সুনান আদ-দারিমী
خْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ ابْنِ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ:كُنَّا نَحْفَظُ الْحَدِيثَ، وَالْحَدِيثُ يُحْفَظُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، حَتَّى رَكِبْتُمُ الصَّعْبَةَ وَالذَّلُولَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৪৪১. তাউস হতে বর্ণিত, ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে হাদীস সংরক্ষণ করতাম (মুখস্ত করতাম)। এমনকি তোমাদের উপর জটিলতা ও হীনতা চেপে বসার আগ পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে হাদীস সংরক্ষণ করা হতো।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মুসলিম, মুকাদ্দিমাহ ১/৩১; ইবনু আদী, আল কামিল ১/৬২; পূর্বের টীকাটি দেখুন।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: يُوشِكُ أَنْ يَظْهَرَ شَيَاطِينُ قَدْ أَوْثَقَهَا سُلَيْمَانُ عَلَيْهِ السَّلَامُ يُفَقِّهُونَ النَّاسَ فِي الدِّينِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف لضعف ليث بن أبي سليم. وهو موقوف
৪৪২. তাউস হতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ ইবনু আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: অচিরেই শয়তানের দলবল প্রকাশ পাবে, যাদেরকে সুলাইমান আলাইহিস সালাম বন্দী করে রেখেছিলেন। তারা লোকদেরকে দীনের জ্ঞান (অপর বর্ণনায়: কুরআন) শিক্ষা দেবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, কেননা, রাবী লাইছ যঈফ। আর এটি মাওকুফ হাদীস। (তবে কিছুটা শব্দের পার্থক্যসহ হাদীসটি আমর ইবনুল আস রা: হতে অপর সনদে ইমাম মুসলিম তার সহীহ মুসলিমের মুকাদ্দামা নং ৬ এর পরে উল্লেখ করেছেন। সেখানে যঈফ রাবী লাইছ নেই।- যার সনদ সহীহ। ওয়াল্লাহু আ’লামু।- অনুবাদক)
তাখরীজ: মুসলিম, মুকাদ্দিমাহ ৭; আব্দুর রাযযাক, আল মুছান্নাফ নং ২০৮০৭;
এছাড়া ইবনু আদী, আল কামিল ১/৫৯; তাবারাণী, আল কাবীর; সুয়ূতী, লা’আলী আল মাসনু’আহ ১/২৫০; খতীব, আল ফাকীহ ওয়াল মুতাফাকিহ ২/১৫৩ এর সনদের মুহাম্মদ ইবনু খালিদকে ইবনু মাঈন মিথ্যা বলেন বলে অভিযুক্ত করেছেন।
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا زَائِدَةُ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ مُحَمَّدٍ، قَالَ: انْظُرُوا عَمَّنْ تَأْخُذُونَ هَذَا الْحَدِيثَ فَإِنَّهُ دِينُكُمْ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৪৪৩. হিশাম হতে বর্ণিত, মুহাম্মদ (ইবনু সীরীন) বলেন: তোমরা লক্ষ্য করো, কার নিকট হতে তোমরা এ হাদীস গ্রহণ করছো। কেননা, এ (হাদীস)-ই হলো তোমাদের দীন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আবী হাতিম, জারহু ওয়াত তা’দীল ১/১৫; রমহরমুযী, আল মুহাদ্দিসুল ফাসিল নং ৪৪৫; আর এটি দেখুন ৩৯৯ নং এর টীকায়।
أَخْبَرَنَا مُوسَى بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: لِيُتَّقَى، مِنْ تَفْسِيرِ حَدِيثِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، كَمَا يُتَّقَى مِنْ تَفْسِيرِ الْقُرْآنِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده جيد
৪৪৪. মু’তামির তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলতেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীসের ব্যাখ্যা করা হতে যেনো বিরত থাকা হয়, যেমনভাবে কুরআনের তাফসীর থেকে বিরত থাকা হয়।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জায়্যেদ।
তাখরীজ: এ স্থান ব্যতীত আমি এটি অন্য কোথাও পাইনি।
أَخْبَرَنَا صَدَقَةُ بْنُ الْفَضْلِ، حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، " أَمَا تَخَافُونَ أَنْ تُعَذَّبُوا، أَوْ يُخْسَفَ بِكُمْ، أَنْ تَقُولُوا: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَقَالَ فُلَانٌ؟
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৪৪৫. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: তোমরা যে একথা বলে বেড়াচ্ছো যে, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (একথা) বলেছেন. আর অমুক একথা বলেছে’- তোমরা কি ভয় পাও না যে, তোমাদের এ কথার জন্য তোমাদেরকে আযাব দেয়া হবে, কিংবা তোমাদেরকে মাটিতে দাবিয়ে দেয়া হবে?[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: খতীব, আল ফাকিহ ওয়াল মুতাফাককিহ নং ৩৭৯, ৩৮০; ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ান নং ২০৯৫, ২০৯৭, ২০৯৯।
أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ بِشْرٍ، حَدَّثَنَا الْمُعَافَى، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ، قَالَ: «كَتَبَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى أَنَّهُ لَا رَأْيَ لِأَحَدٍ فِي كِتَابِ اللَّهِ، وَإِنَّمَا رَأْيُ الْأَئِمَّةِ فِيمَا لَمْ يَنْزِلْ فِيهِ كِتَابٌ، وَلَمْ تَمْضِ بِهِ سُنَّةٌ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَلَا رَأْيَ لِأَحَدٍ فِي سُنَّةٍ سَنَّهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৪৪৬. আওযাঈ বলেন: উমার ইবনু আব্দুল আযীয রাহিমাহুল্লাহ লিখে পাঠালেন যে, আল্লাহর কিতাবের ব্যাপারে কারো কোনো মতামত (রায়) প্রদান চলবে না। আর আল্লাহর কিতাবে যে সকল বিষয় নাযিল হয়নি কিংবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাত যা অনুমোদন করেনি, সেই সকল বিষয়ে আইম্মা বা নেতৃস্থানীয় আলিমগণ মতামত প্রদান করবেন। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে সুন্নাত প্রবর্তন করে গিয়েছেন, সেই সুন্নাতের ব্যাপারে কারো মতামত প্রদান করা চলবে না।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু বাত্তাহ, আল ইবানাহ নং ১০০; আজুরী, আশ শরীয়াহ পৃ: ৫৭; ইবনু আব্দুল বার, আল জামি’ নং ১৩০৭।
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا مُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ رَحِمَهُ اللَّهُ، خَطَبَ فَقَالَ: «يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ اللَّهَ لَمْ يَبْعَثْ بَعْدَ نَبِيِّكُمْ نَبِيًّا، وَلَمْ يُنْزِلْ بَعْدَ هَذَا الْكِتَابِ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَيْهِ كِتَابًا، فَمَا أَحَلَّ اللَّهُ عَلَى لِسَانِ نَبِيِّهِ فَهُوَ حَلَالٌ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ، وَمَا حَرَّمَ عَلَى لِسَانِ نَبِيِّهِ فَهُوَ حَرَامٌ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ، أَلَا وَإِنِّي لَسْتُ بِقاضٍّ، وَلَكِنِّي مُنَفِّذٌ، وَلَسْتُ بِمُبْتَدِعٍ، وَلَكِنِّي مُتَّبِعٌ، وَلَسْتُ بِخَيْرٍ مِنْكُمْ، غَيْرَ أَنِّي أَثْقَلُكُمْ حِمْلًا، أَلَا وَإِنَّهُ لَيْسَ لِأَحَدٍ مِنْ خَلْقِ اللَّهِ أَنْ يُطَاعَ فِي مَعْصِيَةِ اللَّهِ، أَلَا هَلْ أَسْمَعْتُ؟
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده جيد
৪৪৭. উবাইদুল্লাহ ইবনু উমার বর্ণনা করেন: উমার ইবনু আব্দুল আযীয রাহিমাহুল্লাহ খুতবা দিলেন এবং এতে বললেন: “হে মানবমণ্ডলী! আল্লাহ তা’আলা তোমাদের নবীর পরে আর কোনো নবী পাঠাবেন না। আর তাঁর উপর যে কিতাব তিনি নাযিল করেছেন, এর পর আর কোনো কিতাবও তিনি নাযিল করবেন না। ফলে আল্লাহ তাঁর নবীর মুখ দিয়ে যা হালাল করেছেন, তা কিয়ামত পর্যন্ত হালাল থাকবে। আর তিনি তাঁর নবীর মুখ দিয়ে যা হারাম করেছেন, তা কিয়ামত পর্যন্ত হারাম থাকবে। তোমরা জেনে রাখো! আমি হুকুমদাতা নই, আমি হলাম (আল্লাহর হুকুম) বাস্তবায়নকারী। আমি বিদ’আত রচনাকারী নই, আমি (কুরআন-সুন্নাহ’র) অনুসরণকারী। আর আমি তোমাদের মধ্যকার সর্বোত্তম ব্যক্তিও নই, তবে তোমাদের মধ্যে আমার দায়িত্ব সবচেয়ে ভারী। আর জেনে রাখো! আল্লাহর অবাধ্যতামুলক বিষয়ে আল্লাহর কোনো সৃষ্টির আনুগত্য করা কারো জন্য বিধেয় নয়। আমি কি তোমাদেরকে শোনাতে সক্ষম হয়েছি?[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জায়্যেদ।
তাখরীজ: ইবনু সা’দ, তাবাকাত ৫/২৫০-২৫১; ফাসাওয়ী, আল মা’রিফাহ ১/৫৭৪-৫৭৫।
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ حُجَيْرٍ، قَالَ: كَانَ طاووسٌ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعَصْرِ، فَقَالَ لَهُ ابْنُ عَبَّاسٍ: «اتْرُكْهُمَا» قَالَ: «إِنَّمَا نُهِيَ عَنْهَا أَنْ تُتَّخَذُ سُلَّمًا» قَالَ: ابْنُ عَبَّاسٍ " فَإِنَّهُ قَدْ نُهِيَ عَنْ صَلَاةٍ بَعْدَ الْعَصْرِ، فَلَا أَدْرِي أَتُعَذَّبُ عَلَيْهَا أَمْ تُؤْجَرُ، لِأَنَّ اللَّهَ يَقُولُ: (وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقْدَ ضَلَّ ضَلَالًا مُبِينًا) [الأحزاب: 36] قَالَ: سُفْيَانُ تُتَّخَذَ سُلَّمًا، يَقُولُ: يُصَلِّي بَعْدَ الْعَصْرِ إِلَى اللَّيْلِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده جيد
৪৪৮. হিশাম ইবনু হুজাইর বলেন: তাউস আসরের পরে দু’রাকাত সালাত আদায় করতেন। তখন ইবনু আব্বাস তাকে বললেন: তুমি তা পরিত্যাগ কর। আর একে অবলম্বন হিসেবে গ্রহণ করতে আমাদেরকে নিষেধ করা হয়েছিল। ইবনু আব্বাস বলেন: আসরের সালাতের পরে যেকোন সালাত আদায় করতে আমাদেরকে নিষেধ করা হয়েছিল। তাই আমি জানিনা, এর (আসরের পরে সালাত আদায়ের) জন্য তোমাকে আযাব দেয়া হবে, নাকি এর সাওয়াব দেয়া হবে। কেননা, আল্লাহ তা’আলা বলেছেন: “আল্লাহ তা’আলা ও তাঁর রাসূল যখন কোনো ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত দেন, তখন কোনো মু’মিন পুরুষ ও মুমিন নারীর সে ব্যাপারে নিজেদের কোনো এখতিয়ার থাকবে না (যে তারা তার ব্যতিক্রম করবে); যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাফরমানী করবে, সে নিশ্চয় সুস্পষ্ট গোমরাহীতে নিমজ্জিত হবে।“ (সূরা আহযাব, ৩৩: ৩৬)
সুফিয়ান বলেন: “অবলম্বন হিসেবে গ্রহণ করা“- (এর অর্থ সম্পর্কে) তিনি বলতেন: আসরের পরে রাত পর্যন্ত সালাত আদায় করা। [1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জায়্যেদ (উত্তম)।
তাখরীজ: বাইহাকী, ২/৪৫৩; ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম নং ২৩৩৯; খতীব, আল ফাকিহ ওয়াল মুতাফাককিহ নং ৩৮৬।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلَاءِ، حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، عَنْ مُجَالِدٍ، عَنْ عَامِرٍ، عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رِضْوَانُ اللَّهِ عَلَيْهِ أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِنُسْخَةٍ مِنَ التَّوْرَاةِ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، هَذِهِ نُسْخَةٌ مِنَ التَّوْرَاةِ، فَسَكَتَ، فَجَعَلَ يَقْرَأُ وَوَجْهُ رَسُولِ اللَّهِ يَتَغَيَّرُ، فَقَالَ: أَبُو بَكْرٍ رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ ثَكِلَتْكَ الثَّوَاكِلُ، مَا تَرَى بِوَجْهِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَنَظَرَ عُمَرُ إِلَى وَجْهِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ غَضَبِ اللَّهِ وَغَضَبِ رَسُولِهِ رَضِينَا بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عليْهِ وَسَلَّمَ رَضِينَا بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عليْهِ وَسَلَّمَ: «وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ، لَوْ بَدَا لَكُمْ مُوسَى فَاتَّبَعْتُمُوهُ وَتَرَكْتُمُونِي، لَضَلَلْتُمْ عَنْ سَوَاءِ السَّبِيلِ، وَلَوْ كَانَ حَيًّا وَأَدْرَكَ نُبُوَّتِي، لَاتَّبَعَنِي
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف لضعف مجالد ولكن الحديث حسن
৪৪৯. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, উমার ইবনুল খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাওরাতের একটি নুসখা/কপি নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে বললেন: ইয়া রাসূলুল্লাহ! এটি তাওরাতের একটি নুসখা। তখন (একথা শুনে) তিনি চুপ করে থাকলেন। তখন উমার তা পাঠ করতে শুরু করলেন এবং এতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চেহারা পরিবর্তন হয়ে গেল। তখন (তা দেখে) আবু বাকর রহমাতুল্লাহ আলাইহি বললেন, সন্তানহারা শোক তোমাকে আচ্ছন্ন করুক! তুমি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চেহারার দিকে তাকাওনি? তখন উমার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চেহারার দিকে তাকিয়ে বললেন: আমি আল্লাহর নিকট আল্লাহর গযব ও তাঁর রাসূলের ক্রোধ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমরা আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দীন হিসেবে ও মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে নবী হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “যার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ, সেই সত্তার কসম! যদি মূসাও প্রকাশিত হতেন আর তোমরা তাকে অনুসরণ করতে এবং আমাকে পরিত্যাগ করতে, তবে অবশ্যই তোমরা সরল-সোজা পথ হতে বিচ্যুত হতে। আর যদি তিনি জীবিত থাকতেন এবং আমার নবুয়তী সময় পেতেন, তবে তিনি অবশ্যই আমার অনুসরণ করতেন।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ; কেননা, মুজালিদ যঈফ। কিন্তু হাদীসটি হাসান এর শাহিদ থাকার কারণে। দেখুন, হাদীসসমূহ নং ৮১৫, ৮১৭,৮১৮, ৮১৯।
حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي رَبَاحٍ شَيْخٌ مِنْ آلِ عُمَرَ قَالَ: " رَأَى سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ رَجُلًا يُصَلِّي بَعْدَ الْعَصْرِ الرَّكْعَتَيْنِ يُكَبِّرُ، فَقَالَ لَهُ يَا أَبَا مُحَمَّدٍ: أَيُعَذِّبُنِي اللَّهُ عَلَى الصَّلَاةِ؟ قَالَ: لَا، وَلَكِنْ يُعَذِّبُكَ اللَّهُ بِخِلَافِ السُّنَّةِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده جيد
৪৫০. আবু রাবাহ বলেন: সাঈদ ইবনুল মুসায়্যেব এক ব্যক্তিকে আসরের পরে দু’রাকাত সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে তাকবীর দিতে দেখলেন। (তখন তিনি তাকে শাস্তির কথা শুনালেন)। ফলে লোকটি তাঁকে বললো: হে আবু মুহাম্মদ! আল্লাহ কি আমাকে সালাত আদায়ের জন্য শাস্তি দিবেন? তিনি বললেন: না। কিন্তু আল্লাহ তোমাকে (তাঁর নবীর) zwj;সুন্নাতের বিরোধীতার জন্য শাস্তি দিবেন। (কারণ, সুন্নাত হল, আসরের পরে সালাত আদায় না করা)।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়েদ।
তাখরীজ: খতীব, আল ফাকিহ ওয়াল মুতাফাকিহ নং ৩৮৭ হাসান সনদে।
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنِي اللَّيْثُ، حَدَّثَنِي ابْنُ عَجْلَانَ، عَنِ الْعَجْلَانِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «بَيْنَمَا رَجُلٌ يَتَبَخْتَرُ فِي بُرْدَيْنِ، خَسَفَ اللَّهُ بِهِ الْأَرْضَ، فَهُوَ يَتَجَلْجَلُ فِيهَا إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ» فَقَالَ لَهُ فَتًى قَدْ سَمَّاهُ وَهُوَ فِي حُلَّةٍ لَهُ: يَا أَبَا هُرَيْرَةَ، أَهَكَذَا كَانَ يَمْشِي ذَلِكَ الْفَتَى الَّذِي خُسِفَ بِهِ؟ ثُمَّ ضَرَبَ بِيَدِهِ، فَعَثَرَ عَثْرَةً كَادَ يَتَكَسَّرُ مِنْهَا، فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: لِلْمَنْخَرَيْنِ، وَلِلْفَمِ، (إِنَّا كَفَيْنَاكَ الْمُسْتَهْزِئِينَ) [الحجر: 95]
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني : إسناده ضعيف غير أن الحديث متفق عليه
৪৫১. আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: একদা এক ব্যক্তি দু’খানা চাদর পরে গর্ব ও অহংকারের সাথে পথ চলছিল। এমতাবস্থায় আল্লাহ তা’আলা তাকে জমিনে ধ্বসিয়ে দিলেন। ফলে কিয়ামত পর্যন্ত সে এভাবে মাটির নিচে ধ্বসে যেতে থাকবে।“ তখন এক জোড়া পোশাক (চাদর) পরিহিত এক যুবক তাঁর নাম ধরে ডেকে বললো: হে আবু হুরাইরা! যাকে জমিনে ধ্বসিয়ে দেয়া হয়েছিলো, সে যুবক কি এভাবে পথ চলছিলো? - এ বলে সে হাত দিয়ে অঙ্গভঙ্গি করে দেখাতে লাগল। অমনি সে হোঁচট খেয়ে (উপুড় হয়ে) পড়ে গেলো এবং তার হাড়-গোড় ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম হলো। তখন আবু হুরাইরা রা: ‘নাক ও মুখ অধপতিত হোক’- এরূপ ইঙ্গিত করে এ আয়াত পাঠ করলেন: “উপহাসকারীদের বিরূদ্ধে আমিই আপনার জন্য যথেষ্ট।“ (সূরা হিজর: ৯৫)।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। কিন্তু এ হাদীসটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত) সহীহ হাদীস।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি, মুসনাদে মাওসিলী, নং ৬৩৩৪, ৬৪৮৪ নং এ। (সহীহ বুখারী, নং ৩৪৮৫; ৫৭৯০; সহীহ মুসলিম নং ২০৮৮, ৩/১৬৫৩-১৬৫৪); তিরমিযী নং ২৪৯১ ৪/৬৫৫; নাসাঈ, যিনাত অধ্যায় বাব ১০১; আহমদ ২/৬৬, ২২২, ২৬৭...)
তবে এর কয়েকটি শাহিদ হাদীস রয়েছে আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে যা মুসনাদে মাওসিলী ৩৪০২ নং, ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে আহমদ ২/৬৬; বুখারী ৫৭৯০ নং; নাসাঈ ৮/২০৬ এবং আবু সাঈদ আল খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মুসনাদে মাওসিলী নং ১৩১০ এ বর্ণিত।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا هَارُونُ هُوَ ابْنُ الْمُغِيرَةِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَبِي قَيْسٍ، عَنِ الزُّبَيْرِ بْنِ عَدِيٍّ، عَنْ خِرَاشِ بْنِ جُبَيْرٍ، قَالَ: رَأَيْتُ فِي الْمَسْجِدِ فَتًى يَخْذِفُ. فَقَالَ لَهُ شَيْخٌ، لَا تَخْذِفْ، «فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنِ الْخَذْفِ» فَغَفَلَ الْفَتَى، وَظَنَّ أَنَّ الشَّيْخَ لَا يَفْطِنُ لَهُ، فَخَذَفَ، فَقَالَ لَهُ الشَّيْخُ، أُحَدِّثُكَ أَنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَنْهَى عَنِ الْخَذْفِ ثُمَّ تَخْذِفُ؟ وَاللَّهِ لَا أَشْهَدُ لَكَ جَنَازَةً، وَلَا أَعُودُكَ فِي مَرَضٍ، وَلَا أُكَلِّمُكَ أَبَدًا. فَقُلْتُ لِصَاحِبٍ لِي يُقَالُ لَهُ مُهَاجِرٌ: انْطَلِقْ إِلَى خِرَاشٍ فَاسْأَلْهُ، فَأَتَاهُ، فَسَأَلَهُ عَنْهُ فَحَدَّثَهُ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :في إسناده علتان: ضعف محمد بن حميد وجهالة خراش بن جبير إن كان محفوظا. ولكنه صحيح بما بعده
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :
৪৫২. খিরাশ ইবনু জুবাইর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি মসজিদে এক যুবককে কংকর ছুঁড়তে দেখলাম। তখন এক বৃদ্ধ তাকে বললেন: কংকর ছুঁড়ো না। কেননা, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কংকর ছোঁড়া হতে নিষেধ করতে শুনেছি। তারপর সে এ থেকে বিরত হল। তারপর যখন তার মনে হলো যে, বৃদ্ধটি (এখন আর) তা বুঝতে পারবে না, তখন আবার সে পাথর নিক্ষেপ করতে লাগল। বৃদ্ধ লোকটি আবার তাকে বলল: আমি কি তোমার নিকট হাদীস বর্ণনা করিনি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আমি পাথর নিক্ষেপ হতে নিষেধ করতে শুনেছি? তারপরও তুমি পাথর ছুঁড়ছো! আল্লাহর কসম! আমি তোমার জানাযায় উপস্থিত হবো না, তোমার অসুস্থতায় তোমার দেখভাল করতে যাবো না, এমনকি আমি কখনো তোমার সাথে কথাও বলবো না।[1]
(পরবর্তী রাবী বলেন) আমি মুহাজির নামে আমার এক সাথীকে বললাম, খিরাশের নিকট যাও এবং এ সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করো। তখন সে তার নিকট এসে তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে সে তার নিকট হাদীসটি বর্ণনা করল।
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদে দু’টি ত্রুটি বিদ্যমান। ১. এতে মুহাম্মদ ইবনু হুমাইদ যঈফ এবং ২. খিরাশ ইবনু জুবাইর অজ্ঞাত রাবী, যদি নামটি সঠিক হয়। কিন্তু হাদীসটি সহীহ পরবর্তী হাদীসটির জন্য।
তাখরীজ: এটি আমি আর কোথাও পাইনি।
أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الْخَذْفِ، وَقَالَ: «إِنَّهَا لَا تَصْطَادُ صَيْدًا، وَلَا تَنْكَأُ، عَدُوًّا، وَلَكِنَّهَا تَكْسِرُ السِّنَّ وَتَفْقَأُ الْعَيْنَ». فَرَفَعَ رَجُلٌ بَيْنَهُ وَبَيْنَ سَعِيدٍ قَرَابَةٌ شَيْئًا مِنَ الْأَرْضِ فَقَالَ: هَذِهِ؟ وَمَا تَكُونُ هَذِهِ؟ فَقَالَ سَعِيدٌ: أَلَا أُرَانِي أُحَدِّثُكَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ تَهَاوَنُ بِهِ، لَا أُكَلِّمُكَ أَبَدًا
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :وهكذا جاءت عند البخاري ومسلم إسناده صحيح
৪৫৩. সাঈদ ইবনু জুবাইর হতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাথর নিক্ষেপ করা হতে নিষেধ করেছেন।“ তিনি আরও বলেছেন: “এর দ্বারা প্রাণী শিকার করা যায় না, শত্রুকেও জখম করা যায় না; কেবল দাঁত ভাঙা যায় এবং চোখ উপড়ানো যায়।“ তখন সাঈদের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্কে রয়েছে- এমন এক ব্যক্তি মাটি থেকে কিছু একটি উঠিয়ে নিয়ে বলল: এই রকম কি? এ দ্বারা আর এমন কী হয়? তখন সাঈদ বললেন: তুমি আমাকে দেখাচ্ছ? আমি তোমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে হাদীস শুনাচ্ছি, তারপরও তুমি তা অবজ্ঞা করছ? আমি আর কোনোদিন তোমার সাথে কথা বলবো না।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আহমদ, ৪/৭৬, ৫/৫৪, ৫৭; বুখারী ৪৮৪১; ৫৪৭৯, ৬২২০; মুসলিম,১৯৫৪; আবু দাউদ ৫২৭০; নাসাঈ ৮/৪৭; ইবনু মাজাহ, মুকাদ্দামাহ ১৭, ৩২২৬।
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ، حَدَّثَنَا كَهْمَسُ بْنُ الْحَسَنِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، قَالَ: رَأَى عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُغَفَّلٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ رَجُلًا مِنْ أَصْحَابِهِ يَخْذِفُ، فَقَالَ: لَا تَخْذِفْ، فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَنْهَى عَنِ الْخَذْفِ - أَوْ كَانَ يَكْرَهُ الْخَذْفَ - وَقَالَ: إنَّهُ لَا يُنْكَأُ بِهِ عَدُوٌّ، وَلَا يُصَادُ بِهِ صَيْدٌ، وَلَكِنَّهُ قَدْ يَفْقَأُ الْعَيْنَ، وَيَكْسِرُ السِّنَّ» ثُمَّ رَآهُ بَعْدَ ذَلِكَ يَخْذِفُ، فَقَالَ لَهُ: أَلَمْ أُخْبِرْكَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كانَ يَنْهَى عنْهُ، ثُمَّ أَرَاكَ تَخْذِفُ، وَاللَّهِ لَا أُكَلِّمُكَ أَبَدًا
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني : إسناده صحيح
৪৫৪. আব্দুল্লাহ ইবনু বুরাইদাহ বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাঁর সাথীদের মধ্যকার এক ব্যক্তিকে দেখলেন যে, সে পাথর নিক্ষেপ করছে। তখন তিনি তাকে বললেন: পাথর নিক্ষেপ করো না। কেননা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাথর নিক্ষেপ করা হতে নিষেধ করতেন- অথবা, তিনি পাথর নিক্ষেপ করাকে অপছন্দ করতেন। তিনি বলতেন: “এর দ্বারা শত্রুদেরকে আহত করা যায় না, আবার শিকার করাও যায় না; কিন্তু চোখ উপড়ানো যায় এবং দাঁত ভেঙ্গে দেয়া যায়।“ এর কিছুক্ষণ পরে তিনি তাকে আবার পাথর নিক্ষেপ করতে দেখলেন। তখন তিনি তাকে বললেন: আমি কি তোমাকে এ খবর দেই নি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা থেকে নিষেধ করতেন? এরপরও আমি তোমাকে তা করতে দেখছি! আল্লাহর কসম! আমি তোমার সাথে আর কোনোদিন কথা বলবো না।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী, আস সহীহ ৫৪৭৯; মুসলিম, আস সহীহ ১৯৫৪। পূর্বের হাদীসের তাখরীজ দেখুন।
أَخْبَرَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ بَشِيرٍ، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ: " حَدَّثَ ابْنُ سِيرِينَ، رَجُلًا بِحَدِيثٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ رَجُلٌ: قَالَ فُلَانٌ: كَذَا وَكَذَا. فَقَالَ ابْنُ سِيرِينَ " أُحَدِّثُكَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَتَقُولُ: قَالَ فُلَانٌ وَفُلَانٌ: كَذَا وَكَذَا، لَا أُكَلِّمُكَ أَبَدًا
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده حسن من أجل سعيد بن بشير
৪৫৫. কাতাদাহ বর্ণনা করেন: ইবনু সীরীন এক ব্যক্তিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি হাদীস বর্ণনা করলেন। তখন লোকটি বললো: অমুক ব্যক্তি (এ ব্যাপারে) এই এই কথা বলেছেন। তখন ইবনু সীরীন বললেন: আমি তোমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে হাদীস বর্ণনা করছি আর তুমি বলছো, অমুক অমুক (এ বিষয়ে) এই এই কথা বলেছেন? যাও, আমি তোমার সাথে কোনো দিন কথা বলবো না।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান, সাঈদ ইবনু বুশাইরের কারণে। কিন্তু শাহিদ (সমর্থক) হাদীস থাকার কারণে এ হাদীসটি সহীহ। এ অনুচ্ছেদের হাদীসসমূহ দেখুন।
তাখরীজ: (মুহাক্বিক্ব এর কোনো তাখরীজ করেননি- অনুবাদক)।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا اسْتَأْذَنَتْ أَحَدَكُمُ امْرَأَتُهُ إِلَى الْمَسْجِدِ، فَلَا يَمْنَعْهَا» فَقَالَ فُلَانُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ: إِذًا وَاللَّهِ أَمْنَعُهَا، فَأَقْبَلَ عَلَيْهِ ابْنِ عُمَرَ فَشَتَمَهُ شتمةً لَمْ أَرَهُ شْتمها أَحَدًا قَبْلَهُ، ثُمَّ قَالَ: أُحَدِّثُكَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَتَقُولُ: إِذًا وَاللَّهِ أَمْنَعُهَا
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف لضعف محمد بن كثير وهو الثقفي الصنعاني لكن الحديث متفق عليه
৪৫৬. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন তোমাদের কারো স্ত্রী রাতের বেলায় মসজিদে যাওয়ার অনুমতি চায়, সে যেনো তাকে নিষেধ না করে।“ তখন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর এক ছেলে অমুক বললো: আল্লাহর কসম! তখন আমি তাকে নিষেধ করবো। তখন ইবনু উমার তার দিকে ফিরে তাকে এমন তীব্র ভাষায় তিরস্কার করলেন যে, আমি এর পূর্বে এমন তীব্রভাবে তিরস্কার করতে আমি তাকে দেখিনি। তারপর তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে তোমাকে হাদীস বর্ণনা করছি, আর তুমি বলছো: আল্লাহর কসম! তবুও আমি নিষেধ করবো!![1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ কেননা, মুহাম্মদ ইবনু কাছীর যঈফ। কিন্তু হাদীসটি সহীহ এবং তা বুখারী ও মুসলিম উভযে তাদের সহীহ’তে বর্ণনা করেছেন।
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৮৬৫; মুসলিম ৪২২; (আবু দাউদ ১/১৫৫ নং ৫৬৫, ৫৬৭; আহমদ ২/৭৬; হাকিম); সহীহ ইবনু হিব্বান ২২০৮-২২১০, ২২১৩; মুসনাদে মাউসিলী নং ৫৪২৬, ৫৪৯১ এ আমরা বিস্তারিত তাখরীজ দিয়েছি।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، عَنْ مَعْرُوفٍ، عَنْ أَبِي الْمُخَارِقِ، قَالَ: ذَكَرَ عُبَادَةُ بْنُ الصَّامِتِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «نَهَى عَنْ دِرْهَمَيْنِ بِدِرْهَمٍ» فَقَالَ فُلَانٌ: مَا أَرَى بِهَذَا بَأْسًا: يَدًا بِيَدٍ. فَقَالَ عُبَادَةُ: أَقُولُ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَتَقُولُ: لَا أَرَى بِهِ بَأْسًا، وَاللَّهِ لَا يُظِلُّنِي وَإِيَّاكَ سَقْفٌ أَبَدًا
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :لم يحكم عليه المحقق
৪৫৭. আবুল মাখারিক বলেন: উবাদাহ ইবনু সামিত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক দিরহামের বিনিময়ে দুই দিরহাম গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন। তখন অমুক ব্যক্তি বলল: আমি তো এতে কোনো অসুবিধা দেখি না (যদি) হাতে হাতে হাতে হয়। তখন উবাদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: আমি তোমাকে বলছি: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন... আর তুমি বলছো: আমি এতে কোনো অসুবিধা দেখি না’?! আল্লাহর কসম! কোন ছাদ আমাকে এবং তোমাকে একইসাথে ছায়া দান করবে, তা কখনোই হবে না (তথা তোমার সাথে আমি কখনো একত্রিত হবে না)।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : আবুল মাখারিক ও মা’রুফ দুজনই অজ্ঞাত পরিচয়। এছাড়া মুহাম্মদ ইবনু হামীদ যঈফ। তবে এর অনেক শাহিদ হাদীস রয়েছে যা একে শক্তিশালী করে। এ অনুচ্ছেদের হাদীসমূহ দেখুন।
তাখরীজ: (মুহাক্বিক্ব এর কোনো তাখরীজ করেননি- অনুবাদক)
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ الرِّفَاعِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ، عَنْ زَمْعَةَ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ وَهْرَامٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لَا تَطْرُقُوا النِّسَاءَ لَيْلًا» قَالَ وَأَقْبَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَافِلًا، فانْسلَ رَجُلَانِ إِلَى أَهْلَيْهِمَا، فَكِلَاهُمَا وَجَدَ مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلًا
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف لضعف زمعة
৪৫৮. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “(সফর হতে ফিরে) রাতে স্ত্রীদের নিকট যেও না।“ তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক কাফেলার সঙ্গে এক সফর থেকে ফিরে এলেন। তখন দুই ব্যক্তি (রাতেই) গোপনে তাদের স্ত্রীদের নিকট গেলো এবং তাদের উভয়েই তাদের স্ত্রীদের নিকট একজন করে পুরুষকে পেলো।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, কেননা যাম’আহ যঈফ। তবে হাদীসটি সহীহ। এর শাহিদ রয়েছে ইবনু উমার থেকে সহীহ বুখারী (১৮০১, ৫২৪৩-৫২৪৪; মুসলিম ৭১৫ নং; তিরমিযী ২৭১২; আহমদ ৩/৩০২-৩০৮...)
তাখরীজ: বাযযার, কাশফুল আসতার ২/১৮৬-১৮৭ নং ১৪৮৭; তাবারানী, আল কাবীর ১১/২৪৫ নং ১১৬২৬;
أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ، حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حَرْمَلَةَ الْأَسْلَمِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَدِمَ مِنْ سَفَرٍ نَزَلَ الْمُعَرَّسَ، ثُمَّ قَالَ: «لَا تَطْرُقُوا النِّسَاءَ لَيْلًا»، فَخَرَجَ رَجُلَانِ مِمَّنْ سَمِعَ مَقَالَتَهُ، فَطَرَقَا أهْلْهما، فَوَجَدَ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلًا
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :مرسل وإسناده حسن من أجل عبد الرحمن بن حرملة
৪৫৯. সাঈদ ইবনুল মুসায়্যেব বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কোনো সফর হতে (রাতে) ফিরে আসতেন, তখন কোনো অবতরণস্থলে অবস্থান করতেন। তারপর বলতেন: “তোমরা রাতেই তোমাদের স্ত্রীদের নিকট গমন করো না।“ তাঁর এ কথা শুনেছিলো, এমন দু’ব্যক্তি বের হয়ে গেলো এবং রাতে তাদের স্ত্রীদের নিকট গমন করলো। তারপর তারা উভয়েই তাদের স্ত্রীদের সাথে একজন করে পুরুষকে পেলো।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এটি মুরসাল, এর সনদ হাসান, আব্দুর রহমান ইবনু হারমালার কারণে।
তাখরীজ: খারাইতী, মাসায়িউল আখলাক নং ৮৪৬।
أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ، حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ حَرْمَلَةَ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ يُوَدِّعُهُ بِحَجٍّ أَوْ عُمْرَةٍ فَقَالَ لَهُ: لَا تَبْرَحْ حَتَّى تُصَلِّيَ، فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا يَخْرُجُ بَعْدَ النِّدَاءِ مِنَ الْمَسْجِدِ إِلَّا، مُنَافِقٌ، إِلَّا رَجُلٌ أَخْرَجَتْهُ حاجةُ، وَهُوَ يُرِيدُ الرَّجْعَةَ إِلَى الْمَسْجِدِ» فَقَالَ: إِنَّ أَصْحَابِي بِالْحَرَّةِ قَالَ: فَخَرَجَ، قَالَ: فَلَمْ يَزَلْ سَعِيدٌ يَوْلَعُ بِذِكْرِهِ، حَتَّى أُخْبِرَ أَنَّهُ وَقَعَ مِنْ رَاحِلَتِهِ فَانْكَسَرَتْ فَخِذُهُ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده حسن
৪৬০. আব্দুর রহমান ইবনু হারামালাহ বলেন: সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবের নিকট এক ব্যক্তি হজ্জ্ব কিংবা উমরার জন্য বিদায়ী শুভেচ্ছা জানাতে আসলেন। তখন তিনি লোকটিকে বললেন: সালাত আদায় না করে বের হয়োনা। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আযান হয়ে যাওয়ার পরে একমাত্র মুনাফিক ব্যতীত আর কেউ মসজিদ থেকে বের হয়ে যায় না। তবে যে লোকের কোনো প্রয়োজন তাকে বের করে আর সে আবার মসজিদে ফিরে আসার নিয়ত রাখে, তাহলে তার কথা ভিন্ন।“ তখন লোকটি বললো: আমার সাথীরা হাররাহ নামক স্থানে রয়েছে। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, (একথা বলে) সে বের হয়ে গেলো। সাঈদ সর্বদা এ ঘটনাটি বর্ণনা করতে আগ্রহ বোধ করতেন। তারপর আমি তাকে এ সংবাদ দিলাম যে, লোকটি তার বাহন থেকে পড়ে গিয়েছিলো এবং এতে তার উরুর হাড় ভেঙ্গে গিয়েছিলো।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান। আগের টীকাটি দেখুন।
তাখরীজ: বাহাইকী, ৩/৫৬-৫৭; আব্দুর রাযযাক, নং ১৯৪৫; আবু দাউদ, মারাসীল নং ২৫; (ইবনু উয়াইনাহও এটি বর্ণনা করেছেন)।
আর এটি মারফু’ হিসেবে আমরা পূর্ণাঙ্গ তাখরীজ করেছি, মাজমাউয যাওয়াইদ নং ১৯৪৮ এ। (আবু হুরাইরা হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন তাবারানী, আল আউসাত, যেমন এসেছে মাজমাউল বাহরাইন ২/২২ এ। আর মাজমা’তে হাইছামী বলেছেন: এর বর্ণনাকারীগণ সহীহ হাদীসের বর্ণনাকারী।-ফাতহুল মান্নান, ৩/২১৮ নং ৪৬৯ এর টীকা দ্র:)