সুনান আদ-দারিমী
حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ عَدِيٍّ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو عَنْ ابْنِ عَقِيلٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ سَمِعَهُ يَقُولُ أَلَا أَدُلُّكُمْ عَلَى مَا يُكَفِّرُ اللَّهُ بِهِ الْخَطَايَا وَيَزِيدُ بِهِ فِي الْحَسَنَاتِ قَالُوا بَلَى قَالَ إِسْبَاغُ الْوُضُوءِ عَلَى الْمَكْرُوهَاتِ وَكَثْرَةُ الْخُطَا إِلَى الْمَسَاجِدِ وَانْتِظَارُ الصَّلَاةِ بَعْدَ الصَّلَاةِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده حسن والحديث صحيح
৭২১. আবু সাঈদ আল খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলতেন: “আমি কি তোমাদেরকে এমন একটি জিনিসের কথা জানিয়ে দেব না, যার দ্বারা আল্লাহ তোমাদের গুণাহসমূহ মোচন করবেন এবং নেকীর পরিমাণ বৃদ্ধি করে দেবেন? তারা বললেন: হ্যাঁ, ইয়া রাসূলুল্লাহ! তিনি বললেন: তা হচ্ছে কষ্টের সময় পরিপূর্ণরূপে ওযু করা, মসজিদের দিকে অধিক পদচারণা করা এবং এক সালাতের পরে পরবর্তী সালাতের জন্য অপেক্ষা করা।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান কিন্তু হাদীসটি সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান ৪০২; মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৩৫৫; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৬২। (সহীহ ইবনু খুযাইমাহ ১১৭, ১৭৭, ৩৫৭; হাকিম ১/১৯১, ১৯২; আহমাদ ৩/৩; বাইহাকী ২/১৬; ইবনু আবী শাইবা ১/৭; ইবনু মাজাহ ৪২৭; আর এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবু হুরায়রা হতে সহীহ মুসলিম ২৫১; তিরমিযী ৫১; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১০৩৮; তাবারানী, আল কাবীর ২৩/৪১৮; আহমদ ৫/২৭০ নং ২২৩৮০। এছাড়া জাবির রা: থেকেও এর শাহিদ বর্ণিত হয়েছে সহীহ ইবনু হিব্বান ১০৩৯; বাযযার ৪৪৯, ৪৫০।- দেখুন, মাওয়ারিদুয যাম’আন, মুহাক্বিক্বের তাহক্বীক্বকৃত নং ১৬২; ফাতহুল মান্নান নং ৭৪৩ এর টীকা।- অনুবাদক।)
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ مَسْعُودٍ حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ هُوَ ابْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرَ بِنَحْوِهِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده حسن
৭২২. (অপর সনদে) আবু সাঈদ আল খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলতেন: (পূর্বের হাদীসের) অনুরূপ বর্ণনা করেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।
তাখরীজ: আবু ইয়ালা মাউসিলী নং ১৩৫৫; পূর্ণ তাখরীজ দেখুন পূর্বের হাদীসের টীকায়।
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَبِي الْجَهْضَمِ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أُمِرْنَا بِإِسْبَاغِ الْوُضُوءِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৭২৩. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: “আমাদেরকে পরিপূর্ণরূপে ওযু করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আহমাদ ১/২৩২; বাইহাকী ১০/২৩; মা’রেফাহ ১৪/৯৯ নং ১৯২৭৫; ইবনু মাজাহ ৪২৬; ইবনু খুযাইমাহ নং১৭৫; তিরমিযী ১৭০১; আবু দাউদ ৮০৮; নাসাঈ ১/৮৯; তিরমিযী বলেন: এ অনুচ্ছেদে আলী রা: হতেও হাদীস বর্ণিত হয়েছে। আর এ হাদীসটি হাসান সহীহ।’’ তাবারানী, আল কাবীর ১১/১৫৫ নং ১১৩৪৪ সহীহ সনদে।
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا زَائِدَةُ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ عَلْقَمَةَ الْهَمْدَانِيُّ حَدَّثَنِي عَبْدُ خَيْرٍ قَالَ دَخَلَ عَلِيٌّ الرَّحَبَةَ بَعْدَمَا صَلَّى الْفَجْرَ قَالَ فَجَلَسَ فِي الرَّحَبَةِ ثُمَّ قَالَ لِغُلَامٍ لَهُ ائْتِنِي بِطَهُورٍ قَالَ فَأَتَاهُ الْغُلَامُ بِإِنَاءٍ فِيهِ مَاءٌ وَطَسْتٍ قَالَ عَبْدُ خَيْرٍ وَنَحْنُ جُلُوسٌ نَنْظُرُ إِلَيْهِ فَأَدْخَلَ يَدَهُ الْيُمْنَى فَمَلَأَ فَمَهُ فَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ وَنَثَرَ بِيَدِهِ الْيُسْرَى فَعَلَ هَذَا ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ قَالَ مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى طُهُورِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَهَذَا طُهُورُهُ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني : إسناده صحيح
৭২৪. আবদু খায়ের বর্ণনা করেন: একদা আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ফজর সালাত আদায় করার পর (কুফার) খোলা ময়দানে গমন করলেন। আর তিনি ময়দানে বসে পড়লেন। তারপর তিনি তার গোলামকে বললেন: আমার জন্য ওযুর পানি নিয়ে আসো। ফলে গোলামটি এক পাত্র পানি এবং একটি খালি গামলা নিয়ে এলো। আবদু খায়ের বলেন: আমরা বসে তার দিকে দেখছিলাম। তখন তিনি ডান হাত পাত্রে ঢুকিয়ে দিলেন মুখ ভর্তি পানি নিয়ে কুলি করলেন এবং নাকে পানি দিলেন এবং বাম হাত দিয়ে নাক পরিষ্কার করলেন। তিনি তিনবার এরকম করলেন। অতঃপর বললেন: যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওযু দেখে আনন্দিত হতে চায়, (সে যেন আমার এ ওযু দেখে নেয়)। কেননা, এটিই ছিল তাঁর ওযু।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরজি: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান ১০৫৬, ১০৭৯; মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৮৬; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৫০, ১৫১। (ইবনু খুযাইমা, ১৪৭; আবু দাউদ ১১১,১১২; তিরমিযী ৪৯; নাসাঈ ১/৬৮; বাইহাকী আল কুবরা ১/৪৭, ৪৮, ৬৮, ৭৪; ইবনু হিব্বান ১০৪২; দারুকুতনী ১/৩৩।- মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৫০ এর টীকা হতে।-অনুবাদক।)
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا حَسَنُ بْنُ عُقْبَةَ الْمُرَادِيُّ أَخْبَرَنِي عَبْدُ خَيْرٍ بِإِسْنَادِهِ نَحْوَهُ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৭২৫. (অপর সনদে) আবদে খায়ের (পরবর্তী একই রাবী সূত্রে) অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসের পুনরাবৃত্তি ।
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَقَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عَائِذِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ اسْتَنْشَقَ فَلْيَسْتَنْثِرْ وَمَنْ اسْتَجْمَرَ فَلْيُوتِرْ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف محمد بن إسحاق قد عنعن وهو مدلس. ولكن الحديث صحيح
৭২৬. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ zwj;আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: “যে নাকে পানি দেয়, সে যেন নাক ঝেড়ে ফেলে এবং যে পাথর (কুলখ) দ্বারা (পেশাব-পায়খানার পর) পবিত্রতা অর্জন করতে চায়, সে যেন তা বিজোড় সংখ্যায় ব্যবহার করে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক মুদাল্লিস আর সে এটি ‘আন আন’ পদ্ধতিতে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু হাদীটি সহীহ বুখারী-মুসলিমের।
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ১৬১; সহীহ মুসলিম ২৩৭; পূর্ণ তাখরীজের জন্য দেখুন সহীহ ইবনু হিব্বান ১৪৩৮, ১৪৩৯; মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৯০৯, ৬৫৭২; মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯৮৭।
أَخْبَرَنَا مَالِكُ بْنُ إِسْمَعِيلَ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ عَامِرِ بْنِ شَقِيقٍ عَنْ شَقِيقِ بْنِ سَلَمَةَ قَالَ رَأَيْتُ عُثْمَانَ تَوَضَّأَ فَخَلَّلَ لِحْيَتَهُ وَقَالَ هَكَذَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَوَضَّأَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده حسن
৭২৭. শাক্বীক্ব ইবনু সালামাহ বলেন, আমি উছমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে ওযু করতে দেখেছি। আর তিনি দাড়ি খিলাল করলেন এবং বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এভাবে ওযু করতে দেখেছি।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান, আমির ইবনু শাক্বীক্ব এর কারণে। কিন্তু হাদীসটি সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান ১০৮১; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৫৪। আরও দেখুন নাইলুল আওতার ১/১৮৪-১৮৬; দিরায়াহ ১/২২-২৪; তালখীসুল হাবীর ১/৮৫-৮৭; নিসবুর রায়াহ ১/২৩। সামনেও এ সম্পর্কিত হাদীস আসছে।
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِي إِسْمَعِيلُ بْنُ كَثِيرٍ عَنْ عَاصِمِ بْنِ لَقِيطِ بْنِ صَبِرَةَ عَنْ أَبِيهِ وَافِدِ بَنِي الْمُنْتَفِقِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا تَوَضَّأْتَ فَأَسْبِغْ وُضُوءَكَ وَخَلِّلْ بَيْنَ أَصَابِعِكَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৭২৮. লাকিত্ব ইবনু সাবরাহ তার পিতা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণনা করেন, যিনি বানু আল মুনতাফিক গোত্রের প্রতিনিধি ছিলেন, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: তুমি যখন ওযু করবে, তখন পরিপূর্ণরূপে ওযু করবে এবং তোমার আঙ্গুলসমূহের মাঝে খিলাল করবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান ১০৫৪; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৫৯। এটি আরও রয়েছে, ইবনুল জারুদ নং ৮০; দেখুন নাইলুল আওতার ১/১৭৯-১৮০।
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا جَعْفَرٌ هُوَ ابْنُ الْحَارِثِ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ هِلَالِ بْنِ يَسَافٍ عَنْ أَبِي يَحْيَى عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيْلٌ لِلْأَعْقَابِ مِنْ النَّارِ أَسْبِغُوا الْوُضُوءَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده حسن
৭২৯. আব্দুল্লাহ ইবনু আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: (ওযুর সময় শুকনো থাকা) পায়ের গোড়ালীর জন্য রয়েছে জাহান্নামের কঠিন শাস্তি। (তাই), তোমরা পরিপূর্ণরূপে ওযু করো।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/২৬; তার সূত্রে সহীহ মুসলিম ২৪১; ইবনু মাজাহ ৪৫০; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান ১০৫৫; আরও দেখুন নাইলুল আওতার ১/২০৭-২১০; তাফসীর তাবারী ৬/১৩৩. ১৩৪।
أَخْبَرَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ كَانَ يَمُرُّ بِنَا وَالنَّاسُ يَتَوَضَّئُونَ مِنْ الْمِطْهَرَةِ وَيَقُولُ أَسْبِغُوا الْوُضُوءَ قَالَ أَبُو الْقَاسِمِ وَيْلٌ لِلْأَعْقَابِ مِنْ النَّارِ قَالَ أَبُو مُحَمَّد هَذَا أَعْجَبُ إِلَيَّ مِنْ حَدِيثِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৭৩০. মুহাম্মদ ইবনু যিয়াদ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে শুনেছি। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, তিনি একদিন আমাদের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন আর লোকেরা পানির পাত্র থেকে পানি নিয়ে ওযু করছিলো, আর তিনি বলছিলেন, তোমরা পরিপূর্ণরূপে ওযু করো। কেননা, আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: (ওযুর সময় শুকনো থাকা) পায়ের গোড়ালীর জন্য রয়েছে জাহান্নামের কঠিন শাস্তি।[1]
আবু মুহাম্মদ (দারেমী) বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনু আমর-এর হাদীস অপেক্ষা এটি আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়।
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী-মুসলিমে বর্ণিত।
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ১৬৫; সহীহ মুসলিম ২৪২;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান ১০৮৮। আরও দেখুন নাইলুল আওতার ১/২১০-২১২।
أَخْبَرَنَا مَالِكُ بْنُ إِسْمَعِيلَ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ عَامِرِ بْنِ شَقِيقٍ عَنْ شَقِيقِ بْنِ سَلَمَةَ قَالَ رَأَيْتُ عُثْمَانَ تَوَضَّأَ فَمَسَحَ بِرَأْسِهِ وَأُذُنَيْهِ ظَاهِرِهِمَا وَبَاطِنِهِمَا ثُمَّ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَنَعَ كَمَا صَنَعْتُ أَوْ كَالَّذِي صَنَعْتُ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده حسن
৭৩১. শাক্বীক্ব ইবনু সালামাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উছমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে ওযু করতে দেখেছিলাম। তখন তিনি তাঁর মাথা ও দু’কানের বাইরের ও ভিতরের অংশ মাসেহ করলেন। অতঃপর তিনি বললেন: আমি যেমন, (রাবীর সন্দেহ) কিংবা- যেরূপ করলাম, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সেরূপ করতে দেখেছি।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান। এর তাখরীজ গত হয়েছে ৭৩১ নং এ (যা আমাদের ক্রমিকে ৭২৭ -অনুবাদক) । দেখুন, নাইলুল আওতার ১/১৯৮।
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ حَدَّثَنَا حَبَّانُ بْنُ وَاسِعٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدِ بْنِ عَاصِمٍ الْمَازِنِيِّ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَوَضَّأُ بِالْجُحْفَةِ فَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلَاثًا ثُمَّ غَسَلَ يَدَيْهِ ثَلَاثًا ثُمَّ مَسَحَ رَأْسَهُ وَغَسَلَ رِجْلَيْهِ حَتَّى أَنْقَاهُمَا ثُمَّ مَسَحَ رَأْسَهُ بِمَاءٍ غَيْرِ فَضْلِ يَدَيْهِ قَالَ أَبُو مُحَمَّد يُرِيدُ بِهِ تَفْسِيرَ مَسْحِ الْأَوَّلِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف فيه ابن لهيعة
৭৩২. যায়িদ ইবনু আসিম আল মাযিন্নী বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জুহফাহ নামক স্থানে ওযু করতে দেখেছি। তিনি কুলি করলেন এবং নাকে পানি দিলেন, তারপর তিনবার মুখমণ্ডল ধৌত করলেন, এরপর তিনবার তাঁর দু’হাত ধৌত করলেন। তারপর তিনি মাথা মাসেহ্ করলেন এবং তাঁর পা দু’টি খুব ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করলেন। তারপর ভেজা হাতে আদ্রতা দ্বারা মাথা মাসেহ না করে (নতুনভাবে) পানি নিয়ে মাথা মাসেহ করলেন। আবু মুহাম্মদ বলেন: এ (মাথা মাসেহের পুনরায় কথা উল্লেখ করা) এর উদ্দেশ্য হলো প্রথম বারের মাথা মাসেহের ব্যাখ্যা দেয়া।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। এতে ইবনু লাহিয়া’হ রয়েছে। (আর হাদীসটি সহীহ যা মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে যেমন তাখরীজে উল্লেখিত হয়েছে-অুনবাদক)।
তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ২৩৬; আহমাদ ৪/৪১; আবু দাউদ ১২০; তিরমিযী ৩৫, তিরমিযী বলেন: হাদীসটি হাসান সহীহ; তবে আব্দুল্লাহ ইবনু যায়দ থেকে সহীহ সূত্রে একথাটুকু নেই: ‘তারপর ভেজা হাতে আদ্রতা দ্বারা মাথা মাসেহ না করে (নতুনভাবে) পানি নিয়ে মাথা মাসেহ করলেন’। আর সেটির তাখরীজ গত হয়েছে ৭২১ নং এ (যা আমাদের ক্রমিকে যা ৭১৭ নং-অনুবাদক)।
أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ عَنْ يَحْيَى عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ عَمْرِو بْنِ أُمَيَّةَ الضَّمْرِيِّ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ رَأَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَسَحَ عَلَى الْخُفَّيْنِ وَالْعِمَامَةِ قِيلَ لِأَبِي مُحَمَّدٍ تَأْخُذُ بِهِ قَالَ إِي وَاللَّهِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :
৭৩৩. জাফর আমর ইবনু উমাইয়া আয যামরী তাঁর পিতা (উমাইয়া) রাদ্বিয়াল্লাহু হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তাঁর উভয় মোজার উপর এবং তাঁর পাগড়ীর উপর মাসেহ করতে দেখেছেন।’[1]
আবু মুহাম্মদকে বলা হলো: আপনি কি তা গ্রহণ করেছেন? তিনি বললেন: হাঁ, আল্লাহর শপথ!
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ২০৫; ইবনুল জারুদ, আল মুনতাকা নং ৮৩। আমরা এর পূর্ণাঙ্গ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩৪৩। আরও দেখুন, নাইলুল আওতার ১/২০৪-২০৬; দিরায়াহ ১/৭০-৭৭ যেখানে ৪৬ জন সাহাবা হতে মোজার উপর মাসেহের হাদীস বর্ণিত হয়েছে; ও তালখীসুল হাবীর ১/১৫৭-১৬২; নাসবুর রায়াহ ১৬২-১৭৪।
أَخْبَرَنَا قَبِيصَةُ أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَوَضَّأَ مَرَّةً مَرَّةً وَنَضَحَ فَرْجَهُ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৭৩৪. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার একবার করে (অঙ্গসমূহ) ধৌত করে ওযু করেছেন এবং তাঁর লজ্জাস্থানে পানি ছিটিয়ে দিয়েছেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বাইহাকী ১/১৬২।
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ ابْنِ أَبِي لَيْلَى عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ عَنْ كُرَيْبٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ سَأَلْتُ مَيْمُونَةَ خَالَتِي عَنْ غُسْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ الْجَنَابَةِ فَقَالَتْ كَانَ يُؤْتَى بِالْإِنَاءِ فَيُفْرِغُ بِيَمِينِهِ عَلَى شِمَالِهِ فَيَغْسِلُ فَرْجَهُ وَمَا أَصَابَهُ ثُمَّ يَتَوَضَّأُ وُضُوءَهُ لِلصَّلَاةِ ثُمَّ يَغْسِلُ رَأْسَهُ وَسَائِرَ جَسَدِهِ ثُمَّ يَتَحَوَّلُ فَيَغْسِلُ رِجْلَيْهِ ثُمَّ يُؤْتَى بِالْمِنْدِيلِ فَيَضَعُهُ بَيْنَ يَدَيْهِ فَيَنْفُضُ أَصَابِعَهُ وَلَا يَمَسُّهُ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف لضعف محمد بن أبي ليلى لكن الحديث متفق عليه
৭৩৫. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার খালা মায়মুনাহ রাদ্বিয়াল্লাহ আনহাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জানাবাতের (বড় অপবিত্রতার) গোসল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তখন তিনি বললেন, তাঁর নিকট পানির পাত্র আনা হতো। তখন তিনি ডান হাত দিয়ে বাম হাতের উপর পানি ঢেলে দিতেন, তারপর তিনি তাঁর লজ্জাস্থানে লেগে থাকা অপবিত্রতা ধুয়ে ফেলতেন। এরপর তিনি সালাতের ওযুর ন্যায় ওযু করতেন। তারপর তিনি তাঁর মাথা এবং সারা শরীর ধুতেন। এরপর সেই স্থান হতে একটু সরে যেতেন এবং তাঁর দু’পা ধুতেন। তারপর তাঁকে একটি রুমাল বা তোয়ালে দেয়া হলে তিনি তা তার সামনে রেখে দিতেন অতঃপর তাঁর আঙ্গুলসমূহ ঝাড়া দিতেন কিন্তু তিনি তা স্পর্শ করতেন না।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। কিন্তু হাদীসটি সহীহ বুখারী-মুসলিমের হাদীস।
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ২৫৯; সহীহ মুসলিম ৩১৭; আবু আওয়ানাহ ১/২৯৯, ৩০০ সহীহ সনদে।
আমরা এর পূর্ণাঙ্গ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১১৯০ এ; মুসনাদুল মাওসিলী নং ৭১০১ এ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ৩১৮ এর টীকায়। আরও দেখুন নাইলুল আওতার ১/৩০৯।
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا هُوَ ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ عَنْ عَامِرٍ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الْمُغِيرَةِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كُنْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ لَيْلَةٍ فِي سَفَرٍ فَقَالَ أَمَعَكَ مَاءٌ فَقُلْتُ نَعَمْ فَنَزَلَ عَنْ رَاحِلَتِهِ فَمَشَى حَتَّى تَوَارَى عَنِّي فِي سَوَادِ اللَّيْلِ ثُمَّ جَاءَ فَأَفْرَغْتُ عَلَيْهِ مِنْ الْإِدَاوَةِ فَغَسَلَ يَدَيْهِ وَوَجْهَهُ وَعَلَيْهِ جُبَّةٌ مِنْ صُوفٍ فَلَمْ يَسْتَطِعْ أَنْ يُخْرِجَ ذِرَاعَيْهِ مِنْهَا حَتَّى أَخْرَجَهُمَا مِنْ أَسْفَلِ الْجُبَّةِ فَغَسَلَ ذِرَاعَيْهِ وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ ثُمَّ أَهْوَيْتُ لِأَنْزِعَ خُفَّيْهِ فَقَالَ دَعْهُمَا فَإِنِّي أَدْخَلْتُهُمَا طَاهِرَتَيْنِ فَمَسَحَ عَلَيْهِمَا
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৭৩৬. উরওয়াহ ইবনুল মুগীরাহ কর্তৃক তাঁর পিতা (মুগীরাহ) রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি কোনো রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সফরে ছিলাম। তখন তিনি বললেন: “তোমার সাথে কি পানি আছে?“ আমি বললাম: হাঁ। তারপর তিনি তাঁর বাহন হতে নামলেন। অতঃপর তিনি হাঁটতে থাকলেন যতক্ষণ না তিনি রাতের অন্ধকারের মধ্যে আমার থেকে আড়ালে চলে গেলেন। অতঃপর তিনি ফিরে এলেন আর আমি পানির পাত্র হতে তাঁকে পানি ঢেলে দিতে লাগলাম। তখন তিনি তাঁর হাত দু’টি এবং মুখমণ্ডল ধুলেন। আর তাঁর পরণে ছিল সূফ (পশমের) জুব্বা। ফলে তিনি জুব্বার (হাতা দিয়ে) তাঁর হাত দুটি বের করতে পারছিলেন না, ফলে জুব্বার নিচ দিয়ে হাত দু’টি বের করলেন এবং উভয় হাত ধুলেন, মাথা মাসেহ করলেন অতঃপর আমি তাঁর (পায়ের) মোজা জোড়া খুলতে চাইলাম। তখন তিনি বললেন: “ও দু’টো থাক, আমি তো ও zwj;দু’টো পবিত্র অবস্থায়ই পরেছিলাম।“ (এ বলে) তিনি সেই দু’টোর উপর মাসেহ করলেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ২০৬ (সংক্ষিপ্ত আকারে); সহীহ মুসলিম ২৭৪ (৭৯)।
আমরা এর পূর্ণাঙ্গ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩৪৭ এ; মুসনাদুল হুমাইদী নং ৭৭৫. ৭৭৬ এর টীকায়। আরও দেখুন নাইলুল আওতার ১/২২৭।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَمْرِو بْنِ قَيْسٍ عَنْ الْحَكَمِ بْنِ عُتَيْبَةَ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ مُخَيْمِرَةَ عَنْ شُرَيْحِ بْنِ هَانِئٍ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ قَالَ جَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ وَلَيَالِيَهُنَّ لِلْمُسَافِرِ وَيَوْمًا وَلَيْلَةً لِلْمُقِيمِ يَعْنِي الْمَسْحَ عَلَى الْخُفَّيْنِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৭৩৭. আলী ইবনু আবী তালিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসাফিরের জন্য তিনদিন তিনরাত এবং মুকীমের জন্য একদিন একরাত নির্ধারণ করেছেন।’ এর দ্বারা তিনি মোজার উপর মাসেহ করা (-এর সময়সীমা)কে বুঝিয়েছেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ২৭৬।
আমরা এর পূর্ণাঙ্গ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৬৪; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩২২, ১৩২৭, ১৩৩১। আরও দেখুন, নাইলুল আওতার ১/২৩০-২৩১; দিরায়াহ ১/৭০-৭৭; ও তালখীসুল হাবীর ১/১৫৭-১৬২; নাসবুর রায়াহ ১৬২-১৭৪।
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا يُونُسُ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ عَبْدِ خَيْرٍ قَالَ رَأَيْتُ عَلِيًّا تَوَضَّأَ وَمَسَحَ عَلَى النَّعْلَيْنِ فَوَسَّعَ ثُمَّ قَالَ لَوْلَا أَنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَعَلَ كَمَا رَأَيْتُمُونِي فَعَلْتُ لَرَأَيْتُ أَنَّ بَاطِنَ الْقَدَمَيْنِ أَحَقُّ بِالْمَسْحِ مِنْ ظَاهِرِهِمَا قَالَ أَبُو مُحَمَّد هَذَا الْحَدِيثُ مَنْسُوخٌ بِقَوْلِهِ تَعَالَى وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৭৩৮. আবদে খায়ের হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে ওযু করতে দেখেছি। আর তিনি জুতার উপর মাসেহ করলেন এবং অনেকখানি জায়গা নিয়ে মাসেহ করলেন। অতঃপর বললেন: আমি যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এরূপ করতে না দেখতাম যেরূপ করতে আমাকে তোমরা দেখলে, তবে অবশ্যই আমি এ মত পোষণ করতাম যে, দু’পায়ের (জুতাদ্বয়ের) উপরের অংশ মাসেহ করার চেয়ে নিচের অংশ মাসেহ করাই তো বরং অধিক সংগত ছিল। (কিন্তু আমি যেহেতু তাঁকে জুতার উপরের অংশ মাসেহ করতে দেখেছি, তাই আমিও জুতার নিচে মাসেহ না করে উপরের অংশই মাসেহ করলাম।)
আবু মুহাম্মদ বলেন: আল্লাহর বাণী: “তোমরা তোমাদের মাথা মাসেহ কর এবং গিঁঠ পর্যন্ত পা ধৌত কর।“ সূরা মায়িদাহ : ৬) দ্বারা এ হাদীস রহিত হয়ে গিয়েছে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বাইহাকী ১/২৯২; আবু দাউদ ১৬২-১৬৪; দারুকুতনী ১/২০৪-২০৫ নং ৪; ইবনু হাযম, আল মুহাল্লা ২/১১১।
হাফিজ (ইবনু হাজার আসকালানী) ‘বুলুগুল মারাম’ (উস্তাদ যুহাইরী কৃর্তৃক তাহক্বীক্বকৃত) নং ৬০-এ বলেন: “এটি আবু দাউদ হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন।“
তিনি তালখীসুল হাবীর ১/১৬০ এ বলেন: এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, এর সনদ সহীহ।’ আরও দেখুন, দিরায়াহ ১/৮০; নাইলুল আওতার ১/২৩১-২৩২।
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا حَيْوَةُ أَخْبَرَنَا أَبُو عَقِيلٍ زُهْرَةُ بْنُ مَعْبَدٍ عَنْ ابْنِ عَمِّهِ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ أَنَّهُ خَرَجَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ فَجَلَسَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا يُحَدِّثُ أَصْحَابَهُ فَقَالَ مَنْ قَامَ إِذَا اسْتَقَلَّتْ الشَّمْسُ فَتَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ خَرَجَ مِنْ ذُنُوبِهِ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ فَقَالَ عُقْبَةُ فَقُلْتُ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي رَزَقَنِي أَنْ أَسْمَعَ هَذَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَكَانَ تُجَاهِي جَالِسًا أَتَعْجَبُ مِنْ هَذَا فَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَعْجَبَ مِنْ هَذَا قَبْلَ أَنْ تَأْتِيَ فَقُلْتُ وَمَا ذَلِكَ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي فَقَالَ عُمَرُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ ثُمَّ رَفَعَ بَصَرَهُ إِلَى السَّمَاءِ أَوْ قَالَ نَظَرَهُ إِلَى السَّمَاءِ فَقَالَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ فُتِحَتْ لَهُ ثَمَانِيَةُ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ يَدْخُلُ مِنْ أَيِّهِنَّ شَاءَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :في إسناده جهالة
৭৩৯. উক্ববাহ ইবনু আমির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে তাবুক যুদ্ধে গমণ করেছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন তাঁর সাহাবীদের নিকট বসে কথা-বার্তা বলছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন: “যখন সূর্য পরিপূর্ণভাবে উদিত হয়ে যায়, তখন যে ব্যক্তি উঠে উত্তমরূপে ওযু করে অতঃপর দু’রাকাত সালাত আদায় করে, তাহলে তার গুনাহসমূহ এমনভাবে বের হয়ে যায় (এবং সে গুনাহবিহীন হয়ে যায়), যেন আজই তার মা তাকে প্রসব করেছে।“
তখন উক্ববা বললেন: আমি বললাম, সেই আল্লাহর জন্যই সমস্ত প্রশংসা যিনি আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে একথা শোনার তাওফীক দিলেন।
তখন উমার ইবনুল খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আমার মুখোমুখি বসা ছিলেন, তিনি বললেন: তুমি একথায় zwj;খুব আশ্চর্যান্বিত হলে? কিন্তু তুমি আসার আগে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর চেয়েও অধিক বিস্ময়কর কথা বলেছেন। তখন আমি তাকে বললাম, আমার পিতা মাতা আপনার জন্য কুরবান হোন, সেটি কী?
তখন উমার বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি উত্তমরূপে ওযু করে আকাশের দিকে চোখ তুলে তাকিয়ে, অথবা তিনি বলেছেন: আকাশের দিকে দৃষ্টি দিয়ে বলবে:
أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ
“আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো (সত্য) ইলাহ নেই, তিনি এক ও একক। তাঁর কোনো শরীক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও তাঁর রাসূল।“) তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেয়া হবে এবং সে যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদে অজ্ঞাত নামা রাবী (জাহালত) রয়েছে।(“আকাশের দিকে তাকিয়ে“- এ অংশটুকু ব্যতীত এটি সহীহ মুসলিম নং ২৩৪ এ বর্ণিত হয়েছে।-অনুবাদক। )
তাখরীজ: মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৮০, ২৪৯, ১৭৬৩ এর সনদ সহীহ, (যদিও মুহাক্বিক্ব এখানে মুসনাদুল মাউসিলীর এ সনদকে সহীহ বলছেন, কিন্তু তিনি নিজেই মুসনাদুল মাওসিলীর তাহক্বীক্বে উপরোক্ত সবগুলি সনদকেই যঈফ বলেছেন। দেখুন, দারানীর তাহক্বীক্ব, মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৮০, ২৪৯, ১৭৬৩ এর টীকা। এছাড়া এ সনদকে শাইখ আলবানী এবং আরনাউত্ব উভয়ে যঈফ বলেছেন, আর আলবানী এ বাড়তি অংশ “আকাশের দিকে তাকিয়ে“- ‘মুনকারাহ’ বলেছেন।- দেখুন আবু দাউদ ১৭০, উভয়ের তাহক্বীক্বকৃত।-অনুবাদক); আহমদ ৪/১৫৩; সহীহ মুসলিম ২৩৪; নাসাঈ ১৪২; আবু দাউদ ১৬৯ (১৭০); আবু আউয়ানাহ ১/২২৫-২২৬; সহীহ ইবনু খুযাইমা নং ২২২; হাকিম ২/৩৯৮-৩৯৯; দেখুন তারগীব ওয়াত তারহীব ১/২৫২-২৫৩। আমরা উপরোল্লিতি (মুসনাদুল মাউসিলীর নং সমূহে) পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি। এছাড়া ইবনু হিব্বান নং ১০৫০ এও সকল সূত্র ও বর্ণনা একত্রিত করেছি।
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ حَدَّثَنَا لَيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ سُفْيَانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ عَاصِمِ بْنِ سُفْيَانَ أَنَّهُمْ غَزَوْا غَزْوَةَ السَّلَاسِلِ فَرَجَعُوا إِلَى مُعَاوِيَةَ وَعِنْدَهُ أَبُو أَيُّوبَ وَعُقْبَةُ بْنُ عَامِرٍ فَقَالَ أَبُو أَيُّوبَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ تَوَضَّأَ كَمَا أُمِرَ وَصَلَّى كَمَا أُمِرَ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ عَمَلٍ أَكَذَاكَ يَا عُقْبَةُ قَالَ نَعَمْ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده جيد
৭৪০. আসিম ইবনু সুফিয়ান হতে বর্ণিত, তারা সালাসিল যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছিলেন। এরপর তারা মুয়াবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর নিকট ফিরে গেলেন। তখন তাঁর নিকট আবু আইয়্যুব ও উক্ববাহ ইবনু আমির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা অবস্থান করছিলেন। তখন আবু আইয়্যুব বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: “যেভাবে আদেশ করা হয়েছে সেই অনুসারে যে ব্যক্তি ওযু করলো এবং যেভাবে তা আদায় করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে সেই অনুযায়ী সালাত আদায় করলো, তার পেছনের গুনাহগুলো মাফ করে দেওয়া হলো।“ হে উক্ববাহ, তাই নয় কি? তিনি বললেন: হাঁ।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ বা উত্তম।
তাখরীজ: তাবারানী, আল কাবীর ৪/ ১৫৬-১৫৭ নং ৩৯৯৪, ৩৯৯৫; আরো দেখুন, মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৩৯, ১১৬২ আমাদের তাহক্বীক্বকৃত। আমরা এর তাখরীজ পূর্ণ করেছি মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৬৬ তে এবং সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১০৪৪ এ। (আহমাদ ৫/৪২৩; নাসাঈ ১৪৪; ইবনু মাজাহ ১৩৯৬; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১০৪৪। মুহাক্কিক্বের মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৬৬ এর টীকা হতে- অনুবাদক ।)