُرَّةُ الطَّعْمِ وَأَمَّا الَّذِي أُوتِيَ الْقُرْآنَ وَالْإِيمَانَ فَمَثَلُ الْأُتْرُجَّةِ طَيِّبَةُ الرِّيحِ حُلْوَةُ الطَّعْمِ وَأَمَّا الَّذِي لَمْ يُؤْتَ الْقُرْآنَ وَلَا الْإِيمَانَ فَمَثَلُهُ مَثَلُ الْحَنْظَلَةِ مُرَّةُ الطَّعْمِ لَا رِيحَ لَهَا




৩৪০১. আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকদের কতককে ঈমান প্রদান করা হয়েছে, কিন্তু কুরআন প্রদান করা হয়নি; আবার তাদের কতককে কুরআন প্রদান করা হয়েছে, কিন্তু ঈমান প্রদান করা হয়নি; আবার তাদের কতক লোককে ঈমান ও কুরআন উভয়ই প্রদান করা হয়েছে; আবার কতক লোককে ঈমান ও কুরআন কোনটিই প্রদান করা হয়নি। এরপর তিনি এসকল লোকদের দৃষ্টান্ত দিতে লাগলেন। তিনি বলেন, যাকে ঈমান প্রদান করা হয়েছে, কিন্তু কুরআন প্রদান করা হয়নি, তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে খেজুরের মত, যা সুগন্ধহীন, কিন্তু খেতে সুস্বাদু। আর যাকে কুরআন প্রদান করা হয়েছে, কিন্তু ঈমান প্রদান করা হয়নি, তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে এক প্রকার সুগন্ধি গুল্মের মত যার স্বাদ তিক্ত। আর যাকে কুরআন ও ঈমান উভয়ই প্রদান করা হয়েছে তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে এমন কমলালেবুর মত যা সুগন্ধযুক্ত, আবার খেতেও সুস্বাদু। আর যাকে কুরআন ও ঈমান কোনটিই প্রদান করা হয়নি, তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে মাকাল ফলের মত, যা খেতেও বিস্বাদ এবং যার কোন সুগন্ধও নেই।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, আবী ইসহাকের প্রথম দিকে যারা তার থেকে বর্ণনা করেছেন, ফিতর ইবনু খলীফাহকে তাদের মধ্যে উল্লেখ করা হয়নি।

আর এটি আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর বক্তব্য (মাওকুফ)।

তাখরীজ: আবূ উবাইদ, ফাযাইল পৃ: ৩৮৭ সহীহ সনদে; সংক্ষিপ্তাকারে ইবনু আবী শাইবা ১০/৫২৯ নং ১০২২০ সনদ সহীহ।









সুনান আদ-দারিমী (3402)


حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَثَلُ الْمُؤْمِنِ الَّذِي يَقْرَأُ الْقُرْآنَ مَثَلُ الْأُتْرُجَّةِ طَعْمُهَا طَيِّبٌ وَرِيحُهَا طَيِّبٌ وَمَثَلُ الْمُؤْمِنِ الَّذِي لَا يَقْرَأُ الْقُرْآنَ مَثَلُ التَّمْرَةِ طَعْمُهَا حُلْوٌ وَلَيْسَ لَهَا رِيحٌ وَمَثَلُ الْمُنَافِقِ الَّذِي يَقْرَأُ الْقُرْآنَ مَثَلُ الرَّيْحَانَةِ رِيحُهَا طَيِّبٌ وَطَعْمُهَا مُرٌّ وَمَثَلُ الْمُنَافِقِ الَّذِي لَا يَقْرَأُ الْقُرْآنَ مَثَلُ الْحَنْظَلَةِ لَيْسَ لَهَا رِيحٌ وَطَعْمُهَا مُرٌّ




৩৪০২. আবূ মূসা আশ‘আরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে মু’মিন কুরআন তিলাওয়াত করে, তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে এ কমলা লেবুর মত যা সুস্বাদু এবং সুগন্ধযুক্ত। আর যে মু’মিন কুরআন পাঠ করে না, তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে এমন খেজুরের মত, যা সুগন্ধহীন, কিন্তু খেতে সুস্বাদু। আর মুনাফিক যে কুরআন পাঠ করে, তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে রায়হান জাতীয় লতার মত, যার সুগন্ধ আছে, কিন্তু খেতে বিস্বাদ। আর ঐ মুনাফিক যে কুরআন একেবারেই পাঠ করে না, তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে ঐ মাকাল ফলের মত, যা খেতেও বিস্বাদ এবং যার কোন সুগন্ধও নেই।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। আর এটি বুখারী ও মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।

তাখরীজ: বুখারী, ফাযাইলুল কুরআন নং ৫০২০; মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন ৭৯৭।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মুাউসিলী নং ৭২৩৭; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১২১, ৭৭০, ৭৭১।

এছাড়াও, রমহরমুজী, আল আমছাল নং ৪৭; আলিমুদ্দীন সাখাবী, জামালুল কুররা ১/১৫১; ইবনু কাছীর, ফাযাইলুল কুরআন পৃ: ১৭৩।